Thursday, May 12, 2016

পোল্ট্রি পালন এবং খামার ব্যবস্থাপনা (ডাঃ মোঃ আকতার ফেরদৌস রানা)

ভূমিকা
তৃতীয় বিশ্বের একটি উন্নয়নশীল দেশ বাংলাদেশ। এদেশের অর্থনীতি মূলত: কৃষির ওপর নির্ভরশীল। পোল্ট্রি শিল্প কৃষি শিল্পের একটি অপরিহার্য অঙ্গ। উৎপাদন খরচ অপেক্ষাকৃত কম, দ্রুত ডিম ও মাংস পাওয়ার নিশ্চয়তা, দ্রুততার সাথে ব্যবসায়িক সাফল্য লাভ, এদের মাংসে সীমিত চর্বির উপস্থিতি, হজমে সুবিধা, সকল ধর্মের মানুষের কাছে সমানভাবে সমাদৃত; এ সকল কারণে পোল্ট্রি পালন এবং এদের থেকে উৎপাদিত খাদ্যসামগ্রী (ডিম ও মাংস) মানুষের পুষ্টির যোগানে আদর্শ ও মানসম্পন্ন হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। দিন দিন এ শিল্পের জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। কৃষি উন্নয়ন তথা দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে
পোল্ট্রি পালন আজ একটি বিশাল শিল্পে পরিণত হয়েছে। গরিব, অল্প আয়ের লোক, বেকার শিক্ষিত যুবক ও যুব-মহিলাসহ অন্যান্য জনগোষ্ঠী এই শিল্পের সাথে নিজেদের নিয়োজিত রেখে সাফল্য লাভ করেছে। পোল্ট্রি শিল্পের গুরুত্ব বিবেচনা করে নিচে পোল্ট্রি পালন এবং খামার ব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হলোঃ
পোল্ট্রি পালনের গুরুত্ব
* এরা ডিম ও মাংসের যোগান দিয়ে থাকে। মানুষের জন্য ডিম হলো উচ্চ পুষ্টিসম্পন্ন আমিষজাতীয় খাদ্য।
* বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পোল্ট্রি পালনের মাধ্যমে শহর ও গ্রামের সাধারণ জনগণের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

* অন্যান্য শিল্পের তুলনায় পোল্ট্রি খামার স্থাপনে স্বল্প মূলধনের প্রয়োজন হয়। তেমন জমির প্রয়োজন হয় না, ইচ্ছা করলেই বসত বাড়িতে, ঘরের ছাদে, শয়ন ঘরের বারান্দায় এমনকি পুকুরে মাচা তৈরি করেও পালন করা যায়।
* স্বল্পতম সময়ে অর্থ বিনিয়োগ করে লাভবান হওয়া সম্ভব। কারণ এরা ৫-৬ মাস বয়সে ডিম পাড়া শুরু করে এবং ব্রয়লার মুরগি ৫-৭ সপ্তাহ বয়সে মাংসের জন্য বিক্রয় উপযোগী হয়।
* এদের পালক হতে নানা রকম প্রসাধনী দ্রব্য যেমন-শ্যাম্পু, সুগন্ধি তৈল এবং ঘর সাজানোর সামগ্রী তৈরি করা যায়।

* ডিমের কুসুম গরুর জাত উন্নয়নে কৃত্রিম প্রজননের জন্য ব্যবহৃত হয়।
* ডিম পরীক্ষাগারে জীবাণুর বংশ বিস্তারের জন্য ব্যবহৃত হয়।
* মুরগির ডিম ও মাংসে পুষ্টি উপাদান গরুর দুধের তুলনায় অনেক বেশি থাকে। যেমন, একটি ডিমে দুই গ্লাস দুধের সমান পুষ্টি থাকে।
 
সারণী-১ ঃ গরুর দুধ, হাঁস-মুরগির ডিম ও মাংসে ভোজ্য পুষ্টি উপাদানের পার্থক্য

* মুরগির ডিম গরুর দুধ অপেক্ষা অনেক বেশি ভিটামিনযুক্ত খাবার।
 
সারণী- ২ ঃ গরুর দুধ এবং মুরগির ডিম ও মাংসে গড় ভিটামিনের পরিমাণ নিম্নরূপ

* পোল্ট্রির বিষ্ঠা একটি উৎকৃষ্টমানের জৈব সার। গরু-মহিষের মল-মূত্র থেকে পোল্ট্রির বিষ্ঠায় বেশি পরিমাণে নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাসিয়াম থাকে যা জমির ঊর্বরতা শক্তি বৃদ্ধিসহ ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করে।
* পোল্ট্রি খামারের বিষ্ঠা দ্বারা বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট তৈরির মাধ্যমে বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানো যায়।
খামার ব্যবস্থাপনা
(ক) মুরগির বাচ্চার ব্রুডিং ব্যবস্থাপনা
ব্রুডিং (Brooding)
ব্রুডিং শব্দটি এসেছে জার্মান শব্দ ব্রুড থেকে। যার অর্থ তাপ দেওয়া। প্রকৃতপক্ষে ব্রুডিং বলতে ১ দিন বয়স থেকে ৪ সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত মুরগির বাচ্চাকে সমস্ত প্রতিকূল অবস্থা যেমন প্রতিকূল আবহাওয়া, বন্যপ্রাণী এবং অন্যান্য সমস্যা থেকে রক্ষা করাকে বোঝায়। উদাহরণস্বরূপ একদিন বয়সের মুরগীর বাচ্চার শরীরের তাপমাত্রা থাকে ১০৩ ডিগ্রী ফারেনহাইট আর বয়স্ক মুরগীর শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ১০৬ ডিগ্রী ফারেনহাইট। বাচ্চা অবস্থায় মুরগির বাচ্চা তার শরীরে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না কারণ, এই সময় তাদের শরীরে তাপ নিয়ন্ত্রণকারী অঙ্গগুলির বিকাশ ঘটে না। ফলে ঠান্ডা, বাতাস প্রবাহ, বৃষ্টি বা অতিরিক্ত গরম সহ্য করতে পারে না। যার জন্য বাচ্চাকে এমন একটি কৃত্রিম অবস্থায় রাখতে হয় যাতে মুরগির বাচ্চা আরামদায়ক ও নিরাপদ থাকে এবং তাপ নিয়ন্ত্রয়ণকারী অঙ্গগুলির বিকাশ ঘটে। চার সপ্তাহ পর মুরগির তাপ নিয়ন্ত্রয়ণকারী অঙ্গগুলি পরিপূর্ণতা লাভ করে এবং তখন থেকে মুরগি তাপ নিয়ন্ত্রণে সক্ষমতা অর্জন করে।
মুরগির বাচ্চার প্রথম খাদ্য

ডিম হতে সদ্য ফুটন্ত বাচ্চার উদর গহ্বরে কুসুমের কিছু অংশ থেকে যায় যা থেকে প্রথম ২-৩ দিন কোনো প্রকার খাদ্য বা পানি গ্রহণ ছাড়াই বাচ্চাগুলো বেঁচে থাকতে পারে। তবে বাচ্চাকে খামারে আনার পর দেরিতে খাদ্য ও পানি প্রদান করলে দৈহিক বৃদ্ধির হার কমে যায় এবং মৃত্যুর হার বেড়ে যেতে পারে, সেজন্য যত দ্রুত সম্ভব বিশুদ্ধ পানি পান করতে দিতে হবে। পানি প্রদানের কমপক্ষে ৩-৬ ঘন্টা পর বাচ্চাগুলিকে খাদ্য দিতে হবে। প্রাথামিকভাবে পানিতে গ্লুকোজ, ভিটামিন সি এবং মাল্টিভিটামিন ১ গ্রাম ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে খাওয়াতে হবে। পানি প্রদানের পূর্বে খাদ্য প্রদান করা উচিত নয়। এতে করে বাচ্চার দৈহিক বৃদ্ধি এবং খাদ্য রূপান্তর দক্ষতা কমে যায় ও মৃত্যুহার অধিক হয়। প্রথম ২-৩ দিন খাদ্যের পাশাপাশি ইলেক্ট্রলাইট মিশ্রিত পানি দেয়া উচিত যা বাচ্চাগুলিকে পানিশূন্যতা এবং সকল প্রকার ধকল থেকে রক্ষা করে।
ব্রুডিং এর প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহ
১. ব্রুডার ঘর
ব্রুডিং এর জন্য আলাদা ঘর হলে ভালো হয়। ব্রুডিং সাধারণত বড় মোরগ-মুরগীর ঘর থেকে কমপক্ষে ১০০ ফুট দূরে পৃথক স্থানে আলাদাভাবে করাই উত্তম। খেয়াল রাখতে হবে যেন বাইরের মুক্ত বাতাস ব্রুডার ঘরে ঢুকতে পারে এবং ভেতরের দূষিত বাতাস সহজে বাইরে যেতে পারে। লেয়ার বা ব্রয়লার পালনের ঘরও ব্রুডার ঘর হিসেবে ব্যবহার করা যায়। তবে সেক্ষেত্রে নিম্নের কাজগুলি প্রথমে করতে হবে।
* বাচ্চা তোলার কমপক্ষে ১ সপ্তাহ আগে ঘরের মেঝে পরিষ্কার করে জীবাণুনাশক দ্বারা ভালোভাবে ধুয়ে শুকাতে হবে।
* সম্ভব হলে সম্পূর্ণ ঘর চট বা পলিথিন দিয়ে ধুয়ে মুছে ফিউমিগেশন করতে হবে। পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট ও ফরমালিন দ্বারা ফরমালডিহাইড গ্যাস সৃষ্টির মাধ্যমে ফিউমিগেশন করা যায়। প্রতি ১০০ ঘনফুট জায়গার জন্য ১২০ মিলি. ফরমালিন এর সাথে ৬০ গ্রাম পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট ব্যবহার করা যায়।
২. হোভার
তাপ যাতে ওপরের দিকে চলে না যায় সেজন্য হোভার প্রয়োজন। হোভার টিন, কাঠ বা বাঁকা বাঁশ দ্বারা তৈরি করা যায়। হোভারকে সাধারণত ঝুলিয়ে রাখা হয়। তবে নিচে পা লাগিয়ে দাঁড় করিয়েও রাখা যায়। পাঁচ ফুট ব্যাসের হোভারের নিচে ৫০০ টি বাচ্চা রাখা যায়।
৩. ব্রুডার

মুরগির বাচ্চার ঘরে তাপের উৎসকে ব্রুডার বলে। ব্রুডার হিসেবে বৈদ্যুতিক হিটার, কেরোসিন বাতি, হ্যাজাক, ইত্যাদি ব্যবহার করে কৃত্রিম উপায়ে তাপ দেয়া যায়। সাধারণত গ্রীষ্মকালে ১০০ ওয়াটের ২টি বাল্ব এবং ৬০ ওয়াটের ১টি বাল্ব আর শীতকালে ২০০ ওয়াটের ২টি এবং ১০০ ওয়াটের ২টি বাল্ব প্রতি ৫০০ বাচ্চার জন্য ব্রুডারে ব্যবহার করা যথেষ্ট। বাচ্চা ব্রুডারে ছাড়ার ১০-১২ ঘন্টা পূর্বে ব্রুডার চালু করে প্রয়োজনীয় তাপ দিতে হবে।
৪. চিকগার্ড
ব্রুডার থেকে ১.৫-৩ ফুট দুরত্বে ১.৫ ফুট উচুঁ চাটাই বা হার্ডবোর্ডের বা তারের জালের বেষ্টনী তৈরি করা হয়। ফলে বাচ্চা ব্রুডার থেকে দূরে যেতে পারে না। প্রতি ৫০০ বাচ্চার জন্য চিকগার্ডের ব্যাস হবে ১২ ফুট (ব্যাসার্ধ ৬ ফুট। ক্ষেত্রফল = ৩.১৪ x ৩৬ = ১১৩.০৪ বর্গফুট)। প্রতিটি বাচ্চার জন্য জায়গা হবে ১১৩.০৪/৫০০ = ০.২১৮ বর্গফুট। চিকগার্ডের উচ্চতা গরমের সময় ১'-৬'' এবং শীতের সময় ২'-৬'' হবে। বাচ্চা বড় হবার সাথে সাথে চিকগার্ডের পরিধি বৃদ্ধি করতে হবে।
৫. খাবার পাত্র ও খাবার ব্যবস্থাপনা
প্রথম ১-২ দিন কাগজের ওপর এবং পরবর্তীতে ১-২ সপ্তাহ ফ্লাট ট্রে ব্যবহার করা যায়। অতঃপর ৩য় সপ্তাহ থেকে হপার বা টিউব ফিডারে খাদ্য সরবরাহ করা যায়। প্রথম দুই সপ্তাহ ২ ঘন্টা অন্তর খাদ্য সরবরাহ করা ভালো। খাবার পাত্রের দৈর্ঘ্য = ২', প্রস্থ =    ১'-৩' এবং কিনারা ১.৫'' হওয়া উচিত। প্রথম ৩ ঘন্টা ইলেক্ট্রলাইট মিশ্রিত পানি দিতে হবে। প্রথমে ভুট্টা ভাঙ্গা বা সাগুদানা খাবারের পাত্রে মিশিয়ে দিলে ভালো হয়। কারণ এগুলো সহজে হজম হয়। খাবার কখনোই ব্রুডারের নিচে ছিটানো উচিত নয় কেননা এতে বাচ্চা ছত্রাকজনিত রোগে আক্রান্ত হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। বাচ্চার ওজন এবং আকারে সমতা আনার জন্য খাবার শেষ হওয়ার আগেই খাবার দেয়া উচিত। চার সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত দৈনিক ৩-৪ গ্রাম খাদ্য দিতে হবে। এরপর দৈনিক ২-৩ বার দিলেই চলবে।
৬. পানির পাত্র ও পানি ব্যবস্থাপনা
বাচ্চার জন্য ছোট প্লাস্টিকের পানির পাত্র পাওয়া যায়। ছোট টিনের কৌটার নিচে থালা বসিয়েও পানির পাত্র বানানো যায়। পানির পাত্র ভালোভাবে পরিষ্কার করে প্রতিদিন বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে হবে। প্রথম অবস্থায় ৫০০ টি বাচ্চার জন্য ১ লিটারের ৬-৮ টি ড্রিংকার দিতে হবে। এতে করে এক সঙ্গে সকল বাচ্চা পানি পান করতে পারে। প্রতি ১০০ লিটার পানিতে ৩-৫ গ্রাম ক্লোরিন মিশানো যেতে পারে। অবশ্য টিকা বা ওষুধ পানিতে মিশিয়ে খাওয়ানোর সময় ক্লোরিন মেশানো উচিত নয়। প্রথম অবস্থায় পানি (২৫-৩০) ডিগ্রী সে. তাপমাত্রায় রাখা ভালো। চিকস ড্রিংকার ৮-১০ দিন রাখতে হবে। প্রতিটি মুরগির পানি পান করানোর জন্য ২.৫ সেমি. জায়গা করে দিতে হবে।
৭. ঘরের আলো ও আলো ব্যবস্থাপনা
বাচ্চার ঘরে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করতে হবে যাতে বাচ্চা খাদ্য ও পানির পাত্র সহজে দেখতে পারে। দিনের বেলা হলে আলাদা আলো প্রদানের প্রয়োজন নেই। তবে রাতে বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বালিয়ে কৃত্রিম আলো প্রদান করতে হবে। ব্রুডারে বাচ্চা তোলার ৩ দিন পর হতে রাতে ১-২ ঘন্টা অন্ধকার রাখতে হবে। যাতে বাচ্চাগুলি অন্ধকারের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে এবং বিদ্যুৎ না থাকলে অন্ধকারে ভয় না পায়।
৮. তাপমাত্রা ও এর ব্যবস্থাপনা
ডিম হতে বাচ্চা ফুটার পর ৪ সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত বাচ্চার দেহে তাপ নিয়ন্ত্রণকারী অঙ্গগুলির পরিপূর্ণতা লাভ করে না। তাই এই সময় বাচ্চাকে কৃত্রিম উপায়ে তাপ দিতে হয়। প্রথম সপ্তাহে সাধারণত ৯৫ক্ক ফারেনহাইট তাপ দিয়ে ব্রুডিং আরম্ভ করতে হয়। এই তাপমাত্রা পর্যায়ক্রমে কমিয়ে নিম্নলিখিত মাত্রায় আনতে হয়।

ওপরে যে তাপের তালিকা প্রদান করা হলো তা ব্রুডার ঘরের কাম্য তাপমাত্রা এবং থার্মোমিটারের সাহায্যে এই তাপমাত্রা সহজেই নিরূপন করা যায়। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে টিকা দেয়ার পর তাপমাত্রা ১০ সে. বাড়িয়ে রাখতে হবে। এতে করে বাচ্চা টিকার প্রতি ভালো সাড়া দিয়ে থাকে।
৯. স্থান সংকুলান
ব্রুডার ঘরে পর্যাপ্ত জায়গা থাকতে হবে। শীতকালে নিম্নলিখিত পরিমাপ অনুযায়ী স্থান সঙ্কুলান করতে হবে।

গ্রীষ্মকালে নিম্নলিখিত পরিমাপ অনুযায়ী স্থান সঙ্কুলান করতে হবে।

১০. আলোর ব্যবস্থাপনা
আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে বাড়ন্ত মুরগীর জন্য শুধু দিনের আলোই যথেষ্ট। নিম্নলিখিত বিষয়গুলির জন্য বাড়ন্ত এবং ডিম পাড়ার সময় আলোক দৈর্ঘ্য নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
* সঠিক বয়সে ও পূর্ণ গঠনে ডিম উৎপাদন শুরু এবং পরিপক্ক করার জন্য।
* সবচেয়ে ভালো ডিম উৎপাদনের হার অর্জনের জন্য।
* ডিমের আকার বড় হওয়ার জন্য।
* সঠিক শারীরিক ওজন অর্জনের জন্য।
(খ) বাড়ন্ত মুরগীর ব্যবস্থাপনা
মুরগীর ৬-১৮ সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত সময়কেই বাড়ন্তকাল হিসাবে বিবেচনা করা হয়। বাড়ন্তকালে মুরগীর নিম্নলিখিত তথ্যগুলি নিয়মিত সংরক্ষণ করতে হবে।
* শারীরিক ওজন
* খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ
* পানি গ্রহণের পরিমাণ
* আলোর পরিমাণ
* টিকাদান
* মৃত্যুহার
* তাপমাত্রা
* রোগের প্রাদুর্ভাব
* ঠোঁট কাটা
* খাদ্যের প্রকার (আমিষ ও শক্তির মাত্রা, ইত্যাদি)
সব সময় তথ্যগুলি বিশ্লেষণ করতে হবে এবং নির্দিষ্ট বয়সের বৈশিষ্ট্যের সাথে প্রাপ্ত তথ্যগুলি তুলনা করতে হবে। ফলাফল প্রত্যাশিত না হলে ঝাঁকের মুরগীর সঠিক দক্ষতার জন্য ব্যবস্থাপনায় অবশ্যই কোনো না কোনো পরিবর্তন আনতে হবে।
ঝাঁকের সুষম বৃদ্ধি
কাম্য উৎপাদন এবং সর্বোচ্চ মুনাফার জন্য ঝাঁকের সুষম বৃদ্ধি  গুরুত্বপূর্ণ। যদি একটি ঝাঁকে ৮০% মুরগী ঝাঁকের গড় ওজনের ১০% কম বা বেশির মধ্যে থাকে, তবে ওই ঝাঁকের সুষম বৃদ্ধি হয়েছে বলে ধরা হয়।
বাড়ন্ত মুরগী পালনে অবশ্য করণীয় কাজ
৬ থেকে ১৮ সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত মুরগীকে বাড়ন্ত মুরগী বলে। এই সময়ে এমনভাবে যত্ন নিতে হবে যেন ডিম উৎপাদনকালে ওজন (ভারী মুরগীর ক্ষেত্রে) কমপক্ষে ১.৫ কেজি হয়। বাড়ন্ত মুরগী পালনে নিম্নের বিষয়গুলি অনুসরণ করতে হবে।
* প্রথমত ঘরের পুরাতন লিটার ও আসবাবপত্রাদি বের করে ঘর সুন্দরভাবে পরিষ্কার করতে হবে।
* পানিতে জীবাণুনাশক ওষুধ মিশিয়ে ঘর ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।
* ঘরের মেঝেতে আয়তন অনুযায়ী বাড়ন্ত মুরগী রাখতে হবে।
* ঘরে কৃত্রিম আলোর প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র দিনের আলোতে পালন করতে হবে। দিনের আলো ব্যতিত রাতে ঘরে আলো জ্বেলে রাখলে শীঘ্র যৌবনপ্রাপ্ত হয় এবং ডিম পাড়া শুরু করে।
(গ) ডিমপাড়া মুরগী পালন ও তার ব্যবস্থাপনা
ডিমপাড়া মুরগী বাছাই
মুরগীসমূহ ডিমপাড়ার আগে বাছাই করা একান্ত প্রয়োজন। কারণ ডিম উৎপাদনের ওপর খামারের লাভ-ক্ষতি নির্ভর করে। তাই পুলেটসমূহকে লেয়ার ঘরে নেয়ার পূর্বে তাদের নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলি দেখে বাছাই করতে হবে।

ঘর তৈরির জন্য স্থান নির্বাচন
* উঁচু জায়গা যেখানে পানি জমে না।
* লোকালয় থেকে দূরে।
* অন্য মুরগি এবং প্রাণীর ঘর থেকে দূরে হবে।
* যাতায়াত ব্যবস্থা সুবিধাজনক হতে হবে।
* বাজারজাতকরণের সুবিধা থাকবে।
* পানি ও বিদ্যুৎ এর সুবিধা থাকবে।
মুরগি পালনের পদ্ধতি
তিন পদ্ধতিতে মুরগি পালন করা হয়। যথাক্রমে- (১) লিটার বা বিছানা পদ্ধতি (২) মাঁচা পদ্ধতি (৩) খাঁচা পদ্ধতি
আমাদের দেশে সাধারণত দোচালা ঘরে মুরগি পালন সুবিধাজনক।
১। লিটার বা বিছানা পদ্ধতি
এই পদ্ধতিতে ঘরের মেঝের ওপর বিছানা হিসেবে বিভিন্ন ধরনের দ্রব্য ব্যবহার করা হয়। যেমন-
তুঁষ, কাঠের গুঁড়া, বালি, ছাই, আখের ছোবড়া, খড়ের ছোট টুকরা, ইত্যাদি।
ভালো লিটার দ্রব্যের বৈশিষ্ট্য ও ব্যবস্থাপনা
* আরামপ্রদ
* অধিক পানি শোষণ ক্ষমতা সম্পন্ন
* অনার্দ্র ও শুষ্ক
* সহজলভ্য ও সস্তা
* ছত্রাক ও পরজীবী মুক্ত
* লিটার হিসেবে ব্যবহারের পর সার হিসেবে ব্যবহার করা যায় এমন।
মুরগি রাখার এক সপ্তাহ পূর্বে ঘরে লিটার দ্রব্য বিছাতে হবে। লিটারের পুরুত্ব কমপক্ষে ১.৫-২ ইঞ্চি হবে। লিটারের আর্দ্রতা ২০-২৫ ভাগের মধ্যে হতে হবে। লিটার মাঝে মধ্যে উল্টে পাল্টে দিতে হবে।
২. খাঁচা পদ্ধতিতে মুরগী পালন     
আধুনিক বিশ্বে বর্তমানে খাঁচা পদ্ধতিতে অধিক দক্ষভাবে ডিম পাড়া মুরগী পালন করা হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের খাঁচা বাজারে পাওয়া যায়।

খাঁচার মাপ হবে ১৮'' x ১২'' x ১৯'' (দৈর্ঘ্য x প্রস্থ x উচ্চতা )। এ ধরনের একটি খাঁচায় অনায়াসে ৩টি ডিম পাড়া মুরগী রাখা যায়।
ডিমপাড়া মুরগী পালনে করণীয় কাজ
খামার সুষ্ঠু ও সুপরিকল্পিতভাবে পরিচালনার জন্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলির প্রতি নজর দিতে হবে।
যেমন
* ডিমপাড়া মুরগীর ঘরের তাপমাত্রা (আদর্শ তাপমাত্রা ১৫-২৩ ডিগ্রী সে.)।
* খাবার পাত্রে জায়গার পরিমাণ (১৮-৭৫ সপ্তাহ বয়সে খাবার পাত্র থেকে প্রতি মুরগীর রৈখক দুরত্ব ১০ সেমি. এবং গোলাকার দুরত্ব ৪ সেমি.)
* পানির পাত্রে জায়গার পরিমাণ (বয়স ১৮-৭৫ সপ্তাহ পর্যন্ত ২.৫ সেমি./মুরগী)
* খাদ্য ও পানি প্রদান (খাদ্য = ১১৫-১২০ গ্রাম/দিন/মুরগী এবং পানি ৩০০-৫০০ মিলি/দিন/মুরগী)
* সঠিক আলোক ব্যবস্থাপনা

বাণিজ্যিক লেয়ারের আলোক কর্মসূচি

* ১০ লাক্স আলোক উজ্জ্বলতার জন্য ৭ ফুট উচ্চতায় ১টি  ৬০ ওয়াট বিশিষ্ট বাল্ব প্রতি ২৪০ বর্গফুট জায়গার জন্য যথেষ্ট।
* ১৮ সপ্তাহ শেষে কাঙ্খিত ওজন আসলেই ১৯ সপ্তাহের শুরুতে কর্মসূচী অনুযায়ী আলো বাড়াতে হবে। যদি কাঙ্খিত ফল না আসে সে ক্ষেত্রে ১০% ডিম উৎপাদন হওয়া পর্যন্ত আলোক সময়কাল বাড়ানো বন্ধ রাখতে হবে।
বাণিজ্যিক লেয়ার মুরগীর নূন্যতম টিকাদান কর্মসূচী

এছাড়াও অভিজ্ঞ প্রাণিচিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফাউল কলেরা, মাইকোপ্লাজমোসিস, কক্সিডিওসিস, ই.ডি.এস, ইনফেকশাস করাইজা, ইত্যাদি রোগের বিরুদ্ধে টিকা প্রদান করা উচিত।
মুরগির জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির পরিমাণ

যে সকল কারণে খামারের উৎপাদন ব্যহত হয়
নানাবিধ কারণে খামারের উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। যেমন-
* হঠাৎ দৈহিক তাপমাত্রা পরিবর্তন।
* খাদ্যের পরিবর্তন বিশেষ করে আমিষ, এমাইনো এসিড, (লাইসিন, মিথিওনিন) এবং লিনোলেনিক এসিড পরিবর্তনের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
* ডিমপাড়া অবস্থায় মুরগীকে টিকা দেয়া হলে কয়েক দিনের জন্য ডিম উৎপাদন কমে যেতে পারে।
* এন্টিবায়োটিক এবং সালফার ড্রাগ সেবনের কারণে ডিম উৎপাদন সাময়িক কমে যেতে পারে।
* কৃমির ওষুধ নিয়মিত ও সময়মত না খাওয়ালে।
* ফাউল কলেরা, মাইকোপ্লাজমা, সালমোনেলা, ইত্যাদি জীবাণুর উপস্থিতি থাকলে ডিম উৎপাদন কমে যায়।
* মুরগী কোনো কারণে ভয় পেলে।
* হঠাৎ ঝড় বৃষ্টির কারণে মুরগী ভিজে গেলে।
* পরিবেশের তাপমাত্রা অত্যধিক ওঠানামা করলে।
* আফলাটক্সিকোসিস বা মাইকোটক্সিকোসিস হলে।
উপসংহার
জনসংখ্যা বৃদ্ধি, আমিষের  চাহিদা পূরণ, বেকারত্ব হ্রাস, ইত্যাদি কারণে পোল্ট্রি শিল্প বর্তমানে একটি দ্রুত বিকাশমান খাত। সফলভাবে পোল্ট্রি পালন করতে হলে সুষ্ঠু পরিকল্পনা, খামার ব্যবস্থাপনার মৌলিক বিষয়গুলি সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক ধারণা লাভ এবং তার প্রয়োগ, রোগ নিয়ন্ত্রণ অথবা চিকিৎসা সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন অতীব প্রয়োজন। তবেই পোল্ট্রি পালনে আসবে সফলতা এবং ঘটবে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন।
সূত্র
১. বাণিজ্যিক পোল্ট্রি পালন ও খামার ব্যবস্থাপনা- প্রফেসর ড. মো. জালাল উদ্দিন সরদার।
২. হাঁস-মুরগির যতœ ও চিকিৎসা- এগ্রোভেট ডিভিশন, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস্ লিমিটেড।
৩. হাঁস-মুরগি পালন ও চিকিৎসা- ডাঃ এইচ.কে.নিয়োগি।
৪. নিজের অর্জিত অভিজ্ঞতা।
৫. Poultry Science & Medicine- Professor Dr. Md. Abdus Samad.
ডাঃ মোঃ আকতার ফেরদৌস রানা
ডি.ভি.এম (আর,ইউ) এম.এস ইন ফার্মাকোলজি (বি.এ.ইউ)
ফেলো, ন্যাশনাল সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি (জি.ও.বি)
ভেটেরিনারি প্রাকটিশনার
খানজাহান আলী, খুলনা।

ধান চাষে সমস্যার সমাধান দেবে অ্যাপ

রাইস ক্রপ ম্যানেজার
ধানচাষির ফলন ও আয় বাড়াতে ‘রাইস ক্রপ ম্যানেজার’ (আরসিএম) নামের একটি অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করা হয়েছে। কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা স্মার্টফোনে ইন্টারনেট-সংযোগ থাকলে অ্যাপ্লিকেশনটি (সংক্ষেপে অ্যাপ) ব্যবহার করে ধান চাষের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা পাওয়া যাবে।

এ ছাড়া ধান চাষে নানা সমস্যার সমাধান মাত্র কয়েক সেকেন্ডে পাওয়া যাবে এই অ্যাপ ব্যবহার করে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিআরআরআই) ও আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইআরআরআই) যৌথ উদ্যোগে অ্যাপটি তৈরি করেছে।

বিআরআরআইয়ের মহাপরিচালক জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস জানান, ইতিপূর্বে ইনস্টিটিউট থেকে প্রকাশিত আধুনিক ধানের চাষ বইটিতে উচ্চফলনশীল ধানের জাত পরিচিতিসহ উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতির যে বিবরণ ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তা-ই ডিজিটাল পদ্ধতিতে সারা দেশে দ্রুত কৃষক পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে আরসিএম অ্যাপ্লিকেশনটি বানানো হয়েছে। অ্যাপটি ইতিপূর্বে অবমুক্ত করা ‘নিউট্রিয়েন্ট ম্যানেজার ফর রাইস’ বা এনএম রাইসের উন্নত সংস্করণ।

বিআরআরআইয়ের বিজ্ঞানীরা জানান, আরসিএম অ্যাপ ব্যবহার করে জমির উর্বরতা শক্তির মাত্রা অনুযায়ী কখন ও কতটুকু সার দিতে হবে, প্রত্যাশিত ফলনের জন্য চারার বয়স কত হবে, বীজ বপন ও চারা রোপণের কৌশল ও পদ্ধতি কী হবে, আগাছা ও পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণের জন্য কখন কী করতে হবে-ধান চাষের এসব জরুরি পরিচর্যার বিষয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সব তথ্য ও পরামর্শ জানা যাবে।

বিজ্ঞানীরা জানান, অ্যাপটির কার্যকারিতার নানা দিক নিয়ে বিআরআরআই ও আইআরআরআই তিন বছর ধরে কাজ করছে। গ্রামীণ উন্নয়নকর্মী, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ও কৃষকেরা বিনা মূল্যে এই সেবা পাবেন। আরসিএম ব্যবহারে হেক্টরপ্রতি ৭০০ থেকে এক হাজার কেজি ধান পাওয়া যাবে বলে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে; যার আর্থিক মূল্য আট-দশ হাজার টাকা।

মহাপরিচালক জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস বলেন, আরসিএম ধানচাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদানের ক্ষেত্রে খুবই কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে সার প্রয়োগ ছাড়াও ফসল ব্যবস্থাপনার অন্যান্য নির্দেশনা তাৎক্ষণিকভাবে কৃষক পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হবে। দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এটি বেশ সহায়ক ও ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখবে।

যেভাবে সেবা পাওয়া যাবে
webapps.irri.org/bd/rcm এই ওয়েব ঠিকানায় গেলে ‘রাইচ ক্রপ ম্যানেজার বাংলাদেশ ভার্সন ১.০’ লেখা একটি পাতা আসবে। সেখানে বাংলা বা ইংরেজি, কোন ভাষায় সেবা পেতে চান লেখা আছে। যেকোনো একটিতে ক্লিক করে নিচের দিকে নেক্সট লেখা বাটনে চাপতে হবে। এরপর আসবে ‘আপনার জমিতে ধান চাষাবাদের জন্য একটি ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা গ্রহণ করুন’ লেখা। সেখানে ‘আই অ্যাগরি উইথ দ্য টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনস’ লেখায় ক্লিক করতে হবে। এরপর আসবে ‘নির্দিষ্ট মৌসুমে আপনি যে জমির জন্য ধান চাষে অনুমোদিত ব্যবস্থাপনা পেতে আগ্রহী, সেই মৌসুম ও জমি বিষয়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন।

প্রথম প্রশ্নটি আপনার প্লটের অবস্থান মানে, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামের নাম। এরপর থাকবে যে জমির জন্য এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন, সেই জমিটিকে আপনি কী নামে চেনেন। যেমন: বাইদ, নালা জমি ইত্যাদি। কোনো নাম জানা না থাকলে x বা y চিহ্ন ব্যবহার করতে পারেন। পরে জমির পরিমাণসহ ২০টি প্রশ্ন রয়েছে। এ ছাড়া কৃষক ও রাইস ক্রস ম্যানেজার চালনাকারী ব্যক্তির তথ্যাদি জানতে প্রশ্ন রয়েছে। সব পূরণ করা শেষ হলে ‘সাবমিট’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ছবিসহ সমাধান চলে আসবে। তাতে থাকবে কীভাবে জমি পরিচর্যা ও সার দিতে হবে।
লেখক: মাসুদ রানা

মুহাম্মদ কি আল্লাহর বানীর নামে, শয়তানের বানী প্রচার করেছিল ?


মুহাম্মদ শয়তানের কাছ থেকে বানী পেত। তা বলা আছে কোরানে , হাদিসে , সিরাতে। অথচ তার পূর্বেকার কোন নবী রসুল যেমন - ইব্রাহিম , ইসহাক , যাকোব , দাউদ , সলোমন , মূসা ইত্যাদিরা কখনই বলে নি যে তারা শয়তানের কাছ থেকে বানী পেত। বাইবেলের গসপেলেও দেখা যায় না যীশু শয়তানের কাছ থেকে বানী পেয়েছিল, যদিও শয়তান তাকে প্রলুব্ধ করছিল বলে দেখা যায় , কিন্তু যীশু তাতে প্রলুব্ধ হয় নি বরং অভিশাপ দিয়ে শয়তানকে তাড়িয়ে দিয়েছে।
সুরা নাজম- ৫৩: ১৯-২১: তোমরা কি ভেবে দেখেছ লাত ও ওযযা সম্পর্কে। এবং তৃতীয় আরেকটি মানাত সম্পর্কে?পুত্র-সন্তান কি তোমাদের জন্যে এবং কন্যা-সন্তান আল্লাহর জন্য?
এই বানীগুলোর প্রেক্ষাপট হলো এরকম -
========================================================
মুহাম্মদ দীর্ঘদিন ধরে মক্কায় ইসলাম প্রচার করছে কিন্তু তার গোত্রের লোকজন সেটা গ্রহন না করে বরং তাকে উন্মাদ পাগল বলে সাব্যাস্ত করছে। তখন মুহাম্মদ খুব দু:খ ভারাক্রান্ত হলে নিচের আয়াত নাজিল হয় -
সুরা নাজম- ৫৩: ১৯-২১: তোমরা কি ভেবে দেখেছ লাত ও ওযযা সম্পর্কে। এবং তৃতীয় আরেকটি মানাত সম্পর্কে? এরা উচ্চে উড়ন্ত শারশ যারা আল্লাহর সাথে মধ্যস্থতাকারী।
অর্থাৎ এমন আয়াত নাজিল হলো যাতে স্বীকার করে নেয়া হলো যে পৌত্তলিক কুরাইশদের যে তিন প্রধান দেব-দেবী লাত , উজ্জা ও মানাত , তারা মানুষের প্রার্থনাকে আল্লাহর কাছে পৌছে দেয়। এই আয়াত নাজিল হয়েছিল কাবা ঘরের মধ্যে অবস্থানকালে। এ খবর শুনে কিছু কুরাইশ কাবা ঘরে আসল। মুহাম্মদ তাদের দেব দেবীদেরকে স্বীকৃতি দিয়েছে দেখে তারা খুবই আনন্দিত হলো। তারপর মুহাম্মদ, তার সাহাবী ও কুরাইশরা সবাই কাবা ঘরে সিজদা দিল। এই খবর মদিনা ও আবিনিসিয়াতে অবস্থিত প্রবাসী মুসলমানদের নিকট পৌছে গেল, তারা শুনতে পেল কুরাইশরা ইসলাম গ্রহন করেছে , তাই তাদের অনেকেই মদিনা ও আবিনিসিয়া থেকে ফিরে আসল। তখন জিব্রাইল মুহাম্মদের কাছে এসে জিজ্ঞেস করল- হে মুহাম্মদ , এ তুমি কি করেছ? আমি তোমাকে যা বলিনি তুমি তাই বলেছ । তুমি তো শয়তানের বানী পেয়েছ। এ শুনে মুহাম্মদ খুবই দু:খিত হলো। তার এ দু:খ দেখে আল্লাহ নাজিল করল -এমতাবস্থায় এটা তো হবে খুবই অসংগত বন্টন। তখন মুহাম্মদ ২১ নং আয়াতের এরা উচ্চে উড়ন্ত শারশ যারা আল্লাহর সাথে মধ্যস্থতাকারী। এই লাইনটা বাদ দিয়ে তার স্থলে -এমতাবস্থায় এটা তো হবে খুবই অসংগত বন্টন। এই লাইনটা জুড়ে দিল। এবং একই সাথে দু:খ ভারাক্রান্ত মুহাম্মদকে শান্তনা দেয়ার জন্যে নিচের আয়াত নাজিল হলো -
সুরা হাজ্জ- ২২: ৫২: আমি আপনার পূর্বে যে সমস্ত রাসূল ও নবী প্রেরণ করেছি, তারা যখনই কিছু কল্পনা করেছে, তখনই শয়তান তাদের কল্পনায় কিছু মিশ্রণ করে দিয়েছে। অতঃপর আল্লাহ দূর করে দেন শয়তান যা মিশ্রণ করে। এরপর আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহকে সু-প্রতিষ্ঠিত করেন এবং আল্লাহ জ্ঞানময়, প্রজ্ঞাময়।
=======================================================
সূত্র : (Source: Ibn Ishaq, The Life of Muhammad: A Translation of Ishaq's Sirat Rasul Allah, Translated by A. Guillaume, Oxford University Press, Oxford, England, (Re-issued in Karachi, Pakistan, 1967, 13th impression, 1998) 1955, p. 165-166. https://archive.org/details/TheLifeOfMohammedGuillaume)
এখন অনেকেই এসে বলবে , ইবনে ইসহাকের এই বক্তব্য সহিহ ইসলাম না। কিন্তু সুরা হাজ্জেই কিন্তু স্বীকার করছে যে মুহাম্মদের কাছে শয়তানের বানী এসেছিল। এমন কি সহিহ হাদিসেও সেটা বলা হয়েছে -
সহিহ বুখারী :: খন্ড ২ :: অধ্যায় ১৯ :: হাদিস ১৭৭
মুসাদ্দার (র.)… ইব্ন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্‌ (সা) সূরা ওয়ান্-নাজ্‌ম তিলাওয়াতের পর সিজ্‌দা করেন এবং তাঁর সঙ্গে সমস্ত মুসলিম, মুশরিক, জ্বিন ও ইনসান সবাই সিজ্‌দা করেছিল।

খেয়াল করতে হবে , মুহাম্মদের সাথে মুসলমান ও মুশরিক তথা কুরাইশরা সিজদা করল। মুহাম্মদ শয়তানের আয়াত অনুযায়ী কুরাইশদের দেব দেবীদেরকে স্বীকার করে না নিলে তো কুরাইশরা মুহাম্মদ ও মুসলমানদের সাথে সিজদা করার কথা নয়।
এটা খুবই বিস্ময়কর যে যখন শয়তান জিব্রাইলের বেশে মুহাম্মদের কাছে শয়তানের বানী দিচ্ছিল , তখন আল্লাহ তা টের পেল না। এমন কি আল্লাহ শয়তানকে ঠেকাতেও পারল না। এর মধ্যে অনেক দিন পার হয়ে গেছে , এ খবর সুদুর মদিনা ও আবিনিসিয়াতে চলে গেছে , তারপরও আল্লাহ টের পেল না , টের পেল জিব্রাইল যখন মুহাম্মদ তার কাছে সুরা নাজম বলছিল।
তাহলে আমরা কিভাবে নিশ্চিত হবো যে , এই সুরা নাজম ছাড়া অন্য আরও অনেক আয়াত জিব্রাইলের বেশে শয়তান মুহাম্মদকে দিয়ে যায় নি? বরং কোরানের বিভিন্ন বানী দেখে তো মনে হয় কোরানের অধিকাংশ বানীই হলো শয়তানের , কারন দেখা যাচ্ছে কোরানের বানী মুহাম্মদকে ডাকাতি করার স্বীকৃতি দিচ্ছে ( সুরা বাকারা -২: ২১৭) , মুহাম্মদকে বন্দিনী নারী ধর্ষন ও মুতাহ বিয়ের স্বীকৃতি দিচ্ছে ( সুরা নিসা - ৪: ২৪), মুহাম্মদকে অবিশ্বাসীদেরকে নির্বিচারে হত্যা করতে বলছে ( সুরা তাওবা -৯: ৫) , মুহাম্মদকে নির্বিচারে অমুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে যেতে বলছে ( সুরা তাওবা -৯: ২৯)- এসব অনৈতিক ও হিংসাত্মক বানী তো পরম করুনাময় দয়াল সৃষ্টিকর্তার বানী হতে পারে না।
- See more at: http://istishon.com/?q=node/20821#sthash.fQ2tLjJ3.dpuf

মৌমাছি চাষের বিস্তারিত তথ্য


bee
মৌমাছি চাষ
মৌমাছিকে তাদের প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে এনে মৌচাকের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পালন করাকেই বলা হয় মৌমাচি পালন। পালনের জন্য ভারতীয় জাতের মৌমাছি সবচেয়ে উপযোগী। ছোট সেনালি বর্ণের ও সাদা ডোরাকাটা এ মৌমাছিরা গাছের গর্তে বা অন্য কো গহবরে একাধিক সমান্তরাল চাক তৈরি করে বসবাস করে। গর্তে প্রবেশ পথের সঙ্গে চাকগুলো সমান্তরালভাবে সাজানো থাকে। মৌমাছিদের এরূপ বাসস্থানের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয় কাঠের বাক্স। কাঠের মৌবাক্স মৌমাছি পালনই আধুনিক ব্যবস্থা। লোকালয় ও বিভিন্ন বনাঞ্চলের মৌচাক থেকেই তো এই মধু আর মোম সংগ্রহ করা সম্ভব । তবু কেন এই মৌমাছি পালন?

প্রয়োজনীয়তা
১. মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহের সময় সাধারণত চাকটিকে নষ্ট করে ফেলা হয়। এ কাজের সময় অনেক ক্ষেত্রে বিপুলসংখ্যক মৌমাছিও মারা পড়ে। এছাড়াও চাকে অবস্থিত ডিম ও বাচ্চা নষ্ট হয়। এর ফলে দিন দিন মৌমাছির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। ইদানিং ফসলের ক্ষেতে কীটনাশক ব্যবহারের ফলে লোকালয়ে আশঙ্কাজনকভাবে মৌমাছির সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। এতেফসলের ফলনও কমে যাচ্ছে। মৌমাছি পালনের মাধ্যমে মৌমাছির সংখ্যাকে বাড়ানো সম্ভব।

২. মৌমাছির বঞ্চিত মধু আমরা খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করে থাকি। মধুর পুষ্টিগুণ চাড়াও নানাবিধ রোঘ উপশমকারী ক্ষমতা রয়েছে। সাধারণ নিয়মে মৌচাক চেপে মধু বের করা হয়। এতে চাক থেকে মধু নিষ্কাশন যেমন সম্পূর্ণ হয় না তেমনি সেই মধুতে রয়ে যায় মোম, মৌমাছির ডিম ও বাচ্চা নিস্পোষিত রস এবং অন্যান্য আবর্জনা। পালন করা মৌমাছির চাক থেকে যান্ত্রিক উপায়ে নিষ্কাশিত মধু যেমন বিশুদ্ধ, তেমনি নিষ্কাশনও হয় পুরোপুরি।

৩. মৌচাক থেকে মোম পাওয়া যায়, কিন্তু পালন করা মৌমাচির চাক থেকে মোম সংগ্রহ করা হয় না। মোম সংগ্রহ করলে চাক ষ্ট হয়। নতুন চাক বানাতে মৌমাছির অনেক সময় লাগে। এতে মধু নিস্কাশনের পর চাক অক্ষত থাকে বলে মৌমাছিরা সাথে সাথেই আবার শুন্য কুঠুরিগুলোয় মধু মেন বিশুদ্ধ, তেমনি নিষ্কাশনও হয় পুরোপুরি।

৪. মৌচাক থেকে মোম পাওয়া যায়, কিন্তু পালন করা মৌমাছির চাক থেকে মোম সংগ্রহ করা হয় না। মোম সংগ্রহ করলে চাক নষ্ট হয়। নতুন চাক বানাতে মৌমাছির অনেক সময় লাগে। এতে মধু নিষ্কাশনের পর চাক অক্ষত থাকে বলে মৌমাছিরা সাথে সাথেই আবার শুন্য কুঠুরিগুলোরয় মধু জমাতে থাকে। এছাড়া মৌ-বাক্সে ভেতরে যে কাঠের ফ্রেম থাকে তাতে মোমের তৈরি ছাঁচ বা 'কম্ব ফাউন্ডেশন সিট' দিলে মৌমাছিরা তাড়াতাড়ি চাক তৈরি করতে পারে। এজন্য মৌমাছি পালনের মাধ্যমে অল্প সময়ে অনেক বেশী মধু পাওয়া সম্ভব।

৫. ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ানোর সময় মৌমাছিরা তাদের পা এবং বুকের লোমের ফুলের অসংখ্য পরাগরেণু বয়ে বেড়ায়। এক ফুলের পরাগরেণু অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে পড়লে পরাগায়ন ঘটে, যার ফলশ্রুতিতে উৎপন্ন হয় ফল। এভাবে মৌমাছিরা পরাগায়নের মাধ্যমে হিসাবে কাজ করে ফল ও ফসলের উৎপাদন বাড়ায়। বিশেষ মৌসুমে যখন কোনো বাগান বা ফসলের ক্ষেতে প্রচুর ফুল ফোনে তখন মৌমাছিসহ বাঙ্টিকে সেখানে স্থানান্তর করলে একদিকে প্রচুর মদু সঙ্গৃহীত হবে, অন্যদিকে ফল বা ফসলের উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে।

৬. মৌমাছি পালনকে কুটির শিল্প হিসাবে গ্রহণ করলে অনেক বেকারের কর্মসংস্থার হবে। গ্রামের স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোতে মৌমাছি পালন একটি বাড়তি আয়ের সুযোগ দেবে।

উপযুক্ত পরিবেশ : মৌ-বাক্স রাখার জন্য নির্বাচিত স্থানটি ছায়াযুক্ত, শুকনা ও আশপাশে মৌমাছির খাদ্য সরবরাহের উপযোগী গাছ-গাছড়া দ্বারা পরিবেষ্টিত হওয়া আবশ্যক। প্রয়োজনে কিছু কিছু ঋতুভিত্তিক গাছ জরুরি ভিত্তিতে লাগানো যেতে পারে। নির্বাচিত স্থানের আশপাশে যেন বিকট শব্দ সৃষ্টিকারী এবং ধোঁয়া উত্পাদনকারী কোনো কিছু না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

পালন
যে কাঠের বাক্স মৌমাছি পালন করা হয় সেটি বিভিন্ন অংশের সমন্বয়ে তৈরী। তলার কাঠ, বাচ্চাঘর, মধুঘর, ঢাকনা, ও ছাদ হচ্ছে একটি মৌবাঙ্রে বিভিন্ন অংশ। মধুঘর ও বাচ্চাঘরে সারি সারি কাঠের ফ্রেম সাজিয়ে দেয়া হয়। এ ফ্রেমেই মৌমাছিরা চক তৈরি করে। কোনো গাছের গর্ত থেকে মৌমাছি ও তাদের চাক সংগ্রহ করার পর বাক্স দেয়া হয়। একটি মৌমাছি পরিবারে থাকে মাত্র একটি রানী মৌমাছি, কিছু পুরুষ এবং অধিকাংশ শ্রমিক মৌমাছি। চাক তৈরি, বাচ্চাদের লালনপালন, মধু এবং ফুলের পরাগ সংগ্রহ ইইত্যাদি সব কাজ শ্রমিক মৌমাছিরাই সম্পাদন করে। কিন্তু মৌমাছি পালন করে চাক থেকে মধু পেতে হলে একজন মৌমাছি পালককে মৌমাছিদের যত্ন নিতে হবে। বছরের বিভিন্ন ঋতুতে নানা প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এদের রোগ প্রতিকারের ব্যবস্থা নেয়া মৌমাছি পালন তথ্য পরিচর্যার অন্তভূর্ক্ত । এখানে সংক্ষেপে এ নিয়ে কিছু আলোচনা করা হল-

ক) মৌসুমী ব্যবস্থাপনা
বিভিন্ন ঋতুতে মৌমাছির পরিচর্যাকে তিনটি ভগে ভাগ করা যায়। যেমন-মৌমাছির বংশ বৃদ্ধির সময়ে, যখন প্রকৃতিতে প্রচুর খাদ্য পাওয়া যায় তখন এবং খাদ্যসঙ্কট চলাকালে।
১. বংশ বৃদ্ধিকালে-রানী মৌমাছি যখন প্রচুর ডিম পেড়ে একটি মৌবাঙ্রে মৌমাছির সংখ্যা বাড়তে থাকে সে সময়টাই হল বদ্ধিকাল। এ সময় প্রকৃতিতে ফুলের সমারোহ দেখা যায় এবং মৌমাছিরা প্রচুর পরিমানে পরাগরেণু এবং ফুলের রস সংগ্রহ করে। বংশ বৃদ্ধিকালে বাচ্চাঘরে নতুন ফ্রেম দিতে হবে। বাঙ্ কোনো পুরনো ও ত্রুটিপূর্ণ রাণীকে সরিয়ে নতুন রানীর সংযোজন করতে হবে। সাধারণত বৃদিধকালের শেষ দিকে মৌমাছিরা ঝাঁক বাঁধে। ঝাঁক বেঁধে মৌমাছিরা যাতে অন্য কোথাও উড়ে চলে না যায় এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। চাকে নবনির্মিত পুরুষ, রাণী মৌমাছিরা বাঁক বেঁধে অন্য কোথাও উড়ে যাবে না। মৌমাছির সংখ্যা যদি অনেক বেশী হয় তবে তাদের একাধিক বাক্স ভাগ করে দেয়া উচিত মৌমাছির বংশ বৃদ্ধিকালে মাঝে মাঝে কলোনী পরীক্ষা করে তাদের অন্যান্য সমস্যার প্রতিও দৃস্টি রাখতে হবে।

২. খাদ্য সঞ্চয়কালে-এ সময়ে প্রকৃতিতে প্রচুর ফুল পাওয়া যায়। মৌমাছিদের সংগ্রহীত পরাগরেণু বাচ্চা মৌমাছিদের খাওয়ানো হয়। ফুলের রস দিয়ে মৌমাছিরা মধু তৈরি করে মধুঘরের চাকে জমা করে। মধু রাখার স্থানের যাতে অভাব না হয় এজন্য মধু ঘরে আরও নতুন চাক দিতে হবে। চাকের শতকরা ৭৫টি কঠুরি যখন ঘন মধুতে ভরে মৌমাছিরা ঢাকনা দিয়ে ফেলবে, তখন সে চাক থেকে মদু নিষ্কাশন করে নিতে হবে। প্রয়োজনবোধে মৌমাছি পালনক্ষেত্র তেকে কিছু মৌবাক্স সরিয়ে অন্য স্থানে নিতে হবে যাতে বিশেষ কোনো এলাকা থেকে মৌমাছিরা আরও বেশী মধু সঞ্চয় করতে পারে। শীতের প্রচন্ড প্রকোপে মৌমাছিদের যেন কষ্ট না হয় এজন্য শীতের রাতে মৌবাঙ্টি চট বা ছালা দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে।

৩. খাদ্য সঙ্কটকালৈ এ সময়ে প্রকৃতিতে খাদ্য সংগ্রহ করার মতো ফুল খুব কম থাকে, ফলে মৌমাছিরা খাদ্য সঙ্কটে পড়ে। খাবারের অভাব মিটাতে এ সময় চিনির সিরাপ মিশিয়ে এই সিরাপ তৈরি করা হয়। যে পাত্রে সিরাপ পরিবেশন করা হবে সেটি বাঙ্রে ভেতরে রেখে সিরাপের পরে একটি কাঠি বা পাতা দিতে হবে, যাতে মৌমাছিরা তার ওপরে বসে রস খেতে পারে। সিরাপ রাতে একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সন্ধ্যা) পরিবেশন করা উচিত, যাতে অন্য বাঙ্রে মৌমাছিরা এসে খাবারের জন্য মারামারি না বধায়। ঝড়বৃষ্টিতে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকলে মৌবাঙ্টির প্রবেশ পথ বাতাস ও বৃদ্ধির বিপরীতমুখী করে নিরাপদ, শুল্ক স্থানে রাখতে হবে। অন্যথায় বাক্সে ছাদের উপর আবরণ দিয়ে প্রবল বৃষ্টি হাত থেকে মৌমাছিদের রক্ষা করতে হবে। খাদ্য সঙ্কটকালে কলোনী দূর্বল হয়ে পড়তে পারে। বাক্স চারটি চাকের কম সংখ্যাকে চাকে মৌমাছি একত্র করে একটি মৌবাক্স স্থান করে দেয়া উচিত। খাদ্য সঙ্কট সব এলাকায় একই সময়ে দেখা দেয় না। এ জন্য মৌবাক্স এমন এলাকায় স্থানান্তর করা যায়, যেখানে প্রচুর ফুল পাওয়া যাবে। খাদ্য সঙ্কটকালে মৌমাছিদের রোগ-জীবানূ বেশী হয় বলে এ সময় কলোনীর দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।

খ) শত্রু এবং রোগ
বিভিন্ন প্রকার শত্রু ও রোগের আক্রমনে মৌমাছি কলোনী ক্ষতিগ্রস্থ হয়। দু'একটি প্রধান শত্রু ও রোগের বিষয়ে এখানে আলোচনা করা হলে। মোমপোকা-ভিজে, স্যাতসেঁতে আবহাওয়ায় মোমপোকার আক্রমণ সবচেয়ে বেশী হয়। চাকের কুঠুরির উপরে মাকড়সার জালের ন্যায় আবরণ দেখেই বোঝা যায়। একটি মোপোকারয় আক্রান্ত ঢাকনাযুক্ত পিউপার কুঠুরির মুখ খোলা এবং ভেতরে মৃত পিউপা পাওয়া যায়। এ সমস্যার প্রতিকার হল মৌবাক্স পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, পুরনো ও ময়লা চাক সরিয়ে ফেলা এবং পটাসিয়াম পারম্যাঙ্গানেট দিয়ে বাঙ্রে মেঝে পরিস্কার করা। মোমপোকার আক্রমণ দেখা দিলে প্যারাডাইক্লোরো বেনজিন নামক ওষুধ সামান্য পরিমানে বাক্স কোণায় রেখে দিলে এই পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এ ময়ে রাতে বাক্সের গেইট বন্ধ করে রাখতে হবে এবং সকালে খুলে দিতে হবে। অ্যাকারাইন এ রোগ সাধারণত পূর্ণবস্ক মৌমাছিদের হয়ে থাকে। রুগ্ন মৌমাছির ডানাগুলো বিভক্ত হয়ে ইংরেজি অক্ষর 'ক' এর মতো হয়ে যায় এবং অনেক মৌমাছিকে বাক্সে সামনে বুকে হাঁটতে দেখা যায়। বাক্সে সামনে আমাশয় এর মতো হলুদ পায়খানা পড়ে থাকে। মৌমাছিরা কলোনীর মধ্যে বিশৃংখলাভাবে ঝাঁক বেঁধে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে প্যারালাইসিস হতে দেখা যায়। আক্রান্ত রানী ডিম দেয়া বন্ধ করে দেয়। এ্যাকারাইন হতে দেখা যায়। এ্যাকরাইন রোগের প্রতিকার হল-মৌবাঙ্রে ভেতরে মিথাইল স্যালিসাইলেটের বাষ্প দেয়া। এজন্য ছোট একটি বোতলে মিথাইল স্যালিসাইলেট নিয়ে রবার কর্ক দিয়ে মুখ বন্ধ করতে হবে।
মৌমাছি চাষ ও প্রশিক্ষনের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন
মতি এন্ড সন্স (একটি বিসিক প্রকল্প)
৪৯/৩, লুৎফর রহমান লেন, সুরিটোলা, কোতয়ালী, ঢাকা
মোবাইল: ০১৭১২-০৬৯০৬২
এছাড়া মৌমাছি পালন সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে বিসিকের যে কোনো কার্যালয়ে যোগাযোগ করা যেতে পারে। টেলিফোন করতে পারেন : ০১১৯৯৪২৫৫২৩ অথবা ০১৯১১৪০৫৩৬৬ নম্বরে।

আয়-ব্যয়ের হিসাব মৌমাছি পালন প্রকল্প স্থাপনের জন্য আলাদাভাবে কোনো জায়গার প্রয়োজন হয় না। বাড়ির আনাচে-কানাচে, ঘরের বারান্দায়, ছাদে কিংবা বাগানেও মৌ-বাক্স রাখা যায়। অ্যাপিস সেরানা প্রজাতির ৫টি মৌ-কলোনি সম্বলিত মৌ-খামার স্থাপনের জন্য মোট বিনিয়োগ হবে ১৫-১৬ হাজার টাকা। প্রতিবছর গড়ে প্রতি বাক্স থেকে ১০ কেজি মধু পাওয়া যাবে, যার বাজারমূল্য ২৫০ টাকা হিসেবে ২৫০০ টাকা। এ হিসেবে ৫টি বাক্স থেকে উত্পাদিত মধুর মূল্য দাঁড়াবে ৫–১০ কেজি – ২৫০ টাকা (প্রতি কেজি)= ১২,৫০০ টাকা। এই আয় ১০-১৫ বছর অব্যাহত থাকবে অর্থাৎ প্রথমে মাত্র একবার ১৫-১৬ হাজার টাকা ব্যয় করে প্রকল্প স্থাপন করলে মৌ-বাক্স এবং অন্যান্য সরঞ্জামাদি ১০-১৫ বছর ব্যবহার করা যাবে। আর কোনো বিনিয়োগ বা খরচ নেই বললেই চলে।

অন্যদিকে অ্যাপিস মেলিফেরা প্রজাতির ৫টি মৌ-কলোনি সম্বলিত মৌ-খামার স্থাপনের জন্য মোট ব্যয় হবে ২৫ থেকে ২৭ হাজার টাকা। এক্ষেত্রেও ১০-১৫ বছর পর্যন্ত মৌ-বাক্স ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি এবং সরঞ্জামাদি ব্যবহার করা যাবে। আর কোনো অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে না। মেলিফেরা প্রজাতির প্রতিটি মৌ-বাক্স থেকে বছরে ৫০ কেজি পর্যন্ত মধু সংগ্রহ করা সম্ভব, যার বাজারমূল্য ৫০ কেজি –২৫০ টাকা (প্রতিকেজি) – ৫টি বাক্স= ৬২,৫০০ টাকা। প্রকল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে মাত্র ২৫-২৭ হাজার টাকা এককালীন বিনিয়োগ করে প্রতিবছর ৬০ হাজার টাকার ঊর্ধ্বে আয় করা সম্ভব। মৌ-বাক্সের সংখ্যা প্রতিবছর বৃদ্ধির মাধ্যমে এ আয় অনেকগুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব। স্বল্প পরিশ্রমে এ ধরনের প্রকল্প স্থাপনের মাধ্যমে একদিকে যেমন আর্থিক দিক থেকে লাভবান হওয়া যায়, তেমনি পরাগায়ন প্রক্রিয়ায় সহায়তা দানের মাধ্যমে দেশের ফল ও ফসলের উত্পাদনে পরোক্ষভাবে সহযোগিতা দান করা যায়।

চিকিৎসা:মধু ও মৌমাছির বিষে বাত নিরাময়

মৌমাছি বা ভীমরম্নলের হুল ফুটানো বিষ খুবই যন্ত্রণাদায়ক। যে ব্যক্তি হুল দংশ্বনের শিকার হয়েছেন কেবল তিনিই তার জ্বালা অনুভব করতে পারেন। মানুষ এমনকি অন্যান্য প্রাণীও তাই মৌমাছি বা ভীমরম্নল চাক এড়িয়ে চলে, কিন্তু মৌমাছি ও ভীমরম্নলের হুল থেকে সংগৃহীত বিষ যে রোগ নিরাময়ের উপাদান হিসাবে কাজ করতে পারে তা অনেকেরই অজানা। নিউজিল্যান্ডের একটি কোম্পানি সে আমার বাণীই শুনিয়েছে। শুধু তাই নয়-মৌমাছির বিষ বাজারজাতকরণের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কাছে অনুমোদন চেয়েছে।

নেলসন হানি এন্ড মার্কেটিং নামে একটি কোম্পানি জানিয়েছে গেঁটে বাত জনিত ব্যথা নিরাময়ে প্রদাহ নিরোধক হিসাবে কাজ করে মৌমাছির বিষ। প্রতিদিন দুই চা চামচ পরিমাণ মধুর সঙ্গে সামান্য পরিমাণ মৌমাছির বিষ দুধ (ভেনম মিল্ক) মিশিয়ে সেবন করলে বাত রোগে উপসম হয়। তাদের মতে মৌমাছির বিষ প্রয়োগে বাতের চিকিৎসা নতুন ধারণা নয়। কোন কোন ক্লিনিকে মৌমাছির হুল ফুটিয়ে বাতের চিকিৎসা করা হয়। যুক্তরাজ্যের ফুড স্ট্যান্ডার্ডস এজেন্সি জানিয়েছে আগামী মাসে নিউজিল্যান্ড ভিত্তিক কোম্পানিটির আবেদনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

কোম্পানিটি জানিয়েছে-নিউজিল্যান্ডের একটি অঞ্চলে গত ১৩ বছর যাবৎ এক প্রকার মৌমাছির চাষ করা হচ্ছে। আধুনিক পদ্ধতিতে সংগৃহীত মধু ও ভেনম মিল্ক সম্পর্ণ নিরাপদ। তবে ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের এসব সেবন নিষিদ্ধ।

একই সঙ্গে আরো একটি বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, মধু অথবা মৌমাছির বিষ যাদের শরীরে অ্যালার্জির উদ্রেক করে তারা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন। অবশ্য এ ধরনের চিকিৎসার ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করেছেন যুক্তরাজ্যের আথ্রাইটিস রিসার্চ ক্যাম্পেইনের কর্ণধার প্রফেসর অ্যালান সিলমান। তার মতে, মধু ও মৌমাছির বিষবাত নিরাময়ে ফলপ্রসূ এমন প্রমাণ এখনও মেলেনি।
এগ্রোবাংলা ডটকম

মৌ কলোনির পরিচর্যা

আমাদের দেশে সাধারণত অগ্রহায়ণ মাস থেকে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত মধু সংগ্রহের উত্তম সময়। এছাড়াও কোনো কোনো এলাকায় ব্যতিক্রম হিসেবে অনুকূল পরিবেশে উল্লিখিত সময় ছাড়াও মধু সংগ্রহ করা যায়।

নিচে মধুঋতু পরিচর্যার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উল্লেখ করা হলো :
» এলাকার বি-প্লান্টসের পরিচর্যা করা।
» অধিক মধু সংগ্রহের জন্য কলোনি পর্যাপ্ত বি-প্লান্টস পরিবেষ্টিত এলাকায় সাময়িকভাবে স্থানান্তর করা।
» নির্ধারিত ফুল ফোটার সময়ে মধু পাওয়ার জন্য প্রয়োজনবোধে কলোনি একত্রীকরণের ব্যবস্থা করা।
» চলাচল দরজার সম্পূর্ণ অংশ দিনের বেলায় খুলে দেয়া। তবে ঝাঁক ছাড়ার প্রবণতা পরিলক্ষিত হলে অবশ্যই কুইনগেট লাগাতে হবে।
» কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্রুড ও সুপার চেম্বারের মাঝে কুইন এক্সক্লুডার স্থাপন আবশ্যক।
» রানী মৌমাছির অধিক ডিম দেয়ার সুবিধার্থে ব্রুড চেম্বারে ভিত্তিচাক এবং পুরনো ভালো চাক পর্যায়ক্রমে দুটি ফ্রেমের মাঝখানে স্থাপন করা দরকার।
» একইভাবে সুপার চেম্বারেও অধিক মধু জমানোর জোগান দেয়াসাপেক্ষে ভিত্তিচাক এবং পুরনো ভালো চাক স্থাপন করা যায়।
» সুপার চেম্বারে শতকরা ৭০ ভাগ মধু জমানো কোষে ঢাকনা দিলে মধু নিষ্কাশন যন্ত্রের সাহায্যে মধু সংগ্রহ করতে হবে।
» মধুঋতু শেষে সর্বশেষ মধু সংগ্রহের সময় মধুসহ কমপক্ষে একটি চাক কলোনিতে রেখে দিতে হবে।
» কোনো কারণে যথাসময়ে মধু সংগ্রহ করা সম্ভব না হলে সাময়িকভাবে আরও একটি সুপার চেম্বার স্থাপন করা শ্রেয়।
» বিনা প্রয়োজনে পুরুষ ও রানী কোষ তৈরি করে থাকলে তা কেটে বাদ দিতে হবে।
» সংগৃহীত মধু আধুনিক পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত করে পরিষ্কার এয়ারটাইট পাত্রে রাখতে হবে।
» মধুঋতু শেষে সুপার চেম্বারের সব চাক এবং ব্রুড চেম্বারের অতিরিক্ত চাকগুলো রৌদ্রে শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে।
» কোনো কোনো সময় কলোনিতে পর্যাপ্ত মৌমাছি থাকা সত্ত্বেও শ্রমিক মৌমাছির দ্বারা সুপার চেম্বারে চাক তৈরি করতে অনীহা প্রকাশ পায় কিংবা চাক দিলেও তাতে মধু জমা করে না। এসব ক্ষেত্রে ব্রুড চেম্বার থেকে ২/১টি চাকের উপরের অংশ মধুসহ (আংশিক/সম্পূর্ণ) কেটে সুপার ফ্রেমের সঙ্গে লাগিয়ে সুপার চেম্বারে দিলে ভালো ফল পাওয়া যায়। এছাড়া অন্য কোনো কলোনি থেকেও মধুসহ চাক সুপার ফ্রেমে এনে এধরনের কলোনির সুপার চেম্বারে স্থাপন করা যেতে পারে।
» মধুঋতুর শেষ পর্যায়ে কিছু কিছু মৌ কলোনি বিভাজন করে কলোনির সংখ্যা বাড়ানো যেতে পারে।
» এতদ্ব্যতীত প্রয়োজন সাপেক্ষে রুটিনমাফিক পরিচর্যাও অব্যাহত রাখতে হবে। বিস্তারিত তথ্য জানতে হলে ফোন করা যেতে পারে।
লেখক : মো. আলী আশরাফ খান, মোবাইল নং-০১১৯৯৪২৫৫২৩, ০১৯১১৪০৫৩৬৬
ভূমি সংক্রান্ত যাবতীয় দলিলাদি লিখন, সরকারি হিসাব ও অফিসের কাজ ইত্যাদি যাবতীয় বিষয়ে ভূমির পরিমাপ হলো:
(১) ডেসিমেল বা শতাংশ বা শতক
(২) কাঠা,
(৩) বিঘা এবং
(৪) একর
এই পরিমাপ সর্ব এলাকায় সর্বজন গৃহীত। এটা "সরকারি মান"( Standard Measurement) বলে পরিচিত।
উক্ত পরিমাপের কতিপয় নিম্নে প্রদান করা হলোঃ
ইঞ্চি, ফুট ও গজঃ
১২'' ইঞ্চি = ১ ফুট
৩ ফুট= ১ গজ
(৩) ভূমি যে কোন সাইজের কেন ভূমির দের্ঘ্য ও প্রস্থে যদি ৪৮৪০ বর্গগজ হয় তাহলে এটা ১.০০ একর (এক একর) হবে।
যেমনঃ ভূমির দৈর্ঘ্য ২২০ গজ এবং প্রস্থ ২২ গজ সুতরাং ২২০ গজ×২২ গজ= ৪৮৪০ বর্গগজ।

বর্গগজ/বর্গফুট অনুযায়ী শতাংশ ও একরের পরিমাণঃ
৪৮৪০ বর্গগজ = ১ একর ধরে
৪৮৪০ বর্গগজ = ১ একর
৪৩৫৬০ বর্গফুট= ১ একর
১৬১৩ বর্গগজ= ১ বিঘা
১৪৫২০বর্গগজ= ১ বিঘা
৪৮.৪০ বর্গফুট= ০১ শতাংশ
৪৩৫.৬০ বর্গফুট= ০১ শতাংশ
৮০.১৬ বর্গগজ= ১ কাঠা
৭২১.৪৬ বর্গগজ= ১ কাঠা
৫.০১ বর্গগজ = ১ ছটাক
৪৫.০৯ বর্গফুট= ১ কাঠা
২০ বর্গহাত = ১ ছটাকা
১৮ ইঞ্চি ফুট= ১ হাত (প্রামাণ সাই)

কাঠা, বিঘা ও একরের মাপঃ
১৬ ছটাক = ১/ কাটা
০.০১৬৫ অযুতাংশ = ১/কাঠা
০.৩৩ শতাংশ বা ০.৩৩০০ অযুতাংশ = ১ বিঘা
২০ (বিশ) কাঠা = ১ বিঘা
৩ বিঘা = ১.০০ একর।
টিকাঃ একশত শতাংশ বা এক হাজার সহস্রাংশ বা দশ হাজার অযুতাংশ= ১.০০ (এক) একর। দশমিক বিন্দুর (.) পরে চাষ অঙ্ক হলে অযুতাংশ পড়তে হবে।

মিলিমিটার ও ইঞ্চিঃ
১ মিলিমিটার= ০.০৩৯৩৭ (প্রায়)
১ সেন্টিমিটার= ০.০৩৯৩৭ (প্রায়)
১ মিটার = ৩৯.৩৭ ইঞ্চি বা ৩.২৮ ফুট/ ১.০৯৩ গজ (প্রায়)
১০০০ মিটার = ১ কিলোমিটার
১ কিলোমিটার= ১১ শত গজ
২ কিলোমিটার = (সোয়া মাইল)
১৭৬০ গজ = ১ মাইল
১৩২০ গজ = পৌন এক মাইল।
৮৮০ গজ = আধা মাইল
৪৪০ গজ = পোয়া মাইল।
১ বর্গ মিটার = ১০.৭৬ বর্গফুট (প্রায়)
১ হেক্টর = ২.৪৭ একর (প্রায়)
১ ইঞ্চি = ২.৫৪ সেন্টিমিটার (প্রায়)

গান্টার শিকল জরীপঃ
ভূমির পরিমাপ পদ্ধতি সঠিক এবং সহজ করার জন্য ফরাসী বিজ্ঞানী এডমন্ড গান্টা এই পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। তিনি ভূমি পরিমাপের জন্যে ইস্পাত দ্বারা এক ধরণের শিকল আবিষ্কার করেন। তিনি ভূমি পরিমাপের জন্য ইস্পাত দ্বারা এক ধরণের শিকল আবিষ্কার করেন। পরবর্তীতে তার নাম অনুসারেই এই শিকলের নামকরণ করা হয় গান্টার শিকল। আমাদের দেশে গান্টার শিকল দ্বারা জমি জরিপ অত্যন্ত জনপ্রিয়। একর, শতক এবং মাইলষ্টোন বসানোর জন্য গান্টার শিকল অত্যন্ত উপযোগী। এই শিকলের দৈর্ঘ্য ২০.৩১ মিটার (প্রায়) বা ৬৬ ফুট
গান্টার শিকল ভূমি পরিমাপের সুবিধার্থে একে ১০০ ভাগে ভাগ করা হয় থাকে। এর প্রতিটি ভাগকে লিঙ্ক বা জরীপ বা কড়ি বিভিন্ন নামে ডাকা হয়।
প্রতি এক লিঙ্ক = ৭.৯২ ইঞ্চি
দৈর্ঘ্য ১০ চেইন ×প্রস্থে ১ চেইন = ১০ বর্গ চেইন = ১ একর
গান্টার শিকলে ১০ লিঙ্ক বা ৭৯.২ ইঞ্চি পর পর নস বা ফুলি স্থাপন করা হয় (নস ফুলি)
২০ লিঙ্ক বা ১৫৮.৪ ইঞ্চি পর স্থাপিত হয়-
৩০ লিঙ্ক বা ২৩৭.৩ ইঞ্চি পর স্থাপিত হয়-
৪০ লিঙ্ক বা ৩১৬.৮ ইঞ্চি পর স্থাপিত হয়-
৫০ লিঙ্ক বা ৩৯৬.০ ইঞ্চি পর স্থাপিত হয়-
৮০ গান্টার বা ১৭৬০ গজ পর স্থাপিত হয়- মাইল ষ্টোন

একর শতকে ভূমির পরিমাপ
১০০ লিঙ্ক = ১ গান্টার শিকল
১০০০ বর্গ লিঙ্ক = ১ শতক
১,০০,০০০ বর্গ লিঙ্ক = ১ একর
আমাদের দেশে জমি-জমা মাপ ঝোকের সময় চেইনের সাথে ফিতাও ব্যবহার করা হয়। সরকারি ভাবে ভূমি মাপার সময় চেইন ব্যবহার করা হয় এবং আমিন সার্ভেয়ার ইত্যাদি ব্যাক্তিগণ ভূমি মাপার সময় ফিতা ব্যবহার করেন। ভূমির পরিমান বেশি হলে চেইন এবং কম হলে ফিতা ব্যবহার করাই বেশি সুবিধাজনক।

বিভিন্ন প্রকারের আঞ্চলিক পরিমাপ
আমাদের দেশে অঞ্চলভেদে বিভিন্ন প্রকারের মাপ ঝোক প্রচলিত রয়েছে। এগুলো হলো কানি-গন্ডা, বিঘা-কাঠা ইত্যাদি। অঞ্চলে ভেদে এই পরিমাপগুলো আয়তন বিভিন্ন রকমের হয়ে তাকে। বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমির পরিমাপ বিভিন্ন পদ্ধতিতে হলেও সরকারি ভাবে ভূমির পরিমাপ একর, শতক পদ্ধতিতে করা হয়। সারাদেশে একর শতকের হিসাব সমান।

কানিঃ কানি দুই প্রকার। যথা-
(ক) কাচ্চা কানি
(খ) সাই কানি
কাচ্চা কানি: ৪০ শতকে এক বাচ্চা কানি। কাচ্চা কানি ৪০ শতকে হয় বলে একে ৪০ শতকের কানিও বলা হয়।
সাই কানিঃ এই কানি কোথাও ১২০ শতকে ধরা হয়। আবার কোথাও কোথাও ১৬০ শতকেও ধরা হয়।

কানি গন্ডার সাথে বিভিন্ন প্রকারের পরিমাপের তুলনা
২ কানি ১০ গন্ডা (৪০ শতকের কানিতে) = ১ একর
১ কানি = ১৭২৮০ বর্গফুট
১ কানি = ১৯৩৬ বর্গগজ
১ কানি = ১৬১৯ বর্গমিটার
১ কানি = ৪০ বর্গ লিঙ্ক
১ একর = ১০ বর্গ চেইন
১ একর = ১০০ শতক
১ একর = ৪,০৪৭ বর্গমিটার
১ একর = ৩ বিঘা ৮ ছটাক
১ একর = ৬০.৫ কাঠা
১ শতক = ১ গন্ডা বা ৪৩২.৬ বর্গফুট

বিঘা-কাঠার হিসাব
১ বিঘা = (৮০ হাত×৮০ হাত) ৬৪০০ বর্গহাত
১ বিঘা = ২০ কাঠা
১ কাঠা = ১৬ ছটাক
১ ছটাক = ২০ গন্ডা
১ বিঘা = ৩৩,০০০ বর্গলিঙ্ক
১ বিঘা = ১৪,৪০০ বর্গফুট
১ কাঠা = ৭২০ বর্গফুট
১ ছটাক = ৪৫ বর্গফুট

লিঙ্ক এর সাথে ফুট ও ইঞ্চির পরিবর্তন
লিঙ্ক = ৭.৯ ইঞ্চি
৫ লিঙ্ক = ৩ ফুট ৩.৬ ইঞ্চি
১০ লিঙ্ক = ৬ ফুট ৭.২ ইঞ্চ
১৫ লিঙ্ক = ৯ ফুট ১০.৮ ইঞ্চি
২০ লিঙ্ক = ১৩ ফুট ২.৪ ইঞ্চি
২৫ লিঙ্ক = ১৬ ফুট ৬.০ ইঞ্চি
৪০ লিঙ্ক = ২৬ ফুট ৪.৮ ইঞ্চি
৫০ লিঙ্ক = ৩৩ ফুট
১০০ লিঙ্ক = ৬৬ ফুট

এয়র হেক্টর হিসাব
১ হেক্টর = ১০,০০০
১ হেক্টর = ২.৪৭ একর
১ হেক্টর = ৭.৪৭ বিঘা
১ হেক্টর = ১০০ এয়র

বায়ো গ্যাস প্রকল্প প্রস্তুত প্রনালী

বায়োগ্যাস প্রকল্প
যুগ-যুগ ধরে বাংলাদেশের গ্রামঞ্চলে রান্নাবান্নার কাজে কাঠ, খড়-কুটা, নাড়া, শুকনা গোবর এগুলোই জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। বর্তমানে প্রতিবছর দেশে ৩ কোটি ৯০ লাখ মেট্রিক টন এ জাতীয় জ্বালানির প্রয়োজন। জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহারের ফলে গাছপালা উজাড় হয়ে যাচ্ছে, যার ফলে আমরা শুধু বনজ সম্পদই হারাচ্ছি না, আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশকে ঠেলে দিচ্ছি এক ভয়াবহ অবস্থার দিকে। অন্যদিকে গোবর, নাড়া এবং অন্যান্য পচনশীল পদার্থগুলো পুড়িয়ে ফেলার ফলে আবাদি জমি জৈব সার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে জ্বালানি সঙ্কট তীব্রতর হচ্ছে। এই জ্বালানি সঙ্কট মোকাবেলায় বিকল্প জ্বালানি হিসেবে বায়োগ্যাসই একমাত্র এই সমস্যার সমাধান দিতে পারে এবং নিশ্চিত করতে পারে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ উন্নতমানের জৈব সার, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও উন্নত জীবনযাত্রা।

বায়োগ্যাস কী ?
গোবর ও অন্যান্য পচনশীল পর্দাথ বাতাসের অনুপস্থিতিতে পচানোর ফলে যে বড়বিহীন জ্বালানি গ্যাস তৈরী হয় তাই হচ্ছে বায়োগ্যাস। এতে ৬০/৭০ ভাগ জ্বালানি গ্যাস তৈরী হয়ে অবশিষ্ট অংশ উন্নতমানের জৈবসার হিসাবে ব্যবহৃত হতে পারে। জ্বলানি গবেষকরা, বলছেন, মানব বিষ্ঠা, মোরগ-মুরগীর বিষ্ঠা, জৈব আবর্জনা এবং গোবর থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদন সম্ভব। পৃথিবীর অনেক দেশেই এ জাতীয় পর্দাথ থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদন করে কলকারখানা এবং গৃহস্থালী কাজে ব্যবহার হচ্ছে। বায়োগ্যাস ব্যবহার এবং উৎপাদনে গণচীন সবচেয়ে এগিয়ে আছ। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও বায়োগ্যাসের প্রচলন রয়েছে। গৃহস্থালী রান্নাবান্না এবং ম্যান্ডেলবাতি জ্বালানো ছাড়াও বায়োগ্যাস দিয়ে জেনারেটরের সাহায্যে বিদু্যৎ উৎপাদন করে বাতি, ফ্যান, ফ্রিজ, টিভিসহ অন্যান্য বৈদুত্যিক সরঞ্জামাদি চালানো সম্ভব। গবেষকরা বলছেন, ৭-৮ সদস্য বিশিষ্ট পরিবারের জন্য ৫-৬ টি মাঝারি আকারের গরুর দৈনন্দিন গোবর থেকে ১০৫ ঘনফুট গ্রাস উৎপাদন সম্ভব যা দিয়ে তিন বেলার রান্না-বান্না সহ একটি ম্যান্টেল বাতি জ্বালানো যাবে।
জ্বালানি সংকট সমাধানে এই মাধ্যমটিতে এত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এর প্রসার ঘটেনি এ দেশের এতটুকুও। বাংলাদশে বিজ্ঞান ও গবেষণা পরিষদের জ্বালানি গবেষণা ও গোড়ার ইনস্টিটিউট এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে অনেক বছর ধরে।
কিভাবে বায়োগ্যাম প্লান্ট তৈরী করবো, এর কারিগরী তথ্য কোথায় পাব, এর নির্মাণ ব্যয় কত হবে ইত্যাদি।

৭/৮ সদস্যবিশিষ্ট পরিবারের জন্য ১০৫ (৩ ঘনমিটার) ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনক্ষম স্থিরডোম বায়েঅগ্যাস প্লান্ট নির্মাণ পদ্ধতি

ডাইজেস্টার তৈরি পদ্বতি
২৫০ সে. মি. ব্যাস এবং ২২০ সে. মি. গভীর একটি গোলাকার কুয়া খননকরতে হবে। কুয়ার তলদেশ চাড়ির তলার আকৃতিতে খনন হবে যাতে হেব যাতে বাড়ির তলার মধ্যবিন্দু থেকে আর্চের উচ্চতা ৩০ সে. মি. (১ ফুট) হয় এর পর তলদেশে ভালো করে দুরমুজ করে নিতে হবে।
তলদেশে ৭.৫ সে. মি. পুরু ইট বিছিয়ে দিতে হবে। এই সোলিং-এর ওপর ১:৩:৬ (সিমেন্টঃ বালুঃ খোয়া) অনুপাতে ৫ সে. মি. পরু ঢালাই দিতে হবে। ঢালাই এর ওপর ২১০ সে. মি. ব্যাস (ভিতরে রেখে গোলাকৃতি ১২.৫ সে. মি. ইটের দেয়ালের গাঁথুনি করতে হবে। দেয়ালের উচ্চতা যখন ২৫ সে. মি. হবে

মনে করি,
প্রস্তাবিত ডাইজেস্টারের কেন্দ্র হতে ইনলেট চেম্বারের কেন্দ্র পর্যন্ত দূরত্ব- x
এবং হাইড্রোলিক চেম্বারের কেন্দ্র পর্যন্ত দূরত্ব- y
ডাইজেস্টারে ব্যাস- D
হাইড্রোলিক চেম্বারের ব্যাস- D2
ভূতল হতে ডাইজেস্টারের টপ ডোমের গভীরতা- ০.৩০ m
ডাইজেস্টারের উপরের ডোমের উচ্চতা- f1
ডাইজেস্টারের দেয়ালের উচ্চতা- H
ডাইজেস্টারের নীচের ডোমের উচ্চতা- f2
ডাইজেস্টারের দেয়ালের পুরুত্ব- T
উপরের ডোমের পুরুত্ব- T1
তলার ডোমের পুরুত্ব- T2
ইনলেট চেম্বারের দেয়ালের পুরুত্ব- T4
হাইড্রোলিক চেম্বারের দেয়ালের পুরুত্ব- T3
ইনলেট চেম্বারের কেন্দ্র- C2
ডাইজেস্টারের কেন্দ্র- C
হাইড্রোলিক চেম্বারের কেন্দ্র- C1
ওপরের ডোমের বক্রাকার বাঁকের ব্যাসার্ধ- R1
নীচের ডোমের বক্রাকার বাঁকের ব্যাসার্ধ- R2
biogas plant
তখন কুয়ার একদিকে হাইড্রলিক চেম্বারের মুখের জন্য ১৫০ সে. মি.× ৭৫ সে. মি. এবং অন্যদিকে ইনলেট পাইপ বসানোর জন্য ২০×২৫ সে. মি. গাঁথুনি খোলা রাখতে হবে। ১৫ সে. মি. ব্যাসবিশিষ্ট একটি আরসিসি পাইপ (ইনলেট পাইপ) দেয়ালের সঙ্গে আনুমানিক ৩০ ডিগ্রি কোণ রেখে বসিয়ে নিতে হবে।
biogas plant
দেয়ালের কাজ মোট ১০০ সে. মি. হলে হাইড্রলিক চেম্বারের দরজার কাজ শেষ হবে। দেয়ালেরকাজ পুনরায় শুরু করে হাইড্রলিক চেম্বারের মুখের উপরিভাগ থেকে ৪০ সে. মি. পর্যন্ত গেঁথে নিতে হবে। এখন দেয়ালের উপরিভাগে ১:২:৪ অনুপাতে ৭.৫ সে. মি.পুরু ঢালাই দিতে হবে। এই ঢালাই-এর ওপর ৭.৫ সে. মি. পুরু ইটের গাঁথুনি দিয়ে ৬০ সে. মি. আর্চ উচ্চতাবিশিষ্ট গম্বুজ আকৃতির ডোম তৈরী করতে হবে।

ডেমের উপরের অংশে গ্যাস নির্গমনের জন্য একটি ১.২৭ সে. মি. ব্যাসবিশিষ্ট ২৫ সে. মি. লম্বা জিআই পাইপ খাড়াভাবে স্থাপন করতে হবে। জিআই পাইপের উপরি অংশে একটি গ্যাস ভাল সংযুক্ত করতে হবে। এখন দেয়ালের ভিতরের অংশে নিচ থেকে হাইড্রলিক চেম্বারের মুখের উপরিভাগ পর্যন্ত ১:৪ অনুপাত ১.২৭ সে. মি. পুরু প্লাস্টার করতে হবে। হাইড্রলিক চেম্বারের মুখের উপরি ভাগ তেকে ডোমের ভেতরের সম্পূর্ণ অংশ ১:৩, ১:২, ১:১ অনুপাতে তিনবার প্লাস্টার করতে হবে।
biogas plant
প্রতিবার প্লাস্টারিং-এর পূর্বে সিমেন্ট পেস্ট করে ব্রাশ করে নিতে হবে। ৫/৬ কিউরিং করার পর ভেতরের ডোমসহ আউটলেটের মুখ পর্যন্ত দেয়ালের শুকনা অবস্থায় ১ মি. মি. পুরু মোম/সিলিকেট প্রলেপ দিতে হবে। ডোমের ওপরের সম্পূর্ণ অংশ প্লাস্টার করে নিতে হবে।

হাইড্রোলিক চেম্বার
৭.৫ সে. মি. ইটের গাঁথুনি দিয়ে ২ স্তরবিশিষ্ট একটি আয়তাকার হাইড্রলিক চেম্বার তৈরী করতে হবে। নিচু ও ওপর চেম্বারের মাপ হবে যথাক্রমে ১০০ সে. মি. দৈর্ঘ্য × ১৫০ সে. মি. প্রস্থ × ১১৫ সে. মি. উচ্চতা এবং ১৬০ সে. মি. দৈর্ঘ্য × ১৫০ সে. মি. প্রস্থ × ৬০ সে. মি. উচ্চতা। ৬০ সে. মি. দেয়ালের শেষ হলে স্পেন্ট স্লারি নির্গমনের জন্য একটা খোলা পথ/দরজা রাখতে হবে হাড্রলিক চেম্বারের ভিতরে দিক ১:৪ অনুপাতে প্লাস্টার কাজ শেষ করে নিতে হবে। স্পেন্ট স্লারী নির্গমনের পথের ওপরে আরও ৭.৫ সে. মি. গেঁথে নিতে হবে। হাইড্রলিক চেম্বারের ওপরের অংশ ঢেকে রাখার জন্য প্রয়োজনবোধে স্লাব ব্যবহার করতে হবে।

ইনলেট ট্যাঙ্ক
ইনলেট পাইপের মুখে ৬০ সে. মি. × ৬০ সে. মি. মাপে একটি ১২.৫ পুরু ইটের ট্যাঙ্ক তৈরী করতে হবে। এই ট্যাঙ্ক ভেতরের অংশ ভালোভাবে প্লাস্টার করতে হবে। ডাইজেস্টার হাইড্রলিক চেম্বার এবং ইনলেট ট্যাঙ্ক তৈরীর পর প্লান্টের চারপাশে বালি ও মাটি দিয়ে এমনভাবে ভরাট করতে হবে যেন ডোমের উপরিভাগ পর্যন্ত মাটির নিচে থাকে।

প্লান্ট চালু করার নিয়মাবলী
প্লান্ট চালু করার সময় ১.৫/২ টন কাঁচামাল যথা গোবর, হাঁস-মুরগির মল, মানুষের মল জাতীয় পচনশীল পদার্থের প্রয়োজন। প্লান্ট তৈরির শুরু থেকে এগুলেপা জমা করে রাখলে প্লান্ট চালুর সময় এগুলো ব্যবহার করা যাবে। অবশ্য কেউ যদি ২/১ দিনেই উক্ত পরিমান কাঁচামাল যোগাড় করতে পারেন, তবে আগে থেকে জমা করে রাখার প্রয়োজন নেই। জমাকৃত কাঁচামাল এবং পরিষ্কার পানি গোবরের ক্ষেত্রে ১:১ হাঁস-মুরগির মলের ক্ষেত্রে ১:৩ অনুপাতে মিশিয়ে ইনলেট পাইপ দিয়ে আস্তে আস্তে কুয়ায় ঢালতে হবে। চার্জিং-এর সময় খেয়াল রাখতে হবে মাটির চাকা, পাথর, বালি, বড় সাইজের খড়কুটা ইত্যাদি যেন কুয়ার ভিতর প্রবেশ না করে। যদি প্লান্ট সম্পূর্ণ ভর্তি না হয়, বাকি অংশ পানি দিয়ে ভরে নিতে হেব।

প্লান্ট এবং গ্যাস বাল্বের ছিদ্র পরীক্ষা
গ্যাস বাল্বের ছিদ্র পরীক্ষার জন্য পলিথিন পাইপের গ্যাস বাল্বের মাথা পানির মধ্যে সামান্য ডুবিয়ে দিতে হবে। যদি বাল্ব বন্ধ অবস্থায় পানিতে বুদবুদ তৈরী হয়, তবে বুঝতে হবে বাল্বের ভিতর ছিদ্র আছে। বাল্বের গোড়ায় সাবানের ফেনা লাগিয়ে যদি বুদবুদ দেখা তবে ধরে নিতে হবে বাল্বের গোড়ায় গ্যাস লিক রয়েছে। এমতাবস্থায় গ্রিজ ও পাট জাতীয় কিছু দিয়ে ছিদ্র বন্ধ করতে হবে।

গ্যাস সরবরাহের নিয়ম
১.২৭/২.৫৪ সে. মি. চওড়া পিভিসি / জিআই পাইপ লাইন প্লান্ট থেকে চুলা, হ্যাজাক লাইট, জোনারেটর পর্যন্সংযোগ করতে হবে। যেহেতু বায়োগ্যাসে পানি মিশ্রিত থাকে, সেহেতু পানি জমে থাকার সম্ভবনা থাকবে না। পাইপের এক মাথা একটি প্লাস্টিক পাইপের সাহায্যে প্লান্টের সরবরাহ লাইনে এবং অন্য মাথাটি চুলা, হ্যাজাক, লাইট, জেনারেটর ইত্যাদির সাথে টি-এর সাহায্যে যুক্ত করে নিতে হবে।
৩ মিটার (১০৫) ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনক্ষম স্থিরডোম বায়োগ্যাস প্লান্ট নির্মাণের উপকরণ সমূহের পরিমাণ এবং মূল্য ১৯৯৪ সালের বাজর অনুসারে দেয়া হল। ১ হাজার ইট ২,৭০০ টাকা, ১২ বস্তা সিমেন্ট, ২,৭০০ টাকা, ১২০ ঘনফুট বালু ৫০০ টাকাক, আরসিসি পাইপ ১২ ফুট ১৫০ টাকা, রাজমিস্ত্রি ৮ জন ৮০০ টাকা, হেলপার ১২ জন ৬০০ টাকা, গ্রঅস বাল্ব (শর্ট পিসসহ) ১টি ১০০ টাকা, মোম ২ কেজি ১০০ টাকাক, বার্নার ১টি ৫০০ টাকাক, হ্যাজাক ১টি ৫০০ টাকা, পাইপ ২০০ টাকা, কুয়া খনন ৫০০ টাকা এবং অন্যান্য খরচ ২০০ টাকা মিলে মোট ৯,৫৫ টাকা আনুমানিক খরচ হবে। এ জাতীয় একটি গ্যাস প্লান্টের স্থায়িত্ব হবে অন্তত ৩০ বছর।

বর্তমানে বাংলাদেশে গরু-মহিষের সংখ্যা আনুমানিক ২ কোটি ২০ লাখ। এই গরু-মহিষ থেকে দৈনিক প্রাপ্ত গোবরের পরিমাণ ২২০ মিলিয়ন কেজি। প্রতি কেজি গোবর থেকে ১.৩ ঘনফুটগ্যাস হিসাবে বছরে ১০৯ ঘনমিটার গ্যঅস পাওয়া সম্ভব যা ১০৬ টন কেরোসিন বা কয়লার সমান। এ ছাড়াও হাঁস-মুরগি, ছাগল-ভেড়া ইত্যাদির মলমূত্র থেকে এবং আবর্জনা, কচুরপানা বা জলজ উদ্ভিদ থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বায়োগ্যাস পাওয়া সম্ভব। শুধু তাই নয়, গ্যাসহিসাবে ব্যবহারের পর ঐ গোবর জমির জন্য উৎকৃষ্ট মানের জৈব সার হিসাবে ব্যবহার করা সম্ভব। তাই প্রতিটি পরিবারকে বায়োগ্যাস প্লান্টের সাথে যুক্ত করতে পারলে জ্বালানি সঙ্কট দূর করে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং উন্নত গ্রামীণ জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা সম্ভব।
তথ্য সূত্র: শাইখ সিরাজ রচিত ‘মাটি ও মানুষের চাষবাস’ গ্রন্থ থেকে সংগ্রহীত

বাণিজ্যিক পোল্ট্রি খামার পরিকল্পনা , বয়লার মুরগী পালন ও পরিচর্যা, এক দিনের বাচ্চা পরিবহনের ব্যবস্থাপনা

আমাদের দেশে প্রাণীজ আমিষের অভাব খুবই প্রকট। আমিষের এ অভাব মেটাতে মুরগি পালনের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান বিশেষ জরুরী। খুব অল্প সময়ে অল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে সাম্প্রতিক সময়ে মুরগি পালন একটি লাভজনক ও সম্ভাবনাময় কৃষি শিল্প হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সঠিক পরিকল্পনায় মুরগি খামার স্থাপনের মাধ্যমে মুরগি পালনকে লাভজনক করে তোলা যায়। মুরগি খামার দু’ধরনের হতে পারে। যেমন-পারিবারিক মুরগি খামার ও বাণিজ্যিক মুরগি খামার। পারিবারিক মুরগি খামারে অল্পসংখ্যক মুরগি পালন করে সে অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পরবর্তীতে বাণিজ্যিক মুরগি খামার গড়ে তোলা যায়। উৎপাদনের উদ্দেশ্যের ওপর ভিত্তি করে মুরগির খামার বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। মাংস উৎপাদনের জন্য মুরগি পালন করলে একে বলা হয় ব্রয়লার খামার। আবার ডিম উৎপাদনের জন্য খামার করলে একে বলা হয় লেয়ার খামার। তবে যে খামারই স্থাপন করা হোক না কেন তা লাভজনক করতে চাইলে প্রয়োজন সুষ্ঠু পরিকল্পনা, বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থাপনা ও সঠিক পরিচালনা।

বাণিজ্যিক মুরগি খামারের জন্য স্থান নির্বাচন
মুরগির খামার একটি স্থায়ী ব্যবস্থা। খামার বলতে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মুরগি প্রতিপালন করার জন্য নির্দিষ্ট স্থানকে বুঝায়। মুরগির খামার বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে, যেমন ডিম উৎপাদন খামার, মাংস উৎপাদন খামার, প্রজনন খামার, ব্রিডার খামার, বাচ্চা উৎপাদন খামার ইত্যাদি। যে ধরনের মুরগি খামারই স্থাপন করা হোক না কেন সাফল্যজনকভাবে খামার পরিচালনার জন্য এর স্থান নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কৌশল। খামারের জন্য স্থান নির্বাচনের সময় নিচের বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখতে হবে। যেমন-

খামারের স্থান উঁচু হওয়া উচিত। খামার এমন স্থানে গড়তে হবে যেখানে বন্যার পানি কখনও প্রবেশ করতে না পারে।

যে স্থানে খামার করা হবে সেখানকার মাটি বালু ও কাঁকর মিশ্রিত হতে হবে এবং মাটির পানি শোষণ ক্ষমতা থাকতে হবে।

খামার স্থাপনের জন্য নির্বাচিত স্থানে পানি নিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা থাকতে হবে।

খামারের স্থানটি মানুষের বাড়িঘর থেকে দূরে কোলাহলমুক্ত জায়গায় হতে হবে।

যে স্থানে খামার করা হবে সেখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হতে হবে। মানুষের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত মূলপথ থেকে অন্তত আধা কিলোমিটার দুরে খামারের স্থান নির্বাচন করা উচিত।

যেখানে খামার করা হবে সেখানে বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে।

খামারের স্থান নির্বাচনের সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যেন আশেপাশে সস্তায় ও সহজে মুরগির খাদ্য ক্রয় করার সুযোগ-সুবিধা থাকে।

খামারে উৎপাদিত পণ্য, যেমন-ডিম, মুরগি ইত্যাদি সহজে বাজারজাতকরণের সুযোগ থাকতে হবে।

খামার স্থাপনের জন্য নির্বাচিত স্থানের মূল্য তুলনামূলকভাবে কম কি না সেটাও বিবেচনা করতে হবে।

বাণিজ্যিক মুরগি খামার পরিকল্পনায় বিবেচ্য বিষয়সমূহ
যে কোন খামার বা শিল্পে বাণিজ্যিকভাবে সফলতা লাভের জন্য চাই সুষ্ঠু পরিকল্পনা। বাণিজ্যিক মুরগি খামার ব্যবস্থাপনায় তিনটি মৌলিক চাহিদা পূরণের নিশ্চয়তা বিধান করতে হয়, যথা-
১. মুরগির খাদ্য,
২. বাসস্থান ও
৩. রোগ দমন। মুরগির খামার একটি বিশেষ ধরনের শিল্প।

তাই এ খামার প্রতিষ্ঠার জন্য মূল বিষয় ছাড়াও আনুসাঙ্গিক বিষয়গুলো বিশেষ বিবেচনায় রাখতে হয়। মুরগির খামার পরিকল্পনার সময় নিম্নবর্ণিত বিষয়গুলো অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে।

১। জমির পরিমাণ
বার্ষিক যত সংখ্যক ডিম/ব্রয়লার উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হবে তদনুযায়ী লেয়ার/ব্রয়লার প্রতিপালনের ঘর এবং অন্যান্য সুবিধা, যেমন- অফিস, শ্রমিক ঘর, খাদ্য গুদাম, মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণের ঘর, সংরক্ষণাগার ইত্যাদি তৈরির জন্য মোট জায়গার সঙ্গে আরও প্রায় ১.৫ গুণ ফাঁকা জায়গা যুক্ত করে খামারের মোট জমির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়।

২। মুরগির বাসস্থান
নিরাপদ ও আরামে থাকার জায়গার নাম বাসস্থান। বাসস্থান নিরাপদ রাখতে হলে নির্বাচিত স্থানের উপযোগী দ্রব্যসামগ্রী দিয়ে তা এমনভাবে তৈরি করতে হবে যাতে ঝড়বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দূর্যোগে সহজে ক্ষতিগ্রস্থ না হয়। বাসস্থানের অভ্যন্তরীণ চাহিদা, যেমন-পরিমাণমতো থাকার জায়গা, প্রয়োজনীয় সংখ্যক খাদ্য ও পানির পাত্র, তাপ ও আলো এবং বায়ু চলাচলের সুব্যবস্থা থাকতে হবে। পালনকারীর সামর্থ্যরে ওপর নির্ভর করে ঘর পাকা, কাঁচা বা টিনের হতে পারে। প্রজাতি বা স্ট্রেইন অনুযায়ী যতগুলো মুরগি রাখা হবে এদের মোট জায়গার পরিমাণ হিসেব করে ঘর তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি দুইটি ঘরের মাঝে ২৫-৩০ ফুট বা ততোধিক জায়গা আলো ও মুক্ত বাতাস প্রবাহের জন্য খালি রাখা দরকার।

ক) ঘর তৈরিঃ
বাজারজাত করার বয়স পর্যন্ত প্রতিটি ব্রয়লারের জন্য ১ বর্গফুট জায়গার প্রয়োজন। এভাবে হিসেব করে ব্রয়লার উৎপাদনের সংখ্যার উপর ভিত্তি করেই ঘরের সংখ্যা নির্ধারণ করতে হবে। সাদা খোসার ডিম উৎপাদনকারী প্রতিটি মুরগির জন্য ৩ বর্গফুট জায়গা এবং বাদামি খোসার ডিম উৎপাদনকারী মুরগির জন্য ৪ বর্গফুট জায়গা হিসেব করে থাকার ঘর তৈরি করতে হবে। এসব মুরগি খাঁচায়, মাচায় অথবা লিটার পদ্ধতিতে পালন করা যায়। পালন পদ্ধতির উপর নির্ভর করে ঘরের পরিমাণ ভিন্ন ধরনের হতে পারে। খাঁচা পদ্ধতিতে প্রতিটি উৎপাদনশীল মুরগির জন্য কেইজে ৬০-৭০ বর্গইঞ্চি জায়গা প্রয়োজন হবে। কাজেই এ হিসেবে খাঁচা তৈরি করা হয়। খাঁচার সারি লম্বালম্বিভাবে এক সারি বা একটার উপর আরেকটা রেখে ৩/৪ সারি করা যায়। আবার সিঁড়ির মতো করে সাজিয়ে উভয় পার্শ্বেও সারি করা যায়। প্রতিটি উৎপাদনশীল মুরগির জন্য প্রয়োজনীয় জায়গার পরিমাণ মাচায় ১.২-১.৩ বর্গফুট এবং লিটারে ১.৫-১.৭৫ বর্গফুট। মুরগির দৈহিক ওজন এবং আবহাওয়াভেদে এই পরিমাপের পরিবর্তন হতে পারে। লিটার পদ্ধতিতে সাধারণত প্রতি ১০ বর্গফুট মেঝের জন্য ৫ কেজি লিটার প্রয়োজন হয়। এ পদ্ধতিতে পালন করতে মুরগির ঘরের মেঝে পাকা হলে ভালো হয়। কাঁচা মেঝের ক্ষেত্রে শক্ত এঁটেল মাটির মেঝে হলেও চলবে। তবে এ ধরনের মেঝে বর্ষাকালে স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে যেতে পারে। শুকনো বালির মেঝের ক্ষেত্রে বর্ষাকালে সমস্যা হতে পারে।

খ) ঘরের চালা ও বেড়ার নমুনাঃ
বাংলাদেশের পরিবেশে দোচালা বা গেবল টাইপ চালই মুরগির জন্য বেশি আরামদায়ক। লেয়ারের ঘরের বেড়ার উচ্চতার পুরোটাই তারজালি দিয়ে তৈরি করতে হবে। বেশি বাতাস বা বেশি শীত হতে মুরগিকে রক্ষা করার জন্য বেড়ার ফাঁকা অংশ প্রয়োজনে ঢেকে দেয়ার জন্য চটের পর্দার ব্যবস্থা করতে হবে। ব্রয়লার লালন-পালনের সুবিধার্থে প্রথম সপ্তাহে ৯৫০ ফা থেকে কমাতে কমাতে ষষ্ঠ সপ্তাহে ৭০০ ফা-এ নামিয়ে আনার জন্য বেড়ায় বেশি ফাঁকা জায়গা রাখা যাবে না। কিন্তু প্রয়োজনীয় বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এজন্য দেয়ালের উচ্চতার ৬০% তারজালি দিয়ে তৈরি করতে হয়। তবে শীতের দিনে তারজালির এ অংশটুকু চটের বস্তা দিয়ে ঢাকার ব্যবস্থা করতে হবে।

গ) ডিম পাড়ার বাসাঃ
মাচা অথবা লিটারে পালন পদ্ধতিতে প্রতি ৫টি মুরগির জন্য ১টি করে ডিম পাড়ার বাসা সরবরাহ করতে হয়। প্রতিটি বাসা দৈর্ঘ্যে ১ ফুট, প্রস্থে ১ ফুট ও গভীরতায় ১.৫ ফুট হওয়া প্রয়োজন। খাঁচা পদ্ধতিতে পালন করলে আলাদাভাবে ডিম পাড়ার বাসা বা বাক্স লাগে না। খাঁচাগুলো ঢালসহ এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে করে মুরগি ডিম পাড়া মাত্রই ডিমগুলো গড়িয়ে গড়িয়ে খাঁচার সামনে গ্রিলের ফাঁক দিয়ে বাইরের বর্ধিত অংশ এসে জড়ো হতে পারে।

ঘ) আলোকায়নঃ
লেয়ারে দৈনিক (২৪ ঘন্টায়) আলোর প্রয়োজন হবে ১৬ ঘন্টা। কৃত্রিম আলোর ব্যবস্থা বছরের ছোট-বড় দিন অনুযায়ী দৈনিক ২.৫ ঘন্টা হতে ৪ ঘন্টা পর্যন্ত হবে। আলোর উৎস বৈদ্যুতিক বাল্ব। যেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ নেই সেখানে উজ্জ্বল হারিকেনের আলোর ব্যবস্থা করতে হবে। বাল্বের শক্তি হবে ৪০ ওয়াট, আলোর রং স্বাভাবিক, আলোর তীব্রতা মৃদু (২০ লাক্স) হবে। ১টি বাল্বের আলোকায়ন এলাকা ১০০০ বর্গ ফুট। বাল্ব স্থাপনের এক পয়েন্ট হতে আরেক পয়েন্টের দূরত্ব হবে ২০ফুট। প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম যে কোনো উৎস থেকেই ব্রয়লার গৃহে আলোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। প্রথম সপ্তাহে ব্রয়লার গৃহে খাবার ও পানি দেখার জন্য সারারাত আলোর ব্যবস্থা করতে হবে। দ্বিতীয় সপ্তাহ হতে রাতের বেলায় মাঝে মাঝে আলো নিভিয়ে আবার জ্বালাতে হবে এবং এভাবে সারারাত মৃদু আলো জ্বালিয়ে রাখতে হবে। সাধারণত প্রতি ১০ বর্গফুটের জন্য ৫ ওয়াট পরিমাণ আলো প্রয়োজন।

৩। মুরগির খাদ্য ব্যবস্থাপনা
খাদ্যের গুণগত মান, খাদ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা, খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ, প্রতি কেজি খাদ্যের দাম, খাদ্য হজমের দক্ষতা প্রভৃতি খাদ্য ব্যবস্থাপনার অন্তর্ভূক্ত। খাদ্য খরচ মোট উৎপাদন ব্যয়ের প্রায় ৬০-৭৫% এবং খাদ্যের গুনাগুণ ও মূল্যের ওপর লাভলোকসান নির্ভর করে। সেজন্য খামার ব্যবস্থাপনায় খাদ্যের গুরুত্ব অনেক বেশি। কিন্তু বাসস্থানের পরিবেশ অনুকূল ও আরামদায়ক না হলে শুধু খাদ্য দিয়ে তার অভিষ্ট লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়। তেমনি খামার রোগমুক্ত না হলেও তা লাভজনক হবে না। তাই খাদ্য সংগ্রহ করা সহজ কি না এবং খাদ্যের মূল্য ন্যায্য কি না তা বিবেচনা করে খামার স্থাপন করতে হবে।

লেয়ার মুরগির সংখ্যা অনুসারে প্রতিটি মুরগির জন্য দৈনিক ১১০-১২০ গ্রাম খাদ্যের প্রয়োজন হিসেবে কমপক্ষে ২ মাসের খাদ্য সংরক্ষণাগার তৈরি করতে হয়। প্রতিটি ব্রয়লার ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত ৪ কেজি খাদ্য খাবে। তাই এ পরিমাণকে ব্রয়লারের মোট সংখ্যা দিয়ে গুণ করে যে ফল দাঁড়াবে সে পরিমাণ খাদ্য ধারণক্ষমতাসম্পন্ন গুদাম তৈরি করতে হবে। বয়সভেদে ব্রয়লারের জন্য ২.৫-১০ সেন্টিমিটার লম্বা খাদ্যের পাত্র বা ফিড ট্রাফের প্রয়োজন। সাধারণত ৫০টি বাচ্চার জন্য একটি খাদ্যের লম্বা ট্রে বা পাত্র এবং তদনুযায়ী পানির পাত্র প্রতি ১০০টি বাচ্চার জন্য প্রবহমাণ পানির ১টি ড্রিংকার প্রয়োজন হয়।
মুলধনের অবস্থা কী? নিজের টাকা আছে না কি এসব হিসাব করে ব্যাংক থেকে ঋণ করতে হবে। মূলধনের উপর ভিত্তি করেই খামার স্থাপনের জমি, বাসস্থানের আকার ও সংখ্যা, প্রয়োজনীয় খাদ্যের পরিমাণ অনুসারে গুদামের ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় খাদ্য ও পানির পাত্র, ব্র“ডিং যন্ত্রপাতি, খামার পরিচালনার লোকজনের জন্য অফিসসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করতে হবে।

খামার স্থাপন ও পরিচালনার হিসাব
খামার স্থাপন ও পরিচালনার খরচ দুইভাগে বিভক্ত। যথা-

ক) স্থায়ী খরচঃ স্থায়ী খরচের খাতওয়ারী হিসেব নিম্ন্নরূপ-

খামারভুক্ত জমির মূল্যঃ এলাকা অনুযায়ী প্রতি বিঘা জমির মুল্য কমবেশি হয়ে থাকে।

মুরগির গৃহায়ণ ব্যবস্থা বাবদ খরচঃ ঘর তৈরির সাজসরঞ্জাম বিভিন্ন রকমের হতে পারে। যথা-বাঁশ, টিন বা বিচালী, মাটির ঘর, ইট, সিমেন্ট বা পাকা দালান ঘর। ঘর তৈরির সাজসরঞ্জাম অনুযায়ী প্রতি বর্গফুট ঘর তৈরির খরচ, তা যেভাবেই ঘর তৈরি করা হোক না কেন প্রতি বর্গফুট হিসেবে খরচ ধরে ঘরের মোট খরচ বের করতে হবে।

ম্যানেজারের অফিস, ডিম/মাংস সংরক্ষণাগার, খাদ্য গুদাম, খাদ্য ছাড়া অন্যান্য জিনিসপত্র রাখার স্থান, শ্রমিকদের বিশ্রাম ঘর, অসুস্থ ও মৃত মুরগি রাখার জায়গা নির্মানবাবদ খরচ।

আসবাবপত্র ক্রয় বা তৈরি ও যানবাহন ক্রয়বাবদ খরচ, খাবার ও পানির পাত্রের দাম, ডিম পাড়ার বাক্সের দাম ও ডিম রাখার ঝুড়ি কেনার জন্য খরচ।

খ) আবর্তক বা চলমান বা চলতি খরচঃ আবর্তক খরচের খাতওয়ারী হিসেব নিম্নরূপ-

মুরগি সংক্রান্ত খরচঃ ডিমের ব্যবহার অনুযায়ী ডিমপাড়া মুরগির খামার দু’প্রকার। যথা-নিষিক্ত বা বাচ্চা ফুটানোর ডিম উৎপাদন খামার এবং অনিষিক্ত বা খাবার ডিম উৎপাদন খামার। খাবার সাদা বা বাদামি খোসার ডিম বা বাচ্চা ফুটানোর ডিম উৎপাদনকারী মুরগি বা বাচ্চা কোথায় পাবেন, আপনি সেগুলো আনতে পারবেন কি না সে ব্যাপারেও নিশ্চিত হতে হবে। নিষিক্ত ডিম বা ডিমের জন্য প্রজননক্ষম পুলেট ও ককরেলের মূল্য, অনিষিক্ত বা খাওয়ার ডিম উৎপাদনের জন্য উন্নতমানের হাইব্রিড পুলেটের মূল্য অথবা একদিন বয়সের ব্রয়লার বাচ্চা ক্রয়ের খরচ।

সুষম খাদ্যের মূল্যঃ মাথাপিছু দৈনিক ১১০-১২০ গ্রাম হিসাবে।

লিটার কেনাবাবদ খরচ। খাঁচায় মুরগি পালন করলে মেঝে পাকা হলেই ভালো।

প্রতিষেধক টিকা এবং চিকিৎসায় ওষুধপত্রের মূল্য।

খামার পরিচালনায় জনবলের বেতনভাতা খরচ, ম্যানেজারের বার্ষিক বেতনভাতা, অফিস স্টাফের বার্ষিক বেতনভাতা ও শ্রমিকদের বার্ষিক বেতনভাতা।

পরিবহন ও যাতায়াত খরচ, বিভিন্ন কাজে ম্যানেজারের যাতায়াত খরচ এবং খাদ্য সংগ্রহ, ডিম বাজারজাতকরণ ও ডিমপাড়া শেষে মুরগি বিক্রির জন্য পরিবহন খরচ।

মুলধনের সুদঃ ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে মূলধনের উপর বার্ষিক সুদ।

ডিপ্রিসিয়েসন বা অপচয় খরচঃ জমিবাদে স্থায়ী খরচের অপচয়ের শতকরা হার ইত্যাদি যত খরচ হয় সব যোগ করে বার্ষিক খরচ/ মোট খরচের হিসেব রাখতে হবে।

মেরামত খরচ এবং বিদ্যুৎ ও পানির বিল বাবদ খরচ

এডভারটাইজিং বা বিজ্ঞাপন বাবদ ব্যয়

নষ্ট বা বাদ যাওয়া ডিমের মূল্য, ডিম বাছাই ও ছাঁটাই খরচ, যতগুলো ডিম বিক্রির অনুপযুক্ত হলো তার মূল্য।

অসুস্থ বা মৃত মুরগির মূল্য

খামার হতে সম্ভাব্য বার্ষিক আয়

ডিম বিক্রিঃ লেয়ার খামারের ক্ষেত্রে বার্ষিক গড়ে ৭০-৭৫% হারে উৎপাদন ধরে বর্তমান বাজার দরে ডিমের মোট মূল্য।

ডিম পাড়া শেষে মুরগির মূল্যঃ শতকরা ৮৮টি মুরগি সুস্থ অবস্থায় বেঁচে থাকার ক্ষমতা আছে এ হিসেবে ডিম পাড়া শেষে বাজার দরে মোট মূল্য।

ব্রয়লার খামারের ক্ষেত্রে গড়ে ৮ সপ্তাহ পর পর মাংসের জন্য মুরগি বিক্রি।

প্রতিটি মুরগি থেকে বছরে প্রায় ৩০ কেজি বিষ্ঠা পাওয়া যেতে পারে। এভাবে হিসেব করে বর্তমান বাজার দরে মোট বিষ্ঠা বা সারের মূল্য।

অকেজো আসবাবপত্র বিক্রিবাবদ মোট আয়।

খামার হতে বার্ষিক কত টাকা লাভ হতে পারে তা নির্ধারণ করতে হবে। অনুমেয় অর্থ মুনাফা করতে হলে খামারজাত পণ্য হতে শতকরা ১০-১২ হারে টাকা হারে লাভে মোট কত টাকা আয় হতে পারে তা হিসেব করতে হবে। বর্তমান বাজার দরে কতগুলো ডিম বিক্রি করলে এ নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা আয় করা যায় তা হিসেব করতে হবে। একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। যেমন-বার্ষিক গড়ে ৭০-৭৫% হারে খাবার ডিম বা অনিষিক্ত ডিম উৎপাদন এবং ৬০-৬৫% হারে বাচ্চা ফুটানো বা নিষিক্ত ডিম উৎপাদন ধরে, প্রতিটি ডিম গড়ে ২.৫০-৩.০০ টাকা হিসেবে বিক্রি করা গেলে এবং বছর শেষে ৮৮% মুরগি নীরোগ ও স্বাস্থ্যবান থাকলে আর অবশিষ্ট অনুৎপাদনশীল মুরগি বিক্রি করে ও উৎপাদন খরচ বাদে ১০-১২% লাভ থাকবে। এ জাতীয় হিসেব করে পরিকল্পনা করতে হবে। এভাবে মোট আয় থেকে মোট ব্যয় বাদ দিয়ে প্রকৃত লাভ-লোকসান নির্ধারণ করতে হবে। উপরোক্ত বিষয়সমূহ ভালোভাবে চিন্তাভাবনা করে খামার স্থাপনের পরিকল্পনা করা উচিত।

লেখক: ডাঃ মোঃ মোস্তফা কামাল
ভেটেরিনারি সার্জনউপজেলা পশুসম্পদ অফিসফুলছড়ি, গাইবান্ধা।

বয়লার মুরগী পালন ও পরিচর্যা।

এই চারটি দেশই সমস্ত জগতের ব্রয়লার মুরগির ব্যবস্থা নিয়ন্ত্র করে। ব্রয়লার আর সাধারণ পাঁচটা মরগির মতো। তবে খুবই উচু জাতের যাদের সৃষ্টি করা হয়েছে প্রচন্ড নির্বাচন এবং বংশগতি ধারার বিশেষ ক্রম অনুসারে।

ব্যবসায়ের জন্য ব্রয়লার মুরগি নির্বাচনঃ
(১) একদিনের বাচ্চার ওজন হবে ৩৬ থেকে ৪০ গ্রাম। দেখা গেছে এদিনের বাচ্চার দেহের ওজন যদি ভাল হয় তবে বেচার সময় ব্রয়লার মুরগির ওজন ভালই দাড়াবে।

(২) বংশগতি ধারার ভাল ক্রিয়াকর্মঃ যদি ভাল বংশগতি ধারার মুরগির বাচ্চা না হয় তবে ব্যবসায় খুব এটা সুবিধা হবে না। প্রায়ই সময় দেখা যায় একদল ব্রয়লার মুরগি অন্য দলের চেয়ে ভাল বাড়ে, বেশি সংখ্যায় বাছে, সুলক্ষণযুক্ত, সমান এবং বেশ ভালো পরিমাণে দেহে মাংস লাগায় সুষম খাদ্য খাওয়ার অনুপাতে । যে বাচ্চা মুরগির প্রেরক অবশ্যই শৃঙ্খলের কায়দার মুরগির বাচ্চা দিয়ে যাবে। এই নিয়মের ব্যতিক্রম হলেই সম্পূর্ণ ব্যবসাটি মার খাবে। আরো ভাল হয় যদি হ্যাচারি সংস্থা সমপ্রসারণ এবং কারিগরি জ্ঞান দরকার পড়লে দিতে পারে।

(৩) সুষম খাদ্য খুব উচুদের হওয়া চাই। অর্থাৎ খাওয়ার অনুপাতে দেহে যেন মাংস লাগে। খুব তাড়াতাড়ি বাড়ার জন্য ব্রয়লারের দরকার একই সঙ্গে উচ্চু পর্যায়ে আমিষ এবং শক্তি বা বেশি তাপ দিতে পারে এমন খাবার। ০-৬ সপ্তাহের ব্চাচার জন্য ব্রয়লার সুশস খাদ্যে থাকবে প্রতি কেজি খাবারে আমিষ ২২.২৪% , বিপাকীয় তাপ ২৯০০-৩০০০ কিলোক্যালরি। ব্জারে যাবার আগে ব্রয়লার মুরগির সুষম কাদ্যে থাকবে ১৯-২০%, বিপাকীয় তাপ ৩০০০/৩২০০০ কিলো ক্যালরি প্রতি কেজি খাবারে। ব্রয়লার বাজারে যাবার আগের খাবার ৫-৬ সপ্তাহ বয়সে দেওয়া যেতে পারে।

(৪) আমি ষ বিশেষ করে অ্যামাইনো অ্যাসিডগুলির মধ্যে লাইসিন এবং মেথিও নাইন খবুই গুরুত্বপূর্ণ । কারণ এরা মুরগির বাড়ের জন্য সাহায্য করে। খাবারকে মাংসে পরিনত করে। ফলে ব্রয়লার ব্যবসায়ে পয়সা আসে।

(৫) ব্রয়লার মুরগির খাবারে মোটা আশের শতকরা হার ৬ এর বেশিদ কখনোই হবে না।

(৬) ভিটামিন A, B2, D3, B12 এবং K ভীষন প্রয়োজনীয়।

(৭) পটাসিয়াম, আয়োডিন, ম্যাঙ্গানিজ সালফেট এবং জিঙ্ক কার্বনেট পৃথকভাবে ভাল করে মিশিয়ে মুরগিকে খাওয়ানো উচিত।

(৮) ব্রয়লার মুরগির খাবারে বীজঘ্ন নামমাত্র পরিমাণে মেশানো উচিত। লাভটা এই হবে বাচ্চা মুরগির দেহে সুপ্তভাবে যদি কোন রোগ থেকে থাকে তবে এই বীজঘ্ন খাওয়াবার দরুন মুরগির দেহে চট করে রোগাক্রমণ ঘটবে না।

ব্রয়লার মুরগি থেকে ভাল লাভ করতে হলে খামারীদের যা করনীয়

ব্রয়লার মুরগি খাবারে এলো আর গেল নীতি মানাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। পলে খামারে একই বয়সের মুরগি থাকবে। এবং এ বয়সী মুরগি থেকে অপর বয়সী মুরগিদের মধ্যে রোগ ছড়াতে পারবে না।

খামার ঘর পূর্ব পশ্চিম দিক করে হবে। বায়ু চলাচল ব্যবস্থা ভারো থাকা দরকার। মুরগির ঘরগুলির পরস্পর দূরত্ব হবে ১১-১২ মিটার (৩৫-৪০ ফুট)।

খামার বাড়ি তৈরী করাঃ
ঘরে মুরগি আসার আগে ঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা, ব্লো ল্যাম্প দিয়ে ফাক ফোকরগুলিতে পোকা মাকড় (উকুন, ছোট বড় এটুলি) মেরে দেওয়া। বাচ্চা মুরগির জায়গা গরম ব্যবস্থা, মুরগি আসবার ৪৮ ঘন্টা আগে পরীক্ষা নিরিক্ষা করে নেওয়া উচিত।
ব্রুডারকে খবরের কাগজ দিয়ে ঘিরে দিতে হবে। তাপমাত্রা হওয়া দরকার ৩৫০ সেঃ (৯৫০ ফাঃ)।

ব্রয়লার বাচ্চার জন্য মেঝেতে জায়গা দিতেঃ বাচ্চা পিছু জায়গা দিতে হবে ৪৫ বঃ সেমি (৭ বাঃ ইঞ্চি)। কখনোই যেন গুচ্ছের মুরগি গুদামজাত করা না হয়। বেশি বচ্চার সংখ্যা হলে পরস্পরকে কামড়া কামড়ি করবে। খাবার এবং পানির জন্য লড়াই করবে ফলে বাচ্চা দুর্বল হয়ে পড়বে। এতে ক্ষতি হবে ব্যবসার।

খাবার এবং পানির জায়গাঃ
প্রথম কদিন ডিম নেবার কাটুনে কাবার দেওয়া হলে চলবে। বাচ্চা পিছু খাবার জায়গা দিতে হবে ২.৫ সিমে (১")। এই ব্যবস্থা চলবে বাচ্চার ১ সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত। প্রথম প্রথম খাবারের জায়গা পুরো ভরে দিলে চলবে। কিন্তু একটু বড় হয়ে যাবার পর খাবারের জায়গা আধা আধি ভর্তি করতে হবে। এভাবে চললে খাবার নষ্ট কম হবে। দিনে ৪ বার খাবারের জায়গায় দখাবার দিলে চলবে। খাবারের জায়গা বার বার ভরে দিলে মুরগি বাড়ে ভাল। ৪ সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত মুরগি প্রতি খাবারের জায়গা হবে ৫ সেমি। পরে বেড়ে সেটা দাড়াবে ৭.৫ সেমি (৩")। সমস্ত দিনভর বাচ্চাদের পরিষ্কার ঠান্ডা পানি জুগিয়ে যেতে হবে। পানির জায়গা বেশি সংখ্যায় দিতে হবে। মনে রাখতে বাচ্চা ডিমপাড়া মুরগি থেকে ব্রয়লার বাচ্চা বেশি পানি খায়। গরমকালে, বিশেষ করে গরম প্রবাহ চললে মুরগি প্রচুুর পানি খেয়ে নিজেকে ঠান্ডা করার চেষ্টা করে।

শাবক ঘর এবং শাবক ঘরের তাপমাত্রাঃ
বাচ্চার ঝাঁক আসবার অন্তত ৪৮ ঘন্টা আগে ঘরটি পরীক্ষা করতে হবে। পট্রথম সপ্তাহে শাবক ঘরের তাপমাত্রা হবে ৩৫০ সেঃ (৯৫০ ফাঃ)। শাবক ঘরের তাপমাত্রা প্রতি সপ্তাহ ৫০ ফাঃ বা ২.৮০ সেঃ হিসেবে কমানো যেতে পারে। সেটা অবশ্য নির্ভর করবে বাইরের আবহাওয়ার ওপর।

শীতকারীন পরিচালন ব্যবস্থাঃ
বাচ্চা মুরগির বিছানা ৫" থেকে ৬" গভীর হবে। সুবিধা হলেই বিছানার ওপরে নতুন একটা বিচুলি/ খড়ের আস্তরণ দিয়ে দেওয়া ভাল। সপ্তাহে ঙ্গ বার কাটা কোদাল দিয়ে বিছানা ঘেটে দেওয়া ভাল। বিছানার জলীয় ভাব বেশি হলে চুন দিয়ে নেওয়া উচিত। চুন অ্যামোনিয়া গ্যাস শুষে নেয়।

ব্রয়লার মুরগির বাজারঃ
ব্রয়লার মুরগির পৃথিবীর জুড়ে এটাই সমস্যা। ৫০, ১০০, ২০০, ৩০০, ৫০০, ১০০০ বা তারও বেশি শৃঙ্খল বা চেইন নিয়মে বিক্রি হয় বলে বাজার আগে থেকেই তৈরি করে নিতে হয়। অর্থাৎ কতজন খাবে জেনে নিয়ে ভাত বসানোর মত। হোটেল, রেষ্টুরেন্ট, ক্যান্টিন, হোস্টেল প্রভূতি শৃঙ্খল নিয়ংমে ব্রয়লার বড় মুরগি নিয়ে থাকে। এলাকা যদি খুব ঘনবসতিসম্পন্ন হয় তবে শৃঙ্খলেরত খুব জোর ৫০ থেকে ১০০টি মুরগি ২ দিনে বিক্রি করা সম্ভব। যেখানে সুনিশ্চিত বাজার আছে সেখানে ৩০০ গ্রাম, ৫০০ গ্রাম এবং কেজি হিসেবেও বিক্রি করা যেতে পারে।

ব্রয়লার মুরগির সুষম খাদ্যের রকমফেরঃ
(১) পাউডার বা ধুলোর মত
(২) গুলি বা ওষুধের মত ছোট ছোট ট্যাবলেটের আকারে। সাধারণত ধুলোর ম্যাস করেই ব্রয়লার মুরগিকে খাওয়ানো হয়। বিভিন্ন পদ্ধতিতে খাইয়ে দেখা গেছে ৬ থেকে ১১% খাবারকে মাংসে পরিণত করা হয়েছে এবং শেষমেষ খামারির লাভ হয়েছে ৩ থেকে ১২% । অবশ্য এটা উৎপাদনের দিক থেকে । ইওরোপে ৯০% মত খাবার বস্তু ফের গুলির আকারে পরিবেশন করা হয়। আমেরিকায় ৫০% সংস্থা মুরগির সুষম খাদ্য ফের গুলির আকারে পরিবেশণ করে থাকে।

ব্রয়লার মুরগির ব্যবসায়ে সতর্কতা
ব্রয়লার মুরগির ব্যবসায়ে নিচের সতর্কগুলি মনে রাখা উচিতঃ
(১) ব্রয়লার উৎপাদনে ৬০ থেকে ৬৫% টাকা খাবারের পেছনে খরচ হয়।
(২) সুষম খাদ্যে অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় জিনিস খাওয়ালে অতিরিক্ত দাম পাওয়া যায় না। কিন্তু গরম আবহাওয়া বা প্রবাহে আপনাকে অতিরিক্ত চর্বি বা তেল দিতেইত হবে।
(৩) ব্রয়লার মুরগি তার সুষম খাবারের ৬৪% আমিষ দেহের কাজে লাগাতে পারে। ব্রয়লারের প্রয়োজনীয় আমিষ তিন ভাগে ভাগ করা যেতে পারে-
(ক) কলা বৃদ্ধির জন্য; ব্রয়লার মুরগির শরীরে ১৮% আমিষ আছে।
(খ) দেহের ক্ষয় রোধের জন্য; ব্রয়লার প্রতিদিন তার দেহের কেজি হিসেবে ওজনের ১৬০০ মিঃ গ্রাঃ আমিষ ক্ষয় করে।
(গ) পালক গঠনের জন্য; ব্রয়লার মুরগির পালকে ৮২% আমিষ আছে এবং গড়ে পালকের ওজন সমস্ত দেহের দ৭০%।

গরমকালে ব্রয়লার সুষম খাদ্যে বেশি আমিষ দরকার শীতকালের তুলনায়। কারণটা হল মুরগি গরমকালে কম কায়।
ঠিক যতটুকু অ্যামাইনো অ্যাসিড দরকার ঠিক ততটুকুই ব্রয়লার মুরগিকে দিতে হবে। কমও নয়, বেশি তো নয়ই। যেহেতু বেশি পরিমাণে অপরিহার্য অ্যামাইনো অ্যাসিড দেহের ক্ষতি করে। কম অ্যামইনো অ্যাসিড আবার দেহের বৃদ্ধিকে রোধ করে দেবে।
মাদি ব্রয়লার মুরগির চেয়ে মদ্দা ব্রয়লার মুরগি তাড়াতাড়ি বাড়ে। সুতরাং খামারের ভালর জন্য মাদি মদ্দা একসঙ্গে না পালন করে আলাদা আলাদা করা লাভজনক। প্রথম চার সপ্তাহ মদ্দা মাদিদ ব্রয়লার মুরগির আমিষের প্রয়োজন একই রকম। ৪ সপ্তাহ পরে মদ্দা ব্রয়লার মাদির চেয়ে ২% থেকে ৪ % বেশি আমিষের দরকার হয়। মাদিকে বেশি আমিষ দিলে সেটা খুব একটা কাজে আসে না।

ব্রয়লার মুরগির জন্য খনিজ এবং ভিটামিন

সত্যিকথা বলতে পরিমাণ এবং উৎকর্ষকতা দুটো ব্রয়লার মুরগির সুষম খাদ্যে দরকার। আরো দরকার খনিজ পদার্থের পরস্পরের মধ্যে সমঝোতা। এই সমঝোতা অবশ্য খাদ্যের উপাদানের সঙ্গেও থাকা দরকার। খনিজ পদার্থের বেশি বা কম হওয়া দুটোই খনিজ পদার্থের মুল উদ্দেশ্য দেহের বাড়কে ব্যাহত করবে। ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাসের মধ্যে সহযোগিতা খুবই দরকারী। খাবারের সমস্ত ক্যালসিয়াম যেন ১% গন্ডি কখনো না পেরিয়ে যায়।

ভিটামিন খাদ্য বিপাক এবং বিশ্লেষণ বিশেষ সহযোগিতা দেখায় । ফলে মুরগির দেহের বাড় ঠিক থাকে। রোগ ভোগ কম হয়। প্রতিটি ভিটামিনের আলাদা আলাদা কাজ আছে যা একই বইতে পরির্বতে বিস্তৃতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

ব্রয়লার খামারের পরিচালন ব্যবস্থা

(ক) খাবারকে দেহে লাগাবার ব্যবস্থাঃ
এটা বের করা হয় ব্রয়লার মোট যে বারটা খেল তাকে ব্রয়লার মুরগির কতটা ওজন পেল সেই ওজনকে দিয়ে ভাগ করে।
(খ) প্রতি কেজি ব্রয়লার ওজনের জন্য কত মুল্যের খাবার খেলঃ
এটা বের করা হয় খাবারকে দেহে লাগাবার অনুপাতকে প্রতি কেজি খাবারের মূল্যকে গুণ করে।
(গ) মোট সুবিধা প্রতি একক মেঝের জায়গা হিসেবেঃ
এটা বের করা হয় মোট খরচকে (বাচ্চার দাম, খাবার, ওষুধ পত্র) ব্রয়লার মুরগি বেচার আয় থেকে এবং বিয়োগফলকে মেঝের বর্গফুটকে ভাগ করে।
শতকরা বাচার হার = ১০০-শতকরা মৃতু্যর হার। উৎপাদন সংখ্যা (ইংরেজিতে বলে production number) একটি আন্তর্জাতিক সংখ্যা। এই সংখ্যার দ্বারা কারিগরির ব্যাপারে অনেক কিছু জানা যায়।
লেখক: আবদুল্লাহ আল মামুন, উপ-পরিচালক, বংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট।

ব্রয়লার পালনে কিছু সমস্যা ও এর প্রতিকার

ব্রয়লার লালন পালনে খামারি ভাইয়েরা মাঝে মধ্যেই নানা রকম সমস্যায় পড়েন। সময় মতো এসব সমস্যা কাটিয়ে ওঠার জন্য খামারিকে চৌকস না হয়ে উপায় নেই। একজন চৌকস খামারি হিসেবে ব্রয়লার পালনে যেসব বিষয়ে নজর রাখতে হবে চলুন সেটা জেনে নিই।

ব্রয়লার পালনে সমস্যা : ব্রয়লার পালনে খামারি ভাইয়েরা যেসব সমস্যায় পড়েন সেগুলো হলোন্ধ
১. গামবোরো রোগ,
২. ওজনে পার্থক্য (একই বয়সের বাচ্চা কিছু দিন পর ছোট-বড় হওয়া),
৩. সমন্বয়হীন বাজারব্যবস্খা,
৪. খামারিদের ওষুধ ব্যবহারের প্রবণতা।

পামবোরো রোগ : খামারি ভাইয়েরা গামবোরো রোগ নিয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন। গামবোরো ভাইরাসের কারণে হয়। এই রোগের কার্যকরী কোনো চিকিৎসা নেই। তবে সময়মতো টিকা দেয়া থাকলে রোগ হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। এই রোগের আক্রমণ যদি ঘটেই থাকে তাহলে উন্নত ব্যবস্খাপনার মাধ্যমে মৃত্যুহার কিছুটা কমানো যায়। এই রোগে আক্রান্ত মুরগি খাদ্য ও পানি খাওয়া বìধ করে দেয়, পালক উসকো-খুসকো দেখায়। সাদা পাতলা ও দুর্গìধযুক্ত পায়খানা করে। শরীর খুব দুর্বল হয়ে পড়ে, হাঁটতে পারে না। অবশেষে মারা যায়। তবে এই রোগে মৃত্যুহার ৩০ ভাগের বেশি হয় না। থাইয়ের গোশতে রক্তের ছিটা দেখা যায়। একই বয়সের বাচ্চা প্রথমে বড় এবং পরে ছোট হয়ে যায়, বাচ্চা কাটলে ভিতরে রক্তের ফোঁটা দেখা যায়।

চিকিৎসা : এই রোগের কার্যকরী কোনো চিকিৎসা নেই। প্রতিরোধ ব্যবস্খাই একমাত্র উপায়। গামবোরো রোগ দেখা দিলে মুরগির ঘরে খাদ্য ও পানির পাত্র বাড়াতে হবে। কারণ এই রোগে খাবারের প্রতি অরুচি হওয়ায় না খেয়ে দুর্বল হয়ে মুরগি মারা যায়। তাই খাদ্য ও পানি পাত্র এমনভাবে দিতে হবে যাতে ঘুরলেই খাদ্য পায়। এই রোগে অরুচি, ডিহাইড্রেশন এবং মুরগি না খেয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে বলে পানিতে ভিটামিন সি, স্যালাইন ও গ্লুকোজ মিশিয়ে খাওয়ালে ভালো ফল পাওয়া যায়।

ছোট-বড় হওয়া : প্রায়ই দেখা যায় একই ব্যাচে একই বয়সের ব্রয়লার বাচ্চা কিছু দিন পর কতকগুলো বেশ ছোট হয়ে গেছে। এর জন্য দৃশ্যমান অদৃশ্যমান অনেক কারণ জড়িত। যেমনন্ধ কৌলিকাত্ত্বিক কারণ, পরিবেশগত ও ব্যবস্খাপনাগত কারণ। দৃশ্যমান বা পরিবেশগত কারণের মধ্যে প্রথম থেকেই প্রয়োজনের তুলনায় কম খাদ্য ও পানির পাত্র থাকা। কারণন্ধ প্রথম সপ্তাহে বিশেষ করে এক-তিন দিন বয়স পর্যন্ত বাচ্চার চলাচল সীমিত থাকে এবং খাদ্য না চেনার কারণে খাদ্য খাওয়ায় তেমন প্রতিযোগিতা থাকে না। তাই এই সময়ে যেসব বাচ্চা এক বা দুই দিন খাদ্য ভালোভাবে খেতে পারে না সেগুলোই দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে পরে খাদ্য খাওয়া প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে ছোট হয়ে যায়। পুরুষ বাচ্চার দৈহিক বৃদ্ধি স্ত্রী বাচ্চার চেয়ে ২০-২৫ ভাগ বেশি হওয়ায় স্ত্রী বাচ্চা ছোট হয়। মিশ্রিত গ্রেডের বাচ্চা এক সাথে পালন করা। বিভিন্ন বয়সের মুরগির ডিম এক সাথে ফুটানো হলে পুলের ডিমের বাচ্চা ছোট হয়। ব্রুডিং পিরিয়ডে কাáিক্ষত তাপ না পাওয়া।

প্রতিকার : মিশ্রিত গ্রেডের বাচ্চা না কিনে একই এ বা বি গ্রেডের বাচ্চা কিনতে হবে। বাচ্চা ছোট-বড় দৃশ্যমান হওয়ার সাথে সাথে আলাদা করে বিশেষভাবে যত্ন নিতে হবে। কাáিক্ষত পরিমাণ খাদ্য ও পানির পাত্র দিতে হবে।

খামারিদের ওষুধ ব্যবহারের প্রবণতা : রোগ চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম এ কথাটা মুরগি পালনের ক্ষেত্রে বেশি যুক্তিযুক্ত। অনেক খামারি জেনে না জেনে রোগ প্রতিরোধের জন্য বিভিন্ন ওষুধ খাওয়ান, যা মোটেও ঠিক না। অসুখ না হলে ওষুধ খাওয়ানো ঠিক নয়। রোগ প্রতিরোধের জন্য সময়মতো টিকা দিতে হবে। সুস্খ মুরগিকে রোগ প্রতিরোধের নামে ওষুধ খাওয়ানোর ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায় এবং বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। এমনকি রোগ প্রতিরোধ শক্তিও কমে যেতে পারে। তাই প্রতিরোধের জন্য ওষুধ না খাইয়ে সময় মতো টিকা দিতে হবে।

ব্রিডার ফার্ম হতে এক দিনের বাচ্চা পেরেন্ট স্টক ফার্ম পর্যন্ত পৌছানোর জন্য ব্যবস্থাপনা

একদিন বয়সের বাচ্চা সাধারণত ২৫-২৬০ সে তাপমাত্রায় চিক বক্সে করে আকাশ পথে পরিবহন করা হয়। এ সময় বাচ্চা প্রতি ঘন্টায় ০.৩% শারীরিক ওজন হারায়। আকাশ পথে ভ্রমণকালে কোনো কারণে তাপমাত্রা বেশি বা আদ্রর্তা কমে গেলে বাচ্চার ওজনও কমে যাবে। এজন্য প্রত্যেক খামার ব্যবস্থাপকের বিশেষভাবে স্মরণ থাকতে হবে যে, হ্যাচারীতে বাচ্চা ফোটার পর সর্বপ্রকার প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পর বাচ্চার প্রকৃত গড় ওজন ৪০ গ্রাম নিশ্চিত করে গ্রাহকদের নিকট রপ্তানি করা হয়। প্রকৃতপক্ষে আকাশ পথে ও অন্যান্য যানবাহনে খামার পর্যায়ে পৃথিবীর যে কোনো দেশে এই বাচ্চা পৌছাতে সর্বোচ্চ সময় ৪৮ ঘন্টা লাগতে পারে। কাজেই এই দীর্ঘ সময় বা পথ পরিবহনের পর ফার্ম পর্যায়ে বাচ্চার গড় ওজন ৩৪ গ্রামকেই প্রকৃত ওজন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। সাধারণত বাচ্চার গড় হস্বাভাবিক ওজন নিরূপন করতে হলে বিভিন্ন কার্টুন হতে বা ব্রুডারের বিভিন্ন স্থান থেকে বেশ কিছু বাচ্চা এলোমেলোভাবে (at random) নিয়ে এর গড় ওজন বের করতে হয়। খামারে বাচ্চা পৌছানোর পর একটি বাচ্চার সর্বনিম্ন ওজন রেকর্ড করা যেতে পারে।
আকাশ পথে পরিবহন ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে বাচ্চা যদি বিলম্বে পৌছে তবে এমন অস্বাভাবিক অবস্থার কারণে বাচ্চার উপর যথেষ্ট ধকল পড়ে। ফলে, একদিন বয়সের বাচ্চার মৃত্যুর হার স্বাভাবিকভাবে সঠিক সময়ে অবতরণের হার অপেক্ষা বেশি হয় এবং একই কারণে প্রথম সপ্তাহে বাচ্চার মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে বেশি হয়। এসব ক্ষেত্রে নিম্নে উল্লিখিত বিষয় সমূহের প্রতি গুরুত্ব দিলে খামারে ক্ষতির প্রভাব যতদূর সম্ভব কমাতে সাহায্য করবে।

বিমান বহন্দরে জরুরিভাবে করণীয় ব্যবস্থাদি
কোনো কারণবশত বাচ্চা পরিবহনের বিমানটির অবতরণে যদি দেরী হয়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে বিমান বন্দরের প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করে কাস্টমার চিকে ট্র্যাকের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এমন ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে বিমান অবতরণের সঙ্গে সঙ্গে বাচ্চাগুলি চিক ট্রাকের লোড দিয়ে বিমান থেকে কার্গো সেন্টারে দ্রুত নিয়ে আসা যায়। এখানে মনে রাখা দরকার যে, বিমান থেকে বাচ্চাগুলি নামানোর পর আর্দ্রতা এবং তাপমাত্রার একটা বড় ধরনের তারতম্য ঘটে এবং চূড়ান্তভাবে ঘোষণাপত্র পেতেও খুব দেরী হয়। কার্গো সেন্টারে বাচ্চাগুলি অত্যন্ত খারাপ এবং প্রতিকূল অবস্থায় থাকে। এ সময় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কার্গো সেন্টার থেকে বাচ্চাগুলি চূড়ান্তভাবে ডেলিভারী নেয়ার জন্য বিমানের প্রতিনিধির সাথে পূর্বে থেকেই একটি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

কার্গো সেন্টারে বহনযোগ্য ফ্যানের ব্যবস্থাকরণ
কার্গো সেন্টার থেকে বাচ্চা চূড়ান্তভাবে ডেলিভারী পেতে সাধারণত বেশ সময় লেগে যায়। এ সময় বাচ্চাগুলি অত্যন্ত গরম ও প্রতিকূল পরিবেশে অত্যন্ত কষ্ট পেতে থাকে। এ অবস্থা থেকে বাচ্চাদেরকে সাচ্ছন্দ্য প্রদানের জন্য মুক্ত বাতাসের প্রয়োজন হয়। এজন্য গরমের আধিক্য থেকে এদেরকে রক্ষার জন্য বহনযোগ্য ফ্যান চালু করা উচিত। প্রকৃত অর্থে বিমান বন্দর থেকে বাচ্চা গ্রহণের পর কাটুর্ন গাড়িতে তোলা, পরিবহন ও ব্রুডিং রুমে নামানো পর্যন্ত বহনযোগ্য ফ্যান চালু রাখতে হবে।

পানিশূন্যতা রোধ
গরমের আধিক্যহেতু বাচ্চাদের দেহে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। এ সমস্যা থেকে বাচ্চাদের রক্ষার জন্য কার্গো সেন্টার থেকে পরিবহনকালীন পূর্ণাঙ্গ সময়ে কাটুর্নের মাঝে rehydration gel সরবরাহ করা প্রয়োজন। তাহলে এই জেল থেকে বাচ্চারা পানি গ্রহণ করে সুস্থ থাকবে। এরপর বাচ্চাদের ব্রুডারে ছেড়ে দিলে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক হবে এবং এরা পরিমিত পুষ্টি পাবে। এর ফলে বাচ্চাদের স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করবে। এসময়ে বাচ্চাদের পা সবল, মোটাতাজা ও চকচকে দেখাবে। এরূপ সঠিক ব্যবস্থাপনায় বাচ্চা ঠিকমতো খাবে এবং এদের খাদ্যথলি পরিপূর্ণ ও নরম থাকবে।

বাচ্চা পরিবহন ও ব্যবস্থাপনা
বাচ্চার নিরাপত্তা ও সাচ্ছন্দ্যের জন্য নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কার্গো সেন্টার থেকে খামার পর্যন্ত বাচ্চা পরিবহনের জন্য অবশ্যই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবহন/যানবাহন ব্যবহার করতে হবে। বাচ্চাদের নিরাপত্তা, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, সাচ্ছন্দ্য ও সুস্বাস্থ্য রক্ষার্থে পরিবহনকালে নিম্নলিখিত ব্যবস্থাসমূহ প্রতিপালন বিশেষভাবে জরুরিঃ
* বাচ্চা বহনের পূর্বে পরিবহনের গাড়িটি অবশ্যই জীবাণুনাশক দ্বারা ভালোভাবে জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে।
* পরিবহনের গাড়িতে অবশ্যই বায়ু চলাচলের ভালো ব্যবস্থা থাকতে হবে যাতে বাচ্চারা পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন পেতে পারে এবং স্বাস্থ্যকর অবস্থা বজায় থাকে।
* কম জায়গায় বেশি বাচ্চা বা বাচ্চার কাটুর্ন গাদাগাদি করে রাখা মোটেও ঠিক নয় কারণ এর ফলে বাতাসের প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হবে ও গরমের আধিক্য দেখা দিবে।
* বাচ্চা পরিবহনকালে গাড়ির চালককে সংযত হয়ে গাড়ি চালাতে হবে কারণ গাড়ির গতি বেশি হলে ঝাঁকুনি বেশি হয়। এতে বাচ্চাদের কষ্ট হবে। তাছাড়া গাড়ির গতি বেশি থাকলে ব্রেক চাপার সময় স্বভাবতই ধাক্কা লাগে। এতে বাচ্চারা একে অপরের উপর গিয়ে পড়ে। এ ধরনের সমস্যা বেশি হলে বাচ্চারা hock joint এ আঘাত প্রাপ্ত হয় ও সেখানে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। পরবর্তী পর্যায়ে সেখানে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে। এর ফলে ব্রুডিং এর সময় বাচ্চা খোঁড়া ও অন্যান্য সমস্যায় ভুগতে থাকে।

বাচ্চার সুস্বাস্থ্য রক্ষার্থে প্রারম্ভিক পুষ্টির গুরুত্ব
বাচ্চার মৃত্যুহার কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ ও এদের দৈহিক বৃদ্ধি যথাযথ রাখার জন্য প্রারম্ভিক পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। হ্যাচারীতে বাচ্চা ফোটার পর দীর্ঘসময় পরিবহনের মাধ্যমে খামারে বাচ্চা আনীত হয়। এর ফলে বাচ্চার দেহের সঞ্চিত শক্তি ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি দেখা দেয়। এজন্য খামারে বাচ্চা পৌছানোর পরই পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য সরবরাহ করে এই ঘাটতি পূরণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। তাই খামারে বাচ্চা পৌছানোর পর ১-৩ দিন দ্রবণীয় (soluble) ও সহজপাচ্য পুষ্টিকর খাদ্য প্রদান করা উচিত। এ ক্ষেত্রে extruded feed খাওয়ানো উত্তম। এর ফলে ব্রুডিং এর সময় খোঁড়া, বিকলাঙ্গ বা অসমভাবে বেড়ে ওঠা বন্ধ হয়ে বাচ্চারা সুষমভাবে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হবে।
বাচ্চা খামারে পৌছানোর পর অতি দ্রুত পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য প্রদানের কারণ হচ্ছে মাতৃগর্ভ থেকে প্রাপ্ত ডিমের কুসুম থলির উপর নির্ভর না করা। এর কারণ হচ্ছে, কুসুম থলি থেকে প্রাপ্ত পুষ্টি বাচ্চা ফোটার পর কিছু সময় পর্যন্ত বাচ্চাকে পুষ্টি জোগান দেয়। এজন্য বাচ্চাকে দ্রুত পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার সরবরাহ না করলে এদের পরিপাকতন্ত্রের উন্নতি সাধন ব্যাহত হবে ও প্রয়োজনীয় দৈহিক বৃদ্ধি থেকে বাচ্চারা বঞ্চিত হবে।

আমরা জানি, বিভিন্ন ধরনের এন্টিবডি সৃষ্টিতে বার্সা অব ফেব্রিসিয়াস (Bursa of Fabricius) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং এই কার্যক্রম চালুর জন্য বাচ্চা ফোটার ৪ দিনের মধ্যে বার্সা সব ধরনের কাজ শুরু করে। এর ফলে বাচ্চা ফোটার সময় বার্সাল নালী (Bursal Lumen) উন্মুক্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় পরিবেশের এন্টিজেনসমূহ বার্সাল লুমেনে প্রবেশ করে ও পরবর্তীতে লিস্ফয়েড ফলিকুলস এ একক ও ঘূর্ণায়মান চোষক হিসাবে অবস্থান করে। ধারণা করা হয়, বার্সাল পেরিফেরাল অঙ্গের কাজ হলো এন্টিজেনের বিরুদ্ধে স্টেম সেলকে (Stem cell) সক্রিয় করে দ্রুত বিস্তার ঘটানো। এর ফলে সৃষ্ট এন্টিবডি এন্টিজেনকে প্রতিরোধে সক্ষম হয়।
বাচ্চা ফোটার পরবর্তী পর্যায়ে পরিপাকতন্ত্র অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় থাকে। কারণ এ সময় পরিপাকতন্ত্রের পূর্ণ সিস্টেমটি অকার্যকর অবস্থা থেকে কার্যকর হবার প্রক্রিয়ায় থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, বাচ্চা ফোটার পরবর্তী পর্যায়ে খাদ্যের প্রভাব ক্ষুদ্রান্তের উন্নতি সাধন করে। বিজ্ঞানী ডিবনার্স এর মতে বাচ্চা ফোটার পরবর্তী পর্যায়ে খাদ্যের প্রয়োগ বার্সার উন্নয়ন সাধন করে।
প্রারম্ভিক বয়সে পুষ্টি বাচ্চার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে কার্যকর প্রভাব ফেলে। গবেষণায় দেখা গেছে বাচ্চা ফোটার ১ম দিন থেকে সব ধরনের সিস্টেম উন্নয়নের জন্য একটি সংকটপূর্ণ সময় অতিবাহিত হয়। এ কারণে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য বাচ্চা ফোটার প্রথম দিন থেকে পরিমিত পরিমাণ পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং সঠিক পরিচর্যা এতো গুরুত্বপূর্ণ। প্রারম্ভিক পুষ্টির চাহিদা পূরণ করলে বাচ্চার পরিপাকতন্ত্রের গঠন, ইমিউন সিস্টেম (Immune System), বার্সার উন্নয়ন, তাপ সহিষ্ণুতা এবং পেশী বৃদ্ধি সঠিক সময়ে উপযুক্তভাবে সুগঠিত হবে।

পানি সরবরাহের গুরুত্ব
একদিন বয়সের বাচ্চা ফার্মে পৌছানোর সাথে সাথে বাচ্চাকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিষ্কার পানি পানের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সরবরাহকৃত বাচ্চার পানযোগ্য পানির তাপমাত্রা সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। অধিক ঠান্ডা পানি বাচ্চার দেহের তাপমাত্রা অতি শীঘ্রই কমিয়ে ফেলে এবং তা প্রতিহত করার মত ক্ষমতা বা পর্যাপ্ত শক্তি কোনটিই বাচ্চার দেহে থাকে না। আবার বাচ্চা গরম পানিও পান করতে পছন্দ করে না। কাজেই বাচ্চার জন্য সরবরাহকৃত খাবার পানির তাপমাত্রা ২০-২৫০ সে এর মাঝে সংরক্ষণ করতে হবে। এই সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে ছোট ছোট পানির পাত্র সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে নিপল ড্রিংকার ব্যবহারকারীদের নিপল থেকে সরবরাহকৃত পানির চাপ কমাতে হবে; যাতে বাচ্চাগুলি ফোঁটায় ফোঁটায় ঝলমলে পড়া পানি পান করতে আকৃষ্ট হয়। বিশেষ করে ধকল পীড়িত বাচ্চা যে গুলোর নড়াচড়া করার মত শক্তি থাকে না সে বাচ্চাগুলো নিপলে পানির চাপ যদি বেশি হয়, তাহলে তা পান করতে পারে না। সুন্দর বা সহজ ব্যবস্থাপনার জন্য অতিরিক্ত কিছু ছোট ছোট পানি ভর্তি পানির পাত্র, প্ল্যাস্টিক ট্রে, ব্যবহারিক ট্রে এবং ব্রুডার ব্যবস্থাপনায় অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সবর্দা প্রস্তুত রাখা দরকার।
মুরগির বাচ্চা
সঠিক ব্যবস্থাপনায় প্রথম ৮ ঘন্টা পর বাচ্চার খাদ্য থলির ৮০% পূর্ণ হয়

বাচ্চার সুস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য প্রচুর পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রয়োজনে পানির সাথে ইলেকট্রোলাইট বা চিনি মিশিয়ে দ্রবণ তৈরি করে খাওয়ানো যেতে পারে। তবে নিপল ব্যবস্থাপনায় এই মিশ্রণ ব্যবহারের সময় পানির রাস্তায় আঠার মত লেগে অনেক সময় পানির লাইন বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কাজেই এমন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি যাতে না হয় সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

খাদ্য সরবরাহ
পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পর খাদ্য পরিবেশন করতে হবে। একদিন বয়সের বাচ্চা সাধারণত কার্বোহাইড্রেট সহজভাবে হজমের মাধ্যমে তাদের দেহে শক্তি সঞ্চার করে এবং এভাবে তাদের ব্যয়িত শক্তির ঘাটতি পূরণ করে থাকে। পানির পাত্রের সরবরাহ কম হলে বাচ্চা পানির পাত্র খুঁজে পায় না। ফলে ক্ষুধা নিবারণের জন্য তাড়াহুড়ো করে শুকনা খাদ্য খেয়ে অনেক সময় বিভিন্ন সমস্যায় পড়ে। এ ধরনের সমস্যা থেকে বাচ্চাকে নিরাপদে রাখার জন্য একই সাথে পানি এবং খাদ্য সরবরাহ করা উচিত। প্রতিবারই খাদ্য এবং পানি সরবরাহের পর কিছু খাদ্য ভিজে নষ্ট হয়। এই পানিতে ভিজা খাদ্য পুনরায় খাদ্য সরবরাহের সময় পরিষ্কার করে শুকিয়ে খেতে দেয়া উচিত। অন্যথায় ঘরের উচ্চ তাপমাত্রায় খাদ্যে ব্যাকটেরিয়া এবং মোল্ড অতি দ্রুত জন্মাতে পারে। প্রয়োজনে বাচ্চাকে চিনির দ্রবণ ভিটামিনের সাথে মিশিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে। বাচ্চার জন্য ভাত সহজপাচ্য এবং বাচ্চা এটা হতে প্রচুর কার্বোহাইড্রেট পেতে পারে। এছাড়া ভাঙ্গা কর্ণও বাচ্চাকে খাওয়ালে একই ফল পাওয়া যাবে।
মুরগির বাচ্চা
সঠিক ব্যবস্থাপনায় প্রথম ২৪ ঘন্টা পর বাচ্চার খাদ্য থলির ৯০% পূর্ণ হয়

ধকল বা পীড়নজনিত কারণে যে বাচ্চা গুলো চোখ বন্ধ করে থাকে, সেগুলোকে ডুপালাইট (০.৯% সোডিয়াম ক্লোরাইড) অথবা সিরাম ইলেকট্রোলাইট চামড়ার নীচে ইনজেকশন করা যেতে পারে। বাচ্চার ঘাড়ের চামড়ার নীচে ১ মিলি করে ঝুঁকিমুক্তভাবে ইনজেকশন করা যেতে পারে। ভাল ফল পাওয়ার জন্য এটা একটা বিশেষ উপায়। বাচ্চা পৌছানোর পর বেশ কিছু সময় বিশ্রাম নেয়ার পর চমড়ার নীচে এই ইনজেকশন দেয়া যায়।
মুরগির বাচ্চা
সঠিক ব্যবস্থাপনায় খাদ্য গ্রহণের পর বাচ্চার খাদ্য থলির প্রকৃত অবস্থা

তবে বাচ্চাগুলোকে সাধারণ পানি হতে দূরে রাখতে হবে। কোনো কারণে ইলেকট্রোলাইটের অভাব হলে সেক্ষেত্রে ম্যারেক ডায়লুয়েন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে।

অন্যান্য আবশ্যকীয় সরঞ্জামাদি
প্রথম দিনে ঘন্টা বাজিয়ে পানি ও খাদ্য সরবরাহের অভ্যাস করলে বাচ্চা অতি সহজে পানি এবং খাদ্য খুঁজে পেতে পারে। ফলে বাচ্চার ধকল বা পীড়ন অনেকটা কমে যায়। এমতাবস্থায় বাচ্চাদেরকে সম্পূর্ণ ব্রুডারের মাঝে ছেড়ে দেয়ার পর যদি এরা ব্রুডারের প্রান্ত দেশেও অবস্থান করে তথাপি এদের পানি ও খাদ্য খুঁজে খেতে অসুবিধা হয় না। তবে চেইন ফিডার ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে বাচ্চা এভাবে মেঝেতে ছেড়ে দেয়া যাবে না, কারণ বাচ্চাগুলি চেইনের উপর লাফালাফি করে থাকে। কিন্তু দুর্বল বাচ্চাগুলির শক্তি কম থাকায় ঐভাবে লাফালাফি করতে পারে না। চেইন ফিডার এমনভাবে স্থাপন করতে হবে যাতে বাচ্চা চেইনের নীচ দিয়ে যাতায়াত করতে পারে এবং সুন্দরভাবে বিচরণ করতে পারে বা অতি সহজভাবে খাদ্য ও পানি পানের সুবিধা পায়। প্রথম সপ্তাহে বাচ্চাকে কাগজে ছড়ায়ে খাবার দেয়ার অভ্যাস করাটা উত্তম। একদিন বয়সের বাচ্চার ঘরে পানিশূন্যতা রোধ করার জন্য বাতাসের আর্দ্রতা কমপক্ষে ৬৫% নির্ধারণ করতে হবে। ঘরের একপাশে সর্বদা পানি ভর্তি বড় বালতি রাখতে হবে এবং প্রয়োজনে বাচ্চাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ঝলমলে নিপল লাইনের ব্যবস্থা করতে হবে।

তাপমাত্রা
একদিন বয়সের বাচ্চাদের ধকল বা পীড়ন রোধ করা জন্য ব্রুডার ঘরে সঠিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। বাচ্চার সুস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য ব্রুডার ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা অপেক্ষা ১-২০ সে বেশি তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। উল্লিখিত সব ব্যবস্থাদি সঠিকভাবে সম্পন্ন করার পর বাচ্চার দেহের তাপমাত্রা নেয়া যেতে পারে। বাচ্চার দেহের উপযুক্ত তাপমাত্রা হবে ৪০০ সে। এখানে উল্লেখ্য যে, বাচ্চার সুস্বাস্থ্য রক্ষা এবং সার্বিক বৃদ্ধির জন্য দেহের প্রকৃত তাপমাত্রা ৪০০ সে এ নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি এবং এজন্য ব্রুডার ঘরের তাপমাত্রা অবশ্যই সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। রেকটাল তাপমাত্রা ইনফ্রারেড এয়্যার থার্মোমিটার দ্বারা অতি সহজেই নির্ণয় করা যায়।

উপসংহার
বিমানযোগে আমদানিকৃত এক দিনের বাচ্চা পেরেন্ট স্টক খামার পর্যন্ত পৌছানের পথে যে সমস্ত প্রতিবন্ধকতার উদ্ভব হতে পারে সে বিষয়ে উপরে বিস্তারিত আলোচনা এবং তা উত্তরণের সম্ভাব্য ব্যবস্থাদির উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাস্তব ক্ষেত্রে যেটা প্রত্যক্ষ করা যায় তা হলো বিমানযোগে বাচ্চা বিমানবন্দরে পৌছানোর পর তা ছাড় করার ক্ষেত্রে অনভিপ্রেত দীর্ঘসূত্রিতা। এখানে মনে রাখা প্রয়োজন যে বিমান থেকে বাচ্চা নামানোর পর আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার একটি বিরাট তারতম্য ঘটে। এই অবস্থায় কার্গো সেন্টারে বাচ্চাদেরকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। যেক্ষেত্রে অত্যন্ত স্পর্শকাতর (বিশেষ করে পরিবেশিক প্রভাবের ফলে) এক দিনের বাচ্চাকে ন্যুনতম স্বল্প সময়ে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন সেক্ষেত্রে কার্গো সেন্টারের প্রতিকূল পরিবেশে বাচ্চাদেরকে দীর্ঘ সময় থাকতে হয়। এর ফলে যে ধকলের সৃষ্টি হয় তার বিরূপ প্রভাব অতি অল্প সময়েই প্রত্যক্ষ করা যায়। বাচ্চাদের প্রারম্ভিক বয়স এ ধরনের দুর্যোগপূর্ণ ও প্রতিকূল পরিবেশে শুরু হলে তার বিরূপ প্রভাব পরবর্তী জীবনে সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। এর ফলে অস্বাভাবিক মৃত্যুহার, দৈহিক বৃদ্ধি ঘাটতি, কাঙ্খিত উৎকর্ষতা ও উৎপাদনের অবনতি ইত্যাদি লক্ষ্য করা যায়।
পোল্ট্রি ফার্মের উৎকর্ষতা সমুন্নত রাখার জন্য তাই প্রয়োজন বিমানযোগে আনীত এক দিনের বাচ্চাদের নূ্যনতম সময়ে কাস্টমস্ কর্তৃপক্ষ কতৃক আমদানিকারকের নিকট হস্তান্তর করা। বিষয়টি অতীব জরুরি বিধায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কর্তৃক এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলো।

লেখক: মোঃ শহীদুল ইসলাম
বিজনেস ডেভলপমেন্ট ম্যানেজার-এজি, এ্যাডভান্স এনিমেল সায়েন্স কোং লিঃ
তথ্যসূত্র: পোলট্রি, পশুসম্পদ ও মৎস্য বিষয়ক মাসিক পত্রিকা ‘খামার’

Tuesday, May 10, 2016

পতিতাবৃত্তি সমর্থন না করা প্রসঙ্গে!

কেউ যখন মা বোন তুলে গালি দেয় তখন আমরা তাদেরকে বলি যে তাদের ঘরে মা বোন আছে কিনা, বা তাদের জন্ম কোন মায়ের গর্ভে কিনা। এটা বলা হয় এই কারণে যে একই গালি যদি তার মা বোনকে নিয়ে দেয়া হয় তাহলে তাদের সহ্য হবে কিনা। এটা যদি বলা যায় তাহলে কেউ পতিতাবৃত্তিকে মহান পেশা উল্লেখ করে তার পক্ষে বললে তাকেও বলা যেতেই পারে যে সে তার মা বোনকে এই পেশা গ্রহণে উৎসাহিত করে কিনা। এখানে কারো মা বোনকে হেয় করা হয় বলে মনে হয় না। এটা তর্কের একটা পয়েণ্ট এবং বিপক্ষকে শত্রু ভেবে বলা নয়, বরং তাকে বিষয়টা নিয়ে চিন্তা করার একটা সূত্র দেয়া মাত্র। এখানে ভুল বোঝাবুঝির কিছু দেখি না।
 
আবার আরেকটা গ্রুপ আছে, তাদের দাবী–পতিতারা নাকি আমাদের মা-বোনদের “সুরক্ষা” প্রদান করে সমাজকে “নোংরা” হয়ে যাওয়া থেকে বাঁচায়। তাদেরকেও এই একই প্রশ্ন করা যায় যে, পতিতারাও কারো না কারো মেয়ে/বোন। হয়ত কারো স্ত্রী বা মা-ও ছিল। তো আমরা যদি নিজের মা বোন স্ত্রী মেয়েকে এই পেশায় নামিয়ে অন্যের মা বোন স্ত্রী মেয়েকে সুরক্ষা দিতে না চাই, তাহলে এটা চাওয়াও ভুল যে অন্যরা তাদের মা বোন স্ত্রী মেয়েকে এই পেশায় নামিয়ে আপনার মা বোন স্ত্রী মেয়েকে “সুরক্ষা” দেবে।
যারা এই পেশায় আসে, তারা মূলত সমাজের নির্মম অব্যবস্থাপনা/অপরাধের শিকার হয়েই বাধ্য হয় এই পেশা বেছে নিতে। এবং তারপর একটি মিথ্যাকে ঢাকতে যেমন আরো হাজারটা মিথ্যার সৃষ্টি হয়, তেমনি এই একটা অব্যবস্থা আরো হাজারটা অপরাধের সৃষ্টি করেই চলতে থাকে…

অনেকদিন আগে কে যেন এসব নিয়ে ইনবক্সে একটা সরাসরি প্রশ্ন করেছিল–হ্যাঁ/না উত্তর চেয়েছিল–পতিতাবৃত্তি সমর্থন করি কিনা। তখন সরাসরি উত্তর দিতে পারি নাই। বিষয়টা নিয়ে কখনো আসলে ভাবা হয় নাই। কিছুদিন পরে একটা কোলাজ পোস্ট করেছিলাম। বিষয়টা সেই সেক্স-স্লেভারি পর্যায়ের মধ্যে পড়ে। এখন সরাসরি উত্তর–“না।”

কোরান নিয়ে মমিনদের পিছলামি



১) আগের আয়াত, পরের আয়াত দেখতে হবে।
প্রথম আয়াতের আগের আয়াত, শেষের আয়াতের পরের আয়াত কিভাবে দেখব?
২) তাফসির পড়ে বুঝতে হবে।
যখন তাফসির ছিল না, তখন লোকে কিভাবে বুঝত? কার তাফসির সহিহ?
৩) অনুবাদে ভুল আছে।
অনুবাদের অনুমতি দেয়া হয় কেন? দুনিয়ার এত ভাষায় অনুবাদ করা হইছে কেন?
৪) মূল আরবি পড়তে হবে।
মূল আরবিতে “আসল ভার্সন” কোনটা? আপনি কোন মূল আরবি অনুবাদ পড়ে মুসলমান হয়েছেন?
৫) সবার বোঝার সুবিধার্থে সহজ ভাবে নাজিল হইছে।
আলিম লাম মিম–এই টাইপের আয়াতগুলোর অর্থ কী?
৬) প্রেক্ষাপট বিবেচনা করতে হবে।
প্রেক্ষাপটে আটকে থাকলে সর্বকালের সর্বমানুষের বেলায় কিভাবে প্রযোজ্য হবে?
৭) বুঝতে হলে আলেমের কাছে যান।
আপনি কতটুকু বুঝেছেন? আপনি না বুঝেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করছেন?
৮) সর্বকালের সর্বমানুষের বেলায় প্রযোজ্য।
নবীর পারিবারিক/ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য নাজিল করা আয়াতগুলো কিভাবে অন্য মানুষের বেলায় প্রযোজ্য হবে?
৯) পরিপূর্ণ জীবনবিধান।
যুদ্ধ, ডাকাতি, লুটপাত, মন্দির-মূর্তি ভাঙা, কোতল করা, যৌনতা–ইত্যাদি বিষয়গুলোও জীবনের অংশ। এ সম্পর্কিত আয়াতগুলো কী কী?
১০) কোরানে সব আছে।
হেঁ হেঁ হেঁ।

Sunday, March 20, 2016

গনিত নাকি কঠিন কে বলে দেখি এবার…।

আমার প্রশ্ন, ইউক্লিডের উত্তর। মৌলিক সংখ্যার অসীমত্ব।
বন্ধুরা, আবারো ফিরে আসলাম মৌলিক সংখ্যা নিয়ে কিছু কথা বলতে। মৌলিক সংখ্যা বা প্রাইম নাম্বার কি? সহজ কথায় যে সকল সংখ্যাকে 1 এবং সেই সংখ্যাটি ছাড়া অন্য কোনো সংখা দিয়ে ভাগ করা যায় না তাকেই বলে মৌলিক সংখ্যা বা প্রাইম নাম্বার। যেমন- 2,3,5,7,11…….একটা ব্যাপার খেয়াল করবেন, শুধু 2 ছাড়া অন্য সব প্রাইম নাম্বার বিজোর এবং এটাই সবচেয়ে ছোট প্রাইম নাম্বার। আর যে সংখ্যা গুলো প্রাইম নয় তাদেরকে বলা হয় যৌগিক বা কম্পোজিট (Composite) নাম্বার। যেমন- 4,6,8,9,10,12…… সকল যৌগিক বা কম্পোজিট নাম্বারকে মাত্র একভাবেই প্রাইম নাম্বার দ্বারা প্রকাশ করা যায়, যেমন- 12=22*3. অন্য কোনো ভাবে চাইলেও 2 আর 3 দিয়ে 12 কে প্রকাশ করা যাবে না।
এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে প্রাইম নাম্বার কত গুলো আছে? প্রাইম নাম্বার কি অসীম সংখ্যক নাকি এর শেষ আছে? এই কথার উত্তর গনিতবিদ ইউক্লিড শত বছর আগেই অনেক সুন্দর ভাবে দিয়ে গেছেন, আর আজ আমার উদ্দেশ্য এই সুন্দর উত্তরটা আপনাদের কাছে আরেকবার উপস্থাপন করা। চলুন দেখি ইউক্লিডের উত্তর-
ধরা যাক, প্রাইম নাম্বারের শেষ আছে এবং সবচেয়ে বড় আর শেষ প্রাইম নাম্বারটা হল Pn, এখন আমরা এক কাজ করি, Pn সহ এর আগে যত প্রাইম নাম্বার আছে সবগুলো গুন করি, তাহলে ব্যাপারটা হবে এইরকম-
2*3*5*7*11*………………* Pn
এই গুনফলটা নিঃসন্দেহে একটা বড় যৌগিক সংখ্যা এবং সকল প্রাইম নাম্বার দিয়ে বিভাজ্য। এখন এই উপরের গুনফলের সাথে যদি আমরা 1 যোগ করে দেই তাহলে ব্যাপারটা কি হবে?
PL=2*3*5*7*11*………………* Pn+1
অর্থাৎ গুনফলের সাথে 1 যোগ করে সেই সংখ্যাটাকে PL ধরলাম। এই PL সংখ্যাটা Pn থেকে বড় এবং PL কে যেকোনো সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে কিছু না কিছু ভাগশেষ থাকবে কারন এই সংখ্যাটা আসলে সবগুলো প্রাইম নাম্বার দিয়ে তৈরি একটা যৌগিক সংখ্যা থেকেও 1 বেশি। তার মানে PL একটা প্রাইম নাম্বার যেটা আবার থেকে Pn বড়। কিন্তু আমরা Pn কেই সবচেয়ে বড় প্রাইম হিসেবে ধরে নিয়েছিলাম আর এখন দেখলাম PL>Pn। তার মানে হচ্ছে প্রাইম নাম্বারের কোনো শেষ নেই, অসীম সংখ্যক প্রাইম নাম্বার আছে। আজ এতটুকুই, প্রাইম নাম্বার নিয়ে আরো কিছু লেখা নিয়ে পরে দেখা হবে
আম-জামের কেচ্ছা (AM-GM Inequality)</ul>
এক্কেবারে হৃদয় থেকে একটা সত্যি কথা বলছি- অসমতা জিনিসটা একদম শুরু থেকেই আমার দু চোখের বিষ ছিল। অসমতা আমার এতটাই বিরক্তিকর লাগত যে ম্যাথ ক্যাম্পে হেলাল ভাইয়ের অসমতা ক্লাসে আমি ১০ মিনিটের মাথায় ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। তবে সময়ের বিবর্তনে অসমতা জিনিসটা একটু একটু ভাল লাগা শুরু হয়েছে। “ম্যাথোস্কোপ”-এ আমি কশি-শোয়ার্য অসমতা নিয়ে লিখছি, ভাল লেগেছে বলেই লিখেছি। আজ লিখছি the gem among-st inequalities: AM-GM Inequality নিয়ে।
পরীক্ষায় একবার এসেছিল, তাই সতর্কতা অবলম্বনের তাড়নাতেই AM-GM Inequality প্রমাণ করার একটা চেষ্টা চালালাম। ঐ রাতে ইন্টারনেট ধর্মঘট ঘোষণা করেছিল। ফলে Polya এর প্রমাণটা দেখে নিতে পারিনি। নুরুল ইসলামের বই এর প্রমাণটা ভুল, আর নিউরনে অনুরণনে দেওয়া কায়কোবাদ স্যারের প্রমাণটা দুর্বিষহ রকমের বিদ্ঘুটে। সহজ কিছু চাই- এমন সময়ে মনে পড়ল হেলাল ভাইএর একটা কথা। log ফাংশন থেকে AM-GM Inequality এর একটা intuitive proof পাওয়া যায়। ভাবলাম, যদি intuitive proof পাওয়া যায় তাহলে formalized proof ও নিশ্চয়ই পাওয়া যাবে। ২ ঘণ্টা গুতোবার পরে পারলাম। সেই প্রমাণটা পরীক্ষার মাঝখানে প্রকাশ করে সকলকে বিব্রত করার ইচ্ছে হল না। তাই পরীক্ষার পরেই দিচ্ছি।
ধরে নেওয়া যাক, x1, x2, …. ,xN হল Nটি ধনাত্মক সংখ্যা। এদের প্রত্যেকের জন্য আমরা y1, y2, … yN এর মানগুলো নির্ণয় করি- যেখানে y = log x, আমরা এবার এই ফাংশনের লেখচিত্র এঁকে ফেলব। x1, x2, …. ,xN এর গাণিতিক গড় x’ = (x1 + x2 + …. + xN) / N; গ্রাফে (x’ , log x’)বিন্দুটা চিহ্নিত করি।
এবার আমরা নতুন দুটি রাশি নিয়ে চিন্তা করি-
X = x – x’
Y = log x – log x’
এটা করার মাধ্যমে আমরা আসলে লেখচিত্রের মূলবিন্দুটা (x’ , log x’) বিন্দুটাতে সরিয়ে নিয়েছি। এবার হবে মজা। লক্ষ করলেই দেখা যাবে যে X1 + X2 + … + XN = 0; এর মানে হল নতুন কাঠামোতে মূলবিন্দুর ডানদিকের বিন্দুগুলোর যোগফল আর বামদিকের বিন্দুগুলোর যোগফল সমান।
যদি Y1, Y2, … YN বিন্দুগুলো y = log x এর উপর (ছবিতে C curve) না থেকে যদি(x’ , log x’) বিন্দুতে অঙ্কিত স্পর্শকের (ছবিতে T curve) উপর থাকত, তাহলে আমরা বলতে পারতাম যে নতুন মূলবিন্দুর জন্য আমরা বলতে পারতাম যে X এবং Y variable দুটি Y = kX সমীকরণের দ্বারা সম্পর্কিত। সেক্ষেত্রে, Y1 + Y2+ … + YN = 0 অর্থাৎ মূলবিন্দুর উপরে আর নিচে থাকা Yগুলোর যোগফলও শূণ্য হত।
কিন্তু আমাদের Yগুলো এর C উপর রয়েছে। যেহেতু C curve সর্বতোভাবে T curve এর নিচে অবস্থান করে সেহেতু C curve এর উপর থাকা Yগুলোর যোগফল T curve এর উপর থাকা Yগুলোর যোগফলের চেয়ে কম হবে। সুতরাং আমরা বলতে পারি, Y1 + Y2+ … + YN এর মান এখন আর শুণ্য হবে না। বরং Y1 + Y2+ … + YN এর মান হনে ঋণাত্মক। অর্থাৎ,
Y1 + Y2+ … + YN (log x1 – log x’) + (log x2 – log x’) + … + (log xN – log x’) log (x1 . x2 … xN) x1 . x2 … xN x’ > (x1 . x2 … xN) ^(1/N)
এটাই আমাদের কাঙ্ক্ষিত AM-GM Inequality
এই প্রমাণটার একটা বিশেষত্ব আছে- প্রমাণের ধরণটা বেশ generalized. যখনই কতগুলো positive observation এর জন্য কোন ফাংশনের সাপেক্ষে observation গুলোর গড়ের functional value আর observation গুলোর functional value এর গড়ের মাঝে তুলনা করার দরকার পড়ে তখনই এই ধরণের প্রমাণটা বেশ কাজে লাগে। এরকম একটি উদাহরণ হল- কোন বৃত্তে অন্তর্লিখিত n gon গুলোর মাঝে সুষম n gon টির ক্ষেত্রফলই সর্বোচ্চ- এটার প্রমাণ।
এই ২টা প্রমান যাদের ভাল লাগসে তারা এখহুনি কমেন্ত করেন। ভাল থাকবেন।