Wednesday, September 13, 2017

এই আমি!


বেঁচে থাকার স্বাভাবিক পথ আমার জানা নেই । যা জানা নেই, তা নিয়ে কি কথা বলা যায়? এই প্রশ্নের ভেতর, তবুও. কিছু উত্তরের প্রত্যাশা থেকে যায়।
জানি না বললেও কিছুটা ‘জানা’ পাথা ঝাপটায়। পালকগুলো খসে পড়ে। হাতে নিয়ে নাড়তে-চাড়তেই প্রশ্নগুলো দাপিয়ে বেড়ায়।
অভিজ্ঞতা একটা ব্যাপার বটে। কারো কারো কাছে বলা বা ভাষার উপস্থাপনায় গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে। কারো কাছে আঙ্গিক।
সময়টা বড় খারাপ। মূল সমেত গাছগুলো সব উড়ে যাচ্ছে, উড়ে যাবার সময় দু’য়েকটা পাতা হাতিয়ে আর কি হবে? স্বস্থি? মিলতেও পারে। আসল আর নকল যখন একাকার তখন খোঁজাখুঁজির কি মানে থাকতে পারে? বড় কঠিন কাজ। কে চায় ওসব পথে পা বাড়াতে। সব আরামের বাজার যখন দোড় গোড়ায়।
প্রশ্নহীন বেঁচে থাকার চেয়ে সুখের আর কি থাকতে পারে? উত্তরের আগাছা নেই। ঝকঝকে উঠোন। নর্তন-কুর্তন বেশ চলে।
আবার প্রশ্ন যদিবা থাকে, সে নিজের জন্য নয়। অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে বেশ, বেঁচে থাকা যায়। সেই প্রশ্নগুলো ছুড়ে দিয়ে বাহবা মেলে। আর যদি ঘোড়ার লেজের মত কিছু উত্তরের সূত্র ধরিয়ে দেয়া যায়, সহজ হয়ে যায় রাতারাতি খ্যাতির শিখর।
দূরে, অনেক নিরাপদ দূরত্বে, নির্মল আকাশ দেখতে দেখতে আর আসন্ন রোমাঞ্চকর মূহুর্তের কবিতা আওড়ে নির্মাণ করা যায় অনায়স সুখের মডেল। ঝুট ঝামেলাহীন অথচ গভীরতায় মহান, নান্দনিকতায় অপূর্ব, প্রতিবাদের ঝড়ো হাওয়া, তারপর স্ববিরোধী আইকনদের গালাগাল করে মুক্ত সমাজের জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত, নতুন নতুন সঙ্গী অথবা সঙ্গিনীর সাথে গভীর রাতের শয্যায়।
ভোর হবার আগেই আবার স্বপ্নের খোয়াড়ে হানা দেয়, নতুন আইকন। অবাধ আর মুক্ত। সব মুক্তিই লুকিয়ে থাকে শয্যায়। সবচেয়ে সহজ মুক্তি বলেই হয়তো বা।
টাকার জোর নেই। তাই ঘেন্না।
ক্ষমতার জোর নেই, তাই ঘেন্না।
ঘেন্না হবার কথা।
সেই ঘেন্না কখন সোমরস, কখন নীল আলো হয়ে ফুটে, জানা হয়ে ওঠে না। জানতে গেলেই প্রশ্নগুলো অসভ্যের মত সব শান্তিকে নষ্ট করে দেয়। তখন শান্তি ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত প্রশ্ন, একা একা যায় নির্বাসনে। যুক্তি, তাকেও কেনা যায়। টাকা আর ক্ষমতার চেয়ে বড় গুণ। ভাষা, যুক্তি, দর্শন, সব এক কাতারে দাঁড়িয়ে যায়, কর্তাকে রক্ষার মহান ব্রত। কল্পিত মানুষ আর সমাজ কতটা দূরে জানাও হয় না।
দর্পনের চেয়ে প্রিয় এবং একি সঙ্গে ঘৃন্য আর কি থাকতে পারে? এটা শোভনীয় নিজের আদায়গুলো দেখে নেবার জন্য। বিচারের জন্য দূরে রাখাই নিরাপদ।
অতঃপর সবকিছু যুক্তিগ্রাহ্য আর আনন্দনীয়, ধৃতরাষ্ট্রের দুযোর্ধনকে দেখেও না দেখাই হয়ে ওঠে, সবচেয়ে আধুনিক দর্শন।
হ্যা, দর্শনের এ পিঠে চড়লে আর কিছু থাকে না। সব ঝামেলা চুকে যায়। ভালটুকু, মন্দটুকু নয়। চোখ প্রয়োজনে অন্ধ করে দিয়ে, প্রগতিশীলতার ছোঁয়া রেখে যায় বিছানার চাদরে।
পরিবর্তনের বাতাস বইবে, উম্মুক্ত বাতায়নে। মানুষ নেমে আসবে সবখানে। শুধু নিজের আসনটুকু থাকবে তাপানুকুল কক্ষে। আর এ বাতাস বইয়ে দেবার কৃতিত্ব, পুরষ্কার দিতে নগরীর মডেল কন্যারা আসুক, হাতে হাতে ফুল।
বাতাসের এ জোর হাওয়ায়, উড়ে যায়, উল্টোমুখী যাত্রীরাও। তবে যুক্তি থাকে সাথে, চলেও সাথে সাথে। এ যেন আত্মরক্ষার বর্ম।
টাকা নেই, ন্যাংটো হওয়া বা ন্যাংটো দেখা, দুঃস্বপ্ন।
ক্ষমতা নেই, ন্যাংটো হওয়া বা ন্যাংটো দেখা, দুঃস্বপ্ন।
মিডিয়া জগতের মোড়ল বা তার হাত পা লেজ নয়, ন্যাংটো দেখা বা হওয়া, দুঃস্বপ্ন।
জনপ্রিয় শিল্পী বা লেখক নয়, ন্যাংটো দেখা বা হওয়া, দুঃস্বপ্ন।
পটুয়াও নয়, সব দুঃস্বপ্ন। দুঃস্বপ্নের এক পাহাড়।
দেখতে গিয়ে প্রথম চোখে পড়ে বয়স। বাছাই। পণ্যের বাজারে বাছাই। বাছাই করতে করতে কপালের ভাঁজ ঢাকা পড়ে দক্ষ কারিগরের হাতে।
বাছাই করতে করতে চেখে দেখার অভিজ্ঞতাও হয়ে ওঠে এক মহাকাব্য।
আরও থাকে রাজপথ অথবা ফুটপাত, অথবা বলার ভঙ্গিতে এক ঘোর রহস্য, অচেনা অজানা রহস্য, ছোঁয়া যায় না, ধরা যায় না, বোঝা যায় না, নিজেকে কেমন নিবোর্ধ নিবোর্ধ মনে হয়। সবকিছু অধরা। দুঃসাহসী কেউ, ঘর ছেড়ে সেই বিছানার চাদরে বিপ্লবী।
বুলির বিষয় বস্তুতে আগুন, সে নিজে জ্বলে না, জ্বালাতে চায় বলে কেউ কেউ জ্বলেও। সব জ্বালা মিটে গিয়ে সেই বিছানার চাদরে।
ফুটপাত, রাজপথ আর বর্ণিত মানুষ, সমাজ দূর গ্রহ নক্ষত্রের নানা নামে অঙ্কিত হয়ে যায়।
কেউ কাউকে বাঁচিয়ে রাখার, পথ দেখাবার মোড়ল নয়।
যারা দেখাবে বলে গলা ফাটিয়ে, সঙ্গম শিহরণে এখন ক্লান্ত, এবার মুক্তি আসবে অন্যরকম একটা সেমিনারে। আয়োজনের পেছনে থাকে আর এক রাতের স্বপ্ন, একেবারে নতুন।
বাজারে সবকিছু পণ্য হলেও, এমনকি প্রগতির সব ডাল পালা ছাতা নাতা পর্যন্ত, শুধু নীরবে, দূরের অচেনা নক্ষত্রগুলো তখনো রাতের অন্ধকারে ডুবতে ডুবতে, দেখে তার মতই কেউ কেউ সেই ক্ষীণ আলোয় আসছে, এলি তো এলি, শেষ বেলায়। মাছেরা যখন সব দল বেঁধে সভ্যতার ভার সইতে না পেরে নিয়েছে বিদায়। আর মরে গেছে পানীয় জল। মরে গেছে মাটি। মরে যাচ্ছে মেঘ। মরে যাবে সব।
আর মানুষ মরবে পিঁপড়ার মত।
আমিও মরে পরে থাকবো পথে ঘাটে।
মৃত্যুই আমাদের এবং আমাদের এবং আমাদের তাবৎ কর্মের ফল।
বড় দেরি হয়ে গেলো।
আমার ফেরা হলো না, সারাজীবনের স্বপ্ন আমার মাটি, আমার মাটির কাছে, আমিও পাপী। সমান তালে। খুনী অথবা সাক্ষী অথবা নিষ্ক্রয়দের মত আমিও সমান ।
কালো কুচকুচে, একটা বিরাট ছায়া, আকাশ ছেয়ে যায়, আমার ঘাড়ে। মেরুদন্ডের উপর গড়িয়ে যায় কতকগুলো পাথর। তাদের রঙও কালো। অদৃশ্য এক দানব অথবা পেত্নী। বিশ্বাস করি না। তবুও আমার পিছু পিছু।
আরাম খুঁজতে গিয়ে সব আজ হারাম করে দিয়েছি। এমনকি নিজের মাটি পর্যন্ত। আজ পালাবার পথ নেই।
নোনা জল এলো বলে। আর পাখিরা তো চলেই গেলো। কোথায় কেউ জানে না। এখন শুধু নোনা জলই পাবে।
আমি যতদূর যাই ছায়াটা আমার পিছু ছাড়ে না। কালো পাথর মেরুদন্ড বেয়ে এবার ওঠে আসে ঘাড়ে।
মিথ্যা, মিথ্যাই। তবুও আজ তা অন্যরকম। আগেকার দিনের মত নয়, অন্তত। এখন চেনা যায় না। ঘোর সন্দেহ জাগে। তারপর মনে হয় সত্য। তেলেসমাতি বটে। একজোট সব খবরের কাগজ আর বেতার আর টেলিভিশন। এক্কাট্টা। কেমন করে জমজ হয়ে যায়। পেছনের কলকাটি চোখে পড়ে না। শুধু রঙিন ছবি আর ভারি কন্ঠের গমগমে প্রতিধ্বনি, বাতাসে ধুলোবালির মত ভেসে বেড়ায়।
আর তার প্রতিষেধও আছে, পাতায় পাতায় অথবা পর্দায়। ব্যাঙের মত লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ানো একদল মস্তিষ্কহীন আকর্ষণীয় শরীর। চোখ ধাঁধানো। নেশা ধরে। বাথরুমের বেগ পায়। তবুও চোখ সরে না। আর কি-না হতে পারে? চারদিকে কা কা চিৎকার ওঠবে, কান পাতা দায় হবে। অক্ষমদের আক্ষেপ। আঙুর ফল টক।
মাঠ দখলের খেলায় সবাই সমান খেলোয়াড় নয়। তার উপর তাড়িয়ে তাড়িয়ে দেখার দর্শক তো রয়েছে। আর অক্ষম শুধু, অক্ষম আক্রোশে পালিয়ে পালিয়ে, শেষ পর্যন্ত প্রিয় মাছগুলোর মত নিখোঁজ, এই আমি।

Thursday, September 7, 2017

আস্তিক ও নাস্তিক প্রসঙ্গে বিজ্ঞান কি বলে ?


    বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা ; -“ Let  The  Data  Decide” এর আলোকে বহুল আলোচিত নাস্তিকতা
     
      সংশয়বাদী , যুক্তিবাদী এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোন থেকে মানুষের বিশ্বাস দুইটি ধারার বিভক্তি গৃহিত হয়েছে । এর একটি হচ্ছে আস্তিক্যবাদ  আর  অন্যটি  হচ্ছে নাস্তিক্যবাদ ।
     আস্তিক্যবাদ বা আস্তিকতা  প্রসঙ্গে বলা হয়ে থাকে যে মানুষ পৃথিবীতে জন্ম গ্রহণ করেই দেখতে পায় তার জন্যে প্রাণপণে প্রস্তুত হয়ে আছে পূর্ব নির্ধারিত বিভিন্ন বিশ্বাসের জগত ।  যা, তার পরিবার , সমাজ , এমনকি কখোনো রাষ্ট্র  এই বিশ্বাস তার জন্যে পূর্ব থেকেই  প্রস্তুত করে রেখেছে, আর তাকে ঐ বিশ্বাসের উপর আস্থা স্থাপন করেই ভবিষ্যতের পথে পাড়ি দিতে হয়।
      বিজ্ঞানী ও যুক্তিবাদী এবং সংশয় প্রকাশকারীদের মতে , ঐ পূর্ব নির্ধারিত বিশ্বাসের মূল ভিত্তি হচ্ছে কখনো পৈরাণিক বিশ্বাস , কখনো কুসংষ্কার আবার প্রায় সব ক্ষেত্রেই ঈশ্বর ও ধর্ম বিশ্বাস একসময় যা শুধু ধর্ম বিশ্বাস রূপে মানুষের মনোজগতে  প্রতিষ্ঠা লাভ করে থাকে
          
  যদিও   সংশয়বাদী ও যুক্তিবাদীরা  বলেন অধিকাংশ ধর্ম এবং ধর্মের অধিকাংশ তথ্য অপবিশ্বাস এবং অন্ধ বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত , যার জন্যে বিভিন্ন ধর্মের বিভিন্ন বিশ্বাসে ও অনৈক্য বা মতানৈক্য দেখা যায়
       আর নাস্তিক্যবাদ বা নাস্তিকতার মূলে আছে , ধর্ম বা ঈশ্বরে বিশ্বাসহীনতা যা কোন গতানুগতিক বিশ্বাস থেকে মুক্ত । নাস্তিকেরা সমাজে প্রচলিত এবং ক্ষেত্র বিশেষে সমাজে প্রতিষ্ঠিত বিশ্বাস থেকে সরে গিয়ে নিজেরা  তাদের বিশ্বাস নির্ধারণ করে থাকেন ।
        নাস্তিকেরা তাদের এই ধারণাকে এই ভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পছন্দ করেন যে ,
     
“ Atheism is characterized by an absence of belief in the existence of Gods*”
     আবার কেউ কেউ অন্য ভাবে বলেন যে “ Basic atheism is not a belief . It is the lack of belief” *
       ব্যাপারটি নিয়ে ড. হুমায়ুন আজাদ তার এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন,
   
“ যে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত নই , যার কোনো অস্তিত্ব নেই যা প্রমান করা যায় না, তাতে মানুষকে বিশ্বাস করতে হয় । মানুষ ভূতে বিশ্বাস করে, পরীতে বিশ্বাস করে বা ভগবানে, ঈশ্বরে বা আল্লাহ্ য় বিশ্বাস করে । এই বিশ্বাস সত্য নয় , এগুলোর কোনো বাস্তবরূপ নেই। মানুষ বলে না , আমি গ্লাসে করি বা পানিতে বিশ্বাস করি, মেঘে বিশ্বাস করি । যেগুলো নেই সেগুলোকে মানুষ করে । বিশ্বাস একটি অপবিশ্বাসমূলক ক্রিয়া । যা সত্য , তাতে বিশ্বাস করতে হয় ন ; যা মিথ্যে তাতে বিশ্বাস করতে হয় । তাই মানুষের সব বিশ্বাস ভূল বা ভ্রান্ত, তা অপবিশ্বাস” ।
        “ কিছু কিছু কপট মানুষ , বিশেষ ক’রে রাজনীতিবিদেরা ও সুবিধাবাদী বিখ্যাত ব্যক্তিরা, ব’লে থাকেন যে ধর্ম ও বিজ্ঞানে কোনো বিরোধ নেই; তবে এটা মিথ্যেকথা-ধর্ম ও বিজ্ঞান সম্পূর্ণরূপে পরস্পরবিরোধী ; বিজ্ঞান সত্যের সাধক আর ধর্ম মিথ্যের পূজারী”#
  বাঙালী কবি সুধীনদ্রনাথ ধর্ম ও ঈশ্বর নিয়ে লিখা এক কবিতায় , ভরতীয় ভগবানকে বলেছেন, “ যাযাবর আর্যের বিধাতা”  , ঈশ্বর কার স্বার্থ দেখে ? এর জবাবে বলেছেন, “চিরকাল ঈশ্বর বাস করে গরিবের উঠোনে , আর স্বার্থ দেখে অসুরদের” । তিনি ঈশ্বরকে “ আরণ্যিক নির্বোধের ভ্রান্ত দুংস্বপন” ? হিসাবে সংজ্ঞায়িত ও করেছেন তার কবিতায়
   স্টিফেন হকিং এর গবেষণা মতে - স্থান-কাল সসীম, তবে তার সীমারেখা নেই ; অর্থাৎ মহাজগতের শুরু নেই ,কোনো সৃষ্টির মুহূর্ত নেই ; তাই কোনো বিধাতাও নেই এর । তার কথায়- “ কিন্তু মহাজগত যদি হয় স্বয়ংসম্পূর্ণ , যার কোনো সীমানা নেই ,তখন তার কোনো শুরু থাকে  না , শেষও থাকে না ;তখন শুধু থাকে মহাজগত । তখন স্রষ্টার/বিধাতার কী দরকার ?” #  
         আস্তিক ও নাস্তিকের বিশ্বাস ও বুদ্ধিমত্তা নিয়ে মনোবিজ্ঞানীদের চালানো কিছু জরিপ ও গবেষণার ফলাফল ;
         লন্ডন স্কুল অব ইকনোমিক্সের বিবর্তন মনোবিজ্ঞানী - সাতোসি  কানাজাওয়ার চালানো সাম্প্রতিক গবেষণা  (যা social psychology Quarterly, vol. 73, no. 1, 33-57 ,তে প্রকাশিত হয়েছে ) থেকে জানা গেছে নাস্তিক ( Atheist ) এবং উদারপন্থিরা ( Liberal )  সাধারণত ধার্মিক (Theist ) এবং রক্ষণশীলদের (Conservative ) চেয়ে অনেকবেশি বুদ্ধিসম্পন্ন  হয়ে থাকে । আবার  Social Psychology Quarterly জার্নালে ২০১০ সালের vol. 73, no 1,-33-57 page এ  প্রকাশিত    ‘Why Libaral and Atheists Are more Intelligent Than Consevatives’    শীর্ষক গবেষণাপত্রে অধ্যাপক কানজাওয়া দেখিয়েছেন যে ,ধার্মিক হিসাবে দাবীদার ব্যক্তিদের চেয়ে নাস্তিকদের আইকিউ  গডপরতা অন্তত পয়েন্ট বেশি থাকে।                                                    ।আর রক্ষণশীল গ্রুপের চেয়ে উদারপন্থী বা প্রগতিশীল গ্রুপের আইকিউ বেশি থাকে অন্তত ১২ পয়েন্ট । যা তিনি একই জার্নালের এপ্রিল সংখ্যায় তার গবেষণা পত্র  “ Why Atheist Are More Intelligent than the Religiious’ এতে দেখিয়েছেন ।
      আর সমগ্র ব্যাপারটি অধ্যাপক কানাজাওয়া বিবর্তনীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করেছেন তার প্রকাশিত গবেষণা পত্রে। তার ব্যাখ্যায় তিনি বলেছেন যে ,  যে কোনো সংস্কৃতিতেই ধর্ম এবং বিশ্বাসের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় ,আর সব সমাজেই ধার্মিকের সংখ্যাও নাস্তিকের চেয়ে সাধারণত বেশি থাকে ।
       আদিম ট্রাইবগুলোতে যাদু টোনা, নরবলি ,কুমারী নিধন সহ হাজারো অপবিশ্বাসের সমাহারের উপস্থিতি ছিল । কিন্তু নাস্তিকতা, যুক্তিবাদ, বিজ্ঞানমনস্কতা, লিবারেলিজম প্রভৃতি উপাদানগুলো বিবর্তনীয় প্রেক্ষাপটে মানব সমাজের জন্য অপেক্ষকৃত নতুন সংযোজন  এবং যাদের মস্তিষ্ক এই নতুন নতুন পরিবর্তনগুলো ধারণ করার জন্য  বেশি নমনীয়, তারাই বুদ্ধিদীপ্ত হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে । বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানের  “ সাভানা অনুকল্প” অনুযায়ী এটা ঘটে বলে গবেষণাপত্রে দাবি করা হয়েছে ।
      
       এর কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ফলাফলটি এসেছে  ইউসিএসডি  এবং  হার্ভাডের সাম্প্রতিক একটা যৌথ গবেষণা থেকে । যেখানে ডোপামিন নির্ভর DRD4 জিনেটিক (ক্রোমোজোম.)  চিহ্নিত করা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে, এবং যার একটা বিশেষ ভ্যারিয়ান্ট উদারপন্থীদের মাঝে দেখা যায় **  এ জিনটিকে বহুল প্রচারিতভাবে  “ অভিনবত্ব অনুসন্ধানি” জিন (novelty seeking gene )হিসাবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে । যাদের মধ্যে এ জিনটির অস্তিত্ব আছে তার অনেকেই পরিণত বয়সে উদারপন্থী মতাদর্শের সাথে যুক্ত হয়ে পড়েন বলে গবেষণায় উঠে এসেছে ।
          মনোবিজ্ঞানী ডেভিল উলফের মনোবিজ্ঞান এবং ধর্ম বিষয়ক গবেষণার ফলাফল এবং ড. মাইকেল শারমারের The Science and Evil গ্রন্থের (প্রকাশ feb/2004) এর পর্যালোচনা করলে জানা যায় যে , অতিরিক্ত ধর্মপ্রবণতা এবং ধর্মের আসক্তির কারণে মানুষ অধিকতর বেশিমাত্রায় মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক, অসামাজিক, অনমনীয় এবং কর্তৃত্ব পরায়ণ হিসাবে গড়ে উঠে । অন্যদিকে অবিশ্বাসীরা শুধু স্মার্টই নয় , গবেষণায় দেখা গেছে নৈতিক দিক দিয়ে ও অবিশ্বাসীরা বিশ্বাসীদের চেয়ে অনেক অগ্রগামি । তারা অনেক বেশি সহিষ্ণু , আস্তিকদের চেয়ে ,কারণ অবিশ্বাসীরা সাধারণত যুক্তি মানবতা এবং বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে বিষয়গুলো বিবেচনা করেন ,অন্ধবিশ্বাসের বলে নয় । (প্রসঙ্গত উল্লেখ যোগ্য যে এই গবেষণার ফল বাংলা দেশের জন্যে একই রকম না  ও হতে পারে ,কারণ এই দেশের বুদ্ধিজীবী এবং রাজনীতিবিদের অনেকেই আসল পরিচয় গোপন রাখেন সমাজে । নাস্তিকরা অনেক সময় আস্তিক হিসাবে পরিচিত হন ব্যক্তি স্বার্থে, আবার কোনো কোনো ক্ষেতে উল্টোটাও হয়ে থাকে । তাই বিভিন্ন ধর্মীয় দলের শীর্ষ  নেতাদের কোনো ছেলে মেয়েকে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করতে দেখা যায় না । )
     
ডপামিন  এবং   DRD4 এর  ব্যাপারে  ইন্টারনেট  থেকে  সংগ্রহকৃত  কিছু  তথ্যাদি  আগ্রহীদের  জন্যে  যুক্ত  করা  হল , সরাসরি  ....
   

News & Commentary
Dopamine D4 receptor gene (DRD4) is associated with Novelty Seeking (NS) and substance abuse: the saga continues . . .
J M Lusher1, C Chandler1 and D Ball2
1Department of Psychology, London Guildhall University, Calcutta House, Old Castle Street, London E1 7NT, UK
2Social, Genetic and Developmental, Psychiatry Research Centre, Institute of Psychiatry, Denmark Hill, London, SE5 8AF, UK
Correspondence to: J M Lusher, Department of Psychology, London Guildhall University, Calcutta House, Old Castle Street, London E1 7NT UK. E-mail:lusher@lgu.ac.uk
Ebstein1 first highlighted the saga of an 'adventure gene': the dopamine D4 receptor gene (DRD4) and its association with substance abuse and personality. This was followed with a report by Baron2 who suggested that this saga is sagging due to conflicting reports emerging. It now appears that the saga continues with 'severity of dependence' to substance abuse, another variable that may be pertinent to the DRD4 association.3
In 1996, Ebstein and colleagues4 examined DRD4 and its association with the human personality trait Novelty Seeking (NS) in a sample of healthy volunteers recruited from an unrelated. Israeli staff/student population. Using Cloninger's Tridimensional Personality Questionnaire (TPQ)5 to measure NS (high novelty seekers are characterized by their impulsive and exploratory behaviour), they reported an association between the DRD4 gene and normal human personality. They analyzed TPQ scores and frequency of DRD4 exon III repeat polymorphisms in 124 samples and found that subjects with the seven-repeat allele exhibited significantly higher NS scores when compared to subjects lacking the seven-repeat allele. This association did not appear to be due to population stratification as it was independent of ethnicity, age or sex of the subjects (69 men, 55 women, mean age 29.8 years).
Benjamin et al6 provided support for this initial study by investigating the relationship between the DRD4 exon III sequence variant and personality test scores amongst a sample of 315 American family members and individuals. The study confirmed initial findings of the Ebstein et al study4despite methodological differences. For example. Benjamin et al used a sample of white Americans, of whom 95% were male. In addition, they employed Eysenck's NEO-PI-R, which is based upon a trait model of personality, with NS falling in the extraversion factor. This is in contrast to the TPQ, which is based on a biological model in which three independent dimensions of temperament are attributed to genetically and neurochemically distinct pathways, with novelty seeking being mediated by dopamine neurotransmission.1 Finally, Benjamin et al6 did not examine presence or absence of the seven-repeat allele, but grouped individual genotypes into long or short alleles on the gene. Subjects with the long alleles were found to be significantly higher novelty seekers than those with the short alleles.
A third study, conducted by Ebstein,1 offered additional evidence for the association with DRD4 and NS, using similar methods to their previous study. In the same year, Ono and colleagues7 conducted a similar study with 153 normal, Japanese women (mean age 18.7 years). They used the TPQ to measure NS and found an association with long alleles at the polymorphic exon III repeats sequence of DRD4 and NS.
Evidence continued to build for the association between DRD4 and NS amongst healthy people with different ethnic origins. To date, a further six studies8,9,10,11,12,13 have been published, making a total of ten studies offering support for this association. One study used a sample of 119, twelve-year-old Caucasian boys,8 there have been two Japanese studies,10,12 a Finnish study,9 an Israeli study13 and a German study11conducted.
Despite substantial evidence emerging for the association between the DRD4 gene variant and NS, there have been conflicting reports showing a lack of association between these variables,14,15,16,17,18,19,20,21,22,23 which may be attributable to basic methodological differences between studies. Ebstein1established guidelines for conducting such research and in doing so highlighted the controversy surrounding this association. Baron2 swiftly responded by offering constructive criticism concerning methodological issues surrounding this research, questioning whether the saga of the 'adventure gene' was sagging.
Research refuting the association with DRD4 and NS began in 199614 and was shortly followed by three articles in 1997,18,19,20 four articles in 199815,16,17,23 and two in 1999.21,22 There are several possible reasons as to why these studies failed to find an association with DRD4 and NS. Firstly, age is an important variable to consider in personality research. NS diminishes with age so to obtain consistent personality scores, subjects should be young (ideally under the age of 45 years).24 Reports providing evidence for the association with DRD4 and NS used subjects between the ages of 12-35 years.1,4,6,7,8,9,10,11,12,13 The subjects used in studies that failed to find a significant association with DRD4 and NS were older, between 18-62 years.14,15,16,17,18,19,20,21,22,23 Of these studies reporting negative findings, 60% employed subjects who were over the age of 35 years.17,18,19,20,22,23 It appears that negative results may have been obtained because NS levels were lower in these people because they were older.
Secondly, failure to find an association with DRD4 and NS may be due to the lack of uniformity employed when measuring the personality trait. Scales with high retest reliability and valid for use with a variety of populations and cultures should be used for this research.1 The TPQ Novelty Seeking scale and the ZKPQ Sensation Seeking Scale are suitable and moderately correlated allowing results to be generalized across different studies.3 Failure to find associations with DRD4 and personality traits may be due to authors using different personality scales to measure NS.
Another factor that may be pertinent to the association is ethnicity. So far, studies have used Israeli, Japanese, American, Swedish, Finnish and German populations. The association may be dependent upon ethnicity as genetic variants vary across different ethnic groups. It is possible that the relationship between DRD4 and NS is real, but only in some populations and not others.
Gender is another variable to be considered in light of these conflicting findings. Mixed gender groups of sufficient size should be used for this research. For example, the Japanese replication study observing an association was restricted to women.7 Whereas the Finnish study which did not observe a significant association with DRD4 and NS only included men.14 This controversy may have been due to different gender groups being used in each study.
While the search for a true association with DRD4 and NS continues, the search for genes associated with substance abuse is taking the same theme. Similar conflicting findings are also reported in substance abuse with half of the studies reporting a significant association with the DRD4 gene variant25,26,27,28,29,30 whilst the other half have failed to replicate this association.31,32,33,34,35,36,37,38
The pattern that is emerging is that significant associations between DRD4 and substance abuse are found amongst samples of drug abusers (heroin and nicotine dependence)26,27,29 and non-significant results are yielded from samples of alcohol abusers.31,32,34,35,36,37,38 One study did find a significant association with DRD4 and alcohol abuse but this was only observed in alcohol abusers who were distinguished by the ALDH2 polymorphism.28ALDH22 (as opposed to ALDH21) is an allele whose presence causes a flushing reaction following alcohol ingestion which therefore acts protectively to lower the incidence of alcoholism in people with this genotype.
Furthermore, diagnosing substance abuse may be another important factor that may influence the results obtained from these association studies. If substance abuse or dependence status is not clearly defined amongst the sample or controls then associations between variables may not be found due to the substance abuse group being too similar to the control group. This issue gives rise to the continuation of the saga with the association between DRD4, substance abuse and NS. A recent study3 measured severity of dependence and failed to support previous findings of a significant association with DRD4 and substance abuse. However, results did suggest that possession of the long-repeat genotype at the DRD4 receptor makes an individual more susceptible to severe dependence upon a substance. This study indicated that substance-dependent subjects who possess the long-repeat genotype rate their severity of dependence significantly higher than those with the short-repeat genotype. It was concluded from this study that the variant at DRD4 does not increase susceptibility to dependence per se, but that the variant may partially determine severity of dependence.3 The lack of association previously reported might have occurred because dependence severity was not analyzed in association with genotype.
To highlight the importance of dependence severity in association studies another study has since reported an association between pathological gambling and the Monamine Oxidase gene (MAOA) polymorphism.39 The study found no significant differences between pathological gamblers and healthy controls in overall allele distribution at the MAOA gene but when severity of gambling was considered they did find a significant association between allele distribution in a subgroup of severe gamblers.
By reviewing this recent research, it can be concluded that there may be an association with DRD4 and NS amongst severe drug-dependent populations. Therefore, the DRD4 gene may not predispose individuals to addiction per se, but having the genetic variant may predispose substance abusers to a severe dependency. Therefore, does the saga continue for the DRD4 gene and its association with NS and substance abuse? As with all sagas we shall have to wait for further developments. Resolution of the saga will depend on methodologically stringent studies. Furthermore, studies may need to account for severity of dependence, another variable that may be important to this association before we can witness the outcome of this saga.
সূত্র;-# ড. হুমায়ুন আজাদ ,আমার অবিশ্বাস,
*  Gordon Stein;- An ANTHOLOGY OF  ATHEISM and RATIONALISM,
     ** Jaime E, Settle, Christopher T, Dawes, Nicholas A Christakis, James H , Fowler;-
        Friendships Moderate an Association between a Dopamine Gene Variant and
         Political Ideology, The Journal of Politics, 2010; 72  (04) : 1189  এবং
        মূল সূত্র;- অভিজিৎ রায় ও বায়হান আবির এর লিখিত গ্রন্থ-
                   অবিশ্বাসের দর্শন,

Wednesday, September 6, 2017

জ্বীন ও প্যারানর্মাল কি একই বিষয় ?

আমাদের চারপাশে এমন অনেক জিনিষ আছে যাদের অস্তিত্ব আছে কিন্তু অনুভব করা যায় না . তাদেরকে কেউ জীন বলে আবার কেউ তাদের ভুত বলে আখ্যায়িত করে . আর এই সব ঘটনাকে বলে থাকে প্যারানর্মাল ঘটনা .
আমাদের চারপাশে বস্তু থাকলেই যে আমরা তাদের অস্তিত্ব অনুভব করতে পারবো তা কিন্তু নয় . যে সব জিনিষের অস্তিত্ব আছে কিন্তু অনুভব করা যায় না তাই হলো জিন  . কিছু কিছু সময় তারা তাদের অস্তিত্ব প্রমান এর জন্য আমাদের সাথে অনেক অস্বাভাবিক আচরণ করে থাকে . যাতে আমরা বুঝতে পারি তাদের অস্তিত্ব কে .
অনেকে তাদের অনেক ভাবে নিয়ে থাকে ও অনেক নাম ডেকে থাকে , যেমন কেউ তাদের স্রেফ মনের ভুল বলে উড়িয়ে দেন আবার কেউ তাদের ভুত বলে আখ্যায়িত করে অনেক ধরণের রং লাগিয়ে প্যারানর্মাল ঘটনা বলে চালিয়ে দেন .আর ধর্ম বিশ্বাস থেকে ধরলে তাদের কে বলা হয়ে থাকে জ্বীন  .
আল্লাহ তালা কোরআন শরীফে বলে দিয়েছেন
“আমি তো মানুষ সৃষ্টি করিয়াছি ছাঁচে-ঢালা শুষ্ক ঠনঠনে মৃত্তিকা হইতে। এবং ইহার পূর্বে সৃষ্টি করিয়াছি জ্বীন অত্যুষ্ণ বায়ুর উত্তাপ হইতে।” [সূরা আল্-হিজর ১৫:২৬,২৭]
তাহলে বোঝা যাচ্ছে জিন এর অস্তিত্ব সত্য . আর জিন কিসের তৈরী তা প্রমান করার জন্য নিয়ে আয়াত যথেষ্ট
”সে বললঃ আমি তার চেয়ে উত্তম আপনি আমাকে আগুনের দ্বারা সৃষ্টি করেছেন, আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটির দ্বারা।” [ সূরা সাদ ৩৮:৭৬ ]
তার মানে জ্বীন আগুনের তৈরী . আর মানুষ মাটির তৈরী . মানুষ মাটির তৈরী হবার কারণে মাটির সাথে বায়ু , পানি ও অগ্নির সংমৃশ্ৰণ রয়েছে যার দরুন মানুষ সহজে পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে . আর জ্বীন আগুনের তৈরী হবার কারণে তারা বৃষ্টির দিনে বাহিরে বের হতে পারে না . পানি ও বজ্রপাতের জন্য , পানি ও বজ্রপাতের আলো জ্বীনদের খুব ক্ষতি করে থাকে . এই খানে আরেকটা জিনিষ প্রমান করা যায় জ্বীনদের শরীরে আগুনের সাথে কিছুটা জলীয় দ্রবনের সংমিশ্রন আছে . এর স্বপক্ষে যুক্তি হলো: রসুল (স.) একদা উল্লেখ করেছিলেন যে, শয়তান বলে একটি জ্বীন একদা নামাজের সময় তাঁর সাথে মোকাবিলা করতে এলে তিনি ঐ জ্বীনকে গলা টিপে ধরলে, সেইক্ষণে জ্বিনের থুথুতে শীতলতা অনুভব করেছিলেন।[সুরা সাদ ৩৮:৩৫] এতে প্রতীয়মান হয় যে, জিন যদি পুরোপুরি দাহ্য হতো, তাহলে ঠাণ্ডা থুথুর থাকার কথা নয়।
জ্বীনদের বয়স নিয়ে অনেক মত পার্থক আছে . সবচে বেশি যেটা শোনা যায় তা হল একজন জ্বীন এর প্রাপ্ত বয়স্ক হতে সময় নেন ৩০০ বছর . এইটা থেকে বুঝা যায় তারা দীর্গ সময় বেঁচে থাকে .. তাদের মধ্যে ও যৌন প্রক্রিয়ার মাধম্যে বংশ বৃদ্ধি হয়ে থাকে . অনেকে আবার মেয়ে জ্বীনদের পরী নাম ডেকে থাকে . আসলে আমরা রূপকথার যেই পরীকে চিন্তা করি বাস্তবিক অর্থে পরী ঐরকম নয় . তারা বিশাল দেখার অধিকারী এবং যেকোনো রূপ ধারণ করতে সক্ষম .
মূলত জ্বীনদের চলাচলের উপর ভাগ করে এদের কে তিন ভাগে ভাগ করা যায়
এক রকম যারা সারাক্ষণ আকাশে উড়ে,
অন্য আর এক রকম যারা সাপ এবং কুকুর হিসাবে বিদ্যমান এবং পৃথিবীর উপর বসবাসকারী
আর এক রকম যারা একস্থানে বাস করে অথবা উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ায়।”
দ্বিতীয় লাইনের কথা থেকে বুঝা যায় তারা যেকোনো রূপ ধারণ করতে পারে . মানে তারা কখনো কখনো মানুষ এর রূপ ধারণ করে মানুষ এর সাথে চলাচল করে আবার কখনো কখন কুকুর বা সাপ এর রূপ ধারণ করে পৃথিবীতে অবস্থান করেন . এক রেওয়াতে আছে জ্বীন যখন যাই রূপ ধারণ করে তখন তার মধ্যে ঠিক সেই রূপ পরিমান শক্তি আসে . মানে জ্বীন যদি মানুষ এর রূপ ধারণ করে তাহলে তার মধ্যে মানুষের শক্তি বিদ্যমান থাকবে .আর যদি সে সাপ এর রূপ ধারণ করে তাহলে সাপ এর শক্তি থাকবে , তাছাড়া উপরের আয়াত থেকে বুঝা যায় তাদের থেকে মানুষ কে বেশি শক্তি শালী করে বানিয়েছে .
তাহলে প্রশ্ন জগতে পারে তারা আমাদের কি ভাবে ক্ষতি করে যদি তারা আমাদের থেকে দুর্বল হয় ?
তারা আমাদের ক্ষতি বেশি করে ভয় দেখিয়ে . ভয় এমন একটা বেপার , যখন আমরা ভয় পাই তখন আমাদের হিতাহিত বুদ্ধি হারিয়ে ফেলি আর সেই সুযোগটা নিয়ে জিন রা আমাদের ক্ষতি করে থাকে .এদের ক্ষতি করার উদ্দেশ দুইটা কারণে হয়ে থাকে . আপনি যদি না জেনে তাদের ক্ষতি করে থাকে তাহলে তারা আপনার ক্ষতি করার চেষ্টা করবে , আরেকটা কারণ হলো তাদের মধ্যে কিছু দুষ্ট প্রকৃতির আছে তাদের কাজ ই হল অন্যের ক্ষতি করা .
তাহলে প্যারানর্মাল আর জিনের ঘটনা কি এক ?
আমাদের প্রথমে বুঝতে হবে প্যারানর্মাল বিষয়টা কি ? প্যারানর্মাল বিষয় মুলুত মানুষ তখনি ব্যবহার করে যখন তার সাথে অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটে , আর আমাদের সমাজে মানুষ মূলত প্যারানর্মাল ঘটনা বলতে ভুত প্রেতের কথা বুঝে থাকে . মানুষ কিছু একটা ঘটলে তারা ধরে নেয় এইটা ভুত এর কাজ . আসলে ভুত বলতে কিছুই নেই . এইটা যেমন সত্য ঠিক জ্বীন দ্বারা মানুষ আক্রমণ হয় সেটাও সত্য . যখন সে জ্বীন দ্বারা আক্রমণ হয় তখন সেই ঘটনাটাই মূলত প্যারানরমাল ঘটনা .

জ্বীন-পরীর গাঁজাখোরি গল্প এবং ধর্ম ও বিজ্ঞান-

ঐশী ধর্মের মূল উৎস এবং মূল বক্তব্য এক ও অভিন্ন। মহান আল্লাহতায়ালা প্রথম মানব এবং নবী হযরত আদম (আঃ) থেকে শুরু করে সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) পর্যন্ত অসংখ্য নবী ও রসূল প্রেরণ করেছেন। তাঁদের মাধ্যমে আল্লাহপাক তাঁর আদেশ নির্দেশ সম্বলিত ঐশীবাণী নির্দিষ্ট সময় অন্তর প্রতিটি মানব জাতির কাছে পৌছে দিয়েছেন। কালের প্রবাহে পারিপার্শ্বিক পরিবেশ ও পরিস্থিতির পরিবর্তন যেমন ঘটেছে তেমনি মানবিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষতা সাধনও ঘটেছে। এরই সাথে সামঞ্জস্য রেখে “একই ধর্ম ইসলামের” বিধানের মূল-বক্তব্যকে অপরিবর্তীত রেখে মহান স্রষ্টা সময়ের চাহিদা অনুসারে নব নব তথ্য ও তত্ত্বের অবতারনার মাধ্যমে পরিবর্ধিত আকারে বার বার মানুষের সামনে পেশ করেছেন, যেন এর মাধ্যমে তাঁরই প্রিয়তম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি সত্য ও সুন্দরের পথ চিনে নিয়ে সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারে। কিন্তু সর্বকালেই একরোখা মনোভাবাপন্ন একদল অহংকারী ও স্বেচ্ছাচারী ঐশীবাণীগুলোকে অহংকার বশতঃ সরাসরি অস্বীকার করেই ক্ষান্ত হয়নি; বরং বিকৃত করার অপপ্রয়াস চালিয়ে আসছে। অপরদিকে তেমনি কিছু সংখ্যক সুযোগসন্ধানী মানুষ কতিপয় গাঁজাখুরী গল্পের আড়ালে কুসংস্কারে আচ্ছন্ন করে ধর্মের প্রকৃত সৌন্দর্য ও আদর্শ কালিমালিপ্ত করেছে এবং কৌশলে ধর্মকে তাদের স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার বনিয়ে নিয়েছে। কিন্তু তাই বলে তো বিবেকবান জ্ঞানিগণ মানব জাতির কল্যাণ সাধনে খাঁটি ধর্মের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করতে পারে না। বর্তমানে বিশ্বের সর্বত্র সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও গভীরভাবে চিন্তা করলে খুব সহজেই অনুধাবন করা যায় যে, এ ধরণীতে বৈচিত্রময় চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অসংখ্য মানব গোষ্ঠীকে শান্তি ও শৃঙ্খলা দানের জন্য কুসংস্কার-মুক্ত জ্ঞান ও ঐশী অনুশাসনের অবশ্যই প্রয়োজন রয়েছে।

বিশ্ব-স্রষ্টার একত্বে বিশ্বাসী প্রকৃত মুনি, ঋষি, পীর ও আওলিয়াগণের সবাই ছিলেন মহান ব্যক্তিত্বের অধিকারী সত্য-সাধক। মানবীয় গুণাবলী বিকাশের লক্ষ্যে তাঁদের অবদান সত্যিই অনস্বীকার্য। কিন্তু কতিপয় ছদ্মবেশী ও শিষ্য নামধারী ভন্ডের দল তাঁদের অবর্তমানে তাঁদের পবিত্র কর্মস্থলকে ঘিরে তিলকে তাল বানিয়ে আজগুবি কেচ্ছা-কাহিনী ও ধর্মহীন কার্যকলাপের মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ সরল মানুষদেরকে ধোঁকা দিয়ে ফায়দা লুটছে। এসব গুজব ও ধর্মহীন কর্মকান্ড সত্যিকার অর্থে ধর্ম যেমন সমর্থন করে না, তেমনি বিজ্ঞানের দিক থেকেও সেগুলো মোটেও সমর্থনযোগ্য নয়। তথাপি কতিপয় স্বার্থান্বেষী জ্ঞানপাপী ধর্মকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এসব অতিরঞ্জিত বিষয়গুলোকে পুঁজি বানিয়ে ধর্মের নামে চালিয়ে দিয়ে সেগুলোকে আবার বিজ্ঞানের দোহাই দিয়ে মিথ্যা প্রমাণ করতে ব্যস্ত থাকে। গ্রামে-গঞ্জে কিছু সুযোগ সন্ধানী ছদ্মবেশী লোক জ্বীন-পরী ইত্যাদি বিষয়গুলোকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে গাঁজাখুড়ি গল্প বানিয়ে মানুষকে ধোঁকা দিয়ে ফায়দা লুটছে। এসব বানানো গল্পের প্রায় পুরোটাই ভিত্তিহীন ও ছলনাপূর্ণ। আল-কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন-

আল-কোরআন (Al-Quran)-
সূরা হিজর-আয়াত নং- ২৬ ও ২৭
(১৫ : ২৬) অর্থ- আমি তো ছাঁচে-ঢালা শুষ্ক ঠন্‌ঠনে মৃত্তিকা হতে মানুষ সৃষ্টি করেছি,
(১৫ : ২৭) অর্থ- এবং এর পূর্বে অত্যুষ্ণ বায়ুর উত্তাপ হতে জ্বীন সৃষ্টি করেছি।

সূরা রাহমান-আয়াত নং-১৫
(৫৫ : ১৫) অর্থ- এবং জ্বীনকে তিনি সৃষ্টি করেছেন নির্ধূম অগ্নিশিখা হতে।
সূরা যারিয়াহ -আয়াত নং- ৫৬
(৫১ : ৫৬) অর্থ- আমার দাসত্বের জন্যই আমি মানুষ ও জ্বীনকে সৃষ্টি করেছি।
সূরা সাফ্‌ফাত-আয়াত নং (১৫৮ - ১৬৩)
(৩৭ : ১৫৮) অর্থ- ওরা আল্লাহ্‌ ও জ্বীন জাতির মধ্যে জৈবিক সম্পর্ক সৃষ্টি করেছে, অথচ জ্বীনেরা জানে তাদেরকেও শাস্তির জন্য উপস্থিত করা হবে।
(৩৭ : ১৫৯) অর্থ- ওরা যা বলে তা হতে আল্লাহ্‌ পবিত্র, মহান।
(৩৭ : ১৬০) অর্থ- তবে, যারা আল্লাহতায়ালার নিষ্ঠাবান বান্দা তারা আলাদা,
(৩৭ : ১৬১) অর্থ- তোমরা ও তোমরা যাদের উপাসনা কর তারা -
(৩৭ : ১৬২) অর্থ- (সবাই মিলে আল্লাহ্‌ সম্পর্কে ) তাদের (নিষ্ঠাবান বান্দাদেরকে)
বিভ্রান্ত করতে পারবে না।
(৩৭ : ১৬৩) অর্থ- কেবল তাদেরকে বিভ্রান্ত করতে পারবে যারা জাহান্নামী।
সূরা জ্বীন-আয়াত নং (৭ - ১৫)
(৭২ : ০৭) অর্থ- তারা (জ্বীনেরা) মনে করতো- যেমনি মনে করতে তোমরা (মানুষেরা)- যে, মৃত্যুর পর আল্লাহ্‌ কাকেও পুনরুত্থিত করবেন না।’
(৭২ : ০৮) অর্থ- এবং ওরা পরস্পর বলাবলি করছিল যে, আমরা চেয়েছিলাম আকাশের তথ্য সংগ্রহ করতে কিন্তু আমরা দেখতে পেলাম কঠোর প্রহরী ও উল্কাপিন্ড দ্বারা আকাশ পরিপূর্ণ।
(৭২ : ০৯) অর্থ- পূর্বে আমরা আকাশের বিভিন্ন ঘাঁটিতে সংবাদ শোনার জন্য বসে থাকতাম কিন্থু এখন কেউ সংবাদ শুনতে চাইলে সে তার ওপর নিক্ষেপের জন্য প্রস্তুত জ্বলন্ত উল্কাপিন্ডের সম্মুখীন হয়।
(৭২ : ১০) অর্থ- জগতের প্রতিপালক জগদ্বাসীর অমঙ্গল চান, নাকি তাদের সঠিক পথ দেখাতে চান - সে বিষয়ে আমরা কোন জ্ঞান রাখি না।
(
৭২ : ১১) অর্থ- এবং আমাদের কতক সৎকর্মপরায়ণ এবং কতক এর বিপরীত, আমরা ছিলাম বিভিন্ন পথের অনুসারী;
(৭২ : ১২) অর্থ- এখন আমরা বুঝেছি যে, আমরা আল্লাহ্‌-কে পরাভূত করতে পারব না এবং পৃথিবী থেকে পলায়ন করে তাঁর ক্ষমতাকে ব্যর্থও করতে পারব না।
(৭২ : ১৩) অর্থ- আমরা যখন হেদায়েতের বাণী (কোরআন) শুনলাম, তাতে বিশ্বাস স্থাপন করলাম। যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে তার নিজের পাওনা কম পাওয়ার আশংকা থাকে না, (পরকালেও) তাকে লাঞ্ছনা পেতে হবে না।
(৭২ : ১৪) অর্থ- আমাদের কিছু আত্মসমর্পণকারী এবং কিছু সীমালংঘনকারী; যারা আত্মসমর্পণ করে তারা সুচিন্তিতভাবে সত্যপথ বেছে নেয়।
(৭২ : ১৫) অর্থ- কিন্তু যারা সত্যবিমুখ তারা অবশ্য জাহান্নামেরই ইন্ধন।

সুতরাং পবিত্র কোরআনের এই বানীগুলো থেকে আমরা বুঝে নিতে পারি যে, আল্লাহতায়ালা মানুষ সৃষ্টির পূর্বে জ্বীন-জাতিকে অত্যুষ্ণ বায়ুর উত্তাপ তথা নির্ধূম অগ্নিশিখা হতে সৃষ্টি করেছেন। যদিও এ ধরণের কোন সৃষ্টিকে অবলোকন করার মতো কোন যন্ত্র বিজ্ঞান এখনও আবিষ্কার করতে পারেনি। কিন্তু তাই বলে তা সরাসরি অস্বীকারও করেনি। কারণ এ মহাবিশ্বে এমন অনেক সৃষ্টি রয়েছে যা এখনও পর্যন্ত বিজ্ঞানের ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছে। গতিবিধি অনুমান করা গেলেও এদের সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। যেমন কয়েক যুগ পূর্বেও মানুষ রোগ-জীবাণু যেমন-ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ইত্যাদির অস্তিত্ব ও মানবদেহে এদের প্রভাব বিস্তার সম্পর্কে সন্দিহান ছিল। কিন্তু বর্তমানে বিজ্ঞানের অবদান অণুবিক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কারের ফলে এদের অস্তিত্ব ও কর্মকান্ড সম্পর্কে আমরা আজ সন্দেহ-মুক্ত। তবে আল্লাহতায়ালা সৃষ্টিগতভাবে জ্বীনদেরকে এমন কিছু বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী করেছেন যে তারা এর সহায়তায় প্রথম আসমানের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে গিয়ে তথ্য ও সংবাদ সংগ্রহের চেষ্টা চালানোর যোগ্যতা রাখে। আর এ কারণেই হয়ত মানুষদের মধ্যে কেউ কেউ তাদের উপাসনা করে। কিন্তু প্রকৃত অর্থে এইসব উদ্ধত জ্বীন ও বিভ্রান্ত মানুষেরা বিপথগামী ও জাহান্নামী। কারণ তারা বিভ্রান্তকর সংবাদ শুনিয়ে অন্যকে ধোঁকা দিতে চায়।

আমরা ‘হিপনোটিস্‌ম’-এর কথা সবাই কম-বেশী জানি। যা বড় বড় যাদুকররা প্রয়োগ করে থাকে এবং কিছু সময়ের জন্য হলেও মানুষকে বিমোহিত করে ভেলকিবাজির খেলা দেখিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে সম্ভবত সাধনার দ্বারা এমন কোন মাধ্যম বা শক্তিকে আয়ত্বে আনা হয়, যার সহায়তায় সাধারন মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের উপর কিছু সময়ের জন্য হলেও প্রভাব বিস্তার করা সম্ভব হয়। ইদানিং চিকিৎসাক্ষেত্রেও এটি প্রয়োগের চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে বেদনা নাশক হিসেবে এবং যন্ত্রনাদায়ক রোগের প্রকোপ দমনে এর সফল প্রয়োগ হতে দেখা গেছে এবং এ নিয়ে যথেষ্ট গবেষণা চলছে। তবে ঠিক কি উপায়ে এবং কোন ধরণের শক্তিকে এতে কাজে লাগানো হচ্ছে তার সঠিক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা এখনও পাওয়া যায়নি। তেমনি মানুষ সাধনার মাধ্যমে অথবা জন্মগতভাবে এমন কোন শক্তির অধিকারী হতে পারে, যার সহায়তায় সেই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ব্যক্তিটি অতীতের তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে হয়তবা ভবিষ্যতের কিছু কিছু কথা বলে দিতে পারে। তবে এক্ষেত্রে অধিকাংশই ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে। তাই ধর্মীয়ভাবে এসব ভবিষ্যৎ বাণীতে বিশ্বাস স্থাপন করা নিষেধ এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোন থেকেও যুক্তিসঙ্গত নয়। কারণ এসব ক্ষেত্রে সাধারনত প্রতারণার উদ্দেশ্যই প্রবল থাকে। আল-কোরআনে আল্লাহতায়ালা যাদুবিদ্যা শিক্ষাকরা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন এবং যাদুর অনিষ্ট ও দুষ্ট-জ্বিনের প্রভাব থেকে বেঁচে থাকবার জন্য সবসময় স্রষ্টা মহান আল্লাহকে স্মরণ করতে ও তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করতে বলেছেন। সূরা বাকারা:-এর ১০২ নং আয়াত ও সূরা আল ফালাক্ক ও সূরা আন্‌ নাস থেকে আমরা তা সহজেই বুঝে নিতে পারি।

আল-কোরআন (Al-Quran)-
সূরা বাকারা-আয়াত নং-১০২
(০২ : ১০২) অর্থ- ( আল্লাহতায়ালার প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করেই এরা ক্ষান্ত হয়নি ) এমন কিছু জিনিসও (যাদুমন্ত্র) এরা অনুসরণ করতে শুরু করলো, যা শয়তান কর্তৃক সোলায়মান (নবী)- এর রাজত্বের সময় (সমাজে) চালু করা হয়েছিল, (সত্যি কথা হচ্ছে) সোলায়মান কখনো (আল্লাহবিরোধী কাজে যাদুকে ব্যবহার কোরে) আল্লাহকে অস্বীকার করেনি, আল্লাহকে তো অস্বীকার করেছে সে সব অভিসপ্ত শয়তান, যারা মানুষকে যাদুমন্ত্র শিক্ষা দিয়েছে; (যাদুপাগল কিছু মানুষকে পরীক্ষার উদ্দেশে) আল্লাহতায়ালা হারূত ও মারূত (নামে) ফেরেশতাদ্বয়কে ব্যাবিলনে পাঠিয়েছিলেন, সেই দুজন ফেরেশতা যখনই (কাউকে) এ বিষয়ে (যাদু) শিক্ষা দিতো, (প্রথমেই) তারা এ কথাটা তাদের জানিয়ে দিতো, “আমরা তো হচ্ছি (আল্লাহর) পরীক্ষামাত্র”, সুতরাং (এ বিদ্যার কারণে কোন অবস্থাতেই) তুমি আল্লাহতায়ালাকে অস্বীকার করো না, (তা সত্ত্বেও) তারা তাদের কাছ থেকে এমন কিছু বিদ্যা শিখে নিয়েছিলো, যা দিয়ে তারা স্বামী- স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করতো, (যদিও) আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কোনো দিনই কেউ কারো সামান্যতম ক্ষতিও সাধন করতে পারবে না; (মূলত) যা এরা শিখে তাতে তাদের ক্ষতিই হয় এবং (বাস্তবে) তা কোনো উপকারে আসে না; তারা যদি জানতো (যে, (শ্রম ও অর্থ দিয়ে) যা তারা কিনে নিয়েছে পরকালে তার কোনো মূল্য নেই; তারা নিজেদের জীবনের বিনিময়ে যা ক্রয় করেছে তা সত্যিই নিকৃষ্ট; (কতো ভালো হতো) যদি তারা কথাটা জানতো!
সূরা আল ফালাক-আয়াত নং-(১ - ৫)
০১. বল, আমি আশ্রয় চাই ঊষার স্রষ্টার কাছে, ০২. সৃষ্ট (জগতের) বস্তুনিচয়ের সকল প্রকার অনিষ্ট থেকে ০৩. এবং রাতের অনিষ্ট হতে - যখন তা গভীর অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়, ০৪. এবং গ্রন্থিতে ফুঁক দিয়ে যারা (যে সকল যাদুটোনাকারিণী) যাদু করে তাদের অনিষ্ট থেকে, ০৫. এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে, যখন সে হিংসা করে।

সূরা আন্‌ নাস্-আয়াত নং-(১ - ৬)
০১. বল, আমি আশ্রয় চাই মানুষের স্রষ্টার কাছে, ০২. মানুষের (প্রকৃত) বাদশার কাছে, ০৩. মানুষের একমাত্র উপাস্যের কাছে, ০৪. কুমন্ত্রণাকারীর অনিষ্ট হতে, যে সুযোগ মত কুমন্ত্রণা দিয়ে সরে পড়ে, ০৫. যে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়, ০৬. জ্বিনদের মধ্য হতে এবং মানুষদের মধ্য হতে।

সব সময় একথা স্মরণ রাখা দরকার যে, সসীম কখনও অসীমকে ছুঁতে বা চর্মচক্ষুতে দেখতেও পারে না। মানুষ যত শক্তিই অর্জন করুক না কেন তা আল্লাহর অসীম শক্তির মোকাবেলায় অতি নগণ্য। কারণ সমস্ত শক্তির আধার ও উৎস একমাত্র ‘আল্লাহ্‌’। তাঁরই প্রদত্ত এ শক্তির ব্যবহার কেউ সুপথে করে (যেমন- নবী-রাসূল, পীর, আওলীয়া, দরবেশ ইত্যাদি আল্লাহর প্রিয় বান্দাগণ) আবার কেউ করে বিপথে (যেমন শয়তানের পূজারী, যাদুকর, জিনের অনুসারী ইত্যাদি বিপথগামী মানুষ)। সবই আল্লাহর পরীক্ষা মাত্র। তাই প্রতিটি ক্ষেত্রে ধর্মহীন অবাঞ্চিত কুসংস্কার ও মনগড়া মিথ্যে মতবাদগুলো চিহ্নিত করে খাঁটি ধর্মের প্রচার, প্রসার ও পালনের জন্য স্বচেষ্ট হতে হবে। ইসলামের শাশ্বত বিধিবিধান সম্পর্কে সর্ব সাধারনের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে না পারলে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মতভেদ, দলাদলি, খুন, সন্ত্রাস, জুলুম, পাপাচার, ধর্মান্ধতা, সামপ্রদায়িকতা সর্বপরি সকল প্রকার অশান্তি ও অন্ধকারের হাত থেকে মুক্তি পাবার আর কোন বিকল্প নেই। ধর্মের নামে লোকদেখানো অন্তঃসারশুন্য ভন্ডামী পরিত্যাগ করে ধর্মীয় রীতিনীতি ও আদর্শের যথাযথ প্রতিফলন ঘটাতে হবে। ফতোয়ার পবিত্রতা রক্ষার্থে মিথ্যাচার, অহেতুক বারাবারি ও স্বার্থবাদী মনোভাব ত্যাগ করে সময়োচিত সুচিন্তিত বক্তব্য পেশ করতে হবে। নামাজ, রোজা, হজ, যাকাত ইত্যাদি অবশ্য পালনিয় ইবাদতের পাশাপাশি জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষ তথা গোটা সৃষ্টিকুলের কল্যাণে এগিয়ে আসতে হবে। আর তাহলেই এই সুন্দর পৃথিবীতে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শান্তিময় বাসযোগ্য পরিবেশ রচিত হতে পারে।  

মোল্লা VS নাস্তিক

সৌজন্যে- গোলাম তারেক হাসান তমাল।
(মোহাম্মদপুরের কোন এক চায়ের দোকানে কিছু তরুণ বসে আলোচনা করছে)
১ম তরুণঃ তাহলে বুঝছ তো? আল্লাহ যদি থাকতই, তাহলে সমাজে কি গরীব থাকতো? ঐ লোকটার কি দোষ যে আল্লাহ তাকে গরীব করে বানাইছে?
(কথাটা কানে যেতেই দাঁড়িয়ে পড়ল মোল্লা। ভাল করে খেয়াল করল তরুণকে। মুখে ফ্রেঞ্চ কাট দাঁড়ি, DON 2 এর শাহরুখ খানের মত ঝুঁটি বাঁধা চুল, চে গুয়েভারার গেঞ্জি গায়ে... যাকে বলা হচ্ছে, সে সাধারণ একজন তরুণ। তাদেরকে ঘিরে বসে আছে আরও কয়েকজন, সবাইকে ভার্সিটি পড়ুয়াই মনে হল... বসল গিয়ে চায়ের দোকানে।)
উৎসুক শ্রোতা পেয়ে ১ম তরুণ আরও কিছু বলতে যাচ্ছিল...
মোল্লাঃ ভাই, আপনার যুক্তিটা তো বুঝলাম না। সমাজে গরীব আছে বলে স্রষ্টা নেই, এটা কেমন কথা হল?
১ম তরুণঃ স্রষ্টা থাকলে তিনি কি আর গরীব লোকদের কষ্ট দেখে চোখ বুজে থাকতেন? অবশ্যই তিনি তার সৃষ্টিকে কষ্ট দিতেন না।
মোল্লাঃ এটা কোন কথাই হলনা। অনেক মানুষের অনেক টাকা পয়সা আছে, তারপরও তারা কষ্টে আছে। খালি গরীব হলেই কষ্ট, এটা ভুল। কষ্ট নাই, এমন কোন মানুষ পাইনি আমার জীবনে। কারো চেহারা নিয়ে কষ্ট, কারো টাক নিয়ে কষ্ট, কারো GF/BF কে না পাওয়া নিয়ে কষ্ট।
(.. উৎসুক শ্রোতারা, আশেপাশের আরও কয়েকজন, যারা এতক্ষণ নাস্তিকতার কথা শুনছিল, কিন্তু পাল্টা যুক্তি দেখাতে না পেরে মনে মনে কষ্ট পাচ্ছিল, সবাই মনোযোগ দিল)
...আপনার লজিকটা ভুল। অনেকটা এইরকম, NOKIA N8, N97 আর 6210 নিজেদের মধ্যে আলাপ করতেছে, “আমাদের মধ্যে যেহেতু বৈচিত্র্য আছে, সেহেতু NOKIA COMPANY বলে কিছু নাই”। এটা কোন কথা হল?
(বিন্দুমাত্র না দমে...)
১ম তরুণঃ কিন্তু আল্লাহ আছে, এই প্রমাণ কেউ করতে পারেনি, এর কোন প্রমাণই নেই, আপনার কাছেও প্রমাণ নেই, খালি অন্ধ বিশ্বাস।
মোল্লাঃ (দৃঢ়ভাবে) জী না, আমার কাছে প্রমাণ আছে। বরং স্রষ্টায় না বিশ্বাস করাটাই অন্ধ বিশ্বাস।
পাশ থেকে কেউ একজন : “ কিভাবে?? Zakir Nayek এর logic দিবেন তো? ওইটা তো Zakir Nayek না, Joker Nayek, ওর logic এর অনেক flaw আছে।’’
মোল্লাঃ আমি জাকির নায়েকের logic দিবনা। বরং আমি আপনাকে এমন প্রমাণ দিব যা আমাদের বাস্তবতা (Reality)কে পর্যবেক্ষণ করে নেয়া, যা চূড়ান্তভাবে স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমাণ করবে।
(এবার তারা কিছুটা উৎসাহিত হল)
দুইজন (সমস্বরে): কিভাবে?
মোল্লাঃ দেখেন, আমাদের এই মহাবিশ্বটার যদি শুরু থাকে, তবে এই প্রশ্নটা সামনে চলে আসে যে, তা কিভাবে শুরু হল?
১ম তরুণঃ কিন্তু মহাবিশ্ব তো শুরু নাও হতে পারে, অনন্তকাল ধরেও তো চলে আসতে পারে?
মোল্লাঃ না, মহাবিশ্ব অনন্তকাল ধরে চলে আসতে পারেনা, এর অবশ্যই অবশ্যই শুরু আছে।
১ম তরুণঃ আপনি এত Sure হলেন কিভাবে?
(বাকিরা উৎসাহী নয়নে চেয়ে আছে...)
মোল্লাঃ মনে করেন, আপনি বাসে উঠার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, আপনার সামনে আরও ৫ জন। আপনি কয়জনের পর বাসে উঠবেন?
কেউ একজনঃ ৫ জনের পর।
মোল্লাঃ যদি আপনার সামনে ১০ জন থাকে, তাহলে??
১ম তরুণঃ ১০ জনের পর।
মোল্লাঃ কিন্তু যদি আপনার সামনে অসীম সংখ্যক লোক দাঁড়িয়ে থাকে? তাহলে, কয়জনের পর বাসে উঠবেন?
(ব্যাপারটা হজম করতে সময় লাগল, কেউ কথা বলছেনা)
মোল্লাঃ তারমানে আপনি কোনদিন বাসে উঠতে পারবেন না। কারণ আপনার সামনের লাইন কোনদিনই শেষ হবেনা (যেহেতু অসীম)। সুতরাং আপনার serial কখনই আসবেনা। এখন এই মহাবিশ্ব যদি অনন্তকাল ধরে চলে থাকে, তবে একটা প্রশ্ন করি, পৃথিবীর জন্ম কবে হয়েছে? উত্তর হবে, পৃথিবীর জন্ম এখনও হয়নাই, কখনই হবেনা, কারণ পৃথিবীর জন্ম হওয়ার আগে অসীম সংখ্যক ঘটনা ঘটতে হবে। আর অসীম মানে যার কোনও শেষ নাই, সেই ক্ষেত্রে পৃথিবীকে অনন্তকাল জন্ম হওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে, যেরকম আপনি লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন বাসে উঠার জন্য। আপনার সামনের লাইন কোনদিনও শেষ হবেনা, আপনিও বাসে উঠতে পারবেন না, পৃথিবীর সামনের লাইনও কোনদিন শেষ হবেনা। এখন মনে করি, পৃথিবীর সামনে সূর্য দাঁড়িয়ে আছে, জন্ম হওয়ার অপেক্ষায়, তারও কোনদিন জন্ম হবেনা, কারণ তার সামনের লাইনও তো অসীম! অসীমের সাথে ১ যোগ করলেও অসীম, ১ বিয়োগ করলেও অসীম, তাহলে আগের ঘটনাগুলোই যদি এখনও শেষ না হয়, তাহলে আমি, আপনি , পৃথিবী, সূর্য কোন কিছুরই অস্তিত্ব সম্ভব হতনা। অবশ্যই একটা ঘটনার মাধ্যমে মহাবিশ্বের শুরু হয়েছে, তারপর ১, ২, ৩, ৪, করে করে ঘটনাগুলো ঘটতে আরম্ভ করেছে... এখন আমি আপনি চায়ের দোকানে আলাপ করছি!
মাঝখান থেকে একজনঃ ভাই, আরেকটু বুঝিয়ে বলবেন কি?
মোল্লাঃ কঠিন হয়ে গেল? আচ্ছা, মনে করেন, আপনি শত্রু পক্ষের কাউকে স্নাইপার রাইফেল দিয়ে গুলি করবেন। আপনার উপর ৫ জন BOSS আছে, পর্যায়ক্রমে যাদের অনুমতি পেলে আপনি গুলি করবেন। এখন আপনাকে যদি অসীম সংখ্যক BOSS এর permission নিতে হয়, তাহলে আপনি কখন গুলি করবেন? আপনার permission নেয়াও শেষ হবেনা, গুলিও কোনদিন করতে পারবেন না। আপনার বাসায় যদি অসীম সংখ্যক মালামাল থাকে তাহলে কোনদিনই বাসা change করতে পারবেন না। কারণ মালামাল নামানো কোনদিনই শেষ হবেনা।
(চায়ের দোকানদারকে)... ভাই, এক গ্লাস পানি দাও তো...
তারমানে কোনও একটা ঘটনা যদি ঘটে, বুঝতে হবে যে তার আগে অসীম সংখ্যক ঘটনা ঘটেনি, ঘটেছে সীমিত সংখ্যক ঘটনা, আর সীমিত ঘটনা মানেই, একটা শুরু আছে, তারপর ঘটনা গুলো ঘটতে ঘটতে আজকের এই পর্যায়ে এসেছে। সুতরাং মহাবিশ্বের অবশ্যই শুরু আছে। যেরকম ৫ জনের বা ১০ জনের পর আপনি বাসে উঠতে পারছেন, সেইরকম ৫টা, ১০টা বা ১০০টা ঘটনা ঘটার পর পৃথিবীর জন্ম হয়েছে। এ থেকেই প্রমাণ হয়, মহাবিশ্বের শুরু আছে, এটা অনন্তকাল ধরে চলে আসা কোনও মহাবিশ্ব নয়।
(বিংশ শতাব্দীর শুরুতে গণ্ডমূর্খ নাস্তিক INTELLECTUAL দের, যে যুক্তি, উঠতি তরুণ সমাজের মাঝে নাস্তিকতার হাওয়া যুগিয়েছিল, তার এরকম পতন দেখে হতবাক হয়ে গেল তরুণগুলো)
(একটু নমনীয় সুরে...)
১ম তরুণঃ আপনার কথা ঠিক আছে... (অজানা ভয়ে... আমতা আমতা করে...) কিন্তু এতেও প্রমাণ হয়না যে স্রষ্টা আছে।
মোল্লাঃ এখন অবশ্যম্ভাবী প্রশ্নটা চলেই আসে, তাহলে মহাবিশ্ব কিভাবে শুরু হল, মানে সৃষ্টি হল। সে কি নিজেকে নিজে তৈরি করেছে, অর্থাৎ শুন্য থেকে নিজেই নিজেকে তৈরি করেছে নাকি অন্য কেউ তাকে তৈরি করেছে?
১ম তরুণঃ আপনার যুক্তিটা কি? Stephen Hawkings কিন্তু বলেছেন যে, কোন স্রষ্টা ছাড়াই এই মহাবিশ্ব নিজেকে নিজে তৈরি করেছে।
মোল্লাঃ (তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে...) Grand Design বইটার কথা বলছেন তো? ঐ বইয়ের সমালোচনার জবাবে হকিংস নিজের মুখেই স্বীকার করেছেন যে,
“ স্রষ্টা নেই, এ কথা কেউ প্রমাণ করতে পারবেনা। কিন্তু বিজ্ঞান স্রষ্টাকে অপ্রয়োজনীয় বলে রায় দিয়েছে।’’
সুতরাং, ঐ বই থেকেও প্রমাণ হয়না যে স্রষ্টা নেই। বরং লেখক নিজেই বলছেন যে, স্রষ্টাকে আমাদের দরকার নেই। দরকার নেই, আর স্রষ্টার অস্তিত্ব নেই, দুইটা তো এক জিনিষ না। আর তাছাড়া বইটাতে বোকামিপূর্ণ বক্তব্য দেয়া হয়েছে।
(ব্যাপারটা হজম করতে না পারলেও, এই মোল্লার দৌড় যে শুধু মসজিদ পর্যন্ত না, তা তারা ভালই বুঝতে পেরেছে।)
মোল্লাঃ তা ভাই, আপনার নামটা যেন কি?
১ম তরুণঃ রুম্মান।
মোল্লাঃ চা চলবে ভাই?... এই মামা, চা দাও সবাইকে...
রুম্মানঃ যা বলছিলেন, হকিংস...
মোল্লাঃ ও, হ্যাঁ। উনি বলেছেন যে, Gravityর কারণে এ মহাবিশ্ব নিজেই নিজেকে শূন্য থেকে তৈরি করতে পারে।
রুম্মানঃ তো, এতে সমস্যা কোথায়? Virtual Gravitons এর কারণে এই Gravity তৈরি হয়েছে, যার ফলশ্রুতিতে মহাবিশ্বের সৃষ্টি, শূন্য থেকে।
মোল্লাঃ সমস্যা আছে। Gravity একটা গাণিতিক সমীকরণ। দুইটা বস্তুর মাঝে ভর অনুপাতে আকর্ষণ বুঝাতে এটা ব্যবহৃত হয়। তো মহাবিশ্ব যদি শূন্য থেকেই আসে, তাহলে সেখানে কোন বস্তু ছিলনা, তো Gravity কোত্থেকে আসল সেই সময়? এইখানে আপনি বলছেন যে Virtual Gravitons ছিল, তো সেই প্রশ্ন এসে যায়, এরা কি অনন্তকাল ছিল? অনন্তকাল ধরে থাকতে পারেনা। আর একটা জিনিষ নাই, ছিলনা, আবার সেটা হইল, আবার নাই আবার হইল, এইটাত পুরাই Irrational কথাবার্তা। আপনার সামনে আমি দাঁড়াইয়া আছি, আবার গায়েব হয়ে গেলাম, আবার দাঁড়াইয়া আছি, আবার গায়েব হয়ে গেলাম... Science দেখি সিন্দাবাদের দৈত্যের মত কথা বলছে, Infact তার চেয়েও আজগুবি কথা বলেছে হকিংস। এই কারনেই ব্রিটিশ বিজ্ঞানী বেরনেস গ্রিনফিল্ড হকিংস কে তালিবানদের সাথে তুলনা করে বলেছেন যে, “যা খুশি তারা বলতে পারে, তালিবানদের মত তারা যখন বলে আমাদের কাছে সব প্রশ্নের উত্তর আছে, তখন তা আসলেই অস্বস্তিকর।’’ মানে Comment করতে তো আর পয়সা লাগেনা। Science বুঝেনা এরকম নাস্তিকরাই আসলে হকিংস রে নিয়ে কাউ কাউ করে। Richard Dawkins এইরকম একজন। আমাদের দেশের নাস্তিকগুলাও না বুইঝা ফালাফালি করে। অনেক বিজ্ঞানীই হকিংসের সাথে একমত না।
... আর gravity না হয় gravitons থেকে হইল, যেটার কারণে মহাবিশ্ব হইল, তাহলে gravitons কোত্থেকে হইলো? দ্বিতীয় আরেকটা প্রশ্ন হল, হকিংস শূন্য বলতে যে Quantum vacuum বুঝিয়েছেন, তা কিন্তু আসলেই শূন্য (nothing) না। সেখানে energy বিরাজ করত। এখন, energy আর gravity এই মহাবিশ্বেরই অংশ। হকিংসের কথার সাদামাটা মানে হল, আপনি নিজেকে তৈরি করেছেন শূন্য থেকে, নিজেকে তৈরি করার আগে আপনার হাত আগে থেকেই ছিল (যেটা আপনারই অংশ), তারপর সেই হাত আপনাকে তৈরি করেছে। তো প্রশ্ন হল, হাত কিভাবে ছিল? এটা একটা অবাস্তব কথাবার্তা।
মহাবিশ্বের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত একটা জিনিষ, মহাবিশ্ব তৈরি হওয়ার আগে থেকেই ছিল, এরপর মহাবিশ্বকে তৈরি করে সে নিজেই মহাবিশ্বের পেটের ভেতর ঢুকে পড়েছে, How Funny??? Seems like fairy tales!! অর্থাৎ আপনি আগে থেকেই ছিলেন, এরপর আপনার মাকে আপনি বানাইছেন, বানাইয়া তার পেটের ভেতর ঢুকে বসে আছেন, আর মায়ের কাছ থেকে পুষ্টি নিয়ে বেঁচে আছেন। LOL, মজা পাইলাম।
(পুরা দোকান মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনে যাচ্ছে, কেউ বুঝতেছে, কেউ বুঝতেছেনা, তবে সাধারণ জনগণ চাচ্ছে মোল্লাই জিতুক। চায়ে চুমুক দিয়ে...)
এর চেয়ে অবাস্তব কথা আর কি হতে পারে? এ থেকেই বুঝা যায়, মহাবিশ্ব শূন্য থেকে আপনা আপনি তৈরি হয়েছে, এরকম কোন সত্য প্রমাণ বিজ্ঞানের কাছে আদৌ নেই। এটা শুধু থিওরি হিসেবে হকিংসের কল্পনায় (Fantasy) আছে, যার বাস্তব ভিত্তি নেই। না হলে কি আর হকিংস সাহেব বলতেন, “স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমাণ করা সম্ভব নয়”
এজন্যই আল্লাহ কুরআনে সুরা আত তুরে বলেছেন, “ তারা কি এমনি এমনিই তৈরি হয়েছে, নাকি তারা নিজেরাই নিজেদের স্রষ্টা? না তারা নভোমডল ও ভূমণ্ডল সৃষ্টি করেছে? বরং তারা বিশ্বাস করেনা।’’
রুম্মানঃ (ব্যঙ্গ করে), এ কথা আপনি মহাজ্ঞানী বুঝলেন, আর হকিংস বুঝলনা??
মোল্লাঃ (তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে) হকিংস অজ্ঞানান্ধ (বিজ্ঞানে অন্ধ= অজ্ঞানান্ধ)। একজন রিকশাওয়ালাও তার চেয়ে Rational। এক রিকশাওয়ালাকে জিজ্ঞাস করা হয়েছিলো, “ চাচা, আল্লাহ আছে, এটা বুঝলেন ক্যামনে?” কিছুক্ষণ চুপ থেকে তিনি উত্তর দিলেন,
“ বাবারে, আমি প্যাডেল চাপি, চাক্কা ঘুরে, আর এতবড় দুনিয়া ঘুরতাছে, প্যাডেল তো কেউ একজন মারতাছে...”
হকিংস সাহেবের এই বোধ বুদ্ধিটাও নাই। হাহাহাহাহা, দেখেন না, এখন কমেডি শোতে অভিনয় করা শুরু করেছেন! এদের ব্যাপারেই আল্লাহ কুরআনে সুরা আল আরাফে বলেছেন, “ আর আমি সৃষ্টি করেছি দোজখের জন্য বহু জিন ও মানুষ। তাদের অন্তর রয়েছে, তার দ্বারা বিবেচনা করেনা, তাদের চোখ রয়েছে, তার দ্বারা দেখেনা, তাদের কান রয়েছে, তার দ্বারা শুনেনা। তারা চতুষ্পদ জানোয়ারের মত, বরং তার চেয়েও নিকৃষ্টতর। তারাই হল গাফেল, উদাসীন।’’
২য় তরুণঃ তাহলে কি দাঁড়ালো? মহাবিশ্ব অসীম নয়, এর শুরু আছে। শুরুটা সে নিজে নিজে করেনি। তারমানে অবশ্যই কেউ একজন এই মহাবিশ্বকে শুরুতে সৃষ্টি করেছেন। ... (কিছুক্ষণ ভেবে) কিন্তু একটা সমস্যা তো রয়েই যাচ্ছে। তাহলে ঐ স্রষ্টা আসল কোত্থেকে? উনাকে কে বানাইছে?
★ (মোল্লাকে আটকানো গেছে ভেবে কতগুলো চোখ জ্বলজ্বল করে উঠল। বাকিরা দম বন্ধ করে ফেলল)
(চায়ে ধীরেসুস্থে চুমুক দিল মোল্লা। সবাই উৎসুক চোখে চেয়ে আছে।)
পাশ থেকে একজন খোঁচা মেরে বললঃ এটা তো শয়তানের প্রশ্ন। তুই তো শয়তান হয়ে গেলিরে।
(হাসির রোল উঠল...)
মোল্লাঃ স্রষ্টাকে যদি অন্য কেউ বানায়, তাহলে প্রশ্ন আসে, তাকে কে বানাল? সেই স্রষ্টার স্রষ্টা কে? এইভাবে দ্বিতীয়, তৃতীয় স্রষ্টার স্রষ্টা কে? এবং এভাবে ব্যপারটা আবার অসীম পর্যন্ত চলতে থাকবে। একটু আগেই কিন্তু আমরা প্রমাণ করেছি, কোন অসীম সংখ্যক ঘটনা সম্ভব নয়। তারমানে হোল, এই মহাবিশ্বের যিনি স্রষ্টা, তার কোন স্রষ্টা নেই।
রুম্মানঃ তাহলে তিনি অস্তিত্বে আসলেন কিভাবে? তিনি কি নিজেকে নিজেই বানিয়েছেন ?
মোল্লাঃ তাও সম্ভব নয়। একটা জিনিষ নাই, সে আবার নিজেকে নিজে কিভাবে বানাবে? আর নিজে যদি নিজেকে বানায়, তারমানে, নিজেকে বানানোর আগে তিনি ছিলেন না। নিজেকে যখন বানালেন তখন থেকে তার শুরু, তো কি দিয়ে বানালেন? আর শুরু মানেই তিনি সীমিত। আর তাকে যদি কেউ বানায়, তা নিজেই নিজেকে বানাক আর অন্য কেউ তাকে বানাক, এখানে physical properties চলে আসে। physical properties মানে তিনি নিয়ন্ত্রিত, তার উপর বৈশিষ্ট্য আরোপ করা হয়েছে, তাকে অন্য কারো ইশারায় চলতে হয়, তিনি স্বাধীন না। অথচ স্রষ্টা হতে হলে তাকে হতে হবে নিয়ন্ত্রণমুক্ত, স্বাধীন এবং অনির্ভরশীল। আর মূল কথা হল, একটা জিনিষ নাই, সে আবার নিজেরে কিভাবে, কি দিয়ে বানাবে? শূন্য থেকে আপনা আপনি কিছু হয়না, এটা তো আমরা একটু আগেই আলোচনা করলাম।
রুম্মানঃ তাহলে স্রষ্টা আসল কোথা থেকে?
মোল্লাঃ তিনি অসৃষ্ট। তিনি কোথাও হতে আসেন নাই। তিনি আগে থেকেই ছিলেন, চিরকাল থাকবেন।
(গুঞ্জন উঠল ভিড়ের মধ্যে, “এটা কি হল, বুঝলাম না”... “অসৃষ্ট মানে?”...“তাহলে মহাবিশ্বের অসৃষ্ট হতে সমস্যা কোথায়...?”)
(কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ল মোল্লার।)
মোল্লাঃ আমার বক্তব্যটা একটু গুছিয়ে বলি। মহাবিশ্বকে Study করে আমরা বুঝলাম যে তার একজন স্রষ্টা আছে, তাইনা?
(আশপাশে তাকিয়ে তেমন একটা support পেলনা মোল্লা। দুই একজন হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ল)
মহাবিশ্ব, স্রষ্টা ছাড়া সম্ভব না। এখন এই স্রষ্টাকে, হয়, কেউ তৈরি করেছে, না হয় তিনি নিজেকে নিজে তৈরি করেছেন। এ দুইটা বাদ দিলে মাত্র একটাই Option থাকে। আর তা হল স্রষ্টা অসৃষ্ট। এর বাইরে আর কোন Option নাই। প্রথম দুইটা Point যে ভুল, তা আমি আলোচনা করেছি। আর বাকি একটাই Option থাকে যে, তিনি একজন অসৃষ্ট স্রষ্টা (Uncreated Creator)। তিনি যদি অসৃষ্ট (Uncreated) না হন, তাহলে তিনিও ‘সৃষ্টি’ (Created) হয়ে যান। আমাদের বুঝতে হবে যে, ‘স্রষ্টা’ (Creator) আর ‘সৃষ্টির’ (Created) মধ্যে পার্থক্য আছে। সৃষ্টি মানেই সীমাবদ্ধতা (Limitation), নির্ভরশীলতা (Dependency), দুর্বলতা (weakness)। কিন্তু স্রষ্টা এসকল সীমাবদ্ধতার ঊর্ধে। এজন্যই স্রষ্টাকে সৃষ্টি করা যায়না। তাকে হতে হবে অসৃষ্ট (Uncreated)।
(এতক্ষণে কয়েকজন বুঝল, কিন্তু প্রশ্ন শেষ হয়নি)
রুম্মানঃ মহাবিশ্বের অসৃষ্ট হতে সমস্যা কোথায়? আর স্রষ্টার যে বৈশিষ্ট্য আপনি বলেছেন, তা তো কল্পনায়ও আনতে পারছিনা। পুরোপুরি বোধগম্যও হচ্ছেনা!
মোল্লাঃ মহাবিশ্বের ব্যপারটা তো বললামই, সে সীমিত (Finite), সে অস্তিত্বের জন্য নির্ভরশীল। আর যে অস্তিত্বের জন্য অন্য কারো উপর নির্ভরশীল, সে তো সৃষ্টি (Created)। এজন্যই তো সে অসৃষ্ট (Uncreated) নয়, তার একজন স্রষ্টাকে দরকার, কিন্তু স্রষ্টার অন্য কোন স্রষ্টাকে দরকার নেই। আর স্রষ্টার বৈশিষ্ট্য বোধগম্য হচ্ছেনা, স্বাভাবিক। স্রষ্টার Reality আর আমার আপনার Reality এক না। একটা Unknown Reality কে আপনি Known Realityর সাথে Match করাতে পারবেন না।
২য় তরুনঃ বুঝলাম না।
মোল্লাঃ মনে করেন আপনি কোনদিন আমেরিকার সাদা চামড়ার মানুষ দেখেন নি। এখন কেউ যদি আপনাকে এসে বলে, আমেরিকার মানুষের চামড়া সাদা, তো, আপনি কি বুঝবেন? আপনি বলবেন, দুধের মত সাদা? সে বলবে, না লাল সাদা। আপনি হয়ত বলবেন, দুধের মধ্যে আলতা দিলে যেরকম হয়, সেরকম?
(চায়ে চুমুক দিয়ে মোল্লা দেখল চা ঠাণ্ডা হয়ে গেছে। পাশে রেখে দিল)
মোদ্দা কথা হচ্ছে, একটা অজানা Reality সম্পর্কে যদি আপনাকে এসে বলা হয়, আর আপনি যদি তা Sense করতে না পারেন, তবে কোনদিনই বুঝবেন না ঐ Reality কেমন। ঐ Reality বুঝতে হলে আপনাকে ঐ Reality তে অবস্থান করতে হবে। স্রষ্টার Reality আমাদের বুঝার বাইরের Reality, যা আমরা কখনই বুঝবনা। এজন্যই, হাদিসে, আল্লাহ কেমন, কিভাবে কাজ করেন, কেমনে থাকেন এ বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ একটা অজানা Reality সম্পর্কে চিন্তা করতে গিয়ে আমরা শুধু Fantasy নিয়ে পড়ে থাকব... এ কারনে আমরা মহাবিশ্বকে Study করে স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমাণ করতে পারি, কিন্তু তিনি কেমন, কিভাবে থাকেন, কিভাবে কাজ করেন, তা প্রমাণ করতে পারিনা, এটা আমাদের আয়ত্তের বাইরে।
মাঝখান থেকে একজনঃ ও, সেজন্যই বুঝি স্রষ্টার কোন মূর্তি থাকতে পারেনা! ছবি থাকতে পারেনা? কারণ, তাকে যদি নাই দেখলাম, তার বাস্তবতা যদি নাই বুঝলাম, তাহলে তার মূর্তি বানালে তো তাঁর উপর মিথ্যা আরোপ করা হয়। তাকে তো দেখিইনাই কোনদিন, মূর্তি বানাব কেমনে? মূর্তি তো বানাব আমার কল্পনা দিয়ে, কিন্তু সেটা তো আর স্রষ্টা নয়!
(প্রশংসার দৃষ্টিতে তার দিকে তাকাল মোল্লা, ভাবল, “নাহ, সব নাস্তিক গাধা না।”)
মোল্লাঃ Exactly! আপনি সঠিক Point টাই ধরেছেন। এ কারণেই ইসলাম বলেছে স্রষ্টার সাথে এ মহাবিশ্বের কোন কিছুর তুলনা করা যায়না। তিনি অতুলনীয়। তাই, মূর্তি বানালে স্রষ্টার উপর মিথ্যা আরোপ করা হয়।
(রঙ্গমঞ্চে এবার নতুন একজন আবির্ভূত হলেন।)
তিনি বললেনঃ তার মানে, আপনি বলতে চাচ্ছেন, স্রষ্টা Unlimited এবং Independent?
(মোল্লা ঘুরে তার দিকে তাকাল। মাঝবয়সী ভদ্রলোক, এক কোণায় বসে মনোযোগ দিয়ে কথা শুনছিলেন এতক্ষণ। এঁর কাঁচাপাকা চুলও ঝুঁটি বাঁধা, চওড়া কপাল, ফ্রেঞ্চকাট দাঁড়ি, ফুলরীমের চশমা সেইরকম একটা ভাব এনে দিয়েছে চেহারায়... মোল্লা বুঝল, Tough Guy... মজাটা শুরু হবে এখন...)
মোল্লাঃ জী, স্রষ্টা Unlimited এবং Independent।
(মৃদু হাসলেন ভদ্রলোক)
মাঝবয়সী বাবুঃ আপনি কি Quark এর কথা শুনেছেন? Quark কে কিন্তু আমরা প্রকৃতিতে আলাদাভাবে ... মানে স্বাধীনভাবে বিচরণশীল পাইনা। সুতরাং একে আপনি Limited বলতে পারবেন না। আবার একে নিয়ন্ত্রণও করা যায়না, মানে অন্য কেউ ওর উপর খবরদারি করতে পারেনা, সুতরাং একে Independent বলতে পারেন। তাহলে কি বলতে চাচ্ছেন, Quarkই আপনার আল্লাহ?? (হা হা হা)
মোল্লাঃ আপনার এই কথাটাই Atheist Bangladesh Group এর Admin আমাকে বলেছিল। তখন আমি Quark সম্পর্কে জানতাম না। তাই একটু ধোঁকায় পড়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু পরে দেখি, (হাত দিয়ে মাছি তাড়াবার ভঙ্গি করল মোল্লা)। আপনি নিশ্চয়ই জানেন, Quark কে Laboratory তে তৈরি করা সম্ভব হয়েছে, এর ভর আছে, এর ঘূর্ণন আছে। সুতরাং একে আপনি Independent বলতে পারেন না। আর ধারণা করা হয়, Big Bang এর শুরুতে সেকেন্ডের ভগ্নাংশ সময়ে এরা প্রকৃতিতে বিরাজ করেছিল, সুতরাং ‘Unlimited’ একটা জিনিষ ‘Limited’ মহাবিশ্বে বিরাজ করতে পারেনা। আপনি আমার আলোচনা এতক্ষন শুনে থাকলে বুঝবেন।
মাঝবয়সী বাবুঃ আল্লাহর ও তো বৈশিষ্ট্য আছে, তিনি কি জানি... (মনে করার ভান করলেন) আর রহমান, আর রহিম, বেগারা, বেগারা, তাহলে তাকে Dependent আর Limited বলছেন না কেন?
(ব্যাটার নির্বুদ্ধিতায় বিরক্ত হল মোল্লা, ভাবল, “গাধা কি আর গাছে ধরে?” চেহারায় ফুটে উঠল বিরক্তির ছাপ)
মোল্লাঃ উনি যে রহমান, রহিম এগুলা উনার Personality, এগুলা কোন Physical বৈশিষ্ট্য না। Quark এর বৈশিষ্ট্যগুলা Physical বৈশিষ্ট্য, Personality না। আর ফিজিক্যাল বৈশিষ্ট্য মানেই এগুলো আপনার উপর আরোপ করা হয়েছে, তার মানে আপনি Independent না, আপনি খাঁচার ভেতর অচিন পাখি। আপনার হাত দেড় ফুট লম্বা, এটা Physical বৈশিষ্ট্য, কিন্তু আপনি মানুষের সাথে ভাল আচরণ করেন, এটা আপনার Personality, Physical Property কাউকে Limited করে তোলে কিন্তু Personality কাউকে Limited করেনা।
(একটু যেন দমে গেলেন ভদ্রলোক)
মাঝবয়সী বাবুঃ কিন্তু... সবপারে, অর্থাৎ Omnipotent একজন স্রষ্টার কিন্তু সমস্যা আছে। আত্মবিরোধের সমস্যা।
(মোল্লা বুঝতে পারল অবশ্যম্ভাবী প্রশ্নটা এবার ধেয়েই আসছে...)
মাঝবয়সী বাবুঃ বলেন, আল্লাহ কি এমন কোন পাথর তৈরি করতে পারেন, যেটা উনি ধ্বংস করতে পারেন না? আপনি যদি বলেন, পাথর তৈরি করতে পারে, তাইলে তিনি ধ্বংস করতে পারবেনা, আর যদি বলেন এমন পাথর তৈরি করতে পারেন না, তাইলে তো আর এই স্রষ্টা সবকিছু পারেনা। দুইদিকেই সমস্যা। আত্মবিরোধ, সুতরাং আল্লাহ সবকিছু পারেন না!
(সবগুলা চোখ এখন মোল্লার দিকে)
মোল্লাঃ এটা একটা Logical প্রশ্ন, রাইট?
মাঝবয়সী বাবুঃ (মৃদু হেসে) হ্যাঁ।
মোল্লাঃ Logic সবসময় একটা Premise এর উপর ভর করে চলে। এই প্রশ্নটার Premise হল, “আল্লাহ সবকিছু পারেন”। এই কথাটার উপর ভিত্তি করে প্রশ্নটা করা হয়েছে। আমি আপনার প্রশ্নের জবাব দিব, তার আগে বলেন, আল্লাহ সবকিছু পারে, এটা আপনাকে কে বলেছে?
মাঝবয়সী বাবুঃ তারমানে, আল্লাহ সবকিছু পারেনা?
মোল্লাঃ না, আল্লাহ সবকিছু পারেনা।
(বোম্ব ফাটল যেন। উল্লাসধ্বনি শোনা গেল নাস্তিক শিবির থেকে। এই স্বীকারোক্তিতে মাঝবয়সী বাবুও হতভম্ব হয়ে গেলেন। আস্তিকরা দুরুদুরু বুকে তাকিয়ে আছে মোল্লার দিকে। মোল্লা চুপচাপ, শান্ত।)
মাঝবয়সী বাবুঃ তাহলে আপনার আল্লাহ সবকিছু পারেনা? হাহা (ব্যঙ্গ করে), তাহলে তিনি স্রষ্টা হওয়ার যোগ্যতা হারালেন। এরকম অযোগ্য স্রষ্টার দরকার নেই।
(রুম্মান চুপচাপ, সে নিবিড়ভাবে তাকিয়ে আছে মোল্লার দিকে। বুঝতে পারল, এত সহজে ঘায়েল করা যাবেনা মোল্লাকে)
মোল্লাঃ আল্লাহ সবকিছু পারেন না। তিনি ঘুমাতে পারেন না, খেতে পারেন না, মিথ্যা কথা বলতে পারেন না, অবিচার করতে পারেন না। কারণ এ কাজগুলো যদি তিনি করেন, তবে তিনি আর স্রষ্টা থাকেন না। এ কাজগুলো যদি তিনি পারেন, তবে তিনিও আমাদের মত ঘুম, খাওয়া দাওয়া স্বার্থপরতা এইসবের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন। আর স্রষ্টার পক্ষে এই ধরনের কাজ সাজেনা। সব কিছু যদি উনি পারেন, তাহলে উনার পক্ষে স্রষ্টা হিসেবে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে, আমি আপনি না হয় স্বার্থ হাসিলের জন্য মিথ্যা বলি, ক্লান্ত হলে ঘুমাই, কিন্তু স্রষ্টার মিথ্যা বলার দরকার কি? ঘুমানোর দরকার কি? তিনি এসব দুর্বলতা থেকে মুক্ত বলেই তিনি স্রষ্টা। এই ব্যপারে কুরআনে আয়াতুল কুরসিতে বলা আছে। এইসব কাজ স্রষ্টার বৈশিষ্ট্যের সাথে সাঙ্ঘর্শিক। তিনি এই ধরনের Ungodly কাজ করতে পারেন না। আর আল্লাহ নিজেও কখনও দাবি করেন নি যে, তিনি “সব পারেন” বরং তিনি বলেছেন, “সবকিছুর উপর তিনি ক্ষমতাবান।’’ মানে সবকিছুকে control করার, destroy করার ক্ষমতা তাঁর রয়েছে।
(একটু ইতঃস্তত ভাব যেন দেখা গেলো মাঝবয়সী বাবুর মাঝে, তবে হার মানতে নারাজ তিনি)
মাঝবয়সী বাবুঃ কিন্তু আমার প্রশ্নের সাথে তো আপনার উত্তরের কোন মিলই নাই। আমি কি জিজ্ঞাসা করলাম, আর আপনি কি উত্তর দিলেন?
মোল্লাঃ আমি ভেবেছিলাম, আপনি জ্ঞানী, বুঝে নিবেন। (দুইপাশে হাত ছড়িয়ে) যাই হোক, ঐ যে বলছিলাম, প্রশ্নটার premise ভুল। এই প্রশ্নে ধরা হয়েছে যে, “স্রষ্টা সবকিছু পারে”। এই ভিত্তিতে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, “স্রষ্টা কি এমন কোন পাথর বানাতে পারে যা তিনি ধ্বংস করতে পারেন না?’’ premise ভুল এই কারনে যে, আমি একটু আগেই বললাম, স্রষ্টা আসলে সবকিছু পারেনা, উনি Ungodly জিনিস করতে পারেন না। দ্বিতীয়ত, এই প্রশ্নটার structure এও ভুল আছে। এই প্রশ্নটা logical প্রশ্ন। একটা Universal truth কে base ধরে এই method এ logic দাঁড় করান হয়। এই method কে বলা হয় logical deduction method। কিন্তু এই প্রশ্নটায় universal truth কে base ধরে করা হয়নি।
(একটু চিন্তা করে)
যেমন ধরুন, ‘মানুষ মরনশীল’ এটা একটা সার্বজনীন সত্য। এটাকে premise ধরে প্রশ্ন করা হল, ‘রহিম একজন মানুষ, রহিম কি মরণশীল?’.. কিন্তু আপনি যে প্রশ্ন করেছেন তাতে বলা হয়েছে, এমন কোন বস্তু তৈরি করা যাবে কিনা, যা স্রষ্টা ধ্বংস করতে পারেনা? আমাদের আশপাশে এমন কোন উদাহরন নাই যেখানে কেউ কোন কিছু বানাল অথচ তা নষ্ট করতে পারেনা। আপনি যদি একটা গ্লাস বানান, আপনি জানেন, কত জোরে আঘাত করলে তা ভেঙ্গে যাবে। আপনি একটা কম্পিউটার বানালে জানেন যে, পানিতে চুবাইলে এইটা শেষ। এটা কখনই সম্ভব না যে, কেউ কোন একটা জিনিসকে তৈরি করেছে অথচ তা ধ্বংস করতে পারছেনা। তৈরি করার সাথে সাথেই ঐ জিনিষটার দুর্বলতা এবং নাড়ী নক্ষত্র স্রষ্টার জানা হয়ে যায়, যেভাবে আপনি জানেন আপনার তৈরি করা মেশিনটা কয়দিন সার্ভ করবে, কি করলে তা নষ্ট হয়ে যাবে। এটা স্রষ্টার দুর্বলতা নয়, বঋরং সৃষ্টির, স্রষ্টাকে অতিক্রম করতে না পারার অক্ষমতা!
(ফাটা বেলুনের মত চুপসে গেলেন মাঝবয়সী বাবু। এ প্রশ্নের এরকম উত্তর তিনি জীবনেও শুনেন নি। মোল্লা যেভাবে প্রশ্নটার সার্জারি করে আবর্জনার স্তূপে ছুঁড়ে ফেলল, তাতে তিনি স্তম্ভিত হয়ে গেলেন। অথচ এ প্রশ্ন দিয়েই তিনি কত তরুণকে নাস্তিক বানিয়েছেন, কত হুজুরকে ঘোল খাইয়েছেন, অপমান করেছেন!)
ফ্যাকাসে হাসি হাসলেন বাবু।
মাঝবয়সী বাবুঃ বুঝলাম, কিন্তু স্রষ্টা থাকলেই যে, তাকে মানতে হবে, এমন কোন কথা নেই।
মোল্লাঃ তারমানে, আপনি বলতে চাচ্ছেন, এ মহাবিশ্ব তৈরির পেছনে কোন objective নেই?
মাঝবয়সী বাবুঃ না কোন objective নাই।
মোল্লাঃ কেন আপনার এরকম মনে হল?
মাঝবয়সী বাবুঃ Objective থাকলে কি আর মানবজাতির মধ্যে এত হানাহানি, মারামারি, কাটাকাটি হত? যে যার মত খুশি, চলে। Objective থাকলে কি আর এরকম হত?
মোল্লাঃ (কৌতুকপূর্ণ ভঙ্গীতে) তাহলে তো নাস্তিকরা মানবজাতির জন্য বড় উপকার করে যেতে পারে!
মাঝবয়সী বাবুঃ কিভাবে? (সন্দেহপূর্ণ দৃষ্টি)
মোল্লাঃ যেহেতু নাস্তিকদের জীবনের কোন অবজেক্টিভ নাই, সেহেতু আপনারা এক কাজ করলেই পারেন। গণহারে সবাই গলায় দড়ি দিতে পারেন। এতে বাংলাদেশের জনসংখ্যার সমস্যার সমাধান হবে।, আপনারা মরে গিয়ে তেল, গ্যাস হবেন, আমাদের জ্বালানী সমস্যার সমাধান হবে। পৃথিবীতে আস্তিক নাস্তিকের মারামারিও থাকবেনা।
...... তো আপনারা মানবজাতির বিশাআআআআআআল উপকার সাধন করতে পারেন।
( এ কথা শুনে সবাই দাঁত কেলিয়ে হাসতে লাগল। চা দোকানদারের পান খাওয়া লাল দাঁত ও বেরিয়ে পড়ল)
মোল্লাঃ কি মামু? তোমার দোকানে না হয় দুই কাপ চা কম বিক্রি হবে, মাইন্ড কইরনা।
(দাঁত ৩২ টাই বের হল এবার)
(ঘড়ির দিকে তাকিয়ে চমকে উঠলেন মাঝবয়সী বাবু)
মাঝবয়সী বাবুঃ ওরে বাপরে! সাড়ে এগারটা বেজে গেল। এবার উঠতে হয়, ভাই...
(সবাই মোচড় দেয়া শুরু করল)
মোল্লাঃ হ্যাঁ, হ্যাঁ, আমাকেও উঠতে হবে......... তা আপনি স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাস করছেন?
মাঝবয়সী বাবুঃ না, আমি সংশয়বাদী, কোনদিন clear cut প্রমাণ পেলে করব।
মোল্লাঃ দেইখেন আবার, নিজের সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে সংশয়ে থাইকেন না আবার! (বলেই বুঝল খোঁচাটা মারা ঠিক হয়নি)
মাঝবয়সী বাবুঃ তা আজ আসি। (বলেই ঘুরলেন, কি যেন মনে পড়ে গেলো মোল্লার, ডাক দিলেন.........পেছন ফিরে তাকাল বাবু)
মোল্লাঃ ভাই, আপনার জন্য একটা সুসংবাদ আছে।
মাঝবয়সী বাবুঃ (সন্দেহপূর্ন দৃষ্টি) কি?
(তার চুলের দিকেই কিনা ঠিক বোঝা গেলনা, শাহাদাত আঙ্গুল তাক করল মোল্লা)
মোল্লাঃ আপনাকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহ সুসংবাদ দিয়েছেন, “ সাবধান! সে যদি নিবৃত্ত না হয়, তাহলে আমি তাকে অবশ্যই হেচড়িয়ে নিয়ে যাব, মাথার সামনের চুল ধরে। মিথ্যাবাদী পাপিষ্ঠের চুল!...... অপরাধীর পরিচয় পাওয়া যাবে তাদের চেহারা দেখে, তাদের পাকড়াও করা হবে পা ও মাথার ঝুঁটি ধরে”


জ্বীন-ইনসানের পেরেম-পিরিতি

লিখেছেন মুফাসা দ্যা গ্রেট

সেক্স ফ্যান্টাসি ছাড়া কোনো ধর্ম রচনা সম্পূর্ণ হয় না। ধর্ম রচনা করতে হলে সেক্স ফ্যান্টাসি থাকতে হবে - সেই রকম শিশ্ন-শিরশিরে সেক্স ফ্যান্টাসি। মেনকা উর্বশী থেকে শুরু করে ভেনাস আফ্রোদিতি পর্যন্ত প্রতিটি ধর্মেই সেই রকম সেক্স ফ্যান্টাসিতে ভরপুর। ইসলাম ধর্মেই আসলে দেখা যায় কোনো সেক্স ফ্যান্টাসি নেই। ধু ধু মরুভুমি, খেজুর, খেজুর গাছ, খেজুরের কাঁটা, উটের মুত, ভেড়ার গু, ছাগলের দুধ, জোব্বা, পাগড়ি কুলুখ ইন্তেজা হায়েজ নেফাস, নুনুর পুজ, পাছার গু, গেলমানের রক্ত উহ আহ.....

আরে থামুন থামুন।

আপনি কি জানেন, ইসলামে একটি বিশাল ধরনের সেক্স ফ্যান্টাসি রয়েছে। মহান আল্লাহ পাক মানুষের সেক্স ফ্যান্টাসিকে এক সুবিশাল উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন। আর হচ্ছে জ্বীন :D

আপনি কি জানেন, মানুষের আগে জ্বীন জাতিকে তৈরি করা হয়েছে এবং মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এই নালায়েক জ্বীন জাতিকে লাগিয়ে দিয়েছেন মানুষের পুটুর পেছনে খুচাখুচি করার জন্য?

এরা খুব দুষ্ট । এরা সারাক্ষণ মানুষের পেছনে লেগে থাকে। মানুষের সাথে খালি যৌনমিলন করতে চায়। জ্বীনদের সৃষ্টির ব্যাপারে মহান আল্লাহ পাক বলেন: "নিশ্চই আমি জ্বীনদের কে মানুষের পূর্বে সৃষ্টি করিয়াছি।"

দুনিয়াতে মানুষের আগমনের আগে আল্লাহপাক জ্বীনদেরকে প্রেরণ করেন, কিন্তু এরা একটু বেশি দুষ্টু হওয়ার কারণে তারা একে অপরের পুটু মারা শুরু করে, এতে আল্লাহপাক বেজায় বিরক্ত হন এবং জ্বীনদের আরেকটি দলকে প্রেরণ করেন এদের শায়েস্তা করার জন্য। এদের দলের একটি ভাগের ৪০০০ জ্বীনের দলের নেতা ছিল শয়তান। শয়তান একাই এইসব পুটু মারামারি করা জ্বীনগুলাকে কেটে সমুদ্রে ভাসিয়ে দেয়। অনেকটা হারকিউলিসের মত।

যাই হোক, এতে জ্বীনেরা দুনিয়া থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, আল্লাহপাক শান্তির শ্বাস নেন।

জ্বীন জাতি আল্লাহপাকের বেজায় আদরের জাতি - খুব আদরের সহিত আল্লাহপাক জ্বীন জাতিকে সৃষ্টি করেছেন। ওই যে কথায় আছে না, অতি আদরে নষ্ট হওয়া পুলাপাইন? জ্বীনগুলাও আল্লাহপাকের অতি আদরে নষ্ট হয়ে গেছে। আদরের ঠেলায় আল্লাহপাক জ্বীন জাতির কিছু আব্দার মেনে নিয়ে তাদের কিছু রুহানী ক্ষমতা দিয়ে দিয়েছেন। যেমন:
  • মানুষ জ্বীন দেখবে না কিন্তু জ্বীন মানুষকে দেখতে পাবে।
  • তারা যেকোন সময়ে দুনিয়াতে আগমন ও প্রস্থান করতে পারবে কিন্তু স্থায়ীভাবে থাক্তে পারবে না।
  • এদের শরীর অতি সূক্ষ্ম হবে বিধায় এদের গতি অনেক বেশি হবে।
  • এরা যে কোনো মানুষের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে এবং প্রস্থান করতে পারবে।
ও মাগো, কী ক্ষমতা! পুরাই ইনভিজিবল ম্যান!

এখন একটা জিনিস চিন্তা করুন - একটু দুষ্টু চিন্তা... এই ক্ষমতাগুলো আপনি পেলে আপনি কী করতেন?

আরে রাখেন রাখেন, খালি কেট আপটনের কথা চিন্তা করলেই হবে? হবে না, আসুন, এইবার জ্বিন ও ইনসানের প্রেমলীলার প্যাচাল পারি।

হযরত মুজাহিদ (র) থেকে বর্ণিত: রাসুল বলেছেন, জ্বীন ও ইনসানের যৌনমিলন সম্ভব। জ্বীন চাইলে মানুষের সাথে যৌনমিলন করতে পারে। এর ফলে জন্ম নেয়া সন্তানকে বলা হয় খুন্নাস। ইয়ে আমার তো বায়োল্ফ-এর অ্যান্জেলিনা জোলির কথা মনে পড়ে গেল, সেই মন্সটার মাদার হে হে। ইয়ে, ব্যাক টু দ্যা পয়েন্ট...

জ্বিনের সাথে বিবাহ মাকরুহ। কারণ আল্লাহপাক বলেন, তোমাদের জন্য তোমাদের আকার-আকৃতির সঙ্গী দেওয়া হয়েছে, তো তোমরা কেন জ্বীনকে লাগাতে যাবে থুক্কু বিয়ে করতে যাবে?

তবে কেউ যদি মানুষের আকারের জ্বীনকে কুরকুরানির ঠেলায় বিয়ে করেই বসে, তাহলে তা জায়েজ হবে না। তবে সেই জ্বীন যদি মুসলমান হয়, তবে... এ বিষয়ে আল্লাহপাক কিছু খোলাসা করে বলেননি, খালি মিটি মিটি হেসেছেন।

সাসপেন্স! সাসপেন্স! আরে যেখানে আল্লাহপাক স্বয়ং ধর্ম লিখছেন, সেখানে সাসপেন্স না থাকলে হয় নাকি।

এইবার সাসপেন্স ভাঙি। জ্বীন মুলত খুবই সেক্সি একটা ক্রিয়েচার, যৌনমিলনের জন্য এরা সব সময় উৎসুক হয়ে থাকে। আপনি যদি আপনার স্ত্রীর সাথে ইয়ে করার সময় বিসমিল্লাহ না বলেই ঢোকাতে যান, তখন আপনার স্ত্রীর ইসে মানে ওই যে কী বলে নুনু না থুক্কু যোনিটা একটি জ্বীন এসে দখল করে নেয়। মানে আপনার স্ত্রীর যোনি জ্বীনের যোনি হয়ে যায়।

কী মজা, তাই না? আচ্ছা, এখন আপনার যৌনকর্মের দ্বারা যদি আপনার স্ত্রীকে প্রেগন্যান্ট করেই দ্যান, তাহলে আপনার স্ত্রী তখন প্রেগন্যান্ট হবে না হবে সেই জ্বীনটি। হেহে আর আরেকটা জিনিষ বলে রাখি, জ্বীনের ব্রীডিং পাওয়ার কিন্তু সেইরাম, মানুষ একটা বাচ্চা জন্ম দিলে এরা দেয় নয়টা। মাগো, ইয়ে আমার মেক্সিকান আর কলম্বিয়ান গার্লফ্রেন্ডগুলার কথা মনে পড়ে গেল, এরাও ঠিক এভাবেই প্রেগন্যান্ট হওয়ার জন্য রেডি থাকে।

জ্বীনেরা বাথরুমে থাকে। মানে বুঝলেন তো? এদের সেক্সের জালা কতটুকু, এমন একটা জায়গা বেছে নিয়েছে যেখানে গিয়ে আপনাকে লুঙ্গি-পায়জামা খুলতেই হবে, আর তখনই জ্বীনেরা আপনার সাথে যৌনমিলন করে বসবে। কী, চিন্তায় পড়ে গেলেন? বাথরুমে গিয়ে হাত মারায় এত সুখ কোথা থেকে আসে? আসলে তখন আপনি জ্বিনের সাথে সঙ্গমে ব্যস্ত থাকেন।

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এখান থেকেও মুমিনদের বাঁচিয়ে দিয়েছেন। জ্বীনদের থেকে বাঁচার জন্য বাথরুমে যাওয়ার আগে বিসমিল্লাহ পড়ে ঢুকবেন, কোনো জ্বীন আপনার নুনু দূরের কথা, বালের ডগাও ছুঁতে পারবে না। কী, বিসমিল্লাহ পড়বেন তো? কেন জানি ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি দেখতে পাচ্ছি। আচ্ছা, থাক। আপনার ধান্ধা আপনার কাছে, আমি কেডা!

আর মুমিনা আপুদেরকে বলছি, আপনারা ঘুমানোর সময় দোয়া পড়ে যোনি লক করে ঘুমাবেন, তা না হলে জ্বীনেরা এসে রাতের বেলায় আপনার সাথে যৌনমিলন করে যাবে, এবং পরদিন আপনাকে ফরজ গোসল করতে হবে, তা না হলে কিন্তু নামায হবে না।

ফরজ গোসল নিয়ে অবশ্য একটু মতভেদ আছে। 

আবুল ইবনে হাম্বলী (র) বলেছেন, জ্বীন সহবাসের পর মহিলাদের উপর গোসল ফরজ হয় না, কারণ ফরয গোসলের দুইটা শর্ত অনুপস্থিত - লিঙ্গ প্রবেশ ও বীর্যস্খলন।

কিন্তু আল্লামা শিবলী (র) বলেছেন, এটি অতি অপমানজনক এতে পাকসাফ হওয়া যায় না। গোসল করতে হবে।

এখন মুমিনা আপিদের ওপরেই ছেড়ে দিলাম, করবেন কি করবেন না।

বুঝলেন তো, কী পরিমাণ সেক্স ফ্যান্টাসি আল্লাহপাক ইসলাম ধর্মে রেখেছেন? তো এখন কেউ যদি মুমিনদের বলে, তোরা নিরামিষ, তাইলে বলবেন জানিস, আমাদের আছে জ্বীন ফ্যান্টাসি, যার তুলনা দুনিয়ার আর কোথাও খুঁজে পাবি না বুঝলি।
 

ভৌতিকতা-বাস্তব নাকি কল্পনা?

অমাবস্যার রাত, গ্রামের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন একা। সামনে একটা বড় বাঁশঝাড়। হঠাৎ মনে পড়ে গেল এই বাঁশঝাড় সম্পর্কে লোকের কথা-অমাবস্যার রাতে এই বাঁশঝাড়ে কারো কান্নার আওয়াজ পাওয়া যায়। বেড়ে গেল বুকের ধুকধুকানি। সত্যি কি ভূত আছে নাকি সামনে? নাকি এইসব শুধুই কল্পনা? সামনে এগিয়ে গেলেন সাহস করে।তারপর...

ভূত, পেত্নি, প্রেতাত্মা বা এগুলোর মত যা কিছু আছে গোটাবিশ্বে খুব জনপ্রিয়। হাজার হাজার গল্প, উপন্যাস, সিনেমা, নাটক, ডকুমেন্টারি আছে ভূত প্রেত নিয়ে। কোনটায় দেখায় এসবই কল্পনা, মানুষের মস্তিষ্কে বিভিন্ন ক্যামিকেলের খেলায় এসবের সৃষ্টি আবার অনেক সময় দেখায় বাস্তব ঘটনার উপর নির্মিত আবার অনেক সময় দর্শক/পাঠকের উপর সিদ্ধান্ত নেবার ভার দিয়ে শেষ করে দেয়। "এখন বিজ্ঞানের যুগ, ভূত বলে কিছু নেই"-খুব প্রচলিত একটা কথা। তাহলে বাস্তব ঘটনার উপর নির্ভর করে এসব গল্পবা সিনেমা কিভাবে হচ্ছে? সত্যি কি ভূত বলে কিছু আছে নাকি সবই মানুষের কল্পনা?উত্তর এক কথায় দেয়া সম্ভব না।

ভূত ব্যাপারটাকে নানা জায়গায় নানাভাবে বর্ণনা করা আছে। কিন্তু সবগুলোই সম্ভবত একই জিনিস, নানান ভাষায়, নানান সমাজে নানা নামে পরিচিত হয়েছে। কিন্তু ভালোমত খেয়াল করলে দেখা যাবে সবগুলোই আসলে একই জিনিস। ভূত বলে যা কল্পনা করা হয় বা যা আছে তার গল্প বা কাহিনী অনেক আগে থেকেই আছে। কিন্তু আসলেই কি আছে এমন কিছু?

বিজ্ঞান এসবের উত্তর দেয় এক কথায়-নেই। বিজ্ঞান অদৃশ্যে অবিশ্বাসী তা না, হলে ব্লাকহোল বা ডার্ক ম্যাটার বলে কিছু থাকত না। কিন্তু বিজ্ঞান অদৃশ্যে বিশ্বাসের জন্য চায় একটা সমীকরণ। বিজ্ঞান সমীকরণ দিয়ে প্রমাণ করেছে ব্লাকহোল আছে তাই আছে। কিন্তু ভূতের কোন সমীকরণ নেই তাই বলে নেই। কোনদিন যদি সমীকরণ পেয়ে যায় তাহলে বলবে আছে, তার জন্য হয়ত কেউ নোবেল প্রাইজও পেয়ে যেতে পারে।

কিন্তু ধর্ম এবং প্রাচীন সভ্যতাগুলো কিন্তু এই ব্যাপারে খুব সরব। ধর্মের একটা মূল হচ্ছে অদৃশ্যে বিশ্বাস। বিভিন্ন ধর্মে ভূত বা অশরীরীরা আছে এমন অনেক কথা আছে। যারা ধর্মে অবিশ্বাসী তাদের জন্য পরের কথাগুলো কোন কাজে আসবে না কারণ আমি ভূতের প্রমাণ দেব “বিশ্বাস” এর উপর ভিত্তি করে, বিশেষ করে সেমেটিক ধর্মের বিশ্বাসের উপর।

ভূতের ইতিহাস অনেক পুরনো। প্রাচীন মিশর,গ্রিস, ভারত, ব্যাবিলনের নানা রুপকথায় এদের পাওয়া যায়। সকল ধর্মেই পাওয়া যায় বিভিন্ন অশরীরির কথা। এরা ভিন্ন নামে পরিচিত হলেও সবার মধ্যে একটা বড় মিল হচ্ছে এরা সৃস্টিকর্তার বিরুদ্ধে কাজ করে এবং মানুষের ক্ষতি করে। প্রাচীন সভ্যতাগুলোর বেশিরভাগ ছিল বহুঈশ্বরবাদী, আর এসব সভ্যতায় ঈশ্বর আর শয়তান আলাদা কিছু ছিল না।উভয়কেই তারা পূজা করত। কাউকে শ্রদ্ধায় আবার কাউকে ভয়ে। অপদেবতা হিসেবে পরিচিতদের সন্তুষ্ট রাখতে নানা সময় বলি দেয়া হত, নরবলী দেবার ঘটনাও অনেক প্রচলিত। এখনো আফ্রিকার অনেক জায়গায় এসব চালু আছে।
বিভিন্ন মিথে ডেভিলের ধারণার কল্পিত ছবিবিভিন্ন মিথে ডেভিলের ধারণার কল্পিত ছবি



সেমেটিক ধর্মগুলোতে সৃস্টিকর্তা ও শয়তান আলাদা, এখানে শয়তানের উপাসনা করা হয় না বরং শয়তানের হাত থেকে বাঁচতে সৃস্টিকর্তাকেই উপাসনা করা হয়। ধর্মগুলোর মধ্যে ইসলাম এবং খ্রিস্টান শয়তান এবং মানুষের উপর তার প্রভাবের ব্যাপারে বেশ ব্যা্পক আলোচনা করে, যা এই লেখার মূল উপজীব্য। কিন্তু আব্রাহামিক ধর্মের মধ্যে ইহুদিদের মধ্যে বর্তমানে শয়তানের প্রতক্ষ্য কোন আলোচনা নেই যদিও কিছু রাবি(ইহুদি আলেম) বলেন যে শয়তান আছে কিন্তু খ্রিস্টান বা ইসলামের মত ইহুদীদের কাছে শয়তান এবং তার প্রভাব কখনোই গুরুত্ব পায় নাই।

সেমেটিক ধর্মের বাইরে বড় ধর্মগুলোর মধ্যে হিন্দু ধর্মে শয়তান আছে অশুর, ভূত, পিশাচ এসব নামে। বিভিন্ন গল্পে এরা নানারকম রূপধারণ করে মানুষের ক্ষতি করে বলেও উল্লেখ আছে। এছাড়া বৌদ্ধ ধর্মে মারা নামে এক চরিত্র আছে যাকে শয়তানের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। কথিত আছে মারা গৌতম বুদ্ধের কাছে সুন্দরী নারীর সাজে এসেছিল তার ধ্যান ভঙ্গ করতে। মারা মানুষকে তার সৎ পথ থেকে দূরে সরিয়ে খারাপের দিকে নিয়ে যায়।

খ্রিস্টান এবং ইসলাম উভয় ধর্মমতেই অশরীরীরা মানুষকে আক্রমণ করে তার নিয়ন্ত্রন নিয়ে নিতে পারে, কম্পিউটার হ্যাক করে তার নিয়ন্ত্রণ নেবার মত। উভয় ধর্মেই শয়তানের কনসেপ্ট অনেকটাই এক। উভয় ধর্মেই ডেভিলের নাম শয়তান,ইসলামে তার আরেক নাম ইবলিস, খ্রিস্টান ধর্মে লুসিফার নামেও পরিচিত। শয়তান একা নয় বরং তার একটা বাহিনী আছে যাদের নিয়ে সে মানুষের ক্ষতি সাধন করে।

আর এই বাহিনী থেকেই চলে আসে আরেক অশরীরীর যাকে বলা হয় জিন। খ্রিস্টান ধর্মেও একই রকম এক সৃষ্টির কথা আছে যদিও ল্যাটিন বা ইংরেজিতে তাকে ডেভিল বলা হয়। তবে বাইবেলের আরবি অনুবাদের বেশ কয়েকটিতে “familiar spirit” এর অনুবাদ করা হয়েছে জিন(Leviticus 19:31, Lev 20:6, 1 Samuel 28:3, 1 Sa 28:9, 1Sa 28:7 সহ আরো অনেক জায়গায়)। এছাড়াও ইসলামপূর্ব যুগেও জিন নামে একধরণের সৃষ্টির কথা প্রচলিত ছিল। আর জিনদের একটা অংশ ইবলিশের বাহিনীর অংশ।

ইসলামিক বিশ্বাসে জিনদের মধ্যেও নানা মত আছে, তাদের মধ্যেও মানুষের মতই ভালো খারাপ আছে। আর এই খারাপ জিনেরা হচ্ছে ইবলিশের সাহায্যকারী। আর এই জিনেরাই মানুষকে আক্রমণ করতে পারে, তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে,যাকে বলা যেতে পারে Possession.  তাফসির এবং হাদিস ঘাটলে জিনের কিছু ঘটনা পাওয়া যায়। কুরানে জিনদের নিয়ে একটি সূরাই আছে, সুরা জিন,৭২ নম্বর সূরা। জিন মানুষকে আক্রমন করে এবং জিন তাড়ানোর ব্যাপারেও বলা আছে(যাকে আমরা Exorcism এর সাথে তুলনা করতে পারি,ইসলামে একে বলে রুকাইয়া)। বাইবেলেও অশরীরী তাড়ানোর ব্যাপারে বেশ কিছু কথা আছে আরএদের আরবি অনুবাদে জিন বলা হয়েছে।  

কিন্তু জিন সত্যি আছে কিনা এটা বিজ্ঞান প্রমান করতে পারেনা ভূত আছে কিনা তার মতই। কিন্তু মুসলমানরা বিশ্বাস করে আছে, খ্রিস্টানরাও একই রকম ক্রিয়েচারে বিশ্বাস করে। অন্যান্য ধর্মেও জিনের মতই ক্রিয়েচার আছে। কিন্তু জিন মানেই কি খারাপ আর মানুষকে আক্রমণ করে বেড়ায়? না, সব জিন খারাপনা। তাদের মধ্যেও ভালো খারাপ আছে। আর ভূতের সকল বৈশিষ্ট্যই খারাপ জিনের মধ্যে দেখা যায়। এরা মানুষকে ভালো কাজ থেকে দূরে রাখে, খারাপের দিকে নিয়ে যায় এবং অনেক সময়মানুষকে সরাসরি আক্রমণ করে যেমনটা হরর মুভি বা গল্পে দেখা যায়।

জিন সবচেয়ে বিখ্যাত মনে হয় আলাদিনের গল্পে। সেই জিনের কথা আমরা সবাই জানি, ছোটতে কমিকবা কার্টুনে প্রায় সবাই দেখেছি। সেই জিন থাকে এক প্রদীপের ভিতর, প্রদীপে ঘষা দিলেইবের হয়ে আসে। আলাদিনের জিন :pআলাদিনের জিন :p কিন্তু সত্যিকারের জিনের ব্যাপারে খুব বেশি তথ্য পাওয়াযায় না। একমাত্র কিছু ইসলামিক সোর্স থেকে এদের সম্পর্কে অল্প কিছু তথ্য জানা যায়।এদের থাকার জায়গা হিসেবে বলা হয়ে থাকে পরিত্যাক্ত বাড়ি, নোংরা জলাশয়, টয়লেট এমনকি মানুষের সাধারণ বাড়ি। তবে সাধারণত মানুষ বর্জিত এলাকাগুলোই এদের বেশি প্রিয়। আর তারা বেশিরভাগ সময় চায় না কেউ তাদের বিরক্ত করুক। আর একারণেই পরিত্যাক্ত বাড়ি বা এলাকায় অনেক সময় “ভৌতিক” ঘটনার কথা শোনা যায় যা হয়ত জিন করে থাকে। কিন্তু কিছু হলেই সেটাকে জিনের নাম দিয়ে পার করানো যাবে না। কারণ এসব পরিত্যাক্ত এলাকায় অনেকে অবৈধ কাজ চলে এবং এসবের সাথে জড়িত লোকেরা মানুষকে দূরে রাখতে নানাভাবে ভয় দেখায়।
সুতরাং ভূত বলে যদি কিছু থাকে সেটা হচ্ছে জিন। ভূত যা যা করে তার সবগুলোই করে খারাপ জিনেরা। এই জিনেরা মানুষের আগে থেকেই আছে বলে তাদের নিয়ে মানুষ শুরু থেকেই নানারকম গল্প তৈরি করে, যা যুগে যুগে মুখে মুখে নানা শাখা গজিয়ে ভূত, প্রেত বা অন্য নাম নিয়ে নানা জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু সব কিছুর মূলে আছে জিন। যদি জিনেবিশ্বাস থাকে তবে ভূতেও করতে হবে কেননা দুটোই এক জিনিস। সুতরাং ভূত অবশ্যই আছে।

ভূতের অস্তিত্ব বিশ্বাসের মাধ্যমে প্রমাণ করা গেল, যদিও পুরোটাই ধর্মীয় বিশ্বাস(বেশিরভাগটাই ইসলামিক) দিয়ে, জিনের মাধ্যমে। তাহলে যারা ইসলামিক বিশ্বাসে বিশ্বাসী না তারা কি করবেন? সকল ধর্মেই জিনের মত কিছু ক্রিয়েচার আছে, সেটাকেই ভূত বলে বিশ্বাস করতে হবে যদি আপনি আপনার ধর্মে পরিপূর্নরূপে বিশ্বাস করে থাকেন। আর যারা ধর্মেই বিশ্বাসী না তাদের জন্য কিছুই নেই কারণ আগেই বলেছি প্রমাণ শুধু বিশ্বাসের মাধ্যমেই সম্ভব। এখনো কোন সমীকরণ জানি না আমরা জিন বা ভূত(যেটাই বলুন) প্রমাণ করার।

কিন্তু যদি বলা হয় জিনের আক্রমণ এবং এর হাত থেকে মুক্তিরউপায় কি। জিন মানুষকে আক্রমন করে এটা সত্য এবং বিভিন্ন ব্যাবস্থা গ্রহন করে তাদের তাড়ানো যায় এটাও সত্য। আলোচনা এখন পুরোটাই ধর্মীয় এবং অনেকটাই  ইসলামিক বিশ্বাসের উপর নির্ভরশীল হয়ে যাবে।

হরর মুভি বা গল্পে দেখা যায়(যেগুলো বাস্তব বলে প্রচলিতসেগুলোর কথাই বলছি অবশ্যই) যার উপর ভর করে কোন কিছু সে অনেক আগের কথা জানে বা অনেক সময় ভবিষ্যতের অনেক কিছু বলে দেয়। কিভাবে? জিনদের একটা দল আগে আকাশে উঠে ফেরেশতাদের কথা শুনত সেখানে তারা অনেক গোপন ব্যাপার জেনে যেত আর পরে সেটা সহ নিজেদের কিছু কথা লাগিয়ে প্রচার করত। আর প্রত্যেক মানুষের সাথে একজন শয়তান থাকে, এটা সহীহ হাদিস দ্বারা প্রমানিত(সহিহ মুসলিম বুক ৩৯ হাদিস ৬৭৫৭)। আর এই শয়তান আক্রমণকারী জিনকে সাহায্য করবে এটা স্বাভাবিক। ফলে দুই শয়তানের মিলিত আক্রমণে আক্রান্ত ব্যাক্তির মুখ দিয়েএসব কথা বের হয়। এতে অনেকেই তার উপর ভক্তি প্রকাশ করে এবং শয়তানের উদ্দেশ্য সফল হয়- মানুষকে সৃস্টিকর্তা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। একই সাথে যাকে আক্রমণ করে তার মধ্যে অস্বাভাবিক শক্তির সঞ্চার করে আক্রমণকারী জিন।

কিন্তু কিভাবে বোঝা যাবে যে জিনের আক্রমণ হয়েছে? জিনের আক্রমনের সাথে মৃগী রোগের খুব ভালো সম্পর্ক আছে। মৃগী রোগী দেখলেই অনেক জায়গায় জিনধরেছে বলে ধরে নেয়া হয় এবং নানা রকম ঝাড়ফুক করানো হয়। কিন্তু মৃগী রোগী মানেই কি জিন ভরা করা ব্যাক্তি? তার আগে জেনে নেয়া যাক মৃগী রোগ কি।

মেডিকেল সাইন্সে মৃগী রোগ নিউরোলজি ডিসঅর্ডার জনিত একটি রোগ। আমাদের ব্রেইনের কোন একটি অংশ যদি কনট্রোলের বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত নিউরনাল সিগনাল তৈরী করতে শুরু করে তখন, অনিয়ন্ত্রিত খিচুনী হয়, একে বলে মৃগী রোগ।


মৃগী রোগ অনেকগুলো কারণে হতে পারে। এদেরকে প্রাইমারী এবং সেকেণ্ডারী দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। যে সকল ক্ষেত্রে এপিলেপসির কারণ হিসেবে ব্রেইনের কোন ফিজিক্যালকারণ খুঁজে পাওয়া যায় না, সে সকল ক্ষেত্রে তাদেরকে প্রাইমারী বলেঅভিহিত করা হয়। আর কারণ পাওয়া গেলে সেকেণ্ডারী বলে অভিহিত করা হয়।

প্রাইমারী সাধারণত শিশুকিশোর বয়সে শুরু হয়। সেকেন্ডারী অধিকাংশ ক্ষেত্রে এডাল্ট বয়সে গিয়ে হয়। সেকেণ্ডারীর কারনের মধ্যে কয়েকটি হলো:
১. মাথায় রক্ত ক্ষরণবা রক্ত সঞ্চালনের অনুপস্তিতি তথা স্ট্রোক
২. ব্রেইন টিউমার
৩. রক্তে লবনের(বিশেষত সোডিয়াম) কম বেশী হওয়া
৪. রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ এত মাত্রায় কমে যাওয়া যে ব্রেইনে অক্সিজেন যথেষ্ট পরিমানে কমে যায়।

মৃগী রোগে যে নিউরোট্রান্সমিটারগুলো বেশী বেশী ক্ষরণ হয় ওগুলোরবিপরীতে ঔষধ তৈরী করা হয়েছে এবং এগুলো ব্যবহার করে অধিকাংশ রোগীর খিচুনী নিয়ন্ত্রনেআনা যায়। তবে ব্যাক্তি ভেদে ঔষধেরপরিমান বিভিন্ন লাগতে পারে, যেটা ধীরে ধীরে বাড়াতে হয়।

মৃগী রোগীর অস্বাভাবিক খিঁচুনি অনেকের জন্য ভয়ের হয়ে যায়এবং একে অনেকেই জিনের আক্রমণ মনে করে অনেক কিছু করে থাকে। কিন্তু এটা জেনে রাখা জরুরী যে মৃগী রোগ বা খিঁচুনি মানেই জিনের আক্রমণ না। এটা উপরের কোন কারণেও হতে পারে। জিনে আক্রমণ করলে এগুলো হতে পারে কিন্তু আরো কিছু ব্যাপার এর সাথে যোগ হবে। ধর্মীয় যেকোন ব্যাপার তাকে বিকর্ষণ করবে, ভয় পাবে সেগুলোকে। সিনেমা বা গল্পগুলোতে নিশ্চয় দেখেছেন/পড়েছেন পবিত্র পানি বা ক্রুশ দিয়ে ভয় দেখায়। ঠিক এরকম হবে যদি আজান দেয়া হয়, কোরান পাঠ করা হয় বা জমজমের পানি ছিটানো হয়।

যদি নিশ্চিত হওয়া যায় যে এটা জিনের আক্রমণ তখনই কেবল রুকাইয়া(Exorcism) করতে হবে। কিন্তু যে কেউ এর অধিকার রাখে না। এর জন্য অবশ্যই একজন প্রাকটিসিং মুসলিম ব্যাক্তি দরকার। গ্রাম অঞ্চলে ওঝা বা যাকে তাকে দিয়ে করানো হয় এবং না বুঝেই তারা পরিস্থিতি অনেক খারাপ করে ফেলে। যে রুকাইয়া করবে তিনি একজন ইমাম বা সেরকম হলে ভালো হয়। তাকে এটা বিশ্বাস করতে হবে যে তিনি যা করছেন তার কোনটাই নিজের না, এটা আল্লাহ  সাহায্য করছেন। যা পড়বেন তা আরবিতে হতে হবে, কোরান ছাড়া অন্য কোথাও থেকে কিছু পাঠ করা যাবেনা। নিজের বানানো মন্ত্র পড়া যাবে না। একমাত্র আল্লাহর বানীর উপর ভরসা করতে হবেএবং সবচেয়ে বড় ব্যাপার তার ধৈর্য্য থাকতে হবে।

রুকাইয়ার প্রসেস অনেক বড়। জমজমের পানি লাগে, কোরানের কিছু আয়াত আছে বিস্তারিত এখানে বলছি না। এটা ইসলামিক নিয়ম। খ্রিস্টান কেউ করতেচাইলে তাকে স্থানীয় বিশপের অনুমতি নিতে হয়। ক্রুশ লাগে, পবিত্র পানি লাগে(জর্ডান নদীর পানি যেখানে ঈসা(আ) কে ব্যাপটাইস্ট করা হয়েছিল বলা হয়)। এছাড়া বিভিন্ন ওঝা বাতান্ত্রিকরাও কিন্তু সফলভাবে জিন(বা অন্য যাই বলুন) তাড়াতে পারে তাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে।
Christ Exorcising a Mute by Gustav Dore, 1865. 
Christ Exorcising a Mute by Gustav Dore, 1865.


***এবার যা বলব তা পুরোটাই ইসলামিক। চাইলে এটিসহ পরের তিনটি প্যারা স্কিপ করতে পারেন। আগের প্যারাতেই বললাম খ্রিস্টান এক্সোরসিস্ট বা ওঝারাও সফল হচ্ছে জিন বা ডেমন তাড়াতে। কিন্তু কিভাবে? যেখানে কোরানের বাণী ছাড়া অন্য কারো পারার কথা না তারা কিভাবে হচ্ছে? উত্তর হচ্ছে কারন শয়তান অনেক সময় সেটাই চায়। ইসলামে এসব ক্ষেত্রে কোরানের বানী ছাড়া অন্য কোন কিছুর সাহায্য নেয়া শিরক। আর শয়তান তো এটাই চায়, মানুষ যেন শিরক করে।

যখন তারা দেখবে ক্রুশ শয়তানকে তাড়ায় দিচ্ছে  তারা ক্রুশের প্রতি ভক্তি প্রকাশ করবে। যখনদেখবে তান্ত্রিকদের মন্ত্র শয়তানকে দূর করছে তখন অনেকেই তার অনুসারী হবে। আর এসবমন্ত্র ইসলামে ডার্ক ম্যাজিক কারণ এর কোনটাই আল্লাহর বানী না, এগুলা মানুষের নিজের বানানো। তাই এটা শিরক। এভাবে শয়তান চায় মানুষকে আল্লাহ হতে দূরে সরে গিয়ে এসব শিরকি কাজে লিপ্ত হয়। তারা সফল হচ্ছে কিন্তু তারা ডার্ক ম্যাজিক ব্যাবহার করছে।

এই নোটে ম্যাজিক নিয়ে তেমন লেখার ইচ্ছা নেই। ডার্ক ম্যাজিক শয়তানের খুব প্রিয় একটা অস্ত্র।ডার্ক ম্যাজিক চর্চা করা মানে হচ্ছে সৃস্টিকর্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা। আরশয়তান ঠিক এই কাজটাই করায় তার প্রিয় খারাপ জিন বাহিনীর দ্বারা।***

সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া The Conjuring সিনেমার দুইজন প্রধান চরিত্র-এডওয়ার্ড এবং লোরেইন ওরায়েন খুব বিখ্যাত এক্সোরসিস্ট। এড মারা গেলেও লোরেইন এখনো বেঁচে আছে এবং কাজ করে যাচ্ছে। তাদের দুই জনের মিলিত কাজ প্রায় কয়েক হাজার। এর মধ্যে এমিটিভিলের কাহিনি সবচেয়ে জনপ্রিয়।
Edward and Lorrain Warren, original photo 
Edward and Lorrain Warren, original photo


একটা অবাক করা ব্যাপার পেলাম এই নোট লেখতে গিয়ে, মাদার তেরেসাকে একবার এক্সোরসিজম করানো হয়েছিল, কলকাতার আর্চবিশপ হেনরি ডি’সুজা মাদার তেরেসার মধ্যে কিছু অস্বাভাবিক ব্যাপার দেখে তার এক্সোরসজিম করান। আরেকটা মজার ব্যাপার, " Ghost Einstein" দিয়েগুগলে সার্চ দিলে প্রায় ৬ মিলিয়ন(!!!!!) এনট্রি আসে। অনেকেই E=mc2 সুত্রকে দিয়ে ভূত প্রমাণ করতে চায়।তাদের কথা মানুষ মারা যাবার পর তার আত্মা এনার্জি হিসেবে শরীর থেকে চলে যায়। আর এই এনার্জি হচ্ছে ভূত। কিন্তু আমরা বাস্তুতন্ত্র থেকে জানি মারা যাবার পর এনার্জি শরীরেই থাকে আর সেটা পরে  নানা জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে ঠিক যেভাবে সেগুলো শরীরে এসেছিল। তবুও অনেকেই অনেক থিওরি দিচ্ছে, দিতেই থাকবে।

ভূত বা জিন নাই বলা হোক না কেন তা অবশ্যই আছে, তাকে তাড়ানোর উপায় ও আছে অনেকগুলো। কিন্তু মাঝে মধ্যে কিছু জিন অনেক বেশি শক্তিশালী থাকে তাদের তাড়ানো যায় না সহজে। এক্ষেত্রে এটাকে মানুষের সীমাবদ্ধতা বলেই ধরে নিতে হবে। পৃথিবীতে সব রহস্যের সমাধান নেই, কিছু রহস্য সবসময় রহস্যই থেকে যাবে, মানুষএগুলোকে সমাধান করতে পারবে না।সব রহস্যের সমাধান হয়ে গেলে মানুষের হাতে আর কিছু থাকবে না।
The true misery is if all the questions are solved cos then there is nothing left to ask।

একটি সত্যি ঘটনা।। 

অনেকেই আছেন যারা ভুত বিশ্বাস করেন আবার অনেকে করেন না। তার মানে কি এই যে, তারা ভুত দেখলে ভয় পাবেন না? আমি বাজি রেখে বলতে পারি, যারা বলে বেড়ান যে তারা খুব সাহসী, জিন, ভুত কিছুই তারা ভয় পায়না সেই তারাই জিন/ভুত দেখলে আরও বেশি ভয় পাবেন। আজ আমি যেই ঘটনা বলতে যাচ্ছি সেটি যেমন নিদারুন সত্যি, তেমনি ভয়াবহ। ঘটনাটি ঘটেছিল বহু বছর আগে। তখন ছিল ব্রিটিশ আমল অর্থাৎ দাদা-নানার আমলের ঘটনা। সেই সময় কিছু কিছু তরুন যারা মোটামুটি শিক্ষিত ছিল এবং নিজেদের খুবই সাহসী ভাবত। আর ভাবতো জিন/ভুত হচ্ছে ভীরুদের মনের দুর্বল কল্পনা। তো একদিন তাদের অন্যান্য বন্ধুদের সাথে তাদের এক সাহসী বন্ধুর তর্ক লেগে গেল। জিন/ভুত যে আছে এটা সে এটা সে একদমই মানতে নারাজ। এটা শুনে তার অন্যান্য বন্ধুরা তার উপর প্রচণ্ড খেপে গেল। আর বলল, তুই যে জিন/ভুতের ভয় পাস না তার প্রমাণ করতে পারবি? একথা শুনে সে বলল, আমি কি তোদের মত ভীতুর ডিম নাকি? আমাকে কি করতে হবে বল? তার বন্ধুরা বলল, তুই যদি আমাবস্যায় মাঝ রাতে একা শ্মশানে গিয়ে একটা কাঁচা বাঁশ মাটিতে গেড়ে আসতে পারিস, তবে বুঝব যে তুই খুব সাহসী। একথা শুনে সে বলল, ঠিক আছে তাই হবে।
দেখতে দেখতে আমাবস্যার রাত চলে এল। শ্মশানে যাওয়ার আগে তার সব বন্ধুরা তাকে বার বার করে নিষেধ করল। তোর ভয় লাগলে যাওয়ার দরকার নেই। কিন্তু সে কিছুতেই শুনল না। উল্টো সবাইকে বলতে শুরু করল, তোরা কি মনে করেছিস আমি ভয় পেয়েছি? তোরা সবকটা এক একটা ভীতুর ডিম। তার বন্ধুদের এইভাবে বিদ্রুপ করে সে চলে যায় শ্মশানের উদ্দেশ্যে। হাতে তার একটি কাঁচা বাঁশ। একসময় সে হাঁটতে হাঁটতে শ্মশানের খুব কাছে চলে যায়। তখন গ্রামে কোন বিদ্যুৎ ছিল না আর চারিদিক ছিল গভীর অন্ধকার। এতটা অন্ধকার যে, নিজের শরীর পর্যন্ত ভাল করে দেখা যায়না। এবার তার শরীরে একটু একটু ভয় ঢুকতে শুরু করল। কিন্তু পেছনে ফিরে যাবার কোন উপায় নেই। কেননা তাহলে বন্ধুদের কাছে সে মুখ দেখাতে পারবে না। তাই সে মনে মনে ভাবল, শ্মশানে গিয়ে কোনোরকমে বাঁশটা গেড়ে দ্রুত বাড়িতে ফিরে আসবে। সে শ্মশানের ভেতর প্রবেশ করল। এবার তার মনের মধ্যে ভয় পুরপুরি ভাবে গেড়ে বসলো। একেই আমাবস্যার রাত, তার উপর আবার শ্মশান ঘাট। ভয়ে তার বুক ধড়ফড় করতে লাগল। তার বার বার মনে হতে লাগল, এইবুঝি কিছু একটা এসে পেছন থেকে তার ঘাড় মটকে ধরবে। এবার সে বাঁশ গাড়তে শুরু করল। সে বাঁশটির প্রায় ৮-১০ ইঞ্চির মত মাটিতে গেথে ফেলল। সে মনে মনে ভাবল, এবার সে সবাইকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিবে, যে জিন/ভুত বলতে কিছুই নেই। আর সে কত সাহসী। বাঁশ গারা শেষ। এবার তার বাড়ি ফিরার পালা। কিন্তু যেই সে উঠে দাঁড়িয়ে এক পা সামনে বাড়াল, তার মনে হল কে যেন তাকে মাটির দিকে টানছে। আমাবস্যার এই মাঝরাতে শ্মশানে এসে সে যে চুল করেছে, তার মাশুল তাকে দিতেই হবে। এতদিন যে জিনিসটাকে সে অগ্রাহ্য করত, ভীরুদের কল্পনা বলে হাসত, সেই কল্পনা আজ তার কাছে আজ দেখা দিল। তাও আবার অদৃশ্য হয়ে। এইরকম প্রচণ্ড চাপ তার ভেতরে সহ্য করতে পারল না। এবং ভয়েরচোটে সেখানেই সে হার্টফেল করে মারা গেল। পরদিন সকালে তার বন্ধুরা তার বাড়িতে এসে দেখে সে বাড়িতে নেই, এবং সাথে সাথে তারা সেই শ্মশানে যায়। আর সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পায় তাদের সেই বন্ধু মৃত অবস্থায় পরে আছে। তারা আরও দেখল যে সেই বাঁশটা তার বন্ধুর ধুতি সহ মাটিতে গারা অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু অন্ধকারের কারনে সে তা লক্ষ করেনি। তাই সে উঠে আসার সময় বাঁশের সাথে ধুতি আটকে যাওয়ায় তার মনে হয়েছিল, কেও তাকে টেনে ধরেছিল। আর প্রচণ্ড ভয়ের কারনে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।


ভৌতিকতা-বাস্তব নাকি কল্পনা?

অমাবস্যার রাত, গ্রামের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন একা। সামনে একটা বড় বাঁশঝাড়। হঠাৎ মনে পড়ে গেল এই বাঁশঝাড় সম্পর্কে লোকের কথা-অমাবস্যার রাতে এই বাঁশঝাড়ে কারো কান্নার আওয়াজ পাওয়া যায়। বেড়ে গেল বুকের ধুকধুকানি। সত্যি কি ভূত আছে নাকি সামনে? নাকি এইসব শুধুই কল্পনা? সামনে এগিয়ে গেলেন সাহস করে।তারপর…
ভূত, পেত্নি, প্রেতাত্মা বা এগুলোর মত যা কিছু আছে গোটাবিশ্বে খুব জনপ্রিয়। হাজার হাজার গল্প, উপন্যাস, সিনেমা, নাটক, ডকুমেন্টারি আছে ভূত প্রেত নিয়ে। কোনটায় দেখায় এসবই কল্পনা, মানুষের মস্তিষ্কে বিভিন্ন ক্যামিকেলের খেলায় এসবের সৃষ্টি আবার অনেক সময় দেখায় বাস্তব ঘটনার উপর নির্মিত আবার অনেক সময় দর্শক/পাঠকের উপর সিদ্ধান্ত নেবার ভার দিয়ে শেষ করে দেয়। “এখন বিজ্ঞানের যুগ, ভূত বলে কিছু নেই”-খুব প্রচলিত একটা কথা। তাহলে বাস্তব ঘটনার উপর নির্ভর করে এসব গল্পবা সিনেমা কিভাবে হচ্ছে? সত্যি কি ভূত বলে কিছু আছে নাকি সবই মানুষের কল্পনা?উত্তর এক কথায় দেয়া সম্ভব না।
ভূত ব্যাপারটাকে নানা জায়গায় নানাভাবে বর্ণনা করা আছে। কিন্তু সবগুলোই সম্ভবত একই জিনিস, নানান ভাষায়, নানান সমাজে নানা নামে পরিচিত হয়েছে। কিন্তু ভালোমত খেয়াল করলে দেখা যাবে সবগুলোই আসলে একই জিনিস। ভূত বলে যা কল্পনা করা হয় বা যা আছে তার গল্প বা কাহিনী অনেক আগে থেকেই আছে। কিন্তু আসলেই কি আছে এমন কিছু?
বিজ্ঞান এসবের উত্তর দেয় এক কথায়-নেই। বিজ্ঞান অদৃশ্যে অবিশ্বাসী তা না, হলে ব্লাকহোল বা ডার্ক ম্যাটার বলে কিছু থাকত না। কিন্তু বিজ্ঞান অদৃশ্যে বিশ্বাসের জন্য চায় একটা সমীকরণ। বিজ্ঞান সমীকরণ দিয়ে প্রমাণ করেছে ব্লাকহোল আছে তাই আছে। কিন্তু ভূতের কোন সমীকরণ নেই তাই বলে নেই। কোনদিন যদি সমীকরণ পেয়ে যায় তাহলে বলবে আছে, তার জন্য হয়ত কেউ নোবেল প্রাইজও পেয়ে যেতে পারে।
কিন্তু ধর্ম এবং প্রাচীন সভ্যতাগুলো কিন্তু এই ব্যাপারে খুব সরব। ধর্মের একটা মূল হচ্ছে অদৃশ্যে বিশ্বাস। বিভিন্ন ধর্মে ভূত বা অশরীরীরা আছে এমন অনেক কথা আছে। যারা ধর্মে অবিশ্বাসী তাদের জন্য পরের কথাগুলো কোন কাজে আসবে না কারণ আমি ভূতের প্রমাণ দেব “বিশ্বাস” এর উপর ভিত্তি করে, বিশেষ করে সেমেটিক ধর্মের বিশ্বাসের উপর।
ভূতের ইতিহাস অনেক পুরনো। প্রাচীন মিশর,গ্রিস, ভারত, ব্যাবিলনের নানা রুপকথায় এদের পাওয়া যায়। সকল ধর্মেই পাওয়া যায় বিভিন্ন অশরীরির কথা। এরা ভিন্ন নামে পরিচিত হলেও সবার মধ্যে একটা বড় মিল হচ্ছে এরা সৃস্টিকর্তার বিরুদ্ধে কাজ করে এবং মানুষের ক্ষতি করে। প্রাচীন সভ্যতাগুলোর বেশিরভাগ ছিল বহুঈশ্বরবাদী, আর এসব সভ্যতায় ঈশ্বর আর শয়তান আলাদা কিছু ছিল না।উভয়কেই তারা পূজা করত। কাউকে শ্রদ্ধায় আবার কাউকে ভয়ে। অপদেবতা হিসেবে পরিচিতদের সন্তুষ্ট রাখতে নানা সময় বলি দেয়া হত, নরবলী দেবার ঘটনাও অনেক প্রচলিত। এখনো আফ্রিকার অনেক জায়গায় এসব চালু আছে।
বিভিন্ন মিথে ডেভিলের ধারণার কল্পিত ছবি
সেমেটিক ধর্মগুলোতে সৃস্টিকর্তা ও শয়তান আলাদা, এখানে শয়তানের উপাসনা করা হয় না বরং শয়তানের হাত থেকে বাঁচতে সৃস্টিকর্তাকেই উপাসনা করা হয়। ধর্মগুলোর মধ্যে ইসলাম এবং খ্রিস্টান শয়তান এবং মানুষের উপর তার প্রভাবের ব্যাপারে বেশ ব্যা্পক আলোচনা করে, যা এই লেখার মূল উপজীব্য। কিন্তু আব্রাহামিক ধর্মের মধ্যে ইহুদিদের মধ্যে বর্তমানে শয়তানের প্রতক্ষ্য কোন আলোচনা নেই যদিও কিছু রাবি(ইহুদি আলেম) বলেন যে শয়তান আছে কিন্তু খ্রিস্টান বা ইসলামের মত ইহুদীদের কাছে শয়তান এবং তার প্রভাব কখনোই গুরুত্ব পায় নাই।
সেমেটিক ধর্মের বাইরে বড় ধর্মগুলোর মধ্যে হিন্দু ধর্মে শয়তান আছে অশুর, ভূত, পিশাচ এসব নামে। বিভিন্ন গল্পে এরা নানারকম রূপধারণ করে মানুষের ক্ষতি করে বলেও উল্লেখ আছে। এছাড়া বৌদ্ধ ধর্মে মারা নামে এক চরিত্র আছে যাকে শয়তানের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। কথিত আছে মারা গৌতম বুদ্ধের কাছে সুন্দরী নারীর সাজে এসেছিল তার ধ্যান ভঙ্গ করতে। মারা মানুষকে তার সৎ পথ থেকে দূরে সরিয়ে খারাপের দিকে নিয়ে যায়।
খ্রিস্টান এবং ইসলাম উভয় ধর্মমতেই অশরীরীরা মানুষকে আক্রমণ করে তার নিয়ন্ত্রন নিয়ে নিতে পারে, কম্পিউটার হ্যাক করে তার নিয়ন্ত্রণ নেবার মত। উভয় ধর্মেই শয়তানের কনসেপ্ট অনেকটাই এক। উভয় ধর্মেই ডেভিলের নাম শয়তান,ইসলামে তার আরেক নাম ইবলিস, খ্রিস্টান ধর্মে লুসিফার নামেও পরিচিত। শয়তান একা নয় বরং তার একটা বাহিনী আছে যাদের নিয়ে সে মানুষের ক্ষতি সাধন করে।
আর এই বাহিনী থেকেই চলে আসে আরেক অশরীরীর যাকে বলা হয় জিন। খ্রিস্টান ধর্মেও একই রকম এক সৃষ্টির কথা আছে যদিও ল্যাটিন বা ইংরেজিতে তাকে ডেভিল বলা হয়। তবে বাইবেলের আরবি অনুবাদের বেশ কয়েকটিতে “familiar spirit” এর অনুবাদ করা হয়েছে জিন(Leviticus 19:31, Lev 20:6, 1 Samuel 28:3, 1 Sa 28:9, 1Sa 28:7 সহ আরো অনেক জায়গায়)। এছাড়াও ইসলামপূর্ব যুগেও জিন নামে একধরণের সৃষ্টির কথা প্রচলিত ছিল। আর জিনদের একটা অংশ ইবলিশের বাহিনীর অংশ।
ইসলামিক বিশ্বাসে জিনদের মধ্যেও নানা মত আছে, তাদের মধ্যেও মানুষের মতই ভালো খারাপ আছে। আর এই খারাপ জিনেরা হচ্ছে ইবলিশের সাহায্যকারী। আর এই জিনেরাই মানুষকে আক্রমণ করতে পারে, তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে,যাকে বলা যেতে পারে Possession.  তাফসির এবং হাদিস ঘাটলে জিনের কিছু ঘটনা পাওয়া যায়। কুরানে জিনদের নিয়ে একটি সূরাই আছে, সুরা জিন,৭২ নম্বর সূরা। জিন মানুষকে আক্রমন করে এবং জিন তাড়ানোর ব্যাপারেও বলা আছে(যাকে আমরা Exorcism এর সাথে তুলনা করতে পারি,ইসলামে একে বলে রুকাইয়া)। বাইবেলেও অশরীরী তাড়ানোর ব্যাপারে বেশ কিছু কথা আছে আরএদের আরবি অনুবাদে জিন বলা হয়েছে।
কিন্তু জিন সত্যি আছে কিনা এটা বিজ্ঞান প্রমান করতে পারেনা ভূত আছে কিনা তার মতই। কিন্তু মুসলমানরা বিশ্বাস করে আছে, খ্রিস্টানরাও একই রকম ক্রিয়েচারে বিশ্বাস করে। অন্যান্য ধর্মেও জিনের মতই ক্রিয়েচার আছে। কিন্তু জিন মানেই কি খারাপ আর মানুষকে আক্রমণ করে বেড়ায়? না, সব জিন খারাপনা। তাদের মধ্যেও ভালো খারাপ আছে। আর ভূতের সকল বৈশিষ্ট্যই খারাপ জিনের মধ্যে দেখা যায়। এরা মানুষকে ভালো কাজ থেকে দূরে রাখে, খারাপের দিকে নিয়ে যায় এবং অনেক সময়মানুষকে সরাসরি আক্রমণ করে যেমনটা হরর মুভি বা গল্পে দেখা যায়।
জিন সবচেয়ে বিখ্যাত মনে হয় আলাদিনের গল্পে। সেই জিনের কথা আমরা সবাই জানি, ছোটতে কমিকবা কার্টুনে প্রায় সবাই দেখেছি। সেই জিন থাকে এক প্রদীপের ভিতর, প্রদীপে ঘষা দিলেইবের হয়ে আসে। আলাদিনের জিন :pআলাদিনের জিন :pকিন্তু সত্যিকারের জিনের ব্যাপারে খুব বেশি তথ্য পাওয়াযায় না। একমাত্র কিছু ইসলামিক সোর্স থেকে এদের সম্পর্কে অল্প কিছু তথ্য জানা যায়।এদের থাকার জায়গা হিসেবে বলা হয়ে থাকে পরিত্যাক্ত বাড়ি, নোংরা জলাশয়, টয়লেট এমনকি মানুষের সাধারণ বাড়ি। তবে সাধারণত মানুষ বর্জিত এলাকাগুলোই এদের বেশি প্রিয়। আর তারা বেশিরভাগ সময় চায় না কেউ তাদের বিরক্ত করুক। আর একারণেই পরিত্যাক্ত বাড়ি বা এলাকায় অনেক সময় “ভৌতিক” ঘটনার কথা শোনা যায় যা হয়ত জিন করে থাকে। কিন্তু কিছু হলেই সেটাকে জিনের নাম দিয়ে পার করানো যাবে না। কারণ এসব পরিত্যাক্ত এলাকায় অনেকে অবৈধ কাজ চলে এবং এসবের সাথে জড়িত লোকেরা মানুষকে দূরে রাখতে নানাভাবে ভয় দেখায়।সুতরাং ভূত বলে যদি কিছু থাকে সেটা হচ্ছে জিন। ভূত যা যা করে তার সবগুলোই করে খারাপ জিনেরা। এই জিনেরা মানুষের আগে থেকেই আছে বলে তাদের নিয়ে মানুষ শুরু থেকেই নানারকম গল্প তৈরি করে, যা যুগে যুগে মুখে মুখে নানা শাখা গজিয়ে ভূত, প্রেত বা অন্য নাম নিয়ে নানা জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু সব কিছুর মূলে আছে জিন। যদি জিনেবিশ্বাস থাকে তবে ভূতেও করতে হবে কেননা দুটোই এক জিনিস। সুতরাং ভূত অবশ্যই আছে।

ভূতের অস্তিত্ব বিশ্বাসের মাধ্যমে প্রমাণ করা গেল, যদিও পুরোটাই ধর্মীয় বিশ্বাস(বেশিরভাগটাই ইসলামিক) দিয়ে, জিনের মাধ্যমে। তাহলে যারা ইসলামিক বিশ্বাসে বিশ্বাসী না তারা কি করবেন? সকল ধর্মেই জিনের মত কিছু ক্রিয়েচার আছে, সেটাকেই ভূত বলে বিশ্বাস করতে হবে যদি আপনি আপনার ধর্মে পরিপূর্নরূপে বিশ্বাস করে থাকেন। আর যারা ধর্মেই বিশ্বাসী না তাদের জন্য কিছুই নেই কারণ আগেই বলেছি প্রমাণ শুধু বিশ্বাসের মাধ্যমেই সম্ভব। এখনো কোন সমীকরণ জানি না আমরা জিন বা ভূত(যেটাই বলুন) প্রমাণ করার।
কিন্তু যদি বলা হয় জিনের আক্রমণ এবং এর হাত থেকে মুক্তিরউপায় কি। জিন মানুষকে আক্রমন করে এটা সত্য এবং বিভিন্ন ব্যাবস্থা গ্রহন করে তাদের তাড়ানো যায় এটাও সত্য। আলোচনা এখন পুরোটাই ধর্মীয় এবং অনেকটাই  ইসলামিক বিশ্বাসের উপর নির্ভরশীল হয়ে যাবে।
হরর মুভি বা গল্পে দেখা যায়(যেগুলো বাস্তব বলে প্রচলিতসেগুলোর কথাই বলছি অবশ্যই) যার উপর ভর করে কোন কিছু সে অনেক আগের কথা জানে বা অনেক সময় ভবিষ্যতের অনেক কিছু বলে দেয়। কিভাবে? জিনদের একটা দল আগে আকাশে উঠে ফেরেশতাদের কথা শুনত সেখানে তারা অনেক গোপন ব্যাপার জেনে যেত আর পরে সেটা সহ নিজেদের কিছু কথা লাগিয়ে প্রচার করত। আর প্রত্যেক মানুষের সাথে একজন শয়তান থাকে, এটা সহীহ হাদিস দ্বারা প্রমানিত(সহিহ মুসলিম বুক ৩৯ হাদিস ৬৭৫৭)। আর এই শয়তান আক্রমণকারী জিনকে সাহায্য করবে এটা স্বাভাবিক। ফলে দুই শয়তানের মিলিত আক্রমণে আক্রান্ত ব্যাক্তির মুখ দিয়েএসব কথা বের হয়। এতে অনেকেই তার উপর ভক্তি প্রকাশ করে এবং শয়তানের উদ্দেশ্য সফল হয়- মানুষকে সৃস্টিকর্তা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। একই সাথে যাকে আক্রমণ করে তার মধ্যে অস্বাভাবিক শক্তির সঞ্চার করে আক্রমণকারী জিন।
কিন্তু কিভাবে বোঝা যাবে যে জিনের আক্রমণ হয়েছে? জিনের আক্রমনের সাথে মৃগী রোগের খুব ভালো সম্পর্ক আছে। মৃগী রোগী দেখলেই অনেক জায়গায় জিনধরেছে বলে ধরে নেয়া হয় এবং নানা রকম ঝাড়ফুক করানো হয়। কিন্তু মৃগী রোগী মানেই কি জিন ভরা করা ব্যাক্তি? তার আগে জেনে নেয়া যাক মৃগী রোগ কি।
মেডিকেল সাইন্সে মৃগী রোগ নিউরোলজি ডিসঅর্ডার জনিত একটি রোগ। আমাদের ব্রেইনের কোন একটি অংশ যদি কনট্রোলের বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত নিউরনাল সিগনাল তৈরী করতে শুরু করে তখন, অনিয়ন্ত্রিত খিচুনী হয়, একে বলে মৃগী রোগ।

মৃগী রোগ অনেকগুলো কারণে হতে পারে। এদেরকে প্রাইমারী এবং সেকেণ্ডারী দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। যে সকল ক্ষেত্রে এপিলেপসির কারণ হিসেবে ব্রেইনের কোন ফিজিক্যালকারণ খুঁজে পাওয়া যায় না, সে সকল ক্ষেত্রে তাদেরকে প্রাইমারী বলেঅভিহিত করা হয়। আর কারণ পাওয়া গেলে সেকেণ্ডারী বলে অভিহিত করা হয়।
প্রাইমারী সাধারণত শিশুকিশোর বয়সে শুরু হয়। সেকেন্ডারী অধিকাংশ ক্ষেত্রে এডাল্ট বয়সে গিয়ে হয়। সেকেণ্ডারীর কারনের মধ্যে কয়েকটি হলো:
১. মাথায় রক্ত ক্ষরণবা রক্ত সঞ্চালনের অনুপস্তিতি তথা স্ট্রোক
২. ব্রেইন টিউমার
৩. রক্তে লবনের(বিশেষত সোডিয়াম) কম বেশী হওয়া
৪. রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ এত মাত্রায় কমে যাওয়া যে ব্রেইনে অক্সিজেন যথেষ্ট পরিমানে কমে যায়।
মৃগী রোগে যে নিউরোট্রান্সমিটারগুলো বেশী বেশী ক্ষরণ হয় ওগুলোরবিপরীতে ঔষধ তৈরী করা হয়েছে এবং এগুলো ব্যবহার করে অধিকাংশ রোগীর খিচুনী নিয়ন্ত্রনেআনা যায়। তবে ব্যাক্তি ভেদে ঔষধেরপরিমান বিভিন্ন লাগতে পারে, যেটা ধীরে ধীরে বাড়াতে হয়।
মৃগী রোগীর অস্বাভাবিক খিঁচুনি অনেকের জন্য ভয়ের হয়ে যায়এবং একে অনেকেই জিনের আক্রমণ মনে করে অনেক কিছু করে থাকে। কিন্তু এটা জেনে রাখা জরুরী যে মৃগী রোগ বা খিঁচুনি মানেই জিনের আক্রমণ না। এটা উপরের কোন কারণেও হতে পারে। জিনে আক্রমণ করলে এগুলো হতে পারে কিন্তু আরো কিছু ব্যাপার এর সাথে যোগ হবে। ধর্মীয় যেকোন ব্যাপার তাকে বিকর্ষণ করবে, ভয় পাবে সেগুলোকে। সিনেমা বা গল্পগুলোতে নিশ্চয় দেখেছেন/পড়েছেন পবিত্র পানি বা ক্রুশ দিয়ে ভয় দেখায়। ঠিক এরকম হবে যদি আজান দেয়া হয়, কোরান পাঠ করা হয় বা জমজমের পানি ছিটানো হয়।
যদি নিশ্চিত হওয়া যায় যে এটা জিনের আক্রমণ তখনই কেবল রুকাইয়া(Exorcism) করতে হবে। কিন্তু যে কেউ এর অধিকার রাখে না। এর জন্য অবশ্যই একজন প্রাকটিসিং মুসলিম ব্যাক্তি দরকার। গ্রাম অঞ্চলে ওঝা বা যাকে তাকে দিয়ে করানো হয় এবং না বুঝেই তারা পরিস্থিতি অনেক খারাপ করে ফেলে। যে রুকাইয়া করবে তিনি একজন ইমাম বা সেরকম হলে ভালো হয়। তাকে এটা বিশ্বাস করতে হবে যে তিনি যা করছেন তার কোনটাই নিজের না, এটা আল্লাহ  সাহায্য করছেন। যা পড়বেন তা আরবিতে হতে হবে, কোরান ছাড়া অন্য কোথাও থেকে কিছু পাঠ করা যাবেনা। নিজের বানানো মন্ত্র পড়া যাবে না। একমাত্র আল্লাহর বানীর উপর ভরসা করতে হবেএবং সবচেয়ে বড় ব্যাপার তার ধৈর্য্য থাকতে হবে।
রুকাইয়ার প্রসেস অনেক বড়। জমজমের পানি লাগে, কোরানের কিছু আয়াত আছে বিস্তারিত এখানে বলছি না। এটা ইসলামিক নিয়ম। খ্রিস্টান কেউ করতেচাইলে তাকে স্থানীয় বিশপের অনুমতি নিতে হয়। ক্রুশ লাগে, পবিত্র পানি লাগে(জর্ডান নদীর পানি যেখানে ঈসা(আ) কে ব্যাপটাইস্ট করা হয়েছিল বলা হয়)। এছাড়া বিভিন্ন ওঝা বাতান্ত্রিকরাও কিন্তু সফলভাবে জিন(বা অন্য যাই বলুন) তাড়াতে পারে তাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে।
Christ Exorcising a Mute by Gustav Dore, 1865.Christ Exorcising a Mute by Gustav Dore, 1865.
***এবার যা বলব তা পুরোটাই ইসলামিক। চাইলে এটিসহ পরের তিনটি প্যারা স্কিপ করতে পারেন। আগের প্যারাতেই বললাম খ্রিস্টান এক্সোরসিস্ট বা ওঝারাও সফল হচ্ছে জিন বা ডেমন তাড়াতে। কিন্তু কিভাবে? যেখানে কোরানের বাণী ছাড়া অন্য কারো পারার কথা না তারা কিভাবে হচ্ছে? উত্তর হচ্ছে কারন শয়তান অনেক সময় সেটাই চায়।ইসলামে এসব ক্ষেত্রে কোরানের বানী ছাড়া অন্য কোন কিছুর সাহায্য নেয়া শিরক। আর শয়তান তো এটাই চায়, মানুষ যেন শিরক করে।
যখন তারা দেখবে ক্রুশ শয়তানকে তাড়ায় দিচ্ছে  তারা ক্রুশের প্রতি ভক্তি প্রকাশ করবে। যখনদেখবে তান্ত্রিকদের মন্ত্র শয়তানকে দূর করছে তখন অনেকেই তার অনুসারী হবে। আর এসবমন্ত্র ইসলামে ডার্ক ম্যাজিক কারণ এর কোনটাই আল্লাহর বানী না, এগুলা মানুষের নিজের বানানো। তাই এটা শিরক। এভাবে শয়তান চায় মানুষকে আল্লাহ হতে দূরে সরে গিয়ে এসব শিরকি কাজে লিপ্ত হয়। তারা সফল হচ্ছে কিন্তু তারা ডার্ক ম্যাজিক ব্যাবহার করছে।
এই নোটে ম্যাজিক নিয়ে তেমন লেখার ইচ্ছা নেই। ডার্ক ম্যাজিক শয়তানের খুব প্রিয় একটা অস্ত্র।ডার্ক ম্যাজিক চর্চা করা মানে হচ্ছে সৃস্টিকর্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা। আরশয়তান ঠিক এই কাজটাই করায় তার প্রিয় খারাপ জিন বাহিনীর দ্বারা।***
সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া The Conjuring সিনেমার দুইজন প্রধান চরিত্র-এডওয়ার্ড এবং লোরেইন ওরায়েন খুব বিখ্যাত এক্সোরসিস্ট। এড মারা গেলেও লোরেইন এখনো বেঁচে আছে এবং কাজ করে যাচ্ছে। তাদের দুই জনের মিলিত কাজ প্রায় কয়েক হাজার। এর মধ্যে এমিটিভিলের কাহিনি সবচেয়ে জনপ্রিয়।
Edward and Lorrain Warren, original photoEdward and Lorrain Warren, original photo
একটা অবাক করা ব্যাপার পেলাম এই নোট লেখতে গিয়ে, মাদার তেরেসাকে একবার এক্সোরসিজম করানো হয়েছিল, কলকাতার আর্চবিশপ হেনরি ডি’সুজা মাদার তেরেসার মধ্যে কিছু অস্বাভাবিক ব্যাপার দেখে তার এক্সোরসজিম করান। আরেকটা মজার ব্যাপার, ” Ghost Einstein” দিয়েগুগলে সার্চ দিলে প্রায় ৬ মিলিয়ন(!!!!!) এনট্রি আসে। অনেকেই E=mc2 সুত্রকে দিয়ে ভূত প্রমাণ করতে চায়।তাদের কথা মানুষ মারা যাবার পর তার আত্মা এনার্জি হিসেবে শরীর থেকে চলে যায়। আর এই এনার্জি হচ্ছে ভূত। কিন্তু আমরা বাস্তুতন্ত্র থেকে জানি মারা যাবার পর এনার্জি শরীরেই থাকে আর সেটা পরে  নানা জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে ঠিক যেভাবে সেগুলো শরীরে এসেছিল। তবুও অনেকেই অনেক থিওরি দিচ্ছে, দিতেই থাকবে।
ভূত বা জিন নাই বলা হোক না কেন তা অবশ্যই আছে, তাকে তাড়ানোর উপায় ও আছে অনেকগুলো। কিন্তু মাঝে মধ্যে কিছু জিন অনেক বেশি শক্তিশালী থাকে তাদের তাড়ানো যায় না সহজে। এক্ষেত্রে এটাকে মানুষের সীমাবদ্ধতা বলেই ধরে নিতে হবে। পৃথিবীতে সব রহস্যের সমাধান নেই, কিছু রহস্য সবসময় রহস্যই থেকে যাবে, মানুষএগুলোকে সমাধান করতে পারবে না।সব রহস্যের সমাধান হয়ে গেলে মানুষের হাতে আর কিছু থাকবে না।