Saturday, January 16, 2016

হুমায়ুন আজাদের প্রবচন

১)এক-বইয়ের-পাঠক সম্পর্কে সাবধান।
২)এখানে অসৎরা জনপ্রিয়, সৎ মানুষেরা আক্রান্ত।
৩)রবীন্দ্রনাথের নোবেল পুরস্কার পাওয়ার দরকার ছিলো না, কিন্তু দরকার ছিলো বাঙলা সাহিত্যের। পুরস্কার না পেলে হিন্দুরা বুঝতো না যে রবীন্দ্রনাথ বড়ো কবি; আর মুসলমানেরা রহিম, করিমকে দাবি করতো বাঙলার শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে।
৪)আমি এতো শক্তিমান আগে জানা ছিলো না। আজকাল মিত্র নয়, শত্রুদের সংখ্যা দেখে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাই।
৫)জন্মাতরবাদ ভারতীয় উপমহাদেশের অবধারিত দর্শন। এ- অঞ্চলে এক জন্মে পরীক্ষা দিতে হয়, আরেক জন্মে ফল বেরোয়, দু-জন্ম বেকার থাকতে হয়, এবং ভাগ্য প্রসন্ন হ’লে কোন এক জন্মে চাকুরি মিলতেও পারে।
৬)বুদ্ধিজীবীরা এখন বিভক্ত তিন গোত্রে। ভণ্ড, ভণ্ডতর, ভণ্ডতম।
৭)বাঙালি যখন সত্য কথা বলে তখন বুঝতে হবে পেছনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য আছে।
৮)আধুনিক প্রচার মাধ্যমগুলো অসংখ্য শুয়োরবৎসকে মহামানবরূপে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
৯)অধিকাংশ রূপসীর হাসির শোভা মাংসপেশির কৃতিত্ব, হৃদয়ের কৃতিত্ব নয়।
১০)পাকিস্তানিদের আমি অবিশ্বাস করি, যখন তারা গোলাপ নিয়ে আসে, তখনও।
১১)আবর্জনাকে রবীন্দ্রনাথ প্রশংসা করলেও আবর্জনাই থাকে।
১২)নিজের নিকৃষ্ট কালে চিরশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের সঙ্গ পাওয়ার জন্যে রয়েছে বই; আর সমকালের নিকৃষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গ পাওয়ার জন্যে রয়েছে টেলিভিশন ও সংবাদপত্র।
১৩)হিন্দুরা মূর্তিপূজারী; মুসলমানেরা ভাবমূর্তিপূজারী। মূর্তিপূজা নির্বুদ্ধিতা; আর ভাবমূর্তিপূজা ভয়াবহ।
১৪)শামসুর রাহমানকে একটি অভিনেত্রীর সাথে টিভিতে দেখা গেছে। শামসুর রাহমান বোঝেন না কার সঙ্গে পর্দায়, আর কার সঙ্গে শয্যায় যেতে হয়।
১৫)আগে কারো সাথে পরিচয় হ’লে জানতে ইচ্ছে হতো সে কী পাশ? এখন কারো সাথে দেখা হ’লে জানতে ইচ্ছে হয় সে কী ফেল।
১৬)পা, বাঙলাদেশে, মাথার থেকে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পদোন্নতির জন্যে এখানে সবাই ব্যগ্র, কিন্তু মাথার যে অবনতি ঘটছে, তাতে কারো কোনো উদ্বেগ নেই।
১৭)হায় ! থাকতো যদি একটি লম্বা পাঞ্জাবি, আমিও খ্যাতি পেতাম মহাপণ্ডিতের।
১৮)এখানকার একাডেমিগুলো সব ক্লান্ত গর্দভ; মুলো খাওয়া ছাড়া ওগুলোর পক্ষে আর কিছু অসম্ভব।
১৯)পুঁজিবাদের আল্লার নাম টাকা, মসজিদের নাম ব্যাংক।
২০)সুন্দর মনের থেকে সুন্দর শরীর অনেক আকর্ষণীয়। কিন্তু ভণ্ডরা বলেন উল্টো কথা।
২১)ব্যর্থরাই প্রকৃত মানুষ, সফলেরা শয়তান।
২২)আমাদের অঞ্চলে সৌন্দর্য অশ্লীল, অসৌন্দর্য শ্লীল। রুপসীর একটু নগ্নবাহু দেখে ওরা হৈ চৈ করে, কিন্তু পথে পথে ভিখিরিনির উলঙ্গ দেহ দেখে ওরা একটুও বিচলিত হয় না।
২৩)মানুষ সিংহের প্রশংসা করে, কিন্তু আসলে গাধাকেই পছন্দ করে।
২৪)শিক্ষকের জীবনের থেকে চোর, চোরাচালানি, দারোগার জীবন অনেক আকর্ষণীয়। এ সমাজ শিক্ষক চায় না, চোর- চোরাচালানি-দারোগা চায়।
২৫)শয়তানের প্রার্থনায় বৃষ্টি নামে না, ঝড় আসে; তাতে অসংখ্য সৎ মানুষের মৃত্যু ঘটে।
২৬)যে বুদ্ধিজীবী নিজের সময় ও সমাজ নিয়ে সন্তুষ্ট, সে গৃহপালিত পশু।
২৭)টেলিভিশন, নিকৃষ্ট জিনিশের একনম্বর পৃষ্ঠপোষক, হিরোইন প্যাথেড্রিনের থেকেও মারাত্মক। মাদক গোপনে নষ্ট করে কিছু মানুষকে, টেলিভিশন প্রকাশ্যে নষ্ট করে কোটি কোটি মানুষকে।
২৮)আর পঞ্চাশ বছর পর আমাকেও ওরা দেবতা বানাবে; আর আমার বিরুদ্ধে কোনো নতুন প্রতিভা কথা বললে ওরা তাকে ফাঁসিতে ঝুলোবে।
২৯)বাঙলাদেশে কয়েকটি নতুন শাস্ত্রের উদ্ভব ঘটেছে; এগুলো হচ্ছে স্তুতিবিজ্ঞান, স্তবসাহিত্য, সুবিধাদর্শন ও নমস্কারতত্ত্ব।
৩০)পরমাত্মীয়ের মৃত্যুর শোকের মধ্যেও মানুষ কিছুটা সুখ বোধ করে যে সে নিজে বেঁচে আছে।
৩১)একটি স্থাপত্যকর্ম সম্পর্কেই আমার কোনো আপত্তি নেই, তার কোনো সংস্কারও আমি অনুমোদন করি না। স্থাপত্যকর্মটি হচ্ছে নারীদেহ।
৩২)প্রতিটি দগ্ধ গ্রন্থ সভ্যতাকে নতুন আলো দেয়।
৩৩)বাঙলার প্রধান ও গৌণ লেখকদের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে প্রধানেরা পশ্চিম থেকে প্রচুর ঋণ করেন, আর গৌণরা আবর্তিত হন নিজেদের মৌলিক মূর্খতার মধ্যে।
৩৪)মহামতি সলোমনের নাকি তিন শো পত্নী, আর সাত হাজার উপপত্নী ছিলো। আমার মাত্র একটি পত্নী। তবু সলোমনের চরিত্র সম্পর্কে কারো কোনো আপত্তি নেই, কিন্তু আমার চরিত্র নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন।
৩৫)বাঙালি মুসলমানের এক গোত্র মনে করে নজরুলই পৃথিবীর একমাত্র ও শেষ কবি। আদের আর কোনো কবির দরকার নেই।
৩৬)অভিনেত্রীরাই এখন প্রাতঃস্মরণীয় ও সর্বজনশ্রদ্ধেয়।
৩৭)কবিরা বাঙলায় বস্তিতে থাকে, সিনেমার সুদর্শন গর্দভেরা থাকে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত প্রাসাদে।
৩৮)মানুষের ওপর বিশ্বাস হারানো পাপ, তবে বাঙালির ওপর বিশ্বাস রাখা বিপজ্জনক।
৩৯)শ্রদ্ধা হচ্ছে শক্তিমান কারো সাহায্যে স্বার্থোদ্ধারের বিনিময়ে পরিশোধিত পারিশ্রমিক।
৪০)আজকাল আমার সাথে কেউ একমত হ'লে নিজের সম্বন্ধে গভীর সন্দেহ জাগে। মনে হয় আমি সম্ভবত সত্যভ্রষ্ট হয়েছি, বা নিম্নমাঝারি হয়ে গেছি।
৪১)‘মিনিষ্টার’ শব্দের মূল অর্থ ভৃত্য। বাঙলাদেশের মন্ত্রীদের দেখে শব্দটির মূল অর্থই মনে পড়ে।
৪২)আগে কাননবালারা আসতো পতিতালয় থেকে, এখন আসে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
৪৩)জনপ্রিয়তা হচ্ছে নেমে যাওয়ার সিঁড়ি। অনেকেই আজকাল জনপ্রিয়তার পথে নেমে যাচ্ছে।
৪৪)উন্নতি হচ্ছে ওপরের দিকে পতন। অনেকেরেই আজকাল ওপরের দিকে পতন ঘটছে।
৪৫)প্রতিটি বিজ্ঞাপনে পণ্যটির থেকে পণ্যাটি অনেক লোভনীয়; তাই ব্যর্থ হচ্ছে বিজ্ঞাপনগুলো। দর্শকেরা পণ্যের থেকে পণ্যাটিকেই কিনতে ও ব্যবহার
করতে অধিক আগ্রহ বোধ করে।
৪৬)কোন দেশের লাঙলের রূপ দেখেই বোঝা যায় ওই দেশের মেয়েরা কেমন নাচে, কবিরা কেমন কবিতা লেখেন, বিজ্ঞানীরা কী আবিষ্কার করেন, আর রাজনীতিকেরা কতোটা চুরি করে।
৪৭)যারা ধর্মের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেয়, তারা ধার্মিকও নয়, বিজ্ঞানীও নয়। শুরুতেই স্বর্গ থেকে যাকে বিতারিত করা হয়েছিলো, তারা তার বংশধর।
৪৮)যতোদিন মানুষ অসৎ থাকে, ততোদিন তার কোনো শত্রু থাকে না; কিন্তু যেই সে সৎ হয়ে উঠে, তার শত্রুর অভাব থাকে না।
৪৯)নারী সম্পর্কে আমি একটি বই লিখছি; কয়েকজন মহিলা আমাকে বললেন, অধ্যাপক হয়ে আমার এ-বিষয়ে বই লেখা ঠিক হচ্ছে না। আমি জানতে চাইলাম, কেনো ? তাঁরা বললেন, বিষয়টি অশ্লীল !
৫০)এদেশে সবাই শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক : দারোগার শোকসংবাদেও লেখা হয়, ‘তিনি শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক ছিলেন!'
৫১)শিল্পকলা হচ্ছে নিরর্থক জীবনকে অর্থপূর্ণ করার ব্যর্থ প্রয়াস।
৫২)কিছু বিশেষণ ও বিশেষ্য পরস্পরসম্পর্কিত; বিশেষ্যটি এলে বিশেষণটি আসে, বিশেষণটি এলে বিশেষ্যটি আসে। তারপর একসময় একটি ব্যবহার করলেই অন্যটি বোঝায়, দুটি একসাথে ব্যবহার করতে হয় না। যেমন : ভণ্ড বললেই পীর আসে, আবার পীর বলতেই ভন্ড আসে। এখন আর ‘ভণ্ড পীর’ বলতে হয় না; ‘পীর’ বললেই ‘ভণ্ড পীর’ বোঝায়।
৫৩)ভক্ত শব্দের অর্থ খাদ্য। প্রতিটি ভক্ত তার গুরুর খাদ্য। তাই ভক্তরা দিনদিন জীর্ণ থেকে জীর্ণতর হয়ে আবর্জনায় পরিণত হয়।
৫৪)মূর্তি ভাঙতে লাগে মেরুদণ্ড, মূর্তিপূজা করতে লাগে মেরুদণ্ডহীনতা।
৫৫)আমাদের সমাজ যাকে কোনো মূল্য দেয় না, প্রকাশ্যে তার অকুণ্ঠ প্রশংসা করে, আর যাকে মূল্য দেয় প্রকাশ্যে তার নিন্দা করে। শিক্ষকের কোনো মূল্য নেই, তাই তার প্রশংসায় সমাজ পঞ্চমুখ; চোর, দারোগা, কালোবাজারি সমাজে অত্যন্ত মুল্যবান, তাই প্রকাশ্যে সবাই তাদের নিন্দা
করে।
৫৬)সৌন্দর্য রাজনীতির থেকে সব সময়ই উৎকৃষ্ট।
৫৭)ক্ষুধা ও সৌন্দর্যবোধের মধ্যে গভীরসম্পর্ক রয়েছে। যে-সব দেশে অধিকাংশ মানুষঅনাহারী, সেখানে মাংসল হওয়া রূপসীর লক্ষণ; যে-সব দেশে প্রচুর খাদ্য আছে,সেখানে মেদহীন হওয়া রূপসীর লক্ষণ। এজন্যেই হিন্দি আর বাঙলা ফিল্মের নায়িকাদের দেহ থেকে মাংস চর্বি উপচে পড়ে। ক্ষুধার্ত দর্শকেরা সিনামা দেখে না, মাংস ও চর্বি খেয়ে ক্ষুধা নিবৃত্ত করে।
৫৮)বাঞ্ছিতদের সাথে সময় কাটাতে চাইলে বই খুলুন, অবাঞ্ছিতদের সাথে সময় কাটাতে চাইলে টেলিভিশন খুলুন।
৫৯)স্তবস্তুতি মানুষকে নষ্ট করে। একটি শিশুকে বেশি স্তুতি করুন, সে কয়েকদিনে পাক্কা শয়তান হয়ে উঠবে। একটি নেতাকে স্তুতি করুন, কয়েকদিনের মধ্যে দেশকে সে একটি একনায়ক উপহার দেবে।
৬০)ধনীরা যে মানুষ হয় না, তার কারণ ওরা কখনো নিজের অন্তরে যায় না। দুঃখ পেলে ওরা ব্যাংকক যায়, আনন্দেওরা আমেরিকা যায়। কখনো ওরা নিজের অন্তরে যেতে পারে না, কেননা অন্তরে কোনো বিমান যায় না।
৬১)শৃঙ্খলপ্রিয় সিংহের থেকে স্বাধীন গাধা উত্তম।
৬২)বাঙলায় তরুণ বাবরালিরা খেলারাম, বুড়ো বাবরালিরাভণ্ডরাম।
৬৩)প্রাক্তন বিদ্রোহীদের কবরে যখন স্মৃতিসৌধ মাথা তোলে, নতুন বিদ্রোহীরা তখন কারাগারে ঢোকে, ফাসিঁকাঠে ঝোলে।
৬৪)একনায়কেরা এখন গণতন্ত্রের স্তব করে, পুজিঁপতিরা ব্যস্ত থাকে সমাজতন্ত্রের প্রশংসায়।
৬৫)বেতন বাঙলাদেশে এক রাষ্ট্রীয় প্রতারণা। এক মাস খাটিয়ে এখানে পাঁচ দিনের পারিশ্রমিক দেয়া হয়।
৬৬)পুরস্কার অনেকটা প্রেমের মতো; দু-একবার পাওয়া খুবই দরকার, এর বেশি পাওয়া লাম্পট্য।
৬৭)বিধাতা মৌলবাদী নয়। কে প্রার্থনা করলো, কে করলো না; কে কোন তরুণীর গ্রীবার দিকে তাকালো, কোন রূপসী তার রূপের কতো অংশ দেখালো, এসব তাকে বিন্দুমাত্র উদ্বিগ্ন করে না। কিন্তু বিধাতার পক্ষে এতে ভীষণ উদ্বিগ্ন বোধ করে ভণ্ডরা।
৬৮)খুব ভেবে চিনতে মানুষ আত্মসমর্পণ করে, আর অনুপ্রাণিত মুহূর্তে ঘোষণা করে স্বাধীনতা।
৬৯)মানুষ যখন তার শ্রেষ্ঠ স্বপ্নটি দেখে তখনি সে বাস করে তার শ্রেষ্ঠ সময়ে।
৭০)এ-বদ্বীপে দালালি ছাড়া ফুলও ফোটে না, মেঘও নামে না।
৭১)অভিনেতারা সব সময়ই অভিনেতা; তারা যখন বিপ্লব করে তখন তারা বিপ্লবের অভিনয় করে। এটা সবাই বোঝে, শুধু তারা বোঝে না।
৭২)বাঙলাদেশের প্রধান মূর্খদের চেনার সহজ উপায় টেলিভিশনে কোনো আলোচনা-অনুষ্ঠান দেখা। ওই মূর্খমন্ডলিতে উপস্থাপকটি হচ্ছেন মূর্খশিরোমণি।
৭৩)বাঙলা, এবং যে-কোনো, ভাষার শুদ্ধ বানান লেখার সহজতম উপায় শুদ্ধ বানানটি শিখে নেয়া।
৭৪)পৃথিবী জুড়ে প্রতিটি নরনারী এখন মনে ক’রে তাদের জীবন ব্যর্থ; কেননা তারা অভিনেতা বা অভিনেত্রী হ'তে পারে নি।
৭৫)মৌলিকতা হচ্ছে মঞ্চ থেকে দূরে অবস্থান।
৭৬)এরশাদের প্রধান অপরাধ পরিবেশদূষণ : অন্যান্য সরকারগুলো পুরুষদের দূষিত করেছে, এরশাদ দূষিত করেছে নারীদেরও।
৭৭)বাঙালি একশো ভাগ সৎ হবে, এমন আশা করা অন্যায়। পঞ্চাশ ভাগ সৎ হ’লেই বাঙালিকে পুরস্কার দেয়া উচিত।
৭৮)বিশ্বের নারী নেতারা নারীদের প্রতিনিধি নয় ; তারা সবাই রুগ্ন পিতৃতন্ত্রের প্রিয় সেবাদাসী।
৭৯)কোন বাঙালি আজ পর্যন্ত আত্মজীবনী লেখে নি, কেননা আত্মজীবনী লেখার জন্যে দরকার সততা। বাঙালির আত্মজীবনী হচ্ছে শয়তানের লেখা ফেরেশতার আত্মজীবনী।
৮০)আজকালকার আধিকাংশ পি এইচ ডি অভিসন্দর্ভই মনে আশার আলো জ্বালায়; মনে হয় এখানেই নিহিত আমাদের শিক্ষাসমস্যা সমাধানের বীজ। প্রথম বর্ষ অনার্স শ্রেণীতেই এখন পি এইচ ডি কোর্স চালু করা সম্ভব, এতে ছাত্ররা আড়াই বছরে একটি ডক্টরেট ডিগ্রি পেতে পারে।এখানকার অধিকাংশ ডক্টরেটই স্নাতকপূর্ব ডক্টরেট; অদূর ভবিষ্যতে উচ্চ-মাধ্যমিক ডক্টরেটও পাওয়া যাবে।
৮১)সত্য একবার বলতে হয়; সত্য বারবার বললে মিথ্যার মতো শোনায়। মিথ্যা বারবার বলতে হয়; মিথ্যা বারবার বললে সত্য ব’লে মনে হয়।
৮২)ফুলের জীবন বড়োই করুণ। অধিকাংশ ফুল অগোচরেই ঝ’রে যায়, আর বাকিগুলো ঝোলে শয়তানের গলায়।
৮৩)ঢাকা শহরে, ক্রমবর্ধমান এ-পাগলাগারদে, সাতাশ বছর আছি। ঢাকা এখন বিশ্বের বৃহত্তম পাগলাগারদ; রাজধানি নয়, এটা পাগলাধানি; কিন্তু বদ্ধপাগলেরা তা বুঝতে পারে না।
৮৪)বদমাশ হওয়ার থেকে পাগল হওয়া অনেক মানবিক।
৮৫)পৌরানিক পুরুষেরা সামান্য অভিজ্ঞতা ভিত্তি ক‘রে অসামান্য সব সিদ্ধান্ত নিতেন। যযাতি পুত্রের কাছে থেকে যৌবন ধার ক’রে মাত্র এক সহস্র বছর সম্ভোগের পর সিদ্ধান্তে পৌছেন যে সম্ভোগে কখনো তৃপ্তি আসে না! এতো বড়ো একটি সিদ্ধান্তের জন্যে সহস্র বছর খুবই কম সময় : আজকাল কেউ এতো কম অভিজ্ঞতায় এতো বড়ো একটি সিদ্ধান্ত নেয়ার সাহস করবে না।
৮৬)একজন চাষী বা নদীর মাঝি সাংস্কৃতিকভাবে যতোটা মূল্যবান, সারা সচিবালয় ও মন্ত্রীপরিষদও ততোটা মূল্যবান নয়।
৮৭)মানুষ ও কবিতা অবিচ্ছেদ্য। মানুষ থাকলে বুঝতে হবে কবিতা আছে : কবিতা থাকলে বুঝতে হবে মানুষ আছে।
৮৮)বাঙালি আন্দোলন করে, সাধারণত ব্যর্থ হয়, কখনোকখনো সফল হয়; এবং সফল হওয়ার পর মনে থাকে না কেনো তারা আন্দোলন করেছিলো।
৮৯)এদেশের মুসলমান এক সময় মুসলমান বাঙালি, তারপর বাঙালি মুসলামান, তারপর বাঙালি হয়েছিলো; এখন আবার তারা বাঙালি থেকে বাঙালি মুসলমান, বাঙালি মুসলমান থেকে মুসলমান বাঙালি, এবং মুসলমান বাঙালি থেকে মুসলমান হচ্ছে। পৌত্রের ঔরষে জন্ম নিচ্ছে পিতামহ।
৯০)নিন্দুকেরা পুরোপুরি অসৎ হ’তে পারেন না, কিছুটা সততা তাঁদের পেশার জন্যে অপরিহার্য; কিন্তু প্রশংসাকারীদের পেশার জন্যে মিথ্যাচারই যথেষ্ট।
৯১)বাস্তব কাজ অনেক সহজ অবাস্তব কাজের থেকে ; আট ঘন্টা একটানা শ্রম গাধাও করতে পারে, কিন্তু একটানা এক ঘন্টা স্বপ্ন দেখা রবীন্দ্রনাথের পক্ষেও অসম্ভব।
৯২)একটি নির্বোধ তরুণীর সাথেও আধ ঘণ্টা কাটালে যে-জ্ঞান হয়, আরিস্ততলের সাথে দু-হাজার বছর কাটালেও তা হয় না।
৯৩)প্রতিটি সার্থক প্রেমের কবিতা বোঝায় যে কবি প্রেমিকাকে পায় নি, প্রতিটি ব্যর্থ প্রেমের কবিতা বোঝায় যে কবি প্রেমিকাকে বিয়ে করেছে।
৯৪)বিলেতের কবিগুরু বলেছিলেন যারা সঙ্গীত ভালোবাসে না, তারা খুন করতে পারে; কিন্তু আজকাল হাইফাই শোনার সাথেসাথে এক ছুরিকায় কয়েকটি-গীতিকার, সুরকার, গায়ক/গায়িকাকে খুন করতে ইচ্ছে হয়।
৯৫)এখন পিতামাতারা গৌরব বোধ করেন যে তাঁদের পুত্রটি গুণ্ডা। বাসায় একটি নিজস্ব গুণ্ডা থাকায় প্রতিবেশীরা তাঁদের সালাম দেয়, মুদিদোকানদার খুশি হয়ে বাকি দেয়, বাসার মেয়েরা নির্ভয়ে একলা পথে
বেরোতে পারে, এবং বাসায় একটি মন্ত্রী পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
৯৬)তৃতীয় বিশ্বের নেতা হওয়ার জন্যে দুটি জিনিশ দরকার : বন্দুক ও কবর।
৯৭)টেলিভিশনে জাহাজমার্কা আলকাতরার বিজ্ঞাপনটি আকর্ষণীয়, তাৎপর্যপূর্ণ; তবে অসম্পুর্ণ । বিজ্ঞাপনটিতে জালে,জাহাজে, টিনের চালে আলকাতরা লাগানোর উপকারিতার কথা বলা হয়; কিন্তু বলা উচিত ছিলো যে জাহাজমার্কা আলকাতরা লাগানোর উৎকৃষ্টতম স্থান হচ্ছে টেলিভিশনের
পর্দা, বিশেষ ক’রে যখন বাঙলাদেশ টেলিভিশনের অনুষ্ঠান দেখা যায়।
৯৮)রবীন্দ্রনাথ এখন বাঙলাদেশের মাটিথেকে নির্বাসিত, তবে আকাশটা তাঁর। বাঙলার আকাশের নাম রবীন্দ্রনাথ।
৯৯)গণশৌচাগার দেখলেই কেনোযেনো আমার বাঙালির আত্মাটির কথা বারবার মনে পড়ে।
১০০)আমাদের অধিকাংশের চরিত্রএতো নির্মল যে তার নিরপেক্ষ বর্ণনা দিলেও মনে হয় অশ্লীলগালাগাল করা হচ্ছে।
১০১)এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি,তুমি কথা বলো।
১০২)বিনয়ীরা সুবিধাবাদী, আর সুবিধাবাদীরা বিনয়ী।
১০৩)মোল্লারা পবিত্র ধর্মকেই নষ্ট ক’রে ফেলেছে; ওরা হাতে রাষ্ট্র পেলে তাকে জাহান্নাম ক’রে তুলবে ।
১০৪)জীবন খুবই মূল্যবান : জীবনবাদীরাযতোটা মূল্যবান মনে করে, তার চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান। আর শিল্পকলা জীবনের থেকেও মূল্যবান।
১০৫)দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম প্রেম ব'লে কিছু নেই। মানুষ যখন প্রেমে পড়ে, তখন প্রতিটি প্রেমই প্রথম প্রেম।
১০৬)মার্ক্সবাদের কথা শুনলে এখন মোল্লারাও ক্ষেপে না, সমাজতন্ত্রের কথা তারা সন্তোষের সাথেই শোনে; কিন্তুশরীরের কথা শুনলে লম্পটরাও ধর্মযুদ্ধে নামে।
১০৭)কোন কালে এক কদর্য কাছিম দৌড়ে হারিয়েছিলো এক খরগোশকে, সে-গল্পে কয়েক হাজার ধ’রে মানুষ মুখর। তারপর খরগোশ কতো সহস্রবার হারিয়েছে কাছিমকে, সে-কথা কেউ বলে না।
১০৮)মানুষের তুলনায় আর সবই ক্ষুদ্র : আকাশ তার পায়ের নিচে,চাঁদ তার এক পদক্ষেপের দূরত্বে, মহাজগত তার নিজের বাড়ি।
১০৯)কারো প্রতি শ্রদ্ধা অটুট রাখার উপায় হচ্ছে তার সাথে কখনো সাক্ষাৎ না করা।
১১০)চারাগাছেও মাঝেমাঝে ফোটে ভয়ংকর ফুল।
১১১)পুরুষ তার পুরুষ বিধাতার হাতে লিখিয়ে নিয়েছে নিজেররচনা; বিধাতা হয়ে উঠেছে পুরুষের প্রস্তুত বিধানের শ্রুতিলিপিকর।
১১২)হিন্দুবিধানে পুরুষ দ্বারা দূষিত না হওয়া পর্যন্ত নারী পরিশুদ্ধ হয় না!
১১৩)উচ্চপদে না বসলে এদেশে কেউ মূল্য পায় না। সক্রেটিস এদেশে জন্ম নিলে তাঁকে কোনো একাডেমির মহাপরিচালক পদের জন্যে তদ্বির চালাতে
হতো।
১১৪)সব ধরনের অভিনয়ের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হচ্ছে রাজনীতি; রাজনীতিকেরা অভিনয় করে সবচেয়ে বড় মঞ্চে ও পর্দায়।
১১৫)মৌলবাদ হচ্ছে আল্লার নামে শয়তানবাদ।
১১৬)একটি ধর্মান্ধের মুখের দিকে তাকালেই বোঝা যায় আল্লা অমন লোককে পছন্দ করতে পারে না।
১১৭)ঐতিহ্য বলতে এখানে লাশকেই বোঝায়। তবে লাশ জীবনকে কিছুই দিতে পারে না।
১১৮)গাধা একশো বছর বাঁচলেও সিংহ হয় না।
১১৯)একটি আমলা আর একটা মন্ত্রীর সাথে পাঁচ মিনিট কাটানোর পর জীবনের প্রতি ঘেন্না ধ’রে গেলো; তারপর একটি চড়ুইয়ের সাথে দু-মুহূর্ত কাটিয়ে জীবনকে আবার ভালবাসলাম।
১২০)আমি ঈর্ষা করি শুধু তাদের যারা আজো জন্মে নি।
১২১)ভাবাদর্শগত জীবন হচ্ছে বন্দী জীবন। মানুষ জীবন যাপনের জন্যে জন্মেছে, ভাবাদর্শ যাপনের জন্যে জন্মে নি।
১২২)মুসলমানের মুক্তি ঘটে নি, কারণ তারা অতীত ও তাদের মহাপুরুষদের সম্পর্কে কোনো সত্যনিষ্ঠ আলোচনা করতে দেয় না।
১২২)গান্ধি দাবি করেন যে তিনি একই সাথে হিন্দু, খ্রিষ্টান, মুসলমান, বৌদ্ধ, ইহুদি, কনফুসীয় ইত্যাদি। একে তিনি ও তাঁর অনুসারীরা মহৎ ব্যাপার ব’লে মনে করেছেন। কিন্তু এটা প্রতারণা, ও অত্যন্ত ভয়ঙ্কর ব্যাপার,- তিনি নিজেকে ক’রে তুলেছেন সব ধরনের খারাপের সমষ্টি। এমন প্রতারণা থেকেই উৎপত্তি হয়েছে বাবরি মসজিদ উপাখ্যানের। তিনি যদি বলতেন আমি হিন্দু নই, খ্রিস্টান নই, মুসলমান নই, বৌদ্ধ নই, ইহুদি নই, কনফুসীয় নই; আমি মানুষ, তাহলে বাবরি মসজিদ উপখ্যানের সম্ভাবনা অনেক কমতো।
১২৩)ভারতীয় সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের আধুনিক উৎস মোহনচাঁদ করমচাঁদ গান্ধি।
১২৪)সতীচ্ছদ আরব পুরুষদের জাতীয় পতাকা।
১২৫)পাপ কোনো অন্যায় নয়, অপরাধ অন্যায়। পাপ ব্যক্তিগত, তাতে সমাজের বা অন্যের, এমনকি পাপীর নিজেরও কোনো ক্ষতি হয় না; কিন্তু অপরাধ সামাজিক, তাতে উপকার হয় অপরাধীর, আর ক্ষতি হয় অন্যের বা সমাজের।
১২৬)সবচেয়ে হাস্যকর কথা হচ্ছে একদিন আমরা কেউ থাকবো না।
১২৭)পৃথিবীতে যতোদিন অন্তত একজনও প্রথাবিরোধী মানুষ থাকবে, ততো দিন পৃথিবী মানুষের।
১২৮)সক্রেটিস বলেছেন তিনি দশ সহস্র গর্দভ দ্বারা পরিবৃত। এখন থাকলে তিনি ওই সংখ্যার ডানে কটি শূন্য যোগ করতেন?
১২৯)বাঙালি মুসলমান জীবিত প্রতিভাকে লাশে পরিনত করে, আর মৃত প্রতিভার কবরে আগরবাতি জ্বালে।
১৩০)নজরুলসাহিত্যের আলোচকেরা সমালোচক নন, তাঁরা নজরুলের মাজারের খাদেম।
১৩১)ভ্রষ্ট বাঙালিকে ভালোবাসার শ্রেষ্ঠ উপায় তার গালে শক্ত ক’রে একটি চড় কষিয়ে দেয়া।
১৩২)ভিখিরির জীবন মহৎ উপন্যাসের বিষয় হ'তে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রপ্রধানদের জীবন সুখপাঠ্য গুজবনামারও অযোগ্য।
১৩৩)বাঙালির জাতিগত আলস্য ধরা পড়ে ভাষায়। বাঙালি ‘দেরি করে’, ‘চুরি করে’, 'আশা করে', এমনকি ‘বিশ্রাম করে’; বিশ্রামও বাঙালির কাছে কাজ।
১৩৪)বাঙালি অভদ্র, তার পরিচয় রয়েছে বাঙালির ভাষায়। কেউ এলে বাঙালি জিজ্ঞেস করে, ‘কী চাই?’ বাঙালির কাছে আগন্তুকমাত্রই ভিক্ষুক। অপেক্ষা করার অনুরোধ জানিয়ে বাঙালি বলে, ‘দাঁড়ান’; বসতে বলার সৌজন্যটুকুও বাঙালির নেই।
১৩৫)এখানে সাংবাদিকতা হচ্ছে নিউজপ্রিন্ট-বলপয়েন্ট-মিথ্যার পাচঁন।
১৩৬)মানুষ মরণশীল, বাঙালি অপমরণশীল।
১৩৭)এ-সরকার মাঝে মাঝে গোপন চক্রান্ত ফাঁস ক'রে ফেলে। সরকার মাটি আর মানুষের সমন্বয় ঘটানোরসংকল্প ঘোষণা করেছে। আমি ভয় পাচ্ছি, কেননা মাটি ও মানুষের সমন্বয় ঘটে শুধু কবরে।
১৩৮)বাঙলাদেশের রাজনীতিকেরা স্থূল মানুষ, তারা সৌন্দর্য বোঝে না ব'লে গণতন্ত্রও বোঝে না; শুধু লাইসেন্স-পারমিট-মন্ত্রীগিরি বোঝে।
১৩৯)এমন এক সময় আসে সকলেরই জীবনে যখন ব্যর্থতাগুলোকেই মনে হয় সফলতা, আর সফলতাগুলোকে মনে হয় ব্যর্থতা।
১৪০)রাজনীতি ও সংস্কৃতি সম্পুর্ণ বিপরীত বস্তু ; একটি ব্যাধি অপরটি স্বাস্থ্য।
১৪১)মহিলাদের ঘ্রাণশক্তি খুবই প্রবল। আমার এক বন্ধুপত্নী স্বামীর সাথে টেলিফোনে আলাপের সময়ও তার স্বামীর মুখে হুইস্কির ঘ্রাণ পান।
১৪২)আগে প্রতিভাবানেরা বিদেশ যেতো; এখন প্রতিভাহীনেরা নিয়মিত বিদেশ যায়।
১৪৩)অধিকাংশ সুদর্শন পুরুষই আসলে সুদর্শন গর্দভ; তাদের সাথে সহবাসে একটি দুষ্প্রাপ্য প্রাণীর সাথে সহবাসের অভিজ্ঞতা হয়।
১৪৪)পৃথিবী জুড়ে সমাজতন্ত্রের সাম্প্রতিক দুরবস্থার সম্ভবত গভীর ফ্রয়েডীয় কারণ রয়েছে। সমাজতন্ত্রের মার্ক্সীয়, লেলিনীয়, স্তালিনীয় আবেদন ছিলো,কিন্তু যৌনাবেদন ছিলো না।
১৪৫)স্বার্থ সিংহকে খচ্চরে আর বিপ্লবীকে ক্লীবে পরিণত করে।
১৪৬)অপন্যাস হচ্ছে সে-ধরনের সাহিত্য, যা বছরেলাখ টন উৎপাদিত হ’লেও সাহিত্যের কোনো উপকার হয় না; আর আধ কেজি উৎপাদিত না হ’লেও
কোনো ক্ষতি হয় না।
১৪৭)আঠারো তলা টাওয়ারের থেকে শিশিরবিন্দু অনেক উঁচু। চিরকাল শিশিরবিন্দুর পাদদেশে দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু অনেক টাওয়ারের চুড়োয় উঠেছি।
১৪৮)সৎ মানুষ মাত্রই নিঃসঙ্গ, আর সকলের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু।
১৪৯)বিপ্লবীদের বেশি দিন বাঁচা ঠিক নয়। বেশি বাঁচলেই তারা প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে ওঠে।
১৫০)পুঁজিবাদী পর্বের সবচেয়ে বড়ো ও জনপ্রিয় কুসংস্কারের নাম প্রেম।
১৫১)পৃথিবীতে রাজনীতি থাকবেই। নইলে ওই অপদার্থ অসৎ লোভী দুষ্ট লোকগুলো কী করবে?
১৫২)ক্ষমতায় যাওয়ার একটিই উপায়; সমস্যা সৃষ্টি করা। সমস্যা সমাধান ক’রে কেউ ক্ষমতায় যায় না, যায় সৃষ্টি ক'রে।
১৫৩)পশু আর পাখিরাই মানবিক।
১৫৪)অন্যদের কাহিনীর ক্ষীণ সূত্র নিয়ে হ্যামলেট বা ওথেলো বা ম্যাকবেথ লেখা, আর বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পথের পাঁচালী কেটে কেটে, নষ্ট ক'রে, সত্যজিতের পথের পাঁচালী তৈরি করা সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। অন্যের কাহিনীসূত্র নিয়ে হ্যামলেট লেখা মানবপ্রজাতির একজনের বিস্ময়কর প্রতিভার লক্ষণ, আর বিভূতিভূষণের পথের পাঁচালী ছিঁড়ে সত্যজিতের পথের পাঁচালী তৈরি চিত্রগ্রহণদক্ষতার পরিচায়ক। আরেকটি উৎকৃষ্টতর হ্যামলেট বা ওথেলো বা ম্যাকবেথ, বা মেঘনাদবধ মানুষের ইতিহাসে আর লেখা হবে না; কিন্তু সত্যজিতের পথের পাঁচালীর থেকে উৎকৃষ্ট পথের পাঁচালী হয়তো তৈরি হবে আগামী দশকেই।
১৫৫)সত্যজিত যদি ভারতরত্ন হন, তবে বিভূতিভূষণ বিশ্বরত্ন, সভ্যতারত্ন; কিন্তু অসভ্য প্রচারের যুগে মহৎ বিভূতিভূষণকে পৃথিবী কেনো ভারতও চেনে না, চেনে গৌণ সত্যজিৎকে।
১৫৬)শিল্পীর কতোটা স্বাধীনতা দরকার ? নির্বোধেরা মনে করে এবং দাবি করে যে শিল্পীর দরকার অবাধ স্বাধীনতা। যেনো শিল্পীকে সমাজরাষ্ট্র অবাধ স্বাধীনতা দিয়ে দেবে, আর সে মনের আনন্দে শিল্পকলা সৃষ্টি ক'রে চলবে। এটা শিল্পকলা ও স্বাধীনতা সম্পর্কে এক মর্মস্পর্শী ভ্রান্তি। সত্য এর বিপরীত। সাধারণ মানুষের থেকে একবিন্দুও বেশি স্বাধীনতা শিল্পীর দরকার নয়; সাধারণ মানুষেরই দরকার অবাধ স্বাধীনতা, কেননা তার স্বাধীনতা সৃষ্টি করতে পারে না। শিল্পীর কোনো দরকার পড়ে না দিয়ে দেয়া স্বাধীনতার, কেননা শিল্পীর কাজই স্বাধীনতা সৃষ্টি করা, আর স্বাধীনতা সৃষ্টি করার প্রথাগত নাম হচ্ছে শিল্পকলা।
১৫৭)মানুষ মরলে লাশ হয়, সংস্কৃতি মরলে প্রথা হয়।
১৫৮)ক্ষমতায় থাকার সময় যারা সত্য প্রকাশ করতে দেয় না, ক্ষমতা হারানোর পর তারা অজস্র মিথ্যার প্রকাশ রোধ করতে পারে না।
১৫৯)আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে।
১৬০)পৃথিবীর প্রধান বিশ্বাসগুলো অপবিশ্বাস মাত্র। বিশ্বাসীরা অপবিশ্বাসী।
১৬১)শয়তানই আজকাল আল্লা আর ঈশ্বরের নাম নিচ্ছে প্রাণ ভ’রে। আদিম শয়তান আর যাই হোক রাজনীতিবিদ ছিলো না, কিন্তু শয়তান এখন রাজনীতি শিখেছে; আল্লা আর ঈশ্বর আর জেসাসের নামে দিনরাত শ্লোগান দিচ্ছে।
১৬২)আমার লেখার যে-অংশ পাঠককে তৃপ্তি দেয়, সেটুকু বর্তমানের জন্যে; আর যে-অংশ তাদের ক্ষুব্ধ করে সেটুকু ভবিষ্যতের জন্য।
১৬৩)পৃথিবীতে একটি মাত্র দক্ষিনপন্থী সাম্যবাদী দল রয়েছে। সেটি আছে বাঙলাদেশে।
১৬৪)আমাদের প্রায়-প্রতিটি মার্ক্সবাদী তাত্ত্বিকের ভেতরে একটি ক’রে মৌলবাদী বাস করে। তারা পান করাকে পাপ মনে করে, প্রেমকে গুনাহ্ মনে করে, কিন্তু চারখান বিবাহকে আপত্তিকর মনে করে না।
১৬৫)শ্রেষ্ঠ মানুষের অনুসারীরাও কতোটা নিকৃষ্ট হ'তে পারে চারদিকে তাকালেই তা বোঝা যায়।
১৬৭)ঋষি রবীন্দ্রনাথের ছবি দেখলে বাল্যকাল থেকেই তাঁর জন্মাব্দ ১৮৬১র আগে দুটি বর্ণ যোগ করতে আমার ইচ্ছে হয়। বর্ণ দুটি হচ্ছে খ্রিপূ।
১৬৮)বাঙলার প্রতিটি ক্ষমতাধিকারী দল সংখ্যাগরিষ্ঠ দুর্বৃত্তদের সংঘ।
১৬৯)কবিতা এখন দু-রকম: দালালি, ও গালাগালি।
১৭০)বাঙলাদেশের সাহিত্যে আধুনিকতাপর্বের পর কি আসবে আধুনিকতা-উত্তর-পর্ব ? না। আসতে দেখছি গ্রাম্যতার পর্ব।
১৭১)পাকিস্থানের ইতিহাস ঘাতক আর শহীদদের ইতিহাস। বাঙলাদেশের ইতিহাস শহীদ আর ঘাতকদের ইতিহাস।
১৭২)বিভূতিভূষণের পথের পাঁচালীর পাশে সত্যজিতের চলচিত্রটি খুবই শোচনীয় বস্তু, ওটি তৈরি না হ’লেও ক্ষতি ছিলো না; কিন্তু বিভূতিভূষণ যদি পথের পাঁচালী না লিখতেন, তাহলে ক্ষতি হতো সভ্যতার।
১৭৩)সৌন্দর্য যেভাবেই থাকে সেভাবেই সুন্দর।
১৭৪)শরীরই শ্রেষ্ঠতম সুখের আকর। গোলাপের পাপড়ির ওপর লক্ষ বছর শুয়ে থেকে, মধুরতম দ্রাক্ষার সুরা কোটি বছর পান ক’রে, শ্রেষ্ঠতম সঙ্গীত সহস্র বছর উপভোগ ক’রে যতোখানি সুখ পাওয়া যায়, তার চেয়ে অর্বুদগুণ বেশি সুখ মেলে কয়েক মুহূর্ত শরীর মন্থন ক’রে।
১৭৫)মানুষের উৎপত্তি সম্পর্কে দুটি তত্ত্ব রয়েছে : অবৈজ্ঞানিকটি অধঃপতনতত্ত্ব,
বৈজ্ঞানিকটি বিবর্তনতত্ত্ব। অধঃপতনতত্ত্বের সারকথা মানুষ স্বর্গ থেকে অধঃপতিত। বিবর্তনতত্ত্বের সারকথা মানুষ বিবর্তনের উৎকর্ষের ফল। অধঃপতনবাদীরা অধঃপতনতত্ত্বে বিশ্বাস করে; আমি যেহেতু মানুষের উৎকর্ষে বিশ্বাস করি, তাই বিশ্বাস করি বিবর্তনতত্ত্বে। অধঃপতন থেকে উৎকর্ষ সব সময়ই উৎকৃষ্ট।
১৭৬)শোনা যায় পুরোনো কালে ঘটতো নানা অলৌকিক ঘটনা, তবে পুরোনো কালের অলৌকিক ঘটনাগুলো বানানো বা ভোজবাজি। প্রকৃত অলৌকিক ঘটনার কাল হচ্ছে বিশশতক। পুরোনো কালের কোনো মোজেজ লাঠিকে সাপ বানাতে, বা সমুদ্রের উপর সড়ক তৈরি করতে পারতেন- ক্ষণিকের জন্যে। ওগুলো নিম্নমানের যাদু। সত্য স্থায়ী অলৌকিকতা সৃষ্টি করতে পেরেছে শুধু বিশশতকের বিজ্ঞান। বিদুৎ, বিমান, টেলিভিশন, কম্পিউটার,নভোযান, এমনকি সামান্য শেলাইকলটিও অতীতের যে-কোনো অলৌকিক ঘটনার চেয়ে অনেক বেশি অলৌকিক। বিজ্ঞান অলৌকিকতাকে সত্যে পরিণত করেছে ব’লে গাধাও তাতে বিষ্মিত হয় না, কিন্তু পুরোনো তুচ্ছ অলৌকিকতার কথায় সবাই বিহ্বল হয়ে ওঠে।
১৭৭)পুরোনো কালের মানুষ যদি দৈবাৎ একটি টেলিভিশনের সামনে এসে পড়তো, তাহলে তাকে দেবতা মনে ক’রে পুজো করতো। আজো সেই পুজো চলতো।
১৭৮)ধর্মের কাজ মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা; তাই এক ধার্মিকের রক্তে সব সময়ই গোপনে শানানো হ’তে থাকে অন্য ধার্মিককে জবাই করার ছুরিকা।
১৭৯)ধার্মিক কখনোই সম্পুর্ন মানুষ নয়, অনেক সময় মানুষই নয়।
১৮০)মৃত সিংহের থেকে জীবিত গাধাও কতো জোতির্ময় উজ্জ্বল !
১৮১)আমার অনুরাগীরা চরম অনুরাগ প্রকাশের সময় খুব আবেগভরে বলেন যে আমার মতো পণ্ডিত ও প্রতিভাবান লোক আর নেই; তাই আমার অনেক কিছুই হওয়া উচিত। যেমন অবিলম্বে আমার হওয়া উচিত কোনো একাডেমির মহাপরিচালক, বা কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ইত্যাদি।শুনে আমি তাঁদের ও নিজের জন্যে খুব করুণা বোধ করি। আমি হ'তে চাই মহৎ, আর অনুরাগীরা আমাকে ক'রে তুলতে চান ভৃত্য।
১৮২)আপনি যখন হেঁটে যাচ্ছেন তখন গাড়ি থেকে যদি কেউ খুব আন্তরিকভাবে মিষ্টি হেসে আপনার দিকে হাত নাড়ে, তখন তাকে বন্ধু মনে করবেন না। মনে করবেন সে তার গাড়িটার দিকে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ ক'রে আপনাকে কিছুটা পীড়ন ক'রে সুখী হ'তে চায়।
১৮৩)শিশু, সবুজ, তরুণীরা আছে ব’লে বেঁচে থাকা আজো আমার কাছে আপত্তিকর হয়ে ওঠে নি।
১৮৪)টাকাই অধিকাংশ মানুষের একমাত্র ইন্দ্রিয়।
১৮৫)বাঙলার বিবেক খুবই সন্দেহজনক। বাঙলার চুয়াত্তরের বিবেক সাতাত্তরে পরিণত হয় সামরিক একনায়কের সেবাদাসে।
১৮৬)বাঙলাদেশ অমরদের দেশ। এ-দেশের প্রতি বর্গমিটার মাটির নিচে পাঁচ জন ক’রে অমর ঘুমিয়ে আছেন।
১৮৭)একবার রাজাকার মানে চিরকাল রাজাকার; কিন্তু একবার মুক্তিযোদ্ধা মানে চিরকাল মুক্তিযোদ্ধা নয়।
১৮৮)গত দু-শো বছরে গবাদিপশুর অবস্থার যতোটা উন্নতি ঘটেছে নারীর অবস্থার ততোটা উন্নতি ঘটে নি।
১৮৯)মসজিদ ভাঙে ধার্মিকেরা, মন্দিরও ভাঙে ধার্মিকেরা, তারপরও তারা দাবি করে তারা ধার্মিক, আর যারা ভাঙাভাঙিতে নেই তারা অধার্মিক বা নাস্তিক।
১৯০)মসজিদ ভাঙলে আল্লার কিছু যায় আসে না, মন্দির ভাঙলে ভগবানের কিছু যায় আসে না; যায় আসে শুধু ধর্মান্ধদের। ওরাই মসজিদ ভাঙে, মন্দির ভাঙে।
১৯১)মসজিদ তোলা আর ভাঙার নাম রাজনীতি, মন্দির ভাঙা আর তোলার নাম রাজনীতি। কিন্তু ওরা তাকে চালায় ধর্মের নামে।
১৯২)মসজিদ ও মন্দির ভাঙার সময় একটি সত্য দীপ্ত হয়ে ওঠে যে আল্লা ও ভগবান কতো নিষ্ক্রিয়, কতো অনুপস্থিত।
১৯৩)জীবনের সারকথা কবর।
১৯৪)শাড়ি প’রে শুধু শুয়ে থাকা যায়; এজন্যে বাঙালি নারীদেরহাঁটা হচ্ছে চলমান শোয়া।
১৯৫)শাশ্বত প্রেম হচ্ছে একজনের শরীরে ঢুকে আরেকজনকে স্বপ্ন দেখা।
১৯৬)প্রেম হচ্ছে নিরন্তর অনিশ্চয়তা; বিয়ে ও সংসার হচ্ছে চূড়ান্ত নিশ্চিন্তির মধ্যে আহার, নিদ্রা, সঙ্গম, সন্তান, ও শয়তানি।
১৯৭)মধ্যবিত্ত পতিতাদের নিয়ে সমস্যা হচ্ছে তারা পতিতার সুখ ও সতীর পূণ্য দুটিই দাবি করে।
১৯৮)ইতিহাস হচ্ছে বিজয়ীর হাতে লেখা বিজিতের নামে একরাশ কুৎসা।
১৯৯)এখানে কোনো কিছু সম্পর্কে কিছু লেখাকে মনে করা হয় গভীর শ্রদ্ধার প্রকাশ। গাধা সম্পর্কে আমি একটি বই লিখেছি, অনেকে মনে করেন আমি গাধার প্রতি যারপরনাই শ্রদ্ধাশীল। গরু সম্পর্কে আমি একটি বই লিখেছি, অনেকে মনে করেন গরুর প্রতি আমি প্রকাশ করেছি আমার অশেষ শ্রদ্ধা। নারী সম্পর্কে আমি একটি বই লিখেছি। একটি পার্টটাইম পতিতা, যার তিনবার হাতছানিতেও আমি সাড়া দিই নি, অভিযোগ করেছেন, নারী সম্পর্কে বই লেখার কোনো অধিকার আমার নেই, যেহেতু আমি পতিতাদের শ্রদ্ধা করি না, অর্থাৎ তাদের হাতছানিতে সাড়া দিই না।
২০০)পুরুষতান্ত্রিক সভ্যতার শ্রেষ্ঠ শহীদের নাম মা।(সংগ্রহীত)

Tuesday, January 5, 2016

নক্ষত্রের বর্জই প্রানের পওন!

হাজার বছর ধরে মানুষ রাতের ঝলমলে আকাশ দেখে বিস্মিত হয়েছে আর মুগ্ধ নয়নে ভেবেছে বহুদুরের ঝুলন্ত আলোক বিন্দু নিয়ে। আকাশের বুকে জ্বলজ্বলে এই ঝুলন্ত বিন্দুই হলো তারা বা নক্ষত্র। তখনকার দিনে নক্ষত্র মানুষের মনে ঐশ্বরিক চিন্তার যোগান দিত, এমনকি নক্ষত্রদের মাধ্যমে নাবিকরা সমুদ্রে দিক ঠিক করতো। যদিও নক্ষত্র কি, কিভাবে এদের উৎপত্তি – এসব সম্পর্কে তাদের কোন ধারনা ছিলনা। বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে আজ নক্ষত্রদের সম্পর্কে জানার তেমন কিছু বাকি নাই। মজার বিষয় হলো, নক্ষত্ররা নিষ্প্রাণ হলেও অনেকটা জীবিত; এদের জন্ম হয় এবং জীবন শেষে মৃত্যুবরন করে।

মহাবিশ্বে প্রাচুর্যতার দিক দিয়ে নক্ষত্ররাই সবথেকে এগিয়ে। নক্ষত্র হলো সৌরজগতের শক্তি এবং আলোর মুল উৎস। নক্ষত্রগুলো অনেকটা আজকের দিনের পারমানবিক চুল্লির মত, এদের কেন্দ্রেই উৎপন্ন হয় জীবন গঠনের যত প্রয়োজনীয় মৌল। মহাবিশ্ব যদি নক্ষত্রশুন্য হতো তাহলে কোন প্রানের উৎপত্তি হতোনা। উদাহরণস্বরূপ, আমাদের সৌরজগতের কেন্দ্রে অবস্থিত সুর্য কিন্তু আদতে একটা নক্ষত্র।

নক্ষত্রের জন্মকথা

মহাবিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে বহুপ্রকার গ্যাস এবং ধূলিকণা। স্থান বিশেষ এই গ্যাস এবং ধূলিকণার অনুপাত বা পরিমান কমবেশি হয়ে থাকে। বিশেষ কিছু জায়গায় ধূলিকণার পরিমাণ অত্যন্ত বেশি থাকে, এরকম জায়গাকে নেবুলা বলে। যখন কোন ভারী বস্তু নেবুলার পাশ দিয়ে যায় অথবা কাছাকাছি কোন সুপারনোভা বিষ্ফোড়ন ঘটে তখন তার মহাকর্ষ বলের প্রভাবে নেবুলা সঙ্কুচিত হতে থাকে। এই সঙ্কোচনের ফলে নেবুলার অভ্যন্তরে অবস্থিত গ্যাস এবং ধূলিকণা কেন্দ্রে জড়ো হতে থাকে এবং শিশু নক্ষত্র গঠন করে, যাকিনা অনেকটা নক্ষত্রের মত কিন্তু অতবেশি ঘনত্বের নয়। মহাকর্ষের প্রভাবে শিশু নক্ষত্রটি আরো সঙ্কুচিত হয় এবং অধিক পরিমাণ ধূলিকণা এর সাথে যোগ হতে থাকে ফলে এর ভর ও ঘনত্ব দুটোই বেড়ে যায়। ভর ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় কেন্দ্রে তাপ উৎপন্ন হতে থাকে। এভাবে যখন ভর এবং তাপমাত্রা একটা নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করে তখন নক্ষত্রটির কেন্দ্রে নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া শুরু হয় এবং নক্ষত্রটি পরিনত হয়। এটা নক্ষত্রের প্রথম পর্যায় এবং একে মেইন সিকুয়েন্স ফেজ বা মেইন সিকুয়েন্স নক্ষত্র বলে। নক্ষত্রদের জীবনের বেশিরভাগ সময়ই কাটে এই ধাপে। উল্লেখ্য যে আমাদের সুর্য এখনো এ পর্যায়ে আছে।

নক্ষত্রের বিবর্তনঃ-

কালো বামন বলে।

এ পর্যন্ত সবকিছু ঠিক ছিল কিন্তু উক্ত তারার ভর যদি অস্বাভাবিক রকম বেশি হয় তাহলে তারাটি খুব দ্রুত গতিতে চুপশে যাবে ফলে ভয়ংকর রকমের বিষ্ফোড়ন ঘটবে। একে সুপারনোভা বিষ্ফোড়ন বলে। তারাটির ভর যদি আমাদের সুর্যের ভরের ১.৪ গুন বেশি হয়, তাহলে এটি বিষ্ফোড়নের পরেও সঙ্কুচিত হতে থাকবে এবং নিউট্রন তারায় রুপান্তরিত হবে। কিন্তু যদি তারাটির ভর আমাদের সুর্যের ৩ গুন বা তার বেশি হয়, তাহলে এর সঙ্কোচনের হার এতোবেশি হবে যে তারাটির মধ্যকার সমস্ত পদার্থ একটি বিন্দুতে জড়ো হবে এবং বলতে গেলে এটা মহাশূন্যে মিলিয়ে যাবে। সবশেষে থাকবে অসীম মহাকর্ষ বলের একটা গর্ত যেখান থেকে কোন কিছুই বের হতে পারেনা, এমনকি আলোও নয়। এটাকে তখন ব্লাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বর বলে।

যাহোক, সাধারণত নক্ষত্রগুলো প্লানেটারি নেবুলা হিসাবে লক্ষ লক্ষ বছর ধরে প্রসারিত হতে থাকে এবং নিকটবর্তী কোন ভারী বস্তুর মহাকর্ষের প্রভাবে পুনরায় সঙ্কুচিত হতে শুরু করে। এভাবে অসীম সংখ্যকবার চলতে থাকে নক্ষত্র সৃষ্টির মহাজাগতিক পুনর্জন্ম এবং বিবর্তন। আমাদের সৌর জগত মুলত সৃষ্টি হয়েছে এধরনের দ্বিতীয় বা তৃতীয় জেনারেশনের নেবুলা থেকে। একারনে আমাদের পৃথিবী তথা সৌরজগতে বিভিন্ন হালকা ও ভারী মৌলের এতো প্রাচুর্যতা যেটা প্রানের উৎপত্তি সম্ভব করেছে। আমাদের শরীর গঠনের যাবতীয় পরামানু এসেছে নক্ষত্রের কেন্দ্রে ঘটা নিউক্লিয়ার ফিশন থেকে অথবা সুপারনোভা বিষ্ফোড়ন থেকে। এমনকি এমনো হতে পারে যে, আমার দুটি হাতের মৌল হয়তো এসেছে দুটি ভিন্ন নেবুলা থেকে। সত্যি বলতে আমরা সবাই নক্ষত্রের সন্তান। নক্ষত্রের বর্জ্যেই আমাদের পত্তন।


Friday, December 25, 2015

জ্বীন: বাস্তবতার আড়ালে লুকানো ভন্ডামি আর আমার কল্পনা (চার পর্ব একসাথে)

পর্ব-১

আবহমান কাল থেকে জ্বীন নামক একটি অদৃশ্য জাতির (!) নাম প্রচলিত রয়েছে। শুধু নামেই নয়, জ্বীনদের নিয়ে রয়েছে কত সব রহস্যজনক কাহিনী। এই কাহিনী কি শুধুই লোকমুখেই? মোটেও না, জ্বীনদের উপস্থিতি রয়েছে সাহিত্যে, গল্পে, উপন্যাসে, আরব্যরজনীর অধ্যায়ে, ধর্মগ্রন্থে, গবেষণায়, কল্পনায়, ভয়ে, আরাধনায়। জ্বীনদের উপস্থিতি রয়েছে বিভিন্ন মিথোলজিক্যাল সংস্কৃতিতে, অন্ধকার জগতে, আত্মাদ্ধিক বিচরণে, ভর ও শক্তির পারস্পারিক পরিবর্তনে, ইতিহাস বিখ্যাত মনীষীদের দর্শনে। জ্বীনের প্রভাব রয়েছে সুপার নেচারাল ঘটনার জন্ম প্রক্রিয়াতে, প্রেমিক-প্রেমিকার কল্পনায়, কবিরাজের লাঠির শরীরে, কবরখানায়, শশ্মান ঘাটে, প্রেতাত্মার ডাকে, কোয়ান্টাম মেডিটেশনে, আলো-আধারের লুকোচুরিতে। হালের এনার্জি ক্রাইসিসও নাকি মিটতে পারে এই জ্বীন জাতির অস্তিত্ব আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে! তাহলে কিভাবে বলি জ্বীন মিথ্যা বা বানোয়াট?? চলুন দেখি নিচের ব্যাখ্যা গুলো কি বলে:



লোকনাথপুর গ্রামের আজিবর কবিরাজ জ্বীনদের বড় ওস্তাদ। দুনিয়ার এমন কোন জ্বীন নেই যে তার কথা শুনে না, মানে না। আজিবর কবিরাজের শুধু মুখের কথায় জ্বীনরা ওঠা বসা করে, গান-বাজনা করে, সাত সমুদ্র তের নদী পার হয়ে এনে দেয় চাহিবা মাত্র বস্তু। একদা নিজের চোখের দেখা দশ-বারো জন লোক অচেনা যুবককে (বয়সে ২৮/৩০ হবে) মোটা দড়ি আর লোহার শিকলে বাঁধা অবস্থায় নিয়ে আসলো আজিবর কবিরাজের কাছে। যুবককে নাকি জ্বীনে ধরেছে! কোন লোকের কাছে রেফারেন্স পেয়ে তারা এসেছে এই আজিবর কবিরাজের কাছে। সামনে আসতেই আজিবর বুঝতে পারে এটা জ্বীন ধরা রোগী, আর তৎক্ষনাৎ সে আগত লোকদের বলে যুবকের হাত পায়ের শিকল খুলে দিতে। লোকজন জানায় এটা করলে সে এখনই রক্তারক্তি বইয়ে দিবে, খুনোখুনি করবে কেই ঠেকাতে পারবে না। জড় হয়ে গেল শত শত লোক! সবাই দেখল কিভাবে আজিবর কবিরাজ ঐ অচেনা যুবকের জ্বীন ছাড়িয়ে দিল সবার সামনেই। অথচ গত ১০ বছর ধরে পরিবারটা ভুগছে এই সমষ্যায়। কি বলবেন তাহলে? অবশ্যই জ্বীন আছে!



রুমেল-জয়া বড়লোক দম্পত্তির একমাত্র মেয়ে সোহানার বয়স ৬ বছর। সোহানা হাটতে পারে না সেই ছোট বেলা থেকেই। মেয়ের হাটার শক্তি ফিরিয়ে আনার জন্য ঘুরে বেড়িয়েছে দেশ বিদেশের বড় বড় ডাক্তার, হসপিটাল এমনকি আজমির শরীফের মত বড় বড় মাজারে। নাহ, কোন কিছুতেই কোন কাজ হয়নি। লোক মুখে শুনে সেও এসেছিল আজিবর কবিরাজের কাছে, মেয়েটি কয়েক মিনিটের মন্ত্রবলেই ভালো হয়ে গিয়েছিল। এ ঘটনাটিও অন্তত ১০/১৫ জন মানুষের সামনে আর সবচাইতে বড় সাক্ষি তার বা-মা এবং সোহানা নিজেই। কি বলবেন তাহলে? অবশ্যই জ্বীন আছে!

****************************************************************

পর্ব-২

এ পর্বেও চলবে আজিবর কবিরাজের কয়েকটি ঘটনা। আজিবর কবিরাজের বড় ছেলে রাসেলের সঙ্গে আমার ভাব সেই ছোটবেলা থেকেই, সে একাধারে আমার ক্লাসমেট, বন্ধু, ভাই, প্রতিবেশী, খেলার সাথী, ন্যায়-অন্যায় কাজের সর্বসময়ের সাথী। খুব সাধারণ থেকে অসাধারণ যে কোন ঘটনায় যদি আমার অন্তরালে হয়ে থেকে তাহলে যত দ্রুত সম্ভব সে আমার সাথে শেয়ার করে।



একবার রাসেল ওর আব্বুর সঙ্গে ওর নানীর কবর জিয়ারত করতে যায়, কবরটি অনেক পুরোনো আর মাঠের মধ্যে যে মাঠে যেতে হলে পার হতে হয় অনেক বড় জঙ্গল। যায় হোক, পথ, পথের ধারে জঙ্গল পার হয়ে ওরা পৌঁছে নানীর কবরের কাছে। কবরের পাশে অনেক লম্বা তালগাছ। রাসেল নিজের চোখে দেখল ধবধবে সাদা কাপড় পরিহিতা এক সুন্দরী মহিলা তাল গাছে বেয়ে নেমে এসে ঠিক ওদের পিছনে দাঁড়ালো। রাসেল ওর আব্বুর জ্বীনের উপর বিদ্যার কথা জানতো তাই ভয় না পেয়ে মনে মনে সাহস সন্চয় করে আব্বুর সাথে কবর জিয়ারত করে ফেরৎ আসার পথেই আবার দেখলো ঐ মহিলা খুব দ্রূত আবার তালগাছের উপর এক লাফে উঠে গেল। রাসেল তার পরদিনই ঘটনাটি আমার সাথে শেয়ার করলো। তাহলে কি বলব? অবশ্যই জ্বীন আছে!



আজিবর কবিরাজের যে ঘটনাটি সবচাইতে আমাকে ভাবিয়ে তোলে এখন সেটি তুলে ধরব। ঘটনাটি আমাদের প্রতিবেশি আসাদ মিয়ার বাড়ীর ঘটনা। তখন আমি এ পৃথিবীতে আসিনি। কিন্ত আমার গ্রামের যত সব মরুব্বী আর বয়স্ক লোকজন রয়েছে তারা সবাই ঐ ঘটনার সাক্ষী! এবং তারা যে মিথ্যা বলে না সেটা সহজেই অনুমেয়।



আসাদ মিয়া তার মাঠের এক জমি থেকে ৫০ বছরের পুরোনো এক তেতুল গাছ কেটে ফেলে। গাছটি কাটার আগে সে কয়েক রাতে ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে দেখেছিল যেন গাছটি সে না কাটে। এবং জ্বীনরা নাকি তাকে সেই স্বপ্ন দেখাতো। কিন্ত ঐসব স্বপ্নকে পাত্তা না দিয়ে গাছটি কেটে ফেলার পর শুরু হয় আসাদের বাড়ীর উপর অসহ্য রকমের যন্ত্রনাদায়ক ব্যাপার স্যাপার।

বাড়ীতে তেমন কেউ-ই নেই, কিন্ত হটাৎ ছাদের বাড়ীর ছাদের উপর শুরু হয় আর্মি প্যারেড। ভয়ে যবু থবু বাড়ীর লোক কেউ তখন আর বাইরে বের হয় না। প্যারেডের আঘাতে মনে হয় যেন ছাদ এখনি ভেঙ্গে পড়বে।

বাড়ীতে সবাই আছে, হটাৎ দেখা গেল ধান ভাঙ্গা ঢেকিটা ঢেকির ঘর থেকে বাইরে এসে শুন্যের উপর ভাষতেছে। হটাৎ করে কোত্থেকে যেন শত শত হাড় আর মাথার খুলি বাড়ীর উঠানে বৃষ্টির মতন বর্ষণ হতে লাগলো।



অবশেষে আজিবর কবিরাজকে আনা হয়েছিল, এবং ৫০ জন আলেম ব্যাক্তিকে সাথে নিয়ে সিরিজ ওজিফার মাধ্যমে আসাদ মিয়ার বাড়ীর সেই আশ্চার্য্যজনক ঘটনা বন্ধ করেছিল আজিবর কবিরাজ। তাহলে কি বলব? অবশ্যই জ্বীন আছে!

*****************************************************************

পর্ব-৩

এই সব ঘটনা থেকে আজিবরকে আসলই জ্বীনদের গুরু মানতে আমার কোন আপত্তি হয়নি কোনদিন। আজ এ পৃথিবীতে রাসেল নেই, মন খুব খারাপ লাগে, রাসেল জেগে ওঠে আমার স্মৃতিতে প্রায়শ। আমি নিজেই যেন আজিবরের ছেলে এমনই মনে করে আজিবর, আমিও তাকে আমার বাবার মতই সম্মান করি। কথা হয় মাঝে মাঝে। কিন্ত জ্বীনদের নিয়ে কৌতুহুল আমার শেষ নেই! এই কৌতুহুলের প্রধান কারণ আল-কোরান। কারণ আজ প্রায় ১৫০০ বছর ধরে স্বমহিমায় উদ্ভাষিত এই আল-কোরান। কোরানকে নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই, যারা নাস্তিক তাদের কথা আলাদা, তারা কি বললো না বললো সেসব নিয়ে কথা বলার জন্য পোষ্ট এটা না। তবে অনেক অনেক ইতিহাস প্রসিদ্ধ ব্যাক্তিত্ব, সায়েন্টিষ্ট, দার্শনিক তো এই কোরনাকে বিশ্বাস করে। কালকে জয় করে কোরান হয়েছে এক চির-সত্যের বাণী সংকলন। সেই কোরান-ই স্বয়ং জ্বীন আছে তা ঘোষণা করেছে বার বার। তাই বরাবর-ই আমি এই জ্বীন জাতির উপর কৌতুহল বটে।



আমার অনেক স্বপ্ন নিজে চোখে এই জ্বীনকে দেখা বা জ্বীনের অস্তিত্বকে বুঝতে পারে। কিন্ত আফসোস সেই স্বপ্ন আমার পূরণ হলো না কখনই। তাই দ্বারস্ত হলাম আজিবর কবিরাজের কাছে। কেন যেন বিশ্বাস হয়েছে, পৃথিবীতে জ্বীন বলে যদি কিছু থেকে থাকে তাহলে এই আজিবর কবিরাজ তা জানবে (কেন জানবে? সেটা প্রথম ২ পর্বের ঘটনাগুলই ব্যাখ্যা করে)। যাই হোক, অবশেষে নিজের ইচ্ছার কথা ব্যাক্ত করলাম আজিবরের কাছে। তিনি আমাকে হতাশ করলেন না, বরং একটা নিদির্ষ্ট দিনক্ষণ ঠিক করে দিলেন এবং আমাকে বললেন সেই সময় তার সাথে দেখা করতে, জায়গা হিসাবে ঠিক করে দিলেন একটা গোপনীয় জায়গা। কথামত কাজ। আজিবর মিয়া আমার সামনে, আমাকে প্রশ্ন করলেন কেন আমি জ্বীন দেখতে চাই? বললাম, আমি কোরান বিশ্বাস করি আর হাজার হাজার বছর ধরে জ্বীনদেরকে যে এত এত গল্প, কথা, গবেষণা প্রচলিত রয়েছে কিন্ত নিজ চোখে দেখি নাই তাই আমি এটা জানতে চাই। এর মাধ্যমে হয়তো সৃষ্টিজগতের আরো এক বিষ্ময় সম্পর্কে অবগত হওয়া যাবে।



বৃদ্ধ আজিবর মিয়া আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনলেন। আমাকে বললেন, বাবা রাজ আমার অনেক বয়স হয়েছে, কদিন-ই বাঁচবো দুনিয়াতে, তাই তোমার এই আশা আমি পূর্ণ করবো আমার সাধ্যমত। তিনি আমাকে জানালেন অনেক কিছু:



জ্বীন নিয়ে আজিবরের শিক্ষা শুরু হয় সেই বৃটিশ আমলে থেকে। বিরাট এক আলেম ব্যাক্তি তার প্রথম ওস্তাদ। এরপর এই পৃথিবীর বুকে জ্বীন নিয়ে যতধরনের গবেষণা/আরাধণা আছে সবই তিনি পালন করেছেন। তিনি রাতের পর রাত কাটিয়েছেন কবরখানায়, শশ্মানঘাটে, জনশুন্য মাঠে, পুরোনো মন্দিরে, গভীর জঙ্গলে, সমুদ্রের বুকে, শত শত বছরের বুড়ো নীম-বট গাছের ডালে। কিন্ত তার এই সব গবেষণায় তেমন কোন ফল আসে নি। হতাশ হয়েছে বারবার। তিনি কোনদিন কোন জ্বীনের দেখা পাননি!



এরপর উপসংহার হিসাবে বললেন, সারাটা জীবন জ্বীন নিয়ে কাটিয়ে দিলাম, কিন্ত জ্বীন বলে কিছু আছে বলে টার বিশ্বাস হয় না। তিনি মনে করেন জ্বীন জাতি যদি কখনও পৃথিবীর বুকে থেকেও থাকে তবে তারা এখন ধ্বংস হয়ে গেছে, এই পৃথিবীতে তাদের অস্তিত্ব এখন আর নেই! আমি তার কাছে জানতে চাইলাম, তাহলে আপনাকে নিয়ে এট সব ঘটনা রয়েছে এইগুলো কিভাবে সম্ভব। তিনি উত্তর দিলেন, প্রত্যেকটির ঘটনার পিছনেই যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে। এসব ঘটনার কোনটিতেই জ্বীনদের সংশ্লিষ্টতা ছিলা না। আজিবর কবিরাজকে আমি আরো বললাম, আপনি নিজে এরকম মনে করেন তাহলে কেন জনসম্মুখে এটা প্রকাশ করেন না? তিনি বললেন এতে করে শরীয়তের আলেমরা তাকে কাফের বলে ঘোষণা দিবেন, ঝামেলা শুরু হবে।



অবশেষে, কি আর করার! প্রিয় পাঠক আমিও হতাশ হয়েছি, কারণ জ্বীন বলে আদৌ কোন কিছু আছে এরকম কোন প্রমান আমি নিজ চোখে দেখিনি।

*****************************************************************

পর্ব-৪ (শেষ)

জ্বীন দেখিনি, জ্বীনের অস্তিত্ব আদৌ আছে কিনা তা আমার কাছে রহস্যই থেকে গেল! কিন্ত তবুও কথা থেকেই যায়। জ্বীন জাতি বলে কিছু আছে সেই অন্ধ বিশ্বাস আমি করতে পারছি না তবে নেই সেটাও বলছি না। মানুষ তার জ্ঞান দিয়ে যদি কোন দিন প্রমান করতে পারে সেই আশায়।



বিভিন্ন বর্ননায় জ্বীনদের যে চিত্র ফুটে ওঠে তার আলোকে হয়তো কোনদিন সম্ভব হবে জ্বীনদের অস্তিত্ব প্রমান করা!



জ্বীনদের মোটামুটি বর্ননাগুলো এরকম:

১) জ্বীন অদৃশ্য।

২) জ্বীন আলো দিয়ে তৈরি।

৩) জ্বীন খুব দ্রুত বেগে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে পারে।

৪) জ্বীন আমরা যে সব প্রানী দেখি সে সবের রুপ ধারণ করতে পারে (হয়ত সব প্রানীর না তবে কিছু কিছু হয়তো)।

৫) জ্বীন পৃথিবী বাদে অন্য গ্রহ-নক্ষত্রে চলাফেরার করার ক্ষমতা রাখে।

৬) জ্বীনকে মানুষ নিয়ন্ত্রন করার ক্ষমতা রাখে।

৭) জ্বীন অন্ধকারে থাকতে সাচ্ছন্দ বোধ করে! আলোতে ডিষ্টার্ব ফিল করে!





এই সব বর্ননাগুলো কি একে অপরের সাথে কনফ্লিক্ট করে? বর্তমান বিজ্ঞান অনুসারে কিন্ত তা করে না! কিভাবে?



মনে করি জ্বীন আলো দিয়ে তৈরি। আলোর বৈশিষ্ট্য সত্যিই অদ্ভুত! আলো আসলে বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গ। আলোকে যদি আমরা কোন ফ্রিকোয়েন্সি ব্যাপ্তিতে সীমাবদ্ধ না রেখে, বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গের সম্ভব্য পুরো ফ্রিকোয়েন্সিতে চিন্তা করি তাহলে কিন্ত বিষয়টি জটিল হয়ে গেল। কারণ তাত্বিকভাবে আমরা অসীম ফ্রিকোয়েন্সির বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গ জেনারেট করতে পারি। তাহলে জ্বীন কোন ফ্রিকোয়েন্সিতে তার অদৃশ্য অস্তিত্ব ধারণ করে সেটা গবেষণার বিষয়। তবে আমরা মনে করতে পারি, জ্বীন যদি আলো তথা বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গ দিয়ে তৈরি হয়, তাহলে সে অদৃশ্য হতে পারে এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে খুব দ্রুত যেতেও পারে।



আমরা জানি বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গ শক্তি বহন করে এবং সেই শক্তিকে ভরে পরিবর্তন করা সম্ভব। অন্যদিকে ভরকে শক্তিতেও পরিবর্তন করা সম্ভব। সুতরাং জ্বীন যদি আলো তথা বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গ দিয়ে তৈরি হয় তাহলে সে দৃশ্যমান ভরেও পরিবর্তন হতে পারে তবে সেই ভর দেখতে কেমন হবে সেটা আমি এখন ভাবতে পারছি না।



বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গ অন্য কোন বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গের সাথে ইন্টারএ্যাকশনে যেতে পারে এবং এতে করে তাদের বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয়ক্ষেত্রের পরিবর্তন হতে পারে। সুতরাং জ্বীন আলোতে ডিষ্টার্ব ফিল করতেই পারে। তবে এক্ষেত্রে কথিত যে হিউম্যান চোখে ভিজিবল আলোতেই তারা ডিষ্টার্বড হচ্ছে। এটা গবেষণার একটা ক্লু বৈকি!



জ্বীন যদি বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গ দিয়ে তৈরি হয়, তাহলে বলায় যায় বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গের বিচরণ সমস্ত মহাবিশ্বব্যাপি। আর এই মহাবিশ্বকেই তো নিয়ন্ত্রন করতে চায় মানুষ! সুতরাং জ্বীন তো নস্যি মাত্র।



জ্বীনদের নিয়ে কিন্ত আসলেই গবেষণা হয়! ১৯৮৮ সালে পাকিস্থানের নিউক্লিয়ার সায়েন্টিষ্ট সুলতান বশিরউদ্দীন মাহমুদ ওয়াল ষ্ট্রীট জার্নালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন জ্বীন হতে পারে রিনিউএবল এনার্জির এক অফুরন্ত উৎস।



যাই হোক ভবিষ্যত সময়ই হয়তো সঠিক তথ্যটি আমাদের সামনে নিয়ে আসবে, হয়তো আমরা জানবো না, কিন্ত মানুষ তো জানবে। আর সেই সাথে হয়তো শুরু হবে সভ্যতার এক নবদিগন্তের অধ্যায়। ক্রমান্বয়ে বস্তবাদী দুনিয়ার দিকে ধাববান বিশ্বে জ্বীন কি হতে পারে কোন গবেষণার বিষয়?

Sunday, December 20, 2015

শাকিলের পরীক্ষার ডর নাকি জীনে ধরা?

এ ব্যাডা হোনছোছ ....... শাকিল্লারে নাকি কেমন করতাছে, জীনে টিনে ধরছে মনে হয়।

সেদিনই টেষ্ট পরীক্ষা মাত্র একটা দিয়া শুরু করলাম। পরীক্ষা দিয়া আমরা হলের সামনে মাঠে গিয়া বাতাস খাইতেছি এমন সময় এই খবর।

শামীমের কথা শুইন্না তো টাস্কি খাইলাম।

কস কি ? চল তো দেহি।

বাতাস খাওয়া খাওয়ি বাদ দিয়া গেলাম শাকিলের রুমে। রুমে শাকিল ছাড়া সালাউদ্দিন নিজের সিটে বইয়া শাকিলের তামশা দেখতাছে আর হুজ্জাতের লগে শাকিল করতেছে তেড়িং বেড়িং। বাবু আর আমি গিয়া রুমে ঢুকতেই খাইলাম ফাঁপর। শাকিল দেড় গজের মোডা এখখান রড লইয়া ঘুরাইতেছে । আমি তো ভীতুর ডিম, ডর আর ওর কাছেই গেলাম না।

বাবু কাছে গিয়া কইলো ........

এ শালিক কি হইছে রে?

কোন উত্তর নাই শাকিলের ... রড লইয়া ফ্লোরে বাইরা বাইরি করতেছে।

হঠাৎ ......... ধা........ম কইরা মারলো সামনের দেয়ালে। বাবু তারতারি একদিকে সইরা গেছে দেইখ্যা গায়ে লাগে নাই।

সাহসী পোলা বাবু আবারো গেলো ...... কি হইলো তা জানতে কিন্তু কে হোনে কার কথা............ কাছে গেলে বাবুর লগেই রেসলিং এর লাহান ধস্তাধস্তি, কোস্তাকুস্তি। ফ্রি ফ্রি কত্তুগুলা কিল, ঘুষি খাইয়া হালাইছে পোলাডা।

আকামে কিল ঘুষি খাইয়া কাম নাই ,দূরে দাড়াইয়া শাকিলের তামশা দেহাই ভালো।

এর মইদ্যে পুরা হলে গেলো চাউর হইয়া, তারভীরের পরে এবার শাকিলরে জীনে ধরছে।হগলে বিশ্বাসও করলো তারাতারি কারণডা হইল কয়দিন আগেই পাশের হলের বামরুম থেইক্কা পরীতে ধরছিলো নাকি সিনিয়র ভাই তানভীররে। আর যায় কৈ, পোলাপান সব আইলো জীন পরীতে ধরলে কেমনে কি করে তা দেখতে। চামে যদি সুন্দরী পরীর লগে ভাব জমাইয়া ফ্রি ফ্রি উড়াল দ্যাশে যাওয়া আর সুন্দরী একখান পরীরে পটাইয়া প্রেম করা যায় তাইলে খারাপ কি?

কিন্তু কৈ হালার জীন-পরী? কাউরেই তো দেহা যায় না। খালি দেহা যায় শাকিলরে।

টেংটেইংগা পোলা শাকিল বড় একটা রড লইয়া সামনে যারে সামনে পাইবে তারেই মারবে মারবে ভাব। কারো লগে কোন কথা কয় না................ খালি গোখরা সাপের লাহান ফোঁস ফোঁস করতেছে আর দরজার সামনের সিটে বইস্যা মাথাডা নিচের দিকে দিয়া খালি রড নিয়া বাইরা বাইরি। আর মাঝে মাঝ হাঁক ডাক মারে........ কোন হালারপুত কাছে আবি না, এক্কারে খাইয়া হালামু।

পোলাপানের কি আর কাম আছে হলের পাতলা ডাইলের লাহান ফ্রি মাইর খাওবো? খাম্বা আরিফের লাহান যাগো কইলজাডা এট্টু চিতাইন্না ওরা দরজার সামনে যায় আর আয় কিন্তু শাকিলের ভাবসাব দেইক্খা আর বেশী আগায় না, আর যাগো গুই হাপ দেখলে এট্টুতেই বুক ধুক ধুক করে অরা জালনা দরজার ফাঁক দিয়া শিশু মাছের লাহান ভুচকি মাইরা তারতারি দূরে সইরা যায়, যদি জীনে পরীতে অগো দিকে নজর দেয় হেই ডরে। নাহ, …….আপতত কোন কিছুতে কাম অইবে না।

হলে ঝামেলা বাড়াইয়া লা্ভ নাই বাপ মার হাতে পোলাতে তুইল্লা দেয়ার লইগ্গা অফিস দিয়া ফোন দিলো অর বাসায়। শাকিলরে এহন ওর রুমে তালা দিয়া পোলাপানে আটকাইয়া রাকছে, যা ব্যাডা রুম বইয়া যা পারোস কর। স্যারেরা আইলে আর বাপ মা আইলে খুলবে। হলের স্যাররা আইলো কিন্তু জীন পরীর ডর দেহাইয়া কাছে না যাওয়ার লইগ্গা পোলাপানে নিষেধ করলো।

কেমনে কি করন যায় হেই প্লান বানাইতেছে হগলে মিল্লা .......

সন্ধ্যা হইয়া গেছে। না এমনে আর চলতে দেওন যায় না। কাইল আবার পরীক্ষা, পড়ালেহা করতে হইবে। ওরে ধইরা ডাক্তারের ধারে পাডাইতে হইবে নাইলে বাইন্দা বাসায় পাডাইয়া দিতে হইবে। কিন্তু কে যাইবে অর সামনে...... যেমনে রড দিয়া দাঙ্গা পুলিশের লাহান আৎকা বারি দেয় বারি একখান লাগলে খবরই আছে।

এরমদ্যে আইলো হগলে যারে ডরায়, দেকলেই হাত পা কাপাকাপি শুরু করে হেই কালাম স্যার। হের বেতের একবারি খাইলে দুই বেলা ডাত মাইক্খা খাওন যায় না ব্যথায় আর পাছায় দুইডা মারলে তো পাছা চুলকাইতে চুলকাইতে দিন শ্যাষ। হাক ছাড়লো.............. আরে দরজা খোল, দেহি শাকিল কয় কি? স্যাররে দেইক্খা শাকিল ডরাইতে পারে। খুল্লো দরজা। স্যারও এট্টু এট্টু ডরাইছিলো মনে হয় হেরলইগ্গা বেশী ভিতরে আগাইলো না, দরজার সামনে গিয়াই শাকিলরে ডাক দিলো , এ শাকিল কি হইছে তোর? বেত আনমু নাকি? এ তোরা ধরতো অরে.........

পোলাপানের ডর ভয় কইম্মা গেলো, সাহসী পোলা মোবারক, বাবু, অহিদ, সালাউদ্দিন সহ কয়েকজন দরজা খুইল্লা একলগে ঢুকলো ভিতরে। হা ডু ডু খেলায় যেমনে একটারে বাগে পাইলে সবগুলায় ঐডার উপ্রে ঝাপাইয়া পরে হেমনে কইরা একলগে ঢুইক্কা ধরলো ঝাপটাইয়া।

আর যায় কৈ............ কিন্তু হায় রে এই চিকনা বাশের কাডির লাহান চেংড়া পোলার গায় এতো শক্তি আইলো কোনহান থেকে?

৪/৫ জনে মিল্লা ধইরা রাখতে পারতেছে না। হা ডু ডু লাহান একলগে ধরায় আর বেশী সুবিধা করতে পারলো জীন-পরীতে ধরা শাকিলরে। ধইর্রাই নিয়া নিলো রডটা।যাহ তোর অর্ধেক কাম শ্যাষ। ভাইগ্য ভালো ......... যেমনে মারা ধরছিলো এট্টুর লইগ্গা মোবারকের মাথাডা ফাডে নাই। নাইলে তো জীন সামলানোর বদলে মোবারকের মাথা সামলানোর কামে ভ্যাজতে হইতো হগলরে।

৪/৫ জনে ঝাপটাইয়া ধইর্রা আটকানোর চেষ্টা করতেছে কিন্তু চেংড়া পোলার গায়ে এতো শক্তি কোন থেইক্কা আইলো কেডা কইবে? বহুত চেষ্টায় বাগে আনতে পারতেছে না। হাত পা ছুডাছুডির করে কত লাত্থিগুতা যে পড়ছে তার কোন হিসাব দিতার বে না কেউ। দিবেই বা কেমনে, কেউতো আর ডাইনিং ম্যানেজার ওহাব ভাইর লাহান হিসাবের খাতা লইয়া জীন পরী দেখতে যায় নাই। আমরা আর করমু কি, খাড়াইয়া খাড়াইয়া তামশা দেখতেছি।

রুম থেইক্কা র্যা বের ক্রস খাইলে যেমনে চাইর হাত পায় ধইরা উচকাইয়া ভ্যানে আনে হেমনে উচকাইয়া নিয়া আইলো বারান্দায়। চাইপ্পা ধাইরা খাওয়াইলো এক জগ পানি। খাইতে চায় না কিন্তু পোলাপানের কথা ……খাবি না ক্যা, খা…….। মাথায়, গায়ে পানি ঢাইল্লা ঢাইল্লা একক্কারে গোসল করাইয়া দিলো। নাহ এইবার মনে হয়, পোলার কুইত শেষ............. প্রায় ৩০ মিনিট মোচড়ামুচড়ি, কোস্তাকুস্তি, ধস্তাধস্তির পর শান্ত হইলো। তখন প্রায় অজ্ঞান।

জীন পরী দ্যাকতে দর্শক আইছে প্রচুর, দুই টাহা কইরা উডাইলেও রাইতে একখান জাম্পেস মুড়ি ভোজ দেওন যাইতো, হেইডা আর দেয়া হইলো না। এর মইদ্য আইলো অর বাপ মা। বাপে না কানলেও পোলারে দেইখ্খা মায়ে তো কাইন্দা কাইট্টা শ্যাষ, এহন আন্টিরে সামাল দিতে আবার আরেক ঝামেলা। স্যারেরা শাকিলরে তুইল্লা দিলো অর বাবা মায়ের হাতে। বড় পোলারে জীনে নাকি পরীতে ধরছে এই চিন্তা লইয়া সিএনজি নিয়ে আঙ্কেল আন্টি গেলো বাসায় আর পরদিন পরীক্ষা বইল্লা আমরা গেলাম পড়ার টেবিলে।

শাকিলরে বাসায় নেওয়ার সময় তেমন কিছু মনে হইলো না কিন্তু সপ্তাহ খানেক পরই হালকা কানাঘুষার আওয়াজ পাওয়া গেলো।

"শাকিল নাকি পরীক্ষা না দেয়ার লইগ্গা ভংচা ধরছিলো"

কস কি?

হুম। হুনছি একজনের ডে।

হলে তখন জীন পরীর ডর ভয়...... কারে কোনহান দিয়া ধরে কেডা জানে? বামরুমে গেলেও দুইজন একলগে যায় এই অবস্থা।পোলাপানে কানে কানে ফিসফাস করলেও আওয়াজ হয় না । যারা হুনছে ........ তারা তো তাজ্জব!!!!!!!!!!!!!!!!!!

তাই নাকি!!!!!!!!!!!!!!!!!! আরে না........ জীনেই ধরছে , দেখছস না পাশের হলে তানভীররে কয়দিন আগেই পরীতে ধরছিলো, অরেও মনে হয় ঐডাতেই ধরছে।

আরে ব্যাডা ....... ভংচা হইতেও পারে ।.... আর শাকিল যে বান্দরের বান্দর অরে বিশ্বাস করা কঠিন। আরে হুনছি ওইদিন নাকি অর পরীক্ষা ভালো হয় নাই। জীন,পরীর ডরে আলোচনা বেশী গড়াইতো না।

শাকিল আর আইলো না পরীক্ষা দিতে। মাস খানেক পর যখন আইলো তখন পরীক্ষা শেষ হইয়া রেজাল্টও দিছে। শাকিল পুরাই স্বাভাবিক, তয় কিছুডা চুপচাপ। জীন পরীর ডরে তেমন কেউ কথাও কয় না অর লগে, খালি জিগায়..... কিরে শাকিল ভালো আছোস তো? আর ভংচা ধরার কথা জিজ্ঞাস করা হ্যাতো আরো পরে................

শাকিলের কাছাকাছি কয়েকজন হয়তো পুরাডা জানে কিন্তু কখনো কয় নাই কি হইছিলো?
রহস্যের আর সমাধান করা হয়নি........... কি হয়েছিলো সেদিন??
জীনে ধরা নাকি পরীক্ষার ডর!

হিস্টিরিয়া

হিস্টিরিয়া জিন-ভূতের আছর, পাগলামি এসব কিছু নয়, নিউরোসিস জাতীয় মানসিক রোগ।
মানসিক রোগ দুই প্রকারের হয়ে থাকে। একটি মৃদু মাত্রার তাকে নিউরোসিস বলা হয়, অপরটি জটিল মাত্রার একে সাইকোসিস বলা হয়। নিউরোসিস জাতীয় রোগগুলো যেন অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার, অবসেশন, হিস্টিরিয়া, ফোবিয়া ইত্যাদি। সাইকোসিস জাতীয় রোগগুলো যেমন বিষণœতা, ম্যানিয়া, সিজোফ্রেনিয়া ইত্যাদি। হিস্টিরিয়া একটি নিউরোসিস রোগ। এ রোগটি শারীরিক সমস্যা বা মানসিক সমস্যা নিয়ে প্রকাশ পেতে পারে।
১৮১৫ সালে সর্বপ্রথম ফরাসি চিকিৎসাবিদ চারকোট এ রোগের পরীক্ষা করেন। তিনি সম্মোহন পদ্ধতি প্রয়োগ করে দেখলেন যে, সম্মোহিত অবস্থায় রোগীর মনে যদি এ ধারণা সঞ্চার করা যায় যে তার রোগ ভালো হয়ে গেছে তাহলে তার রোগ সত্যিই ভালো হয়ে যায়। আবার রোগীকে সম্মোহিত করে পুনরায় যদি তার মধ্যে এ ধারণা সঞ্চার করা যায় সে অসুস্থ তাহলে তার রোগ পুনরায় ফিরে এসেছে। এ ঘটনা থেকে তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন হিস্টিরিয়ার উৎপত্তির সাথে ধারণা বা রোগীর অবচেতন মনের সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু পরে দেখা গেল ওই ধারণা অনুযায়ী সব রোগের কারণ ব্যাখ্যা করা যায় না। কোনো কোনো মনোবিজ্ঞানী মনে করেন মস্তিষ্কের কাজের গোলমালের ফলেই হিস্টিরিয়া রোগ হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই মতবাদকে প্রমাণ করা যায়নি। মনোসমীক্ষার মতামতই মোটামুটি বেশিরভাগ মনোরোগ বিশেষজ্ঞ মেনে নেন। মনোসমীক্ষার তত্ত্বানুযায়ী নিজের মনের অজান্তে অবদমিত মানসিক দ্বন্দ্ব থেকেই হিস্টিরিয়ার লক্ষণ সৃষ্টি হয়। সহজাত আচরণ বাইরের জগতে প্রকাশ হতে গেলেই রোগীর মনে দারুণ উৎকণ্ঠা ও দুশ্চিন্তার সৃষ্টি হয়। সেই উৎকণ্ঠাকে দীর্ঘদিন সহ্য করা মানুষের পক্ষে অসম্ভব। ফলে আমাদের অজান্তেই মানসিক ক্রিয়া এই বৃত্তিগুলোকে অবদমন করে। এ অবদমনের অর্থ এই নয় যে, বৃত্তিগুলো চিরতরে নির্বাসিত হলো। মানসিক ক্রিয়াকে সবসময়ই সক্রিয়ভাবে অবদমিত রাখতে হয় বৃত্তিগুলোকে। অবদমনকারী শক্তিগুলো যখনই কোনো কারণে দুর্বল হয়ে পড়ে, অবদমিত রাখতে হয় বৃত্তিগুলোকে। অবদমনকারী শক্তিগুলো যখনই কোনো কারণে দুর্বল হয়ে পড়ে, অবদমিত বৃত্তিগুলো তখনই উঠে আসতে চায় চেতনায়। এ অবস্থা উপস্থিত হলে অবদমন ছাড়া মানসিক প্রক্রিয়ার সাহায্য নিতে হয়Ñ নিউরোসিসের লক্ষণ প্রকাশের সুযোগ ঘটে তখনই। এ ধরনের মানসিক প্রক্রিয়া অনুসারে নিউরোসিসের লক্ষণও ভিন্ন হয়। কনভারশন হিস্টিরিয়াতেও কনভারশন নামক প্রক্রিয়া এবং ডিসোসিয়েটিভ হিস্টিরিয়ার ক্ষেত্রে ডিসোসিয়েটিভ প্রক্রিয়া কাজ করে। যে হিস্টিরিয়াতে শারীরিক লক্ষণ দেখা যায় তাকে বলা হয় কনভারশন হিস্টিরিয়া। যেমন হঠাৎ করে হাত কিংবা পা প্যারাইলাইসিস হয়ে যাওয়া, হঠাৎ করে কথা বন্ধ হয়ে যাওয়া, চোখে দেখতে না পাওয়া ইত্যাদি। আর যে হিস্টিরিয়াতে মানসিক লক্ষণ দেখা যায় তাকে বলা হয় ডিসোসিয়েটিভ হিস্টিরিয়া। যেমন- এলোমেলো ঘুরে বেড়ানো, খিঁচুনি রোগ, ঘুমের মধ্যে হাঁটা ইত্যাদি।
একটি কেস স্টাডি বর্ণনা করা যাক। নায়লা (কাল্পনিক নাম) বিয়ের দিন তার স্বামীর সাথে শ্বশুরবাড়িতে চলে আসে। আসার কয়েক ঘণ্টা পরই তার কথা বন্ধ হয়ে যায়। তারপর কেটে গেছে ২-৩ দিন। মেয়েটির মুখে আর কথা ফুটছে না। শত চেষ্টা করেও তাকে কেউ কথা বলাতে পারছে না। খবর পেয়ে বাপের বাড়ির লোকজন এলো। তারা দোষ দিচ্ছে এই বলে যে, মেয়ে তো ভালোই ছিল, শ্বশুরবাড়িতে ঢুকতেই তার এ অবস্থা হলো কেন? নিশ্চয়ই এ বাড়ির লোক কিছু করেছে! হতবাক হয়ে পড়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। কিছুতেই বুঝতে পারছে না কী করে এমন হলো। তারা দেখেছে বউ যখন বাড়িতে পা দিয়েছে তখন মুখে ঠিকই কথা ফুটেছে। তবে কী কারো নজর লেগেছে নতুন বউয়ের ওপর। এ ভেবেই ডাকা হলো নামকরা ওঝাকে। ঝাড়-ফুক, তুক-তাক ইত্যাদি ভৌতিক ক্রিয়াকলাপও কিছু করা হলো। কিন্তু অবস্থার কোনো পরিবর্তন দেখা গেল না। তখন প্রায় দু’দিন পর শহরের হাসপাতালে হাজির হয়েছে সবাই। প্রাথমিক পর্যায়ে ঘটনার বিস্তৃত বিবরণ সংগ্রহ করলাম। তারপর আত্মীয়-স্বজনকে বাইরে বসিয়ে মেয়েটিকে আলাদা করে তার প্রতি মনোচিকিৎসার বিধিবিধান অনুযায়ী চিকিৎসা প্রয়োগ করলাম। নাটকীয়ভাবে মেয়েটির মুখে কথা ফুটলো সেদিনই। খুবই কম সময়ের মধ্যে সেদিন যতটা সহজে সুফল পেয়েছিলাম সাধারণত এত সহজে ফল পাওয়া যায় না। মেয়েটির মুখে কথা ফুটতে দেখে আশ্বস্ত হলো বাপের বাড়ি ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। দূর হলো উভয়পক্ষের লোকজনের মনোমালিন্য, দোষারোপ। এখন বিদ্বেষ ভুলে নিবিড় করে তুলল আত্মীয়তার বন্ধন। হাসিমুখে মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার আগে অবশ্য তাদের কিছু পরামর্শ দিয়েছিলাম। এই পরামর্শ দেয়া চলছিল ৪-৫ মাস যাবত। চিকিৎসা শেষে পরামর্শ দিলাম যে, ভবিষ্যতে যদি আবার এরকম ঘটে তখনি যেন জানানো হয় আমাদের।
৫ বছর পরে জানতে পারলাম ওরা এখন সুখেশান্তিতে ঘর করছে। কয়েক মাস আগে তাদের একটি মেয়েও হয়েছে।
এবার দেখা যাক নায়লার রোগটি কী ছিল। আসলে এমন কী হয়েছিল যে তার কথা পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। বিয়ের পরের দিন শ্বশুরবাড়িতে পা দিতে না দিতেই আত্মীয়-স্বজন আর পাড়া-পড়শীরা তার বাপের বাড়ি সম্পর্কে বেশ কিছু আপত্তিকর মন্তব্য করেছিল। সেসব মন্তব্যের বেশিরভাগই মেয়েটির বাবাকে কেন্দ্র করে। যেমন মেয়ের বাবা সুবিধার মানুষ নয়, নানাভাবে তারা জামাইকে ঠকিয়েছে, গয়নাগাটি, জিনিসপত্র ঠিকমতো দেয়নি, ওরা প্রতারক ইত্যাদি। এরপর কী হলো মেয়েটির পুরোপুরি মনে নেই। নায়লা বরাবর ছিল জেদি আর ডানপিটে ধরনের। বিয়ের আগে ওর বাবা-মা এবং আত্মীয়-স্বজন বারবার বলে দিয়েছিল শ্বশুড়বাড়ির লোকজন যে যাই বলুক এমনকি কোনো কটূক্তি করলেও তাকে সবই সহ্য করতে হবে মুখ বুজে, মা তার গা ছুঁয়ে বলেছিলেন- এ আমার দিব্যি রইল। কিন্তু শ্বশুরবাড়িতে প্রবেশ করেই সে শুনল তার বাবার সম্পর্কে বিশ্রী কটূক্তি। শুনেই তার প্রবল ইচ্ছা হয়েছিল প্রতিবাদ করতে কারণ সে বরাবর এমন প্রতিবাদীই ছিল। কিন্তু তা কী করে হয়! সে যে মায়ের কাছে শপথ করে এসেছে। কিন্তু সে প্রতিবাদ করতে না পারায় তার বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠছিল প্রবল যন্ত্রণায়। মনে হচ্ছিল যেন এক্ষুণি অজ্ঞান হয়ে যাবে। আর ঠিক তখন থেকেই লোপ পেল তার কথা বলার শক্তি। কথা বন্ধ হওয়া যে মেয়েটির ইচ্ছাকৃত ব্যাপার তা নয়। মানসিক জটিল প্রক্রিয়ার ফলে তার বাকরহিত হয়েছিল। এই প্রক্রিয়াকেই বলা হয় কনভারশন অর্থাৎ দ্বন্দ্বজনিত মানসিক যন্ত্রণা যা শারীরিক অক্ষমতায় রূপান্তরিত হয়েছে। এই রূপান্তরিত অবস্থাকেই বলে কনভারশন হিস্টিরিয়া।
কথা বলার শক্তি হারানোর ফলে মেয়েটি সাময়িকভাবে অক্ষম হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু একটি লাভও হয়েছিল। এ ঘটনার পর তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন এতই ভয় পেয়েছিল যে ভবিষ্যতে তার বাবা-মা সম্পর্কে আর কোনো বিরূপ মন্তব্য করেননি বরং তার প্রতি সহানুভূতিশীল হয়েছেন। একেই বলে হিস্টিরিয়াল গেইন বা হিস্টিরিয়ার প্রাপ্তিরোগ।
হিস্টিরিয়া রোগের চিকিৎসা : এ রোগের চিকিৎসায় ওষুধের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের কাউন্সিলিং বা সাইকোলজিক্যাল চিকিৎসা প্রয়োগ করা প্রয়োজন বরং এই ক্ষেত্রে সাইকোথেরাপী বেশী কার্যকর। প্রথমে রোগীকে মৃদুমাত্রার দুশ্চিন্তানাশক ওষুধ দেয়া হয় পরে তার সাথে গভীর সাক্ষাৎকার নিয়ে বিভিন্ন ধরনের সাইকোলজিক্যাল চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়।

মানুষ কি চাঁদে সত্যি গিয়েছিলো?

মানুষ ফ্যান্টাসী পছন্দ করে। বস্তবতার কাটখোট্টা জগৎ তাকে যথাযথভাবে বিনোদিত বা আকৃষ্ট করে না। ফলে একশ্রেনীর মানুষ বিভিন্ন ধরনের ঘটনা, তত্ত্ব এসবের বিকল্প ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর চেষ্টা করে বা এধরনের কর্মকান্ডে সমর্থন ও আস্থা স্থাপন করে আনন্দ লাভ করে। এভাবেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচলিত হয়। এগুলোর প্রতিষ্ঠার পেছনে সামাজিক বা রাজনৈতিক কারণও জড়িত থাকে। গতশতাব্দীর সবচেয়ে বহুল প্রচলিত ষড়যন্ত্রতত্ত্বগুলো নির্মিত হয়েছে চাঁদে মানুষ অবতরণ নিয়ে। একশ্রেনীর মানুষের কাছে মানুষ্যবাহী চন্দ্রাভিযান পুরোপুরি ধাপ্পাবাজি হিসেবে পরিগণিত এবং এটি যে শুধু তাঁরা বিশ্বাস করেন তাই নয় এর স্বপক্ষে প্রচুর যুক্তি-প্রমাণ হাজির করেন। তবে বলাই বাহুল্য সেসব যুক্তি-প্রমাণে প্রচুর ফাঁক-ফোঁকর থেকে যায় আর সেকারণেই সেগুলো ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে পরিচিত। অথচ চাঁদে মানুষ পাঠানোর জন্য নাসা বিপুল সময় ধরে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে, বিপুল পরিমান মানুষ এই অভিযানগুলো সফল করার জন্য কাজ করেছে। মানুষ চাঁদে যায়নি এর স্বপক্ষে এত বেশী যুক্তি-প্রমান হাজির করা হয়েছে যে সেসব বিস্তারিত লিখতে গেলে একটি বই হয়ে যাবে। তাই এখানে শুধুমাত্র উল্লেখযোগ্য কয়েকটি যেগুলো বহুল প্রচলিত এবং সাধারণ মানুষের একটি অংশেরও যেসব বিষয়ে কৌতুহল আছে সেগুলো ব্যাখ্যাপূর্বক খন্ডন করা হলো। যাঁরা এই বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানতে চান তাঁরা এই উইকিপিডিয়া আর্টিকেলটি পড়তে পারেন।
ষড়যন্ত্র-১: চাঁদের মাটিতে মানুষ পা রাখেনি এই ষড়যন্ত্রতত্ত্বে যাঁরা বিশ্বাস করেন তাঁরা তাঁদের বিশ্বাসের পক্ষে যুক্তি হিসেবে চন্দ্রাভিযানের এইধরনের ছবিগুলো হাজির করেন। ছবিতে কালো আকাশে কোনো তারা দেখা যাচ্ছে না (প্রথম ছবি)। তাঁদের ভাষ্য হলো যেহেতু চাঁদে বায়ুমন্ডল নেই তাই সূর্যালোক চাঁদের বায়ুমন্ডলে বিক্ষিপ্ত হয়ে তারাগুলোকে অদৃশ্য করতে পারবে না। সেই ক্ষেত্রে ব্যাকগ্রাউন্ডে ঝকঝকে তারার অবস্থান থাকার কথা।

চাঁদের মাটিতে অভিযাত্রীরা, পেছনে কালো পটভুমি।
কিন্তু দ্বিতীয় ছবিটি দেখুন, এটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS) থেকে তোলা পৃথিবী পৃষ্ঠের ছবি যেটি পৃথিবীকেই আবর্তন করে ঘুরছে। একই যুক্তি অনুসারে এখানে ব্যাকগ্রাউন্ডে তারার উপস্থিতি থাকার কথা কিন্তু তা নেই। এই দ্বিতীয় ছবিটি নিয়েও যদি কারো সন্দেহ থাকে তাহলে এই লিংক থেকে ISS এর লাইভ ভিডিও সম্প্রচার দেখতে পাবেন, সেখানেও কোনো তারা নেই।

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে তোলা পৃথিবীপৃষ্ঠের ছবি, পেছনে কালো পটভুমি।
ব্যাকগ্রাউন্ডে তারা না দেখা যাওয়ার কারণ হচ্ছে এক্সপোজার। ছবি তোলার সময় লেন্সের এক্সপোজার কমিয়ে বা বাড়িয়ে আলোর পরিমান নিয়ন্ত্রিত করা হয় (মূলতঃ শাটার স্পীডের মাধ্যমে তা করা হয়)। যদি এক্সপোজার বেশী হয় তাহলে অনেক ক্ষীণ আলোর উৎসও ছবিতে ধরা পড়বে। দিনের বেলায় চাঁদ এবং পৃথিবী পৃষ্ঠের তুলনায় তারাগুলোর উজ্জ্বলতা অতি অতি অতি ক্ষীণ। এই ছবিগুলোতে যদি এক্সপোজার বাড়ানো হতো তাহলে তারা হয়তো দৃশ্যমান হতো কিন্তু সেই ক্ষেত্রে চাঁদ ও পৃথিবী পৃষ্ঠ অতিরিক্ত এক্সপোজারের কারণে সাদা হয়ে যেত এবং এগুলোর পৃষ্ঠের অনেক বৈশিষ্ট্য ছবিতে আর পাওয়া যেত না। আর এই ছবিগুলোর সাবজেক্ট হচ্ছে যথাক্রমে চাঁদ ও পৃথিবীর পৃষ্ঠ, ব্যাকগ্রাউন্ডের কালো আকাশ নয় তাই ক্যামেরার এক্সপোজার এমনভাবে রাখা হয়েছে যাতে এদের পৃষ্ঠের বৈশিষ্ট্যগুলো ছবিতে স্পষ্ট থাকে। নিচের ছবিতে দেখানো হলো কীভাবে এক্সপোজার পরিবর্তনের মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত ক্ষীণ আলোর উৎসগুলোর ছবিও তোলা যায় এবং সেই ক্ষেত্রে উজ্জ্বল আলোর উৎসগুলো ওভার এক্সপোজড হয়ে সাদা হয়ে যায়।

ষড়যন্ত্র-২: অনেকে মনে করেন যদিও চাঁদের মাটিতে বাতাস নেই কিন্তু চাঁদে যে পতাকা স্থাপন করা হয়েছে তার ছবিতে দেখা যায় পতাকা উড়ছে। এখান থেকে তাঁরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এটি আসলে অ্যারিজোনার মরুভূমিতে নির্মিত হয়েছে!
ব্যাখ্যা: একটু ভালো করে নিচের ছবিদুটো লক্ষ্য করুন, পতাকা কি সত্যিই উড়ছে?

বাজ অলড্রিন পতাকাকে স্যালুট করছেন।

স্যালুট শেষে হাত নামিয়ে আনার পরেও পতাকার ভাঁজগুলো একই অবস্থায় আছে।
পতকার একপাশ যেমন ফ্রেমের সাথে যুক্ত উপরের অংশও কিন্তু একটি টিউবুলার অ্যালুমিনিয়ামের ফ্রেমের মাধ্যমে যুক্ত। সেটি এই ছবি থেকে স্পষ্ট না বোঝার কোনো কারণ নেই। আর নিচের অংশ কুঁকড়ে আছে দেখে দূর থেকে মনে হতে পারে পতাকা উড়ছে, সেটি একটি ভিজুয়াল ইলুশন তৈরির জন্য আরোপ করা হয়েছে। আর দুটি ছবির পার্থক্যগুলো দেখুন। বাজ অলড্রিন প্রথম ছবিতে পতাকাকে স্যালুট করছেন। সেই স্যালুটকৃত অবস্থায় তার ডান হাত মাথায় ঠেকানো, ভালো করে লক্ষ্য করলে ডান হাতের দুটি আঙ্গুল দেখতে পাবেন হেলমেটের উপরে। দ্বিতীয় ছবিতে হাত নিচে নেমে এসেছে কিন্তু দুটি ছবিতেই পতাকার উড়ন্ত অবস্থা হুবহু একই আছে। যদি পতাকা বাতাসেই উড়ত তাহলে কি কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধান হুবহু একই রকমের কোঁকড়ানো অবস্থায় থাকত?
ষড়যন্ত্র-৩: “ঈগল মুন-ল্যান্ডার এবং 

Wednesday, December 16, 2015

জিনের আছর না অন্য কিছু?

জিনের আছর,ভূতে ধরা,মা কালী ভর করা—এ গুলো সব একই ধরনের অসুখ । রোগী অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে থাকে । চিকিৎসার অংশ হিসেবে সাধারনত কবিরাজ বা ওঝা ডেকে আনা হয় । সেই কবিরাজ অমানুষিক অত্যাচারের মাধ্যমে চিকিৎসা চালায়,যার ফলে রোগীর শারীরিক অনেক ক্ষতি হয় এমনকি কখনো কখনো মারাও যায় । চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় এই রোগগুলো সিজোফ্রেনিয়ার একটি পর্যায় ।

বাংলাদেশের গ্রামে গঞ্জে বিশেষত অশিক্ষিত মানুষদের মধ্যে এই রোগটি দেখা যায়।রোগী অলিক কিছু দেখে বা শোনে বা চিন্তা করে।অধিকাংশ সময়েই সে অডিটরী হ্যালুসিনেশনের শিকার হয়।সে এমন কিছু শোনে যেটা আশেপাশের আর কেউ শুনতে পায় না।সে ভাবতে পারে কেউ তার সাথে সবসময় কথা বলছে/নিরদেশ দিচ্ছে ।আবার একাধিক মানুষ তার মাথার ভেতর বসে কথা বলছে,রোগী জাস্ট রানিং কমেন্ট্রির মত করে তাদের কথা শুনছে ,এমন উপসর্গও হতে পারে। সে ভাবতে পারে কেউ তার সাথে সবসময় কথা বলছে।অনেক একে গায়েবী আওয়াজ বলে অভিহিত করে।অলীক অনেক কিছুই সে দেখতে পারে।উদ্ভট অনেক কিছুই সে ক্রতে পারে।ধর্ম বা পরিবেশ অনুযায়ী কেউ আরবীতে সুরা কেরাত পড়া শুরু করতে পারে,কেউ বা জয় মা কালী বলে নাচানাচি করতে পারে। উপসর্গ দেখে বাংলাদেশের সকল ধরনের জিনে ধরা,ভুতে ধরা,আছর পড়া,নজর লাগা ,ভর করা ইত্যাদি সকল রোগ কেই সিজোফ্রেনিয়া ধরা যায়।


রোগের কারন বংশগত এবং পরিবেশগত।বংশে অতীতে কারো সিজোফ্রেনিয়া থাকলে সেই পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে এই রোগের সম্ভাবনা থাকে।তবে বেশি প্রভাব পরিবেশের।ধর্মিয় বা আধ্যাত্মিক জগতের উপরে দৃড় বিশ্বাস তার মনে সিজোফ্রেনিয়ার বিজ বপন করে।ইসলামে বিশ্বাসী কোন তরুন তরুনীর উপর কখনো মা কালী ভর করে না।আবার কোন হিব্দুর উপর মুসলমান জিনের আছর পড়তে দেখা যায় না।

দেখা যায় ,যে এলাকায় শিক্ষার হার কম,সেই এলাকার কমবয়সী রা এই রোগে আক্রান্ত হয়।
অশিক্ষিত মানুষদের মস্তিষ্ক তুলনামূলকভাবে নতুন,অদ্ভুত বিষয় সহজে গ্রহন করতে পারে না।কোন নির্দিষ্ট ঘটনা বা তথ্য(কোন ভূত তাড়ানোর দৃশ্য,কোন প্যারানরমাল এক্টিভিটিজ,কোন ধর্মীয়/ সামাজিক মিথ অথবা এমঙ্কিছু যা সে ব্যাখ্যা করতে পারছে না) এই কিশোর কিশরীদের মস্তিষ্ক যখন আলোড়িত করে,তখন সে সর্বক্ষন এটা নিয়ে চিন্তা করতে থাকে।চিন্তা করে যখন কোন সলুশন পায় না তখন মস্তিষ্কে এম্ফেটামিন হরমোন নিসৃত হয়।এম্ফেটামিন আবার ডোপামিন নামক আরেক হরমোনকে নিঃসরনের প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।এই ডোপামিনের প্রভাবেই রোগি কাল্পনিক কথা শোনে,অবাস্তব জিনিস দেখে এবং অসম্ভব কাজ করতে পারে।
ধরা যাক ,কোন তরুনী দুপুরে গোছলের পরে বকুল গাছ তলায় বসেছিল।বিকালে তার মা তাকে ডেকে বল্ল,কেন সে বকুল তলায় বসেছিল?সে কি জানে না গোছলের পরে ভেজা চুলে বকুল তলায় বসলে জিনের নজর লাগে?তরুনী যদি অশিক্ষিত এবং কুসংস্কারাচ্ছন্ন হয় তাহলে এ ঘটনায় ওই তরূনীর মনে বেশ শক্ত একটা ভয় ঢুকে যাবে।(সে কুসন্সকার মুক্ত হলে একটুও ভয় পাবে না)রাতে হয়তো তার পরিবারের বয়স্ক দাদী নানী কারো কাছ থেকে সে কিছু জিনে ধরার গল্প শুনল,জিনে ধরলে মানুষ কি করে সে বিষয়ে তার কিছু ধারনা হল।এখন তার কাছে ভয়টা অনেক শক্ত হয়ে গেথে যাবে।তার ব্রেনে ডোপামিনের কাজ শুরু হয়ে গেছে।পরের কয়েক দিনের মধ্যেই তার সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশী।এবং আক্রান্ত হয়ে সে সেই সব আচরন করার চেষ্টাই করবে ,যে কাজের ইনফরমেশন গুলা তার মাথায় আছে।(দাদীর কাছে শুনেছে জিনে ধরলে পুরুষ কন্থে কথা বলে।সে চাইবে গলা মোটা করে কথা বলতে।তার পাশের ঘরের আচারের ওপর হয়তো তার লোভ ছিল।সে আদেশ করবে আমাকে ওই ঘর থেকে আচার এনে খেতে দাও ইত্যাদি)।

নির্দিষ্ট কিছু ড্রাগের প্রভাবেও সিজোফ্রেনিয়া ঘটতে পারে।বিভিন্ন পূজা পারবনে নেশা করার পর অনেকের মধ্যে উন্মত্ততার ভাব আসে।ক্লান্তিহীন ভাবে সে তখন নাচ গান করতে পারে।অনেক অপ্রত্যাশিত আচরন ও করতে পারে সে তখন।

সিজোফ্রেনিয়ার প্রভাবে রোগীর সাময়িক ভাবে স্মৃতি ভ্রংশ হতে পারে।আবার কখনো কখনো শুধু নির্দিষ্ট কিছু স্মৃতিই তার মাথায় থেকে যায়।রোগী এ সময় নিজের সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারনা পোষন করে।তার আশেপাশের পরিবেশে কি হচ্ছে সে এটা ধরতে পারে না।অসংলগ্ন কথা বার্তা বলে থাকে,যা স্বাভাবিক অবস্থায় তার বলার কথা না।এমনকি এ অবস্থায় তার গলার স্বর ও পরিবর্তিত হতে পারে।চূড়ান্ত অবস্থায় রোগী নিজের বা অন্যদের শারীরিক ক্ষতি করতে পারে।তার শারীরিক শক্তি এ সময় অনেক বেশি বলে মনে হতে থাকে।বা স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে সে অনেক বেশি কাজ করতে পারে এ সময়।

convulsion রোগের কিছু কিছু উপসর্গও এই ধরনের জিনের আছরের সাথে মিলে যায় । কনভালশনের ক্ষেত্রে রোগীর শরীর কাপতে থাকে , তাদের মুখ দিয়ে ফেনা বের হয় এবং কিছুক্ষন পরে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে । এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ব্যাপার । এর সাথে ভৌতিক কোন ব্যাপার না ।চিকিৎসা করালে এ রোগ সম্পুর্ন সেরে যায় ।

এ রকম ক্ষেত্রে রোগীকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে । সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে রোগী পুরোপুরি ই সূস্থ হয়ে উঠবে । কোনভাবেই কবিরাজদের শরনাপন্ন হওয়া উচিত না ।রোগী যেন নিজেই নিজের কোন শারীরিক ক্ষতি করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে । 

Wednesday, December 9, 2015

রক্তের প্রয়োজন যাদের; রক্তদানের যোগ্যতাঃ-

রক্তের প্রয়োজন যাদেরঃ-
১. দূঘর্টনাজনিত রক্তক্ষরণ - দূঘর্টনায় আহত রোগীর জন্য দূঘর্টনার ধরণ অনুযায়ী রক্তের প্রয়োজন হয়।
২. দগ্ধতা - আগুন পুড়া বা এসিডে ঝলসানো রোগীর জন্য পাজমা/রক্তরস প্রয়োজন। এজন্য ৩-৪ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন।
৩. অ্যানিমিয়া - রক্তে R.B.C. এর পরিমাণ কমে গেলে রক্তে পযার্প্ত পরিমাণ হিমোগোবিনের অভাবে অ্যানিমিয়া রোগ হয়। হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়াতে R.B.C. এর ভাঙ্গন ঘটে।
৪. থ্যালাসেমিয়া - এক ধরনের হিমোগোবিনের অভাবজনি বংশগত রোগ। রোগীকে প্রতিমাসে ১-২ ব্যাগ রক্ত দিতে হয়।
৫. হৃদরোগ - ভয়াবহ Heart Surgery এবং Bypass Surgery এর জন্য ৬-১০ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন।
৬. হিমোফিলিয়া - এক ধরনের বংশগত রোগ। রক্তক্ষরণ হয় যা সহজে বন্ধ হয় না, তাই রোগীকে রক্ত জমাট বাধার উপাদান সমৃদ্ধ Platelete দেয়া হয়।
৭. প্রসবকালীন রক্তক্ষরণ - সাধারণত প্রয়োজন হয় না তবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে ১-২ বা ততোধিক ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়।
৮. ব্লাড ক্যান্সার- রক্তের উপাদানসূমহের অভাবে ক্যান্সার হয়। প্রয়োজন অনুসারে রক্ত দেয়া হয়।
৯. কিডনী ডায়ালাইসিস - প্রতিবার ডায়ালাইসিস-এ ১ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন।
১০. রক্ত বমি - এ রোগে ১-২ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়।
১১. ডেঙ্গু জ্বর - এ রোগে ৪ ব্যাগ রক্ত হতে ১ ব্যাগ Platelete পৃথক করে রোগীর শরীরে দেয়া হয়।
১২. অস্ত্রপচার - অস্ত্রপচারের ধরণ বুঝে রক্তের চাহিদা বিভিন্ন।

রক্তদানের যোগ্যতাঃ-
সাধারনত একজন সুস্থ ব্যাক্তি চার মাস অন্তর অন্তর রক্তদান করতে পারেন। এবার দেখে নেয়া যাক রক্তদানের

যোগ্যতাসমূহঃ-
1. বয়স – ১৮-৫৭ বছর।
2. ওজন - ১০০ পাউন্ড বা ৪৭ কেজির উর্ধ্বে।
3. তবে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে ( অনুচক্রিকা , রক্তরস ) ওজন ৫৫ কেজি বা তার উর্ধ্বে। রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকলে।
4. রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ ৭৫% বা তার উর্ধ্বে থাকলে। সম্প্রতি ( ৬-মাস ) কোন দূঘর্টনা বা বড় ধরনের অপারেশন না হলে।
5. রক্তবাহিত জটিল রোগ যেমন-ম্যালেরিয়া, সিফিলিস , গনোরিয়া, হেপাটাইটিস , এইডস, চর্মরোগ , হৃদরোগ , ডায়াবেটিস , টাইফয়েড এবং বাতজ্বর না থাকলে।
6. কোন বিশেষ ধরনের ঔষধ ব্যবহার না করলে।
7. চার মাসের মধ্যে যিনি কোথাও রক্ত দেননি।
8. মহিলাদের মধ্যে যারা গর্ভবতী নন এবং যাদের মাসিক চলছে না।.রক্তদান ও রক্ত দানের পরঃ-.রক্তদানের আগে প্রতিটি রক্তদাতাকে তারসম্পর্কিত কিছু ব্যক্তিগত ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জিজ্ঞাসা করা হয়। সেগুলোর সঠিক উত্তর দিতে হবে। রক্তদাতার শারীরিক তাপমাত্রা, রক্তচাপ, নাড়ীর গতি পরীক্ষা করা হয় এবং রক্তদাতার রক্ত জীবানুমুক্ত কি না তা জানার জন্য সামান্য রক্ত নেয়া হয়। এছাড়া এই রক্তের মাধ্যমে রোগী রক্তদাতার রক্তের মধ্যে কোন জমাটবদ্ধতা সুষ্টি হয় কি না তাও পরীক্ষা করা হয় (ক্রসম্যাচিং)। রক্ত পরীক্ষার পর কারও রক্তে এইডস, হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস -সি, সিফিলিস বা অন্য কোন জীবানুর উপস্থিতি ধরা পরলে তাকে (রক্তদাতা) প্রয়োজেনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের পরামর্শ দেয়া হয়। সূঁচের অনুভূতি পাওয়ার মাধ্যমে রক্তদান প্রক্রিয়া শুরু হয়। এতে সময় লাগে সবোর্চ্চ ১০ মিনিট। রক্তদানের পূর্বে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে- যথেষ্ট বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা।রক্তদাতা প্রয়োজন মনে করলে বিশুদ্ধ পানি পান করতে পারে।রক্তদানের সময় মাথা- শরীর সমান্তরাল থাকতে হবে। দূর হতে রক্ত দিতে এলে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিতে হবে। রক্ত দান করার পরে অবশ্যই নুন্যতম ৫ মিনিট শুয়ে থাকতে হবে। [রক্তের প্রবাহ সমগ্র শরীরে স্বাভাবিক হবার জন্য এটা অতীব জরুরী]। সাধারণত রক্তদান করার পর অতিরিক্ত দামী খাবার গ্রহনের প্রয়োজন নেই। তবে রক্তদানের পর সপ্তাহ খানেক স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি অন্যান্য সময়ের দ্বি-গুণ পানি পান করতে হবে। কেননা একজন রক্তদাতা যেটুকু রক্ত দান করেন [সাধারণত ১ পাউন্ড] তার প্রায় ৬০ ভাগ ঐ সময়ের মধ্যে পূরণ হয়। শুধু লোহিত রক্ত কণিকা পূরণ হতে ১২০ দিন বা ৪ মাস সময় নেয়। রক্তদানের পর অবশ্যই তারিখ মনে রাখতে হবে।.বেশিরভাগ রক্ত দাতাই রক্তদানের পর কোন সমস্যা অনুভব করেন না। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে রক্তদাতা তলপেটে ব্যাথা, দূবর্লতা, মাথা ঘোরা, সূঁচ প্রবেশের স্থানে ক্ষত লালচে দাগ এবং ব্যাথা অনুভব করতে পারেন। সামান্য কিছু ক্ষেত্রে রক্তদাতা জ্ঞান হারাতে পারে বা মাংসপেশীতে খিচুনি ধরতে পারে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এসব সমস্যা ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ঠিক হয়ে যায়, কোন ঔষধের প্রয়োজন হয়না।.
রক্তদানের সুবিধাঃ-
1. প্রতি ৪ মাস অন্তর রক্ত দিলে দেহে নতুন BLOOD CELL সৃষ্টির প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
2. দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকগুন বেড়ে যায়।
3. নিয়মিত রক্তদানে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে বলে হৃদপিন্ড বিশেজ্ঞরা মনে করেন।
4. স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে আপনি জানতে পারেন আপনার শরীর রক্তবাহিত মারাত্মক রোগ আছে কিনা!

Monday, December 7, 2015

সব দোষ কেবল মেয়েদেরই!


২০০১ সালে নোবেল পুরস্কারবিজয়ী বিজ্ঞানী ৭২ বছর বয়সী টিম হান্ট সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ায় বিজ্ঞান সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বলেছিলেন- "মেয়েরা ল্যাবে থাকলে বড় সমস্যা। হয় তারা প্রেমে পড়বে, নয়তো অন্য পুরুষ বিজ্ঞানীরা তাদের প্রেমে পড়বে, আর সমালোচনা করলে তারা কান্নাকাটি করবে"।
মেয়ে হলে ল্যাবে থাকলে তার সমস্যা কী? পেশাগত ক্ষেত্রে দক্ষতা ও যোগ্যতা থাকলে নারীরা বিজ্ঞানী হতে পারবে না? অসুবিধে কোথায়? আজ বিশ্বব্যাপী ঘরের বাইরে নেমে এসেছে মেয়েরা। বাস্তবতা হলো বাইরের পরিমণ্ডলে মেয়েরা ৩ গুণ কাজ করলেই কেবল পুরুষের সমান স্বীকৃতি মেলে! কেবল মেয়ে বলেই তাকে ৩ গুণ কাজ করে স্বীকৃতি আদায় করতে হয়।
খুব জানতে ইচ্ছে হয়, বিজ্ঞানী টিম হান্ট কী ওই মন্তব্য করার সময় নেশাগ্রস্ত ছিলেন, নাকী তাঁর মতিভ্রম হয়েছিল? দুনিয়ার প্রথম সারির বিজ্ঞান শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও তিনি পুরুষতন্ত্রের নোংরা শিক্ষা দূর করতে পারেন নি। তাঁর বালখিল্য বক্তব্যে বোঝা যায় বিজ্ঞান চর্চা বড় কথা নয়, সেখানে মেয়ে লোকের উপস্থিতি এক উপদ্রববিশেষ। ধর্মীয় মোল্লারা যেমন ফতোয়া দিয়ে থাকেন মেয়েরা নিকটে থাকলে নাকী তাদের ইবাদতের বিঘ্ন ঘটে এবং মেয়েদের কারণে ইবাদতঘরের নিয়ন্ত্রণ রক্ষা করা সম্ভব হয় না। তেমনি বিজ্ঞানী টিম হান্টও মনে করেন মেয়েদের উপস্থিতির কারণে বিজ্ঞান গবেষণাগারের পরিবেশ কোনভাবেই রক্ষা করা সম্ভব হয় না।
হান্টের মতে- বিজ্ঞান গবেষণাগারে মেয়েদের উপস্থিতি থাকলে বিজ্ঞানের সকল ফর্মুলা মেয়েদের চোখের জলে বানের মতো ভেসে সমুদ্রে নিক্ষেপিত হবে। নয়তো বিজ্ঞানীদের হৃদয়ঘটিত বিক্রিয়া ঘটার পর বিজ্ঞান গবেষণাগার প্রেমের তাজমহলে রূপান্তরিত হয়ে পড়বে! বিজ্ঞানের পাঠ না করে তারা শেক্সপিয়ার পাঠ শুরু করবে। বিজ্ঞানী হান্টের এই উপলব্ধি আমার কাল্পনিক ধারনামাত্র। তবে এমনটাই যে তিনি ভেবেছিলেন সেটা যে নির্জলা সত্য তা কেউই অস্বীকার করতে পারবে না।
টিম হান্টের করা ওই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিশ্বমিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় ওঠার প্রেক্ষিতে তিনি পরবর্তীতে ক্ষমাও চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর ক্ষমাকে গুরুত্ব দেয়া হয় নি। এর কারণে তাকেঁ ইউরোপিয়ান রিসার্চ কাউন্সিল, রয়াল সোসাইটি আর ইউনিভার্সিটি কলেজ অব লন্ডনের পদগুলিও তাঁকে খোয়াতে হয়েছে।
টিম হান্টের ঘটনা সামান্য একটা উদাহরণমাত্র। বাস্তবে মেয়েদেরকে এরকম অনেক ঘটনা হজম করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বিজ্ঞান, গণিত, কারিগরি কিংবা প্রযুক্তিগত সেক্টরে মেয়েরা পুরুষদের তুলনায় সংখ্যাগতভাবে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। প্রচার করা হয় (প্রচার মাধ্যমের সর্বেসর্বা কিন্তু ওই পুরুষই) যে, মেয়েরা কাজের চাপ সামলানোর ভয়ে এই সকল সেক্টরে আসতে চায় না। আসলে এর পিছনে কী কারণ তা সহজেই অনুমেয়। সমীক্ষায় জানা যায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মিলিয়ে এই খাতে নিয়োজিত কর্মীদের মধ্যে ৭৩ শতাংশ পুরুষ এবং ২৭ শতাংশ মেয়ে। অথচ স্বাস্থ্য সেবার ক্ষেত্রে বিষয়টা সম্পূর্ণ বিপরীত। সেখানে মেয়ে কর্মীর হার ৭০ শতাংশ এবং পুরুষ কর্মীর হার ৩০ শতাংশ। তবে কী শৈশব থেকেই মেয়েদেরকে বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে অনাগ্রহী করে তৈরি করা হয়? নিশ্চয়ই হয়। নইলে বিজ্ঞান-প্রযুক্তির প্রতি মেয়েদের উৎসাহ এতো কম হবার কোন ঘটনা ঘটতো না। আর উৎসাহের অভাবেই মেয়েরা এই পেশাতে মনোনিবেশ বা আত্মবিশ্বাসী হতে পারছে না।
সমাজের সর্বস্তরে কেবলমাত্র মেয়ে হবার কারণেই যোগ্যতা থাকার পরও নিগৃহীত হতে হয়। দেখে শুনে মনে হয় মেয়ে হয়ে জন্মানোই বুঝি অপরাধ হয়েছে। এই অপরাধের শাস্তিতো এই সমাজ-রাষ্ট্র দিতে পারছে না, তাই ছলে বলে কৌশলে মেয়েদের বঞ্চিত করে রাখা, অপমান অপদস্থ করা, ক্ষেত্রবিশেষে শারীরিক লাঞ্ছনা কিংবা আঘাতও করা এক প্রকার নিয়মে দাঁড়িয়েছে।
প্রায়ই পুরুষরা অভিযোগ করে থাকেন মেয়েরা খোলামেলা পোশাক পড়ে, একাকী রাস্তায় চলাফেরা করে, রাতের বেলা চলাফেরা করে, কিংবা তার পুরুষসঙ্গীকে অবলীলায় বিশ্বাস করার কারণে বিভিন্ন 'অপরাধ' সংঘটিত হয়। সম্প্রতি বাংলাদেশের পুলিস প্রধানের ভাষায় 'পুরুষরা কিঞ্চিৎ 'দুষ্টুমী' করে বসে'।
যাই হোক মিডিয়ার কল্যাণে আপাতত নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী টিম হান্টকে লন্ডনের বিশ্ববিদ্যালয় হতে পদত্যাগ করতে হয়েছে ঠিকই, কিন্তু পুরুষ কর্তৃক মেয়ে জাতিকে বলির পাঁঠা বানানো বন্ধ হবে কবে সেটিই চিন্তার বিষয়। মেয়েদের মানুষ হিসেবে, তার মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কবে মূল্যায়ন করার মন-মানসিকতা গড়ে উঠবে সেটা নিয়েই আমি চিন্তিত।
কারণ বিজ্ঞানী টিম হান্টের 'বেফাঁস কথা' বলার কারণে ক্ষমা চাওয়া, কিংবা বিভিন্ন পদ থেকে তাঁর ইস্তফার অর্থ এই নয় যে মেয়েরা তার যোগ্য সম্মান ও অধিকার পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে। বরং বলা চলে মেয়েদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে এটি একটি ক্ষুদ্র বিজয়মাত্র। হান্টের ঘটনায় বেশি উচ্ছ্বসিত না হয়ে মেয়েদের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম অব্যাহত রাখাটাই জরুরী।
(নোবেলবিজয়ী বিজ্ঞানী টিম হান্ট-এর ছবিটি উইকিপিডিয়া থেকে ধার করা)
ছবি:

Sunday, December 6, 2015

পর্ন ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে অজানা দশ তথ্য


নীল ছবি নিয়ে বিশুদ্ধবাদীরা যতই নাক উঁচু করেন না কেন এই পর্ন ইন্ডাস্ট্রি যে দুনিয়ার সবচেয়ে বড় সেটা তথ্যই প্রমাণ করে। মানুষ নীল ছবির হাতছানিতে মাঝেমাঝেই ধরা দেয়, কিন্তু পর্দার ওপারে ঠিক কী ঘটে? সেই পর্ন ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে অজানা দশ তথ্য...
১)  পর্ন রোজগার : সাধারণ পুরুষ পর্ন অভিনেতারা ছবি প্রতি ৫০০ থেকে ৬০০ ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩৫ হাজার টাকা রোজগার করেন। মহিলাদের ক্ষেত্রে রোজগারের অঙ্কটা দ্বিগুণ হয়। আর সমকামী পর্নের ক্ষেত্রে রোজগারটা সাধারণ ক্ষেত্রের তিন গুণ হয়। তবে পর্নস্টার বা পর্ন তারকরা ঘণ্টায় এক হাজার থেকে ৫ হাজার ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩ লক্ষ টাকা রোজগার করেন।
২) পর্ন তৈরি : বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পর্ন সিনেমা তৈরি হয় আমেরিকায়। দু নম্বরে জার্মানি। আমেরিকায় সপ্তাহে গড়ে ৫০০টি ও জার্মানিতে ৪০০টি পর্ন সিনেমা তৈরি হয়।
৩) পর্ন আসক্তি:  এক সমীক্ষায় প্রকাশ ১০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ অনলাইনে পর্ন দেখাটা তাদের যে কোনও নেশাকে হার মানিয়েছে।
৪) পর্ন ও যৌন অপরাধ: সমীক্ষায় প্রকাশ যে দেশে পর্নোগ্রাফিক সিনেমা দেখার বিষয়ে কোনও বাধা নিষেধ নেই সেখানে যৌন হিংসা বা অপরাধের সংখ্যা কম হয়। যদিও অন্য এক সমীক্ষায় প্রকাশ পর্ন সিনেমা বেশি দেখা দেশে, যৌন অপরাধের সংখ্যা তুলনায় বেশি।
৫) পর্ন হিসেব: আমেরিকায় প্রতি ৩৯ মিনিটে একটি পর্ন ছবি তৈরি হয়। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র দুটি রাজ্যে পর্ন ছবি তৈরিতে অনুমতি আছে।
৬) পর্ন ডট কম: গোটা বিশ্বে সাড়ে চার কোটি পর্ন ওয়েবসাইট আছে। দুনিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় ওয়েবসাইটের প্রতি মাসে পেজ ভিউজ সিএনএন, ইএসপিএনের তিন গুণ।
৭) পর্ন ব্যয়: প্রতি সেকেন্ড পর্নগ্রাফির পিছনে খরচ হয় প্রায় ৩ হাজার ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা।
৮) চাইল্ড পর্নোগ্রাফি: দুনিয়ার সেরা ২০টি উন্নত দেশ বলেছে তাদের দেশের সেরা দশটা বড় সমস্যার মধ্যে প্রথমের দিকে আছে শিশু বা চাইল্ড পর্নোগ্রাফি। ভারত শিশু পর্নোগ্রাফি রুখতে ইন্টারপোলের দ্বারস্থ হচ্ছে।
৯) পর্ন দেখা: যে কোনও মুহূর্তে বিশ্বের ৩০ হাজার মানুষ পর্নোগ্রাফিক সিনেমা দেখছেন। ৩৭২ জন মানুষ গুগল সার্চে লিখছেন অ্যাডাল্ট বা পর্ন জাতীয় সিনেমা বা ছবি।
১০)  শরীরী ব্যবসা: পর্ন ইন্ডাস্ট্রি হলিউড, গুগল, এনএফএল, ইয়াহু, ইবে, আমাজনের থেকেও অনেক বেশি বড় ও লাভবান। সেক্স ইন্ডাস্ট্রি (পর্ন সিনেমা, দেহব্যবসা, স্ট্রিপ ক্লাব, নারী পাচার) হল বিশ্বের সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা।
সূত্র: ইন্টারনেট

আস্তিক এবং নাস্তিকদের মধ্যে পার্থক্য সমূহ ।


আমি অনেক চিন্তা ভাবনা করে আস্তিক এবং নাস্তিকদের মধ্যে নিম্নলিখিত পার্থক্যসমূহ নিরুপণ করেছি । নিম্নে আমি ধারাবাহিকভাবে তা উপস্থাপন করলাম । এর বাইরেও যদি আর কোন পার্থক্য থেকে থাকে তাহলে তা মন্তব্য কলামে উল্ল্যেখ করার জন্য অনুরোধ রইল ।
১ । (ক)- আস্তিকরা সামাজিক বলয় ভেঙে বেড়িয়ে আসতে পারে না ।
    (খ)- নাস্তিকরা সামাজিক বলয় ভেঙে বেড়িয়ে আসতে পারে ।
২ । (ক)- আস্তিকরা জন্মগত বিশ্বাষের অভ্যাস পরিবর্তন করতে পারে না ।
    (খ)- নাস্তিকরা জন্মতগত বিশ্বাষের অভ্যাস পরিবর্তন করে চলতে পারে ।
৩ । (ক)-আস্তিকরা প্রচলিত স্রোতের সাথে তাল মিলিয়ে চলে ।
     (খ)- নাস্তিকরা প্রচলিত স্রোতের বিপরীতে চলতে শিখে ।
৪ । (ক)- আস্তিকরা যুক্তি , অলৌকিক , অন্ধ বিশ্বাষ , এবং প্রথাকে মেনে নিয়ে চলে ।
    (খ)- নাস্তিকরা শুধু মাত্র যুক্তি এবং বাস্তবতার উপর নির্ভর করে চলে ।
৫ । (ক)- আস্তিকরা তাদের ধর্মীয় কিতাবের বক্তব্যসমূহকে বিনা দ্বিধায় মেনে জীবন যাপন করে ।
    (খ)- নাস্তিকরা ধর্মীয় কিতাবের বক্তব্যসমূহকে যুক্তি , বিজ্ঞান এবং বাস্তবতার নিরীখে বিচার বিশ্লেষণ করে গ্রহণ অথবা বাদ দেয়ে ।
৬ । (ক)- কট্টোর আস্তিকেরা নাস্তিকদের উপর প্রচন্ড ক্ষিপ্ত থাকে এবং তাদের হত্যা করাকেও বৈধ মনে করে ।
    (খ)- নাস্তিকেরা ; আস্তিক নাস্তিক সবাইকেই মানবতার নিরীখে বিচার করে ।
৭ । (ক)- আস্তিকেরা তাদের বিশ্বাষগুলোকে জোর করে মানুষের উপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে এবং না মানলে বিভীন্ন লৌকিক এবং অলৌকিক ভয় ভীতির ব্যবস্থা করে ।
   (খ)- কিন্তু নাস্তিকেরা তাদের বক্তব্যগুলোকে যুক্তি , বুদ্ধি এবং বিজ্ঞানের নিরীখে বুঝিয়ে মানুষকে পরিবর্তনের চেষ্টা করে ।
৮ । (ক)- আস্তিকেরা জন্মগত ভাবেই আস্তিক হয় অথবা পরিবেশগতভাবে ।
     (খ)- কিন্তু নাস্তিকেরা জন্মগতভাবে কেউই নাস্তিক হয় না । জীবন এবং বিজ্ঞানের জিজ্ঞাসার প্রশ্নের উত্তর খুঁজে খুঁজেই একজন নাস্তিক তার সিদ্ধান্তে স্থীর হয় ।
৯ । (ক)- আস্তিকেরা প্রচলীত স্রোতের বিরুদ্ধে যেতে পারেনা বলেই তারা দুর্বল চিত্তের হয় ।
    (খ)- কিন্তু নাস্তিকদের প্রচলীত স্রোতকে ভেঙে ভেঙে এগুতে হয় বলে প্রচুর সাহসীকতার পরিচয় দিতে হয় ।
১০ । (ক)- অসংখ্য আস্তিকের মাঝে একজন নাস্তিকের জীবন অসহনীয় এবং দুর্বীসহ এমন কি মৃত্যুর ঝুঁকিতেও তাকে জীবন কাটাতে হয় ।
     (খ)- কিন্তু অসংখ্য নাস্তিকের মাঝে একজন আস্তিক সাবলিল জীবন যাপন করতে পারে ।

Friday, November 27, 2015

তাকদীরের একটি ভিন্ন ধরণের ব্যাখ্যা


তাকদীরের ধারণা পাওয়ার জন্য সময়ের আপেক্ষিতার ধারণাটা বোঝা দরকার। সময় একটি আপেক্ষিক বিষয়। যেমন ধরুন আমরা এক সেকেন্ড বলতে যে সময়টুকু বুঝি সে সময়টা আপেক্ষিক। কীভাবে?

মনে করুন আমি আপনার থেকে আলোর বেগের কাছাকাছি বেগে দূরে সরে যাচ্ছি। সেক্ষেত্রে আপেক্ষিতা তত্ত্ব অনুসারে আমি যে টাইম ফ্রেমে থাকব সেটির সময় প্রসারিত হয়ে যাবে। অর্থাৎ আমার এক সেকেন্ডের পরিমাণ আপনার এক সেকেন্ডের পরিমান থেকে বেশী হবে। সুতরাং সময় বিষয়টা অবজারভার এর কন্ডিশনের উপর নির্ভর করে।

এখন মনে করুন আপনি একটি ভিডিও দেখছেন। ভিডিওটি যদি আপনি স্বাভাবিক গতিতে দেখতে থাকেন, সেক্ষেত্রে আপনার কাছে মনে হবে ভিডিওর ভিতরের গতি আপনার পারিপার্শ্বের জীবনের গতির মতই স্বাভাবিক। কিন্তু আপনি যদি ফাস্ট ফরোয়ার্ড করেন তাহলে দেখবেন ভিডিওটির ভিতরের জীবনের গতি দ্রুত হয়ে গেছে। খেয়াল করুন ভিডিওতে কী হয়? ভিডিওতে আসলে অনেকগুলো স্থির চিত্রকে আপনার সামনে দ্রুত সঞ্চালিত করা হয়। ফলে আপনার মনে হয় যেন ভিডিওটা জীবন্ত।

এবার আরেকটু গভীর ভাবে চিন্তা করুন। আমাদের এই বাস্তব জীবনটাকে যদি একটি রিয়েলটাইম থ্রি ডাইমেনশনাল ভিডিও ধরা হয়, তাহলে যেটা মনে হবে যে আমাদের জীবন কতগুলো থ্রিডি স্থির চিত্রের সমষ্টি। যেখানে আল্লাহ তাআলা একটির পর একটি ইমেজকে এমন একটি ইন্টারভেলে আমাদের আত্মার সামনে উপস্থাপন করছেন যেন আমাদের কাছে তা চলন্ত মনে হয়।

যদি এভাবে ধরা হয় তাহলে দেখবেন যে, আল্লাহ তাআলা কীভাবে সবকিছু আগে থেকেই জানেন বা লিখে রেখেছেন তা বুঝা কিছুটা সহজ হয়। কেননা তিনি তাঁর অগ্রীম জ্ঞানের ভিত্তিতে আমাদের জীবনের জন্য প্রযোজ্য সবগুলো ইমেজ সৃষ্টি করলেন এবং একটার পর একটা আমাদের সামনে উপস্থাপন করছেন। এ কারণে আমরা সময়ের গণ্ডিতে আবধ্য। (আল্লাহই ভাল জানেন)

এখানে লক্ষ্যণীয় যেহেতু তিনি তার অগ্রীম জ্ঞানের ভিত্তিতে জানেন যে আমরা কীভাবে জীবন যাপন করব, তার মানে এই না যে তিনি আমাকে যে স্বাধীনতা দিয়েছেন (পরীক্ষা করার জন্য) সেটা ভঙ্গ হল। কেননা তিনি আমাকে স্বাধীনতা দিলে পরে আমি যে পথ অবলম্বন করব সেটা তাঁর জানা। এবং যেহেতু আমাকে অস্তিত্বশীল করতে হবে সেহেতু সেই আলোকে সবগুলো ইমেজ তৈরী করে আমাদের সামনে উপস্থিত করছেন। (আল্লাহই ভাল জানেন)

এ বিষয়টি থেকে এটাও বুঝা সহজ হয় যে কীভাবে আল্লাহ সময়ের অধীন নন। আমি উপরে যখন বললাম যে তিনি অগ্রীম জ্ঞানের ভিত্তিতে তৈরী করছেন তখন বুঝতে হবে যে সেটি আমার আপনার সাপেক্ষে অগ্রীম। আল্লাহর সাপেক্ষে অতীত বা ভবিষ্যত বলে কিছু নেই। তিনি সময়ের স্রষ্টা, সময়ের অধীন নন। বর্তমান মহাবিশ্বের অথবা সম্ভাব্য সকল নিয়মের সকল প্রকার মহাবিশ্বের সকল ঘটনাবলী তার সাপেক্ষে ঘটে গেছে। সুতরাং তিনি যখন কোন কিছু সৃষ্টি করতে ইচ্ছে করেন তখন ঐ সৃষ্টিগুলো নিজস্ব সীমাবদ্ধতা ও গণ্ডি সহ তৈরী হয়ে যায় তথা আত্মপ্রকাশ করে। যেমন আমাদের অন্যতম একটি গণ্ডি হচ্ছে সময়।

যেহেতু মহাবিশ্বের সৃষ্টির শুরুর সাথে সাথে সময়ের শুরু হয়েছে সেহেতু বিষয়টি আপনি অনেকটা এভাবে চিন্তা করতে পারেন যে, সময়ের ডাইমেনশন সহ মহাবিশ্ব সৃষ্টির প্রাথমিক পর্যায়ে একটি বিন্দু ছিল। এখানে কল্পনা করুন একটি ত্রিভুজ যার চূড়া C উপরের দিকে। ভূমি AB নিচে। ভূমির সমান্তরালে ঠিক মাঝ বরাবর একটি রেখা xy. মনে করি মহাবিশ্বের শুরুর বিন্দুটি হল ত্রিভুজটির চূড়ার বিন্দু। এই বিন্দুতেই তাহলে বর্তমানে মহাবিশ্বের সকল ঘটনাবলি পুঞ্জিভূত আছে। সুতরাং এখানে সময় হবে স্থির। ত্রিভুজের যতই নিচের দিকে যাবেন দেখবেন সকল ঘটনাবলির ‘পরিমাণটা’ ফিক্সড থাকলো, কিন্তু সময়ের তৈরী  হল।( কেননা এখন প্রতিটি ইমেজের মধ্যবর্তী একটা স্থান পার্থক্য তৈরী হল, যেগুলো মূল C বিন্দুতে পুঞ্জিভূত ছিল।)  হতে পারে যে আমরা সময়ের এই এক্সপ্যানডিং ইউনিভার্স এর ঠিক মধ্য রেখায় আছি। অন্য কথায় এই xy লাইনটি বরাবর যখন সময় আসলো তখন আল্লাহ সেই লাইন বরাবর আমাদের জন্য সৃষ্ট থ্রিডি ইমেজ গুলো আমাদের আত্মার সামনে দিচ্ছেন। অন্য কথায় রিয়েলটাইম ঘটনাচক্রের এই ক্ষেত্রের সাথে আমাদের আত্মাকে সংযুক্ত করে দিয়েছেন। অথবা হয়ত AB লাইন বরাবর আমরা আছি। দেখুন এখান থেকে কিন্ত এ বিষয়টা পরিষ্কার যে আল্লাহ তাআলা এই টাইম ফ্রেমের বাইরে। একই সাথে তিনি এই ফ্রেমের সকল ঘটনাবলীর স্রষ্টা।

আবার এটাও পরিষ্কার যে কেন তিনি যখন ‘হও’ বলেন, তা হয়ে যায়। কেননা সকল ঘটনা তার সামনে ঘটে গেছে। তিনি টাইম ফ্রেমের বাইরে। তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী যে কোন একটি টাইম ও ঘটনা ফ্রেমে অস্তিত্বশীল হতে পারে। (আল্লাহর এই ‘হও’ বলাটা নি:সন্দেহে মানুষের হও বলার মত নয়) আবার আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যেহেতু কোন কিছু দিয়েই সীমাবদ্ধ নন, সুতরাং তিনি যা সৃষ্টি করেন তা স্বভাবতই তাঁর মুখাপেক্ষী হয়েই জন্মায়। সবকিছুই স্বভাবজাত ভাবেই তার প্রভুর পবিত্রতা ঘোষণা দিতে থাকে। (অর্থাৎ সৃষ্টির সীমাবদ্ধতাই প্রকাশ করতে থাকে যে স্রষ্টা অসীম)

সুবহানআল্লাহ। আল্লাহ যতটুকু জ্ঞান আমাদের দিয়েছেন তার বাইরে আমাদের কিছুই জানা নাই। আল্লাহই সবকিছু ভাল জানেন।

“আল্লাহ এমন এক চিরঞ্জীব ও চিরন্তন সত্তা যিনি সমগ্র বিশ্ব-জাহানের দায়িত্বভার বহন করছেন, তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই ৷ তিনি ঘুমান না এবং তন্দ্রাও তাঁকে স্পর্শ করে না ৷ পৃথিবী ও আকাশে যা কিছু মানুষের সামনে আছে তা তিনি জানেন এবং যা কিছু তাদের অগোচরে আছে সে সম্পর্কে তিনি অবগত ৷ তিনি নিজে যে জিনিসের জ্ঞান মানুষকে দিতে চান সেটুকু ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কিছুই তারা আয়ত্ব করতে পারে না ৷ তাঁর কর্তৃত্ব আকাশ ও পৃথিবী ব্যাপী ৷ এগুলোর রক্ষণাবেক্ষন তাঁকে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত করে না ৷ মূলত তিনিই এক মহান ও শ্রেষ্ঠ সত্তা ৷” (সুরা বাকারা: আয়াত ২৫৫)



Reference reading:

1. Matter: Other name for Illusion by Harun Yahya

2. Timelessness and reality of fate by Harun Yahya

3. Tafhim Ebook

চিন্তার খোরাক (দুই)


কখনও কি চিন্তা করেছেন আপনাকে যদি মরুভূমিতে খাবার এবং পানি ছাড়া ছেড়ে দেয়া হয় আপনার কি অবস্থা হবে? পানি ও খাবার ছাড়া আপনি ৩৬ ঘন্টার মুখে মৃত্যুমুখে পতিত হবেন। অথচ একটি উট একই পরিস্থিতিতে বাঁচতে পারে ৩ সপ্তাহ পর্যন্ত। আবার ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বাঁচতে পারে ৮ দিন।  কিন্তু কিভাবে?

হ্যা, এই উটেই আছে আমাদের জন্য চিন্তার খোরাক। উটের পিছনে যে কুজটি দেখতে পাচ্ছেন করুণাময় আল্লাহ সেটিকে দিয়েছেন উটের প্রয়োজন বিবেচনায় রেখেই। কুজের মধ্যে সঞ্চিত থাকে চর্বি। যা উটের খাদ্যের ভাণ্ডার হিসেবে কাজ করে। কিন্তু প্রশ্ন হল এই চর্বি যদি সাড়া শরীরে ছড়িয়ে থাকত তাহলে অসুবিধে কি ছিল? উত্তর, চর্বির তাপপ্রতিরোধক বৈশিষ্ট্যের কারণে, চর্বি যদি উটের পুরো শরীর জুড়ে থাকত, মরুভূমির প্রচণ্ড গরম আবহাওয়ায় উটের অভ্যন্তরে উৎপন্ন তাপ উটের ভিতরে আটকা পড়ত এবং উটটি মারা পড়ত। অন্যদিকে এই কারণেই কিন্তু তিমির শরীর আবার চর্বি দিয়েই ঘেরা। যাতে সমুদ্রের শীতল তাপ তিমির ভিতরের মেটাবলিক প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিতে না পারে।

আপনি কি জানেন একজন মানুষ ঘন্টায় সর্বচ্চো কত লিটার পানি পান করতে পারে? খুব বেশী ঘাম হলেও ঘন্টায় এক থেকে দেড় লিটারের বেশী পানি খাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ হঠাৎ বেশী পানি খেলে রক্তে লবনের ঘনত্ব কমে যায়। ফলে রক্ত থেকে বিভিন্ন কোষে পানি ঢুকে কোষ গুলো ফুলে যেতে থাকে। এভাবে হঠাৎ পানি খেলে লোহিত রক্ত কণিকায় পানি ঢুকে রক্তকণিকাগুলো ভেঙ্গে যাবে আবার মস্তিষ্কে অতিরিক্ত পানি (cerebral oedema) জমলে একজন মানুষ মারাও যেতে পারে।

শুনলে অবাক হবেন, একটি ৬০০ কেজি উট মাত্র ৩ মিনিটে ২০০ লিটার পানি গিলে ফেলতে পারে। এ্যাঁ, তাহলেতো উটটির রক্তে অতিরিক্ত পানি ঢুকে লোহিত রক্ত কণিকাগুলো ভাঙ্গন সৃষ্টি করার কথা? না তা কিন্তু হয় না। কারণ মহান আল্লাহ উটকে দিয়েছেন পানিশূণ্যতা সহ্য করার প্রচণ্ড ক্ষমতা। মানুষ যেখানে পানি কমে মাত্র ১০ শতাংশ ওজন হ্রাস সহ্য করতে পারে, সেখানে উট পারে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত। ফলে এত দ্রুত পানি খেলেও পর্যাপ্ত রিহাইড্রেশন হয়ে যায়। তদুপরি  উটের লোহিত কণাগুলো আমাদের শরীরের ন্যায় গোলাকার নয়, ডিম্বাকৃতির (Oval); ফলে হঠাৎ পানি বেড়ে গেলেও লোহিত কোষগুলোর সেল মেমব্রেন ভেঙ্গে যায় না। আবার এই ওভ্যাল আকৃতির কারনে পানিশূণ্য অবস্থায় কোষগুলো অপেক্ষাকৃত চিকন জালিকা দিয়ে সহজে চলাচল করে অক্সিজেন সরবরাহ অব্যাহত রাখতে পারে।

মরুভূমির খরতাপে পানি পাওয়া বড়ই দুস্কর। তাই উটকে দেয়া হয়েছে পানি ধরে রাখার অপূর্ব ক্ষমতা। উটের শ্বাসনালি দিয়ে যে পানি জলীয় বাস্প হয়ে বের হয়ে যায়, এর নাসারন্ধ্রের অপেক্ষাকৃতি পুরু মিউকাস মেমব্রেন তার প্রায় ৬৬ শতাংশ ধরে রাখতে পারে। এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্য। এছাড়াও পানিশূন্য অবস্থায় উট প্রায় ৭৬ শতাংশ প্রস্রাব কমিয়ে দিতে পারে। এমনকি পায়খানার সাথে নি:সৃত পানি কমিয়ে দিতে পারে প্রায় ৫০ শতাংশ।

উটের মধ্যে যদি এই বৈশিষ্ট্যগুলো একসাথে না থাকত তাহলে কি উটের পক্ষে এই প্রখর রোদে বেঁচে থাকা সম্ভব হত? কখনই না। তাহলে এই উট কি একা একা ধাপে ধাপে তৈরী হয়েছে? উট কি মরুভূমির তাপমাত্রা, অধিক তাপমাত্রায় পানির প্রয়োজনীয়তা, পানির ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক পরিবর্তনের ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি ও মলিক্যুলার বায়োলজি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নিয়েছিল?  

কতই না নিঁখুত করুনাময় স্রষ্টার সৃষ্টি পরিকল্পনা। নিশ্চয়ই, সকল প্রশংসা তাঁর।

এজন্যই কি আল্লাহ আমাদের কাছে প্রশ্ন রেখেছেন-

“তাহলে কি এরা উটগুলো দেখছে না, কিভাবে তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে ?”
(সূরা গাশিয়া, সুরা:৮৮; আয়াত:১৭)



সহায়ক পাঠ:

১) Harun Yahya, For man of understanding, page: 41-45

২) http://en.wikipedia.org/wiki/Camel#Evolution

৩) http://discovermagazine.com/2009/jan/05-20-things-you-didnt-know-about-fat#.UWRJBZNTAXs

৪) http://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/12053855

৫) http://books.google.com/books?id=g3CbqZtaF4oC&lpg=PP1&pg=PA96#v=onepage&q&f=false

বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া ও স্রষ্টার পরিচয়


যে কোন বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করে চলে। পর্যবেক্ষন, প্রশ্নকরণ, হাইপোথিসিস, পরীক্ষানিরীক্ষা, অবশেষে উপসংহার (যে হাইপোথিসিসটি কি ভুল না কি ঠিক?); ঠিক হলে তা ‘রুল’ এর মর্যাদা পাবে।

এখন, অবজারভেশন হল পৃথিবীতে অসংখ্য জীবিত স্বত্ত্বা বিরাজমান। প্রশ্ন হল এগুলো কোথা হতে কিভাবে এল? হাইপোথিসিস পর্যায়ে এসেই অবজারভারদের দুটো ভাগ। এক ভাগের মতে প্রথম কোষ বা ‘ইউনিভার্সাল কমন এনসেস্টর’ এসেছে অজৈবজনন (Abiogenesis) প্রক্রিয়ায় এবং অন্যান্য প্রানী এসেছে ডারউইনবাদী প্রক্রিয়ায়। আরেকভাগের মতে প্রত্যেকটি প্রানীই পৃথক ভাবে সৃজিত হয়েছে একজন সর্বজ্ঞ স্রষ্টা দ্বারা।

এবার হাইপোথিসিস গুলো পরীক্ষা করে প্রমাণ করার পালা। এই পর্যায়ে এসেই বিপত্তি। বিবর্তনবাদীরা দেখাতে সক্ষম নন কিভাবে বিবর্তনের মধ্য দিয়ে এক প্রজাতি থেকে আরেক প্রজাতি এসেছে। তারা সর্বচ্চো যেটা দেখাতে পারেন একটি প্রজাতি কিভাবে আর্টিফিসিয়াল সিলেকশনের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটাতে পারে। কিন্তু এতে একটি প্রজাতি আরেকটিতে পরিবর্তন হয় না। মাইক্রোইভোলিউশনের যে উদাহরণ দেন সেখানেও কোন প্রজাতি পরিবর্তন হয়ে যাওয়ার বা করে ফেলার উদাহরণ নেই। এ পর্যায়ে এসে তারা তাই বিভিন্ন কল্পনার আশ্রয় নেয়া শুরু করেন। একটি হাইপোথিসিসকে ডিফেন্ড করেন আরেকটি হাইপোথিসিস দিয়ে। এভাবে কল্পনা সমাহার নিয়ে খুলে ফেলেন আলাদা ডিসিপ্লিন।

অন্য দিকে যারা বলছেন স্রষ্টা সৃষ্টি করেছেন তাদের পক্ষেও এটা এক্সপেরিমেন্টালী দেখানো সম্ভব নয়। তবে সম্ভব হল ‘ইনডাইরেক্ট ইনফারেন্স’ টানা। ঠিক যেমনি একটি ডিজাইন দেখলে একজন ডিজাইনারের হাত আমরা সাথে সাথেই বুঝে নেই, তেমনি স্রষ্টাকে চিনতে সৃষ্টি জগতের ডিজাইনগুলো  দেখে নেয়া এবং দেখিয়ে দেয়াই এদের জন্য যথেষ্ঠ।

এখন এ পর্যায়ে বিবর্তনবাদীদের তাদের তত্ত্ব প্রমাণ করতে হলে অবশ্যই দেখাতে হবে যে কোন ডিজাইন দূর্ঘটনা ক্রমে তৈরী হয় এবং ডারউইনবাদী প্রক্রিয়ায় একটি ডিজাইন থেকে আরেকটি ডিজাইন একা একা দূর্ঘটনার মধ্য দিয়ে আনগাইডেড প্রক্রিয়ায় (Randomly) আবির্ভূত হয়।  যেহেতু জীবের ফিজিওলজি থেকে শুরু করে মলিকিউলার বায়োলজি পর্যন্ত অনেক কিছুই এখন জানার সুযোগ হয়েছে, সেহেতু কিভাবে একা একাই পরিবর্তন হতে পারে সেগুলো প্রয়োজনীয় ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, গণিত দিয়ে ব্যাখ্যা করার দায়িত্ব তাদের।

অর্থাৎ এ পর্যায়ে এসে দেখা যায়, যে হাইপোথিসিস গুলো দাড় করানো হল, ওগুলো নিয়ে ডারউইনবাদী ও ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইনবাদীদের আলোচনা ও তর্কবিতর্ক চলে তত্ত্বগত পর্যায়ে। আর যে প্রশ্নগুলো দাড় করানো হয়েছে সেগুলো হল ‘দর্শনগত’ পর্যায়ের।

যেখানে ১৫০ অ্যামাইনো এসিডের একটি মাঝারি সাইজের প্রোটিন আসার বিষয়টি ডারউইনবাদীদের পক্ষে ব্যাখ্যা করা অসম্ভব, সেখানে হাজার হাজার প্রোটিন, লিপিড, কার্বহাইড্রেট, নিউক্লিউটাইড এবং সর্বপোরি নার্ভাস সিস্টেমে ইনস্টলকৃত প্রোগ্রামকে ব্যাখ্যা করার কথা বললে যে তাদের ‘ডেলিরিয়াম’ শুরু হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক তা তাদের লেখা ও মন্তব্যেই বুঝা যায়।

যাই হোক, এ আলোচনায় দ্বিতীয়স্বাভাবিক তা তাদের লেখা ও মন্তব্যেই বুঝা যায়।

যাই হোক, এ আলোচনায় দ্বিতীয় দল যদিও ‘একজন বুদ্ধিমান স্বত্ত্বার’ প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারে, একজন ‘অদৃশ্য’ সর্বজ্ঞ স্বত্ত্বায় বিশ্বাস স্থাপন করতে সাহায্য করতে  পারে, কিন্তু উক্ত স্বত্ত্বার পরিচয় পুরোপুরি তুলে ধরতে পারে না।  তাই, এই পরিচয়টা তুলে ধরা জন্যই এগিয়ে এসেছে মহাগ্রন্থ ‘আল কোরআন’; এজন্যই কি আল্লাহ তাআলা বলেন:

“আলিফ লাম মীম ৷ এটি আল্লাহর কিতাব, এর মধ্যে কোন সন্দেহ নেই ৷ এটি হিদায়াত সেই ‘মুত্তাকী’দের জন্য, যারা ‘অদৃশ্যে বিশ্বাস’ করে…” (সূরা বাকারা: ১-৩)

প্রশ্ন হল উপসংহার কি? জ্বি, এই চূড়ান্ত প্রশ্নগুলোর উপসংহার টানা হবে আখিরাতে। দুনিয়ায় যদি এর প্রমাণ দিয়ে দেয়া হত তাহলেতো ‘অদৃশ্যে বিশ্বাসের’ প্রয়োজনীয়তাই থাকত না এবং বলা হত না:

“তিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন যেন তিনি পরীক্ষা করে নিতে পারেন কাজের দিক দিয়ে তোমাদের মধ্যে কে উত্তম।” (সূরা মূলক: ২)

Sunday, November 15, 2015

The_point_of_conflict_and_the_truth


 আমরা জানি মহাবিশ্বের সৃষ্টিতে বস্তুবাদী মতবাদে
বিশ্বাসী নাস্তিক পাওয়া এখন বেশ কঠিন কারন
হাজার যুক্তি বস্তুবাদ মতবাদকে উড়িয়ে দেয়; যেমন
অনাদিকাল থেকে বিশ্ব যদি থাকতো তবে
তেজস্ক্রিয় পদার্থ থাকতো না, হাইড্রোজেন এর
কোন নক্ষত্র থাকা সম্ভব হত না, থাকতো না
হিলিয়াম জ্বালানী এর কোন নক্ষত্র ... যা হোক...
যুক্তি মানে এমন নাস্তিকদের যেহেতু বিগ-ব্যাঙ
থিওরি মেনে নেয়া ছাড়া উপায় থাকে না তাই
তারা বলে যে বিগ ব্যাঙের পরে কোন
পরিকল্পনাকারীর হাত ছাড়াই আপনাআপনি
মহাবিশ্ব বিন্যস্ত ও গঠিত হয়েছে। এবার আসুন- আমারা আমাদের দৃঢ় যুক্তি না দিয়ে আজ
বরং কিছু বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও দার্শনিক (যাদের
মদ্ধে নাস্তিকও আছেন) তাদের পর্যবেক্ষণের
ফালফালের পরে তাদের মতামত জেনে নেই।
খ্যাতনামা নাস্তিক দার্শনিক Anthony Flew
এভাবে বলেনঃ কাল্পনিক ভাবে স্বীকার করা মনের
জন্য ভাল, আমি অতঃপর স্বীকার করতে শুরু করবো যে, স্থিতাবস্থায় বিশ্বাসী নাস্তিকেরা সমসাময়িক সৃষ্টিতত্ত্ব বিষয়ক ধ্যান ধারণায় বিব্রত বোধ করে. এতে মনেহয় সৃষ্টিতত্ত্ববৗদরা বৈজ্ঞানিক সত্য গ্রহনে সম্মত হয়েছে যে বিশ্বের একটি শুরু
ছিল.
তার বক্তব্য সরাসরিঃ Notoriously
confession isgood for the soul. I will therefore
begin by confessing that the stratonician
atheist has to beembarrassed by the
contemporary cosmologicalconsensus for it
seems that the cosmologists are providing a
scientific proof that universe had a beginning.
(Henre mergenue, Ray Abraham Varghese,
cosmos, Bios, Theos 1992. P.241)
বিজ্ঞানী Hugh Ross বলেনঃ বিশ্ব সৃষ্টির সাথে
সাথে যদি সময়ের শুরু হয় তাহলে মহাকাশতত্ত্ববিদ
দের মতে বিশ্ব সৃষ্টির কারন এমন এক সত্ত্বা
যিনি সময়ে অবস্থান করে সব কিছু পরিচালিত
করেন, উল্লেখ করতে হয় যে; তিনি বিশ্বের সময়ের
পরিধি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত এক সতন্ত্র সত্ত্বা...
তার বক্তব্য সরাসরি হলঃ If times beginning is
concurrent with the beginning with the
beginning of the universe, as the space
theorem says then the cause of the universe
must be some entity operation in a time
dimension completely independent of and
preexistent to time dimension of the cosmos .
this conclusion tell us that god is not the
universe itself, not is god contained in the
universe ( Creator and the cosmos.1993.
p.112)
Stephen Hawking তার ব্রিফ হিস্টরি অফ টাইম
গ্রন্থে বলেনঃ বিশ্বকে হিসাবনিকাশ ও
ভারসাম্যের উপর সৃষ্টি করা হয়েছে এবং
বিশ্ব এমনভাবে সমন্বিত যা কেউ তা কল্পনা করতে
পারেনা। বিশ্বের প্রসারণের অনুপাত প্রসঙ্গে
তিনি বলেন, বিগ ব্যাঙের এক সেকেন্ড পর
প্রসারণের অনুপাত যদি মিলিয়ন মিলিয়ন অংশের
একাংশও কম হত তাহলে বিশ্ব বর্তমান অবস্থায়
আসার পূর্বেই আবার ধ্বংস হয়ে যেত.
তিনি বইয়ে যেভাবে লেখা আছে তা হলঃ If the rate of
expansion one second after the big bang had
been smaller by even one part in a hundred
thousand million , the universe would have re-
collapsed before it ever reached its present
size. (Stephen Hawking , A Brief History Of
Time. 1988. P.181)
Paul Davies তার God and the new Physics বইয়ে
লিখেছেনঃ It is hard to resist the impression
that the present structure of the universe,
apparently so sensitive to minor alternation in
the numbers, has been rather carefully thought
out . The seemingly miraculous concurrence of
numerical values that nature has assigned to
her fundamental constants must remain the
most compelling evidence for an element of
cosmic design. (God and the new Physics.1983.
p.189)
এর দ্বারা বুঝা যায় অবশ্যই এক অতি
বুদ্ধিমান সত্ত্বা রায়েছেন মহাবিশ্বের সৃষ্টি ও
তার সুনিপুণ বিস্তারের পেছনে

Friday, November 13, 2015

হিন্দী সিরিয়াল।

স্টার জলসা, জি বাংলা, সনি, এমন সব চ্যানেল গুলোতে যেসব টিভি সিরিয়াল গুলো দেখানো হয় তাতে করে বিনোদনের চাইতে সমাজ, সংসার, আর পরিবারের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টির উপাদানই বেশি । আর এক শ্রেণীর দর্শক রয়েছে যারা এসব সিরিয়াল এতই সিরিয়াসলি দেখেন যে তাদের আচার আচরন, কথা বার্তা, চিন্তা চেতনা, সাজ পোশাক সবই সিরিয়ালের দেখানো মানুষ গুলোর মতোই হয়ে যায় । কোনো ভাবেই সহজ কিছুকে সহজ করে নিতে পারে না এরা । এক সময় গিয়ে সবার দোষ ধরে বেড়ানো, চোগল খুরি, আর গীবত করা শুরু করে দেয় নিজেদের অজান্তেই । স্বামী স্ত্রী, বাবা মা, ভাই বোন, বউ শাশুড়ি, প্রেমিক প্রেমিকা সব কিছুর মধ্যেই গলদ, সন্দেহ, আর কুটনামির চরম স্তর দেখে দেখে নিজেদের পরিবার আর সম্পর্কের ভেতর ফাটল ধরানোদের সংখ্যা কম নয়। আবার রান্না ঘরে খাবার পুড়িয়ে ফেলানোর সংখ্যাও কম নয় । তবুও কে কাকে শুধরাবে । নামাজ পড়ে তসবিহ গুনতে গুনতে স্টার জলসায় হারিয়ে যাওয়াদের সংখ্যাও ফেলে দেয়ার মতো নয় বলে শেষ করা যাবে না; এমন অসংখ্য বিশেষনই এদের পরিচয় করিয়ে দেয়া যায় । সিরিয়াল কে ঘিরেই এদের শত ব্যস্ততা। তাই হয়তো এখন স্ত্রী অথবা মা দের ঊল কিনে স্বামীর জন্য বা সন্তানের জন্য সোয়েটার বানানোর দৃশ্য চোখে পড়ে না, কিংবা ভালোবাসার উপহার হয়ে সুই সুতোয় বোনা "মনে রেখো আমায়" রুমাল টাও আজ চোখে পড়ে না । এভাবে সিরিয়ালি অনেক কিছুই চোখে পড়বে না আস্তে আস্তে । সিরিয়াসলি একদিন এই সব সিরিয়ালের পর্দা ঢেকে দেবে চোখ আমাদের । মুখস্থ হয়ে যাবে জীবন মানেই জি-বাংলা। পূর্ণিমা চাঁদ ঝলসানো রুটি হয়ে গেলেও স্টার জলসায় ঝলসে যেতে আমাদের লজ্জা হবে না কোনো দিনও । - - -
- কাম হইব না ভায়া। কারন যাদেরকেকে উদ্দেশ্য করে বলছি এই চ্যানেলগগুলো বন্ধ করতে তাদের বউ বাচ্চারাই এই চ্যানেল দেখে। আর তারা যদি এই চ্যানেল দেখেতে না পায় আপনার কি মনে হয় তাদের সংসার টিকবে?

★একটি হিন্দী সিরিয়ালের স্ক্রিপ্ট!
কাহিনী সংক্ষেপ : নায়িকা তার বয়ফ্রেন্ডের মেইল চেক করবে।
পর্ব ১
কামিনী ঘুম থেকে উঠেই ওয়াশরুমে ঢুকবে। ক্যামেরা ওয়াশরুমের দরজায় আপ ডাউন করবে চারবার।ব্যাকগ্রাউন্ডে ধুম ধুম সাউন্ড হবে। এরপর ক্যামেরা পুরো ঘর দেখাবে। কম্পিউটার দেখানোর সময় তীব্র মিউজিক বেজে উঠবে!
কামিনী ওয়াশরুম থেকে বেরুবে,ক্যামেরা পুরো ঘর ঘুরিয়ে নায়িকাকে চারবার দেখাবে। এরপর সে ড্রেসিং টেবিলে বসে সাজুগুজু করবে। ক্যামেরা একবার কম্পিউটার, একবার ড্রেসিং টেবিল তীব্র মিউজিকের সাথে ফোকাস করবে চারবার।
(পরের পর্বের ট্রেলার যাবে)
পর্ব ২
(আগের পর্বের হাইলাইটস দেখানো হবে)
কামিনীর ঠোঁটের লাল লিপিষ্টিক থেকে এ পর্ব শুরু হবে। এরপর ঝমকালো শাড়ী দেখান হবে।গলায় গহনা চিকচিক করবে এনার্জী বাল্বের আলোয়।ড্রেসিং টেবিল থেকে উঠে কামিনীর চোখ যাবে কম্পিউটারের দিকে। ক্যামেরা একবার কম্পিউটার একবার কামিনীর চোখ দেখাবে,এভাবে ৩ বার।ব্যাকগ্রাউন্ডে শব্দ হবে।ধিবধিবধিব (যেন জীবন মৃত্যূর সন্ধীক্ষনে কেউ)
হঠাৎ কামিনীর মোবাইলের রিংটোন বেজে উঠবে। মোবাইল ফোকাস করা হবে দু মিনিট। স্লো মোশনে দৌড়ে গিয়ে সে ফোনটা ধরবে। কি কথা বলছে দর্শক শুনবে না। কথা বলার সময় এমন মিউজিক দিতে হবে যেন দর্শক ভাবে স্বয়ং ওসামা বিন লাদেন ফোন দিয়েছে ওপার থেকে। (ওপার মানে ওপার বাংলা না আবার)
(আগামি পর্বের ট্রেলার যাবে)
পর্ব ৩
(আগের পর্বের হাইলাইটস দেখান হবে)
কামিনী ধীরে ধীরে এগিয়ে যাবে কম্পিউটারের দিকে। ধীরে ধীরে!কামিনী চেয়ারে বসে ঘরের চারিদিকে দেখবে। ক্যামেরায় পুরো ঘর দেখানো হবে।পিসির ষ্টার্ট বাটনটি কামিনী চাপ দিবে। ধুম করে শব্দ হবে। না পিসি ব্লার্ষ্ট করেনি এটা ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। ধীরে ধীরে ওপেন হতে যাচ্ছে কম্পিউটার।ব্যাকগ্রাউন্ডে কোন মিউজিক থাকবে না। পিনপতন নীরবতা। তীব্র সাউন্ডে উইন্ডোজের ষ্টার্টিং টোন বেজে উঠবে। ক্যামেরা ভীত কামিনী চারবার দেখাবে।
মডেম কানেক্ট দিয়ে কামিনী। ধুম করে শব্দ হয়ে ডিসকানেক্ট হয়ে যাবে। কামিনী চেষ্টা করে যাবে। ততক্ষন রুমে ঘুরতে থাকা ফ্যান দেখান হবে ক্যামেরায়। কামিনী চেষ্টা করতেই থাকবে,করতেই থাকবে। আবার ধুপ করে বিকট শব্দ হবে। নাহ ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক না,ট্রান্সফরর্মার ব্লাষ্ট করেছে!
(পরের পর্বের ট্রেলার দেখানো হবে)
পর্ব ৪
(আগের পর্বের হাইলাইটস দেখান হবে)
আবার ধুম করে সাউন্ড,বিদ্যূৎ আসছে। গোৎগোৎ করে ফ্যান চলছে। ক্যামেরা রোলিং করে সে ফ্যান দেখানো হচ্ছে। সাথে সাইসাই শব্দ। এবার ক্যামেরায় কামিনীর থুতুনীতে চিকচিক করা ঘাম দেখা যাবে।জুম করে ঘাম বড় হচ্ছে বড় হচ্ছে এত্ত এত্ত বড় করে হুট করে জুম আউট করে ঘাম উদাও। ক্যামেরা আবার মনিটরের দিকে।অন্ধকার মনিটর,ব্যাকগ্রাউডেন্ড ধিবধিব শব্দ,হঠাৎ হ্যাঁ হঠাৎ মনিটরে আলো জ্বলে উঠবে। কামিনীর চোখে তীব্র কনফিউজড,সে মডেম কানেকশন দিয়ে জিমেইল লগইন করবে। কিন্তু নেট স্লো.....আবার ঢিবঢিব ঢিব। ইয়েস কামিনী ইনবক্সে ঢুকবে। ঢুকেই একটা হাসি দিবে। তার বয়ফ্রেন্ড মেইল করেছে "হ্যালো বেইবী গুড মর্নিং"
শেষ- The end.


★বর্তমান বিশ্বে গড় আয়ু সবচে বেশী হলো হিন্দী সিরিয়ালের নায়ক নায়িকাদের। কখনো কখনো তারা মৃতূঞ্জয়ী। তারা এমনিতে মরে না,যদি মরে তবে মরে গিয়ে ফিরে আসে। ছেলেরা মরে গিয়ে ফিরে আসে খোঁচা খোঁচা দাড়ি নিয়ে,মেয়েরা ফিরে আসে ঠোঁটে লাল রং লাগিয়ে। ছেলেরা ফিরে এসে অন্যের বউকে ভাগিয়ে নিয়ে যায়। মেয়েরা ফিরে এসে অন্যের সংসার ভেঙ্গে দেয়।


★ নেপাল পারে আমরা পারি না কেন? ‘
তোমরা ভারতীয় টিভির সিরিয়ালমুক্ত একটা মা দাও/আমি তোমাদের ঝগড়ামুক্ত একটা পরিবার দেব’ এটা জনৈক ব্যক্তির ফেসবুক স্ট্যাটাস। ভারতীয় টিভির সিরিয়াল মানেই পারিবারিক বিরোধ, ঝগড়া-ঝাটি, পরকীয়া, লিভ টুগেদার, চালাকি, অপটতা, মিথ্যাবাদিতা, অশ্লীলতা, হিন্দুত্ববাদী, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, মন্দিরের ঘণ্টা, ঢোলবাদ্য আর অনৈতিকতা। এসব চ্যানেল সিরিয়াল মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। ‘দেখার দেখা/শেখার শেখা’ প্রবাদের মতো আমাদের দেশে পারিবারিক বিরোধ বাড়ছে। নৈতিক অবক্ষয়, পারিবারিক ও সামাজিক অবক্ষয় শুরু হয়ে গেছে। তিনটি ভারতীয় চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধের দাবিতে হাইকোর্টে রিট হওয়ায় ‘কেন স্টার জলসা, স্টার প্লাস, জি বাংলা সম্প্রচার বন্ধ করা হবে না’ কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছে আদালত বহুদিন আগে। তারপরও বাংলাদেশের নীতি-নির্ধারকরা পারেনি বিজাতীয় সংস্কৃতির ধারক-বাহক ভারতীয় টিভি সম্প্রচার বন্ধ করতে। কিন্তু নেপাল দেখিয়ে দিয়েছে ভারতকে কীভাবে শিক্ষা দিতে হয়। ভারত সীমান্তে পণ্যবাহী ট্রাক আটকে রাখার কারণেই নেপাল সব ভারতীয় চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে। সেখানে সেøাগান উঠেছে ‘নো মোড় ভারতীয় চ্যানেল’।ছোট্ট দেশ নেপাল পারে; আমরা পারিনা কেন? ভারতীয় সবকটি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার নিজেদের দেশে বন্ধ করে দিয়েছে নেপালের ক্যাবল টেলিভিশন অপারেটররা। ভারত সীমান্তে জ্বালানিসহ অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বোঝাই ট্রাক আটকে রাখার প্রতিবাদে মঙ্গলবার তারা এই সিদ্ধান্ত নেয়। হিমালয়ের পাদদেশে ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত নেপাল প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে ভারতের ওপর নির্ভরশীল। তারপরও তারা ‘ভারতীয় টিভি আর নয়’ এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশ হিসেবে ভারত ধর্ম নিরপেক্ষ দাবি করলেও মূলত হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্র। ক্ষমতাসীন আর এসএসের ভাবশীর্ষ বিজেপি এখন ক্ষমতায়। হিন্দুত্ববাদ প্রচারই তাদের নীতি। দিল্লির সরকারের মন্ত্রীদের বক্তব্যে সেটা পরিষ্কার। কিন্তু নেপাল হিন্দুত্ববাদীতে আটকে থাকতে চায়নি। সম্প্রতি হিন্দু রাষ্ট্রের পরিবর্তে নেপাল নিজেদের ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র ঘোষণা দিয়ে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করেছে। বিবিসির খবরে প্রকাশ ‘এরপরই নেপালের এই সংবিধানের সমালোচনায় সোচ্চার হয়ে উঠে ভারত’। নেপাল সরকার ভারতের এ সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছে গত সপ্তাহে। এর প্রতিক্রিয়ায়ই দুই দেশের সীমান্তে বিএসএফ নেপালগামী জ্বালানিসহ পণ্যবাহী ট্রাক আটকে দিচ্ছে। সীমান্তে পণ্যবাহী ট্রাক আটকানোর ঘটনায় বিক্ষুব্ধ করে তুলেছে নেপালের মানুষকে। প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার নেপালের ক্যাবল অপারেটররা ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর সম্প্রচার নেপালে বন্ধ করে দেয়। ভারতীয় সিনেমার প্রদর্শনীও বন্ধ করে দিয়েছে নেপালের কয়েকটি সিনেমা হল কর্তৃপক্ষ। বিবিসির খবরে প্রকাশ নেপাল ক্যাবল টিভি অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান সুধীর পরাজুলি জানিয়েছেন, ‘তারা মনে করেন নেপালের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করছে ভারত’। এ জন্য তারা ৪২টি ভারতীয় স্যাটেলাইট চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে। অবশ্য ভারত এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি নিরাপত্তার কারণে সীমান্তে ট্রাক আটকানো হয়েছে।সম্প্রতি ভারতের সেনাবাহিনী সেভেন সিস্টার্স এ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের সময় মায়ানমার সীমান্ত অতিক্রম করে। এ খবর প্রচার হওয়ায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে মায়ানমার সরকার। অথচ হরহামেশাই সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা (বিএসএফ) বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে এবং আমাদের লোকজনকে হত্যা করছে। সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি হত্যা কার্যত নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়ে গেছে। তারপরও আমরা কোনো শব্দ করছি না। শুধু তাই নয় নেপালের সংবিধান ইস্যুতে ভারতের প্রতিক্রিয়া সে দেশের সরকার ও সাধারণ মানুষ ‘অভ্যন্তরীণ রাজনীতির হস্তক্ষেপের সামিল’ মনে করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং ভারতীয় ৪২টি চ্যানেল সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে। আর আমরা? বাংলাদেশের রাজনীতি যেন নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে দিল্লির সাউথ ব্লক থেকেই। ক্ষমতা ধরে রাখতে এবং ক্ষমতায় যেতে আমাদের নেতানেত্রীরা যেন দিল্লিকে তোয়াজের প্রতিযোগিতা করেন। দিল্লির শাসকদের অনুকম্পা পেতে আমরা কতই না কসরত করছি! বড় দলগুলোর নেতা-নেত্রীদের আচরণ এবং কথাবার্তা এমন যে ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর দিল্লির আশীর্বাদ অপরিহার্য। দেশের জনগণের ভোট নয়, বরং ক্ষমতায় কোন দল যাবে বা থাকবে তা নির্ধারণ করে দেয় দিল্লির সাউথ ব্লক।’ অবশ্য ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে তেমনটিই ঘটেছে বলে মনে করেন দেশের বুদ্ধিজীবী ও ভোটের অধিকার হারানো সাধারণ মানুষ। বিতর্কিত ওই নির্বাচনের আগে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং ঢাকা সফরে এসে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদকে পরামর্শ দেন ‘আওয়ামী লীগ যেভাবে চায় সেভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন করার’। তিনি বিভিন্ন দলের নেতার সঙ্গে বৈঠক করে দিল্লির বার্তা পৌঁছে দেন। পরবর্তীতে সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদ এই তথ্য ফাঁস করে দেয়ায় মিডিয়ায় তোলপাড় হয়। বাংলাদেশে রাজনীতির নামে যে অপরাজনীতি চলছে; নীতি নৈতিকতার বদলে যে অনৈতিকতার চর্চাই বেশি হচ্ছে সেটা ওপেন সিক্রেট। ভারতের ক্ষমতাসীন দলের সভাপতি অমিতশাকে ফোন করার ‘সত্যমিথ্যা’ নিয়ে আওয়ামী লীগ আর বিএনপির নেতাদের মধ্যে যে বাহাস হয়েছে তাতে জনগণের কাছে দুই দলের অবস্থান পরিষ্কার হয়ে যায়। নেতা-নেত্রীদের পরমুখাপেক্ষীতার কারণে ভারতের ওপর নির্ভরশীল হয়েও নেপাল যা পারছে, আমরা তা পারছি না কেন? আমাদের কি দেশপ্রেম, নীতি নৈতিকতা, সাহসের বড়ই অভাব? নাকি আমরা অপরের গলগ্রহ হয়ে তাঁবেদারের মতো বেঁচে থাকতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি? দেশের সকলেই একবাক্যে স্বীকার করছেন ভারতীয় চ্যানেলের বিরূপ প্রভাব পড়ছে আমাদের সমাজে। ওই সব চ্যানেল সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে দিচ্ছে অনৈতিকতা। বিজ্ঞাপন, সংগীত শিক্ষালয়, নাট্যবিদ্যালয়, নাট্যশালা, আর্টস স্কুল, ফ্যাশন-শো, সংগীত-অভিনয়-সুন্দরী প্রতিযোগিতা, পাঠ্যপুস্তক, সাহিত্য, সেমিনার, এনজিও, হাসপাতাল, রূপচর্চা কেন্দ্র, শিক্ষাবৃত্তি, ক্লাব-সমিতি, সাংস্কৃতিক সফর, চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। পাশাপাশি তাদের টিভি চ্যানেলগুলোতে নিত্যদিন প্রচারিত গল্পবিহীন সিরিয়ালে কপটতা, অনৈতিকতা, পারিবারিক কলহ, কুটিলতা, শিশুদের মিথ্যা বলা, ছলাকলা, চাতুরি শেখানোর কৌশলে ভরপুর। অশ্লীলতা ছাড়াও পারিবারিক কলহ, ভাইয়ে ভাইয়ে বিরোধ, মা-ছেলে বিরোধ, বউ-শাশুড়ির ঝগড়া, বউ-ঝি’র হিংসা-বিদ্বেষ শেখানো-দেখানো নিত্যদিন। অভিনেত্রীদের মেকাপ-গেটআপে অর্ধনগ্ন-অশ্লীলতায় ভরপুর এসব সিরিয়ালের মাধ্যমে হিন্দুদের ধর্মীয় সাংস্কৃতি আমাদের সমাজে ছড়িয়ে দিচ্ছে। ভারতীয় চ্যানেলে নিত্য প্রচারিত শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, মন্দিরের ঘণ্টা, ঢোলবাদ্য ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ হিসেবে পরিচিত নেপালের মানুষ পছন্দ করছে না। যার কারণে তারা ভারতীয় ৪২টিভি চ্যানেলের সম্প্রদার বন্ধ করে দিয়েছে। অথচ আমরা সে সাহস দেখাতে পারছি না? জাতি হিসেবে নেপাল কি আমাদের চেয়ে বেশি উন্নত? সুচকের প্রতিটি ক্ষেত্রে নেপাল আমাদের (বাংলাদেশ) নিচে। তারপরও ছোট্ট দেশ নেপাল যা পারে আমরা তা কেন পারছি না কেন?