Saturday, October 31, 2020

All Shortcuts of Excel Explain.

Ctrl + E - Flash Fill

Ctrl+Page Up/Down: Move to the previous or next worksheet

Shift+Left/Right Arrow: Extend the cell selection to the left or right

Shift+Space: Select the entire row

Ctrl+Space: Select the entire column

Ctrl+Shift+Space: Select the entire worksheet

Home: Go to the leftmost cell in the current row (or go to the beginning of the cell if editing a cell)

Ctrl+Home: Move to the beginning of a worksheet

Ctrl+End: Go to the most bottom right used cell

Page Up/Down: Move one screen up or down in a worksheet

Alt+Page Up/Down: Move one screen to the right or left in a worksheet

F8 : Exntend Selection

Ctrl+W  / CTRL + F4: Close a workbook  (Alt + Space + C)

F4: Repeat the last command or action. For example, if the last thing you typed in a cell is “hello,” or if you change the font color, clicking another cell and pressing F4 repeats that action in the new cell.

Shift+F11: Insert a new worksheet

Ctrl+Z: Undo an action

Ctrl+Y: Redo an action

Ctrl+N: Create a new workbook

Ctrl+O: Open an existing workbook

Ctrl+S: Save a workbook

F12: Open the Save As dialog box

Ctrl+ P: Print / Print Preview

F1: Open the Help pane

F7: Check spelling

F9: Calculate all worksheets in all open workbooks

Alt + V + Z : Zoom in / Zoom Out

Alt or F10: Turn key tips on or off

Ctrl+F1: Show or hide the ribbon

Ctrl+Shift+U: Expand or collapse the formula bar

Ctrl+F9: Minimize the workbook window

F11: Create a bar chart based on selected data (on a separate sheet)

Alt+F1: Create an embedded bar chart based on select data (same sheet)

Ctrl+F: Search in a spreadsheet, or use Find and Replace

Alt+F: Open the File tab menu

Alt+H: Go to the Home tab
 
Ctrl+Tab: Switch between open workbooks

Shift+F3: Insert a function

Alt+F8: Create, run, edit, or delete a macro

Alt+F11: Open the Microsoft Visual Basic For Applications Editor

Ctrl+Left/Right Arrow: Move to the farthest cell left or right in the row

Ctrl+Up/Down Arrow: Move to the top or bottom cell in the column

Tab = Goto the Next cell  & Shift+Tab: Go to the previous cell

F5 or CTRL + G: Go to any cell by pressing F5 and typing the cell coordinate or cell name.

F2: Edit a cell

Shift+F2: Add or edit a cell comment

Ctrl+X: Cut contents of a cell, selected data, or selected cell range

Ctrl+C or Ctrl+Insert: Copy contents of a cell, selected data, or selected cell range

Ctrl+V or Shift+Insert: Paste contents of a cell, selected data, or selected cell range

Ctrl+Alt+V: Open the Paste Special dialog box

Alt+Enter: Insert a hard return within a cell (while editing a cell)

F3: Paste a cell name (if cells are named in the worksheet)

Esc: Cancel an entry in a cell or the formula bar

Enter : Complete the Formula / Paste Content if already copied

Alt+H+H: Select a fill color

Alt+H+B: Add a border

Ctrl+Shift+&: Apply outline border

Ctrl+Shift+_ (Underscore): Remove outline border

Ctrl+9: Hide the selected rows

Ctrl + Shift + 9 : Unhide Rows

Ctrl+0: Hide the selected columns

Ctrl+1: Open the Format Cells dialog box

Ctrl+5: Apply or remove strike through

Ctrl+Shift+$: Apply currency format

Ctrl+Shift+%: Apply percent format

Ctrl+Shift+#: Apply Date format

Ctrl+Shift+@: Apply Time format

Ctrl+Shift+!: Apply Number format

Ctrl+Shift+ ~: Apply General format

Ctrl+ ' : Copy Above Content to Fill below

Ctrl + D = Fill Down

Ctrl + R - Fill Right

Ctrl + F3 = Name Manager 

Ctrl  + F10 = Restore Window or Alt + Space + R   

Alt + Space + X - Maximize  or Ctrl + F10 - Restore 

Ctrl + F9 - Minimize  / Alt + Tab - Maximize / Switch

Ctrl + F11 - Insert Macro Name Sheet

Ctrl  + F12 = Open Dialog box

Ctrl + Shift + F1 - Hide Tab and Ribbon

Alt + V + U - Full Screen

Ctrl + Shift + F3 - Create Names from Selection

Alt + H + W - Wrap Text

Ctrl + Shift + Page Down / Page up - Select All Sheets to the right / Left

Ctrl + ; - Insert Date

Ctrl + Shift + ; - Insert Time

Ctrl + T - Create Table or Ctrl + L 

Alt + H + O + R - Rename Sheet

Ctrl + H - Replace

Ctrl + K - Hyperlink

Ctrl + Shift + {  - Select all cells which involved in selected formula 

Ctrl + Shift + }  - Select Formula cells where selected cell in included  

Ctrl  + Shift + A - Insert Argument Names into a Formula

Alt + A + T - Apply and Remove Filter

ALT + N + V - PIVOT TABLE

ALT + = : AutotSum

ALT + H +M + C - MERGE AND CENTER

CTRL  + ~ = Show and Hide All formulas from sheet

CTRL + SHIFT + ENTER - Create Array

Alt + A + Q - Advance Filter

 Alt + H + O + I - Auto-fit Column Width

Alt + H + FP - Format Painter

Alt + H + E + F - Clear Format

Ctrl + + - Insert Column / Row
 
Ctrl  + -  = Delete Row / Column
 
Alt + I + R - Insert Row
 
Alt + I + C - Insert Column
 

Thursday, October 22, 2020

হাপাইতে হাপাইতে এক বৃদ্ধ রিক্সাচালক আমাকে বললো!

হাপাইতে হাপাইতে এক বৃদ্ধ রিক্সাচালক আমাকে বললো, সাহেব আমার লগে চলেন, ১০ ট্যাহা কম দিয়েন। আমার আরো ৫০ ট্যাহা লাগবো। আমি আমার বউয়ের লাইগ্যা সবজী, ডাইল-ভাত কিনুম।  

একথা শুনে তখন আর না করতে পারি নি। রিকশায় উঠে বসি। রাস্তায় প্রচুর জ্যাম। একটু যাচ্ছে তো  একটু থামছে। সামনেই দেখছি বৃদ্ধলোকটা খুব কষ্ট করে গাড়ি চালাচ্ছে। আমি জিজ্ঞেস করি মামা, তুমি এই বয়সে রিক্সা চালাও কেনো? তোমার কি ছেলে মেয়ে কেউ নাই? 

 কয়েক সেকেন্ডের বিরতি নিয়ে সে বলে উঠল,
সাহেব, মগবাজার যাইতে আরো চল্লিশ মিনিট লাগবো তাইলে হুনেন আস্তে ধীরে।

আমি মনু (৭১) আইজ থেইক্যা বছর তিনেক আগে জেল থেইক্যা ছাড়া পাইছি। তেরোডা বছর বিনা দোষে জেল খাটছি।

খিলক্ষেতে, খা-পাড়ায় আমার একটা মুদির দোকান আছিল। আশে-পাশে অনেক গার্মেন্টস আছিল। অনেক মাইনসে কাম করত। ভালোই  ইনকাম হইতো আমার। ম্যালা সুখেই দিন যাইত আমাগো। মাঝে মাঝে বাকীও দিতাম। আমার দুই পোলা। করিম আর রহিম। বড় পোলা রহিম হার্টের রুগী। আল্লাহ দিছে অসুখ সাহেব, কি করতাম আর। প্রত্যেক মাসে  রহিমের ডাক্তার খরচ দিয়া কোন রকম জীবন যাপন করতাম। ম্যালা টেহা যাইত।

মাঝে মাঝে দোকানে কিছু পোলাপাইন বইয়া আড্ডা দিত। ঢাকাইয়া পোলাপাইন অনেক দিন ধইরা চিনতাম।আমারে মাঝে মইধ্যে ভাই ভাই কইয়া ডাকতো। কাম কাইজে সাহায্য করতো। আমিও একা মানুষ বিশ্বাস করতাম। আমার একদিন খুব শইল খারাপ করে। বউ, রমিজারে কইয়া আমি ফার্মেসি থেইক্কা ওষুধ আনতে গেছি।

এই ফাঁকে  একটু  পরে পোলাপাইন গুলা আমারে ফোন করে। কয় ভাই,দোকানে দুই গাড়ি পুলিশ আইছে, আপনারে খুঁজে। আমি ওষুধ আর না কিন্নাই হাঁটা ধরছি। যাইয়া দেহি, বড় বড় দুইডা গাড়ি আমার দোকানে সব সময় মাল ডেলিবারি দিতো হেই ড্রাইবার।

আমি যাওয়া মাত্রই আমার দোকান খুইল্লা চিনির বস্তা থেইক্যা লাল দুই পেকেট ইয়াবা বাইর করে। আমি হেডির নাম জানতাম না ধরা খাওনের পরে নাম হুনছি। আমি জানতাম না কিছুই, আমার হাতে রশি  লাগাইয়া থানায় নিয়া কোটে চালান কইরা দিলো।

 রমিজা অনেক কষ্টে আমার সাথে দেখা করবার যায়। আমারে ছাড়াইতে পারে নাই। ধরার তিনমাস পরে আমারে তের বছরের সাজা দিলো। ছয় মাস পর পর রমিজা দেখা করতো আমার লগে।। ছেলে গুলার খুঁজ নিতাম, বড় পোলাডা আমার টাকার অভাবেই বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে। রমিজা আমার কাছে লুকায়ে রাখছে। ছোডো পোলাডা  ফুটপাতে টোকাই। মা পোলায়  মিল্লা কোন রকম বাইচ্চা থাকতো।

ওহন আমার কোন ব্যাবসা করতে মন বসে না। এক জায়গাই তিনজন দেখলে সইরা যাই। এই শহরের মানুষ গুলা খারাপ। বিনা দোষে জেল দেয়, গরীব বইলা দাম দেয় না সাহেব, চোর বাটপার মনে করে আমাগো। ভরসা পাই নাহ্।

এহন রিক্স চালাই। দিন আনি দিন খাই। বাসায় অসুস্থ বউ, বয়স হইছে এহন আর কামে কাজে যাইবার পারে না। ছোট পুলাডা বড় হইছে, কই যায় কি করে খোঁজ পাই না।

তিনদিন হইয়া গেলো বউটা উইঠ্যা রানবার পারে না। সারাদিন গাড়ী চালাই মালিকরে ১৬০ টাকা, ভাড়া দিয়ে যা'ই থাকে দুইজনে খাওন কিন্না খাই। রমিজা আমারে ছাড়া খাইবার পারে না। আমি নিজ হাতে খাইয়ে দেই সাহেব। আমি বুড়া বয়সে তার জন্য কিছুই করবার পারলাম। আমি জেলে থাকতে রমিজা আমার লাই কত কি না করলো। তেরডা বছর আমার লেইগ্যা অপেক্ষা কইরা রাস্তায় দিন কাটাইছে।

আজকে অনেক কষ্ট হইতাছে। এহনো  ৪০ ট্যাহা হইলে দুইজনের দুই বেলা খাওনের টাহা হইবো। 

আমি জানিনা  সাহেব কোন কারণে আমার লগে এইগুলান করলো। আমি জেলে না থাকলে আমার রহিম মরতো না। আমার রমিজা মাইনষের বাসায় এক প্লেট ভাতের জন্য কাজ করতো নাহ। আমিও আজকে রিক্সা চালাইতাম না। আমার বউ আইজ বিনা চিকিৎসায় ঘরে হুইয়া থাকতো না।  সাহেব আমি ক্ষতি করি নাই আল্লাহ দেখছে, আমি কোটে বিচার না পাইলেও আল্লাহর কাছে পামু। আল্লাহ আমার বিচার করবো। আমি দুখি না সাহেব আমি সুখি। আমার জীবনে কোন পাপ নাই। আমি হালাল কামাই হালাল খাই।

উনি কথা গুলা বললেন আর কাঁদলেন। আমি বনানী থেকে মগবাজার যাই। রাস্তায় প্রতিটা চোখের ফোঁটা যেন বৃষ্টির মতো টপ টপ করে পড়লো। 

নাহ আমি ওনাকে শান্তনা দিতে পারি নি। এমন দুখি মানুষের আমার সামান্য শান্তনায় ক্ষতি পরিপুরণ হবে না। 
"Collected"

Monday, October 5, 2020

মহাবিশ্বের জীবনী।

#জীবনবিজ্ঞান 

কত বিশাল এ মহাবিশ্ব! ভাবা যায়! তার কোথাকার কোন চিপার এক পিচ্চি গ্রহে বসে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র এই আমি মহাবিশ্বের জন্মমৃত্যু নিয়ে লিখছি! এরচেয়ে হাইস্যকর আর কীই বা হতে পারে? যাইহোক আর যে যাই বলুক, এই ইউনিভার্সের হ্যাপিবার্থডে থেকে মৃত্যুদিবস পর্যন্ত না লিখে ছাড়ব না এই আমার শেষ কথা। তাতে যার যেখানে খুশি চুলকাক।
এখন আমি মহাবিশ্বের সৃষ্টি নিয়ে বিভিন্ন সভ্যতার মধ্যে যে বিশ্বাস প্রচলিত ছিল (হয়তো এখনো আছে) তা নিয়েই কথা বলব।

আমাদের পৌরাণিক ভারতবর্ষের প্রচলিত ধারণা দিয়েই বরং শুরু করি; সেই ধারণা মতে দেবতা ব্রহ্মা ৮৬৪ কোটি বছর পরপর ব্রহ্মান্ডকে ধংস করে আবার নতুন করে তৈরি করেন। অর্থাৎ এই মহাবিশ্ব ধংস-সৃষ্টি-ধংস এইরকম একটা চক্রে আবদ্ধ। আর আমাদের বর্তমান মহাবিশ্বের অস্তিত্বকাল সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর, কলি এই চার যুগে বিভক্ত। হিসাব অনুযায়ী আমরা শেষযুগ কলিতে জন্ম নিয়েছি! এই মহাবিশ্বের ধংস হবে বিষ্ণুর দশম অবতার কল্কির আগমনের পর।

এবার আসি চৈনিক উপকথায়; প্যান গু নামের এক অতীকায় দেবতা একটা ডিমের ভেতর আঠারো হাজার বছর ঘুমিয়ে ছিলো । মজার ব্যাপার হলো সেই ডিমের মধ্যেই আমাদের মহাবিশ্ব জড়সড় হয়ে ভর্তি ছিলো। প্যান গুর ঘুম ভাঙলে তিনি এক কুঠারের আঘাতে ডিম ভেঙে বেড়িয়ে আসেন। আর সেই সাথে সৃষ্টি হয় মহাবিশ্ব!

আফ্রিকান উপকথা অনুযায়ী, বোম্বা নামের এক দেবতার একদিন খুব পেটে অসুখ হলো। সেই সাথে হয়ে গেল কয়েক দফা বমি। প্রথম দফায় বেড়োলো সূর্য্য আর পানি। সূর্যের তাপে পানি শুকিয়ে ডাঙা হলো। পরেরবার বেরোলো চাঁদ, গ্রহ আর অন্যান্য নক্ষত্রগুলো। শেষবারে বেরোয় সকল জীবকুল!

গ্রীকপুরাণ বলে যে দেবী ইউরিনোম যখন জন্ম নেন তখন আকাশ -পৃথিবী -সাগর সব একসাথে জগাখিচুড়ি হয়ে ছিলো। ইউরিনোম পৃথিবী থেকে আকাশকে আলাদা করে দেন। ইউরিনোমের বাবা অন্ধকারের দেবতা ক্যাওস আলোর সাথে মিশে দিন রাত্রির ব্যাবস্থা করেন। ক্যাওসের আরেক সন্তান অফিওন নামক সাপ ইউরিনোমের প্রতি আকৃষ্ট হয়। তখন দেবী পাখির রুপ ধরে একটি ডিম প্রসব করেন। অফিয়ন সেই ডিমে তা
দিতে থাকে। সেখান থেকেই জন্ম হয় সকল জীব এবং পাহাড়ের।

মহাবিশ্বের জন্ম সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক মতবাদঃ
তার আগে বলে নেই, এই বৈজ্ঞানিক প্যাঁচাল আমার দুটো চারটে কথায় শেষ হবে না। লিখে যেতে হবে গোটাকয়েক পর্ব। আর শুধু জন্ম লিখলেই তো হবে না! জীবনী যখন লিখতে বসেছি তখন এত্তো বড় এই ইউনিভার্সের এট দ্যা ইন্ড কী সেও তো লিখতে হবে! মোদ্দাকথা আমাদের পারি দিতে হবে দীর্ঘ এক পথ। যে পথ শুরু হবে ক্ষুদ্র এক বিন্দু থেকে আর শেষ হবে...কোথায়? সেটা তো পথের শেষেই জানা যাবে তাই না?তাহলে সিটবেল্ট বেঁধেনিন আর শুরু করা যাক আমাদের জার্নি!

মহাবিশ্বের জন্ম হয়েছে বিগব্যাং(মহাবিস্ফোরণ) এর মাধ্যমে; সে তো আমরা সবাই জানি(যারা জানেন না তারাও পড়তে থাকুন। কোনো সমস্যা হবে না)। কিন্তু দাড়ান, বিগব্যাং এর আগে কি ছিলো?
উত্তর হলো, কিছুই ছিলো না!
এইটা কেমন কথা? বিগব্যাং এর আগে একেবারে কিচ্ছুই ছিলোনা? কিচ্ছু না? ক্যামনে সম্ভব?
চলুন তাহলে সহজ যুক্তির মধ্যদিয়ে দেখে নিই আসলেই সম্ভব কী না।

আচ্ছা এই বিগব্যাং থেকেই যে আমাদের ইউনিভার্স, আরো ভেঙে বললে ইউনিভার্সের সব উপাদান সৃষ্টি হয়েছে সে ব্যাপারে তো আমরা সবাই বিশ্বাস করি! তার মানে বিগব্যাং থেকেই আমাদের স্থানকাল সৃষ্টি হয়েছে, আর এখান থেকেই সময়ের যাত্রা শুরু যা আজ ১৩৭৮কোটি বছর ধরে শুধুই এগিয়ে চলেছে।
এখন ধরা যাক পুরো ইউনিভার্সের টাইম কন্ট্রোলের সুপার পাওয়ার আপনি পেয়ে গেছেন! তো আপনি করলেন কী, সময়টাকে পেছনের দিকে নিতে থাকলেন। এভাবে নিতে নিতে ১৩৭৮কোটি বছর অতিতে নিয়ে গেলেন; যেখান থেকে সময়ের শুরু সেখানে! কিন্তু ভাই আপনি তো বাঙালী; আপনি ছাড়বেন কেনো! আপনি দেখতে চান এরও আগে কী ছিলো তাই সময়কে আরো পেছানোর জন্যে গুঁতোগুঁতি করতে লাগলেন। কিন্তু সময় বেচারা কী করবে? সে তো তার শেষ সীমায় পৌঁছে গেছে! মানে যেখানথেকে তার জন্ম সেখানে! তাহলে সময় তার জন্মের আগের খবর জানবে কীভাবে? সুতরাং আপনার আর জানা হলো না যে বিগব্যাং এর আগে কী ছিলো।
আচ্ছা সে না হয় মানলেন জানা হলো না; কিন্তু কিছু তো ছিলো! আর আমি যে বললাম, "এর আগে কিছুই ছিল না!" এইটা ক্যামনে কী? ভাই আসেন একটু চিন্তা করি,
কোনোকিছুর "আগে(অতীত),পরে(ভবিষ্যৎ), এখন(বর্তমান)" এগুলা কিন্তু সময়ের উপরই নির্ভর করে! তাহলে বিগব্যাং এর আগে যখন সময়ই ছিলো না তখন বিগব্যাং এর "আগে" থাকবে কীভাবে? সুতরাং বিগব্যাং এর আগে কিছুই ছিলো না।
এবার পুরো ব্যাপারটা একটা উপমা দিয়ে বোঝাই কেমন?
ধরেন আপনি একটা বই কিনলেন। গল্পের বই। তো আপনাকে আমি জিজ্ঞেস করলাম,"প্রথম পৃষ্ঠার আগের পৃষ্ঠায় কোন গল্প আছে?" কী উত্তর দেবেন? কোনো গল্পই নেই! থাকবে কিভাবে? প্রথম পৃষ্ঠায় আগে যে কোনো পৃষ্ঠাই নেই!

বিগব্যাং হচ্ছে অদ্ভুত মজার এক তত্ব যেটা এই মহাবিশ্বের জন্ম কীভাবে হয়েছিলো সেটার ব্যাখা দেয়। সত্যিই খুব ইন্টারেস্টিং একটা বিষয় এই বিগব্যাং থিওরি।
মোটাদাগে বিগব্যাং আমাদের বলে যে, এই ইউনিভার্সের শুরু হয়েছে এক অতীব ক্ষুদ্র অঞ্চল(সিংগুলারিটি) থেকে। যেখানে প্রকৃতির সব নিয়মকানুন জড়িয়ে-পেঁচিয়ে ছিলো। সহজ কথায় বললে, পুরো ইউনিভার্সের সবকিছুই ওই বিন্দুবৎ অঞ্চলে একে অন্যের সাথে মিশে ছিলো।তবে একটা কথা, সবকিছু বলতে আবার ভাববেন না যে,আমি আপনি আজ যেভাবে আছি সেভাবেই ওইখানে ছিলাম;আসলে আমরা, আমাদের ইউনিভার্সের সবকিছুই তখন ছিলো প্লাজমা অবস্থায়।
আর সেই বিন্দুটাই ১৩৭৮ কোটি বছর ধরে ক্রমশ সম্প্রসারিত হয়ে আজকের এই অবস্থায় এসেছে।এমনকি এখনো প্রসারিত হচ্ছে।
এইবার আরেকটু খোলাখুলি কথা বলি কেমন;
ইউনিভার্সের শুরুটা হয় এক অকল্পনীয় বিস্ফোরণের মাধ্যমে। আসলে বিগব্যাং থিওরির বাংলাই হচ্ছে মহাবিস্ফোরণ তত্ব।
এই বিস্ফোরণের ১০^-৪৩ সেকেন্ড পর্যন্ত মহাবিশ্ব খুবই দ্রুত প্রসারিত হয়। আর এটা যে কতোটা দ্রুত সে আমি গাঁজা খেয়েও কল্পনা করতে পারব না। এই সময়টুকুর মধ্যেই ওই ছোট্ট পিচ্চি মহাবিশ্বটা বেশ বড়সড় হয়ে যায়!
১০^-৩২ সেকেন্ডে মহাবিশ্বের তাপমাত্রা ছিলো ১০^২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময়ে সারা ইউনিভার্স জুড়ে ছিলো শুধু ইলেকট্রন, কোয়ার্ক এবং অন্যান্য মৌলিক কণাগুলো। পরের১০^-৬ সেকেন্ডে কোয়ার্কগুলো মিলিতো হয়ে প্রোটন এবং নিউট্রন গঠন করে। এসময় ইউনিভার্সের তামপাত্রা নেমে দ্বারায় ১০^১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে!
বিস্ফোরণের প্রথম সেকেন্ডে মূলত এই ঘটনাগুলোই খুব দ্রুত ঘটে। মোট কথা সময়ের সাথে সাথে ইউনিভার্স ঠান্ডা হতে থাকে আর সেই সাথে তৈরি হয় প্রোটন ও নিউট্রন। পরবর্তী ৩মিনিটে তাপমাত্রা নেমে আসে ১০^৮ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তখন প্রোটন আর নিউট্রন একসাথে মিলে হায়ড্রোজেন আর হিলিয়াম নিউক্লিয়াস তৈরি করে। এরপর প্রায় ৩০০,০০০বছর ধরে ইলেক্ট্রন গুলো ওই নিউক্লিয়াসের সাথে একত্রিত হয়ে পরমাণু তৈরি করতে থাকে। বলাবাহুল্য, যার বেশিরভাগই ছিলো হায়ড্রোজেন আর হিলিয়াম পরমাণু। এ সময় ইউনিভার্সের তাপমাত্রাও গিয়ে দাঁড়ায় ১০,০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
তারপর এক দীর্ঘ সময় ধরে গ্র্যাভিটি দেখাতে থাকে তার ক্যালমা! হায়ড্রোজেন আর হিলিয়াম গ্যাসগুলো প্রায় ১বিলিয়ন বছর ধরে মহাকর্ষেরর কারণে জমা হতে হতে দৈত্যাকৃতির মহাজাগতিক মেঘের সৃষ্টি করে। যেগুলোকে প্রোটো গ্যালাক্সি বলে। তখন তাপমাত্রা ছিলো -২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়াও গ্যাসের তুলনামুলক ছোটো ছোটো পিণ্ড থেকে সৃষ্টি হতে থাকে নক্ষত্র সমূহ।
এর পরবর্তী সময়ে প্রাথমিক পর্যায়ে সৃষ্ট নক্ষত্রগুলো মারা যেতে থাকে ; এর ফলে সৃষ্ট ভারী পদার্থগুলো মহাশূন্যে ছড়িয়ে পরে। যার থেকে সৃষ্টি হয় এবং এখনো হচ্ছে বিভিন্ন গ্রহ ও নক্ষত্র।
ছোটো করে এই হচ্ছে বিগব্যাং তথা ইউনিভার্সের জন্মকথা।

এবার কাজের কথায় আসি; আমাদের ইউনিভার্সের শেষ পরিণতি কী হবে সেটা নিয়ে মুরুব্বিগণ অনেক ভাবনাচিন্তা করেছেন। আর শেষ পর্যন্ত বেরও করে ফেলেছেন যে, কী হবে(হতেপারে) আমাদের মহাবিশ্বের শেষ পরিণতি। কিন্তু ওইযে বলে,"নানা মুনির নানা মত। " আমাদের মুরুব্বিগণও বেশকয়েকটা মতামত সামনে আনলেন এ বিষয়ে। এখন সেই মতামত গুলোনিয়েই ঘাটাঘাটি করব।

বিগ রিপ (BIG RIP) থিওরিঃ
আচ্ছা আমরা তো জেনে এসেছি যে, এই ইউনিভার্স জন্ম থেকেই প্রসারিত হচ্ছে। এখনো অভাবনীয় গতিতে এই ইউনিভার্স প্রসারিত হচ্ছে। বিগ রিপ থিওরি বলে যে,আমাদের মহাবিশ্ব অনন্তকাল ধরে অবিরাম প্রসারিত হতে থাকবে। কিন্তু একটু দাঁড়ান,
মহাবিশ্বের একটা বস্তু আরেকটা বস্তুকে তো আকর্ষণ করে। তাহলে তারা একে অপরের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে কেনো?
খুবই সুন্দর আর যৌক্তিক একটা প্রশ্ন। কিন্তু ঘটনা হচ্ছে এই আকর্ষণ টা যে মহাকর্ষ বল তা তো আমরা জানি। আর এটাও জানি যে মহাকর্ষ বলটা মৌলিক বলগুলোর মধ্যে সবচাইতে দুর্বল। আর মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের পেছনে নাটেরগুরু হয়ে রয়েছে দ্যা গ্রেট, " ডার্ক এনার্জি।" যে এখনো আমাদের চোখের এবং জ্ঞানের গণ্ডিতে ধরা দেয়নি।
কিন্তু বিগ রিপের জন্য একটা নির্দিষ্ট ডার্ক এনার্জি দায়ী। যার নাম," ফ্যানটম(phantom)এনার্জি।" এই ফ্যানটম এনার্জির তখনই কাজ করে, যখন ডার্ক এনার্জির চাপ তার এনার্জির ঘনত্বের চাইতে বেশি হয়। এভাবেও বলা যায়, এ দুয়ের অনুপাত হয় -১ এর চাইতে কম। কিন্তু সমস্যা হলো, আমরা এখনো সঠিক জানি না এই ডার্ক এনার্জির চাপ আর ঘনত্বের অনুপাত কী।
মজার ব্যাপার হচ্ছে এই সম্প্রসারণের মান কিন্তু সময়ের সাথে সাথে বাড়তেই থাকবে। একপর্যায়ে গ্যালাক্সি ক্লাস্টার থেকে গ্যালাক্সি গুলো আলাদা হয়ে যাবে।গ্যালাক্সি থেকে সৌরজগৎ আলাদা হয়ে যাবে। ভবিষ্যতের একটা পর্যায়ে প্রতিটা অনু একে অন্যের থেকে আলাদা হয়ে যাবে।
বিগরিপ অনুযায়ী শেষপর্যন্ত মহাবিশ্বের প্রতিটা কণা আলাদা হয়ে যাবে। তখন স্পেস জুড়ে অসংখ্য কণা ছড়িয়ে থাকবে ঠিকই, কিন্তু সেগুলোর মধ্যে পুণরায় কোনো বন্ধন গঠন হবে না।

বিগ ফ্রিজ (The Big Freeze):
এই বিগ ফ্রিজ থিওরিটি " বিগ চিল" এবং "হিট ডেথ' থিওরি নামেও পরিচিত। মজার ব্যাপার হচ্ছে, আমাদের আগের বিগ রিপের মতো বিগ ফ্রিজও রহস্যময় ডার্ক এনার্জির মতিগতির উপর নির্ভরশীল।
বিগ ফ্রিজ বলে যে, মহাবিশ্ব ক্রমশ বর্ধমান গতীতে সম্প্রসারিত হতে থাকবে। আরেকটু বিস্তারিত বললে, ইউনিভার্সের গ্যালাক্সি, নক্ষত্র, গ্রহগুলো ক্রমশ একে অন্যের থেকে দূরে সরে যেতে থাকবে। মোট কথা, ইউনিভার্সের এনট্রপি ক্রমশ বাড়তে থাকবে। এপর্যন্ত ব্যাপারটা অনেকটা ওই বিগরপের মতোই।
এবার আসল কথায় যাচ্ছি,
এই এনট্রপিটা কী? খায় নাকী মাথায় লাগায়?
এনট্রপি টা হচ্ছে বিশৃঙ্খলতার মাত্রা। অর্থাৎ কোনো কিছু যত বেশি বিশৃঙ্খল তার এন্ট্রপি তত বেশি। ধরেন, আপনার হাত থেকে পড়ে একটা ডিম ভেঙে গেলো; এতে করে ডিমের উপাদানগুলো ছড়িয়ে পড়লো তথা বিশৃঙখল হয়ে পড়ল। সুতরাং ডিমের এনট্রপি বেড়ে গেলো! দারুণ না?
এই ফাঁকে বলে রাখা ভালো যে, তাপগতীবিদ্যার ২য় সূত্র অনুসারে বস্তুর এনট্রপি বাড়ার সাথে সাথে এর থেকে তাপশক্তিও নির্গত হয়।
এই ইউনিভার্সের এনট্রপিও তার জন্মের সময় থেকে ক্রমশ বেড়েই চলেছে, বেড়েই চলেছে এবং বেড়েই চলেছে। সুতরাং একই সাথে মহাবিশ্বের সকল বস্তু থেকে তাপও নির্গত হচ্ছে। অর্থাৎ ইউনিভার্সের তাপমাত্রা ক্রমশ কমছে। এভাবে কমতে কমতে একপর্যায়ে এই ইউনিভার্স পরমশূন্য তাপমাত্রায় চলে যাবে। এই অবস্থায় মহাবিশ্বের এনট্রপিও হবে সর্বোচ্চ।
তখন চারদিক জুড়ে থাকবে শুধুই নির্জিবতা। অন্ধকার স্পেস জুড়ে থাকবে অসংখ্য নক্ষত্র, গ্যালাক্সি, গ্রহের মৃতদেহ। আর তখন আমিও জীবনান্দ দাসের সঙ্গে বসে আবৃতি করব,
"থাকে শুধু অন্ধকার, পাশাপাশি বসিবার বনলতা সেন।"

বিগ ক্রাঞ্চ (Big Crunch):
বিগ ক্রাঞ্চ বলে যে, এই ইউনিভার্সের ধংসের সাথে সাথে আরেকটি নতুন ইউনিভার্স সৃষ্টির প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। মানে আবার সেই সিংগুলারিটি,সেই বিগব্যাং; নতুন গ্যালাক্সি, নতুন সৌরজগৎ ; হয়তোবা নতুন আরেকটা পৃথিবী!
আবার ঘুরিয়ে বললে আমাদের এই মহাবিশ্বের সৃষ্টির আগে অন্য একটা মহাবিশ্ব ছিলো! এই যে জন্ম-মৃত্যু-জন্ম- মৃত্যুর চক্রটাকেই বলে, "CONFORMAL CYCLIC COSMOLOGY"।
বিগ ক্রাঞ্চ মতে, সুদূর ভবিষ্যতের কোনো একসময় এই ইউনিভার্সের গড় ঘনত্ব এমন একটা পর্যায়ে পৌছাবে যে, তারপর মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু এরপর কী হবে?
এরপরে ঘটতে শুরু করবে সবচাইতে মজার ব্যাপার। সহজ কথায় বলতে গেলে, এতোকাল ধরে ইউনিভার্সে যা যা ঘটেছে এরপর থেকে ঠিক তার বিপরীতটা ঘটতে থাকবে।
এ পর্যায়ে মহাবিশ্ব ক্রমশ সংকুচিত হতে থাকবে। সকল গ্যালাক্সি এবং গ্যালাক্সি ক্লাস্টার গুলো একে অন্যের কাছে আসতে থাকবে। এভাবে তৈরি হবে এক বিশায়ায়াল আকৃতির গ্যালাক্সি।
এই গ্যালাক্সির ভেতর নক্ষত্রগুলো একসঙ্গে মিশে যেতে থাকবে। শেষ পর্যায়ে নক্ষত্রগুলো ধংস হয়ে জন্ম হবে ব্ল্যাকহোলের। ব্ল্যাকহোলগুলো তাদের আশপাশের সবকিছুই নিজের ভেতর নিয়ে নেবে। একটাসময় এই ব্ল্যাকহোলগুলোও একসঙ্গে মিলে অনেক অনেক শক্তিশালী এক ব্ল্যাকহোলের জন্ম দেবে।
এখানে কিন্তু ভুলেও ভাবা যাবে না যে, ব্ল্যাকহোলটা হবে অনেক বড় আকারের। আসলে ব্ল্যাকহোলের আয়তন খুবই অল্প। একেবারে শুণ্যের কাছাকাছি বলা চলে। কিন্তু এই অতি অল্প যায়গাতেই ব্ল্যাকহোলের সব কিছু শুষে নিয়ে জমিয়ে রাখে
(অবশ্য হোয়াইট হোল থিওরি বলে যে, ব্ল্যাকহোলের অপর পাশ দিয়ে সেগুলো বেরিয়ে যায়। তবে সে বিষয় এক্ষেত্রে না আনাই ভালো)।
ব্ল্যাকহোলের ব্যাপারটা আমাদের "আব্দুল হাই" এর মতো। পড়েননি কবিতাটা?,
"আব্দুল হাই, করে খাই খাই;
সবকিছু খেয়ে বলে,
কিছু খাই নাই।"
মুল কথায় ফিরে আসি, এই মহাশক্তিধর ব্ল্যাকহোলটি মহাবিশ্বের বাকী যা কিছু ছিলো তাও চেটেপুটে শেষ করে দেবে। এরপর কি থাকবে?
সিংগুলারিটি! যেখান থেকে আমাদের ইউনিভার্সের যাত্রা শুরু হয়েছিলো; আবার সেখানেই শেষ! সেখান থেকে যাত্রা শুরু হবে আরো এক মহাবিশ্বের! একসময় সে ইউনিভার্সে হয়তো নতুন পৃথিবী সৃষ্টি হবে। হয়তো সে নতুন পৃথিবীতে নতুন এক জাহিদুল ইসলাম নতুন করে শোনাবে মহাবিশ্বের জন্ম কথা। এ যেনো রবীন্দ্রনাথের ছোটোগল্প,
"শেষ হয়ে হইলো না শেষ।"

Monday, September 28, 2020

ডার্ক ম্যাটারের খনি!!

চেহারায় আমাদের মিল্কি ওয়ের মতো হলেও, একেবারে ঘুটঘুটে অন্ধকারে ভরা একটা ভুতুড়ে গ্যালাক্সির খোঁজ মিলল। এই প্রথম। যে গ্যালাক্সিতে তারার সংখ্যা খুবই সামান্য। ফলে, আমাদের আকাশগঙ্গার মতো তার কোণায় কোণায় আলো জ্বলে না। আর সেই ভুতুড়ে গ্যালাক্সির প্রায় গোটা শরীরটাই (৯৯.৯৯ শতাংশ) ভরা রয়েছে অজানা, অচেনা পদার্থে। যার নাম ডার্ক ম্যাটার। তাই গোটা গ্যালাক্সি জুড়েই যেন ‘বিদিশার নিশা’! জমাট বাঁধা ভুতুড়ে অন্ধকার ফুঁড়ে ওই গ্যালাক্সির কিছু কিছু তারার আলো গ্যালাক্সির চার পাশে যেন তৈরি করেছে একটা জ্যোতি! সেই ‘জ্যোতি’ ছিল ভাগ্যিস। সেই আলোতেই টেলিস্কোপের লেন্সে ধরা দিয়েছে সেই ‘কৃষ্ণকলি’ ভুতুড়ে গ্যালাক্সি। যার নাম ‘ড্রাগনফ্লাই-৪৪’।

ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পিটার ভন ডোক্কুমের নেতৃত্বে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের একটি আন্তর্জাতিক দল এই ভুতুড়ে গ্যালাক্সিটির হদিশ পেয়েছে সম্প্রতি। গবেষণাপত্রটি ছাপা হয়েছে বিজ্ঞান-জার্নাল ‘অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল লেটার্স জার্নাল’-এ। এই ‘কৃষ্ণকলি’ গ্যালাক্সিটি রয়েছে এই ব্রহ্মাণ্ডের ‘কোমা’ নক্ষত্রপুঞ্জে। তার খোঁজ পেয়েছে হাওয়াই দ্বীপের ডব্লিউ এম কেক অবজারভেটরি ও জেমিনি নর্থ টেলিস্কোপ। জল বেশি থাকার জন্য গভীর সমুদ্রে যেমন জাহাজের গতি বেড়ে যায়, সমুদ্রোপকূলের চেয়ে, তেমনই কোন গ্যালাক্সিতে কত জোরে ছুটছে তারাগুলি, তার ওপর নির্ভর করে সেই গ্যালাক্সি কতটা ভারী। গ্যালাক্সির ভর কতটা। তারাগুলি যত জোরে ছোটে, গ্যালাক্সির ভরও হয় ততটাই বেশি।
কিন্তু ওই ভুতুড়ে গ্যালাক্সিতে তারাগুলি যতটা জোরে ছোটে বলে ধারণা ছিল জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের, দেখা গিয়েছে, তার চেয়ে অনেক অনেক বেশি জোরে ছোটে তারাগুলি।
তখনই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, এটা কী ভাবে সম্ভব হচ্ছে?
রাস্তায় গাড়িঘোড়া বেশি থাকলে তো ট্রাফিক জ্যাম হবেই আর তাতে রাস্তায় গাড়িঘোড়ার গতি কমে যাবে। ওই গ্যালাক্সিতেও যদি তারার সংখ্যা খুব বেশি হোত, তা হলে তারাগুলি অত জোরে ছুটতে পারতো না সেখানে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারলেন, ওই গ্যালাক্সিতে তারার সংখ্যা যৎসামান্যই। গ্যালাক্সির মধ্যে প্রচুর ফাঁকা জায়গা রয়েছে। আর সেই জায়গাগুলি একেবারে ঘুটঘুটে অন্ধকারে ভরা।
ওই ফাঁকা জায়গাগুলিতে অত অন্ধকার কেন?
যেন ‘বিদিশার নিশা’! ঘুটঘুটে কালো ‘ড্রাগনফ্লাই-৪৪’ গ্যালাক্সি
সেই জায়গায় যদি কোনও চেনা, জানা পদার্থ থাকতো, তা হলে তার ওপর আলো পড়লে তা প্রতিফলিত বা বিচ্ছুরিত হতো। আর সেই আলোয় আমরা ফাঁকা জায়গাগুলি দেখতে পেতাম। সেগুলি ঘুটঘুটে অন্ধকারে ঢাকা থাকতো না। তা হলে, নিশ্চয়ই সেই জায়গাগুলি ভরা রয়েছে এমন সব পদার্থ দিয়ে, যাদের সঙ্গে দৃশ্যমান আলো বা কোনও তড়িৎ-চুম্বকীয় তরঙ্গের কোনও বনিবনাই (ইন্টার-অ্যাকশন) হয় না। নেই বিন্দুমাত্র ভাবসাব। এর থেকেই জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন, ওই ফাঁকা জায়গাগুলি ভরা রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অজানা অচেনা ডার্ক ম্যাটার দিয়ে।
কিন্তু ওই ফাঁকা জায়গাগুলি শুধুই ডার্ক ম্যাটার দিয়ে ভরা, এ ব্যাপারে কী ভাবে নিশ্চিত হলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা?
গবেষকরা জানিয়েছেন, অত বিশাল এলাকা জুড়ে থাকা ফাঁকা জায়গাগুলি যদি একেবারেই শূন্য থাকতো বা আমাদের চেনা পদার্থ দিয়ে ভর্তি থাকতো, তা হলে ওই গ্যালাক্সির ভর অতটা বেশি হতো না। আমাদের সূর্যের ভরের এক লক্ষ কোটি গুণ ভর ওই ভুতুড়ে গ্যালাক্সির। আর এইখানেই আমাদের মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সির সঙ্গে তার মিল। আমাদের আকাশগঙ্গারও ভর তেমনটাই। অমিলটা হোল, সেই ভরের এক শতাংশের ১০০ ভাগের মাত্র এক ভাগ হয়েছে তার তারাদের জন্য। বা, অন্যান্য চেনা, জানা পদার্থের জন্য।
উল্লেখ্য আমাদের গ্যালাক্সিরও ২৭% ডার্ক ম্যাটার ও ৬৮%ডার্ক অ্যানার্জি দিয়ে ভর্তি!!!
বাকিটুকু আমাদের পৃথিবী সৌরজগৎ প্রভৃতি আমাদের পরিচিত পদার্থগুলো নিয়ে মাত্র ৫% দাঁড়ায়। এখন ভাবুন আমরা ইউনিভার্সের কতটুকু জানতে পেরেছি।
যাই হোক, এই ঘুটঘুটে অন্ধকারেই মিলবে ‘আলো’র দেখা? মিলবে ডার্ক ম্যাটার?
তা হলে অত ভর হল কী ভাবে ওই গ্যালাক্সির?
নিশ্চয়ই সেখানে রয়েছে এমন কিছু, যাদের আমরা চিনি না, জানি না। এরাই সেই ডার্ক ম্যাটার।
শরীরের ভেতর ডার্ক ম্যাটার রয়েছে, এমন গ্যালাক্সির আবিষ্কার অবশ্য এই প্রথম নয়। এর আগেও এমন গ্যালাক্সির খোঁজ মিলেছে। সেগুলির নাম ‘আলট্রা-ফেন্ট ডোয়ার্ফ গ্যালাক্সি’। তবে সেই গ্যালাক্সিগুলি ছোট ছোট। অত ভারীও নয় সেগুলি। ‘ড্রাগনফ্লাই-৪৪’ গ্যালাক্সির ভরের ১০ হাজার ভাগের মাত্র এক ভাগ ওই ছোট ছোট গ্যালাক্সিগুলির ভর।
তার মানে, এটা বলাই যায়, মহাকাশে ডার্ক ম্যাটারের এত বড় ‘খনি’র হদিশ মেলেনি এর আগে। ফলে, আগামী দিনে ডার্ক ম্যাটারের তল্লাশে বড় ল্যাবরেটরি হতে চলেছে এই ‘কৃষ্ণকলি’ ড্রাগনফ্লাই-৪৪’!
।তথ্যসূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা।
/স্বল্প পরিমার্জিত/

Friday, September 25, 2020

অনলাইনে জিডি করার নিয়ম কানুন জেনে নিন

জিডি শব্দটি জেনারেল ডায়েরীর সংক্ষিপ্ত রুপ। প্রতিটি থানায় এবং ফাঁড়িতে একটি ডায়েরীতে ২৪ ঘন্টার খবর রেকর্ড করা হয়। প্রতিদিন সকাল আটটায় ডায়েরী খুলে পরের দিন সকাল আটটায় বন্ধ করা হয়। অর্থাৎ কার্যত এটি কখনই বন্ধ হয় না।
এই ডায়েরীতে থানার বিভিন্ন কার্যক্রম  যেমন আসামী কোর্টে চালান দেয়া, এলাকার বিভিন্ন তথ্য, থানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আগমন ও প্রস্থানের তথ্য ইত্যাদি লিপিবদ্ধ থাকে।

নানাবিধ সমস্যায় পড়ে আমরা আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর দ্বারস্থ হয়ে থাকি। কিন্তু কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকলে তা থানায় লিখিত আকারে জানালে পুলিশ এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারে। আর কিভাবে আমরা থানা থেকে সেই সহযোগিতা নিতে পারি তা অনেকেরই জানা নেই।
মূল্যবান যে কোনো জিনিস হারালে যেমন- সার্টিফিকেট, দলিল, লাইসেন্স, পাসপোর্ট, মূল্যবান রশিদ, চেকবই, এটিএম বা ক্রেডিট স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ ইত্যাদি। অথবা কোনো প্রকার হুমকি পেলে বা হুমকির আশংকা থাকলে কিংবা কেউ নিখোঁজ হলেও জিডি করার সুযোগ রয়েছে। অর্থাৎ সাধারণত যেসব ক্ষেত্রে মামলা হয় না সেসব ক্ষেত্রেই থানায় জিডি করা যায়। জিডি করার কোন বাধ্যবাধকতা না থাকলেও নতুন করে হারানো কাগজ তুলতে হলেও জিডির কপির প্রয়োজন হয়।
এসব ক্ষেত্রে আপনার প্রথম কাজ হলো নিকটবর্তী থানাকে জানানো। আর এটি জানাবেন একটি সাধারণ ডায়েরির মাধ্যমে, যাকে আমরা সংক্ষেপে জিডি বলে থাকি। এ ধরনের জিডি করার অর্থ হলো- বিষয়টি সম্পর্কে থানাকে অবগত করা, যাতে থানা কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য অপরাধটি সংঘটিত হওয়ার আগেই ব্যবস্থা নিতে পারে।


সাধারণ মানুষের কাছে জিডির গুরুত্ব
সাধারণ মানুষের কাছে জিডির গুরুত্ব ভিন্ন। কোন থানায় মামলাযোগ্য নয় এমন ঘটনা ঘটলে মানুষ থানায় জিডি করে থাকেন। আবার কাউকে ভয় ভীতি দেখানো হলে বা অন্য কোন কারণে যদি তিনি নিরাপত্তার অভাব বোধ করেন, কিংবা কোন ধরনের অপরাধের আশঙ্কা করেন তাহলেও তিনি জিডি করতে পারেন। জিডি করার পর পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। প্রয়োজনবোধে তদন্ত করা, নিরাপত্তা দেয়া ছাড়াও জিডির বিষয়টি মামলাযোগ্য হলে পুলিশ মামলা করে থাকে। আইনগত সহায়তা পাওয়ার জন্য জিডি অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনেক সময় আদালতেও জিডিকে সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
জিডি করা
থানার ডিউটি অফিসার জিডি নথিভুক্ত করেন। এক্ষেত্রে তিনি একটি ডায়েরীতে জিডির নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য লিপিবদ্ধ করেন। জিডির দুটি কপি করা হয়। একটি থানায় সংরক্ষণ করা হয় এবং অন্যটিতে জিডির নম্বর লিখে প্রয়োজনীয় সাক্ষর ও সীলমোহর দেয়া হয়। এটি ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করতে হয়।
অভিযোগকারী নিজে জিডি লিখতে পারেন, আবার প্রয়োজনে থানার কর্মকর্তাও লিখে দিয়ে থাকেন।
প্রতিটি জিডির বিপরীতে একটি নম্বর দেয়া হয়, ফলে কোন অবৈধ প্রক্রিয়া মাধ্যমে কেউ আগের তারিখ দেখিয়ে জিডি করতে পারেন না।
অনলাইন জিডি
আবার পুলিশের তাৎক্ষণিক সাড়া দেবার প্রয়োজন নেই এমন ক্ষেত্রে যেমন পাসপোর্ট হারানো, বাখাটে বা মাদক সেবীদের সম্পর্কে তথ্য প্রদান বা এজাতীয় ক্ষেত্রে অনলাইনে জিডি করা যেতে পারেন বা সরাসরি পুলিশ সদরদপ্তরে ফ্যাক্স বা ই-মেইল করতে পারেন। এ পদ্ধতিতে দেশের বাইরে থেকেও জিডি করা সম্ভব। এক্ষেত্রে অনলাইনে জিডি করার পর ই-মেইল বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জিডি নম্বরটি জিডিকারীকে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

হারানো বিষয়ের জিডি
মোবাইল ফোনের সিম, পরীক্ষার সার্টিফিকেট, জমির দলিল প্রভৃতি হারিয়ে গেলে ঐ সব কাগজপত্র পুনরায় তুলতে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হারানো সংবাদের জিডি চেয়ে থাকে, তাই ঐসব ক্ষেত্রে হারানো সংবাদের জিডি করে সেই জিডি নম্বরসহ কর্তৃপক্ষরে কাছে আবেদন করতে হয়।

এবার আসুন জেনে নেই জিডিতে কী কী উল্লেখ করতে হবে:
১. থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সম্বোধন করে লিখতে হবে এবং থানার নাম ও ঠিকানা লিখতে হবে।
২. বিষয় : ‘জিডি করার জন্য আবেদন’- এভাবে লিখতে হবে।
৩. অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা করলে জিডিতে আশঙ্কার কারণ উল্লেখ করতে হবে।
৪. হুমকি দিলে হুমকি দেওয়ার স্থান, তারিখ, সময়, সাক্ষী থাকলে তাদের নাম, পিতার নাম ও পূর্ণ ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে।
৫. হুমকি প্রদানকারী পরিচিত হলে তার/তাদের নাম, পিতার নাম ও পূর্ণ ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে।
৬. অপরিচিত হলে তাদের শনাক্তকরণের বর্ণনা দিতে হবে।
৭. জিডি নথিভুক্ত করে বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন করতে হবে।
৮. সর্বশেষ জিডিকারীর নাম, স্বাক্ষর, পিতার নাম, পূর্ণ ঠিকানা ও তারিখ লিখতে হবে।
উল্লেখ্য, জিডি দুই কপি করতে হবে। এক কপি নথিভুক্ত করার জন্য থানায় জমা দিতে হবে, আরেক কপি থানার কর্মকর্তার সিল এবং জিডির নম্বর সংবলিত কপিটি যত্ন করে সংরক্ষণ করতে হবে। জিডি করতে থানায় কোনো ফি দিতে হয় না।
জিডির একটি নমুনা কপি:
তারিখঃ ………………
বরাবর
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
………………..থানা, ঢাকা।
বিষয় : সাধারণ ডায়েরি ভুক্তির জন্য আবেদন।
জনাব,
আমি নিম্ন স্বাক্ষরকারী নাম: …………………………………
বয়স : ………………………………………………………
পিতা/স্বামী : ………………………………………………..
ঠিকানা : …………………………………………………….
এই মর্মে জানাচ্ছি যে আজ/গত …………………….. তারিখ ……………. সময় …………….জায়গা থেকে  আমার নিম্নবর্ণিত কাগজ/মালামাল হারিয়ে গেছে।
বর্ণনা : (যা যা হারিয়েছে)
বিষয়টি থানায় অবগতির জন্য সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করার অনুরোধ করছি।
বিনীত
নাম:
ঠিকানা:
মোবাইল নম্বর:

Sunday, September 13, 2020

গামা রশ্মি কী?

গামা রশ্মি হলো উচ্চ কম্পাঙ্কের তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ বা ফোটন কণা। এর শক্তি দৃশ্যমান আলোর চেয়ে অন্তত ৫০ হাজার গুণ বেশি হতে পারে। সেজন্য এটি প্রাণী দেহের ডিএনএকে আঘাত করে অনায়াসে ভেঙে দিতে পারে। পৃথিবীর চারপাশে যে ওজোনস্তর রয়েছে তা ক্ষতিকারক মহাজাগতিক রশ্মিকে আটকে দেয়। কিন্তু গামা রশ্মি এই স্তর ভেদ করতে পারে; যার ফল ভয়াবহ। এর ফলে ওজোনস্তর পর্যন্ত ধ্বংস হয়ে যাবে।

গামা রে বার্স্ট প্রথম নজরে আসে গেল শতকের ষাটের দশকে। যুক্তরাষ্ট্র কয়েকটি উপগ্রহ মহাকাশে পাঠায়। উপগ্রহগুলোর কাজ ছিল গামা রশ্মির বিকিরণকে শনাক্ত করা। উপগ্রহগুলো এতটাই শক্তিশালী ছিল যে চাঁদের অপর পৃষ্ঠে যদি কোনো বিস্ফোরণ ঘটে তাও ধরতে পারবে। আর সত্যি সত্যিই মহাকাশ থেকে আসা গামা রশ্মির বিকিরণ ধরা পড়ল।

২০০৮ সালের সালের মার্চ মাসে একটি গামা রে বার্স্ট ধরা পড়ে যেটির উৎপত্তি ৭০০ আলোকবর্ষ দূরে ছিল, এত বিশাল দূর ভেবেই অনুমান করা সম্ভব বিস্ফোরণটি কতটা শক্তিশালী ছিল। সূর্য তার ৪৬০ কোটি বছরের জীবনকালে যে পরিমাণ শক্তি বিকিরণ করে, একটি গামা রে বার্স্ট মাত্র এক সেকেন্ডে তার থেকেও বেশি শক্তি তৈরি করে।

গামা রে বার্স্ট দুইভাবে হতে পারে। যখন দুটি নিউট্রন তারা একে অপরের চারপাশে ঘুরতে ঘুরতে, কোনো এক মুহূর্তে জুড়ে গিয়ে তৈরি করে একটি ব্ল্যাক হোল। এর ফলে যে মহাবিস্ফোরণ সৃষ্টি হয় তাকে গামা রে বার্স্ট বলে। আবার সূর্যের চেয়ে ৮ গুণ ও তার বেশি ভারি তারা মহাবিস্ফোরণ ঘটিয়ে ব্ল্যাক হোল তৈরি করলে গামা রে বার্স্ট তৈরি করতে পারে।

গড় হিসাব করে দেখা গেছে, প্রতিদিন একটা করে জিআরবি হয়েই থাকে। কিন্তু এদের বেশিরভাগটাই ক্ষতিকারক নয়। কারণ এগুলো অনেক দূরের। তবে ১০০০ আলোকবর্ষের মধ্যে যদি কোনো জিআরবি হয়ে থাকে এবং এর গতিপথের সামনে যদি পৃথিবী থাকে তাহলে পৃথিবীর সামনের অংশটা পুরে যাবে।

বিজ্ঞানীদের অনুমান ৪৪০ কোটি বছর আগে একবার হয়ে থাকতে পারে। সেই সময় হঠাৎ করে তাপমাত্রা কমতে শুরু করে। যদিও পৃথিবীর পরিবেশ সে সময় গরম থাকার কথা। মনে করা হয়, GRB আঘাতের কারণের এটা হয়েছে। এর জন্য প্রায় ৮৫% সামুদ্রিক প্রাণী ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।

৮০০০ আলোকবর্ষ দূরে WR104 নামে একটি মৃত্যুপথগামী লাল তারা রয়েছে। যার ঘূর্ণন অক্ষ পৃথিবীর দিকেই তাক করে আছে। যদি এই মুহূর্তে ওই তারা থেকে GRB ধেয়ে আসে পৃথিবীতে আবার প্রাণের ধ্বংসলীলা শুরু হবে। তবে এটি সবকিছুর শেষ তা বলা ভুল হবে। কারণ একটা বৃহৎ তারা ধ্বংসের অবশেষ থেকেই যেভাবে আমাদের সৌরজগতের সৃষ্টি হয়েছে সেভাবেই শুরু হবে নতুন তারার জগৎ।

তথ্যসূত্র ইন্টারনেট! তবে কিছু ভুল তথ্য ছিলো, তা সংশোধন করা হয়েছে।


Friday, September 11, 2020

মাইক্রোসফট এক্সেল-এর যাবতীয় সূত্রগুলি শিখে ফেলুন।


thumbnail
আমরা আগেই জেনেছি যে Microsoft Excel এ বিভিন্ন Formula ব্যবহার করে সকল প্রকার গাণিতিক হিসাব তৈরি করা যায়। আর এই গাণিতিক সমস্যা সমাধানে ব্যবহার করতে হয় বিভিন্ন Function, যার মাধ্যমে আমরা গাণিতিক হিসাব গুলো করে থাকি। আমাদের আজকে আমরা জানবো কিভাবে Microsoft Excel এ Formula বা সূত্র গঠন করা যায়, Formula কি, এর উপাদান গুলো কি কি এবং এর বিভিন্ন উপাদান গুলো কিভাবে কাজ করে।
পরিসংখ্যান সূত্র সমূহঃ
ওয়ার্কশীটের বিভিন্ন সেল এ লিখিত সংখ্যা সমূহের যোগফল, গড়, মোট সংখ্যার সংখ্যা, সর্ববৃহৎ ও সর্বনিম্ন সংখ্যা নির্ণয় ছাড়াও পরিমিত ব্যবধান এবং ভেদাংক ইত্যাদি পরিসংখ্যানের কাজ করার জন্য কয়েকটি = ফাংশন রয়েছে। নিম্নে এ ফাংশনগুলো আলোচনা করা হলো। যেমন-
= SUM (List) অংকের এ সূত্রটি দ্বারা কোন নির্দিষ্ট রেঞ্জের সংখ্যা সমূহের যোগফল নির্ণয় করা হয়। = SUM (List) এখানে List হচ্ছে ভেল্যু যা আমরা যোগ করতে চাই। এই List যদি একাধিক হয় তাহলে আর্গুমেন্ট পৃথককারী চিহ্ন কমা (,) ব্যবহার করতে হয়।
উদাহরণঃ উদাহরণঃ সেল পয়েন্টার C8 এ রাখি।
=SUM (C2:C7) লিখে Enter দিই।
C8 ঘরে মোট যোগফল 3115 আসবে।
=MAX (List) পরিসংখ্যানের এই সূত্রটি দ্বারা নির্দিষ্ট রেঞ্জের সংখ্যাসমূহ হতে Maximum অর্থাৎ সর্ববৃহৎ সংখ্যাটি নির্ণয় করা হয়।
উদাহরণঃ সেল পয়েন্টার কোন ফাকা সেল- এ রাখি। =MAX (B2:B5) লিখে Enter দিই।
রেঞ্জের সর্ববৃহৎ সংখ্যা 89423 আসবে।
আবার =MAX (SAL) লিখে Enter দিলে একই ফল দেখাবে।
=AVERAGE (List) পরিসংখ্যানের এই সূত্রটি দ্বারা নির্দিষ্ট রেঞ্জের সংখ্যাসমূহের গড় নির্ণয় করা হয়।উদাহরণঃ সেল পয়েন্টার কোন ফাকা সেল- এ রাখি।
=AVERAGE (B2:B5) লিখে Enter দিই।
রেঞ্জের সংখ্যা সমূহের গড় বেরিয়ে আসবে।
=MIN (List) পরিসংখ্যানের এই সূত্রটি দ্বারা নির্দিষ্ট রেঞ্জের সংখ্যাসমূহ হতে সর্বনিম্ন সংখ্যা নির্ণয় করা হয়।
উদাহরণঃ সেল পয়েন্টার কোন ফাকা সেল-এ রাখি।
=MIN (B2:B5) অথবা, =MIN (SAL) লিখে Enter দিই।
রেঞ্জের সংখ্যা সমূহের সর্বনিম্ন সংখ্যাটি বেরিয়ে আসবে।
=COUNT (List) পরিসংখ্যানের এই সূত্রটি দ্বারা নির্দিষ্ট রেঞ্জের মোট সংখ্যা কত তা নির্ণয় করা হয়।
উদাহরণঃ সেল পয়েন্টার কোন ফাকা সেল- এ রাখি।
=COUNT (C2:C7) অথবা, =COUNT (SAL) লিখে Enter দিই।
রেঞ্জের মধ্যে মোট সংখ্যা (৬) আছে তা বেরিয়ে আসবে।
=VAR(List) পরিসংখ্যানের এই সূত্রটি দ্বারা কোন সংখ্যা সমষ্ঠির ভেদাংক নির্ণয় করা হয়।
উদাহরণঃ টেষ্ট স্কোর 500, 510, 550, 515, 505, 535 ইত্যাদি E কলামের E1:E8 রেঞ্জে সংখ্যা সমূহের ভেদাংক নির্ণয় করতে সেল পয়েন্টার E10 অথবা কোন ফাকা সেল- এ রাখি।
=VAR (E1:E8) লিখে Enter দিই। ভেদাংক 311.8055 বেরিয়ে আসবে।
=PV (present Value) পরিসংখ্যানের এ সূত্রটির সাহায্যে কোন বিণিয়োগের বর্তমান মূল্য বের করা যায়।
উদাহরণঃ ধরা যাক কোন স্বায়ত্ব শাসিত প্রতিষ্ঠান থেকে অবসর গ্রহনের পর প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা ৫০০০০। ইচ্ছা করলে টাকাগুলো ব্যাংকে রাখা যায়। সে ক্ষেত্রে ব্যাংক ১২% সুদ দেবে। এ টাকা এককালীণ গ্রহন না করলে ব্যাংক প্রতি বছর ১০,০০০টাকা করে ১০ বছর ধরে দেবে।
এখন নির্বাচন করতে হবে কোন পন্থাটি বেশী লাভজনক। দ্বিতীয় পন্থাটি লাভজনক হবে কিনা তা আমরা এই সূত্রের সাহায্যে পরীক্ষা করবো।
সেল পয়েন্টার C4 সেলে রাখি।
=PV (.12,10,10000) লিখে Enter দিই।
C4 সেল এ 56502.23 টাকা আসবে।
তাহলে দেখা যাচ্ছে 50,000 টাকা মূলধন দ্বিতীয়শর্তের ভিত্তিতে খাটালে বেশী লাভজনক।
=SLN (Cost, Salvage, Life) সরল রৈখিক হারে বার্ষিক Depreciation/অবচয় বের করার সূত্র।
এখানে Cost= সম্পত্তির মূল্য, Salvage= ব্যবহার কাল শেষে অবশিষ্ট মূল্য, Life= ব্যবহার কাল। সেল পয়েন্টার C5 সেলে রাখি।
=SLN (C1, C2, C3) লিখে Enter দিই।
C5 সেল এ SLN Depreciation 14000 দেখাবে।
অর্থনৈতিক সূত্রঃ
=DB (Cost, Salvage, Life, Period, Month)
সূত্রের ব্যাখ্যাঃ
Cost = বস্তুটির ক্রয় মূল্য।
Salvage = নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে বস্তুটির মূল্য (অবশেষ মূল্য) ।
Life = মেয়াদ কাল।
Period = যে বছরের জন্য অবচয় নির্ণয় করা হবে।
Month = মাস। এখানে মাস হচ্ছে ১ম বছরের মাস সংখ্যা। যদি মাস বাদ দেয়া হয় তাহলে সূত্র ১২ মাস ধরে নেবে।
উদাহরণঃ
ধরা যাক কোন ফ্যাক্টরী একটি নতুন মেশিন ক্রয় করলো। মেশিনটির দাম ১০ লক্ষ টাকা এবং এর মেয়াদকাল বা লাইফ টাইম ৬ বছর। ৬ বছর পর মেশিনটির বিক্রয় মূল্য বা অবশেষ মূল্য এক লক্ষ টাকা। প্রতি বছর ব্যবহার জনিত অপচয় বা Depreciation জানা দরকার।
আমরা হয়তো সহজ গানিতিক পদ্ধতিতে মেশিনের দাম ১০লক্ষ মেয়াদ শেষে মূল্য ১ লক্ষ। অতএব মোট অপচয় ১০-১ = ৯ লক্ষ মোট অপচয়। অতএব বছরে অপচয় ৯ ভাগ ৬ = ১.৫ ল টাকা হিসেব করবো কিন্তু এক্ষেত্রে তা হবে না। প্রথম বছর অপচয় মূল্য বেশী হবে। ১০ লক্ষ টাকার মেশিন ১ বছর পর মূল্য হবে ৭ লক্ষ টাকা। তাহলে ১ম বছরের অপচয় ৩ লক্ষ টাকা। ২য় বছরে ৩লক্ষ টাকা না হয়ে আরও কম হবে। এভাবে বছর যত বাড়বে অপচয় তত কমতে থাকবে। তাই কোন একটা মেয়াদ শেষে Depreciation কত হবে তা বের করা খুবই জটিল, কিন্তু এই সূত্রটি ব্যবহার করে তা সহজেই করা যায়।
=DB (C1, C2, C3, D2) লিখে Enter দিই। সেল পয়েন্টার E2 সেলে রাখি।
E2 সেল এ প্রথম বছরের অপচয় মূল্য আসবে।
E3 তে সেল পয়েন্টার এনে =DB (C1, C2, C3, D3) লিখে Enter দিলে বছরের Depreciation বের হবে। এভাবে E4, E5, E6 সেলে ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম বছরের Depreciation বের করা যায়।
যুক্তিগত সূত্র সমূহ (Logical Function)
=IF (Condition)
সূত্রের কতিপয় Condition লেখার ক্ষেত্রে যে সকল গাণিতিক অপারেটর বা চলক ব্যবহৃত হয় তা হলো-
= সমান অর্থ প্রকাশ করে।
> অপেক্ষাকৃত বড়।
> অপেক্ষাকৃত ছোট। অপেক্ষাকৃত বড় বা সমান।
> অপেক্ষাকৃত ছোট বা সমান। অসমান।
এছাড়াও বিভিন্ন নির্দেশনায় AND, OR, NONE ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যেমন-
যদি কোন কথার ভিতর নির্ধারিত অংশ/ সংখ্যা দেওয়া থাকে সে ক্ষেত্রে AND বসবে(1-1000)
যদি কথার ভিতর নির্ধারিত অংশ/সংখ্যা না থাকে সেক্ষেত্রে OR(1000 বেশী/ কম)
একটি বাক্যে কিছু কথা শেষ করার পর যদি আরও কথা থাকে সেক্ষেত্রে , (কমা) বসে।
সূত্র লেখা শেষ হলে সূত্রের মধ্যে যতবার IF লেখা ব্যবহার করা হবে ততবার বা ততটি বন্ধনী হবে।
সূত্রের সাহায্যে স্কুলের রেজাল্ট শীট তৈরিঃ
মনে করি, একটি স্কুলের নির্বাচনী পরীক্ষায় ছাত্র-ছাত্রীদের বিভিন্ন বিষয়ে মোট নম্বরের উপর ভিত্তি করে রেজাল্টশীট তৈরী করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ৮০০ অথবা এর অধিক নম্বর পেলে A+, ৭০০ বা এর উপরে পেলে A, ৬০০ বা এর উপরে পেলে A-, ৫০০ বা এর উপরে পেলে B, ৪০০ বা এর উপরে পেলে C, ৩৩০ বা এর উপরে পেলে D, ৩৩০ এর নীচে পেলে Fail বা F ধরা হয়েছে। =IF ফরমূলা ব্যবহার করে রেজাল্ট শীট তৈরী করতে হবে। সেল পয়েন্টার D2 সেলে রাখি।
=IF (C2>=800,’A+’, IF(C2>=700,’A’,IF(C2>=600,’A-‘,IF(C2>=500,’B’, IF (C2>=400,’C’,IF(C2>=330,’D’,’F’)))))) লিখে Enter দিই।
সূত্রের সাহায্যে SSC পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ রেজাল্ট শীট তৈরীঃ
মনেকরি একটি পরীক্ষা কেন্দ্রের একটি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের বিভিন্ন বিষয়ের প্রাপ্ত নম্বরের উপর ভিত্তি করে একটি রেজাল্টশীট তৈরি করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীকে পরীক্ষায় পাশ মার্ক থাকতে হবে এবং প্রতি বিষয়ে 80 এর অধিক নম্বর পেলে রেজাল্ট হবে A+ , 70-79 নম্বর পেলে A, 60-69 নম্বর পেলে A-, 50-59 নম্বর পেলে B, 40-49 নম্বর পেলে C, 33-39 নম্বর পেলে D, আর ৩৩ নম্বরের নিচে পেলে ফেল বা F হবে। চতুর্থ বিষয়ের নম্বর 40 এর বেশি হলে বেশি অংশ আনুপাতিক হারে প্রত্যেক বিষয় এর সাথে যোগ হবে। ফরমূলা ব্যবহার করে গ্রেড ভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ রেজাল্টশীট তৈরি করতে হবে।
প্রথমে ১১টি বিষয় সস্বলিত নিম্নরূপ শীট তৈরি করতে হবে।সেল পয়েন্টার N2 তে রাখি
=IF (M2>40, M2-40,0) Enter.
সেল পয়েন্টার O2 তে রাখি
=AVERAGE (C2:L2) +N2/10 Enter.
সেল পয়েন্টার P2 তে রাখি
=IF (OR (C2<33, D2<33, E2<33, F2<33, G2<33, H2<33, I2<33, J2<33, K2<33, L2<33),”Fail”, “Pass”) সেল পয়েন্টার Q2 তে রাখি=IF(AND(O2>= 80, P2=“Pass’’),’A+’, IF(AND(O2>=70,P2=`Pass’),’A’, IF(AND (O2>=60, P2=`Pass’),’A-‘, IF (AND(O2>=50,P2=`Pass’),’B’, IF (AND (O2>=40, P2=`Pass’),’C’, IF(AND (O2>=33,P2=`Pass’),’D’,’F’)))))) Enter.
আশা করি প্রেজেন্টেশন সম্পর্কে আপনাদের কোন প্রশ্ন আর থাকলো না। আপনি যদি উপরিক্ত নির্দেশনা অনুযায়ী একটি প্রেজেন্টেশন তৈরি করে উপস্থাপনা করেন তাহলে আপনি অবশ্যই ভালো অবস্থানে পৌঁছাতে পারবেন।
Tax নির্ণয়ঃ শর্তঃ যদি বেতন ৫০০০ থেকে ১০০০০ এর মধ্যে হয় তাহলে ২% ট্যাক্স, ১০০০০ এর উপরে হলে ৫% ট্যাক্স ধার্য হবে।
নিচে ওয়ার্কশীট তৈরী করার নিয়মঃ সেল পয়েন্টার C2 সেলে রাখি। =IF(AND(B2>5000, B2<10000), B2*.02, IF(B2>10000, B2*.05,” NONE”)) লিখে Enter দিলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল চলে আসবে। তারপর স্ক্রল করে প্রত্যেক ফিল্ডে ফলাফল আনতে হবে।
কমিশন নির্ণয়ঃ ধরা যাক কোন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান তাদের তৈরী পণ্য বিক্রয় করার জন্য কয়েকজন বিক্রয় প্রতিনিধি নিয়োগ করলো। প্রতিনিধিদের মাসিক বেতন এভাবে ধার্য করা হলো যে, মোট বিক্রয়ের পরিমান যদি খরচ বাদে ৮০,০০০ টাকা হয় তাহলে বিক্রয়ের শতকরা ১০ভাগ বেতন পাবে, আবার বিক্রয় যদি খরচ বাদে ১,০০,০০০ টাকার কম হয় তাহলে বিক্রয়ের শতকরা ১১ ভাগ বেতন পাবে।
এরূপ সমস্যা সমাধানের জন্য নিম্নরূপ একটি ওয়ার্কশীট তৈরী করি এবং =IF সূত্র ব্যবহার করে সমাধান করি। উদাহরণঃ সেল পয়েন্টার D2 সেলে রাখি।
=IF (OR (B2-C2<80000, B2<100000), B2*.10, B2*.11) Enter দিলে কাঙ্ক্ষিত হিসাবটি পাওয়া যাবে।
মজুরী নির্ণয়ঃ মনে করি, ই-লার্ন বাংলাদেশ তার কর্মচারীদের প্রতি ঘন্টা হিসেবে মজুরী প্রদান করে। প্রতিদিন ৮ ঘন্টা বা তার চেয়ে কম সময়ের জন্য প্রতি ঘন্টা মজুরী ১৫ টাকা। আর্থাৎ কোন শ্রমিক কর্মচারী ৮ ঘন্টা কাজ করলে সে পাবে ১৫´৮=১২০ টাকা। আবার ৮ ঘন্টার কম অর্থাৎ ৬ ঘন্টা কাজ করলে পাবে ১৫´৬ = ৯০টাকা। পক্ষান্তরে ৮ ঘন্টার বেশী কাজ করলে অতিরিক্ত প্রতি ঘন্টার জন্য মজুরী পাবে ২০টাকা। অর্থাৎ কেহ ১২ ঘন্টা কাজ করলে মজুরী পাবে ১৫´৮=১২০, ২০´৪=৮০, ১২ ঘন্টার মজুরী হবে ১২০+৮০=২০০টাকা। প্রতিষ্ঠানের একটি Wage Sheet তৈরী করতে হবে। যেখানে শুধুমাত্র কর্মঘন্টা দেয়া মাত্র ওভার টাইম ও মোট মজুরী বের হবে।
উদাহরণঃ নিম্নরূপ ওয়ার্কশীট তৈরী করি। সেল পয়েন্টার D5 সেলে এনে =IF(C5>8,C5-8,0) Enter ।
সেল পয়েন্টার E5 সেলে এনে =IF(D5>0,D5*20+8*15,C5*15) Enter
D5:E10 সিলেক্ট করে সেল পয়েন্টার D2 তে রেখে Shift চেপে ধরে E2 তে আসি। Fill Handel এ ক্লিক করে ড্রাগ করে নিচের দিকে E10 এ এনে Enter দিতে হবে।
C5 সেলে 8 টাইপ করি। এভাবে C6 সেলে 11 টাইপ করি। C7 সেলে 7 টাইপ করি। C8 সেলে 13 টাইপ করি। C9 সেলে 9 টাইপ করি। C10 সেলে 15 টাইপ করি। ফলে স্বয়ংক্রিয় ভাবে ওভার টাইমসহ মজুরী নির্ণয় হয়ে যাবে।
বিদ্যুৎ বিল তৈরীঃ
বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ বিল ধার্য করার জন্য সাধারণত: তাদের নির্ধারিত রীতি প্রয়োগ করে থাকে। উদাহরণ হিসেবে তাদের প্রবর্তিত রীতি হলো বিদ্যুৎ খরচ যদি ১ থেকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত ১.৭৫ টাকা, ২০১ থেকে ৪০০ ইউনিট পর্যন্ত ২.৫০ টাকা, ৪০১ থেকে ৫০০ ইউনিট পর্যন্ত ৩.৭৫ টাকা এবং তার উপরে হলে প্রতি ইউনিট ৪.৫০ টাকা করে ধার্য করে বিদ্যুৎ বিল নির্ধারিত করে।
এ ধরণের সমস্যা সমাধানের জন্য নিম্নরূপ ওয়ার্কশীট তৈরী করে =IF ফাংশন ব্যবহার করলে সমাধান মিলবে।
উদাহরণঃ নিম্নরূপ ওয়ার্কশীট তৈরী করি। সেল পয়েন্টার D2 সেলে রাখি।
=IF (C2<=200, C2*1.75, IF (C2<=400, C2*2.50, IF (C2<=500, C2*3.75, C2*4.50))) Enter । D2 এর Fill Handel ড্রাগ করে অন্যান্য ব্যবহারকারীদের হিসাব পওয়া যাবে।
Salary Sheet তৈরিঃ
মনেকরি মেসার্স জামান এন্ড কোং এর কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন শীট নিম্ন বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করে তৈরী করতে হবে এবং মোট বেতন নির্ণয় করতে হবে।
House Rent Basic এর ৫০%, Medical Allowance, Basic এর ১০%, Provident Fund Basic এর ১০%, Income Tax Basic ২০০০ এর নীচে হলে ০, ২০০০-৫০০০ পর্যন্ত ৫% এবং ৫০০০ টাকার উর্ধে ১০% ।
উদাহরণঃ নিম্নরূপ ওয়ার্কশীট তৈরী করি।D2 সেলে=C2*50%, E2 সেলে=C2*10%, F2 সেলে=C2*10% টাইপ করতে হবে।
G2 সেলে কার্সর এনে নিম্নের সূত্রটি টাইপ করতে হবে।
=IF (C2<2000,0, IF(AND(C2>2000, C2<=5000), C2*5%, IF(C2>5000, C2*10%))) Enter
H2 সেলে =C2+D2+E2-(F2+G2) টাইপ করতে হবে।
D2:H2 সিলেক্ট করে H10 পর্যন্ত Fill Handel ড্রাগ করে অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীদের হিসাব পওয়া যাবে।
Data কি?
ডেটা বা উপাত্ত বলতে সাধারণত: কোন তথ্য বা Information কে বুঝায়। এই তথ্য বা ইনফরমেশন বিভিন্ন রকম হতে পারে। যেমন, আমাদের ব্যক্তিগত টেলিফোন গাইড বা ডায়েরীতে আমরা বিভিন্ন ব্যক্তির নাম ঠিকানা ও ফোন নম্বর লিখে থাকি। এই তথ্য বা ইনফরমেশনগুলোই হলো ডেটা।
Data base কি?
পরস্পর সম্পর্কযুক্ত তথ্যের সমাহারকে তথ্য ঘাঁটি বা ডাটাবেজ বলা হয়। বেজ শব্দের অর্থ হচ্ছে ঘাঁটি বা ধারক বা ভিত্তি। Flower base অর্থ ফুলদানী। অনেক ফুলকে সুসজ্জিত ভাবে যেমন ফুলদানীতে রাখা হয় তেমনি ডেটাকে সুসংগঠিত করে রাখার ব্যবস্থাপনা বা ঘাঁটিকে Data base বা উপাত্ত ঘাঁটি বলা হয়।
Data Table তৈরিঃ
ধরা যাক, কোন ব্যাংক থেকে ৫% সুদে ১০০০০ টাকা ঋণ গ্রহন করা হলো।
১০০০০ টাকার ৫ বছরে ৫% সুদে সুদাসল কত হবে ?
সুদের হার পরিবর্তন হয়ে ১০%, ১২%, ১৫%, ১৭%, ২০% হলে সুদাসল কত হবে ?
সুদের হার এবং আসল যদি (৫০০০০ টাকা বা ৮০০০০টাকা) পরিবর্তন হয় তাহলে সুদাসল কত হবে ? এ সব সমস্যার সমাধানগুলো ডেটা টেবিলের মাধ্যমে করতে হবে
উদাহরণঃ পদ্ধতি-১ ওয়ার্কশীট তৈরীঃ A3 সেলে লেখাটি ধরানোর জন্য Format>Column>Width. নির্দেশ দিয়ে 12 লিখে Enter দিয়ে A কলামের প্রশস্ততা বৃদ্ধি করে নিতে হবে।
সেল পয়েন্টার B4 সেলে রেখে =+B1*B2*B3+B1 লিখে Enter দিতে হবে।
এরপর A4 থেকে B9 সিলেক্ট করে Data >Table ক্লিক করতে হবে। ফলে পর্দায় একটি ডায়ালগ বক্স আসবে।
ডায়ালগ বক্সের Column input Cell এ ক্লিক করে B2 সেলে ক্লিক করতে হবে। এরপর ডায়ালগ বক্স থেকে ওকে বার্টন ক্লিক করলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল চলে আসবে।
উদাহরণঃ পদ্ধতি–২ ওয়ার্কশীট তৈরীঃ সেল পয়েন্টার A4 সেলে রেখে =+B1*B2*B3+B1 লিখে Enter দিতে হবে।
B4 সেলে 10000, C4 সেলে 50000, D4 সেলে 80000 টাইপ করি।
এরপর A4 থেকে D9 সিলেক্ট করে Data >Table ক্লিক করতে হবে। ফলে পর্দায় একটি ডায়ালগ বক্স আসবে।
ডায়ালগ বক্সের Row input Cell এ কিক করে E1 সেলে কিক করতে হবে।
ডায়ালগ বক্সের Column input Cell এ ক্লিক করে B2 সেলে কিক করতে হবে। এরপর ডায়ালগ বক্স থেকে ওকে বার্টন কিক করলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল চলে আসবে। নিম্নরূপ-Goal Seek:
ধরা যাক বাড়ি ক্রয়ের জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহন করতে হবে। ব্যাংক ১টি শর্তে ঋণ দিতে চায় বছরে ৯টাকা হার সুদে ৩০ বছরে মাসিক কিস্তিতে টাকা পরিশোধ করতে হবে। এ পদ্ধতিতে নিজের পারগতার উপর অর্থাৎ মাসে কত টাকা জমা দিতে পারবো সেই অনুপাতে ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহন করলে ঋণ সময় মতো পরিশোধ করা যাবে। তাই যদি মাসে ৯০০০ টাকা হারে জমা দেওয়ার পারগতা থাকে তাহলে ব্যাংক থেকে কত টাকা ঋণ পাওয়া যাবে তা গোলচেকের মাধ্যমে আমরা পরীক্ষা করে নিতে পারি।
তাহলে সুদের হার ৯%, সময়কাল ৩০ বছর, মাসিক কিস্তি ৯০০০ টাকা, ঋণের পরিমান ?
ধরা যাক ঋণের পরিমান আনুমানিক ৯,০০,০০০ টাকা।
করণীয়ঃ
সেল পয়েন্টার সেলে রেখে =PMT (B2/12,B3*12,B1) লিখে Enter দিই। ফলে এখানে রেজাল্ট আসবে ৭২৪১.৬০ টাকা। কিন্তু আমরা দিতে পারি ৯,০০০ টাকা। তাহলে কত টাকা ঋণ পাওয়া যাবে জানতে আমাদের কিছু কাজ করতে হবে। যেমন- সেল পয়েন্টার B5 সেলে ফলাফল সিলেক্ট করে টুলস মেনু থেকে কমান্ড দিয়ে ডায়ালগ বক্সের প্রথম সেলে পয়েন্টার রেখে B1 সেলে ক্লিক করতে হবে। পুণরায় ডায়ালগ বক্সের মাঝের সেলে পয়েন্টার নিয়ে কত পরিশোধ করতে পারি তা লিখতে হবে। তাহলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যাবে।
Data Auto Filter = উদাহরণঃ ডেটা বেজের যে কোন সেলে পয়েন্টার রাখি। এরপর Data মেনুতে কিক করে অথবা কীবোড Alt+D চাপি।
এরপর Filter এ ক্লিক করে Auto Filter এ ক্লিক করলে অথবা দুইবার চাপলেও কাজটি হয়ে যাবে।
আজকে আমরা এমএস এক্সেল এ Formula ব্যবহার করে কিভাবে Logical Function এর কাজ করা যায় তা শিখব।
Logical Function:
একটি পূর্ণাঙ্গ রেজাল্ট শীটের উপর আমরা আজকে Logical Function এর কাজ শিখব। একটি ছাত্র সকল বিষয়ে পাস করল, নাকি কোন একটি অথবা একাধিক বিষয়ে ফেল করল এবং ছাত্রটির প্রাপ্ত নম্বরের উপর সে কোন গ্রেডে পাস করল সবধরনের ফলাফলই আমরা আজকে তৈরী করব।
# প্রথমে আমরা Result Sheet এর নিম্নরূপ একটি ছক তৈরী করি।
MS Excel 12-1
# এখন আমরা উক্ত রেজাল্ট শীটের ৫ জন ছাত্রের রেজাল্ট তৈরী করব। অর্থাৎ পাস/ফেল এবং কোন ছাত্র কোন গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে তা তৈরী করব।
# Result এর Row তে প্রথম ছাত্র Shofik সব বিষয়ে পাস করেছে নাকি কোন বিষয়ে ফেল করেছে তা Logical Function এর মাধ্যমে তৈরী করব। সেজন্য প্রথমে সেল পয়েন্টারটি G6 ঘরে রাখি।
# ধরি কোন বিষয়ে পাস করতে হলে কমপক্ষে ৪০ নম্বর পেতে হবে। তাহলে G6 সেলে নিচের সূত্রটি লিখে Enter প্রেস করি। =IF (OR (B6<40, C6<40, D6<40), “Fail”, “Pass”) # Enter প্রেস করার সাথে সাথে ফলাফল চলে আসবে। এখন উক্ত সূত্রটি কপি করে অন্যান্য ছাত্রের নামের পাশে Result এর ঘরে পেস্ট করলে সকলের ফলাফল তৈরী হবে। # Result এর ঘরে Pass অথবা Fail চলে আসবে। সেখানে সূত্র দেখা যাবে না। তবে Formula Bar এর মধ্যে সূত্রটি দেখা যাবে।
# এখন আমরা উক্ত ছাত্রদের প্রাপ্ত নাম্বার দিয়ে গ্রেড তৈরী করব। ধরে নেই গ্রেডিং পদ্ধতিটি হলো 80+=A+, 70+=A, 60+=B, 50+=C, 40+=D এবং 40-=F অর্থাৎ ফেল। তবে সূত্রের মধ্যে প্রথমে ছাত্রটি সব বিষয়ে পাস করল নাকি কোন বিষয়ে ফেল করল তা অন্তর্ভূক্ত করার জন্য Result রো এর ফলাফলটি সূত্রের আওতায় আনতে হবে। যদি ছাত্রটি ফেল করে তাহলে সে ‘F’ গ্রেড পাবে, অন্যথায় সে গ্রেডিং পদ্ধতির আওতায় আসবে।
# Grade এর ঘরে Result চলে আসবে। সেখানে কোন সূত্র দেখা যাবে না। তবে Formula Bar এর মধ্যে সূত্রটি দেখা যাবে।

আশা করি আমার এই লেখাটি আপনাদের ভালো লাগবে এবং অনেক কাজে লাগবে ইনশাআল্লাহ্‌। আজকের মতো এখানেই শেষ করছি। আসসালামুআলাইকুম।

Thursday, May 28, 2020

৩৮০ বার জিন বদলে করোনা হয়ে উঠেছে ভয়াবহ!


করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে প্রায় তিন মাসের মত। এরই মধ্যে এই ভাইরাসটি নিজের জিন বদলে ফেলেছে ৩৮০ বার! এর কারণে নভেল করোনাভাইরাসের কোভিড-১৯ প্রজাতি বিশ্বের বড় বড় বিজ্ঞানীদের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সবার মধ্যেই। মাঝেই মাঝেই শোনা যাচ্ছে এবারে এই ভাইরাসকে জব্দ করা যাবে ভ্যাকসিন দিয়ে। কিন্তু প্রতিষেধক কতটা কাজের কাজ করতে পারবে সেই নিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরাও দ্বিধার মধ্যে রয়েছেন।
হিউম্যান প্যাথোজেনিক ভাইরাসের সংক্রমণজনিত অসুখের গবেষক ইন্দ্রনীল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, এত কম সময়ের মধ্যে ঘন ঘন জিন মিউটেশন করে নিজের চরিত্র বদলে ফেলছে এই ভাইরাস। তাই একে রুখতে সুনির্দিষ্ট কোনও ওষুধ ব্যবহার করা মুশকিল।
প্রায় দু’দশক ধরে করোনা গোত্রেরই ভাইরাস নিয়ে চিকিৎসকরা চিন্তিত। চিনের উহান থেকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এই কোভিড-১৯ ভাইরাসের আরেক প্রজাতি সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম বা সার্সও ১৮ বছর আগে ঘুম কেড়ে নিয়েছিল চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের। এই রোগাক্রান্তদের মধ্যে মারা পড়তেন প্রায় ১০ শতাংশ। মার্স বা মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রোমও ২০১২ সালে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। কোভিড-১৯ সেই গোত্রেরই জীবাণু। তবে আগের ভাইরাসদের থেকে এর কিছু চরিত্রগত তফাত আছে। তাই প্রতিষেধক নিয়ে নানা পরীক্ষানিরীক্ষা চললেও কোনও কার্যকর ভ্যাকসিন বা ওষুধ বানানো মুশকিল হয়ে পড়ছে।
গবেষকরা এখন হোস্ট ডিরেক্টেড থেরাপির কথা ভাবছেন। ব্যাপারটা হল, মানুষের জিনের যে প্রোটিনের উপর কোভিড-১৯ ভাইরাস বেড়ে ওঠে, তাকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া। তাদের ধারণা, তা হলেই হয়তো এই ভাইরাসের খেল খতম হবে।
নভেল করোনাভাইরাসের চরিত্রগত বিশ্লেষণ করে ইতিমধ্যেই গবেষকরা বেশ কিছু বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ করেছেন:
• কোভিড-১৯ ঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু হলে, শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ক্রমেই বাড়িয়ে চললে শিশুদের বিশেষ কোনও ক্ষতি করতে পারে না। এই ভাইরাসের কবলে পড়লেও শিশুরা ক্রমশ সুস্থ হয়ে ওঠে। শিশুদের তুলনামূলকভাবে পরিচ্ছন্ন পরিবেশে রাখা হলে সংক্রমণের ঘটনাও কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
• মহিলারাও কোভিড-১৯ ভাইরাসের থাবা থেকে কিছুটা নিরাপদ। এর কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে, মেয়েদের মধ্যে অটোইমিউন ডিজিজের (শ্বেতী, এসএলই, থাইরয়েড ইত্যাদি) প্রবণতা বেশি হওয়ায় কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে তারা বেশিরভাগ সময়ই জিতে যান। শরীর কোনও না কোনও অ্যান্টিবডি তৈরি করে ফেলে। তাই আক্রান্ত মেয়েদের মৃত্যুহার অনেক কম।
• ধূমপায়ী পুরুষদের মধ্যে এই অসুখের মারাত্মক প্রভাব লক্ষ্য করা গিয়েছে। মনে করা হচ্ছে যে, ধূমপানের ফলে শ্বাসনালী ও ফুসফুসের লাইনিং কিছুটা কমজোরি থাকে। তাই কোভিড-১৯ ভাইরাস এদের শ্বাসনালী ও ফুসফুসকে আক্রমণ করে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
• কোভিড-১৯ আক্রান্ত বয়স্কদের মৃত্যুহার সব থেকে বেশি। কারণ এদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হয়।
• কোভিড-১৯ ভাইরাসের বড়সড় সংক্রমণে শুধুই যে শ্বাসনালী ও ফুসফুস আক্রান্ত হয় তা নয়, ইন্টেস্টাইনের আবরণ একেবারে নষ্ট করে দেয়। শরীরে অক্সিজেনের পরিমাণ হু হু করে কমে যেতে শুরু করে। ক্রমশ মাল্টি অরগ্যান ফেলিওরের দিকে এগোয়।
• কিছু কিছু অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ ব্যবহার করা হলেও খুব যে কার্যকর তা এখনও বলা যাচ্ছে না।
• অনেকেরই ধারণা, গরম পড়লে কোভিড-১৯ ভাইরাসের দাপট কমবে। কিন্তু এই ভাইরাসের জিন মিউটেশনের ধরন দেখে এখনই এ বিষয়ে কিছুই বলা যাচ্ছে না।
• কোভিড-১৯-এর হাত থেকে বাঁচতে ন্যুনতম ২০ সেকেন্ড ধরে সাবান দিয়ে কচলে হাত ধুতেই হবে। হাত ধুলে এনভেলপ ফ্লু জাতীয় কোভিড-১৯ ভাইরাসকে নিশ্চিহ্ন করা সম্ভব। পানি না থাকলে ৬০–৭০ শতাংশ ইথাইল অ্যালকোহল-যুক্ত স্যানিটাইজার দিয়ে ভাল করে হাত পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত। ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে টাটকা শাকসবজি ও ফল খেতে হবে। ধূমপান ও মদ্যপান ছাড়তে হবে।