Thursday, May 12, 2016

যৌক্তিকতা কি ?



বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম আলহামদুলিল্লাহ! সাতচল্লিশের দ্বিজাতি তত্ত্বকে অনেকেই মনে হয় দায়মুক্তি দিয়ে ফেলেছেনঅবশ্য এমনিতেই এতো এতো ঝামেলা, তার মধ্যে পুরনো কাসুন্দি টেনে এনে পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে করার কোনো মানেই হয়নাতাইতো 'জয় বাংলা বলে আগে বাড়ো' অবশ্য অচিরেই এটার নয়া ভার্সন 'নারায়ে তাক্ববির জপতে জপতে আগে বাড়ো' চলে আসার ব্যাপারে আমরা মাশাল্লাহ আশাবাদী
বর্তমান ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামের পিতা সাহিত্যিক আবুল মনসুর আহমেদ ১৯৩৮ সালে মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকায়পূর্ব পাকিস্তানের জবানপ্রবন্ধে উল্লেখ করেন,
"বাঙলার মুসলমানদের মাতৃভাষা বাঙলা হবে কি উর্দু হবে এ তর্ক খুব জোরেশোরেই একবার উঠেছিলোমুসলিম বাঙলার শক্তিশালী নেতাদের বেশিরভাগ উর্দুর দিকে নজর দিয়েছিলেন নবাব আবদুর রহমান মরহুম, স্যার আবদুর রহিম, মোঃ ফজলুল হক, ডাঃ আবদুল্লাহ, সোহরাওয়ার্দী, মৌলভী আবদুল কাশেম মরহুম প্রমুখ প্রভাবশালী নেতা উর্দুকে বাঙালী মুসলমানের মাতৃভাষা করবার প্রাণপণ চেষ্টা করেছিলেনকিন্তু মুসলিম বাঙলার সৌভাগ্য এই যে, উর্দুর প্রতি যাদের বেশি সমর্থন থাকার কথা, সেই আলেম সমাজই এই অপচেষ্টায় বাধা দিয়েছিলেনবাঙলার আলেম সমাজের মাথার মণি মওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ, মওলানা আবদুল্লাহেল বাকি, মওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী উর্দু-বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব করেছিলেনএঁদের প্রয়াসে শক্তি যুগিয়েছিলেন মরহুম নবাব আলী চৌধুরী সাহেবসেই লড়াইয়ে এঁরাই জয়লাভ করেছিলেনবাঙলার উপর উর্দু চাপাবার সে চেষ্টা তখনকার মত ব্যর্থ হয়কিন্তু নির্মূল হয় নিবাঙলার বিভিন্ন শহরে, বিশেষতঃ কোলকাতায় মাঝে মাঝে উর্দুওয়ালারা নিজেদের আন্দোলনকে জিইয়ে রেখেছিলেনসম্প্রতি পাকিস্তান আন্দোলনের ফলে মুসলমানদের স্বতন্ত্র জাতীয়তাবাদ তাদের আদর্শের বুনিয়াদে পরিণত হওয়ায় উর্দুওয়ালারা আবার গা ঝাড়া দিয়ে উঠেছেনসম্প্রতি মর্নিং নিউজস্টার অব ইন্ডিয়াএই ব্যাপারে কলম ধরেছেনজনকতক প্রবন্ধ লেখকও তাতে জুটেছেনএরা বলেছেনঃ পূর্ব পাকিস্তানের ভাষা স্বভাবতই উর্দু হবে
“ "চট্টগ্রামের জে এম সেন স্কুলের আরবী-ফারসীর শিক্ষক মাওলানা জুলফিকার আলী ভারতবর্ষ ভাগের পূর্ব থেকেই আরবী হরফে বাংলা লেখার উদ্যোগ গ্রহন করেনএই প্রয়াসের অংশ হিসেবে তিনি কয়েকটি বই লেখা , 'হরূফুল কোরআন' নামে সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ ও 'হরূফুল কোরআন' সমিতি গঠন করেনতারই উদ্যোগে ১৯৩৯ সালের ২৯-৩১ ডিসেম্বর কলকাতায় অনুষ্ঠিত 'All India Muslim Educational Conference' -এ আরবী হরফে বাংলা লেখার প্রস্তাব গৃহীত হয়।" (এ প্যারাটুকুর জন্য কৃতজ্ঞতা মাহমুদুল হক মুন্সি)
আমার বুঝে আসেনা এমন বড় বড় মাপের নেতাদের চাওয়া কী করে সালাম, রফিক, বরকত, জব্বারেরা জলাঞ্জলি দিলোঅন্তত অারবি হরফে বাংলা লেখা প্রকাশ করবার নীতিটা বেশ ভালো ছিলোকে জানে ঝান্নাতি হরফ আরবিতে লেখার কারণে আমাদের জজবা আরো বেড়ে যেতো সৌদি আরব তথা আল্লাহর কাছেআমাদের মিসকিন বাঙাল বলার আগে দুইবার ভাবতো তারা পাকিস্তানের মাথাপিছু আয় আমাদের চাইতে কম হলেও তাদের কিন্তু মিসকিন পাকি বলা হয় না তবে যাই হোক না কেনো, আমরা ভাষাশহীদদের রক্তের মূল্য চুকাবো ইনশাল্লাহকারো সাথে দেখা হলে সালাম-মুসাফাহ, কথার শেষে পরম করুনাময়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশস্বরূপ সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ কিংবা মাশাল্লাহ বলতে কসুর করবো না
এখানে আরো লক্ষ্যণীয় যে, সেই দশকের আলেম সমাজের নিকট পেট্রোডলারে মোড়ানো "আসল ইসলাম" এর দাওয়াত পৌঁছোয়নি বিধায় এহেন কামেল কাজে তারা বাধা দিয়েছিলোকিন্তু মাশাল্লাহ বিগত দুই সামরিক শাসক আল্লামা মরহুম শহীদ জিয়া ও তার যোগ্য উত্তরসূরী পীরে কামেল ও ইসলামের ঝাণ্ডাবাহী এরশাদ ছাহেবের প্রত্যক্ষ তত্বাবধানে এতো বেশি পরিমাণ পেট্রোডলারসমৃদ্ধ "আসল ইসলাম" এদেশে প্রবেশ করেছে যে এখানকার চল্লিশ লাখেরও বেশি ক্বাতাবুল ইলম উর্দুভাষায় লিখিত কিতাব অধ্যয়ন করছেএ সংখ্যাটা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করে আমরা ভাষাশহীদদের রক্তের মূল্য চুকাবো ইনশাল্লাহ
মাতৃ ভাষা অধিকারের প্রথম রক্ত ও জীবন দাতা আমরা এই আমরাই দৈনন্দিন জীবনে সালাম, ইনশাল্লাহ, সুভানাল্লাহ, আলহামদুলিলাহ সহ নানান ধরনের আরবি বা উর্দু শব্দ ব্যবহার করছি যার প্রতিবাদ করলেই আবার উস্কানী দেওয়া বা অনুভুতিতে আঘাত দেওয়ার মত অপরাধ হয়ে যায় যারা ভালবাসা দিবস, মা দিবস ইত্যাদি নিয়ে চুলকানী আছে তারাও কি আজ এই দিনে মাতৃ ভাষা দিবস হিসাবে পালন করতেও কুন্ঠিত হবেন ( যেহেতু তারা সারা জীবন মাতৃ ভাষাতেই কথা বলেন ) ? তাইলে খামাখা লোক দেখানো এই মাতৃভাষা দিবস না শহীদ দিবস পালনের যৌক্তিকতা কি ? খোদা হাফেজ (নাউজুবিল্লাহ), আল্লাহ হাফেজ

অশ্লীলতা কি ও কোথায় থাকে !

অশ্লীলতা কি ও কোথায় থাকে !!



অশ্লীলতা আমাদের দেশে অন্যতম চর্চিত শব্দ । আমার মতো মূর্খ চাষার পক্ষে আসলে এতো কঠিন শব্দ বোধগম্য করা কঠিন। তাই দ্বারস্থ হলাম বাংলা একাডেমি প্রণীত ব্যবহারিক বাংলা অভিধানের। সেখানে পেলাম অশ্লীলতা হলো অশ্লীল বিশেষণ পদটির বিশেষ্য রূপ। অশ্লীল শব্দটির তিনটি আলাদা আলাদা অর্থ দেয়া আছে।
১. কুৎসিত; জঘন্য ২. অশালীন; অশিষ্ট ৩. কুরুচিপূর্ণ; কদর্যরুচি আবার প্যাঁচ লাগলো অশালীন শব্দ নিয়ে। আরেকটু ঘাঁটতেই দেখলাম "শালীন" শব্দের অর্থ- সলজ্জ; লজ্জাশীল; নম্র; ভদ্র; রুচিকর; বিনয়ী; সুন্দর; শোভন। তার মানে মুটামুটি বুঝতে পারলাম লজ্জাহীনতা, রুচিহীনতা, অসুন্দর, অশোভন- এসবের সামষ্টিক রূপই হলো অশ্লীলতা। আসুন তাহলে দেখি আমাদের দেশে এই অশ্লীলতা কোথায় কোথায় থাকে/ থাকেনা ।
* ঘুস খাওয়াতে অশ্লীলতা নাই ।
* মিথ্যা বলাতেও অশ্লীলতা নাই ।
* একাধিক বিয়া করাতেও অশ্লীলতা নাই ।
* খাদ্যে, শিক্ষায় ও ঔষধে সাধ্যমত ভেজাল দেওয়ার মধ্যেও কোন অশ্লীলতা নাই ।
* ক্ষমতার অহংকারে যা খুশি বলা ও করাতেও অশ্লীলতা নাই ।
* ক্ষমতাবানকে নির্লজ্জের মত তেল দেওয়ার মধ্যেও অশ্লীলতা নাই ।
* পাওনাদারকে চরকির মতো ঘোরানোর মধ্যে তো অশ্লীলতা নাইই, এমনকি এই ঘুরাঘুরির জন্য উল্টো ঝারি মারার মধ্যেও অশ্লীলতা অনুপস্থিত ।
* ঈমানদার তথা বিশ্বাসী তকমা সেঁটে কথায় ও কাজে নিরন্তর বিশ্বাস ভাঙার মধ্যেও অশ্লীলতা নাই ।
* ধর্ষণে তো অশ্লীলতা নাইই উপরন্তু বিশেষ ধর্মে বিধর্মী ধর্ষণে পুরষ্কার পাওয়ার গ্যারান্টি আছে; সেটা শিশু হলেও সমস্যা নাই ।
* কারো ধন সম্পত্তি ছলে বলে কৌশলে কিংবা শক্তির জোরে ভোগ দখল করাতেও অশ্লীলতা নাই; এমনকি বিশেষ একটি ধর্মের উত্থান ঘটেছেই বিধর্মীদের ধন-সম্পত্তি জবরদখল করার মাধ্যমে ।
* ধর্ম প্রচারের নামে শব্দ দুষণেও অশ্লীলতা নাই ।
* কুলুফের নামে লুংগীর মধ্যে হাত ঢূকিয়ে প্রকাশ্য লোকালয়ে লাফালাফি করার মধ্যেও কোন অশ্লিলতা খুজে পেলাম না ।
* শিশু ধর্ষনেও অশ্লিলতা নাই ।
* নিজের বাচ্চাদের পথ শিশু বানাতেও অশ্লীলতা নাই ।
* আল্লাহু আকবর বলে ভিন্ন মতের কারো কল্লা কাটার মধ্যেও কোনো অশ্লীলতা নাই ।
* সংঘবদ্ধ হয়ে ধর্ষণের মধ্যেও অশ্লীলতা পাইলাম না ।
হায় ! হায় !! অশ্লীলতা তাইলে আছে কোথায়, যা দেখে আমাদের সূর্য সন্তানরা লজ্জা পায় ? অশ্লীলতা তুমি কোথায় ? আমার মতো আপনারাও কি হতাশ হইছেন ? পাইছি !! পাইছি !! হতাশ হইয়েন না । অশ্লীলতা আছে শুধু মেয়েদের বোরকাহীন শরীরে ও শ্রেষ্ঠ মহা মানবের শ্রেষ্ঠ আইন ও তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব হওয়ার ইতিহাস প্রকাশে । হে অশ্লীলতা! সত্যিই তুমিই আমাদেরকে করেছো মহান ! তোমার জন্যই আজ আমরা সভ্য ও উন্নত জাতি !! অশ্লীলতা জিন্দাবাদ ।

বই রিভিউ লিখার পদ্ধতি

বই রিভিউ লিখার পদ্ধতি

এটা কাউকে শেখানোর জন্য লিখি নি। শুধুমাত্র
ব্যক্তিগত ধারণা শেয়ার করেছি।

বই রিভিউ লেখার জন্য প্রকৃতপক্ষে কোন
ব্যাকরণ নেই। তবে কিছু নিয়ম মেনে লিখলে
রিভিউটা সকলের জন্য পড়া ও বোঝা সহজ হয় এবং
সাজানো- গোছানো হয়।
শুরুতে বইয়ের একটা ছবি দিতে পারেন। এরপর শুরু
করতে পারেন আপনার পছন্দমত উক্তি বা বই
সম্পর্কে কোন তথ্য দিয়ে।এটা ঠিক কোন
অনুষ্ঠান শুরু করার আগে সম্ভাষণ বা বইয়ের ভুমিকার
সাথে তুলনা করা যেতে পারে। তারপর প্রথমে
বইয়ের ও লেখকের নাম দিতে হবে

বইয়ের নামঃ

লেখকের নামঃ

এরপর সেটি কোন ঘরানার(Genre) তা উল্লেখ করা
জরুরি। কারণ এর মাধ্যমে পাঠকরা বুঝতে পারে তারা
যেই লেখকের বই সম্পর্কে রিভিউ পড়তে
যাচ্ছেন সেটি রহস্য, নাকি রোম্যান্টিক নাকি ফ্যান্টাসি
নাকি শিশুতোষ নাকি কথাসাহিত্য । তার মানে বইয়ের ও
লেখকের নামের পর আসবে,

ঘরানারঃ
এরপর যেটা দেওয়া যায় সেটি হল রেটিং । রেটিং এর
নাম্বার দেখে পাঠকরা সহজেই বুঝতে পারবেন
বইটা কতটা জনপ্রিয়। এর মাধ্যমে পাঠকদের মনে
বই সম্পর্কে সুন্দরভাবে আগ্রহ তৈরি করা সম্ভব।
বাংলা বইয়ের ক্ষেত্রে বই রেটিং এর কোন
ওয়েবসাইট নেই। তবে ইংরেজি বইয়ের গুডরিডস্
নামে একটি পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইট রয়েছে। তাই
ইংরেজি বইয়ের ক্ষেত্রে সেখান থেকে রেটিং
লিঙ্ক সহ দেওয়া যেতে পারে। বাংলা বইয়ের
ক্ষেত্রে নিজস্ব রেটিং ব্যবহার করা ছাড়া উপায় নাই।
ইংরেজি বইয়ের ক্ষেত্রেও নিজস্ব রেটিং দেওয়া
যায়। সেক্ষেত্রে “ব্যক্তিগত রেটিং” এই কথাটা
উল্লেখ করা উচিত। তাহলে আমরা পরবর্তী
পয়েন্ট পেলাম,

রেটিং/ ব্যক্তিগত রেটিং:
এরপর আমরা দিব রিভিউ । রিভিউতে যদি পুরাপুরি ফ্লাপের
লেখা হুবহু তুলে দেই তবে সেটাকে বলা হবে
প্রিভিউ । তাই রিভিউ না প্রিভিউ তা এখানে শুরুতেই বলে
দেওয়া ভাল। রিভিউ লেখার সময় সম্পূর্ণ কাহিনী
তুলে দেওয়া উচিৎ না। এতে পাঠকের ঐ বই
সম্পর্কে আগ্রহ কমে যাবে। যদি দিতেই হয়
তবে সবার উপরে তা লিখে দেবেন। যেমন,
spoiler alart. রিভিউ লেখার সময় মাথায় রাখবেন যে
আপনি পুরা কাহিনী লিখছেন না, লিখছেন কাহিনীর
সারমর্ম। তাই তা যত ছোট আর তথ্যসমৃদ্ধ হয় তা ততই
পাঠকের কাছে ভাল লাগবে। লিখতে হবে যথেষ্ট
রহস্যময়টা নিয়ে যাতে পাঠকদের মনে বইটা
সম্পর্কে আগ্রহ সৃষ্টি হয়। যদি রিভিউ পড়ে
পাঠকের মনে আগ্রহই তৈরি না হয় তবে সেই
বুঝতে হবে রিভিউ আসলে রিভিউই হয় নি।
রিভিউয়ের পরে বই সম্পর্কে বিভিন্ন পত্রিকায়
প্রকাশিত উদ্ধৃতি দেওয়া যেতে পারে। দিতে
পারলে সেটা প্লাস পয়েন্ট কিন্তু না দিতে পারলেও
বিশেষ কোন ক্ষতি নেই।

পত্রিকার উদ্ধৃতিঃ
এরপর দিতে হবে লেখক পরিচিতি। লেখকের
জন্ম-মৃত্যু, পড়াশুনা, পেশা, আর কি কি বই লিখেছেন,
কতটা জনপ্রিয়, এখন কি করছেন, সামনে আর কি
লেখা আসবে ইত্যাদি তথ্য দেওয়া যেতে পারে।

লেখক পরিচিতিঃ
বইটি যদি অনূদিত হয় তবে লেখকের পরিচিতির পর
অনুবাদকের পরিচিতি দেওয়া যেতে পারে।

অনুবাদকের পরিচিতিঃ
এরপর বইটি সম্পর্কে একনজরে কিছু তথ্য দিতে
হবে।

ক্যাটাগরিঃ বইটি অনুবাদকৃত নাকি মূল তা লিখতে হবে।

বইয়ের নামঃ

লেখকের নামঃ

অনুবাদকের নামঃ (অনুবাদিত হলে)

প্রকাশনীঃ কোন প্রকাশনী থেকে বের
হয়েছে তা উল্লেখ করতে হবে।

পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ পৃষ্ঠা সংখ্যা উল্লেখ করলে পাঠক
বইয়ের আকার আর ব্যাপ্তি সম্পর্কে ধারনা পাবে।

মূল্যঃ এটা উল্লেখ করা জরুরি। কেননা এর মাধ্যমে
পাঠক বুঝতে পারবেন বইটি তার বাজেটের মধ্যে
কিনা বা কত টাকা লাগবে তা জানলে কিনতে যাওয়ার
আগে প্রস্তুতি নিয়ে যেতে পারবেন।

প্রাপ্তিস্থানঃ অনলাইন প্রাপ্তিস্থানের লিঙ্ক দেওয়া
যেতে পারে আর সম্ভাব্য প্রাপ্তিস্থানের ঠিকানা
দিলে পাঠকদের ভোগান্তি কম হয়।

উইকিপিডিয়া লিঙ্কঃ এরপর বই সম্পর্কে উইকিপিডিয়ায়
কোন নিবন্ধ থাকলে সেটার লিঙ্ক দিয়ে দেওয়া
যেতে পারে।

মূল বইয়ের ওয়েবসাইটঃ মূল বইয়ের কোন
ওয়েবসাইট থাকলে সেটার লিঙ্ক উল্লেখ করা
যেতে পারে।

লেখকের ওয়েবসাইটঃ লেখকের ওয়েবসাইট
আর সোশ্যাল সাইটের লিঙ্ক দেওয়া যেতে
পারে।

সফটকপির লিঙ্কঃ বইয়ের কোন সফট কপির লিঙ্ক
পাওয়া গেলে দিতে পারেন।

ব্যক্তিগত মতামতঃ সবশেষে বই সম্পর্কে আপনার
দিয়ে শেষ করতে পারেন।



একনজরে রিভিউ লেখার ফর্মটিঃ
বইয়ের নামঃ
লেখকের নামঃ
ঘরানারঃ
রেটিং/ ব্যক্তিগত রেটিংঃ
রিভিউ/প্রিভিউঃ
পত্রিকার উদ্ধৃতিঃ(Optional)
লেখক পরিচিতিঃ
অনুবাদকের পরিচিতিঃ (যদি অনুবাদিত হয়
সেক্ষেত্রে)(Optional)
ক্যাটাগরিঃ
লেখকঃ
অনুবাদকঃ (যদি অনুবাদিত হয় সেক্ষেত্রে)
প্রকাশনীঃ
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ
অধ্যায়ঃ (যদি থাকে)
মূল্যঃ
অনলাইন প্রাপ্তিস্থানঃ (যদি থাকে)
প্রাপ্তিস্থানঃ
উইকিপিডিয়া লিঙ্কঃ যদি থাকে (Optional)
বইয়ের ওয়েবসাইটঃ যদি থাকে (Optional)
লেখকের ওয়েবসাইটঃ যদি থাকে (Optional)
সোশ্যাল সাইটঃ যদি থাকে (Optional)
সফট কপির লিঙ্কঃ যদি পাওয়া যায়(Optional)
ব্যক্তিগত মতামতঃ (Optional)



সবশেষে একটি কথা, শুরুতেই বলেছি বই
রিভিউয়ের কোন ব্যাকরণ নেই। আমি যা দিয়েছি তা
একান্তই আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে
দিয়েছি। যেভাবেই লিখুন না কেন তাতে যেন প্রান
থাকে, পাঠকরা যেন রিভিউটা পড়ে বইটা পড়তে
আগ্রহ বোধ করে।


সংকলনেঃ সায়েম মাহামুদ,'
আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম।
Sayemkajal@gmail.com

সোনালী অনুপাত(golden ratio) নিয়ে ব্যস্ত

-" শুভ তোমাকে একটি প্রশ্ন করি!"

- "জি স্যার,করুন"

-"তুমি কি জানো তোমার চেহেরা সুন্দর কেন? শুধু তোমার না পৃথিবীর যত চেহেরা সুন্দর ওয়ালা মানুষ আছে তাদের চেহেরা সুন্দর কেন?"

-" হ্যাঁ স্যার , আসলে যার যার চেহেরা ভালো লাগে তার জন্য তার চেহেরা সুন্দর। আপনার হইতো আমার চেহেরা ভালো লাগে তাই আপনার জন্য আমি সুন্দর।"

-" কিন্তু কি এমন কারণ যে একজনের মানুষের চেহেরা অন্য জনের সাথে মিলেনা?"

-আমি চুপচাপ

- "বিজ্ঞানীদের মতে, সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে চোখ, মুখ ও কানের মাঝামাঝি অংশের ডায়মেনশন এর মধ্যে।
অতঃপর তারা মাপজোক করে বললেন কারণ সোনালী অনুপাত! সোনালী অনুপাত(Golden Ratio) কি জিনিস জানো???"

আমি স্যারকে কোন সাঁয় দিলাম না, শুধু চুপচাপ স্যারের কথায় ডুবে আছি। কিছু মানুষের আছে যাদের কথা শুনার মধ্যে আনন্দ আছে, তৃপ্তি আছে, মজা আছে।নান্টু স্যার তাদের মধ্য অন্যতম। উনার কথা আমি যত শুনি তৃপ্তি সহায়ক আনন্দ টা সমানুপাতিক হারে বাড়তে থাকে। জানিনা এটাকে বিজ্ঞান কি বলে??

- "শুভ, তুমি কি জানো প্রকৃতি সাথে বিজ্ঞানের সম্পর্ক কি ? "

-" আসলে স্যার, প্রকৃতিরর মাঝে আমরা বিজ্ঞান কে বিশেষ করে গণিত কে খুজে পাই, আর বিজ্ঞানের অন্যতম উৎস হল প্রকৃতি "

-" তবে প্রকৃতির এই সৌন্দর্যের গাঢ় রহস্য হল গণিত তথা সোনালী অনুপাত(Golden Ratio) প্রকৃতির সৌন্দর্যের সব কিছু এর মধ্যে নিহিত। সোনালী অনুপাত বা Golden ratio নিয়ে গণিতপ্রেমীদের মাতামাতির শেষ নেই। আর মাতামাতি হবেই বা না কেন , এই দুষ্টু (অমূলদ ) সংখ্যার এত মাহাত্ম্য কিসে্র? আসলে এই সংখ্যাতেই লুকিয়ে আছে সৃষ্টিজগতের অনেক রহস্যের সমাধান , একটু গভীর ভাবে দৃষ্টি দিলেই আমরা একে খুঁজে পাব আমাদের দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গে , গোটা জীব জগতে , পদার্থ কিংবা রসায়নে , পাব আমাদের সৌরজগতে , আমাদের গ্যালাক্সিতে ; খুঁজে পাব অ্যাপল ,মার্সিডিজ এর মত বিখ্যাত কোম্পানীর লোগোতে । এই সংখ্যাই আমাদের বলে দিবে কেন পিরামিড কিংবা তাজমহল এত মনোমুগ্ধকর ? কেন ভিঞ্চির মোনালিসা
জগতখ্যাত ? কেন আমাদের বান্ধবীর চেয়ে ক্যাটরিনা কাইফ বেশি সুন্দরী ? কে বেশি আকর্ষণীয়,
আঞ্জেলিনা জোলি নাকি অনন্ত জলিল ? কে বেশি
ঠাণ্ডা (Cool), টম ক্রুজ নাকি শাকিব খান ? এ সব
প্রশ্নেরই উত্তর মিলবে এই সংখ্যা থেকে।
হইতো এটি সৃষ্টিকর্তার সুন্দর এক কৌশল যা কিনা প্রকৃতির সৌন্দর্য সৃষ্টিতে ব্যবহার করেছেন এই সৌন্দর্যের প্রতি আগ্রহী হয়ে মানুষ বিভিন্ন কৃত্রিম কিছু সৃষ্টিতে তে ব্যবহার করছেন সোনালী অনুপাত "

এই বলে স্যার মুখে আরেকটি পান দিলেন। স্যারের কথায় বেশ মজা আছে। যাকে বলা যায় খাঁটি মজা।

"- রহস্যময়তা কিংবা প্রায়োগিক দিক অথবা প্রকৃতির মাঝে খুঁজতে চাইলে সবচেয়ে বেশি এবং প্রকটভাবে ধরা পরবে গোল্ডেন রেশিও; এবং বার বার আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে স্মরণ করিয়ে দিবে তার শ্রেষ্ঠত্ব। একারনেই সর্বাধিক গবেষণা হয়েছে এই সংখ্যাটিকে নিয়ে।
যাকে নিয়ে এতো গবেষণা সেই Golden Ratio টা
আসলে কি? এটা আসলে আর কিছুই নয়, একটা গাণিতিক অনুপাত মাত্র যার মান 1.618033988……।
হ্যা ব্যাপারটা নির্মম হলেও সত্য যে এই Golden Ratio অন্য দুই বিখ্যাত সংখ্যার মতই দুষ্টু (অমূলদ সংখ্যা)।

Golden Ratio বা সোনালী অনুপাতকে প্রকাশ করা হয় ল্যাটিন অক্ষর Φ (PHI/ ফাই ) দ্বারা। ১৫৯৭ সালে Michael Maestlin এই Φ (PHI/ ফাই ) আবিষ্কার করেন। এর মান ১.৬১৮০৩৩৯৮৯ (প্রায়)। এটি একটি অমূলদ সংখ্যা । ফিবোনাচ্চি রাশিমালার সাথে এর পিতা পুত্রের সম্পর্ক রয়েছে।

-"শুভ, তুমি তো ফিবোনাচ্চির ইতিহাস জানো, হুম?"

- "জ্বি স্যার, ফিবোনাচ্চি রাশিমালার আবিষ্কারক ত্রয়োদশ শতাব্দীর বিখ্যাত গণিতবিদ Leonardo Da Pisa. উনার ডাকনাম ফিবোনাচ্চি। ১২০২ সালে Liber Abaci নামক পুস্তকটির মাধ্যমে তিনি পশ্চিম ইউরোপীয় গণিতকে “ফিবোনাচ্চি সিরিজের” সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। যদিও এই পরিচয় করিয়ে দেবার অনেক আগেই ভারতীয় গণিতে এই রকম একটা সিরিজের কথা বলা হয়েছিল। ফিবোনাচ্চি সিরিজ নিয়ে ফিবোনাচ্চি সাহেব বলেছিলেন- “প্রকৃতির মূল রহস্য রাশিমালাতে আছে”।

-"হুম, ভালো বলছ। মিস্টার ফিবোনাচ্চি ঠিকই বলছেন প্রকৃতির মূল রহস্য ফিবোনাচ্চি রাশিমালাতে আছে তার অকাট্য একটি দলিল সোনালী অনুপাত। ফিবোনাচ্চি রাশিমালার সাথে সোনালী অনুপাতের পিতা-পুত্রের সম্পর্ক টা একটু বুঝায় বলি।
0, 1, 1, 2, 3, 5, 8, 13, 21, 34, 55……
এইটাই ফিবোনাচ্চি সিরিজ। কিভাবে আসলো এইটা??? এই সিরিজের যে কোন সংখ্যা তার পূর্ববর্তী দুটি সংখ্যার যোগফলের সমান। যেমনঃ 0+1=1, 1+1=2, 2+1=3,
3+2=5, 5+3 =8..........ইত্যাদি। গণিতের ভাষায় বলতে গেলে বলা যায়- f(0)=0, f(1)=1…… হলে f(n)= f(n-1)+f(n-2). ( ফিবোনাচ্চি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ঘুরে আসুন " নান্টু স্যার & আরেকটু ফিবোনাচ্চি science-ahmedshuvo969.blogspot.com/2016/01/blog-post.html?m=1 ) ফিবনোচ্চি সিরিজের যেকোন পদকে আগের পদ দিয়ে ভাগ করলে সেই সংখ্যাটাই PHI । প্রথম কয়েকটা পদের জন্য হিসেব কিছুটা বিদঘুটে মনে হলেও ফিবনোচ্চি সিরিজ ধরে যত সামনে যাওয়া হবে তত ক্রমিক সংখ্যাদ্বয়ের অনুপাত PHI এর দিকে এগবে এবং ৩৯ তম পদ থেকে ক্রমিক সংখ্যাদ্বয়ের অনুপাত প্রায় ধ্রুব হয়ে যাবে।
যেমন
2/1=2,
3/2=1.5,
5/3=1.665,
8/5=1.6,
13/8=1.625,
21/13=1.615
.....................
এখানে প্রথম দুটি ভাগফল বাদ দিলে বাকি ভাগফলগুলোর মান প্রায় সমান বা ধ্রুবক। Luca Pacioli’s এর বই De divina proportione এ
প্রথম গোল্ডেন রেশিও এর ব্যাপারে প্রকাশিত হয়।
এরপর Mathematician Euclid তার Elements (Greek:Στοιχεῖα) গ্রন্থে প্রথম PHI এর জ্যামেতিক ব্যখ্যা দেন।

অথবা উল্টো করে বললে এই অনুপাতকে আমরা 1 : 1.6180… = 0.6180… ও বলতে পারি । এই 0.6180… কেও কিন্তু গোল্ডেন রেশিও বলা হয় । এবং একে ছোট হাতের ফাই ( φ) দ্বারা প্রকাশ করা হয় । তার মানে সম্পর্কটা হচ্ছে এরকম : Φ=1/ φ
PHI কে কিন্তু আরো অনেকভাবে প্রকাশ করা যায় ;
দেখতো এটা পরিচিত মনে হয় কিনা :
Φ=1+1/(1+1/(1+…))
এই PHI ই হল একমাত্র সংখ্যা যা এই ধরনের অদ্ভুত আচরণ করে :

ধর, a এবং b দুইটি সংখ্যার মধ্যে সোনালী অনুপাত বজায় তাহলে লিখা যায়
(a+b)/a = a/b = Φ
or, ((a/b)+1)/(a/b) = a/b
যেহেতু a/b = Φ
সুতরাং, (Φ+1)/ Φ = Φ
or, Φ+1 = Φ^2
or, Φ^ 2= Φ+ 1
ot, Φ^2 - Φ-1 = 0
উপোরোক্ত সমীকরণটি একটি দ্বিঘাত সমীকরণ যার
সমাধান হচ্ছে :
Φ = (1+ √5)/2 = 1.68033.....
এখন বুঝলে কিভাবে সোনালী অনুপাত পাওয়া যায়?

আমি চুপচাপ মন দিয়ে স্যারের কথা শুনছিলাম
-"শুভ "
-" জ্বি স্যার"
-"গণিতের আবিজাবি দেখে কি বিরক্ত? "
-"না, স্যার তবে বাস্তব উদাহরণ ফেলে ভালো লাগবে, আরো মজা করে গিলতে পারব"

স্যার আমার দিকে একটু তাকিয়ে মুচকি হাসি দিলেন।

-" লিওনার্দো দাদকে তো চিন?"
- "হ্যাঁ স্যার,"
_"লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি দাদা ভাইকে– Golden Ratio এর মাস্টার বলা হয় আর সে দাদা ভাই সোনালী অনুপাত কে আখ্যায়িত করেছিলেন ‘The Divine Proportion’ বা ‘ স্বর্গীয় অনুপাত’ নামে । কারণ
তিনিই প্রথম মানবদেহে PHI এর উপস্থিতি লক্ষ করেন ;
বুঝতে পারেন এর মর্ম। তিনি মৃত মানুষের দেহের বহিঃস্থ ও ভিতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিয়ে অনেক গবেষণা করতেন ; ময়নাতদন্ত যাকে বলে আর কি । আমরা ডাক্তারের চেম্বারে কিংবা মেডিকেল কলেজে যেসব মানুষের অঙ্গের ছবি দেখি সেগুলো প্রথম দাদা ভাই ডিজাইন করেছিলেন। আর এত ভালো ডিজাইনের রহস্য হল মানব দেহে PHI, বুঝা যায় দাদা ভাইয়ের মাথায় ভালো পুষ্টি ছিল।
স্যার কে থামিয়ে আমি প্রশ্ন না তুলে পারলাম না
-"মানব দেহে PHI ? সেটা আবার কি রকম স্যার?"
-" ভালো প্রশ্ন, তুমি একটু সোজা হয়ে দাঁড়াও"
স্যারের কথা মত আমি সোজা হয়ে দাঁড়ালাম, স্যার আমার শরীলের মাপজোপ শুরু করে দিল। আমি কিচ্ছু বুঝতে পারছিলাম না স্যার কি করছেন। প্রথমে আমার কাঁধ থেকে হাটু পর্যন্ত এবং হাটু থেকে পায়ের আঙ্গুলের মাথা পর্যন্ত ডিসটেন্স নিয়ে খাতায় টুকে রাখললেন ৪৩ এবং ২৬.৭।
-"শুভ, ৪৩ কে ২৬.৭ দিয়ে ভাগ দাও, কত হয়?"
- " ১.৬১০ স্যার, স্যার এটি তো একটি সোনালী অনুপাত "
-" তোমাকে বাস্তব উদাহরণ দিলাম হইতো এই জিনিসটিকে মাথায় রেখে ফরাসিরা আইফেল টাওয়ার বানাইলেন
শুধু কাঁধ থেকে হাটু পর্যন্ত এবং হাটু থেকে পায়ের আঙ্গুলের মাথা পর্যন্ত দূরত্বের অনুপাত PHI না, ছেলে/মেয়ে সকল বয়সের মানুষের ক্ষেত্রেই , দেহের সম্পূর্ণ দৈর্ঘ্য : নাভির নিচ থেকে বাকি অংশের দৈর্ঘ্য = 1.6180…(PHI) ; আবার ; মানুষের বাহু (বাইসেপ্স) এর সাথে সম্পূর্ণ হাত এর অনুপাতের মান হল 1.6180…(PHI); মানুষের আঙ্গুলের অগ্রভাগ থেকে কনুই এর দৈর্ঘ্য এবং কবজি থেকে কনুই এর দৈর্ঘ্যের অনুপাত 1.6180…(PHI) ; মানুষের মুখমণ্ডলের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত 1.6180…(PHI) ; ঠোঁটের দৈর্ঘ্য ও নাকের প্রস্থের অনুপাত , চোখের ২ প্রান্তের দুরুত্ব ও চুল থেকে চোখের মনির দুরুত্ব ও 1.6180…(PHI) ।সারা মুখমন্ডলের সবকিছুতে , শরীরের গিঁটে গিঁটে , মেরুদন্ডে, অভ্যন্তরের অঙ্গেপ্রত্যঙ্গে সবখানে এই PHI খুঁজে পাওয়া যাবে । গোটা মানবদেহে প্রায় ৩ শতাধিক Golden Ratio (PHI) খুঁজে পাওয়া যায় ; মুখমণ্ডলেই পাওয়া যায় ৩০ টিরও বেশি । , মানুষের চেহারায় Golden Rectangle এবং Golden Spiral পুরো খাপে খাপে বসে যায় । এবার একটু অন্য প্রসঙ্গে যাই ।
এদিকে আমাদের লিওনার্দো ভিঞ্চি সাহেব কিন্তু
শুধু মানুষের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট নিয়েই বসে
ছিলেন না । তিনি নির্দ্বিধায় (অথবা অবচেতন মনে )
সমানে প্রয়োগ করতে লাগলেন এই Golden Ratio (PHI) । কোথায় ? তার শিল্পকর্মে । তার বেশির ভাগ
শিল্পকর্মতেই PHI খুঁজে পাওয়া যায় ; The last Supper , Merry Magdalin , Monalisa সবগুলোই PHI এর কারিশমা । এবং এজন্যই এগুলো জগতখ্যাত , মানুষের মন জয় করে নিয়েছে । তিনি সবচাইতে বেশি খ্যাত হয়েছেন Monalisa শিল্পকলাটির জন্য; (তারপরও একটা জিনিস কিন্তু Monalisa ’র নাই !!! ভ্রু নাই … এছাড়াও Monalisa ‘র ছবির আরো অনেক রহস্যময় দিক আছে ) ।
শুধু মানবদেহই নয় , গোটা প্রানীকুলে-উদ্ভিদকুলে সব কিছুতেই মাত্রাগত ভাবে PHI বিদ্যমান । সকল উদ্ভিদ– প্রানীর অঙ্গপ্রত্যঙ্গও PHI অনুপাতে বিভক্ত ।
এমনকি যে প্রানীর কোন হাত-পা-মাথা কিছুই নেই যেমন শামুক-ঝিনুক-সী-শেল এসবেও কোন-না-
কোনভাবে PHI রয়েছে !! তারপর ধরুন একটা মৌচাকে স্ত্রী মৌমাছি ও পুরুষ মৌমাছির সংখ্যার অনুপাত PHI । ফুলের ভেতর প্রতি স্তরের রেনুর সাথে পরের স্তরের রেনুর অনুপাত PHI । গাছের প্রতি স্তরে স্তরে পাতা বৃদ্ধির অনুপাত PHI । তারপর ধরুন মৌমাছি সহ আরো অনেক ধরণের মাছি ,কীট, ওয়াইল্ড ডগ ইত্যাদির চলাফেরার পথ কিংবা আক্রমনের পথ হয় Golden Spiral অনুযায়ী (মানে PHI )।
আমাদের DNA তেও আমরা যদি বৃহৎ খাঁজ(Major Groove) ও ক্ষুদ্র খাঁজের (Minor Groove ) অনুপাত নেই সেটাও হবে PHI । এমনকি মুরগীর ডিমেও Golden Spiral খাপে খাপে বসে যায়!
পদার্থবিজ্ঞানের চৌম্বকক্ষেত্র কিংবা বিদ্যুৎক্ষেত্রে ,সরল ছন্দিত স্পন্দনে , তাপবিজ্ঞানে সবখানেই পাওয়া যায় PHI । কোয়ান্টাম মেকানিক্স থেকে আমরা যদি ইলেকট্রন কিংবা প্রোটনের g-factor ব্যখ্যা করতে চাই , সেখানেও PHI : g-factor of electron = -2sin(PHI)।
আমরা যদি পোলারাইজড হাইড্রোজেন বন্ড ও
সাধারন হাইড্রোজেন বন্ডের অনুপাত নেই সেটাও হবে
PHI।
বর্তামান বিজ্ঞানী থেকে শুরু করে বিখ্যাতরা এর অনেক ব্যবহার করেছেন এমনকি বর্তমানে মার্কেটিং এ এর ব্যবহার হচ্ছে । আড্রিয়ান বেজান এর মতে , মানুষের চোখ অন্য ইমেজের চেয়ে, যেসব ইমেজ Golden Ratio কে অনুসরণ করে তাকে খুব সহজে উপভোগ্য হিসেবে নিতে পারে। আর যেসব ইমেজকে চোখ সহজে নিতে পারে সেগুলোকেই আমরা বলি, আহা কি সৌন্দর্য! সে জন্যই বিখ্যাত অনেক শিল্পীরাই তাদের কাজে PHI প্রয়োগ করেছেন যেমন মিসরের পিরামিডে , আগ্রার তাজমহলে ফ্রান্সের আইফেল টাওয়ারে , নটরডেমে, পারথেননে , ইউনাইটেড নেশন বিল্ডিং সহ আরও অজস্র স্থাপত্যে PHI ব্যবহৃত হয়েছে।PHI থাকার কারণেই এগুলো এত বেশি দৃষ্টিনন্দন ।
:
সঙ্গীতের নোটের ক্ষেত্রেওও PHI বিদ্যমান ।
ভায়োলিনসহ আরো অনেক বাদ্যযন্ত্র বানানো হয়েছে
PHI দিয়ে। বিখ্যাত কোম্পানির লোগো যেমন Apple, Adidas, Honda, Toyota, Mercedes-Benz, CocaCola, Pepsi, National Geography ইত্যাদি আরো অনেক বড় বড় কোম্পানি PHI ব্যবহার করেছে।
হারিকেন ,ঘূর্ণিঝড় , ধোঁয়ার কুণ্ডলী সবসময়ই Golden
Spiral অনুসরন করে বৃদ্ধি পায়। এমনকি গ্যালাক্সি
গুলোও Golden Spiral অনুসরন করে বিস্তৃত হয় ।
আমাদের সৌরজগতের গ্রহগুলোর সূর্যের চারপাশে
আবর্তনকালও PHI এর সাথে সম্পর্কিত । তারা পৃথিবীর
আবর্তনকালের সাথে PHI এর সুচক আকারে পরিবর্তিত
হয় ।


পৃথিবীর আবর্তনকালের সাথে গ্রহগুলো PHI এর সুচক আকারে পরিবর্তিত হয়। কো-অরডিনেট পদ্ধতিতে পুর্ব দাগ্রিমাংশ +৩৯.৮২ এবং উত্তর অক্ষাংশ +২১.৪২ । যা দ্বারা প্রমানিত হয় পৃথিবীর গোল্ডেন রেশিও হচ্ছে পবিত্র কাবা । ৯০+৩৯.৮২ = ১১১.৪২ সুতরাং ১১১.৮২ / ১৮০= 0.৬১… এবং ১৮০+৩৯.৮২ = ২১৯.৮২ সুতরাং ২১৯.৮২/৩৬০ = ০.৬১…. তাই গোল্ডেন রেশিও পয়েন্ট Φএর মান অনুযায়ী মক্কা এবং ক্বাবাই হচ্ছে পৃথিবীর
গোল্ডেন রেশিও পয়েন্ট ।

এরকম আরো অসংখ্য PHI খুঁজে পাওয়া গিয়েছে
সৌরজগতে , মহাবিশ্বে , আমাদের পৃথিবীর আনাচে
কানাচে । মহাবিশ্বের চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যেও PHI
(Golden Ratio) বজায় রেখেছে তার শৃঙ্খলা । সবকিছুর ভেতরে এক অপার মেলবন্ধন সৃষ্টি করেছে । সবকিছুতেই একটু গভীর দৃষ্টি দিলেই PHI খুঁজে পাওয়া যাবে। এজন্যই একে বলা হয় The number of life , The divine proportion ( স্বর্গীয় অনুপাত ) । "

স্যার একটানা বলেন গেলেন আর আমি মনোযোগী হয়ে আনন্দ গিলছি, মনে হচ্ছে অনেক সহজ একটি অনুপাত অথচ আমাদের চারপাশ তার থেকে মুক্তি পাওয়া অসম্ভব। আমি নান্টু স্যারের দিকে তাকিয়ে আছি উনি মিটমিট হাসি ফুটাচ্ছেন, পৃথিবী তে মানুষের বৈচিত্র্যময় ঢল দেখা যায় তবে স্যারের মত কাউকে আগে কখনো দেখিনি, স্যার কাউকে বুঝিয়ে সব চাইতে শান্তি পান, বিজ্ঞান প্রেমিকরা এরকমি হই।

বেশ কিছু সময় পর, আমি আনন্দে ২ ফুটের একটি লাফ দিতে দেরি করলাম না।
-"স্যার পেয়ে গেছি"
স্যার অবাক হয়ে প্রশ্ন তুলল
-"কি পেলে? "
-"I love you"
স্যার আরো অবাক হয়ে
-"কি??"
-" I love you এর মধ্যে স্যার ফিবোনাচ্চি আর সোনালী অনুপাত আছে। যেমন I love you বাক্যে i love একজন ব্যক্তির অংশ আর you আরেকজন ব্যক্তির অংশ। তাহলে ২য় জন ব্যক্তির you এর ফিবোনাচ্চি ৩ আর প্রথম জনের i love এর ফিবোনাচ্চি ৫ তাহলে গোল্ডেন রেশিও ৫/৩"

হাহাহাহা আমরা দু-জনে হাসছি।জানিনা এই হাসির মধ্যে কোন অনুপাত আছে কিনা


___আহমেদ শুভ৯৬৯

পোল্ট্রি পালন এবং খামার ব্যবস্থাপনা (ডাঃ মোঃ আকতার ফেরদৌস রানা)

ভূমিকা
তৃতীয় বিশ্বের একটি উন্নয়নশীল দেশ বাংলাদেশ। এদেশের অর্থনীতি মূলত: কৃষির ওপর নির্ভরশীল। পোল্ট্রি শিল্প কৃষি শিল্পের একটি অপরিহার্য অঙ্গ। উৎপাদন খরচ অপেক্ষাকৃত কম, দ্রুত ডিম ও মাংস পাওয়ার নিশ্চয়তা, দ্রুততার সাথে ব্যবসায়িক সাফল্য লাভ, এদের মাংসে সীমিত চর্বির উপস্থিতি, হজমে সুবিধা, সকল ধর্মের মানুষের কাছে সমানভাবে সমাদৃত; এ সকল কারণে পোল্ট্রি পালন এবং এদের থেকে উৎপাদিত খাদ্যসামগ্রী (ডিম ও মাংস) মানুষের পুষ্টির যোগানে আদর্শ ও মানসম্পন্ন হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। দিন দিন এ শিল্পের জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। কৃষি উন্নয়ন তথা দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে
পোল্ট্রি পালন আজ একটি বিশাল শিল্পে পরিণত হয়েছে। গরিব, অল্প আয়ের লোক, বেকার শিক্ষিত যুবক ও যুব-মহিলাসহ অন্যান্য জনগোষ্ঠী এই শিল্পের সাথে নিজেদের নিয়োজিত রেখে সাফল্য লাভ করেছে। পোল্ট্রি শিল্পের গুরুত্ব বিবেচনা করে নিচে পোল্ট্রি পালন এবং খামার ব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হলোঃ
পোল্ট্রি পালনের গুরুত্ব
* এরা ডিম ও মাংসের যোগান দিয়ে থাকে। মানুষের জন্য ডিম হলো উচ্চ পুষ্টিসম্পন্ন আমিষজাতীয় খাদ্য।
* বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পোল্ট্রি পালনের মাধ্যমে শহর ও গ্রামের সাধারণ জনগণের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

* অন্যান্য শিল্পের তুলনায় পোল্ট্রি খামার স্থাপনে স্বল্প মূলধনের প্রয়োজন হয়। তেমন জমির প্রয়োজন হয় না, ইচ্ছা করলেই বসত বাড়িতে, ঘরের ছাদে, শয়ন ঘরের বারান্দায় এমনকি পুকুরে মাচা তৈরি করেও পালন করা যায়।
* স্বল্পতম সময়ে অর্থ বিনিয়োগ করে লাভবান হওয়া সম্ভব। কারণ এরা ৫-৬ মাস বয়সে ডিম পাড়া শুরু করে এবং ব্রয়লার মুরগি ৫-৭ সপ্তাহ বয়সে মাংসের জন্য বিক্রয় উপযোগী হয়।
* এদের পালক হতে নানা রকম প্রসাধনী দ্রব্য যেমন-শ্যাম্পু, সুগন্ধি তৈল এবং ঘর সাজানোর সামগ্রী তৈরি করা যায়।

* ডিমের কুসুম গরুর জাত উন্নয়নে কৃত্রিম প্রজননের জন্য ব্যবহৃত হয়।
* ডিম পরীক্ষাগারে জীবাণুর বংশ বিস্তারের জন্য ব্যবহৃত হয়।
* মুরগির ডিম ও মাংসে পুষ্টি উপাদান গরুর দুধের তুলনায় অনেক বেশি থাকে। যেমন, একটি ডিমে দুই গ্লাস দুধের সমান পুষ্টি থাকে।
 
সারণী-১ ঃ গরুর দুধ, হাঁস-মুরগির ডিম ও মাংসে ভোজ্য পুষ্টি উপাদানের পার্থক্য

* মুরগির ডিম গরুর দুধ অপেক্ষা অনেক বেশি ভিটামিনযুক্ত খাবার।
 
সারণী- ২ ঃ গরুর দুধ এবং মুরগির ডিম ও মাংসে গড় ভিটামিনের পরিমাণ নিম্নরূপ

* পোল্ট্রির বিষ্ঠা একটি উৎকৃষ্টমানের জৈব সার। গরু-মহিষের মল-মূত্র থেকে পোল্ট্রির বিষ্ঠায় বেশি পরিমাণে নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাসিয়াম থাকে যা জমির ঊর্বরতা শক্তি বৃদ্ধিসহ ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করে।
* পোল্ট্রি খামারের বিষ্ঠা দ্বারা বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট তৈরির মাধ্যমে বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানো যায়।
খামার ব্যবস্থাপনা
(ক) মুরগির বাচ্চার ব্রুডিং ব্যবস্থাপনা
ব্রুডিং (Brooding)
ব্রুডিং শব্দটি এসেছে জার্মান শব্দ ব্রুড থেকে। যার অর্থ তাপ দেওয়া। প্রকৃতপক্ষে ব্রুডিং বলতে ১ দিন বয়স থেকে ৪ সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত মুরগির বাচ্চাকে সমস্ত প্রতিকূল অবস্থা যেমন প্রতিকূল আবহাওয়া, বন্যপ্রাণী এবং অন্যান্য সমস্যা থেকে রক্ষা করাকে বোঝায়। উদাহরণস্বরূপ একদিন বয়সের মুরগীর বাচ্চার শরীরের তাপমাত্রা থাকে ১০৩ ডিগ্রী ফারেনহাইট আর বয়স্ক মুরগীর শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ১০৬ ডিগ্রী ফারেনহাইট। বাচ্চা অবস্থায় মুরগির বাচ্চা তার শরীরে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না কারণ, এই সময় তাদের শরীরে তাপ নিয়ন্ত্রণকারী অঙ্গগুলির বিকাশ ঘটে না। ফলে ঠান্ডা, বাতাস প্রবাহ, বৃষ্টি বা অতিরিক্ত গরম সহ্য করতে পারে না। যার জন্য বাচ্চাকে এমন একটি কৃত্রিম অবস্থায় রাখতে হয় যাতে মুরগির বাচ্চা আরামদায়ক ও নিরাপদ থাকে এবং তাপ নিয়ন্ত্রয়ণকারী অঙ্গগুলির বিকাশ ঘটে। চার সপ্তাহ পর মুরগির তাপ নিয়ন্ত্রয়ণকারী অঙ্গগুলি পরিপূর্ণতা লাভ করে এবং তখন থেকে মুরগি তাপ নিয়ন্ত্রণে সক্ষমতা অর্জন করে।
মুরগির বাচ্চার প্রথম খাদ্য

ডিম হতে সদ্য ফুটন্ত বাচ্চার উদর গহ্বরে কুসুমের কিছু অংশ থেকে যায় যা থেকে প্রথম ২-৩ দিন কোনো প্রকার খাদ্য বা পানি গ্রহণ ছাড়াই বাচ্চাগুলো বেঁচে থাকতে পারে। তবে বাচ্চাকে খামারে আনার পর দেরিতে খাদ্য ও পানি প্রদান করলে দৈহিক বৃদ্ধির হার কমে যায় এবং মৃত্যুর হার বেড়ে যেতে পারে, সেজন্য যত দ্রুত সম্ভব বিশুদ্ধ পানি পান করতে দিতে হবে। পানি প্রদানের কমপক্ষে ৩-৬ ঘন্টা পর বাচ্চাগুলিকে খাদ্য দিতে হবে। প্রাথামিকভাবে পানিতে গ্লুকোজ, ভিটামিন সি এবং মাল্টিভিটামিন ১ গ্রাম ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে খাওয়াতে হবে। পানি প্রদানের পূর্বে খাদ্য প্রদান করা উচিত নয়। এতে করে বাচ্চার দৈহিক বৃদ্ধি এবং খাদ্য রূপান্তর দক্ষতা কমে যায় ও মৃত্যুহার অধিক হয়। প্রথম ২-৩ দিন খাদ্যের পাশাপাশি ইলেক্ট্রলাইট মিশ্রিত পানি দেয়া উচিত যা বাচ্চাগুলিকে পানিশূন্যতা এবং সকল প্রকার ধকল থেকে রক্ষা করে।
ব্রুডিং এর প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহ
১. ব্রুডার ঘর
ব্রুডিং এর জন্য আলাদা ঘর হলে ভালো হয়। ব্রুডিং সাধারণত বড় মোরগ-মুরগীর ঘর থেকে কমপক্ষে ১০০ ফুট দূরে পৃথক স্থানে আলাদাভাবে করাই উত্তম। খেয়াল রাখতে হবে যেন বাইরের মুক্ত বাতাস ব্রুডার ঘরে ঢুকতে পারে এবং ভেতরের দূষিত বাতাস সহজে বাইরে যেতে পারে। লেয়ার বা ব্রয়লার পালনের ঘরও ব্রুডার ঘর হিসেবে ব্যবহার করা যায়। তবে সেক্ষেত্রে নিম্নের কাজগুলি প্রথমে করতে হবে।
* বাচ্চা তোলার কমপক্ষে ১ সপ্তাহ আগে ঘরের মেঝে পরিষ্কার করে জীবাণুনাশক দ্বারা ভালোভাবে ধুয়ে শুকাতে হবে।
* সম্ভব হলে সম্পূর্ণ ঘর চট বা পলিথিন দিয়ে ধুয়ে মুছে ফিউমিগেশন করতে হবে। পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট ও ফরমালিন দ্বারা ফরমালডিহাইড গ্যাস সৃষ্টির মাধ্যমে ফিউমিগেশন করা যায়। প্রতি ১০০ ঘনফুট জায়গার জন্য ১২০ মিলি. ফরমালিন এর সাথে ৬০ গ্রাম পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট ব্যবহার করা যায়।
২. হোভার
তাপ যাতে ওপরের দিকে চলে না যায় সেজন্য হোভার প্রয়োজন। হোভার টিন, কাঠ বা বাঁকা বাঁশ দ্বারা তৈরি করা যায়। হোভারকে সাধারণত ঝুলিয়ে রাখা হয়। তবে নিচে পা লাগিয়ে দাঁড় করিয়েও রাখা যায়। পাঁচ ফুট ব্যাসের হোভারের নিচে ৫০০ টি বাচ্চা রাখা যায়।
৩. ব্রুডার

মুরগির বাচ্চার ঘরে তাপের উৎসকে ব্রুডার বলে। ব্রুডার হিসেবে বৈদ্যুতিক হিটার, কেরোসিন বাতি, হ্যাজাক, ইত্যাদি ব্যবহার করে কৃত্রিম উপায়ে তাপ দেয়া যায়। সাধারণত গ্রীষ্মকালে ১০০ ওয়াটের ২টি বাল্ব এবং ৬০ ওয়াটের ১টি বাল্ব আর শীতকালে ২০০ ওয়াটের ২টি এবং ১০০ ওয়াটের ২টি বাল্ব প্রতি ৫০০ বাচ্চার জন্য ব্রুডারে ব্যবহার করা যথেষ্ট। বাচ্চা ব্রুডারে ছাড়ার ১০-১২ ঘন্টা পূর্বে ব্রুডার চালু করে প্রয়োজনীয় তাপ দিতে হবে।
৪. চিকগার্ড
ব্রুডার থেকে ১.৫-৩ ফুট দুরত্বে ১.৫ ফুট উচুঁ চাটাই বা হার্ডবোর্ডের বা তারের জালের বেষ্টনী তৈরি করা হয়। ফলে বাচ্চা ব্রুডার থেকে দূরে যেতে পারে না। প্রতি ৫০০ বাচ্চার জন্য চিকগার্ডের ব্যাস হবে ১২ ফুট (ব্যাসার্ধ ৬ ফুট। ক্ষেত্রফল = ৩.১৪ x ৩৬ = ১১৩.০৪ বর্গফুট)। প্রতিটি বাচ্চার জন্য জায়গা হবে ১১৩.০৪/৫০০ = ০.২১৮ বর্গফুট। চিকগার্ডের উচ্চতা গরমের সময় ১'-৬'' এবং শীতের সময় ২'-৬'' হবে। বাচ্চা বড় হবার সাথে সাথে চিকগার্ডের পরিধি বৃদ্ধি করতে হবে।
৫. খাবার পাত্র ও খাবার ব্যবস্থাপনা
প্রথম ১-২ দিন কাগজের ওপর এবং পরবর্তীতে ১-২ সপ্তাহ ফ্লাট ট্রে ব্যবহার করা যায়। অতঃপর ৩য় সপ্তাহ থেকে হপার বা টিউব ফিডারে খাদ্য সরবরাহ করা যায়। প্রথম দুই সপ্তাহ ২ ঘন্টা অন্তর খাদ্য সরবরাহ করা ভালো। খাবার পাত্রের দৈর্ঘ্য = ২', প্রস্থ =    ১'-৩' এবং কিনারা ১.৫'' হওয়া উচিত। প্রথম ৩ ঘন্টা ইলেক্ট্রলাইট মিশ্রিত পানি দিতে হবে। প্রথমে ভুট্টা ভাঙ্গা বা সাগুদানা খাবারের পাত্রে মিশিয়ে দিলে ভালো হয়। কারণ এগুলো সহজে হজম হয়। খাবার কখনোই ব্রুডারের নিচে ছিটানো উচিত নয় কেননা এতে বাচ্চা ছত্রাকজনিত রোগে আক্রান্ত হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। বাচ্চার ওজন এবং আকারে সমতা আনার জন্য খাবার শেষ হওয়ার আগেই খাবার দেয়া উচিত। চার সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত দৈনিক ৩-৪ গ্রাম খাদ্য দিতে হবে। এরপর দৈনিক ২-৩ বার দিলেই চলবে।
৬. পানির পাত্র ও পানি ব্যবস্থাপনা
বাচ্চার জন্য ছোট প্লাস্টিকের পানির পাত্র পাওয়া যায়। ছোট টিনের কৌটার নিচে থালা বসিয়েও পানির পাত্র বানানো যায়। পানির পাত্র ভালোভাবে পরিষ্কার করে প্রতিদিন বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে হবে। প্রথম অবস্থায় ৫০০ টি বাচ্চার জন্য ১ লিটারের ৬-৮ টি ড্রিংকার দিতে হবে। এতে করে এক সঙ্গে সকল বাচ্চা পানি পান করতে পারে। প্রতি ১০০ লিটার পানিতে ৩-৫ গ্রাম ক্লোরিন মিশানো যেতে পারে। অবশ্য টিকা বা ওষুধ পানিতে মিশিয়ে খাওয়ানোর সময় ক্লোরিন মেশানো উচিত নয়। প্রথম অবস্থায় পানি (২৫-৩০) ডিগ্রী সে. তাপমাত্রায় রাখা ভালো। চিকস ড্রিংকার ৮-১০ দিন রাখতে হবে। প্রতিটি মুরগির পানি পান করানোর জন্য ২.৫ সেমি. জায়গা করে দিতে হবে।
৭. ঘরের আলো ও আলো ব্যবস্থাপনা
বাচ্চার ঘরে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করতে হবে যাতে বাচ্চা খাদ্য ও পানির পাত্র সহজে দেখতে পারে। দিনের বেলা হলে আলাদা আলো প্রদানের প্রয়োজন নেই। তবে রাতে বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বালিয়ে কৃত্রিম আলো প্রদান করতে হবে। ব্রুডারে বাচ্চা তোলার ৩ দিন পর হতে রাতে ১-২ ঘন্টা অন্ধকার রাখতে হবে। যাতে বাচ্চাগুলি অন্ধকারের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে এবং বিদ্যুৎ না থাকলে অন্ধকারে ভয় না পায়।
৮. তাপমাত্রা ও এর ব্যবস্থাপনা
ডিম হতে বাচ্চা ফুটার পর ৪ সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত বাচ্চার দেহে তাপ নিয়ন্ত্রণকারী অঙ্গগুলির পরিপূর্ণতা লাভ করে না। তাই এই সময় বাচ্চাকে কৃত্রিম উপায়ে তাপ দিতে হয়। প্রথম সপ্তাহে সাধারণত ৯৫ক্ক ফারেনহাইট তাপ দিয়ে ব্রুডিং আরম্ভ করতে হয়। এই তাপমাত্রা পর্যায়ক্রমে কমিয়ে নিম্নলিখিত মাত্রায় আনতে হয়।

ওপরে যে তাপের তালিকা প্রদান করা হলো তা ব্রুডার ঘরের কাম্য তাপমাত্রা এবং থার্মোমিটারের সাহায্যে এই তাপমাত্রা সহজেই নিরূপন করা যায়। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে টিকা দেয়ার পর তাপমাত্রা ১০ সে. বাড়িয়ে রাখতে হবে। এতে করে বাচ্চা টিকার প্রতি ভালো সাড়া দিয়ে থাকে।
৯. স্থান সংকুলান
ব্রুডার ঘরে পর্যাপ্ত জায়গা থাকতে হবে। শীতকালে নিম্নলিখিত পরিমাপ অনুযায়ী স্থান সঙ্কুলান করতে হবে।

গ্রীষ্মকালে নিম্নলিখিত পরিমাপ অনুযায়ী স্থান সঙ্কুলান করতে হবে।

১০. আলোর ব্যবস্থাপনা
আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে বাড়ন্ত মুরগীর জন্য শুধু দিনের আলোই যথেষ্ট। নিম্নলিখিত বিষয়গুলির জন্য বাড়ন্ত এবং ডিম পাড়ার সময় আলোক দৈর্ঘ্য নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
* সঠিক বয়সে ও পূর্ণ গঠনে ডিম উৎপাদন শুরু এবং পরিপক্ক করার জন্য।
* সবচেয়ে ভালো ডিম উৎপাদনের হার অর্জনের জন্য।
* ডিমের আকার বড় হওয়ার জন্য।
* সঠিক শারীরিক ওজন অর্জনের জন্য।
(খ) বাড়ন্ত মুরগীর ব্যবস্থাপনা
মুরগীর ৬-১৮ সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত সময়কেই বাড়ন্তকাল হিসাবে বিবেচনা করা হয়। বাড়ন্তকালে মুরগীর নিম্নলিখিত তথ্যগুলি নিয়মিত সংরক্ষণ করতে হবে।
* শারীরিক ওজন
* খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ
* পানি গ্রহণের পরিমাণ
* আলোর পরিমাণ
* টিকাদান
* মৃত্যুহার
* তাপমাত্রা
* রোগের প্রাদুর্ভাব
* ঠোঁট কাটা
* খাদ্যের প্রকার (আমিষ ও শক্তির মাত্রা, ইত্যাদি)
সব সময় তথ্যগুলি বিশ্লেষণ করতে হবে এবং নির্দিষ্ট বয়সের বৈশিষ্ট্যের সাথে প্রাপ্ত তথ্যগুলি তুলনা করতে হবে। ফলাফল প্রত্যাশিত না হলে ঝাঁকের মুরগীর সঠিক দক্ষতার জন্য ব্যবস্থাপনায় অবশ্যই কোনো না কোনো পরিবর্তন আনতে হবে।
ঝাঁকের সুষম বৃদ্ধি
কাম্য উৎপাদন এবং সর্বোচ্চ মুনাফার জন্য ঝাঁকের সুষম বৃদ্ধি  গুরুত্বপূর্ণ। যদি একটি ঝাঁকে ৮০% মুরগী ঝাঁকের গড় ওজনের ১০% কম বা বেশির মধ্যে থাকে, তবে ওই ঝাঁকের সুষম বৃদ্ধি হয়েছে বলে ধরা হয়।
বাড়ন্ত মুরগী পালনে অবশ্য করণীয় কাজ
৬ থেকে ১৮ সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত মুরগীকে বাড়ন্ত মুরগী বলে। এই সময়ে এমনভাবে যত্ন নিতে হবে যেন ডিম উৎপাদনকালে ওজন (ভারী মুরগীর ক্ষেত্রে) কমপক্ষে ১.৫ কেজি হয়। বাড়ন্ত মুরগী পালনে নিম্নের বিষয়গুলি অনুসরণ করতে হবে।
* প্রথমত ঘরের পুরাতন লিটার ও আসবাবপত্রাদি বের করে ঘর সুন্দরভাবে পরিষ্কার করতে হবে।
* পানিতে জীবাণুনাশক ওষুধ মিশিয়ে ঘর ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।
* ঘরের মেঝেতে আয়তন অনুযায়ী বাড়ন্ত মুরগী রাখতে হবে।
* ঘরে কৃত্রিম আলোর প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র দিনের আলোতে পালন করতে হবে। দিনের আলো ব্যতিত রাতে ঘরে আলো জ্বেলে রাখলে শীঘ্র যৌবনপ্রাপ্ত হয় এবং ডিম পাড়া শুরু করে।
(গ) ডিমপাড়া মুরগী পালন ও তার ব্যবস্থাপনা
ডিমপাড়া মুরগী বাছাই
মুরগীসমূহ ডিমপাড়ার আগে বাছাই করা একান্ত প্রয়োজন। কারণ ডিম উৎপাদনের ওপর খামারের লাভ-ক্ষতি নির্ভর করে। তাই পুলেটসমূহকে লেয়ার ঘরে নেয়ার পূর্বে তাদের নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলি দেখে বাছাই করতে হবে।

ঘর তৈরির জন্য স্থান নির্বাচন
* উঁচু জায়গা যেখানে পানি জমে না।
* লোকালয় থেকে দূরে।
* অন্য মুরগি এবং প্রাণীর ঘর থেকে দূরে হবে।
* যাতায়াত ব্যবস্থা সুবিধাজনক হতে হবে।
* বাজারজাতকরণের সুবিধা থাকবে।
* পানি ও বিদ্যুৎ এর সুবিধা থাকবে।
মুরগি পালনের পদ্ধতি
তিন পদ্ধতিতে মুরগি পালন করা হয়। যথাক্রমে- (১) লিটার বা বিছানা পদ্ধতি (২) মাঁচা পদ্ধতি (৩) খাঁচা পদ্ধতি
আমাদের দেশে সাধারণত দোচালা ঘরে মুরগি পালন সুবিধাজনক।
১। লিটার বা বিছানা পদ্ধতি
এই পদ্ধতিতে ঘরের মেঝের ওপর বিছানা হিসেবে বিভিন্ন ধরনের দ্রব্য ব্যবহার করা হয়। যেমন-
তুঁষ, কাঠের গুঁড়া, বালি, ছাই, আখের ছোবড়া, খড়ের ছোট টুকরা, ইত্যাদি।
ভালো লিটার দ্রব্যের বৈশিষ্ট্য ও ব্যবস্থাপনা
* আরামপ্রদ
* অধিক পানি শোষণ ক্ষমতা সম্পন্ন
* অনার্দ্র ও শুষ্ক
* সহজলভ্য ও সস্তা
* ছত্রাক ও পরজীবী মুক্ত
* লিটার হিসেবে ব্যবহারের পর সার হিসেবে ব্যবহার করা যায় এমন।
মুরগি রাখার এক সপ্তাহ পূর্বে ঘরে লিটার দ্রব্য বিছাতে হবে। লিটারের পুরুত্ব কমপক্ষে ১.৫-২ ইঞ্চি হবে। লিটারের আর্দ্রতা ২০-২৫ ভাগের মধ্যে হতে হবে। লিটার মাঝে মধ্যে উল্টে পাল্টে দিতে হবে।
২. খাঁচা পদ্ধতিতে মুরগী পালন     
আধুনিক বিশ্বে বর্তমানে খাঁচা পদ্ধতিতে অধিক দক্ষভাবে ডিম পাড়া মুরগী পালন করা হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের খাঁচা বাজারে পাওয়া যায়।

খাঁচার মাপ হবে ১৮'' x ১২'' x ১৯'' (দৈর্ঘ্য x প্রস্থ x উচ্চতা )। এ ধরনের একটি খাঁচায় অনায়াসে ৩টি ডিম পাড়া মুরগী রাখা যায়।
ডিমপাড়া মুরগী পালনে করণীয় কাজ
খামার সুষ্ঠু ও সুপরিকল্পিতভাবে পরিচালনার জন্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলির প্রতি নজর দিতে হবে।
যেমন
* ডিমপাড়া মুরগীর ঘরের তাপমাত্রা (আদর্শ তাপমাত্রা ১৫-২৩ ডিগ্রী সে.)।
* খাবার পাত্রে জায়গার পরিমাণ (১৮-৭৫ সপ্তাহ বয়সে খাবার পাত্র থেকে প্রতি মুরগীর রৈখক দুরত্ব ১০ সেমি. এবং গোলাকার দুরত্ব ৪ সেমি.)
* পানির পাত্রে জায়গার পরিমাণ (বয়স ১৮-৭৫ সপ্তাহ পর্যন্ত ২.৫ সেমি./মুরগী)
* খাদ্য ও পানি প্রদান (খাদ্য = ১১৫-১২০ গ্রাম/দিন/মুরগী এবং পানি ৩০০-৫০০ মিলি/দিন/মুরগী)
* সঠিক আলোক ব্যবস্থাপনা

বাণিজ্যিক লেয়ারের আলোক কর্মসূচি

* ১০ লাক্স আলোক উজ্জ্বলতার জন্য ৭ ফুট উচ্চতায় ১টি  ৬০ ওয়াট বিশিষ্ট বাল্ব প্রতি ২৪০ বর্গফুট জায়গার জন্য যথেষ্ট।
* ১৮ সপ্তাহ শেষে কাঙ্খিত ওজন আসলেই ১৯ সপ্তাহের শুরুতে কর্মসূচী অনুযায়ী আলো বাড়াতে হবে। যদি কাঙ্খিত ফল না আসে সে ক্ষেত্রে ১০% ডিম উৎপাদন হওয়া পর্যন্ত আলোক সময়কাল বাড়ানো বন্ধ রাখতে হবে।
বাণিজ্যিক লেয়ার মুরগীর নূন্যতম টিকাদান কর্মসূচী

এছাড়াও অভিজ্ঞ প্রাণিচিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফাউল কলেরা, মাইকোপ্লাজমোসিস, কক্সিডিওসিস, ই.ডি.এস, ইনফেকশাস করাইজা, ইত্যাদি রোগের বিরুদ্ধে টিকা প্রদান করা উচিত।
মুরগির জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির পরিমাণ

যে সকল কারণে খামারের উৎপাদন ব্যহত হয়
নানাবিধ কারণে খামারের উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। যেমন-
* হঠাৎ দৈহিক তাপমাত্রা পরিবর্তন।
* খাদ্যের পরিবর্তন বিশেষ করে আমিষ, এমাইনো এসিড, (লাইসিন, মিথিওনিন) এবং লিনোলেনিক এসিড পরিবর্তনের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
* ডিমপাড়া অবস্থায় মুরগীকে টিকা দেয়া হলে কয়েক দিনের জন্য ডিম উৎপাদন কমে যেতে পারে।
* এন্টিবায়োটিক এবং সালফার ড্রাগ সেবনের কারণে ডিম উৎপাদন সাময়িক কমে যেতে পারে।
* কৃমির ওষুধ নিয়মিত ও সময়মত না খাওয়ালে।
* ফাউল কলেরা, মাইকোপ্লাজমা, সালমোনেলা, ইত্যাদি জীবাণুর উপস্থিতি থাকলে ডিম উৎপাদন কমে যায়।
* মুরগী কোনো কারণে ভয় পেলে।
* হঠাৎ ঝড় বৃষ্টির কারণে মুরগী ভিজে গেলে।
* পরিবেশের তাপমাত্রা অত্যধিক ওঠানামা করলে।
* আফলাটক্সিকোসিস বা মাইকোটক্সিকোসিস হলে।
উপসংহার
জনসংখ্যা বৃদ্ধি, আমিষের  চাহিদা পূরণ, বেকারত্ব হ্রাস, ইত্যাদি কারণে পোল্ট্রি শিল্প বর্তমানে একটি দ্রুত বিকাশমান খাত। সফলভাবে পোল্ট্রি পালন করতে হলে সুষ্ঠু পরিকল্পনা, খামার ব্যবস্থাপনার মৌলিক বিষয়গুলি সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক ধারণা লাভ এবং তার প্রয়োগ, রোগ নিয়ন্ত্রণ অথবা চিকিৎসা সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন অতীব প্রয়োজন। তবেই পোল্ট্রি পালনে আসবে সফলতা এবং ঘটবে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন।
সূত্র
১. বাণিজ্যিক পোল্ট্রি পালন ও খামার ব্যবস্থাপনা- প্রফেসর ড. মো. জালাল উদ্দিন সরদার।
২. হাঁস-মুরগির যতœ ও চিকিৎসা- এগ্রোভেট ডিভিশন, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস্ লিমিটেড।
৩. হাঁস-মুরগি পালন ও চিকিৎসা- ডাঃ এইচ.কে.নিয়োগি।
৪. নিজের অর্জিত অভিজ্ঞতা।
৫. Poultry Science & Medicine- Professor Dr. Md. Abdus Samad.
ডাঃ মোঃ আকতার ফেরদৌস রানা
ডি.ভি.এম (আর,ইউ) এম.এস ইন ফার্মাকোলজি (বি.এ.ইউ)
ফেলো, ন্যাশনাল সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি (জি.ও.বি)
ভেটেরিনারি প্রাকটিশনার
খানজাহান আলী, খুলনা।

ধান চাষে সমস্যার সমাধান দেবে অ্যাপ

রাইস ক্রপ ম্যানেজার
ধানচাষির ফলন ও আয় বাড়াতে ‘রাইস ক্রপ ম্যানেজার’ (আরসিএম) নামের একটি অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করা হয়েছে। কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা স্মার্টফোনে ইন্টারনেট-সংযোগ থাকলে অ্যাপ্লিকেশনটি (সংক্ষেপে অ্যাপ) ব্যবহার করে ধান চাষের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা পাওয়া যাবে।

এ ছাড়া ধান চাষে নানা সমস্যার সমাধান মাত্র কয়েক সেকেন্ডে পাওয়া যাবে এই অ্যাপ ব্যবহার করে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিআরআরআই) ও আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইআরআরআই) যৌথ উদ্যোগে অ্যাপটি তৈরি করেছে।

বিআরআরআইয়ের মহাপরিচালক জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস জানান, ইতিপূর্বে ইনস্টিটিউট থেকে প্রকাশিত আধুনিক ধানের চাষ বইটিতে উচ্চফলনশীল ধানের জাত পরিচিতিসহ উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতির যে বিবরণ ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তা-ই ডিজিটাল পদ্ধতিতে সারা দেশে দ্রুত কৃষক পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে আরসিএম অ্যাপ্লিকেশনটি বানানো হয়েছে। অ্যাপটি ইতিপূর্বে অবমুক্ত করা ‘নিউট্রিয়েন্ট ম্যানেজার ফর রাইস’ বা এনএম রাইসের উন্নত সংস্করণ।

বিআরআরআইয়ের বিজ্ঞানীরা জানান, আরসিএম অ্যাপ ব্যবহার করে জমির উর্বরতা শক্তির মাত্রা অনুযায়ী কখন ও কতটুকু সার দিতে হবে, প্রত্যাশিত ফলনের জন্য চারার বয়স কত হবে, বীজ বপন ও চারা রোপণের কৌশল ও পদ্ধতি কী হবে, আগাছা ও পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণের জন্য কখন কী করতে হবে-ধান চাষের এসব জরুরি পরিচর্যার বিষয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সব তথ্য ও পরামর্শ জানা যাবে।

বিজ্ঞানীরা জানান, অ্যাপটির কার্যকারিতার নানা দিক নিয়ে বিআরআরআই ও আইআরআরআই তিন বছর ধরে কাজ করছে। গ্রামীণ উন্নয়নকর্মী, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ও কৃষকেরা বিনা মূল্যে এই সেবা পাবেন। আরসিএম ব্যবহারে হেক্টরপ্রতি ৭০০ থেকে এক হাজার কেজি ধান পাওয়া যাবে বলে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে; যার আর্থিক মূল্য আট-দশ হাজার টাকা।

মহাপরিচালক জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস বলেন, আরসিএম ধানচাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদানের ক্ষেত্রে খুবই কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে সার প্রয়োগ ছাড়াও ফসল ব্যবস্থাপনার অন্যান্য নির্দেশনা তাৎক্ষণিকভাবে কৃষক পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হবে। দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এটি বেশ সহায়ক ও ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখবে।

যেভাবে সেবা পাওয়া যাবে
webapps.irri.org/bd/rcm এই ওয়েব ঠিকানায় গেলে ‘রাইচ ক্রপ ম্যানেজার বাংলাদেশ ভার্সন ১.০’ লেখা একটি পাতা আসবে। সেখানে বাংলা বা ইংরেজি, কোন ভাষায় সেবা পেতে চান লেখা আছে। যেকোনো একটিতে ক্লিক করে নিচের দিকে নেক্সট লেখা বাটনে চাপতে হবে। এরপর আসবে ‘আপনার জমিতে ধান চাষাবাদের জন্য একটি ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা গ্রহণ করুন’ লেখা। সেখানে ‘আই অ্যাগরি উইথ দ্য টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনস’ লেখায় ক্লিক করতে হবে। এরপর আসবে ‘নির্দিষ্ট মৌসুমে আপনি যে জমির জন্য ধান চাষে অনুমোদিত ব্যবস্থাপনা পেতে আগ্রহী, সেই মৌসুম ও জমি বিষয়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন।

প্রথম প্রশ্নটি আপনার প্লটের অবস্থান মানে, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামের নাম। এরপর থাকবে যে জমির জন্য এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন, সেই জমিটিকে আপনি কী নামে চেনেন। যেমন: বাইদ, নালা জমি ইত্যাদি। কোনো নাম জানা না থাকলে x বা y চিহ্ন ব্যবহার করতে পারেন। পরে জমির পরিমাণসহ ২০টি প্রশ্ন রয়েছে। এ ছাড়া কৃষক ও রাইস ক্রস ম্যানেজার চালনাকারী ব্যক্তির তথ্যাদি জানতে প্রশ্ন রয়েছে। সব পূরণ করা শেষ হলে ‘সাবমিট’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ছবিসহ সমাধান চলে আসবে। তাতে থাকবে কীভাবে জমি পরিচর্যা ও সার দিতে হবে।
লেখক: মাসুদ রানা

মুহাম্মদ কি আল্লাহর বানীর নামে, শয়তানের বানী প্রচার করেছিল ?


মুহাম্মদ শয়তানের কাছ থেকে বানী পেত। তা বলা আছে কোরানে , হাদিসে , সিরাতে। অথচ তার পূর্বেকার কোন নবী রসুল যেমন - ইব্রাহিম , ইসহাক , যাকোব , দাউদ , সলোমন , মূসা ইত্যাদিরা কখনই বলে নি যে তারা শয়তানের কাছ থেকে বানী পেত। বাইবেলের গসপেলেও দেখা যায় না যীশু শয়তানের কাছ থেকে বানী পেয়েছিল, যদিও শয়তান তাকে প্রলুব্ধ করছিল বলে দেখা যায় , কিন্তু যীশু তাতে প্রলুব্ধ হয় নি বরং অভিশাপ দিয়ে শয়তানকে তাড়িয়ে দিয়েছে।
সুরা নাজম- ৫৩: ১৯-২১: তোমরা কি ভেবে দেখেছ লাত ও ওযযা সম্পর্কে। এবং তৃতীয় আরেকটি মানাত সম্পর্কে?পুত্র-সন্তান কি তোমাদের জন্যে এবং কন্যা-সন্তান আল্লাহর জন্য?
এই বানীগুলোর প্রেক্ষাপট হলো এরকম -
========================================================
মুহাম্মদ দীর্ঘদিন ধরে মক্কায় ইসলাম প্রচার করছে কিন্তু তার গোত্রের লোকজন সেটা গ্রহন না করে বরং তাকে উন্মাদ পাগল বলে সাব্যাস্ত করছে। তখন মুহাম্মদ খুব দু:খ ভারাক্রান্ত হলে নিচের আয়াত নাজিল হয় -
সুরা নাজম- ৫৩: ১৯-২১: তোমরা কি ভেবে দেখেছ লাত ও ওযযা সম্পর্কে। এবং তৃতীয় আরেকটি মানাত সম্পর্কে? এরা উচ্চে উড়ন্ত শারশ যারা আল্লাহর সাথে মধ্যস্থতাকারী।
অর্থাৎ এমন আয়াত নাজিল হলো যাতে স্বীকার করে নেয়া হলো যে পৌত্তলিক কুরাইশদের যে তিন প্রধান দেব-দেবী লাত , উজ্জা ও মানাত , তারা মানুষের প্রার্থনাকে আল্লাহর কাছে পৌছে দেয়। এই আয়াত নাজিল হয়েছিল কাবা ঘরের মধ্যে অবস্থানকালে। এ খবর শুনে কিছু কুরাইশ কাবা ঘরে আসল। মুহাম্মদ তাদের দেব দেবীদেরকে স্বীকৃতি দিয়েছে দেখে তারা খুবই আনন্দিত হলো। তারপর মুহাম্মদ, তার সাহাবী ও কুরাইশরা সবাই কাবা ঘরে সিজদা দিল। এই খবর মদিনা ও আবিনিসিয়াতে অবস্থিত প্রবাসী মুসলমানদের নিকট পৌছে গেল, তারা শুনতে পেল কুরাইশরা ইসলাম গ্রহন করেছে , তাই তাদের অনেকেই মদিনা ও আবিনিসিয়া থেকে ফিরে আসল। তখন জিব্রাইল মুহাম্মদের কাছে এসে জিজ্ঞেস করল- হে মুহাম্মদ , এ তুমি কি করেছ? আমি তোমাকে যা বলিনি তুমি তাই বলেছ । তুমি তো শয়তানের বানী পেয়েছ। এ শুনে মুহাম্মদ খুবই দু:খিত হলো। তার এ দু:খ দেখে আল্লাহ নাজিল করল -এমতাবস্থায় এটা তো হবে খুবই অসংগত বন্টন। তখন মুহাম্মদ ২১ নং আয়াতের এরা উচ্চে উড়ন্ত শারশ যারা আল্লাহর সাথে মধ্যস্থতাকারী। এই লাইনটা বাদ দিয়ে তার স্থলে -এমতাবস্থায় এটা তো হবে খুবই অসংগত বন্টন। এই লাইনটা জুড়ে দিল। এবং একই সাথে দু:খ ভারাক্রান্ত মুহাম্মদকে শান্তনা দেয়ার জন্যে নিচের আয়াত নাজিল হলো -
সুরা হাজ্জ- ২২: ৫২: আমি আপনার পূর্বে যে সমস্ত রাসূল ও নবী প্রেরণ করেছি, তারা যখনই কিছু কল্পনা করেছে, তখনই শয়তান তাদের কল্পনায় কিছু মিশ্রণ করে দিয়েছে। অতঃপর আল্লাহ দূর করে দেন শয়তান যা মিশ্রণ করে। এরপর আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহকে সু-প্রতিষ্ঠিত করেন এবং আল্লাহ জ্ঞানময়, প্রজ্ঞাময়।
=======================================================
সূত্র : (Source: Ibn Ishaq, The Life of Muhammad: A Translation of Ishaq's Sirat Rasul Allah, Translated by A. Guillaume, Oxford University Press, Oxford, England, (Re-issued in Karachi, Pakistan, 1967, 13th impression, 1998) 1955, p. 165-166. https://archive.org/details/TheLifeOfMohammedGuillaume)
এখন অনেকেই এসে বলবে , ইবনে ইসহাকের এই বক্তব্য সহিহ ইসলাম না। কিন্তু সুরা হাজ্জেই কিন্তু স্বীকার করছে যে মুহাম্মদের কাছে শয়তানের বানী এসেছিল। এমন কি সহিহ হাদিসেও সেটা বলা হয়েছে -
সহিহ বুখারী :: খন্ড ২ :: অধ্যায় ১৯ :: হাদিস ১৭৭
মুসাদ্দার (র.)… ইব্ন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্‌ (সা) সূরা ওয়ান্-নাজ্‌ম তিলাওয়াতের পর সিজ্‌দা করেন এবং তাঁর সঙ্গে সমস্ত মুসলিম, মুশরিক, জ্বিন ও ইনসান সবাই সিজ্‌দা করেছিল।

খেয়াল করতে হবে , মুহাম্মদের সাথে মুসলমান ও মুশরিক তথা কুরাইশরা সিজদা করল। মুহাম্মদ শয়তানের আয়াত অনুযায়ী কুরাইশদের দেব দেবীদেরকে স্বীকার করে না নিলে তো কুরাইশরা মুহাম্মদ ও মুসলমানদের সাথে সিজদা করার কথা নয়।
এটা খুবই বিস্ময়কর যে যখন শয়তান জিব্রাইলের বেশে মুহাম্মদের কাছে শয়তানের বানী দিচ্ছিল , তখন আল্লাহ তা টের পেল না। এমন কি আল্লাহ শয়তানকে ঠেকাতেও পারল না। এর মধ্যে অনেক দিন পার হয়ে গেছে , এ খবর সুদুর মদিনা ও আবিনিসিয়াতে চলে গেছে , তারপরও আল্লাহ টের পেল না , টের পেল জিব্রাইল যখন মুহাম্মদ তার কাছে সুরা নাজম বলছিল।
তাহলে আমরা কিভাবে নিশ্চিত হবো যে , এই সুরা নাজম ছাড়া অন্য আরও অনেক আয়াত জিব্রাইলের বেশে শয়তান মুহাম্মদকে দিয়ে যায় নি? বরং কোরানের বিভিন্ন বানী দেখে তো মনে হয় কোরানের অধিকাংশ বানীই হলো শয়তানের , কারন দেখা যাচ্ছে কোরানের বানী মুহাম্মদকে ডাকাতি করার স্বীকৃতি দিচ্ছে ( সুরা বাকারা -২: ২১৭) , মুহাম্মদকে বন্দিনী নারী ধর্ষন ও মুতাহ বিয়ের স্বীকৃতি দিচ্ছে ( সুরা নিসা - ৪: ২৪), মুহাম্মদকে অবিশ্বাসীদেরকে নির্বিচারে হত্যা করতে বলছে ( সুরা তাওবা -৯: ৫) , মুহাম্মদকে নির্বিচারে অমুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে যেতে বলছে ( সুরা তাওবা -৯: ২৯)- এসব অনৈতিক ও হিংসাত্মক বানী তো পরম করুনাময় দয়াল সৃষ্টিকর্তার বানী হতে পারে না।
- See more at: http://istishon.com/?q=node/20821#sthash.fQ2tLjJ3.dpuf

মৌমাছি চাষের বিস্তারিত তথ্য


bee
মৌমাছি চাষ
মৌমাছিকে তাদের প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে এনে মৌচাকের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পালন করাকেই বলা হয় মৌমাচি পালন। পালনের জন্য ভারতীয় জাতের মৌমাছি সবচেয়ে উপযোগী। ছোট সেনালি বর্ণের ও সাদা ডোরাকাটা এ মৌমাছিরা গাছের গর্তে বা অন্য কো গহবরে একাধিক সমান্তরাল চাক তৈরি করে বসবাস করে। গর্তে প্রবেশ পথের সঙ্গে চাকগুলো সমান্তরালভাবে সাজানো থাকে। মৌমাছিদের এরূপ বাসস্থানের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয় কাঠের বাক্স। কাঠের মৌবাক্স মৌমাছি পালনই আধুনিক ব্যবস্থা। লোকালয় ও বিভিন্ন বনাঞ্চলের মৌচাক থেকেই তো এই মধু আর মোম সংগ্রহ করা সম্ভব । তবু কেন এই মৌমাছি পালন?

প্রয়োজনীয়তা
১. মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহের সময় সাধারণত চাকটিকে নষ্ট করে ফেলা হয়। এ কাজের সময় অনেক ক্ষেত্রে বিপুলসংখ্যক মৌমাছিও মারা পড়ে। এছাড়াও চাকে অবস্থিত ডিম ও বাচ্চা নষ্ট হয়। এর ফলে দিন দিন মৌমাছির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। ইদানিং ফসলের ক্ষেতে কীটনাশক ব্যবহারের ফলে লোকালয়ে আশঙ্কাজনকভাবে মৌমাছির সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। এতেফসলের ফলনও কমে যাচ্ছে। মৌমাছি পালনের মাধ্যমে মৌমাছির সংখ্যাকে বাড়ানো সম্ভব।

২. মৌমাছির বঞ্চিত মধু আমরা খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করে থাকি। মধুর পুষ্টিগুণ চাড়াও নানাবিধ রোঘ উপশমকারী ক্ষমতা রয়েছে। সাধারণ নিয়মে মৌচাক চেপে মধু বের করা হয়। এতে চাক থেকে মধু নিষ্কাশন যেমন সম্পূর্ণ হয় না তেমনি সেই মধুতে রয়ে যায় মোম, মৌমাছির ডিম ও বাচ্চা নিস্পোষিত রস এবং অন্যান্য আবর্জনা। পালন করা মৌমাছির চাক থেকে যান্ত্রিক উপায়ে নিষ্কাশিত মধু যেমন বিশুদ্ধ, তেমনি নিষ্কাশনও হয় পুরোপুরি।

৩. মৌচাক থেকে মোম পাওয়া যায়, কিন্তু পালন করা মৌমাচির চাক থেকে মোম সংগ্রহ করা হয় না। মোম সংগ্রহ করলে চাক ষ্ট হয়। নতুন চাক বানাতে মৌমাছির অনেক সময় লাগে। এতে মধু নিস্কাশনের পর চাক অক্ষত থাকে বলে মৌমাছিরা সাথে সাথেই আবার শুন্য কুঠুরিগুলোয় মধু মেন বিশুদ্ধ, তেমনি নিষ্কাশনও হয় পুরোপুরি।

৪. মৌচাক থেকে মোম পাওয়া যায়, কিন্তু পালন করা মৌমাছির চাক থেকে মোম সংগ্রহ করা হয় না। মোম সংগ্রহ করলে চাক নষ্ট হয়। নতুন চাক বানাতে মৌমাছির অনেক সময় লাগে। এতে মধু নিষ্কাশনের পর চাক অক্ষত থাকে বলে মৌমাছিরা সাথে সাথেই আবার শুন্য কুঠুরিগুলোরয় মধু জমাতে থাকে। এছাড়া মৌ-বাক্সে ভেতরে যে কাঠের ফ্রেম থাকে তাতে মোমের তৈরি ছাঁচ বা 'কম্ব ফাউন্ডেশন সিট' দিলে মৌমাছিরা তাড়াতাড়ি চাক তৈরি করতে পারে। এজন্য মৌমাছি পালনের মাধ্যমে অল্প সময়ে অনেক বেশী মধু পাওয়া সম্ভব।

৫. ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ানোর সময় মৌমাছিরা তাদের পা এবং বুকের লোমের ফুলের অসংখ্য পরাগরেণু বয়ে বেড়ায়। এক ফুলের পরাগরেণু অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে পড়লে পরাগায়ন ঘটে, যার ফলশ্রুতিতে উৎপন্ন হয় ফল। এভাবে মৌমাছিরা পরাগায়নের মাধ্যমে হিসাবে কাজ করে ফল ও ফসলের উৎপাদন বাড়ায়। বিশেষ মৌসুমে যখন কোনো বাগান বা ফসলের ক্ষেতে প্রচুর ফুল ফোনে তখন মৌমাছিসহ বাঙ্টিকে সেখানে স্থানান্তর করলে একদিকে প্রচুর মদু সঙ্গৃহীত হবে, অন্যদিকে ফল বা ফসলের উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে।

৬. মৌমাছি পালনকে কুটির শিল্প হিসাবে গ্রহণ করলে অনেক বেকারের কর্মসংস্থার হবে। গ্রামের স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোতে মৌমাছি পালন একটি বাড়তি আয়ের সুযোগ দেবে।

উপযুক্ত পরিবেশ : মৌ-বাক্স রাখার জন্য নির্বাচিত স্থানটি ছায়াযুক্ত, শুকনা ও আশপাশে মৌমাছির খাদ্য সরবরাহের উপযোগী গাছ-গাছড়া দ্বারা পরিবেষ্টিত হওয়া আবশ্যক। প্রয়োজনে কিছু কিছু ঋতুভিত্তিক গাছ জরুরি ভিত্তিতে লাগানো যেতে পারে। নির্বাচিত স্থানের আশপাশে যেন বিকট শব্দ সৃষ্টিকারী এবং ধোঁয়া উত্পাদনকারী কোনো কিছু না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

পালন
যে কাঠের বাক্স মৌমাছি পালন করা হয় সেটি বিভিন্ন অংশের সমন্বয়ে তৈরী। তলার কাঠ, বাচ্চাঘর, মধুঘর, ঢাকনা, ও ছাদ হচ্ছে একটি মৌবাঙ্রে বিভিন্ন অংশ। মধুঘর ও বাচ্চাঘরে সারি সারি কাঠের ফ্রেম সাজিয়ে দেয়া হয়। এ ফ্রেমেই মৌমাছিরা চক তৈরি করে। কোনো গাছের গর্ত থেকে মৌমাছি ও তাদের চাক সংগ্রহ করার পর বাক্স দেয়া হয়। একটি মৌমাছি পরিবারে থাকে মাত্র একটি রানী মৌমাছি, কিছু পুরুষ এবং অধিকাংশ শ্রমিক মৌমাছি। চাক তৈরি, বাচ্চাদের লালনপালন, মধু এবং ফুলের পরাগ সংগ্রহ ইইত্যাদি সব কাজ শ্রমিক মৌমাছিরাই সম্পাদন করে। কিন্তু মৌমাছি পালন করে চাক থেকে মধু পেতে হলে একজন মৌমাছি পালককে মৌমাছিদের যত্ন নিতে হবে। বছরের বিভিন্ন ঋতুতে নানা প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এদের রোগ প্রতিকারের ব্যবস্থা নেয়া মৌমাছি পালন তথ্য পরিচর্যার অন্তভূর্ক্ত । এখানে সংক্ষেপে এ নিয়ে কিছু আলোচনা করা হল-

ক) মৌসুমী ব্যবস্থাপনা
বিভিন্ন ঋতুতে মৌমাছির পরিচর্যাকে তিনটি ভগে ভাগ করা যায়। যেমন-মৌমাছির বংশ বৃদ্ধির সময়ে, যখন প্রকৃতিতে প্রচুর খাদ্য পাওয়া যায় তখন এবং খাদ্যসঙ্কট চলাকালে।
১. বংশ বৃদ্ধিকালে-রানী মৌমাছি যখন প্রচুর ডিম পেড়ে একটি মৌবাঙ্রে মৌমাছির সংখ্যা বাড়তে থাকে সে সময়টাই হল বদ্ধিকাল। এ সময় প্রকৃতিতে ফুলের সমারোহ দেখা যায় এবং মৌমাছিরা প্রচুর পরিমানে পরাগরেণু এবং ফুলের রস সংগ্রহ করে। বংশ বৃদ্ধিকালে বাচ্চাঘরে নতুন ফ্রেম দিতে হবে। বাঙ্ কোনো পুরনো ও ত্রুটিপূর্ণ রাণীকে সরিয়ে নতুন রানীর সংযোজন করতে হবে। সাধারণত বৃদিধকালের শেষ দিকে মৌমাছিরা ঝাঁক বাঁধে। ঝাঁক বেঁধে মৌমাছিরা যাতে অন্য কোথাও উড়ে চলে না যায় এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। চাকে নবনির্মিত পুরুষ, রাণী মৌমাছিরা বাঁক বেঁধে অন্য কোথাও উড়ে যাবে না। মৌমাছির সংখ্যা যদি অনেক বেশী হয় তবে তাদের একাধিক বাক্স ভাগ করে দেয়া উচিত মৌমাছির বংশ বৃদ্ধিকালে মাঝে মাঝে কলোনী পরীক্ষা করে তাদের অন্যান্য সমস্যার প্রতিও দৃস্টি রাখতে হবে।

২. খাদ্য সঞ্চয়কালে-এ সময়ে প্রকৃতিতে প্রচুর ফুল পাওয়া যায়। মৌমাছিদের সংগ্রহীত পরাগরেণু বাচ্চা মৌমাছিদের খাওয়ানো হয়। ফুলের রস দিয়ে মৌমাছিরা মধু তৈরি করে মধুঘরের চাকে জমা করে। মধু রাখার স্থানের যাতে অভাব না হয় এজন্য মধু ঘরে আরও নতুন চাক দিতে হবে। চাকের শতকরা ৭৫টি কঠুরি যখন ঘন মধুতে ভরে মৌমাছিরা ঢাকনা দিয়ে ফেলবে, তখন সে চাক থেকে মদু নিষ্কাশন করে নিতে হবে। প্রয়োজনবোধে মৌমাছি পালনক্ষেত্র তেকে কিছু মৌবাক্স সরিয়ে অন্য স্থানে নিতে হবে যাতে বিশেষ কোনো এলাকা থেকে মৌমাছিরা আরও বেশী মধু সঞ্চয় করতে পারে। শীতের প্রচন্ড প্রকোপে মৌমাছিদের যেন কষ্ট না হয় এজন্য শীতের রাতে মৌবাঙ্টি চট বা ছালা দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে।

৩. খাদ্য সঙ্কটকালৈ এ সময়ে প্রকৃতিতে খাদ্য সংগ্রহ করার মতো ফুল খুব কম থাকে, ফলে মৌমাছিরা খাদ্য সঙ্কটে পড়ে। খাবারের অভাব মিটাতে এ সময় চিনির সিরাপ মিশিয়ে এই সিরাপ তৈরি করা হয়। যে পাত্রে সিরাপ পরিবেশন করা হবে সেটি বাঙ্রে ভেতরে রেখে সিরাপের পরে একটি কাঠি বা পাতা দিতে হবে, যাতে মৌমাছিরা তার ওপরে বসে রস খেতে পারে। সিরাপ রাতে একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সন্ধ্যা) পরিবেশন করা উচিত, যাতে অন্য বাঙ্রে মৌমাছিরা এসে খাবারের জন্য মারামারি না বধায়। ঝড়বৃষ্টিতে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকলে মৌবাঙ্টির প্রবেশ পথ বাতাস ও বৃদ্ধির বিপরীতমুখী করে নিরাপদ, শুল্ক স্থানে রাখতে হবে। অন্যথায় বাক্সে ছাদের উপর আবরণ দিয়ে প্রবল বৃষ্টি হাত থেকে মৌমাছিদের রক্ষা করতে হবে। খাদ্য সঙ্কটকালে কলোনী দূর্বল হয়ে পড়তে পারে। বাক্স চারটি চাকের কম সংখ্যাকে চাকে মৌমাছি একত্র করে একটি মৌবাক্স স্থান করে দেয়া উচিত। খাদ্য সঙ্কট সব এলাকায় একই সময়ে দেখা দেয় না। এ জন্য মৌবাক্স এমন এলাকায় স্থানান্তর করা যায়, যেখানে প্রচুর ফুল পাওয়া যাবে। খাদ্য সঙ্কটকালে মৌমাছিদের রোগ-জীবানূ বেশী হয় বলে এ সময় কলোনীর দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।

খ) শত্রু এবং রোগ
বিভিন্ন প্রকার শত্রু ও রোগের আক্রমনে মৌমাছি কলোনী ক্ষতিগ্রস্থ হয়। দু'একটি প্রধান শত্রু ও রোগের বিষয়ে এখানে আলোচনা করা হলে। মোমপোকা-ভিজে, স্যাতসেঁতে আবহাওয়ায় মোমপোকার আক্রমণ সবচেয়ে বেশী হয়। চাকের কুঠুরির উপরে মাকড়সার জালের ন্যায় আবরণ দেখেই বোঝা যায়। একটি মোপোকারয় আক্রান্ত ঢাকনাযুক্ত পিউপার কুঠুরির মুখ খোলা এবং ভেতরে মৃত পিউপা পাওয়া যায়। এ সমস্যার প্রতিকার হল মৌবাক্স পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, পুরনো ও ময়লা চাক সরিয়ে ফেলা এবং পটাসিয়াম পারম্যাঙ্গানেট দিয়ে বাঙ্রে মেঝে পরিস্কার করা। মোমপোকার আক্রমণ দেখা দিলে প্যারাডাইক্লোরো বেনজিন নামক ওষুধ সামান্য পরিমানে বাক্স কোণায় রেখে দিলে এই পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এ ময়ে রাতে বাক্সের গেইট বন্ধ করে রাখতে হবে এবং সকালে খুলে দিতে হবে। অ্যাকারাইন এ রোগ সাধারণত পূর্ণবস্ক মৌমাছিদের হয়ে থাকে। রুগ্ন মৌমাছির ডানাগুলো বিভক্ত হয়ে ইংরেজি অক্ষর 'ক' এর মতো হয়ে যায় এবং অনেক মৌমাছিকে বাক্সে সামনে বুকে হাঁটতে দেখা যায়। বাক্সে সামনে আমাশয় এর মতো হলুদ পায়খানা পড়ে থাকে। মৌমাছিরা কলোনীর মধ্যে বিশৃংখলাভাবে ঝাঁক বেঁধে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে প্যারালাইসিস হতে দেখা যায়। আক্রান্ত রানী ডিম দেয়া বন্ধ করে দেয়। এ্যাকারাইন হতে দেখা যায়। এ্যাকরাইন রোগের প্রতিকার হল-মৌবাঙ্রে ভেতরে মিথাইল স্যালিসাইলেটের বাষ্প দেয়া। এজন্য ছোট একটি বোতলে মিথাইল স্যালিসাইলেট নিয়ে রবার কর্ক দিয়ে মুখ বন্ধ করতে হবে।
মৌমাছি চাষ ও প্রশিক্ষনের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন
মতি এন্ড সন্স (একটি বিসিক প্রকল্প)
৪৯/৩, লুৎফর রহমান লেন, সুরিটোলা, কোতয়ালী, ঢাকা
মোবাইল: ০১৭১২-০৬৯০৬২
এছাড়া মৌমাছি পালন সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে বিসিকের যে কোনো কার্যালয়ে যোগাযোগ করা যেতে পারে। টেলিফোন করতে পারেন : ০১১৯৯৪২৫৫২৩ অথবা ০১৯১১৪০৫৩৬৬ নম্বরে।

আয়-ব্যয়ের হিসাব মৌমাছি পালন প্রকল্প স্থাপনের জন্য আলাদাভাবে কোনো জায়গার প্রয়োজন হয় না। বাড়ির আনাচে-কানাচে, ঘরের বারান্দায়, ছাদে কিংবা বাগানেও মৌ-বাক্স রাখা যায়। অ্যাপিস সেরানা প্রজাতির ৫টি মৌ-কলোনি সম্বলিত মৌ-খামার স্থাপনের জন্য মোট বিনিয়োগ হবে ১৫-১৬ হাজার টাকা। প্রতিবছর গড়ে প্রতি বাক্স থেকে ১০ কেজি মধু পাওয়া যাবে, যার বাজারমূল্য ২৫০ টাকা হিসেবে ২৫০০ টাকা। এ হিসেবে ৫টি বাক্স থেকে উত্পাদিত মধুর মূল্য দাঁড়াবে ৫–১০ কেজি – ২৫০ টাকা (প্রতি কেজি)= ১২,৫০০ টাকা। এই আয় ১০-১৫ বছর অব্যাহত থাকবে অর্থাৎ প্রথমে মাত্র একবার ১৫-১৬ হাজার টাকা ব্যয় করে প্রকল্প স্থাপন করলে মৌ-বাক্স এবং অন্যান্য সরঞ্জামাদি ১০-১৫ বছর ব্যবহার করা যাবে। আর কোনো বিনিয়োগ বা খরচ নেই বললেই চলে।

অন্যদিকে অ্যাপিস মেলিফেরা প্রজাতির ৫টি মৌ-কলোনি সম্বলিত মৌ-খামার স্থাপনের জন্য মোট ব্যয় হবে ২৫ থেকে ২৭ হাজার টাকা। এক্ষেত্রেও ১০-১৫ বছর পর্যন্ত মৌ-বাক্স ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি এবং সরঞ্জামাদি ব্যবহার করা যাবে। আর কোনো অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে না। মেলিফেরা প্রজাতির প্রতিটি মৌ-বাক্স থেকে বছরে ৫০ কেজি পর্যন্ত মধু সংগ্রহ করা সম্ভব, যার বাজারমূল্য ৫০ কেজি –২৫০ টাকা (প্রতিকেজি) – ৫টি বাক্স= ৬২,৫০০ টাকা। প্রকল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে মাত্র ২৫-২৭ হাজার টাকা এককালীন বিনিয়োগ করে প্রতিবছর ৬০ হাজার টাকার ঊর্ধ্বে আয় করা সম্ভব। মৌ-বাক্সের সংখ্যা প্রতিবছর বৃদ্ধির মাধ্যমে এ আয় অনেকগুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব। স্বল্প পরিশ্রমে এ ধরনের প্রকল্প স্থাপনের মাধ্যমে একদিকে যেমন আর্থিক দিক থেকে লাভবান হওয়া যায়, তেমনি পরাগায়ন প্রক্রিয়ায় সহায়তা দানের মাধ্যমে দেশের ফল ও ফসলের উত্পাদনে পরোক্ষভাবে সহযোগিতা দান করা যায়।

চিকিৎসা:মধু ও মৌমাছির বিষে বাত নিরাময়

মৌমাছি বা ভীমরম্নলের হুল ফুটানো বিষ খুবই যন্ত্রণাদায়ক। যে ব্যক্তি হুল দংশ্বনের শিকার হয়েছেন কেবল তিনিই তার জ্বালা অনুভব করতে পারেন। মানুষ এমনকি অন্যান্য প্রাণীও তাই মৌমাছি বা ভীমরম্নল চাক এড়িয়ে চলে, কিন্তু মৌমাছি ও ভীমরম্নলের হুল থেকে সংগৃহীত বিষ যে রোগ নিরাময়ের উপাদান হিসাবে কাজ করতে পারে তা অনেকেরই অজানা। নিউজিল্যান্ডের একটি কোম্পানি সে আমার বাণীই শুনিয়েছে। শুধু তাই নয়-মৌমাছির বিষ বাজারজাতকরণের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কাছে অনুমোদন চেয়েছে।

নেলসন হানি এন্ড মার্কেটিং নামে একটি কোম্পানি জানিয়েছে গেঁটে বাত জনিত ব্যথা নিরাময়ে প্রদাহ নিরোধক হিসাবে কাজ করে মৌমাছির বিষ। প্রতিদিন দুই চা চামচ পরিমাণ মধুর সঙ্গে সামান্য পরিমাণ মৌমাছির বিষ দুধ (ভেনম মিল্ক) মিশিয়ে সেবন করলে বাত রোগে উপসম হয়। তাদের মতে মৌমাছির বিষ প্রয়োগে বাতের চিকিৎসা নতুন ধারণা নয়। কোন কোন ক্লিনিকে মৌমাছির হুল ফুটিয়ে বাতের চিকিৎসা করা হয়। যুক্তরাজ্যের ফুড স্ট্যান্ডার্ডস এজেন্সি জানিয়েছে আগামী মাসে নিউজিল্যান্ড ভিত্তিক কোম্পানিটির আবেদনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

কোম্পানিটি জানিয়েছে-নিউজিল্যান্ডের একটি অঞ্চলে গত ১৩ বছর যাবৎ এক প্রকার মৌমাছির চাষ করা হচ্ছে। আধুনিক পদ্ধতিতে সংগৃহীত মধু ও ভেনম মিল্ক সম্পর্ণ নিরাপদ। তবে ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের এসব সেবন নিষিদ্ধ।

একই সঙ্গে আরো একটি বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, মধু অথবা মৌমাছির বিষ যাদের শরীরে অ্যালার্জির উদ্রেক করে তারা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন। অবশ্য এ ধরনের চিকিৎসার ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করেছেন যুক্তরাজ্যের আথ্রাইটিস রিসার্চ ক্যাম্পেইনের কর্ণধার প্রফেসর অ্যালান সিলমান। তার মতে, মধু ও মৌমাছির বিষবাত নিরাময়ে ফলপ্রসূ এমন প্রমাণ এখনও মেলেনি।
এগ্রোবাংলা ডটকম

মৌ কলোনির পরিচর্যা

আমাদের দেশে সাধারণত অগ্রহায়ণ মাস থেকে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত মধু সংগ্রহের উত্তম সময়। এছাড়াও কোনো কোনো এলাকায় ব্যতিক্রম হিসেবে অনুকূল পরিবেশে উল্লিখিত সময় ছাড়াও মধু সংগ্রহ করা যায়।

নিচে মধুঋতু পরিচর্যার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উল্লেখ করা হলো :
» এলাকার বি-প্লান্টসের পরিচর্যা করা।
» অধিক মধু সংগ্রহের জন্য কলোনি পর্যাপ্ত বি-প্লান্টস পরিবেষ্টিত এলাকায় সাময়িকভাবে স্থানান্তর করা।
» নির্ধারিত ফুল ফোটার সময়ে মধু পাওয়ার জন্য প্রয়োজনবোধে কলোনি একত্রীকরণের ব্যবস্থা করা।
» চলাচল দরজার সম্পূর্ণ অংশ দিনের বেলায় খুলে দেয়া। তবে ঝাঁক ছাড়ার প্রবণতা পরিলক্ষিত হলে অবশ্যই কুইনগেট লাগাতে হবে।
» কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্রুড ও সুপার চেম্বারের মাঝে কুইন এক্সক্লুডার স্থাপন আবশ্যক।
» রানী মৌমাছির অধিক ডিম দেয়ার সুবিধার্থে ব্রুড চেম্বারে ভিত্তিচাক এবং পুরনো ভালো চাক পর্যায়ক্রমে দুটি ফ্রেমের মাঝখানে স্থাপন করা দরকার।
» একইভাবে সুপার চেম্বারেও অধিক মধু জমানোর জোগান দেয়াসাপেক্ষে ভিত্তিচাক এবং পুরনো ভালো চাক স্থাপন করা যায়।
» সুপার চেম্বারে শতকরা ৭০ ভাগ মধু জমানো কোষে ঢাকনা দিলে মধু নিষ্কাশন যন্ত্রের সাহায্যে মধু সংগ্রহ করতে হবে।
» মধুঋতু শেষে সর্বশেষ মধু সংগ্রহের সময় মধুসহ কমপক্ষে একটি চাক কলোনিতে রেখে দিতে হবে।
» কোনো কারণে যথাসময়ে মধু সংগ্রহ করা সম্ভব না হলে সাময়িকভাবে আরও একটি সুপার চেম্বার স্থাপন করা শ্রেয়।
» বিনা প্রয়োজনে পুরুষ ও রানী কোষ তৈরি করে থাকলে তা কেটে বাদ দিতে হবে।
» সংগৃহীত মধু আধুনিক পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত করে পরিষ্কার এয়ারটাইট পাত্রে রাখতে হবে।
» মধুঋতু শেষে সুপার চেম্বারের সব চাক এবং ব্রুড চেম্বারের অতিরিক্ত চাকগুলো রৌদ্রে শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে।
» কোনো কোনো সময় কলোনিতে পর্যাপ্ত মৌমাছি থাকা সত্ত্বেও শ্রমিক মৌমাছির দ্বারা সুপার চেম্বারে চাক তৈরি করতে অনীহা প্রকাশ পায় কিংবা চাক দিলেও তাতে মধু জমা করে না। এসব ক্ষেত্রে ব্রুড চেম্বার থেকে ২/১টি চাকের উপরের অংশ মধুসহ (আংশিক/সম্পূর্ণ) কেটে সুপার ফ্রেমের সঙ্গে লাগিয়ে সুপার চেম্বারে দিলে ভালো ফল পাওয়া যায়। এছাড়া অন্য কোনো কলোনি থেকেও মধুসহ চাক সুপার ফ্রেমে এনে এধরনের কলোনির সুপার চেম্বারে স্থাপন করা যেতে পারে।
» মধুঋতুর শেষ পর্যায়ে কিছু কিছু মৌ কলোনি বিভাজন করে কলোনির সংখ্যা বাড়ানো যেতে পারে।
» এতদ্ব্যতীত প্রয়োজন সাপেক্ষে রুটিনমাফিক পরিচর্যাও অব্যাহত রাখতে হবে। বিস্তারিত তথ্য জানতে হলে ফোন করা যেতে পারে।
লেখক : মো. আলী আশরাফ খান, মোবাইল নং-০১১৯৯৪২৫৫২৩, ০১৯১১৪০৫৩৬৬
ভূমি সংক্রান্ত যাবতীয় দলিলাদি লিখন, সরকারি হিসাব ও অফিসের কাজ ইত্যাদি যাবতীয় বিষয়ে ভূমির পরিমাপ হলো:
(১) ডেসিমেল বা শতাংশ বা শতক
(২) কাঠা,
(৩) বিঘা এবং
(৪) একর
এই পরিমাপ সর্ব এলাকায় সর্বজন গৃহীত। এটা "সরকারি মান"( Standard Measurement) বলে পরিচিত।
উক্ত পরিমাপের কতিপয় নিম্নে প্রদান করা হলোঃ
ইঞ্চি, ফুট ও গজঃ
১২'' ইঞ্চি = ১ ফুট
৩ ফুট= ১ গজ
(৩) ভূমি যে কোন সাইজের কেন ভূমির দের্ঘ্য ও প্রস্থে যদি ৪৮৪০ বর্গগজ হয় তাহলে এটা ১.০০ একর (এক একর) হবে।
যেমনঃ ভূমির দৈর্ঘ্য ২২০ গজ এবং প্রস্থ ২২ গজ সুতরাং ২২০ গজ×২২ গজ= ৪৮৪০ বর্গগজ।

বর্গগজ/বর্গফুট অনুযায়ী শতাংশ ও একরের পরিমাণঃ
৪৮৪০ বর্গগজ = ১ একর ধরে
৪৮৪০ বর্গগজ = ১ একর
৪৩৫৬০ বর্গফুট= ১ একর
১৬১৩ বর্গগজ= ১ বিঘা
১৪৫২০বর্গগজ= ১ বিঘা
৪৮.৪০ বর্গফুট= ০১ শতাংশ
৪৩৫.৬০ বর্গফুট= ০১ শতাংশ
৮০.১৬ বর্গগজ= ১ কাঠা
৭২১.৪৬ বর্গগজ= ১ কাঠা
৫.০১ বর্গগজ = ১ ছটাক
৪৫.০৯ বর্গফুট= ১ কাঠা
২০ বর্গহাত = ১ ছটাকা
১৮ ইঞ্চি ফুট= ১ হাত (প্রামাণ সাই)

কাঠা, বিঘা ও একরের মাপঃ
১৬ ছটাক = ১/ কাটা
০.০১৬৫ অযুতাংশ = ১/কাঠা
০.৩৩ শতাংশ বা ০.৩৩০০ অযুতাংশ = ১ বিঘা
২০ (বিশ) কাঠা = ১ বিঘা
৩ বিঘা = ১.০০ একর।
টিকাঃ একশত শতাংশ বা এক হাজার সহস্রাংশ বা দশ হাজার অযুতাংশ= ১.০০ (এক) একর। দশমিক বিন্দুর (.) পরে চাষ অঙ্ক হলে অযুতাংশ পড়তে হবে।

মিলিমিটার ও ইঞ্চিঃ
১ মিলিমিটার= ০.০৩৯৩৭ (প্রায়)
১ সেন্টিমিটার= ০.০৩৯৩৭ (প্রায়)
১ মিটার = ৩৯.৩৭ ইঞ্চি বা ৩.২৮ ফুট/ ১.০৯৩ গজ (প্রায়)
১০০০ মিটার = ১ কিলোমিটার
১ কিলোমিটার= ১১ শত গজ
২ কিলোমিটার = (সোয়া মাইল)
১৭৬০ গজ = ১ মাইল
১৩২০ গজ = পৌন এক মাইল।
৮৮০ গজ = আধা মাইল
৪৪০ গজ = পোয়া মাইল।
১ বর্গ মিটার = ১০.৭৬ বর্গফুট (প্রায়)
১ হেক্টর = ২.৪৭ একর (প্রায়)
১ ইঞ্চি = ২.৫৪ সেন্টিমিটার (প্রায়)

গান্টার শিকল জরীপঃ
ভূমির পরিমাপ পদ্ধতি সঠিক এবং সহজ করার জন্য ফরাসী বিজ্ঞানী এডমন্ড গান্টা এই পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। তিনি ভূমি পরিমাপের জন্যে ইস্পাত দ্বারা এক ধরণের শিকল আবিষ্কার করেন। তিনি ভূমি পরিমাপের জন্য ইস্পাত দ্বারা এক ধরণের শিকল আবিষ্কার করেন। পরবর্তীতে তার নাম অনুসারেই এই শিকলের নামকরণ করা হয় গান্টার শিকল। আমাদের দেশে গান্টার শিকল দ্বারা জমি জরিপ অত্যন্ত জনপ্রিয়। একর, শতক এবং মাইলষ্টোন বসানোর জন্য গান্টার শিকল অত্যন্ত উপযোগী। এই শিকলের দৈর্ঘ্য ২০.৩১ মিটার (প্রায়) বা ৬৬ ফুট
গান্টার শিকল ভূমি পরিমাপের সুবিধার্থে একে ১০০ ভাগে ভাগ করা হয় থাকে। এর প্রতিটি ভাগকে লিঙ্ক বা জরীপ বা কড়ি বিভিন্ন নামে ডাকা হয়।
প্রতি এক লিঙ্ক = ৭.৯২ ইঞ্চি
দৈর্ঘ্য ১০ চেইন ×প্রস্থে ১ চেইন = ১০ বর্গ চেইন = ১ একর
গান্টার শিকলে ১০ লিঙ্ক বা ৭৯.২ ইঞ্চি পর পর নস বা ফুলি স্থাপন করা হয় (নস ফুলি)
২০ লিঙ্ক বা ১৫৮.৪ ইঞ্চি পর স্থাপিত হয়-
৩০ লিঙ্ক বা ২৩৭.৩ ইঞ্চি পর স্থাপিত হয়-
৪০ লিঙ্ক বা ৩১৬.৮ ইঞ্চি পর স্থাপিত হয়-
৫০ লিঙ্ক বা ৩৯৬.০ ইঞ্চি পর স্থাপিত হয়-
৮০ গান্টার বা ১৭৬০ গজ পর স্থাপিত হয়- মাইল ষ্টোন

একর শতকে ভূমির পরিমাপ
১০০ লিঙ্ক = ১ গান্টার শিকল
১০০০ বর্গ লিঙ্ক = ১ শতক
১,০০,০০০ বর্গ লিঙ্ক = ১ একর
আমাদের দেশে জমি-জমা মাপ ঝোকের সময় চেইনের সাথে ফিতাও ব্যবহার করা হয়। সরকারি ভাবে ভূমি মাপার সময় চেইন ব্যবহার করা হয় এবং আমিন সার্ভেয়ার ইত্যাদি ব্যাক্তিগণ ভূমি মাপার সময় ফিতা ব্যবহার করেন। ভূমির পরিমান বেশি হলে চেইন এবং কম হলে ফিতা ব্যবহার করাই বেশি সুবিধাজনক।

বিভিন্ন প্রকারের আঞ্চলিক পরিমাপ
আমাদের দেশে অঞ্চলভেদে বিভিন্ন প্রকারের মাপ ঝোক প্রচলিত রয়েছে। এগুলো হলো কানি-গন্ডা, বিঘা-কাঠা ইত্যাদি। অঞ্চলে ভেদে এই পরিমাপগুলো আয়তন বিভিন্ন রকমের হয়ে তাকে। বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমির পরিমাপ বিভিন্ন পদ্ধতিতে হলেও সরকারি ভাবে ভূমির পরিমাপ একর, শতক পদ্ধতিতে করা হয়। সারাদেশে একর শতকের হিসাব সমান।

কানিঃ কানি দুই প্রকার। যথা-
(ক) কাচ্চা কানি
(খ) সাই কানি
কাচ্চা কানি: ৪০ শতকে এক বাচ্চা কানি। কাচ্চা কানি ৪০ শতকে হয় বলে একে ৪০ শতকের কানিও বলা হয়।
সাই কানিঃ এই কানি কোথাও ১২০ শতকে ধরা হয়। আবার কোথাও কোথাও ১৬০ শতকেও ধরা হয়।

কানি গন্ডার সাথে বিভিন্ন প্রকারের পরিমাপের তুলনা
২ কানি ১০ গন্ডা (৪০ শতকের কানিতে) = ১ একর
১ কানি = ১৭২৮০ বর্গফুট
১ কানি = ১৯৩৬ বর্গগজ
১ কানি = ১৬১৯ বর্গমিটার
১ কানি = ৪০ বর্গ লিঙ্ক
১ একর = ১০ বর্গ চেইন
১ একর = ১০০ শতক
১ একর = ৪,০৪৭ বর্গমিটার
১ একর = ৩ বিঘা ৮ ছটাক
১ একর = ৬০.৫ কাঠা
১ শতক = ১ গন্ডা বা ৪৩২.৬ বর্গফুট

বিঘা-কাঠার হিসাব
১ বিঘা = (৮০ হাত×৮০ হাত) ৬৪০০ বর্গহাত
১ বিঘা = ২০ কাঠা
১ কাঠা = ১৬ ছটাক
১ ছটাক = ২০ গন্ডা
১ বিঘা = ৩৩,০০০ বর্গলিঙ্ক
১ বিঘা = ১৪,৪০০ বর্গফুট
১ কাঠা = ৭২০ বর্গফুট
১ ছটাক = ৪৫ বর্গফুট

লিঙ্ক এর সাথে ফুট ও ইঞ্চির পরিবর্তন
লিঙ্ক = ৭.৯ ইঞ্চি
৫ লিঙ্ক = ৩ ফুট ৩.৬ ইঞ্চি
১০ লিঙ্ক = ৬ ফুট ৭.২ ইঞ্চ
১৫ লিঙ্ক = ৯ ফুট ১০.৮ ইঞ্চি
২০ লিঙ্ক = ১৩ ফুট ২.৪ ইঞ্চি
২৫ লিঙ্ক = ১৬ ফুট ৬.০ ইঞ্চি
৪০ লিঙ্ক = ২৬ ফুট ৪.৮ ইঞ্চি
৫০ লিঙ্ক = ৩৩ ফুট
১০০ লিঙ্ক = ৬৬ ফুট

এয়র হেক্টর হিসাব
১ হেক্টর = ১০,০০০
১ হেক্টর = ২.৪৭ একর
১ হেক্টর = ৭.৪৭ বিঘা
১ হেক্টর = ১০০ এয়র

বায়ো গ্যাস প্রকল্প প্রস্তুত প্রনালী

বায়োগ্যাস প্রকল্প
যুগ-যুগ ধরে বাংলাদেশের গ্রামঞ্চলে রান্নাবান্নার কাজে কাঠ, খড়-কুটা, নাড়া, শুকনা গোবর এগুলোই জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। বর্তমানে প্রতিবছর দেশে ৩ কোটি ৯০ লাখ মেট্রিক টন এ জাতীয় জ্বালানির প্রয়োজন। জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহারের ফলে গাছপালা উজাড় হয়ে যাচ্ছে, যার ফলে আমরা শুধু বনজ সম্পদই হারাচ্ছি না, আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশকে ঠেলে দিচ্ছি এক ভয়াবহ অবস্থার দিকে। অন্যদিকে গোবর, নাড়া এবং অন্যান্য পচনশীল পদার্থগুলো পুড়িয়ে ফেলার ফলে আবাদি জমি জৈব সার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে জ্বালানি সঙ্কট তীব্রতর হচ্ছে। এই জ্বালানি সঙ্কট মোকাবেলায় বিকল্প জ্বালানি হিসেবে বায়োগ্যাসই একমাত্র এই সমস্যার সমাধান দিতে পারে এবং নিশ্চিত করতে পারে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ উন্নতমানের জৈব সার, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও উন্নত জীবনযাত্রা।

বায়োগ্যাস কী ?
গোবর ও অন্যান্য পচনশীল পর্দাথ বাতাসের অনুপস্থিতিতে পচানোর ফলে যে বড়বিহীন জ্বালানি গ্যাস তৈরী হয় তাই হচ্ছে বায়োগ্যাস। এতে ৬০/৭০ ভাগ জ্বালানি গ্যাস তৈরী হয়ে অবশিষ্ট অংশ উন্নতমানের জৈবসার হিসাবে ব্যবহৃত হতে পারে। জ্বলানি গবেষকরা, বলছেন, মানব বিষ্ঠা, মোরগ-মুরগীর বিষ্ঠা, জৈব আবর্জনা এবং গোবর থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদন সম্ভব। পৃথিবীর অনেক দেশেই এ জাতীয় পর্দাথ থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদন করে কলকারখানা এবং গৃহস্থালী কাজে ব্যবহার হচ্ছে। বায়োগ্যাস ব্যবহার এবং উৎপাদনে গণচীন সবচেয়ে এগিয়ে আছ। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও বায়োগ্যাসের প্রচলন রয়েছে। গৃহস্থালী রান্নাবান্না এবং ম্যান্ডেলবাতি জ্বালানো ছাড়াও বায়োগ্যাস দিয়ে জেনারেটরের সাহায্যে বিদু্যৎ উৎপাদন করে বাতি, ফ্যান, ফ্রিজ, টিভিসহ অন্যান্য বৈদুত্যিক সরঞ্জামাদি চালানো সম্ভব। গবেষকরা বলছেন, ৭-৮ সদস্য বিশিষ্ট পরিবারের জন্য ৫-৬ টি মাঝারি আকারের গরুর দৈনন্দিন গোবর থেকে ১০৫ ঘনফুট গ্রাস উৎপাদন সম্ভব যা দিয়ে তিন বেলার রান্না-বান্না সহ একটি ম্যান্টেল বাতি জ্বালানো যাবে।
জ্বালানি সংকট সমাধানে এই মাধ্যমটিতে এত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এর প্রসার ঘটেনি এ দেশের এতটুকুও। বাংলাদশে বিজ্ঞান ও গবেষণা পরিষদের জ্বালানি গবেষণা ও গোড়ার ইনস্টিটিউট এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে অনেক বছর ধরে।
কিভাবে বায়োগ্যাম প্লান্ট তৈরী করবো, এর কারিগরী তথ্য কোথায় পাব, এর নির্মাণ ব্যয় কত হবে ইত্যাদি।

৭/৮ সদস্যবিশিষ্ট পরিবারের জন্য ১০৫ (৩ ঘনমিটার) ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনক্ষম স্থিরডোম বায়েঅগ্যাস প্লান্ট নির্মাণ পদ্ধতি

ডাইজেস্টার তৈরি পদ্বতি
২৫০ সে. মি. ব্যাস এবং ২২০ সে. মি. গভীর একটি গোলাকার কুয়া খননকরতে হবে। কুয়ার তলদেশ চাড়ির তলার আকৃতিতে খনন হবে যাতে হেব যাতে বাড়ির তলার মধ্যবিন্দু থেকে আর্চের উচ্চতা ৩০ সে. মি. (১ ফুট) হয় এর পর তলদেশে ভালো করে দুরমুজ করে নিতে হবে।
তলদেশে ৭.৫ সে. মি. পুরু ইট বিছিয়ে দিতে হবে। এই সোলিং-এর ওপর ১:৩:৬ (সিমেন্টঃ বালুঃ খোয়া) অনুপাতে ৫ সে. মি. পরু ঢালাই দিতে হবে। ঢালাই এর ওপর ২১০ সে. মি. ব্যাস (ভিতরে রেখে গোলাকৃতি ১২.৫ সে. মি. ইটের দেয়ালের গাঁথুনি করতে হবে। দেয়ালের উচ্চতা যখন ২৫ সে. মি. হবে

মনে করি,
প্রস্তাবিত ডাইজেস্টারের কেন্দ্র হতে ইনলেট চেম্বারের কেন্দ্র পর্যন্ত দূরত্ব- x
এবং হাইড্রোলিক চেম্বারের কেন্দ্র পর্যন্ত দূরত্ব- y
ডাইজেস্টারে ব্যাস- D
হাইড্রোলিক চেম্বারের ব্যাস- D2
ভূতল হতে ডাইজেস্টারের টপ ডোমের গভীরতা- ০.৩০ m
ডাইজেস্টারের উপরের ডোমের উচ্চতা- f1
ডাইজেস্টারের দেয়ালের উচ্চতা- H
ডাইজেস্টারের নীচের ডোমের উচ্চতা- f2
ডাইজেস্টারের দেয়ালের পুরুত্ব- T
উপরের ডোমের পুরুত্ব- T1
তলার ডোমের পুরুত্ব- T2
ইনলেট চেম্বারের দেয়ালের পুরুত্ব- T4
হাইড্রোলিক চেম্বারের দেয়ালের পুরুত্ব- T3
ইনলেট চেম্বারের কেন্দ্র- C2
ডাইজেস্টারের কেন্দ্র- C
হাইড্রোলিক চেম্বারের কেন্দ্র- C1
ওপরের ডোমের বক্রাকার বাঁকের ব্যাসার্ধ- R1
নীচের ডোমের বক্রাকার বাঁকের ব্যাসার্ধ- R2
biogas plant
তখন কুয়ার একদিকে হাইড্রলিক চেম্বারের মুখের জন্য ১৫০ সে. মি.× ৭৫ সে. মি. এবং অন্যদিকে ইনলেট পাইপ বসানোর জন্য ২০×২৫ সে. মি. গাঁথুনি খোলা রাখতে হবে। ১৫ সে. মি. ব্যাসবিশিষ্ট একটি আরসিসি পাইপ (ইনলেট পাইপ) দেয়ালের সঙ্গে আনুমানিক ৩০ ডিগ্রি কোণ রেখে বসিয়ে নিতে হবে।
biogas plant
দেয়ালের কাজ মোট ১০০ সে. মি. হলে হাইড্রলিক চেম্বারের দরজার কাজ শেষ হবে। দেয়ালেরকাজ পুনরায় শুরু করে হাইড্রলিক চেম্বারের মুখের উপরিভাগ থেকে ৪০ সে. মি. পর্যন্ত গেঁথে নিতে হবে। এখন দেয়ালের উপরিভাগে ১:২:৪ অনুপাতে ৭.৫ সে. মি.পুরু ঢালাই দিতে হবে। এই ঢালাই-এর ওপর ৭.৫ সে. মি. পুরু ইটের গাঁথুনি দিয়ে ৬০ সে. মি. আর্চ উচ্চতাবিশিষ্ট গম্বুজ আকৃতির ডোম তৈরী করতে হবে।

ডেমের উপরের অংশে গ্যাস নির্গমনের জন্য একটি ১.২৭ সে. মি. ব্যাসবিশিষ্ট ২৫ সে. মি. লম্বা জিআই পাইপ খাড়াভাবে স্থাপন করতে হবে। জিআই পাইপের উপরি অংশে একটি গ্যাস ভাল সংযুক্ত করতে হবে। এখন দেয়ালের ভিতরের অংশে নিচ থেকে হাইড্রলিক চেম্বারের মুখের উপরিভাগ পর্যন্ত ১:৪ অনুপাত ১.২৭ সে. মি. পুরু প্লাস্টার করতে হবে। হাইড্রলিক চেম্বারের মুখের উপরি ভাগ তেকে ডোমের ভেতরের সম্পূর্ণ অংশ ১:৩, ১:২, ১:১ অনুপাতে তিনবার প্লাস্টার করতে হবে।
biogas plant
প্রতিবার প্লাস্টারিং-এর পূর্বে সিমেন্ট পেস্ট করে ব্রাশ করে নিতে হবে। ৫/৬ কিউরিং করার পর ভেতরের ডোমসহ আউটলেটের মুখ পর্যন্ত দেয়ালের শুকনা অবস্থায় ১ মি. মি. পুরু মোম/সিলিকেট প্রলেপ দিতে হবে। ডোমের ওপরের সম্পূর্ণ অংশ প্লাস্টার করে নিতে হবে।

হাইড্রোলিক চেম্বার
৭.৫ সে. মি. ইটের গাঁথুনি দিয়ে ২ স্তরবিশিষ্ট একটি আয়তাকার হাইড্রলিক চেম্বার তৈরী করতে হবে। নিচু ও ওপর চেম্বারের মাপ হবে যথাক্রমে ১০০ সে. মি. দৈর্ঘ্য × ১৫০ সে. মি. প্রস্থ × ১১৫ সে. মি. উচ্চতা এবং ১৬০ সে. মি. দৈর্ঘ্য × ১৫০ সে. মি. প্রস্থ × ৬০ সে. মি. উচ্চতা। ৬০ সে. মি. দেয়ালের শেষ হলে স্পেন্ট স্লারি নির্গমনের জন্য একটা খোলা পথ/দরজা রাখতে হবে হাড্রলিক চেম্বারের ভিতরে দিক ১:৪ অনুপাতে প্লাস্টার কাজ শেষ করে নিতে হবে। স্পেন্ট স্লারী নির্গমনের পথের ওপরে আরও ৭.৫ সে. মি. গেঁথে নিতে হবে। হাইড্রলিক চেম্বারের ওপরের অংশ ঢেকে রাখার জন্য প্রয়োজনবোধে স্লাব ব্যবহার করতে হবে।

ইনলেট ট্যাঙ্ক
ইনলেট পাইপের মুখে ৬০ সে. মি. × ৬০ সে. মি. মাপে একটি ১২.৫ পুরু ইটের ট্যাঙ্ক তৈরী করতে হবে। এই ট্যাঙ্ক ভেতরের অংশ ভালোভাবে প্লাস্টার করতে হবে। ডাইজেস্টার হাইড্রলিক চেম্বার এবং ইনলেট ট্যাঙ্ক তৈরীর পর প্লান্টের চারপাশে বালি ও মাটি দিয়ে এমনভাবে ভরাট করতে হবে যেন ডোমের উপরিভাগ পর্যন্ত মাটির নিচে থাকে।

প্লান্ট চালু করার নিয়মাবলী
প্লান্ট চালু করার সময় ১.৫/২ টন কাঁচামাল যথা গোবর, হাঁস-মুরগির মল, মানুষের মল জাতীয় পচনশীল পদার্থের প্রয়োজন। প্লান্ট তৈরির শুরু থেকে এগুলেপা জমা করে রাখলে প্লান্ট চালুর সময় এগুলো ব্যবহার করা যাবে। অবশ্য কেউ যদি ২/১ দিনেই উক্ত পরিমান কাঁচামাল যোগাড় করতে পারেন, তবে আগে থেকে জমা করে রাখার প্রয়োজন নেই। জমাকৃত কাঁচামাল এবং পরিষ্কার পানি গোবরের ক্ষেত্রে ১:১ হাঁস-মুরগির মলের ক্ষেত্রে ১:৩ অনুপাতে মিশিয়ে ইনলেট পাইপ দিয়ে আস্তে আস্তে কুয়ায় ঢালতে হবে। চার্জিং-এর সময় খেয়াল রাখতে হবে মাটির চাকা, পাথর, বালি, বড় সাইজের খড়কুটা ইত্যাদি যেন কুয়ার ভিতর প্রবেশ না করে। যদি প্লান্ট সম্পূর্ণ ভর্তি না হয়, বাকি অংশ পানি দিয়ে ভরে নিতে হেব।

প্লান্ট এবং গ্যাস বাল্বের ছিদ্র পরীক্ষা
গ্যাস বাল্বের ছিদ্র পরীক্ষার জন্য পলিথিন পাইপের গ্যাস বাল্বের মাথা পানির মধ্যে সামান্য ডুবিয়ে দিতে হবে। যদি বাল্ব বন্ধ অবস্থায় পানিতে বুদবুদ তৈরী হয়, তবে বুঝতে হবে বাল্বের ভিতর ছিদ্র আছে। বাল্বের গোড়ায় সাবানের ফেনা লাগিয়ে যদি বুদবুদ দেখা তবে ধরে নিতে হবে বাল্বের গোড়ায় গ্যাস লিক রয়েছে। এমতাবস্থায় গ্রিজ ও পাট জাতীয় কিছু দিয়ে ছিদ্র বন্ধ করতে হবে।

গ্যাস সরবরাহের নিয়ম
১.২৭/২.৫৪ সে. মি. চওড়া পিভিসি / জিআই পাইপ লাইন প্লান্ট থেকে চুলা, হ্যাজাক লাইট, জোনারেটর পর্যন্সংযোগ করতে হবে। যেহেতু বায়োগ্যাসে পানি মিশ্রিত থাকে, সেহেতু পানি জমে থাকার সম্ভবনা থাকবে না। পাইপের এক মাথা একটি প্লাস্টিক পাইপের সাহায্যে প্লান্টের সরবরাহ লাইনে এবং অন্য মাথাটি চুলা, হ্যাজাক, লাইট, জেনারেটর ইত্যাদির সাথে টি-এর সাহায্যে যুক্ত করে নিতে হবে।
৩ মিটার (১০৫) ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনক্ষম স্থিরডোম বায়োগ্যাস প্লান্ট নির্মাণের উপকরণ সমূহের পরিমাণ এবং মূল্য ১৯৯৪ সালের বাজর অনুসারে দেয়া হল। ১ হাজার ইট ২,৭০০ টাকা, ১২ বস্তা সিমেন্ট, ২,৭০০ টাকা, ১২০ ঘনফুট বালু ৫০০ টাকাক, আরসিসি পাইপ ১২ ফুট ১৫০ টাকা, রাজমিস্ত্রি ৮ জন ৮০০ টাকা, হেলপার ১২ জন ৬০০ টাকা, গ্রঅস বাল্ব (শর্ট পিসসহ) ১টি ১০০ টাকা, মোম ২ কেজি ১০০ টাকাক, বার্নার ১টি ৫০০ টাকাক, হ্যাজাক ১টি ৫০০ টাকা, পাইপ ২০০ টাকা, কুয়া খনন ৫০০ টাকা এবং অন্যান্য খরচ ২০০ টাকা মিলে মোট ৯,৫৫ টাকা আনুমানিক খরচ হবে। এ জাতীয় একটি গ্যাস প্লান্টের স্থায়িত্ব হবে অন্তত ৩০ বছর।

বর্তমানে বাংলাদেশে গরু-মহিষের সংখ্যা আনুমানিক ২ কোটি ২০ লাখ। এই গরু-মহিষ থেকে দৈনিক প্রাপ্ত গোবরের পরিমাণ ২২০ মিলিয়ন কেজি। প্রতি কেজি গোবর থেকে ১.৩ ঘনফুটগ্যাস হিসাবে বছরে ১০৯ ঘনমিটার গ্যঅস পাওয়া সম্ভব যা ১০৬ টন কেরোসিন বা কয়লার সমান। এ ছাড়াও হাঁস-মুরগি, ছাগল-ভেড়া ইত্যাদির মলমূত্র থেকে এবং আবর্জনা, কচুরপানা বা জলজ উদ্ভিদ থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বায়োগ্যাস পাওয়া সম্ভব। শুধু তাই নয়, গ্যাসহিসাবে ব্যবহারের পর ঐ গোবর জমির জন্য উৎকৃষ্ট মানের জৈব সার হিসাবে ব্যবহার করা সম্ভব। তাই প্রতিটি পরিবারকে বায়োগ্যাস প্লান্টের সাথে যুক্ত করতে পারলে জ্বালানি সঙ্কট দূর করে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং উন্নত গ্রামীণ জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা সম্ভব।
তথ্য সূত্র: শাইখ সিরাজ রচিত ‘মাটি ও মানুষের চাষবাস’ গ্রন্থ থেকে সংগ্রহীত