Sunday, June 4, 2017

মানপত্র,মানপত্রের নমুনা,মানপত্র লিখন,বদলির আবেদন,চাকরির আবেদন পত্র,চাকরির আবেদন ।

মানপত্র


 
 
 
 
 
 
 
 
 
কাঙ্ক্ষিত কিছু পেতে আমাদের প্রায়ই আবেদনপত্র লিখতে হয়। আবেদনপত্রের উপস্থাপনা স্বভাবতই হতে হবে নমনীয়। এর ভাষা হতে হবে প্রাঞ্জল বা সহজবোধ্য। বাহুল্য কথা লিখে আবেদনপত্রটি দীর্ঘ করা মোটেও ঠিক নয় । আবেদনপত্রটি যাতে এক পৃষ্ঠার মধ্যে শেষ করা যায় সে চেষ্টা করতে হবে। তবে প্রয়োজনে একাধিক পৃষ্ঠা ব্যবহার করা যাবে।  আবেদনপত্রে সরাসরি কোন প্রশ্ন করা যাবেনা । তবে এমনভাবে লেখা যাবে যেমন- "কেন এমন করা হল তা আমার বোধগম্য নয়"।

আজকাল আবেদনপত্র দুটি স্টাইলে লেখা হচ্ছে। একটি স্টাইল হচ্ছে আবেদনের সবগুলো প্যারাই বাম দিক থেকে শুরু করা হয়। যেমন- 

তারিখ......................................

বরাবর
জেলা প্রশাসক
গাজীপুর।

বিষয়ঃ ............................................................

জনাব,
........................................................................
.......................................................................
......................................................................
........................................................................

অতএব ...............................

নিবেদক
..........................
.........................

সংযুক্তিঃ ...................


অপর স্টাইলটি হচ্ছে প্রতি প্যারায় লেফ্ট ইনডেন্ট ব্যবহার করা। যেমন-
বরাবর
         জেলা প্রশাসক
         গাজীপুর।

বিষয়ঃ ............................................................

জনাব,
          ..............................................................
........................................................................
........................................................................
.......................................................................

          অতএব ...............................


                                                    নিবেদক
তারিখ- 
                                             ......................

বর্তমানে দুটি স্টাইলেরই প্রচলন থাকলেও প্রথমোক্ত স্টাইলটির প্রতিই বেশি আকৃষ্ট হতে দেখা যাচ্ছে।
বিষয়বস্তু বিবেচনায় আবেদনপত্রের কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। এই  পোস্ট-এ আবেদন নিয়ে আর আলোচনা করছি না। তবে সচরাচর যে ধরণের আবেদনপত্র লেখা হয়ে থাকে তা নিয়ে এ ব্লগের অন্যান্য পোস্ট-এ আলোচনা করছি।

মানপত্রের নমুনা

মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য ........................... এর আগমনে ...................... বিদ্যালয়ের পক্ষ  হতে-

প্রাণঢালা অভিনন্দন  


হে মহান অতিথি,
    ষড়ঋতুর এই বাংলাদেশে শরৎ বিদায়ের পর এখন সোনাঝরা হেমন্তের গৌরবময় উপস্থিতি। গ্রাম-বাংলার প্রতিটি ঘর আজ নবান্ন উৎসবে মুখর। এমনি এক স্বর্ণালি  প্রহরে আমরা যখন একান্ত কোন আপনজনের আগমন অপেক্ষায়  প্রহর গুণছিলাম; তেমনি এক শুভক্ষণে  শত ব্যস্ততাকে উপেক্ষা  করে আপনি আমাদের মাঝে এসে উপস্থিত হয়েছেন। আমরা যেন কতকাল ধরে এমনি একটি মুহূর্তের প্রতীক্ষায়  ছিলাম। তাইতো আপনার আগমনে আমাদের মাঝে আজ খুশির বান ডেকেছে। আমাদের মন আজ আনন্দে উদ্বেলিত। বৃক্ষশাখে  বিহগের কণ্ঠে যেন আজ শুধু আপনারই আগমনী গান। সোনাঝরা বিকেলের এই মায়াবী ক্ষণে আপনি আমাদের প্রাণঢালা অভিনন্দন গ্রহণ করুন। 
হে বিজয়ী বীর,
    জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সফল অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আপনি যে বিজয় অর্জন করেছেন, তা শুধু আপনার নয়; এ বিজয় লাখো জনতার বিজয়। একজন সুযোগ্য সমাজসেবক হিসেবে এই অভিষেক শুধু আপনাকে নয় আমাদেরকেও করেছে গৌরবান্বিত। আপনাকে সংসদ সদস্য হিসেবে পেয়ে আমরা আজ আজ এলাকার উন্নয়নের স্বপ্নে বিভোর। এই এলাকার সকল দৈন্য দূর করতে উন্নয়নের আলোকবর্তিকা হিসেবে মহান আল্লাহতায়ালা যেন আপনাকেই মনোনীত করেছেন।
হে আপন জন,
     মানুষ সুখে-দুখে আপনজনকেই স্মরণ করে। আপনি হলেন আমাদের পরম আপনজন। তাইতো আমাদের কিছু দুঃখ দৈন্যের কথা আপনাকে জানাতে ইচ্ছে করছে। এ বিদ্যালয়ে অনেক ছাত্রছাত্রী দূরবর্তী গ্রামের বাসিন্দা। নদী প্রতিবন্ধকতার কারণে তাদেরকে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসতে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এছাড়া নদী পারাপারে সর্বসাধারণেরও ভোগান্তির শেষ নেই। আমরা আশা করি আপনার শৈল্পিক হাতের ছোঁয়ায় শ্রীঘ্রই ............... নদীর ওপর একটি সেতু নির্মিত হবে। এর পরও আমাদের আরও কিছু দীনতা রয়ে গেছে। বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় শ্রেণীকক্ষের  স্থান সঙ্কট ক্রমেই প্রকট আমার ধারণ করছে। তাই একটি নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ খুবই জরুরি। আজকের এই দিনে আপনার কাছে আমাদের দাবি, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে এ বিদ্যালয়ে শীঘ্র একটি দ্বিতল একাডেমিক ভবন নির্মাণের ব্যাপারে আপনি সহযোগিতা করবেন।

হে মহানুভব,
    নিতান্ত প্রয়োজনেই আপনাকে নানা কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। এই ব্যস্ততাকে উপেক্ষা করে আমাদের মাঝে এসে আপনি যে মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন তা আমরা আজীবন কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবো। আমরা আশা করবো, আপনার শ্রম, আপনার আন্তরিকতা, আপনার কর্ম ................এলাকার উন্নয়নে অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করবে। সেই সাথে আপনি বার বার আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন বলে আমাদের প্রত্যাশা। 

    পরিশেষে মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে আপনার সুস্থ, সুন্দর দীর্ঘায়ু কামনা করি। 


                                                                আপনার গুণমুগ্ধ
তারিখঃ 
                                                        ................... বিদ্যালয়ের
                                      শিক্ষক মণ্ডলি, ম্যানেজিং কমিটির সদস্যবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা        

মানপত্র লিখন

কোন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির আগমনে তাকে যথোপযুক্ত সম্মান জানাতে স্বাগতিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মানপত্র পাঠ করা হয়। অধিকাংশ মানপত্রের মাধ্যমে আগত অতিথিকে শ্রদ্ধা আর ভালবাসার রসালো অভিব্যক্তি দ্বারা সিক্ত করা হয়। সেইসাথে গুরুত্বপূর্ণ অতিথির কাছে নিজেদের দৈন্য তুলে ধরে বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করা হয়। তাই মানপত্রটি হতে হয়ে হয় যথেষ্ট মানসম্মত। মানপত্রের ভাষা হতে হবে প্রাঞ্জল। এখানে কোন দুর্বোধ্য শব্দ কিংবা পংক্তি  সন্নিবেশ করা মোটেও ঠিক নয়। মানপত্রের শীর্ষে অতিথির নাম পদবী উল্লেখ করতে হয়। যেমন- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদের সরকারের ........................ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ................................ মহোদয়ের শুভাগমন উপলক্ষে মিতালির বন্ধন সমাজকল্যাণ সংস্থার পক্ষ থেকে                                                                        শ্রদ্ধাঞ্জলি     /       অভিনন্দন
মানপত্রের প্রথম অনুচ্ছেদে কিছু ভূমিকাসহ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন দিয়ে অতিথিকে বরণ করা হয়। প্রয়োজনে কোন লেখকের কবিতা বা আবেগময় লেখার উদ্বৃতি তুলে ধরা যায়।  এই অনুচ্ছেদটিতে বিভিন্ন শব্দালঙ্কার প্রয়োগ করে আবেগানুভূতি প্রকাশ করা যায়। সময় বা ঋতু অনুযায়ী কিছু প্রাকৃতিক বর্ণনা তুলে ধরলে লেখাটির সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। যেমন- ‘‘সারাদেশে এখন সোনাঝরা হেমন্তের গৌরবময় উপস্থিতি। গ্রাম-বাংলার সর্বত্রই নতুন ধানের মৌ মৌ গন্ধ। চারদিক তাই নবান্ন উৎসবে মুখর। অঘ্রাণের এমনি এক মায়াবী লগ্নে আমরা যখন কাঙ্ক্ষিত  প্রিয়জনকে কাছে পাওয়ার একান্ত বাসনায় অপেক্ষার প্রহর গুণছিলাম; ঠিক তখনি এক অনাবিল আনন্দের ঊর্মীদোলায় আমাদের আন্দোলিত করে এ ক্ষুদ্র  প্রতিষ্ঠানে আপনার শুভাগমন। আপনার আগমনে বনে বনে যেন আজ পুষ্পের  বাহুল্য; সেই সাথে ভ্রমরের গুঞ্জনধ্বনি যেন আপনার আগমন উল্লাসেই মুখর। আপনাকে কাছে পেয়ে আমরা আজ ধন্য। আপনি আমাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও প্রাণঢালা অভিনন্দন গ্রহণ করুন।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদেও কথার ফুলঝুরিতে অতিথির গুণকীর্তন করে তাকে আরও সিক্ত করে দেওয়া যেতে পারে। যদি অতিথির দ্বারা এলাকার বা দেশের উল্লেখ্যযোগ্য উন্নয়ন সাধিত হয়ে থাকে তবে সে সম্পর্কে ইতিবাচক আলোচনা ও কৃতজ্ঞতার প্রকাশ থাকতে পারে এই অনুচ্ছেদে।
তৃতীয় অনুচ্ছেদে স্বাগতিক প্রতিষ্ঠান বা এলাকার বিভিন্ন দৈন্যের কথা বা সমস্যার কথা তুলে ধরে প্রতিকারের জন্য দাবি বা অনুরোধ জানানো যেতে পারে।
চতুর্থ অনুচ্ছেদে অতিথিকে কষ্ট স্বীকার করে এখানে আসায় তার মহানুভবতা নিয়ে কিছু বলা যায়, যেমন- ‘‘শত ব্যস্ততাকে উপেক্ষা করে আপনি আমাদের মাঝে এসে যে মহানুভবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। আমরা আশা করি এভাবেই বার বার যেন আপনি আমাদের মাঝে এসে আমাদের ধন্য করেন। ’’
উপসংহারে অতিথির জীবনের সুস্থতা ও দীর্ঘজীবনের জন্য মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা। যেমন- ‘‘সৃষ্টিকর্তার কাছের আমাদের প্রার্থনা, তিনি যেন আপনাকে সুস্থ, সবল, দীর্ঘ জীবন দান করেন। ’’তারিখ-আপনার গুণমুগ্ধ................................

বদলির আবেদন

বদলির আবেদন
যারা সরকারি বা অন্য কোন সংস্থায় চাকরি করেন তাদের মধ্যে অনেকেরই স্থায়ী বাসস্থান থেকে চাকরিস্থলের দূরত্বের কারণে প্রিয়জনের সাথে ঠিকমত দেখা সাক্ষাত ও দেখাশুনা করা সম্ভব হয় না। তাই যথাসম্ভব কাছাকাছি স্থানে বদলি হওয়ার চেষ্টা করতে হয়। এজন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপরে কাছে বদলির জন্য আবেদন করতে হয়। বদলির আবেদনপত্রে যুক্তিসঙ্গত কারণ উল্লেখ করে বদলি চাইতে হয়। সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বেশিরভাগই দেখা যায় নিজ উপজেলা এমনকি নিজ জেলাতেও পোস্টিং দেওয়ার বিধান নেই। এ ক্ষেত্রে  কাছাকাছি জেলা বা উপজেলায় বদলির জন্য আবেদন করতে হয়। ধরা যাক, জনাব রফিকুল ইসলাম সহকারী উপজেলা  শিক্ষা অফিসার পদে কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলায় কর্মরত আছেন। তার স্থায়ী বাসস্থান ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলায়। বিভাগীয় নিয়ম হচ্ছে- তাকে কিছুতেই নিজ উপজেলায় পদায়ন করা যাবে না। তাই তাকে তার নিজ উপজেলার কাছাকাছি কোন উপজেলায় পদায়নের জন্য আবেদন করতে হবে। অবশ্য যদি পদ শূন্য থাকে। এবার দেখে নিন আবেদনপত্রের একটি নমুনাঃ

তারিখ ...................

বরাবর
বিভাগীয় উপপরিচালক
প্রথামিক শিক্ষা
ঢাকা বিভাগ, ঢাকা।

বিষয়ঃ বদলীর জন্য আবেদন। 

জনাব,
যথাবিহিত সম্মান পূর্বক সবিনয় নিবেদন এই যে, আমি সহকারী উপজেলা  শিক্ষা অফিসার পদে কিশোরগঞ্জ জেলাধীন বাজিতপুর উপজেলায় কর্মরত আছি। আমার স্থায়ী বাসস্থান ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলায়। আমার বাড়িতে বৃদ্ধ পিতামাতা, স্ত্রী ও দুই ছেলেমেয়ে রয়েছে। পিতামাতা প্রায়ই বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভোগেন। এক ছেলে ও এক মেয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে। আমার বাড়ি হতে কর্মস্থলের অধিক দূরত্বের কারণে পিতামাতা ও ছেলেমেয়ের দেখাশুনা করা সম্ভব হয় না। তাছাড়া অধিক দূরতের কারণে যাতাযাতও বেশ ব্যয়সাধ্য, যা আমার মত স্বল্প বেতনভোগীর পক্ষে  কষ্টকর। বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পারলাম, আমার নিজ উপজেলার কাছাকাছি ফুলপুর উপজেলায় সহকারী উপজেলা  শিক্ষা অফিসার এর একটি পদ শূন্য হয়েছে। এমতাবস্থায় আমাকে উক্ত শূন্য পদে বদলির সদয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন জানাচ্ছি।
অতএব, মহোদয়ের কাছে আকুল প্রার্থনা, আমার সমস্যাটি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে আমাকে ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলায় সহকারী উপজেলা  শিক্ষা অফিসারের শূন্য পদে বদলির ব্যবস্থা করে বাধিত করতে মর্জি হয়। 

বিনীত নিবেদক

(মো. রফিকুল ইসলাম)
সহকারী উপজেলা  শিক্ষা অফিসার
বাজিতপুর, কিশোরগঞ্জ।

চাকরির আবেদনপত্রের নমুনা (জীবন বৃত্তান্তসহ)

তারিখঃ ১০.০৮.২০১৪

বরাবর
প্রকল্প পরিচালক
সেকেন্ডারি এডুকেশন সেকটর ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট 
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর
আব্দুল গনি রোড, ঢাকা-১০০০।

বিষয়ঃ ‘সহকারী পরিদর্শক’ পদে নিয়োগের জন্য আবেদন।

জনাব,
সবিনয় নিবেদন এই যে, গত ০৫/০৮/২০১৪ তারিখে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানতে পারলাম, আপনার অধীনে ‘সহকারী পরিদর্শক’ পদে কিছু সংখ্যক লোক নিয়োগ করা হবে। আমি উক্ত পদে নিয়োগ লাভে একজন আগ্রহী প্রার্থী হিসেবে মহোদয়ের সদয় বিবেচনার জন্য নিচে আমার যাবতীয় তথ্য সন্নিবেশ করলামঃ

নাম                      : ফাহিম ফেরদৌস
পিতার নাম          : আনোয়ার হোসেন মণ্ডল 
মাতার নাম          : সালমা আকতার
স্থায়ী ঠিকানা       : গ্রাম- শিমুলতলী, ডাকঘর- পাঁচগাঁও
                              উপজেলা- শাহজাদপুর, জেলা- পাবনা।
বর্তমান ঠিকানা  : গ্রাম- শিমুলতলী, ডাকঘর- পাঁচগাঁও
                               উপজেলা- শাহজাদপুর, জেলা- পাবনা।
জন্ম তারিখ         : ২৪/০৯/১৯৮৮খ্রি.।
জাতীয়তা            : বাংলাদেশী
ধর্ম                       : ইসলাম
শিাগত যোগ্যতা : 
পরীক্ষার নাম      শাখা/বিষয়  পাশের সন    ফলাফল        বোর্ড/বিশ্ববিদ্যালয়
এস.এস.সি        মানবিক      ২০০৩         জিপিএ ৩.৯    রাজশাহী
এইচ.এস.সি      মানবিক       ২০০৫        জিপিএ ৪.২৫   রাজশাহী
বি.এ (সম্মান)     রাষ্ট্রবিজ্ঞান   ২০০৮         দ্বিতীয় শ্রেণী     জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
এম.এ              রাষ্ট্রবিজ্ঞান   ২০০৯         দ্বিতীয় শ্রেণী     জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

অভিজ্ঞতা: একটি বেসরকারি সংস্থায় শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে ২ বছর 'কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা।

অতএব, মহোদয় সমীপে বিনীত আরজ, উল্লিখিত তথ্য সুবিবেচনাক্রমে আমাকে ‘সহকারী পরিদর্শক’ পদে নিয়োগ দান করে আমার শ্রম ও মেধা প্রয়োগের মাধ্যমে চাকরি করার সুযোগ দানে মর্জি হয়। 

নিবেদক


(ফাহিম ফেরদৌস)

সংযুক্তিঃ 
১। ছবি ২ কপি।
২।একডেমিক সকল সনদপত্রের সত্যায়ি কপি।
৩। চারিত্রিক সনদপত্র।
৪। নাগরিকত্ব সনদপত্র।
৫। ২০০ টাকার পোস্টাল অর্ডার নং- ..................

চাকরির আবেদন

সাধারণত চাকরিতে নিয়োগের জন্য পত্রিকা বা ওয়েবসাইট-এ দরখাস্ত আহ্বান করা হয়। এর  পরিপ্রেক্ষিতে প্রার্থীরা নির্দিষ্ট পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য আবেদন করেন । অনেক সময় কোন প্রতিষ্ঠানে  উপযুক্ত কোন পদে নিয়োগের জন্য আবেদন করেন। তখন একটি আবেদনপত্র লেখার প্রয়োজন হয়। প্রথম ক্ষেত্রে নিয়োগ কর্তৃপক্ষ যদি নিদিষ্ট করে শুধু জীবনবৃত্তান্ত পাঠাতে উল্লেখ করেন, তখন আবেদনপত্র পাঠানোর প্রয়োজন পড়ে  না। আবেদনপত্রটি এমন হওয়া চাই যেন নিয়োগকর্তা খুব অল্প সময়েই এটি দেখে আবেদনকারীর সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন যে, আবেদনকারীর যোগ্যতা সংশ্লিষ্ট পদের জন্য প্রাসঙ্গিক কি না এবং তাকে নিয়োগ পরীক্ষায় আমন্ত্রণ জানানো যায় কিনা। এই পরিপ্রেক্ষিতে একটি আবেদনপত্র হচ্ছে একজন নিয়োগকর্তাকে প্রভাবিত করার একটি প্রাথমিক মাধ্যম, যেখানে প্রার্থী তার গ্রহণযোগ্যতা তুলে ধরবেন যা সংশ্লিষ্ট পদ বা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় ও প্রাসঙ্গিক। 
আপনার আবেদনপত্র কোনভাবেই এক পাতার বেশী হওয়া উচিত নয়। সাদা কাগজে (A4 Size) কম্পিউটার কম্পোজ করে আবেদনপত্র লিখবেন। বাংলায় হোক বা ইংরেজিতেই হোক অবশ্যই যে কোন একটি অফসিয়াল ফন্ট ব্যবহার করবেন। কোনভাবেই রঙ্গিন এবং মাল্টি সাইজের ফন্ট ব্যবহার করবেন না। নিয়োগ কর্তৃপক্ষ যদি স্বহস্তে আবেদনপত্র লেখার কথা উল্লেখ করেন, তাহলে তা অবশ্যই স্বহস্তে লিখতে হবে।       আবেদনপত্র  বামদিকে লেখা থেকে শুরু করবেন। প্রথমে যাকে উদ্দেশ্য করে আবেদনপত্র লিখবেন তার পদবী, প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানা লিখবেন।
এরপর বিষয় লাইন এ আপনি বোল্ড ফন্ট এ উল্লেখ করতে পারেন কোন পদের জন্য আপনি আবেদন করছেন। যেমন: সিনিয়র অফিসার পদে নিয়োগের জন্য আবেদনপত্র
এরপর আপনি মূল লেখা শুরু করবেন। প্রথম অনুচ্ছেদে উল্লেখ করবেন চাকুরির বিজ্ঞাপনের সূত্র এবং কোন পদের জন্য আবেদন করছেন। যেমন- সবিনয় নিবেদন এই যে, গত ২২ নভেম্বর, ২০১৪ তারিখে  দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানতে পারলাম, আপনার অধীনে '
সিনিয়র অফিসার ' পদে লোক নিয়োগ করা হবে। আমি উক্ত পদে নিয়োগ পেতে জন্য একজন আগ্রহী প্রার্থী।
এর পরের অনুচ্ছেদটিকে আপনি ব্যবহার করবেন বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত পদের বিপরীতে আপনার যোগ্যতা প্রমাণের জন্য। আপনি কেন এই চাকরির জন্য উপযুক্ত তার সঙ্গত কারণ 
সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরতে পারেন। অর্থাৎ আপনার সেসব যোগ্যতা, যেগুলো বিজ্ঞাপনে উল্লিখিত পদের জন্য  পরিপূরক। খেয়াল রাখবেন এই অংশটি পাঠ করে যেন  নিয়োগকর্তা আপনাকে অগ্রাধিকার দিতে প্রভাবিত হন।  
এর পরের অনুচ্ছেদ-এ খুব সংক্ষিপ্তভাবে আপনি আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা (এক্ষেত্রে ডিগ্রির  নাম ও পাসের করার বছর) উল্লেখ করতে পারেন। আপনার কোন প্রশিক্ষণ থাকলে এবং যদি তা কাঙ্ক্ষিত পদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় তবে তা 
উল্লেখ করতে পারেন। আপনি যদিবর্তমানে কোন প্রতিষ্ঠানে  কর্মরত থাকেন অথবা আপনার কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা থাকে তা খুবই সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করবেন। সেইসাথে যদি অসাধারণ কোন অর্জন থেকে থাকে তবে তা উল্লেখ করতে পারেন।
সবশেষ অনুচ্ছেদটি হচ্ছে আপনার আবেদনপত্র এর উপসংহার। এখানে আপনি এই প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করার ব্যাপারে আপনার আগ্রহ ব্যক্ত করবেন। যদি আপনি এ পদে নিয়োগ পান তবে আপনার যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও মেধা কাজে লাগিয়ে আপনি সফলভাবে কাজ সম্পাদন করতে পারবেন  বলে আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করুন। সবশেষে আপনি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ কামনা করুন।
আবেদনপত্রের শেষাংশে সই করে তার নিচে সংযুক্তি হিসাবে আপনি যে সকল কাগজপত্র (যেমন: সিভি, সার্টিফিকেটস, ছবি) দিচ্ছেন তার তালিকা দেবেন।

                          যেসব ভুল-ত্রুটি পরিহার করা উচিত 
¤   একই আবেদনপত্র বিভিন্ন নিয়োগকর্তার কাছে পাঠাবেন না।
¤   প্রতিটি আবেদনপত্র আপনাকে যে পদে বা প্রতিষ্ঠানে আবেদন করছেন তার চাহিদার বিপরীতে সাজাতে হবে।
¤   বানানগুলো সতর্কতার সাথে খেয়াল করুন।
¤   একাধিকবার আবেদনপত্র সংশোধন করুন।
¤   কোন কিছুর সংক্ষিপ্ত নাম ব্যবহার পরিহার করুন।
¤   আবেদনপত্রে আপনার সই দিতে ভুলবেন না।

কিভাবে লিখবেন আবেদনপত্র


কাঙ্ক্ষিত কিছু পেতে আমাদের প্রায়ই আবেদনপত্র লিখতে হয়। আবেদনপত্রের উপস্থাপনা স্বভাবতই হতে হবে নমনীয়। এর ভাষা হতে হবে প্রাঞ্জল বা সহজবোধ্য। বাহুল্য কথা লিখে আবেদনপত্রটি দীর্ঘ করা মোটেও ঠিক নয় । আবেদনপত্রটি যাতে এক পৃষ্ঠার মধ্যে শেষ করা যায় সে চেষ্টা করতে হবে। তবে প্রয়োজনে একাধিক পৃষ্ঠা ব্যবহার করা যাবে।  আবেদনপত্রে সরাসরি কোন প্রশ্ন করা যাবেনা । তবে এমনভাবে লেখা যাবে যেমন- "কেন এমন করা হল তা আমার বোধগম্য নয়"।

আজকাল আবেদনপত্র দুটি স্টাইলে লেখা হচ্ছে। একটি স্টাইল হচ্ছে আবেদনের সবগুলো প্যারাই বাম দিক থেকে শুরু করা হয়। যেমন- 

তারিখ......................................

বরাবর
জেলা প্রশাসক
গাজীপুর।

বিষয়ঃ ............................................................

জনাব,
........................................................................
.......................................................................
......................................................................
........................................................................

অতএব ...............................

নিবেদক
..........................
.........................

সংযুক্তিঃ ...................


অপর স্টাইলটি হচ্ছে প্রতি প্যারায় লেফ্ট ইনডেন্ট ব্যবহার করা। যেমন-
বরাবর
         জেলা প্রশাসক
         গাজীপুর।

বিষয়ঃ ............................................................

জনাব,
          ..............................................................
........................................................................
........................................................................
.......................................................................

          অতএব ...............................


                                                    নিবেদক
তারিখ- 
                                             ......................

বর্তমানে দুটি স্টাইলেরই প্রচলন থাকলেও প্রথমোক্ত স্টাইলটির প্রতিই বেশি আকৃষ্ট হতে দেখা যাচ্ছে।
বিষয়বস্তু বিবেচনায় আবেদনপত্রের কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। এই  পোস্ট-এ আবেদন নিয়ে আর আলোচনা করছি না। তবে সচরাচর যে ধরণের আবেদনপত্র লেখা হয়ে থাকে তা নিয়ে এ ব্লগের অন্যান্য পোস্ট-এ আলোচনা করছি।

কোরান মানুষের রচিত একটি গ্রন্থ, নসখ-মানসুখের বিষয়টি হচ্ছে এর শ্রেষ্ঠ প্রমাণ।

লেখকঃ শাহিনুর রহমান শাহিন
কোরান বিশ্লেষণের সময় ‘নসখ’ নামের একটি আরবি শব্দ ক্ষেত্রবিশেষে ব্যবহার করা হয়। এর অর্থ হলো, যা রহিত করে। ‘নসখ’ এর বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে ‘মানসুখ’ শব্দটি। মানসুখ অর্থ – যা রহিত করা হয়েছে। কোরানের কিছু আয়াতকে ‘মানসুখ’ আয়াত এবং আরো কিছু আয়াতকে ‘নসখ’ আয়াত বলা হয়। নসখ আয়াতের বিধান দ্বারা মানসুখ আয়াতের বিধান রহিত ও প্রতিস্থাপিত হয়। কোরান যে মানুষের রচিত একটি গ্রন্থ, নসখ-মানসুখের বিষয়টি হচ্ছে এর শ্রেষ্ঠ প্রমাণ।
নবী মুহাম্মদের কাছে অহী হিশেবে কিছু কিছু করে আয়াত এসেছে। বেশীরভাগ আয়াত এসেছে তাৎক্ষনিক কোন সমস্যা সমাধানের জন্য। যেমন ধরুন, একজন এসে বললো, যুদ্ধে বন্দী হওয়া সধবা নারীদের সাথে সেক্স করা যাবে কিনা। কিছু সময়ের মধ্যে এই বিষয়ে নবী মুহাম্মদের কাছে অহী পাঠানো হলো। তিনি বললেন, আল্লাহ বলেছেন, “নারীদের মধ্যে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসী ব্যতিত সকল সধবা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ………”
এই আয়াতের মানে হলো, যুদ্ধবন্দী নারীগণ যেহেতু দাসী শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত, সেহেতু তারা সেক্স করার জন্য বৈধ! এই অবিশ্বাস্য ঘটনাটি আমি মোটেও বানিয়ে বলছি না। এখানে আমি রেফারেন্স দিচ্ছি এবং কমেন্টে এর স্ক্রিনশটও দিয়ে দেবো।
রেফারেন্সঃ এক
০১) সুরা নিসা ২৪ নম্বর আয়াত এবং তাফসিরে ইবনে কাসির ২য় খণ্ড ৩৪৩ পৃষ্ঠা।
০২) সুনানে নাসায়ি ৩৩৩৪ নং হাদিস এবং সুনানে আবু দাউদ ২১৫২ নং হাদিস।
এভাবে আল্লাহপাক নবী মুহাম্মদের মাধ্যমে মানুষের দৈনন্দীন সমস্যা সমাধান করেছেন। ভালো কথা। কিন্তু সমস্যা হলো, একটি বিষয়ে তিনি আয়াত পাঠানোর কিছুদিন পরে অন্য আয়াত পাঠিয়ে আগের আয়াতকে বাতিল করে দিয়েছেন। ব্যপারটা সহজ করে বলতে পারছি না। একটি উদাহরণ দিই।
সদ্যবিধবা নারীদের সম্পর্কে নবী মুহাম্মদের কাছে একবার আয়াত পাঠানো হলো যে, তারা পূর্ণ একবছর স্বামীগৃহে অবস্থান করে ইদ্দত পালন করবে। ইদ্দতের সময়ে তাদের জন্য বিবাহ করা নিষিদ্ধ। এই একবছর ভরণপোষনের জন্য যথেষ্ঠ পরিমাণ সম্পদ যেন স্বামী তাদেরকে অসিয়ত করে যায়।
পরবর্তীতে এই আয়াত বাদ দিয়ে নতুন আয়াত পাঠানো হলো, হাদিস বর্ণনা করা হলো। সেখানে বলা হলো, এক বছর ইদ্দত পালনের দরকার নেই, চার মাস দশ দিন করলেই হবে। আগে শুধু স্বামীগৃহে থেকে ইদ্দত পুরো করতে হতো। নতুন বিধান অনুসারে, যেখানে খুশি থাকতে পারবে, স্বামীগৃহে কিংবা স্বামীগৃহের বাইরে। এক্ষেত্রে আগের আয়াতকে আমরা মানসুখ ও নতুন আয়াতকে নসখ আয়াত হিশেবে চিহ্নিত করতে পারি।
রেফারেন্সঃ দুই
০১) সুরা বাকারা ২৪০ ও ২৩৪ নম্বর আয়াত এবং তাফসিরে ইবনে কাসির ১ম খণ্ড ৬৮০-৮১ পৃষ্ঠা।
০২) সহিহ বোখারি ৪১৭৪, ৪১৮০ ও ৪২২৩ নং হাদিস; সুনানে নাসায়ি ৩৫৩২ ও ৩৫৪৪-৪৫ নং হাদিস এবং সুনানে আবু দাউদ ২২৯২ নং হাদিস।
স্বয়ং কোরানের মধ্যে এভাবে নসখ-মানসুখের ব্যপারটিকে স্পষ্ট ভাষায় স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, “আমি কোন আয়াতকে রহিত করলে কিংবা বিস্মৃত করলে পরিবর্তে এর চেয়ে ভালো বা এর অনুরূপ আয়াত অবতীর্ণ করি, তুমি কী জান না যে, আল্লাহ সব বিষয়ের উপরই ক্ষমতাবান?” কী চমৎকার একটি কথা! এখন আপনিই বলুন, এরকম নসখ-মানসুখ আয়াত দ্বারা পরিপূর্ণ কোরানকে কোন যুক্তিতে ঐশ্বরিক গ্রন্থ হিশেবে আখ্যায়িত করা যায়? আমাদের কি সেই সৃষ্টিকর্তার প্রয়োজন আছে, যিনি বারবার ভুল বিধান অনুসরণ করতে বলেন! ভুল সংশোধন করে আবার নতুন বিধান পাঠান, যেটি নিজেও এখন অগ্রহণযোগ্য!
রেফারেন্সঃ তিন
০১) সুরা বাকারা ১০৬ নম্বর আয়াত; সুরা নাহল ১০১ নম্বর আয়াত এবং সুরা হজ্জ ৫২-৫৩ নম্বর আয়াত।
রহিত হওয়া আয়াতের সংখ্যা মোটেও কম নয়। নবী মুহাম্মদের সাহাবি ও সাহাবিদের সংস্পর্শে আসা তাবেয়িগণের মতে, অন্তত পাঁচশ আয়াত রহিত হয়ে গেছে। এসব আয়াতের বিধান এখন আর কার্যকর নয়, যদিও এর প্রায় সবই এখনো কোরানে রয়ে গেছে। নসখ-মানসুখের দিক দিয়ে তারা সমস্ত সুরাকে চারটি ভাগে ভাগ করেছেন –
ক. ৩০টি সুরায় নসখ-মানসুখ উভয় ধরনের আয়াত রয়েছে। অর্থাৎ, এসব সুরায় বিধান রহিতকারী আয়াতও রয়েছে, পাশাপাশি পুরাতন বিধান সমৃদ্ধ আয়াতও রয়েছে।
খ. ৩৬টি সুরায় শুধু মানসুখ আয়াতসমূহ রয়েছে। এদেরকে যে আয়াতগুলো রহিত করেছে, সেগুলো অন্য সুরায় স্থান পেয়েছে কিংবা এদের পরিবর্তে অন্য কোন আয়াত পাঠানো হয়নি।
গ. ০৬টি সুরায় শুধু নসখ আয়াতসমূহ রয়েছে। এই আয়াতগুলো যাদেরকে রহিত করেছে, সেগুলো অন্য সুরায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘ. ৪২টি সুরায় নসখ বা মানসুখ জাতীয় কোন আয়াত নেই। এগুলো ঝামেলামুক্ত।
রেফারেন্সঃ চার
০১) আল ইতকান ২য় খণ্ড ০৩-০৪ পৃষ্ঠা।
০২) Abrogation in the Quran ০৬-০৯ এবং ৭৪-৭৭ পৃষ্ঠা।
০৩) আল ফাউযুল কবির ফি উসুলিত তাফসির ৪৬ পৃষ্ঠা।
সাহাবি ও তাবেয়িগণ পাঁচ শতাধিক রহিত হয়ে যাওয়া আয়াতের কথা বলেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে আলেমগণ এদের মধ্যে অনেকগুলো আয়াতকে রহিতের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দিয়েছেন। এ নিয়ে প্রচুর বিতর্ক হয়েছে, এখনো প্রচুর মতানৈক্য রয়েছে।
যেমন, ধারনা করা হয়, সুরা বাকারায় অন্তত তেইশটি আয়াত বা আয়াতের অংশবিশেষ অন্য আয়াত দ্বারা রহিত করা হয়েছে। কিন্তু ইবনুল আরাবি, জালালুদ্দিন সুয়ুতি প্রমুখ আলেমগণ শুধু ছয়টি আয়াতকে রহিত হিশেবে গণ্য করেছেন। সাহাবিদের অগ্রাহ্য করে এখন তাদের মতামতই অনুসরণ করা হয়।
রেফারেন্সঃ পাঁচ
০১) আল ইতকান ২য় খণ্ড ০৬-০৯ পৃষ্ঠা।
০২) আল ফাউযুল কবির ফি উসুলিত তাফসির ৪৬ পৃষ্ঠা।
অথচ তারা এমন কিছু আয়াতকে বাদ দিয়েছেন, যা পড়লে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, এসব আয়াতের বিধান অন্য আয়াত দ্বারা রহিত হয়েছে। এক্ষেত্রে আমরা বাকারার ৬২ নম্বর আয়াতটি পরীক্ষা করে দেখতে পারি। এখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, “নিশ্চয়ই ইয়াহুদি, ক্রিশ্চিয়ান এবং সাবেঈন সম্প্রদায়, এদের মধ্যে যারা আল্লাহর প্রতি ও কেয়ামতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপণ করে এবং ভালো কাজ করে, তাদের জন্য তাদের প্রভুর নিকট পুরস্কার রয়েছে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তিত হবে না।”
এই আয়াত পড়ে মনে হতে পারে, ভালো ইহুদি-ক্রিশ্চিয়ান-সাবেঈনগণ বেহেশতে চলে যাবেন। উল্লেখ্য যে, আরবের ইহুদি-ক্রিশ্চিয়ানগণ সৃষ্টিকর্তাকে ‘আল্লাহ’ বলেই ডাকতো এবং পরকালেও বিশ্বাস করতো। সুতরাং তারা তাদের ভালো কাজের প্রতিদান পাবে। বড়োই ধর্মনিরপেক্ষ আয়াত! কিন্তু এই আয়াতকে রহিত করেছে সুরা ইমরানের ৮৫ নম্বর আয়াত। যে আয়াতটি ঘোষণা দিয়েছে –
“আর যে কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য জীবনব্যবস্থা অন্বেষণ করে, তা কখনোই তাঁর নিকট হতে পরিগৃহীত হবে না, অতএবপরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।”
এর মানে হলো, নেলসন ম্যান্ডেলা ও মাদার তেরেসার ভালো কাজের কোন মূল্য নেই। যেহেতু তারা ক্রিশ্চিয়ান, সেহেতু তারা ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। উপরের আয়াত দুটি স্পষ্ট দ্বিমুখী, তবু একে মানসুখ হিশেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
এরকম অসংখ্য আয়াতকে রহিত হিশেবে মনে না করলেও ইবনে আরাবি, সুয়ুতি প্রমুখ আলেমগণ বেশকিছু আয়াতকে রহিত বলে স্বীকার করে নিয়েছেন। এসবের মধ্যে পাঁচটি সুরার পাঁচটি আয়াতকে নিয়ে সংক্ষিপ্ত একটি বিবরণ দিচ্ছি।
সুরা বাকারার ১৮০ নং আয়াতে পিতামাতা ও আত্নীয়দের জন্য অসিয়ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। শুরুতে নিয়ম ছিল, অসিয়ত হবে পিতামাতা-আত্নীয়-স্বজনের জন্য এবং উত্তরাধিকার হিশেবে রেখে যাওয়া সম্পদ হবে সন্তানাদির জন্য। অসিয়ত না করলে পিতামাতার জন্য কিছু থাকবে না। পরবর্তীতে সবার জন্য নির্দিষ্ট হারে সম্পদ ভাগাভাগি করে নিতে সুরা নিসার ১১ নং আয়াত দ্বারা একে রহিত করা হয়।
সুরা ইমরানের ১০২ নং আয়াতে বলা হয়েছে, “তোমরা আল্লাহকে যতোটুকু ভয় করা উচিত, ততোটুকুই ভয় করো”। পরবর্তীতে একে রহিত করে দিয়ে সুরা তাগাবুনের ১৬ নং আয়াতে বলা হয়েছে আল্লাহকে সাধ্যমতো ভয় করার কথা।
সুরা আনফালের ৬৫ নং আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে, “বিশ জন ধৈর্যশীল জিহাদি থাকলে তারা দুইশ জনের সাথে জয়ী হবে”। এই আয়াতের বিধান হলো, প্রতি দশজনের বিপরীতে একজন জিহাদিও যদি থাকে, সে যেন পালিয়ে না আসে। এই বিধান রহিত করে পরবর্তী আয়াতে নতুন বিধান দেয়া হলো, দুইশ জনের বিপরীতে একশ জন জয়ী হবে। অর্থাৎ, দুইশ জনের বিপরীতে একশ জন থাকলে তারা যেন যুদ্ধক্ষেত্রে অটল থাকে। তবে সংখ্যাটি একশ জনের কম হলে পালিয়ে আসা যাবে।
সুরা আহযাবের ৫২ নং আয়াতে নবীমুহাম্মদকে আরো অতিরিক্ত বিবাহ করতে নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু একই সুরার ৫০ নং আয়াত দ্বারা বিবাহ নিষিদ্ধ করার এই আদেশ রহিত করে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ, তিনি চাইলে ইচ্ছেমতো আরো বিবাহ করতে পারেন।
সুরা মুজাদালার ১২ নং আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে, নবী মুহাম্মদের সাথে চুপে চুপে কথা বলতে হলে সামর্থবানদের আগে সাদাকা প্রদান করতে হবে। এই বিধান রহিত করে দেয়া হয় পরবর্তী আয়াতে।
রেফারেন্সঃ ছয়
০১) সহিহ বোখারি ৪২২৩ ও ৬২৮৩ নং হাদিস এবং সুনানে আবু দাউদ ২৮৫৯ নং হাদিস।
০২) আল ইতকান ২য় খণ্ড ০৭ পৃষ্ঠা এবং Abrogation in the Qoran ২০ পৃষ্ঠা।
০৩) সহিহ বোখারি ৪২৯৬-৯৭ নং হাদিস; সুনানে আবু দাউদ ২৬৩৮ নং হাদিস এবং তাফসিরে ইবনে কাসির ৩য় খণ্ড ৬১৫ পৃষ্ঠা।
০৪) আল ইতকান ২য় খণ্ড ০৮ পৃষ্ঠা এবং Abrogation in the Qoran ৫৫-৫৬ পৃষ্ঠা।
০৫) আল ইতকান ২য় খণ্ড ০৮ পৃষ্ঠা এবং Abrogation in the Qoran ৬৮ পৃষ্ঠা।
নসখ-মানসুখ স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, কোরান মানবসৃষ্ট একটি গ্রন্থ। এখানে মাঝে মধ্যে ভুল বিধান অনুসরণ করতে বলা হয়। যখন দেখা যায়, এই বিধান কাজ করছে না, বরং সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে, তখন সেই ভুল শুধরে নিয়ে নতুন বিধান প্রতিস্থাপণ করা হয়। হাস্যকর ব্যপার। নসখ-মানসুখের ব্যপারটি এখানেই শেষ নয়। মূলত তিন ধরনের নসখ-মানসুখ দেখা যায়।
ক. আয়াত কোরানে আছে, কিন্তু বিধান রহিত করে দেয়া হয়েছে। উপরে আমরা যা আলোচনা করেছি, সেটা এই বিভাগের মধ্যে পড়ে।
খ. আয়াত কোরান থেকে বাতিল করে দেয়া হয়েছে, কিন্তু বিধান বহাল রাখা হয়েছে। রজম বা পাথর নিক্ষেপে হত্যা করা সংক্রান্ত বিধানটি এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। খলিফা উমর বলেছেন, রজমের আয়াত কোরানে ছিল, তারা এই আয়াতের বিধান নবী মুহাম্মদের আমলে অনুশীলনও করেছেন। কিন্তু বর্তমান কোরানে এটি রাখা হয়নি। উমর এটাও বলেছেন যে, সমালোচনার ভয় না থাকলে তিনি এটি কোরানের অন্তর্ভূক্ত করতেন।
গ. আয়াত ও বিধান, উভয়ই বাতিল করে দেয়া হয়েছে। মানে হলো, রহিত হওয়া আয়াত কোরানে রাখা হয়নি। সেই আয়াতের বিধানও এখন আর অনুশীলন করা হয় না। নবী মুহাম্মদের খাদেম আনাস বিন মালিক সুরা তাওবার ক্ষেত্রে এ ধরনের একটি আয়াতের কথা উল্লেখ করেছেন। সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদও এমন একটি আয়াতের বর্ণনা দিয়েছেন। নবীপত্নী আয়েশা বর্ণিত দুধপান সংক্রান্ত আয়াতটিও এই বিভাগের মধ্যে পড়ে।
‘খ’ ও ‘গ’ নম্বর নিয়ে অনেক মতানৈক্য রয়েছে। কেউ কেউ বলেন, এগুলো রহিত হয়নি, বরং হারিয়ে গেছে বা কোরান সংকলনের সময় বিভিন্ন কারনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
রেফারেন্সঃ সাত
০১) সহিহ মুসলিম ৪২৭১ নং হাদিস; সুনানে আবু দাউদ ৪৩৬৫ নং হাদিস; সুনানে ইবনে মাজাহ ২৫৫৩ নং হাদিস; আল ইতকান ২য় খণ্ড ১৬ পৃষ্ঠা এবং Abrogation in the Qoran ০৫পৃষ্ঠা।
০২) আল ইতকান ২য় খণ্ড ০৪ পৃষ্ঠা এবং Abrogation in the Qoran ০৫ পৃষ্ঠা।
সবশেষে আরেকটি কথা। অসংখ্য হাদিস রয়েছে, যেখানে একটি বিশেষ ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। সুরা নিসার ৯৫ নম্বর আয়াত নবী মুহাম্মদের উপর অবতীর্ণ করা হলো। এখানে বলা হলো –
“মুমিনদের মধ্যে যারা ঘরে বসে থাকে এবং যারা জান ও মাল দ্বারা জিহাদ করে, তারা সমান নয়”।
সাহাবিগণ আয়াতটি লিখে রাখলেন। এসময় অন্ধ সাহাবি উম্মে মাকতুম বললেন, ‘হে রাসুলুল্লাহ! আমি দৃষ্টিহীন। সামর্থ থাকলে তো আমিও জিহাদে যেতাম’। তখন নবী মুহাম্মদ এই আয়াতের মধ্যে ‘গাইরু উলিদ দারার’ বা ‘অপারগ ব্যক্তিগণ ব্যতিরেকে’ শব্দগুলো অন্তর্ভূক্ত করলেন। এটা কী প্রমাণ করে?
রেফারেন্সঃ আট
০১) সহিহ বোখারি ৪২৩৮-৩৯ নং হাদিস এবং সুনানে নাসায়ি ৩১০২ নং হাদিস।
রেফারেন্সগুলো যেসব বই থেকে নেয়া হয়েছে, সেগুলো ডাউনলোডের লিঙ্ক দিয়ে দিচ্ছি, যেন আপনারা নিজেরাই এটা মিলিয়ে নিতে পারেন।
এক, অধ্যাপক ডঃ মুজিবুর রহমান অনূদিত “কোর’আনুল কারিম”; দারুস সালাম প্রকাশনী।
লিঙ্কঃ http://preachingauthenticislaminbangla.blogspot.com/…/persi…
দুই, ইবনে কাসির রচিত “তাফসিরে ইবনে কাসির”; অনুবাদ ও প্রকাশনায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
লিঙ্কঃ http://preachingauthenticislaminbangla.blogspot.com/…/tafsi…
তিন, জালালুদ্দিন সুয়ুতি রচিত “আল ইতকান ফি উলুম আল কুর’আন”(ইংলিশ); অনুবাদ মুনির ফরিদ।
লিঙ্কঃ http://data.nur.nu/…/E…/Suyuti_Itqan-fi-ulum-alquran-eng.pdf
চার, ইমাম বোখারি কর্তৃক সংকলিত “সহিহ বোখারি”; অনুবাদ ও প্রকাশনায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
লিঙ্কঃ http://preachingauthenticislaminbangla.blogspot.com/…/autho…
পাঁচ, ইমাম মুসলিম কর্তৃক সংকলিত “সহিহ মুসলিম”; অনুবাদ ও প্রকাশনায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
লিঙ্কঃ http://preachingauthenticislaminbangla.blogspot.com/…/blog-…
ছয়, ইমাম আবু দাউদ কর্তৃক সংকলিত “সুনানে আবু দাউদ”; অনুবাদ ও প্রকাশনায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
লিঙ্কঃ http://preachingauthenticislaminbangla.blogspot.com/…/blog-…
সাত, ইমাম ইবনে মাজাহ কর্তৃক সংকলিত “সুনানে ইবনে মাজাহ”; অনুবাদ ও প্রকাশনায় তাওহিদ প্রকাশনী।
লিঙ্কঃ http://preachingauthenticislaminbangla.blogspot.com/…/blog-…
আট, আনওয়ারুল হক রচিত “Abrogation in the Qoran”
লিঙ্কঃ http://muhammadanism.com/Quran/abrogation_koran.pdf
নয়, শাহ্‌ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী রচিত “আল ফাউযুল কবির ফি উসুলিত তাফসির”; অনুবাদ অধ্যাপক আখতার ফারুক।
লিঙ্কঃ http://xeroxtree.com/pdf/quran_bekkhar_mulniti.pdf
আর কমেন্টে প্রতিটি রেফারেন্সের স্ক্রিনশটও দিচ্ছি। কোরান দিয়ে নবী মুহাম্মদ যে আমাদের পূর্বপুরুষদের অসংখ্যবার বোকা বানিয়েছেন, সেটা আমাদের সকলের জানা প্রয়োজন।
(২২/০৭/১৬ তারিখের স্ট্যাটাসের পুনঃপ্রকাশ)
রেফারেন্সের স্ক্রিনশট
একঃ



দুইঃ


তিনঃ


চারঃ


পাঁচঃ

ছয়ঃ

সাতঃ


আটঃ