Tuesday, March 23, 2021

সুপারনোভা ছাড়া মানুষ সৃষ্টিই হতে পারতো না।

গত ৪০ বছর ধরে জ্যাতির্বিজ্ঞানের জগৎ এক অভূতপূর্ব রোমান্টিক জোয়ারে ভাসছে। আমাদের থেকে মাত্র ১,৭০,০০০ আলোক বর্ষ (  প্রতি  সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার  যাওয়া যায়,  এমন একটা গতিতে  আপনার  যদি ভ্রমন  করার সুভাগ্য হয় তাহলে ১ লক্ষ ৭০ হাজার বছর গেলে আপনি যেখানে পৌছতে পারবেন।)দূরে দক্ষিণ আকাশে বৃহৎ ম্যাজেলানীয় মেঘপুঞ্জ নামে যে উপ-গ্যালাক্সিটি রয়েছে সেখানেই ১৯৮৭ সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারীর মধ্যনিশীথে আন্ডিজ পর্বতমালার এক নিস্তব্ধ হিমজর্জর শিখরে দাঁড়িয়ে তরুন বিজ্ঞানী ইয়ান শেলটন  সুপারনোভাটিকে আবিষ্কার করলেন।   সুপারনোভাটি এত গুরুত্বপূর্ণ কেন? সৌরজগতের অস্তিত্ব সম্বধে কি তা আলোকপাত করবে? পৃথিবীর বুকে প্রানের অস্তিত্বের সঙ্গে এর কোন তাৎপর্যের বন্ধন আছে কি? আমাদের মানবজাতির অস্তিত্বের সাথে কী এর সম্পর্ক আছে? বিনম্র শ্রদ্ধা  হ্যা, আছে।
সুপারনোভা ঐ সব কারনেই অতটা গুরুত্বপূর্ণ।

সুপারনোভা বিস্ফোরণ কীভাবে হয় সেটা বুঝতে হলে প্রথমে বোঝা দরকার একটি তারকা কীভাবে তৈরি হয়। 
মহাবিশ্বের 'প্রথম আদি' মৌল উপাদান হচ্ছে হাইড্রোজেন(৭৫%) আর হিলিয়াম(২৫%)। তারার উৎপত্তি হয় মহাশূন্যে অত্যান্ত ক্ষীণভাবে ব্যাপ্ত গ্যাস ও ধুলিকণার বিপুল নীহারিকা পর্যায়ে পর্যায়ে ঘনীভূত হয়ে। কোন এক সময়ে কোনও এক বিশেষ অবস্হায় কণাগুলির মধ্যে পারষ্পরিক মহাকর্ষের আকর্ষন শুরু হয় এবং ক্রমশই নীহারিকাটির সঙ্কোচন ঘটতে থাকে। সঙ্কুচিত হতে হতে নীহারিকাটি অনেক সময়ই বহু খন্ডে বিভক্ত হয়ে পড়ে বহু তারার এবং তারকাগুচ্ছের জন্ম দেয়। মহাকর্ষের কেন্দ্রমুখী আকর্ষনে উত্তরোত্তর ঘনীভূত হয়ে প্রত্যেকটি তারার কেন্দ্রস্হল এক সময়ে এত ভীষন ঘন হয়ে ওঠে এবং সেখানকার উত্তাপ
এমনই প্রচন্ড হয়ে ওঠে যে সেখানে তাপ-পারমানবিক বিক্রিয়া শুরু হয়। চারটি করে হাইড্রোজেন পরমানু (চারটি প্রোটন) জুড়ে গিয়ে একটি করে হিলিয়াম পরমানু সৃষ্টি হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে কিছু উদ্বৃত্ত বস্তুভর শক্তিতে পরিনত হয় এবং ঐ শক্তি বিকীর্ণ হতে থাকে আলো ও তাপরুপে। সূর্য জাতীয় তারার কেন্দ্রস্হলে তাপমাত্রা প্রথম পর্যায়ে থাকে এক কোটি থেকে দুই কোটি ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের মত। একটা পর্যায়ে কেন্দ্রের তাপমাত্রা ১০ কোটি ডিগ্রির মাত্রায় চড়ে ওঠলে হিলিয়ামই জ্বালানি হয়ে ওঠে এবং উচ্চতর তাপ-পারমানবিক বিক্রিয়া শুরু হয়ে কার্বন-১২,  অক্সিজেন-১৬, নিয়ন-২০ পরমানু সৃষ্টি হয়। সূর্যের চেয়ে কয়েকগুণ বড় তারকার ক্ষেত্রে কেন্দ্রস্হলের তাপমাত্রা  যখন  ৬০ কোটি ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে ওঠে তখন কেন্দ্রের নিয়ন ও অক্সিজেনই জ্বালানি হয়ে ওঠে সিলিকন-২৯ গ্রুপের বিভিন্ন পরমানুর সৃষ্টি হয় এবং কেন্দ্রের তাপমাত্রা তখন ১৫০ কোটি ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড পর্যন্ত ওঠে। আরও কয়েকটি জটিল বিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে কেন্দ্রর তাপমাত্রা যখন ৫০০ কোটি ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে ওঠে তখন সিলিকন গ্রুপের পরমাণুগুলোই জ্বালানিতে পরিনত হয় এবং লৌহ গ্রুপের-৫৬  বিভিন্ন পরমাণুগুলোতে পরিনত হয়। এভাবেই কেন্দ্রে হিলিয়াম থেকে শুরু করে ইউরেনিয়াম-২৩৮ পর্যন্ত সৃষ্টি হয়।  এক পর্যায়ে জ্বালানি ফুরিয়ে গেলে মহাকর্ষের প্রচন্ড চাপে তারাটি বিস্ফোরিত হয় এবং আরও বেশী ভরের তারাগুলোতে তৈরি হয় পালসার, কোয়াসার এবং পরিশেষে ভয়াবহ মধ্যাকর্ষন শক্তিসম্পন্ন কৃষ্ণ গহব্বর।

এবং একটি  সুপারনোভা  বিস্ফোরণের পর চূর্ন বিচূর্ণ এই তারাটি থেকে যে গ্যাসপুঞ্জ উৎক্ষিপ্ত হয় তার মধ্যে বিপুল পরিমাণ হাইড্রোজেনের সঙ্গে মিশে থাকে হিলিয়াম থেকে শুরু করে ইউরেনিয়াম পর্যন্ত সমস্ত রকমের উপাদান। এই মেঘপুঞ্জই পরিনত হয় পরের প্রজন্মের তারকাদের ব্যবহৃত কাঁচামালের একটি অংশে। আমাদের নিজেদের সূর্য দ্বিতীয়  কিম্বা তৃতীয় প্রজন্মের তারা। অতীতের সুপারনোভার ধ্বংসাবশেষযুক্ত ঘূর্ণায়মান বায়বীয় পদার্থের মেঘ থেকে প্রায় পাঁচশ কোটি বছর আগে আমাদের সূর্য গঠিত হয়েছে। অবশিষ্ট  গল্প পরিমান কিছু ভারী মৌলিক পদার্থ সংযুক্ত হয়ে কতগুলি বস্তুপিণ্ড তৈরী হয়েছে। সেগুলিই এখন গ্রহ হয়ে সূর্যকে প্রদক্ষিন করে।পৃথিবী এমনই একটি গ্রহ। শুরুতে পৃথিবী ছিল অত্যন্ত উত্তপ্ত। কালে কালে পৃথিবী শীতল হল এবং নিজস্ব বায়ুমন্ডল গঠন করল। কতকগুলি পরমানুর আকস্মিক সমন্বয়ে কয়েকটি বৃহত্তর অবয়ব সৃষ্টি হয়েছিল। খুবই সংক্ষেপে -এভাবে ইউরাসিল, ডিএনএ, আরএনএ তৈরি হল। প্রথমে প্রোকারিয়ট তারপর সায়ানো ব্যাক্টোরিয়া, ইউকারিয়ট, মাছ, সরীসৃপ,  স্তন্যপায়ী এবং পরিশেষে মানবজাতি। 

সারকথাঃ আমাদের সৌরজগতের অস্তিত্বটাই আদিকালে এক বা একাধিক সুপারনোভার বিষ্ফোরনের দ্ধারা প্রভাবিত হয়েছিল। যে নীহারিকাটির মধ্য থেকে সূর্য এবং গ্রহগুলির জন্ম সেটির মধ্যে নিশ্চয়ই এক বা একাধিক সুপারনোভা বিস্ফোরণ-জাত ধ্বংসাবশেষের মিশ্রন ছিল এবং সেই ধ্বংসাবশেষের মধ্যে প্রচুর পরিমানে ভারী মৌল ( কার্বন, অক্সিজেন, ফসফরাস, নাইট্রোজেন, সালফার সোডিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, থেকে  ইউরেনিয়াম পর্যন্ত) ছিল। তা যদি না হ'ত তাহলে এমন একটা সূক্ষ্ম-জটিল গ্যাস মিশ্রন হিসাবে গড়ে ওঠার বদলে সূর্য হ'ত প্রায় বিশুদ্ধ এক হাইড্রোজেনগঠিত তারকা, যাতে মিশ্রিত থাকতো কেবল সিকিভাগ হিলিয়াম। শুধু তাই নয়, বৃহস্পতি বা শনির মতো বড় বড় গ্রহেরই গঠন একই হ'ত। আর পৃথিবী সমেত ছোট ছোট গ্রহগুলোর জন্মই হ'ত না এবং আমাদের অস্তিত্বের কোনও প্রশ্নই উঠত না। কারন ছোট ছোট গ্রহগুলোর অভিকর্ষ-শক্তি এতটা প্রবল নয় যে তার জোরে তারা হাইড্রোজেনের মতো অত হালকা পদার্থকে বেঁধে রাখতে পারে।

আর তাই,  গভীরতর অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে আমারা উচ্চারণ করতে পারিঃ সুপারনোভা ছাড়া মানুষ সৃষ্টি হতে পারতো না।

Tuesday, March 16, 2021

টাইম ট্রাভেল কি সম্ভব? (পর্ব ১)

টাইম ট্রাভেল। নামটি শুনলেই চোখের সামনে কাল্পনিক জগতের একটি গোল টাইম মেশিন ভেসে ওঠে। যেখানে প্রবেশ করলেই মানুষ চলে যায় ভবিষ্যতে। দেখতে পায় অত্যাধুনিক দালানকোঠা, দ্রুতগতির যানবাহন যা কল্পনাকেও হার মানায়। আমাদের সকলেরই ইচ্ছে হয় যেন ভবিষ্যত থেকে কিছুক্ষণ ঘুরে আসি, দেখে আসি নিজেদের কীরকম অবস্থা। যদি স্বপ্নের মতো সবকিছুই পেয়ে যাই তাহলে তো ভালোই। আর যদি দেখি বিপরীত কিছু, তবে দ্রুত বর্তমানে ফিরে এসে যেন সকল ভুল শুধরে নেই। এরকমটা যদি সত্যিই হতো!

 

টাইম ট্রাভেল আসলে কী?
টাইম ট্রাভেল বা সময় ভ্রমণ। এটি আসলে সময়ের অক্ষ বরাবর ভ্রমণ। আমরা সকলেই তিনটি মাত্রা সম্পর্কে অবগত,  দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং উচ্চতা। এই তিনটি মাত্রা বরাবর স্থান পরিবর্তন সম্ভব। তবে ন্যূনতম চতুর্মাত্রিক একটি ধারণা হচ্ছে সময়ের ধারণা। আজ পর্যন্ত এই চতুর্থ মাত্রা দিয়ে স্থান পরিবর্তন সম্ভব হয়নি। এই সময়ের অক্ষ বরাবর স্থান পরিবর্তনকে কালমাত্রিক সরণ বলা হয়। এক সময় থেকে আরেক সময়ে পরিভ্রমণকেও আমরা সময় ভ্রমণ বলে থাকি। এটি হতে পারে অতীতে ভ্রমণ, হতে পারে ভবিষ্যতে ভ্রমণ। আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান কিন্তু টাইম ট্রাভেল বা সময় ভ্রমন নিয়ে বসে নেই।
 

ইতিহাসে টাইম ট্রাভেল
১৮১৯ সালে ওয়াশিংটন আর্ভিংয়ের বিখ্যাত ‘রিপ ভ্যান উইংক্যাল’ বেশ সাড়া ফেলে দেয়। ডাচ বংশোদ্ভুত রিপ ভবঘুরে টাইপের ছিলেন। একদিন স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করতে করতে আর এই জগৎ সংসারের ঝামেলা থেকে ক্ষণিক রেহাই পাওয়ার উদ্দেশ্যে নিজের পোষা উলফ কুকুর নিয়ে পর্বতের দিকে রওনা দেন। সেখানে এক কাঠবিড়ালীকে অনুসরণ করে চলে যান পর্বতের একদম চূড়ায়। দেখা হয় দাঁড়িওয়ালা কিছু অদ্ভূত লোকদের সাথে। তাদের সাথে থাকা মদ খেয়ে কাবু হয়ে যান রিপ। ব্যস ঘুম থেকে উঠে দেখেন ২০ বছর গায়েব! টাইম ট্রাভেল নিয়ে তখন থেকেই জল্পনা কল্পনায় বেশ বেগ আসতে শুরু করে।

1

প্রাচীন মহাকাব্য বা লোকগল্পে সময় ভ্রমণের অনেক কাহিনী প্রচলিত ছিল। টাইম ট্রাভেল সম্পর্কে বিবরণ পাওয়া যায় খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকে রচিত মহাভারতে রাজা কাকুদমির কাহিনীতে। যেখানে রাজা এবং তাঁর কন্যা রেবতীর সময়যাত্রার কাল্পনিক গল্প রয়েছে। খ্রিস্টীয় অষ্টম শতাব্দীর জাপানের লোককথার এক চরিত্র উরাশিমাকো বা উরাশিমা তারোর সময় ভ্রমণের গল্পও বেশ জনপ্রিয়। তুলনামূলক আধুনিকতর অনেক গল্প উপন্যাসেরও কেন্দ্রীয় বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে এই সময়ভ্রমণের ধারণা।

 

আইরিশ লেখক স্যামুয়েল ম্যাদেনের ‘Memories of 20th century’-তে সময় ভ্রমণের কিছুটা ধারণা লাভ করা যায়। ১৭৭০ সালে ফরাসী লেখক ল্যুই সেবাস্তিয়ান মারসিয়ারের ‘’L’An 2440, rêve s’il en fut jamais’’ নামক উপন্যাসটি বেশ বিখ্যাত বনে যায় একটি কারণে, আর তা হলো এক অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তির সময়ভ্রমণ।

 

চার্লস ডিকেন্সের A Christmas Carrol, ১৮৬১ সালে লেখা ফরাসী উদ্ভিদবিদ এবং ভূতত্ত্ববিদ পিয়ের বইটার্ডের ‘প্যারিস অ্যাভোঁ লেসোম্ব’ ইত্যাদি লেখায় সময়ভ্রমণের চমৎকার সংমিশ্রণ দেখতে পাই। এছাড়াও ‘নিউ মান্থলি ম্যাগাজিন’-এ প্রকাশিত স্বনামধন্য মার্কিন লেখক এডওয়ার্ড হেলের ‘হ্যান্ডস অফ’ এবং আরও অসংখ্য গল্প উপন্যাসে আমরা সময় ভ্রমণের উল্লেখ পাই।

 

পদার্থবিদ্যায় টাইম ট্রাভেল এবং সম্ভাবনা
তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যা বলে যে একটা কথা আছে, সেই অনুযায়ী টাইম ট্রাভেল সম্ভব। কিন্তু এর মাধ্যমে শুধু অতীতে যাওয়া সম্ভব নয়। কেন সম্ভব নয় তা পরে ব্যাখ্যা করছি। কিন্তু হ্যাঁ, ভবিষ্যত ভ্রমণ সম্ভব। তবে সিনেমা বা সায়েন্স ফিকশনের নানা কমিকসের মতো গোল টাইম মেশিন বানিয়ে তা সম্ভব কিনা সে কথা জানা নেই। কিছুদিন আগে বিবিসিতে একটি খবর এসেছিল যে University of Connecticut-এর পদার্থবিদ্যার প্রফেসর রন ম্যালেট একটি ডিভাইস বানিয়েছেন যার আদলে ভবিষ্যতে টাইম মেশিন বানানো যাবে। বেশ আশার আলো দেখতে পাচ্ছি হয়তো! তবে তা কতদূর সম্ভব বা আদৌ সম্ভব কিনা, কিংবা সম্ভব হলেও আমাদের জীবদ্দশায় হবে কিনা সেই ব্যাপারটি পুরোপুরিই অনিশ্চিত। যাই হোক পদার্থবিদ্যায় ফিরে যাই।

অস্ট্রিয়ার প্রখ্যাত গণিতবিদ কুর্ট গডেল গণিতের মাধ্যমেই দেখিয়েছেন যে আমাদের এই ব্রহ্মাণ্ডে কিছু Closed Timelike Curve থাকা সম্ভব যা নির্দেশ করে সময়ভ্রমণও সম্ভব, তবে বিশেষ কিছু শর্তে। অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব অনুসারেও সময় ভ্রমণ সম্ভব। কীভাবে?

আপেক্ষিকতা অনুসারে কোনো বস্তু যখন আলোর গতিতে চলবে তখন তা হয়ে যাবে ভরশূন্য। আর যদি আলোর গতিতে চলে যায় তবে সময় স্থির হবে, মানে টাইম ট্রাভেল হবে। তার মানে আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা অনুযায়ী তাত্ত্বিকভাবে সময় ভ্রমণ সম্ভব।

 

 

এখানে t হচ্ছে কোনো স্থির বস্তুর সাপেক্ষে সময়, t হচ্ছে গতিশীল বস্তুর সাপেক্ষে সময় এবং v ও c হচ্ছে যথাক্রমে বেগ ও গতি। এখন v যদি আলোর বেগের কাছাকাছি কোনো বেগ হয় তাহলে t কমতে থাকবে।
 

ধরুন, আপনাকে আলোর গতিতে ছুটে চলতে পারে এমন কোনো একটি মহাকাশযানে উঠিয়ে দেয়া হল এবং আপনি ভ্রমণে বেরিয়ে পড়লেন মহাজগতের এপার থেকে ওপার। কিন্তু পৃথিবীতে এসে দেখবেন অনেক বছর সময় কেটে গেছে যেখানে আপনার কাছে মনে হবে মাত্র অল্প কিছু সময়। এভাবেই আইনস্টাইনের থিওরীতে সময় ভ্রমণের ফর্মুলা লুকিয়ে আছে।

এখন আসি ব্ল্যাকহোলের ব্যাপারে। ব্ল্যাকহোলের মাধ্যমে সময় ভ্রমণ কীভাবে সম্ভব? ব্ল্যাকহোল কী? ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বর হলো তারার খুব দুর্দশাপূর্ণ অবস্থা। তারাগুলো একেবারে চুপসে গিয়ে ভর একদম একটি বিন্দুতে এসে পৌঁছায়, যার ফলে স্থান কালের মাত্রা অসীম হয়ে যায়। সেখানে আলো প্রবেশ করলেও আর বের হয়ে আসতে পারে না। আবার আইনস্টাইনের Theory Of General Relativity অনুসারে ভর বেশি যতো, সময় ধীর হবে ততো।

1

আপনি যদি কোনো মহাকাশযান নিয়ে ব্ল্যাকহোলের আশপাশে ভ্রমণ করতে থাকেন আর অন্য একটি মহাকাশযান যদি পৃথিবীর চারদিকে ভ্রমণ করতে থাকে তবে ব্ল্যাকহোল ভ্রমণকারীর বয়স, পৃথিবীর চারপাশে ঘোরা ব্যক্তির বয়সের অর্ধেক হবে।

 

প্রশ্ন করতে পারেন আমি কেন ব্ল্যাকহোলের চারপাশে ঘোরার কথা বললাম। এর উত্তর হলো, ব্ল্যাকহোলে ঢুকলে আপনি আর বের হতে পারবেন না। সেখানে মহাকর্ষ বল অত্যধিক। আলোও বের হয়ে আসতে পারে না, যা আগেই বলেছি। ব্ল্যাকহোলের গ্রাভিটেশনাল ফিল্ডের শেষ সীমানাকে বলা হয় ঘটনা দিগন্ত, যা অতিক্রম করে ফেললে আপনাকে আর কোনোদিনও পাওয়া যাবে না। তাহলে ব্ল্যাকহোলের চারপাশে ঘুরপাক খাবেন আর সময় স্থির হতে থাকবে, পৃথিবীতে তার দ্বিগুণের মত সময় অতিবাহিত হয়ে যাবে।

 

এবার আসি ওয়ার্মহোলের ব্যাপারে। বলা হয়ে থাকে এটিই সবচেয়ে সম্ভাবনাময় উপায়। আমাদের একটি বিষয় জানা থাকা প্রয়োজন যে স্পেস বা মহাশূন্যের পথ কখনোই সমতল নয়। অর্থাৎ এটি বাঁকা পথে চলে। তাই আলো যখন মহাশূন্যের ভেতর দিয়ে ভ্রমণ করে, তখন এই বাঁকানো স্পেসের ভেতর দিয়ে একটি বাঁকানো পথে চলতে বাধ্য হয়। কিন্তু এই বাঁকা পথের পাশাপাশি আরও একটি সংক্ষিপ্ত রাস্তাও আছে। এই সংক্ষিপ্ত পথই হচ্ছে ওয়ার্মহোল।

ওয়ার্মহোলকে অনেক সময় আইনস্টাইন-রজেন ব্রিজ নামেও ডাকা হয়ে থাকে। ধরুন, আমাদের সৌরজগৎ থেকে আলফা সেন্টরাইতে যাবেন, আলোর গতিতে গেলে লাগবে ৪.৩ বছর। আবার আপনি ভরযুক্ত, তাই আপনার পক্ষে আলোর গতিতে ভ্রমণ সম্ভব নয়। কিন্তু ওয়ার্মহোলের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত পথ তৈরি করে আপনি সহজেই আলফা সেন্টরাইতে প্রবেশ করতে পারবেন, আবার নিজের সৌরজগতেও ফিরে আসতে পারবেন। তার মানে আপনি ভবিষ্যতেও যেতে পারবেন আবার অতীতেও ফিরে আসতে পারবেন। তবে অতীতে ফিরে আসা কতটুকু সম্ভব তা নিয়ে পরে আলোচনা করছি।

ওয়ার্মহোল প্রসঙ্গে স্টিফেন হকিং বলেন, ‘আসলে ব্ল্যাকহোলে পতিত কোনো বস্তু একেবারেই হারিয়ে যায় না, এটি কণিকারূপে ব্ল্যাকহোল থেকে নির্গত হয়। হকিং-বিকিরণ তত্ত্বানুযায়ী এই কণিকা যে পথে নির্গত হয়, সে পথটিই হলো ওয়ার্মহোল। অর্থাৎ ব্ল্যাকহোলে পড়লেই যে আপনি একদম হারিয়ে যাবেন, তা স্টিফেন হকিং মানতে নারাজ। তবে ওয়ার্মহোলের অস্তিত্ত্ব প্রমাণ হলে আপনি কণিকারুপে সেই ওয়ার্মহোল থেকে বের হয়ে আসবেন।

 

আবার আরেকটু লক্ষ্য করুন, বিশাল ভরের কারণে ব্ল্যাকহোলের চারপাশের স্থান-কালের একটি অসীম বক্রতা সৃষ্টি হয়। লক্ষকোটি আলোকবর্ষ দূরবর্তী স্থান-কালগুলো বক্রতার কারণে একটি ক্ষুদ্র বিন্দুতে পরিণত হয়। এখন আমরা আমাদের অবস্থান থেকে কোনো বস্তুকে যদি ব্ল্যাকহোলে নিক্ষেপ করি, তাহলে এর কণিকাগুলো ওয়ার্মহোল দিয়ে নির্গত হয়ে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে লক্ষকোটি আলোকবর্ষ দূরের কোনো জগতে পৌঁছে যাবে। অর্থাৎ স্বাভাবিক সময়ে যে স্থান-কালে পৌঁছতে ওই বস্তুর কোটি কোটি বছর লাগত তাকে আমরা ওয়ার্মহোল ব্যবহারে খুব কম সময়ে এ দূরত্বটুকু অতিক্রম করিয়ে অন্য জগতে প্রবেশ করাতে পারবো। তাহলে ওয়ার্মহোল সম্পর্কে আমরা প্রাথমিক ধারণা পেয়েছি?

 

অনেকেই ভেবে থাকেন যে ওয়ার্মহোল হচ্ছে ব্ল্যাকহোল এবং হোয়াইটহোলের একটি মিলিত পথ। কিন্তু ওয়ার্মহোল আজও প্রমাণিত নয়, কারণ কোন ওয়ার্মহোল এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। ঠিক আবার হোয়াইটহোলও প্রমাণিত নয় কারণ আজও এটি হাইপোথিসিসরূপেই আমাদের আশা দেখিয়ে আসছে। তবে ওয়ার্মহোলের ব্যাপারে একটি আশার ব্যাপার হচ্ছে বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং, কিপ থর্নের মতে ওয়ার্মহোল বাস্তবে পাওয়া সম্ভব, আর এটা দিয়েই টাইম ট্রাভেল সবচেয়ে সম্ভাবনাময় হবে। দেখা যাচ্ছে আইনস্টাইন, হকিং, থর্ন সবাই একসাথে ওয়ার্মহোলের ব্যাপারে সহমত প্রকাশ করেছেন, অপেক্ষা শুধু কবে বাস্তবে সশরীরে দেখা দেবে এই ওয়ার্মহোল!

 

অপরদিকে ফ্রাঙ্ক টিপলার তাত্ত্বিকভাবে প্রমাণ করেন যে, নিজের অক্ষের চারদিকে দ্রুত ঘূর্ণায়মান এক অসীম দৈর্ঘ্যের চোঙ আসলে একটি টাইম মেশিন। তাহলে অবশ্যই এর দ্বারা সময় ভ্রমণ সম্ভব। টিপলার অনুমান করেছিলেন যে, যথেষ্ট বেগে ঘূর্ণায়মান সসীম দৈর্ঘ্যের চোঙের সাহায্যেও সময় ভ্রমণের ধারণাটি বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। পরবর্তী সময়ে হকিং প্রমাণ করেন যে, কখনোই কোন সসীম দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং উচ্চতা বিশিষ্ট টাইম মেশিন নির্মাণ করা সম্ভব নয়। তার মানে টাইম মেশিন দিয়ে টাইম ট্রাভেল হকিং-এর মতে একদম অসম্ভব।

 

কোয়ান্টাম তত্ত্ব অনুসারে টাইম ট্রাভেল
স্টিফেন হকিং এই তত্ত্বের মাধ্যমেই বুঝতে পেরেছিলেন যে, টাইম ট্রাভেল প্রকৃতিবিরোধী। আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্বানু্যায়ী যে বিশেষ ক্ষেত্রসমূহ দ্বারা টাইম ট্রাভেল সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে, তা কোয়ান্টাম তত্ত্ব দ্বারা স্বীকৃত নয়। বেশ জটিল হয়ে গেল বিষয়টা। একবার বলা হচ্ছে সম্ভব, আরেকবার বলা হচ্ছে সম্ভব না। কারণ আবারও বলছি টাইম ট্রাভেল শুধু তাত্ত্বিকভাবেই সম্ভব, বাস্তবিক অর্থে আলোর গতিতে না পৌঁছাতে পারলে সম্ভব না। সেক্ষেত্রে এমন একটি টাইম মেশিন নির্মাণ করা প্রয়োজন যেখানে আলোর গতির কাছাকাছি গতি অর্জন করা সম্ভব।

 

যাই হোক মহাকর্ষের সামগ্রিক কোয়ান্টাম তত্ত্ব আজো আমাদের অজানা, তাই সময় ভ্রমণের সম্ভাবনাহীনতার ব্যাখ্যা বা অনুমান, কোনটিই আপাতত সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত নয়। তাই বহু বিজ্ঞানীই বিশ্বাস করেন, টাইম ট্রাভেল বাস্তবে সম্ভব। এ প্রসঙ্গে পদার্থবিদ রোনাল্ড ম্যাল একটি বলয় লেসারের সাহায্যে ঘূর্ণায়মান ব্ল্যাকহোলের অনুরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে সময় ভ্রমণকে বাস্তবায়িত করার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিভিন্ন সময়ে বহু বিজ্ঞানী(লিজুং ওয়াং, গুন্টার নিমস, অ্যালফন্স স্তালহফেন) দাবী করে আসছেন যে তাঁরা আলোর চেয়ে বেশি গতিবেগে সংকেত প্রেরণের মাধ্যমে টাইম ট্রাভেলের ধারণাটি বাস্তবায়ন করেছেন, যদিও বাস্তবসম্মতভাবে পরীক্ষালব্ধ ফলাফল এখনো সব বিজ্ঞানীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। কোয়ান্টাম তত্ত্বের আরেকটি মজার বিষয় হচ্ছে এটি মাল্টিভার্স বা মাল্টি ইউনিভার্স তত্ত্বকে সমর্থন করে। তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা সামনের পর্বে করবো।

আজকের পর্ব এখানেই শেষ। পরবর্তী পর্বে টাইম ট্রাভেল এবং ভবিষ্যত সম্ভাবনা, অতীতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে কী ধরনের সমস্যা রয়েছে ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করবো।

Saturday, March 13, 2021

ওপেন সেক্স

 এই যুগে যেখানে রুমডেট/লিটনের ফ্যাট কী জিনিস, সেটা পিচ্চি পোলাপানেরাও জানে, সেখানে কেউ কি আসলেই সিঙ্গেল আছে, বা এমন কেউ কি আছে যারা কোনো সম্পর্কে জড়ায় নাই, প্রেম করে নাই, চুমু খায় নাই, রুমডেট করে নাই, হাত মারে নাই, সেক্স করে নাই, কিংবা যৌননির্যাতন করে নাই, টিজ করে নাই, ধর্ষণ করে নাই?

প্রকাশ্যে স্বীকার না করলেও মনে মনে মানবেন যে এখনকার যুগের অধিকাংশ ছেলেমেয়েরা একই সাথে একাধিক প্রেম করে। কারো ৪/৫টা করে বিএফ-জিএফ থাকাটাও অবাক হওয়ার মত ব্যাপার না।
এটা তো গেলো রিলেশনশিপের ক্ষেত্রেএছাড়া সমাজে ঘুষ-দুর্নীতিসহ এমন কোনো অপরাধ নাই যা প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে হয় না। চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই, খুন, ধর্ষণকী না হইতেছে! গতবছর প্রকাশ্যে গাড়িতে আগুন দিয়ে কয়েকশ মানুষও মেরে ফেলা হয়েছিল।
ভার্চুয়াল জগত তোলপাড় প্রকাশ্যে চুমু খাওয়া ঠিক নাকি ঠিক নয়এই তর্কে। সৎ সাহসের অভাবেই আমরা সব কিছু গোপন করি। ঘুষখোর-দুর্নীতিবাজদের সৎ সাহস নেই প্রকাশ্যে বলার যে তারা ঘুষ খায়। অসৎ প্রেমিক-প্রেমিকাদেরও সৎ সাহস নেই এটা বলার যে তারা অমুকের সাথে প্রেম করে। কারণ কী? কারণ হলোএরা একই সাথে একাধিক প্রেম করে, একাধিক জনের সাথে সেক্স করে। এই জন্য সবাইকেই বলে বেড়ায় যে প্রেম করে না, এমনকি পার্টনারকেও বোঝায় যাতে কাউকে না বলে, বললে নাকি অনেক সমস্যা হবে।
আপনার বোন/ভাই থাকলে আপনি ঠিকই জানেন আপনার ভাই বা বোন লুকিয়ে শুধু প্রেমই না, অনেক কিছুই করে, এবং একাধিক জনের সাথে করাও বিচিত্র নয়। কিন্তু ভেবে দেখুন তো, যদি প্রকাশ্যে প্রেম করত, তাহলে সবাই জানত অমুকে তমুকের সাথে এঙ্গেজ, ফলে অন্য কেউ তার দিকে নজর দিত না। প্রেম-সেক্স এগুলো তো মানুষের জীবনে স্বাভাবিক ব্যাপার।
আপনার যেমন প্রেম-সেক্সের চাহিদা আছে, তেমনি অন্যেদেরও আছে। তাহলে এত গোপনীয়তার কী আছে? আপনি আপনার সঙ্গীর সাথে নিশ্চিন্তে প্রেম করুন, অন্যদেরকেও করতে দিন। তাহলেই তো পরিবেশটা পরিষ্কার হয়। তা না করে যত গোপন রাখবেন ততই প্রতারণা বাড়বে। আপনিও যেমন আপনার সঙ্গীর সাথে প্রতারণা করতেছেন, আপনার সঙ্গীও গোপনে আপনার সাথে যে প্রতারণা করতেছে না, তার কোনো নিশ্চয়তা থাকবে না যতদিন না সম্পর্কগুলো প্রকাশ্যে আনেন। আর প্রকাশ্যে আসা মানেই আপনারা ভালোবেসে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াবেন, ভালোবেসে প্রকাশ্যে হাত ধরবেন, ভালোবেসে প্রকাশ্যে চুমু খাবেন।

এবার বলতে পারেন যে কেউ যদি প্রকাশ্যে সেক্স করতে চায়, তখন কী করবেন?–প্রতিটা প্রাণী জগতে অন্যান্য বিষয়ের মত সেক্সও একটা স্বাভাবিক ব্যাপার। অন্যান্য প্রাণীদের মধ্যে থাকলেও সারা পৃথিবীর মানুষের মধ্যে কোথাও সেভাবে প্রকাশ্যে নগ্ন থাকার বা সেক্স করার ট্রেণ্ড নাই। তবুও কেউ যদি করতে চায়, তাদের ইচ্ছা, করবে। রাস্তাঘাটে অন্যান্য পশুপাখির সেক্স করা দেখলে কী করেন? বাধা দেন? সুস্থ-স্বাভাবিক-বিবেকবান হলে বাধা দেয়ার কথা না। কারো ক্ষতি তো করছে না, কাউকে খুন করছে না, কাউকে আগুন দিয়ে পোড়াচ্ছে না। আপনার ভালো না লাগলে করবেন না, এড়িয়ে যাবেন। আমার চোখে যদি এমন কিছু পড়ে, তাহলে আমি চাইব তারা নিশ্চিন্তে সেক্স করুক, কেউ যাতে ডিস্টার্ব না করে, সেই ব্যবস্থা করব। উন্নত সমাজে এমন হলে তারা বড়জোর বলেগেট এ রুম! আমিও তাই বলব যে আড়ালে যান, যাতে কেউ ডিস্টার্ব না করে। আর না হলে, এদের অধিকার রক্ষায় পারলে এদের চারদিকে অনেকে মিলে উলটো হয়ে ঘুরে দেয়াল হয়ে দাঁড়াব।

অবিস্মরণ: থাবা বাবা, অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর বাবু ১ থেকে ১৫।

 

অবিস্মরণ: থাবা বাবা, অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর বাবু – ০১

 I am Avijit – আমিই অভিজিৎ-এর জন্য বানিয়েছেন সামিনা চৌধুরী এ্যানি




অবিস্মরণ: থাবা বাবা, অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর বাবু – ০২

I am Avijit – আমিই অভিজিৎ-এর জন্য বানিয়েছেন সামিনা চৌধুরী এ্যানি




অবিস্মরণ: থাবা বাবা, অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর বাবু – ০৩

I am Avijit – আমিই অভিজিৎ-এর জন্য বানিয়েছেন সামিনা চৌধুরী এ্যানি




অবিস্মরণ: থাবা বাবা, অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর বাবু – ০৪

I am Avijit – আমিই অভিজিৎ-এর জন্য বানিয়েছেন সামিনা চৌধুরী এ্যানি



অবিস্মরণ: থাবা বাবা, অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর বাবু, অনন্ত বিজয় – ০৫

I am Avijit – আমিই অভিজিৎ-এর জন্য বানিয়েছেন সামিনা চৌধুরী এ্যানি



অবিস্মরণ: থাবা বাবা, অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর বাবু, অনন্ত বিজয় – ০৬

I am Avijit – আমিই অভিজিৎ-এর জন্য বানিয়েছেন সামিনা চৌধুরী এ্যানি



অবিস্মরণ: থাবা বাবা, অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর বাবু, অনন্ত বিজয় – ০৭

I am Avijit – আমিই অভিজিৎ-এর জন্য বানিয়েছেন সামিনা চৌধুরী এ্যানি



অবিস্মরণ: থাবা বাবা, অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর বাবু, অনন্ত বিজয় – ০৮

I am Avijit – আমিই অভিজিৎ-এর জন্য বানিয়েছেন সামিনা চৌধুরী এ্যানি



আল্লাহর অস্তিত্বের অকাট্য প্রমাণ – ০৯

আল্লাহর অস্তিত্বের শত-সহস্র অকাট্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বেতমিজ নাস্তিকেরা তাতে ঈমান আনতে চায় না। অথচ তারা নাকি যুক্তিবাদী! বর্তমান সিরিজে তাদের উদ্দেশে একের পর এক প্রমাণ হাজির করা হবে। দেখা যাক, এবার তারা কী বলে।
প্রমাণ ৪১.
নাস্তিকেরা বলে, তারা আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না। আসলে নাস্তিকতা একটা ফ্যাশন এবং তাই তারা শুধু ভাব মারার জন্যেই এ কথাটা বলে থাকে। এর থেকেই প্রমাণিত হয়, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।
প্রমাণ ৪২.
আমাদের পাড়ার খলিল শেখকে জ্বিনে ধরেছিল। অতএব স্বীকার করতেই হবে যে, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।
প্রমাণ ৪৩.
আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ আমার কাছে আছে। কিন্তু আমি সেটা প্রকাশ করবো না। কারণ আপনারা, নাস্তিকেরা, সেটা শুনে যুক্তি দিয়ে নাকচ করে দেবেন। অতএব আমার প্রমাণ যেহেতু অটুট রয়েছে, তার মানে, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।
প্রমাণ ৪৪.
নাস্তিকেরা আধ্যাত্মিকতা বোঝে না। অতএব আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।
প্রমাণ ৪৫.
ব্যক্তিগত একটি অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আমি জানি, আল্লাহ আছে। সেই অভিজ্ঞতার কথা শুনলে আপনি আমাকে পাগল মনে করবেন। কিন্তু আমাকে কি পাগল মনে হয়? হয় না। এর থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।
(বিদেশী রচনার ছায়া অবলম্বনে)


আল্লাহর অস্তিত্বের অকাট্য প্রমাণ – ১০

আল্লাহর অস্তিত্বের শত-সহস্র অকাট্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বেতমিজ নাস্তিকেরা তাতে ঈমান আনতে চায় না। অথচ তারা নাকি যুক্তিবাদী! বর্তমান সিরিজে তাদের উদ্দেশে একের পর এক প্রমাণ হাজির করা হবে। দেখা যাক, এবার তারা কী বলে।

প্রমাণ ৪৬.
আপনি কখনও প্রেমে পড়েছেন? আল্লাহ না থাকলে প্রেম কোত্থেকে আসে? এর থেকেই প্রমাণিত হয়, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ৪৭.
আল্লাহর অস্তিত্বের অজস্র প্রমাণ আমার আছে। সেসবের মধ্যে অন্তত একটি নিশ্চয়ই সত্য। অতএব আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ৪৮.
এই যে একটা ওয়েবসাইটের লিংক। এখানে প্রমাণ করা হয়েছে আল্লাহর অস্তিত্ব। সুতরাং আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ৪৯.
ইছলাম টিকে আছে দেড় হাজার বছর ধরে। আল্লাহ না থাকলে এটা সম্ভব হতো? অতএব স্বীকার করতেই হবে যে, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ৫০.
আমি মনে-প্রাণে চাই আল্লাহর অস্তিত্ব থাকুক। আর আপনি জানেন, কোনওকিছু মনে-প্রাণে চাইলে সেটা সত্যি হয়ে ওঠে। এর থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

(বিদেশী রচনার ছায়া অবলম্বনে)


আল্লাহর অস্তিত্বের অকাট্য প্রমাণ – ১১

আল্লাহর অস্তিত্বের শত-সহস্র অকাট্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বেতমিজ নাস্তিকেরা তাতে ঈমান আনতে চায় না। অথচ তারা নাকি যুক্তিবাদী! বর্তমান সিরিজে তাদের উদ্দেশে একের পর এক প্রমাণ হাজির করা হবে। দেখা যাক, এবার তারা কী বলে।

প্রমাণ ৫১.
নাস্তিকেরা আল্লাহর অস্তিত্ব অস্বীকার করলে আমি আহত বোধ করি। আল্লাহ না থাকলে আমি অমন অনুভব করতাম? করতাম না। এর থেকেই প্রমাণিত হয়, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ৫২.
আল্লাহকে যে বিশ্বাস করে, সে তাকে অনুভব করতে পারে। আল্লাহ না থাকলে তাকে অনুভব করা যেতো? যেতো না। অতএব আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ৫৩.
আল্লাহর চেয়েও বড়ো ও শক্তিশালী কিছু থাকতে পারে? আপনার চেহারাতেই “না” উত্তর ফুটে উঠেছে। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে যে, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ৫৪.
আরব দেশগুলোয় তেল পাওয়া যায়। এটাই কি প্রমাণ করে না যে, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে?

প্রমাণ ৫৫.
আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস আমার পরিচয়ের প্রধান অংশ। আমার পরিচয়কে কি আপনি অস্বীকার করতে পারেন? পারেন না। এর থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

(বিদেশী রচনার ছায়া অবলম্বনে)


আল্লাহর অস্তিত্বের অকাট্য প্রমাণ – ১২

আল্লাহর অস্তিত্বের শত-সহস্র অকাট্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বেতমিজ নাস্তিকেরা তাতে ঈমান আনতে চায় না। অথচ তারা নাকি যুক্তিবাদী! বর্তমান সিরিজে তাদের উদ্দেশে একের পর এক প্রমাণ হাজির করা হবে। দেখা যাক, এবার তারা কী বলে।

প্রমাণ ৫৬.
বিগ ব্যাং-এর সময় আপনি সেখানে ছিলেন? ছিলেন না। আপনি নিজের চোখে দেখেছেন? দেখেননি। এর থেকেই প্রমাণিত হয়, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ৫৭.
আমার সঙ্গে ঘটা অলৌকিক একটি ঘটনার কথা শুনে নাস্তিকেরা সেটির প্রাকৃতিক ও যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা দেয়। কিন্তু আমি তো জানি, ঘটনাটি অলৌকিক ছিলো। আল্লাহ না থাকলে এমন ঘটনা ঘটতো? অতএব আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ৫৮.
আমি বানরের আত্মীয়? অসম্ভব। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে যে, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ৫৯.
– (আস্তিকের দাবি)
– (নাস্তিকের যুক্তি)
– নাস্তিকেরা আমার যুক্তি বোঝে না।
এটাই কি প্রমাণ করে না যে, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে?


প্রমাণ ৬০.
কোরানে বলা আছে, অবিশ্বাসীরা নিকৃষ্ট প্রাণী। আমি নিকৃষ্ট প্রাণী নই। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

(বিদেশী রচনার ছায়া অবলম্বনে)


অবিস্মরণ: থাবা বাবা, অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর বাবু, অনন্ত বিজয় – ১৩

I am Avijit – আমিই অভিজিৎ-এর জন্য বানিয়েছেন সামিনা চৌধুরী এ্যানি




অবিস্মরণ: থাবা বাবা, অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর বাবু, অনন্ত বিজয় – ১৪

I am Avijit – আমিই অভিজিৎ-এর জন্য বানিয়েছেন সামিনা চৌধুরী এ্যানি




অবিস্মরণ: থাবা বাবা, অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর বাবু, অনন্ত বিজয়, নিলয় নীল – ১৫

Sunday, February 7, 2021

চাঁদের মাটিতে যে পানি আছে তা 'সুস্পষ্টভাবে' নিশ্চিত করেছে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা‼️

▪️নাসা নিশ্চিত করেছে যে পৃথিবী থেকে আমরা চাঁদের যে দিকটা দেখতে পাই - তার উপরিতলে (সারফেস) পানি অণুর অস্তিত্ব আছে।

কোন একদিন চাঁদের মাটিতে একটি ঘাঁটি তৈরির যে আশা তাদের আছে - তাকে অনেকখানি বাড়িয়ে দিল এই আবিষ্কার।

"আমরা আগেই আভাস পেয়েছিলাম যে চাঁদের যে অংশে সূর্যের আলো পড়ে, সেখানে পানি থাকতে পারে, তবে এখন আমরা জানি যে হ্যাঁ, চাঁদের মাটিতে সত্যিই পানি আছে" - বলেন নাসা'র মহাকাশ-পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের পরিচালক পল হার্টজ।

নেচার এ্যাস্ট্রনমি নামে একটি বিজ্ঞান সাময়িকীতে এক নিবন্ধে আবিষ্কারটির কথা জানিয়েছে নাসার স্ট্রাটোস্ফেরিক অবজারভেটরি ফর ইনফ্রারেড এ্যাস্ট্রনমি - সংক্ষেপে 'সোফিয়া'।

পানির অণুতে দুটি হাইড্রোজেন ও একটি অক্সিজেনের পরমাণু আছে। সোফিয়া বলছে, এর আগেও চন্দ্রপৃষ্ঠে কিছু হাইড্রোজেনের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছিল, কিন্তু তা পানির আকারে আছে কিনা তা স্পষ্ট হয়নি।

তবে এবার চাঁদের দক্ষিণ গোলার্ধে ক্লাভিয়াস নামে একটি জ্বালামুখে পানির অণুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

▪️এই পানির পরিমাণ কতটুকু?

নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের ফেলো কেসি হনিবল বলছেন, তাদের উপাত্ত থেকে দেখা যায়, এক ঘনমিটার চাঁদের মাটিতে প্রায় ১২ আউন্সের একটি বোতলের সমান পানি আছে।

তুলনা হিসেবে বলা যায়, পৃথিবীতে সাহারা মরুভূমির মাটিতে যতটুকু পানি আছে তার পরিমাণও চাঁদের মাটিতে থাকা পানির ১০০ গুণ।

নাসা নিশ্চিত করেছে যে এক ঘনমিটার চাঁদের মাটিতে প্রায় ১২ আউন্সের একটি বোতলের সমান পানি আছে।

তাই বলা যায়, চাঁদের মাটিতে পানির পরিমাণ খুবই কম - কিন্তু তা সত্ত্বেও এটি নতুন কিছু প্রশ্ন তুলছে বিজ্ঞানীদের মধ্যে ।

সেগুলো হলো: পানি কীভাবে সৃষ্টি হয়? কীভাবে তা চাঁদের বাতাসশূন্য পরিবেশে টিকে থাকতে পারে? এই পানিকে কি ভবিষ্যতের মহাকাশচারীদের পক্ষে সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে?

এ প্রশ্নগুলোর উত্তর পেতে আরো গবেষণা দরকার - বলছেন নাসার আরেকজন বিজ্ঞানী জ্যাকব ব্লিচার।

চাঁদের দুই মেরুর যে অংশগুলোতে কখনোই সূর্যের আলো পড়ে না - সেখানে জ্বালামুখগুলোতে বরফের অস্তিত্ব আগেই নিশ্চিত করেছিলেন বিজ্ঞানীরা ।

ব্রিটেনের মিল্টন কীন্সের ওপেন ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী হানা সার্জেন্ট বিবিসিকে বলেন, সবশেষ আবিষ্কার থেকে বোঝা যাচ্ছে যে আমরা আগে যা অনুমান করেছিলাম তার চেয়ে চাঁদে আসলে অনেক বেশি পানি আছে। ফলে চাঁদের পানিকে কাজে লাগানোর সম্ভাবনা অনেক বেড়ে গেল বলে তিনি বলছেন।

▪️অনেক কাজে লাগানো যেতে পারে চাঁদের এই পানির মজুত

কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পল হেইন বলছেন, হয়তো চাঁদের মাটিতে শত শত কোটি বরফের মজুত আছে। তাই এ আবিষ্কারের ফলে একসময় বিজ্ঞানীদের কাজের জন্য এগুলো অনুসন্ধানের সম্ভাবনা তৈরি হলো।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চাঁদের পানি আহরণ করার উপায় বের করা গেলে সেখানকার বরফ ও পানি একটা 'চান্দ্র অর্থনীতির' ভিত্তি হতে পারে।

বিবিসির বিজ্ঞান সংবাদদাতা লরা ফস্টার বলছেন, হয়তো একদিন চাঁদের বুকের এ পানি মানুষের পান করার জন্য, খাদ্য চাষ করার জন্য বা রকেটের জ্বালানি তৈরির জন্য ব্যবহার করা যাবে - যা মহাশূন্যে আরো দূরের কোন অভিযানের সময় কাজে লাগবে।

মার্কিন মহাকাশ সংস্থা এর আগেই জানিয়েছে ২০২৪ সালে তারা চাঁদে নারী ও পুরুষ নভোচারী পাঠাবে এবং ২০৩০এর দশকে মঙ্গলগ্রহে অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে একে কাজে লাগানো হবে।

তা ছাড়া, রকেটের জ্বালানি তৈরির কাজটাও চাঁদের বুকে করতে পারলে তা পৃথিবীতে উৎপাদন এবং বহন করে নেবার চাইতে অনেক সস্তা হবে। হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন দিয়েই মহাকাশযানের জ্বালানি তৈরি হয় এবং এ কাজে তারা হয়তো চাঁদের পানিই ব্যবহার করতে পারবেন।

Source :- BBC News.

Wednesday, December 30, 2020

সময় কি?

সময় কি? উইকিপিডিয়ার সংজ্ঞায় সময় হচ্ছে জগতের অস্তিত্বের ক্রমাগত অগ্রগতি এবং ঘটনাবলির অপরিবর্তনীয় পারম্পার্য যা অতীত থেকে বর্তমানের মধ্যদিয়ে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলেছে। সময় হলো সেই জিনিস যা বিভিন্ন রকম পরিমাপের পরিমান, ঘটনাবলীর ক্রম, স্থিতিকালের তুলনা কিংবা পার্থক্য, বাস্তব পরিমানের পরিবর্তনের হার নির্ণয়ে সাহায্য করে। দর্শন, ধর্মতত্ত্ব, বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে সময় দীর্ঘকাল থেকেই গুরুত্বপূর্ণ স্থান জুড়ে রয়েছে। এছাড়া আমাদের প্রাত্যহিক কাজকর্ম যেমন ব্যবসা, কলকারখানা, খেলাধুলা, পড়াশুনা, শিল্পকলা সবকিছুতেই সময়ের ভুমিকা রয়েছে। আমরা সময়ের মধ্যেই বেড়ে উঠি, সময়ের মধ্য দিয়েই চলি। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সময় অঙ্গাঅঙ্গি জড়িয়ে রয়েছে। অথচ সময় আমাদের কাছে এক প্রহেলিকা। প্রাচীন যুগ থেকেই দার্শনিক, বিজ্ঞানী, ধর্মশাস্ত্রবিদেরা সময়ের প্রকৃতি নিয়ে চিন্তা ভাবনা কিংবা বিতর্ক করে আসছেন। সভ্যতার দীর্ঘ পথচলায় মানুষ ক্রমশঃ  সময় নামক ধারনাটির রহস্য উন্মোচন করে চলেছে। তবুও সময় নামক এই প্রহেলিকাটিকে মানুষ পুরোপুরি করায়ত্ব করতে পারেনি। এখনো অনেক কিছুই জানার বাকী রয়েছে। 

আজকের এই পর্ব দিয়ে আমি সময় নিয়ে একটি লেখা শুরু করছি। আমার লেখাটি সময়ের দার্শনিক দিক নিয়ে শুরু হবে। এরপর ক্রমশঃ মনস্তাত্বিক, ধ্রুপদ পদার্থ বিজ্ঞান, কোয়ান্টাম পদার্থ বিজ্ঞান, বিশেষ ও সাধারন  আপেক্ষিকতায় সময়ের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করবো। সবশেষে সময়ের প্রবাহের দিক বা সময়ের তীর নিয়ে আলোচনা করার ইচ্ছা রয়েছে। চেষ্টা করবো সহজ বোধগম্য ভাষায় সবকিছু বর্ণনা করার।  আমার লেখাটি একটু দীর্ঘ (প্রায় ১৫/১৬ পর্বের) হতে পারে। চেষ্টা করবো প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটি করে পর্ব লেখার। আশা করি আপনারা ধৈর্য্য নিয়ে পড়বেন। 

পর্ব ১ঃ সময়ের দর্শন

দর্শনের ইতিহাসে সময়।

একমাত্র মানুষ ছাড়া পৃথিবীর সব প্রানী শুধুমাত্র বর্তমান সময়ে বাস করে, তাদের চেতনায় অতীত কিংবা ভবিষ্যত বলে কিছু নাই। সময়ের ব্যাপারে আমাদের সচেতনতাই আমাদের অনন্যতা দিয়েছে এবং অন্য প্রানী থেকে গুরুত্বপূর্ন পার্থক্য দান করেছে। স্মরনাতীত কাল থেকে দার্শনিক, ধর্মতত্ববিদ, শিক্ষাগুরুরা সময়ের প্রকৃতি নিয়ে ভেবেছেন। সময় কি কোন পদার্থ? সময়ের অস্তিত্ব আমরা কিভাবে প্রমান করতে পারি? সময়ের কি কোন শুরু বা শেষ আছে? এটা কি সরল রৈখিক নাকি বৃত্তাকার?
সময়ের ধারাবাহিকতা (continuous) সম্পর্কে সব দার্শনিকেরা মনে করেন যে এর কোন থামা নাই, যা আছে তা শুধু একটানা একদিকে চলা, অতীত থেকে ভবিষ্যতের দিকে। সময় যে একটি বস্তুগত (objective) ব্যাপার, বিষয়ী (subjective) নয়, এ নিয়েও দার্শনিকদের মোটামুটি ঐক্যমত্য রয়েছে। অর্থাৎ মহাবিশ্বের সকল ভৌত ঘটনা একটি সার্বজনীন  সময় কাঠামো মেনে চলে। পৃথিবীর আবর্তন থেকে ঘড়ির পেন্ডুলামের দোলন সবই একই সময়ের সাথে সমঞ্জস্যপূর্ন। এর পরেও অনেক শতাব্দী যাবত সময়ের প্রকৃত পরিচয় নিয়ে বিতর্ক চলছে। 
প্রাচীন ভারত ও গ্রীস দর্শনে 'সময়'  ছিল অন্যতম আলোচনার বিষয়। প্রাচীন এসব দর্শনে সময় সম্পর্কিত অন্যতম বিতর্ক ছিল এটা সরল রৈখিক নাকি চক্রাকার। সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতাব্দীতে ইউরোপীয় এনলাইটেনমেন্ট এর সময় আধুনিক দর্শনের শুরুতে পুরনো একটি প্রশ্ন নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়, সময় বাস্তব এবং পরম, নাকি মানব মননের বিমূর্ত একটি ধারনা যার সাহায্যে মানুষ ঘটনার ক্রম সংরক্ষন করে। সময় বাস্তব নাকি অবাস্তব এ নিয়ে অতি সম্প্রতি আধুনিক দর্শনে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এর সাথে আরো কিছু দার্শনিক সমস্যা সামনে চলে এসেছে। যেমন, সময় প্রসারিত হতে পারে কিনা, বর্তমান সময় কি বিশেষ মুহূর্ত নাকি চলমান ঘটনা, অতীত কিংবা ভবিষ্যতের সত্যিই কোন অস্তিত্ব আছে কি না, বস্তু কিভাবে সময়ে অবস্থান করে, ইত্যাদি। দর্শন থেকে বিজ্ঞান আলাদা হওয়ার পর আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞানের নব নব আবিষ্কার সময়ের প্রকৃতি সম্পর্কে প্রতি নিয়ত নিত্য নতুন দার্শনিক অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে চলেছে। 

প্রাচীন দর্শন

প্রধানত প্রাচীন ভারতীয় ও গ্রীস দার্শনিকেরা সময় সম্পর্কে মূল সত্য উদ্ঘাটনে চিন্তা ভাবনা করেছিলেন। এই সব অঞ্চলের বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনী এবং গল্পগাথায়  মহাবিশ্ব সম্পর্কে ধারনা গুলো ফুটে উঠেছে। গ্রীক পুরানে 'ক্রোনোস' (khronos) শব্দটি দিয়ে সময়কে একজন লম্বা সাদা দাড়ি ওয়ালা মানুষ (father time) রূপে বর্ণনা করা হয়েছে। ঋতুচক্র এবং সময়ের স্বাভাবিক প্রবাহের দেবীদের নাম Horae বা Hours। Geras ছিলেন বৃদ্ধ বয়সের দেবতা। মিশরীয় পৌরানিক কাহিনীতে Heh হলো চিরন্তন সময়,  Zurvan the Zoroastrian হচ্ছেন অসীম সময়ের দেবতা। Elli হলো নর্সদের বৃদ্ধ বয়সের দেবতা।

কালচক্র (Wheel of time)

খৃষ্টপূর্ব দ্বিতীয় সহস্রাব্দে রচিত বেদ গ্রন্থে সময় কে অসংখ্য চক্রের সমাহার বা কালচক্র রূপে বর্ণনা করা হয়েছে। গাড়ি চলার সময় এর চাকা যেমন কিছুক্ষন পর পর একটি ঘুর্ণন শেষ করে তেমনি প্রতি চক্রে মহাবিশ্ব একবার সৃষ্টি হয় এবং চক্রের শেষে ধংস হয়। আবার  নতুন চক্র সৃষ্টি হয়। আবার ধংস হয়। এটা চলছে অসীম সময় ধরে।  প্রতিটি চক্রের সময়কাল চার হাজার বছরের চেয়ে কিছু বেশী। এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে চলেছে প্রতিটি মানুষের অসংখ্য বার জন্ম মৃত্যু। মানুষের পুনর্জন্মের এই বিশ্বাস হিন্দু, বৌদ্ধ, মায়া, পেরুর এবং আরিজোনার হোপি ইন্ডিয়ানদের ধর্মেও পাওয়া যায়। মনে করা হয়  দিন- রাত্রি, চাঁদের পুর্ণিমা-অমাবস্যা, জোয়ার-ভাটা, ঋতু চক্র প্রভৃতি প্রাকৃতিক চক্রের পর্যবেক্ষন থেকেই কালচক্র ও পুর্জন্মের ধারনা এসেছে। জুরাথ্রুস্টবাদে আমাদের চতুর্পার্শ্বের জগতকে দেখা হয় ভাল ও খারাপের যুদ্ধক্ষেত্র হিসাবে এবং সময় সেই যুদ্ধের স্থিতিকাল।
প্রাচীন গ্রীস- পারমেনিডেস ও জেনোর কূটাভাস (Zeno's Paradoxes)

প্রাচীন গ্রীক দার্শনিকরা মহাবিশ্ব এবং সময়কে অসীম মনে করতেন। এদের কোন শুরু বা শেষ নাই। প্রাক সক্রেটিস পঞ্চম খৃষ্ট পুর্বাব্দের সোফিস্ট দার্শনিক এন্টিফেন এর মতে সময় কোন বাস্তবতা নয়, এটা একধরনের পরিমাপ কিংবা ধারনা মাত্র। অন্যদিকে তার সমসাময়িক গ্রীক দার্শনিক হেরাক্লিটাস মনে করতেন সময়ের প্রবাহ বাস্তব। 
 
পারমেনিডেস এবং জেনো খৃষ্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীর  দুজন দার্শনিক ছিলেন ।  ইতালীর দক্ষিন প্রান্তে টিরেনিয়ান সাগর তীরে অবস্থিত Elea শহরের অধিবাসী ছিলেন তারা। পারমেনিডেস এর মতে বাস্তবতা পরিবর্তন ও সময় নিরেপেক্ষ। সময় এবং গতি সহ আমাদের দৈনন্দিন আরো অনেক অভিজ্ঞতাকে মনে করতেন এক ধরনের মায়া। পারমেনিডেস এর মতে অতীত এবং ভবিষ্যত দুটোই অবাস্তব এবং কাল্পনিক। বাস্তব হচ্ছে বর্তমান। দার্শনিক জেনো (Zeno of Ilea) ছিলেন পারমেনিডেসের ছাত্র। তার বিখ্যাত রচনা সমূহ জেনোর কূটাভাস (Zeno's paradoxes) নামে পরিচিত। ।  পারমেনিডেস এর দর্শনকে সমর্থন করে মূলত এগুলো তৈরী হয়। এদের সব চেয়ে বিখ্যাত হলো একিলিস এবং কচ্ছপ। এটা অনেকেরই জানা। প্যারাডক্সটি এরকম,  মনে করা যাক একদিন গ্রীক বীর একিলিসকে  একটি কচ্ছপ দৌড় প্রতিযোগীতায় চ্যালেঞ্জ জানালো। একিলিস সানন্দ চিত্তে রাজী হলেন। সাধারন ভাবে চিন্তা করলে সবাই বলবে একিলিস জিতবে। কিন্তু জেনোর মতে সেটা হবার নয়। তিনি যুক্তি দিলেন এরকম। একিলিস কচ্ছপের কিছুটা পেছনে থেকে  দৌড় শুরু করলেন। মনে করা যাক একশত মিটার। একিলিস যখন কচ্ছপের দৌড় শুরুর জায়গায় পৌছুলেন তখন কচ্ছপটি দশ মিটার সামনে এগিয়ে গেছে। কচ্ছপের এই নতুন স্থানে পৌছুতে একিলিসের আরো  সামান্য কিছু সময় লাগবে যে সময়ের মধ্যে কচ্ছপটি আরো সামান্য এগিয়ে যাবে। এভাবে একিলিস যতবারই কচ্ছপকে ধরার জন্য তার জায়গায় উপস্থিত হবে ততবারই কচ্ছপ সামান্য এগিয়ে থাকবে। এভাবে একিলিস ও কচ্ছপের মধ্যেকার দুরত্ব কমে আসবে। কিন্তু কখনো শুন্য হবে না কারন দুজনের মধ্যে অসীম সংখ্যক বিন্দু রয়েছে। সুতরাং অসীম বিন্দুকে অতিক্রম করতে একিলিসের অসীম সময়ের প্রয়োজন হবে। তাই একিলিসের পক্ষে কচ্ছপকে ধরা অসম্ভব এবং কচ্ছপই প্রতিযোগীতায় জিতবে। জেনো বলেন, "অসীম সংখ্যক জিনিসকে সসীম সময়ে অতিক্রম করা কখনোই সম্ভব নয়"। 

জেনোর এরকম আরো কিছু প্যারাডক্স রয়েছে। মজার ব্যাপার হলো জেনোর প্যারাডক্সের সমাধান নিয়ে প্রাচীন যুগের দার্শনিক এরিস্টল, থমাস একুইনাস থেকে বর্তমান সময়ের হারম্যান ভাইল, নিক হাগেট, পিটার লিন্ডস, বার্ট্রান্ড রাসেল প্রমুখ  দার্শনিক, পদার্থ বিজ্ঞানী এবং গনিতবিদেরা চিন্তা ভাবনা করেছেন। কিন্তু কেউ নির্দিষ্ট সমাধান দিতে পারেন নাই। আবার অনেকের মতে জেনোর প্যারাডক্স দার্শনিক যুক্তির চমৎকারিত্ব, গানিতিক সমস্যা নয়।

খৃষ্টপূর্ব চতুর্থ শতকের গ্রীক দার্শনিক প্লেটো বিশ্বাস করতেন ঈশ্বর স্বর্গ সৃষ্টির মুহূর্তেই সময় সৃষ্টি করেছেন। তবে কিছুটা বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তিনি সময়কে স্বর্গীয় বা মহাকাশের বস্তু সমূহের গতিবিধির সাথে সম্পর্কীত করেছেন। প্লেটো মহাবর্ষ (great year যে সময়ে পৃথিবীর মেরুঅক্ষ একটি ঘুর্ণন সম্পন্ন করে। ২৫,৮০০ বছরে এক মহাবর্ষ সম্পন্ন হয়।) সম্পর্কেও জ্ঞাত ছিলেন। পিথাগোরিয়ান এবং স্টয়িক দার্শনিকেরা বিশেষত ক্রিসিপাস মহাবর্ষকে সময়ের ধারক মনে করতেন। প্রতি মহাবর্ষ শুরুর সাথে সময়ের যাত্রা শুরু হয় এবং শেষের সাথে সময়ও শেষ হয়ে যায়। এভাবে অনন্তকাল ধরে অসংখ্য চক্রের পুনরাবৃত্তি চলতে থাকে।

প্রাচীন দার্শনিকদের মধ্যে সময় সম্পর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং বিস্তৃত ধারনা দিয়েছেন প্লেটোর ছাত্র এরিস্টটল। তিনি সময়কে গতি বা movement এর ধর্ম মনে করতেন। অর্থাৎ সময়ের অস্তিত্ব জিনিসের গতির উপর নির্ভরশীল। তার মতে সময় হচ্ছে অবস্থানের ধারাবাহিক পরিবর্তনের পরিমাপ। তার কথায়, “neither does time exist without change”। তিনি এটাও মনে করতেন যে, সময় যেহেতু পরিবর্তনের পরিমাপ সেহেতু পরিবর্তন ছাড়া সময়ের অস্তিত্ব থাকে না এবং এই পরিবর্তন গননা করার জন্য একটি সচেতন সত্ত্বার উপস্থিতি আবশ্যক। তিনি সময়কে পরিবর্তনের পরিমাপ মনে করলেও পরিবর্তন ও সময়কে এক মনে করতেন না। কারন পরিবর্তন দ্রুত কিংবা ধীর হতে পারে। তিনি মনে করতেন মহাবিশ্ব সসীম কিন্তু সময় অসীম। মহাবিশ্বের অস্তিত্ব অসীম সময় ধরে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে চিরদিন থাকবে। তিনি আরো মনে করতেন সময় একটি রেখার মত নিরবিচ্ছিন্ন এক রাশি। রেখার মতই সময়কে অসীম খন্ডে বিভক্ত করা সম্ভব। এর ক্ষুদ্রতম কোন একক নাই। 

এরিস্টটল সময় সম্পর্কিত একটি প্রচলিত প্যারাডক্স প্রথম উত্থাপন করেছিলেন। কয়েক শতক পর সেন্ট অগাস্টিন পুনরায় সেটা নিয়ে আলোচনায় এনেছিলেন। প্যারাডক্সটি হলো, যদি অতীত এক অস্তিত্বহীন স্মৃতি এবং ভবিষ্যত অনাগত কল্পনা হয় আর সময়ের এই দুই অংশ বর্তমান নামক মরীচিকা দিয়ে বিভক্ত হয় তাহলে সময়ের অস্তিত্ব কিভাবে সম্ভব?

পরবর্তী পর্বঃ ২
সময়ের দর্শনঃ মধ্য ও আধুনিক যুগ।