Wednesday, November 11, 2015

‘নাস্তিকতা’ একটি অন্ধবিশ্বাস


ফিলোসফার অব সায়েন্স কার্ল পপারের সুন্দর একটি কথা আছে-

If a proposal or hypothesis cannot be tested in a way that could potentially falsify the proposal, then the proposer can offer any view without the possibility of its being contradicted. In that case, a proposal can offer any view without being disproved. [১]

এ হিসেবে নাস্তিকদের ‘ডেটারমিনিস্ট ম্যাটেরিয়ালিস্ট’ মতবাদটি একটি ‘বিশ্বাস ব্যবস্থা’ তথা একটি ‘ধর্ম’, নাস্তিকরা এই ডেটারমিনিস্ট ম্যাটেরিয়ালিস্ট ব্যবস্থার উপর ‘বিশ্বাস’ স্থাপন করে আল্লাহকে অস্বীকার করছে। লক্ষ্য করবেন, এদের সঙ্গে কথায় মাঝে মাঝে বিষয়টি পরিস্কার হয়ে উঠে। যেমন: এদেরকে ফাণ্ডামেন্টাল ফোর্সেস অব ইউনিভার্সের উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন করলে বলবে তা এমনি এমনি উদ্ভব হয়েছে। তাদের এই উত্তরটি যেমন তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা দ্বারা প্রমাণ করতে পারবে না, তেমনি তাদের এই উত্তরটিকে ভুল প্রমাণও করা যাবে না। কারণ এটি একটি ‘বিশ্বাস’।

প্রশ্ন হল ‘বিশ্বাস’ হলে অসুবিধে কী? অসুবিধে আছে। মুসলিমরা বিশ্বাস করে এই ফোর্সগুলো আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন এবং মুসলিমরা কখনও দাবী করেনি যে এটা পরীক্ষা করে প্রমাণ করা যাবে। বরং মুসলিমরা এটাই বলছে যে ‘এই ফোর্সগুলো আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন’ এই কথাটায় ‘বিশ্বাস’ করাটাই ইসলামের দাবী।

“এটি আল্লাহর কিতাব, এর মধ্যে কোন সন্দেহ নেই ৷ এটি হিদায়াত সেই ‘মুত্তাকী’দের জন্যযারা অদৃশ্যে বিশ্বাস করে,  নামায কায়েম করে।” (সুরা বাকারা, আয়াত: ২-৩)

কিন্তু তথাকথিত নাস্তিকরা তাদের ‘বিশ্বাস’কে একটি সায়েন্টিফিক ডিসগাইজ দিতে চাচ্ছে। তারা তাদের ‘বিশ্বাস’কে বৈধতা দিতে বিজ্ঞানকে অপব্যবহার করছে। তারা এমন ভাবে বিজ্ঞানের কথা বলছে যেন তাদের এই ‘বিশ্বাস’ প্রকৃতপক্ষে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত সত্য। অথচ পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তাদের এই ‘বিশ্বাস’গুলোও প্রমাণযোগ্য নয়।

ঈশ্বরকে মেনে নেয়ার দাবীটি বিশ্বাসের। সুতরাং যাদের মেনে নেয়া প্রমাণের উপর নির্ভরশীল, যেমন সৈকত চৌধুরী নামক একজন নাস্তিক রাহাত খানকে প্রতিমন্তব্য করতে গিয়ে বলেছিলেন:

কিন্তু কেউ যদি ঈশ্বরকে এখানে নিয়ে আসেন তবে তিনি তা প্রমাণ করুক…

তাদেরই বরং ‘ঈশ্বর নেই’ এটা প্রমাণ করা জরুরী। কেননা বিজ্ঞানের দাবী তারাই তুলছে।

এই তথাকথিত নাস্তিকরা যে চরম পর্যায়ের অন্ধ বিশ্বাসী তার প্রমাণ বিভিন্ন ভাবে পাবেন। যেমন বিবর্তনের ব্যাপারে বলতে গিয়ে যদি বলেন যে ‘অসংখ্য’ মধ্যবর্তী প্রজাতির ফসিল কোথায়। তারা বলবে প্যালিওন্টোলজী এখনও শুরুর পর্যায়ে, ভবিষ্যতে আবিস্কার হবে। অথচ গত দেড়শ বছরে ১০০ মিলিয়নের উপর ফসিল আবিস্কৃত হয়েছে, যাতে একটিও মধ্যবর্তী প্রজাতি নেই। [২]

সুপরিচিত ব্রিটিশ বিবর্তনবাদী ও জীবাশ্রমবিজ্ঞানী (প্যালেওন্টোলোজিস্ট) কলিন প্যাটারসন এই বিষয়ে স্বীকারোক্তি দেন-

No one has ever produced a species by mechanisms of natural selection. No one has ever got near it and most of the current argument in neo-Darwinism is about this question.

Natural selection is not a mechanism that produces anything new and thus causes species to change, nor does it work miracles such as causing a reptile to gradually turn into a bird. In the words of the well-known biologist D’Arcy Wentworth Thompson, “… we are entitled … to see in natural selection an inexorable force, whose function is not to create but to destroy—to weed, to prune, to cut down and to cast into the fire.” [৩]

কেন ফসিল রেকর্ডে বিবর্তনের প্রমাণ নেই তা বিখ্যাত নিওডারউইনবাদী প্যালেওন্টোলজিস্ট স্টিভেন জে. গোল্ড এভাবে ব্যাখ্যা করেন-

The history of most fossil species includes two features particularly inconsistent with gradualism: 1. Stasis. Most species exhibit no directional change during their tenure on earth. They appear in the fossil record looking much the same as when they disappear; morphological change is usually limited and directionless. 2. Sudden appearance. In any local area, a species does not arise gradually by the steady transformation of its ancestors; it appears all at once and ‘fully formed. [৪]

অন্যদিকে প্যালিওন্টোলজিস্ট নাইল্স এলড্রেজ জীবাশ্ম রেকর্ড দেখে বিবর্তনবাদীদের হতাশা ব্যক্ত করেন এভাবে:

No wonder paleontologists shied away from evolution for so long. It seems never to happen. Assiduous collecting up cliff faces yields zigzags, minor oscillations, and the very occasional slight accumulation of change over millions of years, at a rate too slow to really account for all the prodigious change that has occurred in evolutionary history. [৫]

সুতরাং তাদের দাবীটির ভিত্তি হল ‘অন্ধবিশ্বাস’।

তারা বলবে মিউটেশনের মধ্য দিয়ে বিবর্তন হচ্ছে। অথচ অসংখ্য পরীক্ষাগারে কোটি কোটি মিউটেশনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত একটি উদাহরণও নেই যে মিউটেশনের মাধ্যমে একটি ব্যাকটেরিয়া প্রজাতি আরেকটি ব্যাকটেরিয়া প্রজাতিতে পরিণত হয়েছে। অপেক্ষাকৃত বড় প্রাণীদের ব্যাপারে তারা বলবে যেহেতু বিবর্তন হতে মিলিয়ন মিলিয়ন বছর পার হতে হয়, ফলে আমাদের পক্ষে এই বিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব নয়। (যে কথাটা লুকিয়ে আছে: ‘বিবর্তন’ বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব হলে কি হবে? আমরা ‘বিশ্বাস’ করে ধরেই নিয়েছি যে বিবর্তন হয়েছে) কিন্তু ব্যাকটেরিয়ার ব্যাপারটাতে তাদের গল্পটি কী? ব্যাকটেরিয়ার ‘জেনারেশন টাইম’ তো খুব দ্রুত। (ব্যাকটেরিয়ার একটি নির্দিষ্ট কলোনী যে সময়ে সংখ্যায় ঠিক দ্বিগুন হয়ে যায় তাকে বলে জেনারেশন টাইম) পরীক্ষাগারে বিজ্ঞান জগতে খুব পরিচিত ব্যাকটেরিয়া E. coli এর জেনারেশন টাইম মাত্র বিশ মিনিট। অর্থাৎ যদি E. coli এর একটি ১০০ ব্যাকটেরিয়ার কলোনী নেয়া হয় তবে বিশ মিনিটের মধ্যে সেটি ২০০ ব্যাকটেরিয়ার কলোনীতে পরিণত হবে। [৬]

এখন পর্যন্ত ব্যাকটেরিয়া নিয়ে ডারউইনবাদী বিবর্তনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষাটি করেছেন বিবর্তনবাদী বিজ্ঞানী রিচার্ড লেনস্কি। সেই ১৯৮৮ সাল থেকে পরীক্ষা শুরু হয়েছে, এখনও চলছে। ২০১২ সাল নাগাদ E. coli-র ৫০০০০ জেনারেশন পার হয়েছে। এগুলো নিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে, প্রতি ৫০০ জেনারেশন পর E. coli-র স্ট্রেইনগুলো নিয়ে সেগুলোর জেনেটিক স্টাডি করা হয়েছে। অথচ, এখনও পর্যন্ত E. coli, E. coli-ই রয়ে গেছে! [৭]

তারপরও এই পরীক্ষা অব্যাহত রাখা হয়েছে, এই ‘বিশ্বাস’-এ যে ডারউইনবাদ প্রমাণিত হবেই। অথচ মিউটেশনের মধ্য দিয়ে আদৌ কি কোন ডারউইনবাদী বিবর্তন সম্ভব? বিজ্ঞানীরা খুব ভালমতই জানেন যে প্রাণীকোষে কোন ‘জেনেটিক ইরর’ হয়ে গেলে সেটা সংশোধনের জন্য প্রাণীকোষেই অত্যন্ত পরিকল্পিত সিস্টেম তৈরী করা আছে। ফলে কোন মিউটেশন হয়ে তা পরবর্তী জেনারেশনে সঞ্চালিত হওয়ার সম্ভবনা নগন্য। প্রকৃতপক্ষে, অধিকাংশ জ্বিনের মিউটেশনের হার হল প্রতি ১,০০,০০০-এ একটা এবং যে মিউটেশনগুলো হয় তার অধিকাংশই ক্ষতিকারক। [৮]

এরপরও যদি ধরে নেয়া হয় যে মিউটেশন উপকারী হতে পারে, তারপরও মিউটেশনের মাধ্যমে জ্বিন পরিবর্তন হয়ে একটি নতুন বৈশিষ্ট্য অভিযোজন হতে যে পরিমাণ সময় দরকার তা বিবর্তনবাদীদের কল্পনার জন্যও বেশী। অন্তত এম.আই.টি-র প্রফেসর মুরে এডেন এবং বিবর্তনবাদী জর্জ গেইলর্ড সিম্পসনের হিসেব থেকে সেটাই বোঝা যায়:

In a paper titled “The Inadequacy of Neo-Darwinian Evolution As a Scientific Theory,” Professor Murray Eden from the MIT (Massachusetts Institute of Technology) Faculty of Electrical Engineering showed that if it required a mere six mutations to bring about an adaptive change, this would occur by chance only once in a billion years – while, if two dozen genes were involved, it would require 10,000,000,000 years, which is much longer than the age of the Earth. [৯]

The evolutionist George G. Simpson has performed a calculation regarding the mutation claim in question. He admitted that in a community of 100 million individuals, which could hypothetically produce a new generation every day, a positive outcome from mutations would only take place once every 274 billion years. That number is many times greater than the age of the Earth, estimated to be at 4.5 billion years old. These, of course, are all calculations assuming that mutations have a positive effect on the generations which gave rise to them, and on subsequent generations; but no such assumption applies in the real world. [১০]

তথাপি নাস্তিকরা কেন মিউটশনকে বিবর্তন সংঘটনের ‘প্রভু’ মনে করে? উত্তর ‘অন্ধবিশ্বাস’; এছাড়া, বিলিয়ন বছরের ব্যবধানে কোন জীব মিউটেশনের মধ্য দিয়ে অন্য একটি জীবে পরিবর্তিত হয়নি তার প্রমাণ হল ৩.৫ বিলিয়ন বছর পুরোনো আর্কিয়া (বা আর্কিব্যাকটেরিয়া); বিলিয়ন বছর আগেও যেমন তাদের উত্তপ্ত ঝরণায় পাওয়া যেত, আজও তাদের গ্র্যাণ্ড প্রিজমেটিক লেকের মত উত্তপ্ত জলাশয়ে পাওয়া যায়। [১১]

বিবর্তনবাদীদের তথাকথিত প্রথম কোষটি কিভাবে উদ্ভব হল সে বিষয়ে তো এখনও প্রশ্ন করাই হয়নি। ‘কোষ’ বললে বিষয়টি অনেক জটিল হয়ে যায়, ১৫০ অ্যামাইনো এসিড সম্বলিত একটি মাঝারি আকৃতির প্রোটিন কিভাবে দৈবাৎ দূর্ঘটনার মধ্য দিয়ে এলো সেটাই না হয় ব্যাখ্যা করুক। অথচ,

ডগলাস এক্স যে বিষয়গুলো সম্ভাব্যতা কমাতে পারে সেগুলোকে বিবেচনায় নিয়ে (অর্থাৎ বাদ দিয়ে) ১৫০টি অ্যামাইনো এসিডের একটি প্রোটিন তৈরী দূর্ঘটনাক্রমে হওয়ার সম্ভাব্যতা হিসেব করেছেন ১০ এর পরে ১৬৪টি শূন্য বসালে যে সংখ্যাটি হয় (তথা ১০১৬৪) এর মধ্যে ১ বার। বিল ডেম্ব্সকি হিসেব করে দেখিয়েছেন আমাদের দর্শনযোগ্য মহাবিশ্বে ১০৮০টি এলিমেন্টারি পার্টিকল আছে, বিগব্যাং থেকে এখন পর্যন্ত ১০১৬ সেকেণ্ড পার হয়েছে এবং দুটো বস্তুর মধ্যে যে কোন বিক্রিয়া প্ল্যাঙ্কটাইম ১০-৪৩ সেকেণ্ড এর চেয়ে কম সময়ে হতে পারে না। এ সবগুলো সংখ্যাকে একত্রিত করলে দাড়ায় ১০১৩৯; অর্থাৎ মহাবিশ্বের বয়স, মহাবিশ্বের গাঠনিক এলিমেন্টারি পার্টিকেলের সংখ্যা এবং পার্টিকেলের মধ্যে বিক্রিয়া হতে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সময়কে একত্রে বিবেচনার পরও উপর্যুক্ত প্রোটিনটি তৈরী হওয়ার সম্ভাব্যতা ট্রিলিয়ন ভাগ পিছিয়ে পড়ে। সহজ কথায় উক্ত প্রোটিনটি তৈরী হতে এখন বিলিয়ন ট্রিলিয়ন সেকেণ্ড (১০২৫বা ১০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০ বা দশ লক্ষ কোটি কোটি সেকেণ্ড বা একত্রিশ কোটি বিলিয়ন বছর) অতিবাহিত হতে হবে। [১২, ১৩]

কিন্তু নাস্তিকরা বলে উঠবে ‘সম্ভাব্যতার বিষয়টা আপনি বুঝেননি’; কারণ, নাস্তিকদের অন্ধবিশ্বাস অনুযায়ী যে কোন অসম্ভব ঘটনা যা ঘটানোর জন্য সুপরিকল্পিত কাঠামো, ডিজাইন এবং জ্ঞান দরকার তা দূর্ঘটনাক্রমে (by chance) সম্ভব হয় (!)

রেজওয়ান আহমেদের সাথে ফেসবুকে আমার একটি তর্ক হয়েছিল বিবর্তনবাদ নিয়ে, শেষ পর্যায়ে এসে তার মন্তব্যটি এরকম:

Abdullah Saeed Khan: আপনি যতগুলো প্রানির নাম নিলেন, তাদের টিকে থাকার ইতিহাস খুজতে গেলে তো খবর আছে। আপনিয়েই বরং নিয়েন, তবে আমার কাছে মনে হচ্ছে “survival the fittest” নিয়ামকটাই হয়ত এদের টিকে থাকার কারণ। আর আমি যা দেখছি আপনি বিবর্তনের সমালোচনা করতেছেন কিন্তু refuse করতেছেন না। বিজ্ঞানের মুল মজা তো যোগ্য সমালচনায়। যাই হোক আজকে আলোচনা করে ভাল লাগল। ভাল থাকিয়েন। [১৪]

সুতরাং কাদের বিশ্বাসটি যে ‘অন্ধবিশ্বাস’ সেটি স্পষ্ট বুঝা যায়। পরিশেষে নাস্তিকতা নামক অন্ধ বিশ্বাসের আরেকটি উদাহরণ দিয়ে পোস্টটি শেষ করছি:

In this philosophy (Determinist Materialist), observable matter is the only reality and everything, including thought, will, and feeling, can be explained only in terms of matter and the natural laws that govern matter. The eminent scientist Francis Crick (codiscoverer of the genetic molecular code) states this view elegantly (Crick and Koch, 1998): “You, your joys and your sorrows, your memories and your ambitions, your sense of personal identity and free will, are in fact no more than the behavior of a vast assembly of nerve cells and their associated molecules. As Lewis Carroll’s Alice might have phrased it: ‘You’re nothing but a pack of neurons (nerve cells).’” According to this determinist view, your awareness of yourself and the world around you is simply the by-product or epiphenomenon of neuronal activities, with no independent ability to affect or control neuronal activities.

Is this position a “proven” scientific theory? I shall state, straight out, that this determinist materialist view is a “belief system”; it is not a scientific theory that has been verified by direct tests. It is true that scientific discoveries have increasingly produced powerful evidence for the ways in which mental abilities, and even the nature of one’s personality, are dependent on, and can be controlled by, specific structures and functions of the brain. However, the nonphysical nature of subjective awareness including the feelings of spirituality, creativity, conscious will, and imagination, is not describable or explainable directly by the physical evidence alone. [১৫]

তথ্যসূত্র:

[১] Benjamin Libet, Mind Time: The Temporal Factors in Consciousness; page: 3
[২] http://www.harunyahya.com/en/Brief-Explanations/4793/FOSSILS-HAVE-DISCREDITED-EVOLUTION

[৩] Colin Patterson, “Cladistics”, Brian Leek ile Röportaj, Peter Franz, 4 Mart 1982, BBC;

Lee M. Spetner, Not By Chance, Shattering the Modern Theory of Evolution, The Judaica Press Inc., 1997, s. 175
Retrieved from: http://www.harunyahya.com/en/books/152365/Atlas-Of-Creation—Volume-4-/chapter/14297/Part-3—Darwinists-have-Deceived-the-Whole-World-with-Frauds—2


[৪] Stephen J. Gould, “Evolution’s Erratic Pace,” Natural History, Vol. 86, No. 5, May 1977, p. 14 [Emphasis added]

[৫] Niles Eldredge, Reinventing Darwin: The Great Evolutionary Debate, [1995], phoenix: London, 1996, p. 9; Retrieved from: http://www.living-fossils.com/2_1.php

[৬] http://textbookofbacteriology.net/growth_3.html

[৭] http://myxo.css.msu.edu/ecoli/overview.html

[৮] William A. Dembski, Jonathan Wells, The Design in Life, Page: 44

[৯] Gordon Rattray Taylor, The Great Evolution Mystery, Sphere Books Ltd., 1984, s. 4; Retrieved from: http://www.harunyahya.com/en/books/152365/Atlas-Of-Creation—Volume-4-/chapter/14297/Part-3—Darwinists-have-Deceived-the-Whole-World-with-Frauds—2

[১০] Nicholas Comninellis, Creative Defense, Evidence Against Evolution, Master Books, 2001, s. 81
Retrieved from: http://www.harunyahya.com/en/books/152365/Atlas-Of-Creation—Volume-4-/chapter/14297/Part-3—Darwinists-have-Deceived-the-Whole-World-with-Frauds—2 [Emphasis added]

[১১] আর্কিব্যাকটেরিয়া থেকে আর্কিঁয়া: বিবর্তনবাদীদের অস্বস্থি

[১২] Stephen C. Meyer, Signature in The Cell;

[১৩] পাভেল আহমেদ, বিবর্তনবাদ ও তার সমস্যা – ৭: সম্ভাবনার অসম্ভাব্যতা ২ বিবর্তনবাদ ও তার সমস্যা – ৮: সম্ভাবনার অসম্ভাব্যতা ৩ (ছক্কা বনাম প্রোটিন)

[১৪] প্রোটিনের গঠনে আল্লাহর নিদর্শণ

[১৫] Benjamin Libet, Mind Time: The Temporal Factors in Consciousness page: 4,5 [Emphasis added]

জীবজগতের ভাষা, বর্ণমালা ও তার উৎস


[বি.দ্র.: এই লেখাতে মূলত জীবজগতের গাঠনিক ভাষা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।]

ছোটবেলায় আমাদের অনেকের মা-বাবা আমাদের বর্ণমালা শেখানোর জন্য এক ধরণের খেলনা কিনে দিতেন। প্লাস্টিকের তৈরী চৌকা (বর্গক্ষেত্র) আকৃতির খেলনাগুলোতে বর্ণমালার বিভিন্ন অক্ষর লিখা থাকতো। উদ্দেশ্য, আমরা খেলাচ্ছলে বর্ণমালা শিখে নেবো। সাথে, বর্ণ ব্যবহার করে শব্দ গঠনও করতে পারবো।

ধরুন, আপনাকে এ ধরণের কয়েক সেট বর্ণমালা দেয়া হয়েছে। বর্ণমালায় স্বরবর্ণ ও ব্যাঞ্জন বর্ণের পাশাপাশি ‘কার’ চিহ্নিত চৌকা আছে। এ অবস্থায় আপনি সবগুলো চৌকা হাতে নিয়ে যদি টেবিলে ফেলেন তাহলে কি অর্থপূর্ণ বাক্য গঠন হওয়ার কোন সম্ভাবনা আছে? অবশ্যই না। হ্যাঁ, হতে পারে অর্থপূর্ণ ছোট দু’একটি শব্দ হয়ে গেল। যেমন: বল, কলম ইত্যাদি। কিন্তু, শব্দে অক্ষরের এবং ‘কার’-এর সংখ্যা যতই বাড়বে ততই ‘বাই চান্স’ অর্থপূর্ণ শব্দ তৈরী হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। যেমন: ‘আকাশ’ ও ‘হতবিহ্বল’ শব্দ দু’টিতে যথাক্রমে ৫টি ও ৭টি চৌকা লাগবে। অন্যদিকে, ‘বল’ ও ‘কলম’ শব্দ দু’টিতে যথাক্রমে ২টি ও ৩টি চৌকা লাগবে। ফলে, ‘আকাশ’ ও ‘হতবিহ্বল’ শব্দ দুটি বাই চান্স তথা র‍্যাণ্ডমলি হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে।

আবার, চৌকাগুলো র‍্যাণ্ডমলি ফেললে যদি কতগুলো অর্থপূর্ণ শব্দ তৈরী হয়েও যায়, তথাপি তা একটি অর্থপূর্ণ বাক্য গঠন করবে না। যেমন: মনে করি, টেবিলে দেখা গেলো ‘বল কলম আকাশ’, এটা কোন অর্থপূর্ণ বাক্য প্রকাশ করলো না। তবে, এক্ষেত্রেও ছোট ছোট অর্থপূর্ণ বাক্য প্রকাশ পেয়ে যেতে পারে। যেমন: আমি যাই। কিন্তু বাক্য যতই বড় হবে ততই র‍্যাণ্ডমলি তৈরী হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে।

উপরের চিত্রে দেখা যাচ্ছে যে চৌকাগুলো র‍্যাণ্ডমলি ফেলে রাখা হয়েছে তাতে দু’অক্ষরের একাধিক অর্থপূর্ণ শব্দ (যেমন: GO, TO) পাওয়া যাচ্ছে। ভালমত খুঁজলে দু-একটি তিন অক্ষরের অর্থপূর্ণ শব্দও পাওয়া যেতে পারে। তবে, চার অক্ষরের যে শব্দটি (LOVE) ওপরের দিকে আছে, তা দেখামাত্রই বলে দেয়া যায় যে কেউ একজন এগুলো এভাবে সাজিয়েছে, র‍্যাণ্ডমলি হয়নি। চার অক্ষরের দুটো শব্দ মিলে যে শব্দটি (HAND-MADE) তৈরী করেছে সেটি র‍্যাণ্ডমলি হওয়া যে প্রায় অসম্ভব, তা বলাই বাহুল্য।

এবার মনে করুন, আপনার চৌকাগুলোতে এক বিশেষ ধরণের চুম্বক লাগানো আছে, যাতে আপনার চৌকাগুলোর একটি আরেকটির সাথে সুনির্দিষ্ট তথা স্পেসিফিক নিয়মে লেগে যাওয়ার প্রবণতা আছে। ধরি, ‘ক’ চিহ্নিত চৌকার প্রবণতা হলো ‘ল’ এর সাথে পাশাপাশি লেগে যাওয়া। তাহলে, এ ধরণের বর্ণমালা দিয়ে ‘বাই চান্স’ তো দূরে থাক, আপনি নিজে থেকে কি কোন শব্দ লিখতে পারবেন? উত্তর: না। কারণ, ‘ক’-এর পরে ‘স’ যুক্ত করতে প্রয়োজন হলেও আপনি আটকে যাবেন। কিন্তু, চৌকাগুলোর প্রবণতা যদি এমন হতো যে একটির সাথে আরেকটি স্পেসিফিক ভাবে না লেগে পাশাপাশি যেকোন বর্ণের সাথে হালকা ভাবে লাগে, তাহলে আপনার যেকোন শব্দ তৈরী করতে কোন সমস্যা হতো না এবং র‍্যাণ্ডমলি যে ছোট শব্দ বা বাক্যগুলো হতো সেগুলোও সাধারণ চৌকার মত বিচ্ছিন্ন না থেকে একটু লেগে থাকতো, অর্থাৎ স্থায়ী হতো। তবে এক্ষেত্রে ‘বাই চান্স’ হওয়া মানে আরেক সমস্যা। কারণ, দেখা যেত, যখনই ‘কলম’ লেখাটা তেরী হয়েছে পরক্ষণেই ‘ব’ এবং ‘শ’ বা অন্য যেকোন অক্ষর পাশে এসে ‘বকলমশ’ বানিয়ে ফেলেছে, তথা অর্থহীন করে ফেলেছে। অর্থাৎ, এমতাবস্থায় অর্থপূর্ণ শব্দগুলোকে পাশাপাশি রাখার জন্য একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তির সার্বক্ষণিক অবস্থান প্রয়োজন হয়ে পড়ত।

উপরের আলোচনা থেকে আমরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বুঝতে পারলাম তা হলো:

১. আমরা যদি কোন প্রক্রিয়ায় কোন তথ্য সংরক্ষণ করতে চাই, সেই প্রক্রিয়াটিতে এমন কতিপয় পৃথক পৃথক অংশ থাকবে যেগুলোকে যেকোন ভাবে সাজানো যায়।

২. উক্ত অংশগুলোর পরস্পরের মধ্যে আকর্ষণ থাকতে পারে, কিন্তু সুনির্দিষ্ট ‘আকর্ষণ’ থাকা যাবে না।

৩. এ ধরণের পৃথক পৃথক অংশগুলো র‍্যাণ্ডমলি যুক্ত হয়ে অর্থপূর্ণ কোন শব্দ এবং বাক্য গঠন করার একটি সীমা আছে। তবে, সেই সীমা খুবই সংকীর্ণ তথা ছোট।

এবার আসুন এ ধরণের একটি তথ্যসংরক্ষণ ব্যবস্থা সম্পর্কে জানি যা প্রতিনিয়ত আমরা ব্যবহার করে চলেছি। তা হলো কম্পিউটার। হ্যাঁ, কম্পিউটারে ‘বাইনারী’ নাম্বার দিয়েই বিভিন্ন ধরণের তথ্য, যেমন: প্রোগ্রামের নির্দেশনা, ডকুমেন্ট, ইমেজ ইত্যাদি সংরক্ষণ করা হয়।

আমরা জানি, আমরা যে অংক ব্যবহার করে হিসেব নিকেশ করি সেটি হলো ‘দশমিক’ বা ‘ডেসিমাল’ সংখ্যা। অর্থাৎ, ১ থেকে ১০ পর্যন্ত গিয়ে এরপর আবার ১,২,৩..  যোগ করে তথা ১১, ১২, ১৩… এভাবে সংখ্যা গননা করতে থাকি। কিন্তু সংখ্যা গননা ইচ্ছা করলে এভাবেও করা যায়, ১,১১,১১১,১১১১,…..,১১১১১১১১১১ (তথা ১,২,৩,৪,…….১০)। একে বলে ‘ইউনারী’ সংখ্যা। এভাবে একশ লিখতে গেলে পরপর একশটি ১ বসাতে হবে। অর্থাৎ এভাবে হিসেব করা সহজ হলেও স্থান অনেক বেশী দরকার হয়ে পড়ে। আবার, সংখ্যাকে ‘দ্বিমিক’ বা ‘বাইনারী’ আকারেও প্রকাশ করা যায়। অর্থাৎ, ০,১,১০,১১,১০০,….১০১০ (তথা, ০,১,২,৩,৪,….১০)। দেখা যাচ্ছে এভাবে সংখ্যা প্রকাশ করলে যায়গা তুলনামূলক কম লাগছে। ‘দশমিক’ সংখ্যাকে ‘দ্বিমিক’ সংখ্যায় রূপান্তর করা যায় আবার বিপরীতটাও করা যায়।

লক্ষ্যণীয়, বিদ্যুতের উপস্থিতি অনুপস্থিতির উপর ভিত্তি করে আমরা ইচ্ছে করলে দ্বিমিক সংখ্যাকে সংরক্ষণ করতে পারি। সিলিকন ট্রানজিস্টরের মধ্যে এ ধরণের একটি পদ্ধতি তৈরী করা হয়। যেখানে বিদ্যুতের উপস্থিতি হচ্ছে ‘১’ এবং বিদ্যুতের অনুপস্থিতি ‘০’। এভাবে তৈরীকৃত অনেকগুলো ট্রানজিস্টরকে যদি একসাথে পাশাপাশি রাখা যায় তাহলে সেগুলোতে সংখ্যা সংরক্ষণ করা যাবে।

কিন্তু কতগুলো ট্রানজিস্টরকে একসাথে রেখে আমরা একটি ‘একক’ ধরবো? কারণ, যদি একটি ট্রানজিস্টরকে একক ধরি তাহলে মাত্র দুটো সংখ্যা সংরক্ষণ করা যাচ্ছে ০ এবং ১। কিন্তু যদি ৮টি ট্রানজিস্টরকে একত্রে রাখা যায় তাহলে সর্বোচ্চ যে সংখ্যাটি রাখা যাবে তা হলো: ১১১১১১১১, দশমিকে যার মান ২৫৫। তুলনামূলক বড় সংখ্যা। আরও বেশী ট্রানজিস্টরকে একত্রে রাখা সম্ভব, কিন্তু সেক্ষেত্রে জায়গা বেশী লেগে যাবে। ফলে, সাধারণত ৮টি ট্রানজিস্টরকে একত্রে রাখা হয়। এর প্রতিটিকে এক ‘বিট’ বলে এবং পুরো ৮টি বিটকে একত্রে বলে ‘বাইট’।


চিত্রে একটি ৮ বিট শিফট রেজিস্টার দেখা যাচ্ছে। ৮ বিটের মেমোরী আইসিগুলোও (ইন্টেগ্রেটেড সার্কিট) অনেকটা এভাবেই সাজানো হয়।

৮টি বিট দিয়ে না হয় সংখ্যা সংরক্ষণ করা যায়। কিন্তু, আমি যদি অক্ষর সংরক্ষণ করতে চাই? তা-ও সম্ভব। কীভাবে? এটা বুঝা যায়, সাংকেতিক ভাষা ব্যবহারের উদাহরণ থেকে। আমরা অনেকেই ছোট বেলায় এরকম খেলেছি যে, আমি একটি শব্দ লিখব তবে সে শব্দে ‘খ’ বলতে ‘ক’ বুঝাবো এবং এভাবে বর্ণমালার অক্ষরগুলোকে এক অক্ষর করে পিছিয়ে দেবো। এভাবে কোন শব্দ লিখলে আমি কী ধরণের নিয়ম ব্যবহার করেছি সেটি যে জানবে তার পক্ষে শব্দটির অর্থ বুঝা সহজ হবে। অর্থাৎ, আমরা ইচ্ছে করলে ‘ক’ বর্ণটিকে অন্য কিছু দিয়ে প্রকাশ করতে পারি। ঠিক একইভাবে, একটি বাইটের মধ্যে যদি বিভিন্নভাবে বর্ণমালাকে জুড়ে দেয়া যায় তাহলেও লেখা সংরক্ষণ করা যাবে। American Standard Code for Information Interchange, সংক্ষেপে ASCII হচ্ছে এ ধরণের একটি নীতিমালা যেটি অনুযায়ী কম্পিউটারের বিভিন্ন ইন্সট্রাকশনগুলো, যেমন: ‘কী-বোর্ডের’ বিভিন্ন ‘কী’-গুলো  বাইনারী নাম্বারের সাথে চিহ্নায়িত করা থাকে। (http://www.ascii-code.com/) অর্থাৎ, আপনি যখন কী-বোর্ডে ‘A’ লিখেন,  র‍্যামে তা ‘০১০০০০০১’ হিসেবে সংরক্ষিত হয়।

আমেরিকান স্ট্যাণ্ডার্ড কোড ফর ইনফরমেশন ইন্টারচেঞ্জ। লক্ষ্যণীয়, A-এর কোড হচ্ছে ‘1000001’। এখানে ৭টি বিট আছে। প্রথম বিটটিকে (তথা অষ্টম) রাখা হয় অংকের মাইনাস বা প্লাস বুঝানোর জন্য।

হার্ডডিস্কে কীভাবে সংরক্ষণ হয়? বিষয়টি খুবই মজার। আমরা জানি, চৌম্বক পদার্থগুলোর ভিতরে ডাইপোল থাকে। তড়িৎক্ষেত্র প্রবাহিত করে যেগুলোর পোলারিটি ঘুরিয়ে দেয়া যায়। এরকম ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঘনকাকৃতির চৌম্বক পদার্থ (যেমন: হার্ডডিস্কে ব্যবহৃত কোবাল্ট ভিত্তিক সংকর ধাতু)-কে যদি পাশাপাশি সাজানো যায় তাহলেও বাইনারী ডিজিট সংরক্ষণ করা যাবে। সেক্ষেত্রে ধরুন: ‘>’-কে ‘এক’ এবং ‘<’ কে ‘শূণ্য’ ধরা হলো। সেক্ষেত্রে, ‘A’ লিখলে হার্ডডিস্কে তা ‘<><<<<<>’ এভাবে সংরক্ষিত থাকবে।


চিত্রে হার্ডডিস্কের কোবাল্ট বেজ্‌ড্‌ ম্যাগনেটিক অ্যালয় দিয়ে কীভাবে বাইনারী তথ্য রেকর্ড করা এবং পড়া হয় তা দেখা যাচ্ছে।

যাই হোক, এবার লক্ষ্য করুন, হার্ডডিস্কে কিংবা র‍্যামে আমরা ডাটা সংরক্ষণ করতে পারছি কারণ ডাটা সংরক্ষণের ক্ষুদ্র অংশগুলো পরস্পরের সাথে সুনিদিষ্ট আকর্ষণে আবদ্ধ নয়। স্পষ্টতই, হার্ডডিস্কের উপর দিয়ে যদি কোন র‍্যাণ্ডম ম্যাগনেটিক ঝড় বয়ে যায় সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য সংরক্ষণ হবে না। আবার, র‍্যাণ্ডম প্রক্রিয়ায় যদি একটি বিট পরিবর্তন হয়ে যায়, গুছানো তথ্য ধ্বংস হবে এবং একটি নির্দিষ্ট সংক্ষিপ্ত সীমার বাইরে অর্থবহ তথ্য যুক্ত হবে না।

এবার চলুন আমরা এরকম আরও মজার একটি বর্ণমালা নিয়ে কথা বলি। হ্যাঁ, তা আর কিছু নয় জীবজগতের গাঠনিক ব্লুপ্রিন্ট সংরক্ষণকারী বর্ণমালা- ‘ডিএনএ’।

ডিএনএ-র বর্ণমালায় বর্ণ মাত্র চারটি এবং কোন যতি চিহ্ন নেই। এডেনিন (A), থায়ামিন (T), গুয়ানিন (G) এবং সাইটোসিন (C)। এই চারটি অণু এমন যে, এগুলো পরস্পর পাশাপাশি ফসফেট বন্ধনে যুক্ত হয়। কিন্তু, এই বন্ধনে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের পারস্পরিক স্পেসিফিক এফিনিটি কাজ করে না। স্পেসিফিক এফিনিটি কাজ করলে ডাটা সংরক্ষণ করা যায় না, উপরে আমরা তা দেখেছি। লক্ষ্যণীয় যে, উপরোক্ত প্রতিটি অনুকে বলে নাইট্রোজেন বেজ। উক্ত নাইট্রোজেন বেজগুলো ডিঅক্সিজেনেটেড রাইবোজ-এর সাথে সংযুক্ত থাকে, যাদেরকে বলে নিউক্লিওসাইড। প্রতিটি নিউক্লিওসাইডের রাইবোজ সুগারে ফসফেট যুক্ত হলে গঠিত হয় নিউক্লিওটাইড। মূলত এই নিউক্লিওটাইড-ই হলো ডি-অক্সিরাইবো-নিউক্লিইক-এসিড তথা  ডিএনএ-র গাঠনিক একক। অর্থাৎ, এরকম একেকটি নিউক্লিওটাইড অণু পাশাপাশি যুক্ত হয়ে যে পলিনিউক্লিওটাইড চেইন গঠন করে তাকেই বলে ডিএনএ।

আমরা চিত্রটির ডানদিকে ডিএনএ ডাবল হেলিক্স-এর অংশ দেখতে পাচ্ছি। বামদিকে দেখানো হয়েছে যে, ডিএনএ-তে কীভাবে নিউক্লিওটাইডগুলো পরস্পরের সাথে সংযুক্ত হয়। লক্ষ্যণীয়, ডাবল হেলিক্স গঠনের ক্ষেত্রে পাশাপাশি দুটো চেইনের একটির A অপরটির T এর সাথে এবং একটির C অপরটির G এর সাথে ও ভাইস ভারসা হাইড্রোজেন বন্ধন দিয়ে যুক্ত হয়।

প্রশ্ন হলো, ATGC বর্ণগুলোকে তো বিভিন্ন ভাবে সাজানো যেতে পারে, সেক্ষেত্রে আমরা তথ্য সংরক্ষণের একক হিসেবে কোনটি ঠিক করবো? এটি নির্ভর করছে আমি কী ধরণের তথ্য সংরক্ষণ করতে চাই এবং কী ধরণের ‘সংকেত’ চিহ্নিত করতে চাই তার উপর। উপরের কম্পিউটারের উদাহরণে আমরা দেখেছি, বাইনারী ডিজিটে বর্ণ দুটি, ‘০’ এবং ‘১’। আমি যদি দুটি নিয়ে একক করি তাহলে সাজানো যাবে এইভাবে: ০০,০১,১০,১১; তিনটি করে নিলে: ০০০,০০১,০১০,০১১,১০০,১০১,১১০,১১১; অর্থাৎ খুব বেশী সংকেত চিহ্নিত করা যাবে না। অন্যদিকে, আমি যেহেতু অনেকগুলো পৃথক নির্দেশনা বা অক্ষর চিহ্নিত করতে চাচ্ছি, সেহেতু ‘একক’টি এমন হলে ভাল হয় যে বেশী বড়ও না আবার এমন ছোটও না যে সবগুলো সংকেত সংরক্ষণ করা যাবে না। এ হিসেবে কম্পিউটারের একক হলো ‘০০০০০০০০’ তথা ‘৮’ বিট।

ডিএনএ-র ক্ষেত্রে আমার সংকেতগুলো হলো অ্যামাইনো এসিড। যদিও প্রকৃতিতে অনেক অ্যামাইনো এসিড আছে, আমি বিশটির বেশী ব্যবহার করবো না। এখন, ATGC থেকে যদি দুটো করে বর্ণ নিই, তাহলে মাত্র ষোল ভাবে সাজানো যায়: AA,AT,AG,AC,TA,TT,TG,TC,GA,GT,GG,GC,CA,CT,CG এবং CC। অর্থাৎ বিশটি অ্যামাইনো এসিডকে নির্দেশিত করতে পারছি না। চারটি করে নিলে সাজানো যাবে ২৫৬ ভাবে। এত বেশী একক আমার প্রয়োজন পড়ছে না। তদুপরি, চারটি করে সাজালে আমার জায়গা বেশী লেগে যাচ্ছে।  কিন্তু, তিনটি করে নিলে ৬৪ উপায়ে সাজানো যায়। এ প্রক্রিয়ায় ২০টি অ্যামাইনো এসিডকে খুব সহজেই চিহ্নায়িত করা যাচ্ছে। এছাড়াও, অনেকগুলো অ্যামাইনো এসিডকে আমি একাধিক ‘কোডন’ দিয়ে চিহ্নিত করতে পারছি। (লক্ষ্যণীয়, ডিএনএ-তে ৩টি অক্ষরের এই একককে কোডন বলে)।


প্রশ্ন হলো, আমি একটি অ্যামাইনো এসিডের বিপরীতে কোন্ কোডনকে চিহ্নায়িত করবো? যেমন: GGG কোড করে গ্লাইসিনকে, GAG কোড করে গ্লুটামিক এসিডকে। কিন্তু, GGG এলানিনকে কোড না করে গ্লাইসিনকে কোড করবে এটা কেন নির্ধারণ করবো?  ওয়েল, এক্ষেত্রে আমার পরিকল্পনা হবে কোষ বিভাজন হওয়াকালীন ডিএনএ কপি করার সময় যদি র‍্যাণ্ডমলি একটি অক্ষর পরিবর্তন হয়ে যায় (মিউটেশন) সেক্ষেত্রে অ্যামাইনো এসিড যেন পরিবর্তন না হয় (সাইলেন্ট মিউটেশন)। আবার, বিশ ধরণের অ্যামাইনো এসিডে কতগুলো পোলার, কতগুলো নন-পোলার, কতগুলো এসিডিক এবং কতগুলো বেসিক, কতগুলোতে ‘রিং’ আকৃতির সাইড চেইন আছে কতগুলোতে নেই। প্রোটিনের ত্রিমাত্রিক গঠন নির্মাণ এবং ফাংশন নির্ধারণে এই বিভিন্ন ধরণের অ্যামাইনো এসিডগুলোর সুনির্দিষ্ট গাঠনিক ও রাসায়নিক ভূমিকা আছে। এ কারণে আমি চেষ্টা করবো কোডনগুলো এমনভাবে নির্ধারণ করতে যেন মিউটেশনের কারণে যদি অ্যামাইনো এসিড পরিবর্তন হয়েও যায়, তথাপি যেন একই ধরণের অন্য একটি এমাইনো এসিডে পরিবর্তন হয়। মজার বিষয় হলো, জীবজগতে যে কোডন পাওয়া গেছে তা এই ধরণের বৈশিষ্ট্যগুলোকে মাথায় রেখে নির্ধারণ করা হয়েছে। তদুপরি, জীবজগতের প্রায় সকল ক্ষেত্রেই এই কোডনের নীতিমালা সুনির্দিষ্ট অর্থাৎ ইউনিভার্সাল। কারণটা খুব সহজ- একাধিক ভাষা ব্যবহার করার চেয়ে একটি  ভাষা ব্যবহার করাই সুবিধাজনক।

উপরে আমরা ইউনিভার্সাল জেনেটিক কোডের চার্ট দেখতে পাচ্ছি। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, কোডন সিস্টেমটি এমনভাবে সিলেক্ট করা হয়েছে যেন মিউটেশনের ইফেক্ট সর্বোচ্চ মিনিমাইজ করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, ফিনাইল এলানিনকে (Phe) কোড করে UUU এবং UUC। অর্থাৎ UUU মিউটেশন হয়ে UUC হয়ে গেলেও এমাইনো এসিড একই থাকবে। আবার, যদি UUU পরিবর্তন হয়ে UAU হয়ে যায় তাহলে ফিনাইল এলানিন পরিবর্তন হয়ে টাইরোসিন (Tyr) হবে, যা কাছাকাছি গঠনযুক্ত। কিংবা, যদি CUU হয়ে যায় সেক্ষেত্রে হচ্ছে লিউসিন (Leu)। এটিও ত্রিমাত্রিক গঠনের দিক দিয়ে ফিনাইল এলানিনের কাছাকাছি।

এই যে একটি কোডনের সাথে একটি অ্যামাইনো এসিডকে আমি ‘অ্যাসাইন’ করছি, তা কি র‍্যাণ্ডমলি একা একা হতে পারবে? যে কোন সচেতন পাঠকের কাছে পরিস্কার যে তা সম্ভব নয়। প্রকৃতপক্ষে, একটি বিষয়ের সাথে আরেকটি বিষয়কে এসাইন বা সম্পর্কযুক্ত করার তথা একটি বিষয়ে আরেকটি বিষয়ের অর্থ নির্ধারণ করে দেয়া ‘বুদ্ধিমান’ স্বত্তার কাজ। কোন অন্ধ প্রক্রিয়ায় তা কখনও হয় না। এর মধ্যে আবার তা যদি হয় ‘অপটিমাম’ বা ‘বেস্ট’ কোডন নির্ণয় করা, তাহলে তো আরও সম্ভব নয়।

এছাড়াও, এই বর্ণগুলো যদি পরস্পরের সাথে স্পেসিফিক এফিনিটি দেখাতো তাহলেও তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হতো না। অর্থাৎ, A কেবল G-এর পাশে বসতে পারবে, C কেবল T-এর পাশে বসতে পারবে, অণুগুলোর রাসায়নিক আসক্তি এমন হলে তা কোন অ্যামাইনো এসিডকে কোড করতে পারতো না।

এবারে আসি প্রোটিনের কথায়। প্রোটিনকেও আরেক ধরণের ভাষা বলা যায় যার বর্ণমালায় বর্ণ আছে ২০টি। পোলারিটি, অম্ল-ক্ষার বৈশিষ্ট্য, বেনজিন রিং-এর উপস্থিতি ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যের আলোকে প্রতিটি অ্যামাইনো এসিড বর্ণ বিভিন্ন অর্থ ধারণ করে। আর এই বৈশিষ্ট্যকে কাজে লাগিয়ে তৈরী হয় একেকটি বাক্য তথা অ্যামাইনো এসিডের সরলরৈখিক সিকোয়েন্স। একে আবার প্রোটিনের প্রাইমারী স্ট্রাকচার বলা হয়। উক্ত সিকোয়েন্স, অ্যামাইনো এসিডের বিভিন্ন মাত্রার কেমিক্যাল এফিনিটির উপর ভিত্তি করে আলফা হেলিক্স, বিটা শিট ইত্যাদি বিশেষায়িত গঠন তৈরী করার মধ্য দিয়ে প্রোটিনের সেকেণ্ডারী স্ট্রাকচার তৈরী করে। এরপর, নির্দিষ্ট আকৃতিতে ভাঁজ (ফোল্ড) হয়ে তৈরী করে সুনির্দিষ্ট ত্রিমাত্রিক গঠন বা টারসিয়ারী স্ট্রাকচার। এ রকম দুটো বা ততোধিক প্রোটিন সমন্বয়ে তৈরী হয় কোয়ার্টারনারী স্ট্রাকচার। এনজাইমগুলো সাধারণত একটি প্রোটিন দিয়ে গঠিত হয়, আর বিভিন্ন গাঠনিক কাঠামো যেমন: আয়ন চ্যানেল তৈরী হয় একাধিক প্রোটিনের সমন্বয়ে।

ইলাস্ট্রেশনটিতে আমরা দেখতে পাচ্ছি জীবজগতে প্রাপ্ত ২১ ধরণের এমাইনো এসিড। তন্মধ্যে, সেলেনোসিস্টিন অল্প কিছু বিশেষায়িত প্রোটিনে পাওয়া যায় বিধায় সাধারণভাবে প্রোটিনের গাঠনিক একক পড়ার সময় এর উল্লেখ দেখা যায় না।

লক্ষ্যণীয়, কম্পিউটারের ভাষার ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি বাইনারী ভাষা দিয়ে ইংরেজী ভাষা সংরক্ষণ করা হয়। অন্যকথায়, একটি ভাষা দিয়ে আরেকটি ভাষা সংরক্ষণ করা যায়। তেমনি প্রোটিনের ভাষাকে সংরক্ষণ করে ডিএনএ-র ভাষা। আরও লক্ষ্যনীয়, প্রোটিনের ভাষায় বর্ণ ২০টি হওয়ায় এবং উক্ত বর্ণগুলোর আণবিক বৈশিষ্ট্য বিভিন্ন হওয়ায় ভাব প্রকাশের সীমানা অনেক বেড়ে গেলো। অর্থাৎ প্রোটিনের ২০টি অণু দিয়ে অনেক বৈচিত্রপূর্ণ ত্রিমাত্রিক গঠন সম্ভব। ফলে, প্রোটিন এনজাইম থেকে শুরু করে কোষের বিভিন্ন গাঠনিক উপাদান তৈরীতে ভূমিকা রাখে। কিন্তু, ডিএনএ-র বর্ণমালার বর্ণের আণবিক বৈশিষ্ট্য ও সংখ্যা সীমিত হওয়ায় ডিএনএ বৈচিত্রপূর্ণ ত্রিমাত্রিক গঠন তৈরী করতে পারে না।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে কীভাবে অ্যামাইনো এসিডগুলো একটার পাশে আরেকটা যুক্ত হয়ে চূড়ান্ত ত্রিমাত্রিক প্রোটিন তৈরী করে। বিষয়টি যত সহজ শুনতে ততটাই কঠিন বাস্তবে, কী বলেন?

আমরা জানি, ডিএনএ-তে দুটি পলিনিউক্লিওটাইড চেইন পাশাপাশি থেকে প্যাঁচানো মই-এর মত গঠন তৈরী করে, যাকে ইংরেজীতে বলে ডাবল হেলিক্স। ডিএনএ থেকে প্রোটিন তৈরীর প্রক্রিয়ায় প্রথমে ডিএনএ থেকে সম্পূরক ম্যাসেঞ্জার আরএনএ তৈরী হয়। এ প্রক্রিয়ায় শুরুতে ডিএনএ ডাবল হেলিক্স এর মধ্যে বন্ধন খুলে একটি চেইনকে পড়ার জন্য উন্মুক্ত করতে হয়। এ প্রক্রিয়াটি করে একটি বিশেষায়িত প্রোটিন তথা এনজাইম। এরপর আরেকটি বিশেষায়িত এনজাইম এসে উক্ত চেইনকে পড়ে সম্পূরক আরএনএ চেইন তৈরী করে। অতঃপর, একটি এনজাইম লাগে উন্মুক্ত করা অংশ পুনরায় জোড়া লাগাতে, একটি এনজাইম লাগে প্রুফ রিড করতে, দুটি লাগে জোড়া লাগানোর সময় বেশী পেঁচিয়ে গেলে প্যাঁচ খুলতে। প্রসঙ্গত, আরএনএ-এর সাথে ডিএনএ-র পার্থক্য হল- আরএনএ-এর নিউক্লিওটাইডে তথা আরএনএ-র বর্ণমালার অক্ষরগুলোতে একটি অক্সিজেন অণু বেশী থাকে এবং আরএনএ-তে থাইমিনের (T) পরিবর্তে ইউরাসিল (U) থাকে। প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক যে, তথ্য পরিবহন করে নেয়ার জন্য ডিএনএ-র পরিবর্তে আরএনএ-কে কেন বাছাই করা দরকার হলো? একটি উত্তর হলো, যে পদ্ধতিটির মধ্যে আমি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রাখতে চাই স্বাভাবিক ভাবেই তাকে আমি আলাদাভাবে সংরক্ষণ করতে চাইব। তদুপরি, আরএনএ-র আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো এটি ডিএনএ-র চেয়ে একটু বেশী বৈচিত্রের গঠন তৈরী করতে পারে।

এক নজরে ডিএনএ থেকে প্রোটিন সংশ্লেষ পদ্ধতি। ছবিটিতে সংশ্লেষের কাজে অংশগ্রহণকারী এনজাইমগুলোকে দেখানো হয়নি।

এরপর, ম্যাসেঞ্জার আরএনএ থেকে রাইবোজোম নামক আণবিক মেশিনের সহায়তায় প্রোটিন সংশ্লেষ হয়। রাইবোজোম নামক মেশিনটি তৈরী হয় রাইবোজোমাল আরএনএ ও অনেকগুলো প্রোটিনের সমন্বয়ে। প্রোটিন তৈরীর প্রক্রিয়ায় আর এক ধরণের আরএনএ সাহায্য করে- ট্রান্সফার আরএনএ বা টি-আরএনএ । এদের কাজ হলো রাইবোজোমের কাছে অ্যামাইনো এসিড বহন করে নিয়ে যাওয়া। বিশটি অ্যামাইনো এসিডের জন্য এরকম বিশ ধরণের সুনির্দিষ্ট ট্রান্সফার আরএনএ থাকে। আবার, প্রত্যেক ধরণের টি-আরএনএ-র সাথে তৎসংশ্লিষ্ট অ্যামাইনো এসিড সংযুক্ত করার জন্য বিশটি সুনির্দিষ্ট ও পৃথক এনজাইম (অ্যামাইনো এসাইল ট্রান্সফারেজ) থাকে। এছাড়াও, রাইবোজোমে দুটো পাশাপাশি অ্যামাইনো এসিডের  বন্ধন তৈরী করার জন্য কাজ করে আলাদা এনজাইম।

উপরের বর্ণনা থেকে লক্ষ্যণীয়, ডিএনএ-তে প্রোটিন তৈরী তথ্য ধারণ করা থাকে। আবার, উক্ত তথ্যকে কাজে লাগিয়ে প্রোটিন তৈরী করার জন্য দরকার অনেকগুলো আরএনএ এবং সুনির্দিষ্ট প্রোটিন (এনজাইম)।  যদি প্রশ্ন করা হয়, কীভাবে আদিম পরিবেশে কোষের উদ্ভব হল? স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন চলে আসে, কোন্‌টা আগে আসলো- ডিএনএ নাকি প্রোটিন নাকি আরএনএ? আমরা দেখছি তিনটি জিনিস একসাথে ও পরস্পরজড়িতভাবে উদ্ভব না হলে এই সিস্টেমটি চালুই হচ্ছে না। ইনটুইটিভলি, কোন প্রকার র‍্যাণ্ডম অনিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ায় তা সম্ভব নয়।

প্রোটিন (তথা এনজাইম) আগে আসবে? রিডিং টেমপ্লেট (অর্থাৎ ডিএনএ) না থাকলে প্রোটিন কাজ করবে কার উপর? তদুপরী, ১৫০টি অ্যামাইনো এসিড দিয়ে নির্মিত একটি মাঝারি সাইজের সুনির্দিষ্ট প্রোটিন আসাও গাণিতিকভাবে অসম্ভব একটি ব্যাপার। ডগলাস এক্স-এর হিসেবে অনুযায়ী এর সম্ভাব্যতা ১০১৬৪। [১] অন্যদিকে, বিল ডেম্বস্কি দেখিয়েছেন বিশ্বজনীন সম্ভাব্যতার সীমা ১০১৫০। [২] অর্থাৎ, যে কোন র‍্যাণ্ডম ঘটনা এই সীমাকে ছাড়িয়ে গেলে আমাদের মহাবিশ্বে তা ঘটার সম্ভাবনা নেই। একটি মাঝারি সাইজের প্রোটিনের এই অবস্থা। অথচ, আরএনএ পলিমারেজ এনজাইম ১০০০-এর বেশী অ্যামাইনো এসিড যুক্ত তিনটি প্রোটিনের সমন্বয়ে গঠিত হয়।

ডিএনএ আগে আসবে? ডিএনএ থেকে তথ্য পড়বে কে? যদি ডিএনএ অণু এমন কোন গঠন তৈরী করতে সক্ষম হত যা এনজাইমের মত কাজ করে তাহলেও চিন্তা করার সুযোগ থাকতো। কিন্তু, আমরা আগেই বলেছি ডিএনএ বৈচিত্রপূর্ণ গঠন তৈরী করতে পারে না। সুতরাং বাকী রইল আরএনএ। আরএনএ কি কেমিকেল এভল্যুশন তথা এবায়োজেনেসিসকে উদ্ধার করতে পারবে?

বিজ্ঞানীরা ল্যাবরেটরীতে এমন এক ধরণের আরএনএ সংশ্লেষ করতে পেরেছেন যা নিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট পরিবেশে এনজাইম হিসেবে কাজ কোরে আরএনএ পলিমারাইজেশনেকে প্রভাবিত করতে পারে। অর্থাৎ, একটি সম্পূরক আরএনএ টেমপ্লেট-এর বিপরীতে নিউক্লিওটাইড (A এর বিপরীতে U, U এর বিপরীতে A, G এর বিপরীতে C, এবং C এর বিপরীতে G) যোগ করার মাধ্যমে নিজের একটি কপি তৈরী করতে পারে। এই বিশেষ ধরণের আরএনএকে বলে রাইবোজাইম। এর মাধ্যমে তারা বলতে চাচ্ছেন যে, আদিম পরিবেশে এ ধরণের একটি রাইবোজাইম আসার মাধ্যমে সেল্ফ-রেপ্লিকেশনের সূচনা হয়েছে এবং পরবর্তীতে ‘কোন একটি উপায়ে’ কোষের উপরোক্ত বর্ণিত বিষয়গুলো আবির্ভাব হয়েছে! যেকেউ একটু মাথা খাটালেই বুঝবে এ ধরণের চিন্তা কতখানি অ্যাবসার্ড! কিন্তু কেন?

এক, পৃথিবীর আদিম পরিবেশ ল্যাবরেটরীর মত নিয়ন্ত্রিত ছিলো না।

দুই, ‘রাইবোজাইম নিজের একটি কপি তৈরী করতে পারে’ এই অবস্থা থেকে ‘আরএনএ প্রোটিনের তথ্য ধারণ করে এবং তা প্রোটিন সংশ্লেষ করে’ এই অবস্থায় যাওয়ার কোন পথ নেই। কারণ, উপরে আমরা ডিএনএ-র ক্ষেত্রে যে রকম বলেছি ঠিক তেমনি কোন্ কোডনটি কোন্ অ্যামাইনো এসিডের জন্য নির্ধারিত হবে সেটি নির্বাচন করা একটি বুদ্ধিমান ‘মাইণ্ড’-এর কাজ। তদুপরি, যদি অপটিমাম ইউনিভার্সাল কোডনের জন্য র‍্যাণ্ডম অনুসন্ধান করা সম্ভবও হতো, সেক্ষেত্রে প্রতি সেকেণ্ডে ১০৫৫টি অনুসন্ধান চালাতে হতো। কিন্তু, বায়োফিজিসিস্ট হার্বাট ইওকি হিসেব করে দেখিয়েছেন র‍্যাণ্ডম অনুসন্ধান প্রক্রিয়ায় ১.৪০ x ১০৭০টি সম্ভাব্য কোডনের মধ্যে উক্ত অপটিমাম কোডন সিস্টেমকে খুঁজে বের করতে হবে এবং হাতে সময় পাওয়া যাবে ৬.৩ x ১০১৫ সেকেণ্ড। [৩] এছাড়াও, রাইবোজোমে যে প্রোটিন সিনথেসিস হয় তাতে অনেকগুলো সুনির্দিষ্ট প্রোটিন ও আর-আরএনএ-র নির্দিষ্ট অবস্থানগত ও তড়িৎ-রাসায়নিক ভূমিকা আছে। অথচ, আরএনএ প্রোটিনগুলোর মত বিভিন্ন ধরণের স্ট্রাকচার গঠন করতে পারে না। কারণ, আরএনএ-র বর্ণ সংখ্যা সীমিত এবং বর্ণের কেমিক্যাল স্ট্রাকচারও অ্যামাইনো এসিডের ন্যায় বৈচিত্রপূর্ণ নয়।

তিন, রাইবোজাইম নিজের কপি করতে পারে তখনই যখন তার সম্পূরক একটি টেমপ্লেট থাকে। অর্থাৎ, আদিম পরিবেশে সেল্ফ রেপ্লিকেটিং রাইবোজাইম আসতে হলে রাইবোজাইম ও তার সম্পূরক টেমপ্লেট দুটো অণুরই একসাথে আসতে হবে। জনসন ও তার সহকর্মীরা দেখিয়েছেন যে, আংশিকভাবে নিজের কপি তৈরী করতে পারে এরকম একটি রাইবোজাইমের নিউক্লিওটাইডের সংখ্যা ১৮৯। সুতরাং, উক্ত স্পেসিফিক রাইবোজাইম এবং তৎসংশ্লিষ্ট সম্পূরক ও সুনির্দিষ্ট টেমপ্লেট-এর একসাথে আসার সম্ভাব্যতা ৪১৮৯ x ৪১৮৯ তথা ৪(১৮৯+১৮৯=৩৭৮) তথা প্রায় ১০২৭৭, যা বিশ্বজনীন সম্ভাব্যতার সীমা ১০১৫০ কে ছাড়িয়ে যায় (অর্থাৎ, অসম্ভব)। অথচ, পুরোপুরি কপি করতে পারে এরকম একটি রাইবোজাইমে নিউক্লিওটাইড সংখ্যা লাগবে আরও বেশী।  অন্যদিকে, অর্গেল ও জয়েস দেখিয়েছেন যে, এরকম দুটি আরএনএ খুজে পাওয়ার জন্য ১০৪৮ টি অণু খুঁজতে হবে যা পৃথিবীর মোট ভরকে অতিক্রম করে যায়। [৪] অর্থাৎ, আমরা দেখতে পেলাম আরএনএ এবায়োজেনেসিসকে উদ্ধার করতে কোন অবস্থাতেই সক্ষম নয়।

উপরের দীর্ঘ আলোচনার মধ্য দিয়ে আমরা তথ্য প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম ভাষার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানতে পারলাম। ভাষার ব্যবহারে ইন্টেলিজেন্স-এর গুরুত্ব সম্পর্কে অভহিত হলাম। জীবজগতের ভাষার সৌষ্ঠব, বৈচিত্র ও সৌন্দর্যকে উপলব্ধি করতে সক্ষম হলাম। পরিশেষে, এ সিদ্ধান্তে এসে উপনীত হলাম যে, কোন প্রকার অন্ধ, র‍্যাণ্ডম, অনিয়ন্ত্রিত, বস্তুগত ও প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় জীবজগতের ভাষার আগমন অসম্ভব এবং  জীবজগতের ভাষার আগমন ঘটাতে দরকার একজন বুদ্ধিমান স্বত্তার কার্যক্রম।

রেফারেন্স:
১. Meyer SC. Signature in the Cell. HarperCollins Publisher Inc. 2009; Page: 172

২. Dembsky WA. The Design Inference. Cambridge University Press. 1998; Page: 209

৩. Rana F. The Cell’s Design. Baker Books. 2009; Page: 175

৪. Stephen C. Meyer. Signature in the Cell. HaperCollins Publisher Inc. 2009; Page: 250



ব্রেইন ক্যানসার


নিপুণ একদম জানে বেঁচে ফিরলো,একটু আগে ডাক্তার জানালেন সে বেঁচে গেছে। ব্যাপার হচ্ছে গত তিন চারদিন তার প্রচন্ড মাথা ব্যাথা। তার ভাষ্যমতে মাথা ছিড়ে যাচ্ছে,ব্রেনে কে যেন হাঁটাহাঁটি করছে। তার অভিব্যক্তি শুনে আমরা মিটিং ডেকে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিলাম নিপুণের ব্রেইন ক্যান্সার!!
কিন্তু পরদিনই মাথা ব্যাথার সাথে ঘাড় ব্যাথা পিঠ ব্যাথা শুরু হলো। নিপুণকে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা দেয়া হলো "বেশী করে সিগারেট খাও,সুস্থ হয়ে যাবে"
পরদিন সকালেই নিপুণের চিৎকার "ভাই আমি সুস্থ হয়ে গেছি"
বুকটা কেঁপে উঠলো, খুব দুঃখ পেয়ে জিজ্ঞেস করলাম "ক্যামনে বুঝলা? সে বলল "ভাই পুরা সিগারেট খাইতে পারতেছি"
নাহ সে সুস্থ হয়নি। বিকালে ডাক্তার জানালেন তার প্রেসার লো। বেশী করে দুধ ডিম কলা যা খুশী তাই খেতে বললেন। শুরু হয়ে গেল যুদ্ধ। পেটভরে তিনপ্লেট তেহারী খাবার চারুকলাতে গিয়ে ৮টা চিকেন,তারপর আইসক্রিম,তারপর দুই গ্লাস কোক। ফেরার পথে আড়ং দুধ দুই প্যাকেট খেয়ে ফেলল।
তার পাশাপাশি আমরাও খাচ্ছি,খাওয়া দাওয়া একা করতে নেই। অসুস্থকে সঙ্গ দেয়া মানবতার কাছাকাছি ব্যাপার। অতএব নিপুণ একটা ডিম খাইলে আমরাও খাই,নিপুণের শখ হলো জাম খাবে,আমাদের শখ হলো লটকন খাবো। অতএব দুটাই কিনে আনা হলো। টানা তিন দিন পার হবার পর যখন ব্যাথা কিছুতেই সারছে না। আমরা সবাই মিলে প্রায় সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেললাম নাহ! নিপুণের ব্রেইন ক্যান্সারই হয়েছে,সে আর আমাদের সাথে থাকছে না। সে না থাকলে কি হবে তার স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির? তার ল্যাপটপটা ভালো,হার্ডডিস্ক ৫০০,আমার ল্যাপটপটা প্রায় নষ্ট। কি আর করবো ল্যাপটপটা আমার ভাগে পড়লো!
এছাড়া মোবাইল পড়লো আরেক ছোট ভাইয়ের কপালে,তার আবার দুইটা মোবাইল নষ্ট। কিচ্ছু করার নাই। গরীবের মধ্যে ভাগ করে দিলে যদি নিপুণ বেহেশতে যায় আরকি! ঝামেলা বাঁধলো নিপুণের বান্ধবীদের নম্বর নিয়ে! সবার বড় হিসাবে যদিও আমি অগ্রাধিকার পাবার কথা। কিন্তু ষড়যন্ত্র করে আমাকে সবাই বঞ্চিত করলো। যাকগে ওসব নিয়ে ভাবলে চলবে না। সময়টা খারাপ। অবশ্য নিপুণকে আমি কথা দিয়েছি ও মারা যাবার পর টানা এক সপ্তাহ ওর ছবি প্রোপিক লাগাবো,কাভার কালো করে দিবো! ও মনে মনে যে মেয়েটাকে পছন্দ করতো তাকে বলে দিবো "নিপুণ তোমাকে পছন্দ করতো,কখনও মুখ ফুটে বলে নাই। মরবার আগে বলে গেছে আমার মাঝে ওকে খুঁজে নিতে"
চোখে পানি চলে আসতেছে,ছেলেটাকে কথা দিয়েছিলাম ঈদে একটা শার্ট কিনে দিবো। বিকালে বিছানায় কাতরাচ্ছিলো জ্বরে,আমি ওর ল্যাপটপটা নিয়ে ইউজ করার চেষ্টা করছি। আর যাই হোক মরে গেলেতো আমাকেই এটা ইউজ করতে হবে!
কাতরানোর পরিমাণ বাড়ছে,ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলাম। ডাক্তার বুক মেপে মানে বুকের স্পন্দন দেখে,জ্বর মেপে,প্রেসার মেপে মুখ কালো করে বসে আছেন। আমাকে বললেন "ওর অভিভাবক কি আপনি?
-জ্বি আপাতত আমি!
ওর দিকে তাকিয়ে বললেন "টেনশন করার কোন কারন নাই,একটুও চিন্তা করবেন না। সুস্থ হয়ে যাবেন"
আমার দিকে ফিরে বললেন "ওর টাইফয়েড হয়েছে,নার্সিং দরকার"
আমার মাথায় সব হারানোর বাজ পড়লো,
নিপুণ দেখি হাসছে। জিজ্ঞেস করলাম "হাসছো কেন?
"ভাই এই প্রথম আমার একটা বড় রোগ হইছে,চলেন পার্টি দিই"
অতঃপর বাসার সবাইর জন্য গ্রীল চিকেন পরোটা, কোক নিয়ে রওনা হলাম!

Tuesday, November 10, 2015

বাতিল বিনাশে সদা তৎপর

নাস্তিক ও ওলামায়ে ছুঃ-

(ক) নাস্তিকঃ-
বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং সকল মিডিয়াতে নাস্তিক্যবাদ বা নাস্তিকদের নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে।
নাস্তিক্যবাদ (ইংরেজি ভাষায়: Atheism; অন্যান্য নাম: নিরীশ্বরবাদ, নাস্তিকতাবাদ) একটি দর্শনের নাম যাতে ঈশ্বর বা স্রষ্টার অস্তিত্বকে স্বীকার করা হয়না এবং সম্পূর্ণ ভৌত এবং প্রাকৃতিক উপায়ে প্রকৃতির ব্যাখ্যা দেয়া হয়। ইংরেজি ‘এইথিজম’(Atheism) শব্দের অর্থ হল নাস্তিকক্য বা নিরীশ্বরবাদ। এইথিজম শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে গ্রিক ‘এথোস’ শব্দটি থেকে। অষ্টাদশ শতাব্দীতে সর্বপ্রথম কিছু মানুষ নিজেদের নাস্তিক বলে স্বীকৃতি দেয়। পশ্চিমের দেশগুলোতে নাস্তিকদের সাধারণ ভাবে ধর্মহীন বা পরলৌকিক বিষয় সমূহে অবিশ্বাসী হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু বৌদ্ধ ধর্মের মত যেসব ধর্মে ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে হয় না, সেসব ধর্মালম্বীদেরকেও নাস্তিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিছু নাস্তিক ব্যক্তিগত ভাবে ধর্মনিরপেক্ষতা, হিন্দু ধর্মের দর্শন, যুক্তিবাদ, মানবতাবাদ এবং প্রকৃতিবাদে বিশ্বাস করে। নাস্তিকরা কোন বিশেষ মতাদর্শের অনুসারী নয় এবং তারা সকলে বিশেষ কোন আচার অনুষ্ঠানও পালন করে না। অর্থাৎ ব্যক্তিগত ভাবে যে কেউ, যে কোন মতাদর্শে সমর্থক হতে পারে,নাস্তিকদের মিল শুধুমাত্র এক জায়গাতেই, আর তা হল সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব কে অবিশ্বাস করা।
নাস্তিকতাবাদের ভিত্তি হচ্ছে বস্তুবাদ। বর্তমানে এটা বিজ্ঞানের নামে বিবর্তনবাদ তত্ত্বের খোলসে প্রচার করা হয় ।  এর নৈতিকতার ভিত্তি হচ্ছে ডারউইনবাদ।
অন্যদিকে ডারউইনবাদী নৈতিকতার কোন মাপকাঠি নেই। এটা প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। পরিবেশে টিকে থাকার জন্য যা দরকার সেটাই হচ্ছে বিবর্তনবাদীয় নৈতিকতার ভিত্তি। যেমন খুন, ধর্ষণ, সমকামীতা, প্রতারণা, মিথ্যা বলাও এই নৈতিকতার অন্তর্ভূক্ত হতে পারে।
নাস্তিকরা নিজেদের পশু মনে করে থাকে :
ডারউইনিয়ান বিবর্তনবাদ তত্ত্ব অনুযায়ী মানুষকে উন্নত প্রজাতির পশু হিসেবে গণ্য করা হয়। তাই পশুর স্বভাব-চরিত্রের সাথে মিল রেখে প্রতিনিয়ত রচিত হয় নাস্তিক্যবাদী/ডারইউনবাদী নৈতিকতার গাইড লাইন!
আস্তিক্য নৈতিকতা অনুযায়ী পৃথিবীর সব সমাজেই অবৈধ কর্ম অত্যন্ত নিন্দনীয় ও প্রচণ্ড শাস্তিমূলক অপরাধ। কিন্তু নাস্তিক্য/ডারউইনবাদী নৈতিকতা অনুযায়ী ধর্ষণকে পজিটিভ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয়! বায়োলজি প্রফেসর রান্ডি থর্নহীল ও নৃ-বিজ্ঞানী ক্রেইগ পালমার তাদের লিখিত “Natural History of Rape” বই-এ ডারউইনিয়ান বিবর্তনবাদ অনুযায়ী দাবী করেন অবৈধ কর্ম হচ্ছে প্রাকৃতিক বা ন্যাচারাল বা এডাপ্টিভ (Adaptive), কেননা প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে কোন প্রজাতিকে টিকে থাকার জন্য অবৈধ কর্ম সহায়ক! পুরুষেরা নাকি অবৈধ কর্মের মাধ্যমে তাদের জীন ছড়িয়ে দেয় যা তার বংশধারা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে!
 নাস্তিকরা নিজেদের পশু হিসাবেই মনে করে থাকে।যার কারণে এদের আচার আচরণ হয় পশুর মত ।
তাহলে সহজেই বোঝা গেলো, এসকল নাস্তিকরা মানুষ সমাজের লোক নয়। এরা পশু। সূতরাং এসকল পশুদের মানব সমাজে থাকার কোন উপযুক্ততা দেখি না। এদেরকে সভ্য সমাজ থেকে বের করে দিয়ে জঙ্গলে পাঠিয়ে দিয়ে শুয়োর , শৃগালের সাথে থাকার ব্যবস্থা করে দেয়া উচিত বলে মনে করি।

পশুদের কাছ থেকে কখনো বিবেক সম্পন্ন কথা আশা করা বোকামী। তাই এসকল নাস্তিকরা পবিত্র ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে কথা বলে। পবিত্র জীবন বিধান নিয়ে কটাক্ষ করে।সভ্য জগতের সমাজে কি বনের পশুরা বাস করতে পারে ?অথচ মিডিয়াতে এসকল নাস্তিক নামক বিকৃত রুচির পশুদের নিয়ে দালালী দেখে অবাক হতে হচ্ছে !!!
আজ ৯৮ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত বাংলাদেশে নাস্তিকদের স্থান দেওয়া হয়। মৃত্যুর পর যেখানে নাস্তিকদের পশুর আস্তানায় নিক্ষেপ করার কথা সেখানে এদের সম্মান দেখান হয় ! নাউযুবিল্লাহ!
(খ) বাংলাদেশে নাস্তিকতাঃ-
২০০৫ সালে সামহোয়ার ইন ব্লগ এর মাধ্যমে সর্বপ্রথম নাস্তিকতা ব্যাপকাকারে বিস্তার লাভ করে । যার পরবর্তিতে নাগরিক ব্লগ, সচলায়তন , ইষ্টিশন ব্লগ সহ অনেক ইসলামবিদ্বেষি ব্লগ তৈরি হয়।
প্রথম সারীর ১৮ জন ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিক এর লিস্ট যারা এই বাংলাদেশে নাস্তিকতার জন্ম দিয়ে পবিত্র দিন ইসলামের বিরোধিতা করে গেছে আজিবন।

১। আহম্মক শরীফ: নতুন প্রজন্মের অনেকেই এই নাস্তিকের নাম জানে না। তার একটা বিখ্যাত উক্তি- “পুরুষদের যদি সততা দরকার না হয় তবে নারীদের সতীত্বের কেন দরকার? নাউযুবিল্লাহ । স্বঘোষিত নাস্তিক তার ইচ্ছা মেনে মৃত্যূর পর তার জানাজা এবং কবর কোনটাই হয়নি।
২। হনুমান আজাদ: বাংলা সাহিত্যের অশ্লীল ও কুরুচিপুর্ণ লেখার জনক। সারাজীবন ধর্মের প্রতি বিষোদগার করে গেলেও মৃত্যূর পর ধর্ম মেনে ঠিকই তার জানাজা ও কবর দেয়া হয়েছে, সে এটাই চেয়েছিল কারন মুখে নাস্তিকতার বড় বড় বুলি আওড়ালেও মৃত্যূ পরবর্তী জীবন নিয়ে সম্ভবত সে ভীত ছিল।তার মেয়ে মৌলি আজাদের ভাষায়-মাত্রাতিরিক্ত অশ্লীল শব্দ থাকায় ঘৃনাবোধ করত।  
৩। আরজ খবিস মাতব্বর: অতি সাধারন অশিক্ষিত এক কৃষক হয়েও সে বাংলার নাস্তিক সমাজের মধ্যমনি। ইসলামী জ্ঞানের স্বল্পতা থাকার দরুন না বুঝেই ইসলাম ধর্ম নিয়ে অনেক অভিযোগ উত্থাপন করেছিল।
৪। কবি শামসু শয়তান: শামসু শয়তান পবিত্র আযান নিয়ে বাঝে মন্তব্য করেছিল। নাউজুবিল্লাহ। তাকে একবার প্রশ্ন করা হয়েছিল- আপনি কি চান আপনার কবর হোক আপনার খালার কবরের পাশে? নাস্তিকটা জবাব দিয়েছিল-আমি তো আমার কবর হোক এটাই চাই না।
৫। তসলিমা মালউন: তাকে চেনে না এমন লোক খুব কমই আছে। তার একটি বিখ্যাত উক্তি-পুরুষরা যেমন গরম লাগলে খালি গায়ে ঘুরে বেড়ায় নারীরাও তেমনি খালিগায়ে ঘুরে বেড়াবে। সে কি মাপের ইসলামবিদ্বেষী সেটা নিশ্চয়ই কাউকে বুঝিয়ে বলতে হবে না।
৬। লইত্যা কাজ্জাবঃ  তাকে তো সবাই চেনেন। যে কিছুদিন পুর্বে পবিত্র হজ্ব সম্পর্কে বাঝে মন্তব্য করেছে।
৭। লালন উম্মাদঃ  সুবিধাবাদী সেক্যুলার। কোন ধর্ম পালন করতো না। জীবনে যতবার নেশা টেনেছে ততবার ভাত খেয়েছে কিনা সন্দেহ।
৮। জাফর ষাড়ঃ বাংলাদেশের নাস্তিকতা প্রচারের মিশন দিয়ে আমেরিকার একটি বিশেষ সংস্থা তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে বলে ধারনা করা হয়। তরুন সমাজকে নাস্তিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নিজে মুক্তিযুদ্ধ না করলেও জাফর এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি করে পেট চালায়।
৯। লেখক আনিসুল বকঃ সেক্যূলারপন্থী লেখক আনিসুল হক নাস্তিকপন্থী পত্রিকা প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক। ১৯৯১ সালে সে কুরআনের একটি সূরাকে ব্যঙ্গ করে প্যারোডি সূরা রচনা করে, বছরখানেক আগে তার ঐ লেখা পুনঃপ্রকাশিত হলে দেশ উত্তাল হয়ে ওঠে।
১০। সুলতানা চক্রবর্তি: জন্মসূত্রে মুসলমান হলেও বিয়ে করেছে শ্রী সুপ্রিয় চক্রবর্তী নামে এক হিন্দুকে। কপালে সবসময় একটা ট্রেডমার্ক টিপ থাকে। সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহ ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম তুলে দেয়ার জন্য বহু বছর ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছে এই কুখ্যাত সেক্যুলার।
১১। কবির খবীস: চরমপন্থী এই নাস্তিক একবার বলেছিল- তোমরা আমার মরণের সময় মোহাম্মদের জ্বালাও-পুড়াও ঐ কালেমা শুনাবে না, বরং রবীন্দ্রনাথের একটি সংগীত আমাকে শুনাবে
১২। আসিফ ক্রাইষ্ট: বর্তমান সময়ের আরেক কুখ্যাত নাস্তিক। অন্যান্য নাস্তিকের মত এটাও চরিত্রহীন ও লম্পট।
১৩। শফিক শয়তান: বাংলাদেশে “ভ্যালেন্টাইন ডে” নামক বিজাতীয় সংস্কৃতির প্রবর্তক। ১৯৯৩ সালে এই নাস্তিক সর্বপ্রথম তার পত্রিকা যায়যায়দিন এর মাধ্যমে এদেশে ভালবাসা দিবস এর প্রচলন ঘটায়।

(গ) ওলামায়ে ছুঃ-
উলামায়ে ‘ছূ’দের নিকৃষ্ট ধারণা সম্পর্কে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, ‘তারা মনে করে যে, তারা কিছু একটা হয়েছে। বড় কিছু একটা সম্পদ অর্জন করেছে, কিন্তু প্রকৃত কথা এই যে, এই ধারণা ও বিশ্বাস সম্পূর্ণ মিথ্যা। তারা শয়তানের প্রভাবে পড়েছে। শয়তান তাদেরকে আল্লাহ পাক-এর যিকির ও কথা ভুলিয়ে দিয়েছে। ফলে তারা শয়তানের দলভুক্ত হয়েছে। নিশ্চয়ই জেনে রাখ, যারা শয়তানের দলভুক্ত-শয়তানের দোসর, উলামায়ে ‘ছূ’- তাদের জীবন ব্যর্থ, ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
মহান আল্লাহ পাক তিনি ‘পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ উনার ২১৭ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমাদের মধ্য থেকে যে বা যারা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম থেকে ফিরে যায় অর্থাৎ মুরতাদ হয়ে যায় অতঃপর সে বা তারা কাফির অবস্থায় মারা যাবে। যার ফ্ললে তাদের ইহকালীন ও পরকালীন সব আমলই নষ্ট হয়ে যায় এবং তারা অনন্তকাল ধরে জাহান্নামে থাকবে।”
মূলত ওলামায়ে ছু আর নাস্তিক মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ । নাস্তিকেরা সরাসরি ইসলাম উনার বিপক্ষে যায় আর ওলামায়ে ছুরা মুসলমান নাম ধারন করে ইসলাম এর বিপক্ষে যায় । দুদলই জাহান্নামী ।
কুখ্যাত কিছু ওলামায়ে ছুদের হাকিকত জানলে বুঝতে পারবেন এরা নাস্তিক হতেও নিকৃষ্ট ।
a) দেওহিন্দু -
সম্মানিত নবী ও রসূল, আবুল বাশার হযরত আদম ছফীউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে হিন্দুদের কথিত দেবতা ‘শিব’ এবং উনার সম্মানিত আহলিয়া উম্মুল বাশার হযরত হাওয়া আলাইহাস সালাম উনাকে হিন্দুদের কথিত দেবী ‘পার্বতী’ বলে-হিন্দুদের দালাল উলামায়ে হিন্দের কুলাঙ্গার দেওবন্দী খারিজী ওহাবী মালানা ইলিয়াছ ও তার সমর্থক সকলেই কাট্টা মুরতাদ হয়ে গেছে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ সালে দেওবন্দীরা ইতিহাসের আরেক জঘন্য কুফরীমূলক বক্তব্য দিয়েছে, যা কোনো মুসলমানের আক্বীদা হতে পারে না। দেওবন্দের মুফতে ইলিয়াস বলেছে যে, হিন্দুদের দেবতা শিব মুসলমানদের প্রথম নবী। (নাউযুবিল্লাহ)। সে আরো বলেছে যে, দেবতা শিব ও দেবী পার্বতী সকলের আদি পিতা-মাতা। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!
প্রকৃত সত্য হলো- দেওবন্দীরা যেহেতু জাতে হিন্দু তাই তাদের মধ্যে হিন্দুপ্রীতিও এত গভীর। আর এই গভীর হিন্দুপ্রীতির কারণেই শুধু এবারেই প্রথম নয় বরং এর আগেও আরো বহু বার তারা হিন্দুদের ব্যাপারে মিথ্যা ছাফাই গেয়েছে। নাউযুবিল্লাহ! যেমন-
১. দেওবন্দ মাদরাসার ১৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ৩০তম মাহফিলে ‘জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ’-এর মালানাদের আমন্ত্রণে হিন্দুদের প্রধান ইয়োগা গুরু রামদেব উপস্থিত হয়ে মাহফিলে গীতা পাঠ করে শোনায়। আর রামদেবের সাথে সাথে দেওবন্দী মালানারা ও ছাত্ররা গীতা পাঠ করে এবং যোগ ব্যায়াম করে।
২. দেওবন্দীরা ২০১১ সালে ফতওয়া দিয়েছিল যে, দেওবন্দী ও হিন্দুরা ভাই ভাই। নাউযুবিল্লাহ!
৩. দেওবন্দীরা আরো ফতওয়া দিয়েছিল যে, হিন্দুদের কাফির বলা যাবে না। নাউযুবিল্লাহ!
৪. ২০০৫ সালের ২৯মে দেওবন্দী মালানা আসাদ মাদানী জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের ২৮তম বার্ষিক সভায় সোনিয়া গান্ধীকে আমন্ত্রণ জানায় ও একসাথে মিটিং করে। নাউযুবিল্লাহ!
৫. প্রতি বছর দেওবন্দ মাদরাসা থেকে মুসলমান উনাদেরকে গরু কুরবানী করতে নিষেধ করা হয়। যেমন- গত ২০১১ সালে তারা ফতওয়া দিয়েছে, মুসলমানদের গরু কুরবানী দেয়া উচিত নয়; কারণ গরু হিন্দুদের দেবতা। নাউযুবিল্লাহ!
৬. ভারতে মুসলমানরা এত নির্যাতিত হওয়ার পরও তারা বলছে ভারতে মুসলমানদের জিহাদ করার কোনো দরকার নেই। তারা ভারতকে দারুল আমান বলে ঘোষণা দিয়েছে, যেখানে জিহাদের কোন প্রয়োজন নেই।

b) কওমি -হেক্বারতে ইসলাম- যাদের আক্বিদা দেওহিন্দুদের আক্বিদা। এরা মুখে নাস্তিকদের বিরুদ্ধে বলে থাকে কিন্তু হাক্বিকত ভিন্ন। । লালা বাবা তেতুল পুজারী আহাম্মক শফি একসময় গর্তে লুকানো ইদুরের মত হুংকার দিয়ে বলেছিল " নাস্তিকদের বিরুদ্ধে আমরন লরাই চলবে " দিন গেল, মাস পার হয়ে বছর চলে যায় কিন্তু নাস্তিকদের বিরুদ্ধে তেতুল শফির বচন আর শুনা যায়না।
কাট্রা নাস্তিক অভিজিৎ জাহান্নামে গেল ,সরকার নিরাপরাধ মুসলমানদের হয়রানী করছে কিন্তু তেতুল শফী এখন আর কিছু বলেনা।  কিন্তু লালা শফির কোন মিউ মিউ শুনা যায়না।কারন সরকার লালা বাবার মুখে ঝোয়াল (গরুর মুখ বন্ধনি) পরিয়ে দিয়েছে জনগনের ৩২ কোটি টাকা মুল্যের রেলের সম্পত্তি দিয়ে। যার কারনেই লালা বাবার মুখে বের হয় "সরকার, আ.লীগ, ছাত্রলীগ সবাই আমাদের বন্ধু" …
এই হেক্বারতে ইসলাম উলটা অভিজিৎ হত্যার নিন্দা করছে ও বিচারের দাবী করছে !! এরাই হল প্রকৃত ধর্ম ব্যবসায়ী যারা দুনিয়ার বিনিময়ে দ্বীন বিক্রি করে , পরকালে যাদের স্থান জাহান্নামের অতল গহবরে।

c) জামায়াতঃ- ”ধর্ম ব্যবসায়ো জামায়াত নাকি আল্লাহর আইন চালু করবে । এই সি আই এ এর এজেন্ট নাস্তিকদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করে উলটা নাস্তিক অভিজিৎ হত্যায় এরা নিন্দা ও হত্যার বিচার দাবি করে।নাউযুবিল্লাহ ।  এরা কি জানেনা ইসলামে নাস্তিক হত্যাকারির বিচার হয়না ?

d) গাট্রি তাবলীগ জামায়াত - ল্যাংড়া ইলিয়াসের স্বপ্নে পাওয়া এই গাট্রি ছয় উছুলী তাবলীগ হল পৃথিবী সেরা কাপুরুষের কাফেলা । দেশ ধ্বংস হয়ে যাক, নাস্তিকে দেশ ভরে যাক, দেশ থেকে ইসলাম নিশ্চিনহ হয়ে যাক তাতে এদের কিছু যায় আসেনা। গাট্রি কাধে নিয়ে ফায়দার কথা বলে কিন্তু ঈমান যে এদের নাই তা ফিকির করেনা। এই ছয় উছুলী তাবলীগ বিশ্ব ইস্তেঞ্জায় চার্লি এবদো পত্রিকায় কার্টূন ছাপানোয় কাফিরদের পক্ষাবলম্বন করে বিবৃতি দিয়েছিল ।  
হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “পৃথিবীর পূর্বপ্রান্তে যদি একটা বদ কাজ হয় পশ্চিমপ্রান্ত থেকে কেউ তা সমর্থন করে তবে সেও সমান গুনাহে গুনাহগার হবে।

৪. কাফির মুশরিক
কাফিরেরা এবং তাদের অনুসারিরা সবচেয়ে নিকৃষ্ট প্রাণী । উভয়ের পরিণামও সবচেয়ে ভয়াবহ ।মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্ট জীবের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট হচ্ছে কাফিরেরা- এ কথা মুসলমান মাত্রই সকলকে মনে প্রাণে বিশ্বাস করতে হবে। এ কথা যে মুসলমান বিশ্বাস করবে না, সে মুসলমান থাকতে পারবে না। কেননা এ কথা মুবারক স্বয়ং খালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক উনার। আর মুসলমানকে মহান আল্লাহ পাক উনার কালাম বা উনার নাযিলকৃত কিতাবসমূহের উপর বিশ্বাস স্থাপন করেই মুসলমান হতে হয়। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার পবিত্র কালাম কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই সমস্ত প্রাণীর মাঝে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট কাফিরেরাই সবচেয়ে নিকৃষ্ট, যারা ঈমান আনেনি।” (পবিত্র সূরা আনফাল শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৫)
কাফিরদের পরিণতি সম্পর্কে স্বয়ং খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই যারা কাফির এবং কুফরী অবস্থায় মারা গেছে, তারা যদি তাদের কুফরীর কাফফারা বাবদ যমীন পরিপূর্ণ স্বর্ণ মহান আল্লাহ পাক উনাকে দেয় (শাস্তি থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য) তবুও তা গ্রহণ করা হবে না। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি এবং তাদের জন্য কোনো সাহায্যকারীও থাকবে না। অর্থাৎ কাফিরদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক তিনি এত অসন্তুষ্ট যে, এরা মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে কোনো রকম সাহায্য তো পাবেই না; বরং মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত এবং উনার কঠিন আযাবে-গযবে অনন্তকালের জন্য গ্রেফতার থাকবে।
আমেরিকা ইউরোপ ইহুদী সংঘ প্রতিবাদ জানায় । মানধিকারের কথা বলে । যে সন্ত্রাসী আমেরিকা নিজের দেশে প্রমানিত হত্যাকান্ডের তদন্ত করে বিচার করতে পারেনা সে আমেরিকা - কোন সাহসে বাংলাদেশে নাস্তিক হত্যার তদন্তে সাহায্য করতে চায় ?

আজ আমেরিকায় পুলিশের গুলিতে হত্যাকান্ড হয়েছে । কারন এর পুর্বে কৃষ্ণাঙ্গ হত্যায় আমেরিকা বিচার করেননি । আবার এই আমেরিকাই ৩ মুসলিম শিক্ষার্থীকে গুলি করে শহীদ করার প্রতিবাদ করেনি ।বলেনি এর তদন্ত করে বিচার করবে। তাহলে দেখা যাচ্ছে আমেরিকা নিজেই নিজের দেশে আইন এর সঠিক প্রয়োগ করছেনা।তাহলে কি করে সে বাংলাদেশে আসার কথা বলে ?আবার এসকল হত্যাকান্ডে না ইহুদি সংঘ না ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন কোন প্রতিবাদ জানিয়েছে ।
আমেরিকায় ডাঃ আফিয়া সিদ্দিকি , কৃশাঙ্গ হত্যা , ৩ মুসলিম হত্যা , গুয়ানাতানামো , আবু গারিব কারাগার , মুসলিম নির্যাতন এর সময় এরা কোথায় ছিল? এরাই তো নাস্তিক ইসলামবিদ্বেষিদের শেল্টার দেয় ।
অথচ এরাই এক নাস্তিকের জাহান্নামে যাওয়ায় ঘেউ ঘেউ শুরু করেছে ।ওহে শুয়োর আমেরিকা ,গায়ে মানেনা আপনি মোড়ল বনার দিন শেষ । এখন তদের উপর একশন ,ডাইরেক্ট একশন শুরুর সময়।
নাস্তিক , ওলামায়ে ছু আর কাফির একই সূত্রে গাঁথা।

৪. সরকারের করনীয় - সরকার কাট্রা ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিক অভিজিৎ হত্যার কারণে এক ব্লগারকে আটক করেছে ।অভিজিৎ রায় হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত উম্মাহাতুল মুমীনিন আলাইহিন্নাস সালাম ও দ্বীন ইসলাম সম্পর্কে যে বাঝে মন্তব্য করত তা একজন মুসলমানের পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন।নিজের মায়ের বিরুদ্ধে যদি কেউ কটূ কথা কিম্বা বাঝে মন্তব্য করে তখন কোন সন্তানই তা সহ্য করতে পারেনা । উক্ত সন্তান তীব্র প্রতিবাদ করে ,এমনকি খুনাখুনিও হয় । তাহলে হযরত উম্মাহাতুল মুমীনিন আলাইহিন্নাস সালাম হলেন সকল উম্মতের মাতা , উনাদের নিয়ে বাঝে মন্তব্য করলে কোন মুসলমান কি সইতে পারবে ?আজ অনলাইনে, মিডিয়ায় লাগাতার ইসলাম এর বিপক্ষে লিখা লিখেই যাচ্ছে কিন্তু সরকার কি তার ব্যবস্থা নিয়েছে ?যারা অন্যায় করে লিখল তাদের গ্রেপ্তার না করে সরকার কি করে তাদের অন্যায় এর প্রতিবাদকারীকে গ্রেপ্তার করল ?
তাহলে কি মুসলমান অন্যায় এর প্রতিবাদ করতে পারবেনা?মুসলমান কি নাস্তিকদের বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারবেনা?সরকার কি পারবে ১৮ কোটি জনগণের মুখ বন্ধ রাখতে?
সরকার জনগনকে কি বার্তা জানাল?
জনগন কি মনে করবে? জনগন মনে করবে সরকার নাস্তিকদের পক্ষে আর ইসলামের বিপক্ষে ,যার বদনাম অলরেডী সরকার বহন করছে। আর সরকারকে উচ্ছেদ করতে ষড়যন্ত্রকারীরা ইহাই চায় যেন আরও একটি ৫ মে এর উত্থান হয়,যাতে সরকারের ভিত নড়ে ওঠে ।
সরকারের নাস্তিকদের বিচার না করে যদি এভাবে মুসলমানদের হৃদয়ে আঘাত দেয় তাহলে ষড়যন্ত্রকারীরা সহজেই জনগণকে উষ্কে দিয়ে গনআন্দোলনের পটভুমি তৈরি করে দিবে। আর এ ব্যাপারে দেশি-বিদেশি উভয়পক্ষই কাজ করছে। অবাক হল যে বিদেশী ষরযন্ত্রকারী আমেরিকা সরকারকে উৎখাত করতে চায় সে আমেরিকাকে একটা জাহান্নামের কীট এর মৃত্যু তদন্তে ঢেকে আনছে!!!
-সকল নাস্তিকদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে ।
-ইসলামের খিলাপ কর্মকান্ড বন্ধ করতে হবে ।
-কাফির ,ফকির আমেরিকাকে ঝেটে বিদায় করে দিতে হবে।

অন্যথায় সরকারকে কঠিন কাফফারা আদায় করতে হবে ।


ওর মাথা ফুলে গিয়েছিল। প্রায় দ্বিগুণ!! ঢাকায় ডাক্তার দেখানো হয়, কিছু ধরা পরে না ,ভারতেও বোধ হয় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল- নিষ্কাম প্রচেষ্টা। পরে এক কবিরাজকে দেখানো হয়, তিনি নাকি দেখেই সব কিছু বলে দেন। সন্তান হবার সময় আমার বোনের বাসায় যে সমস্যা ছিল, তাও তিনি বলে দেন। সবাই অবাক। এরপর ওই কবিরাজ বাড়িতে এসে মাটি খুঁড়ে তাবিজ বের করেন। একটা ঔষধ দেন এবং আশ্চর্যজনকভাবে সব ঠিক হয়ে যায় আস্তে আস্তে। কবিরাজ কোন টাকা পয়সা নেয়নি। জিনিসটা আমার নিজ চোখে দেখা, আমার পরিবারের কাহিনী। তাই অস্বীকার করার ওয়ে নাই।
প্রসঙ্গত বলে রাখি, আমাকেও ছোটবেলায় “জীন ধরেছিল”। মহাস্থানগড়ের ওই জীন নাকি তার ছোট বোনের “খেলার সাথী” হিসেবে আমাকে চুজ করেছিল! এরকম ঘটনা অনেক শোনা যায়। ব্যাপারটা আউলফাউল, বুজরুকি দিয়েই আমি উড়িয়ে দিতাম। (তবে ভাবতে ভাল লাগত, ছোটবেলায় আমি না জানি কত্ত সুন্দর ছিলাম... মানুষ তো মানুষ, জীন ও...... :P)
কিন্তু এবার আর ওড়াতে পারলাম না...
পৃথিবীতে অনেক সময়েই শোনা যায় অতিপ্রাকৃত ঘটনার কথা। জীন ভুত , “মুজিজা” এসব তো আছেই, সাথে আছে বৌদ্ধ ও হিন্দু সন্ন্যাসীদের নিজেদের শরীরের ওপর অসাধারণ কন্ট্রোলের কাহিনী, মার্শাল আর্ট পারদর্শীদের “স্পিরিট বম্ব” এর কথা, ব্ল্যাক আর্টের কথা। আগে সব উড়িয়ে দিতাম। এবার এগুলোর সত্য মিথ্যা নিয়ে আমি একটু স্টাডি করি। বুঝতে পারি, সব যদি সত্য নাও হয়, কিছু সত্য। আমি ধাঁধাঁয় পড়ে যাই। নতুন থিউরী খুঁজি।
প্রাথমিকভাবে আমি সব পর্যালোচনা করে নিচের থিউরী বের করি –
“হজরত মুহাম্মদ, গৌতম বুদ্ধ, ব্ল্যাক আর্টিস্ট- এদের হয়ত মুজিজা ছিল। তারা অনেক কিছু পারত, যা অন্য কেউ পারত না। অলৌকিক কিছু। সত্য – মিথ্যা যাই হোক, ব্লাফ হোক আর পবিত্র হোক, ধরে নেই এর কিছু অন্তত সত্যি। অন্তত ব্ল্যাক আর্ট সত্য। বৌদ্ধ সন্যাসীদের ক্ষমতা সত্য। তাহলে এরা এই ক্ষমতা কই পেল?? কে দিল?? সাধারনভাবে এর উত্তর হবে- “ঈশ্বর।”। আমারও প্রথমে তাই মনে হয়। ধর্ম টর্ম কিছু না। আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইলে তিনি দেন। সেটা যেই হোক। কিন্তু আরেকবার রিভাইজ দিতে গিয়ে আমি এর খুত পেলাম-
হজরত মুহাম্মদ ছিলেন আস্তিক, গৌতম নাস্তিক আর ব্ল্যাক আর্টিস্টরা স্রষ্টা বিরোধী, রাস্পুটিন ছিল চরিত্রহীন। কিন্তু সবার “অলৌকিক ক্ষমতা ছিল”। তারমানে এই ক্ষমতা অর্জন সৃষ্টিকর্তার কাছে চাওয়া, তার ওপর বিশ্বাসের ওপর ডিপেন্ড করে না, সাধু হবার ওপরও না। অন্য কোন ব্যাপার আছে। সেটা কি?? সেটা হল স্টাইল... পদ্ধতি।
মুহাম্মদ হেরার গুহায় ধ্যান করেছিলেন, গৌতম গাছের নিচে। বুদ্ধিস্টরা মেডিটেশন করে। ব্ল্যাক আর্টিস্টরাও ধ্যান, “জিকির” টাইপ কি সব করে (যতদুর জানি...) অর্থাৎ ব্যাপারটা সিমিলার। তাহলে কি দাঁড়ালো?? এই লোকগুলা একটা নির্দিষ্ট সময় ধরে, নির্দিষ্ট কারণে নির্দিষ্ট প্যাটার্নে ধ্যান, তথা চিন্তা করেছিল। এর ফলে তারা প্রকৃতির কিছু নতুন নিয়ম (যা আর কেউ জানে না) উপলব্ধি করে। পুরোটা চিন্তা দ্বারা উদ্ভাবিত। তারা নিজেরাও তেমন একটা ব্যাখ্যা জানত না জিনিসটার। কিন্তু করতে পারত। ... আচ্ছা, কি জানি মিল মিল লাগছে না???...


মনে আছে রামানুজনের কথা?? ভারতের অশিক্ষিত “গণিতবিদের গনিতবিদ”। তিনিও তো গনিত সল্ভ করতে পারতেন, কিন্তু ব্যাখ্যা করতে পারতেন না। গনিতের বিশাল বিশাল সমস্যা তিনি সমাধান করতেন ভাসা ভাসা ভাবে। তিনি বলতেন- তার কাছে রাতে স্বপ্নে দেবী আসত – বলে দিত গনিতের সমস্যার সমাধান। তিনি মাঝ রাতে উঠে অংক করতেন।
মানুষ স্বপ্নে কি দেখে?? তিনি যা তার অবচেতন মনে ভাবেন, তাই দেখেন। রামানুজন তার এই চিন্তার ফলাফল পেয়েছিলেন দেবীর মুখ থেকে। কারণ তিনি ছিলেন অসম্ভব গোঁড়া ধার্মিক। ঠিক যেমনটা মুহাম্মদ পেয়েছিলেন আলোর তৈরি “ফেরেস্তা”র কাছ থেকে। স্বপ্ন হোক, কল্পনা হোক, হেলুসিনেশন হোক- একই ব্যাপার ... সবার ক্ষেত্রে একই জিনিস খাটছে ... হঠাৎ আইনস্টাইনের কথা মনে পড়ল। আপেক্ষিক তত্ত্ব কিভাবে আবিষ্কার করলেন – তার উত্তরে তিনি বলেছিলেন যে তিনি ভাবতেন তিনি আলোর কনার ওপর বসে ঘুরে বেরাচ্ছেন। তখন দেখলেন জগত কত আলাদা। এভাবেই জাস্ট একটা ভাবনা থেকেই আসলে এসেছে সবকিছু – বিজ্ঞান, গনিত, ধর্ম ,সমাজ কিছুই এর বাইরে না। নবী ভেবেছিলেন তার সমাজের কথা, উত্তর পেয়েছিলেন। তখনকার সমাজের জন্য এটা ছিল দরকারী। আবার বিজ্ঞানী ভাবেন বিজ্ঞানের সমস্যার কথা- উত্তর পান... আর অলৌকিক কাজ?? ১০০ বছর আগে ব্যাঙ্গের পাখা গজানো কি ছিল?? অলৌকিক, তাই না?? এখন?? জিনেটিক ইঞ্জিনিয়াররা চাইলেই তা করতে পারবেন। একটা নির্দিষ্ট যুগের মানুষের ধারনা ও জ্ঞানের বাইরে যা ঘটে, তাই আমরা “অলৌকিক”, “জাদু” বলি। এগুলোও কিছু নতুন নিয়ম, আর কিছু না...কিছু অজানা সুত্র। ওই সুত্রই তারা পারফর্ম করেন।
আবার এই “ধ্যানে” কিছুর ব্যাখ্যা তারা বের করেন, কিছু পারেন না। বিজ্ঞানে তাকে বলি প্রস্তাবনা, আর ধর্মে সেটাকে “মনে রেখ আল্লাহই সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক” বলে ব্যাক্ষার উরধে রাখা হয়।  ”
আমার এই তত্ত বের করার পর আমি আমি প্রচণ্ড আনন্দিত হই। এটা ছিল আমার কাছে সবকিছুর একযোগীকরণ। স্ট্রিং থিউরীর মতো।   কিন্তু  সমস্যা থেকে যায়। অনেকে শারীরিকভাবে লিমিটের বাইরে চলে যান। যেমন পানির নিচে অনেকক্ষণ থাকা, ব্যাথা সহ্য করা- এটা কিভাবে হয়?? উত্তর পেলাম কদিন পরই – মেডিটেশন নিয়ে পড়ার সময়।
মেডিটেশন করে আমাদের শরীরের “লিমিট” অনেকদুর বাড়ানো যায়। অনৈচ্ছিক অংশের ওপর নিজের কন্ট্রোল আনা যায়। যেমন হৃদকম্পন মিনিটে ২ বার পর্যন্ত করা যায়, তখন নিশ্বাস না নিয়ে অনেকক্ষণ থাকা যায় ... আর এ সবই সাইন্টিফিক। বৌদ্ধ সন্যাসী রা তো আছেনই, ক্রিস অ্যাঞ্জেলস ও এই মেডিটেশন করে। আমি টিভি তে দেখেছি।
বাকি থাকল “স্পিরিট বম্ব”, টেলিপ্যাথি। আমি ন্যাট জিও তে দেখেছি - এগুলো আসলেই আছে। স্পিরিট বম্ব দিয়ে দূর থেকে টাচ না করেই মানুষকে আঘাত করা, ইভেন দেয়ালের ওপাশ থেকে অজ্ঞানও করে দেয়া সম্ভব। এসব সাইকিক সমস্যার ব্যাখ্যা আমি পেয়েছি অনেক পর। “কোয়ান্টাম এন্ট্যাঙ্গেলমেন্ট” সম্পর্কে জানার পর। দুটি কোয়ান্টাম কণার উৎস একই হলে, এদেরকে যদি মহাবিশ্বের ২ মাথায়ও নিয়ে যাওয়া হয়, একটার পরিবর্তনে আরেকটাও একা একা পরিবর্তিত হবে ...অর্থাৎ আমি একটা জিনিস চিন্তা করার সময় ব্রেন থকে যে ওয়েভ (তথা কণা) তৈরি হয়, তা অন্য কিছুকে বদলে দিতেই পারে ...  “কোয়ান্টাম এন্ট্যাঙ্গেলমেন্ট” সম্পর্কে আমি এর চেয়ে বেশি কিছু জানি না, তাই ব্যাখ্যা করতে পারব না। এটা আদৌ সম্ভব কিনা- আমি তা জানি না। “অলৌকিক” কিছুতে বিশ্বাস করার চেয়ে অন্তত বিজ্ঞানের সম্ভাবনায় আস্থা রাখা ভাল... তাই না??


এরপর আমার ধর্মীয় চিন্তা আর তেমন চেঞ্জ হয় নাই। ডক্টর সি জে ভেন্টর এর কৃত্রিম প্রাণ সৃষ্টি এ চেতনাকে দিয়েছে আরও শক্তি। মাঝখানে দুনিয়ায় খারাপ জিনিস এত বেশি দেখে আমি “ম্যালথিস্ট” হয়েছিলাম। গড আছে, কিন্তু সে ভাল না... আসলেই কিন্তু, আমরা ভাবি সব ভাল জিনিস গডের গুন, আর খারাপ গুলা সে “আমাদেরকে পরীক্ষা করতে দিসে”... উল্টাটা কি হতে পারে না??
যাই হোক, এই চিন্তা বেশিদিন থাকে নাই ...

আমরা এখনও শিওর না যে ঈশ্বর নাই। আমি তার কোন প্রমান পাই নাই। আমার বিশ্বাস আগামীদিনের পদার্থবিজ্ঞান তা বের করবে। তবে অনেকে মনে করেন এটা কখনও প্রমাণ করা যাবে না। হ্যাঁ, যদি মহাবিশ্ব ১টা বিচ্ছিন্ন সিস্টেম হয়। অর্থাৎ ঈশ্বর বাইরে থেকে এতে ভর, শক্তি কিছুই না দেন, তাহলে দুনিয়ার সব কিছু সুত্র দিয়ে ব্যাখ্যা করার পর ও শিওর হওয়া যাবে না তার অনস্তিত্তে ।তবে তখন প্রশ্ন জাগে তাকে বিশ্বাসে প্রয়োজনীয়তায়। এই বিষয়ে গবেষণা বাইরে এখন হচ্ছে। স্টিফেন হকিন্স সম্প্রতি প্রমান করেছেন যে মহাবিশ্ব তৈরি হতে ঈশ্বর লাগে না। প্রমাণটা অতি সুন্দর। আমরা জানি ব্ল্যাক হোলের আশপাশে সময় ধীর হয়ে যায়। হোলের ওপর বা ভিতরে সময়ের পরিবর্তন থেমে যায়। অর্থাৎ তা আক্ষরিক অর্থেই “নাই” হয়ে যায়।
আমাদের এই বিশাল মহাবিশ্ব একসময় একটা কনায় পুঞ্জিভুত ছিল। (বিগ ব্যাং) এটার আয়তন ছিল ক্ষুদ্র। ভর ছিল অসীম। অর্থাৎ এটাও ছিল একটা ব্ল্যাক হোল। বিস্ফরিত হবার আগে এটা ব্ল্যাক হোল-ই ছিল। অর্থাৎ সময় বলে কিছু ছিল না। তার মানে কার্যকারণ সম্পর্ক (CASUALITY) ছিল না। এই বিস্ফরনের “আগে” কিছু হয় নাই। “কারও জন্য” বা “কোন কারণে” এই বিস্ফোরন ঘটে নাই। অর্থাৎ মহাবিশ্ব সৃষ্টিতে কারও কোন হাত নাই ... অর্থাৎ গড নাই ...
তবে এখানে আমার কিছু প্রস্ন আছে। বলা হয়েছে এই সুপারএটম এসেছে  কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশন দিয়ে। আমি জতদুর জানি, কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশন হয় ভার্চুয়াল কনার। আর তাছাড়া  কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশন হয় একটা নির্দিষ্ট জায়গা, তথা স্পেসে। অর্থাৎ, আমাদের মহাবিশ্ব আরেকটার ভেতরে আছে?? আমি জানি না... পরাশুনা করা দরকার...:) আবার পুরো জিনিসটাই সময়ের ওপর নির্ভরশীল। নিচে ছবি হিসেবে সমীকরণটা দেয়া আছে ...
যেখানে সময়ই (t)নাই, সেখানে কিভাবে ফ্লাকচুয়েশন হবে?? কেউ যদি জানেন, আমাকে জানাবেন। আমি জানি না।
তবে আমি যা জানি, তা হল- আমি সব কিছুই আমার যুক্তিবোধ, জ্ঞান এর নিরিখে ব্যাখ্যা করব। এর বাইরে হুদাই কাউকে আনব না। কারণ যদি টানি, তাহলে তার সৃষ্টি, সে কিছু স্রিষ্টি করার আগে তার অবস্থান নিয়ে ক্যাচাল লাগবে। তাহলে তো একই হইল। দরকার কি?? উনি থাকলে কি আর না থাকলেই বা কি?? আমাদের জীবনে তো তার কোন প্রভাব নাই... আর উনি থাকলে তো অনেক বড় কিছু উনি – আমার মানা না মানায় তার কি এসে যায়?? আমি আমার মতই থাকি...??
তবে আমরা যদি ঈশ্বরে বিশ্বাসী হই, তাহলে ভাবতে হবে তিনি একা একা তৈরি হয়েছেন- কেউ বানায় নাই তাকে।
একা একা একটা ক্ষুদ্র কণা সৃষ্টি হওয়া আর একটা জটিল সত্ত্বা (বস্তুত সবচেয়ে জটিল) ঈশ্বর তৈরি হওয়া - কোনটা বেশী গ্রহণযোগ্য??
আমার কাছে প্রথমটা...


একটি ব্রয়লার ম্যানেজমেন্ট চার্ট দিলাম, দেখুন তো কেমন হলো-


 এই অনুরোধটি এতোবার পেয়েছি যে, এটি নিয়ে না লিখে আর পারলাম না। ভেটসবিডির একজন নিয়মিত পাঠক সিলেট থেকে বহুবার আমাকে ফোন করেছে, ইমেইল করেছে, নতুন ভেটেরিনারি পেশায় যোগ দিয়েছে এমন ভেটেরিনারিয়ানও আমাকে অনুরোধ করেছে এটা নিয়ে যেন আমি একটা আর্টিকেল লিখি। সবার অনুরোধের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমার আজকের এই আর্টিকেল। আপনাদের কাজে লাগলে তবেই আমি স্বার্থক। আরেকটি কথা এখানে আমি যে ড্রাগগুলো ব্যবহার করেছি তা একান্তই আমার অভিজ্ঞতা থেকে তুলে ধরলাম। আর ভ্যাকসিনের যে শিডিউলটি আমি এখানে দিয়েছি তা এলাকা ভেদে পরিবর্তন যোগ্য। যেকোন প্রশ্ন থাকলে তা আমাকে মন্তব্য করে জানাতে পারেন। ভ্যাকসিনের শিডিউল নিয়ে আপনার নিকটস্থ প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে পারেন।





বয়স          ঔষধ         ডোজ        সময়
১ম দিন গ্লুকোজ+ভিটামিন সি ৫০ গ্রাম/ লিঃ ৪-৫ ঘণ্টা

২য়-৪র্থ দিন অক্সিটেট্রাসাইক্লিন (যেমন: রেনামাইসিন পাউডার, ব্যাকটিট্যাব পাউডার, OTC vet ইত্যাদি) ১ গ্রাম/লিঃ সকাল থেকে সন্ধ্যা
ওয়াটার এসিডিফায়ার (যেমন: Haemico pH, Selko pH)তবে Activate WD Max হলে ১ গ্রাম/৪ লিঃ পানিতে ১ মিলি/লিঃ সকাল
এন্টিস্ট্রেসর (যেমন: Immofast, Immolite, Immunocare) ১ মিলি/লিঃ সকাল

৫ম দিন রাণিক্ষেত ভ্যাকসিন সকালে
এন্টিস্ট্রেসর (যেমন: Immofast, Immolite, Immunocare) ১ মিলি/লিঃ সকাল থেকে সন্ধ্যা

৬ষ্ঠ দিন ওয়াটার এসিডিফায়ার (যেমন: Haemico pH, Selko pH)তবে Activate WD Max হলে ১ গ্রাম/৪ লিঃ পানিতে ১ মিলি/লিঃ সকাল
এন্টিস্ট্রেসর (যেমন: Immofast, Immolite, Immunocare) ১ মিলি/লিঃ সকাল

৭ম-৮ম দিন ভিটামিন B1, B2,(যেমন: Thiavin, Prithi WS ইত্যাদি)ভিটামিন ই ও সেলেনিয়াম ১ গ্রাম/লিঃ সকাল

৯ম দিন সাদা পানি সারাবেলা (২৪ ঘণ্টা)

১০ম-১১শ দিন গামবোরো ভ্যাকসিন
এন্টিস্ট্রেসর (যেমন: Immofast, Immolite, Immunocare) ১ মিলি/লিঃ সকাল থেকে সন্ধ্যা

১২শ দিন ক্যালসিয়াম ১ গ্রাম/লিঃ সকাল
ভিটামিন AD3E ১মিলি/৪ লিঃ সকাল

১৩শ দিন সাদা পানি সারাবেলা

১৪-১৬ দিন এন্টিকক্সিডিয়াল (যেমনঃ ESb3 ইত্যাদি) ২গ্রাম/লিঃ সকাল থেকে সন্ধ্যা
জিংক (যেমন: জিংক ভেট, জিংক প্লাস, জিসআপ ইত্যাদি) ২-৩মিলি/লিঃ সকাল

১৭-১৮শ দিন গামবোরো ভ্যাকসিন
এন্টিস্ট্রেসর (যেমন: Immofast, Immolite, Immunocare) ১মিলি/লিঃ

১৯শ দিন সাদা পানি

২০-২২ দিন গ্রোথ প্রোমোটার ১মিলি/লিঃ সকাল
লিকুইড এনজাইম ১মিলি/লিঃ সকাল

২৩-২৪ দিন রাণিক্ষেত ভ্যাকসিন
এন্টিস্ট্রেসর (যেমন: Immofast, Immolite, Immunocare) ১মিলি/লিঃ

২৫ দিন সাদা পানি

২৬-২৮ দিন ক্যালসিয়াম ১ গ্রাম/লিঃ সকাল
ভিটামিন AD3E ১মিলি/৪ লিঃ সকাল

২৯ দিন সাদা পানি

৩০-৩২ দিন গ্রোথ প্রোমোটার ১মিলি/লিঃ সকাল

**ওয়াটার এসিডিফায়ার (যেমন: Haemico pH, Selko pH-১মিলি/লিঃ পানিতে) অথবা Activate WD Max ১ মিলি/৪ লিঃ পানিতে ভ্যাকসিন প্রয়োগের দিন ব্যাতিরেকে ২য় দিন থেকে ১৪ শ দিন পর্যন্ত সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এবং পরবর্তী দিনগুলোতে শুধু সকালে পানিতে ব্যবহার করলে সালমোনেলাসহ এন্টেরিক ব্যকটেরিয়াগুলোকে প্রতিরোধ করবে।

**তবে সকল ক্ষেত্রেই বায়ো-সিকিউরিটি’র প্রতি সবচেয়ে বেশি খেয়াল রাখতে হবে।

উপরোক্ত চার্টটি সম্পূর্ণ নিজ দ্বায়িত্বে ব্যবহার করবেন। খামারে রোগ দেখা দিলে এই চার্ট পরিবর্তনযোগ্য। চার্টটি কেবলমাত্র ধারনা দেয়ার জন্য উপস্থাপন করলাম। তবে আমি দীর্ঘ ৩ বছর এটি ব্যবহার করেছি।

Saturday, November 7, 2015

রাসুল (সা.) -এর বিদায় হজ্বের ভাষণ ।


দশম হিজরিতে রাসুল (সা.) জীবনের শেষ
হজ করেন। জিলহজ মাসের ৯ তারিখ দুপুরের
পর জাবালে রহমতে দাঁড়িয়ে বৃহত্তম
গণসমাবেশে জীবনের শেষ দিকনির্দেশনা
দেন। এই ভাষণের পূর্ণরূপ সংরক্ষিত নেই।
বুখারি শরিফে কিছু অংশ পাওয়া যায়, যা
নির্ভরযোগ্য সূত্র বিবেচনায় উদ্ধৃত হয়ে
থাকে। সংশ্লিষ্ট হাদিসগুলো হলো_হাদিস
নম্বর ১৬২৩, ১৬২৬ ও ৬৩৬১। ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ
বিষয়ে ভাষণের সংশ্লিষ্ট অনুবাদ নিম্নরূপ :
(জীবনাবসনের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন)হে
লোকেরা! আমার কথাগুলো মনোযোগসহ
শ্রবণ করো। আমার মনে হয়, এরপর আর
আমার পক্ষে হজের মহান
আনুষ্ঠানিকতায় যোগদান করা সম্ভব
হবে না।’
(হত্যার বদলে হত্যা প্রথা বন্ধ করে
বলেন )‘শুনে রাখো, অন্ধকার যুগের সব
কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস আর অনাচার
আজ আমার পায়ের নিচে দাফন করা
হলো। বর্বর যুগের শোণিত-প্রতিশোধ
প্রথা আজ থেকে রহিত করা হলো।…
আমি সর্বপ্রথম আমার স্বগোত্রের
প্রাপ্য সুদ এবং সব ধরনের রক্তের দাবি
রহিত ঘোষণা করছি।… মনে রেখো!
একজনের অপরাধে অন্যকে দণ্ড দেওয়া
যাবে না। পিতার অপরাধে পুত্র এবং
পুত্রের অপরাধে পিতাকে অভিযুক্ত
করা চলবে না।’
(সুদ প্রথা সম্পর্কে বলেন )অজ্ঞ যুগের
সব সুদ আজ থেকে বাতিল করা হলো।
আমি সর্বপ্রথম আমার স্বগোত্রের
প্রাপ্য সুদ ও সব ধরনের রক্তের দাবি
রহিত ঘোষণা করছি।’
(নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্যের ব্যাপারে
বলেন)যদি কোনো নাককাটা হাবশি
ক্রীতদাসকেও তোমাদের আমির
নিযুক্ত করা হয় এবং সে আল্লাহর
কিতাব অনুসারে তোমাদের পরিচালনা
করে, তাহলে তোমরা সর্বতোভাবে
তার আনুগত্য করবে, তার আদেশ মান্য
করবে। সাবধান!’
(ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি সম্পর্কে বলেন)
ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করবে না।
এতদ্বিষয়ে সীমালঙ্ঘনের কারণে
তোমাদের পূর্ববর্তী বহু জাতি ধ্বংস
হয়ে গেছে। মনে রেখো! তোমাদের
সবাইকেই আল্লাহর দরবারে উপস্থিত
হতে হবে। তাঁর কাছে এসব কথার
জবাবদিহি করতে হবে। সাবধান,
তোমরা খোদাদ্রোহী হয়ে পরস্পর
রক্তপাতে লিপ্ত হয়ো না।’
(অন্যের সম্পত্তি, ইজ্জতের হেফাজত
সম্পর্কে বলেন)স্মরণ রেখো, আজকের
এই দিন, এই মাস যেমন মহিমান্বিত,
মক্কার হেরেম যেমন পবিত্র, প্রতিটি
মুসলমানের ধনসম্পদ, সবার ইজ্জত-সম্ভ্রম
এবং প্রতিটি মুসলমানের রক্তবিন্দু
তোমাদের কাছে সে রকমই পবিত্র।
আগের বিষয়গুলোর পবিত্রতা নষ্ট করা
যেমন তোমরা পরিত্যাজ্য ও হারাম
বলে জানো, তেমনি কোনো মুসলমানের
সম্পদ, সম্ভ্রম ও জীবনের ক্ষতিসাধন
তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ, মহাপাপ।’
(মানুষে-মানুষে ভেদাভেদ নেই সে
ব্যাপারে বলেন)‘অনারবদের ওপর
আরবদের প্রাধান্যের কোনো কারণ
নেই। শ্বেতাঙ্গ-কৃষ্ণাঙ্গেও ভেদাভেদ
নেই। প্রাধান্যের মাপকাঠি হলো
একমাত্র খোদাভীতি। মানুষ সবাই
আদমের সন্তান আর আদম মাটি থেকে
সৃষ্ট। জেনে রাখো, জগতের সব মুসলমান
মিলে এক অবিচ্ছেদ্য ভ্রাতৃসংঘ।’
(শেষ নবী এর ব্যাপারে বলেন)হে
লোকেরা, জেনে রাখো, আমার পরে
আর কোনো নবীর আগমন হবে না। আমি
যা বলছি, মনোযোগ দিয়ে শোনো। এ
বছরের পর হয়তো তোমরা আর আমার
সাক্ষাৎ পাবে না। জ্ঞান উঠে যাওয়ার
আগেই আমার কাছ থেকে শিখে নাও।
চারটি বিষয় বিশেষ করে স্মরণ রেখো!
(১) কখনো শিরক করো না, (২)
অন্যায়ভাবে নরহত্যা করো না, (৩)
অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করো না, (৪)
কখনো ব্যভিচারে লিপ্ত হয়ো না।
সাবধান, কারো অসম্মতিতে তার
সামান্য সম্পদও গ্রহণ করো না। জুলুম
করো না। জুলুম করো না! কোনো
মানুষের ওপর জুলুম করো না।’
(শয়তান সম্পর্কে সাবধানবাণী দিয়ে
বলেন)আমি তোমাদের কাছে যা রেখে
যাচ্ছি, যত দিন তোমরা সেগুলো আঁকড়ে
ধরে রাখবে, পথভ্রষ্ট হবে না। আর তা
হলো আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর
রাসুলের সুন্নাত। হে লোকেরা,
সাবধান! এমন অনেক বিষয়কে তোমরা
ক্ষুদ্র বলে জ্ঞান করো, অথচ শয়তান
তারই মাধ্যমে তোমাদের সর্বনাশ করে
ছাড়ে। সে বিষয়গুলো সম্পর্কে খুবই
সাবধান থাকবে।’
(স্ত্রীদের প্রতি সদাচরণ সম্পর্কে
বলেন)অতঃপর, হে লোকেরা! নারীদের
বিষয়ে আমি তোমাদের সতর্ক করছি।
তাদের প্রতি নির্দয় ব্যবহার করার সময়
তোমরা আল্লাহর শাস্তির কথা ভুলে
যেয়ো না। নিশ্চয়ই তোমরা তাদের
আল্লাহর জামিনে গ্রহণ করেছ এবং
তাঁরই কালাম দ্বারা তাদের সঙ্গে
তোমাদের দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপিত
হয়েছে। মনে রেখো, তোমাদের
সহধর্মিণীদের ওপর তোমাদের যেমন
দাবিদাওয়া ও অধিকার রয়েছে,
তেমনি তোমাদের ওপরও তাদের
দাবিদাওয়া ও স্বত্বাধিকার রয়েছে।
পরস্পরকে নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহারে
উদ্বুদ্ধ করবে। স্মরণ রাখবে, এ
অসহায়দের একমাত্র সহায় তোমরাই।’
(দাস-দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহার
সম্পর্কে বলেন)স্মরণ রেখো, তোমাদের
অধীন দাস-দাসীরা অসহায়-নিরাশ্রয়।
সাবধান! তাদের ওপর কখনো জুলুম করবে
না, তাদের অন্তরে আঘাত দেবে না।
তোমাদের মতো তাদেরও একটি হৃদয়
আছে। ব্যথা দিলে কষ্ট পায় আর আনন্দে
আপ্লুত হয়। শুনে রাখো! ইসলামের
নির্দেশ হলো, তোমরা যা খাবে দাস-
দাসীদেরও তা-ই খাওয়াবে। তোমরা
যা পরবে, তাদের তা-ই পরাবে।
কোনো ধরনের তারতম্য করা চলবে না।’
(আত্মপরিচয় অস্বীকারের বিষয়ে
নিষেধ করে বলেন)যে নিজের বংশের
পরিবর্তে নিজেকে অন্য বংশের বলে
প্রচার করে, তার ওপর আল্লাহর,
ফেরেশতাকুলের ও সমগ্র মানবজাতির
অনন্ত অভিশাপ।’
(কোরআনের বাণী প্রচা্রের ব্যাপারে
বলেন )আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর
কিতাব রেখে যাচ্ছি। যত দিন তোমরা
সে কিতাব অবলম্বন করে চলবে, তোমরা
পথভ্রষ্ট হবে না। আজ যারা এখানে
উপস্থিত আছ, তারা আমার এসব পয়গাম
অনুপস্থিতদের কাছে পেঁৗছে দেবে।
হতে পারে উপস্থিত কারো কারো
থেকে অনুপস্থিত কেউ কেউ এর দ্বারা
বেশি উপকৃত হবে।’
হজরত মুহাম্মদ (সা.) দেড় লাখ সহচরের
বিশাল হজ সমাবেশের মধ্যে তাঁর
ভাষণের একেকটি বাক্য উচ্চারণ
করছিলেন আর সম্মেলনস্থলের বিভিন্ন
কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে থাকা তাঁর নকিবরা
সম্মিলিত কণ্ঠে তাঁর প্রতিধ্বনি করে
বিশাল সমাবেশের সব প্রান্তে
মুহাম্মদ (সা.)-এর বাণী পেঁৗছে
দিচ্ছিলেন। অতঃপর, রাসুল (সা.)
আকাশের দিকে মুখ তুলে বললেন, ‘হে
আল্লাহ, আমি কি তোমার বাণী
পেঁৗছে দিয়েছি_আমি কি আমার
দায়িত্ব পালন করেছি?’উপস্থিত জনতার
কণ্ঠে উচ্চারিত হয়_নিশ্চয়ই। নিশ্চয়ই।
তখন মুহাম্মদ (সা.) বলেছিলেন, ‘হে
আল্লাহ, তুমি শোনো, সাক্ষী থাকো,
তোমার দাসরা স্বীকার করছে, আমি
আমার দায়িত্ব পালন করেছি। হে
আল্লাহ, তুমি সাক্ষী থাকো।’
এই মুহূর্তে কুরআনের শেষআয়াতটি
নাজিল হয়। ‘আজকের এই দিনে
তোমাদের দীনকে পূর্ণ করে দিলাম।
তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত পূর্ণকরে
দিলাম। ইসলামকেই তোমাদের ওপর
দীন হিসেবে মনোনীত করলাম।’( সুরা
আল মায়েদাহ – ৩)
{প্রতিটি মুসলিমের দায়িত্ব বিদায় হজ্বের
ভাষণকে নিজের জীবনে এপ্লাই করা, দয়া
করে ভাষণের একটি কপি আপনার ঘরে
রাখুন এবং ইমেইল করে আপনার বন্ধুকে
পড়তে সহায়তা করুন।
আজকাল কিছু কিছু মুসলিমদের অন্তরে এক
রুপ এবং বাহিরে আরেক রুপ। তাই আমরা
আজ অপদস্ত হচ্ছি সময়ে অসময়ে। চলুন আগে
নিজের অন্তরকে ঠিক করি, আল্লাহকে ভয়
করি এবং রাসুলের সুন্নত অনুসারে চলি।
তাহলেই আমাদের ঈমান শক্ত হবে এবং
আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক
জীবনে শান্তি নেমে আসবে।}

জীন ভুত নিয়ে গবেষণা [১ম,২য় পর্ব] 'জীন সম্পর্কে চমকপ্রদ তথ্য! তারা কি খায়, কোথায় থাকে, বিয়ে করে কি না+একটি জীন তাড়ানোর গল্প◄

১মঃ-
গত পর্ব আমি আপনাদের ভুত শব্দের বাংলা ও ইংরেজী অর্থ জানিয়েছিলাম । এই পর্ব ভুতের অস্তিত্ত নিয়ে আলোচনার পূর্বে জীন নিয়ে আলোচনা করবো । তার সাথে আলোচনা করবো জীন ভুত সম্মন্ধে সাধারণ লোকের কি ধারণা তা নিয়ে । [বি:দ্র:=আপনি পূর্বের পোষ্ট না পড়ে থাকলে এই পোষ্টের কিছু বুঝতে পারবেন না , বা বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে । তাই দয়ে করে আগে ১ম পর্ব পড়ে নিন ।] আপনাকে যদি কেউ প্রশ্ন করে জীন কি পৃথিবীতে আছে ? তাহলে আপনার উত্তর ইতিবাচক হবে ঠিকই কিন্তু আপনি প্রমাণ করতে পারবেন না কিভাবে জীন আছে ? পবিত্র কুরআনের সুরা যারিয়াহ এর ৫৬ নং আয়াতে আল্লাহ্ সোবহান ওয়া তাআলা বলেছেন যে " ওয়ামা খলাকতুল জিন্না ওয়াল ইনসা ইল্লা লিঈয়াবুদুন " । এর অর্থ " আমি আল্লাহ্ জীন ও মানব জাতিকে শুধু মাত্র আমার ঈবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি ।" তাহলে বুঝলেন তো নাকি ? যে জিন রয়েছে ।অন্যান্য ধর্মের অনুসারি হয়তো বা বিষয়টিকে মেনে নিয়ে নাও পারে কিন্তু সনাতন ধর্মাবলম্বমীদের জন্যও এর কথা আছে । তারা জীনকে উপদেবতা বলে থাকে ।[দেবতার নিচের আসন , দেবতা নয় তবে তাদের অনুপ্রেরণার আদর্শ=জীন] শুধু তাইই নয় পবিত্র কুরআনের এরকম আরও বহু আয়াতে এদের কথা আছে , এমনকি এদের নিয়ে একটি পূর্ণ সুরা ' সূরাতুল জ্বীন ' অবতীর্ণ হয়েছে । তবুওকি কেউ অস্বীকার করবে জীনকে ? যাই হোক জানা গেল যে জীন আছে । কিন্তু এখন আপনাদের মনে প্রশ্ন আসতে পারে যে জীনের সাথে ভুতের কি সম্পর্ক ? আমাদের মাঝে এমন অনেক ব্যক্তি আছে যারা বলে থাকেন যে খারাপ জীনরাই হলো ভুত । কথাটি অত্যন্ত মুর্খতার শামিল । কারণ খারাপ জীনরাই যদি ভুত হবে তাহলে ভাল জীনরা কি ফেরেস্তা হবে ? আসলে খারাপ জীনরা কখনো ভুত হতে পারেনা । অনকের মতে ভুতরা অমর । কিন্তু জীনরা মরণশীল , তাহলে খারাপ জীন ভুত হতে পারেনা । আমাদের মধ্য অনেক বলে থাকেন যে হিন্দু জীন রাই ভুত । একথাটা ও ভুল । কারন পবিত্র কুরআনের সূরা জীনের মধ্যবর্তী কিছু আয়াত থেকে [এই মুহুর্তে আয়াত নং মনে পড়ছেনা , আপনারা খুজলেই পাবেন । এখানে আমি আয়াত গুলোর ব্যখ্যা নিজের ভাষায় দিয়েছি] বোঝা যায় যে জীনরা প্রধাণত দুই দলে বিভক্ত । এক দল ঈশ্বরে বিশ্বাস করে বা তারা আস্তিক এবং অপর দল ঈশ্বরে বিশ্বাস করেনা । আস্তিক দলের সকলেই আল্লাহর উপর ঈমান এনে ইসলাম গ্রহন করেছে কিন্তু অপর দল কোন কিছুতেই ঈশ্বরের আনুগত নয় ।মজার ব্যাপার হলো জীনরা আল্লাহর সাথে শিরক করেনা কারণ তাদের মাঝে যারা আস্তিক তারা সকলেই মুসলিম । আরও একটি গুরুত্তপূর্ণ কথা হলো মানুষের মত তাদের মাঝে অনেক গুলি ধর্ম নেই । এটা আমার কথা নয় , পবিত্র কুআনের সূরা জীনে এর স্পষ্ট ব্যখ্যা পাবেন । আমাদের মাঝে এক শ্রেণীর লোক আছে যাদের মতে জীনরা মারা গেলে ভুত হয় । এটা নিত্যান্ত তাদের বানোয়াট কথা । আপনি পবিত্র কুরআনের কোথাও খুঁজলে পাবেন না যে সেখানে জীনদের মৃত্যুর পরের কথা লেখা আছে । শুধু এটা উল্যেখ করা আছে যে হাশরে ময়দানে তাদেরকেও বিচারের জন্য দাঁড়াতে হবে । আল্লাহ পবিত্র কুরআনের বলেছেন " হে মানুষ তোমাদের দোযখ হতে নিজেরা বাঁচ আর বাঁচাও তোমাদের আহালদেরকে [আহাল = অনুসারী] , যে দোযখের ইন্ধন [জ্বালানি] হবে মানুষ আর পাথর ।" এখানে জীনের কথা উল্যেখ নাই । তাহলে প্রশ্ন আসে যে পাপী জীনদের কি শাস্তি পেতে হবে না ? একটু চিন্তা করলেই আপনি পাবেন যে জীনরা আগুনের তৈরী তাই তাদেরকে আগুনে উত্তাপে দহন করা প্রশ্নই ওঠেনা । তাই আল্লাহ রাব্বুলআলামীন তাদেরকে অন্য কোন উপায়ে শাস্তি দিবেন , যা আমাদের জানা অপরিহার্য নয় তাই কুরআনে এই কথার উল্যেখ নাই । তাহলে আপনাদের প্রশ্ন হলো তাহলে ভুত কি ? এই প্রশ্নেরও ব্যখ্য সহ উত্তর আল্লাহ আমাকে জানিয়েছেন ।{আলহামদুলিল্লাহ্} । তবে ভুত সম্পর্ক জানতে হলে আপনাদের আগে আত্মার ধারণা দেওয়া প্রয়োজন । তাই আগামী পর্বে আত্মা নিয়ে বিষদ তথ্যসহ একটি ফিচার পোষ্ট করা হবে । তার পরই আপনাদের অতিকাঙ্খিত কথা ভুতের বিবরণ দেওয়া হবে । তাই আপনারা প্রতিদিনই একবার করে উকি মারবেন এই ব্লগে । ধন্যবাদ । ভৌতিষ্ট সূর্য । আর একটি কথা , এখানে কমেন্টের ব্যবস্থা আছে । তাই একটা কমেন্ট করবেন প্লিজ । আর ফেসবুক শেয়ারের ব্যবস্থা আছে , তাই আপনার ওয়ালে এই লিংকিটি শেয়ার করেন । ধন্যবাদ

২য়ঃ-
ভুত কথা টি অদ্ভুত একটা শব্দ । আমরা সচরাচর ভুত কথাটি শুনে থাকি । ভুত বলতে আপনি কি বোঝেন ? ভুত বলতে আমাদের মনের পর্দায় এক অশরীরীও এক সত্তা ভেসে ওঠে । অধিকাংশ ব্যক্তির মতে এর বাস্তব কোন অস্তিত্ত নেই । কিন্তু কি এই ভুত ? এর বাস্তব অস্তিত্ত কি আছে ? আছে । আসুন প্রথমে দেখে নেই ভুত শব্দটির অর্থ কি ? বাংলা অভুতপূর্ব শব্দের অর্থ হলো যা আগে কখনও দেখা যায়নি । এর বিপরীত শব্দ ভুতপূর্ব , যার অর্থ হলো যা আগে ছিল কিন্তু এখধ নেই । এই ভুতপূর্ব শব্দ থেকেই এসেছে বাংলা শব্দ ভুত । সেই সূত্রে ভুত শব্দের অর্থ হলো অতিত , যা গত হয়ে গিয়েছে বা যা আগে বর্তমান ছিল অথবা যার বর্তমান সাধারণ অস্তিত্ত নেই । কি বুঝলেন ? তাহলে ভুত শব্দের অর্থ দাঁড়াল অতিত বা পাস্ট PAST । আসুন এবার দেখা যাক ইংরেজী ghost (ঘোস্ট) শব্দের অর্থ কি ? ২০০৯ সালের প্রকাশিত ভারতের সেরা অভিধান সংসদ অভিধানে আছে ghost এর অর্থ ৭ টি । ১. পিশাচ ,demon (যা প্রাণীর রক্ত ভক্ষন করে বেঁচে থাকে । ) [আমি বলি :বাঁদুড় ও রক্ত খায় আর এক ধরনের টিকটিকি ও রক্ত খায় । তাহলে কি বাদুড় ও টিকটিকি ভুত । এদের তো বাস্তব অস্তিত্ত বিদ্যমান ।] ২.মৃত ব্যক্তির আত্মার সমাগম । spirit appearing after death . ৩.অপদেবতা a spirit. ৪.ক্ষিণ বা মিথ্যা আভ্যাস । a faint or false appearance . ৫.সাদৃশ্য । a semblence (not a ghost of hope). ৬.যে ব্যক্তি পরের হয়ে রচনাদি লেখে । ৭. আধ্যাত্মিক চেতনার কল্পিত রুপ । কিন্তু আমরা যে টা কে ভুত বলি সেটা কি ? তার কি বাস্তবে কোন অস্তিত্ত আছে ? আছে । সেটার ও বাস্তবিক আস্তিত্ত বিদ্যমান । আগামী পর্ব এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে । চলবে........( গবেষণায় ভৌতিষ্ট সূর্য )....

*************************************************************************************************
কুরআন অনুসারে জিন জাতি মানুষের ন্যায় আল্লাহ্ তা’য়ালার এক সৃষ্ট একটি জাতি যারা পৃথিবীতে মানব আগমনের পূর্ব থেকেই তারা ছিল এবং এখনো তাদের অস্তিত্ব রয়েছে। তবে মানুষের চর্মচক্ষে তারা দৃষ্টিগ্রাহ্য নয়। তবে জিনরা মানুষকে দেখতে পায়। তারা বিশেষ কিছু শক্তির অধিকারী। তাদের মধ্যেও মুসলিম এবং কাফির ভেদ রয়েছে। তারা মসজিদে নামাজ পড়তে আসে। তাদেরও সমাজ রয়েছে। তারা আয়ূ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি।উদাহরনস্বরূপ, তারা ৩০০ বছর বয়সে প্রাপ্তবয়স্ক হয়। ঈমাম ইবনে তাইমিয়ার মতে জিন জাতি তাদের অবয়ব পরিবর্তন করতে পারে।
ইসলামের মতে জিন জাতি এক বিশেষ সৃষ্টি। কুরআনের ৭২তম সুরা আল জ্বিন এ শুধু জিনদের নিয়ে কথা বলা হয়েছে। এছাড়া সূরা আন নাস এর শেষ অংশে জিন জাতির উল্লেখ আছে।কুরআনে আরো বলা আছে হযরত মুহাম্মদ (সা:) কে জিন এবং মানবজাতির নবী হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে। হযরত সুলায়মান (আ:) এর সেনাদলে জিনদের অংশগ্রহণ ছিল বলে কুরআনে উল্লেখ আছে। ইসলামে আরো বলা আছে “ইবলিশ” তথা শয়তান প্রকৃতপক্ষে জিন জাতির একজন ছিল। ইসলামের মতে, শয়তান হচ্ছে দুষ্ট জিনদের নেতা। ইবলিশ বা শয়তান ছিল প্রথম জিন যে আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ করেছিল। কুরআনে উল্লেখ আছে যে, ইবলিশ এক সময় আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দা ছিল । কিন্তু আল্লাহ যখন হযরত আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করলেন, তখন হিংসা ও অহংকারের বশবর্তী হয়ে ইবলিশ আল্লাহর হুকুম অমান্য করে। এ কারণে ইবলিশ কে বেহেশত থেকে বিতাড়িত করা হয় এবং এরপর থেকে তার নামকরণ হয় শয়তান। ইসলাম পূর্ব আরব উপকথা গুলোতে জ্বিন সদৃশ সত্ত্বার উল্লেখ আছে। প্রাচীন সেমাইট জাতির জনগণ জিন নামক সত্ত্বায় বিশ্বাস করতো। তাদের মতানুসারে নানাপ্রকারের জিন পরিলক্ষিত হয়। যেমন, ঘুল (দুষ্ট প্রকৃতির জিন যারা মূলত কবরস্থানের সাথে সম্পর্কিত এবং এরা যেকোন আকৃতি ধারণ করতে পারে), সিলা (যারা আকৃতি পরিবর্তন করতে পারতো) এবং ইফরিত (এরা খারাপ আত্মা)। এছাড়া মারিদ নামক এক প্রকার জিন আছে যারা জিন দের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী। প্রাচীন আরবদের মতে জিন রা আগুনের তৈরি।
উল্লেখ্য যে, আরব্য রজনীর কাহিনীর মতো সবসময় জিন অসাধ্য সাধন করতে পারে না। কেননা ঝড়-বাদলের দিনে জিনরা চলতে পারে না। কারণ তারা আগুনের তৈরি বিধায় বৃষ্টির সময় আয়োনাজাইশেন ও বজ্রপাতের তীব্র আলোক ছটায় তাদের ক্ষতি হয়ে থাকে এবং কোন ঘরে যদি নির্দিষ্ট কিছু দোয়া-কালাম ও কাঁচা লেবু থাকে, তাহলে ঐ ঘরে জিন প্রবেশ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। আর একটি কথা মানুষ মাটি দিয়ে সৃষ্টি হলেও, শেষ পর্যন্ত এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। কারণ মানুষ মূলত মাটি, পানি, বায়ু ও অগ্নির সংমিশ্রণ। আর তাই জিন আগুনের শিখা দিয়ে পয়দা হলেও তাদের দেহে জলীয় পদার্থের সমাবেশ লক্ষণীয়। এর স্বপক্ষে যুক্তি হলো: রসুল (স.) একদা উল্লেখ করেছিলেন যে, শয়তান বলে একটি জিন একদা নামাজের সময় তাঁর সাথে মোকাবিলা করতে এলে তিনি ঐ জিনকে গলা টিপে ধরলে, সেইক্ষণে জ্বিনের থুথুতে শীতলতা অনুভব করেছিলেন।[সুরা সাদ ৩৮:৩৫] এতে প্রতীয়মান হয় যে, জিন যদি পুরোপুরি দাহ্য হতো, তাহলে ঠাণ্ডা থুথুর থাকার কথা নয়। এদিকে জিন তিন প্রকারের আওতায় বিদ্যমান, প্রথমত. জমিনের সাপ, বিচ্ছু, পোকা-মাকড়, ইত্যাদি; দ্বিতীয়ত. শূন্যে অবস্থান করে এবং শেষত সেই প্রকারের জিন, যাদের রয়েছে পরকালে হিসাব। পূর্বেই বলেছি, এরা সূক্ষ্ম, তাই স্থূল মানুষ বা পশু-পাখি জিনদের দেখতে পারে না। তবে কুকুর ও উট এদের হুবহু দেখতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে উল্লেখ্য যে, রাতে কোন অপরিচিত বস্তু বা জীব চোখে না দেখা গেলেও কুকুর কি যেন দেখে ছুটাছুটি ও ঘেউ ঘেউ করলে তাতে জ্বিনের আবির্ভাব হয়েছে বলে বুঝতে হবে। জিন বহুরূপী। এরা মানুষ, পশু-পাখি, ইত্যাদি যে কোন সুরত ধরতে পারে। সেই ক্ষণে উক্ত জীবের বৈশিষ্ট্যের আদলে তার ঘনত্ব কম-বেশি হয়ে থাকে এবং মানুষের দৃষ্টির মধ্যে আসে।


কড়া যুক্তিঃ-
আজকাল অনেকেই জ্বিনের অস্তিত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছে। তারা মনে করে দুনিয়াতে জ্বিন বলে কিছু নেই। আসলে এটা ভ্রান্ত ধারণা। জ্বিন আছে এবং জ্বিনের অস্তিত্বও বিজ্ঞানসম্মত। আমরা এখানে সেটা নিয়েই আলোচনা করব। প্রথমে আমরা জানব জ্বিন সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে কি বলা হয়েছেঃ সুরাতুল যারিয়াহ এর ৫৬ নং আয়াতে আছেঃ ওয়ামা খলাকতুল জিন্না ওয়াল ইনসা ইল্লা লিঈয়াবুদুন । অর্থঃ আমি জীন ও মানুষকে শুধু আমার ঈবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি । সুরা আল জ্বিনে বলা হয়েছেঃ বলুন, আমার প্রতি ওহী নাযিলকরা হয়েছে যে, জ্বিনদের একটি দল কোরআন শ্রবণ করেছে,অতঃপর তারা বলেছেঃ আমরা বিস্ময়কর কোরআন শ্রবণ করেছি। (আয়াত-০১) অথচ আমরা মনে করতাম মানুষ ওজ্বিন কখনও আল্লাহতা’আলা সম্পর্কে মিথ্যা বলতে পারে না। (আয়াত-০৫) আর যখন আল্লাহতা’আলার বান্দা তাকে ডাকার জন্যে দন্ডায়মান হল, তখন অনেক জ্বিন তার কাছে ভিড় জমালো। (আয়াত-১৯) জ্বিন জাতির ইতিহাসঃ কুরআন অনুসারে জিন জাতি মানুষের ন্যয় আল্লাহ্‌ তা'য়ালার এক সৃষ্ট একটি জাতি। পৃথিবীতে মানব আগমনের পূর্ব থেকেই তাদের অস্তিত্ব ছিল; এখনও তাদের অস্তিত্ব রয়েছে। মানুষের চর্মচক্ষে তারা দৃষ্টিগ্রাহ্য নয়। তবে জিনরা মানুষকে দেখতে পায়। তারা বিশেষ কিছু শক্তির অধিকারী। তাদের মধ্যেও মুসলিম এবং কাফির ভেদ রয়েছে। তারা মসজিদে নামাজ পড়তে আসে। তাদেরও সমাজ রয়েছে। তারা আয়ূ মানুষের চেয়ে অনেক বেশী। উদাহরনস্বরূপ, তারা ৩০০ বছরবয়সে প্রাপ্তবয়স্ক হয়। ঈমাম ইবনে তাইমিয়ার মতে জিন জাতি তাদের অবয়ব পরিবর্তন করতে পারে। ইসলামের মতে জিন জাতি এক বিশেষ সৃষ্টি। কুরআনের ৭২তম সুরা আল জ্বিন এ শুধু জিনদের নিয়ে কথা বলা হয়েছে। এছাড়া সূরা আন নাসএর শেষ অংশে জিন জাতির উল্লেখ আছে। কুরআনে আরো বলাআছে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে জিন এবং মানবজাতির নবী হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে। হযরত সুলায়মান (আঃ) এর সেনাদলে জিনদের অংশগ্রহণ ছিল বলে কুরআনে উল্লেখ আছে।ইসলামে আরো বলা আছে "ইবলিশ"তথা শয়তান প্রকৃতপক্ষে জিন জাতির একজন ছিল। ইসলামের মতে, শয়তান হচ্ছে দুষ্ট জিনদের নেতা। ইবলিশ বা শয়তান ছিল প্রথম জিন যেআল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ করেছিল। কুরআনে উল্লেখ আছে যে, ইবলিশ এক সময় আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দা ছিল । কিন্তু আল্লাহ যখন হযরত আদম(আঃ) কে সৃষ্টি করলেন, তখন হিংসার বশবর্তী হয়ে ইবলিশ আল্লাহর হুকুম অমান্য করে। এ কারণে ইবলিশ কে বেহেশত থেকে বিতাড়িত করা হয় এবং এরপর থেকে তার নামকরণ হয় শয়তান। ইসলাম পূর্ব আরব উপকথা গুলোতে জ্বিন সদৃশ সত্ত্বার উল্লেখ আছে। প্রাচীন সেমাইট জাতির জনগণ জিন নামক সত্ত্বায় বিশ্বাস করতো। তাদের মতানুসারে নানাপ্রকারের জিন পরিলক্ষিত হয়। যেমন, ঘুল (দুষ্ট প্রকৃতির জিন যারা মূলত কবরস্থানের সাথে সম্পর্কিত এবং এরা যেকোন আকৃতি ধারণ করতে পারে), সিলা (যারা আকৃতি পরিবর্তন করতে পারতো) এবং ইফরিত (এরা খারাপ আত্মা)। এছাড়া মারিদনামক এক প্রকার জিন আছে যারা জিন দের মধ্যে সবচেয়েশক্তিশালী। প্রাচীন আরবদেরমতে জিন রা আগুনের তৈরি। বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ব্যাখাঃ আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞান জ্বিন জাতির অস্তিত্ব অস্বিকার করে না। অস্বিকার করার মত কোন যুক্তি বা মতবাদও আজ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বরং এ্যন্টি ম্যাটার সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান যত বৃদ্ধি পাচ্ছে জ্বিনের অস্তিত্বের পক্ষে যুক্তি ততই প্রগাড় হচ্ছে। আসুন জানি এ্যন্টি ম্যাটার কিঃ পৃথিবীতে যেমন বস্তু রয়েছে। তেমনভাবে অবস্তুও থাকতে পারে। আসুন দেখি এন্টিম্যাটার সম্পর্কে উইকিতে কি বলা হয়েছেঃ পার্টিক্যাল ফিজিক্সে এ্যন্টি ম্যাটারেরর ধারণা প্রতিপদার্থের ধারণা রুপ নিয়েছে। ধারণা করা হয়েছে যেভাবে কণা দ্বারা পদার্থ গঠিত হয় ঠিক তেমনিভাবে প্রতিকণা দ্বারা প্রতিপদার্থ গঠিত হয়। উদাহরণস্বরুপ, একটি প্রতিইলেকট্রন (পজিট্রন) এবং একটি প্রতিপ্রোটন মিলিত হয়ে গঠন করে একটি প্রতিহাইড্রোজেন পরমাণু, যেমন করে একটি ইলকট্রন ও প্রোটন মিলে তৈরি করে একটি হাইড্রোজেন পরমাণু। উপরন্তু কণা এবং প্রতিকণা মিলিত হলে যেভাবে পূর্ণবিলয়ের মাধ্যমে সকল শক্তি বিমুক্ত হয়, তেমনি পদার্থ এবং প্রতিপদার্থের মিলনে পূর্ণবিলয়ের সৃষ্টিহয় বলে ধারণা করা হয়েছে। এ ধরণের পূর্ণবিলয়ের ফলে প্রকৃতপক্ষে উচ্চ শক্তির ফোটন (গামা রশ্মি) এবং বহু কণা-প্রতিকণা জোড়ার সৃষ্টি হয়। এই পূর্ণবিলয়ে বিমুক্ত কণাগুলোর মধ্যে বিপুল পরিমাণ শক্তি থাকে। এই শক্তির মান পূর্ণবিলয়ের ফলে সৃষ্ট বস্তুসমূহের নিশ্চল ভর এবং মূল পদার্থ-প্রতিপদার্থ জোড়ার অন্তর্ভুক্ত বস্তুসমূহের নিশ্চল ভরের পার্থক্যের সমান। অর্থাৎ আমাদের মহাবিশ্বে যত পার্টিক্যাল আছে ঠিক তত পরিমান এ্যন্টি পার্টিক্যাল আছে। শক্তির নিত্যতা সূত্রানুযায়ী। এ্যান্টিপার্টিকেল অদৃশ্য। এগুলোর মুভমেন্ট কোন যন্ত্র দ্বারা পর্যবেক্ষন করা যায় না। কিন্তু বিজ্ঞান এগুলোর অস্তিত্বকে অস্বিকার করতে পারছে না। পৃথিবীতে ৬৫০ কোটি মানুষ আছে। এ্যান্টি পার্টিকেল থিওরি অনুযায়ী প্রতিটি মানুষের জন্যে একটি করে প্রতিমানুষ থাকলে সেগুলোর সংখ্যা হবে ৬৫০ কোটি। এগুলোমানুষের মতই কিন্তু অদৃশ্য। এগুলোকেই জ্বিন বলা হয় যা বিজ্ঞান সম্মত। তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া

★পর্ব-১

আবহমান কাল থেকে জ্বীন নামক একটি অদৃশ্য জাতির (!) নাম প্রচলিত রয়েছে। শুধু নামেই নয়, জ্বীনদের নিয়ে রয়েছে কত সব রহস্যজনক কাহিনী। এই কাহিনী কি শুধুই লোকমুখেই? মোটেও না, জ্বীনদের উপস্থিতি রয়েছে সাহিত্যে, গল্পে, উপন্যাসে, আরব্যরজনীর অধ্যায়ে, ধর্মগ্রন্থে, গবেষণায়, কল্পনায়, ভয়ে, আরাধনায়। জ্বীনদের উপস্থিতি রয়েছে বিভিন্ন মিথোলজিক্যাল সংস্কৃতিতে, অন্ধকার জগতে, আত্মাদ্ধিক বিচরণে, ভর ও শক্তির পারস্পারিক পরিবর্তনে, ইতিহাস বিখ্যাত মনীষীদের দর্শনে। জ্বীনের প্রভাব রয়েছে সুপার নেচারাল ঘটনার জন্ম প্রক্রিয়াতে, প্রেমিক-প্রেমিকার কল্পনায়, কবিরাজের লাঠির শরীরে, কবরখানায়, শশ্মান ঘাটে, প্রেতাত্মার ডাকে, কোয়ান্টাম মেডিটেশনে, আলো-আধারের লুকোচুরিতে। হালের এনার্জি ক্রাইসিসও নাকি মিটতে পারে এই জ্বীন জাতির অস্তিত্ব আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে! তাহলে কিভাবে বলি জ্বীন মিথ্যা বা বানোয়াট?? চলুন দেখি নিচের ব্যাখ্যা গুলো কি বলে:

লোকনাথপুর গ্রামের আজিবর কবিরাজ জ্বীনদের বড় ওস্তাদ। দুনিয়ার এমন কোন জ্বীন নেই যে তার কথা শুনে না, মানে না। আজিবর কবিরাজের শুধু মুখের কথায় জ্বীনরা ওঠা বসা করে, গান-বাজনা করে, সাত সমুদ্র তের নদী পার হয়ে এনে দেয় চাহিবা মাত্র বস্তু। একদা নিজের চোখের দেখা দশ-বারো জন লোক অচেনা যুবককে (বয়সে ২৮/৩০ হবে) মোটা দড়ি আর লোহার শিকলে বাঁধা অবস্থায় নিয়ে আসলো আজিবর কবিরাজের কাছে। যুবককে নাকি জ্বীনে ধরেছে! কোন লোকের কাছে রেফারেন্স পেয়ে তারা এসেছে এই আজিবর কবিরাজের কাছে। সামনে আসতেই আজিবর বুঝতে পারে এটা জ্বীন ধরা রোগী, আর তৎক্ষনাৎ সে আগত লোকদের বলে যুবকের হাত পায়ের শিকল খুলে দিতে। লোকজন জানায় এটা করলে সে এখনই রক্তারক্তি বইয়ে দিবে, খুনোখুনি করবে কেই ঠেকাতে পারবে না। জড় হয়ে গেল শত শত লোক! সবাই দেখল কিভাবে আজিবর কবিরাজ ঐ অচেনা যুবকের জ্বীন ছাড়িয়ে দিল সবার সামনেই। অথচ গত ১০ বছর ধরে পরিবারটা ভুগছে এই সমষ্যায়। কি বলবেন তাহলে? অবশ্যই জ্বীন আছে!

রুমেল-জয়া বড়লোক দম্পত্তির একমাত্র মেয়ে সোহানার বয়স ৬ বছর। সোহানা হাটতে পারে না সেই ছোট বেলা থেকেই। মেয়ের হাটার শক্তি ফিরিয়ে আনার জন্য ঘুরে বেড়িয়েছে দেশ বিদেশের বড় বড় ডাক্তার, হসপিটাল এমনকি আজমির শরীফের মত বড় বড় মাজারে। নাহ, কোন কিছুতেই কোন কাজ হয়নি। লোক মুখে শুনে সেও এসেছিল আজিবর কবিরাজের কাছে, মেয়েটি কয়েক মিনিটের মন্ত্রবলেই ভালো হয়ে গিয়েছিল। এ ঘটনাটিও অন্তত ১০/১৫ জন মানুষের সামনে আর সবচাইতে বড় সাক্ষি তার বা-মা এবং সোহানা নিজেই। কি বলবেন তাহলে? অবশ্যই জ্বীন আছে!

****************************************************************

পর্ব-২

এ পর্বেও চলবে আজিবর কবিরাজের কয়েকটি ঘটনা। আজিবর কবিরাজের বড় ছেলে রাসেলের সঙ্গে আমার ভাব সেই ছোটবেলা থেকেই, সে একাধারে আমার ক্লাসমেট, বন্ধু, ভাই, প্রতিবেশী, খেলার সাথী, ন্যায়-অন্যায় কাজের সর্বসময়ের সাথী। খুব সাধারণ থেকে অসাধারণ যে কোন ঘটনায় যদি আমার অন্তরালে হয়ে থেকে তাহলে যত দ্রুত সম্ভব সে আমার সাথে শেয়ার করে।

একবার রাসেল ওর আব্বুর সঙ্গে ওর নানীর কবর জিয়ারত করতে যায়, কবরটি অনেক পুরোনো আর মাঠের মধ্যে যে মাঠে যেতে হলে পার হতে হয় অনেক বড় জঙ্গল। যায় হোক, পথ, পথের ধারে জঙ্গল পার হয়ে ওরা পৌঁছে নানীর কবরের কাছে। কবরের পাশে অনেক লম্বা তালগাছ। রাসেল নিজের চোখে দেখল ধবধবে সাদা কাপড় পরিহিতা এক সুন্দরী মহিলা তাল গাছে বেয়ে নেমে এসে ঠিক ওদের পিছনে দাঁড়ালো। রাসেল ওর আব্বুর জ্বীনের উপর বিদ্যার কথা জানতো তাই ভয় না পেয়ে মনে মনে সাহস সন্চয় করে আব্বুর সাথে কবর জিয়ারত করে ফেরৎ আসার পথেই আবার দেখলো ঐ মহিলা খুব দ্রূত আবার তালগাছের উপর এক লাফে উঠে গেল। রাসেল তার পরদিনই ঘটনাটি আমার সাথে শেয়ার করলো। তাহলে কি বলব? অবশ্যই জ্বীন আছে!

আজিবর কবিরাজের যে ঘটনাটি সবচাইতে আমাকে ভাবিয়ে তোলে এখন সেটি তুলে ধরব। ঘটনাটি আমাদের প্রতিবেশি আসাদ মিয়ার বাড়ীর ঘটনা। তখন আমি এ পৃথিবীতে আসিনি। কিন্ত আমার গ্রামের যত সব মরুব্বী আর বয়স্ক লোকজন রয়েছে তারা সবাই ঐ ঘটনার সাক্ষী! এবং তারা যে মিথ্যা বলে না সেটা সহজেই অনুমেয়।


আসাদ মিয়া তার মাঠের এক জমি থেকে ৫০ বছরের পুরোনো এক তেতুল গাছ কেটে ফেলে। গাছটি কাটার আগে সে কয়েক রাতে ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে দেখেছিল যেন গাছটি সে না কাটে। এবং জ্বীনরা নাকি তাকে সেই স্বপ্ন দেখাতো। কিন্ত ঐসব স্বপ্নকে পাত্তা না দিয়ে গাছটি কেটে ফেলার পর শুরু হয় আসাদের বাড়ীর উপর অসহ্য রকমের যন্ত্রনাদায়ক ব্যাপার স্যাপার।

বাড়ীতে তেমন কেউ-ই নেই, কিন্ত হটাৎ ছাদের বাড়ীর ছাদের উপর শুরু হয় আর্মি প্যারেড। ভয়ে যবু থবু বাড়ীর লোক কেউ তখন আর বাইরে বের হয় না। প্যারেডের আঘাতে মনে হয় যেন ছাদ এখনি ভেঙ্গে পড়বে।

বাড়ীতে সবাই আছে, হটাৎ দেখা গেল ধান ভাঙ্গা ঢেকিটা ঢেকির ঘর থেকে বাইরে এসে শুন্যের উপর ভাষতেছে। হটাৎ করে কোত্থেকে যেন শত শত হাড় আর মাথার খুলি বাড়ীর উঠানে বৃষ্টির মতন বর্ষণ হতে লাগলো।

অবশেষে আজিবর কবিরাজকে আনা হয়েছিল, এবং ৫০ জন আলেম ব্যাক্তিকে সাথে নিয়ে সিরিজ ওজিফার মাধ্যমে আসাদ মিয়ার বাড়ীর সেই আশ্চার্য্যজনক ঘটনা বন্ধ করেছিল আজিবর কবিরাজ। তাহলে কি বলব? অবশ্যই জ্বীন আছে!

*****************************************************************

পর্ব-৩

এই সব ঘটনা থেকে আজিবরকে আসলই জ্বীনদের গুরু মানতে আমার কোন আপত্তি হয়নি কোনদিন। আজ এ পৃথিবীতে রাসেল নেই, মন খুব খারাপ লাগে, রাসেল জেগে ওঠে আমার স্মৃতিতে প্রায়শ। আমি নিজেই যেন আজিবরের ছেলে এমনই মনে করে আজিবর, আমিও তাকে আমার বাবার মতই সম্মান করি। কথা হয় মাঝে মাঝে। কিন্ত জ্বীনদের নিয়ে কৌতুহুল আমার শেষ নেই! এই কৌতুহুলের প্রধান কারণ আল-কোরান। কারণ আজ প্রায় ১৫০০ বছর ধরে স্বমহিমায় উদ্ভাষিত এই আল-কোরান। কোরানকে নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই, যারা নাস্তিক তাদের কথা আলাদা, তারা কি বললো না বললো সেসব নিয়ে কথা বলার জন্য পোষ্ট এটা না। তবে অনেক অনেক ইতিহাস প্রসিদ্ধ ব্যাক্তিত্ব, সায়েন্টিষ্ট, দার্শনিক তো এই কোরনাকে বিশ্বাস করে। কালকে জয় করে কোরান হয়েছে এক চির-সত্যের বাণী সংকলন। সেই কোরান-ই স্বয়ং জ্বীন আছে তা ঘোষণা করেছে বার বার। তাই বরাবর-ই আমি এই জ্বীন জাতির উপর কৌতুহল বটে।



আমার অনেক স্বপ্ন নিজে চোখে এই জ্বীনকে দেখা বা জ্বীনের অস্তিত্বকে বুঝতে পারে। কিন্ত আফসোস সেই স্বপ্ন আমার পূরণ হলো না কখনই। তাই দ্বারস্ত হলাম আজিবর কবিরাজের কাছে। কেন যেন বিশ্বাস হয়েছে, পৃথিবীতে জ্বীন বলে যদি কিছু থেকে থাকে তাহলে এই আজিবর কবিরাজ তা জানবে (কেন জানবে? সেটা প্রথম ২ পর্বের ঘটনাগুলই ব্যাখ্যা করে)। যাই হোক, অবশেষে নিজের ইচ্ছার কথা ব্যাক্ত করলাম আজিবরের কাছে। তিনি আমাকে হতাশ করলেন না, বরং একটা নিদির্ষ্ট দিনক্ষণ ঠিক করে দিলেন এবং আমাকে বললেন সেই সময় তার সাথে দেখা করতে, জায়গা হিসাবে ঠিক করে দিলেন একটা গোপনীয় জায়গা। কথামত কাজ। আজিবর মিয়া আমার সামনে, আমাকে প্রশ্ন করলেন কেন আমি জ্বীন দেখতে চাই? বললাম, আমি কোরান বিশ্বাস করি আর হাজার হাজার বছর ধরে জ্বীনদেরকে যে এত এত গল্প, কথা, গবেষণা প্রচলিত রয়েছে কিন্ত নিজ চোখে দেখি নাই তাই আমি এটা জানতে চাই। এর মাধ্যমে হয়তো সৃষ্টিজগতের আরো এক বিষ্ময় সম্পর্কে অবগত হওয়া যাবে।



বৃদ্ধ আজিবর মিয়া আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনলেন। আমাকে বললেন, বাবা রাজ আমার অনেক বয়স হয়েছে, কদিন-ই বাঁচবো দুনিয়াতে, তাই তোমার এই আশা আমি পূর্ণ করবো আমার সাধ্যমত। তিনি আমাকে জানালেন অনেক কিছু:


জ্বীন নিয়ে আজিবরের শিক্ষা শুরু হয় সেই বৃটিশ আমলে থেকে। বিরাট এক আলেম ব্যাক্তি তার প্রথম ওস্তাদ। এরপর এই পৃথিবীর বুকে জ্বীন নিয়ে যতধরনের গবেষণা/আরাধণা আছে সবই তিনি পালন করেছেন। তিনি রাতের পর রাত কাটিয়েছেন কবরখানায়, শশ্মানঘাটে, জনশুন্য মাঠে, পুরোনো মন্দিরে, গভীর জঙ্গলে, সমুদ্রের বুকে, শত শত বছরের বুড়ো নীম-বট গাছের ডালে। কিন্ত তার এই সব গবেষণায় তেমন কোন ফল আসে নি। হতাশ হয়েছে বারবার। তিনি কোনদিন কোন জ্বীনের দেখা পাননি!

এরপর উপসংহার হিসাবে বললেন, সারাটা জীবন জ্বীন নিয়ে কাটিয়ে দিলাম, কিন্ত জ্বীন বলে কিছু আছে বলে টার বিশ্বাস হয় না। তিনি মনে করেন জ্বীন জাতি যদি কখনও পৃথিবীর বুকে থেকেও থাকে তবে তারা এখন ধ্বংস হয়ে গেছে, এই পৃথিবীতে তাদের অস্তিত্ব এখন আর নেই! আমি তার কাছে জানতে চাইলাম, তাহলে আপনাকে নিয়ে এট সব ঘটনা রয়েছে এইগুলো কিভাবে সম্ভব। তিনি উত্তর দিলেন, প্রত্যেকটির ঘটনার পিছনেই যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে। এসব ঘটনার কোনটিতেই জ্বীনদের সংশ্লিষ্টতা ছিলা না। আজিবর কবিরাজকে আমি আরো বললাম, আপনি নিজে এরকম মনে করেন তাহলে কেন জনসম্মুখে এটা প্রকাশ করেন না? তিনি বললেন এতে করে শরীয়তের আলেমরা তাকে কাফের বলে ঘোষণা দিবেন, ঝামেলা শুরু হবে।

অবশেষে, কি আর করার! প্রিয় পাঠক আমিও হতাশ হয়েছি, কারণ জ্বীন বলে আদৌ কোন কিছু আছে এরকম কোন প্রমান আমি নিজ চোখে দেখিনি।

*****************************************************************

পর্ব-৪ (শেষ)

জ্বীন দেখিনি, জ্বীনের অস্তিত্ব আদৌ আছে কিনা তা আমার কাছে রহস্যই থেকে গেল! কিন্ত তবুও কথা থেকেই যায়। জ্বীন জাতি বলে কিছু আছে সেই অন্ধ বিশ্বাস আমি করতে পারছি না তবে নেই সেটাও বলছি না। মানুষ তার জ্ঞান দিয়ে যদি কোন দিন প্রমান করতে পারে সেই আশায়।

বিভিন্ন বর্ননায় জ্বীনদের যে চিত্র ফুটে ওঠে তার আলোকে হয়তো কোনদিন সম্ভব হবে জ্বীনদের অস্তিত্ব প্রমান করা!

জ্বীনদের মোটামুটি বর্ননাগুলো এরকম:

১) জ্বীন অদৃশ্য।

২) জ্বীন আলো দিয়ে তৈরি।

৩) জ্বীন খুব দ্রুত বেগে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে পারে।

৪) জ্বীন আমরা যে সব প্রানী দেখি সে সবের রুপ ধারণ করতে পারে (হয়ত সব প্রানীর না তবে কিছু কিছু হয়তো)।

৫) জ্বীন পৃথিবী বাদে অন্য গ্রহ-নক্ষত্রে চলাফেরার করার ক্ষমতা রাখে।

৬) জ্বীনকে মানুষ নিয়ন্ত্রন করার ক্ষমতা রাখে।

৭) জ্বীন অন্ধকারে থাকতে সাচ্ছন্দ বোধ করে! আলোতে ডিষ্টার্ব ফিল করে!

এই সব বর্ননাগুলো কি একে অপরের সাথে কনফ্লিক্ট করে? বর্তমান বিজ্ঞান অনুসারে কিন্ত তা করে না! কিভাবে?



মনে করি জ্বীন আলো দিয়ে তৈরি। আলোর বৈশিষ্ট্য সত্যিই অদ্ভুত! আলো আসলে বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গ। আলোকে যদি আমরা কোন ফ্রিকোয়েন্সি ব্যাপ্তিতে সীমাবদ্ধ না রেখে, বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গের সম্ভব্য পুরো ফ্রিকোয়েন্সিতে চিন্তা করি তাহলে কিন্ত বিষয়টি জটিল হয়ে গেল। কারণ তাত্বিকভাবে আমরা অসীম ফ্রিকোয়েন্সির বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গ জেনারেট করতে পারি। তাহলে জ্বীন কোন ফ্রিকোয়েন্সিতে তার অদৃশ্য অস্তিত্ব ধারণ করে সেটা গবেষণার বিষয়। তবে আমরা মনে করতে পারি, জ্বীন যদি আলো তথা বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গ দিয়ে তৈরি হয়, তাহলে সে অদৃশ্য হতে পারে এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে খুব দ্রুত যেতেও পারে।

আমরা জানি বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গ শক্তি বহন করে এবং সেই শক্তিকে ভরে পরিবর্তন করা সম্ভব। অন্যদিকে ভরকে শক্তিতেও পরিবর্তন করা সম্ভব। সুতরাং জ্বীন যদি আলো তথা বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গ দিয়ে তৈরি হয় তাহলে সে দৃশ্যমান ভরেও পরিবর্তন হতে পারে তবে সেই ভর দেখতে কেমন হবে সেটা আমি এখন ভাবতে পারছি না।
বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গ অন্য কোন বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গের সাথে ইন্টারএ্যাকশনে যেতে পারে এবং এতে করে তাদের বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয়ক্ষেত্রের পরিবর্তন হতে পারে। সুতরাং জ্বীন আলোতে ডিষ্টার্ব ফিল করতেই পারে। তবে এক্ষেত্রে কথিত যে হিউম্যান চোখে ভিজিবল আলোতেই তারা ডিষ্টার্বড হচ্ছে। এটা গবেষণার একটা ক্লু বৈকি

জ্বীন যদি বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গ দিয়ে তৈরি হয়, তাহলে বলায় যায় বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গের বিচরণ সমস্ত মহাবিশ্বব্যাপি। আর এই মহাবিশ্বকেই তো নিয়ন্ত্রন করতে চায় মানুষ! সুতরাং জ্বীন তো নস্যি মাত্র।

জ্বীনদের নিয়ে কিন্ত আসলেই গবেষণা হয়! ১৯৮৮ সালে পাকিস্থানের নিউক্লিয়ার সায়েন্টিষ্ট সুলতান বশিরউদ্দীন মাহমুদ ওয়াল ষ্ট্রীট জার্নালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন জ্বীন হতে পারে রিনিউএবল এনার্জির এক অফুরন্ত উৎস।

যাই হোক ভবিষ্যত সময়ই হয়তো সঠিক তথ্যটি আমাদের সামনে নিয়ে আসবে, হয়তো আমরা জানবো না, কিন্ত মানুষ তো জানবে। আর সেই সাথে হয়তো শুরু হবে সভ্যতার এক নবদিগন্তের অধ্যায়। ক্রমান্বয়ে বস্তবাদী দুনিয়ার দিকে ধাববান বিশ্বে জ্বীন কি হতে পারে কোন গবেষণার বিষয়?





★ আজকে আপানাদের সাথে একটি ছোট ঘটনা শেয়ার করবো। গল্প বলবো না। কারন এটি একটি সত্য ঘটনা। ঘটনাটা ঘটে আমার দাদার বাড়িতে। একবার খবর পেলাম আমার চাচাতো ভাইকে নাকি জীনে ধরেছে। তাও যেনতেন জীন না। সে নাকি ভয়ঙ্কর আছর করেছে। ছেলেটিকে এখন সারাদিন বেঁধে রাখা হয় রশি দিয়ে। এরই মাঝে সে সেইসব রশি ছিঁড়ে কয়েকবার করে মানুষকে আক্রমন করেছে। আর রশিগুলো যেনতেন রশি নয়। ভারি রশি, যেইসব দিয়ে বড় বড় লঞ্ছ পাড়ে লাগানো হয় সে রকম। খবর শুনে খারাপ লাগলো, পাশাপাশি কৌতূহল হল। ভাবলাম, আপাতত কোনও কাজ নেই। গিয়ে কয়েকদিনের জন্য ঘুরে আশা যায়। আর ঘটনা যদি আসলেই সত্য হয় তাহলে তাকে চিকিৎসার বন্দোবস্ত করা উচিত। আমার ধারণা ছিল এটা তেমন গুরতর কিছু নয়। মানুষ রঙ চং মাখিয়ে ছড়াচ্ছে। যাই হোক, বাড়িতে গেলাম বুধবার সকাল বেলা। আমার চাচাতো ভাইয়ের অবস্থা যথেষ্ট করুন। অনধকার একটা ঘরের মধ্যে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা। জানালার শিখ ধরে দাঁড়িয়ে বাইরে দেখছিল। আর সমানে জানালা ঝাকাচ্ছিল। সাহস করে এগুলাম তার সাথে কোথা বলার জন্য। কিন্তু আমাকে দেখেই খেঁকিয়ে উঠলো। কুৎসিত কিছু গালি দিয়ে উঠলো। ভ্যাবাচেকা খেয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। এমনিতেই এতো রাস্তা ভ্রমন করে এসেছি, তার উপর এমন অভ্যর্থনা, ঠিক যেনও মানিয়ে উঠতে পারছিলাম না।


জানতে পারলাম, আগামীকাল বৃহস্পতিবার এক হুজুর দিয়ে ওর জীন ঝারান হবে। যথাসময়ে হুজুর এলেন। প্রথমে ভাবছিলাম, থাকবো না। কিন্তু কৌতূহলের কাছে হার মানলাম। গেলাম জীন তারানো দেখার জন্য। প্রথমে আমার চাচাতো ভাইকে শক্ত রশি দিয়ে খাটের পায়ার সাথে বাঁধা হল। এরপর ধূপ জ্বালা হল ঘরটি পূর্ণ করে দেয়া হল ধুয়ায়। আমার ভাই কিছুক্ষণের জন্য ঘোরের মধ্যে চলে গেলো। হুজুরের সাথে তার বাক্যালাপের কিছু অংশ তুলে ধরছি।

হুজুরঃ সাড়া দে।

**********(গালি) {অন্য কেউ বলল, কারন সেহতা আমার ভাইয়ের গলা ছিল না}

হুজুর (ঝারু দিয়ে বাড়ি লাগালেন) বললেনঃ এই দেহ তোর ছাড়তে হবে।

ছারমু না। আমি এরে ছারমু না। আমারে খেপাইস না। জানে বাছবি না।

হুজুরঃ জানে বাছব নাকি পড়ে দেখা যাবে। এখুনি দেহ ছেড়ে বের হ।

সংলাপের পুরোটা উল্লেখের প্রয়োজন নেই। তবে কিছু অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছিল সেদিন।

• হটাত টিনের চালে ব্যাপক হারে ঢিল পড়তে লাগলো, সেই সাথে যেনও এক সাথে শত শত সিংহ গর্জন করে উঠলো।

• আমার চাচাতো ভাই হটাত দাঁড়িয়ে পড়লো। কিন্তু তাকে যেই অবস্থায় বাঁধা হয়েছিলো, তাতে দাঁড়ানো সম্ভব নয়।

• ঘরের মধ্যে অদ্ভুত কিছু একটা ঘটছিলো। কারন সবাই খুব অশস্থি বোধ করছিলাম। শুধু একা আমি নই, অনেকেই বলল, শরীর ভার ভার ঠেকছে।

• প্রায় ২ ঘণ্টা নানা কসরত করার পর জীন তারান সম্ভব হয়। ঠিক সেই সময় আমার ভাই এবং হুজুর একি সাথে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

• জীন যাওয়ার সময় আমাদের বারিরি পাশের একটা গাছ উপড়ে দিয়ে যায়। এতো বড় গাছ যে উপ্রান সম্ভব টা চোখে না দেখলে বিশ্বাস হবে না।

• এরপর আমার ভাই সুস্থ হয়ে উঠে, কিন্তু তাকে অনেক তাবিজ এবং সুতো পড়তে হয়।

বাক্তিগত স্বার্থে নাম, জায়গার নাম দেয়া সম্ভব নয়। কারন, ঘটনাটা আমরা ছড়াতে চাচ্ছি না।

★ সত্য ঘটনা ★

(পর্ব-১)


ঘটনা ১ ঃ-

অবস্থানঃ মতিঝিলের বেশ জনপ্রিয় আবাসিক এলাকা

এলাকায় যে একটা বেল গাছ আছে সেটা আমি আমার বিশ বছরের জীবনে শুনিনি।এর অবস্থান একজন বিখ্যাত সঙ্গীত শিল্পীর বাড়ির ঠিক পিছনে একটা গলির ভিতরের দিকে।সেখানে থাকেন আমাদের বাসার কাজের মহিলা অনেকদিন ধরে।একদিন হঠাত উনার মেয়ে বাসায় গিয়ে বলে তার নাকি গলায় ব্যাথা করছে।ধুলাবালি ঢুকেছে ভেবে তারা কেউ পাত্তা দেয় না।এভাবে দুইদিন তিনদিন করে একমাস গেলে।ব্যাপারটা এখন তাদের চিন্তায় ফেললো।তারা মেয়েকে নিয়ে কমপক্ষে ১০-১৫ ডাক্তার দেখালেন,হোমিয়প্যাথি খাওয়ালেন,কেউ বলে শ্বাসনালি তে সমস্যা,কেউ বলে নাকে মাংস বেড়ে গেছে কিন্তু কিছুতেই কিছু হয় না।ঠিক তিন মাস পর তার সাথে যুক্ত হল আরও কিছু ঘটনা।মেয়ে নাকি কিছু খেতেই পারে না,বমি করে ফেলে দেয়।সবাই ভাবল মেয়েকে হাওয়া বদল করাই।তাকে পাঠানো হল গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে।সেখানে গিয়ে শুরু হল আসল ঘটনা

মেয়ে নাকি কথা নাই বার্তা নাই আপন মনে এখানে সেখানে ঘুরে বেড়ায়,চিল্লায়ে চিল্লায়ে গান গায়,মুখ দিয়ে অদ্ভুত অদ্ভুত আওয়াজ করে,পরক্ষনেই আবার হাদিসের বানী শোনায়,সবাইকে নামাজ পড়তে বলে।আবার মেয়েলি ভাষায় হিন্দুদের বিয়ে বাড়ির মত "উলুলুলুলু"আওয়াজ করে।শেষে একজন হুজুড় কে ডাকা হল।তিনি মেয়েকে দেখে তার গায়ে কিছু তাবিজ ঝুলিয়ে দিলেন।কিন্ত্য মেয়েটা তার সামনেই তাবিজ খুলে ছুরে মারে।যখন কিছুতেই কিছু হল না তখন মেয়েকে ঢাকায় আবার নিয়ে আসা হল।এবার ডাকা হল এক হিন্দু ওঝাকে।তিনি মেয়েকে দেখে মায়ের কাছে জানতে চাইলেন যে মেয়েটি কোন বেল গাছের আশেপাশে দিয়ে গেছে কিনা।তখন সবার মাথায় আসল যে হ্যা,মেয়েটি বেল গাছের নিচ দিয়েই যাতায়াত করত।তখন ওঝা বললেন যে এর উপর একটা জ্বীন আর একটা বেল গাছের পেত্নি ভর করেছে।জ্বীনটি তার দিকে দৃষ্টি দিয়েছে।এই কারনে মেয়েটি মাঝে মাঝে সবাইকে ধর্মীয় পরামর্শ দিত।আর পেত্নিটি মেয়েটাকে দিয়ে উলুলুলু আওয়াজ করাতো।তখন ওই ওঝা মেয়ের মাকে কিছু জিনিষ জোগাড় করতে বললেন।এর মধ্যে আছে সাতটা ঘাটের পানি,দুইটা কালো মোরগ,পাচ কেজি মিষ্টি,কিছু মোমবাতি,কালো জিরা,শলার ঝারু।এরপর কি হয়েছে সেটা আমাদের কাজের মহিলা আমাদের বলে নাই।আমার মা হয়ত জানেন কিন্তু আমাকে বলেন নাই।

ঘটনা-২।

অবস্থানঃএকই (ডঃমোতালেব নামক একজন ডাক্তারের চেম্বারের ঠিক পিছনে তার বাড়ির সামনের গলিতে)

এটা একটা শোনা ঘটনা।আমাদের বাড়ির সামনের গলিতে এমন ঘটনা ঘটার কথা শোনা গেছে,গলিটা এমন যে রাস্তা থেকে দেখলে গলির শেষ মাথায় শিড়ি,গলির দুইদিকে দুইটা বাড়ি।ঘটনা প্রত্যক্ষ করে ডান পাশের বাড়ির নিচতলার মেয়েটা আজ থেকে প্রায় ১৪-১৫ বছর আগে।একদিন রাতে ওই মেয়েটা ঘুমাচ্ছিল।রাত্রে প্রায় ৪ টার দিকে মেয়েটা একটা মহিলার পায়ের নূপুরের আওয়াজ পায়।নাচিয়েরা পায়ে যে নূপুর পড়ে সেটা।তো সে তা পাত্তা দেয় নাই,ভেবেছে ঘুমের মধ্যে কি না কি শুনেছে।এসব ভেবে ঘুমিয়ে পড়ে।পরেরদিন একই সময় সে আবারো একই আওয়াজ পায়।এবার সে একটু আগ্রহী হয়।তার রুমের একটা জানালা ওই গলির দিকে মুখ করে ছিল।জানালা খুলে তাকালে গলির অনেকখানি দেখা যায়।সে জানালা খুলতেই তার রুম আলোতে ভরে যায়।আলো সয়ে এলে সে দেখতে পায় গলিতে একটা মহিলা সাদা নাচের কাপড় পরে নূপুর পায়ে হাটছে।ওই কাপড়ের উজ্জ্বলতায় পুরো গলি আলোতে প্রায় ভরে গেছে।মহিলাটা গলির এ মাথা থে একবার ওমাথায় যাচ্ছে আর আসছে।আর তার মুখে ছিল এক অদ্ভূত হাসি।তবে তার চোখ ছিল ভয়ানক,ঠিক গোলাকার,মনি হালকা সাদা এবং লম্বাটে।মেয়েটা হঠাত করে মহিলাটার চোখের দিকে তাকাতেই সম্মোহিত হয়ে যায়।যেন ওই চোখ তাকে এখনি গিলে খাবে।এভাবে মহিলা এবং মেয়েটা পরস্পরের দিকে তাকিয়ে থাকে।এভাবে কিছু সময় পর ওই মেয়েটার মা ঘুম থেকে জেগে ওঠে।আর মেয়েকে ওভাবে জানালার বাইরে তাকিয়ে থাকতে দেখেডাক দেয় কিন্তু মেয়েটা সে সম্মোহিত হয়ে থাকে।তখন তার মা তাকে একটা ধাক্কা দেয়।এবার মেয়েটা হকচকিয়ে ওঠে।আবার যখন সে জানালার বাইরে তাকায় তখন মহিলাটা নাই।ফজরের আযান শুরু হয়ে গেছে

মেয়েটা পরেরদিন তার মাকে সব কথা বলে।কিন্তু তার মা পাত্তা দেয় না।সেদিন রাতে তার মা একই ঘটনার শিকার হয়।কিন্তু সেদিন তার মেয়ে আগে থেকেই জেগে ছিল বলে তার মা বেচে যায়।তারা চলে যাওয়ার পর যখন নতুন ভাড়াটিয়া আসে তারাও একই ঘটনা দেখে।কিন্তু যেভাবে ঘটনাটা শুরু ঠিক সেভাবেই শেষ হয়ে যায়।ওই মহিলাকে আর দেখা যায় না তবে প্রায় রাতে সেই নূপুরের আওয়াজ ঠিকই পাওয়া যায়।


ঘটনা-৩।

অবস্থানঃ আমার নিজের বাসা (আমি আর আমার ভাই এর শিকার)

এটা আসলে ভৌতিক না স্বপ্ন সেটা বলতে পারব না কারন তখন আমার বয়স ছিল তিন বছর আর আমার ভাই এর ছয় বছর।তিন বছরের একটা বাচ্চা যদি স্বপ্ন দেখে তাহলে হয়ত দেখবে যে সে অনেকগুলো খেলনা নিয়ে খেলছে,ঘুরছে।কিন্তু আমার সাথে কি হয়েছে জানি না,আমি প্রায় রাতে অদ্ভুত অদ্ভুত প্রানীর শুধুমাত্র চোখ দেখতে পারতাম।ঘুম থেকে উঠে যখন তাকাতাম তখনও মনে হত যে রুমে সেই প্রানীটি বসে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।সাধারনত কেউ যদি চোখ বড় করে অন্ধকারের দিকে তাকায় তাহলে এমনটা হয়।কিন্তু ভয়ের ব্যাপার ছিল যে আমার বড় ভাই একই স্বপ্ন দেখত এবং ঘুম থেকে উঠার পর একই চেহারা দেখতে পেত।প্রথমদিনেই মাকে ঘটনাটা জানিয়ে দেই।তিনি পাত্তা দেন না।বেশ কয়েকবার ঘটার পর তারা একজন হুজুরের সাথে দেখা করেন।হুজুর আমাকে একটা তাবিজ দিয়ে বলেন যাতে এটা এসব ঘটনা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হাত থেকে না খুলি।অদ্ভুত ব্যাপার হল তিনি আমাদেরকে আরবিতে কালিমা লেখা সাতটি কাচের প্লেট দেন আর বলেন যাতে প্রতিদিন একটা একটা করে কাচের প্লে্ট এর ঐ লেখাটা ধুয়ে সেই ধোয়া পানিটা খাই।অদ্ভুত লাগলেও কাজগুলা করা হয় এবং সমস্যাটা কেটে যায়।

হুজুর বলেছিলেন যে ছোটরা অনেক সময় খেলার ছলে রাস্তায় অনেককিছুই দেখে যা আসলে কি এটা তাদের পক্ষে বোঝা সম্ভব হয় না।হতে পারে সেটা অশরীরী কোন আত্মা যা হয়ত ক্ষতি করে না তবে স্বপ্নে দেখা দিয়ে নানান রূপ ধারন করে।এরকমই কিছু আমার স্বপ্নে এসে দেখা দিয়েছিল।

ঘটনা-৪।

অবস্থানঃচাদপুর,মতলবের শাহাতুলি গ্রাম

এটা আমার চাচির মুখে শোনা আমার দাদাকে নিয়ে একটা ঘটনা।আজ থেকে প্রায় ৪০-৪৫ বছর আগের ঘটনা।আমার দাদা একজন পরহেজগার মানুষ ছিলেন।প্রত্যেক ওয়াক্ত নামায সময়মত আদায় করতেন।এক রাতে তিনি ঠিক করলেন মসজিদে সারারাত থেকে আল্লাহর ইভাদাত বন্দেগী করবেন।এই জন্য তিনি সকাল সকাল মসজিদে চলে আসেন।তার ইচ্ছা ছিল পরেরদিন ফজরের নামাজ পরেই আবার বাড়ী ফিরে আসবেন।ঘটনা ঘটে সেখানে।মসজিদে যাওয়ার পথে একটা পুকুর পরে আত তার পাশে বেশ কিছু নারিকেল গাছ।রাতের বেলা গাছ গুলো দেখতে বেশ ভূতুরে দেখায়।দাদা যখন মসজিদে যাচ্ছিলেন তখন পুকুরের পানি বেশ ভালই ছিল।গাছগুলোও স্বাভাবিক ছিল।তিনি মসজিদে গেলেন এবং ভোরে ফজরের নামাজ পরে তিনি মসজিদ থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হন।ওই পুকুরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি তার টর্চ লাইটের আলো পুকুরে ফেলে দেখেন সেখানে পানি নেই,লাল লাল কি যেন।তিনি আলো ঘুরিয়ে কিনারার দিকে ফেলেই ভয়ে আতকে উঠেন.সেখানে পড়ে ছিল বেশ কিছু মানুষের লাশ,আধ খাওয়া লাশ,কারো মাথা অর্ধেক খাওয়া,কারো হাত নেই,কারও কোমরের নিচের অংশ নেই।দেখে বোঝা যাচ্ছিল সেগুলো খেয়ে ফেলে রাখা হয়েছে আর তাতেই পানি লাল হয়ে গেছে।তিনি ভাবছিলেন যে সকালে তো সব ঠিক ছিল,তাহলে এত মানুষের লাশ সবার চোখের আড়ালে এল কিভাবে।হঠাত পানিতে ধপাস করে একটা শব্দ হল।তিনি আলো সেখানে ফেলে দেখলেন পানিতে আরেকটা লাশ এসে পড়েছে।তিনি উপরের দিকে আলো ফেলে দেখেন তাল গাছের ডগায় মানুষের আকৃতির বেটে আকারের কি যেন একটা মৃতদেহ খাচ্ছে,তাদের পাশে ডালে আরও কিছু মৃতদেহ রাখা।দাদা যা বুঝার বুঝে গেলেন।এটা জ্বীনেরকারবার।পরহেজগার ছিলেন বলে জ্বীন তাড়াবার কিছু উপায় তিনি জানতেন।

তিনি পাশ থেকে একটা কাঠি নিলেন আর তাদের দিকে তাকিয়ে বললেন,"এবার দেখবো তোদের কে বাচায়" এই বলে তিনি সূরা পরতে পরতে কাঠি দিয়ে মাটিতে একটা বৃত্ত আকতে শুরু করলেন।অর্ধেক আকা হয়েছে এমন সময় সেই জ্বীনদুইটা হঠাত একটা বিকট আর্তনাদ করে ওঠে।তারা নিচের দিকে তাকিতে দেখে দাদার বৃত্ত আকা প্রায় হয়ে গেছে।তারা ততক্ষনাত লাশটা ফেলে খুব জোড়ে একটা দৌড় দেয়।লাশটা সরাসরি দাদার কাধে এসে পড়ে।দৌড় দেওয়ার সময় গাছের ডাল ভাঙ্গার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছিল।দাদার উদ্দেশ্য ছিল ওই জ্বীন দুটোকে বৃত্তে বন্দী করে পরে বৃত্ত মুছে ফেলবেন।

লিখে মানুষকে ভয় পাওয়ানো কঠিন।তবে কার সাথে কখন কিভাবে কি ঘটতে পারে সেটাই হচ্ছে এই ঘটনাগুলো লেখার উদ্দেশ্য।এর দ্বিতীয় অংশটা পরে কোন একদিন প্রকাশ কর।এর চাক্ষুশ প্রমান আমি নিজে।




পর্ব ২ঃ-


ঘটনা-৫।

অবস্থানঃআমার নিজের বাস



আসলে এটা ঠিক ভূত দেখা সঙ্ক্রান্ত কোন ঘটনা না।অনুভূতি সঙ্ক্রান্ত যেটা আমার এবং আমার মায়ের হয়েছে।এই ঘটনার ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে আগে একটু বলে নেই।রেডিও ফূর্তিতে ভূত এফএম নামের যে শো টা হয় তাতে সুমন ভাই একবার তার একটা অগিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে একটা বই এর নাম বলেছিলেন।তিনি বলেছিলেন এই বইটা যাদের কাছে থাকে তারা নানান ধরনের প্যারানরমাল অনুভূতির মুখোমুখি হন।তিনি নিজেও হয়েছিলেন।আগ্রহের বশে আমিও নেটে সার্চ দিয়ে ডাউনলোড করার চেষ্টা করি।কিন্তু কেন জানি তিন পৃষ্ঠার বেশি নামাতে দেয় নি।ওই তিন পৃষ্ঠা পড়ে যা বুঝলাম যে এতে জ্বীন আর শয়তানদের সম্পর্কে নানা প্রকার তথ্য দেওয়া হয়েছে।



ঘটনার দিন রাত্রে বেলা প্রায় তিনটার দিকে আমি আমার টেবিলে বসে বই পড়ছিলাম।আমার বাবা-মা তাদের নিজেদের ঘরে আর আমার বড়ভাই গেষ্ট রুমে ঘুমাচ্ছিলেন তাই তার নিজের রুমটা ফাকা ছিল।রাত প্রায় সোয়া তিনটার দিকে আমি হঠাত একটা পায়ের আওয়াজ পাই।কেউ জোড়ে জোড়ে পায়ের আওয়াজ ফেললে যেমন হয় তেমন।একটু পর আমি আমার ভাইয়ের রুমের দরজায় ঝুলানো ঝুনিঝুনির আওয়াজ পাই সেই সাথে ঠাস করে দরজা লাগানোর আওয়াজ পাই।বুঝতে পারলাম কেউ আমার ভাইয়ের রুমে গেছে।আমার ভাই নিজেই হয়ত রুমে গেছে এই ভেবে নিজেকে সান্তনা দেই কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হল আমি কোন লাইটের আলো দেখতে পাই নাই।খটকা লাগে এখানেই।ভাইয়া সাধারনত রুমে ঢুকলে লাইট জ্বালায়।ব্যাপারটা দেখতে আমি ভাইয়ার রুমের দিকে যাই।গেষ্ট রুমের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখি ভাইয়া সেখানে ঘুমাচ্ছে।তার মানে ভাইয়া তার রুমে যায়নি।বাবা-মার রুমের সামনে গিয়ে দেখি তারাও ঘুমাচ্ছে।অথচ ভাইয়ার রুমের দরজা তখন বন্ধ ছিল।আমি বেশ ভয় পেয়ে যাই।কে গেল তাহলে সেই রুমে?

আমি আবার আমার টেবিলে ফিরে গিয়ে পড়তে বশি।ভাবি যে হয়ত না ঘুমানোর কারনে এমন হয়েছে।হঠাত আবার রুমের দরজা খোলার শব্দ।আমি আমার রুমের বাইরে তাকিয়ে কান খাড়া করে রাখি।শুনলাম কে জানি ধপ ধপ করে এগিয়ে আসছে।একটু পর পাক ঘরের পর্দা উড়তে দেখলাম তার মানে কেউ একজন পাক ঘরে ঢুকেছে।কিন্তু কোন লাইট জ্বলল না আবার কোন আওয়াজ ও হল না।আমি সময় নষ্ট না করে ঘুমিয়ে পড়ি



ওইদিন আমার মা তাহাজ্জুদের নামাজ আদায়ের জন্য তাড়াতাড়ি ওঠেন,তার একটা অভ্যাস হল ঘর অন্ধকার করে নামাজ পড়া।তিনি আমার ভাইয়ার রুমে নামাজ পড়েন।নামাজ পড়তে দাঁড়িয়ে আম্মু যখন নাকি সেজদা দিতে যায় তখন তিনি নাকি মাথার সামনে পায়ের স্পর্শ পান।কিন্তু মা সেজদা শেষ করেই ওঠেন।আবার সেজদা দিতে গিয়ে একই রকম পায়ের স্পর্শ পান।যেন তার মাথার সামনে কেউ বসে আছে।তিনি জানতেন তাহাজ্জুদের নামাজ যারা পড়েন তারা এমন অবস্থায় পড়েন।তাদেরকে নাকি ভয় দেখানো হয়।মুনাজাতের সময় হঠাত তার কানে বাইরের দরজায় টোকা দেওয়ার আওয়াজ আসে।তিনি মুনাজাত শেষ করে গিয়ে দরজা খুলে দেখেন কেউ নেই।



তিনি সামান্য ভয় পেয়ে কুরয়ান শরীফ পড়তে বসেন আর আবার সেই টোকার আওয়াজ পান।এবার বেশ জোড়ে জোরে।কিন্তু এবার তিনি উঠে যাননি।চুপচাপ কুরয়ান পাঠ চালিয়ে যান।কুরয়ান পাঠ প্রায় শেষ দিকে এমন সময় তিনি পাকঘরের দরজার সামনে একটা কালো বিড়াল দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন।বিড়ালটা তার দিকে এক নাগাড়ে তাকিয়ে ছিল।মা সেটাকে তাড়ানোর চেষ্টা করেন কিন্তু সেটা যায় না।তিনি যা বুঝার বুঝে যান।এটা কোন স্বাভাবিক বিড়াল না।মনে হয় যেন সেটা মার কুরয়ান তিলাওয়াত শোনার জন্য বসে ছিল কেননা কুরয়ান পাঠ শেষ হবার সাথে সাথেই সেটা চলে যায়।মা সেটার পিছু নিয়ে পাকঘরে ঢুকে দেখেন পাকঘরের জানালা বন্ধ।ভিতরে ঢোকার সামান্যতম জায়গা নেই।

সেদিনি আমি আমার কম্পিউটার থেকে নেট থেকে নামানো সেই বই এর তিন পৃষ্ঠা ডিলিট করে দেই।


ঘটনা-৬

অবস্থানঃমতিঝিল



এখন যে ঘটনাটা বলব সেটা আমার এক বন্ধুর বাসায় ঘটা।তারা যে বাসাটিতে থাকত সেখানে আগে একটা পরিবার থাকত তা প্রায় ১০-১২ বছর আগে।এক ঈদে পরিবারের যিনি কর্তা তিনি বিশেষ প্রয়োজনে কুমিল্লায় যান।যাবার পথে তার বাস এক্সিডেন্ট করে।এতে ওই বাসের সবাই মারা যায়।লোকটাকে মুমূর্ষ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে তিনি মারা যান।তার শরীরের প্রায় সবগুলো হাড় ভেঙ্গে গিয়েছিল।মাথা পুরো থেতলে গিয়েছিল।কোমড়ের নিচের অংশটুকু ছিলনা বললেই চলে।তিনি যে বাসাটিতে থাকতেন সেখানে তার লাশ নিয়ে আসা হয়।কিন্তু তার দেহটি সেই বাসা ছেড়ে গেলেও তার আত্মা সেই বাসা এখনও ছেড়ে যায়নি।



এই বাসাটিতে কোন ভাড়াটিয়াই ২-৩ মাসের বেশি থাকতে পারে না।বাড়ির মালিকও বাসা ভাড়া দেবার সময় কিছু বলেন না।আমার বন্ধুর পরিবার যখন ভাড়া নিতে যায় তখন বাড়িওয়ালা শুধু এটুকুই বলেন যে এই বাসা এক বছরের আগে কোন অবস্থাতেই ছাড়া যাবে না।তারা তা মেনে নেয়।কিন্তু বাসায় ওঠার কয়েকদিনের মধ্যেই ঘটনা ঘটা শুরু হয়।



আমার বন্ধুটির রাত জেগে পড়ার অভ্যাস।একবার রাত তিনটার দিকে সে পড়ছিল।হঠাত তাদের বারান্দার শেষ মাথায় ধপ ধপ দুইটা আওয়াজ হয়।ভুল শুনেছে ভেবে বন্ধুটি আবার পড়ায় মন দেয়।আবারও একই ঘটনা।এবার সে বারান্দায় তাকায়।ঘুটঘুটে অন্ধকারের মধ্যে সে দেখতে পায় সাদা আলখেল্লার মত পড়া কি যেন একটা মাটিতে লাফাচ্ছে।মাথার নিচের অংশটুকু স্বাভাবিক কিন্তু মাথা অস্বাভাবিক রকমের বড়।চোকের অংশটুকুতে যেন আগুন জ্বলছে।হঠাত সেই ছায়াটা তার রুমের দিকে সেভাবে লাফাতে লাফাতেই আসতে থাকে।আমার বন্ধুতে ভয়ে তার বইয়ের দিকে তাকিয়ে থাকে।এমন সময় সে টের পায় সেই ছায়াটা দরজা দিয়ে তার রুমে ঢুকেছে।তার সামনে একটা গ্লাস রাখা ছিল।সেই গ্লাসে ঠিক তার পিছনে সেই ছায়ার প্রতিবিম্ব দেখতে পায়।এক পর্যায়ে সেই ছায়াটা দক্ষিন দিকের একটি জানালায় গিয়ে মিলিয়ে যায়।



তার বাসার সবাইকে জানালেও কেউ তা বিশ্বাস করে না।সেদিন রাত্রে গায়ে কাটা দেওয়া আরেকটি ঘটনা ঘটে।আমার ওই বন্ধুটি পড়ছিল কেননা পরেরদিন তার এইচএসসি পরীক্ষা ছিল।এমন সময় সে পায়ের আওয়াজ পায়।সে বুঝতে পারে কিছু একটা রুমে ঢুকেছে।এবার সে সাহস করে পিছনে তাকায়।দেখতে পায় তার বিছানা অর্ধেক হুট করে দেবে গেছে।একটু পর মাথার বালিশও দেবে যায়।ঠিক যেন কেউ বিছানায় শুয়েছে।আরও অদ্ভুত ব্যাপার হল তার বিছানাটা একটু পর পর কাপছিল যেন ভূমিকম্প হচ্ছে।সে সাহস জোগাড় করে তার আলমারির উপর রাখা কুরআন শরীফটা বিছানার একটি কোনায় রেখে দেয়।হঠাত কি হল সে বুঝতে পারল না।হুরমুর করে বিছানা থেকে কেউ যেন গায়ে কাটা দেওয়া কানে তালা লাগানো আওয়াজ করে জানালা ভেদ করে পালিয়ে যায়।



কয়েকদিন পরে তার এক বন্ধু বাসায় বেড়াতে আসে।সে ওই বাসার ঘটনাগুলো সম্পর্কে জানত।রুমে ঢুকেই সেই ওই আত্মাটাকে উদ্দেশ্য করে একটা গালি দেয়।রাত ঠিক দশটার দিকে তারা বসে কম্পিউটারে গেমস খেলছিল।কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগে আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটে গেল।ধোপারা কাপড় ধোয়ার স্ময় যেভাবে কাপড়কে মাটিতে আছাড় মারে ঠিক সেভাবে কে জানি ওই বন্ধুটিকে আলমারির সাথে বসা অবস্থাতেই একটা আছার মারে।এতে চেয়ারটি ভেঙ্গে যায়।উঠে দাঁড়ানো মাত্রই আবার তাকে মাটিতে আছাড় মারা হয়।আমার বন্ধুটি কোন মতে সাহস জুগিয়ে সামনে রাখা কুরয়ান শরীফটি সেই বন্ধুর কোলের উপর রেখে দেয় আর তারপরই বন্ধুটির শরীর আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে যায়।

আরও কিছু ঘটনা ঘটে।এই যেমন রাতের বেলা নামাজ পড়তে দাড়ালে কে যেন পিছন থেকে সে ধাক্কা দেয়।রাতে ঘুমানোর সময় কে যেন পা ধরে টেনে মাটিতে ফেলে দেয়।ঘুমানোর সময় কানের সামনে এসে ফিসফিস করে কথা বলে।শেষ যে খবর পেয়েছিলাম তা হল ঘরটি বান্ধানো হয়েছে।বলে দেওয়া হয়ে দক্ষিন দিকের জানালা যাতে কখনও খোলা না হয়।




তিনটি সত্য ভৌতিক ঘটনা (পর্ব-৩)ঃ-

এখন যদি স্বয়ং ভূত বা পেত্নি এসে ভূতের গল্প লেখে ভয় পাওয়ানোর চেষ্টা করে আর যদি বলে এটা একেবারে সত্যি ঘটনা তাহলেও সেটা অনেকেই বিশ্বাস করবে বলে মনে হয় না।স্বয়ং ভূত-পেত্নি আপনার সামনে এসে হাজির হলে সেই না হয় অন্য কথা।সাধারন মানুষ হিসেবে ভয় পাওয়ানোর চেষ্টা করলাম।হাসবেন না কি করবেন তা আপনার ব্যাপার।

ঘটনা-৭:
অবস্থানঃবরিশাল,বাবুর হাট

লোকটার নাম ছিল কানা মামা।আমার মা এবং আমার খালারা তাকে কানা মামা বলেই ডাকত।লোকটা আজন্ম অন্ধ।আমি জানতাম,অন্ধদের একটা ভালো গুন আছে।তারা যে রাস্তা দিয়ে বারবার যাতায়াত করে সে রাস্তায় দিনের যে সময়েই তাকে রেখে আসা হোক না কেন তারা ঠিকই রাস্তা চিনে আসবে।কিন্তু কানামামার ক্ষেত্রে তা ছিল ব্যতিক্রম।তিনি নিজে থেকেই কয়েক মাইল পথ পাড়ি দিয়ে অন্য গ্রামে চলে যেতেন,আবার নিজে নিজেই গভীর বেলা বাড়ি ফিরতেন এবং দরজার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের শরীর ঝারতেন আর "যাহ,যাহ"বলে ধমকি দিতেন।

আসলে তিনি ছিলেন একজন ওঝা গোছের লোক।লোকেমুখে জানা যায় তিনি কালোজাদু জানতেন,তার সাথে কিছু জ্বীন আর পেত্নি সর্বদা চলাফেরা করে।তারাই তাকে রাতের বেলা পথ দেখিয়ে নিয়ে আসে আবার চলে যায়।তার আরেকটি দক্ষতা ছিল তিনি মানুষের স্বর শুনেই বলে দিতে পারতেন লোকটা কে।আমার মা প্রায় ১৬ বছর পর গ্রামে গিয়ে একদিন তাকে দেখে বললেন,"কানা মামা,কেমন আছেন?" তখন কানা মামা সাথে সাথেই উত্তর দেয়,"কিরে রেনু,এত বছর পর এলি।"

কথিত আছে,আজ থেকে প্রায় ২০-২২ বছর আগে এলাকাতে একটা পুরানো পোড়া বাড়ি ছিল,যেখান থেকে নাকি প্রতিদিন রাতের বেলা অদ্ভুত সব আওয়াজ আসত,কোনদিন হয়ত বাচ্চার কান্নার আওয়াজ,আবার নুপুর পায়ে কারো হাটার আওয়াজ,গোঙ্গানির মত আওয়াজ পাওয়া যেত।এমনকি ওই বাড়ির বারান্দায় প্রায়শি নাকি শাদা কাপড় পরিহিত একটা ছায়া দেখা যেত।তখন কানা মামা কেবল মাত্র কালোজাদুর চর্চা শুরু করেছেন।তিনি সবাইকে বললেন যে তিনি একা রাতের বেলা সেই বাড়িতে যাবেন এবং ওইখানে যদি অশরীরী কিছু থাকে তাহলে তিনি তাদের বন্দি করে আনবেন।কথামত তাই হল,তিনি একা রাতের বেলা গেলেন কিন্তু সেদিন তিনি আর ফিরে আসেননি।তার দেহ অচেতন অবস্থায় দুইদিন পর পুকুর পাড়ে পাওয়া যায়,তবে তারপর থেকে ওই বাড়ি থেকে আত কোন আওয়াজ আসেনি।

তার যারা ক্ষতি করে তাদের উপর তিনি জ্বীন দ্বারা প্রতিশোধ নিতেন।এমনকি জ্বীনরা তার অনুপস্থিতিতে ক্ষতি করত।তার মৃত্যূর পর এমনি একটা ঘটনা ঘটে।

এক সদ্য বিবাহিত মেয়ে রাতের বেলা হাতমুখ ধুতে কল পাড়ে যায়।কিছুক্ষন পরে তার আর্তচিতকারে তার স্বাশুড়ি মা বাইরে বেরিয়ে আসে।তিনি গিয়ে দেখেন তার বউমাকে কে যেন হাওয়ায় ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং কিছুক্ষন পরে পুকুরে ফেলে দেয় আর পানিতে চুবাতে থাকে।সে ঠিকমত চিতকার করতে পারছিল না কারন তার গলার সোনার চেইন কে যেন গলায় চেপে ধরেছিল।তখন তার শ্বাশুরি মা লোকজন জড়ো করে মেয়েটাকে পানি থেকে উঠায়।পরে তার ভাষ্যে জানা গেল,সে একটা পিদিম হাতে নিয়ে কলপারে যায়।চারপাশে কোন বাতাস না থাকা সত্তেও হঠাত পিদিমটা নিভে যায় এবং কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে পাজকোলা করে কে যেন হাওয়ায় ভাসিয়ে পানিতে নিয়ে ফেলে পানিতে ডুবানোর চেষ্টা করে।ধারনা করে সবাই যে,তার শ্বশুর জমিজমা সঙ্ক্রান্ত ব্যাপারে কানা মামার ক্ষতি করেছিল তাই তার মৃত্যূর পর এভাবেই প্রতিশোধ নেওয়া হয়।


ঘটনা-৮:

অবস্থানঃবিদেশ(সঠিক জায়গার নাম জানা নেই)

এটা এক বন্ধুর মুখে শোনা।একবার এক লোক ব্যবসার কাজে বিদেশে যায়।তিনি একটি ফাইভস্টার হোটেলে ওঠেন।সেখানে তখন মাত্র দুটি রুম খালি ছিল একটি দক্ষিন্মুখী আরেকটি ঠিক তার পাশে।তিনি ম্যানেজারের কাছে দক্ষিনমুখী রুমটা চান।কিন্তু ম্যানেজার তাকে রুমটা দেয়না,পাশের রুমটা দেয়।কারন জানতে চাইলে ম্যানেজার বলে ওই রুমে নাকি কিছু কন্সট্রাকশনের কাজ চলছে।ওই লোক নিজের রুমে চলে যায়।

রাতের বেলা ২-৩ টার দিকে তিনি ধ্রিম ধ্রিম আওয়াজ পান,কেউ যেন পাশের দেয়ালে আঘাত করছে,সেই সাথে মৃদু কান্নার আওয়াজ আসছে।তিনি ব্যাপারটাতে তেমন পাত্তা না দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।পরেরদিন ঠিক একই সমস্যা।এবার অনেক জোড়ে জোড়ে কান্নার আওয়াজ আসছে।সেই সাথে কেমন জানি ধস্তাধস্তির আওয়াজ,পানি পড়ার শব্দ।তিনি জানেন ওই রুমে কেউ থাকে না তারপরেও তিনি উঠে গিয়ে ওই রুমে নক করেন আর সাথে সাথেই আওয়াজ বন্ধ হয়ে যায়।তিনি চলে আসতে যাবেন তখন আবার আওয়াজ।এবার তিনি দরজার চাবির ফুটোয় চোখ দেন কিন্তু ভিতরে কিছুই দেখতে পাননা,শুধু অন্ধকার।সেদিনের মত তিনি রুমে চলে যান

পরের দিন এবার আগে ভাগেই তিনি ওই রুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন যাতে আওয়াজ হলেই চোখ রেখে দেখতে পারেন,কিন্তু সেদিন আর আওয়াজ হয়নি।তারপরেও তিনি কৌতুহলবশত চাবির রিং এর ফুটোয় চোখ রাখেন।দেখেন পুরো রুম লাল হয়ে আছে।এটা দেখে এবার তিনি ভয় পেয়ে যান।।

পরের দিন তিনি হোটেলে ঝারু দেয় এমন একজনের সাথে কথা বলেন।তার ভাষ্যটা ছিল এমন,"ওই রুমে অনেক বছর আগে একটা মেয়েকে রেপ করে তাকে খুন করে লাশ ফেলে যাওয়া হয়।এরপর থেকে সেখানে নানা রকম আওয়াজ আসতে থাকে।হোটেলের সুনাম খারাপ হবে বলে আপনাকে বলা হয়নি।"

লোকটি তার রুমে ফিরে আসবে এমন সময় ঝারুদার তাকে ডেকে বলে,"জানেন স্যার মেয়েটার একটা অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য ছিল।মেয়েটার চোখের রঙ ছিল লাল"

ঘটনা-৯:

অবস্থানঃবরিশাল

এই ঘটনাটা আমার মায়ের কাছ থেকে শোনা।তিনি যখন ছোট ছিলেন ওই সময়টাতে গ্রামাঞ্চলের দিকে মানুষের প্রধান পেশা ছিল পুরোপুরি ভাবে কৃষি।এখন যেমন ব্যবসার প্রচলন ব্যাপকভাবে ঘটেছে তখন তেমন ছিল না।সে সময় রাতের বেলা প্রায়শি ক্ষেত থেকে ধান চুরি হয়ে যাবার ঘটনা শোনা যেত।এ কারনে গ্রামের লোকজন মিলে ঠিক করে যে তারা কাউকে পাহারাদার হিসেবে নিয়োগ দিবে এবং মাস শেষে সবাই মিলে কিছু টাকা দিয়ে তার বেতন পরিশোধ করবে।যেই কথা সেই কাজ।তাকে নিয়োগ দেওয়া হল।পাহারাদার ছিল যুবক একজন লোক কিন্তু গরীব যে কারনে রাতের বেলা কাজটি করতে সে রাজি হয়।সে যখন পাহারায় আসত তখন দৌড়ে দৌড়ে পুরো ক্ষেত একবার চক্কর দিত আর "কে রে ওখানে" বলে চিতকার দিতে দেখার জন্য কোন নড়চড় চারপাশে দেখা যায় কিনা।

প্রথম একমাস তেমন কোন সমস্যা হয় না।কোন চুরির খবর পাওয়া যায় না।কিন্তু একদিন ভোরবেলা এক কৃষক ক্ষেতের পাশে একটা ডোবায় তার লাশ খুজে পায়,তার মাথা কেটে ফেলা হয়েছিল আর হাত-পা বাধা।ক্ষেতের ক্ষানিকটা অংশ রক্তে ভরে ছিল।লোকেরা ভাবে হয়ত চোরেরা এই কাজ করেছে।

এই ঘটনার পরও চুরির ঘটনা তেমন পাওয়া যায় নি,হয় না বললেই চলে।কিন্তু নতুন একটা ঘটনার আবির্ভাব হয়।প্রায় রাতে যারা হাট থেকে বাড়ি ফিরে তারা নাকি দেখেছে প্রতি রাতে কে জানি লন্ঠন হাতে ক্ষেতের পাশ দিয়ে দৌড়ায় আর ঘ্রঘ্র আওয়াজ করে।এবং প্রতিদিন সকালে ক্ষেতের ঐ নির্দিষ্ট জায়গায় যেখানে ওই পাহারাদারের লাশ আর রক্ত পাওয়া গিয়েছে সেখানে তাজা রক্ত পড়ে থাকতে দেখা যায়।প্রতিদিনেই একই ঘটনা ঘটে।তাই কিছু লোক মিলে ঠিক করে এবার তারা রাতের বেলায় ক্ষেতের মাঝে লুকিয়ে দেখবে ঘটনা কি।এক রাতে তারা তাই করে।রাত ঠিক তিনটার দিকে ঘটে ঘটনাটা।

দূর থেকে তারা দেখতে পায় লাঠি ও লন্ঠন হাতে সাদা পোশাকের কে জানি এদিকে দৌরে আসছে আর দূর থেকেও ঘ্রঘ্র আওয়াজটা পাওয়া যাছে।কিছুটা কাছে আসতেই তারা ভয়ে শিউরে ওঠে।এটা ওই পাহারাদার যে মারা গেছে,ঘাড়ে মাথা নেই তাই ওইখান থেকেই আওয়াজ টা আসছে।তারা যেখানে লুকিয়ে ছিল সেখানে এসেই আত্মাটা দাঁড়িয়ে পড়ে,তাদের দিকে কাধ ফিরে তাকায় যেন তাদেরকেই দেখছে এবং আরও একবার ঘ্রঘ্র আওয়াজ করে দৌড়ে চলে যায়।এই ঘটনা দেখে তারা সবাই জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

এই ঘটনা বেশ অনেকদিন ধরে চলে,এখনও মাঝে মাঝে নাকি দূর থেকে সাদা পোশাকের কাউকে দৌড়াতে দেখা যায়।


জ্বীন-পরীর গাঁজাখোরি গল্প এবং ধর্ম ও বিজ্ঞান-

ঐশী ধর্মের মূল উৎস এবং মূল বক্তব্য এক ও অভিন্ন। মহান আল্লাহতায়ালা প্রথম মানব এবং নবী হযরত আদম (আঃ) থেকে শুরু করে সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) পর্যন্ত অসংখ্য নবী ও রসূল প্রেরণ করেছেন। তাঁদের মাধ্যমে আল্লাহপাক তাঁর আদেশ নির্দেশ সম্বলিত ঐশীবাণী নির্দিষ্ট সময় অন্তর প্রতিটি মানব জাতির কাছে পৌছে দিয়েছেন। কালের প্রবাহে পারিপার্শ্বিক পরিবেশ ও পরিস্থিতির পরিবর্তন যেমন ঘটেছে তেমনি মানবিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষতা সাধনও ঘটেছে। এরই সাথে সামঞ্জস্য রেখে “একই ধর্ম ইসলামের” বিধানের মূল-বক্তব্যকে অপরিবর্তীত রেখে মহান স্রষ্টা সময়ের চাহিদা অনুসারে নব নব তথ্য ও তত্ত্বের অবতারনার মাধ্যমে পরিবর্ধিত আকারে বার বার মানুষের সামনে পেশ করেছেন, যেন এর মাধ্যমে তাঁরই প্রিয়তম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি সত্য ও সুন্দরের পথ চিনে নিয়ে সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারে। কিন্তু সর্বকালেই একরোখা মনোভাবাপন্ন একদল অহংকারী ও স্বেচ্ছাচারী ঐশীবাণীগুলোকে অহংকার বশতঃ সরাসরি অস্বীকার করেই ক্ষান্ত হয়নি; বরং বিকৃত করার অপপ্রয়াস চালিয়ে আসছে। অপরদিকে তেমনি কিছু সংখ্যক সুযোগসন্ধানী মানুষ কতিপয় গাঁজাখুরী গল্পের আড়ালে কুসংস্কারে আচ্ছন্ন করে ধর্মের প্রকৃত সৌন্দর্য ও আদর্শ কালিমালিপ্ত করেছে এবং কৌশলে ধর্মকে তাদের স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার বনিয়ে নিয়েছে। কিন্তু তাই বলে তো বিবেকবান জ্ঞানিগণ মানব জাতির কল্যাণ সাধনে খাঁটি ধর্মের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করতে পারে না। বর্তমানে বিশ্বের সর্বত্র সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও গভীরভাবে চিন্তা করলে খুব সহজেই অনুধাবন করা যায় যে, এ ধরণীতে বৈচিত্রময় চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অসংখ্য মানব গোষ্ঠীকে শান্তি ও শৃঙ্খলা দানের জন্য কুসংস্কার-মুক্ত জ্ঞান ও ঐশী অনুশাসনের অবশ্যই প্রয়োজন রয়েছে।

বিশ্ব-স্রষ্টার একত্বে বিশ্বাসী প্রকৃত মুনি, ঋষি, পীর ও আওলিয়াগণের সবাই ছিলেন মহান ব্যক্তিত্বের অধিকারী সত্য-সাধক। মানবীয় গুণাবলী বিকাশের লক্ষ্যে তাঁদের অবদান সত্যিই অনস্বীকার্য। কিন্তু কতিপয় ছদ্মবেশী ও শিষ্য নামধারী ভন্ডের দল তাঁদের অবর্তমানে তাঁদের পবিত্র কর্মস্থলকে ঘিরে তিলকে তাল বানিয়ে আজগুবি কেচ্ছা-কাহিনী ও ধর্মহীন কার্যকলাপের মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ সরল মানুষদেরকে ধোঁকা দিয়ে ফায়দা লুটছে। এসব গুজব ও ধর্মহীন কর্মকান্ড সত্যিকার অর্থে ধর্ম যেমন সমর্থন করে না, তেমনি বিজ্ঞানের দিক থেকেও সেগুলো মোটেও সমর্থনযোগ্য নয়। তথাপি কতিপয় স্বার্থান্বেষী জ্ঞানপাপী ধর্মকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এসব অতিরঞ্জিত বিষয়গুলোকে পুঁজি বানিয়ে ধর্মের নামে চালিয়ে দিয়ে সেগুলোকে আবার বিজ্ঞানের দোহাই দিয়ে মিথ্যা প্রমাণ করতে ব্যস্ত থাকে। গ্রামে-গঞ্জে কিছু সুযোগ সন্ধানী ছদ্মবেশী লোক জ্বীন-পরী ইত্যাদি বিষয়গুলোকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে গাঁজাখুড়ি গল্প বানিয়ে মানুষকে ধোঁকা দিয়ে ফায়দা লুটছে। এসব বানানো গল্পের প্রায় পুরোটাই ভিত্তিহীন ও ছলনাপূর্ণ। আল-কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন-

আল-কোরআন (Al-Quran)-
সূরা হিজর-আয়াত নং- ২৬ ও ২৭
(১৫ : ২৬) অর্থ- আমি তো ছাঁচে-ঢালা শুষ্ক ঠন্‌ঠনে মৃত্তিকা হতে মানুষ সৃষ্টি করেছি,
(১৫ : ২৭) অর্থ- এবং এর পূর্বে অত্যুষ্ণ বায়ুর উত্তাপ হতে জ্বীন সৃষ্টি করেছি।
সূরা রাহমান-আয়াত নং-১৫
(৫৫ : ১৫) অর্থ- এবং জ্বীনকে তিনি সৃষ্টি করেছেন নির্ধূম অগ্নিশিখা হতে।
সূরা যারিয়াহ -আয়াত নং- ৫৬
(৫১ : ৫৬) অর্থ- আমার দাসত্বের জন্যই আমি মানুষ ও জ্বীনকে সৃষ্টি করেছি।
সূরা সাফ্‌ফাত-আয়াত নং (১৫৮ - ১৬৩)
(৩৭ : ১৫৮) অর্থ- ওরা আল্লাহ্‌ ও জ্বীন জাতির মধ্যে জৈবিক সম্পর্ক সৃষ্টি করেছে, অথচ জ্বীনেরা জানে তাদেরকেও শাস্তির জন্য উপস্থিত করা হবে।
(৩৭ : ১৫৯) অর্থ- ওরা যা বলে তা হতে আল্লাহ্‌ পবিত্র, মহান।
(৩৭ : ১৬০) অর্থ- তবে, যারা আল্লাহতায়ালার নিষ্ঠাবান বান্দা তারা আলাদা,
(৩৭ : ১৬১) অর্থ- তোমরা ও তোমরা যাদের উপাসনা কর তারা -
(৩৭ : ১৬২) অর্থ- (সবাই মিলে আল্লাহ্‌ সম্পর্কে ) তাদের (নিষ্ঠাবান বান্দাদেরকে) বিভ্রান্ত করতে পারবে না।
(৩৭ : ১৬৩) অর্থ- কেবল তাদেরকে বিভ্রান্ত করতে পারবে যারা জাহান্নামী।
সূরা জ্বীন-আয়াত নং (৭ - ১৫)
(৭২ : ০৭) অর্থ- তারা (জ্বীনেরা) মনে করতো- যেমনি মনে করতে তোমরা (মানুষেরা)- যে, মৃত্যুর পর আল্লাহ্‌ কাকেও পুনরুত্থিত করবেন না।’
(৭২ : ০৮) অর্থ- এবং ওরা পরস্পর বলাবলি করছিল যে, আমরা চেয়েছিলাম আকাশের তথ্য সংগ্রহ করতে কিন্তু আমরা দেখতে পেলাম কঠোর প্রহরী ও উল্কাপিন্ড দ্বারা আকাশ পরিপূর্ণ।
(৭২ : ০৯) অর্থ- পূর্বে আমরা আকাশের বিভিন্ন ঘাঁটিতে সংবাদ শোনার জন্য বসে থাকতাম কিন্থু এখন কেউ সংবাদ শুনতে চাইলে সে তার ওপর নিক্ষেপের জন্য প্রস্তুত জ্বলন্ত উল্কাপিন্ডের সম্মুখীন হয়।
(৭২ : ১০) অর্থ- জগতের প্রতিপালক জগদ্বাসীর অমঙ্গল চান, নাকি তাদের সঠিক পথ দেখাতে চান -  - সে বিষয়ে আমরা কোন জ্ঞান রাখি না।
(৭২ : ১১) অর্থ- এবং আমাদের কতক সৎকর্মপরায়ণ এবং কতক এর বিপরীত, আমরা ছিলাম বিভিন্ন পথের অনুসারী;
(৭২ : ১২) অর্থ- এখন আমরা বুঝেছি যে, আমরা আল্লাহ্‌-কে পরাভূত করতে পারব না এবং পৃথিবী থেকে পলায়ন করে তাঁর ক্ষমতাকে ব্যর্থও করতে পারব না।
(৭২ : ১৩) অর্থ- আমরা যখন হেদায়েতের বাণী (কোরআন) শুনলাম, তাতে বিশ্বাস স্থাপন করলাম। যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে তার নিজের পাওনা কম পাওয়ার আশংকা থাকে না, (পরকালেও) তাকে লাঞ্ছনা পেতে হবে না।
(৭২ : ১৪) অর্থ- আমাদের কিছু আত্মসমর্পণকারী এবং কিছু সীমালংঘনকারী; যারা আত্মসমর্পণ করে তারা সুচিন্তিতভাবে সত্যপথ বেছে নেয়।
(৭২ : ১৫) অর্থ- কিন্তু যারা সত্যবিমুখ তারা অবশ্য জাহান্নামেরই ইন্ধন।

সুতরাং পবিত্র কোরআনের এই বানীগুলো থেকে আমরা বুঝে নিতে পারি যে, আল্লাহতায়ালা মানুষ সৃষ্টির পূর্বে জ্বীন-জাতিকে অত্যুষ্ণ বায়ুর উত্তাপ তথা নির্ধূম অগ্নিশিখা হতে সৃষ্টি করেছেন। যদিও এ ধরণের কোন সৃষ্টিকে অবলোকন করার মতো কোন যন্ত্র বিজ্ঞান এখনও আবিষ্কার করতে পারেনি। কিন্তু তাই বলে তা সরাসরি অস্বীকারও করেনি। কারণ এ মহাবিশ্বে এমন অনেক সৃষ্টি রয়েছে যা এখনও পর্যন্ত বিজ্ঞানের ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছে। গতিবিধি অনুমান করা গেলেও এদের সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। যেমন কয়েক যুগ পূর্বেও মানুষ রোগ-জীবাণু যেমন-ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ইত্যাদির অস্তিত্ব ও মানবদেহে এদের প্রভাব বিস্তার সম্পর্কে সন্দিহান ছিল। কিন্তু বর্তমানে বিজ্ঞানের অবদান অণুবিক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কারের ফলে এদের অস্তিত্ব ও কর্মকান্ড সম্পর্কে আমরা আজ সন্দেহ-মুক্ত। তবে আল্লাহতায়ালা সৃষ্টিগতভাবে জ্বীনদেরকে এমন কিছু বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী করেছেন যে তারা এর সহায়তায় প্রথম আসমানের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে গিয়ে তথ্য ও সংবাদ সংগ্রহের চেষ্টা চালানোর যোগ্যতা রাখে। আর এ কারণেই হয়ত মানুষদের মধ্যে কেউ কেউ তাদের উপাসনা করে। কিন্তু প্রকৃত অর্থে এইসব উদ্ধত জ্বীন ও বিভ্রান্ত মানুষেরা বিপথগামী ও জাহান্নামী। কারণ তারা বিভ্রান্তকর সংবাদ শুনিয়ে অন্যকে ধোঁকা দিতে চায়।

আমরা ‘হিপনোটিস্‌ম’-এর কথা সবাই কম-বেশী জানি। যা বড় বড় যাদুকররা প্রয়োগ করে থাকে এবং কিছু সময়ের জন্য হলেও মানুষকে বিমোহিত করে ভেলকিবাজির খেলা দেখিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে সম্ভবত সাধনার দ্বারা এমন কোন মাধ্যম বা শক্তিকে আয়ত্বে আনা হয়, যার সহায়তায় সাধারন মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের উপর কিছু সময়ের জন্য হলেও প্রভাব বিস্তার করা সম্ভব হয়। ইদানিং চিকিৎসাক্ষেত্রেও এটি প্রয়োগের চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে বেদনা নাশক হিসেবে এবং যন্ত্রনাদায়ক রোগের প্রকোপ দমনে এর সফল প্রয়োগ হতে দেখা গেছে এবং এ নিয়ে যথেষ্ট গবেষণা চলছে। তবে ঠিক কি উপায়ে এবং কোন ধরণের শক্তিকে এতে কাজে লাগানো হচ্ছে তার সঠিক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা এখনও পাওয়া যায়নি। তেমনি মানুষ সাধনার মাধ্যমে অথবা জন্মগতভাবে এমন কোন শক্তির অধিকারী হতে পারে, যার সহায়তায় সেই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ব্যক্তিটি অতীতের তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে হয়তবা ভবিষ্যতের কিছু কিছু কথা বলে দিতে পারে। তবে এক্ষেত্রে অধিকাংশই ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে। তাই ধর্মীয়ভাবে এসব ভবিষ্যৎ বাণীতে বিশ্বাস স্থাপন করা নিষেধ এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোন থেকেও যুক্তিসঙ্গত নয়। কারণ এসব ক্ষেত্রে সাধারনত প্রতারণার উদ্দেশ্যই প্রবল থাকে। আল-কোরআনে আল্লাহতায়ালা যাদুবিদ্যা শিক্ষাকরা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন এবং যাদুর অনিষ্ট ও দুষ্ট-জ্বিনের প্রভাব থেকে বেঁচে থাকবার জন্য সবসময় স্রষ্টা মহান আল্লাহকে স্মরণ করতে ও তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করতে বলেছেন। সূরা বাকারা:-এর ১০২ নং আয়াত ও সূরা আল ফালাক্ক ও সূরা আন্‌ নাস থেকে আমরা তা সহজেই বুঝে নিতে পারি।

আল-কোরআন (Al-Quran)-
সূরা বাকারা-আয়াত নং-১০২
(০২ : ১০২) অর্থ- ( আল্লাহতায়ালার প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করেই এরা ক্ষান্ত হয়নি ) এমন কিছু জিনিসও (যাদুমন্ত্র) এরা অনুসরণ করতে শুরু করলো, যা শয়তান কর্তৃক সোলায়মান (নবী)- এর রাজত্বের সময় (সমাজে) চালু করা হয়েছিল, (সত্যি কথা হচ্ছে) সোলায়মান কখনো (আল্লাহবিরোধী কাজে যাদুকে ব্যবহার কোরে) আল্লাহকে অস্বীকার করেনি, আল্লাহকে তো অস্বীকার করেছে সে সব অভিসপ্ত শয়তান, যারা মানুষকে যাদুমন্ত্র শিক্ষা দিয়েছে; (যাদুপাগল কিছু মানুষকে পরীক্ষার উদ্দেশে) আল্লাহতায়ালা হারূত ও মারূত (নামে) ফেরেশতাদ্বয়কে ব্যাবিলনে পাঠিয়েছিলেন, সেই দুজন ফেরেশতা যখনই (কাউকে) এ বিষয়ে (যাদু) শিক্ষা দিতো, (প্রথমেই) তারা এ কথাটা তাদের জানিয়ে দিতো, “আমরা তো হচ্ছি (আল্লাহর) পরীক্ষামাত্র”, সুতরাং (এ বিদ্যার কারণে কোন অবস্থাতেই) তুমি আল্লাহতায়ালাকে অস্বীকার করো না, (তা সত্ত্বেও) তারা তাদের কাছ থেকে এমন কিছু বিদ্যা শিখে নিয়েছিলো, যা দিয়ে তারা স্বামী- স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করতো, (যদিও) আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কোনো দিনই কেউ কারো সামান্যতম ক্ষতিও সাধন করতে পারবে না; (মূলত) যা এরা শিখে তাতে তাদের ক্ষতিই হয় এবং (বাস্তবে) তা কোনো উপকারে আসে না; তারা যদি জানতো (যে, (শ্রম ও অর্থ দিয়ে) যা তারা কিনে নিয়েছে পরকালে তার কোনো মূল্য নেই; তারা নিজেদের জীবনের বিনিময়ে যা ক্রয় করেছে তা সত্যিই নিকৃষ্ট; (কতো ভালো হতো) যদি তারা কথাটা জানতো!

সূরা আল ফালাক-আয়াত নং-(১ - ৫)
০১. বল, আমি আশ্রয় চাই ঊষার স্রষ্টার কাছে, ০২. সৃষ্ট (জগতের) বস্তুনিচয়ের সকল প্রকার অনিষ্ট থেকে ০৩. এবং রাতের অনিষ্ট হতে - যখন তা গভীর অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়, ০৪. এবং গ্রন্থিতে ফুঁক দিয়ে যারা (যে সকল যাদুটোনাকারিণী) যাদু করে তাদের অনিষ্ট থেকে, ০৫. এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে, যখন সে হিংসা করে।

সূরা আন্‌ নাস্-আয়াত নং-(১ - ৬)
০১. বল, আমি আশ্রয় চাই মানুষের স্রষ্টার কাছে, ০২. মানুষের (প্রকৃত) বাদশার কাছে, ০৩. মানুষের একমাত্র উপাস্যের কাছে, ০৪. কুমন্ত্রণাকারীর অনিষ্ট হতে, যে সুযোগ মত কুমন্ত্রণা দিয়ে সরে পড়ে, ০৫. যে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়, ০৬. জ্বিনদের মধ্য হতে এবং মানুষদের মধ্য হতে।

সব সময় একথা স্মরণ রাখা দরকার যে, সসীম কখনও অসীমকে ছুঁতে বা চর্মচক্ষুতে দেখতেও পারে না। মানুষ যত শক্তিই অর্জন করুক না কেন তা আল্লাহর অসীম শক্তির মোকাবেলায় অতি নগণ্য। কারণ সমস্ত শক্তির আধার ও উৎস একমাত্র ‘আল্লাহ্‌’। তাঁরই প্রদত্ত এ শক্তির ব্যবহার কেউ সুপথে করে (যেমন- নবী-রাসূল, পীর, আওলীয়া, দরবেশ ইত্যাদি আল্লাহর প্রিয় বান্দাগণ) আবার কেউ করে বিপথে (যেমন শয়তানের পূজারী, যাদুকর, জিনের অনুসারী ইত্যাদি বিপথগামী মানুষ)। সবই আল্লাহর পরীক্ষা মাত্র। তাই প্রতিটি ক্ষেত্রে ধর্মহীন অবাঞ্চিত কুসংস্কার ও মনগড়া মিথ্যে মতবাদগুলো চিহ্নিত করে খাঁটি ধর্মের প্রচার, প্রসার ও পালনের জন্য স্বচেষ্ট হতে হবে। ইসলামের শাশ্বত বিধিবিধান সম্পর্কে সর্ব সাধারনের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে না পারলে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মতভেদ, দলাদলি, খুন, সন্ত্রাস, জুলুম, পাপাচার, ধর্মান্ধতা, সামপ্রদায়িকতা সর্বপরি সকল প্রকার অশান্তি ও অন্ধকারের হাত থেকে মুক্তি পাবার আর কোন বিকল্প নেই। ধর্মের নামে লোকদেখানো অন্তঃসারশুন্য ভন্ডামী পরিত্যাগ করে ধর্মীয় রীতিনীতি ও আদর্শের যথাযথ প্রতিফলন ঘটাতে হবে। ফতোয়ার পবিত্রতা রক্ষার্থে মিথ্যাচার, অহেতুক বারাবারি ও স্বার্থবাদী মনোভাব ত্যাগ করে সময়োচিত সুচিন্তিত বক্তব্য পেশ করতে হবে। নামাজ, রোজা, হজ, যাকাত ইত্যাদি অবশ্য পালনিয় ইবাদতের পাশাপাশি জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষ তথা গোটা সৃষ্টিকুলের কল্যাণে এগিয়ে আসতে হবে। আর তাহলেই এই সুন্দর পৃথিবীতে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শান্তিময় বাসযোগ্য পরিবেশ রচিত হতে পারে।