Thursday, May 31, 2018

কফিনভর্তি বারুদের নির্যাস

লিখেছেন: কৌশিক মজুমদার শুভ
 
আমার জন্যে কয়েক বিলিয়ন কফিন জমা রেখো,প্রিয়তমা।
গোলাপের চাষ অলাভজনক হতে পারে-
পৃথিবীতে যুদ্ধ কখনো থেমে যাবে না।
বাতাসে বারুদ আর সীসা-রক্তের কালো দাগ দেখে যারা, তারাও একসময় পাহাড়ের স্বপ্ন দেখেন,
ফিরে যেতে চান ঘরে,
দ্যাখেন কমলা রোদে জমাট হয়ে আছে গরম পাথর-ফুলের ঘ্রাণ-
প্রেমিকার চুলের মতো আঁধার নেমে আসে যখন যুদ্ধের ডামাডোলে-
যখন রক্তে ভিজে আসে হাসপাতাল আর সাদা বেডসিট
প্রার্থনা কোরো প্রিয়তমা,
এবারের কফিনগুলো যেন সাজানো যেতে পারে পর্যাপ্ত রজনীগন্ধা আর অর্কিডে,
গোলাপের রক্তাভ লাল অসহ্য হয়ে উঠেছে লাশেদের দলে-
যুদ্ধবিমানের গোলায় উড়ে গিয়েছিল যে হাসপাতাল, পুড়ে গিয়েছিল যে শিশুর মুখ,থেমেছিল যে অপত্যের কান্না,
অথবা শরণার্থীশিবিরে পড়ে আছে যে হাতকাটা কবি,
অথবা বিধবার আর্তনাদের তীব্রতা কানে এলে তাই নিয়ে থেমে থাকা যায় না
আমি যুদ্ধে যাচ্ছি,প্রিয়তমা -
বিপক্ষের অজস্র কার্তুজে ভরে যাবে আমার বুক-
মিশে যাবে রক্তে,সীসা বিধে যাবে স্কেলেরায়,
ততক্ষণ পৃথিবীর উত্থিত রাজনীতি সসম্মানে
তাহাদের লিঙ্গ প্রদর্শন করবে যেখানে-এক্সিবিসনিজম
যখন ফিরে আসি আমার যুদ্ধবিদ্ধস্ত শহরে,
মর্গে দেখি ফ্রিজারের অভাব,
দুর্গন্ধের সাথে একটা বারুদ মিশে গ্যাছে শহরের বাতাসে,
সাদা কাফনের অপর্যাপ্ত অংশে বেরিয়ে ছিল সুপরিচিতের ছাইমাখা পা-
যার প্রতিটা শিরাউপশিরা জটপেকেছিলো নিউরনে।
আমার হৃদযন্ত্রে ক্ষুরাঘাত করে অজস্র জেব্রা-সাদাকালো,ডোরাকাটা -
উদ্ভট পৃথিবীর সঙ্গমলীলা,উদ্ভট আমাদের চিন্তাপ্রণালী
শাসকের মূল্য দিতে গিয়ে ক্রীতদাস হয়ে
জন্মেছিল যে সৈণিক-তার স্ত্রী ধর্ষিত হয়েছিল যখন, পৃথিবীর বাতাসে সে চিৎকার করেছিল?
নাকি তার গোঙানির সুরে ছিল বেশ্যার ছিনালী-
এই নিয়ে চিন্তা করে মস্তিষ্কে ধার দেন মস্তকহীন বুদ্ধিজীবীগণ
মহামাণ্য শাসক-মহামাণ্য ঈশ্বর -
আমি কি গ্লাডিয়েটর হতে চেয়েছি?
অথবা তারা স্বাধীনতা চেয়েছিল-কফিন চায়নি,কেননা কফিনে দমবন্ধ হয়ে আসে,
কফিনের চাহিদায় পৃথিবীতে বিলুপ্ত এখন আবলুস গাছ,অর্কিড নেই বললেই চলে।
আপনার পালিত কুকুরগুলো ছেড়ে দিন-যে গুলো সিংহের ছাল পড়ে আছে।
আমাদের মাংস নিশ্চয়ই তার জন্যে সুস্বাদু হবে
মৃত্যু শাশ্বত -কিন্তু আমরা নিশ্চিত নই কিভাবে দেখা হবে মৃত্যুর সাথে,
কে জানে,আগামীকালই বাতিল হবে শান্তিচুক্তি,
হয়ত মাথার ওপরে ভেঙে পড়বে আরেকটা বিশ্বযুদ্ধ

Monday, December 18, 2017

সবচেয়ে বড় শত্রু

লিখেছেন

শুরু.
মোহাম্মদ আকাশ বা আকাশ ভট্টাচার্য নয়, ওই যে মাথার উপর সার্বজনীন নীল ছাউনিটা, তার অবস্থা ভালো নয়। দেখা যাচ্ছে না। কালো মেঘে ঢেকে আছে। দু’তিন দিন ধরে একটানা ঝরছে। ঝুম বৃষ্টি। গ্রামের প্রায় সবাই ঘরবন্দী। মরহুম আবু তালেবের ছেলে পুলক বন্দী তার বড় ঘরে। পুলকদের কাজের ছেলে মহসিন বন্দী কাচারী ঘরে। পুলকের মা বাড়ি নেই। জোর করে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে একমাত্র মেয়ের বাড়ি। বেড়াতে। এক সপ্তাহ ধরে পুলককে খুব জ্বালাতন করছেন। যখন তখন বিনা নোটিশে কান্নাকাটি, বিলাপ ইত‍্যাদি করে ছেলেটার মাথা খেয়ে ফেলছে। তাই বুঝিয়ে শুনিয়ে এই বৃষ্টির মধ‍্যে মহসিনকে দিয়ে মেয়ের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে গত পরশু। তিনি সেখানে ভালো আছেন। পুলক এখানে পুলকের মত আছে।
টেবিলের উপর মাথা, মাথার উপর শূন‍্য। শূন‍্যের উপর টিনের চাল, টিনের চালে বৃষ্টি। বৃষ্টির উপর বৃষ্টি, একটানা বৃষ্টি। মাথার ভেতর মা। মায়ের চোখে জল, মনে কষ্ট। মা, মাথা, কষ্ট, জল, বৃষ্টির শব্দ বেশ ঘোরগ্রস্থ করে দিয়েছে। মনে হচ্ছে মাথা আছে বড় পুকুরের ঘাটে, আর শরীর আছে বাড়ির পেছনে চালতা বাগানের পাশের মাঠে। বৃষ্টিতে ভিজে যাচ্ছে।
– ভাইজান, মাতবর ও আরো দুইজন মানুষ আসছে আপনার সাথে দেখা করতে।
ব‍্যস্, ঘোর কেটে গেলো। মাতবর আর ঘোর একসাথে চলতে পারে না। কিন্তু মাতবর কেন আসলো, পুলক আন্দাজ করে কিছু পায় না। কারণ এই লোক কখনো পুলকদের বাড়ি আসে না। কাজ নেইতো, তাই।
– যাও, উনাদেরকে এই ঘরে নিয়ে এসো।
পুলক না জানলেও গ্রামের কিছুলোক জানতে পেরেছে মাতবর ও সাথের দুইজন পুলকের উপর ভীষণ ক্ষ‍্যাপা। কপালে খারাবি আছে।
অপর আট দশজন মাতবরের মত এই মাতবরও বিশেষ সুবিধার না। জমির আইল ঠেলার জন‍্য এলাকায় বিশেষভাবে বিখ‍্যাত। তার জমির পাশে যাদের জমি আছে, তারা জানে মাতবরের সৃজনশীলতার খবর। মাতবরের সাথে আসছে তার দুই মিত্র। একজনের নাম নজরুল, আরেকজন মোস্তফা। নজরুল হচ্ছে মাছ চাষী। এলাকায় তার কয়েকটি মাছের প্রজেক্ট আছে। মোস্তফা পেশায় একজন ভিলেজ পলিটিশিয়ান। ছোট ভাই দুবাই থাকে। মাসে মাসে মোটা অংকের টাকা পাঠায়, আর বড় ভাই পায়ের উপর পা তুলে খায়। তিন জনের কারো সাথেই পুলকের কোন বন্ধুত্ব নেই, বিশেষ শত্রুতাও নেই। তাহলে এই বিরক্তিকর বৃষ্টি মাথায় নিয়ে তারা কেন এসেছে?
– পুলক বাবা, ছাতাটা বাইরে রাখলাম। কেউ নিয়ে যাবে নাতো?
– চাচা, স্লামালিকুম। না, না কে নিবে! ছাতা ওখানে রেখে ভেতরে আসেন।
– কিছু মনে কইরো না বাবা। অনেক ছোটমুখ নিয়ে তোমার কাছে আসলাম।
– কী বলেন মাতবর চাচা! আপনার মুখ ছোট হবে কেন?
– কেন হবে না বলো! তুমি কি কাজটা ঠিক করেছো? কী কারণে আমাদেরকে এমন অপদস্থ করলে, শুধু সেটা জানতে এসেছি। বুঝাও বাবা, আমাকে একটু বুঝাও।
– চাচা, আমিতো কিছুই বুঝতে পারছি না।
– সারা গ্রামের লোকজন বলাবলি করছে তুমি নাকি লম্বা সামচুকে তোমার সবচেয়ে বড় শত্রু বলেছো। এটা কোন কথা হলো!
– ও, এই কথা! আসলে ওভাবে বলতে চাইনি। আপনি মনে কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি খুব দুঃখিত।
– মনে কষ্ট অবশ‍্যই পেয়েছি। সামচু কিভাবে তোমার সবচেয়ে বড় শত্রু হয়! সে তোমার কী ক্ষতি করেছে?
– ক্ষতিতো একটু করেছেই। থাক চাচা। আমি আপনার কাছে আবারো দুঃখ প্রকাশ করছি। স‍্যরি, চাচা।
– সে তোমার কতটুকু ক্ষতি করেছে, আমরা তা জানি। কিন্তু আমার চেয়ে বেশি ক্ষতি কি করেছে? অথবা নজরুল ও মোস্তফার চেয়ে বেশি?
– চাচা…
– বাবারে, কারো সাথে শত্রুতা করি তার সবচেয়ে বড় শত্রু হবো, এই আশায়। এত কষ্ট করে, মাথা খাটিয়ে শত্রুতা করার পর সে যদি সবচেয়ে বড় শত্রু না ভাবে, তাহলে সম্মানে লাগে। বড় হয়েছো, ডিগ্রী পাশ দিয়েছো, এটা তুমি ঠিকই বুঝো। আমার মত মাতবরকে তুমি সবচেয়ে বড় শত্রু মনে করোনি, এখন লোকজনের ভয়ে ঘর থেকে বের হতে পারছি না। কাছের মানুষেরা লজ্জা দিচ্ছে। মান সম্মান নিয়ে টানাটানির মধ‍্যে আছি।
পুলকদের জমির পাশে মাতবরের জমি আছে। পুলকের বাবা মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত মাতবর আইল ঠেলতে পারেনি। জমির সীমানায় পিলার বসিয়ে, সুতা বেঁধে জমি রক্ষা করতেন মরহুম আবু তালেব। কিন্তু তার মৃত‍্যুর পর এই পাঁচ বছরে মাতবর কমসে কম দুই হাত আইল ঠেলেছে। এখন মাতবরের কথা হলো, পিতৃহীন একটা ছেলেকে অসহায় পেয়ে দুই হাত জমি দখল করে নেয়ার মত জুলুম করার পরও পুলক যে তাকে সবচেয়ে বড় শত্রু ভাবছে না, এটা তার জন‍্য অপমানজনক।
পুলক বুঝানোর চেষ্টা করে। বলে আইল ঠেলা মাতবরের অভ‍্যাস, এটা শত্রুতা নয়। সামান‍্য জমি হারিয়ে পুলকের বিশেষ কোন সমস‍্যা হয়নি। এমনিতেই প্রতি বছর আশি নব্বই মন ধান বিক্রি করে দিতে হয়। তাছাড়া পুলক চাইলে যখন যখন বেদখল হওয়া জমি উদ্ধার করে নিতে পারে। এটা কোন সমস‍্যা না। পুলক আরো বলে তার জমির আইল দুই হাত ঠেলে যদি মাতবর খুশি হয়, তাহলে মাতবরের আত্মা পুলকের জন‍্য দোয়া করবে।
তবুও মাতবর বুঝ মানতে চায় না। নজরুল আর মোস্তফাও না। এই দু’জনের মধ‍্যে মোস্তফা বেশি ক্ষ‍্যাপা।
– মাতবর জমির আইল ঠেলায় না হয় তোমার বিশেষ কোন সমস‍্যা হয়নি। কিন্তু আমি যে তোমার বোনের এত ভালো একটা বিয়ের প্রস্তাব বানচাল করে দিয়েছিলাম, সেটাতেও কি ক্ষতি হয়নি?
– না মোস্তফা ভাই। আসলেই কোন ক্ষতি হয়নি।
– কী বলছো তুমি পুলক! ছেলে ইতালি থাকে। সেখানে ব‍্যবসা আছে। বিয়ের পর তোমার বোনকে ইতালি নিয়ে যেতো। তুমিও যেতে পারতে। অথচ শুধু আমার ছোট ভাইয়ের কাছে তোমার বোন পুতুলকে বিয়ে দাওনি বলে বদনাম ছড়িয়ে বিয়েটা ভেঙ্গে দিলাম। আর তুমি বলছো কোন ক্ষতি হয়নি!
– আপনিতো বিয়ে ভাঙ্গেননি। ওই বিয়ে এমনিতেই হতো না। ছেলের বয়স বেশি। প্রায় বৃদ্ধ একটা মানুষ। এত বয়স্ক লোককে আমার বোন বিয়ে করতো না। তার নিজস্ব পছন্দ ছিলো, পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করেছে। বেশ সুখে আছে। তাদের জন‍্য দোয়া করবেন।
মহসিন আবার আসে। এসে জানায় পুলকের সাথে দেখা করতে দুইজন পুলিশ এসেছে। পুলক বলে তাদেরকে কাচারী ঘরে বসিয়ে চা নাশতা খাওয়াতে।
এদিকে মাতবর, নজরুল আর মোস্তফাকে নিয়ে চলছে ঝামেলা। তারা কোনভাবেই বুঝতে পারছে না যে তারা পুলকের শত্রু নয়। আর হলেও অনেক ছোট শত্রু। সামচু হচ্ছে সবচেয়ে বড় শত্রু। কিন্তু এই কথাটি নজরুলও মানছে না। দুই বছর আগে নজরুলের দ্বারা পুলকের অনেক বড় ক্ষতি হয়েছে। পুলকের এক পুকুর মাছ বিষ ঢেলে মেরে ফেলে নজরুল। পুলক সেবারই প্রথম মাছ চাষ করে এবং বেশ ভালো অবস্থায় ছিলো। একজন মাছচাষী হিসেবে বাজারে মার খাওয়ার ভয়ে পুলকের পুকুরে বিষ ঢেলে দেয় নজরুল। সবগুলো মাছ বড় হওয়ার আগেই মরে যায়।
পুলক নজরুলকে বুঝাতে চাইছে সত‍্য‍ি সত‍্যি ওই ঘটনায় পুলকের ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু সেই ক্ষতি সামচুর করা ক্ষতির চেয়ে বেশি না।
– তাহলে বলো সামচু তোমার কত্ত বড় ক্ষতি করেছে?
তিনজনের মুখে একই প্রশ্ন।
মাঝপথ.
কিছুদিন আগে রাতের বেলা গ্রামের মন্দিরে কে বা কাহারা মূর্তি ভেঙ্গে রেখে যায়। গ্রামে কোন হিন্দু-মুসলমান ঝগড়া নেই, বিবাদ নেই, মারামারি নেই। হঠাৎ করে মূর্তি ভাংচুরের ঘটনায় হিন্দুরা ঘাবড়ে যায়। ভেতরে ভেতরে ক্ষুব্ধ হয়। ঘটনার দুই দিন পর জানাজানি হয় নজির আহম্মদের ছেলে আকাশ তার বন্ধুদের নিয়ে মূর্তি ভাঙ্গে। এই গ্রামে দু’জন আকাশ। অপর আকাশ হিন্দু। আকাশ ভট্টাচার্য। পুলকের বন্ধু। আকাশ ভট্টাচার্য ফেসবুকে একটা পোস্ট দেয়। সে লিখে “মূর্তি ভাংচুরের মাধ‍্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টাকারীদের শাস্তি চাই।” পুলক সেই পোস্টে লাইক দেয়।
এই লাইক দেয়ার ঘটনাটি পুলকের জন‍্য কাল হয়। এলাকার পাঠাগারে ধর্মের পাশাপাশি বিজ্ঞানের বই রাখা নিয়ে তর্কাতর্কির জের ধরে সহপাঠী সামচু সুযোগটা লুফে নেয়। সামচু গ্রামে ছড়িয়ে দেয় আকাশ ভট্টাচার্যের পোস্টে লাইক দিয়ে পুলক ইসলাম অবমাননা করেছে। তাকে শাস্তি পেতে হবে। এ বিষয়ে পুলকের পক্ষের শিক্ষিত লোকজনের সাথে সামচুর বাকযুদ্ধ হয়। তার কথা হচ্ছে পোস্টে ‘শান্তি প্রতিষ্ঠা’ শব্দের মাধ‍্যমে ইসলামকে কটাক্ষ করা হয়েছে। কারণ ইসলাম শান্তির ধর্ম। অথচ একজন মুসলমান হয়েও পুলক এই কটাক্ষকে লাইক করেছে। কারণ পুলক নাস্তিক হয়ে গেছে। সে পাঠাগারে ধর্মীয় বই রাখতে চায় না, বিজ্ঞানের বই রাখতে চায়। …এরকম আরো অনেক কথা।
সামচু তার পুলিশ আত্মীয়কে দিয়ে পুলককে হয়রানির ফন্দি আঁটছে। তথ‍্য প্রযুক্তি আইনে মামলার চেষ্টা করছে। কোনভাবে মামলা করে বসলে পুলক বেকায়দায় পড়ে যাবে। যেহেতু ধর্মীয় ইস‍্যু, সেহেতু আইনজীবী পেতে সমস‍্যা হবে। তাছাড়া পুলক জানতে পেরেছে সারা বাংলাদেশে মাত্র একজন আইনজীবী তথ‍্য প্রযুক্তি আইনে করা মামলার বিরুদ্ধে লড়েন। তিনি থাকেন ঢাকায়। ঢাকার এত দূরে লালমনিরহাটে কি তিনি আসবেন! সবচে বড় কথা এসব মামলা মকদ্দমা নিয়ে পুলকের কোন অভিজ্ঞতা নেই। অপরদিকে সামচুদের পরিবার মামলাবাজির জন‍্য নামকরা।
– হ‍্যাঁ, আমাকে নজরুল আর মোস্তফা বলেছে ফেসবুক স্ট‍্যাটাস নিয়ে তোমাদের মাঝে কী একটা সমস‍্যা হয়েছে। আরে বাবা, ফেসবুক স্ট‍্যাটাস দিয়ে কী হবে? সামাজিক স্ট‍্যাটাস হচ্ছে আসল। তুমি অযথা আরেকজনের স্ট‍্যাটাস পছন্দ করতে গেলে কেন? তোমার স্ট‍্যাটাস কি এতই খারাপ?
– চাচা, আসলে বিষয়টা একটু জটিল।
– শোন, মিয়া। কোন জটিলতা নেই। সামচু অলরেডি আমার সাথে বেয়াদবি করে ফেলেছে। সে তোমাকে সাইজ করবে, ভালো কথা। কিন্তু মাতবরকে ডিঙ্গিয়ে কাউকে হেনস্থা করা যায় না। সে আমার সাথে এ বিষয়ে কোন পরামর্শ করেনি। করলে আমিই সব ব‍্যবস্থা করে দিতাম। এখন যেহেতু সে আমাকে সম্মান দেয়নি, তোমার কিছুই করতে পারবে না। আমি করতে দিবো না।
মহসিন আবার এসেছে। পুলিশ চলে গেছে, এই খবর নিয়ে। সাথে আরেকটা খবর আছে। অন‍্য এক লোক এসেছে। কাচারী ঘরে অপেক্ষা করছে।
পুলক খুব অবাক হচ্ছে। আজ এত মানুষ কেন আসছে তার কাছে! মহসিনের কাছে ওই লোক সম্পর্কে জানতে চায়।
– কে উনি? কেন এসেছেন?
– চিনি না। আপনাকে হত‍্যা করতে এসেছেন।
– কেন?
– উনার মা’র খুব শখ, ছেলে যেন বেহেশতে যায়।
– কী!
– হ‍্যাঁ, আপনাকে মেরেই উনি বেহেশতে রওনা দিবেন।
– আচ্ছা, বাদ দাও। পুলিশ কখন গেছে?
– বেহেশতে যেতে চাওয়া লোকটি আসার পর।
– তুমি গিয়ে একটু দেখো হত‍্যা করার জন‍্য সাথে করে কী কী অস্ত্র এনেছে।
– জ্বি, আচ্ছা।
মাতবর ও তার দুই বন্ধু কিছু বুঝতে পারছে না। একটা লোক বেহেশতে যেতে চাইলে যাবে, কিন্তু পুলককে খুন করতে হবে কেন? এটা কি দৈত‍্য মারা রূপকথার গল্প নাকি!
পুলক তাদের বুঝিয়ে বলে কেন বেহেশতে যেতে চাওয়া লোকটি পুলককে মারতে এসেছে। পুলিশইবা কেন আসে, আবার কেন চলে যায়।
অল্প কিছুক্ষণ পর কাচারী ঘর থেকে মহসিন এসে জানায় অচেনা ওই লোক একটি চাপাতি, একটি পিস্তল ও একটি বোমা নিয়ে এসেছেন। এ কথা শোনার পর মহসিনকে আবার কাচারী ঘরে পাঠিয়ে দেয় পুলক।
মাতবর, নজরুল ও মোস্তফার এখনো ঘোর কাটেনি। চাপাতির ব‍্যাপারটা স্বাভাবিক। কিন্তু পিস্তল ও বোমার কথা শুনে তিনজনই ভড়কে গেছে। মাতবরের গলায় তবুও খানিকটা জোর আছে। পুলককে সাহস দিয়ে বলার চেষ্টা করছেন কোথাকার কোন ছেলে এসে তোমাকে মেরে চলে যাবে, এটা হতে পারে না। তুমি চিন্তা করো না।
পুলক তাদেরকে শান্ত হতে বলে। সে বলে মাতবরের কথা ঠিকই আছে। কিন্তু বিষয়টা জটিল। কারণ যে লোক পুলককে মারতে এসেছে তার কাছে পিস্তল ও বোমা আছে। অর্থাৎ এই রুমে উপস্থিত বাকি তিনজনও মৃত‍্যুর ঝুঁকিতে আছেন। বোমা ফাটালে সবাই মরবে।
পুলক আরো বলে তাদের হাতে তিনটা উপায় আছে।
এক. মাতবর, নজরুল ও মোস্তফা পেছনের দরজা দিয়ে সরে যাবেন। বেহেশতগামী ওই লোক এসে পুলককে মেরে যাবে।
দুই. মাতবর, নজরুল ও মোস্তফা মিলে পুলককে মেরে ওই ছেলের আগে বেহেশতে চলে যাবেন।
তিন. মাতবর, নজরুল, মোস্তফা, মহসিন ও পুলক মিলে বুদ্ধি খাটিয়ে ওই ছেলেকে ধরে ফেলবে। তারপর পুলিশে দিয়ে দিবে।
এখন এই তিনটি উপায়ের মধ‍্যে যেকোন একটি বেছে নেয়ার দায়িত্ব মাতবর, নজরুল ও মোস্তফার।
শেষ.
পুলকের কথা শেষ হওয়ার পর মাতবরদের ছয়টি চোখ চেয়ে আছে পুলকের দিকে, আর পুলক চেয়ে আছে তাদের ছয় চোখের দিকে যারা পুলকের সবচেয়ে বড় শত্রু হতে চেয়েছে।

Saturday, November 4, 2017

শত্রু তুমি বন্ধু তুমি

লিখেছেন

যাকে দেখা যায় না, ধরা যায় না, স্বাদ বা গন্ধ কোনটাই নেয়া যায় না, অথচ আপনার জীবদ্দশায় প্রতিনিয়ত আপনি তাকে হাড়ে হাড়ে অনুভব করছেন, তার সম্মিলিত আক্রমণের মুখোমুখি হচ্ছেন। পৃথিবীর অন্য কোন শক্তি কি আছে, যে এতটা নাটকীয়ভাবে আপনার উপরে প্রভাব ফেলতে পারে? হ্যাঁ, এই শক্তির নাম মাধ্যাকর্ষণ শক্তি।
যখন একটা আপেল বিজ্ঞানী আইজাক নিউটনের মাথার উপরে পড়েছিল, তখন থেকে তিনি ধারণা পেতে শুরু করেন এই শক্তি কিভাবে বিভিন্ন গ্রহ-উপগ্রহের কক্ষপথকে প্রভাবিত করে। মানুষের শরীর ও স্বাস্থ্যের উপরে এই মহাকর্ষের প্রভাব কি হতে পারে, সেই ধারণা হয়তো তখনও তার মাথায় আসেনি।
আপনি কি কখনও লক্ষ করেছেন, দিনের শেষে আপনার কোমরের বেল্টটা একটু টাইট হয়ে গেছে? আপনি কি প্রায়ই আপনার গাড়ির ব্যকভিউ মিরর সকালে একটু উঁচুতে আর রাতে একটু নিচুতে এডজাস্ট করে থাকেন? আপনি কি জানেন চল্লিশের পরে প্রতি বিশ বছর পরপর আপনি আধা ইঞ্চি করে বেটে হচ্ছেন? আপনি কি মাঝেমাঝে শিরা ফুলা রোগ, পা ফোলা, পিঠে ব্যথায় ভুগছেন? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর যদি হা হয়, তবে বুঝতে হবে আপনি মাধ্যাকর্ষণের সংকোচক শক্তির শিকার।
পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণের কেন্দ্রমুখী টান, যা আমাদের মুখ, কাঁধ, পিঠ, ঘাড়, বুক, ভিতরের প্রত্যঙ্গ, পা প্রভৃতি অংশের উপরে যে যন্ত্রণাদায়ক প্রভাব ফেলে তা অনুভব করে না এমন মানুষ নেই। মাধ্যাকর্ষণ কাউকে ছাড়ে না, কারো প্রতি বৈষম্যও করে না। বৃদ্ধ, যুবা, অলস, ক্রীড়াবিদ, সবাই এই পৃথিবীতে জীবন ধারণের ফলে অভিজ্ঞতা নেয়, কিভাবে ধীরে ধীরে তাদের প্রিয় দেহখানা বদলে যায়।
শরীরচর্চা আমাদের সুস্থ, সুঠাম রাখে ঠিকই, কিন্তু ব্যায়াম একই সাথে আমাদের উপকার ও অপকার দুইই করে। সেটা কিভাবে হয়? এটাকে বলে সংকোচন জনিত অবসাদ। যত তুমি দৌড়বে, ততো তুমি ভার বইবে, গ্রাভিটীকে তোমার দেহ তত বেশী খাজনা দিবে।
মাধ্যাকর্ষণের সবচেয়ে লক্ষণীয় প্রভাব দেখা যায় আমাদের দেহের মেরুদণ্ডের উপরে। শিরদাঁড়াকে সে সংকুচিত করে। সবাই জানে আমাদের শিরদাঁড়া ছোট ছোট তেত্রিশখানা কশেরুকা, এবং তাদের মাঝেমাঝে স্পঞ্জের মতন ডিস্ক দিয়ে গঠিত। সারাটা দিন মাধ্যাকর্ষণের নিন্মমুখী ক্রিয়ার ফলে ডিস্কগুলো প্রচুর পানি হারায়। ফলাফল হচ্ছে দিনশেষে শিরদাঁড়া ছোট হয় আধা ইঞ্চি থেকে সোয়া এক ইঞ্চি। রাত পেরলে পানি আবার ডিস্কে ফেরত আসে, তবে শতভাগ আসে না। এইসব কারণে পুরা জীবদ্দশায় মানুষের মেরুদণ্ড খাটো হয় আধা ইঞ্চি থেকে দুই ইঞ্চি।
উচ্চতা হারালে আমাদের পিঠের স্বাস্থ্যই যে শুধু নষ্ট হবে তা না, এর একটা সম্মিলিত প্রতিক্রিয়া হবে সারা দেহে, যাকে ইংরেজিতে ‘ডমিনো ইফেক্ট’ বলা যেতে পারে। এই সম্মিলিত প্রতিক্রিয়ায় মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোও সংকোচনের শিকার হবে এবং প্রকৃত ওজন না বাড়লেও মোটা হবে কোমর। কোমর মোটা হয়ে যাওয়াকে ‘ভালবাসার চাকা’ বললেও বলা যেতে পারে, তবে এটাকে সংকোচন চাকা বলাই শ্রেয়, কারণ এটা তৈরিই হয় শিরদাঁড়ার প্রত্যক্ষ সংকোচনের ফলশ্রুতিতে। এই বস্তু আমাদের নড়াচড়া ও বাঁকা হয়ে কিছু করার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। কমিয়ে দেয় আমাদের সাধারণ দৈনন্দিন কাজ সম্পাদন করার দক্ষতাও।
গ্রাভিটি আমাদের দেহের অভ্যন্তরীণ প্রত্যঙ্গের উপরও ধ্বংস যজ্ঞ চালায়। সময়ের সাথে সাথে প্রত্যঙ্গগুলোর স্থানচ্যুতি ঘটে, অথবা প্রকৃত অবস্থান থেকে এদিক ওদিক সরে যায়। এতে প্রত্যঙ্গসমূহের কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়। প্রত্যঙ্গসমূহের স্থানচ্যুতির কারণে মূত্রথলি, কিডনি ও পাকযন্ত্রের নানা সমস্যায় আক্রান্ত হওয়া মোটেই বিরল নয়। এর বেশ কিছুটা সমাধান মেলে যোগব্যায়ামে। শতাব্দীর অভিজ্ঞতা থেকে প্রাপ্ত ইওগাতে দেখা যায়, শরীর উল্টা করে, মাথা নিচে, পা ঊর্ধ্বে কিছু সময় রাখার অনুশীলন। এই ব্যায়ামে অভ্যন্তরীণ প্রত্যঙ্গের স্থানচ্যুতির প্রবণতা কমে আসে।
উচ্চতা হারানো এবং মোটা কোমর শরীরের নমনীয়তা নষ্ট করে দেয়। সক্রিয় জীবনধারণ পদ্ধতির মূল কাজ হচ্ছে মানুষের নড়াচড়ার ক্ষমতাকে ধরে রাখা। আমাদের শেষ জীবনের সব স্বাদ-আহ্লাদ, গলফ খেলা, বাগান করা, নাতি-পুতিদের সাথে দৌড়ঝাঁপ করার সব ক্ষমতাকে আসলে ডাকাতি করে নিয়ে যায় এই মাধ্যাকর্ষণ।
পানিকে উপরে উঠতে যদি গ্রাভিটি বাঁধা দেয়, তবে দেহের রক্তও মাথার দিকে আসতে বাঁধা পাবে। সময়ের সাথেসাথে মানুষের সংবহনতন্ত্র মাধ্যাকর্ষণকে মূল্য চুকায়। এর ফলে শিরাস্ফিতি, মস্তিষ্কে রক্তস্বল্পতা, হাত-পা ফোলা ইত্যাদি নানা উপসর্গে ভুগতে হয় মানুষকে। চোখ, কান, চামড়া, করোটি, ও ব্রেইনে রক্ত কম সংবাহিত হওয়ার ফলশ্রুতিতে আমাদের মূল্যবান অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়, এই ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই।
একটা খুব সাধারণ একটা পরীক্ষার মাধ্যমে মানুষের সংবহনতন্ত্রের উপরে মাধ্যাকর্ষণের প্রভাব কতটা, তা বুঝা যায়। দুইমিনিট ধরে ডানহাতটাকে খাড়া উপরে তুলে রাখুন, বামহাত থাকবে নিচে। তারপরে হাতদুটোকে পাশাপাশি রেখে রঙ পরীক্ষা করুন। দেখবেন বামহাত ডানহাতের চেয়ে বেশী লাল। এখন একবার চিন্তা করা যাক, সারাদিন দুইপায়ের উপরে যারা খাড়া হয়ে দাড়িয়ে থাকে, তাদের উপরে এই শক্তি কি প্রভাব ফেলে। আমাদের দেহ অবচেতনভাবে বুঝতে পারে নিন্মাঙ্গ থেকে হৃদযন্ত্রে রক্ত সংবহণের দরকার। আমরা কি একবারও গুণে দেখেছি, আমরা যখন ডেস্কে বসে থাকি, কতবার আমরা পা নাড়াই, বা পা দাপাই বা চেয়ার তুলে দেই। এসবই করি রক্ত সংবহনের দরকারে, গ্রাভিটি টানকে পুষিয়ে নেয়ার জন্যে।
এইসব শারীরিক সমস্যার জন্যে আমরা বার্ধক্যকে অনিবার্যভাবে দায়ী করি। আসল সত্য হচ্ছে, আমাদের দেহের এইসব বিচ্যুতি ঘটে শুধুমাত্র গ্রাভিটির কারণে এবং তা মোটেই অনিবার্য নয়। একেবারে না হলেও কিছুটা তো এই শক্তিকে এড়িয়ে চলা যায়।
গ্রাভিটি আমাদের নিয়ে কী খেলা খেলছে, আশাকরি সেটা পরিষ্কার হয়ে যাবে নীচের আলোচনার উপর থেকে আলোটুকু চয়ন করতে পারলে। মহাশূন্যচারীরা যখন পৃথিবীর প্রভাবের বাইরে যায়, তখন তারা এক সপ্তাহেই বেড়ে যায় দুই ইঞ্চি। এই সময়ে তাদের মেরুদণ্ডের ডিস্কগুলো রক্তস্রোত থেকে প্রচুর পানি শুষে ফুলে যায়। যেহেতু কোন গ্রাভিটির টান নেই, তাই মুক্তভাবে তারা বেড়ে গড় উচ্চতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখে। সেই কারণে মহাশূন্যচারীদের পোশাক দুই ইঞ্চি বড় করে ডিজাইন করা হয়। দুর্ভাগ্যবশত আমরা সারা জীবনভর পৃথিবীতে সেটে থাকি এবং প্রাকৃতিকভাবে আমরা জীবনের কোন না কোন সময়ে গ্রাভিটির ক্ষতিটাকে পুষিয়ে নেই।
ক) শিশু মাতৃজঠরে পুরাটা সময় ফ্লুইডের বয়েন্সির কারণে প্রায় ওজনহীন অবস্থায় কাটায়। এবং ডেলিভারির শেষ পর্যায়ে শিশু মাথা নীচের দিকে রেখে উল্টা মানবের আকারে অবস্থান করে ব্রেইনের বর্ধনের জন্যে।
খ) বহু শিশু মাথার চেয়ে বস্তিদেশ উঁচুতে রেখে ঘুমাতে পছন্দ করে, মাথায় পর্যাপ্ত রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করতে।
গ) শিশুরা তাদের বর্ধন ত্বরান্বিত করতে অবচেতন ভাবে গ্রাভিটিকে ফাঁকি দিতে চায়। এই কাজের জন্যে তারা বানরের মতন মাথা নীচের দিকে রেখে ঝুলে থাকতে চায়। তারা দোলনা ভালবাসেও ঠিক এই কারণে।
ঘ) আমরা বড়রাও মাঝেমধ্যে চেয়ারে বা টেবিলে পা তুলে দিতে পছন্দ করি গ্রাভিটীর অনবরত টান থেকে মুক্তির জন্যে।
আমরা মাধ্যাকর্ষণ থেকে পালাতে পারি না, কিন্তু চালাকি করে তাকে কিছুটা আমাদের পক্ষে নিয়ে আসতে পারি। সেটা কিভাবে? গ্রাভিটির ভিতরে ঠিক স্বাভাবিকভাবে যে অবস্থানে আমাদের শরীর থাকে, মাঝে মাঝে অল্প সময়ের জন্যে তার উল্টা অবস্থানে রেখে আমরা সেই চালাকিটা করতে পারি। গ্রাভিটিকে ব্যবহার করে শরীরের সম্প্রসারণ ও দীর্ঘকরণের মাধ্যমেও সেটা করতে পারি। লম্বা হয়ে শুয়ে থেকেও কিন্তু মাধ্যাকর্ষণীয় সংকোচন থেকে রেহাই পাওয়া যায় না।
দেহের যে পরিমাণ সস্প্রসারণ ঘটালে গ্রাভিটি সংকোচনকে পুষিয়ে নেয়া যায়, তা কেবল মাত্র সম্ভব উল্টাসন বা মাথা নীচে, পা উপরে রেখে যোগ চর্চার মাধ্যমে। আমাদের শিখতে হবে, জানতে হবে কিভাবে গ্রাভিটির সাথে যুদ্ধ করে শিরদাঁড়ার যথাযথ দৈর্ঘ্য, দেহাভ্যন্তরের প্রত্যঙ্গসমূহের যথাযথ অবস্থান বজায় রাখা, রক্তপ্রবাহ বাড়ানো এবং শরীরে নমনীয়তা ধরে রাখা যায়। ম্যাকানিকাল ট্রাকশানের মাধ্যমে দেহটাকে ভার্টিকাল নরমাল বা লম্বের সাথে ৬০ ডিগ্রি কোনে নাড়াচড়া করতে পারলে গ্রাভিটির ব্যাড ইফেক্টকে বাইপাস করা যেতে পারে। কিন্তু মেকানিকাল ট্রাকশানের ব্যাপারটা বেশ জটিল ও কষ্টকর।
গ্রাভিটি মানুষকে বৃদ্ধ করে, দুর্বল করে এবং বিভিন্ন প্যথোজেনকে আমাদের সংক্রমিত করার পথকে সহজ করে দেয়। তাই মাধ্যাকর্ষণ আমাদের শত্রু, আবার তাকে না হলেও চলে না। আমাদের শত্রুর কোন শেষ নেই। চোর, ডাকাত, প্রতিক্রিয়াশীলতা, কুরাজনীতি, অপরাজনীতিও আমাদের শত্রু। তাই এইসব ধরাছোঁয়া শত্রুর পাশাপাশি আরেকটা অদৃশ্য শত্রুকে বিবেচনায় রাখতে দোষ কি? মনে রাখতে হবে রাজনৈতিক অপঘাতের মতন গ্রাভিটিও আমাদের মৃত্যুর কারণ, অথচ তার নামে মানুষের কোন নালিশ নেই।
তথ্যসুত্রঃ গুগল ডট কম