Friday, September 7, 2018

তথাকথিত মহানবীর বহুবিবাহের তথাকথিত রাজনৈতিক কারণ।

ইসলামী এপোলোজিস্টদের মতানুসারে নবী মুহাম্মদ তার অধিকাংশ স্ত্রীকেই বিবাহ করেছিলেন রাজনৈতিক কারণে। রাজনৈতিক অত্যাবশ্যকতার জন্য তিনি অনেক বিবাহ করেছিলেন।
তবে এ ধরণের দাবি কোনো ধর্মান্ধতা মুক্ত যুক্তিবাদী বিবেকবান মানুষ গ্রহণ করেন না। তারা বলেন, তিনি এতো সংখ্যক বিয়ে করেছেন রাজনৈতিক প্রয়োজনে যা অনেক দূরের ব্যাপার , একসাথে একের বেশি সহধর্মিনী রাখা কোন কিছু দিয়েই সমর্থনযোগ্য করা যায় না। যদি তিনি বহুবিবাহ ছাড়া তার রাজনৈতিক সমস্যা দূরীকরণে আর কোনো পথ দেখতে না পায় তাহলে পরিষ্কারভাবে এটাই প্রমাণিত হয় যে, মুহাম্মদ কোনো নবী ছিলেন না। যিনি একজন ঈশ্বরের দূত, যিনি অনেক অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী তিনি খুব সহজেই রাজনৈতিক সমস্যাদি দূর করতে পারবেন। একজন অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী মানুষ কখনওই রাজনৈতিক সমস্যায় পড়ে কিংবা সমস্যার কাছে হার মেনে বহুবিবাহের মতো অগ্রহণযোগ্য ব্যবস্থায় জড়াবেন না। যেহেতু ইসলাম অনুযায়ী চারটি পর্যন্ত বিয়ে করা হালাল সেহেতু চারটি পর্যন্ত বিয়ে করা গ্রহণযোগ্য ধরে নিচ্ছি। তবে মুহাম্মদ সেই সীমাও ত্যাগ করেছেন।
এখন আপনি উক্ত বিষয়ে এই বলে দাঁড়ি টানতে পারেন যে সপ্তম শতাব্দীতে আরবে বহুবিবাহ খুব সাধারণ ছিলো এবং মুহম্মদ সেই সময়ের রীতিনীতি ও মানদন্ড অনুসারে ভুল কিছু করেন নি। যা কিছু কিছু মুমিনদের স্বস্তি দিবে এভাবে যে, সেইসময়ের মানদন্ড হিসেবে মুহম্মদ একজন ভালো ব্যক্তি ছিলেন, কিন্তু এটা ইসলামিক ধর্মতত্ত্বের বিপরীতে যাচ্ছে, এবং একটা প্রশ্ন ঘুরে ফিরে আসছেই যে মুহাম্মদের নিজের জীবনে ১১ টি সহধর্মিনী থাকলেও এবং পরে আরো বিবাহ করার ইচ্ছা থাকলেও কেন মুহাম্মদ অন্যান্য মুমিনদের জন্য ৪ টার বেশি সহধর্মিনী না রাখার নিয়ম বেঁধে দিলেন? এমনকি যখন ঘায়লান-ইবনে-সালামা ইসলাম ধর্ম গ্রহন করলেন তখন তাঁকে ১০ জন সহধর্মিনীর মধ্যে ৬ জন সহধর্মিনীর সাথে বিবাহবিচ্ছেদ করতে হয়েছিলো যখন সেইসময় মুহাম্মদ ১০ টা সহধর্মিনী বর্তমান ছিলো।
কেন মুহম্মদ ‘চার’ সংখ্যাকেই বেছে নিলেন এবং এ সংখ্যাকেই মুমিনদের সর্বোচ্চ সহধর্মিনী রাখার সংখ্যা হিসেবে জোরদার নিয়ম চালু করলেন যখন তিনি নিজেই এই প্রথা মানতে ব্যর্থ? যদি উত্তর হয়, রাজনৈতিক অত্যাবশ্যকতা তাহলে আমরা এমন কিছু ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক পরিস্থিতি আশা করি, যেই পরিস্থিতিতে ইসলামের ভবিষৎ রক্ষার্থে মুহাম্মদ এতো সংখ্যক বিবাহ করেছিলেন।
সেই সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যতিক্রম কি ছিলো সেটা ব্যাখ্যা করে অনেকেই এ বিষয়ে অনেক আর্টিকেল লিখেছেন। কিছু লেখকরা মুহাম্মদের এসব বিবাহের রাজনৈতিক সুবিধাও ব্যাখ্যা করেছেন (প্রকৃত সত্য কে জলাঞ্জলি দিয়ে) কিন্তু উনারা এটা ব্যাখ্যা করেন না, কেন রাজনৈতিক সংকট এত জরুরী ছিলো ও বাধ্যকারী যে মুহাম্মদকে নিজের বানানো রীতিই ভাঙতে বাধ্য হতে হলো? উনারা কখনোই এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হন নি, ‘যদি মুহাম্মদ এই মহিলাদেরকে বিবাহ না করতেন তাহলে ইসলামের পরিণতি কি হত?’
মনে করুন, যে মুহাম্মদের প্রথম সহধর্মিনী খাদিজা-বিনতে-খুওয়ালিদ আরো ১৫ বছর বেঁচে ছিলেন। মনে করুন আয়েশা বা অন্য কোনো মহিলা নয়, একমাত্র খাদিজাই মুহাম্মদের মৃত্যুশয্যার পাশে ছিলেন তাহলে কি ইসলামের ওপর কোনো বড় দুর্যোগ নেমে আসতো? মুহম্মদের জীবনে রাজনৈতিক সংকটের পরিণতি কি হত? চলুন সেগুলো একটু ব্যাখ্যা করা যাক।
১. (৬১৬-৬১৯)― কুরাইশরা মক্কায় হাশিম এর বিরুদ্ধে জোরপূর্বক বাণিজ্যিক অবরোধ শুরু করে। ফলস্বরূপ মুমিনদের কে খাদিজার সম্পত্তির ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকতে হয়েছিলো, যদিও মুসলিম ঐতিহাসিকরা এটা সরাসরি উপস্থাপন করেন না। অবশেষে অবরোধটি খুব সম্ভবত তুলে নেয়া হয় কারণ মুহাম্মদ শয়তানের সাথে সমঝোতায় আসতে রাজি হন।
২. (৬২২)― কুরাইশরা মুহাম্মদকে মৃত্যদণ্ডের আদেশ দেয়। সেই যাত্রায় মুহাম্মদ তার লোকজন সহ মদিনায় পালিয়ে আসেন এবং নিজের প্রাণ বাঁচান। যদি খাদিজা বেঁচে থাকতেন তাহলে তিনি সওদাহ নয় বরং ফাতিমারই অনুসঙ্গী হতেন।
৩. (৬২৪-৬২৭)― মদিনায় অবস্থানরত ইহিদীরা ঘোষণা দেন তারা বিশ্বাস করে না যে, মুহাম্মদ তাদের মসিহা ছিলেন। যার ফলে মুহাম্মদ মদিনায় অবস্থিত ইহুদিদের হত্যা করে মদিনার রাজাধিরাজ হয়ে বসেন। যদি খাদিজা বেঁচে থাকতেন তাহলে খুব সম্ভবত জিব্রাইল বিশ্বাসঘাতক ইহুদিদের ব্যাপারে আল্লাহর আদেশ হিন্দ-বিনতে-উৎবার কাছে না এনে তাঁর ঘরেই বয়ে আনতেন।
৪. (৬২৭)― বহিষ্কৃত ইহুদি ও কিছু বেদুইন নেতাদের সাথে নিয়ে মক্কাবাসীরা মদিনা অভিযান করতে রওনা হয় যুদ্ধক্ষেত্রে মুহাম্মদকে হত্যা করার আশা নিয়ে। কিন্তু মুহাম্মদ মদিনার চারপাশে একটি পরিখা খনন করে দেয়ায় তাদের অভিযান ব্যর্থ হয়। সেই সময়ে মুহাম্মদ একটি কিলাব উপজাতির ওপর দখল নেয় এবং মক্কার বিরুদ্ধে করা বাণিজ্যিক অবরোধ থেকে তাদের সুরক্ষিত করে। অবশেষে মুহাম্মদ সেই অবরোধ তোলার সিদ্ধান্ত নেয় (কবে অবরোধ তোলা হয়েছিল তার তারিখ জানা যায়নি কিন্তু মক্কাবাসীরা ক্ষুধার্ত হয়ে উঠেছিল)। তখন মক্কাবাসীরা শিক্ষা পেয়েছিলো যে মুহাম্মদকে সরাসরি আক্রমণ করা যাবে না। যদি খাদিজা বেঁচে থাকতেন তাহলে মুহাম্মদ সম্ভবত কিলাবিটিসদের উপর দখল নিতেন ও একইভাবে মক্কা অবরুদ্ধ করতেন।
৫. (৬২৮)― এদিকে মুহাম্মদ বেঁচে থাকা ইহুদিদের বিরুদ্ধে অগ্রক্রয়াধিকার সংক্রান্ত ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। খাইবারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধজয়ের পর আরবে থাকা প্রতিটা ইহুদী দাসে পরিণত হয়। তখন মুহাম্মদ আঁচ করতে পেরেছিলেন যে তাদের গাতাফান মিত্রশক্তি প্রতিশোধ নিতে পারে। যদি খাদিজা বেঁচে থাকতেন তাহলে সম্ভবত হিন্দ-বিনতে-উৎবা খাইবারে ফার্স্ট এইড বক্স বহন করে আনতেন।
৬. (৬৩০)― যখন মক্কাবাসীরা অনাহারে প্রায় মরণাপন্ন তখন মুহাম্মদ দশ হাজার সৈন্য নিয়ে মক্কা বিজয়ে রওনা হলেন। মক্কার রাজা আত্মসমর্পণ করে এবং তার গলায় তরবারি ঠেকিয়ে জোরপূর্বক ইসলাম ধর্মের দাওয়াত দেয়া হয়। এ বিজয় গাতাফানদের জন্য সাবধানীবাণী স্বরূপ ছিলো এবং ইয়েমেনিরাও মুসলিমবাহিনীদের সাথে যুদ্ধ করার বদলে তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করে। যদি খাদিজা বেঁচে থাকতেন তাহলে এটা কল্পনা করা খুব কষ্টকর হতো যে এখানের পরিস্থিতি কেমন হতো।
৭. (৬৩০-৬৩২)― আরবে যা কিছু অবশিষ্ট ছিলো তা মুহাম্মদ দখল করে নেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সেখানকার রাজা ছিলেন। যদি খাদিজা বেঁচে থাকতেন তাহলে তিনি আরবের রানী হতেন।
সুতরাং আমরা দেখতে পাচ্ছি উপরিউক্ত রাজনৈতিক সমস্যাসমূহ কোনোভাবেই বৈবাহিক সূত্র দিয়ে সমাধান হয়নি। যদি খাদিজা বেঁচে থাকতেন তাহলে ইসলামের ভাগ্য একটু অন্যরকমভাবে নির্ধারিত হতো। মুহাম্মদ উপদ্বীপসমূহ দখল করতেন এবং সেখানে তার প্রচারিত ধর্মকে আরোপিত করতেন।
এবার একটু অন্যভাবে দিয়ে দেখা যাক।
যদি মুহাম্মদ অন্য নারীদের বিবাহ করতে ব্যর্থ হতেন তাহলে ইসলাম তার কি কি সুবিধা হারাতো?

১. যদি মুহাম্মদ আয়েশা, সওদাহ অথবা হাফসা কে বিবাহ না করতেন তাহলে তাকে অর্থ সংগ্রহের জন্য অন্য পথ দেখতে হতো।

২. তিনি তিনি জয়নাবকে বিবাহ না করতেন তাহলে তিনি নিজেকে কিছু অসুবিধার মুখ থেকে বাঁচাতে পারতেন। কারণ চারটি পর্যন্ত সহধর্মিনী রাখার রীতিটি ভাঙার জন্য তাঁকে এমনিতেই সামাজিক বিমূঢ়তায় পড়তে হয়েছিলো।

৩. যদি তিনি মূল্যাখ, ফতিমা, আসমা বা আমরাকে বিবাহ না করতেন তাহলে তাদের সাথে বিবাহবিচ্ছেদ করতে হতো না যা তাদের পরিবারের সাথে মুহাম্মদকে সম্পর্ক সুমধুর রাখতে সাহায্য করতো। তাৎক্ষণিক ভাবে মনে হতেই পারে যে আসমার হয়তো কোন বিশেষ রাজনৈতিক গুরুত্ব ছিলো কিন্তু তার সাথেও বিবাহবিচ্ছেদ এটাই প্রমান করে যে, পরিবারের মত আসমারও কোনো গুরুত্ব ছিলো না।
৪. যদি তিনি জয়নাব, হিন্দ, অথবা মায়মুনাহকে বিবাহ না করতেন তাহলে ইসলামের কিছুই পরিবর্তন হতো না।

৫.যদি তিনি ৪ জন দাসীকে গ্রহণ না করতেন যাদের কোনো রাজনৈতিক প্রয়োজনীয়তা ছিলো না, তাহলে তিনি নিজেকে বিখ্যাত ‘লুচ্চা নবী’ উপাধি থেকে বাঁচানোর একটা সুযোগ খুঁজে পেতেন।
মুহাম্মদের শুধুমাত্র ৩ টি বিবাহ যেকোনো অর্থে রাজনৈতিক ভাবে বিবেচনা করা হয় যেসব বিয়ে ৬২৮ খ্রিষ্টাব্দে হয়েছিলো। কিন্তু সেইবছর রাজনৈতিক অচলাবস্থা কেমন ছিলো? আসুন দেখে নেয়া যাক :

১. জুহারিয়া একটি ক্ষুদ্র নেতার কন্যা ছিলেন যার উপজাতি গোষ্ঠী শুধুমাত্র একটি অভিযানে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছিলো। ক্ষুদ্র উপজাতিটি কিন্তু মুহম্মদের অমনোযোগীতার জন্য কোনো সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়নি যদিও তিনি তার কন্যাকে বিবাহ করেন। মুহাম্মদ বছরের পর বছর অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপজাতিদের জয় করেছেন কিন্তু সেই ধারা বজায় রাখার জন্য জুহারিয়াকে বিবাহ না করলেও হতো।

২. মক্কার রাজা আবু সুফান এর কন্যা ছিলেন রামলা যিনি অনেক বছর আগেই ইসলামের পক্ষ ত্যাগ করেছিলেন যা সম্পর্কে তিনি তার পিতাকে অবগত করেছিলেন। বদরের যুদ্ধে মুসলিমরা যে তার ভাইকে হত্যা করেছিলো কিংবা মুহাম্মদ যে তার পিতাকে হত্যা করার জন্য গুপ্তঘাতক (যদিও এই হত্যা ব্যর্থ হয় কিন্তু সবাই জানতো যে এর পেছনে মুহম্মদের ই হাত ছিলো) পাঠিয়েছিলেন- এইসব ব্যাপারে তিনি কোনোদিনই মাথা ঘামান নি। সুতরাং, রামলাকে বিবাহ করা আবু সুফিয়ানের সাথে মিত্রতা তৈরি করেনি। বরং বিষয়টা মুহাম্মদের শত্রুকে একটি মানসিক তিরস্কার প্রদান করেছিলো, যার নিজের কন্যা তার পিতাকে প্রত্যাখ্যান করেছিলো মুহাম্মদের সুবিধার্থে। এমনকি যখন আবু সুফান তার কন্যার মাধ্যমে মুহাম্মদের সাথে শান্তি বজায় রাখার জন্য সবকিছু মীমাংসা করার চেষ্টা করছিলেন তখন তার কন্য সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানায়। বিবাহটি হয়তো একজন অভাগা পিতার কাছে মানসিক আঘাতের কারণ। ফলস্বরূপ তিনি এতে স্বাভাবিক ভাবেই উৎসাহী ছিলেন না যা তার চূড়ান্ত পরাজয়কে নির্দেশ করে।

৩. সাফিয়া খাইবারের প্রথম নারী ছিলেন, যিনি ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত ছিলেন। খাইবার জয়লাভের পর মুহম্মদ সাফিয়াকে বিবাহ করেন। তবে এই মিলন ইহুদীদের জন্য কোন সুবিধা বয়ে আনে নি। পরে মৃত্যুশয্যায় মুহাম্মদ সাফিয়ার উপস্থিতিতে বয়ান দিয়েছিলেন যে তিনি বেঁচে থাকা সমস্ত ইহুদী আরব থেকে তাড়াতে চেয়েছিলেন। এটা অত্যন্ত সন্দেহজনক যে, সাফিয়ার সহিত বিয়ে মুহাম্মদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করার ব্যাপারে ইহুদীদের নিরুৎসাহিত করেছিলো। তাছাড়া বিদ্রোহ না করার আরো একটি প্রধান কারণ হলো যে, তারা তা করার জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল না, যদি তারা মুহাম্মদকে পরাজিত করার জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী হয়ে থাকতো তাহলে সাফিয়া মদিনায় বন্দি থাকার কারণে তারা ভীত হয়ে থাকতো না।

যদি মুহাম্মদ এ তিনজন নারীকে বিবাহ না করতেন তবে নিশ্চিতভাবেই অনুমান করা যায়, তাদের স্ব স্ব গোত্র কখনওই নিজেদের আচরণ পরিবর্তন করতেন না। রাজনৈতিক কারণে তার এসব বিয়ের প্রয়োজন ছিলো না।

Wednesday, September 5, 2018

কৃষিকেন্দ্রিক আদিম জাদুবিশ্বাস : নারী ও দেবী।

ইসলামকে পচানোর জন্য নাস্তিকেরা প্রায়ই বলে থাকে যে ইসলাম নারীকে শস্যক্ষেত্রের সাথে তুলনা করেছে। আপাতদৃষ্টিতে বিষয়টিকে নারীঅবমাননা মনে হলেও যদি এই কথার উৎস বা কেন এক ধরনের কথা বলা হয়েছিল, সেটা খুঁজে দেখার চেষ্টা করা হয়, তাহলে ধর্মের উৎপত্তি বিষয়ক একটি দিকে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যেতে পারে। সত্যি বলতে এই কথা ইসলামেই প্রথম নয়; হিন্দুধর্মে আরো অনেক আগেই বলা আছে। সেভাবে খুঁজলে হয়তো প্রায় সকল ধর্মেই বা সকল সমাজের গোড়াতেই, বিশেষ করে কৃষিকে কেন্দ্র করে যে লোকায়ত সমাজ বা সভ্যতা গড়ে উঠেছিলে, এই ধরনের কোনো না কোনো কথা পাওয়া যাবে।
২)
কৃষিকাজ নারীদের আবিষ্কার–এটা আর নতুন করে ব্যাখ্যা করার কিছু নেই। প্যাট আর চ্যাট–অর্থাত খাদ্য–জীবনধারণ আর বংশরক্ষা–এই তো দুনিয়া! বাঁচার তাগিদেই মানুষ একসময় একত্রে বসবাস শুরু করে, অস্তিত্ব বজায় রাখতে মৃত্যুহারের সাথে পাল্লা দিয়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধির দিকে নজর দেয়। আর সেই সাথে খাদ্যের জোগান। মেয়েরা কৃষিকাজ আবিষ্কার করে ফেললে পরে খাদ্যের চাহিদা মিটতে শুরু করল। তখন তারা নজর দিল জনসংখ্যা বৃদ্ধির দিকে।
তো সভ্যতাকে সামনে এগিয়ে নিতে এই খাদ্য উৎপাদন আর জনসংখ্যা বৃদ্ধি–দুইটি কাজেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল জমি ও গর্ভের উর্বরতা। সন্তান জন্ম দেয়ার ক্ষমতা এবং শস্য ফলানোর পদ্ধতি আবিষ্কারের জন্য নারীরা হয়ে উঠল গুরুত্বপূর্ণ, এবং লাভ করল দেবীর আসন। তবে সন্তান উৎপাদনের রহস্যটা অনেক আগে থেকেই মানুষের জানা এবং তাতে নিশ্চয়তা ছিল–নারীকে রাজী করানো, আয়ত্বে আনা, সঙ্গম, গর্ভধারণ–এসব জানা ছিল। কিন্তু শস্য উৎপাদনের বিষয়টায় কোনো নিশ্চয়তা ছিল না। জমির উর্বরতা, সেই সাথে প্রকৃতির আশীর্বাদ–রোদ-বৃষ্টি–এগুলো মানুষের হাতে ছিল না। এই প্রকৃতিকে আয়ত্বে আনার ইচ্ছা থেকেই কৃষিকেন্দ্রিক আদিম জাদুবিশ্বাসের জন্ম।
“কৃষিকেন্দ্রিক জাদুবিশ্বাসের মূল কথাটা কী? মানবীয় প্রজননের সাহায্যে বা সংস্পর্শে প্রকৃতির উৎপাদনকে আয়ত্তে আনবার পরিকল্পনা।”–বলেছেন দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়।
৩)
এই বিশ্বাস নিয়ে বিস্তারিত বলতে গিয়ে ‘লোকায়ত দর্শন’ গ্রন্থে দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় তন্ত্র নিয়ে আলোচনা করেছেন।
“তান্ত্রিকযোগসাধনার আলোচনা থেকে স্বভাবতই দেহতত্ত্বের আলোচনায় গিয়ে পড়তে হয়। লোকায়তরউৎস সন্ধানে এই দেহতত্ত্বের আলোচনাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। …মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী লোকায়তিকের সঙ্গে তান্ত্রিক বা কাপালিকাদির যে যোগাযোগের প্রতি আমাদের দৃষ্টিআকর্ষণ করেছেন, তার ভিত্তি বলতে শুধুমাত্র এইটুকুই নয় যে, পুরোনো পুঁথিপত্রে উভয়ের মধ্যে একটা সম্পর্ক স্বীকৃত হয়েছে। তাছাড়াও, দার্শনিক তত্ত্বের দিক থেকেও লোকায়তিকও তান্ত্রিকাদি ধ্যানধারণার মধ্যে যোগাযোগটা অস্পষ্ট নয়। লোকায়ত বলতে বোঝায় বস্তুবাদ, দেহাত্মবাদ; অর্থাৎ কিনা, আত্মা নেই, ঈশ্বর নেই, পরকাল নেই, পরলোক নেই, দেহই হলো চরম ও সার সত্য। আবার, দেহবাদই হলো তান্ত্রিকাদি বিশ্বাসের প্রাণবস্তু,—যদিও অবশ্যই আধুনিক বিদ্বানের আধুনিক ধ্যানধারণার প্রভাবে ওই দেহতত্ত্বের উপর বস্তুবাদ-বিরোধী —এবং অতএব বিজাতীয়—আধ্যাত্মিক ধ্যানধারণা আরোপ করে বিষয়টিকে কৃত্রিমভাবে রহস্যময় করে তুলেছেন।”
লোকায়ত দর্শন-এর ‘তন্ত্রের দেহতত্ব’ অধ্যায়ে আরো কিছু কথা আছে–
‘দেহতত্ত্বের মূল কথা : যাহা আছে দেহভাণ্ডে, তাহাই আছে ব্ৰহ্মাণ্ডে। অর্থাৎ, “ব্ৰহ্মাণ্ডে যে গুণাঃ সন্তি তে তিষ্ঠন্তি কলেবরে”। ইহাই সকল তন্ত্রের সিদ্ধান্ত।… স্বভাবতই, এই তত্ত্বের দিক থেকে বিশ্বের উৎপত্তিকেও মানবীয় সন্তান উৎপত্তির অনুরূপ হিসেবেই কল্পনা করা হয়েছে : তন্ত্রমতে পুরুষ ও প্রকৃতির আদি-মৈথুন থেকেই বিশ্বের উৎপত্তি।…
পুরাণে হরগৌরীর কৃষ্ণরাধিকার যে-সব লীলা উপাখ্যানের আকারে বর্ণিত আছে, তাহা দেহগত স্ত্রীত্ব এবং পুংস্তের নানা লীলার বাহ্যিক অভিব্যঞ্জনা মাত্র। এই দেহতেই কৈলাস, এই দেহতেই হিমালয়,—এ দেহতেই বৃন্দাবন, এই দেহতেই গোবর্ধন; এই দেহাভ্যন্তরেই হরগৌরী বা কৃষ্ণরাধিকা নানা লীলানাট্য প্রকাশ করিতেছে…’
[তন্ত্র অনার্যদের তত্ত্ব। এই তন্ত্রেরই একটা ধারা হলো বৈষ্ণবমত। কৃষ্ণ বৈষ্ণব ছিলেন। তাহলে কৃষ্ণ অর্জনকে যে বিশ্বরূপ দর্শন করাইছিলেন, সেটা তাহলে এই দেহতত্ত্বের রূপক?!]
৪)
যা হোক, দেবীপ্রসাদ তারপর বলেছেন–
“কৃষিকেন্দ্রিক আদিম জাদুবিশ্বাস থেকেই যদি তন্ত্রের সৃষ্টিতত্ত্ব ও দেহতত্ত্বের উদ্ভব হয়ে থাকে,— তাহলে ওই সৃষ্টিতত্ত্ব ও দেহতত্ত্বের অনুরূপ চিন্তাধারার পরিচয় অন্যান্য কৃষিভিত্তিক সভ্যতার ক্ষেত্রেও খুঁজে পাওয়া উচিত। এবং তা পাওয়া যায়ও।…”
এরপর তিনি এই কৃষিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ট্রাইব্যাল সমাজের কিছু বিশ্বাস ও রীতিনীতি তুলে ধরেছেন–
“নিকরগুয়া বলে রেড-ইণ্ডিয়ানরা বীজ বোনবার সময়থেকে ফসল কাটার দিনটি পর্যন্ত সুকঠিন ব্রহ্মচর্য পালন করে; পুরুষেরা স্ত্রীদের সঙ্গে এক বাড়িতে রাত্রি যাপনকরে না, নুন বা তাড়ি খায় না—এককথায়, স্পানিস ঐতিহাসিক যেমন বলছেন, এই সময়টিতে তাদের কঠিন আত্মসংযমের পালা। আধুনিক যুগ পর্যন্ত মধ্য-আমেরিকারকোনো কোনো রেড-ইণ্ডিয়ান ট্রাইবকে শস্য বৃদ্ধির কামনায় ব্ৰহ্মচর্য পালন করতে দেখা গিয়েছে। কেকচি-জাতির মধ্যে বীজবপন প্রসঙ্গে পাঁচদিন এবং অন্য কোনো কোনো জাতির মধ্যে তেরো দিন কঠোর সংযম পালনের নিয়ম। হাঙ্গেরিতেও একই নিয়ম চোখে পড়ে : কৃষকদের বিশ্বাস এভাবে সংযম পালন না করলে শস্য দুর্বল হবে। মধ্য-অস্ট্রেলিয়ায়কাইটিস নামের ট্রাইবের মধ্যে প্রথা হলো, শস্য-বৃদ্ধি কামনায় মোড়ল যতোদিন জাদুআনুষ্ঠান চালাবে ততোদিন পর্যন্ত সে স্ত্রী-সংসর্গ করবে না; তার বিশ্বাস এই নিয়মটি ভঙ্গ হলে বীজ থেকে ঘাসউৎপন্ন হওয়া বন্ধ হবে।”
অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, মানুষ এই কৃষি এবং শস্য উৎপাদন প্রক্রিয়াটিকে সন্তান উৎপাদনের সাথে এক করে দেখছে। সন্তান-উৎপাদনের রহস্য আর শস্য-উৎপাদনের রহস্য এক হয়ে গিয়েছিল আদিম মানুষের কাছে। অর্থাৎ শস্য উৎপাদন = প্রজনন প্রক্রিয়া। লাঙ্গল = লিঙ্গ। ক্ষেত্র বা জমি = যোনি বা গর্ভ। বীজ = বীর্য। (এখানে উল্লেখ্য–লাঙ্গল, লিঙ্গ–শব্দ দুইটি একই ধাতু থেকে উৎপন্ন হয়েছে।) অর্থাৎ যেভাবে মায়ের থেকে সন্তানের জন্ম হয়, ঠিক একই ভাবে ভূমি কর্ষণ করে শস্য উৎপাদন সম্ভব, তাই ভূমিও মা। পৃথিবীকে আজও মানুষ ‘মাদার আর্থ’ বলেই সম্মান করে।
উপরে দেখেছি–“লোকায়ত বলতে বোঝায় বস্তুবাদ, দেহাত্মবাদ; অর্থাৎ কিনা, আত্মা নেই, ঈশ্বর নেই, পরকাল নেই, পরলোক নেই, দেহই হলো চরম ও সার সত্য। আবার, দেহবাদই হলো তান্ত্রিকাদি বিশ্বাসের প্রাণবস্তু।” আবার তান্ত্রিক সাহিত্যে কোথাও নারী না পেলে বোন বা মায়ের সাথে সাধনা করার কথা আছে। কেন আছে? সভ্যতার চাকা চালু রাখতে পুরাই বাস্তব চিন্তাভাবনা। এই চিন্তাভাবনা থেকেই প্রাচীন মিশরে ভাই-বোনের বিয়ে হত। আব্রাহামিক ধর্মগুলোতে হাওয়ার সাথে তার সন্তানের বা ভাই-বোনের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধির ইঙ্গিত আছে, হিন্দুধর্মে সৃষ্টিকর্তার সাথে নিজ মেয়ের সঙ্গমের ইঙ্গিত আছে। [দেবীপ্রসাদ বলেন, “প্রাচীন বিশ্বাসের সঙ্গে আধুনিক জ্ঞানের অনেক তফাত।” তাই এখন আর এ ধরনের কাহিনীতে বা ইঙ্গিতে অবাক হই না। বরং এসব চিন্তাভাবনা বা বিশ্বাসটা কিভাবে এলো সেটা প্রাচীন মানুষের চিন্তাভাবনা, অবস্থার প্রেক্ষাপটে বোঝার চেষ্টা করছি।]
৫)
আগেই বলেছিলাম যে, কৃষিভিত্তিক সমাজে নারীরা লাভ করল দেবীর আসন। পুরুষতান্ত্রিক বৈদিক সাহিত্যে নারীর তুলনায় পুরুষ দেবতার সংখ্যা অনেক বেশি। কিন্তু কৃষিকে কেন্দ্র করে যে হরপ্পা-মহেনজোদারো সভ্যতা গড়ে উঠেছিল, সেখানে দেবীমূর্তি পাওয়া গেছে অনেক বেশি। কৃষিকেন্দ্রিক বিভিন্ন সভ্যতায় দেবীদের প্রাধান্য দেখা যায়। যেমন, সিরিয়ায় অস্টারটি দেবী, এশিয়া-মাইনরে সিবেলি দেবী, মিশরে আইসিস দেবী, এবং একই ভাবে অনার্য ভারতীয় সমাজে শাক্তমতবাদ–কালী দেবী। আবার এই কালীই হলেন দেবী দুর্গা। দুর্গার আবার সরাসরি কিছু কৃষিকেন্দ্রিক দেবীর রূপ আছে–অন্নপূর্ণা (খাদ্যের দেবী), লক্ষ্মী (শস্যের দেবী)। একই ভাবে যদি ইসলামপূর্ব আরবে যান, সেখানেও চান্দ্রদেবতা হুবাল অর্থাৎ আল্যার তিন কন্যার একজনকে দেখবেন শস্য হাতে। অর্থাৎ এরকম সমাজগুলোতে মেয়েরাই কৃষিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখে পরবর্তীতে শস্যদেবীর আসন লাভ করেছিল। গ্রামের দিকে আজো মেয়েরা পুরুষের তেমন কোনো ভূমিকা ছাড়াই বাড়ি সংলগ্ন জমিতে বিভিন্ন প্রকার শাকসবজি ফলিয়ে থাকে।
৬)
স্ত্রীবাচক শব্দগুলো ঐতিহ্য। তন্ত্রশাস্ত্র পড়েন। লোকায়তিক সংস্কৃতির দিকে তাকান। মাতৃতান্ত্রিক সমাজে স্ত্রীবাচক শব্দের সংখ্যা বেশি। প্রকৃতি-পুরুষ। এদের কাছে পুরুষের ভূমিকা খুব কম। বাকি সব কিছুই এদের কাছে প্রকৃতি অর্থাৎ নারী। এজন্য এদের তৈরী বেশিরভাগ শব্দ স্ত্রীবাচক। এমনকি পৃথিবী নামক গ্রহটাও প্রায় সকল মানুষের কাছে মাতৃরূপে তথা নারী হিসেবেই ধরা দেয়। এগুলা দেখা নারীবাদীদের ‘অফেন্স’ হওয়ার কিছু নাই। পুরুষতান্ত্রিকতার প্রভাবে এসব নেগেটিভ ভাবে ব্যবহৃত হলেও মূলত এসবই আমাদের ঐতিহ্য এবং অতীত নিদর্শন।
tin-konya

উগ্র হোন, গালিবাজ হোন, খারাপ হোন।

দেশভাগের সময় বাংলাদেশের ব্রাহ্মণ ও উচ্চবর্ণের হিন্দুদের বিশাল বিশাল বাড়িঘর, ধনসম্পত্তি, জায়গা-জমি, পুকুর ভরা মাছ, গোয়াল ভরা গরু ফেলে কোনো রকমে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার কাহিনী শুনলে মানবতার খাতিরে খারাপ লাগলেও ইতিহাসকে যখন সাক্ষী মানি–তখন ঠোঁটের কোণে একটু ক্রুর হাসি ফুটে ওঠে। সত্য বড় নির্মম, সেই সাথে তিতাও!–এ কথা একটু বিস্তারিত ভাবে ব্যাখ্যা না করলে হয়তো ভুল বোঝার অবকাশ থেকে যাবে।
বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদ–বাংলার আদিবাসী কোমদের–ডোম, চণ্ডাল, ডোলাবাহী, চর্মকার, শবর প্রভৃতি–সমাজের নিচু স্তরের শ্রমিকশ্রেণীর জীবনচিত্র। এসব কোমদের নিজস্ব রীতি-নীতি-সংস্কৃতি ছিল। আর রাজার ধর্মই প্রজার ধর্ম–ওই সময়কালে বাংলাদেশে ছিল বৌদ্ধদের শাসন। তাই প্রথাগত ধর্ম হিসাবে তারা বৌদ্ধধর্মকে অনুসরণ করত। তার আগে? যখন বৌদ্ধ শাসকেরা বাংলায় আসে নি, তখন, বলা বাহুল্য, এরা তাদের নিজস্ব ‘লোকায়তিক ধর্ম’ নিয়েই থাকত।
তো এই বাংলাদেশের চর্যাপদ নেপাল গেলো কিভাবে? ধারণা করা হয়, বাংলার এই আদিবাসী ‘বৌদ্ধরা’ হিন্দুদের দ্বারা বিতাড়িত হয়েছিল। ওরা হয়তো বাংলাদেশ থেকে নেপাল হয়ে তিব্বতের দিকে পালাচ্ছিল।
কিন্তু বাংলাদেশে হিন্দু এলো কিভাবে? রাজনৈতিক পালাবদলে বৌদ্ধ পাল বংশের পরে দক্ষিণাত্য থেকে আগত হিন্দু সেন বংশের আগমন। কিন্তু তখনো হিন্দুধর্ম বলতে যে ব্রাহ্মণ্যবাদী ধর্মের কথা বুঝায়–সেটা অতটা গেড়ে বসেনি। কিন্তু তার আয়োজন শুরু হয়ে গেছে আরো কয়েকশ বছর আগে থেকে।
নীহাররঞ্জন রায়ের ‘বাঙলীর ইতিহাস – আদিপর্ব’তে দেখি বাংলাদেশে ‘বৈদিক ব্রাহ্মণ’ আসার দুইটি কাহিনী আছে–“একটি কাহিনী মতে, বাংলাদেশে যথার্থ বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণ না থাকায় এবং যজ্ঞাগ্নি যথানিয়মে রক্ষিত না হওয়ায় রাজা শ্যামলবর্মণ (বোধ হয় বর্মণরাজ সামল বর্মণ) কান্যকুব্জ (কোনও কোনও গ্রন্থমতে, বারাণসী) হইতে ১০০১ শকাব্দে পাঁচজন বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণ আনয়ন করেন। অপর কাহিনী মতে সরস্বতী নদীতীরস্থ বৈদিক ব্রাহ্মণেরা যবনাক্রমণের ভয়ে ভীত হইয়া বাংলাদেশে পলাইয়া আসেন, এবং বর্মণরাজ হরিবর্মণের পোষকতায় ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায় বসবাস আরম্ভ করেন।”
[প্রাচীন বাংলার ইতিহাস পড়তে গেলে দুইটি জায়গার নাম প্রায়ই ঘুরে ফিরে আসে–একটি হলো বিক্রমপুর, আরেকটি কোটালিপাড়া। আপাতত বিক্রমপুর থাক; কোটালিপাড়ার দিকে একটু নজর দেই। নীহাররঞ্জন রায় দেখান–“কোটালিপাড়ায় প্রাপ্ত ষষ্ঠ শতকের একটি লিপিতে চন্দ্ৰবৰ্মণকোট বলিয়া একটি দুর্গের উল্লেখ আছে। সামরিক প্রয়োজনে এই দুর্গ-নগর গড়িয়া উঠিয়াছিল, সন্দেহ নাই। কিন্তু এই লিপিতে এবং এই স্থানে প্রাপ্ত সমসাময়িক অন্যান্য লিপিতে স্থানটি যে নৌবাণিজ্যপ্রধান ছিল তাহারও ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এই কোট হইতেই বর্তমান কোটালিপাড়া নামের উদ্ভব, এরূপ অনুমান একেবারে অযৌক্তিক নয়।” কিন্তু তখনও এই নগর সবে মাত্র গড়ে উঠতেছে। আরো তথ্য ঘাটলে দেখা যায়–“ষষ্ঠ শতকে ফরিদপুরের কোটালিপাড়া অঞ্চল নূতন সৃষ্ট হইয়াছে মাত্র, তখনও তাহার নাম ‘নব্যারকাশিকা’, এবং সম্ভবত এই জনপদ তখন প্রায় সমুদ্রতীরবর্তী। বাখরগঞ্জের ‘নাব্য’ অঞ্চল তাহার অনেক পরের সৃষ্টি।” পঞ্চম শতকের দিকে সবে দ্বীপের মত জেগে ওঠে–পদ্মার একেবারে দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়ে। এর দক্ষিণ-পশ্চিমে ছিল সুন্দরবনের সীমা। ঘাঘর নদীটি এই অঞ্চলটিকে সুন্দরবন থেকে আলাদা করে রাখে। (পরের দিকে ধীরে ধীরে দক্ষিণ পূর্বে বরিশাল অঞ্চলের দ্বীপগুলোর (চন্দ্রদ্বীপ) সৃষ্টি হয়। আর এই ঘাঘর নদীটি উত্তরে মরে যেতে থাকে, দক্ষিণে কালীগঙ্গা এবং আরো পরে বালেশ্বর নদী হিসাবে থেকে যায়।)]
১০০১ শকাব্দ মানে (১০০১+৭৮) ১০৭৯ খ্রিস্টাব্দের কাহিনী। কিন্তু এমনিতে বাংলাদেশে ব্রাহ্মণ আসার সূত্রপাত হয় পঞ্চম-ষষ্ঠ-সপ্তম শতকের দিকে। এরাই প্রায় তিনশ-সাড়ে তিনশ বছর ধরে একটু একটু করে বাংলাদেশে বৈদিক, আর্য ও পৌরাণিক ব্রাহ্মণ্যধর্মের সূত্রপাত ঘটায়। আর্যদের গতিবিধি লক্ষ্য করতে দেখা যায়–এরা এমনিতেই উত্তর-পশ্চিম থেকে ক্রমশ পূর্ব-দক্ষিণে সরে আসছিল। আর ওই সময়ে তাদের যে ধারাটা বাংলাদেশের দিকে আসছিল, তারা খুব সম্ভবত পশ্চিম থেকে মুসলমানদের আক্রমণে সরে আসছিল। তো বাংলাদেশে এরা যখন ‘শরনার্থী’ হিসাবে আসা শুরু করল, তখন এই বাংলার সহজ-সরল আদিবাসী মানুষেরা তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছে, অন্ন দিয়েছে। কেউ কেউ আবার জায়গাজমি কিনে বসবাস শুরু করে। এরকম জায়গা দেয়া, কেনা-বেচা বা শাসকদের কাছ থেকে দানপ্রাপ্তের প্রচুর ঐতিহাসিক তথ্য বিদ্যমান। এদের ‘লাইফস্টাইল’ যে স্থানীয় জনসাধারণের থেকে কিছুটা হলেও উন্নত ছিল, সে বলাই বাহুল্য। ধীরে ধীরে বাংলার শাসক ও অভিজাতশ্রেণী এদের ‘লাইফস্টাইল’ দ্বারা প্রভাবিত হতে শুরু করল। ব্রাহ্মণেরাও সেই সুযোগে এই শাসক শ্রেণীর সহায়তায় পৌরাণিক কাহিনী রচনা (বই লেখা), একটু একটু করে ব্রাহ্মণ্য ধর্ম প্রচার করা, মন্দির-মূর্তি বানিয়ে পূজার্চনা করা, স্থানীয়দের শেখানো–এভাবেই হিন্দুধর্মের সূত্রপাত এই বাংলায়। শেষে যখন হিন্দুরাই রাজা হয়ে গেল, ব্রাহ্মণেরা মন্ত্রী হিসাবে দেশ চালাতে লাগল–রাজার ধর্মই হয়ে গেলো প্রজার ধর্ম। আর যারা ধর্মান্তরিত হতে চায় নি, তারা কেউ মারা পড়ল, কেউ প্রাণ ভয়ে উত্তর-পূর্বের পাহাড়িয়া-দুর্গম অঞ্চলের দিকে সরে গেল, পালিয়ে গেল।
ইতিহাসের চাকা ঘোরে। দেশে ইসলাম এলো। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস–যে ব্রাহ্মণ ও উচ্চবর্ণের হিন্দুরা এই দেশে উড়ে এসে জুড়ে বসেছিল, তারাই আবার এদেশ ছেড়ে ঘরবাড়ি-জায়গা-জমি ফেলে পালাতে লাগল। বিষয়টা মানবিকতা বা বর্তমান নৈতিকতার মানদণ্ডে খারাপ লাগলেও এটাই ইতিহাসের শিক্ষা! বাংলাদেশে থেকে যাওয়া বেশিরভাগ হিন্দু সমাজের সেই নিম্নবর্ণের লোক। যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে তারাও বেশিরভাগ সেই নিম্নবর্ণের হিন্দু; যারা আগে বৌদ্ধ ছিল–বৌদ্ধ শাসকদের প্রভাবেই হয়েছিল নিশ্চয়ই; তার আগে তারা পালন করত নিজেদের কৌম সমাজের রীতিনীতি… আর তার আগে?… সৎ সাহস নিয়ে ইতিহাস খুঁজলে খুঁজে পেতে অসুবিধা হবে না…
তত আগে গিয়ে এই লেখা আর বড় না করি। তুলনামূলক ভাবে আদিকালের বৌদ্ধরা হিন্দুদের চেয়ে বেশি ‘সভ্য’ ছিল, তখনকার হিন্দুরা এখনকার মুসলমানদের চেয়ে বেশি ‘সভ্য’ ছিল–এই অর্থে যে, আমরা দিন দিন শিক্ষিত হচ্ছি, সভ্য হচ্ছি বলে দাবী করি। সেই দাবীর তুলনায় আমাদের যে কর্মকাণ্ড চারদিকে দেখি, সেই তুলনায় আমাদের পূর্বপ্রজন্ম অনেক বেশি ‘মানবিক’ ছিল।
ইতিহাস সাক্ষী–বাংলাদেশে বর্বরতার সূত্রপাত হয়েছে উত্তর ভারতীয় আর্য-বংশধরদের হাত ধরে, বর্বরতা লালিত-পালিত হয়েছে ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুদের হাতে, আর (এখন পর্যন্ত) বর্বরতার চরম সীমা আমদানি হয়েছে আরবীয় ইসলামের মাধ্যমে।
২) বাংলাদেশে হিন্দুধর্মের প্রসারের পেছনে মন্দির-মূর্তির ভূমিকা থাকলেও মূল ভূমিকা হিন্দুধর্ম-গ্রন্থগুলির। ইসলামের প্রসারের পেছনে মসজিদের ভূমিকার সাথে আরো আছে ইসলামধর্মীয়-গ্রন্থ এবং বর্তমানের ওয়াজ কালচার।
চার্বাকরা যখন ব্রাহ্মণ্যধর্মের বিরুদ্ধে লেগেছিল, তখন (দেবীপ্রসাদ বলেন)–“চার্বাকদের ব্ৰাহ্মণ্যবিদ্বেষ নিছক বিদ্বেষ ছিল না, রীতিমত দার্শনিক ভিত্তির উপর তার প্রতিষ্ঠা ছিল এবং বিপক্ষের বহুমুখী প্ৰচেষ্টা সত্ত্বেও এ মতবাদকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করে দেওয়া কোনোদিন সম্ভব হয়নি।” তখনকার দিনের ভাববাদীরা চার্বাকদের যুক্তির ক্ষমতা বুঝত। চার্বাকরা ঈশ্বর, আত্মা, পরলোক সবাই উড়িয়ে দিত। তখনকার দিনের ভাববাদীরা আর সব মতাবাদের চেয়ে বেশি ভয় পেত চার্বাকবাদকে। চার্বাকরা লেখালেখি করত। কিন্তু ভাববাদীরা শাসক শ্রেণীর সহায়তায় এদের সমস্ত লেখালেখি ধ্বংস করে দেয়, এদেরকে উৎখাত করার চেষ্টা চালালেও, শারীরিক ভাবে আক্রমন করলেও সেই সেই চার্বাক দর্শন বা নাস্তিক্যবাদ এখনো আছে। চার্বাকরা কেমন ছিল, কী করত, কী বলত–তার কিছু কথা আবার ভাববাদীরাই সংকলন করে রেখেছে। মাধবাচাৰ্য তার ‘সর্বদর্শনসংগ্রহ’তে লিখেছেন–সেইকালে চার্বাকরা নাকি বলত যে, “মৃতের উদ্দেশে প্ৰেতকাৰ্য প্রভৃতি ব্ৰাহ্মণদের জীবনোপায় ছাড়া আর কিছু নয়। যারা তিন তিনটে বেদ রচনা করেছে তারা বেবাক ভণ্ড-ধূর্ত-নিশাচরের দল।”
এইকালের নাস্তিকরাও ধর্মপ্রচারকদেরকে ভণ্ড, লুইচ্চা, প্রতারক–এরকম ‘গালি’ দিয়ে থাকে, কিন্তু যুগের তুলনায় সেই যুগে চার্বাকরা যেভাবে সরাসরি বেদ রচনাকারীদেরকে ভণ্ড-ধূর্ত-নিশাচর বলত, তার তুলনায় এই যুগের উগ্র, গালিবাজ, খারাপ নাস্তিকদের ‘গালাগালি’ কিছুই না। ব্রাহ্মণ্যবাদীরা যেভাবে চার্বাকদের লেখালেখি ধ্বংস করে দিয়েছিল, তাদের উপর যে বর্বর আক্রমন চালিয়ে উৎখাত করেছিল, এখনকার দিনের ধর্মবাদীরাও সেই একই ভাবে নাস্তিকদের বই ব্যান করে, পাবলিশারদের হত্যা করে, লেখক-ব্লগারদের কুপিয়ে মারে। কিন্তু শারীরিক ভাবে আক্রমন করেও ‘আইডিয়া’ ধ্বংস করা যায় নি। উলটো পরিণতিতে দেখা যায়–ব্রাহ্মণ্যবাদীরাই শেষ পর্যন্ত লেজ গুটিয়ে পালাচ্ছে। মুসলমানদের আক্রমনে হয়তো এ যুগের নাস্তিকরাও শেষ হয়ে যাবে এভাবে–কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদেরও পরিণতি হবে ওই ব্রাহ্মণ্যবাদীদের মতই। ইতিহাস তাই বলে।
৩) ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য কিছু রেখে যেতে চাইলে আরো উগ্রতা, আরো গালাগালি, আরো ক্ষুরধার লেখা এবং সেগুলার যথাযথ রক্ষাণাবেক্ষণে নজর দেয়া উচিত বলে মনে করি। (নারীবাদ, নারীবাদীসহ যে কোনো ‘বাদী’দের জন্যও একই কথা–লেখালেখিতে আরো উগ্র হোন, আরো ‘গালাগালি’ করেন, আক্রমনের তীব্রতা আরো বাড়ান…) বই লেখেন, ওয়েবসাইটে লেখেন, ফেসবুকে লেখেন, পাবলিক ব্লগে লেখেন, ব্যাকআপ রাখেন একাধিক জায়গায়–নিজস্ব ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে বা ফ্রি ব্লগে… পড়েন, অন্যদের পড়ান, তথ্য শেয়ার করেন, নিজস্ব চিন্তাভাবনা উন্নত করেন, যুক্তিতে ধার দেন, যা ইচ্ছা তাই লেখেন, মনে যা আছে তাই লেখেন, নিয়মিত লেখেন, একলাইন, একটি শব্দ–তাও লিখে রাখেন… এগুলোই ভবিষ্যত প্রজন্মকে নিজস্ব পথ নির্ধারণ করে নিতে সহায়তা করবে।

Sunday, September 2, 2018

গণিতের শর্টকাট টেকনিক।

পর্ব০১
★প্রয়োজনের সময় খোঁজে পেতে শেয়ার করে রাখুন।
১।মৌলিক সংখ্যা নির্ণয়
১-১০০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা ২৫ টি। কিভাবে মনে রাখবেন?
Just remember as a phone number or your account
number: 44 22 322 321
(৪) ১-১০ পর্যন্ত ৪ টি যথাঃ ২, ৩, ৫,৭
(৪) ১১-২০ পর্যন্ত ৪ টি যথাঃ ১১, ১৩, ১৭,১৯
(২) ২১-৩০ পর্যন্ত ২ টি যথাঃ ২৩, ২৯
(২) ৩১-৪০ পর্যন্ত ২ টি যথাঃ ৩১, ৩৭
(৩) ৪১-৫০ পর্যন্ত ৩ টি যথাঃ ৪১, ৪৩, ৪৭
(২) ৫১-৬০ পর্যন্ত ২ টি যথাঃ ৫৩, ৫৯
(২) ৬১-৭০ পর্যন্ত ২ টি যথাঃ ৬১, ৬৭
(৩) ৭১-৮০ পর্যন্ত ৩ টি যথাঃ ৭১, ৭৩, ৭৯
(২) ৮১-৯০ পর্যন্ত ২ টি যথাঃ ৮৩, ৮৯
(১) ৯১-১০০ পর্যন্ত ১ টি যথাঃ ৯৭ মোট ২৫ টি।
----------------
11 থেকে 99 পর্যন্ত বর্গ করার কৌশল-
সূত্র:- (xy)^2=abc [যেখানে;b,cএকটি করে সংখ্যা & a এক বা একাধিক সংখ্যা হতে
পারে] এবং
a=x^2
b=2xy
c=y^2
এবার 11 &25 বর্গ করি৷
(11)^2=(1^2)(2.1.1)(1^2)
=(1)(2)(1)
=121
আবার
(25)^2=(2^2)(2.2.5)(5^2)
=(4)(20)(25)
=(4)(20+2)5
=(4)(22)5
=(4+2)25
=625
২। লাভ -ক্ষতি
টপিকস : লাভ -ক্ষতি:
আইটেম -১
একটি দ্রব্য নির্দিষ্ট % লাভে/ক্ষতিতে বিক্রয় করা হয়।
বিক্রয় মূল্য ..... টাকা বেশি হলে % লাভে/ক্ষতি হয়।
ক্রয়মূল্য নির্ণয় করতে হবে।
উদা: একটি মোবাইল ১০ % ক্ষতিতে বিক্রয় করা হয়।
বিক্রয় মূল্য ৪৫ টাকা বেশি হলে ৫% লাভে হত ।
ক্রয়মূল্য নির্ণয় করতে হবে।
টেকনিক :
ক্রয়মূল্য ={১০০xযত বেশি থাকবে}/ উল্লেখিত শতকরা হারদুটির যোগফল)
অঙ্কটির সমাধান:
ক্রয়মূল্য ={১০০x৪৫}/ {১০+৫)
=৪৫০০/১৫
=৩০০ (উত্তর)
. .
নিজে নিজে করুন
১। একটি কলম ১০ % ক্ষতিতে বিক্রয় করা হয়। বিক্রয়
মূল্য ৩০ টাকা বেশি হলে ৫% লাভে হত ।ক্রয়মূল্য নির্ণয়
করতে হবে। (২০০)
২। একটি কম্পিউটার২০ % ক্ষতিতে বিক্রয় করা হয়।
বিক্রয় মূল্য ১৫০০ টাকা বেশি হলে ৫% লাভে হত ।
ক্রয়মূল্য
নির্ণয় করতে হবে। (৬০০০)
============
আইটেম :-২
-কোন দ্রব্যের মূল্য নির্দিষ্ট ৫% কমে যাওয়ায় দ্রব্যটি ৬০০০ টাকা পূর্ব অপেক্ষা ১ কুইন্টাল বেশি পাওয়া
যায়। ১ কুইন্টাল এর বর্তমান মূল্য কত?
টেকনিক :
বর্তমান মূল্য: শতকরা হার/১০০) x{যে টাকা দেওয়া থাকবে/ কম-বেশি সংখ্যার পরিমাণ}x যত পরিমাণের মূল্য বাহির করতে বলা হবে।
উদাহরণটির সমাধান:
বর্তমান মূল্য = (৫/১০০)x(৬০০০/১)x১
= ৭২০ টাকা । (উত্তর)
নিজে করুন:
৩। কোন দ্রব্যের মূল্য নির্দিষ্ট ৩০% কমে যাওয়ায় দ্রব্যটি ৬০০০ টাকায় পূর্ব অপেক্ষা ৬ কুইন্টাল বেশি পাওয়া যায়। ১০কুইন্টাল এর বর্তমান মূল্য কত? (উত্তর: ৩০০০০টাকা)
৪। কলার মূল্য নির্দিষ্ট ২৫% কমে যাওয়ায় দ্রব্যটি ১০০ টাকায় পূর্ব অপেক্ষা ২৫ টি বেশি পাওয়া যায়।
৩ হালি কলার বর্তমান মূল্য কত?( উত্তর:১২)
অঙ্কের ধরণ:
টাকায় নির্দিষ্ট দরে নির্দিষ্ট পরিমাণ দ্রব্য কিনে
সেই টাকায় নিদিষ্ট কম-বেশি দরে বিক্রি করায় শতকরা লাভ-ক্ষতির হার নির্ণয় করতে হবে ।
টেকনিক:
লাভ/ক্ষতি = ১০০/ বিক্রির সংখ্যা
উদা: টাকায় ৩টি করে লেবু কিনে ২টি করে বিক্রি করলে শতকরা লাভ কত?(২৬তম বিসিএস)
টেকনিক:
লাভ= ১০০/ বিক্রির সংখ্যা
=১০০/২
=৫০% (উত্তর)
নিজে করুন:
১। টাকায় ৫টি করে লেবু কিনে ৪টি করে বিক্রি
করলে শতকরা লাভ কত?
২। টাকায় ২১টি করে লেবু কিনে ২০টি করে বিক্রি
করলে শতকরা লাভ কত?
৩।টাকায় ৯টি করে লেবু কিনে ১০টি করে বিক্রি
করলে শতকরা ক্ষতি কত?
৪।টাকায় ৪৯টি করে লেবু কিনে ৫০টি করে বিক্রি
করলে শতকরা লাভ কত?
# 1_টেকনিক :::
দ্রব্যমূল্যের শতকরা হার হ্রাস পাওয়ায়–
# দ্রব্যের_বর্তমান_মূল্য = (হ্রাসকৃত মূল্যেহার X মোট
মূল্য)÷(১০০ + যে পরিমাণ পণ্য বেশি হয়েছে)
# উদাহরণঃচালের মূল্য ১২% কমে যাওয়ায় ৬,০০০ টাকায় পূর্বাপেক্ষা ১ কুইন্টাল চাল বেশি পাওয়া যায়। ১ কুইন্টাল চালের দাম কত?
# সমাধানঃদ্রব্যের বর্তমান মূল্য = (১২ X ৬০০০)÷(১০০X ১)
= ৭২০ টাকা(উঃ)
# 2_টেকনিক :::::
মূল্য বা ব্যবহার হ্রাস-বৃদ্ধির ক্ষেত্রে–
# হ্রাসের_হার =(বৃদ্ধির হার X হ্রাসের হার)÷১০০
# উদাহরণঃচিনির মূল্য ২০% কমলো কিন্তু চিনির ব্যবহার ২০%বেড়ে গেল এতে চিনি বাবদ ব্যয় শতকরা কত বাড়বে বা কমবে?
# সমাধানঃহ্রাসের হার = (২০ X ২০)÷১০০
= ৪%(উঃ)
# 3_টেকনিক ;::::::
পূর্ব মূল্য এবং বর্তমান মূল্য অনুপাতে দেওয়া থাকলে মূল্যের শতকরা হ্রাস বের করতে হলে –
# শতকরা_মূল্য_হ্রাস
=(অনুপাতের বিয়োগফল X (১০০÷অনুপাতের প্রথম সংখ্যা)
# উদাহরণঃমাসুদের আয় ও ব্যয় এর অনুপাত ২০:১৫ হলে তার মাসিক সঞ্চয় আয়ের শতকরা কত ভাগ?
# সমাধানঃশতকরা মূল্য হার = (২০-১৫) X (১০০÷২০)=
২৫%(উঃ)
টাইপ ১ঃ (যদি দাম বাড়ে)
চালের দাম যদি ৪০% বেড়ে যায় তবে চালের ব্যাবহার শতকরা কত কমালে চালের ব্যয় অপরিবর্তিত থাকবে?
টেকনিকঃ
কমানো % = (100 × r) / (100 + r) (দাম বাড়লে ফর্মুলায় প্লাস ব্যাবহার হয়েছে) এখানে r = 40%
Answer = (100 × 40)/(100 + 40) = 28.57%
টাইপ ২ঃ (যদি দাম কমে)
চালের দাম যদি ৪০% কমে যায় তবে চালের ব্যাবহার শতকরা কত বাড়ালে চালের ব্যয় অপরিবর্তিত
থাকবে?
টেকনিকঃ
বাড়ানো % = (100 × r)/(100- r) (দাম কমলে ফর্মুলায় মাইনাস ব্যাবহার হয়েছে)
এখানে r = 40%
Answer = (100 × 40)/(100- 40) = 66.66% Raysul Islam
Redoy
টাইপ ৩ঃ (যদি r এর মান ২০% দেয়া থাকে তবে বাড়ুক কমুক যে টাইপ সমস্যাই দেয়া হোক না কেন চোখ বন্ধ করে উত্তর হবে ২৫%, আর ২৫% দেয়া থাকলে উত্তর হবে ২০% )
Example 1: চালের দাম যদি 25% বেড়ে যায় তবে চালের ব্যাবহার শতকরা কত কমালে চালের ব্যয়
অপরিবর্তিত থাকবে?
উত্তরঃ 20% যদি ২৫% কমে দেওয়া থাকে তাহলে উত্তর হবে ৩৩.৩৩%
Example 2: চালের দাম যদি 20% বেড়ে যায় তবে চালের ব্যাবহার শতকরা কত কমালে চালের ব্যয়
অপরিবর্তিত থাকবে?
উত্তরঃ 25%
৩। সুদ কষা
১। শতকরা বার্ষিক কত হার সুদে কোন মুলধন ২৫ বছরে ৩ গুন হবে?
২। শতকরা ২০টাকা হারে সুদে কোন মুলধন কত বছরে আসলের দ্বিগুন হবে?
টেকনিক:
যতগুন থাকবে তার থেকে ১ বিয়োগ করে ১০০ দিয়ে গুন করে তাকে তাকে প্রদত্ত হার দিয়ে ভাগ করলে সময় বের হবে । আর যদি প্রদত্ত বছর দিয়ে ভাগ করা হয় তাহলে হার বের হবে।
অর্থাৎ সূত্রটি-
rxt =(n-1)x100. ( এখানে r= শতকরা হার ,t = সময় )
.Raysul Islam Redoy
এখন ১নং অঙ্কটি করি দেওয়া আছে, t=২৫, n =৩ ; r=?
r= {(n-1)x100}/t
={(৩-১)x১০০}২৫
={২x১০০}২৫
=২০০/২৫
=৮ % (উত্তর)

২নং অঙ্কটি করি
দেওয়া আছে t=?, n =২ ; r=২০
t= {(n-1)x100}/r
={(২-১)x১০০}/২০
=১০০/২০
=৫ বছর
============
নিজে করুন :
১। শতকরা বার্ষিক কত হার সুদে কোন মুলধন ১০বছরে ৩ গুন হবে?
২। শতকরা বার্ষিক কত হার সুদে কোন মুলধন ৫ বছরে ২ গুন হবে?
৩। শতকরা ১০টাকা হারে সুদে কোন মুলধন কত বছরে আসলের ৩ গুন হবে?
৪।শতকরা ১৫টাকা হারে সুদে কোন মুলধন কত বছরে আসলের ৪ গুন হবে?
সূত্রঃ ১
যখন মুলধন, সময় এবং সুদের হার সংক্রান্ত মান দেওয়া থাকবে তখন সুদ / মুনাফা = (মুলধন x সময় x সুদের হার) / ১০০
প্রশ্নঃ ৯.৫% হারে সরল সুদে ৬০০ টাকার ২ বছরের সুদ
কত?
সমাধানঃ
সুদ / মুনাফা = (৬০০ x ২ x ৯.৫) / ১০০
= ১১৪ টাকা
সূত্রঃ ২
যখন সুদ, মুলধন এবং সুদের হার দেওয়া থাকে তখন – সময় = (সুদ x ১০০) / (মুলধন x সুদের হার)
প্রশ্নঃ ৫% হারে কত সময়ে ৫০০ টাকার মুনাফা ১০০
টাকা হবে?
সমাধানঃ
সময় = (১০০ x ১০০) / (৫০০ x ৫)
= ৪ বছর
সূত্রঃ ৩
যখন সুদে মূলে গুণ হয় এবং সুদের হার উল্লেখ থাকে তখন – সময় = (সুদেমূলে যতগুণ – ১) / সুদের হার x ১০০
প্রশ্নঃ বার্ষিক শতকরা ১০ টাকা হার সুদে কোন মূলধন কত বছর পরে সুদে আসলে দ্বিগুণ হবে?
সমাধানঃ
সময় = (২– ১) /১০ x ১০০
= ১০ বছর
সূত্রঃ ৪
যখন সুদে মূলে গুণ হয় এবং সময় উল্লেখ থাকে তখন সুদের হার = (সুদেমূলে যতগুণ – ১) / সময় x ১০০
প্রশ্নঃ সরল সুদের হার শতকরা কত টাকা হলে, যে কোন মূলধন ৮ বছরে সুদে আসলে তিনগুণ হবে?
সমাধানঃ
সুদের হার = (৩ – ১) / ৮ x ১০০
= ২৫%
সূত্রঃ ৫
যখন সুদ সময় ও মূলধন দেওয়া থাকে তখন সুদের হার = (সুদ x ১০০) / (আসল বা মূলধন x সময়)
প্রশ্নঃ শতকরা বার্ষিক কত টাকা হার সুদে ৫ বছরের ৪০০ টাকার সুদ ১৪০ টাকা হবে?
সমাধানঃ
সুদের হার = (১৪০ x ১০০) / (৪০০ x ৫)
= ৭ টাকা
----------------------------
চক্রবৃদ্ধি সুদ নির্ণয়
---------------------
টেকনিক:
যে সুদের হার দেওয়া থাকবে তাকে বছর অনুযায়ী যোগ করুন এবং হারের বর্গকে ১০০ দিয়ে ভাগ করে
ভাগফলের সাথে হারের যোগফল যোগ করে যা পাওয়া যাবে সেটা মোট টাকার শতকরা বের করলেই চক্রবৃদ্ধি সুদ পাওয়া যাবে।
উদাহরণ >২৫০০ টাকার উপর ১২% হারে ২ বছরের চক্রবৃদ্ধি সুদ কত?
.
উত্তর:বছর দ্বিগুন থাকায় হারেকে ডাবল করুন এবং হারকে বর্গ করে ১০০ দিয়ে ভাগ দিন। তারপর হারের
যোগফলের সাথে ভাগফল যোগ করুন ব্যাস হয়ে গেল। (১২+ ১২) = ২৪ + ১.৪৪ = ২৫.৪৪% ধরুন ২৫০০ টাকার উপর ৬৩৬ চক্রবৃদ্ধি সুদ।
৪। শতকরা Raysul Islam Redoy
মাত্র ৬/৭ সেকেন্ডে কিভাবে Percent বের করবেন তার জন্য নিচের টেকনিকটি দেখুন-
------------
1. 30% of 50= 15 (3*5=15) কিভাবে মাত্র কয়েক সেকেন্ডে এর উত্তর বের করবেন? প্রশ্নে উল্লেখিত
সংখ্যা দুটি হল 30 এবং 50। এখানে উভয় সংখ্যার এককের ঘরের অংক ‘শুন্য’ আছে। যদি উভয় সংখ্যার এককের ঘরের অংক ‘শুন্য’ হয় তাহলে উভয় সংখ্যা থেকে তাদেরকে (শুন্য) বাদ দিয়ে বাকি যে সংখ্যা পাওয়া যায় তাদেরকে গুণ করলেই উত্তর বের হয়ে যাবে অর্থাৎ এখানে 3 এবং 5 কে গুণ করলেই উত্তর
বের হয়ে যাবে।
2. 40% of 60= 24 (4*6=24)
3. 20% of 190= 38 (2*19=38)
4. 80% of 40= 32 (8*4=32)
5. 20% of 18= 3.6 (2*1.8=3.6)
এখানে দুটি সংখ্যার মধ্যে একটির এককের ঘরের সংখ্যা ‘শুন্য’। তাহলে এখন কি করব? ঐ ‘শুন্য’ টাকে বাদ দেব আর যে সংখ্যায় ‘শুন্য’ নেই সেই সংখ্যার এককের ঘরের আগে একটা ‘দশমিক’ বসিয়ে দেব।
বাকী কাজটা আগের মতই।
6. 25% of 44=11 (2.5*4.4=11)
7. 245% of 245=600.25 (24.5*24.5=600.
25)
8. ১২৫ এর ২০% কত? =২৫ (১২.৫*২=২৫)
9. ৫০ এর ১০% কত? =৫ (৫*১=৫)
10. ১১৫২৫ এর ২৩% কত? =২৬৫০.৭৫ (১১৫২.৫*২.৩=২৬৫০.৭৫)
------------------------------------
প্রশ্নের ধরণ: অঙ্কে দুটো শতকরা হার থাকবে ; একটি
বৃদ্ধি হার, অন্যটি হ্রাস হার/ অথবা উভয়টি
বৃদ্ধিহার /
উভয়টি হ্রাসহার । বলা হবে শতকরা হ্রাস বৃদ্ধির
পরিমাণ
বের কর।
.
উদা: একটি আয়তাকার ক্ষেত্রের দৈর্ঘ্য ২০% বৃদ্ধি ও
প্রস্থ ১০% হ্রাস করা হলে ক্ষেত্রফলের শতকরা কত
পরিবর্তন হবে?
টেকনিক : Raysul Islam Redoy
ক্ষেত্রফলের বৃদ্ধি হার = 1st % + 2nd % +{(1st % x 2nd% )/100}
= ২০+(-১০) + {(২০x-১০)/১০০}
=১০+{-২০০/১০০}
=১০-২
=৮% (উত্তর)
মনে রাখবেন বৃদ্ধি পেলে + চিহ্ন আর হ্রাস পেলে বিয়োগ চিহ্ন হয় ।
নিজে করুন
1 . একটি আয়তাকার ক্ষেত্রের দৈর্ঘ্য ২০% ও প্রস্থ ২৫% হ্রাস করা হলে ক্ষেত্রফলের শতকরা কত পরিবর্তন হবে?
2. If the length and breadth of a rectangle are both
increased
by 4% , then what is the increase in its area ?
3.একটি আয়তাকার ক্ষেত্রের দৈর্ঘ্য 1০% ও প্রস্থ ১০% হ্রাস করা হলে ক্ষেত্রফলের শতকরা কত পরিবর্তন
হবে?
৪.২০১৪সালে গ্রামীণ সিমের দাম ১০০টাকা এবং পরবর্তী দুই বছরের জন্য প্রতিবছর সিমের দাম ২০% করে বৃদ্ধি পায় তাহলে ২০১৬সালে সিমের দাম কত?
5. Successive increase of 20% and 15% is equal to what
single
Increase rate%? Raysul Islam Redoy
6. চিনির মূল্য ২০% কমলো, কিন্তু চিনির ব্যবহার ২০% বৃদ্ধি পেলো । এতে চিনি বাবদ ব্যয় শতকরা কত
বাড়লো বা কমলো?(কমলো ৪%)
৭. একজন ব্যবসায়ী একটি পণ্যের মূল্য ২৫% বাড়ালো , অত:পর বর্ধিত মূল্য থেকে ২৫% কমালো। সর্বশেষ মূল্য সর্বপ্রথম মূলের তুলনায় শতকরা কত বাড়লো বা কমলো?
৮. চালের দাম ২০১৫সালে পূর্বের তুলনায় ২০% হ্রাস পেয়েছে। ২০১৬সালে উত্পাদন বৃদ্ধির জন্য চালের
দাম ১০% বৃদ্ধি পেলে ২০১৪সালের তুলনায় চালের দাম কতটুকু হ্রাস পেয়েছে? বর্ধিত বর্গক্ষেত্র ও আয়তক্ষেত্রের শতকরা বৃদ্ধির
পরিমাণ নির্ণয়:
★★★টাইপ -১
★★★ বর্ধিত বর্গক্ষেত্র ক্ষেত্রফল নির্ণয় বর্গ ক্ষেত্রের প্রতিটি বাহু ক% বৃদ্ধি হলে ক্ষেত্রফল শতকরা কত বৃদ্ধি পাবে?
টেকনিক: বর্ধিত ক্ষেত্রফল= ক^2/100
উদাহরণ:
সমস্যা: একটি বর্গ ক্ষেত্রের প্রতিটি বাহু ১০ % বৃদ্ধি হলে ক্ষেত্রফল শতকরা কত বৃদ্ধি পাবে?            সমাধান: বর্ধিত ক্ষেত্রফল= ১১০^2/100
=১২১%
সুতরাং ক্ষেত্রফল বৃদ্ধি =
(১২১-১০০)=২১%(উত্তর)
----------------------------
★★★টাইপ -২★★★
বর্ধিত আয়তক্ষেত্রের ক্ষেত্রফল নির্ণয় আয়তক্ষেত্রেরদৈর্ঘ্য ক% বৃদ্ধি এবং খ % হ্রাস পেলে ক্ষেত্রফলের শতকরাকি পরিবর্তন হবে?
★★★টেকনিক:★★★
বর্ধিত ক্ষেত্রফল= (বর্ধিত দৈর্ঘ্য X হ্রাসকৃত প্রস্থ)/১০০
উদাহরণ:
সমস্যা:একটি আয়তক্ষেত্রের দৈর্ঘ্য ২০% বৃদ্ধি এবং ১০% হ্রাস পেলে ক্ষেত্রফলের শতকরা কি পরিবর্তন
হবে?
সমাধান: বর্ধিত ক্ষেত্রফল= (১২০ X ৯০)/১০০ =১০৮
সুতরাং ক্ষেত্রফল বৃদ্ধি=(১০৮-১০০)%
=৮%(উত্তর)
----------------------
৫। বর্গের অন্তর বা পার্থক্য দেওয়া থাকলে, বড়
সংখ্যাটি নির্ণয়ের ক্ষেত্রে-
.
প্রশ্নধরণ::: বর্গের অন্তর বা পার্থক্য দেওয়া থাকলে, বড় সংখ্যাটি নির্ণয়ের ক্ষেত্রে-
.টেকনিকঃবড় সংখ্যা=(বর্গের অন্তর+1)÷2
.উদা:
দুইটি ক্রমিক সংখ্যার বর্গের অন্তর যদি 47 হয় তবে বড় সংখ্যাটি কত?
সমাধানঃ বড় সংখ্যা=(47+1)/2=24
প্রশ্নের ধরণ: দুইটি বর্গের অন্তর বা পার্থক্য দেওয়া থাকলে, ছোট সংখ্যাটি নির্ণয়ের ক্ষেত্রে-
টেকনিকঃছোট সংখ্যাটি=(বর্গের অন্তর -1)÷2
উদা:
*** প্রশ্নঃ দুইটি ক্রমিক সংখ্যার বর্গের অন্তর 33। ক্ষুদ্রতম সংখ্যাটি কত হবে?
** সমাধানঃ ছোট সংখ্যাটি =(33-1)÷2=16(উঃ)
প্রশ্নে যত বড....তত ছোট/ তত ছোট....যত বড উল্লেখ থাকলে সংখ্যা নির্নয়ের ক্ষেত্রে
টেকনিকঃসংখ্যাটি =(প্রদত্ত সংখ্যা দুটির যোগফল)÷2
.উদা:
প্রশ্নঃএকটি সংখ্যা 742 থেকে যত বড় 830 থেকে তত ছোট। সংখ্যাটি কত?
সমাধানঃ সংখ্যাটি=(742+8 30)÷2=786 উঃ
--------------------------------
নিজে করুন:
১।একটি সংখ্যা ৬৫০ থেকে যত বড় ৮২০ থেকে তত ছোট। সংখ্যাটি কত?
২।একটি সংখ্যা ৫৫৩ থেকে যত বড় ৬৫১ থেকে তত ছোট। সংখ্যাটি কত?
৩। দুইটি ক্রমিক সংখ্যার বর্গের অন্তর যদি ১০১ হয় তবে বড় সংখ্যাটি কত?
৪। দুইটি ক্রমিক সংখ্যা নির্ণয় করুন যাদের বর্গের অন্তর ৯৩।
৫। দুইটি ক্রমিক সংখ্যার বর্গের অন্তর যদি ১৯৯ হয় তবে ছোট সংখ্যাটি কত?
বর্গের সর্বমোট ৪টি সুত্র আছে Raysul Islam Redoy
১)বর্গের অন্তর বা প্রার্থক্য দেওয়া থাকলে, বড় সংখ্যাটি নির্ণয়ের ক্ষেত্রে-
টেকনিকঃ বড় সংখ্যা=(বর্গের অন্তর+1)÷2
প্রশ্নঃদুইটি ক্রমিক সংখ্যার বর্গের অন্তর যদি 47 হয় তবে বড় সংখ্যাটি কত?
সমাধানঃ বড় সংখ্যা=(47+1)/2=24
২)দুইটি বর্গের অন্তর বা প্রার্থক্য দেওয়া থাকলে,ছোট সংখ্যাটি নির্ণয়ের ক্ষেত্রে-
টেকনিকঃ ছোট সংখ্যাটি=(বর্গের অন্তর -1)÷2
প্রশ্নঃদুইটি ক্রমিক সংখ্যার বর্গের অন্তর 33। ক্ষুদ্রতম সংখ্যাটি কত হবে?
সমাধানঃ ছোট সংখ্যাটি =(33-1)÷2=16
৩)যত বড....তত ছোট/ তত ছোট....যত বড উল্লেখ থাকলে সংখ্যা নির্নয়ের ক্ষেত্রে-
টেকনিকঃ সংখ্যাটি=(প্রদত্ত সংখ্যা দুটির যোগফল)÷2 একটি সংখ্যা 742 থেকে যত বড় 830 থেকে তত ছোট।
সংখ্যাটি কত?
সংখ্যাটি=(742+830)÷2=786(উঃ)
দুইটি সংখ্যার গুনফল এবং একটি সংখ্যা দেওয়া থাকলে অপর সংখ্যাটি নির্নয়ের ক্ষেত্রে-
৪) টেকনিকঃ সংখ্যা দুটির গুনফল÷একটি সংখ্যা 2টি সংখ্যার গুনফল 2304 একটি সংখ্যা 96 হলে অপর
সংখ্যাটি কত?
সমাধানঃঅপর সংখ্যাটি=(2304÷96)=24
--------------------------------
৬/ক্যালকুলেটর ছাড়া ২০ থেকে ২৯ পর্যন্ত যে কোন সংখ্যার বর্গ নির্ণয় ক্যালকুলেটর ছাড়া ২০ থেকে ২৯ পর্যন্ত যে কোন সংখ্যার বর্গ নির্ণয় করার খুব কার্যকর একটি টেকনিক-
১. ২৩ এর বর্গ কত?
যে সংখ্যার বর্গ নির্ণয় করবেন তার এককের ঘরের অংকের সাথে পুরো সংখ্যাটিকে যোগ করতে হবে   তারপর যোগফলটিকে ২ দিয়ে গুণ করে নিতে হবে এবং শেষে এককের ঘরের অংকের বর্গ বসিয়ে দিতে হবে।
এইতো শেষ।
Step-1: ২৩+৩=২৬
Step-2: ২৬*২=৫২
Step-3: ৩*৩=৯ তাহলে ২৩ এর বর্গ হল ৫২৯।
২. ২৮ এর বর্গ কত?
Step-1: ২৮+৮=৩৬
Step-2: ৩৬*২=৭২
Step-3: ৮*৮=৬৪, তাহলে ২৮ এর বর্গ হল ৭৮৪। খেয়াল করুন ২০ থেকে ২৯ পর্যন্ত যে কোন সংখ্যার
বর্গ হবে ৩ অংক বিশিষ্ট কোন সংখ্যা তাই প্রথমে ৭২ বসালাম এবং তারপর যদি ৬৪ বসাই তাহলে এটি ৪ অংক বিশিষ্ট একটি সংখ্যা হয়ে যাবে সেজন্য ৬৪-র এককের ঘরের অংক ৪ কে বসিয়ে ৬ কে ৭২ এর সাথে যোগ করে নিলেই কাজ শেষ।
৩. ২৯ এর বর্গ কত?
Step-1: ২৯+৯=৩৮
Step-2: ৩৮*২=৭৬
Step-3: ৯*৯=৮১, তাহলে ২৯ এর বর্গ হল ৮৪১।
-------------------------------------
টেকনিক-
-------------
যদি আপনাকে প্রশ্ন করি ১১১১১১ (ছয়টি ১)এর বর্গ কত?
ক্যালকুলেটার ছাড়া উত্তর দিতে কতক্ষণ লাগবে? আমি আপনাকে খুবই সহজ একটি উপায় বাতলে দিতে
পারি, যার সাহায্যে ক্যালকুলেটার ছাড়াই ঝটপট এর উত্তর বলে দিতে পারবেন। প্রথমেই গুণে ফেলুন কটি ১ আছে (ছয়টি)। এবার ১ থেকে ৬ পর্যন্ত লিখুন,এবং সেই ছয় থেকেই আবার উল্টোগুনে ১ পর্যন্ত লিখে ফেলুন।
যেমনঃ ১২৩৪৫৬৫৪৩২১। এটাই উত্তর। যদি ১ এর সংখ্যা হয় ৯টি (১১১১১১১১১) তাহলে? কোনো ব্যাপারই না, ১ থেকে ৯ পর্যন্ত লিখুন, এবং সেই ৯ থেকেই আবার উল্টোগুনে ১ পর্যন্ত লিখে ফেলুন। Raysul Islam Redoy
যেমনঃ ১২৩৪৫৬৭৮৯৮৭৬৫৪৩২১। বর্গ করা হয়ে গেলো। এভাবে দুই থেকে নয়টি পর্যন্ত রিপিট্টে ১ থাকলে ঝটপট তাদের বর্গ নির্ণয় করে ফেলতে পারবেন।
.
অংকের জাদু
----------------------
নয়ের ঘরের নামতার ভিতর এক অদ্ভুত ছন্দ আছে। কখনও কি খেয়াল করেছেন??? উপর নিচে ০ থেকে ৯ পর্যন্ত লেখুন তারপর তাদেরন পাশে ৯ থেকে ০ পর্যন্ত লেখুন, ব্যাস হয়ে গেল নয়ের ঘরের নামতা ।
9 x 1= 0 9
9 x 2= 1 8
9 x 3= 2 7
9 x 4 =3 6
9 x 5= 4 5
9 x 6= 5 4
9 x 7= 6 3
9 x 8= 7 2
9 x 9= 8 1
9 x 10=9 0
মজার এখানেই শেষ নয়, লক্ষ্য করুন ডানপাশের সংখ্যা দুটির যোগফলও কিন্তু ৯।
৭। ক্যালকুলেটর ছাড়া অনুপাতের ভাগ করতে পারবেন??
.
ক্যালকুলেটর ছাড়া অনুপাতের ভাগ করতে পারবেন? না পারলে টেকনিক দেখুন---------
-✿সমস্যা ১ -✿:-
------------------------
৪৫০ কে ৫:৪ ভাগে ভাগ করুন।
-✿টেকনিক-✿:
------------
৪৫০ এর শুন্য বাদ দিন। ৪৫ হবে....তারপর অনুপাতের
(৫+৪) করলে ৯হয়।
এখন ৪৫কে ৯দিয়ে ভাগ করে ৫ দিয়ে গুন করলে ২৫ হয়। অপরদিকে, ৪৫কে ৯দিয়ে ভাগ করে ৪দিয়ে গুন করলে হয়
২০। এখন ২৫এর সাথে একটি শুন্য(০) এবং ২০এর সাথে একটি শুন্য(০) বসিয়ে দিলেই--- কেল্লাফতে!!!!!
উত্তর হবে:- ২৫০:২০০।
এখনো না বুঝলে, আরেকবার পড়ুন।
.
সমস্যা ০২:-
------------------
১০০০ কে ২:৩:৫ অনুপাতে ভাগ করুনটেকনিক-:
-------------------
(সমস্যা:-১ এর মতই)
প্রথমে মনে মনে ১০০০ এর একটি শুন্য রেখে, বাকি দুইটা বাদ দিন। তারপর (২+৩+৫) করলে ১০ হবে।
১০কে ১০দিয়ে ভাগ,দুই দিয়ে গুন করলে ২হবে।
১০কে ১০দিয়ে ভাগ,তিন দিয়ে গুন করলে ৩হবে।
১০কে ১০দিয়ে ভাগ,পাঁচ দিয়ে গুন করলে ৫হবে ।
[[ বলে রাখা ভাল, এখানে ১ম ১০ হলো ১০০০থেকে দুটি শুন্য বাদ দেয়া ১০। আর,২য় ১০ হলো ২+৩+৫ যোগ করা ১০ ]]
এখন, ২,৩,৫ এর সাথে দুটি করে শুন্য(০) বসিয়ে দিলেই কাজ শেষ!!!
উত্তর: ২০০:৩০০:৫০০।
ক্যালকুলেটর ছাড়া যে কোন সংখ্যাকে ভাগ করার একটি effective টেকনিক!
❖ ক্যালকুলেটর ছাড়া যে কোন সংখ্যাকে 5 দিয়ে
ভাগ করার একটি effective টেকনিক Raysul Islam Redoy
(০১) 13/5= 2.6 (ক্যালকুলেটর ছাড়া মাত্র ৩ সেকেন্ডে এটি সমাধান করা যায়)
টেকনিকঃ 5 দিয়ে যে সংখ্যাকে ভাগ করবেন তাকে 2 দিয়ে গুণ করুন তারপর ডানদিক থেকে 1 ঘর আগে
দশমিক বসিয়ে দিন। কাজ শেষ!!! 13*2=26, তারপর থেকে 1 ঘর আগে দশমিক বসিয়ে দিলে 2.6 ।
(০২) 213/5=42.6 (213*2=426) 0.03/5= 0.006 (0.03*2=0.06 যার একঘর আগে দশমিকবসালে হয় 0.006) 333,333,333/5= 66,666,666.6 (এই গুলা করতে আবার ক্যালকুলেটর লাগে না কি!)
(০৩) 12,121,212/5= 2,424,242.4 এবার নিজে ইচ্ছেমত 5 দিয়ে যে কোন সংখ্যাকে ভাগ করে দেখুন, ৩.৫ সেকেন্ডের বেশি লাগবে না!!
❖ ক্যালকুলেটর ছাড়া যে কোন সংখ্যাকে 25 দিয়ে ভাগ করার একটি effective টেকনিক
০১. 13/25=0.52 (ক্যালকুলেটর ছাড়া মাত্র ৩ সেকেন্ডে এটিও সমাধান করা যায়)
টেকনিকঃ 25 দিয়ে যে সংখ্যাকে ভাগ করবেন তাকে 4 দিয়ে গুণ করুন তারপর ডানদিক থেকে 2 ঘর আগে
দশমিক বসিয়ে দিন। কাজ শেষ!!! 13*4=52, তারপর থেকে 2 ঘর আগে দশমিক বসিয়ে দিলে 0.52 ।
০২. 210/25 = 8.40
০৩. 0.03/25 = 0.0012
০৪. 222,222/25 = 8,888.88
০৫. 13,121,312/25 = 524,852.48
❖ ক্যালকুলেটর ছাড়া যে কোন সংখ্যাকে 125 দিয়ে ভাগ করার একটি effective টেকনিক
০১. 7/125 = 0.056
টেকনিকঃ 125 দিয়ে যে সংখ্যাকে ভাগ করবেন তাকে 8 দিয়ে গুণ করুন তারপর ডানদিক থেকে 3 ঘর আগে দশমিক বসিয়ে দিন। কাজ শেষ!!! 7*8=56, তারপর থেকে 3 ঘর আগে দশমিক বসিয়ে দিলে 0.056।
০২. 111/125 = 0.888
০৩. 600/125 = 4.800
.
৮। সামনের ও পিছনের চাকার পরিধির পার্থক্য ১ থাকলে কোনটি কার চেয়ে কতদূর গেলে নির্দিষ্ট বার বেশি ঘুরবে?
টাইপ > সামনের ও পিছনের চাকার পরিধির পার্থক্য ১থাকলে কোনটি কার চেয়ে কতদূর গেলে নির্দিষ্ট বার বেশি ঘুরবে?
--------------------------------
টেকনিক > প্রশ্নে যে কনফিগার গুলো দেওয়া থাকবে সব গুলো গুণ করলেই কেল্লা ফতে!
------------------------
প্রশ্ন: একটি ঘোড়ার গাড়ির সামনের চাকার পরিধি ৪ মিটার , পেছনের চাকার পরিধ ৫মিটার । গাড়িটি
কত পথ গেলে সামনের চাকা পেছনের চাকার চেয়ে ২০০ বার বেশি ঘুরবে?
উত্তর:
---
শর্ট টেকনিক >>৫*৪*২০০ =৪০০০মিটার বা ৪কি.মি ।
------------------------------
-------------
কি মজা পাইলেন?
তাহলে এখন আপনারা করেন
১। এক গাড়ির সমানের চাকার পরিধি ৩মিটার , পিছনেরচাকার পরিধি ৪মিটার । গাড়ি কত পথ গেলে
সামনেরচাকা পেছনের চাকা অপেক্ষা ১০০ বার বেশি ঘুরবে?
Raysul Islam Redoy
২। এক ঘোড়ার গাড়ির সমানের চাকার পরিধি ২মিটার , পিছনের চাকার পরিধি ৩মিটার । গাড়ি কত পথ
গেলে সামনের চাকা পেছনের চাকা অপেক্ষা ১০ বার বেশি ঘুরবে?
৯। চৌবাচ্চা সংক্রান্ত অংক করুন ৩০ সেকেন্ডে
.
চৌবাচ্চা সংক্রান্ত অংক করুন ৩০ সেকেন্ডে
: বিসিএসসহ নিয়োগ পরীক্ষা যারা দিচ্ছেন তাদের
বলছি। কম সময়ে অনেক একটু জটিল অংক করতে হয়।
তবে
টেকনিক জানা থাকলে তা নিমিষেই করা সম্ভব!
টেকনিক জানা থাকলে মাত্র ২৫ থেকে ৩০
সেকন্ডেই
সমাধান করতে পারবেন এসব অংক।
টেকনিক-১
যখন ২টি নল দ্বারা একটি চৌবাচ্চা পূর্ণ হয় তখন
সম্পূর্ণ
চৌবাচ্চাটি পূর্ণ হতে প্রয়োজনীয়
সময়, T=[mn ÷(m + n)]
এখানে,
m=১ম নল দ্বারা চৌবাচ্চা পূর্ণ হতে প্রয়োজনীয় সময়
n=২য় নল দ্বারা চৌবাচ্চা পূর্ণ হতে প্রয়োজনীয় সময়
প্রশ্ন-১
একটি চৌবাচ্চা ২টি নল দ্বারা যথাক্রমে ২০ ও ৩০
মিনিটে পূর্ণ হয়। নল দু’টি একসংগে খুলে দিলে
চৌবাচ্চাটি কত সময়ে পূর্ণ হবে?
সমাধানঃ
প্রয়োজনীয় সময়,
T= [mn ÷ (m + n)]
= (৩০ × ২০) ÷ (৩০ + ২০)
= ৬০০÷৫০
= ১২ মিনিট
উত্তর: ১২ মিনিট
এবার চলুন একটু ভিন্ন ধরনের ১টি অংক দেখা যাকঃ
প্রশ্ন- ২
সম্পুর্ণ খালি একটি চৌবাচ্চা একটি পাইপ দিয়ে ৫
ঘন্টায়
সম্পুর্ণ ভর্তি করা যায়। অপর একটি পাইপ দিয়ে
চৌবাচ্চাটি ভর্তি করতে ৩ ঘন্টা সময় লাগে। ২টি
পাইপ
একসংগে ব্যবহার করে চৌবাচ্চাটি ২/৩ অংশ পূর্ন
করতে
কত সময় লাগবে?
লক্ষ্য করুন, প্রশ্নের শেষে লিখা আছে দু’টি পাইপ
একসংগে ব্যবহার করে চৌবাচ্চাটি ২/৩ অংশ পূর্ণ
করতে
কত সময় লাগবে?
(পুরো চৌবাচ্চাটির পূর্ণ হওয়ার কথা প্রশ্নে উল্লেখ
না
করে যদি (২/৩ অংশ বা ৪/৫ অংশ বা ১/৩ অংশ) পূর্ণ
হতে
কত সময় লাগে এভাবে উল্লেখ থাকে; তবে আপনি
যত
অংশ বলবে তত দিয়ে উত্তরকে গুণ করে দেবেন।)
যেমন উপরের অংকটির ক্ষেত্রে,
প্রয়োজনীয় সময়,
T = [mn ÷ (m +n) × ২/৩]
= [(৩ × ৫)÷(৩+৫) × ২/৩ ]
= [১৫/৮ × ২/৩ ]
= ৫/৪ ঘন্টা
উত্তর : ৫/৪ ঘন্টা
[ বি:দ্র: নতুন কিছুই হয়নি শুধু ২/৩ দিয়ে গুন করে দেয়া
হয়েছে ]
পিপা/ট্যাংক/চৌবাচ্চা সংক্রান্ত অংকগুলো ৩৬
সেকেন্ডে সম্পন্ন করা খুব কঠিন ব্যাপার। শুধু ২টি
টেকনিক মনে রাখুন আসাকরি এই ধরনের যে কোন
প্রশ্নের উত্তর করতে পারবেন।
.
# মনে রাখুনঃ[[টেকনিক১ঃ
যখন কোন পিপা/ট্যাংক ২টি নলের ১টি পানি
দ্বারা পূর্ণ
করন এবং অপরটি অপসারন রত থাকে তখন-
.
পিপা/ট্যাংক পূর্ণ বা খালি হতে প্রয়োজনীয় সময়
T=[mn ÷(m - n)]
এখানে,
m=২য় নল দ্বারা ব্যায়িত সময়
n=১ম নল দ্বারা ব্যায়িত সময়]]
# উদাহরনঃ
প্রশ্নঃএকটি পানির ট্যাংক এ ২টি নল আছে। ১ম
নলটি
খুলে দিলে ট্যাংক-টি ২০ ঘন্টায় পূর্ন হয়। ২য় নল
দ্বারা
পূর্ণ ট্যাংক-টি ৩০ ঘন্টায় খালি হয়। ২টি নল
একসংগে
খুলে দিলে খালি ট্যাংক কত সময়ে পূর্ন হবে?
# সমাধানঃ
ট্যাংক পূর্ণ হতে প্রয়োজনীয় সময় T=[m(৩০)×n(২০) ÷
m
(৩০) - (২০)n]
=(৩০ × ২০) ÷(৩০-২০)
=৬০ ঘন্টা(উঃ)
১০। ক্রমিক সংখ্যার যোগফল নির্ণয়ের সূত্র
সুত্র ( যখন ১ হতে শুরু) যোগফল S=শেষ
সংখ্যার অর্ধেক *(শেষ সংখ্যা +১)
যেমন: ১ হতে ১০০ পর্যন্ত ক্রমিক
সংখ্যার যোগফল কত?
যোগফল S=শেষ সংখ্যার অর্ধেক ×
(শেষ সংখ্যা +১)
=৫০×১০১ [এখানে শেষ সংখ্যা ১০০]
=৫০৫০ (উত্তর)
সূত্র ২. ক্রমিক ( যখন ১ হতে ভিন্ন)
সংখ্যার যোগফল নির্ণয়ের সুত্র
যেমন:৫ থেকে ৩৫ পর্যন্ত
সংখ্যাগুলোর যোগফল কত?
সূত্র:যোগফল=( ১হতে ৩৫ পর্যন্ত
যোগফল)-(১ হতে ৪ পর্যন্ত যোগফল)
=৩৫/২×৩৬-২×৫[ পূর্বের সূত্রানুসারে
তবে এখানে দুটি অংশ]
=৬৩০-১০
=৬২০
# বি .দ্র ৫ হতে ৩৫ পর্যন্ত যোগফল বের
করতে বলেছে তাই ১ হতে ৩৫ পর্যন্ত
যোগফল বেব করে তা হতে ১ হতে ৪
পর্যন্ত যোগফল ( ৫ এর পূর্ব সংখ্যা হল
৪) বাদ দেওয়া হয়েছে
সূত্র:৩ ক্রমিক বিজোড় সংখ্যার
যোগফল S= (মধ্যসংখ্যা)২ [যেখানে
মধ্যসংখ্যা=(১ম সংখ্যা + শেষ
সংখ্যা)/২
উদা:১+৩+৫+.........+২১=?
মধ্যসংখ্যা=(১+২১)/২=১১
যোগফল S=(মধ্যসংখ্যা)২
=(১১)২
=১২১(উত্তর)
সূত্র ৪ :ক্রমিক জোড় সংখ্যার যোগফল
S=মধ্যসংখ্যা×(মধ্যসংখ্যা-১)
উদা:২+৪+৬+..............+১০০=?
যোগফল=মধ্যসংখ্যা×(মধ্যসংখ্যা-১)
মধ্যসংখ্যা = (২+১০০)/২
=৫১
Sum=৫১×৫০
=২৫৫০
টাইপ-১
----------
* পরপর ১০টি সংখ্যা দে3য়া দেয়া আছে, ১ম ৫টির
যোগফল ৫৬০ হলে, শেষ ৫টির যোগফল কত?
টেকনিক:-১
প্রথম যে কয়টির যোগফল দেয়া থাকবে + যে কয়টি
সংখ্যার বের করতে হবে তার বর্গ
শেষ ৫টির যোগফল=১ম পাঁচটির যোগফল + ৫^2
= ৫৬০ + 25
= ৫৮৫
.
টাইপ-২
----------
* পরপর ৬টি সংখ্যা দেয়া আছে, শেষ ৩টির যোগফল
৩৬
হলে, প্রথম ৩টির যোগফল কত?
টেকনিক:
শেষ যে কয়টির যোগফল দেয়া থাকবে ---যে কয়টি
সংখ্যার বের করতে হবে তার বর্গ
প্রথম ৩টির যোগফল=১ম ৩টির যোগফল - 3^2)
উত্তর: ৩৬-৩^২
=36-9
= ২৭
মনে রাখুন : ১ম পাঁচটি /তিনটি চাইলে যোগ (+) আর
শেষের চাইলে বিয়োগ (-)
১১। টপিকস : অনুপাতের মিশ্রণ।
টেকনিক -১
------------
মিশ্রণে যখন দুইটি অনুপাতের সংখ্যা দু্ইটির পার্থক্য
যদি
একই হয় তখন

নতুন মিশ্রিত দ্রব্যের পরিমাণ={(মোট মিশ্রণের
পরিমাণ/
অনুপাতের ছোট সংখ্যা)}X অনুপাতের পার্থক্য।

-----------------------
উদা: ৩০লিটার পরিমাণ মিশ্রণে এসিড ও পানির
অনুপাত
৭:৩। এ মিশ্রণে কি পরিমাণ পানি মিশ্রিত করলে
এসিড ও
পানির অনুপাত হবে ৩:৭।
--------------------------
লক্ষ্য করুন: এখানে অনুপাতের অন্তর উভয় ক্ষেত্রেই
(৭-৩=৪) একই ।
-------------------------------------
অতএব, সূত্র মতে Raysul Islam Redoy
নতুন মিশ্রিত দ্রব্যের পরিমাণ={(মোট মিশ্রণের
পরিমাণ/
অনুপাতের ছোট সংখ্যা)}X অনুপাতের পার্থক্য।
বা, নতুন মিশ্রিত দ্রব্যের পরিমাণ=(৩০/৩)X ৪
=৪০লিটার । (উত্তর)
.

টেকনিক -২
------------
মিশ্রণে যখন দুইটি অনুপাতের সংখ্যা দু্ইটির পার্থক্য
যদি
ভিন্ন হয় তখন

নতুন মিশ্রিত দ্রব্যের পরিমাণ=(মোট মিশ্রণের
পরিমাণ/
১মঅনুপাতের সংখ্যা দুটির যোগফল। )
-------------------
উদা:
----
২৫ গ্রাম একটি সোনার গহনায় সোনা ও তামার
অনুপাত
৪:১। গহনাটিতে আর কতটুকু সোনা যোগ করলে এতে
সোনা
ও তামার অনুপাত ৫:১ হবে?
-----
লক্ষ্য করুন: এখানে অনুপাতের অন্তর উভয় ক্ষেত্রেই
ভিন্ন। যেমন: ৪-১=৩ আবার ৫-১=৪।
অতএব , সূত্রমতে
নতুন মিশ্রিত দ্রব্যের পরিমাণ=(মোট মিশ্রণের
পরিমাণ/
১মঅনুপাতের সংখ্যা দুটির যোগফল। )
বা, নতুন মিশ্রিত দ্রব্যের পরিমাণ= ২৫/(৪+১)=৫ (উত্তর)
.
এখন নিজে নিজে করুন
------------------------------
প্রশ্ন:১।৩২ লিটার অকটেন- পেট্রোল মিশ্রেনে ,
পেট্রোল
ও অকটেনের অনুপাত ৫:৩। এতে আর কত অকটনে
মিশালে
পেট্রোল ও অকটেনের অনুপাত হবে ৪:৫? ।

২।২১লিটার পরিমাণ কেরোসিন ও পেট্রোল
মিশ্রেনে
অনুপাত ৪ :৩। এ মিশ্রণে কি পরিমাণ পেট্রোল
মিশ্রিত
করলে কেরোসিন ও পেট্রোল অনুপাত হবে ৩:৪ হবে?
৩। ৪২গ্রাম ওজনের একটি গয়নায় সোনা ও তামার
অনুপাত
৪:৩ । এতে কত সোনা মিশালে সোনা ও তামার
অনুপাত
৫:৩ হবে? Raysul Islam Redoy
৪। ৩০লিটার পরিমাণ এসিড ও পানির অনুপাত ৭:৩ । ঐ
মিশ্রণে কি পরিমাণ পানি মিশ্রিত করলে এসিড ও
পানির অনুপাত ৩:৭ হবে?
৫। একটি সোনার গহনার ওজন ১৬ গ্রাম ।সোনা ও
তামার
অনুপাত ৩:১ । এতে কত সোনা মিশালে সোনা ও
তামার
অনুপাত ৪:১ হবে?
৬।৬০লিটার পরিমাণ কেরোসিন ও পেট্রোল
মিশ্রেনে
অনুপাত ৭ :৩। এ মিশ্রণে কি পরিমাণ পেট্রোল
মিশ্রিত
করলে কেরোসিন ও পেট্রোল অনুপাত হবে ৩:৭ হবে?।
১২। কাজ ও শ্রমিক সংক্রান্ত কঠিন অংকগুলো করে
ফেলুনঃ
.
===================
নিয়ম-১: ক, খ এবং গ একটি কাজ যথাক্রমে ১২, ১৫
এবং
২০ দিনে করতে পারে। তারা একত্রে কাজটি
কতদিনে করতে পারবে?
# 1_টেকনিক = abc / (ab + bc + ca) = (১২ x ১৫ x
২০)/ (১২x১৫ + ১৫x২০ + ২০x১২)= ৫ দিনে(উঃ)
====================.
নিয়ম-২: ৯ জন লোক যদি একটি কাজ ৩ দিনে করে
তবে কতজন লোক কাজটি ৯ দিনে করবে?
# 2_টেকনিক : M1D1 = M2D2 বা, ৯ x ৩ = M2 x ৯
বা,M2×৯=২৭ M2=২৭/৯ সুতরাং, M2 = ৩ দিনে(উঃ)
====================
.
নিয়ম-৩: ৩ জন পুরুষ বা ৪ জন মহিলা একটি কাজ ২৩
দিনে করতে পারে l ঐ কাজটি শেষ করতে ২ জন
পুরুষ এবং ৫ জন মহিলার প্রয়োজন হবে দিন সময়
লাগবে? Raysul Islam Redoy
# 3_টেকনিকঃT = (M1 x W1 x T1) ÷ (M1W2 +
M2W1) = (৩x৪x২৩)÷(৩x৫ + ৪x২) = ১২ দিন(উঃ)
====================.
নিয়ম-৪: যদি নুসরাত একটি কাজ ১০ দিনে করে এবং
মায়াম্মি ঐ কাজ ১৫ দিনে করে তবে নুসরাত এবং
মায়াম্মি একসাথে কাজটি কত দিনে করতে
পারবে? Raysul Islam Redoy
# 4_টেকনিকঃG = FS÷(F+S) = (১০ x ১৫)÷(১০+১৫)=
৬ দিনে(উঃ)
====================.
নিয়ম-৫: যদি ক একটি কাজ ১০ দিনে করে এবং ক ও খ
একসাথে কাজটি ৬ দিনে করে তবে খ কাজটি
কতদিনে করতে পারবে?
# 5_টেকনিকঃG = FS÷(F-S) = (১০ x ৬)÷(১০-৬)= ১৫
দিনে(উঃ)
১৩। পরীক্ষায় পাস-ফেল, ও পরীক্ষার্থীর সংখ্যা
বিষয়ক
০------------------------০----
-------------------------
সূত্র-১ঃ.উভয় বিষয়ে ফেলের হারউল্লেখ থাকলেউভয়
বিষয়ে পাশের হার নির্ণয়ের ক্ষেত্রে-
.
# শর্ট টেকনিকঃ পাশের
হার=১০০-( ১ম বিষয়ে ফেলের
হার + ২য় বিষয়ে ফেলের হার-
উভয় বিষয়ে ফেলের হার )
.
# উদাহরনঃকোন পরিক্ষায় ২০%
পরিক্ষার্থী গনিতে ৩০%
পরিক্ষার্থী ইংরেজীতে ফেল
করলো উভয় বিষয়ে ১৩ %
পরিক্ষার্থী ফেল করলে শতকরা
কত জন পরিক্ষার্থী পাশ করলো?
(প্রাথমিক সঃশি নিয়োগ
(ইছামতি)পরিক্ষা-২০১০)
. Raysul Islam Redoy
# সমাধানঃ পাশের হার(?)=১০০-
[১ম বিষয়ে ফেলের হার(২০) +
২য় বিষয়ে ফেলের হার(৩০)- উভয়
বিষয়ে ফেলের হার(১৩)]
=১০০-(২০+৩০-১৩)
=৬৩%(উঃ)
.
------------------------------------
সূত্র২.উভয় বিষয়ে পাশের হার
উল্লেখ থাকলে উভয়
বিষয়ে ফেলের হার নির্ণয়ের
ক্ষেত্রে-
.
# শর্ট টেকনিকঃ ফেলের
হার=১০০-( ১ম বিষয়ে পাশের
হার + ২য় বিষয়ে পাশের হার -
উভয় বিষয়ে পাশের হার )
(১ম টির উল্টো নিয়ম)
# উদাহরন১ঃকোন পরিক্ষায় ২০%
পরিক্ষার্থী গনিতে
৩০% পরিক্ষার্থী ইংরেজীতে
ফেল করলো উভয় বিষয়ে
১৩ % পরিক্ষার্থী ফেল করলে
শতকরা কত জন
পরিক্ষার্থী পাশ করলো?
(প্রাথমিক সঃশি নিয়োগ
(ইছামতি)পরিক্ষা-২০১০)
. Raysul Islam Redoy
# সমাধানঃ পাশের হার(?)=১০০-
[১ম বিষয়ে ফেলের হার(২০)+
২য় বিষয়ে ফেলের হার(৩০)- উভয়
বিষয়ে ফেলের হার
(১৩)]
=১০০-(২০+৩০-১৩)
=৬৩%(উঃ)
# উদাহরন২ :যদি প্রশ্নটি এমন হয়-
কোন পরিক্ষায় ২০০জনের মধ্যে
৭০% ছাত্র বিজ্ঞানে
এবং ৬০% ছাত্র অংকে পাশ করে
করে। এবং ৪০% উভয়
বিষয়ে পাশ করে। তবে উভয়
বিষয়ে শতকরা কত জন ফেল
করলো?(সঞ্চয় অধিদপ্ত্রর,সঃ
পরিচালক, পরীক্ষা-২০০৬)
# সমাধানঃ
=১০০-(৭০+৬০-৪০)
=১০%
সুতরাং উভয় বিষয়ে ফেল=২০০ এর
১০%=২০%(উঃ)

Monday, August 27, 2018

জিপিএ ফাইভ পাওয়া মুসলিম বিজ্ঞানীদের সাক্ষাৎকার।

দাড়িরাঙা টিভির একজন সাংঘাতিক কথা বলছিল জিপিএ ফাইভ পাওয়া দেশের মুসলিম বিজ্ঞানীদের সাথে। সেখান থেকে বাছাইকৃত কিছু প্রশ্ন এবং উত্তর–
১.পৃথিবীর গঠন কেমন?
–বিছানা বা কার্পেট এর মত।
২.রাতের বেলা সূর্য কোথায় যায়?
–আরশের তলায়।
৩.আকাশ কী পদার্থের তৈরী?
–কোনো কঠিন পদার্থের।
৪.পাহাড়-পর্বতের কাজ কী?
–পৃথিবীকে স্থির রাখা।
৫.পৃথিবী, চন্দ্র এবং সূর্যের মধ্যে কোনটা ঘূর্ণায়মান?
–চন্দ্র এবং সূর্য।
৬.উল্কাপিণ্ডের কাজ কী?
–শয়তান তাড়ানো।
৭.শুক্রানুর উৎপত্তি কোথায়?
–মেরুদণ্ড ও পাজরের হাড়ের মধ্যস্থল।
৮.বজ্রপাত কেন হয়?
–মানুষকে ভয় দেখাতে।
৯.মানবভ্রুণে আগে হাড়, নাকি মাংস তৈরী হয়?
–হাড়।
১০.আদমের উচ্চতা কত ছিল; সে কত বছর বেঁচেছিল?
–৯০ ফুট; ৯৬০ বছর।
১১.চাঁদের নিজস্ব আলো আছে?
– হ্যাঁ, আছে।
১২.চন্দ্র-সূর্যগ্রহণ কেন ঘটে?
–মানুষকে ভয় দেখানোর জন্য।
১৩.পুত্রসন্তান কিভাবে হয়?
–ছহবতের সময় ‘ইনশাল্যাহ’ বললে।
১৪.জন্মের সময় বাচ্চা কাঁদে কেন?
–শয়তানের আঘাতে।
১৫.শয়তান কোথায় ঘুমায়?
–মানুষের নাকের ছিদ্রে।
১৬.মানুষের অন্ত্র কয়টা?
–অমুসলিমদের ৭টা, মুসলমানদের ১টা।
১৭.ছহিহ বিবর্তন কাকে বলে?
–ইহুদি থেকে ইঁদুর আর শুকর হয়ে যাওয়া।
১৮.সন্তানের চেহারা কিভাবে নির্ধারিত হয়।
–আগে বাবার বীর্যপাত হলে সন্তানের চেহারা হবে বাবার মত; আগে মায়ের বীর্যপাত হলে সন্তানের চেহারা হবে মায়ের মত।
১৯.চোখ নষ্ট হয় কিভাবে?
–প্রার্থনার সময়ে উপরের দিকে তাকালে।
২০.জ্বরের সময় গা গরম হয় কেন?
–দোজখ থেকে তাপ আসার ফলে।
২১.কী খেলে সব রোগ সেরে যায়।
–কালোজিরা।
২২.মোরগ কেন ডাকে?
–ফেরেস্তাকে দেখলে।
২৩.গাধা কেন ডাকে?
–শয়তানকে দেখলে।
২৪.রোগের সংক্রমন হতে পারে?
–না, ছোঁয়াচে রোগ বলে কিছু নেই।
২৫.সাঁপে কাঁটলে কী করা উচিত?
–ঝাড়-ফুঁক করা।
২৬.সীরাত অনুসারে পৃথিবীর বয়স কত?
–৬ হাজার বছরের মত।
২৭.কিসে প্রমাণ হয় মুহাম্মদ একজন নবী ছিল?
–তার পিঠে নবুয়তির সিল-স্বরূপ একটা তিল ছিল।
২৮.‘কাহফবাসীরা’ গর্ত আর গুহার মধ্যে কতদিন ঘুমিয়ে ছিল?
–৩০০ বছর।
২৯.ফেরেস্তারা কাকে ভয় পায়?
–কুত্তাকে।
৩০.দাবা খেললে কী হয়?
–হাতে শুকরের মাংস ও রক্ত লেগে থাকে।
৩১.কিছু কাজ না করেও নবীজি কেন ভাবতেন তিনি তা করে ফেলেছেন?
–তাকে যাদু করা হত।
৩২.মদিনার পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে কী করতে হবে?
–উটের মূত্র পান করতে হবে।
৩৩.নবীজি কিভাবে খেঁজুর গাছের কান্না থামাতেন?
–গাছের গায়ে হাত বুলিয়ে।
৩৪.পানি সংকটের সময় প্রায় ৩০০ জন লোকের ওজুর পানি কোথা থেকে পাওয়া গেছিল?
–নবীজির হাতের তালু ও আঙুলের ফাঁক থেকে।
৩৫.খাওয়ার সময় খাদ্যদ্রব্য কী করে?
–আল্যার প্রশংসা করে।
৩৬.নবীজির তিনটি পছন্দের জিনিস কী কী?
–সুগন্ধী, নারী ও খাদ্য।
৩৭.নামাজ না পড়ে ঘুমালে কী হয়?
–শয়তান কানের মধ্যে প্রস্রাব করে।
৩৮.পেঁয়াজ-রসুন খেলে কী করতে হবে?
–মসজিদ থেকে দূরে থাকতে হবে।
৩৯.নবীজি দোজখে কী দেখেছিলেন?
–দোজখবাসীর বেশিরভাগই নারী।
৪০.সূর্যগ্রহণ দেখে নবী কী ভেবেছিলেন?
–কেয়ামতের দিন এসে গেছে।
৪১.কবরের উপর খেঁজুর পাতা দিলে কী হয়?
–আজাব লাঘব হয়।
৪২.ইসলামে মেয়েদের সর্বনিম্ন বিয়ের বয়স কত?
–বয়স কোনো ব্যাপার না।
৪৩.আফ্রিকানদের চুল দেখে নবী কী বলেছিলেন?
–তাদের চুল কিশমিশের মত।
৪৪.সিনা-চাক কী জিনিস?
–জিব্রাইল নবীর বুক কেটে জমজমের পানি দিয়ে ধুয়ে বুকের মধ্যে জ্ঞান ও ঈমান ভর্তি সোনার কলস ৪৫.স্থাপন করে দিয়েছিল।
==========================
এরকম জ্ঞানভর্তি একটা সোনার সাক্ষাৎকার লাইক কমেণ্ট শেয়ার করে সবার বুকের মধ্যে স্থাপন করে দিন।

Saturday, August 25, 2018

নবী মুহাম্মদ ও তার পুত্রবধু বা পরস্ত্রী জয়নাবের শ্রেষ্ঠ অমর প্রেম কাহিনী।


হে মুমিন, আপনারা কি জানেন , নবী মুহাম্মদ ছিল দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ প্রেমিকও ? 
নবী যখন খাদিজাকে বিয়ে করে ,বিধবা খাদিজার আগেই কয়টা মেয়ে ছিল , কিন্তু কোন ছেলে ছিল না। কিছু বনিক ৫ বছরের একটা শিশুকে খাদিজার কাছে বিক্রি করতে নিয়ে আসে। ছেলে বিহীন খাদিজা সেই শিশুকে ক্রয় করে , দাসের মর্যাদা না দিয়ে তাকে নিজ পুত্রের মত গ্রহন করে। তার স্বামী মুহাম্মদও তাকে পুত্রের মর্যাদা দিয়ে বড় করতে থাকে , এক পর্যায়ে , প্রকাশ্যে ঘোষণা দেয় , সেই দাস শিশু জায়দ তার ছেলে। তখন সবাই জায়দকে ডাকত - জায়দ ইবনে মুহাম্মদ বা মুহাম্মদের পূত্র জায়দ।

জায়দ যখন যুবক হয় , তখন মুহাম্মদ নিজেই ঘটকালি করে জায়দের সাথে মুহাম্মদেরই আত্মীয় সম্পর্কিত জয়নাবের বিয়ে দিয়ে দেয়। তারা সুখেই সংসার করছিল কিন্তু হঠাৎ ঘটল এক দুর্ঘটনা। একদা মুহাম্মদ জায়দের বাড়ীতে যায় , তখন জায়দ বাড়ীতে ছিল না , মুহাম্মদ দরজার ফাক দিয়ে ভিতরে উকি মারে , আর তার চোখে ঘরের মধ্যে থাকা অর্ধ নগ্ন জয়নাবকে চোখে পড়ে। মুহাম্মদ তখন বিড় বিড় করে এই বলতে বলতে চলে আসে - আল্লাহ কার মনে যে কি পরিবর্তন করে দেয় ! বুদ্ধিমতী জয়নাব যা বোঝার বুঝে ফেলে। টের পায় মুহাম্মদের হৃদয় তার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে। পরে জায়দ বাড়ীতে আসা মাত্রই মুহাম্মদের আসার খবর সহ সে যা বলতে বলতে চলে যাচ্ছিল সেই খবরও জয়নাব জায়দকে জানায়। জায়দও বুঝে ফেলে , তার পালক পিতা মুহাম্মদ , তারই স্ত্রী বা পুত্রবধুর প্রেমে পড়েছে। সেটা বোঝার সাথে সাথেই জায়দ কাল বিলম্ব না করে মুহাম্মদের কাছে ছুটে যায় , মুহাম্মদকে বলে - সে এখনই জয়নাবকে তালাক দিয়ে দেবে যাতে করে মুহাম্মদ জয়নাবকে বিয়ে করতে পারে।
এর পরের ঘটনা ইতিহাস। তখন যা ঘটে তা কোরান থেকেই জানা যাক --
সুরা আহযাব- ৩৩:৪:আল্লাহ কোন মানুষের মধ্যে দুটি হৃদয় স্থাপন করেননি। তোমাদের স্ত্রীগণ যাদের সাথে তোমরা যিহার কর, তাদেরকে তোমাদের জননী করেননি এবং তোমাদের পোষ্যপুত্রদেরকে তোমাদের পুত্র করেননি। এগুলো তোমাদের মুখের কথা মাত্র। আল্লাহ ন্যায় কথা বলেন এবং পথ প্রদর্শন করেন।
যখনই আল্লাহ জানতে পারল , মুহাম্মদ তার পুত্রবধুর প্রেমে পড়েছে , তখনই সে আয়াত পাঠিয়ে জানিয়ে দিল - পালক পুত্র কোন পুত্র নয়। এরপরের আয়াত পড়া যাক --
সুরা আহযাব-৩৩: ৫: তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাক। এটাই আল্লাহর কাছে ন্যায়সঙ্গত। যদি তোমরা তাদের পিতৃ-পরিচয় না জান, তবে তারা তোমাদের ধর্মীয় ভাই ও বন্ধুরূপে গণ্য হবে। এ ব্যাপারে তোমাদের কোন বিচ্যুতি হলে তাতে তোমাদের কোন গোনাহ নেই, তবে ইচ্ছাকৃত হলে ভিন্ন কথা। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
জায়দ যখন মুহাম্মদের ঔরসজাত পুত্র নয় , তখন আল্লাহ বলছে , জায়দ হলো আসলে মুহাম্মদের ধর্ম ভাই বা বন্ধু। আর এর অর্থও খুব পরিস্কার। তা হলো - জায়দ যখন মুহাম্মদের কাছে পূর্বে গিয়ে প্রস্তাব দিয়েছিল , সে জয়নাবকে তালাক দিবে , তখন মুহাম্মদ রাজী হয় নি, কারন মুহাম্মদ ও সমাজ সবাই জানত জায়দ মুহাম্মদের পুত্র ও জয়নাব তার পুত্রবধু। এবার কোরানের আয়াত নাজিল করে মুহাম্মদ বলল - জায়দ তার পুত্র নয় ,বরং ধর্মের ভাই বা বন্ধু। যার অর্থ হলো - এখন জায়দ তার স্ত্রীকে তালাক দিলে তাকে বিয়ে করতে মুহাম্মদের আর কোন অসুবিধা নেই। অত:পর জায়দ জয়নাবকে তালাক দিল , আর মুহাম্মদের সাথে ধুম ধামের সাথে তার বিয়ে হয়ে গেল।
যারা ইসলাম প্রচার কারী, তাদের যুক্তি হলো - পালক পুত্র যে আসল পুত্র না , সেটা প্রমান করার জন্যেই এই বিয়ের দরকার ছিল। এ ছাড়া তারা আরও বলে পালক পুত্র বলে কিছু থাকলে , সম্পদ বন্টনের জন্যে সমস্যা এড়ানোর জন্যেই পালক পুত্রের এই প্রথা যাকে তারা বর্তমানে অত্যন্ত একটা খারাপ , বাজে ও অমানবিক প্রথা হিসাবে গন্য করে , সেটা রদ করার জন্যেই মুহাম্মদ এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছিল।
আমাদের যুক্তি হলো - ইসলাম প্রচার কারীদের দাবী যদি সঠিক হয় , তাহলে মুহাম্মদ জয়নাবের প্রেমে পড়ার আগেই কেন এই বিধান জারি করে নাই ?প্রেক্ষাপট , শানে নুযুল ইত্যাদি পরীক্ষা করে দেখা যাচ্ছে , মুহাম্মদ আগে জয়নাবের প্রেমে পড়েছিল , তারপরই সে উক্ত আয়াত সমূহ নাজিল করে। মুহাম্মদে যে আগেই প্রেমে পড়েছিল , সেটা বোঝা যায় নিচের আয়াতে -
সুরা আহযাব- ৩৩: ৩৭: আল্লাহ যাকে অনুগ্রহ করেছেন; আপনিও যাকে অনুগ্রহ করেছেন; তাকে যখন আপনি বলেছিলেন, তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছেই থাকতে দাও এবং আল্লাহকে ভয় কর। আপনি অন্তরে এমন বিষয় গোপন করছিলেন, যা আল্লাহ পাক প্রকাশ করে দেবেন আপনি লোকনিন্দার ভয় করেছিলেন অথচ আল্লাহকেই অধিক ভয় করা উচিত। অতঃপর যায়েদ যখন যয়নবের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করল, তখন আমি তাকে আপনার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করলাম যাতে মুমিনদের পোষ্যপুত্ররা তাদের স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলে সেসব স্ত্রীকে বিবাহ করার ব্যাপারে মুমিনদের কোন অসুবিধা না থাকে। আল্লাহর নির্দেশ কার্যে পরিণত হয়েই থাকে।
উক্ত আয়াতে বলছে ---" আপনি অন্তরে এমন বিষয় গোপন করছিলেন, যা আল্লাহ পাক প্রকাশ করে দেবেন আপনি লোকনিন্দার ভয় করেছিলেন "- কি সেই গোপন বিষয় ? সেই গোপন বিষয়টা যে কি সেটা বিখ্যাত তাফসিরকার জালাজালাইন বলেছেন যেমন - "‘Retain your wife for yourself and fear God’ before divorcing her. But you had hidden in your heart what God was to disclose what He was to manifest of your love for her "
(সূত্র: https://altafsir.com/Tafasir.asp…)
জালালাইন পরিস্কার ভাবেই বলছেন He was to manifest of your love for her । আর কোন প্রমান লাগবে ?
প্রশ্ন হলো - এই ধরনের একটা অনৈতিক প্রেমে পড়ার আগে কি আল্লাহর মাথায় এই সম্পদ বন্টনের বিষয়টা আসে নাই ?
আরও একটা যুক্তি হলো - ধরা যাক , জায়দ মুহাম্মদের পালক পুত্র না। সে ক্ষেত্রে জয়নাব হবে সম্পূর্নই মুহাম্মদের কাছে এক বিবাহিতা বেগানা নারী। মুহাম্মদ তাহলে কিভাবে পরস্ত্রীর প্রেমে পড়তে পারে ? মুহাম্মদ তো দাবী করেছিল , সে হলো পৃথিবীর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট আদর্শ মানুষ , যাকে কেয়ামত পর্যন্ত সকল মুসলমানরাই অনুসরন করবে। তাহলে এখন কি মুসলমানরা মুহাম্মদের দেখানো পথে সবাই পরস্ত্রীর সাথে প্রেম শুরু করে দেবে ? যদি সেটা শুরু করে , তাহলে মুসলিম সমাজের অবস্থাটা কি দাড়াবে ?
পুত্র বধু বা পরস্ত্রীর সাথে মুহাম্মদের এই প্রেম ছিল বড়ই জটিল ও কঠিন প্রেম। সেই কারনেই খোদ আল্লাহকে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে , এই প্রেমের মিলন ঘটাতে হয়। সেই জন্যে জয়নাব প্রায়ই গর্ব করে বলত - দুনিয়াতে একমাত্র তার বিবাহের ঘটক ছিল আল্লাহ। সুতরাং এই প্রেক্ষিতে বলা যায় , মুহাম্মদ ও জয়নাবের প্রেম হলো দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ট প্রেম কাহিনী।

মুমিনিও যুক্তি খন্ডন (পর্ব-১,২,৩,৪,৫,৬)

মুমিনিও যুক্তি খন্ডন (পর্ব-১)
(::)আল্লাহ যদি আমাদের ভাগ্য আগে থেকেই পূর্বনির্ধারণ করে থাকবেন,, তাহলে কেনো আমরা জান্নাত বা জাহান্নামে যাবো?
এই প্রশ্নের উত্তর মুমিন সমাজ কুটিলতার সহিত অনেকটা এরকম ভাবে দেয়,,
আল্লাহ জানেন বান্দা পৃথিবীতে কি করবে,, এবং সেভাবে তিনি সেই বান্দার তকদির লেখেন। কিন্তু তারমানে এই না যে আল্লাহ তাকে দিয়ে খারাপ কোন কাজ করায়,, আল্লাহ সর্বদ্রষ্টা হওয়ার দরুন সে সব কিছু আগের থেকে জানেন এবং তাকদিরে লিখে দেন,, কিন্তু কোন ভাবেই আমরা যা করি তা আল্লাহ আমাদের দিয়ে করায় না,, বরং এগুলা আমরাই করি,,,।
এই হোচ্ছে মুমিনিও যুক্তি।
কিন্তু কোরান বলছে অন্য কথা,,,

""আল্লাহ তোমাদেরকে এবং তোমাদের কর্মসমূহকেও সৃষ্টি করেছেন"" (সূরা আস্তসাফ্‌ফাতঃ ৯৬)
হে মুমিন সমাজ,, একটু লক্ষ কইরা দেখেন আল্লাহ শুধু আমাদের ভাগ্য বা তাকদির'ই লিখে রাখেন নাই বরং আমাদের কর্মসসমূহ'ও সৃষ্টি করেছে
যিনি আমাদের কর্মসমূহ সৃষ্টি করে তিনি আল্লাহ তাই সেই কর্মের দোষ-গুনে কেনো আমরা জান্নাত জাহান্নামে যাবো?

(পর্ব-২)
(::) সৃষ্টিকর্তাকে কে সৃষ্টি করেছেন?
এই প্রশ্নটির উত্তর দিতে গিয়ে ৯৫% মুমিন জড়ায় প্যাচায় ফেলে।। কিছু মুমিন আবার #প্যারাডক্সিকাল_সাজিদ,, আরিফ আজাদ ভাইয়ের বই পইড়া,, বিজ্ঞান বুঝুক আর না বুঝুক কুটিলতার সহিত বিজ্ঞানের ভূল ব্যাখ্যা দিয়ে এটি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে,,, তাদের ব্যাখ্যা অনেকটা এ রকম,,,,,
বাই ডেফিনিশন x এর সৃষ্টিকর্তাকে যদি y ধরি। তাহলে এ প্রশ্ন চলে আসে y এর সৃষ্টি কর্তা কে। আবার যদি y এর সৃষ্টি কর্তাকে z ধরি তাহলে প্রশ্ন চলে আসে z এর সৃষ্টি কর্তা কে? যেহেতু এভাবে সৃষ্টিকর্তা খুজতে গেলে অসীমে পৌছেলেও সমাধানে পৌছানো যাবে না, তাই এভাবে সৃষ্টিকর্তাকে খোজা বোকামি,,,,,
আহা কি সুন্দর ডেফিনিশন!!! অংক তো আর আপনাদের নিয়মে তৈরি হবে না,, বা কারোর ব্যাক্তিগত সার্থে তৈরি হবে না,, এটা তার নিজস্ব বৈশিষ্ট ও তাৎপর্য নিয়ে এগিয়ে যাবে,,,

এখন বলি ভায়েরা,, আপনি যদি আপনার দাদার দাদার দাদার নাম না জানেন,, তাহলে কি আপনি অপানার বাবাকে অস্বীকার করবেন?
এখন এই ডেফিনিশনটা এখানে একটু খাটিয়ে দেখেন,,আসল বাবার খোজে,, বাবার বাবা x তার বাবা z তার তার বাবা a। এখন এই ভাবে অংক করলে শুধুই চলতে থাকবে কোন সমাধানে পোছানো যাবে না,, এই ভাইবা যদি আপনি মেনেই নেন যে বাবার বাবা নাই,, তাহলে কেমন কথা হলো?
আরিফ_আজাদ ভাই বলেছেন,,,
সৃষ্টির একটা নির্দিষ্ট শুরু আছে,,,,,,,,,(১)
থার্মোডাইনামিক্সের তাপীও বিবর্তন ও এডুইন হাবলের নক্ষত্র দূরে সরে যাওয়া তত্ত্ব থেকে বোঝা যায় মহাবিশ্বের একসময় সৃষ্টি হয়েছিলো।
সুতরাং যেহেতু শুরু আছে,,,তাই
মহাবিশ্ব একটি সৃষ্টি,,,,,,,(২)
(১) নং ও (২) নং সমীকরন ম্যাচ করে,,, আমি ভাই আপনাদের মতের সাথে সহমত,,,,
কিন্তু এখানে বলছেন,, যেহেতু সৃষ্টিকর্তার কোন নির্দিষ্ট শুরু নেই তিনি আদি অনন্ত,,তাই তিনি সৃষ্টি হননি,,,
হোয়াট এ জোক!
যিনি এখনো শুরুই হননি,, যিনি এখনো সৃষ্টি'ই হয়নি তার অস্তিত্য কিভাবে থাকে?,,,এটা আমার মাথায় ঢোকে না।
সৃষ্টিকর্তা এখনো সৃষ্টি'ই হয়নি কিভাবে তার অস্তিত্য থাকে?
একটু উদাহরন দেই,,, সমীকরন রুপে
স্পাইডারম্যান রুপে কেউ কখনো সৃষ্টি হয় নি তাই বাস্তবে এমন কেউ নাই,,,(১)
ব্যাটম্যান রুপে কেউ কখনো সৃষ্টি হয় নি তাই বাস্তবে এমন কেউ নাই,,,(২)
তাগ জ্বীন রুপে কেউ কখনো সৃষ্টি হয় নি তাই বাস্তবে এমন কেউ নাই,,,(৩)
আল্লাহ রুপে কেউ কখনো সৃষ্টি হয় নি তাই বাস্তবে এমন কেউ নাই,,,(৪)
সমীকরন চারটি'ই পুরাপুরি মিলে যাচ্ছে কোন শর্ত ছাড়া,,, তাই এ সিদ্ধান্তে আসা যায় যে,, বাস্তবে সৃষ্টিকর্তা বলে কেউ নাই।।
আরিফ আজাদ ভাই বলেছেন,,,,
যিনি টাইম স্পেস মেটার তৈরি করেছেন,, তাকে কিভাবে এই বাটকারায় মাপা সম্ভব?
এখন ভাই আপনাকে বলবো,, যেহেতু তিনি টাইম স্পেস মেটার তৈরি করেছেন,,, সেহেতু এগুলার একটা শুরু আছে ফলে এগুলা একসময় ছিলো না,,,
তাহলে একটু হিসাব করে দেখুন,, যার যন্য একসময় একবিন্দু সময়, একটু যায়গা ও একটু ভর বা শক্তি ছিলো না সে কিভাবে তাহলে সে সময় অস্তিয়মান থাকে,,,?!!
অর্থাৎ স্রষ্টা বলতে কিছুই নেই তাই তাকে lows of causality দিয়ে মাপা সম্ভব নয়!

(পর্ব-৩)
(::)স্রষ্টা কি এমন কিছু তৈরি করতে পারবে? যা সে নিজেই তুলতে পারবে না।
এ ধরনের প্রশ্ন করলে সাধারণ মুমিনেরা উত্তর দিতে পারে না,, নাউজুবিল্লাহ, কাফের বলে পালিয়ে যায়।
কিন্তু, অতিকুটিল গোছের কিছু মুমিন, বিশেষ করে যারা #আরিফ_আজাদের (#প্যারাডক্সিলা_সাজিদ) বইটি পড়েছে তারা সুনিপুন ভাবে #কোরানের মিথ্যাচার করে এই প্রশ্নের উত্তর ন্যাম-ছ্যাম ভাবে দিয়ে চলে যায়।

তাদের যুক্তি বা আরিফ আজাদের যুক্তি অনেকটা এরকম,,,
আমরা জানি স্রষ্টা আসীম,, (প্যারাডক্সিকাল সাজিদ পৃষ্ঠা নং-১৫৬,১৫৭)
এখন,, জগতে যাই কিছু আমরা কল্পনা করি সবি সসীম,, একজন অসীম সত্ত্বা সসীম কিছু তুলতে পারবে কিনা,, এ ধরনের প্রশ্ন করা বোকামি। আরিফ আজাদ বলেছেন এ ধরনের প্রশ্ন কোন মূল্য নাই,,,
নীল রঙের স্বাদ কেমন?
বা ব্যাথা দেখতে কেমন?
এসব প্রশ্ন যেমন কোন সঠিক অর্থ বহন করে না। ঠিক তেমনি অসীম বা নীরাকার কোন সত্ত্বার সম্পর্কে এ ধরনের প্রশ্নও যৌক্তিক না।
#আরিফ_আজাদ ভাই আমি আপনার সাথে একমত। অসীম বা নিরাকার কোন কিছুর ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রশ্ন করা বোকামি।।
কিন্তু ভাই কোরান তো আল্লাহকে অসীম বা নিরাকার বলেনি
আল্লাহর ব্যাপারে সূরা ইখলাস বলছে,,
১/তিনি এক এবং অদ্বিতীয়।
২/তিনি কারোর মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তার মুখাপেক্ষী।
৩/তিনি কাউকে জন্ম দেননি, তাকেও কেউ জন্ম দেয়নি।
৪/তার সমকক্ষ কেউ নেই।।
কোরানের কোন একটা আয়াত থেকেও বোঝা যায় না যে, আল্লাহর আকার,, নিরাকার বা অসীম।
এ ব্যাপারে আপনাদের জাকির নায়েকও বলেছেন,, সৃষ্টিকর্তা আসীম নন তার একটা আকার আছে,, তবে সেটা কেমন তা আমরা জানিনা,, আল্লাহ মালুম,,,,,,
আল্লাহ যে অসীম বা নিরাকার না,,
এ ব্যাপারে আমি কিছু রেফারেন্স দিচ্ছি,,,
আল্লাহ প্রতি রাতে প্রথম আসমানে আসেন, (ইবনে কুদামা, আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ পৃ-২২)
///আল্লাহ যেহেতু প্রথম আসমানে আসেন তাহলে নিশ্চই তার একটা আকার আছে,,,
আল্লাহ মুসার সাথে সুষ্পষ্ট ভাবে কথা বলেছে (নিসা-১৬৪,, আরাফ-১৪৩)
আল্লাহ যেহেতু কথা বলেছে এ থেকে বোঝা যায় আল্লাহর মুখ আছে,, অর্থাৎ তিনি অসীম বা নিরাকার নন।
আমি তোমার প্রতি ভালোবাসা ঢেলে দিয়েছিলাম যাতে তুমি আমার চোখের সামনে প্রতিপালিত হও (ত্বা-হা-৩৯)
///এ থেকে বোঝা যায় আল্লাহর চোখ আছে কিন্তু সে চোক কেমন তা আমরা জানি না,, অর্থাৎ তিনি নিরাকার নন।
সেদিন পায়ের গোছা উন্মুক্ত করা হবে এবং তাদের ডাকা হবে সেজদা করার জন্য কিন্তু তারা তা কোরতে সক্ষম হবে না (আল ক্বালাম-৪২)
///আল্লাহর পা আছে অর্থাৎ তিনি নিরাকার নন।
বরং তার দুহাত প্রসারিত (মায়িদাহ-৬৪)
কিয়ামতের দিন আকাস থাকবে মুষ্টিতে আকাস সমুহ ডান হাতে ভাজ করা থাকবে (যুমার-৬৭)
/// অর্থাৎ আল্লহর হাত আছে,, তিনি নিরাকার নন তিনি অসীম নন তিনি সসীম তার আকার আছে,, কেমন তা আমরা জানি না।।
#আরিফ_আজাদ ভাই সৃষ্টিকর্তা অসীম বা নিরাকার এই বেজের উপর ভিত্তি করে যে খোড়া যুক্তি উপস্থাপন করেছে তা টোটাল একটা বুঝরুকি,, কেননা কোরান'ই বলছে আল্লা সসীম তার আকার আছে
এখন তাহলে প্রশ্নটি আবার করি,,
আল্লাহ কি এমন কিছু তৈরি করতে পারবে যা সে নিজেই তুলতে পারবে না,,,
আল্লাহ যেহেতু সসীম এবং যা তৈরি করবে তাও সসীম,, তাহলে প্রশ্নটি এখন ভ্যালিড
এখানে উত্তর হ্যা দিলে আল্লাহ উঁচু করতে পারবেনা,, আবার উত্তর না দিলে আল্লাহ বানাতে পারবেন না।। তাই আল্লাহ সর্বশক্তিমান না

(পর্ব-৪)
(::)ইসলাম যদি মানবতার ধর্ম হয়ে থাকে তাহলে কাফের মুশরিকদের যেখানে পাবে সেখানে হত্যা করার নির্দেশ কেনো দেওয়া হলো?
এ ধরনের প্রশ্ন করলে কুটিল মুমিন শ্রেনী কোরানের কিছু তাফসির বিকৃত করে সরাসরি উত্তর দেয় যে,, ইসলাম কাউকে হত্যার নির্দেশ দেয় নি বরং আত্মরক্ষার জন্য হত্যা বৈধ করেছে,,,
যেমন,,,
কাফের মুসরিকরা যদি প্রথমে আগ বাড়িয়ে আক্রমন করতে আসে সেখানে তাদের প্রতিহত করার জন্য হত্যা করা যাবে,,,,,
#প্যারাডক্সিকাল_সাজিদ বইয়ের রচিয়তা আরিফ আজাদ ভাই'ও একই কথা বলেছেন,,,, ইসলাম কখনোই আগ বাড়িয়ে কাউকে হত্যা করার কথা বলে নি,,,
তবে যুদ্ধের ময়দানে,, হত্যা করা যায়েজ কেননা,,
সেখানে হত্যা না করলে নিজেদের পরাজয় স্বীকার করে নিতে হয়,,, তাই এটা কোন অপরাধ না,, যেমন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বাঙালীদের জন্য বলেছিলেন,,, ""তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে ঝাপিয়ে পড়"" ""আমরা ভাতে মারবো, আমরা পানিতে মারবো"" ইত্যাদি,,, এটা যদিও মুজিবরের হত্যার ডাক,, তবুও এটা কোন অপরাধ নয়।।।।
#আরিফ_আজাদ ভাইকে বলবো,, জ্বি ভাই আমি আপনার সাথে একমত আত্মরক্ষার জন্য হত্যা করা বৈধ হলেও হতে পারে,,,যদিও এখানে আপনার সেই সত্রু আপনার প্রানের জন্য কতটুকু হুমকি সরুপ তা বোঝাও গুরুত্বপূর্ণ,,,,,
এবার আসি ইসলামের কথায়,,,
ইসলামে কাফের মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনার ক্ষেত্রে দুই ধরনের (নমনীয়তা, কঠোরতা) আয়াত দেখতে পাওয়া যায়,,, যার একটার সাথে আরেকটার আদর্শিক কোন মিল নাই
নমনীয়তাঃ মুহাম্মদের নবুয়াত প্রাপ্তির প্রথম দিকের নাযিলকৃত (তৈরিকৃত) আয়াতে কাফের মুশরিকদের সাথে যুদ্ধের ব্যাপারে নমনীয়তা দেখানে হয়,,,
কেননা এসময়ে মুহাম্মদের সমর্থক সংখ্যা কম ছিলো,, সরাসরি আগ বাড়িয়ে যুদ্ধে যাওয়ার মত শক্তিও তখন মুহাম্মদের ছিলো না।।
তাই মুহাম্মদ এসময়ে সব সময় কাফির মুশরিকদের সাথে ভালো ব্যাবহার করতো ও সহীহী ভাবে দাওয়াত দিতো,, এ সময়ে নাজিলকৃত আয়তগুলোতে আত্মরক্ষার জন্য যুদ্ধ করার কথা বলা হয়,,, অসংখ্য আয়াতের ভিতর এ ধরনের একটা আয়াতের উদাহরন দিচ্ছি,,,
"তোমাদের বিরুদ্ধে যারা যুদ্ধ করে, তোমরাও তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর, তবে বাড়াবাড়ি করনো" (বাকারাহ-১৯০)
এ ব্যাপারে তাফসির বলে,,,
এই আয়াতে প্রথমবার সেই লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ছিল। আর 'বাড়াবাড়ি করো না'র অর্থ হল, শত্রুর আঙ্গিক বিকৃতি ঘটায়ো না, মহিলা, শিশু এবং এমন বৃদ্ধকে হত্যা করো না, যে যুদ্ধে কোন প্রকার অংশগ্রহণ করেনি। অনুরূপ গাছ-পালা বা ফসলাদি জ্বালিয়ে দেওয়া এবং কোন অভীষ্ট লাভ ছাড়াই পশু-হত্যা করা ইত্যাদিও বাড়াবাড়ি বলে গণ্য হবে, যা থেকে বিরত থাকতে হবে। (ইবনে কাসীর)
🔔🔔কঠরোতাঃ ধিরে-ধিরে যখম মুহাম্মদের অনুসারী বাড়তে বাড়তে একটা মোটামুটি পর্যায়ে গেলো তখন মুহাম্মদ সরাসরি কাফির মুশরিকদের সাথে যুদ্ধ করার ঘোষনা দেয়,,,
এক্ষেত্রে সে কাফের মুশরিকদের শর্ত বেধে দিত যে দু-মাস ছয়-মাস এর ভেতর যদি তারা ইসলাম না গ্রহন করে তাহলে তাদের সাথে যুদ্ধ ও তাদের হত্যা করা হবে যেমন,,,,
""অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের যেখানে পাবে সেখানে হত্যা কর, পাকড়াও কর, অবরোধ কর, ঘাটিতে ওৎ পেতে থাকো, কিন্তু তারা যদি তওবা করে, সালাত কায়েম করে যাকাত দেয় তবে তাদের ছেড়ে দাও""(ত্বোওবা-৫)
এছাড়াও কোরান ও হাদিসে অসংখ্য যায়গায় কাফির মুশরিকদের সরাসরি হত্যা করার কথা বলা হয়েছে আমি তার অল্পকিছু উদাহরন দিচ্ছি,,,
হাদিসে আসছে,,
""আনাস ইবনে মালিক হতে বর্নিত,, তিনি বলেন,, রাসূল (সঃ) আমাকে বলেছেন ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের সাথে যুদ্ধ করতে হবে যতক্ষন না তারা স্বীকার করছে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলাল্লাহ" (সহীহ বুখারী, অধ্যায়-৮, হাদিস নং-৩৯২)
এই হাদিসটি থেকে বোঝা যায় ইসলাম কি নৃসংস ভাবে যুদ্ধ করার আহব্বান জনাইছে বিধর্মিদের বিরুদ্ধে।
অনেকেই এ পর্যায়ে এসে আবার বলবেন যে হত্যার বদলে হত্যা করার নির্দেশ আছে ইসলামে,,
এখানে একটু দেখেন,,
""কুফর, শিরক হত্যা অপেক্ষা গুরুতর"" (বাকারহ-১৯১)
অন্যান্য ধর্মালবাম্বিরা নিঃসন্দেহে মুসলিমদের কাছে কাফের মুসরিক,, তাই এই আয়াতের মাধ্যমে তাদের সাথে শুধু শুধু যুদ্ধ করা যায়েজ
সমকামীতার সাস্থি নাকি মৃত্যুদন্ড
চোরের সাস্থি নাকি হাত কাটা
ব্যাভিচারির সাস্থি ১০০ বেত্রাঘাত
মদ্যপায়ীর সাস্থি বেত্রাঘাত
এখন আপনারাই বলেন,, আপরাধির সাস্তি কি এভাবে রেডিমেট ভাবে নির্নয় করা যায়?
অপরাধির সিচুয়েশন বুঝে, কোন প্রেক্ষাপটে সে অপরাধটি করেছে,, সেটা বোঝাও জরুরি,,,,
উদাহরন দিলে পরিষ্কার হবে,,
যেমন একজন মদ্যপায়ী কে বেত্রাঘাত করলেন,, পরে জানা গেলো সে তার শারীরিক প্রয়োজনে মদ্যপান করেছে,,, যেমন শীত প্রধান দেশের মানুষ শারীরিক প্রয়োজনে এলকোহল খায়,,,বা ঔষধের কথা চিন্তা করেন,,, ডেক্সপর্টেন কাসির গুরুত্বপূর্ন একটা ঔষুধ,, তবে কেউ কেউ এটা নেষা করার জন্য ব্যাবহার করে,,,
এখন যে যে ডেক্সপোর্টেন খায় সবাইকে আপনি কি এক কাতারে ফেলাতে পারেন?

(পর্ব-৫)
কোরান নাজীল হতে ২৩ বছর সময় লাগলো কেনো?
মুমিন শ্রেনী একবাক্যে সমস্যরে চিল্লায় বলবে আরে মুর্খ কোরান নাজিল হয়েছে নবীজির জীবনের বাস্তবতা দিয়ে,, নবীজীর যখন যে আয়াত দরকার পড়েছে, তখন সেভাবে আয়াত নাজীল হয়েছে আল্লহর তরফ থেকে,,,,,
যেমন সুরা বাকারায় জিহাদ সংক্রান্ত আয়াত সুরা ত্বাওবার জিহাদ সংক্রান্ত আয়াত থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
সূরা আল বাকারা (البقرة), আয়াত: ১৯০
وَقَٰتِلُوا۟ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ ٱلَّذِينَ يُقَٰتِلُونَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوٓا۟ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يُحِبُّ ٱلْمُعْتَدِينَ
উচ্চারণঃ ওয়া কা-তিলূ ফী ছাবীলিল্লা-হিল্লাযীনা ইউকা-তিলূনাকুম ওয়ালা-তা‘তাদূ ইন্নাল্লা-হা লা-ইউহিব্বুল মু‘তাদীন।
অর্থঃ আর লড়াই কর আল্লাহর ওয়াস্তে তাদের সাথে, যারা লড়াই করে তোমাদের সাথে। অবশ্য কারো প্রতি বাড়াবাড়ি করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে পছন্দ করেন ন।
ইহুদি নাসারাদের সাথে যুদ্ধের ব্যাপারে এক ধরনের নমনীতা দেখানো হয়েছে।।
সূরা আত-তাওবাহ্‌ (التوبة), আয়াত: ৫
فَإِذَا ٱنسَلَخَ ٱلْأَشْهُرُ ٱلْحُرُمُ فَٱقْتُلُوا۟ ٱلْمُشْرِكِينَ حَيْثُ وَجَدتُّمُوهُمْ وَخُذُوهُمْ وَٱحْصُرُوهُمْ وَٱقْعُدُوا۟ لَهُمْ كُلَّ مَرْصَدٍ فَإِن تَابُوا۟ وَأَقَامُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتَوُا۟ ٱلزَّكَوٰةَ فَخَلُّوا۟ سَبِيلَهُمْ إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
উচ্চারণঃ ফাইযানছালাখাল আশহুরুল হুরুমুফাকতুলুল মুশরিকীনা হাইছুওয়াজাত্তুমূহুম ওয়া খুযূহুম ওয়াহসুরূহুম ওয়াক‘উদূলাহুম কুল্লা মারসাদিন ফাইন তা-বূওয়া আকা-মুসসলা-তা ওয়া আ-তাউঝঝাকাতা ফাখাললূছাবীলাহুম ইন্নাল্লা-হা গাফুরুর রাহীম।
অর্থঃ অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
এখানেই আবার তাদের প্রতি কঠরতা দেখানো হয়েছে,,,,
অর্থাৎ তাদের ভাষ্যমতে আল্লাহ সঠিক সময়ে সঠিক আয়াত নাজিল করেছে।।
ভাই আমি আপনাদের সাথে একমত,, যেহেতু সমাজ পরিবর্তনশীল তাই যে কোন সময়, সময়ের প্রয়োজনে সমাজের আইন কানুন গুলা পরিবর্তন করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে,,,,,,
এর বাস্তব উদাহর কোরান,,,,যার সত্যতা প্রমান হয় জিহাদ সংক্রান্ত আয়াত গুলা দেখলে,,,
এখন আপনারাই বলেন? ২৩ বছরেই যদি কোরানের এতো আইন পরিবর্তন করার প্রয়োজন হয়ে পড়ে তাহলে ১৪০০ বছরের আগের সেই আইন পৃথিবীতে এখন কিভাবে চলে?
যেহেতু সময়ের প্রয়োজনে আইন পরিবর্তিত হয়,,
উদাহরন দেই,,,
এক সময়ে আরবে চোরের উপদ্রব বেশি ছিলো,, যার কারনে তখন চোরের শাস্থি হাত কেটে ফেলা করা হত,,, কিন্তু এই আইন এখন চলে না।।
কারনঃ১/ চুরির জন্য হাতকাটা রায় প্রাপ্ত লোকটি আত্মহতাসায় ভুগে পরবর্তিতে এর থকেও খারাপ কোন কাজে লিপ্ত হতে পারে যেমন আত্মঘাতী বোমা হামলা।
২/রাষ্ট্রিয় প্রয়োজনে কোন কোন ক্ষেত্রে চুরি করার প্রয়োজন পড়ে,, এক্ষেত্রে যে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে চুরি করবে রাষ্ট্রের আইন কি তারই হাত কাটবে
৩/ভালো কোন লোক অতিদারিদ্রের মাথায় ভুল বসত যদি চুরি করেও ফেলে তবে এ ক্ষত্রেও শাস্তি হিসেবে হাত কাটা অমানবিক,।
ইসলামে জন্ম নিয়ন্ত্রন করা নিষেদ,,,
একটা সময় এই আইন হয়তো আরবে সমাজের কল্যানে কার্যকর ছিলো,,
কিন্তু এই আইন বর্তমানে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে কতটুকু যৌক্তিক,,,?
১/ জন্ম নিয়ন্ত্রন না করলে জন্মহার বৃদ্ধি পায় যার কারনে দেশের নানামুখি সমস্যা সৃষ্টি হয়।
যেমন, খাদ্য সংকট, বস্ত্রের অভাব, চিকিৎসা অর্থাৎ সকল মৌলিক চাহিদা হতেই জনগন ও শিশু বঞ্চিত হয়,,,
এখন এক্ষেত্রে কিছু মুমিন বলবে,,
উৎপাদিত সন্তানকে যদি সঠিক ভাবে মানুষ করে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার বানানো যায় তাহলে এই জনগন তো কল্যানকর'ই।।
এখন ভাই আপনি বলেন,, সচেতন নাগরিক কয়জন আছে যে তাদের ছেলেমেয়েদের প্রত্যেকটাকেই মানুষ করতে পারে?
হয়তো কিছু মানুষ তার পনেরো বিশটা ছেলেমেয়েকেই আদর্শ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারবে,, তবে ম্যাক্সিমাম পারবে না।
তাহলে সবার জন্য ইসলামের এই একই আইন কিভাবে চলে?

(পর্ব-৬)
(পুরা পোষ্ট না পড়ে কেউ কমেন্ট করবেন না)
ভবিষ্যতে কি হবে, আল্লাহ কি তা জানেন?
এ প্রশ্নের উত্তরে মুমিন সমাজ একবাক্যে বলবে,,,, এতো আল্লাহর কাছে সহজ কাজ, কেননা পবিত্র কোরানে আল্লাহ নিজেই বলেছে ভবিষ্যতে কি হবে তা সে জানে,,,,,
সূরা নামাল, আয়াতঃ-৬৫
قُل لَّا يَعْلَمُ مَن فِى السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضِ الْغَيْبَ إِلَّا اللَّهُ ۚ وَمَا يَشْعُرُونَ أَيَّانَ يُبْعَثُونَ
বলুন, ‘আল্লাহ্‌ ব্যতিত আসমান ও যমীনে কেউই গায়েব জানে না, এবং তারা উপলব্ধিও করেনা কখন উত্থিত হবে
আল্লাহ হলো“আলেমূল গায়েব” অদৃশ্য জ্ঞানী উপাধি একমাত্র আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামীনের সাথে সংশ্লিষ্ট।
আল্লাহ্‌ বলেনঃ
"আর তাঁর কাছেই আছে অদৃশ্যের চাবিগুলো, সেগুলো তিনি ছাড়া আর কেউ জানে না।” (সূরা আল-আন‘আম ৫৯)
তিনি আরও বলেনঃ “একমাত্র আল্লাহ্‌ই রাখেন কিয়ামতের জ্ঞান। তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন। তিনিই জানেন মাতৃগর্ভে কি (লালিত) হচ্ছে, কোন প্ৰাণী জানে না আগামীকাল সে কি উপার্জন করবে এবং কোন প্রাণী জানে না কোন ভূমিতে তার মৃত্যু হবে।” (সূরা লুকমানঃ ৩৪)
তিনি আরও বলেনঃ “তিনি জানেন যা কিছু সৃষ্টির সামনে আছে এবং যা কিছু আছে তাদের অগোচরে। আর তাঁর জ্ঞানের কিছুমাত্র অংশও তারা আয়ত্ব করতে পারে না, তবে তিনি যে জিনিসটির জ্ঞান তাদেরকে দিতে চান, দেন। (সূরা আল বাকারাহঃ ২৫৫)
এ ব্যাপারে আরো দেখুনঃ সূরা আল-আন‘আমঃ ৫০, সূরা আল-আ‘রাফঃ ১৮৭, সূরা আত-তাওবাহঃ ১০১, সূরা হূদঃ ৩১, সূরা আল- আহযাবঃ ৬৩, সূরা আল-আহকাফঃ ৯, সূরা আত-তাহরীমঃ ৩, এবং সূরা জিনঃ ২৬।।
অর্থাৎ কোরানে আল্লাহ বলেছে বলেই এটা পরম সত্য,, এ ধরনের খোড়া যুক্তি মেরে মুমিনরা দাত ক্যালায়।।
এখন যদি প্রশ্ন করা হয়,,,
কোরান বলেছে বলেই কি সত্য হবে ?
এর কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে?
এ প্রশ্নের উত্তরে প্রথমেই মুমিনরা বলবে, মহাবিশ্বের ৪% বিজ্ঞানিরা জানে যা খুবই সামান্য অতএব এই সীমিত জ্ঞান দিয়ে আল্লাহর ক্ষমতা ব্যাখ্যা করা যায় না।।
হা হা হা, মুমিন ভায়েরা শোনেন বিজ্ঞান ৪% জানুক আর ২% জানুক। যা যানে সেটা পরিক্ষালব্দ বাস্তব প্রমানিত সমীকরণ ভিত্তিক সত্য।।
বিজ্ঞান যা জানেনা তা নিয়ে বিজ্ঞান গবেষনা করে,,, সেরকম বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে যা পসিবল না বাস্তবে সে রকম কিছু থাকে না,,,,
এটা নিশ্চই আপনারা অস্বীকার করবেন না?
এক্ষেত্রে কিছু মুমিন কুটিলতার সহীত আইনস্টানের সময়ের আপেক্ষিকতার সাহায্যে আল্লহর ক্ষমতা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে যা খুবি হাস্যকর!,,,, তারা বলে,,, আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্বের সাহায্যে প্রমান করা যায় যে ভবিষ্যৎ এ যাওয়া পসিবল এবং আল্লাহ ভবিষ্যৎ জ্ঞান,, বিজ্ঞান সম্মত।।।
তাদের এ ধরনের উত্তর শুইনা আমি অবাক হয়ে যাই,,,যদি তারা এ ব্যাপারে কিঞ্চিত পড়াশোনাও করতো,,, তাহলেও তারা এই ভুলভাল কথা বলতে পারতো না।
আসুন আমরা দেখে নেই,,,,কেনো ভবিষ্যতে যাওয়া বৈজ্ঞানিক ভাবে অসম্ভব,,,,,
আইনস্টাইন তার আপেক্ষিকতার সমীকরনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তে এসেছিলেন,,,,
"সময় বেগের হ্রাস বৃদ্ধির উপর নির্ভরশীল,,, সমীকরনটি,,
T"= T/[root{1-(v2/c2)}]
T= পর্যবেক্ষকের সময়।
T=পৃথিবীর সময়।
v=পর্যবেক্ষকের বেগ।
c=300000000 ms*-1। (ধ্রুবক)
এ সমীকরনের মাধ্যমে আইনস্টাইন ৩ টি সিদ্ধান্তে এসেছিলেন,,,
১/ সাধারনত বাস্তব জগতে সকল কিছুর'ই বেগ আলোর থেকে অনেক কম হওয়ায়,, বাস্তব জগতের কোন ঘটনা দিয়েই সময়ের আপেক্ষিকতাকে পর্যবেক্ষন করা সম্ভব নয়।।
২/আলোর কাছাকাছি বেগে ছুটতে পারলে পৃথিবীর ঘড়ির থেকে পর্যবেক্ষকের ঘড়িতে সময়ের মান বেশি আসবে।।
৩/আলোর বেগে যদি ছোটা যায়,,, তাহলে পর্যবেক্ষক ঐ মুহুর্ত অনিশ্চয়াতার মধ্যে হারিয়ে যাবে,,, অর্থাৎ ঐ নির্দিষ্ট মুহুর্তে তার সময়ের মান অসীম হয়ে আটকে যাবে তাই,,,, ঐ নির্দিষ্ট মুহুর্তের আগেও যেতে পারবে না পিছেও যেতে পারবে না,,, ফলে তার সময় স্থির হয়ে যাবে।
কেউ কেউ বলতে পারেন আলোর থেকে বেশি বেগে গেলে নিশ্চই ভবিষ্যতে যাওয়া যাবে?
ভাই,,, আলোর থেকে বেশি বেগে ছোটা কোন কিছুর পক্ষে সম্ভব না।। আলোর বেগ একটি ধ্রুবক। তারপরও যদি আল্লাহকে ধরে নেই যে সে পারে,,
তাহলেও এই সমীকরন দ্বারা প্রমান হয় না যে,, সে ভবিষ্যতে যেতে পারে,,, বরং আলোর থেকে বেশি বেগে ছুটলে অতিতে চলে যায়।।
বিশ্বাস না হলে বিভিন্ন বেগ দিয়ে সমীকরনটিতে এপ্লাই করুন।।
আবার কোয়ান্টাম ম্যাকানিক্সের ভাষ্যমতে,, ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয় অনিশ্চয়তার মাধ্যমে।।
ভবিষ্যৎ যানা সম্ভব নয়,, এই যুক্তিকে প্রধান বেজ হিসেবে ধরেই হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তার সূত্রটি আবিষ্কার হয়েছে।
এবং এই সুত্রের মাধোমে আলোর বর্নালীর সুক্ষ বিশ্লেষন করা হচ্ছে যা পরিক্ষালব্দ সমীকরন নির্ভর সত্য।
এখন কেউ কেউ বলবেন,, ভাই বিজ্ঞানের অনেক বিষয় তো ভুল প্রমানিত হয়েছে,,,
আপেক্ষিক তত্ত্ব বা অনিশ্চয়তার নিতী যে ভুল প্রমান হবে না তার গেরান্টি কি??
আমি একমত ভাই অনেক জিনিশ ভুল প্রমানিত হয়েছে,,, কিন্তু যেগুলো ভুল প্রমানিত হয়েছে আপনি সেগুলো লক্ষ করলে দেখবেন,,
সেগুলো সমিকরন ভিত্তিক পর্যবেক্ষন নির্ভর সত্য না।।
কোনটা ছিলো যাষ্ট হাইপো-থিসিস। আবার কোন কোন হাপোথিসিস ফ্যাক্ট এর দুই দুই একটা কার্যকারন শুধু ব্যাখ্যা করতে পারতো,, কিন্তু কোন গানিতিক সমাধান দিতে পারতো না।
কিন্তু আপেক্ষিকতা বা কোয়ান্টাম বলবিদ্যা তাদের বিষয়ভুক্ত সব কিছুই ব্যাখ্যা করতে পারে।
তাহলে উপরের আলোচনার মাধ্যমে একথা প্রমানিত হলো যে,, আল্লাহ বা যে কোন সত্ত্বার পক্ষেই ভবিষ্যতে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই আল্লাহকে #আলিমুল_গায়েব বলা বৈজ্ঞানিক ভাবে যুক্তিহীন
 
(পর্ব-৭)
 আয়েশা (রাঃ) এর বিয়ে,, ইতিহাসের একটি জঘন্যতম দৃষ্টান্ত নয় কি? এ প্রশ্নের উত্তরে মুমিন সমাজ অনেকটা আবেগে আপ্লুত হয়ে বলে, না,,,,
--কেনো,,! আপনারা শিশু বিবাহ সমর্থন করেন?
হাদিসে আসছে,,,
আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তার ছয় বছর বয়সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বিবাহ করেন। তাকে নয় বছর* বয়সে তার ঘরে বধুবেশে নেয়া হয় এবং তার সঙ্গে তার খেলার পুতুলগুলোও ছিল। তাঁর আঠারো বছর বয়সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করেন।(সহীহ মুসলিম শরীফ, হাদিস নংঃ ৩৩৭২)(ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৩৪৬, ইসলামীক সেন্টার ৩৩৪৫)
এই হাদিসটি থেকে বোঝা যায় মুহাম্মদ ছয় বছর বয়সে আয়েশাকে বিবাহ করে,,, এবং নয় বছর বয়সে তার সাথে যৌন সম্পর্ক করে।।
#প্যারাডক্সিকাল_সাজিদ বইয়ের রচিয়তা আরিফ আজাদ সহ কুটিল মুমিন গোষ্টি এর উত্তরটা অনেকটা এরকমভাবে দেয়,,,,
মেয়েদের যৌন পরিপক্কতা ছেলেদের তুলনায় তাড়াতাড়ি হয়,,, যেকারনে কোন মেয়ের মিন্স শুরু হওয়ার পর পরই সে বিবাহের উপযোগি হয়।।।
এখন মুমিন ভাই আপনারাই বলেন,,,
মিন্স শুরু হলেই কি একটা মেয়ে বিয়ের উপযোগি হয়?
মিন্স শুরু হলেই কি একটা মেয়ে গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসবের উপযোগি হয়ে যায়?
এর উত্তর হবে,, না,,, (উইকিপিডিয়া)
এখন আপনারা বলতে পারেন,, ইসলামে মেয়েদের মিন্স শুরু হওয়ার সাথে সাথে বিয়ে দেওয়ার কথা বলা আছে,,
কিন্তু মেয়েটির যে সন্তান নেওয়া লাগবে এমন তো কোন কথা নাই,,,,,
ভুল ভাই,, ইসলামে গর্ভনিরোধক কিছু ব্যাবহার করা হারাম,,,কেননা হাদিসে আসছে,,
""তোমর উৎপাদনশীল মেয়েদের বিয়ে কর, যাতে আমি সংখ্যায় কাফেরদের পরাস্থ করতে পারি""(সূনান আবুদাউদ বই,১১ হাদিস নং-২০৪৫)
এখানে নবী বলেছে উৎপাদন করতে, আপনি যদি জন্ম নিয়ন্ত্রন করেন!! সেটাতো ভাই ইসলাম বিরোধি হবে
এখন যদি বলেন,,ভাই আমি আর্থিক সমস্যায় আছি সন্তান নিতে চাই না,,, এক্ষেত্রে কোরান কি বলে দেখুন,,,
وَلَا تَقْتُلُوٓا أَوْلٰدَكُمْ خَشْيَةَ إِمْلٰقٍ ۖ نَّحْنُ نَرْزُقُهُمْ وَإِيَّاكُمْ ۚ إِنَّ قَتْلَهُمْ كَانَ خِطْئًا كَبِيرًا
অভাব-অনটনের ভয়ে তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করো না। আমিই তাদেরকে রিয্ক দেই এবং তোমাদেরকেও। নিশ্চয় তাদেরকে হত্যা করা মহাপাপ। (বনী ইসরাইল, আয়াত নং-৩১)
এক হাদীসে এসেছে,,, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম, “সবচেয়ে বড় গুনাহ কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। আমি বললাম, এটা অবশ্যই বড় কিন্তু তারপর কি? তিনি বললেন, এবং তোমার সাথে খাবে এ ভয়ে তোমার সন্তানকে হত্যা করা”। (বুখারীঃ ৪৪৭৭)
এখন বলতে পারেন স্ত্রি সেক্স করতে চায় না,, তো এক্ষেত্রে সন্তান হওয়ার সম্ভাবনাও নাই,,
কিন্তু ভাই হাদিসে আসছে,,,
""কোন স্বামী তার স্ত্রীর সাথে সেক্স করতে চায়, কিন্তু যে কোন কারনেই হোক স্ত্রি যদি তা না দেয়,,, তাহলে সারারাত ঐ স্ত্রীকে ফেরেস্তারা অভিষাপ দেয়"" (সহীহ মুসলিম হাদিস নংঃ ৩৩৬৭)
যেহেতু আপনি একজন পুর্নবয়স্কা যুবক,, তাই আপনার সেক্সের চাহিদা থাকবেই,,, এবং আপনার স্ত্রীও তা করতে বাধ্য আবার এক্ষেত্রে জন্ম নিয়ন্ত্রন করতে পারছেন না,,,
ফলে আপনার শিশু বউটি প্রেগন্যান্ট হতে বাধ্য।
এর অপকারিতার দুই একটা পয়েন্ট লিখি,,,
১/মায়ের মৃত্যুর ঝুকি
২/শিশু মৃত্যুর ঝুকি
৩/মা ও শিশুর অপুষ্টিহীনতা
৪/জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার অত্যাধিক
৫/মৌলিক চাহিদার দুঃষ্প্রাপ্যতা, ইত্যাদি।
শিশু বিবাহের ক্ষতিকর দিক জানতে উইকিপিডিয়ায় সার্চ দিন।।
এখন কেউ কেউ বলতে পারেন ভাই,, নবিজী করেছে বলেই কি আমাদেরও শিশু বিবাহ করতে হবে?
--ভাই নবিজী যা করেছে যা বলেছে এবং যার সমর্থন করেছে তা মুমিন শ্রেনীর পালন করা অবশ্য কর্তব্য,,,
কোন কোন মুমিন বলে,, ভাই খ্রিষ্টান ধর্মে হিন্দু ধর্মে এমন কি #আরিফ_আজাদ তো কয়েক গ্রেড উপরে গিয়ে মুজিবরের কথাই উল্লেখ করে বলেছেন,,, ইতিহাসে তারাও তো শিশু বিবাহ করেছে তাদের কোন দোষ নাই,, অথচ ১৪০০ বছর আগে মুহম্মদ করেছে তাতেই দোষ হয়ে গেছে?
উদাহরন দেয়,, রাম যখন সীতাকে বিবাহ করে তখম সীতার বয়স ছিলো ছয় বছর ( স্কন্ধ পূরাণ, ৩য় পর্ব, ২য় খন্ড, ৩০ নং অধ্যায়, ৮-৯ নং শ্লোক)
আবার খ্রিষ্টান ধর্মের থেকে উদাহরন দেয়,,
"তোমরা যুদ্ধ ক্ষেত্রে সকলকে হত্যা করে ছোট কুমারী মেয়েদের নিজেদের জন্য রেখে দাও"
আবার বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসার বয়স যখন ৮ তখন মুজিব তাকে বিয়ে করে,,,,(অসমাপ্ত আত্মজীবনী)
ভাই আপনাদের মাথায় কি আছে আমি জানিনা,,, মুজিব বিয়ে করেছে ঠিকই , কিন্তু সে কি বলে গেছে, সবাইকে শিশু বিবাহ করতে হবে? হিন্দু ধর্ম কি বলে গেছে? বা খ্রিষ্টান, ইহুদি ধর্ম?
যদিও ধরে নিলাম হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ ধর্ম গুলাও সমর্থন দিছে শিশু বিবাহের,,, কিন্তু তাদের উম্মতেরা কি তা এখন মানে?
তারা মানেনা কারন তারা এর কুফল জানে,,,
কিন্তু আপনারা মুমিনরা এখনো শিশু বিবাহের পক্ষে কথা বলেন!! যা হাস্যকর।।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হয়তো শিশু বিবাহেএ কূফল যানতো না,, তাই সে বিয়ে করেছিলো,, মুহাম্মদও জানতো না,,তাই সে বিয়ে করেছে।
আপনি তো জানেন এর কুফল, তাহলে আপনি কেনো এখনো এটা সমর্থন করবেন?
এখন আপনারা আবার প্রশ্ন করতে পারেন,, সক্কলেই তো শিশুবিবাহ করেছে,, তাহলে মুহাম্মদ, আয়েশার বিয়ে কেনো জঘন্যতম?
ভাই,, হয়তো তারা এর কুফল জানতো না,, তাই তারা বিবাহ করেছে। কিন্তু কেউ কি বলে গেছে আমার আইনই চুড়ান্ত? আমি যা করবো তাই সত্যি! কেউ বলে নাই, একমাত্র মোহাম্মদ ছাড়া।
তাই তার এ বিবাহ ইতিহাসের জঘন্যতম ঘটনার মধ্যে একটা।