Sunday, June 4, 2017

কোরান মানুষের রচিত একটি গ্রন্থ, নসখ-মানসুখের বিষয়টি হচ্ছে এর শ্রেষ্ঠ প্রমাণ।

লেখকঃ শাহিনুর রহমান শাহিন
কোরান বিশ্লেষণের সময় ‘নসখ’ নামের একটি আরবি শব্দ ক্ষেত্রবিশেষে ব্যবহার করা হয়। এর অর্থ হলো, যা রহিত করে। ‘নসখ’ এর বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে ‘মানসুখ’ শব্দটি। মানসুখ অর্থ – যা রহিত করা হয়েছে। কোরানের কিছু আয়াতকে ‘মানসুখ’ আয়াত এবং আরো কিছু আয়াতকে ‘নসখ’ আয়াত বলা হয়। নসখ আয়াতের বিধান দ্বারা মানসুখ আয়াতের বিধান রহিত ও প্রতিস্থাপিত হয়। কোরান যে মানুষের রচিত একটি গ্রন্থ, নসখ-মানসুখের বিষয়টি হচ্ছে এর শ্রেষ্ঠ প্রমাণ।
নবী মুহাম্মদের কাছে অহী হিশেবে কিছু কিছু করে আয়াত এসেছে। বেশীরভাগ আয়াত এসেছে তাৎক্ষনিক কোন সমস্যা সমাধানের জন্য। যেমন ধরুন, একজন এসে বললো, যুদ্ধে বন্দী হওয়া সধবা নারীদের সাথে সেক্স করা যাবে কিনা। কিছু সময়ের মধ্যে এই বিষয়ে নবী মুহাম্মদের কাছে অহী পাঠানো হলো। তিনি বললেন, আল্লাহ বলেছেন, “নারীদের মধ্যে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসী ব্যতিত সকল সধবা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ………”
এই আয়াতের মানে হলো, যুদ্ধবন্দী নারীগণ যেহেতু দাসী শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত, সেহেতু তারা সেক্স করার জন্য বৈধ! এই অবিশ্বাস্য ঘটনাটি আমি মোটেও বানিয়ে বলছি না। এখানে আমি রেফারেন্স দিচ্ছি এবং কমেন্টে এর স্ক্রিনশটও দিয়ে দেবো।
রেফারেন্সঃ এক
০১) সুরা নিসা ২৪ নম্বর আয়াত এবং তাফসিরে ইবনে কাসির ২য় খণ্ড ৩৪৩ পৃষ্ঠা।
০২) সুনানে নাসায়ি ৩৩৩৪ নং হাদিস এবং সুনানে আবু দাউদ ২১৫২ নং হাদিস।
এভাবে আল্লাহপাক নবী মুহাম্মদের মাধ্যমে মানুষের দৈনন্দীন সমস্যা সমাধান করেছেন। ভালো কথা। কিন্তু সমস্যা হলো, একটি বিষয়ে তিনি আয়াত পাঠানোর কিছুদিন পরে অন্য আয়াত পাঠিয়ে আগের আয়াতকে বাতিল করে দিয়েছেন। ব্যপারটা সহজ করে বলতে পারছি না। একটি উদাহরণ দিই।
সদ্যবিধবা নারীদের সম্পর্কে নবী মুহাম্মদের কাছে একবার আয়াত পাঠানো হলো যে, তারা পূর্ণ একবছর স্বামীগৃহে অবস্থান করে ইদ্দত পালন করবে। ইদ্দতের সময়ে তাদের জন্য বিবাহ করা নিষিদ্ধ। এই একবছর ভরণপোষনের জন্য যথেষ্ঠ পরিমাণ সম্পদ যেন স্বামী তাদেরকে অসিয়ত করে যায়।
পরবর্তীতে এই আয়াত বাদ দিয়ে নতুন আয়াত পাঠানো হলো, হাদিস বর্ণনা করা হলো। সেখানে বলা হলো, এক বছর ইদ্দত পালনের দরকার নেই, চার মাস দশ দিন করলেই হবে। আগে শুধু স্বামীগৃহে থেকে ইদ্দত পুরো করতে হতো। নতুন বিধান অনুসারে, যেখানে খুশি থাকতে পারবে, স্বামীগৃহে কিংবা স্বামীগৃহের বাইরে। এক্ষেত্রে আগের আয়াতকে আমরা মানসুখ ও নতুন আয়াতকে নসখ আয়াত হিশেবে চিহ্নিত করতে পারি।
রেফারেন্সঃ দুই
০১) সুরা বাকারা ২৪০ ও ২৩৪ নম্বর আয়াত এবং তাফসিরে ইবনে কাসির ১ম খণ্ড ৬৮০-৮১ পৃষ্ঠা।
০২) সহিহ বোখারি ৪১৭৪, ৪১৮০ ও ৪২২৩ নং হাদিস; সুনানে নাসায়ি ৩৫৩২ ও ৩৫৪৪-৪৫ নং হাদিস এবং সুনানে আবু দাউদ ২২৯২ নং হাদিস।
স্বয়ং কোরানের মধ্যে এভাবে নসখ-মানসুখের ব্যপারটিকে স্পষ্ট ভাষায় স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, “আমি কোন আয়াতকে রহিত করলে কিংবা বিস্মৃত করলে পরিবর্তে এর চেয়ে ভালো বা এর অনুরূপ আয়াত অবতীর্ণ করি, তুমি কী জান না যে, আল্লাহ সব বিষয়ের উপরই ক্ষমতাবান?” কী চমৎকার একটি কথা! এখন আপনিই বলুন, এরকম নসখ-মানসুখ আয়াত দ্বারা পরিপূর্ণ কোরানকে কোন যুক্তিতে ঐশ্বরিক গ্রন্থ হিশেবে আখ্যায়িত করা যায়? আমাদের কি সেই সৃষ্টিকর্তার প্রয়োজন আছে, যিনি বারবার ভুল বিধান অনুসরণ করতে বলেন! ভুল সংশোধন করে আবার নতুন বিধান পাঠান, যেটি নিজেও এখন অগ্রহণযোগ্য!
রেফারেন্সঃ তিন
০১) সুরা বাকারা ১০৬ নম্বর আয়াত; সুরা নাহল ১০১ নম্বর আয়াত এবং সুরা হজ্জ ৫২-৫৩ নম্বর আয়াত।
রহিত হওয়া আয়াতের সংখ্যা মোটেও কম নয়। নবী মুহাম্মদের সাহাবি ও সাহাবিদের সংস্পর্শে আসা তাবেয়িগণের মতে, অন্তত পাঁচশ আয়াত রহিত হয়ে গেছে। এসব আয়াতের বিধান এখন আর কার্যকর নয়, যদিও এর প্রায় সবই এখনো কোরানে রয়ে গেছে। নসখ-মানসুখের দিক দিয়ে তারা সমস্ত সুরাকে চারটি ভাগে ভাগ করেছেন –
ক. ৩০টি সুরায় নসখ-মানসুখ উভয় ধরনের আয়াত রয়েছে। অর্থাৎ, এসব সুরায় বিধান রহিতকারী আয়াতও রয়েছে, পাশাপাশি পুরাতন বিধান সমৃদ্ধ আয়াতও রয়েছে।
খ. ৩৬টি সুরায় শুধু মানসুখ আয়াতসমূহ রয়েছে। এদেরকে যে আয়াতগুলো রহিত করেছে, সেগুলো অন্য সুরায় স্থান পেয়েছে কিংবা এদের পরিবর্তে অন্য কোন আয়াত পাঠানো হয়নি।
গ. ০৬টি সুরায় শুধু নসখ আয়াতসমূহ রয়েছে। এই আয়াতগুলো যাদেরকে রহিত করেছে, সেগুলো অন্য সুরায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘ. ৪২টি সুরায় নসখ বা মানসুখ জাতীয় কোন আয়াত নেই। এগুলো ঝামেলামুক্ত।
রেফারেন্সঃ চার
০১) আল ইতকান ২য় খণ্ড ০৩-০৪ পৃষ্ঠা।
০২) Abrogation in the Quran ০৬-০৯ এবং ৭৪-৭৭ পৃষ্ঠা।
০৩) আল ফাউযুল কবির ফি উসুলিত তাফসির ৪৬ পৃষ্ঠা।
সাহাবি ও তাবেয়িগণ পাঁচ শতাধিক রহিত হয়ে যাওয়া আয়াতের কথা বলেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে আলেমগণ এদের মধ্যে অনেকগুলো আয়াতকে রহিতের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দিয়েছেন। এ নিয়ে প্রচুর বিতর্ক হয়েছে, এখনো প্রচুর মতানৈক্য রয়েছে।
যেমন, ধারনা করা হয়, সুরা বাকারায় অন্তত তেইশটি আয়াত বা আয়াতের অংশবিশেষ অন্য আয়াত দ্বারা রহিত করা হয়েছে। কিন্তু ইবনুল আরাবি, জালালুদ্দিন সুয়ুতি প্রমুখ আলেমগণ শুধু ছয়টি আয়াতকে রহিত হিশেবে গণ্য করেছেন। সাহাবিদের অগ্রাহ্য করে এখন তাদের মতামতই অনুসরণ করা হয়।
রেফারেন্সঃ পাঁচ
০১) আল ইতকান ২য় খণ্ড ০৬-০৯ পৃষ্ঠা।
০২) আল ফাউযুল কবির ফি উসুলিত তাফসির ৪৬ পৃষ্ঠা।
অথচ তারা এমন কিছু আয়াতকে বাদ দিয়েছেন, যা পড়লে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, এসব আয়াতের বিধান অন্য আয়াত দ্বারা রহিত হয়েছে। এক্ষেত্রে আমরা বাকারার ৬২ নম্বর আয়াতটি পরীক্ষা করে দেখতে পারি। এখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, “নিশ্চয়ই ইয়াহুদি, ক্রিশ্চিয়ান এবং সাবেঈন সম্প্রদায়, এদের মধ্যে যারা আল্লাহর প্রতি ও কেয়ামতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপণ করে এবং ভালো কাজ করে, তাদের জন্য তাদের প্রভুর নিকট পুরস্কার রয়েছে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তিত হবে না।”
এই আয়াত পড়ে মনে হতে পারে, ভালো ইহুদি-ক্রিশ্চিয়ান-সাবেঈনগণ বেহেশতে চলে যাবেন। উল্লেখ্য যে, আরবের ইহুদি-ক্রিশ্চিয়ানগণ সৃষ্টিকর্তাকে ‘আল্লাহ’ বলেই ডাকতো এবং পরকালেও বিশ্বাস করতো। সুতরাং তারা তাদের ভালো কাজের প্রতিদান পাবে। বড়োই ধর্মনিরপেক্ষ আয়াত! কিন্তু এই আয়াতকে রহিত করেছে সুরা ইমরানের ৮৫ নম্বর আয়াত। যে আয়াতটি ঘোষণা দিয়েছে –
“আর যে কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য জীবনব্যবস্থা অন্বেষণ করে, তা কখনোই তাঁর নিকট হতে পরিগৃহীত হবে না, অতএবপরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।”
এর মানে হলো, নেলসন ম্যান্ডেলা ও মাদার তেরেসার ভালো কাজের কোন মূল্য নেই। যেহেতু তারা ক্রিশ্চিয়ান, সেহেতু তারা ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। উপরের আয়াত দুটি স্পষ্ট দ্বিমুখী, তবু একে মানসুখ হিশেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
এরকম অসংখ্য আয়াতকে রহিত হিশেবে মনে না করলেও ইবনে আরাবি, সুয়ুতি প্রমুখ আলেমগণ বেশকিছু আয়াতকে রহিত বলে স্বীকার করে নিয়েছেন। এসবের মধ্যে পাঁচটি সুরার পাঁচটি আয়াতকে নিয়ে সংক্ষিপ্ত একটি বিবরণ দিচ্ছি।
সুরা বাকারার ১৮০ নং আয়াতে পিতামাতা ও আত্নীয়দের জন্য অসিয়ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। শুরুতে নিয়ম ছিল, অসিয়ত হবে পিতামাতা-আত্নীয়-স্বজনের জন্য এবং উত্তরাধিকার হিশেবে রেখে যাওয়া সম্পদ হবে সন্তানাদির জন্য। অসিয়ত না করলে পিতামাতার জন্য কিছু থাকবে না। পরবর্তীতে সবার জন্য নির্দিষ্ট হারে সম্পদ ভাগাভাগি করে নিতে সুরা নিসার ১১ নং আয়াত দ্বারা একে রহিত করা হয়।
সুরা ইমরানের ১০২ নং আয়াতে বলা হয়েছে, “তোমরা আল্লাহকে যতোটুকু ভয় করা উচিত, ততোটুকুই ভয় করো”। পরবর্তীতে একে রহিত করে দিয়ে সুরা তাগাবুনের ১৬ নং আয়াতে বলা হয়েছে আল্লাহকে সাধ্যমতো ভয় করার কথা।
সুরা আনফালের ৬৫ নং আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে, “বিশ জন ধৈর্যশীল জিহাদি থাকলে তারা দুইশ জনের সাথে জয়ী হবে”। এই আয়াতের বিধান হলো, প্রতি দশজনের বিপরীতে একজন জিহাদিও যদি থাকে, সে যেন পালিয়ে না আসে। এই বিধান রহিত করে পরবর্তী আয়াতে নতুন বিধান দেয়া হলো, দুইশ জনের বিপরীতে একশ জন জয়ী হবে। অর্থাৎ, দুইশ জনের বিপরীতে একশ জন থাকলে তারা যেন যুদ্ধক্ষেত্রে অটল থাকে। তবে সংখ্যাটি একশ জনের কম হলে পালিয়ে আসা যাবে।
সুরা আহযাবের ৫২ নং আয়াতে নবীমুহাম্মদকে আরো অতিরিক্ত বিবাহ করতে নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু একই সুরার ৫০ নং আয়াত দ্বারা বিবাহ নিষিদ্ধ করার এই আদেশ রহিত করে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ, তিনি চাইলে ইচ্ছেমতো আরো বিবাহ করতে পারেন।
সুরা মুজাদালার ১২ নং আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে, নবী মুহাম্মদের সাথে চুপে চুপে কথা বলতে হলে সামর্থবানদের আগে সাদাকা প্রদান করতে হবে। এই বিধান রহিত করে দেয়া হয় পরবর্তী আয়াতে।
রেফারেন্সঃ ছয়
০১) সহিহ বোখারি ৪২২৩ ও ৬২৮৩ নং হাদিস এবং সুনানে আবু দাউদ ২৮৫৯ নং হাদিস।
০২) আল ইতকান ২য় খণ্ড ০৭ পৃষ্ঠা এবং Abrogation in the Qoran ২০ পৃষ্ঠা।
০৩) সহিহ বোখারি ৪২৯৬-৯৭ নং হাদিস; সুনানে আবু দাউদ ২৬৩৮ নং হাদিস এবং তাফসিরে ইবনে কাসির ৩য় খণ্ড ৬১৫ পৃষ্ঠা।
০৪) আল ইতকান ২য় খণ্ড ০৮ পৃষ্ঠা এবং Abrogation in the Qoran ৫৫-৫৬ পৃষ্ঠা।
০৫) আল ইতকান ২য় খণ্ড ০৮ পৃষ্ঠা এবং Abrogation in the Qoran ৬৮ পৃষ্ঠা।
নসখ-মানসুখ স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, কোরান মানবসৃষ্ট একটি গ্রন্থ। এখানে মাঝে মধ্যে ভুল বিধান অনুসরণ করতে বলা হয়। যখন দেখা যায়, এই বিধান কাজ করছে না, বরং সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে, তখন সেই ভুল শুধরে নিয়ে নতুন বিধান প্রতিস্থাপণ করা হয়। হাস্যকর ব্যপার। নসখ-মানসুখের ব্যপারটি এখানেই শেষ নয়। মূলত তিন ধরনের নসখ-মানসুখ দেখা যায়।
ক. আয়াত কোরানে আছে, কিন্তু বিধান রহিত করে দেয়া হয়েছে। উপরে আমরা যা আলোচনা করেছি, সেটা এই বিভাগের মধ্যে পড়ে।
খ. আয়াত কোরান থেকে বাতিল করে দেয়া হয়েছে, কিন্তু বিধান বহাল রাখা হয়েছে। রজম বা পাথর নিক্ষেপে হত্যা করা সংক্রান্ত বিধানটি এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। খলিফা উমর বলেছেন, রজমের আয়াত কোরানে ছিল, তারা এই আয়াতের বিধান নবী মুহাম্মদের আমলে অনুশীলনও করেছেন। কিন্তু বর্তমান কোরানে এটি রাখা হয়নি। উমর এটাও বলেছেন যে, সমালোচনার ভয় না থাকলে তিনি এটি কোরানের অন্তর্ভূক্ত করতেন।
গ. আয়াত ও বিধান, উভয়ই বাতিল করে দেয়া হয়েছে। মানে হলো, রহিত হওয়া আয়াত কোরানে রাখা হয়নি। সেই আয়াতের বিধানও এখন আর অনুশীলন করা হয় না। নবী মুহাম্মদের খাদেম আনাস বিন মালিক সুরা তাওবার ক্ষেত্রে এ ধরনের একটি আয়াতের কথা উল্লেখ করেছেন। সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদও এমন একটি আয়াতের বর্ণনা দিয়েছেন। নবীপত্নী আয়েশা বর্ণিত দুধপান সংক্রান্ত আয়াতটিও এই বিভাগের মধ্যে পড়ে।
‘খ’ ও ‘গ’ নম্বর নিয়ে অনেক মতানৈক্য রয়েছে। কেউ কেউ বলেন, এগুলো রহিত হয়নি, বরং হারিয়ে গেছে বা কোরান সংকলনের সময় বিভিন্ন কারনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
রেফারেন্সঃ সাত
০১) সহিহ মুসলিম ৪২৭১ নং হাদিস; সুনানে আবু দাউদ ৪৩৬৫ নং হাদিস; সুনানে ইবনে মাজাহ ২৫৫৩ নং হাদিস; আল ইতকান ২য় খণ্ড ১৬ পৃষ্ঠা এবং Abrogation in the Qoran ০৫পৃষ্ঠা।
০২) আল ইতকান ২য় খণ্ড ০৪ পৃষ্ঠা এবং Abrogation in the Qoran ০৫ পৃষ্ঠা।
সবশেষে আরেকটি কথা। অসংখ্য হাদিস রয়েছে, যেখানে একটি বিশেষ ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। সুরা নিসার ৯৫ নম্বর আয়াত নবী মুহাম্মদের উপর অবতীর্ণ করা হলো। এখানে বলা হলো –
“মুমিনদের মধ্যে যারা ঘরে বসে থাকে এবং যারা জান ও মাল দ্বারা জিহাদ করে, তারা সমান নয়”।
সাহাবিগণ আয়াতটি লিখে রাখলেন। এসময় অন্ধ সাহাবি উম্মে মাকতুম বললেন, ‘হে রাসুলুল্লাহ! আমি দৃষ্টিহীন। সামর্থ থাকলে তো আমিও জিহাদে যেতাম’। তখন নবী মুহাম্মদ এই আয়াতের মধ্যে ‘গাইরু উলিদ দারার’ বা ‘অপারগ ব্যক্তিগণ ব্যতিরেকে’ শব্দগুলো অন্তর্ভূক্ত করলেন। এটা কী প্রমাণ করে?
রেফারেন্সঃ আট
০১) সহিহ বোখারি ৪২৩৮-৩৯ নং হাদিস এবং সুনানে নাসায়ি ৩১০২ নং হাদিস।
রেফারেন্সগুলো যেসব বই থেকে নেয়া হয়েছে, সেগুলো ডাউনলোডের লিঙ্ক দিয়ে দিচ্ছি, যেন আপনারা নিজেরাই এটা মিলিয়ে নিতে পারেন।
এক, অধ্যাপক ডঃ মুজিবুর রহমান অনূদিত “কোর’আনুল কারিম”; দারুস সালাম প্রকাশনী।
লিঙ্কঃ http://preachingauthenticislaminbangla.blogspot.com/…/persi…
দুই, ইবনে কাসির রচিত “তাফসিরে ইবনে কাসির”; অনুবাদ ও প্রকাশনায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
লিঙ্কঃ http://preachingauthenticislaminbangla.blogspot.com/…/tafsi…
তিন, জালালুদ্দিন সুয়ুতি রচিত “আল ইতকান ফি উলুম আল কুর’আন”(ইংলিশ); অনুবাদ মুনির ফরিদ।
লিঙ্কঃ http://data.nur.nu/…/E…/Suyuti_Itqan-fi-ulum-alquran-eng.pdf
চার, ইমাম বোখারি কর্তৃক সংকলিত “সহিহ বোখারি”; অনুবাদ ও প্রকাশনায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
লিঙ্কঃ http://preachingauthenticislaminbangla.blogspot.com/…/autho…
পাঁচ, ইমাম মুসলিম কর্তৃক সংকলিত “সহিহ মুসলিম”; অনুবাদ ও প্রকাশনায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
লিঙ্কঃ http://preachingauthenticislaminbangla.blogspot.com/…/blog-…
ছয়, ইমাম আবু দাউদ কর্তৃক সংকলিত “সুনানে আবু দাউদ”; অনুবাদ ও প্রকাশনায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
লিঙ্কঃ http://preachingauthenticislaminbangla.blogspot.com/…/blog-…
সাত, ইমাম ইবনে মাজাহ কর্তৃক সংকলিত “সুনানে ইবনে মাজাহ”; অনুবাদ ও প্রকাশনায় তাওহিদ প্রকাশনী।
লিঙ্কঃ http://preachingauthenticislaminbangla.blogspot.com/…/blog-…
আট, আনওয়ারুল হক রচিত “Abrogation in the Qoran”
লিঙ্কঃ http://muhammadanism.com/Quran/abrogation_koran.pdf
নয়, শাহ্‌ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী রচিত “আল ফাউযুল কবির ফি উসুলিত তাফসির”; অনুবাদ অধ্যাপক আখতার ফারুক।
লিঙ্কঃ http://xeroxtree.com/pdf/quran_bekkhar_mulniti.pdf
আর কমেন্টে প্রতিটি রেফারেন্সের স্ক্রিনশটও দিচ্ছি। কোরান দিয়ে নবী মুহাম্মদ যে আমাদের পূর্বপুরুষদের অসংখ্যবার বোকা বানিয়েছেন, সেটা আমাদের সকলের জানা প্রয়োজন।
(২২/০৭/১৬ তারিখের স্ট্যাটাসের পুনঃপ্রকাশ)
রেফারেন্সের স্ক্রিনশট
একঃ



দুইঃ


তিনঃ


চারঃ


পাঁচঃ

ছয়ঃ

সাতঃ


আটঃ

How To Open Broadband Business Anywhere in Bangladesh

এখন আমি আপনাদের সাথে Networking / Internet এর business আপনি আপনার এরিয়াতে কীভাবে করবেন তা নিয়ে বিস্তারিত আলচনা করবো। আপনি যদি আপনার এরিয়াতে Networking / Internet এর business করতে চান তাহলে আপনাকে প্রথমেই যা করতে হবে তা নিচে ধাপে ধাপে আমি বর্ণনা করছি।
১। প্রথমেই আপনাকে খবর নিতে হবে যে আপনার এরিয়াতে কোন ISP Company (Internet Service Providers Company) আছে কিনা। যদি থাকে, তাহলে আপনি তাদের সাথে যোগাযোগ করে আপনার এরিয়াতে Local Area Distributor হিসাবে তাদের থেকে আপনার Bandwidth নিতে হবে। এখন আপনাদের অনেকের মনেই প্রশ্নআসতে পারে যে, Bandwidth কি?
উত্তরঃ ১. একটি নির্দিষ্ট ব্যান্ড এর মধ্যে ফ্রিকোয়েন্সি পরিসীমা, বিশেষ করে যেটা একটি সংকেত প্রেরণের জন্য ব্যবহৃত।
২. 'ব্যান্ডউইথ' একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওয়েবসাইট বা ইন্টারনেট  তথ্য সেবা থেকে আপনার কম্পিউটার স্থানান্তরিত করা যেতে পারে এবং  যা এর হার বর্ণনা করে। যখন আপনি কোন ওয়েব পেজ খোলেন, ফাইল ডাউনলোড করেন, তখন ব্যান্ডউইথ আপনার ইন্টারনেট কার্যকলাপ দক্ষতা এবং গতি পরিমাণ  নির্ধারণ করে। সাধারণত ব্যান্ডউইথ কখনও কখনও 'প্রতি সেকেন্ডে বিট' বা 'প্রতি সেকেন্ডে বাইট' হিসাবে পরিমাপ করা হয়।
৩. সহজ কথায় বলতে গেলে আমাদের ভাত খাবার জন্য যেমন চাউল এর প্রয়োজন তেমনি ইন্টারনেট, ব্রাউজিং, ডাউনলোড করার জন্য ব্যান্ডউইথ প্রয়োজন।
তো আপনারা ব্যান্ডউইথ এর জন্য Bangladesh ISP Company List. এই লিংক এ গেলে বিভিন্ন ISP Company (Internet Service Providers Company) এর Address & Contact number পাবেন সেখান থেকে আপনারা আপনাদের এরিয়া অনুযায়ী ISP Company (Internet Service Providers Company) এর সাথে Contact  করে আপনার এরিয়াতে যে ISP Company টা আছে তাদের থেকে Bandwidth Connection নিয়ে নিতে পারেন।
অথবা, আপনারা যদি মনে করে থাকেন যে, এই ব্যান্ডউইথ আপনারা ISP Company (Internet Service Providers Company) এর সাথে Contact  করে manage করতে পারছেন না তাহলে আপনারা এই ব্যাপারে সাহায্যের জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা বাংলাদেশের মধ্যে যে কোন জায়গাতেই আপনাদের Bandwidth Manage করে দিতে পারবো। Bandwidth Manage এর জন্য আমাদের কাছ থেকে সাহায্যের পেতে আপনাদের যা করতে হবে তা হলে আপনার নাম মোবাইল নাম্বার সহ আপনি কত MB Bandwidth নিতে চান তা উল্লেখ করে আপনার সম্পূর্ণ ঠিকানা (রোড নং, গ্রাম, ডাক ঘর টিউন কোড, থানা, জেলা) সহ আমাদের ইমেইল করুন trstnetwork@gmail.com অথবা আমাদের ফেসবুক ফেন পেজে টেক্সট করে পাঠান TRST Network
২। ISP Company এর সাথে যোগাযোগ করে Bandwidth Connection তো নিয়ে এলেন এখন কি করবেন? এখন আপনাকে যা করতে হবে তা হোল Networking অথবা আপনার ইউজারদের মধ্যে Bandwidth Distribute করার জন্য  আপনার কিছু Device কিনতে হবে।আমি  Device গুলোর নাম এবং কিছু সংক্ষিপ্ত বর্ণনা সহ নিচে ধাপে ধাপে উল্লেখ করছি আপনাদের সুবিধার জন্য।
MikroTik
১. MikroTik Router Board:  MikriTik টা সাধারনত আপনার Bandwidth Manage এবং ইউজারদের Bandwidth Distribute করার জন্য ব্যবহার হয়। আপনি কোন ইউজার কে কত MB Bandwidth দিবেন, কত MB Speed Limit দিবেন, কত MB Data Limit দিবেন তার সব কিছুই আপনারা এই MikriTik এর মাধ্যমে Manage করতে পারবেন। সম্পূর্ণ আপনার User Management বলতে যা কিছু বোঝায় তার সবকিছুই আপনি MikriTik দিয়ে করতে পারবেন। বাজারে আপনারা বিভিন্ন দামের এবং মডেলের MikriTik পাবেন। MikriTik এর বাজার মূল্য ৫০০০ টাকা থেকে শুরু করে ১৫০০০০ টাকা পর্যন্ত এবং এর চাইতেও বেশি দামের MikriTik আপনারা বাজারে পাবেন।
Fiber Optic Cable
২. Fiber Optic Cable: এই Cable ব্যবহার হয় সাধারনত মেইন লাইন টানার জন্য। ISP Company থেকে মেইন লাইন টানার জন্য এবং আপনাদের MikroTik এর LAN port থেকে Local Area Networking এর জন্য এই Cable ব্যবহার হয়। এই Cable এর এক একটা core দিয়ে এক একটা নেটওয়ার্ক বিন্যাস করা যায়। এই ক্যাবলে তামার তারের চেয়ে কাচকে মিডিয়া হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক ইন্টারফের‌্যান্স নেই। এই ক্যাবলের ডাটা ট্রান্সমিসন স্পীড অনেক বেশী। ফাইবার অপটিক ক্যাবল দুই ধরনের হয়ে থাকে। সিঙ্গল মোড ফাইবার এন্ড মাল্টিমোড ফাইবার। বর্তমানে বাজারে 4 core এর Fiber Optic Cable এর মূল্য প্রতি মিটার ১৪ টাকা। এছাড়াও আপনারা বাজারে আরও অনেক বেশি core এর Fiber Optic Cable পাবেন...।।
Twisted Pair Cable/ UTP Cable
৩.Twisted Pair Cable/ UTP Cable: এই Cable সাধারনত সুইজ থেকে ইউজারদের কম্পিউটার পর্যন্ত ইন্টারনেট কানেকশন দেওয়ার জন্য ব্যবহার হয়। ট্যুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল দুই দরনের হয়ে থাকে। ১. শিল্ডেড ট্যুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল, ২.আনশিল্ডেড ট্যুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল।

·         শিল্ডেড ট্যুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল

শিল্ডেড ট্যুইস্টেড পেয়ার ক্যাবলে প্রতিটি ট্যুইস্ট জোড়া থাকে একটি করে শক্ত আচ্ছাদনের ভেতর। ফলে ইলেকট্রিক ইন্টারফের‌্যান্স অনেক কম থাকে। এই ক্যাবলের ডাটা ট্রান্সফার স্পীড ৫০০ এমবিপিএস হয়ে থাকে।

·         আনশিল্ডেড ট্যুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল

আনশিল্ডেড ট্যুইস্টেড পেয়ার ক্যাবলে পেয়ারের বাইরে অতিরিক্ত কোন শিল্ডিং থাকে না কেবল বাহিরে একটি প্লাষ্টিকের জেকেট থাকে। এই ক্যাবলের ডাটা ট্রান্সফার রেট ১৬ এমবিপিএস।
Switch
৪. Switch: Switch ব্যবহার করা হয় Local Area Network এর মধ্যে ছোট ছোট পপ করার জন্নে। Twisted Pair Cable/ UTP Cable বা Fiber Optic Cable বেশ কিছুদুর টানার পরে একটা নির্দিষ্ট এরিয়াতে বেশ কিছু ইউজার কে একটা UTP Cable অথবা Fiber Optic Cable এর একটা চরে থেকে কানেকশন দিতে এই Device ব্যবহার করা হয়। সুইজ হলো একাধিক পোর্ট বিশিষ্ট ব্রিজ।ইহা প্রতিটি নোডের ম্যাক এড্রেস এর তালিকা সংরক্ষন করে। ইহা ওএসআই মডেল এর ডাটালিংক লেয়ারে কাজ করে।
Media Converter
৫. Media Converter: Fiber Optic Cable এর একটি Core কে Splice Machine এর দ্বারা Patch Cord এর দ্বারা এই Device এর সাথে Connect করে Ethernet Port এ Convert করার জন্য Media Converter ব্যবহার করা হয়। এই Device use করলে Ethernet Speed বেড়ে যায়।
Patch Cord
৬. Patch Cord: Fiber Optic Cable এর একটি Core কে Splice Machine এর দ্বারা Patch Cord এর সাথে Joint দিয়ে ব্যবহার করা হয় Media Converter এর সাথে Connect করার জন্য।
৭. Splice Machine: Fiber Optic Cable এর Core Joint এর কাজে Splice Machine ব্যবহার হয়।
Router
৮. Router: Router use করা হয় Mobile Device গুলতে WiFi use করার জন্য। ইউজারা সাধারনত তাদের ঘরে Mobile, Laptop অথবা অন্য কোন WiFi Enable Device এ Internet use করার জন্য Router ব্যবহার করে থাকে।
Radio Device
৯. Radio Device: এই Device গুল ব্যবহার করা হয় Long Rang WiFi Zone করার জন্য। এই Device গুল দুই ধরনের হয় একটা 2.4GHZ এবং 5GHZ এর হয়ে থাকে। 2.4GHZ এর Device দিয়ে আমরা Long Rang WiFi Zone করতে পারি কারন আমাদের দেশের WiFi Enable Device গুল 2.4GHZ এর বেশি Support  করতে পারে না। আপনারা যারা Long Rang WiFi Zone করতে চান তারা এই Device এর মাধ্যমে Maximum 1KM এরিয়া WiFi Zone করতে পারবেন। এছাড়াও আপনারা এই Device গুলর মাধ্যমে 50+KM Distance এ Bandwidth Through করতে পারবেন। Long Distance এ Bandwidth Through/Received করার জন্য 5GHZ এর Device ব্যবহার করা সবচাইতে বেশি ভালো।
এখানে আপনারা যারা আপনাদের এরিয়াতে ব্রডব্যান্ড ব্যবসা Cable কানেকশন দিয়ে করতে চান তাহলে (Mikrotik Routerboard, Fiber Optic Cable, Twisted Pair Cable/ UTP Cable, Router, Switch, Computer) এই Device গুল ব্যবহার করবেন এবং আপনি যদি আপনার এরিয়াতে ব্রডব্যান্ড ব্যবসা WIFI Connection দিয়ে করতে চান তাহলে আপনার (Mikrotik Routerboard, Computer, Router, Radio Device m2) এই Device গুল ব্যবহার করবেন।
৩। Bandwidth Connection চলে আসলো Device কেনা হয়ে গেল এবং Device সম্পর্কে কিছু ধারনাও হয়ে গেল। এখন আপনি ব্যবসা করবেন কীভাবে বা আপনার এরিয়ার Clint দের Internet Connection কীভাবে দিবেন, কীভাবে তাদের ১টি নির্দিষ্ট Speed Limit দিবেন, কিভাবে MikroTik Configure করবেন? এটা নিয়ে আপনার চিন্তা করার কোন কারন নেই এজন্য আমরা আপনাকে সাহায্য করবো। আমরা আপনার Networking এর সব কিছু Setup করে আপনাকে শিখিয়ে দিবো যে কীভাবে আপনাকে Networking করতে হবে এবং কীভাবে আপনি আপনার Clint দের Service দিতে পারবেন।

Tuesday, May 23, 2017

আল্লাহর সাক্ষাৎকার। পর্ব – ১

 

১.
গতকাল রাতে একটি বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে গেল। মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে টয়লেটে গিয়ে টয়লেট করে বেসিনের কলটা ছাড়তেই দেখলাম, একজন ধবধবে সাদা পোষাক পড়া দাড়িওয়ালা বুড়ো ভদ্রলোক আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। আমি অবাক হয়ে বললাম, কী ব্যাপার, আপনি আমার ফ্ল্যাটে কীভাবে ঢুকলেন? চাবি পেলেন কই? চুরি করতে এসেছেন নাকি?
এই কথা বলেই আর কিছু না ভেবে আমি তাকে চড় থাপ্পর মারা শুরু করলাম। এত রাতে আরেকজনার বাসায় বিনা অনুমতিতে ঢোকা এদেশের আইনে মস্তবড় অপরাধ। সত্যি বলতে কী, এমন হুট করে একজনকে আমার বাসায় দেখে আমি একটু ভড়কেই গিয়েছিলাম। আমার কিলঘুষি খেয়ে সে চিৎকার করে বলতে লাগলো, আরে করেন কী করেন কী। থামেন থামেন। আমি জিব্রাইল। পেশায় আমি একজন ফেরেশতা। থামেন ভাই, আর মাইরেন না। আমি আপনাকে নিয়ে যেতে এসেছি।
আমি আরেকবার ভিমড়ি খেলাম। এ কী জিব্রাইল বললো, না আজরাইল বললো? অবাক হয়ে বললাম, মানে কী? কোথায় নিয়ে যেতে এসেছেন? মিয়া এত রাতে মজা করেন?
সে বললো, শুনেছি আপনি একজন ভয়াবহ উগ্র নাস্তিক। খালি আল্লাহ আর ইসলামের সমালোচনা করেন। পুরাই ইসলাম বিরোধী। তাই আল্লাহ পাক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আপনার সাথে সাক্ষাত করে নিজেই আপনাকে উনার দিদার লাভের সুযোগ দেবেন। যেন আপনার মত নাস্তিকের মনে আর কোন সংশয় না থাকে। ঐ যে নিচে তাকিয়ে দেখুন, বোরাক ঘোড়া সাথে নিয়ে এসেছি।
আমি জানালা দিয়ে নিচে তাকিয়ে দেখলাম, আরে! আসলেই তো। এক পাখনাওয়ালা ঘোড়া আমার বিল্ডিং এর নিচে দাঁড়িয়ে আছে। পাশে আরেকটি ঘোড়া। ঐটা মনে হয় এই বেটা জিব্রাইল না আজরাইলের।
আমি বললাম, আচ্ছা, আপনি কোন কিডনাপার কিংবা আজরাইল না তো?
সে বললো, না না, কী যে বলেন। আমি আজরাইল না। জিব্রাইল। অনেকদিন পরে দুনিয়াতে আসলাম। শেষবার এসেছিলাম সেই মুহাম্মদের আমলে, আরব দেশে।
আমি আরো অবাক হয়ে বললাম, আমাকে নিতে কেন এসেছেন? আমি কী নবী রাসুল হয়ে গেলাম নাকি?
সে বললো, আরে না! আল্লাহ পাক অনেকদিন ধরেই আপনার দিকে নজর রাখছেন। আপনার ব্লগ উনি নিয়মিতই পড়েন। ফেইসবুকের স্ট্যাটাসও পড়েন। তা দেখেই আপনাকে উনি প্রমাণ দেখাতে চান যে, উনি আসলেই আছেন।
আমি বললাম, তা এত নাস্তিক থাকতে আমাকেই কেন নিতে হবে? তাছাড়া আমার এখন ঘুমাবার সময়। অন্য এক সময়ে আসা যায় না? কাল আবার অফিস আছে।
তিনি বললেন, আসলে, আপনাকে প্রমাণ করে দিতে পারলে এই যুগের অনেক বড় বড় নাস্তিকরাই বিশ্বাস করতে বাধ্য হবে। আপনি সবচাইতে উগ্র নাস্তিক কিনা, তাই। আর আল্লাহ পাক এখুনি আপনাকে তলব করেছেন। এখুনি যাওয়া জরুরি। আমি মনে মনে ভাবলাম, আচ্ছা, কী আর করা। যাই না হয়। অনেকদিন ঘুরতে টুরতে যাই না। এই চান্সে মহাকাশ দেখে আসা যাবে। শুনেছি স্টিফেন হকিং নাকি মহাশূন্যে যাচ্ছেন, যদি মহাকাশে তার সাথে দেখা হয়ে যায় তাহলে তো ভালই হয়। নতুন বইটা সম্পর্কে কিছু আইডিয়া পাওয়া যাবে। কিছু বিষয় একদমই বুঝি নাই।
এই ভেবে জামাটা চেঞ্জ করে নিলাম। নিচে নামতেই দেখি, ঘোড়াটা উড়ার জন্য প্রস্তুত। আমি জিব্রাইলকে জিজ্ঞেস করলাম, এই ঘোড়া মহাকাশ পাড়ি দেবে? ধুর, মিয়া মজা লন! একটা স্পেসশিপ আনলে হতো না? মহাকাশে অক্সিজেন পাবো কোথায়? অক্সিজেন মাস্ক কই? আর এই ঘোড়া না হয় দুনিয়ায় পা দিয়ে দৌঁঁড়ালো, পাখনা দিয়ে বায়ুমন্ডল অতিক্রম করলো, কিন্তু বায়ুমণ্ডলের ওপরে পাখনা দিয়ে কী হবে? পাখনা দিয়ে মহাকাশ পাড়ি দেবে, ডানা ঝাঁপটে? ফাইজলামি করেন মিয়া? আর এত দূরের পথ, এনার্জি সোর্স কী এই ঘোড়ার? কী ধরণের ফুয়েল ব্যবহার করা হবে?
জিব্রাইল কটমট করে আমার দিকে তাকিয়ে খাস ঢাকাইয়া ভাষায় বললো, এই নাস্তিকদের নিয়ে মহা মুসিবত। আপনেরে ঘোড়ায় চড়তে কইছি চড়েন মিয়া। এত ক্যাচাল করেন ক্যা? বালের চাকরি করি, কোন বেতন বুতন নাই, সরকারি ছুটি নাই, খালি সারাদিন উপাসনা আর উপাসনা। মরার জিন্দেগীতে কিছুই করবার পারলাম না হালায়। এত কথা জিগাইয়েন না। আমি এতকিছু জানি না। আল্লাহর হুকুমে ঘোড়া উড়ে, আমি ক্যামনে জানমু এইসব ক্যামনে কী হয়। আমি কী স্কুলে গিয়া বিজ্ঞান পড়ছি নাকি?
আমি কাচুমাচু করে বললাম, আচ্ছা বস, স্যরি। জানতাম না আপনের চাকরিতে এতো ক্যারফা। লন যাই, আর কিছু জিগামু না।
এরপরে ঘোড়ায় চড়ে বসতেই ঘোড়া উড়াল দিলো। প্রথমে ঘোড়া গেল এক আসমানে। এরপরে প্রতিটা আসমানে এক একজন বর্ডার কন্ট্রোল অফিসার। জিজ্ঞেস করলো, ভিসা আছে? জিব্রাইল তখন আমার ভিসাটা দেখালেন। বর্ডার কন্ট্রোল অফিসার বিরক্ত মুখে বললেন, ও, আপনেই তাইলে সেই উগ্র নাস্তিক? যান, আপনের আজকে খবরই আছে। বলে একটা সিল মেরে ছেড়ে দিলেন। আমি এইসব কথা শুনে আরো একটু ভড়কে গেলাম আর কী। এরপরে এক এক করে এসে পৌঁছালাম সাত আসমানে। প্রত্যেকেরই দেখলাম বর্ডার কন্ট্রোল অফিসারের বিরক্ত চেহারা। এখানে চাকরিবাকরিতে সম্ভবত ঠিকমত পে করা হয় না। ছুটিছাটাও নাই। বেতনই মনে হয় না দেয়া হয়। এদের বানানোই হয়েছে গোলামি করার জন্য। ভাবলাম, দাসপ্রথা এখনো চালু আছে, এ এক বিস্ময়! এই আধুনিক যুগেও? খুব অন্যায়। এই নিয়ে আল্লাহর কাছে বলতেই হবে। এভাবে ফেরেশতাদের খাটানো উচিত না। অন্তত বছরে বিশটা ছুটি, এবং উৎসবের দিনগুলোতে ছুটি দেয়া উচিত। নইলে একই কাজ করতে করতে এরা তো বোর হয়ে যায়। এই কারণেই মিকাইল ফেরেশতা ঠিকমত কাজকাম করে না। যেইখানে বৃষ্টি দরকার সেইখানে না দিয়ে যেখানে দরকার নাই সেইখানেই দেয়। সবই চাকরিবাকরিতে আনন্দ নাই বলেই তো! এসব ভাবতে ভাবতে সাত আসমানে পৌঁছে গেলাম। ঘোড়া থেকে নামলাম।
২.
ও আচ্ছা, এই তাহলে আল্লাহর আরশ! বাপরে, খুবই রাজকীয় অবস্থা দেখা যায়। আল্লাহর আরশের কাছে আসতেই দেখলাম, চারিদিক উজ্জ্বল হয়ে গেছে। আল্লাহর নুর বলে কথা! একদমই নুরানী কুদরত চারিদিকে। উজ্জ্বল আলোর ছ্বটা, চারিদিকে সোনা মনি মুক্তো ছড়ানো। কী অদ্ভুত অবস্থা।
ধুম করে এক শব্দ হলো। প্রথমে বুঝলাম না কী। পরে বুঝলাম, এটাই আল্লাহর কণ্ঠস্বর। সে বললো, আসসালামু ওয়ালাইকুম হে আসিফ মহিউদ্দীন। হে নালায়েক উগ্র নাস্তিক! কেমন আছিস? এখন বিশ্বাস হলো তো আমাকে? নাকি এখনো কোন সন্দেহ?
আমি আসলে একটু ভয়ই পেলাম। গলাটা একদমই শুকিয়ে গেছে। কিন্তু সেটা তো আর বুঝতে দেয়া যায় না। নাস্তিকের মান সম্মান বলে কথা। একটু মোটা গলা করে বললাম, ওয়ালাইকুম আস সালাম হে আল্লাহ পাক। আমি ভালই আছি। আপনার শরীর কেমন?
সে হুঙ্কার দিয়ে বললো, আরে বেটা, আমার কী শরীর আছে রে? আমি হচ্ছি আল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক। অসীম দয়ালু। যাকে তুই সারাজীবন গালমন্দ করেছিস!
আমি বললাম, শরীর না থাকলে এই যে আপনার কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে, এর জন্য তো একটি ফুসফুস দরকার। জিহবা এবং ঠোঁঁট দরকার। না হলে আপনি উচ্চারণ করছেন কীভাবে? আমরা জানি যে, শব্দ উচ্চারণের জন্য এসব দরকার হয়। তা যদি না হয়, কোন যন্ত্র অবশ্যই দরকার। যেমন রেডিও টিভি আর কি। সেই যন্ত্রে ইলেক্ট্রিসিটিও দরকার। রেডিও টিভিতে কীভাবে সাউন্ড তৈরি হয় তা আমি ব্যাখ্যা করতে পারি। তাছাড়া, কোরানে আপনি নিজেই বলেছেন,
আল্লাহ তোমাদিগকে আপন  নফসের ভীতি প্রদর্শন করছেন । আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু। [আল ইমরান ৩০] নফস শব্দের অর্থ হচ্ছে দেহ। বা শরীর। আপনি নিজেই বলেছেন আপনার দেহ আছে। তাহলে এখন আবার উলটা কথা বলার মানে কী?
আল্লাহ পাক অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে থাকলেন। এরপরে বললেন, বেয়াদব কোথাকার! আমাকে সচোক্ষে দেখবার পরেও তর্ক করছিস? সাহস তো কম না? এখনো বিশ্বাস আনলি না?
আমি বললাম, বিশ্বাস আনা না আনা পরের বিষয়। আমি তো তোমার নবী রাসুলদের মত না, যে যাচাই না করেই বদহজম জনিত দুঃস্বপ্নকে সত্যি ভেবে নেবো। এমনও তো হতে পারে, এটা আমার স্বপ্ন। রাতের বেলা ছাই পাশ খেয়ে এখন বাজে স্বপ্ন দেখছি। বা আমাকে নিয়ে কোন রসিকতা করা হচ্ছে। নিশ্চয়ই চিপায় চাপায় কোন ভিডিও ক্যামেরা সেট করা। একটু পরেই লোকজন বের হয়ে বলবে, এতক্ষণ ইউটিউবে আপলোডের জন্য এই মজাটা করা হচ্ছিল। প্র‍্যাঙ্ক ভিডিও দেখেন নি? কত লোক বানাচ্ছে আজকাল।
আল্লাহ আরো জোরে হুঙ্কার দিয়ে বললেন, তবে রে বদমাইশ! সাত আসমান নিয়ে আসার পরেও অবিশ্বাস! শালার নাস্তিকদের কলবে আমি সিল মেরে দিছি কী সাধেই! বল, কী হলে তুই বিশ্বাস আনবি?
আমি বললাম, কলবে সিল মেরেছেন আপনি, বুদ্ধি দিয়েছেন আপনি। সেগুলো ব্যবহার করেই তো যা বলার বলছি। তাই বেয়াদবি কিছু হলে তার দায় আপনারই। আপনাকে কে বলেছিল কলবে সিল মেরে আমাকে পাঠাতে? আমি আপনের পায়ে ধরে অনুরোধ করেছিলাম নাকি, আমার কলবে সিল ছাপ্পর মেরে দিতে?
– বেয়াদব কোথাকার। কোন মান্যগণ্য করা শিখিস নি?
– মান্যগণ্য অবশ্যই করি। আপনি বৃদ্ধ মানুষ, এত বছর ধরে বেঁচে থাকা কম কষ্টের কাজ না।  যাইহোক, তাহলে এক কাজ করা যেতে পারে। আসুন আপনার একটা সাক্ষাৎকার নিই। সেটা আমার ব্লগে পোস্ট করবো। সাক্ষাৎকারের মধ্যেই আমার যত সন্দেহ বা সংশয় নিয়ে আলাপ করা যাবে। অন্যরাও এই লেখাটি পড়ে আপনার সম্পর্কে জানতে পারবে, এবং বিশ্বাস আনতে পারবে। কী বলেন?
আল্লাহ বললেন, আচ্ছা ঠিক আছে। জিজ্ঞেস কর কী জিজ্ঞেস করবি।
-তার আগে আপনার সাথে একটা সেলফি নিই আল্লাহ পাক?
-খবরদার বেয়াদব, জানিস না আমি ছবি তোলা হারাম করেছি?
-আচ্ছা ঠিক আছে, স্যরি। ছবি লাগবে না। প্রথমেই আপনাকে যা বলা দরকার, সেটা হচ্ছে তুই তুকারি করবেন না। আপনি আল্লাহ বলে এমন কোন চ্যাটের বাল হয়ে যান নাই যে, অভদ্রের মত তুই তুকারি করবেন। ভদ্রভাবে উত্তর দেবেন। গালাগালি করবেন না
আল্লাহ আমতা আমতা করে বললো, আচ্ছা ঠিক আছে। তুমি করে বললে চলবে? শত হলেও আমি তো বয়সে বড়, নাকি? তোকে আপনি তো আর বলা যায় না।
আমি বললাম, আচ্ছা, তুমিতে আপাতত কাজ চালিয়ে নিচ্ছি। কিন্তু আপনি যে শুরুতে আমাকে সালাম দিলেন, সালামের অর্থ হচ্ছে আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। তা আপনি কার কাছে এই কামনা করলেন?
– আরে ওটা তো কথার কথা। এমনিতেই বলি আর কি।
– ও আচ্ছা। তাহলে ঠিক আছে। যাই হোক, শুরু থেকেই শুরু করি। প্রথম প্রশ্ন। আপনার নাম কী?
– আমার নাম? আমার নাম আল্লাহ। আমার নাম স্রষ্টা। রহমানুর রাহিম। আরো ৯৯ টা প্রশংসাসূচক নাম আছে আমার।
– এই নামগুলো কে রেখেছে? আপনার বাবা মা?
– আরে বেয়াদব! আমার নাম আবার কে রাখবে? আমি নিজেই রেখেছি।
– মানে আপনি বলতে চাচ্ছেন, আপনার এইসব প্রশংসা সংবলিত নাম আপনি নিজেই নিজেকে দিয়েছেন, তাই তো? নিজেই নিজের নাম রেখেছেন দয়ালু, করুনাময়, ন্যায়বিচারক, ইত্যাদি? বেশ বেশ! এই সার্টিফিকেটগুলো নিজেই নিজেকে দিলেন? আপনি কী নার্সিসিস্টিক পারসোনালিটি ডিসওর্ডার নামক মানসিক সমস্যাটির নাম শুনেছেন? এই মানসিক সমস্যাটি হলে কী হয় জানেন?
– বেয়াদব কোথাকার! আমার নাম আমি দিলে তোমার সমস্যা কোথায়?
– না সমস্যা নাই তেমন কিছু। বলছিলাম কী, ইয়ে মানে এটা একটা মানসিক সমস্যা। এইসব সার্টিফিকেট নিজেকেই নিজে দেয়া যায় না। এই ধরণের কথা পৃথিবীর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নামক দেশের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায়ই বলে থাকে। নিজেই নিজেকে অমুক তমুক দাবী করা আর কী! সে যাই হোক। এবারে দ্বিতীয় প্রশ্ন। আপনার সৃষ্টি কীভাবে হলো? কে আপনার স্রষ্টা?
– তবে রে নালায়েক, আমার আবার স্রষ্টা কিসের? আমাকে কেউ সৃষ্টি করে নি। আমি প্রাকৃতিক। আমি কোন সৃষ্টি না।
– তারমানে বলতে চাচ্ছেন, আপনি নিজে একজন নাস্তিক? মানে আপনি আপনার স্রষ্টায় বিশ্বাস করেন না?
– না। আমার কোন স্রষ্টা নাই।
– আপনি কী এই বিষয়ে নিশ্চিত? যেমন ধরুন, ধর্মান্ধ মুসলমানরা সেই মধ্যযুগে এক ধরণের যুক্তি দিতো। যে মায়ের পেটে জমজ বাচ্চা একে অন্যের সাথে আলাপ করছে। একজন বলছে, এই পেটের বাইরে আর কিছু নেই। আরেকজন বলছে, এই পেটের বাইরে আরেক পৃথিবী আছে। এই যুক্তি দিয়ে তারা বোঝাতে চাইতো, মরার পরেও জীবন আছে। সেই একই যুক্তিতে, আপনার এই আরশের বাইরে আরেক মহা-মহা-বিশ্ব আছে কিনা, সেখানে আপনার পাপ পূণ্যের বিচার হবে কিনা, আপনি কী নিশ্চিত? কেউ আপনার দিকে খেয়াল রাখছে কিনা, আপনার দোষগুণ হিসেব করছে কিনা, আপনি কি নিশ্চিত?
আল্লাহ(একটু কনফিউজড ভঙ্গিতে) – এরকম কোন প্রমাণ আমি পাই নি।
– কিন্তু প্রমাণের প্রশ্ন আসছে কীভাবে? আপনি কী প্রমাণ করতে পারবেন, আপনার কোন স্রষ্টা নাই?
– না, তা পারবো না।
– তাহলে মেনে নিতে আপত্তি কিসের?
– বেটা, তুই আসলেই একটা বজ্জাত।
– আপনি কোন প্রশ্নেরই ঠিকমত জবাব দিচ্ছেন না। এটা ঠিক না। আচ্ছা যাইহোক, তাহলে বোঝা গেল, আপনি একজন নাস্তিক। যে স্রষ্টায় বিশ্বাসী না। তাহলে পরের প্রশ্নে যাচ্ছি। আপনি কী দিয়ে তৈরি? নুরের?
– হ্যা, আমি নুরের তৈরি।
– নুর মানে আমরা জানি আলো। আমরা এখন জানি, আলোর কিছু ধর্ম রয়েছে। তার কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। তাহলে আপনি যেহেতু নুরের তৈরি, সূত্র মতে আপনিও সেই সব নিয়মের মধ্যেই থাকবেন। অর্থাত আপনি নিজেই সেই সূত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, তাই না?
– না, আমি কোন কিছু দ্বারা নিয়ন্ত্রত নই। আমি যা ইচ্ছা করতে পারি।
– মানে আপনি বলছেন, আপনার যা ইচ্ছা তাই আপনি করতে পারেন? কিন্তু আমরা তো জানি, আপনি শুধু ভাল কাজটিই করেন। খারাপ কিছু আপনি করতেই পারেন না। তাহলে আপনি কী নিজেই ভাল কিছু করতে দায়বদ্ধ নন? মানে আপনি ভাল কিছু করার নিয়ম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নন?
– তুই একটা আস্তা বেয়াদব!
– আবারো তুই তুকারি শুরু করলেন। যাই হোক, এবারে বলুন, মহাবিশ্ব সৃষ্টির আগে আপনি কী করছিলেন?
– কিছুই করছিলাম না। তখন আমি ফেরেশতা বানিয়েছিলাম, জ্বীন বানিয়েছিলাম।
– সেই সবকিছু বানাবার আগে?
– কিছুই করছিলাম না।
– ঠিক কতটা সময় আপনি এরকম বেহুদা বসে ছিলেন?
– অনন্তকাল।
– তা এই অনন্তকাল বেহুদা বসে কী করছিলেন? ভাবছিলেন? নাকি অন্য কোন কাজ?
– ধরো, হুদাই বসে ছিলাম। তো?
– মানে বুঝতে চাচ্ছিলাম, সেই সময়ে কী আপনি জানতেন, যে একদিন আপনি মহাবিশ্ব বানাবেন? আপনি তো শুনেছি ভবিষ্যত জানেন। তাহলে বেহুদা বসে না থেকে আরো আগেই বানালেন না কেন?
– আগে বানাই পরে বানাই তাতে তো কী? আমার ইচ্ছা যখন তখনি বানামু।
– মানে আমার জিজ্ঞাসা ছিল, ধরুন আমি নিশ্চিতভাবে জানি যে, আমি একটা বাড়ি বানাবো। তাহলে অনন্তকাল বেহুদা বসে থেকে, কোন কাজ কাম না করে অনন্তকাল অপেক্ষার পরে মহাবিশ্ব এবং যাবতীয় কিছু বানাবার কারণ কী? অনর্থক বেহুদা এতদিন বসে ছিলেন কেন? তাছাড়া বিগ ব্যাং তত্ত্ব থেকে যা এখন অনেক কিছুই জানি আর কি। সময় এবং স্থান তৈরি হয়েছিল বিগ ব্যাং এর পরে। তার আগে সময় বা স্থানের অস্তিত্ব ছিল না। তাহলে আপনি কোন সময়ে সিদ্ধান্ত নিলেন, যে মহাবিশ্ব বানাবেন? সেই সময়ে আপনার আরশটা কই ছিল? কোন স্থানে? আপনিই বা কই বসে ছিলেন?
– এইসব জিজ্ঞেস করতে তোরে এতো দূরে এনেছি নালায়েক?
– আপনি আবারো মুসলমানদের মত গালাগাল শুরু করলেন। আমি তো ভদ্রভাবে প্রশ্ন করছি। আচ্ছা যাইহোক। এরপরে আপনি ফেরেশতা বানালেন আপনার দাসত্ব করার জন্য। কিন্তু আধুনিক পৃথিবীতে দাস প্রথা তো উঠে গেছে। এই ফেরেশতাদের এখনো আপনি খাটিয়ে মারছেন, এ তো অন্যায়।
– এদের বানানোই হয়েছে আমার গোলামি করার জন্য।
– যেকারনেই বানানও হয়ে থাকুক। যেমন ধরুন, সৌদি আরবে বাঙালি শ্রমিক নিচ্ছে কাজ করাবার জন্য। কিন্তু তাই বলে শুধু খাটিয়ে মারবে তা তো হয় না। তাদেরও জীবন আছে। তারা আনন্দ ফুর্তি করবে, ঘুমাবে, বিবি বাচ্চার সাথে একটু সময় কাটাবে, তা হলেই তো তারা কাজে আনন্দ পাবে। একসময়ে সাদা চামড়ার মানুষও ভাবতো, কালো চামড়ার মানুষদের সৃষ্টিই করা হয়েছে সাদাদের গোলামী করার জন্য। কিন্তু সেই পুরনো অসভ্য বর্বর ধারণাকে আমরা ত্যাগ করেছি। আপনারও উচিত সেইসব মধ্যযুগীয় ধ্যান ধারণা থেকে বের হয়ে আসা।
– দেখ আসিফ, এইসব আস্তে বল। ফেরেশতারা শুনতে পেলে তারা না আবার বিদ্রোহ করে বসে।
– তা তো করাই উচিত। অনন্তকাল এদের সেবা আপনি নিয়েছেন, এবারে এদের একটু নিজের ইচ্ছামত স্বাধীন জীবন যাপন করতে দিন না!
– পরের প্রশ্ন করো। চুপ থাক।
– আচ্ছা, ঠিক আছে। এরপরে জিজ্ঞেসা হচ্ছে, আপনি শুনেছি জ্বীন জাতিকে আগুন দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, নাকি?
– হ্যা, ঠিকই শুনেছো।
– কিন্তু আগুন তো কোন পদার্থ না, যে তা দিয়ে কিছু সৃষ্টি করা যায়। আগুন হচ্ছে জাস্ট একটা ক্যামিকেল রিয়্যাকশন। সেটা তো আলাদা কোন পদার্থ বিশেষ না।
– তোর কাছে আমার বিজ্ঞান শিখতে হবে?
– আপনি রাজনৈতিক নেতাদের মতই প্রশ্ন এড়িয়ে যাচ্ছেন। আচ্ছা, তাহলে পরের প্রশ্ন। শয়তান আপনাকে এত লক্ষ কোটি বছর উপাসনা করলো, তার বিনিময়ে আপনি তাকে এতোবড় শাস্তি কেন দিলেন?
– শয়তান আমার হুকুম পালন করে নি।
-কিন্তু ছোট্ট একটা হুকুম পালন করে নি, সেটা হচ্ছে আদমকে সিজদা না করা। এখন আপনিই বলেন, আমার চাইতে বয়সে ছোট কাউকে এনে যদি আমাকে বলেন, ওকে সিজদা করো, আমি তো কখনই তা করবো না। শয়তানকে তো আমার মনে হয়েছে আত্মমর্যাদা সম্পন্ন একজন উন্নত চরিত্রের ভদ্রলোক। কাল আপনি বালছাল কাকে না কাকে ধরে আনবেন আর আমার তাঁকে সিজদা করতে হবে নাকি? এটা কী সম্ভব?
-আমি যা হুকুম দেবো সেটাই পালন করতে হবে! এখানে কোন বিচার বিবেচনার সাথেন নেই।
-বাহ, এটা কেমন কথা হলো। বিচার বিবেচনাই যদি না করি, তাহলে আমরা রোবটের চাইতে উন্নত কীভাবে? মগজ খাটানো আপনার এত অপছন্দ কেন?
– পরের প্রশ্ন কর।
– আপনি কোন প্রশ্নেরই ঠিকঠাক জবাব দিচ্ছেন না। আচ্ছা যাই হোক, এবারে বলুন, আদমকে আপনি কী দিয়ে বানালেন?
– সেটা তো কোরানেই লিখে দিয়েছি। মাটি দিয়ে।
– আল্লাহ, আমাকে কী আপনি গর্দভ পেয়েছেন? মাটির ক্যামিকেল এলিমেন্ট আর মানব দেহের ক্যামিকেল এলিমেন্ট এক হলো? কীসের সাথে কী? মানে মামদোবাজির তো একটা সীমা আছে নাকি?
– বেয়াদব, তুই তো এগুলো বিশ্বাস করবিই না।
– আচ্ছা, তাও মানলাম। আপনি আদম হাওয়াকে বানালেন। আদম হাওয়ার ছেলেপেলে হলো। কিন্তু তাদের বংশ বিস্তার কীভাবে হলো? ভাই বোন ছেলে মা এদের যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে?
– তখনকার দিনে এইসব জায়েজ ছিল।
– মানে আপনি বলতে চাচ্ছেন, আপনি সময়ে সময়ে আপনার বেঁধে দেয়া নিয়ম পাল্টান? মানে প্রাচীন কালের জন্য এক নিয়ম, আধুনিক সময়ের জন্য আরেক নিয়ম?
এই প্রশ্নটা করতেই, অবাক কাণ্ড, দেখলাম ইসলাম ধর্মের মহানবী হযরত মুহাম্মদ এবং খ্রিস্টান ধর্মের প্রবর্তক যীশু খ্রিস্ট গলাগলি করে আল্লাহর আরশে প্রবেশ করলেন। তাদের একসাথে গলাগলি করে ঢুকতে দেখেই আমি মূর্ছা গেলাম।