Thursday, September 8, 2016

পৌত্তলিক প্রথা হজ্জ কিভাবে ইসলামের অংশ হয় ? পর্ব-১ (সাফা ও মারওয়া পাহাড় তাওয়াফ)



লিখেছেন: কাঠমোল্লা
সামনে হজ্জযা মুসলমানদের জন্যে একটা ফরজ কাজচোর ছেচ্চড় , বাটপাড় , দুর্নীতিবাজ , ঘুষখোর, লুইচ্চা , বদমাইশ সবাই কাল পাথরকে চুম্বন/স্পর্শ করে তাদের সব পাপ মোচন করার দুরাশায় হজ্জে যাবেকিন্তু এই হজ্জ কি ইসলামের অংশ ? তা কিভাবে? এটা তো পৌত্তলিকদের একটা প্রথাতাহলে এটা আবার ইসলামের অংশ হয় কিভাবে ? পৌত্তলিকতা জাহেলি যুগের ভ্রান্ত প্রথা হিসাবে বাতিল করার জন্যেই তো ইসলামের আগমনপৌত্তলিকতা যদি বাতিল করার জন্যেই ইসলামের আগমন ঘটে , তাহলে পৌত্তলিকতার কোন কোন প্রথা আবার ইসলামের আবশ্যকীয় অংশ হয় কেমনে ?
ইসলামেরও আগে মক্কার বাইরের পৌত্তলিকরা বছরের একটা নির্দিষ্ট সময় মক্কার কাবা ঘরের সামনে জড় হতোসেখানে তারা তাদের দেবতাদের উদ্দেশ্যে নানারকম অনুষ্ঠান করতসেটাই ছিল হজ্জসেই অনুষ্ঠানের অন্যতম একটা ঘটনা ছিল সাফা ও মারওয়া পাহাড়দুটোর মধ্যে সাতবার দৌড়াদৌড়ি করাএই দৌড়াদৌড়ি করার প্রথা আসলে কি উদ্দেশ্যে করা হতো সেটা বলা আছে হাদিসে , যেমন -
সহিহ বুখারী :: খন্ড ৬ :: অধ্যায় ৬০ :: হাদিস ২২:
আবদুল্লাহ ইব্ন ইউসুফ (র).................উরওয়া (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী (সা)-এর সহধর্মিনী আয়িশা (রা)-কে জিজ্ঞাসা করলাম আর সে সময় আমি অল্প বয়স্ক ছিলাম
মহান আল্লাহর বাণী ...............এ আয়াত সম্পর্কে আপনার অভীমত কি? ‘‘সাফা এবং মারওয়া পর্বদ্বয় আল্লাহ তাআলার নিদর্শসমূহের অমত্মর্ভুক্তকাজেই যে বায়তুল্লাহর হজ্জ বা উমরা ইচ্ছা করে তার জন্য উভয় পর্বতের মধ্যে তাওয়াফ করায় কোন দোষ নেই’’ (২:১৫৮) আমি মনে করি উক্ত দুই পর্বত তাওয়াফ না করণের জন্যে কোন ব্যক্তির উপর গুনাহ বর্তাবে নাতখন আয়িশা (রা) বললেন, কখনই এরূপ নয়তুমি যা বলছ যদি তাই হতো তা হলে বলা হতো এভাবে...........................‘‘উভয় পর্বত তাওয়াফ না করলে কোন গুনাহ বর্তাবে নাবস্ত্তত এই আয়াত নাযিল হয়েছে আনসারদের শানেতারা ‘‘মানাত’-এর পূজা করতআর মানাতছিল কুদায়েদের পথে অবস্থিতইসলাম গ্রহনের পর আনসারগণ সাফা ও মারওয়ার মধ্যে তাওয়াফ করা মন্দ জানতোইসলামের আগমনের পর তারা এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা)-কে জিজ্ঞাসা করলতখন আল্লাহ উক্ত আয়াত নাযিল করেন
সহিহ বুখারী :: খন্ড ৬ :: অধ্যায় ৬০ :: হাদিস ২৩:
মুহাম্মদ ইব্ন ইউসুফ (র)..............আসিম ইব্ন সুলাইমান (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস ইব্ন মালিক (রা)-কে সাফা ও মারওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, আমরা ঐ দুটিকে জাহেলী যুগের প্রথা বলে বিবেচনা করতামএরপর যখন ইসলাম আসলো, তখন আমরা উভয়ের মধ্যে সায়ী করা থেকে বিরত থাকিতখন উক্ত আয়াত নাযিল হয়
দেখা যাচ্ছে মদিনাবাসীরা হজ্জের সময় সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে যে তাওয়াফ করত সেটা করত তাদের দেবতা "মানাত" এর উদ্দেশ্যেতার মানে এই হজ্জ ছিল সম্পূর্নই একটা পৌত্তলিক ধর্মের অংশহাদিসে বলছে মদিনাবাসীরা ইসলাম গ্রহন করার পর উক্ত তাওয়াফকে মন্দ বা খারাপ বলে জানতকারন কি ? কারন একটাই কারন তারা ইসলাম গ্রহনের পর বিবেচনা করেছিল যে তাদের পূর্ববর্তী পৌত্তলিক ধর্মের সকল প্রথাই ইসলামে হারাম বা মন্দকিন্তু কি আজব কারবার , মুহাম্মদের আল্লাহ সেই প্রথাকে খারাপ বা হারাম বিবেচনা না করে বলছে -
সুরা বাকারা-২: ১৫৮: নিঃসন্দেহে সাফা ও মারওয়া আল্লাহ তাআলার নিদর্শন গুলোর অন্যতম সুতরাং যারা কাবা ঘরে হজ্ব বা ওমরাহ পালন করে, তাদের পক্ষে এ দুটিতে প্রদক্ষিণ করাতে কোন দোষ নেইবরং কেউ যদি স্বেচ্ছায় কিছু নেকীর কাজ করে, তবে আল্লাহ তাআলার অবশ্যই তা অবগত হবেন এবং তার সে আমলের সঠিক মুল্য দেবেন
অর্থা আল্লাহ পৌত্তলিক ধর্মের অনুষ্ঠানকে ইসলামের অংশ বলে রায় দিচ্ছেকিন্তু চতুর মুহাম্মদ বিষয়টা ধরতে পেরে একটা কিচ্ছা হাজির করেনসেই বিখ্যাত ইব্রাহীম কর্তৃক হাজেরা ও শিশু পূত্র ইসমাইলকে মক্কায় নির্বাসন দেয়া ও হাজেরা কর্তৃক সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে দৌড়াদৌড়ি করা অত:পর প্রচার করা হতে থাকল, সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যকার এই দৌড়াদৌড়ি আসলে হাজেরার সেই দৌড়াদৌড়িকে স্মরন করার জন্যে
কিন্তু প্রশ্ন হলো - ইব্রাহীমের হাজেরাকে তার শিশুপুত্রসহ নির্বাসনের সেই কাহিনী তো পৌত্তলিকদের জানার কথা নাইব্রাহীমের সেই কাহিনী লেখা আছে ইহুদি ও খৃষ্টানদের বাইবেলেতাই পৌত্তলিকদের পক্ষে সেই ঘটনাকে স্মরন করে সাফা ও মারওয়ার মধ্যে দৌড়াদৌড়ি করারও কথা নাসুতরাং তারা যে দৌড়াদৌড়ি করত , সেটা সম্পূর্নই তাদের নিজস্ব ধর্মীয় রীতির কারনেইব্রাহিমের কাহিনী স্মরন করে নাআর সেটাই কিন্তু হাদিসে পরিস্কার বলা হয়েছে
বাইবেলে হাজেরাকে মক্কায় নির্বাসন দেয়া হয়েছে বলে বলা হয়নিবলা হয়েছে সিনাই পর্বতের আশপাশের কোথাওআর সেটাই বাস্তব ও যুক্তিসঙ্গত হওয়ার কথাইব্রাহীম তার ধর্ম প্রচার করত বর্তমানের ইসরাইল ও সিনাই অঞ্চলেসেই সময় যখন যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই কঠিন ছিল, ইব্রাহিম কত দুরেই বা হাজেরাকে নির্বাসন দেবে ? বড়জোর ১০০ বা ২০০ কিলোমিটার দুরেআর সেই দুরত্ব অতিক্রম করতেই তো জীবন যাওয়ার মত অবস্থা হয়ে যায়অথচ মুহাম্মদ এসে দাবী করছেন হাজেরাকে তার শিশুপূত্র সহ ইসরাইল থেকে ১৩৫০ কিলোমিটার দুরে মক্কায় নির্বাসন দিয়েছিল, সেই সময় যখন উট ও পায়ে হেটে ইসরাইল থেকে সেখানে পৌছতে লাগত মাসের ওপর
সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যকার এই দৌড়াদৌড়ি যে সত্যি সত্যি সম্পূর্ন পৌত্তলিক প্রথাই ছিল , তা বলা আছে আরও বহু হাদিসে যেমন -
সহিহ বুখারী :: খন্ড ২ :: অধ্যায় ২৬ :: হাদিস ৭১০
আহমদ ইবন মুহাম্মদ (র)... আসিম (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস ইবন মালিক (রা)-কে বললাম, আপনার কি সাফা ও মারওয়া সায়ী করতে অপছন্দ করতেন? তিনি বললেন, হাঁকেননা তা ছিল জাহেলী যুগের নিদর্শনঅবশেষে মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করেনঃ নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনকাজেই হজ্জ বাউমরাকারীদের জন্য এ দুইয়ের মধ্যে সায়ী করায় কোন দোষ নেই। (২ : ১৫৮)
অর্থা মুহাম্মদ ইব্রাহীমের কিচ্ছা আবিস্কার করলেও তার সাহাবিরা কিন্তু ঠিকই বুঝতে পেরেছিল, সাফা ও মারওয়া পাহাড়েরর এই দৌড়াদৌড়ির ঘটনার সাথে এইসব কাহিনীর কোনই সম্পর্ক নেইসেটাই তারা অকপটে তাদের বলা হাদিসে বলে গেছে কিন্তু আজকের মুমিনেরা সেইসব সাহাবিদের চাইতে ইসলাম বেশী জানেতাছাড়া মুহাম্মদ বলে গেছেন , তার আদেশ নিষেধ অন্ধভাবে প্রশ্ন ছাড়াই অনুসরন করতে হবে , না হলে খাটি মুমিন হওয়া যাবে না, খাটি মুমিন না হলে বেহেস্তে গিয়ে ৭২ টা কুমারি নারীর সাথে অনন্তকাল যৌন ফুর্তি করা যাবে না
সুতরাং অন্ধ ও বধির মানসিক প্রতিবন্ধী মুমিনরা ৭২ টা কুমারী নারীর সাথে যৌন সংগমের সুযোগ ফস্কে যাওয়ার ভয়ে , এটা নিয়ে কোন প্রশ্নই করে না , না করে অন্ধভাবে মুহাম্মদের এই আদেশ পালন করে যাচ্ছেবলুন সুবহান আল্লাহ !


পর্ব-২(কাল পাথর পুজা চালু)

হজ্জের সময় লাখ লাখ মুসল্লি কাবা ঘরের দেয়ালে রক্ষিত কাল পাথরকে চুম্বনের জন্যে উন্মাদ হয়ে যায়কারনটাও বোধগম্যসেটা চুম্বন বা স্পর্শ করলে নাকি সব পাপ মোচন হয়ে যায়অথচ এটা কিন্তু মুহাম্মদেরও বহু আগ থেকেই পৌত্তলিকদের একটা আচার ছিলতারা কাবা ঘরের কাছে এসে সেটাকে সাতবার প্রদক্ষিন করে , কাল পাথরটাকে চুম্বন করততারা বিশ্বাস করত তাতে তাদের সব পাপ মোচন হয়ে যায়মুহাম্মদ সেই পৌত্তলিক প্রথাকেই তার ইসলামে চালু করে বস্তুত: ইসলামকে ১০০% পাথরপুজার প্রথা হিসাবে প্রতিষ্ঠা করে গেছেন কিন্তু মুমিনেরা সেটা বুঝতে পারে না
মুহাম্মদ দাবী করছেন তিনি হলেন ইব্রাহিম , ইসহাক , মুসা , ইসা ইত্যাদির ধারায় সর্বশেষ নবীইব্রাহীম ইহুদি ও খৃষ্টানদেরও আদি পিতাকাবা ঘর যদি ইব্রাহিম কর্তৃক নির্মিত হতো ,তাহলে সেটা ইহুদি ও খৃষ্টানদেরও পবিত্র গৃহ আর হজ্জও তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসাবে গৃহীত হতো কিন্তু মক্কা মদিনা ও তার আশপাশের ইহুদি খৃষ্টানরা হজ্জ পালন করত না বা কাবা ঘরকে তাদের পবিত্র গৃহ হিসাবে গন্য করত নাতাদের পবিত্র ঘর হল জেরুজালেমে অবস্থিত সলোমনের টেম্পলমুহাম্মদ যেহেতু আব্রাহিম ধর্মের ধারার শেষ নবী হিসাবে নিজেকে দাবী করতেন ,তাই তার ইসলাম প্রচারের প্রথম ১৫ বছরের মত তিনি নিজেও সলোমনের টেম্পলকে নিজের কিবলা হিসাবে বিবেচনা করতেন, কাবাকে নয়কাবা যদি আদম কর্তৃক প্রথম আল্লাহর ঘর হতো , আর ইব্রাহীম যদি সেটা পূন:নির্মান করে থাকত , তাহলে ইসলাম প্রচারের প্রথম দিনেই মুহাম্মদের আল্লাহ তাকে জানিয়ে দিত যে কাবা ঘরই হলো দুনিয়ার প্রথম আল্লাহর ঘর , আর মুসলমানদের কিবলা হলো সেটাইকিন্তু আল্লাহর ১৫ বছর সময় লেগে গেল সেটা জানাতেকারনটাও বোধগম্য
মুহাম্মদ মক্কায় প্রথম ১২/১৩বছর ইসলাম প্রচার করেছেন আর তখন জেরুজালেমের সলোমনের মন্দির ছিল তার কিবলামক্কায় বার বার ইহুদি খৃষ্টানদেরকে ইসলাম গ্রহনের আহবান করলেও তারা সেটা গ্রহন করে নি ,কারন তৌরাত ও ইঞ্জিল কিতাব অনুযায়ী, মুহাম্মদ কোনভাবেই নবী হতে পারেন নামুহাম্মদ মদিনায় হিজরত করে , যখন একটা লুটেরা দল গঠন করে, মদিনার পাশ দিয়ে যাওয়া বানিজ্য কাফেলায় নিয়মিত আক্রমন ও লুটপাট করে কুরাইশদের বেশ দুর্বল করে ফেললেন , আর যখন তিনি নিশ্চিত হলেন যে ইহুদি ও খৃষ্টানরা কোনভাবেই তাকে নবী হিসাবে মানবে না , তখন হঠা করেই তিনি জেরুজালেমের সলোমনের মন্দিরকে কিবলা বাদ দিয়ে কাবা ঘরকে কিবলা বানিয়ে ফেললেন মুহাম্মদের সাগরেদরা সেটাই চাইত সব সময়, মুহাম্মদেরও সায় ছিল তাতে , আর তখনই মুহাম্মদের চাহিদা মোতাবেক আল্লাহ আয়াত নাজিল করে পাঠায় ---
সুরা বাকারা -২:১৪৪: নিশ্চয়ই আমি আপনাকে বার বার আকাশের দিকে তাকাতে দেখি অতএব, অবশ্যই আমি আপনাকে সে কেবলার দিকেই ঘুরিয়ে দেব যাকে আপনি পছন্দ করেনএখন আপনি মসজিদুল-হারামের দিকে মুখ করুন এবং তোমরা যেখানেই থাক, সেদিকে মুখ করযারা আহলে-কিতাব, তারা অবশ্যই জানে যে, এটাই ঠিক পালনকর্তার পক্ষ থেকেআল্লাহ বেখবর নন, সে সমস্ত কর্ম সম্পর্কে যা তারা করে
উক্ত আয়াত খুব পরিস্কার ভাবেই বলছে , মুহাম্মদ বার বার আকাশের দিকে তাকান , কারনটা কি ? কারনটা হলো তিনি কাবা ঘরকে কিবলা বানাতে চানআর সাথে সাথেই আয়াত হাজিরকি অদ্ভুত ব্যপার ? কাবা ঘর যদি দুনিয়ায় প্রথম আল্লাহর ঘর হয়, আর সেটাই যদি ইসলামের মূল কিবলা হয়, তাহলে সেটা তো আল্লাহর আগেই জানা থাকার কথাসুতরাং মুহাম্মদের ইসলাম প্রচারের প্রথম দিনেই সেটা মুহাম্মদকে আল্লাহ জানিয়ে দেবে , কারন ইসলামের সাথে সাথে আল্লাহকে ডাকাডাকি করারও তো একটা ব্যাপার আছে আর সেটাই তো শুরু কিন্তু মুহাম্মদ ১২/১৩ মক্কায় কাটিয়েছেন , তারপর মদিনায় গেলেন , সেখানেও প্রায় দেড় বছর অতিক্রমন হয়ে গেল, আর তখন মুহাম্মদ বার বার আকাশের দিকে তাকাচ্ছেন মক্কাকে কিবলা বানানোর আয়াত পাঠানোর জন্যে, ঠিক তখন আল্লাহ তাড়াহুড়া করে আয়াত পাঠালআগে এই কিবলা যে জেরুজালেমের সলোমনের মন্দির ছিল সেটাও বলা আছে কোরানে -
সুরা বাকারা - ২: ১৪২:এখন নির্বোধেরা বলবে, কিসে মুসলমানদের ফিরিয়ে দিল তাদের ঐ কেবলা থেকে, যার উপর তারা ছিল? আপনি বলুনঃ পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরইতিনি যাকে ইচ্ছা সরল পথে চালান
অর্থা সলোমনের মন্দির থেকে কাবার দিকে কিবলা ফেরান হয়েছেমদিনায় যাওয়ার কতদিন পর এটা পাল্টান হলো ? সেটা দেখা যাক হাদিস থেকে -
সহিহ মুসলিম :: খন্ড ৪ :: হাদিস ১০৭২
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও আবু বকর ইবন খালাদ (র)……… বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিততিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ (সা)-এর সাথে ষোল অথবা সতের মাস বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে সালাত আদায় করেছিঅতঃপর আমাদেরকে কাবার দিকে ফিরিয়ে দেয়া হয়
অর্থা দেড় বছর পরতার মানে মুহাম্মদ ও তার দলবল মক্কা ও মদিনা মিলিয়ে প্রায় ১৪/১৫বছর জেরুজালেমের দিকে মুখ করেই আল্লাহর আরাধনা করেছেনকিন্তু এবার যেটা ঘটল সেটা হলো বিস্ময়করএটা সবাই জানে যে , মদিনায় যাওয়ার পর অষ্টম/নবম বছরে মুহাম্মদ মক্কা দখল করে অত:পর কাবা ঘর থেকে ৩৬০টা দেব দেবীর মূর্তিকে বের করে দেনশুধুমাত্র কাল পাথরটাকে রেখে দেনকিন্তু মাঝের এই সাড়ে ছয় বা সাত বছর পর্যন্ত মুহাম্মদ ও তার দলবল মূর্তি ভর্তি কাবা ঘরের দিকে মুখ করেই নামাজ আদায় করেছেনএমন কি এই সময় মদিনা থেকে মুহাম্মদ মাঝে মাঝে হজ্জ করতে যেতেন মক্কায় তার লোকজন সহ , তখনও তারা সেই মূর্তি ভর্তি কাবা ঘরের সামনে গিয়ে নামাজ পড়েছেন ও সিজদা দিয়েছেনকারন তখন তো কাবা ঘর কুরাইশদের দখলে ছিলঅর্থা এই ছয় সাত বছর কাল মুহাম্মদ ও তার দলবল নামাজ বা সিজদা করার সময় বাস্তবে সেই দেব দেবী ও কাল পাথরের সামনেই মাথা নত করেছেনমুহাম্মদ কিভাবে দেব দেবী ও কাল পাথরের সামনে মাথা নত করতে পারলেন ?
কিন্তু মুমিনেরা এসব জানে নাজানার দরকার বোধ করে নাকেউ যদি জানাতে যায় , তো সাথে সাথে চাপাতির কোপে তার মাথাটা ধড় থেকে আলাদা করে দেয়
মক্কা দখলের পর মুহাম্মদ ৩৬০টা মূর্তি কাবা ঘর থেকে বের করে দেন কিন্তু কাল পাথরটা রেখে দেনকি কারনে ? কারন তিনি পৌত্তলিকদের মতই বিশ্বাস করতেন , সেই কাল পাথর মানুষের পাপ মোচন করেতাই তিনি যখনই কাবা ঘরে যেতেন তখন সযতনে নিজের পাপ মুক্ত হওয়ার জন্যে সেই কাল পাথরকে চুম্বন করতেনসেটা দেখা যাক হাদিস থেকে -
সহিহ বুখারী :: খন্ড ২ :: অধ্যায় ২৬ :: হাদিস ৬৭৩
আসবাগ (র)... আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে মক্কায় উপনীত হয়ে তাওয়াফের শুরুতে হাজরে আসওয়াদ ইস্তিলাম (চম্বুন ,স্পর্শ) করতে এবং সাত চক্করের মধ্যে প্রথম তিন চক্করে রমল করতে দেখেছি
সহিহ বুখারী :: খন্ড ২ :: অধ্যায় ২৬ :: হাদিস ৬৮০
মুসাদ্দাদ (র)... যুবাইর ইবন আরাবী (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি হজরে আসওয়াদ সম্পর্কে ইবন উমর (রা)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে তা স্পর্শ ও চুম্বন করতে দেখেছিসে ব্যক্তি বলল, যদি ভীড়ে আটকে যাই বা অপারগ হই তাহলে (চুম্বন করা, না করা সম্পর্কে) আপনার অভিমত কি? তিনি বললেন, আপনার অভিমত কি? এ কথাটি ইয়ামনে রেখে দাওআমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে তা স্পর্শ ও চুম্বন করতে দেখেছি মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ ফেরেবরী (র) বলেন, আমি আবূ জাফর (র)-এর কিতাবে পেয়েছি তিনি বললেন, আবূ আবদুল্লাহ যুবাইর ইবন আদী (র) তিনি হলেন কূফী আর যুবাইর ইবন আরাবী (র) তিনি হলেন বসরী
কি কারনে তিনি সেই কাল পাথরকে চুম্বন করতেন ? সেটা দেখা যাবে নিচের হাদিসে -
তিরমিজি , হাদিস -৮৭৭: ইবনে আব্বাস বর্নিত, নবী বলেছেন , হজরে আসওয়াদ(কাল পাথর) যখন বেহেস্ত থেকে পতিত হয় তখন তা দুধের চাইতেও সাদা ছিলমানুষের পাপ মোচনের ফলে সে কাল হয়ে গেছে
তিরমিজি, হাদিস -৯৫৯: ওমর বর্নিত , আমি নবীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন , হজরে আসওয়াদ( কাল পাথর )ও রুক ইয়ামানী উভয়কে স্পর্শ করলে মানুষের পাপ মোচন হয়
মানুষের পাপ মোচন করার ক্ষমতা একমাত্র কার ? আল্লাহরই একমাত্র সেই ক্ষমতা বিদ্যমানকিন্তু মুহাম্মদ বলছেন কাল পাথরেরও সেই ক্ষমতা বিদ্যমানতার মানে বস্তুত: কাল পাথরটা হয় স্বয়ং আল্লাহ না হয়, আল্লাহর সমতূল্য কিছুঠিক সেই কারনে , মুহাম্মদ কাল পাথরকে চিরকালের জন্যে কাবা ঘরে রেখে দেন যাতে তার উম্মতরা সেটা চুম্বন বা স্পর্শ করে পাপমুক্ত হতে পারেকিন্তু উম্মতরা মুখে বলে তারা আল্লাহ পুজারি , কিন্তু বাস্তবে তাদের আচরন দেখাচ্ছে তারা পাথর পুজারি , মুহাম্মদ খুব কায়দা করে সেটাই শিখিয়ে গেছেনবর্তমানে কিছু শিক্ষিত ও চতুর মুমিন দাবী করে , তারা পাথর পুজা করে না , আর পাথরের কোন গুনও নেই , সেটা তারা দাবি করে নিচের হাদিস দিয়ে -
সহিহ বুখারী :: খন্ড ২ :: অধ্যায় ২৬ :: হাদিস ৬৬৭
মুহাম্মদ ইবনে কাসীর (র)... উমর (রা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি হাজরে আসওয়াদের কাছে এসে তা চুম্বন করে বললেন, আমি অবশ্যই জানি যে, তুমি একখানা পাথর মাত্র, তুমি কারো কল্যাণ বা অকল্যাণ করতে পার নারাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ)-কে তোমায় চুম্বন করতে না দেখলে কখনো আমি তোমাকে চুম্বন করতাম না
সহিহ বুখারী :: খন্ড ২ :: অধ্যায় ২৬ :: হাদিস ৬৭৫:
সাঈদ ইবন আবূ মারয়াম (র)... আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত যে, ‘উমর ইবন খাত্তাব (রা) হাজরে আসওয়াদকে লক্ষ্য করে বললেন, ওহে! আল্লাহর কসম, আমি নিশ্চিতরুপে জানি তুমি একটি পাথর, তুমি কারও কল্যাণ বা অকল্যাণ করতে পার নারাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ)-কে তোমায় চুম্বন করতে না দেখলে আমি তোমাকে চুম্বন করতাম নাএরপর তিনি চুম্বন করলেনপরে বললেন, আমাদের রমল করার উদ্দেশ্য কি ছিল? আমরা তো রমল করে মুশরিকদেরকে আমাদের শক্তি প্রদর্শন করেছিলামআল্লাহ এখন তাদের ধ্বংস করে দিয়েছেনএরপর বললেন, যেহেতু এই (রমল) কাজটি রাসূলুল্লাহ (সঃ) করেছেন, তাই তা পরিত্যাগ করা পছন্দ করি না
ওমর বলছে , কাল পাথরের নাকি ভাল বা মন্দ করার কোন ক্ষমতা নেইপ্রশ্ন হলো - ইসলামের নবী কে? মুহাম্মদ, নাকি ওমর? কার কথা বা বিধান ইসলামের বিধান ?মুহাম্মদের কথা বা বিধান, নাকি ওমরের ? আর কে ইসলাম সবচাইতে বেশী জানে ? মুহাম্মদ, নাকি ওমর ? কার কথা ইসলামের চুড়ান্ত কথা ? মুহাম্মদের, নাকি ওমরের ? সুতরাং ওমর বললেই সেটা ইসলামের বিধান হবে না যেখানে একই বিষয়ে মুহাম্মদের বিধান আছেঠিক সেই কারনেই , ওমর না চাইলেও শেষে মুহাম্মদের বিধান অর্থা কাল পাথরকে চুম্বন করতে বাধ্য হয়েছে ওমরসুতরাং এখানে ওমরের বিধান তো মুহাম্মদের বিধান খন্ডাতে পারে না
মুহাম্মদ খুব সুচতুরভাবে কাল পাথরটাকেই আল্লাহর প্রতিরূপ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করে সেটা কাবা ঘরে প্রতিষ্ঠা করে গেছেনসারা দুনিয়ার মুসল্লিরা সেই কাবা ঘরের দিকে মুখ করে নামাজ পড়ে , সিজদা দেয়প্রশ্ন হলো : কাবা ঘরের মধ্যে কি আল্লাহ থাকে ? উত্তর সোজা ,সেটা হলো - আল্লাহ থাকে সাত আসমানের ওপর তার আরশে
সুরা সেজদাহ- ৩২: ৪: আল্লাহ যিনি নভোমন্ডল, ভুমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশে বিরাজমান হয়েছেনতিনি ব্যতীত তোমাদের কোন অভিভাবক ও সুপারিশকারী নেইএরপরও কি তোমরা বুঝবে না?
অর্থা আল্লাহ সাত আসমানের ওপর তার আরশে বসে আছেকাবা ঘরের মধ্যে আল্লাহ না থাকলে , কাবা ঘরের কাছে সিজদা দেওয়ার অর্থ কি হবে ?
কাবা ঘরে আছে হজরে আসওয়াদ বা সেই কাল পাথর , যার আছে পাপ মোচনের ক্ষমতা, অর্থা প্রকারান্তরে যাকে মুহাম্মদ আল্লাহর প্রতিরূপ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন , কাবা ঘরে সিজদা দেয়ার অর্থ হলো সেই কাল পাথরের কাছেই সিজদা দেয়া যে নাকি পাপ মোচনের ক্ষমতা রাখে ,মানুষ তার কাছেই তো সিজদা দেবেকাল পাথরের আছে সেই ক্ষমতা , তাই নামাজের নামে মুসল্লিরা সেই কাল পাথরের কাছেই সিজদা দেয়, কিন্তু সেটা তারা আসলে জানে নাকাবা ঘরের কাছে বা দুর থেকে যারা নামাজ পড়ে কাবা ঘরের দিকে মুখ করে , তারা মনে করে তারা আল্লাহর কাছেই সিজদা দিচ্ছে , কিন্তু বাস্তবে তারা সিজদা দিচ্ছে কাবার কাল পাথরের কাছেই এটাই হলো মুহাম্মদের সাফল্যতিনি বস্তুত: পাথর পুজা চালু করে গেছেন ইসলামের নামে , কিন্তু দুনিয়ার একটা মুমিনও সেটা উপলব্ধি করতে পারছে না
বাস্তবে মুমিনদের কাল পাথরের প্রতি কি সীমাহীন আকর্ষন , সেটা বোঝা যায়, হজ্জের সময় সেই পাথরকে চুম্বন করার প্রান পন চেষ্টা থেকেউপরে উপরে যতই বলুক না কেন ,তারা পাথর পুজা করে না , বা পাথরের কোনই গুন নেই , কিন্তু কাবার সামনে গেলে তারা সবাই উন্মাদ হয়ে যায় পাথরকে স্পর্শ বা চুম্বন করার জন্যেপাথর স্পর্শ করার সময়কার উন্মাদনায় এ পর্যন্ত কত হাজার মানুষ যে পদপিষ্ট হয়ে মারা গেছে , তার কোন ইয়ত্বা নেই ,কিন্তু তারপরেও তাদের পাথর স্পর্শ করা চাই , কিন্তু জিজ্ঞেস করলে মুখে বলবে - কাল পাথরের কি কোন গুন আছে নাকি ? তারা কি কাল পাথর পুজা করে নাকি ?
এটাই মুহাম্মদের বিস্ময়কর সাফল্য যে , তিনি ইসলামের নামে বস্তুত: পাথর পুজার প্রতিষ্ঠা করে গেছেন , কিন্তু দুনিয়ার একটা মুমিনও সেটা গত ১৪০০ বছর ধরে টের পায় নি

কোরান- হাদিস নিশ্চিতভাবেই নবী মুহাম্মদ নয় , বরং ভিন্ন কোন মুহাম্মদের কথা বলেছে!

কোরান- হাদিস নিশ্চিতভাবেই নবী মুহাম্মদ নয় , বরং ভিন্ন কোন মুহাম্মদের কথা বলেছে, কোরান- হাদিস বর্নিত মুহাম্মদ, কোনভাবেই নবী মুহাম্মদ নয়!

আমরা শৈশব থেকে জেনেছি ও আমাদেরকে বিশ্বাস করান হয়েছে যে ইসলামের নবী মুহাম্মদ হলো একজন মহান , ন্যায় পরায়ন , দয়ালু, বিবেকবান মানুষ যাকে আল্লাহ দুনিয়াতে পাঠিয়েছে মানুষকে হেদায়েত করার জন্যেকিন্তু কোরান হাদিস পড়লে যে মুহাম্মদের পরিচয় আমরা পাই তা হলো - মুহাম্মদ হলো একটা ডাকাত সর্দার(বাকারা-২:২১৭ আয়াতের প্রেক্ষাপট পড়লে জানা যায়, মদিনার পাশে বানিজ্য কাফেলা নিয়মিত ডাকাতি করত), মুহাম্মদ একটা নারী লোভি বহুগামী ( ১৩ টা বিয়ে করেছিল ), একটা শিশুকামী( ৬ বছরের শিশু আয়শাকে বিয়ে করে তাকে ৯ বছরের সময় ধর্ষন করে), একটা ধর্ষনকারী( খায়বার আক্রমন করে সাফিয়াকে যেদিন বন্দি করে সেদিন রাতেই তাকে ধর্ষন করে), একটা অসচ্চরিত্র কামুক মানুষ( পালিত পুত্রের বধুর প্রতি কুদৃষ্টি খালি দেয় নাই , তাকে এক পর্যায়ে বিয়ে করে বাসর করে ও নিয়মিত দাসীর সাথে যৌন সঙ্গম করত ), একটা ঠান্ডা মাথার খুনি ( ইসলাম গ্রহন না করলে বা কেউ ইসলাম ত্যাগ করলে, বা কেউ তার সমালোচনা করলে ঠান্ডা মাথায় তাকে খুন করত), একটা উন্মাদ ও পাগল( কোরানের ভাষ্য), মুহাম্মদের মতে নারীরা পূর্নাঙ্গ মানুষ নয় ( বাকারা- ২: ২৮২) তারা কুকুর বা শয়তানের মত, তারা গৃহপালিত পশুর মত, তাদেরকে যেমন ইচ্ছা খুশি ভোগ ও ব্যবহার করা যাবে ( বহু হাদিসে বর্নিত)তার মানে দেখা যাচ্ছে , কোরান হাদিস বস্তুত এমন এক মুহাম্মদের চিত্র তুলে ধরেছে যে মুহাম্মদ একজন ডাকাত , খুনি , ধর্ষনকারী, লুইচ্চা-বদমাইশ নারী লিপ্সু শিশুকামী, উন্মাদ- পাগল ধরনের এক ব্যাক্তি
সুতরাং দেখা যাচ্ছে , ইসলামের নবী মুহাম্মদ সম্পর্কে আমাদেরকে যা জানান হয়েছে ,কোরান ও হাদিস মুহাম্মদ সম্পর্কে সম্পূর্ন ভিন্ন কথা বলেসুতরাং কোরান - হাদিস বর্নিত মুহাম্মদ কোনভাবেই ইসলামের নবী মুহাম্মদ হতে পারে নাকোরান হাদিস নিশ্চিতভাবেই ভিন্ন কোন মুহাম্মদের কথা বলেছেআপনারা কি বলেন?

ইসলামের সাথে কোরান- হাদিসের কোনই সম্পর্ক নাই
লিখেছেন: কাঠমোল্লা
আমরা শান্তিপ্রিয় মুসলমানআমরা জন্ম থেকে জানি ইসলাম হলো শান্তির ধর্ম শান্তির ধর্ম ইসলাম কাউকে হত্যা করতে বলে না , চুরি ডাকাতি , নারী ধর্ষন, দাসীর সাথে যৌনকাজ করতে বলে না, অমুসলিমদের সাথে শত্রুতা করতে বলে নাবরং বলে সবার সাথে শান্তিপূর্নভাবে বাস করতেকিন্তু কোরান হাদিস পড়লে দেখা যায় - সেসব ভিন্ন কথা বলছেতাই কোরান হাদিসের সাথে ইসলামের কোনই সম্পর্ক নেই
কোরান ডাকাতিকে বৈধতা দিয়েছে যেমন -
সূরা বাকারা -২: ২১৭: সম্মানিত মাস সম্পর্কে তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে যে, তাতে যুদ্ধ করা কেমন? বলে দাও এতে যুদ্ধ করা ভীষণ বড় পাপআর আল্লাহর পথে প্রতিবন্দ্বকতা সৃষ্টি করা এবং কুফরী করা, মসজিদে-হারামের পথে বাধা দেয়া এবং সেখানকার অধিবাসীদেরকে বহিস্কার করা, আল্লাহর নিকট তার চেয়েও বড় পাপ আর ধর্মের ব্যাপারে ফেতনা সৃষ্টি করা নরহত্যা অপেক্ষাও মহা পাপবস্তুতঃ তারা তো সর্বদাই তোমাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকবে, যাতে করে তোমাদিগকে দ্বীন থেকে ফিরিয়ে দিতে পারে যদি সম্ভব হয়তোমাদের মধ্যে যারা নিজের দ্বীন থেকে ফিরে দাঁড়াবে এবং কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের যাবতীয় আমল বিনষ্ট হয়ে যাবেআর তারাই হলো দোযখবাসীতাতে তারা চিরকাল বাস করবে
উক্ত আয়াতে যে যুদ্ধের কথা বলেছে সেটা আসলে ছিল ডাকাতিমুহাম্মদ তার আটজন সাগরেদকে মক্কার উপকন্ঠে নাখলা নামক স্থানে বানিজ্য কাফেলায় আক্রমন করে ডাকাতি করতে পাঠায়ঘটনাচক্রে তারা নিষিদ্ধ বা পবিত্র মাসে বানিজ্য কাফেলা আক্রমন করে কিছু বনিক হত্যা করে তাদের মালামাল লুট করে নিয়ে যায় আর দুইজনকে পনবন্দি করেঅত:পর সেই ডাকাতিকে বৈধ করতেই মুহাম্মদ উক্ত আয়াত নাজিল করেতার মানে ইসলামে অমুসলিমদের ওপর আক্রমন করে ডাকাতি করা বৈধ
কোরান বন্দিনী নারীকে ধর্ষন করতে বলেছে , আর বলেছে সাময়িক বা মুতা বিয়ে করতে , যেমন -
সুরা নিসা -৪: ২৪: এবং নারীদের মধ্যে তাদের ছাড়া সকল সধবা স্ত্রীলোক তোমাদের জন্যে নিষিদ্ধ; তোমাদের দক্ষিণ হস্ত যাদের মালিক হয়ে যায়-এটা তোমাদের জন্য আল্লাহর হুকুমএদেরকে ছাড়া তোমাদের জন্যে সব নারী হালাল করা হয়েছে, শর্ত এই যে, তোমরা তাদেরকে স্বীয় অর্থের বিনিময়ে তলব করবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য-ব্যভিচারের জন্য নয়অনন্তর তাদের মধ্যে যাকে তোমরা ভোগ করবে, তাকে তার নির্ধারিত হক দান করতোমাদের কোন গোনাহ হবে না যদি নির্ধারণের পর তোমরা পরস্পরে সম্মত হওনিশ্চয় আল্লাহ সুবিজ্ঞ, রহস্যবিদ
উক্ত আয়াতের যে ব্যখ্যা মুহাম্মদ দিয়ে গেছে সেটা হলো ---
সহিহ মুসলিম :: খন্ড ৮ :: হাদিস ৩৪৩২
উবায়দুল্লাহ ইবন উমর ইবন মায়সারা কাওয়ারীরী (র)......আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সা) হুনায়নের যুদ্ধের সময় একটি দল আওতাসের দিকে পাঠান তারা শক্রদলের মুখোমুখী হয়েও তাদের সাথে যুদ্ধ করে জয়লাভ করে এবং তাদের অনেক কয়েদী তাদের হস্তগত হয় এদের মধ্য থেকে বন্দিনী নারীদের সাথে সহবাস করা রাসুলুল্লাহ (সা) -এর কয়েকজন সাহাবী যেন না জায়িয মনে করলেন, তাদের মুশরিক স্বামী বর্তমান থাকার কারণে আল্লাহ তায়ালা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন "এবং নারীর মধ্যে তোমাদের অধিকারভূক্ত দাসী ব্যতীত সকল সধবা নারী তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ-, অর্থা তারা তোমাদের জন্য হালাল, যখন তারা তাদের ইদ্দত পূর্ন করে নিবে- নিসা-৪:২৪)"
যেসব নারীদেরকে তাদের স্বামী , পিতা ভাই ইত্যাদিকে হত্যা করে বন্দি করা হয়েছে , তারা নিশ্চয়ই বিজয়ী সৈন্যদের সাথে পরম উল্লাসে যৌনকাজ করতে যাবে না , তার মানে তাদেরকে ধর্ষনই করতে হবেএছাড়া উক্ত ৪:২৪ আয়াতের শেষাংশ সাময়িক বিয়ে বা পতিতাবৃত্তিকে বৈধ করেছে , যার ব্যখ্যা মুহাম্মদ নিজেই দিয়ে গেছে যেমন -
সহিহ মুসলিম :: খন্ড ৮ :: হাদিস ৩২৫২
কুতায়বা ইবন সাঈদ (র)......রাবী ইবন সাবরা আল-জুহানী (র) থেকে তাঁর পিতা সাবরা (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) আমাদের মুত-আর অনুমতি দিলেন তারপর আমিও অপর এক ব্যক্তি বনূ আমির গোত্রের একটি মহিলার নিকট গেলাম সে ছিল দেখতে লম্বা ঘাড় বিশিষ্ট তরুণ উষ্ট্রীর ন্যায় আমরা নিজেদেরকে তার নিকট (মুতআ বিবাহের জন্য) পেশ করলাম সে বলল, আমাকে কি দেবে? আমি বললাম, আমার চাদর আমার সাথীও বলল, আমার চাদর আমার চাদরের তুলনায় আমার সংগীর চাদরটি ছিল উকৃষ্টতর; কিন্তু আমি ছিলাম তুলনায় কম বয়সের যূবক সে যখন আমার সংগীর চাদরের প্রতি তাকায় তখন তা তার পসন্দ হয় এবং বলল, তুমি এবং তোমার চাদরই আমার জন্য যথেষ্ট অতএব আমি তার সাথে তিন দিন অতিবাহিত করলাম তারপর রাসুলুল্লাহ (সা) বললেনঃ কারো কাছে মুতআ বিবাহের সুত্রে কোন স্ত্রী লোক থাকলে সে যেন তার পথ ছেড়ে দেয় (ত্যাগ করে)
কোরান অমুসিলমদের বিরুদ্ধে চিরস্থায়ী সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষনা করে তাদেরকে জোর করে ইসলাম গ্রহনে বাধ্য করতে বলেছে , যদি অমুসিলমরা ইসলাম গ্রহন না করে তাহলে তাদেরকে হত্যা করতে বলেছে যেমন -
সুরা তাওবা -৯: ৫: অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ করআর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁ পেতে বসে থাককিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাওনিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু
সুরা তাওবা -৯: ২৯: তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে
স্বয়ং মুহাম্মদ নিজেই এইসব আয়াতের ব্যাখ্যা দিয়ে বলে গেছে -
সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩০
আবু তাহির, হারমালা ইবন ইয়াহইয়া ও আহমাদ ইবন ঈসা (র)……আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই - এ কথার সাক্ষ্য না দেওয়া পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আমি আদিষ্ট হয়েছি সূতরাং যে কেউ আল্লাহ ছাড়া ইলাহ নেই স্বীকার করবে, সে আমা হতে তার জানমালের নিরাপত্তা লাভ করবে; তবে শরীআতসম্মত কারণ ব্যতীত আর তার হিসাব আল্লাহর কাছে
সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫২ :: হাদিস ২২০
ইয়াহ্ইয়া ইব্ন বুকাইর (র)...............আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, অল্প শব্দে ব্যাপক অর্থবোধক বাক্য বলার শক্তি সহ আমি প্রেরিত হয়েছি এবং শত্রুর মনে ভীতির সঞ্চারের( সন্ত্রাস) মাধ্যমে আমাকে সাহায্য করা হয়েছে
এই হত্যা লীলা ও সন্ত্রাসই যে বেহেস্তে যাওয়ার মূল চাবিকাঠি সেটাও মুহাম্মদ খুব সুন্দরভাবে বলে গেছে যেমন -
সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫২ :: হাদিস ৭৩
আব্দুল্লাহ ইব্ন মুহাম্মদ (র)............উমর ইব্ন উবায়দুল্লাহ (র)-এরাযাদকৃত গোলাম ও তার কাতিব আবূন নাযর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইব্ন আবূ আওফা (রা) তাঁকে লিখেছিলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, তোমরা জেনে রাখ, তরবারীর ছায়ার নীচেই জান্নাত
এরকম আরও বহু উদাহরন দেয়া যাবেসুতরাং দেখা যাচ্ছে , আমরা যে শান্তির ধর্ম ইসলামকে জানি , কোরান ও হাদিস তার সম্পূর্ন ভিন্ন ধরনের এক অমানবিক , অনৈতিক , বর্বর ও হিংসাত্মক বিধান ইসলামের নামে আমাদেরকে বলছে ও শিখাচ্ছে আমরা শান্তিপূর্ন মুসলমানরা এই ধরনের অমানবিক , অনৈতিক , বর্বর বিধানকে ঘৃনা ভরে প্রত্যাখ্যান করি ও করে যাবআমরা বর্তমানে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি , মুহাম্মদ মারা যাওয়ার পর কিছু কাফের মুর্তাদ মিলে কোরান ও হাদিস রচনা করে ইসলাম ধর্মকে কলুষিত করে গেছেতারা ইসলামের সর্বনাশ করার দুরভিসন্ধি থেকেই এটা করেছেআমরা তাদের সেই ষড়যন্ত্রকে প্রত্যাখ্যান করছি
আর তাই আমাদের সিদ্ধান্ত, শান্তির ধর্ম ইসলামের সাথে কোরান ও হাদিসের কোনই সম্পর্ক নেই

কোরান কোনভাবেই সর্বজ্ঞানী সৃষ্টিকর্তার কিতাব হতে পারে না(অকাট্য প্রমান)
আমরা সবাই জানি , জমাট রক্ত হলো মৃত রক্তমৃত রক্ত থেকে কোন জীবন তৈরী হতে পারে নাবরং কোন প্রানীর দেহে রক্ত জমাট বেধে গেলে সাথে সাথেই সে মারা যায়সুতরাং জমাট রক্ত পিন্ড থেকে মানুষ সৃষ্টি হওয়ার গল্প একটা বানোয়াট , উদ্ভট ও আষাড়ে গল্প মাত্রআর এর দ্বারাই প্রমানিত হয় কোরান কোন সর্বজ্ঞানী সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে আসতে পারে নাকিছু অল্প শিক্ষিত লোকজন মিলে এটা লিখেছে আর তারা তাদের সময় যা জানত সেটারই প্রতিফলন ঘটিয়েছে কোরানেএখন দেখুন কোরান কি বলছে ====
সুরা আলাক-৯৬: ২: সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে
অর্থা আল্লাহ মানুষকে জমাট রক্ত থেকে সৃষ্টি করেছেঅনেকে এসে এখন বলা শুরু করবে , উক্ত আয়াতে যে আরবী শব্দ "আলাক" ব্যবহার করা হয়েছে তার অর্থ জমাট রক্ত নাসেক্ষেত্রে আমরা দুনিয়ার সকল প্রসিদ্ধ আলেমের অনুবাদ ব্যবহার করতে পারিতার আগেই জানা দরকার জমাট রক্তের ইংরেজী হলো Clot or Clotted Blood, এটাই সার্বজনীন স্বীকৃত অর্থ যা চিকিসা বিজ্ঞানে ব্যবহার করা হয় এখন দেখা যাক , দুনিয়ার প্রসিদ্ধ সব আলেমরা উক্ত আয়াতের কি অনুবাদ করেছেন ----
Muhammad Asad :created man out of a germ-cell
M. M. Pickthall : Createth man from a clot.
Shakir : He created man from a clot.
Yusuf Ali (Saudi Rev. 1985): Created man, out of a (mere) clot of congealed blood:
Yusuf Ali (Orig. 1938): Created man, out of a (mere) clot of congealed blood:
Dr. Laleh Bakhtiar: He created the human being from a clot. zoom
Wahiduddin Khan: created man from a clot [of blood]. zoom
T.B.Irving :creates man from a clot!
Safi Kaskas: created the human being from a clinging substance.
Abdul Majid Daryabadi Hath created man from a clot! m – See introduction
[The Monotheist Group] (2011 Edition): He created man from a clot.
Abdel Haleem : He created manfrom a clinging form.
Abdul Majid Daryabadi Hath created man from a clot!
Aisha Bewley : created man from clots of blood.
Ali Ünal: Created human from a clot clinging (to the wall of the womb).
Ali Quli Qara'i : created man from a clinging mass.
Hamid S. Aziz: Created man from a clot!
Muhammad Mahmoud Ghali :Created man from clots.
Muhammad Sarwar : He created man from a clot of blood.
Muhammad Taqi Usmani : He created man from a clot of blood.
Shabbir Ahmed: Created man from a zygote.
Syed Vickar Ahamed: Created man, out of a (mere) clot of thickened blood:
Umm Muhammad (Sahih International): Created man from a clinging substance.
Farook Malik: created man from clots of blood.
Dr. Munir Munshey : He creates man from a clot (of blood).
Dr. Mohammad Tahir-ul-Qadri : He created man from a hanging mass (clinging) like a leech (to the mother’s womb).
Dr. Kamal Omar: He created the human being out of a living matter attached (like a leech) hanging (from the internal surface of the womb).
Talal A. Itani (new translation) : Created man from a clot.
Bilal Muhammad (2013 Edition): Created the human being from a zygote.
Maududi: created man from a clot of congealed blood.
Ali Bakhtiari Nejad : created the human from a (dangling, clinging, and leach like) blood clot.
[The Monotheist Group] (2013 Edition):He created man from an embryo.
Mohammad Shafi: Creates man from a cling

কোরান যে ১০০% একটা ভূয়া কিতাব তার অকাট্য প্রমান(হারুন/মুসার বোন মরিয়াম যীশুর মা ?)
কোরান বলছে যীশুর মাতা মরিয়ম হলো মুসা/হারুনের বোনকিন্তু ইতিহাস থেকে দেখা যায়, মুসা/হারুনের জন্ম খৃ:পূ: ১০০০ এর দিকে আর তার ১০০০ বছর পর যীশুর জন্ম হয়তাহলে যীশুর মাতা মরিয়াম কিভাবে মুসা/হারুনের বোন হয় ? তাহলে কি প্রমানিত হয় ? কোরান কি কোন সর্বজ্ঞানী সৃষ্টিকর্তার কিতাব ?
------------------------------------------------------------------------------
সুরা আর ইমরান-৩:৩৫: এমরানের স্ত্রী যখন বললো-হে আমার পালনকর্তা! আমার গর্ভে যা রয়েছে আমি তাকে তোমার নামে উসর্গ করলাম সবার কাছ থেকে মুক্ত রেখেআমার পক্ষ থেকে তুমি তাকে কবুল করে নাও, নিশ্চয়ই তুমি শ্রবণকারী, সর্বজ্ঞাততঃপর যখন তাকে প্রসব করলো বলল, হে আমার পালনকর্তা! আমি একে কন্যা প্রসব করেছিবস্তুতঃ কি সে প্রসব করেছে আল্লাহ তা ভালই জানেনসেই কন্যার মত কোন পুত্রই যে নেইআর আমি তার নাম রাখলাম মারইয়ামআর আমি তাকে ও তার সন্তানদেরকে তোমার আশ্রয়ে সমর্পণ করছিঅভিশপ্ত শয়তানের কবল থেকে
---------------------------------------------------------------------------------
তার মানে বোঝা গেল ইমরানের মরিয়ম নামের এক কন্যা ছিলএই মরিয়মই হলো যীশুর মাতা যা বলা হয়েছে এর কিছু পরের আয়াতে ----
--------------------------------------------------------------------------------
সুরা আল ইমরান- ৩: ৪৫: যখন ফেরেশতাগণ বললো, হে মারইয়াম আল্লাহ তোমাকে তাঁর এক বানীর সুসংবাদ দিচ্ছেন, যার নাম হলো মসীহ মারইয়াম-তনয় ঈসা, দুনিয়া ও আখেরাতে তিনি মহাসম্মানের অধিকারী এবং আল্লাহর ঘনিষ্ঠদের অন্তর্ভূক্ত
--------------------------------------------------------------------------------
এরপর বলছে হারুন হলো মরিয়মের ভাই , যেমন -
------------------------------------------------------------------------------
সুরা মারিয়াম - ১৯: ২৭-২৮: অতঃপর তিনি সন্তানকে নিয়ে তার সম্প্রদায়ের কাছে উপস্থিত হলেনতারা বললঃ হে মারইয়াম, তুমি একটি অঘটন ঘটিয়ে বসেছহে "হারূণ-ভাগিনী," তোমার পিতা অস ব্যক্তি ছিলেন না এবং তোমার মাতাও ছিল না ব্যভিচারিনী
------------------------------------------------------------------------------
এখন এই হারুন কে ? সেটা আমাদেরকে জানতে হবেকোরান বলছে-
--------------------------------------------------------------------------------
সুরা কাসাস- ২৮: ৩৩-৩৪: মূসা বলল, হে আমার পালনকর্তা, আমি তাদের এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিকাজেই আমি ভয় করছি যে, তারা আমাকে হত্যা করবেআমার ভাই হারুণ, সে আমা অপেক্ষা প্রাঞ্জলভাষীঅতএব, তাকে আমার সাথে সাহায্যের জন্যে প্রেরণ করুনসে আমাকে সমর্থন জানাবেআমি আশংকা করি যে, তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলবে
-----------------------------------------------------------------------------
অর্থা কোরান বলছে হারুন হলো মুসার ভাইতাহলে গোটা বিষয়টা কি দাড়াল ? হারুনের বোন হলো মরিয়াম , আবার হারুনের ভাই হলো মুসা , তার মানে মরিয়াম মুসারও আপন বোনঅন্যদিকে মরিয়ামের পিতার নাম ইমরানসুতরাং বিষয়টা দাড়াল- ইমরানের তিনটা সন্তান- হারুন, মুসা ও মরিয়ামকোরান বলছে মরিয়ামই হলো যীশুর মাতা
এবার দেখা যাক,বাইবেল কি বলে এই ইমরান, মুসা, হারুন ও মরিয়াম সম্পর্কে -
-------------------------------------------------------------------------------
গননা পুস্তক- ২৬: ৫৯: ৫৯ ইমরানের স্ত্রীর নাম ছিল য়োকেবদতিনি নিজেও ছিলেন লেবীয় পরিবারগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ততার জন্ম হয়েছিল মিশরেইমরান এবং য়োকেবদের দুই পুত্র ছিল হারোণ এবং মোশিতাদের মরিয়ম নামে একটি কন্যাও ছিল
------------------------------------------------------------------------------
অর্থা বাইবেলের তৌরাত কিতাবে বলছে একই কথা , ইমরানের তিন সন্তান- হারুন, মুসা ও মরিয়ামকিন্তু কোরান বলছে ইমরানের কন্যা ও হারুন-মুসার সেই বোন মরিয়ামই হলো যীশুর মাতাকিন্তু সেটা কিভাবে সম্ভব যখন যীশুরও প্রায় ১০০০ বছর আগে হারুন-মুসার জন্ম হয় ?
এটা এভাবেই সম্ভবমুহাম্মদ কিশোর বয়স থেকে তার চাচা আবু তালিবের সাথে সিরিয়াতে বানিজ্য করতে যেত , সিরিয়া ছিল ইহুদি ও খৃষ্টানদের বসতি , সেখানে কৌতুহলি মুহাম্মদ ইহুদি রাব্বি বা খৃষ্টান পাদ্রীদের কাছ থেকে তৌরাত ও যীশুর কাহিনী শুনেছিলএরপর সে নিজে যখন আল্লাহর বানীর নামে কোরানের বানী বলা শুরু করে , যীশুর মাতা মরিয়মকে সেই হারুন/মুসার বোন মরিয়মের সাথে গুলিয়ে ফেলেঅশিক্ষিত ও নিরক্ষর মুহাম্মদ অন্যদের কাছ থেকে শোনা গল্প স্মৃতি থেকে বলতে গিয়ে ধারাবাহিকতা হারিয়ে ফেলে ও সব কিছু এলোমেলো করে ফেলেকোরান যদি সত্যি সত্যি সর্বজ্ঞানী সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে আসত, তাহলে এই গোলমালটা হতো নাএই একটা ঘটনাই প্রমান করে কোরান সম্পূর্ন ভূয়া , বানান ও শুনে শুনে নকল করে তৈরী করা একটা কিতাব
ফেসবুকে ইসলাম প্রচার করা কি হালাল , নাকি হারাম ?
================================
সম্প্রতি ফেসবুকে ইসলাম প্রচারের ঢল নেমেছেকিন্তু কথা হলো ফেসবুকে ইসলাম প্রচার কি হালাল ? অনেকে উদ্ভটভাবে বলতে পারে , কোরান বা হাদিসে তো বলা নেই , ফেসবুক ব্যবহার করা যাবে নাকিন্তু কোরান হাদিস কি বলেছে সেটা একটু দেখা যাক -
------------------------------------------------------------------------
সহিহ বুখারী :: খন্ড ৮ :: অধ্যায় ৭৩ :: হাদিস ১৩০
ইয়াসারাহ ইব্ন সাফওয়ান (র)................আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিততিনি বলেন, একবার নবী (সা)ামার নিকট আসলেনতখন ঘরে একখানা পর্দা ঝুলানো ছিলযাদে ছবি ছিলতা দেখে নবী (সা)-এর চেহারার রং বদলিয়ে গেলএরপর তিনি পর্দাখানা হাতে নিয়ে ছিড়ে ফেললেনআয়েশা (রা) বলেন, নবী (সা) লোকদের মধ্যে বললেনঃ কিয়ামতের দিন সবচেয়ে কঠিনাযাব হবে ঐসব লোকদের যারা এ সকল ছবি আঁকে
সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫৫ :: হাদিস ৫৭০
ইয়াহ্ইয়া ইব্ন সুলায়মান (র) ......... ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (স) একদা কাবা ঘরে প্রবেশ করলেন সেখানে তিনি ইব্রাহীম (আ) ও মারইয়ামের ছবি দেখতে পেলেন তখন তিনি বললেন, তাদের (কুরাইশদের) কি হল ? অথচ তারা তো শুনতে পেয়েছে, যে ঘরে প্রাণীর ছবি থাকবে, সে ঘরে রহমতের ফিরিশ্তাগণ প্রবেশ করেন না

আরিফ আজাদ feeling স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করলো?
ল্যাম্পপোষ্টের অস্পষ্ট আলোয় একজন বয়স্ক লোকের ছায়ামূর্তি আমাদের দৃষ্টিগোচর হলোগায়ে মোটা একটি শাল জড়ানোপৌষের শীতলোকটা হালকা কাঁপছেও
-
আমরা খুলনা থেকে ফিরছিলামআমি আর সাজিদ
ষ্টেশান মাষ্টারের রুমের পাশের একটি বেঞ্চিতে লোকটা আঁটসাঁট হয়ে বসে আছে
ষ্টেশানে এরকম কতো লোকই তো বসে থাকেতাই সেদিকে আমার বিশেষ কোন কৌতুহল ছিলো নাকিন্তু সাজিদকে দেখলাম সেদিকে এগিয়ে গেলো
লোকটার কাছে গিয়েই সাজিদ ধপাস করে বসে পড়লোআমি দূর থেকে খেয়াল করলাম, লোকটার সাথে সাজিদ হেসে হেসে কথাও বলছে
আশ্চর্য! খুলনার ষ্টেশানএখানে সাজিদের পরিচিত লোক কোথা থেকে এলো? তাছাড়া, লোকটিকে দেখে বিশেষ কেউ বলেও মনে হচ্ছে নামনে হচ্ছে কোন বাদাম বিক্রেতাবাদাম বিক্রি শেষে প্রতিদিন ওই জায়গায় বসেই রাত কাটিয়ে দেয়
আমাদের রাতের ট্রেনএখন বাজে রাত দু'টোএই সময়ে সাজিদের সাথে কারো দেখা করার কথা থাকলে তা তো আমি জানতামইঅদ্ভুত!
-
আমি আরেকটু এগিয়ে গেলামএকটু অগ্রসর হতেই দেখলাম, ভদ্রলোকের হাতে একটি বইও আছেদূর থেকে আমি বুঝতে পারি নি
সাজিদ আমাকে ইশারা দিয়ে ডাকলোআমি গেলাম
লোকটার চেহারাটা বেশ চেনা চেনা লাগছে,কিন্তু সঠিক মনে করতে পারছি না
সাজিদ বললো,- 'এইখানে বোসইনি হচ্ছেন হুমায়ুন স্যার'
হুমায়ুন স্যার? এই নামে কোন হুমায়ুন স্যারকে তো আমি চিনি নাসাজিদকে জিজ্ঞেস করতে যাবো যে কোন হুমায়ুন স্যার, অমনি সাজিদ আবার বললো,- 'হুমায়ুন আজাদকে চিনিস না? ইনি আর কি'
এরপর সে লোকটার দিকে ফিরে বললো,- 'স্যার, এ হলো আমার বন্ধু, আরিফ'
লোকটা আমার দিকে তাকালো নাসাজিদের দিকে তাকিয়ে আছেঠোঁটে মৃদু হাসি
আমার তখনো ঘোর কাটছেই নাকি হচ্ছে এসব? আমিও ধপাস করে সাজিদের পাশে বসে গেলাম
-
সাজিদ আর হুমায়ুন আজাদ নামের লোকটার মধ্যে আলাপ হচ্ছেএমনভাবে কথা বলছে, যেন তারা পরস্পর পরস্পরকে অনেক আগে থেকেই চিনে
লোকটা সাজিদকে বলছে,- 'তোকে কতো করে বলেছি, আমার লেখা 'আমার অবিশ্বাস' বইটা ভালোমতো পড়তেপড়েছিলি?'
সাজিদ বললো,- 'হ্যাঁ স্যারপড়েছি তো'
- 'তাহলে আবার আস্তিক হয়ে গেলি কেনো? নিশ্চয় কোন ত্যাদড়ের ফাঁদে পড়েছিস? কে সে? নাম বল? পেছনে যে আছে, কি জানি নাম?'
- 'আরিফ......'
- 'হ্যাঁ, এই ত্যাদড়ের ফাঁদে পড়েছিস বুঝি? দাঁড়া, তাকে আমি মজা দেখাচ্ছি........'
এই বলে লোকটা বসা থেকে উঠতে গেলো
সাজিদ জোরে বলে উঠলো,- 'না না স্যারও কিচ্ছু জানে না'
- 'তাহলে?'
- 'আসলে স্যার, বলতে সংকোচ বোধ করলেও সত্য এটাই যে, নাস্তিকতার উপর আপনি যেসব লজিক দেখিয়েছেন, সেগুলো এতটাই দূর্বল যে, নাস্তিকতার উপর আমি বেশিদিন ঈমান রাখতে পারি নি'
এইটুকু বলে সাজিদ মাথা নিঁচু করে ফেললো
লোকটার চেহারাটা মূহুর্তেই রুক্ষ ভাব ধারন করলোবললো,- 'তার মানে বলতে চাইছিস, তুই এখন আমার চেয়েও বড় পন্ডিত হয়ে গেছিস? আমার চেয়েও বেশি পড়ে ফেলেছিস? বেশি বুঝে ফেলেছিস?'
সাজিদ তখনও মাথা নিঁচু করে আছে
লোকটা বললো,- 'যাক গে! একটা সিগারেট খাবোম্যাচ নেইতোর কাছে আছে?'
- 'জ্বি স্যার'- এই বলে সাজিদ ব্যাগ খুলে একটি ম্যাচ বের করে লোকটার হাতে দিলোসাজিদ সিগারেট খায় নাতবে, প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো তার ব্যাগে থাকে সবসময়
-
লোকটা সিগারেট ধরালোকয়েকটা জোরে জোরে টান দিয়ে ফুঁস করে একমুখ ধোঁয়া ছাড়লোধোঁয়াগুলো মূহুর্তেই কুন্ডুলি আকারে ষ্টেশান মাষ্টারের ঘরের রেলিং বেয়ে উঠে যেতে লাগলো উপরের দিকেআমি সেদিকে তাকিয়ে আছি
-
লোকটার কাশি উঠে গেলোকাশতে কাশতে লোকটা বসা থাকে উঠে পড়লোএই মূহুর্তে উনার সিগারেট খাওয়ার আর সম্ভবত ইচ্ছে নেইলোকটা সিগারেটের টুকরোটিকে নিচে ফেলে পা দিয়ে একটি ঘষা দিলোঅমনি সিগারেটের জ্বলন্ত টুকরোটি থেঁতলে গেলো
সাজিদের দিকে ফিরে লোকটা বললো,- 'তাহলে এখন বিশ্বাস করিস যে স্রষ্টা বলে কেউ আছে?'
সাজিদ হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়লো
- 'স্রষ্টা এই বিশ্বলোক, বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি করেছে বলে বিশ্বাস করিস তো?'
আবারো সাজিদ হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়লো
এবার লোকটা একটা অদ্ভুত ভয়ঙ্কররকম হাসি দিলোএই হাসি এতটাই বিদঘুটে ছিলো যে আমার গা ছমছম করতে লাগলো
লোকটি বললো,- 'তাহলে বল দেখি, স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করলো?'
এই প্রশ্নটি করে লোকটি আবার সেই বিদঘুটে হাসিটা হাসলোগা ছমছমে
সাজিদ বললো,- 'স্যার, বাই ডেফিনিশন, স্রষ্টার কোন সৃষ্টিকর্তা থাকতে পারে নাযদি বলি X-ই সৃষ্টিকর্তাকে সৃষ্টি করেছে, ক্ষণা আবার প্রশ্ন উঠবে, তাহলে X- এর সৃষ্টিকর্তা কে? যদি বলি Y, তাহলে আবার প্রশ্ন উঠবে, Y এর সৃষ্টিকর্তা কে? এভাবেই চলতে থাকবেকোন সমাধানে যাওয়া যাবে না'
লোকটি বললো,- 'সমাধান আছে'
- 'কি সেটা?'
- 'মেনে নেওয়া যে- স্রষ্টা নাই,ব্যস!'- এইটুকু বলে লোকটি আবার হাসি দিলোহা হা হা হা
সাজিদ আপত্তি জানালোবললো,- 'আপনি ভুল, স্যার'
লোকটি চোখ কপালে তুলে বললো,- 'কি? আমি? আমি ভুল?'
- 'জ্বি স্যার'
- 'তাহলে বল দেখি, স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করলো? উত্তর দেদেখি কতো বড় জ্ঞানের জাহাজ হয়েছিস তুই'
আমি বুঝতে পারলাম এই লোক সাজিদকে যুক্তির গ্যাড়াকলে ফেলার চেষ্টা করছে
সাজিদ বললো,- 'স্যার, গত শতাব্দীতেও বিজ্ঞানিরা ভাবতেন, এই মহাবিশ্ব অনন্তকাল ধরে আছেমানে, এটার কোন শুরু নেইতারা আরো ভাবতো, এটার কোন শেষও নাইতাই তারা বলতো- যেহেতু এটার শুরু-শেষ কিছুই নাই, সুতরাং, এটার জন্য একটা সৃষ্টিকর্তারও দরকার নাই
কিন্তু থার্মোডাইনামিক্সের তাপ ও গতির সূত্রগুলো আবিষ্কার হওয়ার পর এই ধারনা তো পুরোপুরিভাবে ভ্যানিশ হয়ই,সাথে পদার্থবিজ্ঞানেও ঘটে যায় একটা বিপ্লবথার্মোডাইনামিক্সের তাপ ও গতির দ্বিতীয় সূত্র বলছে- 'এই মহাবিশ্ব ক্রমাগত ও নিরবচ্ছিন্ন উত্তাপ অস্তিত্ব থেকে পর্যায়ক্রমে উত্তাপহীন অস্তিত্বের দিকে ধেয়ে যাচ্ছেকিন্তু এই সূত্রটাকে উল্টোথেকে প্রয়োগ কখনোই সম্ভব নয়অর্থা, কম উত্তাপ অস্তিত্ব থেকে এটাকে বেশি উত্তাপ অস্তিত্বের দিকে নিয়ে যাওয়া আদৌ সম্ভব নয়এই ধারনা থেকে প্রমান হয়, মহাবিশ্ব চিরন্তন নয়এটা অনন্তকাল ধরে এভাবে নেইএটার একটা নির্দিষ্ট শুরু আছেথার্মোডাইনামিক্সের সূত্র আরো বলে, - এভাবে চলতে চলতে একসময় মহাবিশ্বের সকল শক্তি নিঃশেষ হয়ে যাবেআর মহাবিশ্ব ধ্বংস হবে'
লোকটি বললো,- 'উফফফফ! আসছেন বৈজ্ঞানিক লম্পুসহজ করে বল ব্যাটা'
সাজিদ বললো,- 'স্যার, একটা গরম কফির কাপ টেবিলে রাখা হলে, সেটা সময়ের সাথে সাথে আস্তে আস্তে তাপ হারাতে হারাতে ঠান্ডা হতেই থাকবেকিন্তু সেটা টেবিলে রাখার পর যে পরিমাণ গরম ছিলো, সময়ের সাথে সাথে সেটা আরো বেশি গরম হয়ে উঠবে- এটা অসম্ভবএটা কেবল ঠান্ডাই হতে থাকবেএকটা পর্যায়ে গিয়ে দেখা যাবে, কফির কাপটা সমস্ত তাপ হারিয়ে একেবারে ঠান্ডা হয়ে গেছেএটাই হচ্ছে থার্মোডাইনামিক্সের সূত্র'
- 'হুম,তো?'
- 'এর থেকে প্রমান হয়, মহাবিশ্বের একটা শুরু আছেমহাবিশ্বের যে একটা শুরু আছে- তারও প্রমান বিজ্ঞানিরা পেয়েছেমহাবিশ্ব সৃষ্টি তত্বের উপর এ যাব যতোগুলো থিওরি বিজ্ঞানিমহলে এসেছে, তার মধ্যে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য, প্রমানের দিক থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী থিওরি হলো- বিগ ব্যাং থিওরিবিগ ব্যাং থিওরি বলছে- মহাবিশ্বের জন্ম হয়েছে একটি বিস্ফোরণের ফলেতাহলে স্যার, এটা এখন নিশ্চিত যে, মহাবিশ্বের একটি শুরু আছে'
লোকটা হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়লো
সাজিদ আবার বলতে শুরু করলো,- স্যার, আমরা সহজ সমীকরণ পদ্ধতিতে দেখবো স্রষ্টাকে সৃষ্টির প্রয়োজন আছে কিনা, মানে স্রষ্টার সৃষ্টিকর্তা থাকতে পারে কিনা
সকল সৃষ্টির একটা নির্দিষ্ট শুরু আছে এবং শেষ আছে............ ধরি, এটা সমীকরণ ১
মহাবিশ্ব একটি সৃষ্টি........... এটা সমীকরণ ২
এখন সমীকরণ ১ আর ২ থেকে পাই-
সকল সৃষ্টির শুরু এবং শেষ আছেমহাবিশ্ব একটি সৃষ্টি,তাই এটারও একটা শুরু এবং শেষ আছে
তাহলে, আমরা দেখলাম- উপরের দুটি শর্ত পরস্পর মিলে গেলো,এবং তাতে থার্মোডাইনামিক্সের তাপ ও গতির সূত্রের কোন ব্যাঘাত ঘটে নি
- 'হু'
- 'আমার তৃতীয় সমীকরণ হচ্ছে- 'স্রষ্টা সবকিছু সৃষ্টি করেছেন'
তাহলে খেয়াল করুন, আমার প্রথম শর্তের সাথে কিন্তু তৃতীয় শর্ত ম্যাচ হচ্ছে না
আমার প্রথম শর্ত ছিলো- সকল সৃষ্টির শুরু আর শেষ আছেকিন্তু তৃতীয় শর্তে কথা বলছি স্রষ্টা নিয়েতিনি সৃষ্টি নন, তিনি স্রষ্টাতাই এখানে প্রথম শর্ত খাটে নাসাথে, তাপ ও গতির সূত্রটিও এখানে আর খাটছে নাতার মানে, স্রষ্টার শুরুও নেই, শেষও নাইঅর্থা, তাকে নতুন করে সৃষ্টিরও প্রয়োজন নাইতার মানে স্রষ্টার আরেকজন স্রষ্টা থাকারও প্রয়োজন নাইতিনি অনাদি, অনন্ত'
এইটুকু বলে সাজিদ থামলোহুমায়ুন আজাদ নামের লোকটি কপালের ভাঁজ দীর্ঘ করে বললেন,- 'কি ভংচং বুঝালি এগুলা? কিসব সমীকরণ টমীকরণ? এসব কি? সোজা সাপ্টা বলআমাকে অঙ্ক শিখাচ্ছিস? Laws Of Causality সম্পর্কে ধারনা আছে? Laws Of Causality মতে, সবকিছুর পেছনে একটা Cause বা কারণ থাকেসেই সূত্র মতে, স্রষ্টার পেছনেও একটা কারণ থাকতে হবে'
সাজিদ বললো,- 'স্যার, উত্তেজিত হবেন না প্লিজআমি আপনাকে অঙ্ক শিখাতে যাবো কোন সাহসে? আমি শুধু আমার মতো ব্যাপারটি ব্যাখ্যা করেছি'
- 'কচু করেছিস তুইLaws Of Causality দিয়ে ব্যাখ্যা কর'- লোকটা উচ্চস্বরে বললো
- 'স্যার, Laws Of Causality বলব হয় তখনই, যখন থেকে Time, Space এবং Matter জন্ম লাভ করে, ঠিক না? কারন, আইনষ্টাইনের থিওরি অফ রিলেটিভিটিও স্বীকার করে যে- Time জিনিসটা নিজেই Space আর Matter এর সাথে কানেক্টেডCause এর ধারনা তখনই আসবে, যখন Time-Space-Matter এই ব্যাপারগুলা তৈরি হবেতাহলে, যিনিই এই Time-Space-Matter এর স্রষ্টা, তাকে কি করে আমরা Time-Space-Matter এর বাটখারাতে বসিয়ে Laws Of Causality দিয়ে বিচার করবো,স্যার? এটা তো লজিক বিরুদ্ধ, বিজ্ঞান বিরুদ্ধ'
লোকটা চুপ করে আছেকিছু হয়তো বলতে যাচ্ছিলো 
এরমধ্যেই আবার সাজিদ বললো,- 'স্যার, আপনি Laws Of Causality's যে সংজ্ঞা দিয়েছেন, সেটা ভুল'
লোকটা আবার রেগে গেলোরেগেমেগে অগ্নিশর্মা হয়ে বললো,- 'এই ছোকরা! আমি ভুল বলেছি মানে কি? তুই কি বলতে চাস আমি বিজ্ঞান বুঝি না?'
সাজিদ বললো,- 'না না স্যার, একদম তা বলিনিআমার ভুল হয়েছে 
আসলে, বলা উচিত ছিলো যে- Laws Of Causality's সংজ্ঞা বলতে গিয়ে আপনি ছোট্ট একটা জিনিস মিস করেছেন'
লোকটার চেহারা এবার একটু স্বাভাবিক হলোবললো,- 'কি মিস করেছি?'
- 'আপনি বলেছেন, Laws Of Causality মতে, সবকিছুরই একটি Cause থাকেআসলে এটা স্যার সেরকম নয়Laws Of Causality হচ্ছে- Everything which has a beginning has a cause.. অর্থা, এমন সবকিছু, যেগুলোর একটা নির্দিষ্ট শুরু আছে- কেবল তাদেরই Cause থাকেস্রষ্টার কোন শুরু নেই, তাই স্রষ্টাকে Laws Of Causality দিয়ে মাপাটা যুক্তি এবং বিজ্ঞান বিরুদ্ধ'
লোকটার মুখ কিছুটা গম্ভীর হয়ে গেলোবললো,- 'তুই কি ভেবেছিস, এরকম ভারি ভারি কিছু শব্দ ব্যবহার করে কথা বললেই আমি তোর যুক্তি মেনে নিবো? অসম্ভব'
সাজিদ এবার মুচকি হাসলোহেসে বললো,- 'স্যার, আপনার হাতে একটি বই দেখছিঅইটা কি বই?'
- ' এটা আমার লেখা বই- 'আমার অবিশ্বাস'
- 'স্যার, অইটা আমাকে দিবেন একটু?'
- 'এই নে,ধর'
সাজিদ বইটা হাতে নিয়ে উল্টালোউল্টাতে উল্টাতে বললো,- 'স্যার, এই বইয়ের কোন লাইনে আপনি আছেন?'
লোকটা ভুরু কুঁচকে বললো,- 'মানে?'
- 'বলছি, এই বইয়ের কোন অধ্যায়ের, কোন পৃষ্টায়, কোন লাইনে আপনি আছেন?'
- 'তুই অদ্ভুত কথা বলছিসআমি বইয়ে থাকবো কেনো?'
- 'কেনো থাকবেন না? আপনি এর স্রষ্টা না?'
- 'হ্যাঁ'
- 'এই বইটা কালি আর কাগজ দিয়ে তৈরিআপনিও কি কালি আর কাগজ দিয়ে তৈরি স্যার?'
- 'খুবই ষ্টুপিডিটি টাইপ প্রশ্নআমি এই বইয়ের স্রষ্টাএই বই তৈরির সংজ্ঞা দিয়ে কি আমাকে ব্যাখ্যা করা যাবে?'
সাজিদ আবার হেসে দিলোবললো,- 'না স্যারএই বই তৈরির যে সংজ্ঞা, সে সংজ্ঞা দিয়ে মোটেও আপনাকে ব্যাখ্যা করা যাবে নাঠিক সেভাবে, এই মহাবিশ্ব যিনি তৈরি করেছেন, তাকেও তার সৃষ্টির Time-Space-Matter-Cause এসব দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবে না
আপনি কালি,কলম বা কাগজের তৈরি নন, তার উর্ধ্বেকিন্তু আপনি Time-Space-Matter-Cause এর উর্ধ্বে ননআপনাকে এগুলো দিয়ে ব্যাখ্যা করাই যায়কিন্তু সৃষ্টিকর্তা হচ্ছেন এমন একজন,যিনি নিজেই Time-Space-Matter-Cause এর সৃষ্টিকর্তাতাই তাকে Time-Space-Matter-Cause দিয়ে পরিমাপ করা যাবে নাঅর্থা, তিনি এসবের উর্ধ্বেঅর্থা, তার কোন Time-Space-Matter-Cause নাইঅর্থা, তার কোন শুরু-শেষ নাইঅর্থা, তার কোন সৃষ্টিকর্তা নাই'
লোকটা উঠে দাঁড়ালোউঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বললো- 'ভালো ব্রেইনওয়াশড! ভালো ব্রেইনওয়াশড! আমরা কি এমন তরুণ প্রজন্ম চেয়েছিলাম? হায়! আমরা কি এমন তরুণ প্রজন্ম চেয়েছিলাম?'
এটা বলতে বলতে লোকটা হাঁটা ধরলোদেখতে দেখতেই উনি ষ্টেশানে মানুষের ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে গেলেন
-
ঠিক সেই মূহুর্তেই আমার ঘুম ভেঙে গেলোঘুম ভাঙার পর আমি কিছুক্ষণ ঝিম মেরে ছিলামঘড়িতে সময় দেখলামরাত দেড়টা বাজেসাজিদের বিছানার দিকে তাকালামদেখলাম, সে বিছানায় শুয়ে শুয়ে বই পড়ছেআমি উঠে তার কাছে গেলামগিয়ে দেখলাম সে যে বইটা পড়ছে, সেটার নাম- 'আমার অবিশ্বাসবইয়ের লেখক- হুমায়ুন আজাদ
সাজিদ বই থেকে মুখ তুলে আমার দিকে তাকালোতার ঠোঁটের কোণায় একটি অদ্ভুত হাসি
আমি বিরাট একটা শক খেলামনাহ! এটা হতে পারে নাস্বপ্নের উপর কারো হাত নেই- আমি বিড় বিড় করে বলতে লাগলাম
'স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করলো?'/