Tuesday, November 10, 2015

বাতিল বিনাশে সদা তৎপর

নাস্তিক ও ওলামায়ে ছুঃ-

(ক) নাস্তিকঃ-
বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং সকল মিডিয়াতে নাস্তিক্যবাদ বা নাস্তিকদের নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে।
নাস্তিক্যবাদ (ইংরেজি ভাষায়: Atheism; অন্যান্য নাম: নিরীশ্বরবাদ, নাস্তিকতাবাদ) একটি দর্শনের নাম যাতে ঈশ্বর বা স্রষ্টার অস্তিত্বকে স্বীকার করা হয়না এবং সম্পূর্ণ ভৌত এবং প্রাকৃতিক উপায়ে প্রকৃতির ব্যাখ্যা দেয়া হয়। ইংরেজি ‘এইথিজম’(Atheism) শব্দের অর্থ হল নাস্তিকক্য বা নিরীশ্বরবাদ। এইথিজম শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে গ্রিক ‘এথোস’ শব্দটি থেকে। অষ্টাদশ শতাব্দীতে সর্বপ্রথম কিছু মানুষ নিজেদের নাস্তিক বলে স্বীকৃতি দেয়। পশ্চিমের দেশগুলোতে নাস্তিকদের সাধারণ ভাবে ধর্মহীন বা পরলৌকিক বিষয় সমূহে অবিশ্বাসী হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু বৌদ্ধ ধর্মের মত যেসব ধর্মে ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে হয় না, সেসব ধর্মালম্বীদেরকেও নাস্তিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিছু নাস্তিক ব্যক্তিগত ভাবে ধর্মনিরপেক্ষতা, হিন্দু ধর্মের দর্শন, যুক্তিবাদ, মানবতাবাদ এবং প্রকৃতিবাদে বিশ্বাস করে। নাস্তিকরা কোন বিশেষ মতাদর্শের অনুসারী নয় এবং তারা সকলে বিশেষ কোন আচার অনুষ্ঠানও পালন করে না। অর্থাৎ ব্যক্তিগত ভাবে যে কেউ, যে কোন মতাদর্শে সমর্থক হতে পারে,নাস্তিকদের মিল শুধুমাত্র এক জায়গাতেই, আর তা হল সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব কে অবিশ্বাস করা।
নাস্তিকতাবাদের ভিত্তি হচ্ছে বস্তুবাদ। বর্তমানে এটা বিজ্ঞানের নামে বিবর্তনবাদ তত্ত্বের খোলসে প্রচার করা হয় ।  এর নৈতিকতার ভিত্তি হচ্ছে ডারউইনবাদ।
অন্যদিকে ডারউইনবাদী নৈতিকতার কোন মাপকাঠি নেই। এটা প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। পরিবেশে টিকে থাকার জন্য যা দরকার সেটাই হচ্ছে বিবর্তনবাদীয় নৈতিকতার ভিত্তি। যেমন খুন, ধর্ষণ, সমকামীতা, প্রতারণা, মিথ্যা বলাও এই নৈতিকতার অন্তর্ভূক্ত হতে পারে।
নাস্তিকরা নিজেদের পশু মনে করে থাকে :
ডারউইনিয়ান বিবর্তনবাদ তত্ত্ব অনুযায়ী মানুষকে উন্নত প্রজাতির পশু হিসেবে গণ্য করা হয়। তাই পশুর স্বভাব-চরিত্রের সাথে মিল রেখে প্রতিনিয়ত রচিত হয় নাস্তিক্যবাদী/ডারইউনবাদী নৈতিকতার গাইড লাইন!
আস্তিক্য নৈতিকতা অনুযায়ী পৃথিবীর সব সমাজেই অবৈধ কর্ম অত্যন্ত নিন্দনীয় ও প্রচণ্ড শাস্তিমূলক অপরাধ। কিন্তু নাস্তিক্য/ডারউইনবাদী নৈতিকতা অনুযায়ী ধর্ষণকে পজিটিভ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয়! বায়োলজি প্রফেসর রান্ডি থর্নহীল ও নৃ-বিজ্ঞানী ক্রেইগ পালমার তাদের লিখিত “Natural History of Rape” বই-এ ডারউইনিয়ান বিবর্তনবাদ অনুযায়ী দাবী করেন অবৈধ কর্ম হচ্ছে প্রাকৃতিক বা ন্যাচারাল বা এডাপ্টিভ (Adaptive), কেননা প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে কোন প্রজাতিকে টিকে থাকার জন্য অবৈধ কর্ম সহায়ক! পুরুষেরা নাকি অবৈধ কর্মের মাধ্যমে তাদের জীন ছড়িয়ে দেয় যা তার বংশধারা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে!
 নাস্তিকরা নিজেদের পশু হিসাবেই মনে করে থাকে।যার কারণে এদের আচার আচরণ হয় পশুর মত ।
তাহলে সহজেই বোঝা গেলো, এসকল নাস্তিকরা মানুষ সমাজের লোক নয়। এরা পশু। সূতরাং এসকল পশুদের মানব সমাজে থাকার কোন উপযুক্ততা দেখি না। এদেরকে সভ্য সমাজ থেকে বের করে দিয়ে জঙ্গলে পাঠিয়ে দিয়ে শুয়োর , শৃগালের সাথে থাকার ব্যবস্থা করে দেয়া উচিত বলে মনে করি।

পশুদের কাছ থেকে কখনো বিবেক সম্পন্ন কথা আশা করা বোকামী। তাই এসকল নাস্তিকরা পবিত্র ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে কথা বলে। পবিত্র জীবন বিধান নিয়ে কটাক্ষ করে।সভ্য জগতের সমাজে কি বনের পশুরা বাস করতে পারে ?অথচ মিডিয়াতে এসকল নাস্তিক নামক বিকৃত রুচির পশুদের নিয়ে দালালী দেখে অবাক হতে হচ্ছে !!!
আজ ৯৮ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত বাংলাদেশে নাস্তিকদের স্থান দেওয়া হয়। মৃত্যুর পর যেখানে নাস্তিকদের পশুর আস্তানায় নিক্ষেপ করার কথা সেখানে এদের সম্মান দেখান হয় ! নাউযুবিল্লাহ!
(খ) বাংলাদেশে নাস্তিকতাঃ-
২০০৫ সালে সামহোয়ার ইন ব্লগ এর মাধ্যমে সর্বপ্রথম নাস্তিকতা ব্যাপকাকারে বিস্তার লাভ করে । যার পরবর্তিতে নাগরিক ব্লগ, সচলায়তন , ইষ্টিশন ব্লগ সহ অনেক ইসলামবিদ্বেষি ব্লগ তৈরি হয়।
প্রথম সারীর ১৮ জন ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিক এর লিস্ট যারা এই বাংলাদেশে নাস্তিকতার জন্ম দিয়ে পবিত্র দিন ইসলামের বিরোধিতা করে গেছে আজিবন।

১। আহম্মক শরীফ: নতুন প্রজন্মের অনেকেই এই নাস্তিকের নাম জানে না। তার একটা বিখ্যাত উক্তি- “পুরুষদের যদি সততা দরকার না হয় তবে নারীদের সতীত্বের কেন দরকার? নাউযুবিল্লাহ । স্বঘোষিত নাস্তিক তার ইচ্ছা মেনে মৃত্যূর পর তার জানাজা এবং কবর কোনটাই হয়নি।
২। হনুমান আজাদ: বাংলা সাহিত্যের অশ্লীল ও কুরুচিপুর্ণ লেখার জনক। সারাজীবন ধর্মের প্রতি বিষোদগার করে গেলেও মৃত্যূর পর ধর্ম মেনে ঠিকই তার জানাজা ও কবর দেয়া হয়েছে, সে এটাই চেয়েছিল কারন মুখে নাস্তিকতার বড় বড় বুলি আওড়ালেও মৃত্যূ পরবর্তী জীবন নিয়ে সম্ভবত সে ভীত ছিল।তার মেয়ে মৌলি আজাদের ভাষায়-মাত্রাতিরিক্ত অশ্লীল শব্দ থাকায় ঘৃনাবোধ করত।  
৩। আরজ খবিস মাতব্বর: অতি সাধারন অশিক্ষিত এক কৃষক হয়েও সে বাংলার নাস্তিক সমাজের মধ্যমনি। ইসলামী জ্ঞানের স্বল্পতা থাকার দরুন না বুঝেই ইসলাম ধর্ম নিয়ে অনেক অভিযোগ উত্থাপন করেছিল।
৪। কবি শামসু শয়তান: শামসু শয়তান পবিত্র আযান নিয়ে বাঝে মন্তব্য করেছিল। নাউজুবিল্লাহ। তাকে একবার প্রশ্ন করা হয়েছিল- আপনি কি চান আপনার কবর হোক আপনার খালার কবরের পাশে? নাস্তিকটা জবাব দিয়েছিল-আমি তো আমার কবর হোক এটাই চাই না।
৫। তসলিমা মালউন: তাকে চেনে না এমন লোক খুব কমই আছে। তার একটি বিখ্যাত উক্তি-পুরুষরা যেমন গরম লাগলে খালি গায়ে ঘুরে বেড়ায় নারীরাও তেমনি খালিগায়ে ঘুরে বেড়াবে। সে কি মাপের ইসলামবিদ্বেষী সেটা নিশ্চয়ই কাউকে বুঝিয়ে বলতে হবে না।
৬। লইত্যা কাজ্জাবঃ  তাকে তো সবাই চেনেন। যে কিছুদিন পুর্বে পবিত্র হজ্ব সম্পর্কে বাঝে মন্তব্য করেছে।
৭। লালন উম্মাদঃ  সুবিধাবাদী সেক্যুলার। কোন ধর্ম পালন করতো না। জীবনে যতবার নেশা টেনেছে ততবার ভাত খেয়েছে কিনা সন্দেহ।
৮। জাফর ষাড়ঃ বাংলাদেশের নাস্তিকতা প্রচারের মিশন দিয়ে আমেরিকার একটি বিশেষ সংস্থা তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে বলে ধারনা করা হয়। তরুন সমাজকে নাস্তিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নিজে মুক্তিযুদ্ধ না করলেও জাফর এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি করে পেট চালায়।
৯। লেখক আনিসুল বকঃ সেক্যূলারপন্থী লেখক আনিসুল হক নাস্তিকপন্থী পত্রিকা প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক। ১৯৯১ সালে সে কুরআনের একটি সূরাকে ব্যঙ্গ করে প্যারোডি সূরা রচনা করে, বছরখানেক আগে তার ঐ লেখা পুনঃপ্রকাশিত হলে দেশ উত্তাল হয়ে ওঠে।
১০। সুলতানা চক্রবর্তি: জন্মসূত্রে মুসলমান হলেও বিয়ে করেছে শ্রী সুপ্রিয় চক্রবর্তী নামে এক হিন্দুকে। কপালে সবসময় একটা ট্রেডমার্ক টিপ থাকে। সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহ ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম তুলে দেয়ার জন্য বহু বছর ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছে এই কুখ্যাত সেক্যুলার।
১১। কবির খবীস: চরমপন্থী এই নাস্তিক একবার বলেছিল- তোমরা আমার মরণের সময় মোহাম্মদের জ্বালাও-পুড়াও ঐ কালেমা শুনাবে না, বরং রবীন্দ্রনাথের একটি সংগীত আমাকে শুনাবে
১২। আসিফ ক্রাইষ্ট: বর্তমান সময়ের আরেক কুখ্যাত নাস্তিক। অন্যান্য নাস্তিকের মত এটাও চরিত্রহীন ও লম্পট।
১৩। শফিক শয়তান: বাংলাদেশে “ভ্যালেন্টাইন ডে” নামক বিজাতীয় সংস্কৃতির প্রবর্তক। ১৯৯৩ সালে এই নাস্তিক সর্বপ্রথম তার পত্রিকা যায়যায়দিন এর মাধ্যমে এদেশে ভালবাসা দিবস এর প্রচলন ঘটায়।

(গ) ওলামায়ে ছুঃ-
উলামায়ে ‘ছূ’দের নিকৃষ্ট ধারণা সম্পর্কে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, ‘তারা মনে করে যে, তারা কিছু একটা হয়েছে। বড় কিছু একটা সম্পদ অর্জন করেছে, কিন্তু প্রকৃত কথা এই যে, এই ধারণা ও বিশ্বাস সম্পূর্ণ মিথ্যা। তারা শয়তানের প্রভাবে পড়েছে। শয়তান তাদেরকে আল্লাহ পাক-এর যিকির ও কথা ভুলিয়ে দিয়েছে। ফলে তারা শয়তানের দলভুক্ত হয়েছে। নিশ্চয়ই জেনে রাখ, যারা শয়তানের দলভুক্ত-শয়তানের দোসর, উলামায়ে ‘ছূ’- তাদের জীবন ব্যর্থ, ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
মহান আল্লাহ পাক তিনি ‘পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ উনার ২১৭ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমাদের মধ্য থেকে যে বা যারা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম থেকে ফিরে যায় অর্থাৎ মুরতাদ হয়ে যায় অতঃপর সে বা তারা কাফির অবস্থায় মারা যাবে। যার ফ্ললে তাদের ইহকালীন ও পরকালীন সব আমলই নষ্ট হয়ে যায় এবং তারা অনন্তকাল ধরে জাহান্নামে থাকবে।”
মূলত ওলামায়ে ছু আর নাস্তিক মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ । নাস্তিকেরা সরাসরি ইসলাম উনার বিপক্ষে যায় আর ওলামায়ে ছুরা মুসলমান নাম ধারন করে ইসলাম এর বিপক্ষে যায় । দুদলই জাহান্নামী ।
কুখ্যাত কিছু ওলামায়ে ছুদের হাকিকত জানলে বুঝতে পারবেন এরা নাস্তিক হতেও নিকৃষ্ট ।
a) দেওহিন্দু -
সম্মানিত নবী ও রসূল, আবুল বাশার হযরত আদম ছফীউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে হিন্দুদের কথিত দেবতা ‘শিব’ এবং উনার সম্মানিত আহলিয়া উম্মুল বাশার হযরত হাওয়া আলাইহাস সালাম উনাকে হিন্দুদের কথিত দেবী ‘পার্বতী’ বলে-হিন্দুদের দালাল উলামায়ে হিন্দের কুলাঙ্গার দেওবন্দী খারিজী ওহাবী মালানা ইলিয়াছ ও তার সমর্থক সকলেই কাট্টা মুরতাদ হয়ে গেছে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ সালে দেওবন্দীরা ইতিহাসের আরেক জঘন্য কুফরীমূলক বক্তব্য দিয়েছে, যা কোনো মুসলমানের আক্বীদা হতে পারে না। দেওবন্দের মুফতে ইলিয়াস বলেছে যে, হিন্দুদের দেবতা শিব মুসলমানদের প্রথম নবী। (নাউযুবিল্লাহ)। সে আরো বলেছে যে, দেবতা শিব ও দেবী পার্বতী সকলের আদি পিতা-মাতা। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!
প্রকৃত সত্য হলো- দেওবন্দীরা যেহেতু জাতে হিন্দু তাই তাদের মধ্যে হিন্দুপ্রীতিও এত গভীর। আর এই গভীর হিন্দুপ্রীতির কারণেই শুধু এবারেই প্রথম নয় বরং এর আগেও আরো বহু বার তারা হিন্দুদের ব্যাপারে মিথ্যা ছাফাই গেয়েছে। নাউযুবিল্লাহ! যেমন-
১. দেওবন্দ মাদরাসার ১৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ৩০তম মাহফিলে ‘জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ’-এর মালানাদের আমন্ত্রণে হিন্দুদের প্রধান ইয়োগা গুরু রামদেব উপস্থিত হয়ে মাহফিলে গীতা পাঠ করে শোনায়। আর রামদেবের সাথে সাথে দেওবন্দী মালানারা ও ছাত্ররা গীতা পাঠ করে এবং যোগ ব্যায়াম করে।
২. দেওবন্দীরা ২০১১ সালে ফতওয়া দিয়েছিল যে, দেওবন্দী ও হিন্দুরা ভাই ভাই। নাউযুবিল্লাহ!
৩. দেওবন্দীরা আরো ফতওয়া দিয়েছিল যে, হিন্দুদের কাফির বলা যাবে না। নাউযুবিল্লাহ!
৪. ২০০৫ সালের ২৯মে দেওবন্দী মালানা আসাদ মাদানী জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের ২৮তম বার্ষিক সভায় সোনিয়া গান্ধীকে আমন্ত্রণ জানায় ও একসাথে মিটিং করে। নাউযুবিল্লাহ!
৫. প্রতি বছর দেওবন্দ মাদরাসা থেকে মুসলমান উনাদেরকে গরু কুরবানী করতে নিষেধ করা হয়। যেমন- গত ২০১১ সালে তারা ফতওয়া দিয়েছে, মুসলমানদের গরু কুরবানী দেয়া উচিত নয়; কারণ গরু হিন্দুদের দেবতা। নাউযুবিল্লাহ!
৬. ভারতে মুসলমানরা এত নির্যাতিত হওয়ার পরও তারা বলছে ভারতে মুসলমানদের জিহাদ করার কোনো দরকার নেই। তারা ভারতকে দারুল আমান বলে ঘোষণা দিয়েছে, যেখানে জিহাদের কোন প্রয়োজন নেই।

b) কওমি -হেক্বারতে ইসলাম- যাদের আক্বিদা দেওহিন্দুদের আক্বিদা। এরা মুখে নাস্তিকদের বিরুদ্ধে বলে থাকে কিন্তু হাক্বিকত ভিন্ন। । লালা বাবা তেতুল পুজারী আহাম্মক শফি একসময় গর্তে লুকানো ইদুরের মত হুংকার দিয়ে বলেছিল " নাস্তিকদের বিরুদ্ধে আমরন লরাই চলবে " দিন গেল, মাস পার হয়ে বছর চলে যায় কিন্তু নাস্তিকদের বিরুদ্ধে তেতুল শফির বচন আর শুনা যায়না।
কাট্রা নাস্তিক অভিজিৎ জাহান্নামে গেল ,সরকার নিরাপরাধ মুসলমানদের হয়রানী করছে কিন্তু তেতুল শফী এখন আর কিছু বলেনা।  কিন্তু লালা শফির কোন মিউ মিউ শুনা যায়না।কারন সরকার লালা বাবার মুখে ঝোয়াল (গরুর মুখ বন্ধনি) পরিয়ে দিয়েছে জনগনের ৩২ কোটি টাকা মুল্যের রেলের সম্পত্তি দিয়ে। যার কারনেই লালা বাবার মুখে বের হয় "সরকার, আ.লীগ, ছাত্রলীগ সবাই আমাদের বন্ধু" …
এই হেক্বারতে ইসলাম উলটা অভিজিৎ হত্যার নিন্দা করছে ও বিচারের দাবী করছে !! এরাই হল প্রকৃত ধর্ম ব্যবসায়ী যারা দুনিয়ার বিনিময়ে দ্বীন বিক্রি করে , পরকালে যাদের স্থান জাহান্নামের অতল গহবরে।

c) জামায়াতঃ- ”ধর্ম ব্যবসায়ো জামায়াত নাকি আল্লাহর আইন চালু করবে । এই সি আই এ এর এজেন্ট নাস্তিকদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করে উলটা নাস্তিক অভিজিৎ হত্যায় এরা নিন্দা ও হত্যার বিচার দাবি করে।নাউযুবিল্লাহ ।  এরা কি জানেনা ইসলামে নাস্তিক হত্যাকারির বিচার হয়না ?

d) গাট্রি তাবলীগ জামায়াত - ল্যাংড়া ইলিয়াসের স্বপ্নে পাওয়া এই গাট্রি ছয় উছুলী তাবলীগ হল পৃথিবী সেরা কাপুরুষের কাফেলা । দেশ ধ্বংস হয়ে যাক, নাস্তিকে দেশ ভরে যাক, দেশ থেকে ইসলাম নিশ্চিনহ হয়ে যাক তাতে এদের কিছু যায় আসেনা। গাট্রি কাধে নিয়ে ফায়দার কথা বলে কিন্তু ঈমান যে এদের নাই তা ফিকির করেনা। এই ছয় উছুলী তাবলীগ বিশ্ব ইস্তেঞ্জায় চার্লি এবদো পত্রিকায় কার্টূন ছাপানোয় কাফিরদের পক্ষাবলম্বন করে বিবৃতি দিয়েছিল ।  
হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “পৃথিবীর পূর্বপ্রান্তে যদি একটা বদ কাজ হয় পশ্চিমপ্রান্ত থেকে কেউ তা সমর্থন করে তবে সেও সমান গুনাহে গুনাহগার হবে।

৪. কাফির মুশরিক
কাফিরেরা এবং তাদের অনুসারিরা সবচেয়ে নিকৃষ্ট প্রাণী । উভয়ের পরিণামও সবচেয়ে ভয়াবহ ।মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্ট জীবের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট হচ্ছে কাফিরেরা- এ কথা মুসলমান মাত্রই সকলকে মনে প্রাণে বিশ্বাস করতে হবে। এ কথা যে মুসলমান বিশ্বাস করবে না, সে মুসলমান থাকতে পারবে না। কেননা এ কথা মুবারক স্বয়ং খালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক উনার। আর মুসলমানকে মহান আল্লাহ পাক উনার কালাম বা উনার নাযিলকৃত কিতাবসমূহের উপর বিশ্বাস স্থাপন করেই মুসলমান হতে হয়। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার পবিত্র কালাম কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই সমস্ত প্রাণীর মাঝে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট কাফিরেরাই সবচেয়ে নিকৃষ্ট, যারা ঈমান আনেনি।” (পবিত্র সূরা আনফাল শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৫)
কাফিরদের পরিণতি সম্পর্কে স্বয়ং খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই যারা কাফির এবং কুফরী অবস্থায় মারা গেছে, তারা যদি তাদের কুফরীর কাফফারা বাবদ যমীন পরিপূর্ণ স্বর্ণ মহান আল্লাহ পাক উনাকে দেয় (শাস্তি থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য) তবুও তা গ্রহণ করা হবে না। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি এবং তাদের জন্য কোনো সাহায্যকারীও থাকবে না। অর্থাৎ কাফিরদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক তিনি এত অসন্তুষ্ট যে, এরা মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে কোনো রকম সাহায্য তো পাবেই না; বরং মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত এবং উনার কঠিন আযাবে-গযবে অনন্তকালের জন্য গ্রেফতার থাকবে।
আমেরিকা ইউরোপ ইহুদী সংঘ প্রতিবাদ জানায় । মানধিকারের কথা বলে । যে সন্ত্রাসী আমেরিকা নিজের দেশে প্রমানিত হত্যাকান্ডের তদন্ত করে বিচার করতে পারেনা সে আমেরিকা - কোন সাহসে বাংলাদেশে নাস্তিক হত্যার তদন্তে সাহায্য করতে চায় ?

আজ আমেরিকায় পুলিশের গুলিতে হত্যাকান্ড হয়েছে । কারন এর পুর্বে কৃষ্ণাঙ্গ হত্যায় আমেরিকা বিচার করেননি । আবার এই আমেরিকাই ৩ মুসলিম শিক্ষার্থীকে গুলি করে শহীদ করার প্রতিবাদ করেনি ।বলেনি এর তদন্ত করে বিচার করবে। তাহলে দেখা যাচ্ছে আমেরিকা নিজেই নিজের দেশে আইন এর সঠিক প্রয়োগ করছেনা।তাহলে কি করে সে বাংলাদেশে আসার কথা বলে ?আবার এসকল হত্যাকান্ডে না ইহুদি সংঘ না ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন কোন প্রতিবাদ জানিয়েছে ।
আমেরিকায় ডাঃ আফিয়া সিদ্দিকি , কৃশাঙ্গ হত্যা , ৩ মুসলিম হত্যা , গুয়ানাতানামো , আবু গারিব কারাগার , মুসলিম নির্যাতন এর সময় এরা কোথায় ছিল? এরাই তো নাস্তিক ইসলামবিদ্বেষিদের শেল্টার দেয় ।
অথচ এরাই এক নাস্তিকের জাহান্নামে যাওয়ায় ঘেউ ঘেউ শুরু করেছে ।ওহে শুয়োর আমেরিকা ,গায়ে মানেনা আপনি মোড়ল বনার দিন শেষ । এখন তদের উপর একশন ,ডাইরেক্ট একশন শুরুর সময়।
নাস্তিক , ওলামায়ে ছু আর কাফির একই সূত্রে গাঁথা।

৪. সরকারের করনীয় - সরকার কাট্রা ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিক অভিজিৎ হত্যার কারণে এক ব্লগারকে আটক করেছে ।অভিজিৎ রায় হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত উম্মাহাতুল মুমীনিন আলাইহিন্নাস সালাম ও দ্বীন ইসলাম সম্পর্কে যে বাঝে মন্তব্য করত তা একজন মুসলমানের পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন।নিজের মায়ের বিরুদ্ধে যদি কেউ কটূ কথা কিম্বা বাঝে মন্তব্য করে তখন কোন সন্তানই তা সহ্য করতে পারেনা । উক্ত সন্তান তীব্র প্রতিবাদ করে ,এমনকি খুনাখুনিও হয় । তাহলে হযরত উম্মাহাতুল মুমীনিন আলাইহিন্নাস সালাম হলেন সকল উম্মতের মাতা , উনাদের নিয়ে বাঝে মন্তব্য করলে কোন মুসলমান কি সইতে পারবে ?আজ অনলাইনে, মিডিয়ায় লাগাতার ইসলাম এর বিপক্ষে লিখা লিখেই যাচ্ছে কিন্তু সরকার কি তার ব্যবস্থা নিয়েছে ?যারা অন্যায় করে লিখল তাদের গ্রেপ্তার না করে সরকার কি করে তাদের অন্যায় এর প্রতিবাদকারীকে গ্রেপ্তার করল ?
তাহলে কি মুসলমান অন্যায় এর প্রতিবাদ করতে পারবেনা?মুসলমান কি নাস্তিকদের বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারবেনা?সরকার কি পারবে ১৮ কোটি জনগণের মুখ বন্ধ রাখতে?
সরকার জনগনকে কি বার্তা জানাল?
জনগন কি মনে করবে? জনগন মনে করবে সরকার নাস্তিকদের পক্ষে আর ইসলামের বিপক্ষে ,যার বদনাম অলরেডী সরকার বহন করছে। আর সরকারকে উচ্ছেদ করতে ষড়যন্ত্রকারীরা ইহাই চায় যেন আরও একটি ৫ মে এর উত্থান হয়,যাতে সরকারের ভিত নড়ে ওঠে ।
সরকারের নাস্তিকদের বিচার না করে যদি এভাবে মুসলমানদের হৃদয়ে আঘাত দেয় তাহলে ষড়যন্ত্রকারীরা সহজেই জনগণকে উষ্কে দিয়ে গনআন্দোলনের পটভুমি তৈরি করে দিবে। আর এ ব্যাপারে দেশি-বিদেশি উভয়পক্ষই কাজ করছে। অবাক হল যে বিদেশী ষরযন্ত্রকারী আমেরিকা সরকারকে উৎখাত করতে চায় সে আমেরিকাকে একটা জাহান্নামের কীট এর মৃত্যু তদন্তে ঢেকে আনছে!!!
-সকল নাস্তিকদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে ।
-ইসলামের খিলাপ কর্মকান্ড বন্ধ করতে হবে ।
-কাফির ,ফকির আমেরিকাকে ঝেটে বিদায় করে দিতে হবে।

অন্যথায় সরকারকে কঠিন কাফফারা আদায় করতে হবে ।


ওর মাথা ফুলে গিয়েছিল। প্রায় দ্বিগুণ!! ঢাকায় ডাক্তার দেখানো হয়, কিছু ধরা পরে না ,ভারতেও বোধ হয় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল- নিষ্কাম প্রচেষ্টা। পরে এক কবিরাজকে দেখানো হয়, তিনি নাকি দেখেই সব কিছু বলে দেন। সন্তান হবার সময় আমার বোনের বাসায় যে সমস্যা ছিল, তাও তিনি বলে দেন। সবাই অবাক। এরপর ওই কবিরাজ বাড়িতে এসে মাটি খুঁড়ে তাবিজ বের করেন। একটা ঔষধ দেন এবং আশ্চর্যজনকভাবে সব ঠিক হয়ে যায় আস্তে আস্তে। কবিরাজ কোন টাকা পয়সা নেয়নি। জিনিসটা আমার নিজ চোখে দেখা, আমার পরিবারের কাহিনী। তাই অস্বীকার করার ওয়ে নাই।
প্রসঙ্গত বলে রাখি, আমাকেও ছোটবেলায় “জীন ধরেছিল”। মহাস্থানগড়ের ওই জীন নাকি তার ছোট বোনের “খেলার সাথী” হিসেবে আমাকে চুজ করেছিল! এরকম ঘটনা অনেক শোনা যায়। ব্যাপারটা আউলফাউল, বুজরুকি দিয়েই আমি উড়িয়ে দিতাম। (তবে ভাবতে ভাল লাগত, ছোটবেলায় আমি না জানি কত্ত সুন্দর ছিলাম... মানুষ তো মানুষ, জীন ও...... :P)
কিন্তু এবার আর ওড়াতে পারলাম না...
পৃথিবীতে অনেক সময়েই শোনা যায় অতিপ্রাকৃত ঘটনার কথা। জীন ভুত , “মুজিজা” এসব তো আছেই, সাথে আছে বৌদ্ধ ও হিন্দু সন্ন্যাসীদের নিজেদের শরীরের ওপর অসাধারণ কন্ট্রোলের কাহিনী, মার্শাল আর্ট পারদর্শীদের “স্পিরিট বম্ব” এর কথা, ব্ল্যাক আর্টের কথা। আগে সব উড়িয়ে দিতাম। এবার এগুলোর সত্য মিথ্যা নিয়ে আমি একটু স্টাডি করি। বুঝতে পারি, সব যদি সত্য নাও হয়, কিছু সত্য। আমি ধাঁধাঁয় পড়ে যাই। নতুন থিউরী খুঁজি।
প্রাথমিকভাবে আমি সব পর্যালোচনা করে নিচের থিউরী বের করি –
“হজরত মুহাম্মদ, গৌতম বুদ্ধ, ব্ল্যাক আর্টিস্ট- এদের হয়ত মুজিজা ছিল। তারা অনেক কিছু পারত, যা অন্য কেউ পারত না। অলৌকিক কিছু। সত্য – মিথ্যা যাই হোক, ব্লাফ হোক আর পবিত্র হোক, ধরে নেই এর কিছু অন্তত সত্যি। অন্তত ব্ল্যাক আর্ট সত্য। বৌদ্ধ সন্যাসীদের ক্ষমতা সত্য। তাহলে এরা এই ক্ষমতা কই পেল?? কে দিল?? সাধারনভাবে এর উত্তর হবে- “ঈশ্বর।”। আমারও প্রথমে তাই মনে হয়। ধর্ম টর্ম কিছু না। আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইলে তিনি দেন। সেটা যেই হোক। কিন্তু আরেকবার রিভাইজ দিতে গিয়ে আমি এর খুত পেলাম-
হজরত মুহাম্মদ ছিলেন আস্তিক, গৌতম নাস্তিক আর ব্ল্যাক আর্টিস্টরা স্রষ্টা বিরোধী, রাস্পুটিন ছিল চরিত্রহীন। কিন্তু সবার “অলৌকিক ক্ষমতা ছিল”। তারমানে এই ক্ষমতা অর্জন সৃষ্টিকর্তার কাছে চাওয়া, তার ওপর বিশ্বাসের ওপর ডিপেন্ড করে না, সাধু হবার ওপরও না। অন্য কোন ব্যাপার আছে। সেটা কি?? সেটা হল স্টাইল... পদ্ধতি।
মুহাম্মদ হেরার গুহায় ধ্যান করেছিলেন, গৌতম গাছের নিচে। বুদ্ধিস্টরা মেডিটেশন করে। ব্ল্যাক আর্টিস্টরাও ধ্যান, “জিকির” টাইপ কি সব করে (যতদুর জানি...) অর্থাৎ ব্যাপারটা সিমিলার। তাহলে কি দাঁড়ালো?? এই লোকগুলা একটা নির্দিষ্ট সময় ধরে, নির্দিষ্ট কারণে নির্দিষ্ট প্যাটার্নে ধ্যান, তথা চিন্তা করেছিল। এর ফলে তারা প্রকৃতির কিছু নতুন নিয়ম (যা আর কেউ জানে না) উপলব্ধি করে। পুরোটা চিন্তা দ্বারা উদ্ভাবিত। তারা নিজেরাও তেমন একটা ব্যাখ্যা জানত না জিনিসটার। কিন্তু করতে পারত। ... আচ্ছা, কি জানি মিল মিল লাগছে না???...


মনে আছে রামানুজনের কথা?? ভারতের অশিক্ষিত “গণিতবিদের গনিতবিদ”। তিনিও তো গনিত সল্ভ করতে পারতেন, কিন্তু ব্যাখ্যা করতে পারতেন না। গনিতের বিশাল বিশাল সমস্যা তিনি সমাধান করতেন ভাসা ভাসা ভাবে। তিনি বলতেন- তার কাছে রাতে স্বপ্নে দেবী আসত – বলে দিত গনিতের সমস্যার সমাধান। তিনি মাঝ রাতে উঠে অংক করতেন।
মানুষ স্বপ্নে কি দেখে?? তিনি যা তার অবচেতন মনে ভাবেন, তাই দেখেন। রামানুজন তার এই চিন্তার ফলাফল পেয়েছিলেন দেবীর মুখ থেকে। কারণ তিনি ছিলেন অসম্ভব গোঁড়া ধার্মিক। ঠিক যেমনটা মুহাম্মদ পেয়েছিলেন আলোর তৈরি “ফেরেস্তা”র কাছ থেকে। স্বপ্ন হোক, কল্পনা হোক, হেলুসিনেশন হোক- একই ব্যাপার ... সবার ক্ষেত্রে একই জিনিস খাটছে ... হঠাৎ আইনস্টাইনের কথা মনে পড়ল। আপেক্ষিক তত্ত্ব কিভাবে আবিষ্কার করলেন – তার উত্তরে তিনি বলেছিলেন যে তিনি ভাবতেন তিনি আলোর কনার ওপর বসে ঘুরে বেরাচ্ছেন। তখন দেখলেন জগত কত আলাদা। এভাবেই জাস্ট একটা ভাবনা থেকেই আসলে এসেছে সবকিছু – বিজ্ঞান, গনিত, ধর্ম ,সমাজ কিছুই এর বাইরে না। নবী ভেবেছিলেন তার সমাজের কথা, উত্তর পেয়েছিলেন। তখনকার সমাজের জন্য এটা ছিল দরকারী। আবার বিজ্ঞানী ভাবেন বিজ্ঞানের সমস্যার কথা- উত্তর পান... আর অলৌকিক কাজ?? ১০০ বছর আগে ব্যাঙ্গের পাখা গজানো কি ছিল?? অলৌকিক, তাই না?? এখন?? জিনেটিক ইঞ্জিনিয়াররা চাইলেই তা করতে পারবেন। একটা নির্দিষ্ট যুগের মানুষের ধারনা ও জ্ঞানের বাইরে যা ঘটে, তাই আমরা “অলৌকিক”, “জাদু” বলি। এগুলোও কিছু নতুন নিয়ম, আর কিছু না...কিছু অজানা সুত্র। ওই সুত্রই তারা পারফর্ম করেন।
আবার এই “ধ্যানে” কিছুর ব্যাখ্যা তারা বের করেন, কিছু পারেন না। বিজ্ঞানে তাকে বলি প্রস্তাবনা, আর ধর্মে সেটাকে “মনে রেখ আল্লাহই সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক” বলে ব্যাক্ষার উরধে রাখা হয়।  ”
আমার এই তত্ত বের করার পর আমি আমি প্রচণ্ড আনন্দিত হই। এটা ছিল আমার কাছে সবকিছুর একযোগীকরণ। স্ট্রিং থিউরীর মতো।   কিন্তু  সমস্যা থেকে যায়। অনেকে শারীরিকভাবে লিমিটের বাইরে চলে যান। যেমন পানির নিচে অনেকক্ষণ থাকা, ব্যাথা সহ্য করা- এটা কিভাবে হয়?? উত্তর পেলাম কদিন পরই – মেডিটেশন নিয়ে পড়ার সময়।
মেডিটেশন করে আমাদের শরীরের “লিমিট” অনেকদুর বাড়ানো যায়। অনৈচ্ছিক অংশের ওপর নিজের কন্ট্রোল আনা যায়। যেমন হৃদকম্পন মিনিটে ২ বার পর্যন্ত করা যায়, তখন নিশ্বাস না নিয়ে অনেকক্ষণ থাকা যায় ... আর এ সবই সাইন্টিফিক। বৌদ্ধ সন্যাসী রা তো আছেনই, ক্রিস অ্যাঞ্জেলস ও এই মেডিটেশন করে। আমি টিভি তে দেখেছি।
বাকি থাকল “স্পিরিট বম্ব”, টেলিপ্যাথি। আমি ন্যাট জিও তে দেখেছি - এগুলো আসলেই আছে। স্পিরিট বম্ব দিয়ে দূর থেকে টাচ না করেই মানুষকে আঘাত করা, ইভেন দেয়ালের ওপাশ থেকে অজ্ঞানও করে দেয়া সম্ভব। এসব সাইকিক সমস্যার ব্যাখ্যা আমি পেয়েছি অনেক পর। “কোয়ান্টাম এন্ট্যাঙ্গেলমেন্ট” সম্পর্কে জানার পর। দুটি কোয়ান্টাম কণার উৎস একই হলে, এদেরকে যদি মহাবিশ্বের ২ মাথায়ও নিয়ে যাওয়া হয়, একটার পরিবর্তনে আরেকটাও একা একা পরিবর্তিত হবে ...অর্থাৎ আমি একটা জিনিস চিন্তা করার সময় ব্রেন থকে যে ওয়েভ (তথা কণা) তৈরি হয়, তা অন্য কিছুকে বদলে দিতেই পারে ...  “কোয়ান্টাম এন্ট্যাঙ্গেলমেন্ট” সম্পর্কে আমি এর চেয়ে বেশি কিছু জানি না, তাই ব্যাখ্যা করতে পারব না। এটা আদৌ সম্ভব কিনা- আমি তা জানি না। “অলৌকিক” কিছুতে বিশ্বাস করার চেয়ে অন্তত বিজ্ঞানের সম্ভাবনায় আস্থা রাখা ভাল... তাই না??


এরপর আমার ধর্মীয় চিন্তা আর তেমন চেঞ্জ হয় নাই। ডক্টর সি জে ভেন্টর এর কৃত্রিম প্রাণ সৃষ্টি এ চেতনাকে দিয়েছে আরও শক্তি। মাঝখানে দুনিয়ায় খারাপ জিনিস এত বেশি দেখে আমি “ম্যালথিস্ট” হয়েছিলাম। গড আছে, কিন্তু সে ভাল না... আসলেই কিন্তু, আমরা ভাবি সব ভাল জিনিস গডের গুন, আর খারাপ গুলা সে “আমাদেরকে পরীক্ষা করতে দিসে”... উল্টাটা কি হতে পারে না??
যাই হোক, এই চিন্তা বেশিদিন থাকে নাই ...

আমরা এখনও শিওর না যে ঈশ্বর নাই। আমি তার কোন প্রমান পাই নাই। আমার বিশ্বাস আগামীদিনের পদার্থবিজ্ঞান তা বের করবে। তবে অনেকে মনে করেন এটা কখনও প্রমাণ করা যাবে না। হ্যাঁ, যদি মহাবিশ্ব ১টা বিচ্ছিন্ন সিস্টেম হয়। অর্থাৎ ঈশ্বর বাইরে থেকে এতে ভর, শক্তি কিছুই না দেন, তাহলে দুনিয়ার সব কিছু সুত্র দিয়ে ব্যাখ্যা করার পর ও শিওর হওয়া যাবে না তার অনস্তিত্তে ।তবে তখন প্রশ্ন জাগে তাকে বিশ্বাসে প্রয়োজনীয়তায়। এই বিষয়ে গবেষণা বাইরে এখন হচ্ছে। স্টিফেন হকিন্স সম্প্রতি প্রমান করেছেন যে মহাবিশ্ব তৈরি হতে ঈশ্বর লাগে না। প্রমাণটা অতি সুন্দর। আমরা জানি ব্ল্যাক হোলের আশপাশে সময় ধীর হয়ে যায়। হোলের ওপর বা ভিতরে সময়ের পরিবর্তন থেমে যায়। অর্থাৎ তা আক্ষরিক অর্থেই “নাই” হয়ে যায়।
আমাদের এই বিশাল মহাবিশ্ব একসময় একটা কনায় পুঞ্জিভুত ছিল। (বিগ ব্যাং) এটার আয়তন ছিল ক্ষুদ্র। ভর ছিল অসীম। অর্থাৎ এটাও ছিল একটা ব্ল্যাক হোল। বিস্ফরিত হবার আগে এটা ব্ল্যাক হোল-ই ছিল। অর্থাৎ সময় বলে কিছু ছিল না। তার মানে কার্যকারণ সম্পর্ক (CASUALITY) ছিল না। এই বিস্ফরনের “আগে” কিছু হয় নাই। “কারও জন্য” বা “কোন কারণে” এই বিস্ফোরন ঘটে নাই। অর্থাৎ মহাবিশ্ব সৃষ্টিতে কারও কোন হাত নাই ... অর্থাৎ গড নাই ...
তবে এখানে আমার কিছু প্রস্ন আছে। বলা হয়েছে এই সুপারএটম এসেছে  কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশন দিয়ে। আমি জতদুর জানি, কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশন হয় ভার্চুয়াল কনার। আর তাছাড়া  কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশন হয় একটা নির্দিষ্ট জায়গা, তথা স্পেসে। অর্থাৎ, আমাদের মহাবিশ্ব আরেকটার ভেতরে আছে?? আমি জানি না... পরাশুনা করা দরকার...:) আবার পুরো জিনিসটাই সময়ের ওপর নির্ভরশীল। নিচে ছবি হিসেবে সমীকরণটা দেয়া আছে ...
যেখানে সময়ই (t)নাই, সেখানে কিভাবে ফ্লাকচুয়েশন হবে?? কেউ যদি জানেন, আমাকে জানাবেন। আমি জানি না।
তবে আমি যা জানি, তা হল- আমি সব কিছুই আমার যুক্তিবোধ, জ্ঞান এর নিরিখে ব্যাখ্যা করব। এর বাইরে হুদাই কাউকে আনব না। কারণ যদি টানি, তাহলে তার সৃষ্টি, সে কিছু স্রিষ্টি করার আগে তার অবস্থান নিয়ে ক্যাচাল লাগবে। তাহলে তো একই হইল। দরকার কি?? উনি থাকলে কি আর না থাকলেই বা কি?? আমাদের জীবনে তো তার কোন প্রভাব নাই... আর উনি থাকলে তো অনেক বড় কিছু উনি – আমার মানা না মানায় তার কি এসে যায়?? আমি আমার মতই থাকি...??
তবে আমরা যদি ঈশ্বরে বিশ্বাসী হই, তাহলে ভাবতে হবে তিনি একা একা তৈরি হয়েছেন- কেউ বানায় নাই তাকে।
একা একা একটা ক্ষুদ্র কণা সৃষ্টি হওয়া আর একটা জটিল সত্ত্বা (বস্তুত সবচেয়ে জটিল) ঈশ্বর তৈরি হওয়া - কোনটা বেশী গ্রহণযোগ্য??
আমার কাছে প্রথমটা...


একটি ব্রয়লার ম্যানেজমেন্ট চার্ট দিলাম, দেখুন তো কেমন হলো-


 এই অনুরোধটি এতোবার পেয়েছি যে, এটি নিয়ে না লিখে আর পারলাম না। ভেটসবিডির একজন নিয়মিত পাঠক সিলেট থেকে বহুবার আমাকে ফোন করেছে, ইমেইল করেছে, নতুন ভেটেরিনারি পেশায় যোগ দিয়েছে এমন ভেটেরিনারিয়ানও আমাকে অনুরোধ করেছে এটা নিয়ে যেন আমি একটা আর্টিকেল লিখি। সবার অনুরোধের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমার আজকের এই আর্টিকেল। আপনাদের কাজে লাগলে তবেই আমি স্বার্থক। আরেকটি কথা এখানে আমি যে ড্রাগগুলো ব্যবহার করেছি তা একান্তই আমার অভিজ্ঞতা থেকে তুলে ধরলাম। আর ভ্যাকসিনের যে শিডিউলটি আমি এখানে দিয়েছি তা এলাকা ভেদে পরিবর্তন যোগ্য। যেকোন প্রশ্ন থাকলে তা আমাকে মন্তব্য করে জানাতে পারেন। ভ্যাকসিনের শিডিউল নিয়ে আপনার নিকটস্থ প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে পারেন।





বয়স          ঔষধ         ডোজ        সময়
১ম দিন গ্লুকোজ+ভিটামিন সি ৫০ গ্রাম/ লিঃ ৪-৫ ঘণ্টা

২য়-৪র্থ দিন অক্সিটেট্রাসাইক্লিন (যেমন: রেনামাইসিন পাউডার, ব্যাকটিট্যাব পাউডার, OTC vet ইত্যাদি) ১ গ্রাম/লিঃ সকাল থেকে সন্ধ্যা
ওয়াটার এসিডিফায়ার (যেমন: Haemico pH, Selko pH)তবে Activate WD Max হলে ১ গ্রাম/৪ লিঃ পানিতে ১ মিলি/লিঃ সকাল
এন্টিস্ট্রেসর (যেমন: Immofast, Immolite, Immunocare) ১ মিলি/লিঃ সকাল

৫ম দিন রাণিক্ষেত ভ্যাকসিন সকালে
এন্টিস্ট্রেসর (যেমন: Immofast, Immolite, Immunocare) ১ মিলি/লিঃ সকাল থেকে সন্ধ্যা

৬ষ্ঠ দিন ওয়াটার এসিডিফায়ার (যেমন: Haemico pH, Selko pH)তবে Activate WD Max হলে ১ গ্রাম/৪ লিঃ পানিতে ১ মিলি/লিঃ সকাল
এন্টিস্ট্রেসর (যেমন: Immofast, Immolite, Immunocare) ১ মিলি/লিঃ সকাল

৭ম-৮ম দিন ভিটামিন B1, B2,(যেমন: Thiavin, Prithi WS ইত্যাদি)ভিটামিন ই ও সেলেনিয়াম ১ গ্রাম/লিঃ সকাল

৯ম দিন সাদা পানি সারাবেলা (২৪ ঘণ্টা)

১০ম-১১শ দিন গামবোরো ভ্যাকসিন
এন্টিস্ট্রেসর (যেমন: Immofast, Immolite, Immunocare) ১ মিলি/লিঃ সকাল থেকে সন্ধ্যা

১২শ দিন ক্যালসিয়াম ১ গ্রাম/লিঃ সকাল
ভিটামিন AD3E ১মিলি/৪ লিঃ সকাল

১৩শ দিন সাদা পানি সারাবেলা

১৪-১৬ দিন এন্টিকক্সিডিয়াল (যেমনঃ ESb3 ইত্যাদি) ২গ্রাম/লিঃ সকাল থেকে সন্ধ্যা
জিংক (যেমন: জিংক ভেট, জিংক প্লাস, জিসআপ ইত্যাদি) ২-৩মিলি/লিঃ সকাল

১৭-১৮শ দিন গামবোরো ভ্যাকসিন
এন্টিস্ট্রেসর (যেমন: Immofast, Immolite, Immunocare) ১মিলি/লিঃ

১৯শ দিন সাদা পানি

২০-২২ দিন গ্রোথ প্রোমোটার ১মিলি/লিঃ সকাল
লিকুইড এনজাইম ১মিলি/লিঃ সকাল

২৩-২৪ দিন রাণিক্ষেত ভ্যাকসিন
এন্টিস্ট্রেসর (যেমন: Immofast, Immolite, Immunocare) ১মিলি/লিঃ

২৫ দিন সাদা পানি

২৬-২৮ দিন ক্যালসিয়াম ১ গ্রাম/লিঃ সকাল
ভিটামিন AD3E ১মিলি/৪ লিঃ সকাল

২৯ দিন সাদা পানি

৩০-৩২ দিন গ্রোথ প্রোমোটার ১মিলি/লিঃ সকাল

**ওয়াটার এসিডিফায়ার (যেমন: Haemico pH, Selko pH-১মিলি/লিঃ পানিতে) অথবা Activate WD Max ১ মিলি/৪ লিঃ পানিতে ভ্যাকসিন প্রয়োগের দিন ব্যাতিরেকে ২য় দিন থেকে ১৪ শ দিন পর্যন্ত সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এবং পরবর্তী দিনগুলোতে শুধু সকালে পানিতে ব্যবহার করলে সালমোনেলাসহ এন্টেরিক ব্যকটেরিয়াগুলোকে প্রতিরোধ করবে।

**তবে সকল ক্ষেত্রেই বায়ো-সিকিউরিটি’র প্রতি সবচেয়ে বেশি খেয়াল রাখতে হবে।

উপরোক্ত চার্টটি সম্পূর্ণ নিজ দ্বায়িত্বে ব্যবহার করবেন। খামারে রোগ দেখা দিলে এই চার্ট পরিবর্তনযোগ্য। চার্টটি কেবলমাত্র ধারনা দেয়ার জন্য উপস্থাপন করলাম। তবে আমি দীর্ঘ ৩ বছর এটি ব্যবহার করেছি।

Saturday, November 7, 2015

রাসুল (সা.) -এর বিদায় হজ্বের ভাষণ ।


দশম হিজরিতে রাসুল (সা.) জীবনের শেষ
হজ করেন। জিলহজ মাসের ৯ তারিখ দুপুরের
পর জাবালে রহমতে দাঁড়িয়ে বৃহত্তম
গণসমাবেশে জীবনের শেষ দিকনির্দেশনা
দেন। এই ভাষণের পূর্ণরূপ সংরক্ষিত নেই।
বুখারি শরিফে কিছু অংশ পাওয়া যায়, যা
নির্ভরযোগ্য সূত্র বিবেচনায় উদ্ধৃত হয়ে
থাকে। সংশ্লিষ্ট হাদিসগুলো হলো_হাদিস
নম্বর ১৬২৩, ১৬২৬ ও ৬৩৬১। ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ
বিষয়ে ভাষণের সংশ্লিষ্ট অনুবাদ নিম্নরূপ :
(জীবনাবসনের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন)হে
লোকেরা! আমার কথাগুলো মনোযোগসহ
শ্রবণ করো। আমার মনে হয়, এরপর আর
আমার পক্ষে হজের মহান
আনুষ্ঠানিকতায় যোগদান করা সম্ভব
হবে না।’
(হত্যার বদলে হত্যা প্রথা বন্ধ করে
বলেন )‘শুনে রাখো, অন্ধকার যুগের সব
কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস আর অনাচার
আজ আমার পায়ের নিচে দাফন করা
হলো। বর্বর যুগের শোণিত-প্রতিশোধ
প্রথা আজ থেকে রহিত করা হলো।…
আমি সর্বপ্রথম আমার স্বগোত্রের
প্রাপ্য সুদ এবং সব ধরনের রক্তের দাবি
রহিত ঘোষণা করছি।… মনে রেখো!
একজনের অপরাধে অন্যকে দণ্ড দেওয়া
যাবে না। পিতার অপরাধে পুত্র এবং
পুত্রের অপরাধে পিতাকে অভিযুক্ত
করা চলবে না।’
(সুদ প্রথা সম্পর্কে বলেন )অজ্ঞ যুগের
সব সুদ আজ থেকে বাতিল করা হলো।
আমি সর্বপ্রথম আমার স্বগোত্রের
প্রাপ্য সুদ ও সব ধরনের রক্তের দাবি
রহিত ঘোষণা করছি।’
(নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্যের ব্যাপারে
বলেন)যদি কোনো নাককাটা হাবশি
ক্রীতদাসকেও তোমাদের আমির
নিযুক্ত করা হয় এবং সে আল্লাহর
কিতাব অনুসারে তোমাদের পরিচালনা
করে, তাহলে তোমরা সর্বতোভাবে
তার আনুগত্য করবে, তার আদেশ মান্য
করবে। সাবধান!’
(ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি সম্পর্কে বলেন)
ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করবে না।
এতদ্বিষয়ে সীমালঙ্ঘনের কারণে
তোমাদের পূর্ববর্তী বহু জাতি ধ্বংস
হয়ে গেছে। মনে রেখো! তোমাদের
সবাইকেই আল্লাহর দরবারে উপস্থিত
হতে হবে। তাঁর কাছে এসব কথার
জবাবদিহি করতে হবে। সাবধান,
তোমরা খোদাদ্রোহী হয়ে পরস্পর
রক্তপাতে লিপ্ত হয়ো না।’
(অন্যের সম্পত্তি, ইজ্জতের হেফাজত
সম্পর্কে বলেন)স্মরণ রেখো, আজকের
এই দিন, এই মাস যেমন মহিমান্বিত,
মক্কার হেরেম যেমন পবিত্র, প্রতিটি
মুসলমানের ধনসম্পদ, সবার ইজ্জত-সম্ভ্রম
এবং প্রতিটি মুসলমানের রক্তবিন্দু
তোমাদের কাছে সে রকমই পবিত্র।
আগের বিষয়গুলোর পবিত্রতা নষ্ট করা
যেমন তোমরা পরিত্যাজ্য ও হারাম
বলে জানো, তেমনি কোনো মুসলমানের
সম্পদ, সম্ভ্রম ও জীবনের ক্ষতিসাধন
তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ, মহাপাপ।’
(মানুষে-মানুষে ভেদাভেদ নেই সে
ব্যাপারে বলেন)‘অনারবদের ওপর
আরবদের প্রাধান্যের কোনো কারণ
নেই। শ্বেতাঙ্গ-কৃষ্ণাঙ্গেও ভেদাভেদ
নেই। প্রাধান্যের মাপকাঠি হলো
একমাত্র খোদাভীতি। মানুষ সবাই
আদমের সন্তান আর আদম মাটি থেকে
সৃষ্ট। জেনে রাখো, জগতের সব মুসলমান
মিলে এক অবিচ্ছেদ্য ভ্রাতৃসংঘ।’
(শেষ নবী এর ব্যাপারে বলেন)হে
লোকেরা, জেনে রাখো, আমার পরে
আর কোনো নবীর আগমন হবে না। আমি
যা বলছি, মনোযোগ দিয়ে শোনো। এ
বছরের পর হয়তো তোমরা আর আমার
সাক্ষাৎ পাবে না। জ্ঞান উঠে যাওয়ার
আগেই আমার কাছ থেকে শিখে নাও।
চারটি বিষয় বিশেষ করে স্মরণ রেখো!
(১) কখনো শিরক করো না, (২)
অন্যায়ভাবে নরহত্যা করো না, (৩)
অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করো না, (৪)
কখনো ব্যভিচারে লিপ্ত হয়ো না।
সাবধান, কারো অসম্মতিতে তার
সামান্য সম্পদও গ্রহণ করো না। জুলুম
করো না। জুলুম করো না! কোনো
মানুষের ওপর জুলুম করো না।’
(শয়তান সম্পর্কে সাবধানবাণী দিয়ে
বলেন)আমি তোমাদের কাছে যা রেখে
যাচ্ছি, যত দিন তোমরা সেগুলো আঁকড়ে
ধরে রাখবে, পথভ্রষ্ট হবে না। আর তা
হলো আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর
রাসুলের সুন্নাত। হে লোকেরা,
সাবধান! এমন অনেক বিষয়কে তোমরা
ক্ষুদ্র বলে জ্ঞান করো, অথচ শয়তান
তারই মাধ্যমে তোমাদের সর্বনাশ করে
ছাড়ে। সে বিষয়গুলো সম্পর্কে খুবই
সাবধান থাকবে।’
(স্ত্রীদের প্রতি সদাচরণ সম্পর্কে
বলেন)অতঃপর, হে লোকেরা! নারীদের
বিষয়ে আমি তোমাদের সতর্ক করছি।
তাদের প্রতি নির্দয় ব্যবহার করার সময়
তোমরা আল্লাহর শাস্তির কথা ভুলে
যেয়ো না। নিশ্চয়ই তোমরা তাদের
আল্লাহর জামিনে গ্রহণ করেছ এবং
তাঁরই কালাম দ্বারা তাদের সঙ্গে
তোমাদের দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপিত
হয়েছে। মনে রেখো, তোমাদের
সহধর্মিণীদের ওপর তোমাদের যেমন
দাবিদাওয়া ও অধিকার রয়েছে,
তেমনি তোমাদের ওপরও তাদের
দাবিদাওয়া ও স্বত্বাধিকার রয়েছে।
পরস্পরকে নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহারে
উদ্বুদ্ধ করবে। স্মরণ রাখবে, এ
অসহায়দের একমাত্র সহায় তোমরাই।’
(দাস-দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহার
সম্পর্কে বলেন)স্মরণ রেখো, তোমাদের
অধীন দাস-দাসীরা অসহায়-নিরাশ্রয়।
সাবধান! তাদের ওপর কখনো জুলুম করবে
না, তাদের অন্তরে আঘাত দেবে না।
তোমাদের মতো তাদেরও একটি হৃদয়
আছে। ব্যথা দিলে কষ্ট পায় আর আনন্দে
আপ্লুত হয়। শুনে রাখো! ইসলামের
নির্দেশ হলো, তোমরা যা খাবে দাস-
দাসীদেরও তা-ই খাওয়াবে। তোমরা
যা পরবে, তাদের তা-ই পরাবে।
কোনো ধরনের তারতম্য করা চলবে না।’
(আত্মপরিচয় অস্বীকারের বিষয়ে
নিষেধ করে বলেন)যে নিজের বংশের
পরিবর্তে নিজেকে অন্য বংশের বলে
প্রচার করে, তার ওপর আল্লাহর,
ফেরেশতাকুলের ও সমগ্র মানবজাতির
অনন্ত অভিশাপ।’
(কোরআনের বাণী প্রচা্রের ব্যাপারে
বলেন )আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর
কিতাব রেখে যাচ্ছি। যত দিন তোমরা
সে কিতাব অবলম্বন করে চলবে, তোমরা
পথভ্রষ্ট হবে না। আজ যারা এখানে
উপস্থিত আছ, তারা আমার এসব পয়গাম
অনুপস্থিতদের কাছে পেঁৗছে দেবে।
হতে পারে উপস্থিত কারো কারো
থেকে অনুপস্থিত কেউ কেউ এর দ্বারা
বেশি উপকৃত হবে।’
হজরত মুহাম্মদ (সা.) দেড় লাখ সহচরের
বিশাল হজ সমাবেশের মধ্যে তাঁর
ভাষণের একেকটি বাক্য উচ্চারণ
করছিলেন আর সম্মেলনস্থলের বিভিন্ন
কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে থাকা তাঁর নকিবরা
সম্মিলিত কণ্ঠে তাঁর প্রতিধ্বনি করে
বিশাল সমাবেশের সব প্রান্তে
মুহাম্মদ (সা.)-এর বাণী পেঁৗছে
দিচ্ছিলেন। অতঃপর, রাসুল (সা.)
আকাশের দিকে মুখ তুলে বললেন, ‘হে
আল্লাহ, আমি কি তোমার বাণী
পেঁৗছে দিয়েছি_আমি কি আমার
দায়িত্ব পালন করেছি?’উপস্থিত জনতার
কণ্ঠে উচ্চারিত হয়_নিশ্চয়ই। নিশ্চয়ই।
তখন মুহাম্মদ (সা.) বলেছিলেন, ‘হে
আল্লাহ, তুমি শোনো, সাক্ষী থাকো,
তোমার দাসরা স্বীকার করছে, আমি
আমার দায়িত্ব পালন করেছি। হে
আল্লাহ, তুমি সাক্ষী থাকো।’
এই মুহূর্তে কুরআনের শেষআয়াতটি
নাজিল হয়। ‘আজকের এই দিনে
তোমাদের দীনকে পূর্ণ করে দিলাম।
তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত পূর্ণকরে
দিলাম। ইসলামকেই তোমাদের ওপর
দীন হিসেবে মনোনীত করলাম।’( সুরা
আল মায়েদাহ – ৩)
{প্রতিটি মুসলিমের দায়িত্ব বিদায় হজ্বের
ভাষণকে নিজের জীবনে এপ্লাই করা, দয়া
করে ভাষণের একটি কপি আপনার ঘরে
রাখুন এবং ইমেইল করে আপনার বন্ধুকে
পড়তে সহায়তা করুন।
আজকাল কিছু কিছু মুসলিমদের অন্তরে এক
রুপ এবং বাহিরে আরেক রুপ। তাই আমরা
আজ অপদস্ত হচ্ছি সময়ে অসময়ে। চলুন আগে
নিজের অন্তরকে ঠিক করি, আল্লাহকে ভয়
করি এবং রাসুলের সুন্নত অনুসারে চলি।
তাহলেই আমাদের ঈমান শক্ত হবে এবং
আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক
জীবনে শান্তি নেমে আসবে।}

জীন ভুত নিয়ে গবেষণা [১ম,২য় পর্ব] 'জীন সম্পর্কে চমকপ্রদ তথ্য! তারা কি খায়, কোথায় থাকে, বিয়ে করে কি না+একটি জীন তাড়ানোর গল্প◄

১মঃ-
গত পর্ব আমি আপনাদের ভুত শব্দের বাংলা ও ইংরেজী অর্থ জানিয়েছিলাম । এই পর্ব ভুতের অস্তিত্ত নিয়ে আলোচনার পূর্বে জীন নিয়ে আলোচনা করবো । তার সাথে আলোচনা করবো জীন ভুত সম্মন্ধে সাধারণ লোকের কি ধারণা তা নিয়ে । [বি:দ্র:=আপনি পূর্বের পোষ্ট না পড়ে থাকলে এই পোষ্টের কিছু বুঝতে পারবেন না , বা বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে । তাই দয়ে করে আগে ১ম পর্ব পড়ে নিন ।] আপনাকে যদি কেউ প্রশ্ন করে জীন কি পৃথিবীতে আছে ? তাহলে আপনার উত্তর ইতিবাচক হবে ঠিকই কিন্তু আপনি প্রমাণ করতে পারবেন না কিভাবে জীন আছে ? পবিত্র কুরআনের সুরা যারিয়াহ এর ৫৬ নং আয়াতে আল্লাহ্ সোবহান ওয়া তাআলা বলেছেন যে " ওয়ামা খলাকতুল জিন্না ওয়াল ইনসা ইল্লা লিঈয়াবুদুন " । এর অর্থ " আমি আল্লাহ্ জীন ও মানব জাতিকে শুধু মাত্র আমার ঈবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি ।" তাহলে বুঝলেন তো নাকি ? যে জিন রয়েছে ।অন্যান্য ধর্মের অনুসারি হয়তো বা বিষয়টিকে মেনে নিয়ে নাও পারে কিন্তু সনাতন ধর্মাবলম্বমীদের জন্যও এর কথা আছে । তারা জীনকে উপদেবতা বলে থাকে ।[দেবতার নিচের আসন , দেবতা নয় তবে তাদের অনুপ্রেরণার আদর্শ=জীন] শুধু তাইই নয় পবিত্র কুরআনের এরকম আরও বহু আয়াতে এদের কথা আছে , এমনকি এদের নিয়ে একটি পূর্ণ সুরা ' সূরাতুল জ্বীন ' অবতীর্ণ হয়েছে । তবুওকি কেউ অস্বীকার করবে জীনকে ? যাই হোক জানা গেল যে জীন আছে । কিন্তু এখন আপনাদের মনে প্রশ্ন আসতে পারে যে জীনের সাথে ভুতের কি সম্পর্ক ? আমাদের মাঝে এমন অনেক ব্যক্তি আছে যারা বলে থাকেন যে খারাপ জীনরাই হলো ভুত । কথাটি অত্যন্ত মুর্খতার শামিল । কারণ খারাপ জীনরাই যদি ভুত হবে তাহলে ভাল জীনরা কি ফেরেস্তা হবে ? আসলে খারাপ জীনরা কখনো ভুত হতে পারেনা । অনকের মতে ভুতরা অমর । কিন্তু জীনরা মরণশীল , তাহলে খারাপ জীন ভুত হতে পারেনা । আমাদের মধ্য অনেক বলে থাকেন যে হিন্দু জীন রাই ভুত । একথাটা ও ভুল । কারন পবিত্র কুরআনের সূরা জীনের মধ্যবর্তী কিছু আয়াত থেকে [এই মুহুর্তে আয়াত নং মনে পড়ছেনা , আপনারা খুজলেই পাবেন । এখানে আমি আয়াত গুলোর ব্যখ্যা নিজের ভাষায় দিয়েছি] বোঝা যায় যে জীনরা প্রধাণত দুই দলে বিভক্ত । এক দল ঈশ্বরে বিশ্বাস করে বা তারা আস্তিক এবং অপর দল ঈশ্বরে বিশ্বাস করেনা । আস্তিক দলের সকলেই আল্লাহর উপর ঈমান এনে ইসলাম গ্রহন করেছে কিন্তু অপর দল কোন কিছুতেই ঈশ্বরের আনুগত নয় ।মজার ব্যাপার হলো জীনরা আল্লাহর সাথে শিরক করেনা কারণ তাদের মাঝে যারা আস্তিক তারা সকলেই মুসলিম । আরও একটি গুরুত্তপূর্ণ কথা হলো মানুষের মত তাদের মাঝে অনেক গুলি ধর্ম নেই । এটা আমার কথা নয় , পবিত্র কুআনের সূরা জীনে এর স্পষ্ট ব্যখ্যা পাবেন । আমাদের মাঝে এক শ্রেণীর লোক আছে যাদের মতে জীনরা মারা গেলে ভুত হয় । এটা নিত্যান্ত তাদের বানোয়াট কথা । আপনি পবিত্র কুরআনের কোথাও খুঁজলে পাবেন না যে সেখানে জীনদের মৃত্যুর পরের কথা লেখা আছে । শুধু এটা উল্যেখ করা আছে যে হাশরে ময়দানে তাদেরকেও বিচারের জন্য দাঁড়াতে হবে । আল্লাহ পবিত্র কুরআনের বলেছেন " হে মানুষ তোমাদের দোযখ হতে নিজেরা বাঁচ আর বাঁচাও তোমাদের আহালদেরকে [আহাল = অনুসারী] , যে দোযখের ইন্ধন [জ্বালানি] হবে মানুষ আর পাথর ।" এখানে জীনের কথা উল্যেখ নাই । তাহলে প্রশ্ন আসে যে পাপী জীনদের কি শাস্তি পেতে হবে না ? একটু চিন্তা করলেই আপনি পাবেন যে জীনরা আগুনের তৈরী তাই তাদেরকে আগুনে উত্তাপে দহন করা প্রশ্নই ওঠেনা । তাই আল্লাহ রাব্বুলআলামীন তাদেরকে অন্য কোন উপায়ে শাস্তি দিবেন , যা আমাদের জানা অপরিহার্য নয় তাই কুরআনে এই কথার উল্যেখ নাই । তাহলে আপনাদের প্রশ্ন হলো তাহলে ভুত কি ? এই প্রশ্নেরও ব্যখ্য সহ উত্তর আল্লাহ আমাকে জানিয়েছেন ।{আলহামদুলিল্লাহ্} । তবে ভুত সম্পর্ক জানতে হলে আপনাদের আগে আত্মার ধারণা দেওয়া প্রয়োজন । তাই আগামী পর্বে আত্মা নিয়ে বিষদ তথ্যসহ একটি ফিচার পোষ্ট করা হবে । তার পরই আপনাদের অতিকাঙ্খিত কথা ভুতের বিবরণ দেওয়া হবে । তাই আপনারা প্রতিদিনই একবার করে উকি মারবেন এই ব্লগে । ধন্যবাদ । ভৌতিষ্ট সূর্য । আর একটি কথা , এখানে কমেন্টের ব্যবস্থা আছে । তাই একটা কমেন্ট করবেন প্লিজ । আর ফেসবুক শেয়ারের ব্যবস্থা আছে , তাই আপনার ওয়ালে এই লিংকিটি শেয়ার করেন । ধন্যবাদ

২য়ঃ-
ভুত কথা টি অদ্ভুত একটা শব্দ । আমরা সচরাচর ভুত কথাটি শুনে থাকি । ভুত বলতে আপনি কি বোঝেন ? ভুত বলতে আমাদের মনের পর্দায় এক অশরীরীও এক সত্তা ভেসে ওঠে । অধিকাংশ ব্যক্তির মতে এর বাস্তব কোন অস্তিত্ত নেই । কিন্তু কি এই ভুত ? এর বাস্তব অস্তিত্ত কি আছে ? আছে । আসুন প্রথমে দেখে নেই ভুত শব্দটির অর্থ কি ? বাংলা অভুতপূর্ব শব্দের অর্থ হলো যা আগে কখনও দেখা যায়নি । এর বিপরীত শব্দ ভুতপূর্ব , যার অর্থ হলো যা আগে ছিল কিন্তু এখধ নেই । এই ভুতপূর্ব শব্দ থেকেই এসেছে বাংলা শব্দ ভুত । সেই সূত্রে ভুত শব্দের অর্থ হলো অতিত , যা গত হয়ে গিয়েছে বা যা আগে বর্তমান ছিল অথবা যার বর্তমান সাধারণ অস্তিত্ত নেই । কি বুঝলেন ? তাহলে ভুত শব্দের অর্থ দাঁড়াল অতিত বা পাস্ট PAST । আসুন এবার দেখা যাক ইংরেজী ghost (ঘোস্ট) শব্দের অর্থ কি ? ২০০৯ সালের প্রকাশিত ভারতের সেরা অভিধান সংসদ অভিধানে আছে ghost এর অর্থ ৭ টি । ১. পিশাচ ,demon (যা প্রাণীর রক্ত ভক্ষন করে বেঁচে থাকে । ) [আমি বলি :বাঁদুড় ও রক্ত খায় আর এক ধরনের টিকটিকি ও রক্ত খায় । তাহলে কি বাদুড় ও টিকটিকি ভুত । এদের তো বাস্তব অস্তিত্ত বিদ্যমান ।] ২.মৃত ব্যক্তির আত্মার সমাগম । spirit appearing after death . ৩.অপদেবতা a spirit. ৪.ক্ষিণ বা মিথ্যা আভ্যাস । a faint or false appearance . ৫.সাদৃশ্য । a semblence (not a ghost of hope). ৬.যে ব্যক্তি পরের হয়ে রচনাদি লেখে । ৭. আধ্যাত্মিক চেতনার কল্পিত রুপ । কিন্তু আমরা যে টা কে ভুত বলি সেটা কি ? তার কি বাস্তবে কোন অস্তিত্ত আছে ? আছে । সেটার ও বাস্তবিক আস্তিত্ত বিদ্যমান । আগামী পর্ব এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে । চলবে........( গবেষণায় ভৌতিষ্ট সূর্য )....

*************************************************************************************************
কুরআন অনুসারে জিন জাতি মানুষের ন্যায় আল্লাহ্ তা’য়ালার এক সৃষ্ট একটি জাতি যারা পৃথিবীতে মানব আগমনের পূর্ব থেকেই তারা ছিল এবং এখনো তাদের অস্তিত্ব রয়েছে। তবে মানুষের চর্মচক্ষে তারা দৃষ্টিগ্রাহ্য নয়। তবে জিনরা মানুষকে দেখতে পায়। তারা বিশেষ কিছু শক্তির অধিকারী। তাদের মধ্যেও মুসলিম এবং কাফির ভেদ রয়েছে। তারা মসজিদে নামাজ পড়তে আসে। তাদেরও সমাজ রয়েছে। তারা আয়ূ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি।উদাহরনস্বরূপ, তারা ৩০০ বছর বয়সে প্রাপ্তবয়স্ক হয়। ঈমাম ইবনে তাইমিয়ার মতে জিন জাতি তাদের অবয়ব পরিবর্তন করতে পারে।
ইসলামের মতে জিন জাতি এক বিশেষ সৃষ্টি। কুরআনের ৭২তম সুরা আল জ্বিন এ শুধু জিনদের নিয়ে কথা বলা হয়েছে। এছাড়া সূরা আন নাস এর শেষ অংশে জিন জাতির উল্লেখ আছে।কুরআনে আরো বলা আছে হযরত মুহাম্মদ (সা:) কে জিন এবং মানবজাতির নবী হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে। হযরত সুলায়মান (আ:) এর সেনাদলে জিনদের অংশগ্রহণ ছিল বলে কুরআনে উল্লেখ আছে। ইসলামে আরো বলা আছে “ইবলিশ” তথা শয়তান প্রকৃতপক্ষে জিন জাতির একজন ছিল। ইসলামের মতে, শয়তান হচ্ছে দুষ্ট জিনদের নেতা। ইবলিশ বা শয়তান ছিল প্রথম জিন যে আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ করেছিল। কুরআনে উল্লেখ আছে যে, ইবলিশ এক সময় আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দা ছিল । কিন্তু আল্লাহ যখন হযরত আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করলেন, তখন হিংসা ও অহংকারের বশবর্তী হয়ে ইবলিশ আল্লাহর হুকুম অমান্য করে। এ কারণে ইবলিশ কে বেহেশত থেকে বিতাড়িত করা হয় এবং এরপর থেকে তার নামকরণ হয় শয়তান। ইসলাম পূর্ব আরব উপকথা গুলোতে জ্বিন সদৃশ সত্ত্বার উল্লেখ আছে। প্রাচীন সেমাইট জাতির জনগণ জিন নামক সত্ত্বায় বিশ্বাস করতো। তাদের মতানুসারে নানাপ্রকারের জিন পরিলক্ষিত হয়। যেমন, ঘুল (দুষ্ট প্রকৃতির জিন যারা মূলত কবরস্থানের সাথে সম্পর্কিত এবং এরা যেকোন আকৃতি ধারণ করতে পারে), সিলা (যারা আকৃতি পরিবর্তন করতে পারতো) এবং ইফরিত (এরা খারাপ আত্মা)। এছাড়া মারিদ নামক এক প্রকার জিন আছে যারা জিন দের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী। প্রাচীন আরবদের মতে জিন রা আগুনের তৈরি।
উল্লেখ্য যে, আরব্য রজনীর কাহিনীর মতো সবসময় জিন অসাধ্য সাধন করতে পারে না। কেননা ঝড়-বাদলের দিনে জিনরা চলতে পারে না। কারণ তারা আগুনের তৈরি বিধায় বৃষ্টির সময় আয়োনাজাইশেন ও বজ্রপাতের তীব্র আলোক ছটায় তাদের ক্ষতি হয়ে থাকে এবং কোন ঘরে যদি নির্দিষ্ট কিছু দোয়া-কালাম ও কাঁচা লেবু থাকে, তাহলে ঐ ঘরে জিন প্রবেশ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। আর একটি কথা মানুষ মাটি দিয়ে সৃষ্টি হলেও, শেষ পর্যন্ত এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। কারণ মানুষ মূলত মাটি, পানি, বায়ু ও অগ্নির সংমিশ্রণ। আর তাই জিন আগুনের শিখা দিয়ে পয়দা হলেও তাদের দেহে জলীয় পদার্থের সমাবেশ লক্ষণীয়। এর স্বপক্ষে যুক্তি হলো: রসুল (স.) একদা উল্লেখ করেছিলেন যে, শয়তান বলে একটি জিন একদা নামাজের সময় তাঁর সাথে মোকাবিলা করতে এলে তিনি ঐ জিনকে গলা টিপে ধরলে, সেইক্ষণে জ্বিনের থুথুতে শীতলতা অনুভব করেছিলেন।[সুরা সাদ ৩৮:৩৫] এতে প্রতীয়মান হয় যে, জিন যদি পুরোপুরি দাহ্য হতো, তাহলে ঠাণ্ডা থুথুর থাকার কথা নয়। এদিকে জিন তিন প্রকারের আওতায় বিদ্যমান, প্রথমত. জমিনের সাপ, বিচ্ছু, পোকা-মাকড়, ইত্যাদি; দ্বিতীয়ত. শূন্যে অবস্থান করে এবং শেষত সেই প্রকারের জিন, যাদের রয়েছে পরকালে হিসাব। পূর্বেই বলেছি, এরা সূক্ষ্ম, তাই স্থূল মানুষ বা পশু-পাখি জিনদের দেখতে পারে না। তবে কুকুর ও উট এদের হুবহু দেখতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে উল্লেখ্য যে, রাতে কোন অপরিচিত বস্তু বা জীব চোখে না দেখা গেলেও কুকুর কি যেন দেখে ছুটাছুটি ও ঘেউ ঘেউ করলে তাতে জ্বিনের আবির্ভাব হয়েছে বলে বুঝতে হবে। জিন বহুরূপী। এরা মানুষ, পশু-পাখি, ইত্যাদি যে কোন সুরত ধরতে পারে। সেই ক্ষণে উক্ত জীবের বৈশিষ্ট্যের আদলে তার ঘনত্ব কম-বেশি হয়ে থাকে এবং মানুষের দৃষ্টির মধ্যে আসে।


কড়া যুক্তিঃ-
আজকাল অনেকেই জ্বিনের অস্তিত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছে। তারা মনে করে দুনিয়াতে জ্বিন বলে কিছু নেই। আসলে এটা ভ্রান্ত ধারণা। জ্বিন আছে এবং জ্বিনের অস্তিত্বও বিজ্ঞানসম্মত। আমরা এখানে সেটা নিয়েই আলোচনা করব। প্রথমে আমরা জানব জ্বিন সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে কি বলা হয়েছেঃ সুরাতুল যারিয়াহ এর ৫৬ নং আয়াতে আছেঃ ওয়ামা খলাকতুল জিন্না ওয়াল ইনসা ইল্লা লিঈয়াবুদুন । অর্থঃ আমি জীন ও মানুষকে শুধু আমার ঈবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি । সুরা আল জ্বিনে বলা হয়েছেঃ বলুন, আমার প্রতি ওহী নাযিলকরা হয়েছে যে, জ্বিনদের একটি দল কোরআন শ্রবণ করেছে,অতঃপর তারা বলেছেঃ আমরা বিস্ময়কর কোরআন শ্রবণ করেছি। (আয়াত-০১) অথচ আমরা মনে করতাম মানুষ ওজ্বিন কখনও আল্লাহতা’আলা সম্পর্কে মিথ্যা বলতে পারে না। (আয়াত-০৫) আর যখন আল্লাহতা’আলার বান্দা তাকে ডাকার জন্যে দন্ডায়মান হল, তখন অনেক জ্বিন তার কাছে ভিড় জমালো। (আয়াত-১৯) জ্বিন জাতির ইতিহাসঃ কুরআন অনুসারে জিন জাতি মানুষের ন্যয় আল্লাহ্‌ তা'য়ালার এক সৃষ্ট একটি জাতি। পৃথিবীতে মানব আগমনের পূর্ব থেকেই তাদের অস্তিত্ব ছিল; এখনও তাদের অস্তিত্ব রয়েছে। মানুষের চর্মচক্ষে তারা দৃষ্টিগ্রাহ্য নয়। তবে জিনরা মানুষকে দেখতে পায়। তারা বিশেষ কিছু শক্তির অধিকারী। তাদের মধ্যেও মুসলিম এবং কাফির ভেদ রয়েছে। তারা মসজিদে নামাজ পড়তে আসে। তাদেরও সমাজ রয়েছে। তারা আয়ূ মানুষের চেয়ে অনেক বেশী। উদাহরনস্বরূপ, তারা ৩০০ বছরবয়সে প্রাপ্তবয়স্ক হয়। ঈমাম ইবনে তাইমিয়ার মতে জিন জাতি তাদের অবয়ব পরিবর্তন করতে পারে। ইসলামের মতে জিন জাতি এক বিশেষ সৃষ্টি। কুরআনের ৭২তম সুরা আল জ্বিন এ শুধু জিনদের নিয়ে কথা বলা হয়েছে। এছাড়া সূরা আন নাসএর শেষ অংশে জিন জাতির উল্লেখ আছে। কুরআনে আরো বলাআছে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে জিন এবং মানবজাতির নবী হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে। হযরত সুলায়মান (আঃ) এর সেনাদলে জিনদের অংশগ্রহণ ছিল বলে কুরআনে উল্লেখ আছে।ইসলামে আরো বলা আছে "ইবলিশ"তথা শয়তান প্রকৃতপক্ষে জিন জাতির একজন ছিল। ইসলামের মতে, শয়তান হচ্ছে দুষ্ট জিনদের নেতা। ইবলিশ বা শয়তান ছিল প্রথম জিন যেআল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ করেছিল। কুরআনে উল্লেখ আছে যে, ইবলিশ এক সময় আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দা ছিল । কিন্তু আল্লাহ যখন হযরত আদম(আঃ) কে সৃষ্টি করলেন, তখন হিংসার বশবর্তী হয়ে ইবলিশ আল্লাহর হুকুম অমান্য করে। এ কারণে ইবলিশ কে বেহেশত থেকে বিতাড়িত করা হয় এবং এরপর থেকে তার নামকরণ হয় শয়তান। ইসলাম পূর্ব আরব উপকথা গুলোতে জ্বিন সদৃশ সত্ত্বার উল্লেখ আছে। প্রাচীন সেমাইট জাতির জনগণ জিন নামক সত্ত্বায় বিশ্বাস করতো। তাদের মতানুসারে নানাপ্রকারের জিন পরিলক্ষিত হয়। যেমন, ঘুল (দুষ্ট প্রকৃতির জিন যারা মূলত কবরস্থানের সাথে সম্পর্কিত এবং এরা যেকোন আকৃতি ধারণ করতে পারে), সিলা (যারা আকৃতি পরিবর্তন করতে পারতো) এবং ইফরিত (এরা খারাপ আত্মা)। এছাড়া মারিদনামক এক প্রকার জিন আছে যারা জিন দের মধ্যে সবচেয়েশক্তিশালী। প্রাচীন আরবদেরমতে জিন রা আগুনের তৈরি। বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ব্যাখাঃ আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞান জ্বিন জাতির অস্তিত্ব অস্বিকার করে না। অস্বিকার করার মত কোন যুক্তি বা মতবাদও আজ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বরং এ্যন্টি ম্যাটার সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান যত বৃদ্ধি পাচ্ছে জ্বিনের অস্তিত্বের পক্ষে যুক্তি ততই প্রগাড় হচ্ছে। আসুন জানি এ্যন্টি ম্যাটার কিঃ পৃথিবীতে যেমন বস্তু রয়েছে। তেমনভাবে অবস্তুও থাকতে পারে। আসুন দেখি এন্টিম্যাটার সম্পর্কে উইকিতে কি বলা হয়েছেঃ পার্টিক্যাল ফিজিক্সে এ্যন্টি ম্যাটারেরর ধারণা প্রতিপদার্থের ধারণা রুপ নিয়েছে। ধারণা করা হয়েছে যেভাবে কণা দ্বারা পদার্থ গঠিত হয় ঠিক তেমনিভাবে প্রতিকণা দ্বারা প্রতিপদার্থ গঠিত হয়। উদাহরণস্বরুপ, একটি প্রতিইলেকট্রন (পজিট্রন) এবং একটি প্রতিপ্রোটন মিলিত হয়ে গঠন করে একটি প্রতিহাইড্রোজেন পরমাণু, যেমন করে একটি ইলকট্রন ও প্রোটন মিলে তৈরি করে একটি হাইড্রোজেন পরমাণু। উপরন্তু কণা এবং প্রতিকণা মিলিত হলে যেভাবে পূর্ণবিলয়ের মাধ্যমে সকল শক্তি বিমুক্ত হয়, তেমনি পদার্থ এবং প্রতিপদার্থের মিলনে পূর্ণবিলয়ের সৃষ্টিহয় বলে ধারণা করা হয়েছে। এ ধরণের পূর্ণবিলয়ের ফলে প্রকৃতপক্ষে উচ্চ শক্তির ফোটন (গামা রশ্মি) এবং বহু কণা-প্রতিকণা জোড়ার সৃষ্টি হয়। এই পূর্ণবিলয়ে বিমুক্ত কণাগুলোর মধ্যে বিপুল পরিমাণ শক্তি থাকে। এই শক্তির মান পূর্ণবিলয়ের ফলে সৃষ্ট বস্তুসমূহের নিশ্চল ভর এবং মূল পদার্থ-প্রতিপদার্থ জোড়ার অন্তর্ভুক্ত বস্তুসমূহের নিশ্চল ভরের পার্থক্যের সমান। অর্থাৎ আমাদের মহাবিশ্বে যত পার্টিক্যাল আছে ঠিক তত পরিমান এ্যন্টি পার্টিক্যাল আছে। শক্তির নিত্যতা সূত্রানুযায়ী। এ্যান্টিপার্টিকেল অদৃশ্য। এগুলোর মুভমেন্ট কোন যন্ত্র দ্বারা পর্যবেক্ষন করা যায় না। কিন্তু বিজ্ঞান এগুলোর অস্তিত্বকে অস্বিকার করতে পারছে না। পৃথিবীতে ৬৫০ কোটি মানুষ আছে। এ্যান্টি পার্টিকেল থিওরি অনুযায়ী প্রতিটি মানুষের জন্যে একটি করে প্রতিমানুষ থাকলে সেগুলোর সংখ্যা হবে ৬৫০ কোটি। এগুলোমানুষের মতই কিন্তু অদৃশ্য। এগুলোকেই জ্বিন বলা হয় যা বিজ্ঞান সম্মত। তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া

★পর্ব-১

আবহমান কাল থেকে জ্বীন নামক একটি অদৃশ্য জাতির (!) নাম প্রচলিত রয়েছে। শুধু নামেই নয়, জ্বীনদের নিয়ে রয়েছে কত সব রহস্যজনক কাহিনী। এই কাহিনী কি শুধুই লোকমুখেই? মোটেও না, জ্বীনদের উপস্থিতি রয়েছে সাহিত্যে, গল্পে, উপন্যাসে, আরব্যরজনীর অধ্যায়ে, ধর্মগ্রন্থে, গবেষণায়, কল্পনায়, ভয়ে, আরাধনায়। জ্বীনদের উপস্থিতি রয়েছে বিভিন্ন মিথোলজিক্যাল সংস্কৃতিতে, অন্ধকার জগতে, আত্মাদ্ধিক বিচরণে, ভর ও শক্তির পারস্পারিক পরিবর্তনে, ইতিহাস বিখ্যাত মনীষীদের দর্শনে। জ্বীনের প্রভাব রয়েছে সুপার নেচারাল ঘটনার জন্ম প্রক্রিয়াতে, প্রেমিক-প্রেমিকার কল্পনায়, কবিরাজের লাঠির শরীরে, কবরখানায়, শশ্মান ঘাটে, প্রেতাত্মার ডাকে, কোয়ান্টাম মেডিটেশনে, আলো-আধারের লুকোচুরিতে। হালের এনার্জি ক্রাইসিসও নাকি মিটতে পারে এই জ্বীন জাতির অস্তিত্ব আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে! তাহলে কিভাবে বলি জ্বীন মিথ্যা বা বানোয়াট?? চলুন দেখি নিচের ব্যাখ্যা গুলো কি বলে:

লোকনাথপুর গ্রামের আজিবর কবিরাজ জ্বীনদের বড় ওস্তাদ। দুনিয়ার এমন কোন জ্বীন নেই যে তার কথা শুনে না, মানে না। আজিবর কবিরাজের শুধু মুখের কথায় জ্বীনরা ওঠা বসা করে, গান-বাজনা করে, সাত সমুদ্র তের নদী পার হয়ে এনে দেয় চাহিবা মাত্র বস্তু। একদা নিজের চোখের দেখা দশ-বারো জন লোক অচেনা যুবককে (বয়সে ২৮/৩০ হবে) মোটা দড়ি আর লোহার শিকলে বাঁধা অবস্থায় নিয়ে আসলো আজিবর কবিরাজের কাছে। যুবককে নাকি জ্বীনে ধরেছে! কোন লোকের কাছে রেফারেন্স পেয়ে তারা এসেছে এই আজিবর কবিরাজের কাছে। সামনে আসতেই আজিবর বুঝতে পারে এটা জ্বীন ধরা রোগী, আর তৎক্ষনাৎ সে আগত লোকদের বলে যুবকের হাত পায়ের শিকল খুলে দিতে। লোকজন জানায় এটা করলে সে এখনই রক্তারক্তি বইয়ে দিবে, খুনোখুনি করবে কেই ঠেকাতে পারবে না। জড় হয়ে গেল শত শত লোক! সবাই দেখল কিভাবে আজিবর কবিরাজ ঐ অচেনা যুবকের জ্বীন ছাড়িয়ে দিল সবার সামনেই। অথচ গত ১০ বছর ধরে পরিবারটা ভুগছে এই সমষ্যায়। কি বলবেন তাহলে? অবশ্যই জ্বীন আছে!

রুমেল-জয়া বড়লোক দম্পত্তির একমাত্র মেয়ে সোহানার বয়স ৬ বছর। সোহানা হাটতে পারে না সেই ছোট বেলা থেকেই। মেয়ের হাটার শক্তি ফিরিয়ে আনার জন্য ঘুরে বেড়িয়েছে দেশ বিদেশের বড় বড় ডাক্তার, হসপিটাল এমনকি আজমির শরীফের মত বড় বড় মাজারে। নাহ, কোন কিছুতেই কোন কাজ হয়নি। লোক মুখে শুনে সেও এসেছিল আজিবর কবিরাজের কাছে, মেয়েটি কয়েক মিনিটের মন্ত্রবলেই ভালো হয়ে গিয়েছিল। এ ঘটনাটিও অন্তত ১০/১৫ জন মানুষের সামনে আর সবচাইতে বড় সাক্ষি তার বা-মা এবং সোহানা নিজেই। কি বলবেন তাহলে? অবশ্যই জ্বীন আছে!

****************************************************************

পর্ব-২

এ পর্বেও চলবে আজিবর কবিরাজের কয়েকটি ঘটনা। আজিবর কবিরাজের বড় ছেলে রাসেলের সঙ্গে আমার ভাব সেই ছোটবেলা থেকেই, সে একাধারে আমার ক্লাসমেট, বন্ধু, ভাই, প্রতিবেশী, খেলার সাথী, ন্যায়-অন্যায় কাজের সর্বসময়ের সাথী। খুব সাধারণ থেকে অসাধারণ যে কোন ঘটনায় যদি আমার অন্তরালে হয়ে থেকে তাহলে যত দ্রুত সম্ভব সে আমার সাথে শেয়ার করে।

একবার রাসেল ওর আব্বুর সঙ্গে ওর নানীর কবর জিয়ারত করতে যায়, কবরটি অনেক পুরোনো আর মাঠের মধ্যে যে মাঠে যেতে হলে পার হতে হয় অনেক বড় জঙ্গল। যায় হোক, পথ, পথের ধারে জঙ্গল পার হয়ে ওরা পৌঁছে নানীর কবরের কাছে। কবরের পাশে অনেক লম্বা তালগাছ। রাসেল নিজের চোখে দেখল ধবধবে সাদা কাপড় পরিহিতা এক সুন্দরী মহিলা তাল গাছে বেয়ে নেমে এসে ঠিক ওদের পিছনে দাঁড়ালো। রাসেল ওর আব্বুর জ্বীনের উপর বিদ্যার কথা জানতো তাই ভয় না পেয়ে মনে মনে সাহস সন্চয় করে আব্বুর সাথে কবর জিয়ারত করে ফেরৎ আসার পথেই আবার দেখলো ঐ মহিলা খুব দ্রূত আবার তালগাছের উপর এক লাফে উঠে গেল। রাসেল তার পরদিনই ঘটনাটি আমার সাথে শেয়ার করলো। তাহলে কি বলব? অবশ্যই জ্বীন আছে!

আজিবর কবিরাজের যে ঘটনাটি সবচাইতে আমাকে ভাবিয়ে তোলে এখন সেটি তুলে ধরব। ঘটনাটি আমাদের প্রতিবেশি আসাদ মিয়ার বাড়ীর ঘটনা। তখন আমি এ পৃথিবীতে আসিনি। কিন্ত আমার গ্রামের যত সব মরুব্বী আর বয়স্ক লোকজন রয়েছে তারা সবাই ঐ ঘটনার সাক্ষী! এবং তারা যে মিথ্যা বলে না সেটা সহজেই অনুমেয়।


আসাদ মিয়া তার মাঠের এক জমি থেকে ৫০ বছরের পুরোনো এক তেতুল গাছ কেটে ফেলে। গাছটি কাটার আগে সে কয়েক রাতে ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে দেখেছিল যেন গাছটি সে না কাটে। এবং জ্বীনরা নাকি তাকে সেই স্বপ্ন দেখাতো। কিন্ত ঐসব স্বপ্নকে পাত্তা না দিয়ে গাছটি কেটে ফেলার পর শুরু হয় আসাদের বাড়ীর উপর অসহ্য রকমের যন্ত্রনাদায়ক ব্যাপার স্যাপার।

বাড়ীতে তেমন কেউ-ই নেই, কিন্ত হটাৎ ছাদের বাড়ীর ছাদের উপর শুরু হয় আর্মি প্যারেড। ভয়ে যবু থবু বাড়ীর লোক কেউ তখন আর বাইরে বের হয় না। প্যারেডের আঘাতে মনে হয় যেন ছাদ এখনি ভেঙ্গে পড়বে।

বাড়ীতে সবাই আছে, হটাৎ দেখা গেল ধান ভাঙ্গা ঢেকিটা ঢেকির ঘর থেকে বাইরে এসে শুন্যের উপর ভাষতেছে। হটাৎ করে কোত্থেকে যেন শত শত হাড় আর মাথার খুলি বাড়ীর উঠানে বৃষ্টির মতন বর্ষণ হতে লাগলো।

অবশেষে আজিবর কবিরাজকে আনা হয়েছিল, এবং ৫০ জন আলেম ব্যাক্তিকে সাথে নিয়ে সিরিজ ওজিফার মাধ্যমে আসাদ মিয়ার বাড়ীর সেই আশ্চার্য্যজনক ঘটনা বন্ধ করেছিল আজিবর কবিরাজ। তাহলে কি বলব? অবশ্যই জ্বীন আছে!

*****************************************************************

পর্ব-৩

এই সব ঘটনা থেকে আজিবরকে আসলই জ্বীনদের গুরু মানতে আমার কোন আপত্তি হয়নি কোনদিন। আজ এ পৃথিবীতে রাসেল নেই, মন খুব খারাপ লাগে, রাসেল জেগে ওঠে আমার স্মৃতিতে প্রায়শ। আমি নিজেই যেন আজিবরের ছেলে এমনই মনে করে আজিবর, আমিও তাকে আমার বাবার মতই সম্মান করি। কথা হয় মাঝে মাঝে। কিন্ত জ্বীনদের নিয়ে কৌতুহুল আমার শেষ নেই! এই কৌতুহুলের প্রধান কারণ আল-কোরান। কারণ আজ প্রায় ১৫০০ বছর ধরে স্বমহিমায় উদ্ভাষিত এই আল-কোরান। কোরানকে নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই, যারা নাস্তিক তাদের কথা আলাদা, তারা কি বললো না বললো সেসব নিয়ে কথা বলার জন্য পোষ্ট এটা না। তবে অনেক অনেক ইতিহাস প্রসিদ্ধ ব্যাক্তিত্ব, সায়েন্টিষ্ট, দার্শনিক তো এই কোরনাকে বিশ্বাস করে। কালকে জয় করে কোরান হয়েছে এক চির-সত্যের বাণী সংকলন। সেই কোরান-ই স্বয়ং জ্বীন আছে তা ঘোষণা করেছে বার বার। তাই বরাবর-ই আমি এই জ্বীন জাতির উপর কৌতুহল বটে।



আমার অনেক স্বপ্ন নিজে চোখে এই জ্বীনকে দেখা বা জ্বীনের অস্তিত্বকে বুঝতে পারে। কিন্ত আফসোস সেই স্বপ্ন আমার পূরণ হলো না কখনই। তাই দ্বারস্ত হলাম আজিবর কবিরাজের কাছে। কেন যেন বিশ্বাস হয়েছে, পৃথিবীতে জ্বীন বলে যদি কিছু থেকে থাকে তাহলে এই আজিবর কবিরাজ তা জানবে (কেন জানবে? সেটা প্রথম ২ পর্বের ঘটনাগুলই ব্যাখ্যা করে)। যাই হোক, অবশেষে নিজের ইচ্ছার কথা ব্যাক্ত করলাম আজিবরের কাছে। তিনি আমাকে হতাশ করলেন না, বরং একটা নিদির্ষ্ট দিনক্ষণ ঠিক করে দিলেন এবং আমাকে বললেন সেই সময় তার সাথে দেখা করতে, জায়গা হিসাবে ঠিক করে দিলেন একটা গোপনীয় জায়গা। কথামত কাজ। আজিবর মিয়া আমার সামনে, আমাকে প্রশ্ন করলেন কেন আমি জ্বীন দেখতে চাই? বললাম, আমি কোরান বিশ্বাস করি আর হাজার হাজার বছর ধরে জ্বীনদেরকে যে এত এত গল্প, কথা, গবেষণা প্রচলিত রয়েছে কিন্ত নিজ চোখে দেখি নাই তাই আমি এটা জানতে চাই। এর মাধ্যমে হয়তো সৃষ্টিজগতের আরো এক বিষ্ময় সম্পর্কে অবগত হওয়া যাবে।



বৃদ্ধ আজিবর মিয়া আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনলেন। আমাকে বললেন, বাবা রাজ আমার অনেক বয়স হয়েছে, কদিন-ই বাঁচবো দুনিয়াতে, তাই তোমার এই আশা আমি পূর্ণ করবো আমার সাধ্যমত। তিনি আমাকে জানালেন অনেক কিছু:


জ্বীন নিয়ে আজিবরের শিক্ষা শুরু হয় সেই বৃটিশ আমলে থেকে। বিরাট এক আলেম ব্যাক্তি তার প্রথম ওস্তাদ। এরপর এই পৃথিবীর বুকে জ্বীন নিয়ে যতধরনের গবেষণা/আরাধণা আছে সবই তিনি পালন করেছেন। তিনি রাতের পর রাত কাটিয়েছেন কবরখানায়, শশ্মানঘাটে, জনশুন্য মাঠে, পুরোনো মন্দিরে, গভীর জঙ্গলে, সমুদ্রের বুকে, শত শত বছরের বুড়ো নীম-বট গাছের ডালে। কিন্ত তার এই সব গবেষণায় তেমন কোন ফল আসে নি। হতাশ হয়েছে বারবার। তিনি কোনদিন কোন জ্বীনের দেখা পাননি!

এরপর উপসংহার হিসাবে বললেন, সারাটা জীবন জ্বীন নিয়ে কাটিয়ে দিলাম, কিন্ত জ্বীন বলে কিছু আছে বলে টার বিশ্বাস হয় না। তিনি মনে করেন জ্বীন জাতি যদি কখনও পৃথিবীর বুকে থেকেও থাকে তবে তারা এখন ধ্বংস হয়ে গেছে, এই পৃথিবীতে তাদের অস্তিত্ব এখন আর নেই! আমি তার কাছে জানতে চাইলাম, তাহলে আপনাকে নিয়ে এট সব ঘটনা রয়েছে এইগুলো কিভাবে সম্ভব। তিনি উত্তর দিলেন, প্রত্যেকটির ঘটনার পিছনেই যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে। এসব ঘটনার কোনটিতেই জ্বীনদের সংশ্লিষ্টতা ছিলা না। আজিবর কবিরাজকে আমি আরো বললাম, আপনি নিজে এরকম মনে করেন তাহলে কেন জনসম্মুখে এটা প্রকাশ করেন না? তিনি বললেন এতে করে শরীয়তের আলেমরা তাকে কাফের বলে ঘোষণা দিবেন, ঝামেলা শুরু হবে।

অবশেষে, কি আর করার! প্রিয় পাঠক আমিও হতাশ হয়েছি, কারণ জ্বীন বলে আদৌ কোন কিছু আছে এরকম কোন প্রমান আমি নিজ চোখে দেখিনি।

*****************************************************************

পর্ব-৪ (শেষ)

জ্বীন দেখিনি, জ্বীনের অস্তিত্ব আদৌ আছে কিনা তা আমার কাছে রহস্যই থেকে গেল! কিন্ত তবুও কথা থেকেই যায়। জ্বীন জাতি বলে কিছু আছে সেই অন্ধ বিশ্বাস আমি করতে পারছি না তবে নেই সেটাও বলছি না। মানুষ তার জ্ঞান দিয়ে যদি কোন দিন প্রমান করতে পারে সেই আশায়।

বিভিন্ন বর্ননায় জ্বীনদের যে চিত্র ফুটে ওঠে তার আলোকে হয়তো কোনদিন সম্ভব হবে জ্বীনদের অস্তিত্ব প্রমান করা!

জ্বীনদের মোটামুটি বর্ননাগুলো এরকম:

১) জ্বীন অদৃশ্য।

২) জ্বীন আলো দিয়ে তৈরি।

৩) জ্বীন খুব দ্রুত বেগে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে পারে।

৪) জ্বীন আমরা যে সব প্রানী দেখি সে সবের রুপ ধারণ করতে পারে (হয়ত সব প্রানীর না তবে কিছু কিছু হয়তো)।

৫) জ্বীন পৃথিবী বাদে অন্য গ্রহ-নক্ষত্রে চলাফেরার করার ক্ষমতা রাখে।

৬) জ্বীনকে মানুষ নিয়ন্ত্রন করার ক্ষমতা রাখে।

৭) জ্বীন অন্ধকারে থাকতে সাচ্ছন্দ বোধ করে! আলোতে ডিষ্টার্ব ফিল করে!

এই সব বর্ননাগুলো কি একে অপরের সাথে কনফ্লিক্ট করে? বর্তমান বিজ্ঞান অনুসারে কিন্ত তা করে না! কিভাবে?



মনে করি জ্বীন আলো দিয়ে তৈরি। আলোর বৈশিষ্ট্য সত্যিই অদ্ভুত! আলো আসলে বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গ। আলোকে যদি আমরা কোন ফ্রিকোয়েন্সি ব্যাপ্তিতে সীমাবদ্ধ না রেখে, বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গের সম্ভব্য পুরো ফ্রিকোয়েন্সিতে চিন্তা করি তাহলে কিন্ত বিষয়টি জটিল হয়ে গেল। কারণ তাত্বিকভাবে আমরা অসীম ফ্রিকোয়েন্সির বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গ জেনারেট করতে পারি। তাহলে জ্বীন কোন ফ্রিকোয়েন্সিতে তার অদৃশ্য অস্তিত্ব ধারণ করে সেটা গবেষণার বিষয়। তবে আমরা মনে করতে পারি, জ্বীন যদি আলো তথা বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গ দিয়ে তৈরি হয়, তাহলে সে অদৃশ্য হতে পারে এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে খুব দ্রুত যেতেও পারে।

আমরা জানি বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গ শক্তি বহন করে এবং সেই শক্তিকে ভরে পরিবর্তন করা সম্ভব। অন্যদিকে ভরকে শক্তিতেও পরিবর্তন করা সম্ভব। সুতরাং জ্বীন যদি আলো তথা বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গ দিয়ে তৈরি হয় তাহলে সে দৃশ্যমান ভরেও পরিবর্তন হতে পারে তবে সেই ভর দেখতে কেমন হবে সেটা আমি এখন ভাবতে পারছি না।
বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গ অন্য কোন বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গের সাথে ইন্টারএ্যাকশনে যেতে পারে এবং এতে করে তাদের বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয়ক্ষেত্রের পরিবর্তন হতে পারে। সুতরাং জ্বীন আলোতে ডিষ্টার্ব ফিল করতেই পারে। তবে এক্ষেত্রে কথিত যে হিউম্যান চোখে ভিজিবল আলোতেই তারা ডিষ্টার্বড হচ্ছে। এটা গবেষণার একটা ক্লু বৈকি

জ্বীন যদি বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গ দিয়ে তৈরি হয়, তাহলে বলায় যায় বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গের বিচরণ সমস্ত মহাবিশ্বব্যাপি। আর এই মহাবিশ্বকেই তো নিয়ন্ত্রন করতে চায় মানুষ! সুতরাং জ্বীন তো নস্যি মাত্র।

জ্বীনদের নিয়ে কিন্ত আসলেই গবেষণা হয়! ১৯৮৮ সালে পাকিস্থানের নিউক্লিয়ার সায়েন্টিষ্ট সুলতান বশিরউদ্দীন মাহমুদ ওয়াল ষ্ট্রীট জার্নালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন জ্বীন হতে পারে রিনিউএবল এনার্জির এক অফুরন্ত উৎস।

যাই হোক ভবিষ্যত সময়ই হয়তো সঠিক তথ্যটি আমাদের সামনে নিয়ে আসবে, হয়তো আমরা জানবো না, কিন্ত মানুষ তো জানবে। আর সেই সাথে হয়তো শুরু হবে সভ্যতার এক নবদিগন্তের অধ্যায়। ক্রমান্বয়ে বস্তবাদী দুনিয়ার দিকে ধাববান বিশ্বে জ্বীন কি হতে পারে কোন গবেষণার বিষয়?





★ আজকে আপানাদের সাথে একটি ছোট ঘটনা শেয়ার করবো। গল্প বলবো না। কারন এটি একটি সত্য ঘটনা। ঘটনাটা ঘটে আমার দাদার বাড়িতে। একবার খবর পেলাম আমার চাচাতো ভাইকে নাকি জীনে ধরেছে। তাও যেনতেন জীন না। সে নাকি ভয়ঙ্কর আছর করেছে। ছেলেটিকে এখন সারাদিন বেঁধে রাখা হয় রশি দিয়ে। এরই মাঝে সে সেইসব রশি ছিঁড়ে কয়েকবার করে মানুষকে আক্রমন করেছে। আর রশিগুলো যেনতেন রশি নয়। ভারি রশি, যেইসব দিয়ে বড় বড় লঞ্ছ পাড়ে লাগানো হয় সে রকম। খবর শুনে খারাপ লাগলো, পাশাপাশি কৌতূহল হল। ভাবলাম, আপাতত কোনও কাজ নেই। গিয়ে কয়েকদিনের জন্য ঘুরে আশা যায়। আর ঘটনা যদি আসলেই সত্য হয় তাহলে তাকে চিকিৎসার বন্দোবস্ত করা উচিত। আমার ধারণা ছিল এটা তেমন গুরতর কিছু নয়। মানুষ রঙ চং মাখিয়ে ছড়াচ্ছে। যাই হোক, বাড়িতে গেলাম বুধবার সকাল বেলা। আমার চাচাতো ভাইয়ের অবস্থা যথেষ্ট করুন। অনধকার একটা ঘরের মধ্যে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা। জানালার শিখ ধরে দাঁড়িয়ে বাইরে দেখছিল। আর সমানে জানালা ঝাকাচ্ছিল। সাহস করে এগুলাম তার সাথে কোথা বলার জন্য। কিন্তু আমাকে দেখেই খেঁকিয়ে উঠলো। কুৎসিত কিছু গালি দিয়ে উঠলো। ভ্যাবাচেকা খেয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। এমনিতেই এতো রাস্তা ভ্রমন করে এসেছি, তার উপর এমন অভ্যর্থনা, ঠিক যেনও মানিয়ে উঠতে পারছিলাম না।


জানতে পারলাম, আগামীকাল বৃহস্পতিবার এক হুজুর দিয়ে ওর জীন ঝারান হবে। যথাসময়ে হুজুর এলেন। প্রথমে ভাবছিলাম, থাকবো না। কিন্তু কৌতূহলের কাছে হার মানলাম। গেলাম জীন তারানো দেখার জন্য। প্রথমে আমার চাচাতো ভাইকে শক্ত রশি দিয়ে খাটের পায়ার সাথে বাঁধা হল। এরপর ধূপ জ্বালা হল ঘরটি পূর্ণ করে দেয়া হল ধুয়ায়। আমার ভাই কিছুক্ষণের জন্য ঘোরের মধ্যে চলে গেলো। হুজুরের সাথে তার বাক্যালাপের কিছু অংশ তুলে ধরছি।

হুজুরঃ সাড়া দে।

**********(গালি) {অন্য কেউ বলল, কারন সেহতা আমার ভাইয়ের গলা ছিল না}

হুজুর (ঝারু দিয়ে বাড়ি লাগালেন) বললেনঃ এই দেহ তোর ছাড়তে হবে।

ছারমু না। আমি এরে ছারমু না। আমারে খেপাইস না। জানে বাছবি না।

হুজুরঃ জানে বাছব নাকি পড়ে দেখা যাবে। এখুনি দেহ ছেড়ে বের হ।

সংলাপের পুরোটা উল্লেখের প্রয়োজন নেই। তবে কিছু অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছিল সেদিন।

• হটাত টিনের চালে ব্যাপক হারে ঢিল পড়তে লাগলো, সেই সাথে যেনও এক সাথে শত শত সিংহ গর্জন করে উঠলো।

• আমার চাচাতো ভাই হটাত দাঁড়িয়ে পড়লো। কিন্তু তাকে যেই অবস্থায় বাঁধা হয়েছিলো, তাতে দাঁড়ানো সম্ভব নয়।

• ঘরের মধ্যে অদ্ভুত কিছু একটা ঘটছিলো। কারন সবাই খুব অশস্থি বোধ করছিলাম। শুধু একা আমি নই, অনেকেই বলল, শরীর ভার ভার ঠেকছে।

• প্রায় ২ ঘণ্টা নানা কসরত করার পর জীন তারান সম্ভব হয়। ঠিক সেই সময় আমার ভাই এবং হুজুর একি সাথে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

• জীন যাওয়ার সময় আমাদের বারিরি পাশের একটা গাছ উপড়ে দিয়ে যায়। এতো বড় গাছ যে উপ্রান সম্ভব টা চোখে না দেখলে বিশ্বাস হবে না।

• এরপর আমার ভাই সুস্থ হয়ে উঠে, কিন্তু তাকে অনেক তাবিজ এবং সুতো পড়তে হয়।

বাক্তিগত স্বার্থে নাম, জায়গার নাম দেয়া সম্ভব নয়। কারন, ঘটনাটা আমরা ছড়াতে চাচ্ছি না।

★ সত্য ঘটনা ★

(পর্ব-১)


ঘটনা ১ ঃ-

অবস্থানঃ মতিঝিলের বেশ জনপ্রিয় আবাসিক এলাকা

এলাকায় যে একটা বেল গাছ আছে সেটা আমি আমার বিশ বছরের জীবনে শুনিনি।এর অবস্থান একজন বিখ্যাত সঙ্গীত শিল্পীর বাড়ির ঠিক পিছনে একটা গলির ভিতরের দিকে।সেখানে থাকেন আমাদের বাসার কাজের মহিলা অনেকদিন ধরে।একদিন হঠাত উনার মেয়ে বাসায় গিয়ে বলে তার নাকি গলায় ব্যাথা করছে।ধুলাবালি ঢুকেছে ভেবে তারা কেউ পাত্তা দেয় না।এভাবে দুইদিন তিনদিন করে একমাস গেলে।ব্যাপারটা এখন তাদের চিন্তায় ফেললো।তারা মেয়েকে নিয়ে কমপক্ষে ১০-১৫ ডাক্তার দেখালেন,হোমিয়প্যাথি খাওয়ালেন,কেউ বলে শ্বাসনালি তে সমস্যা,কেউ বলে নাকে মাংস বেড়ে গেছে কিন্তু কিছুতেই কিছু হয় না।ঠিক তিন মাস পর তার সাথে যুক্ত হল আরও কিছু ঘটনা।মেয়ে নাকি কিছু খেতেই পারে না,বমি করে ফেলে দেয়।সবাই ভাবল মেয়েকে হাওয়া বদল করাই।তাকে পাঠানো হল গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে।সেখানে গিয়ে শুরু হল আসল ঘটনা

মেয়ে নাকি কথা নাই বার্তা নাই আপন মনে এখানে সেখানে ঘুরে বেড়ায়,চিল্লায়ে চিল্লায়ে গান গায়,মুখ দিয়ে অদ্ভুত অদ্ভুত আওয়াজ করে,পরক্ষনেই আবার হাদিসের বানী শোনায়,সবাইকে নামাজ পড়তে বলে।আবার মেয়েলি ভাষায় হিন্দুদের বিয়ে বাড়ির মত "উলুলুলুলু"আওয়াজ করে।শেষে একজন হুজুড় কে ডাকা হল।তিনি মেয়েকে দেখে তার গায়ে কিছু তাবিজ ঝুলিয়ে দিলেন।কিন্ত্য মেয়েটা তার সামনেই তাবিজ খুলে ছুরে মারে।যখন কিছুতেই কিছু হল না তখন মেয়েকে ঢাকায় আবার নিয়ে আসা হল।এবার ডাকা হল এক হিন্দু ওঝাকে।তিনি মেয়েকে দেখে মায়ের কাছে জানতে চাইলেন যে মেয়েটি কোন বেল গাছের আশেপাশে দিয়ে গেছে কিনা।তখন সবার মাথায় আসল যে হ্যা,মেয়েটি বেল গাছের নিচ দিয়েই যাতায়াত করত।তখন ওঝা বললেন যে এর উপর একটা জ্বীন আর একটা বেল গাছের পেত্নি ভর করেছে।জ্বীনটি তার দিকে দৃষ্টি দিয়েছে।এই কারনে মেয়েটি মাঝে মাঝে সবাইকে ধর্মীয় পরামর্শ দিত।আর পেত্নিটি মেয়েটাকে দিয়ে উলুলুলু আওয়াজ করাতো।তখন ওই ওঝা মেয়ের মাকে কিছু জিনিষ জোগাড় করতে বললেন।এর মধ্যে আছে সাতটা ঘাটের পানি,দুইটা কালো মোরগ,পাচ কেজি মিষ্টি,কিছু মোমবাতি,কালো জিরা,শলার ঝারু।এরপর কি হয়েছে সেটা আমাদের কাজের মহিলা আমাদের বলে নাই।আমার মা হয়ত জানেন কিন্তু আমাকে বলেন নাই।

ঘটনা-২।

অবস্থানঃএকই (ডঃমোতালেব নামক একজন ডাক্তারের চেম্বারের ঠিক পিছনে তার বাড়ির সামনের গলিতে)

এটা একটা শোনা ঘটনা।আমাদের বাড়ির সামনের গলিতে এমন ঘটনা ঘটার কথা শোনা গেছে,গলিটা এমন যে রাস্তা থেকে দেখলে গলির শেষ মাথায় শিড়ি,গলির দুইদিকে দুইটা বাড়ি।ঘটনা প্রত্যক্ষ করে ডান পাশের বাড়ির নিচতলার মেয়েটা আজ থেকে প্রায় ১৪-১৫ বছর আগে।একদিন রাতে ওই মেয়েটা ঘুমাচ্ছিল।রাত্রে প্রায় ৪ টার দিকে মেয়েটা একটা মহিলার পায়ের নূপুরের আওয়াজ পায়।নাচিয়েরা পায়ে যে নূপুর পড়ে সেটা।তো সে তা পাত্তা দেয় নাই,ভেবেছে ঘুমের মধ্যে কি না কি শুনেছে।এসব ভেবে ঘুমিয়ে পড়ে।পরেরদিন একই সময় সে আবারো একই আওয়াজ পায়।এবার সে একটু আগ্রহী হয়।তার রুমের একটা জানালা ওই গলির দিকে মুখ করে ছিল।জানালা খুলে তাকালে গলির অনেকখানি দেখা যায়।সে জানালা খুলতেই তার রুম আলোতে ভরে যায়।আলো সয়ে এলে সে দেখতে পায় গলিতে একটা মহিলা সাদা নাচের কাপড় পরে নূপুর পায়ে হাটছে।ওই কাপড়ের উজ্জ্বলতায় পুরো গলি আলোতে প্রায় ভরে গেছে।মহিলাটা গলির এ মাথা থে একবার ওমাথায় যাচ্ছে আর আসছে।আর তার মুখে ছিল এক অদ্ভূত হাসি।তবে তার চোখ ছিল ভয়ানক,ঠিক গোলাকার,মনি হালকা সাদা এবং লম্বাটে।মেয়েটা হঠাত করে মহিলাটার চোখের দিকে তাকাতেই সম্মোহিত হয়ে যায়।যেন ওই চোখ তাকে এখনি গিলে খাবে।এভাবে মহিলা এবং মেয়েটা পরস্পরের দিকে তাকিয়ে থাকে।এভাবে কিছু সময় পর ওই মেয়েটার মা ঘুম থেকে জেগে ওঠে।আর মেয়েকে ওভাবে জানালার বাইরে তাকিয়ে থাকতে দেখেডাক দেয় কিন্তু মেয়েটা সে সম্মোহিত হয়ে থাকে।তখন তার মা তাকে একটা ধাক্কা দেয়।এবার মেয়েটা হকচকিয়ে ওঠে।আবার যখন সে জানালার বাইরে তাকায় তখন মহিলাটা নাই।ফজরের আযান শুরু হয়ে গেছে

মেয়েটা পরেরদিন তার মাকে সব কথা বলে।কিন্তু তার মা পাত্তা দেয় না।সেদিন রাতে তার মা একই ঘটনার শিকার হয়।কিন্তু সেদিন তার মেয়ে আগে থেকেই জেগে ছিল বলে তার মা বেচে যায়।তারা চলে যাওয়ার পর যখন নতুন ভাড়াটিয়া আসে তারাও একই ঘটনা দেখে।কিন্তু যেভাবে ঘটনাটা শুরু ঠিক সেভাবেই শেষ হয়ে যায়।ওই মহিলাকে আর দেখা যায় না তবে প্রায় রাতে সেই নূপুরের আওয়াজ ঠিকই পাওয়া যায়।


ঘটনা-৩।

অবস্থানঃ আমার নিজের বাসা (আমি আর আমার ভাই এর শিকার)

এটা আসলে ভৌতিক না স্বপ্ন সেটা বলতে পারব না কারন তখন আমার বয়স ছিল তিন বছর আর আমার ভাই এর ছয় বছর।তিন বছরের একটা বাচ্চা যদি স্বপ্ন দেখে তাহলে হয়ত দেখবে যে সে অনেকগুলো খেলনা নিয়ে খেলছে,ঘুরছে।কিন্তু আমার সাথে কি হয়েছে জানি না,আমি প্রায় রাতে অদ্ভুত অদ্ভুত প্রানীর শুধুমাত্র চোখ দেখতে পারতাম।ঘুম থেকে উঠে যখন তাকাতাম তখনও মনে হত যে রুমে সেই প্রানীটি বসে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।সাধারনত কেউ যদি চোখ বড় করে অন্ধকারের দিকে তাকায় তাহলে এমনটা হয়।কিন্তু ভয়ের ব্যাপার ছিল যে আমার বড় ভাই একই স্বপ্ন দেখত এবং ঘুম থেকে উঠার পর একই চেহারা দেখতে পেত।প্রথমদিনেই মাকে ঘটনাটা জানিয়ে দেই।তিনি পাত্তা দেন না।বেশ কয়েকবার ঘটার পর তারা একজন হুজুরের সাথে দেখা করেন।হুজুর আমাকে একটা তাবিজ দিয়ে বলেন যাতে এটা এসব ঘটনা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হাত থেকে না খুলি।অদ্ভুত ব্যাপার হল তিনি আমাদেরকে আরবিতে কালিমা লেখা সাতটি কাচের প্লেট দেন আর বলেন যাতে প্রতিদিন একটা একটা করে কাচের প্লে্ট এর ঐ লেখাটা ধুয়ে সেই ধোয়া পানিটা খাই।অদ্ভুত লাগলেও কাজগুলা করা হয় এবং সমস্যাটা কেটে যায়।

হুজুর বলেছিলেন যে ছোটরা অনেক সময় খেলার ছলে রাস্তায় অনেককিছুই দেখে যা আসলে কি এটা তাদের পক্ষে বোঝা সম্ভব হয় না।হতে পারে সেটা অশরীরী কোন আত্মা যা হয়ত ক্ষতি করে না তবে স্বপ্নে দেখা দিয়ে নানান রূপ ধারন করে।এরকমই কিছু আমার স্বপ্নে এসে দেখা দিয়েছিল।

ঘটনা-৪।

অবস্থানঃচাদপুর,মতলবের শাহাতুলি গ্রাম

এটা আমার চাচির মুখে শোনা আমার দাদাকে নিয়ে একটা ঘটনা।আজ থেকে প্রায় ৪০-৪৫ বছর আগের ঘটনা।আমার দাদা একজন পরহেজগার মানুষ ছিলেন।প্রত্যেক ওয়াক্ত নামায সময়মত আদায় করতেন।এক রাতে তিনি ঠিক করলেন মসজিদে সারারাত থেকে আল্লাহর ইভাদাত বন্দেগী করবেন।এই জন্য তিনি সকাল সকাল মসজিদে চলে আসেন।তার ইচ্ছা ছিল পরেরদিন ফজরের নামাজ পরেই আবার বাড়ী ফিরে আসবেন।ঘটনা ঘটে সেখানে।মসজিদে যাওয়ার পথে একটা পুকুর পরে আত তার পাশে বেশ কিছু নারিকেল গাছ।রাতের বেলা গাছ গুলো দেখতে বেশ ভূতুরে দেখায়।দাদা যখন মসজিদে যাচ্ছিলেন তখন পুকুরের পানি বেশ ভালই ছিল।গাছগুলোও স্বাভাবিক ছিল।তিনি মসজিদে গেলেন এবং ভোরে ফজরের নামাজ পরে তিনি মসজিদ থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হন।ওই পুকুরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি তার টর্চ লাইটের আলো পুকুরে ফেলে দেখেন সেখানে পানি নেই,লাল লাল কি যেন।তিনি আলো ঘুরিয়ে কিনারার দিকে ফেলেই ভয়ে আতকে উঠেন.সেখানে পড়ে ছিল বেশ কিছু মানুষের লাশ,আধ খাওয়া লাশ,কারো মাথা অর্ধেক খাওয়া,কারো হাত নেই,কারও কোমরের নিচের অংশ নেই।দেখে বোঝা যাচ্ছিল সেগুলো খেয়ে ফেলে রাখা হয়েছে আর তাতেই পানি লাল হয়ে গেছে।তিনি ভাবছিলেন যে সকালে তো সব ঠিক ছিল,তাহলে এত মানুষের লাশ সবার চোখের আড়ালে এল কিভাবে।হঠাত পানিতে ধপাস করে একটা শব্দ হল।তিনি আলো সেখানে ফেলে দেখলেন পানিতে আরেকটা লাশ এসে পড়েছে।তিনি উপরের দিকে আলো ফেলে দেখেন তাল গাছের ডগায় মানুষের আকৃতির বেটে আকারের কি যেন একটা মৃতদেহ খাচ্ছে,তাদের পাশে ডালে আরও কিছু মৃতদেহ রাখা।দাদা যা বুঝার বুঝে গেলেন।এটা জ্বীনেরকারবার।পরহেজগার ছিলেন বলে জ্বীন তাড়াবার কিছু উপায় তিনি জানতেন।

তিনি পাশ থেকে একটা কাঠি নিলেন আর তাদের দিকে তাকিয়ে বললেন,"এবার দেখবো তোদের কে বাচায়" এই বলে তিনি সূরা পরতে পরতে কাঠি দিয়ে মাটিতে একটা বৃত্ত আকতে শুরু করলেন।অর্ধেক আকা হয়েছে এমন সময় সেই জ্বীনদুইটা হঠাত একটা বিকট আর্তনাদ করে ওঠে।তারা নিচের দিকে তাকিতে দেখে দাদার বৃত্ত আকা প্রায় হয়ে গেছে।তারা ততক্ষনাত লাশটা ফেলে খুব জোড়ে একটা দৌড় দেয়।লাশটা সরাসরি দাদার কাধে এসে পড়ে।দৌড় দেওয়ার সময় গাছের ডাল ভাঙ্গার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছিল।দাদার উদ্দেশ্য ছিল ওই জ্বীন দুটোকে বৃত্তে বন্দী করে পরে বৃত্ত মুছে ফেলবেন।

লিখে মানুষকে ভয় পাওয়ানো কঠিন।তবে কার সাথে কখন কিভাবে কি ঘটতে পারে সেটাই হচ্ছে এই ঘটনাগুলো লেখার উদ্দেশ্য।এর দ্বিতীয় অংশটা পরে কোন একদিন প্রকাশ কর।এর চাক্ষুশ প্রমান আমি নিজে।




পর্ব ২ঃ-


ঘটনা-৫।

অবস্থানঃআমার নিজের বাস



আসলে এটা ঠিক ভূত দেখা সঙ্ক্রান্ত কোন ঘটনা না।অনুভূতি সঙ্ক্রান্ত যেটা আমার এবং আমার মায়ের হয়েছে।এই ঘটনার ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে আগে একটু বলে নেই।রেডিও ফূর্তিতে ভূত এফএম নামের যে শো টা হয় তাতে সুমন ভাই একবার তার একটা অগিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে একটা বই এর নাম বলেছিলেন।তিনি বলেছিলেন এই বইটা যাদের কাছে থাকে তারা নানান ধরনের প্যারানরমাল অনুভূতির মুখোমুখি হন।তিনি নিজেও হয়েছিলেন।আগ্রহের বশে আমিও নেটে সার্চ দিয়ে ডাউনলোড করার চেষ্টা করি।কিন্তু কেন জানি তিন পৃষ্ঠার বেশি নামাতে দেয় নি।ওই তিন পৃষ্ঠা পড়ে যা বুঝলাম যে এতে জ্বীন আর শয়তানদের সম্পর্কে নানা প্রকার তথ্য দেওয়া হয়েছে।



ঘটনার দিন রাত্রে বেলা প্রায় তিনটার দিকে আমি আমার টেবিলে বসে বই পড়ছিলাম।আমার বাবা-মা তাদের নিজেদের ঘরে আর আমার বড়ভাই গেষ্ট রুমে ঘুমাচ্ছিলেন তাই তার নিজের রুমটা ফাকা ছিল।রাত প্রায় সোয়া তিনটার দিকে আমি হঠাত একটা পায়ের আওয়াজ পাই।কেউ জোড়ে জোড়ে পায়ের আওয়াজ ফেললে যেমন হয় তেমন।একটু পর আমি আমার ভাইয়ের রুমের দরজায় ঝুলানো ঝুনিঝুনির আওয়াজ পাই সেই সাথে ঠাস করে দরজা লাগানোর আওয়াজ পাই।বুঝতে পারলাম কেউ আমার ভাইয়ের রুমে গেছে।আমার ভাই নিজেই হয়ত রুমে গেছে এই ভেবে নিজেকে সান্তনা দেই কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হল আমি কোন লাইটের আলো দেখতে পাই নাই।খটকা লাগে এখানেই।ভাইয়া সাধারনত রুমে ঢুকলে লাইট জ্বালায়।ব্যাপারটা দেখতে আমি ভাইয়ার রুমের দিকে যাই।গেষ্ট রুমের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখি ভাইয়া সেখানে ঘুমাচ্ছে।তার মানে ভাইয়া তার রুমে যায়নি।বাবা-মার রুমের সামনে গিয়ে দেখি তারাও ঘুমাচ্ছে।অথচ ভাইয়ার রুমের দরজা তখন বন্ধ ছিল।আমি বেশ ভয় পেয়ে যাই।কে গেল তাহলে সেই রুমে?

আমি আবার আমার টেবিলে ফিরে গিয়ে পড়তে বশি।ভাবি যে হয়ত না ঘুমানোর কারনে এমন হয়েছে।হঠাত আবার রুমের দরজা খোলার শব্দ।আমি আমার রুমের বাইরে তাকিয়ে কান খাড়া করে রাখি।শুনলাম কে জানি ধপ ধপ করে এগিয়ে আসছে।একটু পর পাক ঘরের পর্দা উড়তে দেখলাম তার মানে কেউ একজন পাক ঘরে ঢুকেছে।কিন্তু কোন লাইট জ্বলল না আবার কোন আওয়াজ ও হল না।আমি সময় নষ্ট না করে ঘুমিয়ে পড়ি



ওইদিন আমার মা তাহাজ্জুদের নামাজ আদায়ের জন্য তাড়াতাড়ি ওঠেন,তার একটা অভ্যাস হল ঘর অন্ধকার করে নামাজ পড়া।তিনি আমার ভাইয়ার রুমে নামাজ পড়েন।নামাজ পড়তে দাঁড়িয়ে আম্মু যখন নাকি সেজদা দিতে যায় তখন তিনি নাকি মাথার সামনে পায়ের স্পর্শ পান।কিন্তু মা সেজদা শেষ করেই ওঠেন।আবার সেজদা দিতে গিয়ে একই রকম পায়ের স্পর্শ পান।যেন তার মাথার সামনে কেউ বসে আছে।তিনি জানতেন তাহাজ্জুদের নামাজ যারা পড়েন তারা এমন অবস্থায় পড়েন।তাদেরকে নাকি ভয় দেখানো হয়।মুনাজাতের সময় হঠাত তার কানে বাইরের দরজায় টোকা দেওয়ার আওয়াজ আসে।তিনি মুনাজাত শেষ করে গিয়ে দরজা খুলে দেখেন কেউ নেই।



তিনি সামান্য ভয় পেয়ে কুরয়ান শরীফ পড়তে বসেন আর আবার সেই টোকার আওয়াজ পান।এবার বেশ জোড়ে জোরে।কিন্তু এবার তিনি উঠে যাননি।চুপচাপ কুরয়ান পাঠ চালিয়ে যান।কুরয়ান পাঠ প্রায় শেষ দিকে এমন সময় তিনি পাকঘরের দরজার সামনে একটা কালো বিড়াল দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন।বিড়ালটা তার দিকে এক নাগাড়ে তাকিয়ে ছিল।মা সেটাকে তাড়ানোর চেষ্টা করেন কিন্তু সেটা যায় না।তিনি যা বুঝার বুঝে যান।এটা কোন স্বাভাবিক বিড়াল না।মনে হয় যেন সেটা মার কুরয়ান তিলাওয়াত শোনার জন্য বসে ছিল কেননা কুরয়ান পাঠ শেষ হবার সাথে সাথেই সেটা চলে যায়।মা সেটার পিছু নিয়ে পাকঘরে ঢুকে দেখেন পাকঘরের জানালা বন্ধ।ভিতরে ঢোকার সামান্যতম জায়গা নেই।

সেদিনি আমি আমার কম্পিউটার থেকে নেট থেকে নামানো সেই বই এর তিন পৃষ্ঠা ডিলিট করে দেই।


ঘটনা-৬

অবস্থানঃমতিঝিল



এখন যে ঘটনাটা বলব সেটা আমার এক বন্ধুর বাসায় ঘটা।তারা যে বাসাটিতে থাকত সেখানে আগে একটা পরিবার থাকত তা প্রায় ১০-১২ বছর আগে।এক ঈদে পরিবারের যিনি কর্তা তিনি বিশেষ প্রয়োজনে কুমিল্লায় যান।যাবার পথে তার বাস এক্সিডেন্ট করে।এতে ওই বাসের সবাই মারা যায়।লোকটাকে মুমূর্ষ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে তিনি মারা যান।তার শরীরের প্রায় সবগুলো হাড় ভেঙ্গে গিয়েছিল।মাথা পুরো থেতলে গিয়েছিল।কোমড়ের নিচের অংশটুকু ছিলনা বললেই চলে।তিনি যে বাসাটিতে থাকতেন সেখানে তার লাশ নিয়ে আসা হয়।কিন্তু তার দেহটি সেই বাসা ছেড়ে গেলেও তার আত্মা সেই বাসা এখনও ছেড়ে যায়নি।



এই বাসাটিতে কোন ভাড়াটিয়াই ২-৩ মাসের বেশি থাকতে পারে না।বাড়ির মালিকও বাসা ভাড়া দেবার সময় কিছু বলেন না।আমার বন্ধুর পরিবার যখন ভাড়া নিতে যায় তখন বাড়িওয়ালা শুধু এটুকুই বলেন যে এই বাসা এক বছরের আগে কোন অবস্থাতেই ছাড়া যাবে না।তারা তা মেনে নেয়।কিন্তু বাসায় ওঠার কয়েকদিনের মধ্যেই ঘটনা ঘটা শুরু হয়।



আমার বন্ধুটির রাত জেগে পড়ার অভ্যাস।একবার রাত তিনটার দিকে সে পড়ছিল।হঠাত তাদের বারান্দার শেষ মাথায় ধপ ধপ দুইটা আওয়াজ হয়।ভুল শুনেছে ভেবে বন্ধুটি আবার পড়ায় মন দেয়।আবারও একই ঘটনা।এবার সে বারান্দায় তাকায়।ঘুটঘুটে অন্ধকারের মধ্যে সে দেখতে পায় সাদা আলখেল্লার মত পড়া কি যেন একটা মাটিতে লাফাচ্ছে।মাথার নিচের অংশটুকু স্বাভাবিক কিন্তু মাথা অস্বাভাবিক রকমের বড়।চোকের অংশটুকুতে যেন আগুন জ্বলছে।হঠাত সেই ছায়াটা তার রুমের দিকে সেভাবে লাফাতে লাফাতেই আসতে থাকে।আমার বন্ধুতে ভয়ে তার বইয়ের দিকে তাকিয়ে থাকে।এমন সময় সে টের পায় সেই ছায়াটা দরজা দিয়ে তার রুমে ঢুকেছে।তার সামনে একটা গ্লাস রাখা ছিল।সেই গ্লাসে ঠিক তার পিছনে সেই ছায়ার প্রতিবিম্ব দেখতে পায়।এক পর্যায়ে সেই ছায়াটা দক্ষিন দিকের একটি জানালায় গিয়ে মিলিয়ে যায়।



তার বাসার সবাইকে জানালেও কেউ তা বিশ্বাস করে না।সেদিন রাত্রে গায়ে কাটা দেওয়া আরেকটি ঘটনা ঘটে।আমার ওই বন্ধুটি পড়ছিল কেননা পরেরদিন তার এইচএসসি পরীক্ষা ছিল।এমন সময় সে পায়ের আওয়াজ পায়।সে বুঝতে পারে কিছু একটা রুমে ঢুকেছে।এবার সে সাহস করে পিছনে তাকায়।দেখতে পায় তার বিছানা অর্ধেক হুট করে দেবে গেছে।একটু পর মাথার বালিশও দেবে যায়।ঠিক যেন কেউ বিছানায় শুয়েছে।আরও অদ্ভুত ব্যাপার হল তার বিছানাটা একটু পর পর কাপছিল যেন ভূমিকম্প হচ্ছে।সে সাহস জোগাড় করে তার আলমারির উপর রাখা কুরআন শরীফটা বিছানার একটি কোনায় রেখে দেয়।হঠাত কি হল সে বুঝতে পারল না।হুরমুর করে বিছানা থেকে কেউ যেন গায়ে কাটা দেওয়া কানে তালা লাগানো আওয়াজ করে জানালা ভেদ করে পালিয়ে যায়।



কয়েকদিন পরে তার এক বন্ধু বাসায় বেড়াতে আসে।সে ওই বাসার ঘটনাগুলো সম্পর্কে জানত।রুমে ঢুকেই সেই ওই আত্মাটাকে উদ্দেশ্য করে একটা গালি দেয়।রাত ঠিক দশটার দিকে তারা বসে কম্পিউটারে গেমস খেলছিল।কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগে আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটে গেল।ধোপারা কাপড় ধোয়ার স্ময় যেভাবে কাপড়কে মাটিতে আছাড় মারে ঠিক সেভাবে কে জানি ওই বন্ধুটিকে আলমারির সাথে বসা অবস্থাতেই একটা আছার মারে।এতে চেয়ারটি ভেঙ্গে যায়।উঠে দাঁড়ানো মাত্রই আবার তাকে মাটিতে আছাড় মারা হয়।আমার বন্ধুটি কোন মতে সাহস জুগিয়ে সামনে রাখা কুরয়ান শরীফটি সেই বন্ধুর কোলের উপর রেখে দেয় আর তারপরই বন্ধুটির শরীর আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে যায়।

আরও কিছু ঘটনা ঘটে।এই যেমন রাতের বেলা নামাজ পড়তে দাড়ালে কে যেন পিছন থেকে সে ধাক্কা দেয়।রাতে ঘুমানোর সময় কে যেন পা ধরে টেনে মাটিতে ফেলে দেয়।ঘুমানোর সময় কানের সামনে এসে ফিসফিস করে কথা বলে।শেষ যে খবর পেয়েছিলাম তা হল ঘরটি বান্ধানো হয়েছে।বলে দেওয়া হয়ে দক্ষিন দিকের জানালা যাতে কখনও খোলা না হয়।




তিনটি সত্য ভৌতিক ঘটনা (পর্ব-৩)ঃ-

এখন যদি স্বয়ং ভূত বা পেত্নি এসে ভূতের গল্প লেখে ভয় পাওয়ানোর চেষ্টা করে আর যদি বলে এটা একেবারে সত্যি ঘটনা তাহলেও সেটা অনেকেই বিশ্বাস করবে বলে মনে হয় না।স্বয়ং ভূত-পেত্নি আপনার সামনে এসে হাজির হলে সেই না হয় অন্য কথা।সাধারন মানুষ হিসেবে ভয় পাওয়ানোর চেষ্টা করলাম।হাসবেন না কি করবেন তা আপনার ব্যাপার।

ঘটনা-৭:
অবস্থানঃবরিশাল,বাবুর হাট

লোকটার নাম ছিল কানা মামা।আমার মা এবং আমার খালারা তাকে কানা মামা বলেই ডাকত।লোকটা আজন্ম অন্ধ।আমি জানতাম,অন্ধদের একটা ভালো গুন আছে।তারা যে রাস্তা দিয়ে বারবার যাতায়াত করে সে রাস্তায় দিনের যে সময়েই তাকে রেখে আসা হোক না কেন তারা ঠিকই রাস্তা চিনে আসবে।কিন্তু কানামামার ক্ষেত্রে তা ছিল ব্যতিক্রম।তিনি নিজে থেকেই কয়েক মাইল পথ পাড়ি দিয়ে অন্য গ্রামে চলে যেতেন,আবার নিজে নিজেই গভীর বেলা বাড়ি ফিরতেন এবং দরজার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের শরীর ঝারতেন আর "যাহ,যাহ"বলে ধমকি দিতেন।

আসলে তিনি ছিলেন একজন ওঝা গোছের লোক।লোকেমুখে জানা যায় তিনি কালোজাদু জানতেন,তার সাথে কিছু জ্বীন আর পেত্নি সর্বদা চলাফেরা করে।তারাই তাকে রাতের বেলা পথ দেখিয়ে নিয়ে আসে আবার চলে যায়।তার আরেকটি দক্ষতা ছিল তিনি মানুষের স্বর শুনেই বলে দিতে পারতেন লোকটা কে।আমার মা প্রায় ১৬ বছর পর গ্রামে গিয়ে একদিন তাকে দেখে বললেন,"কানা মামা,কেমন আছেন?" তখন কানা মামা সাথে সাথেই উত্তর দেয়,"কিরে রেনু,এত বছর পর এলি।"

কথিত আছে,আজ থেকে প্রায় ২০-২২ বছর আগে এলাকাতে একটা পুরানো পোড়া বাড়ি ছিল,যেখান থেকে নাকি প্রতিদিন রাতের বেলা অদ্ভুত সব আওয়াজ আসত,কোনদিন হয়ত বাচ্চার কান্নার আওয়াজ,আবার নুপুর পায়ে কারো হাটার আওয়াজ,গোঙ্গানির মত আওয়াজ পাওয়া যেত।এমনকি ওই বাড়ির বারান্দায় প্রায়শি নাকি শাদা কাপড় পরিহিত একটা ছায়া দেখা যেত।তখন কানা মামা কেবল মাত্র কালোজাদুর চর্চা শুরু করেছেন।তিনি সবাইকে বললেন যে তিনি একা রাতের বেলা সেই বাড়িতে যাবেন এবং ওইখানে যদি অশরীরী কিছু থাকে তাহলে তিনি তাদের বন্দি করে আনবেন।কথামত তাই হল,তিনি একা রাতের বেলা গেলেন কিন্তু সেদিন তিনি আর ফিরে আসেননি।তার দেহ অচেতন অবস্থায় দুইদিন পর পুকুর পাড়ে পাওয়া যায়,তবে তারপর থেকে ওই বাড়ি থেকে আত কোন আওয়াজ আসেনি।

তার যারা ক্ষতি করে তাদের উপর তিনি জ্বীন দ্বারা প্রতিশোধ নিতেন।এমনকি জ্বীনরা তার অনুপস্থিতিতে ক্ষতি করত।তার মৃত্যূর পর এমনি একটা ঘটনা ঘটে।

এক সদ্য বিবাহিত মেয়ে রাতের বেলা হাতমুখ ধুতে কল পাড়ে যায়।কিছুক্ষন পরে তার আর্তচিতকারে তার স্বাশুড়ি মা বাইরে বেরিয়ে আসে।তিনি গিয়ে দেখেন তার বউমাকে কে যেন হাওয়ায় ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং কিছুক্ষন পরে পুকুরে ফেলে দেয় আর পানিতে চুবাতে থাকে।সে ঠিকমত চিতকার করতে পারছিল না কারন তার গলার সোনার চেইন কে যেন গলায় চেপে ধরেছিল।তখন তার শ্বাশুরি মা লোকজন জড়ো করে মেয়েটাকে পানি থেকে উঠায়।পরে তার ভাষ্যে জানা গেল,সে একটা পিদিম হাতে নিয়ে কলপারে যায়।চারপাশে কোন বাতাস না থাকা সত্তেও হঠাত পিদিমটা নিভে যায় এবং কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে পাজকোলা করে কে যেন হাওয়ায় ভাসিয়ে পানিতে নিয়ে ফেলে পানিতে ডুবানোর চেষ্টা করে।ধারনা করে সবাই যে,তার শ্বশুর জমিজমা সঙ্ক্রান্ত ব্যাপারে কানা মামার ক্ষতি করেছিল তাই তার মৃত্যূর পর এভাবেই প্রতিশোধ নেওয়া হয়।


ঘটনা-৮:

অবস্থানঃবিদেশ(সঠিক জায়গার নাম জানা নেই)

এটা এক বন্ধুর মুখে শোনা।একবার এক লোক ব্যবসার কাজে বিদেশে যায়।তিনি একটি ফাইভস্টার হোটেলে ওঠেন।সেখানে তখন মাত্র দুটি রুম খালি ছিল একটি দক্ষিন্মুখী আরেকটি ঠিক তার পাশে।তিনি ম্যানেজারের কাছে দক্ষিনমুখী রুমটা চান।কিন্তু ম্যানেজার তাকে রুমটা দেয়না,পাশের রুমটা দেয়।কারন জানতে চাইলে ম্যানেজার বলে ওই রুমে নাকি কিছু কন্সট্রাকশনের কাজ চলছে।ওই লোক নিজের রুমে চলে যায়।

রাতের বেলা ২-৩ টার দিকে তিনি ধ্রিম ধ্রিম আওয়াজ পান,কেউ যেন পাশের দেয়ালে আঘাত করছে,সেই সাথে মৃদু কান্নার আওয়াজ আসছে।তিনি ব্যাপারটাতে তেমন পাত্তা না দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।পরেরদিন ঠিক একই সমস্যা।এবার অনেক জোড়ে জোড়ে কান্নার আওয়াজ আসছে।সেই সাথে কেমন জানি ধস্তাধস্তির আওয়াজ,পানি পড়ার শব্দ।তিনি জানেন ওই রুমে কেউ থাকে না তারপরেও তিনি উঠে গিয়ে ওই রুমে নক করেন আর সাথে সাথেই আওয়াজ বন্ধ হয়ে যায়।তিনি চলে আসতে যাবেন তখন আবার আওয়াজ।এবার তিনি দরজার চাবির ফুটোয় চোখ দেন কিন্তু ভিতরে কিছুই দেখতে পাননা,শুধু অন্ধকার।সেদিনের মত তিনি রুমে চলে যান

পরের দিন এবার আগে ভাগেই তিনি ওই রুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন যাতে আওয়াজ হলেই চোখ রেখে দেখতে পারেন,কিন্তু সেদিন আর আওয়াজ হয়নি।তারপরেও তিনি কৌতুহলবশত চাবির রিং এর ফুটোয় চোখ রাখেন।দেখেন পুরো রুম লাল হয়ে আছে।এটা দেখে এবার তিনি ভয় পেয়ে যান।।

পরের দিন তিনি হোটেলে ঝারু দেয় এমন একজনের সাথে কথা বলেন।তার ভাষ্যটা ছিল এমন,"ওই রুমে অনেক বছর আগে একটা মেয়েকে রেপ করে তাকে খুন করে লাশ ফেলে যাওয়া হয়।এরপর থেকে সেখানে নানা রকম আওয়াজ আসতে থাকে।হোটেলের সুনাম খারাপ হবে বলে আপনাকে বলা হয়নি।"

লোকটি তার রুমে ফিরে আসবে এমন সময় ঝারুদার তাকে ডেকে বলে,"জানেন স্যার মেয়েটার একটা অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য ছিল।মেয়েটার চোখের রঙ ছিল লাল"

ঘটনা-৯:

অবস্থানঃবরিশাল

এই ঘটনাটা আমার মায়ের কাছ থেকে শোনা।তিনি যখন ছোট ছিলেন ওই সময়টাতে গ্রামাঞ্চলের দিকে মানুষের প্রধান পেশা ছিল পুরোপুরি ভাবে কৃষি।এখন যেমন ব্যবসার প্রচলন ব্যাপকভাবে ঘটেছে তখন তেমন ছিল না।সে সময় রাতের বেলা প্রায়শি ক্ষেত থেকে ধান চুরি হয়ে যাবার ঘটনা শোনা যেত।এ কারনে গ্রামের লোকজন মিলে ঠিক করে যে তারা কাউকে পাহারাদার হিসেবে নিয়োগ দিবে এবং মাস শেষে সবাই মিলে কিছু টাকা দিয়ে তার বেতন পরিশোধ করবে।যেই কথা সেই কাজ।তাকে নিয়োগ দেওয়া হল।পাহারাদার ছিল যুবক একজন লোক কিন্তু গরীব যে কারনে রাতের বেলা কাজটি করতে সে রাজি হয়।সে যখন পাহারায় আসত তখন দৌড়ে দৌড়ে পুরো ক্ষেত একবার চক্কর দিত আর "কে রে ওখানে" বলে চিতকার দিতে দেখার জন্য কোন নড়চড় চারপাশে দেখা যায় কিনা।

প্রথম একমাস তেমন কোন সমস্যা হয় না।কোন চুরির খবর পাওয়া যায় না।কিন্তু একদিন ভোরবেলা এক কৃষক ক্ষেতের পাশে একটা ডোবায় তার লাশ খুজে পায়,তার মাথা কেটে ফেলা হয়েছিল আর হাত-পা বাধা।ক্ষেতের ক্ষানিকটা অংশ রক্তে ভরে ছিল।লোকেরা ভাবে হয়ত চোরেরা এই কাজ করেছে।

এই ঘটনার পরও চুরির ঘটনা তেমন পাওয়া যায় নি,হয় না বললেই চলে।কিন্তু নতুন একটা ঘটনার আবির্ভাব হয়।প্রায় রাতে যারা হাট থেকে বাড়ি ফিরে তারা নাকি দেখেছে প্রতি রাতে কে জানি লন্ঠন হাতে ক্ষেতের পাশ দিয়ে দৌড়ায় আর ঘ্রঘ্র আওয়াজ করে।এবং প্রতিদিন সকালে ক্ষেতের ঐ নির্দিষ্ট জায়গায় যেখানে ওই পাহারাদারের লাশ আর রক্ত পাওয়া গিয়েছে সেখানে তাজা রক্ত পড়ে থাকতে দেখা যায়।প্রতিদিনেই একই ঘটনা ঘটে।তাই কিছু লোক মিলে ঠিক করে এবার তারা রাতের বেলায় ক্ষেতের মাঝে লুকিয়ে দেখবে ঘটনা কি।এক রাতে তারা তাই করে।রাত ঠিক তিনটার দিকে ঘটে ঘটনাটা।

দূর থেকে তারা দেখতে পায় লাঠি ও লন্ঠন হাতে সাদা পোশাকের কে জানি এদিকে দৌরে আসছে আর দূর থেকেও ঘ্রঘ্র আওয়াজটা পাওয়া যাছে।কিছুটা কাছে আসতেই তারা ভয়ে শিউরে ওঠে।এটা ওই পাহারাদার যে মারা গেছে,ঘাড়ে মাথা নেই তাই ওইখান থেকেই আওয়াজ টা আসছে।তারা যেখানে লুকিয়ে ছিল সেখানে এসেই আত্মাটা দাঁড়িয়ে পড়ে,তাদের দিকে কাধ ফিরে তাকায় যেন তাদেরকেই দেখছে এবং আরও একবার ঘ্রঘ্র আওয়াজ করে দৌড়ে চলে যায়।এই ঘটনা দেখে তারা সবাই জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

এই ঘটনা বেশ অনেকদিন ধরে চলে,এখনও মাঝে মাঝে নাকি দূর থেকে সাদা পোশাকের কাউকে দৌড়াতে দেখা যায়।


জ্বীন-পরীর গাঁজাখোরি গল্প এবং ধর্ম ও বিজ্ঞান-

ঐশী ধর্মের মূল উৎস এবং মূল বক্তব্য এক ও অভিন্ন। মহান আল্লাহতায়ালা প্রথম মানব এবং নবী হযরত আদম (আঃ) থেকে শুরু করে সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) পর্যন্ত অসংখ্য নবী ও রসূল প্রেরণ করেছেন। তাঁদের মাধ্যমে আল্লাহপাক তাঁর আদেশ নির্দেশ সম্বলিত ঐশীবাণী নির্দিষ্ট সময় অন্তর প্রতিটি মানব জাতির কাছে পৌছে দিয়েছেন। কালের প্রবাহে পারিপার্শ্বিক পরিবেশ ও পরিস্থিতির পরিবর্তন যেমন ঘটেছে তেমনি মানবিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষতা সাধনও ঘটেছে। এরই সাথে সামঞ্জস্য রেখে “একই ধর্ম ইসলামের” বিধানের মূল-বক্তব্যকে অপরিবর্তীত রেখে মহান স্রষ্টা সময়ের চাহিদা অনুসারে নব নব তথ্য ও তত্ত্বের অবতারনার মাধ্যমে পরিবর্ধিত আকারে বার বার মানুষের সামনে পেশ করেছেন, যেন এর মাধ্যমে তাঁরই প্রিয়তম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি সত্য ও সুন্দরের পথ চিনে নিয়ে সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারে। কিন্তু সর্বকালেই একরোখা মনোভাবাপন্ন একদল অহংকারী ও স্বেচ্ছাচারী ঐশীবাণীগুলোকে অহংকার বশতঃ সরাসরি অস্বীকার করেই ক্ষান্ত হয়নি; বরং বিকৃত করার অপপ্রয়াস চালিয়ে আসছে। অপরদিকে তেমনি কিছু সংখ্যক সুযোগসন্ধানী মানুষ কতিপয় গাঁজাখুরী গল্পের আড়ালে কুসংস্কারে আচ্ছন্ন করে ধর্মের প্রকৃত সৌন্দর্য ও আদর্শ কালিমালিপ্ত করেছে এবং কৌশলে ধর্মকে তাদের স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার বনিয়ে নিয়েছে। কিন্তু তাই বলে তো বিবেকবান জ্ঞানিগণ মানব জাতির কল্যাণ সাধনে খাঁটি ধর্মের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করতে পারে না। বর্তমানে বিশ্বের সর্বত্র সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও গভীরভাবে চিন্তা করলে খুব সহজেই অনুধাবন করা যায় যে, এ ধরণীতে বৈচিত্রময় চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অসংখ্য মানব গোষ্ঠীকে শান্তি ও শৃঙ্খলা দানের জন্য কুসংস্কার-মুক্ত জ্ঞান ও ঐশী অনুশাসনের অবশ্যই প্রয়োজন রয়েছে।

বিশ্ব-স্রষ্টার একত্বে বিশ্বাসী প্রকৃত মুনি, ঋষি, পীর ও আওলিয়াগণের সবাই ছিলেন মহান ব্যক্তিত্বের অধিকারী সত্য-সাধক। মানবীয় গুণাবলী বিকাশের লক্ষ্যে তাঁদের অবদান সত্যিই অনস্বীকার্য। কিন্তু কতিপয় ছদ্মবেশী ও শিষ্য নামধারী ভন্ডের দল তাঁদের অবর্তমানে তাঁদের পবিত্র কর্মস্থলকে ঘিরে তিলকে তাল বানিয়ে আজগুবি কেচ্ছা-কাহিনী ও ধর্মহীন কার্যকলাপের মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ সরল মানুষদেরকে ধোঁকা দিয়ে ফায়দা লুটছে। এসব গুজব ও ধর্মহীন কর্মকান্ড সত্যিকার অর্থে ধর্ম যেমন সমর্থন করে না, তেমনি বিজ্ঞানের দিক থেকেও সেগুলো মোটেও সমর্থনযোগ্য নয়। তথাপি কতিপয় স্বার্থান্বেষী জ্ঞানপাপী ধর্মকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এসব অতিরঞ্জিত বিষয়গুলোকে পুঁজি বানিয়ে ধর্মের নামে চালিয়ে দিয়ে সেগুলোকে আবার বিজ্ঞানের দোহাই দিয়ে মিথ্যা প্রমাণ করতে ব্যস্ত থাকে। গ্রামে-গঞ্জে কিছু সুযোগ সন্ধানী ছদ্মবেশী লোক জ্বীন-পরী ইত্যাদি বিষয়গুলোকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে গাঁজাখুড়ি গল্প বানিয়ে মানুষকে ধোঁকা দিয়ে ফায়দা লুটছে। এসব বানানো গল্পের প্রায় পুরোটাই ভিত্তিহীন ও ছলনাপূর্ণ। আল-কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন-

আল-কোরআন (Al-Quran)-
সূরা হিজর-আয়াত নং- ২৬ ও ২৭
(১৫ : ২৬) অর্থ- আমি তো ছাঁচে-ঢালা শুষ্ক ঠন্‌ঠনে মৃত্তিকা হতে মানুষ সৃষ্টি করেছি,
(১৫ : ২৭) অর্থ- এবং এর পূর্বে অত্যুষ্ণ বায়ুর উত্তাপ হতে জ্বীন সৃষ্টি করেছি।
সূরা রাহমান-আয়াত নং-১৫
(৫৫ : ১৫) অর্থ- এবং জ্বীনকে তিনি সৃষ্টি করেছেন নির্ধূম অগ্নিশিখা হতে।
সূরা যারিয়াহ -আয়াত নং- ৫৬
(৫১ : ৫৬) অর্থ- আমার দাসত্বের জন্যই আমি মানুষ ও জ্বীনকে সৃষ্টি করেছি।
সূরা সাফ্‌ফাত-আয়াত নং (১৫৮ - ১৬৩)
(৩৭ : ১৫৮) অর্থ- ওরা আল্লাহ্‌ ও জ্বীন জাতির মধ্যে জৈবিক সম্পর্ক সৃষ্টি করেছে, অথচ জ্বীনেরা জানে তাদেরকেও শাস্তির জন্য উপস্থিত করা হবে।
(৩৭ : ১৫৯) অর্থ- ওরা যা বলে তা হতে আল্লাহ্‌ পবিত্র, মহান।
(৩৭ : ১৬০) অর্থ- তবে, যারা আল্লাহতায়ালার নিষ্ঠাবান বান্দা তারা আলাদা,
(৩৭ : ১৬১) অর্থ- তোমরা ও তোমরা যাদের উপাসনা কর তারা -
(৩৭ : ১৬২) অর্থ- (সবাই মিলে আল্লাহ্‌ সম্পর্কে ) তাদের (নিষ্ঠাবান বান্দাদেরকে) বিভ্রান্ত করতে পারবে না।
(৩৭ : ১৬৩) অর্থ- কেবল তাদেরকে বিভ্রান্ত করতে পারবে যারা জাহান্নামী।
সূরা জ্বীন-আয়াত নং (৭ - ১৫)
(৭২ : ০৭) অর্থ- তারা (জ্বীনেরা) মনে করতো- যেমনি মনে করতে তোমরা (মানুষেরা)- যে, মৃত্যুর পর আল্লাহ্‌ কাকেও পুনরুত্থিত করবেন না।’
(৭২ : ০৮) অর্থ- এবং ওরা পরস্পর বলাবলি করছিল যে, আমরা চেয়েছিলাম আকাশের তথ্য সংগ্রহ করতে কিন্তু আমরা দেখতে পেলাম কঠোর প্রহরী ও উল্কাপিন্ড দ্বারা আকাশ পরিপূর্ণ।
(৭২ : ০৯) অর্থ- পূর্বে আমরা আকাশের বিভিন্ন ঘাঁটিতে সংবাদ শোনার জন্য বসে থাকতাম কিন্থু এখন কেউ সংবাদ শুনতে চাইলে সে তার ওপর নিক্ষেপের জন্য প্রস্তুত জ্বলন্ত উল্কাপিন্ডের সম্মুখীন হয়।
(৭২ : ১০) অর্থ- জগতের প্রতিপালক জগদ্বাসীর অমঙ্গল চান, নাকি তাদের সঠিক পথ দেখাতে চান -  - সে বিষয়ে আমরা কোন জ্ঞান রাখি না।
(৭২ : ১১) অর্থ- এবং আমাদের কতক সৎকর্মপরায়ণ এবং কতক এর বিপরীত, আমরা ছিলাম বিভিন্ন পথের অনুসারী;
(৭২ : ১২) অর্থ- এখন আমরা বুঝেছি যে, আমরা আল্লাহ্‌-কে পরাভূত করতে পারব না এবং পৃথিবী থেকে পলায়ন করে তাঁর ক্ষমতাকে ব্যর্থও করতে পারব না।
(৭২ : ১৩) অর্থ- আমরা যখন হেদায়েতের বাণী (কোরআন) শুনলাম, তাতে বিশ্বাস স্থাপন করলাম। যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে তার নিজের পাওনা কম পাওয়ার আশংকা থাকে না, (পরকালেও) তাকে লাঞ্ছনা পেতে হবে না।
(৭২ : ১৪) অর্থ- আমাদের কিছু আত্মসমর্পণকারী এবং কিছু সীমালংঘনকারী; যারা আত্মসমর্পণ করে তারা সুচিন্তিতভাবে সত্যপথ বেছে নেয়।
(৭২ : ১৫) অর্থ- কিন্তু যারা সত্যবিমুখ তারা অবশ্য জাহান্নামেরই ইন্ধন।

সুতরাং পবিত্র কোরআনের এই বানীগুলো থেকে আমরা বুঝে নিতে পারি যে, আল্লাহতায়ালা মানুষ সৃষ্টির পূর্বে জ্বীন-জাতিকে অত্যুষ্ণ বায়ুর উত্তাপ তথা নির্ধূম অগ্নিশিখা হতে সৃষ্টি করেছেন। যদিও এ ধরণের কোন সৃষ্টিকে অবলোকন করার মতো কোন যন্ত্র বিজ্ঞান এখনও আবিষ্কার করতে পারেনি। কিন্তু তাই বলে তা সরাসরি অস্বীকারও করেনি। কারণ এ মহাবিশ্বে এমন অনেক সৃষ্টি রয়েছে যা এখনও পর্যন্ত বিজ্ঞানের ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছে। গতিবিধি অনুমান করা গেলেও এদের সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। যেমন কয়েক যুগ পূর্বেও মানুষ রোগ-জীবাণু যেমন-ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ইত্যাদির অস্তিত্ব ও মানবদেহে এদের প্রভাব বিস্তার সম্পর্কে সন্দিহান ছিল। কিন্তু বর্তমানে বিজ্ঞানের অবদান অণুবিক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কারের ফলে এদের অস্তিত্ব ও কর্মকান্ড সম্পর্কে আমরা আজ সন্দেহ-মুক্ত। তবে আল্লাহতায়ালা সৃষ্টিগতভাবে জ্বীনদেরকে এমন কিছু বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী করেছেন যে তারা এর সহায়তায় প্রথম আসমানের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে গিয়ে তথ্য ও সংবাদ সংগ্রহের চেষ্টা চালানোর যোগ্যতা রাখে। আর এ কারণেই হয়ত মানুষদের মধ্যে কেউ কেউ তাদের উপাসনা করে। কিন্তু প্রকৃত অর্থে এইসব উদ্ধত জ্বীন ও বিভ্রান্ত মানুষেরা বিপথগামী ও জাহান্নামী। কারণ তারা বিভ্রান্তকর সংবাদ শুনিয়ে অন্যকে ধোঁকা দিতে চায়।

আমরা ‘হিপনোটিস্‌ম’-এর কথা সবাই কম-বেশী জানি। যা বড় বড় যাদুকররা প্রয়োগ করে থাকে এবং কিছু সময়ের জন্য হলেও মানুষকে বিমোহিত করে ভেলকিবাজির খেলা দেখিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে সম্ভবত সাধনার দ্বারা এমন কোন মাধ্যম বা শক্তিকে আয়ত্বে আনা হয়, যার সহায়তায় সাধারন মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের উপর কিছু সময়ের জন্য হলেও প্রভাব বিস্তার করা সম্ভব হয়। ইদানিং চিকিৎসাক্ষেত্রেও এটি প্রয়োগের চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে বেদনা নাশক হিসেবে এবং যন্ত্রনাদায়ক রোগের প্রকোপ দমনে এর সফল প্রয়োগ হতে দেখা গেছে এবং এ নিয়ে যথেষ্ট গবেষণা চলছে। তবে ঠিক কি উপায়ে এবং কোন ধরণের শক্তিকে এতে কাজে লাগানো হচ্ছে তার সঠিক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা এখনও পাওয়া যায়নি। তেমনি মানুষ সাধনার মাধ্যমে অথবা জন্মগতভাবে এমন কোন শক্তির অধিকারী হতে পারে, যার সহায়তায় সেই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ব্যক্তিটি অতীতের তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে হয়তবা ভবিষ্যতের কিছু কিছু কথা বলে দিতে পারে। তবে এক্ষেত্রে অধিকাংশই ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে। তাই ধর্মীয়ভাবে এসব ভবিষ্যৎ বাণীতে বিশ্বাস স্থাপন করা নিষেধ এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোন থেকেও যুক্তিসঙ্গত নয়। কারণ এসব ক্ষেত্রে সাধারনত প্রতারণার উদ্দেশ্যই প্রবল থাকে। আল-কোরআনে আল্লাহতায়ালা যাদুবিদ্যা শিক্ষাকরা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন এবং যাদুর অনিষ্ট ও দুষ্ট-জ্বিনের প্রভাব থেকে বেঁচে থাকবার জন্য সবসময় স্রষ্টা মহান আল্লাহকে স্মরণ করতে ও তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করতে বলেছেন। সূরা বাকারা:-এর ১০২ নং আয়াত ও সূরা আল ফালাক্ক ও সূরা আন্‌ নাস থেকে আমরা তা সহজেই বুঝে নিতে পারি।

আল-কোরআন (Al-Quran)-
সূরা বাকারা-আয়াত নং-১০২
(০২ : ১০২) অর্থ- ( আল্লাহতায়ালার প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করেই এরা ক্ষান্ত হয়নি ) এমন কিছু জিনিসও (যাদুমন্ত্র) এরা অনুসরণ করতে শুরু করলো, যা শয়তান কর্তৃক সোলায়মান (নবী)- এর রাজত্বের সময় (সমাজে) চালু করা হয়েছিল, (সত্যি কথা হচ্ছে) সোলায়মান কখনো (আল্লাহবিরোধী কাজে যাদুকে ব্যবহার কোরে) আল্লাহকে অস্বীকার করেনি, আল্লাহকে তো অস্বীকার করেছে সে সব অভিসপ্ত শয়তান, যারা মানুষকে যাদুমন্ত্র শিক্ষা দিয়েছে; (যাদুপাগল কিছু মানুষকে পরীক্ষার উদ্দেশে) আল্লাহতায়ালা হারূত ও মারূত (নামে) ফেরেশতাদ্বয়কে ব্যাবিলনে পাঠিয়েছিলেন, সেই দুজন ফেরেশতা যখনই (কাউকে) এ বিষয়ে (যাদু) শিক্ষা দিতো, (প্রথমেই) তারা এ কথাটা তাদের জানিয়ে দিতো, “আমরা তো হচ্ছি (আল্লাহর) পরীক্ষামাত্র”, সুতরাং (এ বিদ্যার কারণে কোন অবস্থাতেই) তুমি আল্লাহতায়ালাকে অস্বীকার করো না, (তা সত্ত্বেও) তারা তাদের কাছ থেকে এমন কিছু বিদ্যা শিখে নিয়েছিলো, যা দিয়ে তারা স্বামী- স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করতো, (যদিও) আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কোনো দিনই কেউ কারো সামান্যতম ক্ষতিও সাধন করতে পারবে না; (মূলত) যা এরা শিখে তাতে তাদের ক্ষতিই হয় এবং (বাস্তবে) তা কোনো উপকারে আসে না; তারা যদি জানতো (যে, (শ্রম ও অর্থ দিয়ে) যা তারা কিনে নিয়েছে পরকালে তার কোনো মূল্য নেই; তারা নিজেদের জীবনের বিনিময়ে যা ক্রয় করেছে তা সত্যিই নিকৃষ্ট; (কতো ভালো হতো) যদি তারা কথাটা জানতো!

সূরা আল ফালাক-আয়াত নং-(১ - ৫)
০১. বল, আমি আশ্রয় চাই ঊষার স্রষ্টার কাছে, ০২. সৃষ্ট (জগতের) বস্তুনিচয়ের সকল প্রকার অনিষ্ট থেকে ০৩. এবং রাতের অনিষ্ট হতে - যখন তা গভীর অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়, ০৪. এবং গ্রন্থিতে ফুঁক দিয়ে যারা (যে সকল যাদুটোনাকারিণী) যাদু করে তাদের অনিষ্ট থেকে, ০৫. এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে, যখন সে হিংসা করে।

সূরা আন্‌ নাস্-আয়াত নং-(১ - ৬)
০১. বল, আমি আশ্রয় চাই মানুষের স্রষ্টার কাছে, ০২. মানুষের (প্রকৃত) বাদশার কাছে, ০৩. মানুষের একমাত্র উপাস্যের কাছে, ০৪. কুমন্ত্রণাকারীর অনিষ্ট হতে, যে সুযোগ মত কুমন্ত্রণা দিয়ে সরে পড়ে, ০৫. যে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়, ০৬. জ্বিনদের মধ্য হতে এবং মানুষদের মধ্য হতে।

সব সময় একথা স্মরণ রাখা দরকার যে, সসীম কখনও অসীমকে ছুঁতে বা চর্মচক্ষুতে দেখতেও পারে না। মানুষ যত শক্তিই অর্জন করুক না কেন তা আল্লাহর অসীম শক্তির মোকাবেলায় অতি নগণ্য। কারণ সমস্ত শক্তির আধার ও উৎস একমাত্র ‘আল্লাহ্‌’। তাঁরই প্রদত্ত এ শক্তির ব্যবহার কেউ সুপথে করে (যেমন- নবী-রাসূল, পীর, আওলীয়া, দরবেশ ইত্যাদি আল্লাহর প্রিয় বান্দাগণ) আবার কেউ করে বিপথে (যেমন শয়তানের পূজারী, যাদুকর, জিনের অনুসারী ইত্যাদি বিপথগামী মানুষ)। সবই আল্লাহর পরীক্ষা মাত্র। তাই প্রতিটি ক্ষেত্রে ধর্মহীন অবাঞ্চিত কুসংস্কার ও মনগড়া মিথ্যে মতবাদগুলো চিহ্নিত করে খাঁটি ধর্মের প্রচার, প্রসার ও পালনের জন্য স্বচেষ্ট হতে হবে। ইসলামের শাশ্বত বিধিবিধান সম্পর্কে সর্ব সাধারনের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে না পারলে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মতভেদ, দলাদলি, খুন, সন্ত্রাস, জুলুম, পাপাচার, ধর্মান্ধতা, সামপ্রদায়িকতা সর্বপরি সকল প্রকার অশান্তি ও অন্ধকারের হাত থেকে মুক্তি পাবার আর কোন বিকল্প নেই। ধর্মের নামে লোকদেখানো অন্তঃসারশুন্য ভন্ডামী পরিত্যাগ করে ধর্মীয় রীতিনীতি ও আদর্শের যথাযথ প্রতিফলন ঘটাতে হবে। ফতোয়ার পবিত্রতা রক্ষার্থে মিথ্যাচার, অহেতুক বারাবারি ও স্বার্থবাদী মনোভাব ত্যাগ করে সময়োচিত সুচিন্তিত বক্তব্য পেশ করতে হবে। নামাজ, রোজা, হজ, যাকাত ইত্যাদি অবশ্য পালনিয় ইবাদতের পাশাপাশি জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষ তথা গোটা সৃষ্টিকুলের কল্যাণে এগিয়ে আসতে হবে। আর তাহলেই এই সুন্দর পৃথিবীতে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শান্তিময় বাসযোগ্য পরিবেশ রচিত হতে পারে।  


মানুষ কি আদৌ চাঁদে গেছে ? নাকি পুরোটাই সাজানো ঘটনা ?? আসুন সত্যটা জানার চেষ্টা করি…

1969 সাল 16 July নীল আ. আর্মস্ট্রং, বাজ অলড্রিন এবং মাইক কলিন্স চাঁদের উদ্দেশ্যে রওনা করেন । Apollo 11 ছিল তাদের বাহন । যাই হোক নাটক শেষে তারা কিছু পাথর নিয়ে হাজির হয় । ইত্যাদি... ইত্যাদি.........

আজ আপনাদের সামনে কিছু সত্য তুলে ধরতে চাই । আমাদেরকে ভুল বুঝিয়ে আর কতদিন রাখা হবে ।

বলা হয় 1969 সালে মানুষ চাঁদে পদার্পণ করে । কিন্তু আমার এটা কোনমতেই বিশ্বাস হয় না ।

এখন হয়ত আপনারা বলবেন, কেন ভাই ? আপনার এই মহাসত্য বিশ্বাস হল না কেন ??

অবশ্যই আমি আমার কথার জবাব্দিহিতা করতে বাধ্য ।

সবার আগে এই ভিডিও দেখুন ।

এই ছবিটি দেখুন...


আপনি কি আকাশে তারা দেখতে পাচ্ছেন ?? আমি তো পাচ্ছি না !!! তারা দেখা যাওয়ার কথা ছিল না ??
চাঁদে তো বাতাস নেই । তো পতাকা উড়ছে কিভাবে ?? [ ভূত নেই তো !!  ]
মডিউলটি যেখানে অবতরণ করে, সেখানে কি গর্ত সৃষ্টি হওয়ার কথা ছিল না ! গর্ত তো দেখি না !!!
মডিউলের পায়ে ধূলা জমার কথা ছিল, কিন্তু ভিডিও-তে তা দেখা যায় না ।
OK, আপনি এবার আর্মস্ট্রং ভাইয়ের হেলমেটের গ্লাসের দিকে তাকান । কি, কিছু বুঝলেন ??
একেক বস্তুর ছায়া কেন একেক রকম, আলোর উৎস তো কেবল সূর্য ( নাকি অন্য কিছুও আছে ! )
অভিযানের টেলিমেট্রি ডাটা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না ( অবশ্য নাসা বলে এটা নাকি হারানো গিয়াছে )...... এত গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হারায়ে গেল !!
লক্ষ করে দেখবেন, সব ছবিরই Background এক  ( কারন, পুরা মুভি একই শুটিং স্পটে করা   )
আমার মতে চাঁদের পাথর, পৃথিবীর পাথরের মত হওয়ার কথা না । কিন্তু তাদের আনা পাথরকে দেখলে বলবেন, এই পাথর দিয়ে আপনে ছোটবেলায় খেলেছেন
ভিডিও-তে দেখতে পাওয়া যায়, দুটি বস্তু পরস্পর ছেদ করে, কিন্তু আলোর তত্ত্ব অনুযায়ী কি এটা সমান্তরাল হওয়ার কথা না ?
উনারা ভ্যান হেল বেল্ট এর মারাত্মক রশ্নি থেকে বেঁচে গেলেন, তাদের তো ওখানেই ইন্তেকাল করার কথা !
আমার আরও কিছু যুক্তি আছে, যা সাধারণ চোখে ধরা পড়বে না । যেমনঃ

এখন তো প্রযুক্তি অনেক এগিয়েছে, তো আর চাঁদে যাওয়া হচ্ছে না কেন ??
চাঁদে গেল ভাল কথা, তারা ফিরে এল কিভাবে ??
চাঁদে Apollo গেল যে শক্তি বলে, সেই বল তো ফিরার সময়ও থাকা উচিত ! তাহলে এটা কি অসম্ভব না ?
1974 সালে বিল কেসিং নামের একজন আমেরিকান তার " We Never Went to the Moon" বইয়ে এসব যুক্তি উপস্থাপন করেন ।

আমি আপনাদের এবার ছবি দিয়ে বোঝাব । প্রতিটা ছবি খুব সূক্ষ্মভাবে দেখবেন...

ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বাজ অলড্রিন আর নীল আর্মস্ট্রংকে । আর্মস্ট্রং পতাকা গাঁথছেন আর অলড্রিন দাঁড়িয়ে আছেন।

A লক্ষ করুন,

সূর্যই যদি একমাত্র আলোর উৎস হয়, তবে আর্মস্ট্রং-এর থেকে অলড্রিন-এর ছায়া কি বড় হওয়া সম্ভব??

এবার এই ছবি দেখেন।

B-তে Aldrin এর SpaceSuit-এ একটা ছায়া দেখা যাচ্ছে । সূর্য একমাত্র উৎস হলে তো ছায়া আরও Dark হত, তাইনা??

C-তে দেখুন যত দূরত্ব বাড়ছে, মাটি তত Fade হয়ে যাচ্ছে । যেখানে বায়ু নাই, সেখানে এটা অসম্ভব ।

D-তে দেখেন, হেলমেটের মধ্যে লাল চিহ্নিত গোল --ওটা কি ??? নাসাও বলতে পারেনি, এড়িয়ে গেছে ।

পরের ছবিতে আসা যাক ।

E-তে কোন ছায়া দেখছেন ??

নাসা বলেছে, Spaceship ফ্লাই করার সময় ওটা Shadow . কিন্তু পৃথিবীতে বিমান বা অন্য কিছু ওড়ার সময়ও এত Dark ছায়া পড়ে না।

এখন এই ছবি দেখুন...

K-টা পুরাই অন্ধকার, কিন্তু আমেরিকার পতাকা দেখা যাচ্ছে Lolzzz...

আর J-তে তো তারা দেখি না !!!

ক্যামেরা যদি বুকেই বাধা থাকে, তবে

L-কখনই ছবিতে আসবে না, ভেবে দেখুন ...

M-এর ছায়া আসমান্তরাল, একটু আগেই বলেছিলাম । কিন্তু এটা হতে পারে না ।

N-এ খেয়াল করুন, আমি যদি বলি আলোটা Spacesuit থেকেই আসছে !

দেখুন, Q-চিহ্নিত স্থান আর গোল দাগ করা স্থানের মাটির কত পার্থক্য !!

R -এ একটা C অক্ষর দেখা যায় । এটা ওদের শুটিং-এর সুবিধার্থে করা ।

S-দেখুন, যেখানে পানি নাই, সেখানে এত সুন্দর করে সিনেমা সাজিয়েছে; বোঝায় যায় এটা পানির মিশ্রণ ছাড়া অসম্ভব ।

তাহলে ঐ চিহ্ন আসল কোত্থেকে ?????

এবার এই সিনেমার Behind The Scene টা আমরা একনজর দেখে নিই । ক্লিক করেন ।

কি এসব বিশ্বাস হয় না ? তাইলে এটা দেখেন তো !

আপনাদের কারও যদি যুক্তি থাকে, যে মানুষ চাঁদে গেছে... কমেন্টের মাধ্যমে জানান ।

আমরা এই বিষয় নিয়ে যুক্তি/তর্ক/আলোচনা করতে চাই ...

জিনের গপ্পো-৩ (সত্যি ঘটনা), বোতলে বন্দি জীন ১,২,৩



জিনের গপ্পো-১


অনেকদিন আগে বেশ অসুস্থ বোধ করায় আমি গেলাম এক কার্ডিওলজিস্ট এর কাছে। তিনি আমাকে পরীক্ষা নিরিক্ষা করলেন, কয়েকটি টেস্ট করাতে বললেন। তখন তার সাথে যে সব কথাবার্তা হয়েছিল তা অনেকটা এই রকম -

ডাক্তার - আপনার তো দেখছি হাই ব্লাডপ্রেসার (হাইপারটেনশন)। তা এই বয়সে আপনার ব্লাড প্রেসার এত বেশী কেন? এই টেস্টগুলো করান, রিপোর্ট দেখে ঔষধ দিবো, আপাতত এই ঔষধ গুলো খেতে থাকুন।

আমি - আসলে আমার মনে হয় ব্যস্ততা, টেনশন, ঘুম কম এবং হজমে সমস্যার জন্য এখন ব্লাড প্রেসার বেশী হচ্ছে। এছাড়া আমার উপর জিনের আছর আছে।

শুনেতো ডাক্তার অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন - শুনেছি জ্বিনের আছরে মানুষের নানা রকম অসুখ হয়, হাই ব্লাড প্রেসার, এটাতো আগে শুনিনি। একটু বুঝিয়ে বলুনতো। আপনার মত শিক্ষিত লোক একথা বিশ্বাস করেন?

আমি - হ্যা, অবশ্যই বিশ্বাস করি।

ডাক্তার - আপনি কিভাবে নিশ্চিত হলেন যে, আপনার উপর জ্বিনের আছর আছে?

আমি - জিনের আছর মানে হচ্ছে জিনের প্রভাব আছে আমার উপর, তাইতো?

ডাক্তার - হ্যাঁ

আমি- আর জিনেটিক হ্যারিডিটি (বংশ গতির বাহক জিন) মানে তো জিনের প্রভাব তাই না?



ডাক্তার - অ্যা...

জিনের গপ্পো-২


আগ্রার দুর্গের সামনে থেকে আমি জীবনে প্রথম জিনের উপর বসে আধঘন্টা ঘুরেছিলাম। এর পর আর একবার ঘুরলাম গাজীপুর ন্যাশনাল উদ্যানে, তারপর কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। জিনের উপর বসে এদিক সেদিক ঘুরতে ভালোই লাগে, প্রথম প্রথম একটু ভয় ভয় লাগে তারপর আর লাগে না।

কবে কোথায় এই জিন ব্যবহার শুরু হয়েছিলো তা আমার জানা নেই। তবে বহুকাল পূর্ব থেকেই জিন ব্যবহার শুরু হয়েছিলো। পৃথিবীর সব রাজা বাদশাগনই যুদ্ধক্ষেত্রে জিন ব্যবহার করতেন। দ্রুততম যাতায়াতের জন্য জিন একটি অপরিহার্য উপাদান ছিলো যতদিন রেলগাড়ী বা মোটরগাড়ী আবিস্কার হয়নি। আধুনিক প্রযুক্তি মানব জাতিকে সহজলভ্য দ্রুততম বাহন উপহার দিয়ে চলেছে প্রতিনিয়ত, তা সত্যেও সমগ্র পৃথিবীতে জিন ব্যবহার বিলুপ্ত হয়ে যায়নি বরং গুরুত্বের সাথেই জিন ব্যবহার করা হচ্ছে।

পৃথিবীতে জিন ব্যবহার অব্যাহত থাকুক এই কামনাই করি।

ব্লগার বন্ধুগন, এটা কিন্তু আগুনের তৈরি জ্বিন নয় এটা হলো ঘোড়ার পিঠে বসার জন্য আরামদায়ক এক প্রকার গদি।




জিনের গপ্পো-৩

আলোচ্য জীন অত্যন্ত শক্তিশালী জীন। এর আছরে মানব জাতি অস্বাভাবিক কথাবার্তা এবং আচরন করতে শুরু করে। কবে থেকে এ জীন মানব জাতির উপর আছর করে চলেছে তা আমার জানা নেই। এ জীন সাধারনত রাজা বাদশা, উচ্চবিত্ত, উচ্চমধ্যবিত্তদের উপর বেশী আছর করে থাকে। এর আছরে মানব জাতি অনেক সময় বেহুস হয়ে পরে, বাঙ্গালিকে দেখা যায় হিন্দি, উর্দ্দু বা কখনো ইংরেজীতে প্রলাপ বকছে সাথে নানা রকম মজাদার শারিরীক অঙ্গভঙ্গি, আছর তীব্র হলে মানব জাতি বমি করতেও শুরু করে।

পৃথিবীর প্রায় সবদেশের মানুষের উপর এ জীন আছর করে থাকে। এ জীন জন্মের পর থেকে বোতলে বন্দি থাকে। বোতলের মুখ খুললে বাতাসে উড়তে শুরু করে শরীরের গন্ধ ছড়াতে ছড়াতে, তারপর মানব দেহে প্রবেশ করে রক্তের সাথ মিশে যায়, তখন দেহের সমস্ত স্নায়ু এবং মস্তিস্কে আছর করে। আর তখনই শুরু হয়ে যায় জীনের কারিশমা।

পৃথিবীতে বহুকাল পূর্ব থেকেই জীনের কারিশমা নিয়ে নানা রকম গপ্পো প্রচলিত আছে, যা লিখে শেষ করা যাবে না। একবার দুই ভাই নিতাই এবং বলাই এর উপর মাঝরাতে এ জীন আছর করলো, তখন দুই ভাই গলাগলি ধরে রাস্তা দিয়ে গান গাইতে গাইতে যাচ্ছে, একটা ছোট বাজারের মধ্যে গিয়ে বলাই ধপাস করে মুখ থুবরে পরে গেল, গেল তো গেল আর উঠে না। নিতাই ডাকে - বলাই উঠ, বাড়ী চল, সন্ধা হয়ে এলো। নিতাই কোনো সাড়া দেয় না। নিতাই আবার ডাকে, বলাই চুপ। হঠাৎ বলাই হাই তুললো, নিতাই বললো- বলাই তোর কি খিদা লাগছে? বলাই কোনো কথা বলে না, নিতাই পাশের দোকান থেকে একটা ঠান্ডা পরাটা কিনে রোল বানিয়ে বলাই এর পায়ুমুখে ধরে বলছে - নে বলাই খা, খেয়ে বাড়ী চল, সন্ধা হয়ে এলো যে। বলাই চুপ। নিতাই আবার বলছে - নে বলাই খেয়ে নে। হঠাৎ বলাই ফুস করে বায়ু নির্গত করলো, নিতাই তখন বলছে - বলাই ফুয়াইচ না, ফুয়াইচ না, পরাটা ঠান্ডা আছে

এটা এক প্রকার বদজীন। মানব জাতি এ জীনকে নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারলে বেশ উপকার পায়। এ জীনের আছরে ক্লান্তি, অবসাদ দুর হয়ে জীবনী শক্তি বৃদ্ধি পায়। বৃদ্ধি পায় যৌন আকাঙ্খা এবং ক্ষমতা (৬০, ৭০ এমনকি ৮০ বছর পর্যন্ত ধরে রাখা যায়, যেমন আমাদের প্রাক্তন প্লেবয় প্রেসিডেন্ট)। আর নিয়ন্ত্রনে না রাখতে পারলে নির্ঘাৎ সর্বনাশ।

আমি এযাবৎ কালে দুই প্রকার জীনের সাক্ষাৎ পেয়েছি - ১) ড্রাই ২) লেমন।

আরো হয়তো থাকতে পারে, জানা নেই।

এ জীনের সমগোত্রীয়রা হলো - ব্রান্ডি, হুইস্কি, ভদকা, রাম, স্যাম্পেন ইত্যাদি।

জিন সম্পর্কে আরো জানতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন।

Wednesday, November 4, 2015

কামসূত্র বইটি কোথা থেকে এল ?


ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিজাত বইয়ের দোকানে “কামসূত্র” নামক একটা মোটা বই বিক্রি করা হয়। আমরা ছেলেরা তো অনেক মজা করে এই “কামসূত্র” বইটা পড়ি কিন্তু আমরা কি জানি এই কামসূত্র বইটার প্রতি পাতায় পাতায় কত নির্যাতিতা নারীর কান্না লুকিয়ে আছে ? আপনারা কি জানেন এই কামসূত্র বইটার ইতিহাস কি ? এই কামসূত্র বইটার ইতিহাস জানতে হলে আগে আমাদের দেখতে হবে এই কামসূত্র বই টা কত আগে লেখা হয়েছে। কামসূত্র বইটা লেখা হয়েছে সংস্কৃত ভাষায়। কমপক্ষে ৩০০০ হাজার বছর পূর্বে এই “কামসূত্র” বইটা লেখা হয়। তো আজ থেকে ৩০০০ বছর পূর্বে ভারত বর্ষে পড়াশুনা লেখালেখি করত কারা ? অবশ্যই ব্রাক্ষণরা। হ্যা ক্ষত্রিয়রা পড়াশুনা জানত তবে সেটা শুধু রাজ্য চালানোর জন্য যতটুকু দরকার হয় ঠিক ততটুকুই। কিন্তু ক্ষত্রিয়রা কখনই লেখালেখির জগতে ছিল না। প্রাচীন ভারতে লেখালেখির কাজটা শুধু ব্রাক্ষণরাই করত।
ভারতবর্ষে ইসলাম আসার পূর্বে নিম্নবর্ণের হিন্দু মেয়েরা বিয়ের আগে মন্দিরে সেবাদাসী হিসাবে কাজ করতে হতো। মন্দির ধোয়া মোছা থেকে শুরু করে মন্দিরের ব্রাক্ষন পুরাহিতদের শয্যাসঙ্গী হওয়া এরকম প্রায় সব কাজই তাদের করতে হত। তো এই ব্রাক্ষণ পুরাহিতরা এই নিম্নবর্ণের হিন্দু মেয়েদের সাথে প্রতিদিন উপুর্যপুরী FREE SEX করতো। এই মেয়েরা কিন্তু ব্রাক্ষনদের কেনা দাসী ছিল না, তারা শুধু তাদের বিয়ের আগের সময়টা এই মন্দিরে কাজ করতো সেবা দাসী হয়ে। বিয়ের পর এই নিম্ন বর্ণের হিন্দু মেয়েরা আর মন্দিরে যেত না। ব্রাক্ষণ পুরোহিতরা তখন চিন্তা করে আমরা যে এত মজা করে FREE SEX করছি আমাদের উচিত এই SEX এর ক্রিয়াকৌশল গুলি ভবিষ্যত্‍ প্রজন্মকে জানানো। তখনই মন্দিরের এই ব্রাক্ষণ পুরাহিতরা কামসূত্র নামে এই বইটি লিখে। তাছাড়া কামসূত্র বইটি একদিনে লেখা হয় নি আর শুধুমাত্র মল্লনাগ বাৎস্যায়ন নামক এক ব্যক্তি এই বইটা লিখেন নি। অনেক জনের হাত দিয়ে অনেক সময় নিয়ে কামসূত্র বইটি লেখা হয়েছে তা বইটি উল্টাইলেই বুঝা যায়। আর কামসূত্র বইটির বিভিন্ন অধ্যায়কে আরও বিশদভাবে ব্যাখ্যা করে তৎকালীন ভারতীয় ব্রাক্ষন পুরাহিতরা রা বিভিন্ন গ্রন্থ রচনা করেন। যেমন ১. চারায়ণ লেখেন-সাধারণ কাম বিচার। ২. সুবর্ণাভ নামক লেখক লিখেন -যৌন কাম বিচার। ৩. ঘোটকমুখ লিখেন- যুবতী নারীর বিচার। ৪. গোমার্দীয় লিখেন-স্বামী-স্ত্রীর সম্বন্ধের বিচার। ৫. গণিকাপুত্র লিখেন-পরস্ত্রীগমন বিচার। ৬. দত্তক লিখেন-পতিতাদের কাম বিচার। ৭. কুচুমার লিখেন-দেহ সৌন্দর্য ও যৌনিক বৃদ্ধির উপায় বিচার।
আজও দক্ষিত ভারতের অনেক মন্দিরের গায়ে উলঙ্গ নারী পুরুষের এই কাম কলাগুলি প্রস্তর চিত্রের মাধ্যমে ফুটে আছে। [ তথ্যসূত্র: প্রাচীন ভারতের ইতিহাস, অতুল চন্দ্র রায়, নিঊ সেন্ট্রাল বুক এজেন্সি, ৮/১ চিন্তামণি দাস লেন, কল্কাতা-৭০০০৯]


হিন্দু ধর্ম শাস্ত্র মতে নিম্ন বর্ণের হিন্দুরা ব্রক্ষার পা থেকে জন্ম নিয়েছে। আমির খানের একটা অনুষ্ঠান নাম “সত্যমেভ” STAR PLUS CHANNEL এ ১ বছর আগে প্রতি রবিবারে হত। সেইখানে আমির খান একবার হিন্দু ধর্মের জাত প্রথা নিয়ে আলোচনা করাছিলেন। সেই “সত্যমেভ” অনুষ্ঠানে এক মন্দিরের ব্রাক্ষন পুরাহিত তার পা দেখিয়ে বলেছিল- “এই দাস রায় ভদ্র দত্ত পাল এই নিম্ন বর্ণের জাতের লোকেরা ব্রক্ষার পা থেকে জন্ম নিয়েছে। আমরা ব্রাক্ষণরা এদের কোন হিসাবেই ধরি না।” আজও দক্ষিন ভারতের প্রত্যন্ত গ্রামে এখনো সেবাদাসী প্রথা টা রয়ে গেছে। দক্ষিন ভারতে প্রত্যন্ত গ্রামে এখনো কোন নিম্ন বর্নের হিন্দু মেয়ের বিয়ে হলে বিয়ের আগে তাকে কোন উচ্চ বর্ণের ব্রাক্ষন পুরাহিতদের সাথে রাতে ঘুমাইতে হয়। ছি!
এমনকি এই সেবাদাসী প্রথা এখনো ভারতে চলছে। সম্প্রতি কর্ণাটক রাজ্যের দেবনগর জেলার উত্তরঙ্গমালা দুর্গা মন্দিরে রাতের বেলায় নারীদের দেবতার নামে ‘উৎসর্গ’ করার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে – এই মর্মে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের আবেদনের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন এক বেঞ্চ রাজ্যের মুখ্যসচিবকে ওই অনুষ্ঠান বন্ধ করার নির্দেশ দেন৷ ভারতের মন্দিরে যে এখনো সেবাদাসী প্রথা চলছে তা ভারতের মিডিয়াতেই বলা হয়েছে।   আপনারা এই লিংকে যেয়ে এই ২০১৪ সালেও যে ভারতের মন্দিরে সেবাদাসী প্রথা চলছে তা জানতে পারবেন
আপনি কি জানেন কার মাধ্যমে ব্রাক্ষণদের কাম লালসার হাত থেকে এই নিম্ন বর্ণের হিন্দু মেয়েরা মুক্তি পেয়েছিল? উমাইয়া খিলাফতের সময়ে মুহাম্মদ বিন কাসিম যখন রাজা দাহির কে পরাজিত করে পাকিস্তানের সিন্ধু জয় করেন তখন মহান মুসলিম সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিম প্রথম ভারত বর্ষে এই সেবাদাসী প্রথাটা বন্ধ করেন। নিম্ন বর্ণের হিন্দু মেয়েরা তখন কৃতজ্ঞাতায় মুহাম্মদ বিন কাসিমের মূর্তি বানিয়ে পূজা শুরু করে দিয়েছিল। পরে অবশ্য মুহাম্মদ বিন কাসিম নিজ হাতে উনার সকল মূর্তি ভেঙ্গে ফেলেন। [ তথ্যসূত্রঃ আল-বেরুনীর ভারত তত্ত্ব] এই জন্যই স্বামী বিবেকানন্দ দাস বলেছিলেন- “ ইসলাম তো ভারত বর্ষের নিপীড়িত জনগণের জন্য ঈশ্বরের আশীর্বাদ হয়ে এসেছিল। ”
চিন্তা করে দেখুন ইসলাম যদি এই ভারতবর্ষে না আসতো তাইলে কি যে হত! আমি খুব অবাক হই যখন দেখি নেট জগতে ব্রাক্ষণ ছাড়া অন্যান্য গোত্র যেমন দাস রায় ভদ্র দত্ত পাল এই বংশের হিন্দু মেয়েরা ইসলাম ধর্মকে গালিগালাজ করে। আরে ইসলামই তো এইসব নিম্ন বর্ণের হিন্দু মেয়েদের কে ব্রাক্ষণদের লালসার হাত থেকে বাচিয়েছিল। সত্যিকথা বলতে কি ইসলাম যদি ভারতবর্ষে না আসত তাইলে আমরা এখনো ব্রাক্ষণদের দাস হিসাবেই থাকতাম। আর এই কারণে ব্রাক্ষণ ছেলেদের ইসলামের উপর এত রাগ। কারন ভারত বর্ষে ইসলাম আসার কারনেই তো ব্রাক্ষণদের FREE SEX করার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। আজকে যেই সকল হিন্দু পেইজের এডমিন রা তাদের পেইজে প্রতিদিন আল্লাহ ও তাঁর রাসুল কে গালিগালাজ করে যাচ্ছে আমি তাদের কে অনুরোধ করব আপনারা আগে শ্রী বিনয় ঘোষের “ভারত বর্ষের ইতিহাস”এই বইটা পড়ে আপনাদের ধর্মের সেবাদাসী প্রথাটা আগে ভাল করে বুঝেন তারপর দ্বীন ইসলামের সমালোচনা করেন। শ্রী বিনয় ঘোষ, অতুল চন্দ্র রায় থেকে শুরু করে অনেক বড় বড় হিন্দু ঐতিহাসিক ব্রাক্ষণদের লালসার হাত থেকে নিম্ন বর্ণের হিন্দু মেয়েদের কে বাঁচানোর জন্য মুসলিম শাসকদের উচ্ছসিত প্রশংসা করেছেন। আজকে যেইসব হিন্দু পেইজে প্রতিদিন আল্লাহ ও তাঁর রাসুল কে গালিগালাজ করা হচ্ছে সেইসব পেইজের এডমিন রা প্রাচীন ভারতের ইতিহাস সম্পর্কে বিন্দুমাত্র জানে না। যেই ধর্ম তাঁর অসহায় মেয়েদের কে মন্দিরের পুরাহিতদের লালসার বস্তু বানায় আর যাই হোক সেই ধর্ম কখনো মানব জাতিকে মুক্তি দিতে পারবে না।

Tuesday, November 3, 2015

আল্লাহর রাসূলের জন্ম তারিখ নিয়ে নাস্তিকদের বিভ্রান্তিকর তথ্যের জবাবঃ-

অনলাইনে নাস্তিকরা একটি কথা বলে বেড়াচ্ছে যে রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নাকি জারজ সন্তান ছিল। নাউযুবিল্লাহ। এক্ষেত্রে তারা যেই যুক্তিটি দেখাচ্ছে তা হলো নবীজির পিতা আর নবীজির দাদা মানে আব্দুল মুত্তালেব নাকি একই দিনে বিয়ে করেছিলেন। আত তাবারী না ইবনে ইসহাকে লিখা আছে আব্দুল মুত্তালেব যখন তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ’র সাথে অয়াহাব ইবন আবদ মানাফের কন্যা আমেনার বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যান, তখন কথাবার্তার ফাঁকে উনি ওয়াহাবের ভাতিজি হালার রূপদর্শন করে মোহিত হন এবং তার পানিপ্রার্থী হন। অয়াহাব তাতে সম্মত হলে পিতা ও পুত্রের বিয়ের অনুষ্ঠানও একই দিনে একই সময়ে অনুষ্ঠিত হয়। অর্থ্যাৎ আব্দুল মুত্তালেব তার পুত্রবধূর আপন চাচাত বোনকে বিয়ে করেছিল। হামযা রাযিয়াল্লাহু আনহু যিনি আব্দুল মুত্তালেবের পুত্র ছিলেন ও রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আপন চাচা ছিলেন উনি রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সমবয়সী না বড় এটি নিয়ে ইতিহাসে বিতর্ক আছে। হামযার বয়স নিয়ে অনেক রেওয়াতে অনেক তথ্য পাওয়া যায়। নাস্তিকরা তাবারীর রেফারেন্সে বলতে চাচ্ছে হামযা নাকি রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এর চেয়ে ৪ বছরের বড় ছিল। কিন্তু বিয়ের ৬ মাসের মাথায় রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিতা আব্দুল্লাহ মারা যায় এটি নাকি অনেক সীরাত গ্রন্থেই লেখা আছে। এখন যদি আমরা হামযা কে রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেয়ে ৪ বছর বড় ধরি সেই হিসাবে নাকি রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পিতার মৃত্যুর ৪ বছর পর জন্ম নেয় নাউযুবিল্লাহ। কারন নাস্তিকরা বলতে চাচ্ছে নবীজির পিতা আব্দুল্লাহ আর নবীজির দাদা আব্দুল মুত্তালেব নাকি একই দিনে বিয়ে করেছে। এই সূত্র ধরে নাস্তিকরা রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে একজন জারজ সন্তান বলতে চাচ্ছে। এখন নবীজির পিতা আব্দুল্লাহ যদি সত্যিই বিয়ের ৬ মাসের মাথায় মারা যান তাইলে সেই হিসাবে আব্দুল্লাহ আর তার পিতা আব্দুল মুত্তালেব উভয়েই ৫৬৯ খৃষ্টাব্দেই বিয়ে করেছেন কারন নবীজির পিতা ৫৬৯ খৃষ্টাব্দেই মারা যান। আর নাস্তিকরা বলছে আব্দুল্লাহ আর আব্দুল মুত্তালেব একই দিনে বিয়ে করেছে। Prophet Muhammad (S) and His Family: A Sociological Perspective
By Aleem (pg 2-4) নাস্তিকদের দেয়া বইতে বলা আছে আব্দুল মুত্তালেবের বিয়ে হয়েছে ৫৬৯ খৃষ্টাব্দে আর মুহাম্মদের জন্ম হয়েছে ৫৭০ খৃষ্টাব্দে। তাইলে হামযা কিভাবে মুহাম্মদ থেকে ৪ বছর বড় হয় ? যদি হামযা নবীজি থেকে ৪ বছরের বড় হয় তাইলে আব্দুল মুত্তালেবের বিয়ে হয়েছে ৫৬৬ সালে। এখন আল্লাহর রাসূল যদি ৫৭০ খৃষ্টাব্দে জন্ম গ্রহণ করে থাকেন আর হামযা যদি উনার থেকে ৪ বছর বড় হয় তাইলে তো আব্দুল্লাহ আর আব্দুল মুত্তালেব কখনোই এক দিনে বিয়ে করতে পারেন না। কারন আমরা যদি ধরে নেই রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ৫৭০ খৃষ্টাব্দে জন্ম গ্রহণ করেছেন আর হামযা উনার থেকে ৪ বছর বড় হয় তাইলে অবশ্যই আব্দুল মুত্তালেবের বিয়ে হয়েছে ৫৬৬ সালে। কারন কমপক্ষে ৫৬৬ খৃস্টাব্দে আব্দুল মুত্তালেবের বিয়ে হলেই হামযা নবীজির থেকে ৪ বছর হয়। তাইলে নাস্তিকদের রেফারেন্স মতেই আমরা দেখছি যদি আব্দুল মুত্তালেব আর আব্দুল্লাহর বিয়ে একই দিনে হয় আর আল্লাহর রাসূল ৫৭০ খৃষ্টাব্দে জন্ম নিয়ে থাকেন তাইলে কখনোই হামযা নবীজি থেকে ৪ বছর বড় হতে পারেন না। হামযা যদি নবীজি থেকে ৪ বছর হয় তাইলে অবশ্যই অবশ্যই হামযাকে ৫৬৬ খৃস্টাব্দে জন্ম হতে হবে অর্থ্যাৎ আব্দুল মুত্তালেবের বিয়ে হতে হবে ৫৬৬ খৃস্টাব্দে। এছাড়া আর কোনভাবেই হামযা রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে ৪ বছর বড় হতে পারে না। নাস্তিকরাই বলছে আবদুল মুত্তালেব ৫৬৯ খৃষ্টাব্দে হামযার মা কে বিয়ে করছে আর নবীজির জন্ম হয়েছে ৫৭০ খৃষ্টাব্দে। তাইলে তাদের রেফারেন্স মতেই তো আমরা দেখতে পাই হামযা আর নবীজি একই বয়সী। আর হামযা যদি নবীজি থেকে ৪ বছর হয় তাইলে অবশ্যই হামযাকে ৫৬৬ খৃস্টাব্দে জন্ম হতে হবে অর্থ্যাৎ আব্দুল মুত্তালেবের বিয়ে হতে হবে ৫৬৬ খৃস্টাব্দে। তাই আব্দুল মুত্তালেবের বিয়ে আর হামযার বয়স নিয়ে নাস্তিকদের রেফারেন্সটা যে ভুল তা আমরা ভাল করেই বুঝতে পারছি।
আর যদি সত্যিই আব্দুল্লাহর মৃত্যুর ৪ বছর পর মুহাম্মদের জন্ম হত তাইলে তো কাফেররা তখনই নবীজিকে জারজ সন্তান বলত। কিন্তু বাস্তবে তা হয় নি। কাফেররা কখনোই মুহাম্মদকে বলে নাই তুমি তোমার পিতার মৃত্যুর ৪ বছর পর হয়েছ। তাই স্পষ্টত বুঝা যাচ্ছে ইবনে ইসহাকের এই রেফারেন্সটা ভুল। আর ইবনে ইসহাক একজন শিয়া ছিলেন। ইবনে ইসহাকের সীরাতে অনেক তথ্যই ভুল আছে। আমেনা আব্দুল্লাহর সাথে ঠিক কত বছর সংসার করেছে এর কোন বর্ননা পাওয়া যায় না। আমাদের নবীও কখনো বলে নাই উনি ঠিক কোন বছরে জন্ম নিয়েছেন। আমি আর রাহীকুল মাখতুমে পেয়েছি নবীজির জন্মের ২ মাস পর উনার পিতা আব্দুল্লাহ মারা যায়। আমাদের নবী ৫৭০ না ৫৭১ সালে জন্ম নিয়েছে এটা নিয়েই তো অনেক বিতর্ক আছে।


আমাদের নবী যেইখানে কোনদিন উনার জন্মের বছর সম্পর্কে বলে নাই তাই এইসব নিয়ে তো বিতর্ক থাকবেই। আর নবীজির জন্মের সময় কেউই জানত না উনি একজন নবী হবেন। তাই সেই সময়ের মানুষ উনার জন্ম তারিখ এগুলি লিখে রাখে নাই। আর তখন আরবে নির্দিষ্ট সন বছরের হিসাব চালু হয় নি। তাই দেখা যায় সব সাহাবীর বয়সই কয়েক বছর আগপিছু হয়। হিজরী সন তো নবীজির জন্মের পর চালু হইছে আর নবীজির জন্মের আগে আরবে খৃষ্টাব্দ সনের তেমন একটা ব্যবহার ছিল না। তাই দেখা যায় সব সাহাবীর বয়সের কিছু গরমিল আছে। আর অনেক রেওয়াতে পাওয়া যায় মুহাম্মদ ও হামযা সমবয়সী ছিল। উইকিপিডিয়াতেই বলা আছে মুহাম্মদ আর হামযা একসাথে দুগ্ধ পান করছে। মানে তারা সমবয়সী। www.en.wikipedia.org/wiki/Hamza_ibn_Abdul-Muttalib
তখন আরবে কোন দিনপঞ্জিকা ছিল না প্রচলিত কাহিনী থেকে তথ্য সুত্র নেয়া হত। তাই কে কখন বিয়ে করেছে বা কার জন্ম কত সালে হয়েছে এই জাতীয় তথ্যে ভুল থাকতেই পারে, আর এরকম কিছু হলে আরবের কাফেররাই প্রথম এই বিষয়ে প্রশ্ন তুলত। রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মের খবর শুনার সাথে সাথেই আবু লাহাব তার দাসী সুহাইবাকে মুক্ত করে দিয়েছিল যেটা বুখারী শরীফেও উল্লেখ আছে। তো এখন যদি আমিনা সত্যিই মুহাম্মদ কে আব্দুল্লাহর মৃত্যুর ৪ বছর পর জন্ম দিত তাইলে কি আবু লাহাব এত খুশী হত আর আমেনাকে তার শ্বশুর আব্দুল্লাহ এত যত্ন নিত ? আমেনা তো তার স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে থাকত। যদি সত্যিই আমেনা তার স্বামী আব্দুল্লাহর মৃত্যুর ৪ বছর পর মুহাম্মদের জন্ম দিত তাইলে তো তখই লঙ্গাকান্ড ঘটে যেত। নবীজিকে ছোট বেলা থেকেই কাফেররা জারজ সন্তান নামে অভিহিত করত নাউযুবিল্লাহ। মুহাম্মদের জন্মের সংবাদ শুনার পর উনার দাদা আব্দুল মুত্তালেব নবীজিকে কাবাঘরে নিয়ে যেয়ে আল্লাহর দরবারে দোয়া ও শোকর আদায় করেন। এই সময় আবদুল মুত্তালেব নবীজির নাম মুহাম্মদ রাখেন। তো আমেনা যদি আব্দুল্লাহর মৃত্যুর ৪ বছর পর মুহাম্মদ কে জন্ম দিত তাইলে কি রাসুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মে তে উনার দাদা আব্দুল মুত্তালেব এত খুশী হত। আর নাস্তিকদের দেয়া রেফারেন্সেই আমরা পাচ্ছি আবদুল মুত্তালেব যদি ৫৬৯ খৃষ্টাব্দে হামযার মা কে বিয়ে করে তাইলে হামযা আর নবীজি সমবয়সী হবে। তো এখন কোন নাস্তিক যদি আপনাকে নবীজির জন্ম নিয়ে কিছু বলে তাইলে আপনি তাকে জিজ্ঞাস করবেন আবদুল মুত্তালেব কত সালে বিয়ে করেছে তাইলে তার দেয়া রেফারেন্স মতেই আপনি তাকে ভুল প্রমান করতে পারবেন।