Wednesday, September 23, 2015

সময়ের প্রহেলিকা---




সময়ের প্রহেলিকা
---- ড. রমিত আজাদ

হে সময়!
তুমি কি পরম-ধ্রুব নও?
নও কি তুমি অবিচল-স্থির ঐ হিমশৃঙ্গের মত?

নাকি তুমিও প্রসারিত-সংকুচিত হও,
নব যৌবনা তরুণীর বক্ষস্থলে অবরুদ্ধ অস্থির হৃদয়ের মত?

তবে তোমাকে বেঁধে নেই কোন্‌ কঠিন শাসনে বলো?
মহাজগতের কালের নিয়মে বাঁধা,
আমিও ক্ষণস্থায়ী প্রাণ,
একদিন কাটিব বাঁধন নির্বন্ধ একালের,
অথবা রাখিব পদ
নতুন কোন বিধানতন্ত্র-লোকে।


(সময় (time) পরম কিছু নয়। সেও আপেক্ষিক, নানান প্রসঙ্গ কাঠামোতে তার নানান হিসাব। ধর্মগ্রন্থগুলোতে এ' সম্পর্কে অনেক আগেই বলা হয়েছিলো। বিজ্ঞান কিছুকাল হয় তা গাণিতিকভাবে প্রমাণ করেছে।)

The Relativity of Time
--------- Dr. Ramit Azad

মাদ্রাসা থেকে ফাজিল পাস মুসলিমা আক্তার এখন অস্ট্রেলিয়ায় ডুবুরিদের প্রশিক্ষক (গুণীজন; একের ভিতর পাঁচ)

প্রবাসে বাংলাদেশের রক্তের উত্তরাধিকারী গুণীগন- ৩৩,৩৪,৩৫,৩৬,৩৭ ।
৩৩/ বিশ্বের প্রথম সোশ্যাল স্টক একচেঞ্জ প্রতিষ্ঠা করেছেন বাংলাদেশি নারী -দূরীন শাহনাজ




শাহনাজ বিশ্বে প্রথম সৃষ্টি করেছেন সোশ্যাল স্টক একচেঞ্জ। এর নাম ‘ইমপ্যাক্ট ইনভেস্টমেন্ট একচেঞ্জ’ বা আইআইএক্স (IIX)। মরিশাস স্টক একচেঞ্জের সহযোগিতাই পরিচালিত হয়ে আসছে আইআইএক্স। সমাজকে পরিবর্তনের জন্য দুইটি শক্তিশালী বাহনকে নিয়ে একসাথে হেঁটে চলেছে আইআইএক্স। এর প্রথমটি হল সামাজিক উদ্যোগ (Social Enterprise)। দ্বিতীয়টি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ বিনিয়োগ ( Impact Investing)।
ওয়ালস্ট্রিট এর টাইটানগুলোর মধ্যে একটি হলো নিউইয়র্কের মরগান স্ট্যানলি। ১৯৮৯ সালে শাহনাজ মরগান স্ট্যানলিতে চাকরি নেন। ঐ সময়টায় খুব অল্প সংখ্যক নারী এধরণের শক্তিশালী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে চাকরি করত। মরগান স্ট্যানলিতে ক্যারিয়ার প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে তিনি প্রচুর অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বাংলাদেশে ফেরত আসেন। সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতাই তাঁকে ফেরত এনেছিল বাংলাদেশে। তিনি ওয়াল স্ট্রিটে গিয়েছিলেন কারণ তিনি জানতেন, যদি কেউ সমাজকে পরিবর্তন করতে চায় তাহলে টাকা তৈরির উপায় সম্পর্কে তাঁর জানতে হবে। ওয়াল স্ট্রিট থেকে তিনি জানতে পৃথিবী কিভাবে চলে। ওয়াল স্ট্রিট থেকে চলে আসার পর ৫ বছর সময় নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন আইআইএক্স ।

এছাড়াও তিনি ছিলেন হার্স্ট ম্যাগাজিন ইন্টারন্যাশনাল ও রিডারস ডাইজেস্ট নামের দু’টি বিখ্যাত ম্যাগাজিনের এশিয়া অঞ্চলের প্রধান। ‘ওয়ানসেট’ নামে তিনি একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়েছিলেন, হাতে তৈরি জিনিসের জন্য এটি সৃষ্টি করেছিল আন্তর্জাতিক বাজার। তিনি ‘লি কুয়ান ইয়ু স্কুল অব পাবলিক পলিসি’ তে সোশ্যাল ইনোভেশনের একটি প্রোগ্রাম চালু করেছিলেন। এছাড়াও তিনি কাজ করছেন বিশ্বব্যাংকের ঋণ শাখায়, যার আওতায় পৃথিবীর ১০০ এর বেশি উন্নয়নশীল দেশের মানুষদেরকে নানান সেবা দেওয়া হয়ে থাকে।
ইম্প্যক্ট একচেঞ্জের বৈপ্লবিক আইডিয়াটিকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য দূরবীন শাহনাজকে ব্যাপক সংগ্রাম চালাতে হয়েছিল। পৃথিবীর অনেক দেশের দ্বারা প্রত্যাখান হওয়ার পর অবশেষে মরিশাসে তিনি প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন আইআইএক্স।



৩৪/ ফিনল্যান্ডের গণমাধ্যমে বাংলাদেশি তরুণের সাফল্য গাঁথা




ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জিরকি ক্যাতাইনেন রাষ্ট্রীয় কোনো সফরে যাওয়ার আগে , তার সফরের খোঁজ খবর বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য , একজন তরুণ সাংবাদিককে ফোন করেন ।
এই তরুণ সাংবাদিক আর কেউ নন, তিনি বাংলাদেশের অফিউল হাসনাত রুহিন ।

উচ্চতর শিক্ষার বৃত্তি নিয়ে ফিনল্যান্ডে থাকা রুহিন সেখানে গড়ে তুলেছেন ফিনল্যান্ড টাইমস নামে একটি নিউজ পোর্টাল। এর মধ্যেই ফিনল্যান্ডের অন্যতম জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যমে পরিণত হয়েছে রুহিনের ফিনল্যান্ড টাইমস।
এটি ইউনিভার্সিটি অফ ল্যাপল্যান্ড-এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে।
অ্যালেক্সা ট্রাফিক র্যাং কিং অনুযায়ী অনলাইন নিউজ পেপারের ক্ষেত্রে ফিনল্যান্ড টাইমস শীর্ষ অবস্থান করছে।



৩৫/ আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে স্বর্ণপদক পেলেন ইশরাক




৩৫/ আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে স্বর্ণপদক পেলেন ইশরাক

সম্প্রতি তাইওয়ানে অনুষ্ঠিত আইওআই আন্তর্জাতিক ইনফরমেটিকস অলিম্পিয়াডে স্বর্ণ জিতেছেন অস্ট্রেলিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশি ইশরাক হুদা।


অলিম্পিয়াডে বিশ্বের ৮১টি দেশ থেকে ৩১১জন প্রতিযোগী অংশ নেন।

এরমধ্যে বিভিন্ন ইভেন্টে মোট ছয়’শ নম্বরের মধ্যে ছয়শ নম্বর-ই পেয়েছেন অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রথমবারের মতো অংশ নেওয়া এই বাংলাদেশি কিশোর।
১৬ বছর বয়সী ইশরাক সিডনির স্বনামধন্য জেমস রুজ হাইস্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্র।
ইশরাকের পিতা অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ডা. কামরুল হুদা ও মাতা ডা. শুহানা পারভিন ।



৩৬/ বাংলাদেশের মেয়ে শাহজা আলীর পেইন্টিং , কানাডার জাতীয় আর্ট প্রদর্শনীতে প্রথম ।




বাংলাদেশী মেয়ে চিত্রশিল্পী শাহজা আলীর ছবি কানাডার জাতীয় আর্ট প্রদর্শনীতে প্রথম হয়ে কানাডার আর্ট গ্যালারীতে স্থান পেয়েছে । তিনি ১০৯৮ ভোট পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন ।শাহজা আলী বৃহত্তর যশোরের তথা সারা বাংলাদেশের কৃতি সন্তান পরমানু বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. এম. শমশের আলী স্যারের নাতনী ।


৩৭/ মাদ্রাসা থেকে ফাজিল পাস মুসলিমা এখন অস্ট্রেলিয়া ডুবুরিদের প্রশিক্ষক




অদ্ভুত জীবন মেয়েটির । গ্রামের অনেকের মতো তাঁরও বিয়ে হয় অল্প বয়সেই । নিজের সব স্বপ্ন চেপে রেখে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়েছিল বাবার ইচ্ছার মর্যাদা দিতে গিয়ে। কিন্তু স্বপ্ন দেখা শেষ হয় না মেয়েটির । বিয়ের পর সামাজিক প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে লাগল । একসময় বিয়েটাও ভেঙে গেল। তত দিনে তাঁর কোলজুড়ে এসেছে মেয়ে জেরিন। মেয়েকে নিয়ে শুরু হলো নতুন সংগ্রাম । সেই সংগ্রামে জিতেছেন মুসলিমা আক্তার। এখন তিনি স্কুবা ডাইভার ।


ভারতে প্রশিক্ষন , বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করেতে চলে যান মালদ্বীপ । অর্জন করেন ‘পেডি মাস্টার স্কুবা ডাইভার’ সার্টিফিকেট । মালদ্বীপে সাগর তল দর্শনার্থী পর্যটকদের গাইড হিসেবে ডুবুরী ক্যেরিয়ার শুরু । পরবর্তীতে উচ্চতর প্রশিক্ষণে অস্ট্রেলিয়ায় । বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় ডুবুরিদের ‘মাস্টার স্কুবা ডাইভার ট্রেইনার’ হিসেবে কাজ করছেন মুসলিমা ।

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় জন্ম মুসলিমা আক্তারের। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। ২০০৩ সালে দিগাব আমজাদিয়া সিনিয়র কাপাসিয়া মাদ্রাসা থেকে ফাজিল পাস করেন।
(ব্যবহৃত পেইন্টিংটি প্রতীকী)

পূর্বের পর্ব সমুহ-
১/ রাশিয়ার শ্রেষ্ঠ জিমন্যাস্টিক রিতা
২/ ওবামার উপদেষ্টা , বিজ্ঞানী ড. এন নীনা আহমাদ
৩/ কানাডার ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট ও ভাইস চ্যান্সেলর ড. প্রফেসর অমিত চাকমা ।
৪/ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জাপানি সুপার মডেল রোলা ।
৫/ বাংলাদেশি মেয়ে প্রিয়তি যখন 'মিজ আয়ারল্যান্ড' ।
৭/ ইউটিউব এর প্রতিষ্ঠাতা জাভেদ করিম।
৮/ বিশ্বের সেরা ৫০ উদ্যোক্তার একজন সুমাইয়া কাজী
৯/ পৃথিবীতে প্রেরণার আলোক ছড়ানো সাবিরুল
১০/জাতিসংঘের আন্ডারসেক্রেটারি জেনারেল আমিরা হক ।
১১/ সৌদি আরবের শ্রেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম
১২/ মার্কিন সেরা সংবাদ প্রযোজক তাসমিন মাহফুজ
১৩/ কাতার আমিরের উপদেষ্টা ডক্টর হাবিবুর রহমান ।
১৪/ ইউরোপে নিউক্লিয়ার গবেষণায় প্রথম বাংলাদেশি অনন্যা ।
১৫/ যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যুৎশক্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট -আরশাদ মনসুর
১৬/ কৃত্রিম মানব ফুসফুসের উদ্ভাবক; জিনবিজ্ঞানী আয়েশা আরেফিন টুম্পা
১৭/ বিশ্বের সেরা ৫০ বিজ্ঞানীর একজন , ড. আনিসুর রহমান ।
১৮/ যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড ফর এডুকেশনাল এক্সেলেন্স’ বিজয়ী আনিকা জাহান ১৯/ নাফিস বিন জাফর - প্রথম অস্কারজয়ী বাংলাদেশি ২০/ রাজশাহীর মেয়ে আনিকা পেলেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি পুরস্কার ২১/আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের রূপকার কুমিল্লার কৃতিসন্তান রফিকুল ইসলাম
২২/
প্রবাসে বাংলাদেশের রক্তের উত্তরাধিকারী গুণীগন- ২৩,২৪,২৫,২৬,২৭ ।
কেমব্রিজ বিশ্ব বিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জামাল নজরুল ইসলাম - যার গ্রন্থ কেমব্রিজ, অক্সফোর্ড, প্রিন্সটন, হার্ভার্ডসহ নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্য। (এক পোস্টে ৫ জন)প্রবাসে বাংলাদেশের রক্তের উত্তরাধিকারী গুণীগন- ২৮,২৯,৩০,৩১,৩২

অন্য ভূবন...!



মৃত মাছের চোঁখে চোঁখ রাখি। আরো একটু গভীরে- যতটি গভীরে গেলে দৃষ্টিসীমানায় একটি গোলাকার চোঁখ শুধু। বিভ্রম নয় বরং বিশ্বাস রাখি আত্মমগ্নতায়। কাল্পনিক ধারণার অস্তিত্বহীনতাকে অস্বীকার করে বিচ্ছিন্ন একটি পৃথিবী বয়ে বেড়াচ্ছি মাথার ভেতর। বাস্তব মহাবিশ্বের পৃথিবীর মতো নিজস্ব কক্ষপথে চলমান বিচ্ছিন্ন সেই পৃথিবীর জন্ম হয়েছিল কোনো এক শরতের রাতে। তারপর থেকে নিবিড় পর্যবেক্ষকের মতো শুধু নিজ কক্ষপথে ধাবমান। এই পৃথিবীতে আগমনের পর থেকেই জেনেছি বিছিন্ন সেই পৃথিবীর বুকে আমার আদি পদচ্ছাপ অস্বীকার করবার নয়।

স্বেচ্ছা নির্বাসিত জীবন যাপনের অলস কোনো দুপুরে সেখানে অবারিত নদীর ধারে ছিপ ফেলে বসে ছিল কেউ। মৃত মাছের চোঁখে আরো একটু গভীর এবং স্বচ্ছ দৃষ্টি দেয়া যাক, যতটি গভীরে তাকালে বিচ্ছিন্ন পৃথিবীকে মনে হবে ছবির মতো। শৈশবের বায়োস্কোপের রীল নিয়ন্ত্রিত ভাবে ঘুরছে পৃথিবীর আহ্নিক গতির সাথে সাথে।

মাছ ধরতে ছিপ ফেলে বসে থাকা প্রাণসম্পন্ন সৃষ্টিটি একজন অপেক্ষমাণ যাত্রী। অবশ্যই সে তার নিজস্ব পৃথিবী সম্পর্কে অবগত। মেঘ আর রোদের খেলায় সময় পার হতে হতে উদ্বেলিত পানির তরঙ্গে নড়ে ওঠে ছিপ। মাছের চোঁখটি কাঁপুনি দিয়ে ওঠে। অপেক্ষমাণ যাত্রীর অপেক্ষার কারণ মূলতঃ একজন পরম প্রার্থিত যাত্রাসঙ্গী। কাঙ্ক্ষিত কোনো যন্ত্রণার।

বাস্তবিক পৃথিবীর যন্ত্রণাসমুহ কেবল অসহনীয় নয়, আত্মহত্যার প্ররোচনায় উদ্ভাসিত। আয়নাতে ভাঁসে অচেনা কোনো প্রতিবিম্ব। সেই প্রতিচ্ছবি আমার নয়।

কাঙ্ক্ষিত যন্ত্রণা বা পরম প্রার্থনার যাত্রাসঙ্গী নির্দ্বিধায় সৌন্দর্যের স্বীয় সংজ্ঞায় নিজেকে মেলে ধরা কোনো এক সুন্দর। প্রাণের সঞ্চারনে তাহলে নারীকেই প্রেম দিয়ে সাজানো হোক। সৃষ্টিশীলতার উৎকর্ষ সাধনে এর চাইতে সর্বোত্তম আর কিছুই হতে পারে না।

নদীতে ছিপ ফেলে বসে থাকা যাত্রাসঙ্গিনীর অপেক্ষায় থাকার অর্থ অপেক্ষার সময়টুকু অযথা সময়ের গর্ভে বিলীন হতে না দেয়ার প্রয়াস।
সময়ের সাথে সাথে মৃত মাছের চোঁখে তাকিয়ে থাকতে থাকতে চোঁখ ঘোলাটে হয়ে আসে। পাতাঝরা গাছ থেকে শেষ পাতাটি ঝরে গেছে। শুন্যে দুলতে দুলতে পাতাটি ছুঁয়ে ফেলল স্বচ্ছ নদীর প্রবাহকে। যেন হলুদ বিকেলের খামে সবুজ চিঠি এসে পৌঁচেছে প্রাণের সংবাদ নিয়ে। সন্ধ্যার আয়োজনে আকাশ ধারণ করেছে তার চিরায়তো রূপ। সকল নক্ষত্ররাজি জেঁগে উঠেছে একই সাথে। তারা সাক্ষী হবে নতুন একটি জীবনের, নতুন একটি বাঁধনের।

অপেক্ষমাণ যাত্রীর অপেক্ষার সময় শেষ হয়ে আসবে। সৃষ্টিশীলতার যন্ত্রণাকে বয়ে বেড়াতে বিচ্ছিন্ন নক্ষত্রগুলোকে যৌথ আকাশে নিজেদের মত সাজিয়ে নিবে একজন নর ও একজন নারী।
মৃত মাছের চোঁখে চোঁখ রাখি। আরো একটু গভীরে- যতটি গভীরে গেলে দৃষ্টিসীমানায় একটি গোলাকার চোঁখ শুধু। বিভ্রম নয় বরং বিশ্বাস রাখি আত্মমগ্নতায়। কাল্পনিক ধারণার অস্তিত্বহীনতাকে অস্বীকার করে বিচ্ছিন্ন একটি পৃথিবী বয়ে বেড়াচ্ছি মাথার ভেতর। বাস্তব মহাবিশ্বের পৃথিবীর মতো নিজস্ব কক্ষপথে চলমান বিচ্ছিন্ন সেই পৃথিবীর জন্ম হয়েছিল কোনো এক শরতের রাতে। তারপর থেকে নিবিড় পর্যবেক্ষকের মতো শুধু নিজ কক্ষপথে ধাবমান। এই পৃথিবীতে আগমনের পর থেকেই জেনেছি বিছিন্ন সেই পৃথিবীর বুকে আমার আদি পদচ্ছাপ অস্বীকার করবার নয়।

স্বেচ্ছা নির্বাসিত জীবন যাপনের অলস কোনো দুপুরে সেখানে অবারিত নদীর ধারে ছিপ ফেলে বসে ছিল কেউ। মৃত মাছের চোঁখে আরো একটু গভীর এবং স্বচ্ছ দৃষ্টি দেয়া যাক, যতটি গভীরে তাকালে বিচ্ছিন্ন পৃথিবীকে মনে হবে ছবির মতো। শৈশবের বায়োস্কোপের রীল নিয়ন্ত্রিত ভাবে ঘুরছে পৃথিবীর আহ্নিক গতির সাথে সাথে।

মাছ ধরতে ছিপ ফেলে বসে থাকা প্রাণসম্পন্ন সৃষ্টিটি একজন অপেক্ষমাণ যাত্রী। অবশ্যই সে তার নিজস্ব পৃথিবী সম্পর্কে অবগত। মেঘ আর রোদের খেলায় সময় পার হতে হতে উদ্বেলিত পানির তরঙ্গে নড়ে ওঠে ছিপ। মাছের চোঁখটি কাঁপুনি দিয়ে ওঠে। অপেক্ষমাণ যাত্রীর অপেক্ষার কারণ মূলতঃ একজন পরম প্রার্থিত যাত্রাসঙ্গী। কাঙ্ক্ষিত কোনো যন্ত্রণার।

বাস্তবিক পৃথিবীর যন্ত্রণাসমুহ কেবল অসহনীয় নয়, আত্মহত্যার প্ররোচনায় উদ্ভাসিত। আয়নাতে ভাঁসে অচেনা কোনো প্রতিবিম্ব। সেই প্রতিচ্ছবি আমার নয়।

কাঙ্ক্ষিত যন্ত্রণা বা পরম প্রার্থনার যাত্রাসঙ্গী নির্দ্বিধায় সৌন্দর্যের স্বীয় সংজ্ঞায় নিজেকে মেলে ধরা কোনো এক সুন্দর। প্রাণের সঞ্চারনে তাহলে নারীকেই প্রেম দিয়ে সাজানো হোক। সৃষ্টিশীলতার উৎকর্ষ সাধনে এর চাইতে সর্বোত্তম আর কিছুই হতে পারে না।

নদীতে ছিপ ফেলে বসে থাকা যাত্রাসঙ্গিনীর অপেক্ষায় থাকার অর্থ অপেক্ষার সময়টুকু অযথা সময়ের গর্ভে বিলীন হতে না দেয়ার প্রয়াস।
সময়ের সাথে সাথে মৃত মাছের চোঁখে তাকিয়ে থাকতে থাকতে চোঁখ ঘোলাটে হয়ে আসে। পাতাঝরা গাছ থেকে শেষ পাতাটি ঝরে গেছে। শুন্যে দুলতে দুলতে পাতাটি ছুঁয়ে ফেলল স্বচ্ছ নদীর প্রবাহকে। যেন হলুদ বিকেলের খামে সবুজ চিঠি এসে পৌঁচেছে প্রাণের সংবাদ নিয়ে। সন্ধ্যার আয়োজনে আকাশ ধারণ করেছে তার চিরায়ত রূপ। সকল নক্ষত্ররাজি জেগে উঠেছে একই সাথে। তারা সাক্ষী হবে নতুন একটি জীবনের, নতুন একটি বাঁধনের।

অপেক্ষমাণ যাত্রীর অপেক্ষার সময় শেষ হয়ে আসবে। সৃষ্টিশীলতার যন্ত্রণাকে বয়ে বেড়াতে বিচ্ছিন্ন নক্ষত্রগুলোকে যৌথ আকাশে নিজেদের মতো সাজিয়ে নিবে একজন নর ও একজন নারী।

সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে কথোপকথন...

"হ্যালো সৃষ্টিকর্তা,আপনাকে কি নামে ডাকব-আল্লাহ,ভগবান,ঈশ্বর না গড?"
"তোমার ধর্ম কি?"
"আমার ধর্ম মানবতা।"
"এমন কোন ধর্ম তো আমি সৃষ্টি করিনি।কোথুকে এল এটা?"
"কি যে বলেন,আমি মানুষ,তাই আমার ধর্ম মানবতা।"
"ওহ বুঝেছি,তুমি নাস্তিক তাই তো?আমাতে তোমার বিশ্বাস নেই।তাহলে আমার সাথে কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করলে কেন?"
"না না আমি নাস্তিক নই।কিন্তু আপনার প্রতি আমার বিশ্বাসও নেই।আমি আসলে আপনার সাথে কথা বলতে এসেছি এটা ঠিক করতে যে আমি নাস্তিক হব না আস্তিক হব।"
"হুম,এই যে আমি আছি।এখন তো নিশ্চয়ই তুমি আস্তিক হবে?"
"আমি তো এখনও নিশ্চিত নই যে আপনি আছেন কিনা।সে যাই হোক,যেহেতু আপনার সাথে কথা বলছি ধরে নিচ্ছি আপনি আছেন যেমন গণিতের খাতায় এক্স,ওয়াই,যেড ধরে নেই!আমি হলাম তবে আস্তিক।এখন বলুন আমি কোন শ্রেনীর আস্তিক হব?"
"মানে?আমার উপর বিশ্বাস করলেই তুমি আস্তিক।শ্রেণী আবার কি?"
"না মানে এতদিন নাস্তিক ছিলাম,একটাই গোত্র ছিল আমার।এখন আস্তিক হচ্ছি-আস্তিক দের তো অনেক গোত্র-হিন্দু,মুসলিম,খ্রিস্টান আরও কত কি!তো কোন গোত্রে যাব আমি?আপনি আসলে কোন গোত্রের অধিপতি?"
"আমি সব মানুষেরই স্রষ্টা।ধরে নাও আমার মনোনিত ধর্ম ... ইসলাম।বাকিরা সবাই ভুল পথে আছে।"
"সকল প্রশংসা আপনার।আমি তবে আস্তিক মুসলমানই হব।এখন বলুন আমি মুসলমান দের কোন গোত্রে যাব?আপনি কোন গোত্রের অধিপতি?কোন গোত্র সঠিক?"
"মুসলমান মানে তো মুসলমান।সেখানে আবার গোত্র কিসের?"
"না মানে শিয়া-সুন্নি-কাদিয়ানি-আহমাদিয়া নানা রকম গোত্র আছে তো,কোন গোত্রে যাব?"
"তুমি বড়ই ত্যাদড় প্রকৃতির বান্দা।শোন ছেলে,এসব গোত্র আমার সৃষ্টি না,বিভ্রান্ত মানুষের তৈরি।"
"এ আপনি কি বললেন?"
"কেন? কি হয়েছে?"
"আমি তো শুনে এসেছি আপনার ইচ্ছা ছাড়া গাছের পাতাও নড়েনা।তাহলে এই গোত্রও আপনার ইচ্ছাতেই সৃষ্টি নয় কি?"
"হ্যা,আমি মানুষ কে পরিক্ষা করতে পাঠিয়েছি।আমি দেখতে চাইছি কারা নিজেদের বিবেক বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে প্রকৃত পথের অনুসরন করে।"
"আচ্ছা আপনি বলেন তো আমি কোন গোত্রে যাব?আপনি নিশ্চয়ই আমার মনের খবর রাখেন?"
"তোমার বাবা মা যে গোত্রের অনুসারি তুমি সেই গোত্রেই যাবে।আমি তোমার মনের ইচ্ছা পড়তে পাড়ছি।"
"হলনা।আপনি গোল্লা।আমি শিয়া মতাবলম্বি হব।"
"আমি বলবনা কোনটি আসল পথ।তুমি তোমার বিবেক দিয়ে বিচার করবে।তবে হ্যা আমার সাথে বেয়াদবির শাস্তি তুমি পাবে।"
"আচ্ছা ইসলামই একমাত্র সঠিক পথ।বাকি গুলো ভ্রান্ত?"
"হ্যা।"
"তাহলে ওগুলো আপনি সৃষ্টি করলেন কেন?"
"মানুষ কে পরিক্ষা করতে।"
"ওহ আচ্ছা,আমার জ্ঞান চক্ষু খুলে গেল।"
"তোমার ভাগ্যে আমি এটাই লিখে রেখেছি,তোমাকে হেদায়েত করা হয়েছে।নিশ্চয়ই আমি সর্বজ্ঞ।"
"মানে আপনি আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছেন যে আমি নাস্তিক থেকে আস্তিক হব?"
"হ্যা।এটাই তোমার তাকদির।আর তাকদিরে বিশ্বাস না করলে ঈমান থাকবেনা।"
"তার মানে আপনি আগে থেকেই সব ঠিক করে রেখেছেন?"
"হ্যা,আমি সর্বজ্ঞানি,সর্বজ্ঞ।অতীত বর্তমান ভবিষ্যত কোন কিছুই আমার অজানা নয়।মাটির নিচে গহিন অন্ধকারে ঐ পোকাটা কি করছে সেটাও আমার অজানা নয়।"
"আচ্ছা আমার পেটে খুব ব্যাথা করছে ইদানিং।পাকস্থলি তে কয়টি কৃমি আছে বলতে পারেন?"
"তুমি আমার সাথে রসিকতা করছ?এর শাস্তি কত ভয়াবহ তুমি জান?"
"আই অ্যাম জাস্ট জোকিং।যাই হোক,তাহলে আপনিই ঠিক করে রেখেছেন একটা মানুষ কি করবে না করবে-এর বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা সেই মানুষের নেই-তাইতো?"
"হুম,এক কথা বারবার জিজ্ঞেস করছ কেন?"
"তাহলে আপনারই ঠিক করা কাজ করার জন্য,আপনিই আবার একদল মানুষ কে শাস্তি দেবেন-ব্যাপারটা কেমন হয়ে গেলনা?মানে আপনিই একজনকে রহিম আরকেজন কে রাম হিসেবে জন্ম দিলেন।রাম যে রহিম না রাম হল সেটাও আপনার ইচ্ছা।রাম দুর্গার সামনে ধুনুচি নাচ নাচবে সেটাও আপনিই ঠিক করে দিয়েছেন,আবার ঐ ধুনুচি নাচ নাচার জন্য মরার পর ওর পিছনে ধুনুচি গুজেও দেবেন!ব্যাপারটা কেমন যেন গোলমেলে।"
"তুমি বিভ্রান্ত।তুমি এখনও সঠিক পথে ফিরে আসনি।বিবেক কে ব্যবহার কর।না হলে তোমার শাস্তি ভয়াবহ।"
"রাগ করবেন না।আপনি তো পরম দয়ালু,অসীম দয়াময়।তাহলে আপনি কথায় কথায় শাস্তির ভয় কেন দেখান?"
"তুমি অকৃতজ্ঞ।আমার এত এত নেয়ামত কে তুমি অস্বীকার করছ।আবার আমার সাথে বেয়াদবি করছ।"
"আচ্ছা রাগ করবেন না।আমি আসলে জানতে চাচ্ছি অনেক কিছু।তাই প্রশ্ন করছি।সব জবাব পেলেই আমি আস্তিক হয়ে যাব পুরোপুরি।আপনার কসম।"
"বিনা প্রশ্নে বিশ্বাস করাই ধর্ম।তবে বল দেখি কি কি জানতে চাও?"
"আপনি তো উত্তর দিচ্ছেন না।চটে যাচ্ছেন।ঐ যে আগে যে প্রশ্নটি করলাম সেটির উত্তর?"
"তোমার সব প্রশ্নের উত্তর দিতে আমি বাধ্য নই।নিশ্চয়ই আমি সর্বজ্ঞ।আমি যা জানি তুমি তা জাননা।"
"ওকে বেশ বেশ।আমার আরও কিছু প্রশ্ন ছিল।আচ্ছা আত্মহত্যা তো মহাপাপ?"
"হ্যা।আত্মহত্যাকারি জাহান্নামের আগুনে জ্বলবে।"
"আচ্ছা কার মৃত্যু কিভাবে কোথায় হবে সেতো আপনিই ঠিক করে রেখেছেন,তাইনা?"
"হ্যা।যখনই কারো হায়াত শেষ হয়ে যায় আমার নির্দেশে আয্রাইল গিয়ে তার জান কবজ করে।"
"তাহলে যে আত্মহত্যা করে মারা যাচ্ছে তার মৃত্যুও আপনারই ঠিক করা।আপনিই ঠীক করে রেখেছেন যে এই লোক আত্মহত্যা করে মারা যাবে।আবার আপনিই তাকে আত্মহত্যার জন্য শাস্তি দেবেন।ব্যাপারটা তাহলে কি দাড়ালো?"
"মূর্খ অকৃতজ্ঞ নির্বোধ,বিবেক বুদ্ধি ব্যবহার কর।আমি যা জানি তুমি তা জাননা।"
"রাগ করবেন না প্লিজ।আমার ভুল হয়ে গেছে।আচ্ছা মুহম্মদ (স) আপনার খুব প্রিয় তাইনা?"
"হ্যা।তাকে সৃষ্টি না করলে আমি বিশ্বজগতই সৃষ্টি করতাম না।সে আমার প্রিয় বন্ধু।আমি তাঁকে অধিষ্ঠিত করব বেহেশতে সর্বোচ্চ প্রশংসিত স্থানে।"
"আপনার কিতাব পড়লে দেখা যায় তার আরাম আয়েশের ব্যাপারে আপনি যথেষ্ট সচেষ্ট এবং তাঁকে প্রচুর সুবিধা দান করেছেন।কেন?"
"কেন মানে?সে আমার বন্ধু।তাকে সৃষ্টি না করলে আমি বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করতাম না।"
"সকল প্রশংসা আপনার।আপনি যথার্থ ন্যায়বিচারক বটে।আচ্ছা কেবল মাত্র মানুষ কে নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করার জন্য আপনি এই বিশাল মহাবিশ্ব তৈরি করেছেন কেন?মানে আমি বলতে চাচ্ছি পৃথিবী সৌর জগতের একটা গ্রহ মাত্র।আবার এই সৌর জগতটা হল মরুভূমি তে এক কণা বালির সমান।শুধু মাত্র মানুষের স্তুতি শোনার জন্য এত কিছু সৃষ্টি করলেন?"
"আমি সর্বজ্ঞ।নিজের বিবেক কে কাজে লাগাও।আমি যা জানি তুমি তা জাননা।"
"জ্বি তাতো অবশ্যই।সকল প্রশংসা আপনার।কিন্তু কি জানেন তো আমাদের পৃথিবীতে যে নেতা বা যে মালিক বেশি প্রশংসা শুনতে চায়,চাটুকারিতা পছন্দ করে তাকে অপদার্থ হিসেবে ধরা হয়।"
"মানুষ প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য না।সকল প্রশংসা শুধু আমার।"
"জ্বী অবশ্যই।আচ্ছা যুদ্ধে যে শিশুরা মারা যায়,কিংবা যে শিশুটা ধর্ষিত হয় সেটাও তো আপনার ইচ্ছা তেই হয়,তাইতো?"
"যুদ্ধে যে শিশুরা মারা যায় তাদের আমি বেহেশতে উচ্চ সম্মান দান করি।আরামে রাখি।"
"আর যে শিশুটা ধর্ষিত হয়?"
"ব্যভিচারের শাস্তি ভয়াবহ।"
"জানেন নিজেকে আমার বেশ মহান মহান মনে হচ্ছে।আবার আমার রাফী নামের অর্থও মহান!"
"মহান হলাম আমি।তোমার বাবা মা এই নাম রেখে কাজটা ঠিক করেনি।অপরাধ করেছে।"
"আমি আরও ভাবলাম আপনার ইচ্ছাতেই আমার এই নাম!"
"কেন তোমার নিজেকে মহান বলে মনে হচ্ছে?"
"কারণ,আমার সামনে যদি ধর্ষনের চেষ্টা হয় আমি বাচাতে চেষ্টা করব,ধর্ষক কে রুখব।কিন্তু আপনি ক্ষমতা থাকার পরও ধর্ষনটা হতে দিচ্ছেন!তাহলে কে মহান হাহাহাহা...?"
"অকৃতজ্ঞ নির্বোধ।তুমি নিজেকে আমার সাথে তুলনা করছ?তোমার শাস্তি ভয়াবহ।তোমার ঠিকানা জাহান্নাম।সেখানে তুমি আজিবন থাকবে।"
"না না ছি কি বলেন?আপনার সাথে আমার তুলনা!আমি কি এত স্তুতি শুনতে পছন্দ করি নাকি?"
"কি বলতে চাও তুমি?"
"আপনি সর্বজ্ঞ।আচ্ছা,আপনি কুরানে যা যা বলেছেন সব সত্য?"
"হ্যা,কুরানই একমাত্র জিবন বিধান।পুর্নাংগ জীবন বিধান।এতেই আছে সকল জ্ঞান।আর জ্ঞানি দের জন্য ইশারাই যথেষ্ট।"
"কুরানে আপনি নীলনদের পানি দুই ভাগ করার কথা বলেছেন,নুহ নবির নৌকার কথা বলেছেন।আচ্ছা নৌকা নিয়ে আমার একটা প্রশ্ন ছিল,আমি ক্যালকুলেশন করে দেখেছি পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত যতগুলো স্পিসিস আবিষ্কৃত হয়েছে তার সব গুলো নৌকায় তুলতে হলে,তাদের সবার খাবার মজুদ করতে হলে যে জায়গা লাগবে সেটি টাইটানিক এর থেকেও বড় হবে,আবার ধরুন সমগ্র পৃথিবী যদি পানির তলে ডুবে যায় সেই পানির উচ্চতা ২ আড়াই মিটারের বেশি হবেনা।আর একটা ব্যাপার।আপনি আদম কে সৃষ্টি করে কতিপয় বস্তুর নাম শিখিয়ে দিলেন যেগুলোর নাম কেউ জানতো না।এরপর ফেরেশতা দের জিজ্ঞেস করলেন,যেহেতু তারা জানেনা তারা তাই বলতে পারলোনা,আদম আগে থেকেই জানত বলে বলতে পারলো।ব্যাপার টা কেমন হলনা?অবশ্য আপনার এই শিক্ষায় অনুপ্রানীত হয়ে বাংলাদেশে এখন নিয়মিত প্রশ্ন ফাস হচ্ছে! তারপর ধুরুন হাওয়ার জন্মের ব্যাপারটি।পাজড় থেকে কি করে হাওয়ার জন্ম হতে..."
"খামোশ বেয়াদব।কুরান বুঝা তোমার মত মূর্খের কর্ম নয়।এতে আমি রূপকের সাহায্যে ইশারায় অনেক কিছু বলে দিয়েছি।তোমার অন্তরে তো আমি সীসা ঢেলে দিয়েছি।"
"তার মানে আপনিই চাচ্ছেন না যে আমি আস্তিক হই।তাহলে আর কি করার।আপনার বিরূদ্ধে তো যাওয়ার কোন উপায় নেই।তবে আপনি যে বলেছেন কুরান কে আপনি সহজ করেছেন?আর হ্যা আপনি বলেছেন সব জায়াগার মানুষের জন্যই আপনি পথ প্রদর্শক পাঠিয়েছেন।তাহল সব নবীদের জন্ম ঐ আরব অঞ্চলেই কেন?"
"আমি যা জানি তুমি তা জাননা।নিজের বিবেক কে ব্যবহার কর।"
"আচ্ছা তাহলে সামারি করি কি বলেন?প্রথমত আপনিই প্রতিটা মানুষের তাকদির ঠিক করে রেখেছেন আবার আপনিই আপনার ঠিক করা তাকদিরে চলার জন্য কাউকে পুরষ্কৃত করবেন,কাউকে জাহান্নামে পাঠাবেন।দ্বিতীয়ত কোন কিছুই আপনার ইচ্ছা ছাড়া হয়না।কাজেই যারা নাস্তিক তারা আপনার ইচ্ছাতেই নাস্তিক।আবার আপনিই তাদের শাস্তি দেবেন।আপনি অসীম দয়ালু,তাই আপনি আপনারই সৃষ্টির জন্য ভয়াবহ শাস্তির ব্যবস্থা করে রেখেছেন।আপনি এই বিশাল মহাবিশ্বে মানুষ সৃষ্টি করেছেন প্রশংসা ও স্তুতি শোনার জন্য।যাক অনেক জ্ঞান লাভ করলাম।"
"হ্যা নিজের বিবেক কে ব্যবহার কর।আমার প্রশংসা কর।আমার বন্ধুর প্রশংসা কর।তোমার জন্য তাহলে প্রস্তুত থাকবে জান্নাত।যার তলদেশ দিয়ে নহর প্রবাহিত।আর যেখানে আছে আয়তলোচনা হুর গণ"
"জ্বি জান্নাতে তো বংশ বিস্তার করার কোন ব্যাপার নেই।তাই সেখানে সেক্স করারও কোন দরকার নেই।হুর দিয়ে কি হবে?"
"অকৃতজ্ঞ বেয়াদব নিজের বিবেক কে ব্যবহার কর।"
"জ্বি করলাম।"
"কি করলে?"
"নিজের বিবেক বুদ্ধি আর মস্তিষ্ক কে ব্যবহার করলাম।"
"করে কি বুঝলে?"
"বুঝলাম আপনি আমার উত্তপ্ত মস্তিষ্কের কল্পনা মাত্র।আপনার কোন অস্তিত্ব নেই।"
" কিন্তু তুমি আমার সাথে কথা বলছ!"
"এই কথোপকথনেরও কোন অস্তিত্ব নেই।এটা একটা ফেসবুক স্ট্যাটাস মাত্র,জুকারবার্গ নামের এক নাস্তিক যা সৃষ্টি করেছে।এখানে কেউ লাইক দেবে।অনেকে লাইক দিতে ভয় পাবে।কেউ কমেন্ট করবে।আপনার বিশ্বাসীরা গালাগালি করবে।অল্প কিছু মানুষ বাহবা দিতেও পারে,নাও দিতে পারে।"
"কিন্তু..."
"বিবেক কে ব্যবহার করছি... তাই এই কথোপকথের কোন মূল্য নেই।কালকে পরিক্ষা,পড়তে যেতে হবে..."

"মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা-মধু না গলার কাঁটা?"

আমাদের দেশে যত গুলো শিক্ষা ব্যবস্থা প্রচলিত আছে তার মধ্যে সব থেকে অশ্লীল ব্যবস্থাটি হল 'মাদ্রাসা' শিক্ষা পদ্ধতি।কেন অশ্লীল বলছি?প্রচলিত অর্থে অশ্লীল বলতে আমরা বুঝে থাকি নগ্নতা কে।কিন্তু নগ্নতাই অশ্লীলতা নয়।যাই মানব জীবনের প্রগতির পথে,উন্নতির পথে বাধা দেয়;যা আমাদের সুস্থ মানসিকতা কে আক্রান্ত করে সেটাই অশ্লীল।এবং সেই বিবেচনায় মাদ্রাসা ব্যবস্থা একটি অশ্লীল শিক্ষা ব্যবস্থা।শুধু অশ্লীলই নয়,অপ্রয়োজনীয় এবং এটাই একমাত্র শিক্ষা পদ্ধতি যা থেকে আমরা কিছু আশা করতে পারিনা,যা থেকে দেশ লাভবান হচ্ছেনা।কেবল বলার জন্য বলা নয়,আসুন একটু খতিয়ে দেখা যাক কেমন আছে আমাদের মাদ্রাসার শিশুরা,কেমন চলছে সেখানে পড়াশুনা,তারা কি শিখছে,তাদের ভবিষ্যৎ কি দাড়াচ্ছে?

মাদ্রাসা ( আরবি ভাষায়: مدرسة, madrasa বহুবচনে مدارس, madāris) আরবি শব্দ দারসুন থেকে উদ্ভূত, এর অর্থ পাঠ। মাদ্রাসা মূলত মুসলমানদের অধ্যয়ন-অধ্যাপনা গবেষণা ইত্যাদির স্থান বা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।অর্থাৎ শব্দগত ভাবে মাদ্রাসা হওয়া উচিত জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা কেন্দ্র।কিন্তু মাদ্রাসা শুনলেই আমাদের চোখে ভেসে উঠে এমন একটি অন্ধকার বদ্ধ প্রতিষ্ঠানের কথা,যেখানে শুধু মাত্র কোরআন-হাদিস শিক্ষা দেয়া হয়।এখানে মসজিদের মক্তব বা অনাবাসিক মাদ্রাসার কথা বলছিনা,মূল আলোচনা করছি আবাসিক মাদ্রাসা নিয়ে।আচ্ছা একটি প্রশ্নের জবাব দিন- 'কোন বাবা মা তার সন্তান কে কেন মাদ্রাসায় দেন?'
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কারণ গুলো খুবই সাধারণ।মূল কারণ হল-দারিদ্র্য।মাদ্রাসায় স্বল্প খরচে বা বিনা খরচে থাকা খাওয়া হয়ে যাচ্ছে।মূল ধারার পড়াশুনার থেকে যা অনেক সাশ্রয়ী।দ্বিতীয়ত,ডানপিটে দুষ্ট ছেলেটিকে 'শায়েস্তা' করার জন্য মাদ্রাসায় দেয়া হয়।তৃতীয়ত,মাদ্রাসায় সন্তানটি যদি হাফেজ হয়ে বের হয় তাহলে সেই সন্তানের আলখাল্লার কোনা ধরে বেহেশতে গমন নিশ্চিত!মানে স্বল্প খরচে বেহেশতের টিকিট নিশ্চিত করা হল-যা পৃথিবীতে শান্তিতে থাকার চেয়ে একটি দরিদ্র মানুষের কাছে অধিক গুরুত্বপূর্ণ।কারণ সে তার দারিদ্র্য কে মনে করে 'আল্লাহর ইচ্ছা' এবং এই আশায় বসে থাকে এই কালে তার অবস্থার পরিবর্তন হওয়া সম্ভব নয়,পরকালই তার একমাত্র আশা।সেই পথ টাকে আরও পরিষ্কার করার জন্য সন্তান কে মাদ্রাসায় অমানবিক জীবনে পাঠাতে গরিব মানুষটি কুন্ঠা বোধ করেনা।
বেশ কয়েকবার আমার মাদ্রাসার শিশুদের নিয়ে কাজ করার সুযোগ হয়েছে।সেই অভিজ্ঞতা মোটেই সুখকর ছিলনা।মাদ্রাসা গুলো জেল খানার সাথেই তুলনীয়।সেখানে বাচ্চাদের বাইরের 'আউট বই' পড়া নিষিদ্ধ।একবার একটি বাচ্চার কাছে সুকুমার রায়ের একটি বই পাওয়া গিয়েছিল বলে তাকে বেত্রাঘাত করা হয়েছিল।অবশ্য বেতের বাড়ি মাদ্রাসায় খুবই সাধারণ ঘটনা।মাদ্রাসার বাচ্চা দের সাথে কথা বলাটা অবশ্য সহজ ব্যাপার ছিলনা,আমি যেকবারই বিভিন্ন মাদ্রাসায় গিয়ে কাজ করেছি সাথে সার্বক্ষনিক একজন হুজুর ছিল।সেই হুজুর আমাদের যেখানে নিয়ে যেত শুধু সেই ঘর গুলোই দেখার সুযোগ পেতাম আমরা।আমার অভিজ্ঞতা থেকে তিনটি অবজারভেশন-
১.মাদ্রাসায় উপরের ক্লাসের একটি ছাত্র ইংরেজিতে পুরো একটি বাক্য বলতে পারেনা।'আমার নাম অমুক' এই সাধারণ বাক্যটিও অনেকে ইংরেজি তে বলতে পারেনা।
২.তাদের অধিকাংশের কোন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নেই।যখন তাদের জিজ্ঞেস করেছি- "বড় হয়ে কি হবে?" তখন তারা শূণ্য দৃষ্টিতে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে ছিল।বড় হয়ে যে কিছু হওয়া যায় এটাই তাদের ধারণার বাইরে।
৩.বাইরের জগৎ সম্পর্কে,জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিশাল রহস্যময় জগৎ সম্পর্কে তাদের কোন ধারনা নেই।শিক্ষক দের তত্ত্বাবধায়নে তারা শিক্ষকদের সিলেক্ট করা কিছু পত্রিকা পড়ে।
ইবনে সিনা মাদ্রাসা কে এমন একটি বিশেষ যোগ্যতা অর্জনের ক্ষেত্র বলে আখ্যায়িত করেছেন যে সেক্ষেত্রে ছাত্রদের কর্তব্য হল,কোন সামাজিক মর্যাদার প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে প্রায়োগিক যোগ্যতা অর্জন করা।তিনি লিখেছেন যে চৌদ্দ-ঊর্ধ ছেলেমেয়েদেরকে তাদের নিজ ইচ্ছামত কোন বিষয় বেছে নিয়ে সেবিষয়ে বিশেষজ্ঞতা অর্জন করতে দেয়া উচিৎ যাতে সে আগ্রহবোধ করে, তা হতে পারে ব্যবহারিক দক্ষতা, সাহিত্য, দ্বীনের দাওয়াত, জ্যামিতি, ব্যবসা-বানিজ্য, কারূকর্ম অথবা অন্য যেকোন এমন বিষয় বা বৃত্তি যা অনুযায়ী সে ভবিষ্যৎ জীবন গড়ে তুলতে চায়।বলাই বাহুল্য ইবনে সিনা তাঁর সময়কার মোল্লা দের দ্বারা মুরতাদ অভিধা পেয়েছিলেন,যদিও বর্তমানের ভন্ড মুসলমানেরা তাকে নিয়ে মুসলিম মনীষী হিসেবে গর্ব করে!
মাদ্রাসায় শারীরিক শাস্তি প্রদান কে শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয় যা কিনা আমাদের দেশের আইনে দন্ডনীয় অপরাধ।সেখানে শিক্ষক দের হাতে চক ডাস্টারের থেকেও সাধারণ বস্তুটি হল বেত।এখন দেখা যাক মাদ্রাসা শিক্ষার উপযোগীতা কি কি?মাদ্রাসা গুলো আমাদের কি দিচ্ছে?সমাজ-দেশ তাদের থেকে কিভাবে উপকৃত হচ্ছে?
প্রথমত,মাদ্রাসার ছাত্ররা দেশের প্রচলিত স্রোতের সাথে মিশে যেতে পারছেনা।মাদ্রাসা থেকে পাশ করে একটি ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরিক্ষায় অংশ নিতে পারে।কিন্তু সেখানে তার দৌড় কতটুকু সেটা সহজেই অনুমেয়।এরা দেশের জন্য বোঝা হিসেবে তৈরি হয়।এরা যখন দেখে তাদের বয়সি ছেলে মেয়েরা ভাল প্রতিষ্ঠানে পড়াশুনা করছে,ভবিষ্যত নিয়ে রঙ্গিন স্বপ্ন দেখছে,নাটক করছে,গান গাচ্ছে,একুশে ফেব্রুয়ারি প্রভাত ফেরিতে যাচ্ছে- তখন এদের মধ্যে যে হতাশা তৈরি হয় আমরা কি তার খোজ রেখেছি?আমরা না রাখলেও একটি অংশ কিন্তু ঠিকই রেখেছে এবং সেই অংশ টি এই হতাশা কে উগ্রতায় রূপান্তরিত করে দিতে পারছে সহজেই।যে অল্প বয়সি তরুন জঙ্গি হয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে বুকে বোমা বেধে ঝাপিয়ে পড়ছে সে তো মংগল গ্রহ থেকে উদয় হয়নি,আমার আপনার আশপাশ থেকেই এসেছে।এবং শতকরা ৯৯ ভাগই এসেছে ঐ মাদ্রাসা থেকে।মাদ্রাসা গুলো হচ্ছে জঙ্গি তৈরির কারখানা,এটা আর এখন কোন মনগড়া দাবি নয়,প্রমাণীত সত্য।রাজনৈতিক দল গুলো যখন তখন ধর্মের নাম নিয়ে উস্কে দিচ্ছে এই উগ্রতা কে।৫ মে হেফাজতের সমাবেশে যে লাখ লাখ শিশু কিশোর আসলো তারা তো আমাদেরই সন্তান!আমরা কি কখনও তাদের কথা ভেবে দেখেছি?

আবাসিক মহিলা মাদ্রাসার কথা না হয় নাই বললাম।একটি স্বনামধন্য মাদ্রাসায় আমরা আমাদের নারীকর্মি দের পাঠাতে পেরেছিলাম।তাদের কাছেই মেয়েরা নিজেদের বন্দি জীবনের দুঃখের কথা বর্ণনা করেছে।আমাদের এক কর্মী একটি মেয়ের গান গাওয়া রেকর্ড করে এনেছিল নিজের মুঠোফোনে।সেই গান শুনে আমার চোখে পানি চলে এসেছিল।এই মেয়েটি কোনদিনই কি তার এই যাদুকরি কন্ঠ কাজে লাগাতে পারবে?
আমাদের দেশে মাদ্রাসা ব্যবস্থারও দুটি ধারা চালু আছে।একটি আলিয়া,যা সরকারের নিয়ন্ত্রনে।অন্যটি কাওমি,যার উপর সরকারের কোন নিয়ন্ত্রন নেই।এই কাওমি মাদ্রাসা গুলোর অবস্থা মধ্যযুগীয়।সরকারের নিয়ন্ত্রন নেই বলে তারা ইচ্ছা মত তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
মাদ্রাসা বন্ধ করে দিতে বললেই সেটা করা সম্ভব নয় এই মুহুর্তে।তবে কিছু কাজ আমরা করতে পারি,করা উচিত-
১.কাওমি মাদ্রাসা গুলোতে সরকারি নজর দারি জারি করতে হবে।
২.ধর্মীয় বিষয় গুলো ছাড়া অন্য বিষয় গুলো বাইরের শিক্ষক দ্বারা পড়াতে হবে।অর্থাৎ ইংরেজি পড়াবেন ইংরেজিতে ডিগ্রী পাওয়া কেউ,গণিত পড়াবে সত্যিকারের গণিতের শিক্ষক।
৩.আধুনিক সিলেবাস প্রণয়ন করতে হবে।তারা মূল ধারার শিক্ষার্থীদের মতই সব বিষয় পড়বে,ধর্মের অংশ টুকু পড়বে অতিরিক্ত।
৪.নারী মাদ্রাসা গুলোতে নিয়মিত নারী অধিকার আদায়ে নিয়োজিত সমাজ কর্মীদের দ্বারা মনিটরিং করাতে হবে।
৫.শারীরিক শাস্তি প্রদানের বিরূদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে...
আরও অনেক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরা যায় কিন্তু সেগুলো কোনটিই আসলে সমাধান নয়।মূল সমাধান একটিই,সেটি হল মূল ধারার শিক্ষা ব্যবস্থা কে আরও সহজ লভ্য করা,জনপ্রিয় করা।প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোর উন্নয়ন করা।আমাদের দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মান ভয়াবহ রকমের খারাপ।ভাল শিক্ষকদের জন্য চাই সম্মান জনক বেতন।যেখানে একজন প্রাইমারি শিক্ষকের বেতন দারোয়ানের থেকেও অনেক কম সেখানে কে শিক্ষক হতে চাইবে?আর এর জন্য চাই বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি।যেখানে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৬ শতাংশ ব্যয় করার কথা সেখানে আমরা করি ২ শতাংশ।প্রাইমারি হল মূল ভিত্তি।আমাদের ভিত্তিটা দুর্বল রেখে কি করে আমরা উন্নতির স্বপ্ন দেখি?দুর্বল ভিত্তির উপর আমরা যতই উন্নয়নের প্রাসাদ গড়িনা কেন,সেটা ভেঙ্গে পড়তে কিন্তু এক মুহুর্ত সময় লাগবেনা।
আলো দিয়েই একমাত্র অন্ধকার দূর করা সম্ভব।অন্ধকার কে আরেকটু সহনিয় করে সেটা সম্ভব নয়।এদেশে আমেরিকা থেকেও 'মাদ্রাসার উন্নয়ন' এর জন্য সাহায্য আসে।কাজেই ব্যাপারটা খুব সহজ নয়।মূল ধারার শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমেই কেবল এই অন্ধকার কে দূর করা সম্ভব।আমাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা কি চাই।একটি সুন্দর আলোকিত দেশ না একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন জনপদ?

আস্তিক ও নাস্তিকতায় বিজ্ঞানীরা

সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব নিয়ে শুধু সাধারন আস্তিক ও নাস্তিক জন সাধারনের নয়, মতোবিরোধ ছিলো কিংবদন্তী মহাবিজ্ঞানী ও মনিষীদের মাঝেও! বিভিন্ন ধরনের মানসিকতা কাজ করেছিলো তাদের ভিতরেও!
এমনও অনেক বড় বড় বিজ্ঞানী এবং মনিষী ছিলেন যারা নাস্তিক্যবাদের পক্ষে এমন কিছু দূর্বল ও ভিত্তিহীন উক্তি করে গেছেন যার জবাব দেয়ার জন্য সাধারন একজন আস্তিক মানুষই যথেষ্ট!
তবুও তারা বিজ্ঞানী বলে কথা! তাই বিজ্ঞানীদের নাস্তিক্যবাদী উক্তির জবাব বিজ্ঞানীদের আস্তিকতার উক্তির দ্বারাই দিচ্ছি!!
"আমাদের অজ্ঞতার নাম ঈশ্বর, আর যা আমরা জানি, সেটা বিজ্ঞান"
-- রবার্ট গ্রীন
বিজ্ঞানী গ্রীন সাহেব সৃষ্টিকর্তা আর ধর্ম কে বিজ্ঞান থেকে আলাদা করে ফেলেছেন! অথচ আরেক মহাবিজ্ঞানী বলে গেছেন-
"ধর্ম ছাড়া বিজ্ঞান পঙ্গু, আর বিজ্ঞান ছাড়া ধর্ম অন্ধ"
-- আইন্সটাইন
এদিকে আমাদের দেশের কুখ্যাত এক নাস্তিক লেখক কি বলেছে দেখুন-
"একটি ধর্মান্ধের মুখের দিকে তাকালেই বোঝা যায় আল্লাহ অমন লোককে পছন্দ করতে পারে না"
-- হুমায়ুন আজাদ
অথচ অন্যদিকে এর জবাব হতে পারে এমন আরেক উক্তি দিয়ে আরেক দার্শনিক বলেন-
"ইসলাম একমাত্র ধর্ম, যা সকল যুগে সকল মানুষের ধর্ম অর্থাৎ বিশ্বজনীন ধর্মরূপে গণ্য হতে পারে"
-- জর্জ বানার্ডশ
আবার এদিকে মুসলিম হওয়া সত্বেও এক শাসক দ্বীন-ই-ইলাহী নামক বহু ধর্ম মিলে এক ধর্ম সৃষ্টি করতে চাইছিলেন। আর তার মতে-
"প্রত্যেক ধর্মেই অনেক ভাল জিনিস আছে। এই সকল ধর্মের মধ্যে যা সুন্দর তা গ্রহন করে যা নিকৃষ্ট তা ত্যাগ করবো"
-- আকবর নামা
আকবর সাহেব মুসলিম হয়েও যেটা বুঝলেন না সেটাই উপলব্ধি করতে পারলেন উপমহাদেশেরই আরেক নোবেল বিজয়ী হিন্দু সাহিত্যিক-
"মুসলমান একটি বিশেষ ধর্ম, কিন্তু হিন্দু কোন বিশেষ ধর্ম নহে। হিন্দু ভারতবর্ষের ইতিহাসের একটি জাতিগত পরিণাম"
-- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
আরেক মহা থেকে মহা পন্ডিত কি বলতেছে দেখেন-
"সাধারণের কাছে ধর্ম সত্য, জ্ঞানীদের কাছে মিথ্যা আর শাসকদের কাছে উপকারী"
-- সেনেকা
আচ্ছা এই পন্ডিত যে বললো জ্ঞানীদের কাছে ধর্ম মিথ্যা তবে কি আইনস্টাইন জ্ঞানীদের মধ্যে পড়েনই না! মহাবিজ্ঞানী আইনস্টাইন কি তাহলে সাধারনই ছিলেন(!)
তা না হলে কিভাবে তিনি ধর্মের পক্ষে কথা বলেন-
"ধর্ম ছাড়া বিজ্ঞান পঙ্গু, আর বিজ্ঞান ছাড়া ধর্ম অন্ধ"
-- আইন্সটাইন
আরেক দার্শনিকের উক্তি দেখেন! ধর্ম কে আবর্জনা মনে করে এই শিয়াল পন্ডিত-
"আমাদের বুদ্ধিবৃত্তির আঁতুড়ঘরের উচ্ছিষ্টের নাম ধর্ম। যখনই আমরা যুক্তি আর বিজ্ঞানকে দিকনির্দেশক হিসেবে গ্রহণ করবো, তা বিলীন হয়ে যাবে"
-- বারট্রান্ড রাসেল
অথচ তার এই ধারনার বিপরীতে আবার আরেক দার্শনিক কি সুন্দর ভাবে ধর্ম আর বিজ্ঞানের মধ্যে সামঞ্জস্যমূলক উক্তি করে গেছেন-
"বিজ্ঞান অন্বেষণ করে, ধর্ম ব্যাখ্যা করে। বিজ্ঞান দেয় জ্ঞান, যা ক্ষমতা; ধর্ম দেয় চিন্তা, যা নিয়ন্ত্রণ"
-- লুথার কিং
পরিশেষে আমাদের দেশের স্বনামধন্য একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, ভাষাবীদ উপরের সব বিজ্ঞানী আর মনিষীদের এবং সাধারন সকল মানুষদের উদ্দেশ্য করে বলে গেছেন-
"ধর্ম নিয়ে যারা কোন্দল করে, ধর্মের ধর্মই তারা জানে না"
-- ড. মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ

গোয়েন্দা ও রহস্য লেখক

গোয়েন্দা ও রহস্য লেখক
বাংলা সাহিত্যে গোয়েন্দা কাহিনী বা বই লিখার ইতিহাস যদিও খুব পুরানো নয় তবে খুব নতুনও নয়। বাংলা সাহিত্যে গোয়েন্দা চরিত্র বা “ডিটেকটিভ” বলতে সেই সব কল্পচরিত্র বোঝায় যারা রহস্যোপন্যাসে কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসাবে রহস্য উন্মোচন করে। এরা মূলত সৌখিন গোয়েন্দা, পুলিশ কর্মকর্তা বা স্পাই অর্থাৎ গুপ্তচর। বইগুলো রহস্যোপন্যাস, অপরাধকাহিনী বা স্পাই থ্রিলার। সেই চরিত্রগুলো বিখ্যাত যেগুলো সিরিজগ্রন্থে পুণঃপুণঃ উপস্থাপিত।
>>বৈশিষ্ট্যাবলী
সাধারণতঃ একটি সফল ও স্বার্থক গোয়েন্দা উপন্যাসে নিম্নবর্ণিত বৈশিষ্ট্যাবলী থাকতে হয়ঃ-
>অপরাধ বা রহস্যজনক কর্মকাণ্ড মনোঃবিশ্লেষণের মাধ্যমে উপস্থাপন করা।
>রহস্যমূলক কর্মকাণ্ডে সর্বক্ষণ সম্পৃক্ত থেকে তীক্ষ্ণ ও শাণিত মেধা প্রয়োগের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা।
>উপস্থিত বিচার-বুদ্ধি যুক্তিসঙ্গতভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে কাঙ্খিত ব্যক্তি বা বস্তুকে জনসমক্ষে উপস্থাপন করা।
>নির্দোষ ব্যক্তি যাতে ক্ষতিগ্রস্ত বা দোষী না হন এবং প্রকৃত দোষীকে আইনে সোপর্দ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ তুলে ধরা।
>অপরাধী বা ঘটনার ছোট্ট ক্লু, সঙ্কেত বা চিহ্নের সাহায্যে অপরাধের গতি-প্রকৃতি ও অবস্থান চিহ্নিত করা।
**প্রাচীন যুগ
♠♠♠♠♠♠♠
১.বরকতউল্লা: ঠগী দমনে নিযুক্ত স্লীম্যান সাহেবের এক দারোগা।তিনি কিছু কিছু কাহিনী সরকারী ফাইল থেকে উদ্ধার করে ইংরেজীতে ছাপিয়েছিলেন। পরে বলায় ‘বাঁকাউল্লার দপ্তর’ নামে এগুলি প্রকাশিত হয়।
২.গিরিশচন্দ্র বসু: ১৮৫৩ থেকে ১৮৬০ – এই সাত বছর দারোগার চাকরি করেছিলেন। দুষ্কৃতিদের নানার কীর্তিকাহিনী তিনি লিপিবদ্ধ করেন ‘সেকালের দারোগার কাহিনী’-তে। ১৮৯৪-১৯৯৫ সালে একটি পত্রিকায় এগুলি প্রথম প্রকাশিত হয়। তবে পুলিশী গোয়েন্দাকাহিনী এদের বলা যাবে না।
৩.ভুদেবচন্দ্র মুখোপাধ্যায় (১৮৪২-১৯১৯): বটতলার বই ‘হরিদাসের গুপ্তকথা’ লিখে খ্যাত হয়েছিলেন। দেশী-বিদেশী নানান কেচ্ছা ও অপরাধকাহিনীর মিশ্রণে তৈরী এই লেখা। ভুবনচন্দ্রের বহু বই বটতলা থেকে প্রকাশিত হয়েছিল, কিন্তু তার সবগুলিই ভুবনচন্দ্র লিখেছিলেন বলে মনে হয় না।
৪.হরিলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, বি.এল: পেশায় উকিল ছিলেন। ‘নেপাল ডাক্তারের কাহিনী’ (১৮৯৮) লিখে প্রসিদ্ধ হন।
৫.প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায় (১৮৫৫-১৯৪৭): বহু বছর দারোগার চাকরি করেছিলেন। নিজের পুলিশ-জীবনের নানান কাহিনী (সম্ভবতঃ কিছু কল্পিত) ‘দারোগার দপ্তর’ নাম দিয়ে এক কালে মাসে মাসে প্রকাশিত হত।
৬.ক্ষেত্রমোহন ঘোষ: প্রথম বই ‘আদরিণী’ ১২৯৪ সালে প্রকাশিত হয়।‘জাল গোয়েন্দা’ ‘তিন খুন’ ইত্যাদি অনেকগুলি বই তিনি রচনা করেছিলেন।
৭.দেড়ে বাবাজী: লেখকের আসল নাম কী ছিল জানা নেই।
৮.‘উদাসিনী রাজকন্যার গুপ্তকথা (১২৯৪) বইটি বটতলার বই।
৯.হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়: ‘রাণী সুধামুখী’ (১৩০১)।
১০.শরচ্চন্দ্র দেব (সরকার): ‘তীর্থ বিভ্রাট’, ‘গুম খুন’ ইত্যাদি বইয়ের রচয়িতা। কিন্তু উনি বিখ্যাত হন ‘গোয়েন্দা কাহিনী’ নামে মাসিক পত্রিকাটি প্রকাশ করার জন্যে।
১১.কুসুমেষু মিত্র: ‘কামিনীকণ্টক’ (১৩০৮)।
১২.সতীশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়: ‘রেলে চুরি’ (১৩১৯)।
১৩.মহিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: চাঁদের হাট’ (১৩২৭, ৪র্থ সংস্করণ)। বইটির প্রথম প্রকাশকাল অজ্ঞাত।
১৪। পাঁচকড়ি দে: বাংলা গোয়েন্দা সাহিত্যের আদি-পর্বের অন্যতম শ্রেষ্ট লেখক। বাংলা গোয়েন্দা-সাহিত্যের জনক বলে অনেকে ওঁকে মর্যাদা দেন। ওঁর ‘মায়াবিনী’ (১৮৯৯), ‘মায়াবী (১৯০১) ও জীবস্মৃত রহস্য (১৯০৩, পরে নাম পাল্টে ‘সেলিনাসুন্দরী’) এককালে বাংলা গোয়েন্দা সাহিত্য জগতে সাড়া এনেছিল।
১৫। অম্বিকাচরণ গুপ্ত: সাহিত্যিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন, কিন্তু ডিটেকটিভ উপন্যাসও লিখেছিলেন। ‘স্বর্ণবাঈ’ (১৩১৫) এবং ‘নথীর নকল’ (১৮৯৯) ওঁরই লেখা।
১৬। দীনেন্দ্রনাথ রায় (১৮৬৯ -১৯৪৩): প্রথম বই বাসন্তী (১৮৯৮)। বহু রহস্য ও গোয়েন্দাকাহিনী লিখেছেন। তবে সবচেয়ে জনপ্রিয় ওঁর রহস্যলহরী সিরিজ-এর ডিটেকটিভ ব্লেক এবং সহকারী স্মিথ-এর গল্প। এগুলি অনুবাদকহিনী।
১৭। হরিসাধন মুখোপাধ্যায় (১৮৬২-১৯৩৮): ঐতিহাসিক প্রবন্ধ ও গল্প লিখে সাহিত্যসাধনা শুরু। পরে ডিটেকটিভ গল্প লিখতে শুরু করেন।
১৮। ‘কঙ্কণ-চোর’ (১৯১৬) , ‘লালচিঠি’ (১৯১৬), ‘মৃত্যু প্রহেলিকা’ (১৯১৭)। ওঁর কিছু লেখা ছিল অনুবাদ।
>>আধুনিক যুগ --ভারত
******************
১। অখিল নিয়োগী – তিব্বত ফেরত তান্ত্রিক (কাঞ্চনজঙ্ঘা সিরিজ দেবসাহিত্য)
২। অজিতকুমার পুততুণ্ড – গোয়েন্দা কৌস্তভ (নবধারা)
৩। অদ্রীশ বর্ধন – গোয়েন্দা ইন্দ্রনাথ রুদ্রসমগ্র (নাথ), গোয়েন্দারহস্য (মৌসুমী)
৪। অনীশ দেব -গোয়েন্দার নাম এ.সি.জি (করুণা), তীর বিদ্ধ (সুপ্রীম), পাঁচটি রহস্য উপন্যাস (পত্র ভারতী), ভয়ঙ্কর ভাইরাস (সুপ্রীম), হিমশীতল (পত্র ভারতী), শতবর্ষের সেরা রহস্য উপন্যাস (সম্পাদিত,
পত্র ভারতী)
৫। অভ্র রায় – গোয়েন্দা বৈজ্ঞানিক (এম.সি. সরকার, ২০০১)
৬। অমিতাভ ভট্টাচার্য – রহস্য গল্প (দে’জ. ২০০২)
৭। অরুণ চট্টোপাধ্যায় – সেরা রহস্য, সেরা গোয়েন্দা (সম্পাদিত, পুনশ্চ)
৮। অরুণকুমার দত্ত – সেরা রহস্য রোমাঞ্চ গোয়েন্দা কাহিনী (বসাক)
৯। অরুণ কুমার মুখোপাধ্যায় – রহস্য তদন্তে গোয়েন্দা (সম্পাদিত,
১০। টিচার্স বুক এজেন্সি, ২০০৩)
১১। অলোককৃষ্ণ চক্রবর্তী – সেরা গোয়েন্দা গল্প (সম্পাদিত, ময়না)
১২। অশোককুমার মিত্র – সবাই যখন অন্ধকারে (প্রহেলিকা সিরিজ, দেবসাহিত্য)
১৩। অশোক দাশগুপ্ত – হিন্দোল রহস্য (আজকাল)
১৪। অসীম চট্টোপাধ্যায় – গোয়েন্দা গোরাদা (মডার্ন কলাম)
১৫। আবীর গুপ্ত – রাজুর গোয়েন্দাগিরি (নিউ বেঙ্গল প্রেস)
১৬। কালকেতু – শ্রেষ্ঠ গোয়েন্দা গল্প (সুপ্রকাশনী), শ্রেষ্ঠ গোয়েন্দাকাহিনী (নবকল্প)
১৭। কৃষাণু বন্দ্যোপাধ্যায় – বাসব অমনিবাস (দে’জ), রহস্যভেদী বাসব (সাহিত্য প্রকাশ), লাশকাটা টেবিল (অনন্যা), শঙ্খচিলের কান্না (দে’জ)
১৮। খগেন্দ্রনাথ মিত্র – পূজনীয় দস্যু (প্রহেলিকা সিরিজ, দেবসাহিত্য)
১৯। গজেন্দ্রকুমার মিত্র – রেশমী ফাঁস, তৃতীয় রিপু, হায়নার দাঁত (মিত্র ও ঘোষ)
২০। গৌতম রায় – এক ডজন রহস্য (নাথ), কিশোর রহস্য অমনিবাস (দে’জ),
২১। নায়িকা নিখোঁজ (দে’জ), রত্নহার রহস্য (দে’জ), রহস্যভেদী নীল ব্যানার্জি (দে’জ)
২২। ঘনশ্যাম চৌধুরী – অন্ধকারের হাত (দে’জ), ভয়ঙ্কর দ্বীপের রহস্য (দে’জ), রহস্য জমজামাট (ন্যাশেনাল বুক এজেন্সি)
২৩। চিরঞ্জীব সেন – লালবাড়িতে খুন (শিবরানী), রাতের জোনাকি (দে’জ), দারোগার ডায়রী (সাহিত্যলোক), সাগরবেলায় খুন (সাহিত্যলোক), সুন্দরবাদ রহস্য (নন্দিতা)
২৪। তপন বন্দ্যোপাধ্যায় – গোয়েন্দা গার্গী (পত্র ভারতী), ধূসর মৃত্যুর মুখ (দে’জ), হলুদ খামের রহস্য (দে’জ), পাঁচটি রহস্য উপন্যাস (পত্র ভারতী)
২৫। তপনকুমার দাস – সেরা গোয়েন্দা গল্প (ভারতী)
২৬। তুলসী সেনগুপ্ত – ধারাগিরি রহস্য (অপর্ণা), রাজবাড়ি রহস্য (ভাষা ও সাহিত্য) তুষারকান্তি পাণ্ডে – বিশ্বের শ্রেষ্ঠ গোয়েন্দা গল্প (গ্রন্থনা), বিশ্বের শ্রেষ্ঠ রহস্য গল্প (সম্পাদিত, গ্রন্থনা), শতবর্ষের শ্রেষ্ঠ গোয়েন্দা কাহিনী (সম্পাদিত, গ্রন্থনা)
২৭। ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায় – জগুমামার চার রহস্য (পত্র ভারতী), মুখোশের আড়ালে (পত্র ভারতী), হেরে যাবেন জগুমামা (পত্র ভারতী)
২৮। দীনেন্দ্রকুমার রায় – রবার্ট ব্লেক রহস্য অমনিবাস (গ্রন্থ প্রকাশ), রবার্ট ব্লেক (মির্মল), রবার্ট ব্লেকের ছটি উপন্যাস (সাহিত্যম)
২৯। ধানসিড়ি রায়চৌধুরী – সেরা রহস্য গল্প (মডেল)
৩০। ধীরেন্দ্রলাল ধর – গোয়েন্দা গোবিন্দ (কিশোর ভারতী), রহস্য রোমাঞ্চ গল্প (কিশোর ভারতী) নটরাজন – শ্রেষ্ঠ রহস্যকাহিনী (দে’জ)
৩১। নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত – হারানো বই (দেব সাহিত্য)
৩২। নারায়ণ সান্যাল – কাঁটায় কাঁটায় (দে’জ), কাঁটা ৪ (দেবসাহিত্য), সোনার কাঁটা (মিত্র ও ঘোষ)
৩৩। নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী – জোড়া ভাদুড়ী (দে’জ), ভাদুড়ী সমগ্র (দে’জ)
৩৪। নীলাঞ্জন চট্টোপাধ্যায় – রহস্য হিরের দুল (পুনশ্চ), হত্যাকাণ্ডের আড়ালে (পত্র ভারতী)
৩৫। নীহারঞ্জন গুপ্ত – ইস্কাবনের টেক্কা (মিত্র ও ঘোষ), এক ডজন রহস্য (নাথ), কালো হাত (মিত্র ও ঘোষ), বাছাই করা কিরীটির ,গোয়ন্দা গল্প (বসাক), কিরীটি অমনিবাস (মিত্র ও ঘোষ)
৩৬। নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায় – জয়পরাজয় ( প্রহেলিকা সিরিজ, দেবসাহিত্য), বিজয় অভিযান, উদাসী বাবার আখড়া (কাঞ্চনজঙ্ঘা সিরিজ, দেবসাহিত্য)
৩৮। প্রভাবতী দেবী সরস্বতী – কলঙ্কী চাঁদ, পেশোয়ারেরবিভিষিকা (প্রহেলিকা সিরিজ, দেবসাহিত্য), গুপ্ত ঘাতক (কাঞ্চনজঙ্ঘা সিরিজ, দেবসাহিত্য)
৩৯। প্রেমেন্দ্র মিত্র – পরাশর সমগ্র (আনন্দ), গোয়েন্দা পরাশর বর্মা (এ. মুখার্জি), হার মানলেন পরাশর বর্মা (মিত্র ও ঘোষ)
৪০। পাঁচকড়ি দে – নীল বসনা সুন্দরী (প্রয়াস), মায়াবী (পত্র ভারতী)
৪১। প্রভাবতী দেবী (সরস্বতী) – গুপ্তঘাতক, হত্যার প্রতিশোধ (দেব সাহিত্য)
৪২। বরেন গঙ্গোপাধ্যায় – টিকলিগড়ের হত্যারহস্য (দে’জ), অভিশপ্ত কঙ্কাল (রূপ)
৪৩। বিকাশ বসু – অ-য়ে অঘটন (আনন্দধারা), সত্যি ডিটেকটিভ (আই.এ.পি)
৪৪। বিভূতিভূষণ চক্রবর্তী – বাপি রহস্য (দে’জ), ভূত গোয়েন্দা আতঙ্ক (সূর্য পাব), রেশমী সুতোর ফাঁস (এ.সি.সরকার)
৪৫। বিমল কর – কিকিরা সমগ্র (আনন্দ), অভিশপ্ত পুঁথি ও অষ্টধাতু (আনন্দ), জাদুকরের রহস্যময় মৃত্যু(আনন্দ)
৪৬। বিশ্বনাথ দে – আরো গোয়েন্দা গল্প (নির্মল), গোয়েন্দা গল্প (নির্মল)
৪৭। বুদ্ধদেব বসু – ছায়া কালো কালো, ভূতের মতো অদ্ভুত (কাঞ্চনজঙ্ঘা সিরিজ, দেব সাহিত্য)
৪৮।মঞ্জিল সেন – অভিশপ্ত গুপ্তধন (উজ্জ্বল) রুহিতনের দশ (গ্রন্থলোক), সপ্তদশ রহস্য (বিভা), ছোটদের রহস্য রোমাঞ্চ (নাথ),গোয়েন্দা অমনিবাস (নন্দিতা)
৪৯। মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য – হুকাকাশির গল্প (এশিয়া), পদ্মরাগ(এশিয়া)
৫০।মহীন্দ্র বসু – সেরা গোয়েন্দা (সম্পাদিত, কিশোর সাহিত্য), পঁচিশ বছরের সেরা চিল্ড্রেন্স ডিটেকটিভ (সম্পাদিত, দে’জ)
৫১।মানবেন্দ্র পাল – গোয়েন্দা বাপ্পার কেরামতি (করুণা), বাপ্পার অ্যাডভেঞ্চার (নিউ বেঙ্গল প্রেস)
৫২।মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় – গোয়েন্দা অমনিবাস (দে’জ, ১৯৯৭)
৫৩।মৃণালকান্তি দত্ত – সোনার খনি (প্রহেলিকা সিরিজ, দেবসাহিত্য)
৫৪।যোগেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় – বি.এল.এ. ২০৫ , লাল দলিল (প্রহেলিকা সিরিজ, দেবসাহিত্য)
৫৫। রাজকুমার মৈত্র – রহস্য তিন দুই এক (নাথ, ২০০১)
৫৬। লীলা মজুমদার – রহস্যভেদী পাঁচ (বুলবুল প্রকাশন)
৫৭। শমীতা দাশ দাশগুপ্ত – দ্বন্দ্ব (আনন্দ)
৫৮। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় – ব্যোমকেশ সমগ্র (আনন্দ)
৫৯।শশধর দত্ত – মোহন অমনিবাস (মডেল), কবন্ধের পশ্চাতে শ্রীমন্ত (মডেল), ব্রহ্মদেশে গুপ্তধন (ভারতী)
৬০। শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায় – কঙ্কাল রহস্য (দেব সাহিত্য), গুপ্তধন রহস্য (দেব সাহিত্য), হীরক রহস্য (দেব সাহিত্য)
৬১। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় – নীলু হাজরার হত্যা রহস্য (আনন্দ), শ্রেষ্ঠ গোয়েন্দা গল্প (আনন্দম), রক্তের বিষ (আনন্দম), হারানো মণি (সুপ্রীম)
৬২। শেখর বসু – রহস্যের জাল (উর্বশী), রহস্যের পাঁচ ঠিকানা (পুনশ্চ)
৬৩। শৈলবালা ঘোষজায়া – জয়পতাকা (দেব সাহিত্য)
৬৪।শ্যামলকান্তি দাস – সেরা গোয়েন্দা গল্প (সম্পাদিত, অঙ্কুর)
৬৫।ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায় – চতুর গোয়েন্দা চতুর অভিযান (আনন্দ), চিত্রকূট রহস্য (মিত্র ও ঘোষ), পাণ্ডব গোয়েন্দা সমগ্র (আনন্দ), লাল বাজারের রাহাজানি (মণ্ডল)
৬৬। সঙ্কর্ষণ রায় – রহস্য গল্প (সাহিত্যম, ২০০৫), রহস্যভেদী বিজ্ঞানী (নির্মল বিক)
৬৭।সত্যজিৎ রায় – ফেলুদা সমগ্র (আনন্দ), গ্যাংটকে গণ্ডগোল (আনন্দ), কৈলাসে কেলেঙ্কারি (আনন্দ), ফেলুদা এণ্ড কোং (আনন্দ), জয়বাবা ফেলুনাথ (আনন্দ)
৬৮। সমরেশ বসু – গোগোলের অভিযান (শৈব্যা), গোগোল চিক্কুসনাগাল্যাণ্ডে (আনন্দ), গোগোল অমনিবাস (জগদ্ধাত্রী)
৬৯। সমরেশ মজুমদার – অর্জুন সমগ্র (আনন্দ), অর্জুন এবার কলকাতায় (আনন্দ), অর্জুন হতভম্ব (পত্র ভারতী)
৭০।সিদ্ধার্থ রায়চৌধুরী – ডিটেকটিভ অমনিবাস (নবপ্রকাশ)
৭১। সুকুমার ভট্টাচার্য – চুড়িদার মুখোস (পত্র ভারতী), সোনার মূর্তি রহস্য (আদার বুক্স), সব গল্পই রহস্যের (সম্পাদিত, নির্মল)
৭২। সুখেন্দু মুখোপধ্যায় – রহস্য রোমাঞ্চ কাহিনী (সম্পাদিত, এ.সি.ই)
৭৩।সুজন দাশগুপ্ত – গোয়েন্দা একেনবাবু (সুপ্রীম), গোয়েন্দা একেনবাবু – হরপ্পার শিলালিপি (এ. মুখার্জি), শান্তিনিকেতনে অশান্তি (দাশগুপ্ত-অ্যালায়েন্স)
৭৪।সুজিতকুমার নাগ – গোয়েন্দা চক্রজালে (বসাক), গোয়েন্দা ও রহস্য গল্প (নন্দিতা)
৭৫। সুনীতি মুখোপাধ্যায় – সেরা গোয়েন্দা অমনিবাস (লোকনাথ)
৭৬। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় – কাকাবাবুর অভিযান (শৈব্যা), কিশোর রহস্য গল্প (শৈব্যা), কাকাবাবু সমগ্র (আনন্দ), কাকাবাবু হেরে গেলেন (আনন্দ)
৭৭।সেকেন্দার আলি সেখ – সেরা গোয়েন্দা (সাহিত্য তারুণ্য)
৭৮। সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ – অদ্বিতীয় কর্ণেল (পত্র ভারতী), আরও এক ডজন কর্ণেল (পত্র ভারতী), কর্ণেল সমগ্র (দে’জ)
৭৯। সৌরীন্দ্রমোহন মুখোপাধ্যায় – বর্ম্মা ফেরত, জলটুঙ্গি (প্রহেলিকা সিরিজ, দেবসাহিত্য), জীবন্ত সমাধি (কাঞ্চনজঙ্ঘা সিরিজ, দেবসাহিত্য)
৮০।স্বপনকুমার – আঁধার রাতের পথিক (দেবসাহিত্য), এক গ্লাস সরবত (দেবসাহিত্য), মৃত্যু না হত্যা (তারা দাস), রহস্য রোমাঞ্চ অমনিবাস (শশধর)
৮১। স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় – রহস্যভেদী মেঘনাদ (আই.পি.পি), তিব্বতী গুম্ফার রহস্য (পত্র ভারতী), বিভীষিকা দ্বীপে স্যার সত্যপ্রকাশ (পত্র ভারতে)
৮২। হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায় – গোয়েন্দা আর গোয়েন্দা ( রূপা প্রকাশনী, ১৯৯৮)
৮৩। হীরেন চট্টোপাধ্যায় – সেরা গোয়েন্দা গল্প (সম্পাদিত, সরোজ পাব)
৮৪।হেমেন্দ্রকুমার রায় – অন্ধকারের বন্ধু (দেব সাহিত্য), আবার যখের ধন (দেব সাহিত্য), যখের ধন (এম.সি.সরকার), গোয়েন্দাকাহিনী সংকলন (পত্রলেখা)
লেখক এবং ডিটেকটিভদের তালিকা
 অজিতকুমার পুততুণ্ড – কৌস্তভ
 অদ্রীশ বর্ধন – ইন্দ্রনাথ রুদ্র
 অনীশ দেব – এ.সি.জি
 অসীম চট্টোপাধ্যায় – গোরাদা
 কৃষাণু বন্দ্যোপাধ্যায় – বাসব
 গৌতম রায় – নীল ব্যানার্জী
 তপন বন্দ্যোপাধ্যায় – গার্গী
 দীনেন্দ্রকুমার রায় – রবার্ট ব্লেক
 ধীরেন্দ্রলাল ধর – গোবিন্দ
 নলিনী দাস – গোণ্ডালু
 নারায়ণ সান্যাল – পি.কে.বাসু
 নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী – ভাদুড়ীমশাই
 নীহাররঞ্জন গুপ্ত – কিরীটি রায়
 প্রণব রায় ও অন্যান্য – প্রতুল লাহিড়ী
 প্রভাবতী দেবী (সরস্বতী) – কৃষ্ণা
 প্রেমেন্দ্র মিত্র – পরাশর বর্মা
 পাঁচকড়ি দে – দেবেন্দ্রবিজয় ও অরিন্দম
 বিমল কর – কিকিরা
 বুদ্ধদেব বসু – চঞ্চল
 মানবেন্দ্র পাল – বাপ্পা
 মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য – হুকাকাশি
 শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় – ব্যোমকেশ বক্সী
 শিবরাম চক্রবর্তী – কল্কেকাশি (হুকাকাশির অনুকরণে)
 শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় – বরদাচরণ
 ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায় – পাণ্ডব গোয়েন্দা – বাবলু, বিলু, ভোম্বল,
 বাচ্চু ও বিচ্ছু
 সত্যজিৎ রায় – প্রদোষ মিত্র (ফেলু দা)
 সমরেশ বসু – গোগোল
 সমরেশ মজুমদার – অর্জুন
 সুজন দাশগুপ্ত – একেনবাবু
 সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় – কাকাবাবু , সন্তু
 সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ – কর্ণেল নিলাদ্রী সরকার
 স্বপনকুমার – দীপক চ্যাটার্জি
 হিমানীশ গোস্বামী – গর্জন
 হেমেন্দ্রকুমার রায় – জয়ন্ত, মানিক ও ইনস্পেক্টর সুন্দরবাবু
 এবং হেমন্ত, রবিন ও ইন্সপেক্টর সতীশবাবু।
>> সূত্র: ক্রাইম কাহিনীর কালক্রান্তি – সুকুমার সেন; আনন্দ পাবলিশার্স, ২০০৮,
>>পত্রিকা , ব্লগ ও উইকি ।

অনিচ্ছুক ইচ্ছা

তারপরেও আমরা বইসা থাকি
না ঠিক বইসা না,
খাঁড়াইয়া কাউয়ার মতো 'কা কা' ডাকি
কেউ কেউ কয় উইড়া যা কালা পাখি
আর কেউ কয় আর তো মাত্র কিছুক্ষণ বাকী
সূর্যডা উডুক, দিনের শুরুটা না দেইখা-ই যাবি?!
তারপরেও দুইজন পাশাপাশি বাইসা
মনের মতো কইরা কাঁটাতার আঁকি
আমি কই তুমি উড়ো, সে কয় 'না তুমি'
দুইজন দুইজনেরে ছাইড়ে চাই
কিন্তু, ছাইড়া ছাইড়াও না ছাড়ি!

আমাকে সে আজও সেজদা করেনি

ধর্মের দোহাই দিয়ে ধর্মগ্রন্থগুলোকে বগলদাবা ক’রে নিয়ে বিকৃত ব্যাখ্যার মাধ্যমে কৌশলে পেঁচিয়ে শান্তির বাণীকেও সন্ত্রাসের সমান গণ্য করানোর চেষ্টা চালায় যারা, তাদের কাছ থেকে ধর্মের বাণী শুনলে ধার্মিকেরাও বিভ্রান্ত হয়ে নিজেদের অন্তরের দাবিয়ে রাখা সন্ত্রাসী আবেগকে ভালোবাসতে শুরু করে। এমনও দেখা যায়, কেউ আবেগাক্রান্ত হলে পরে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হ’তে না-পারলেও, স্বগোত্রের সন্ত্রাসীদেরকে সে প্রকাশ্যে সমর্থন এবং প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। যাদের কাছ থেকে ধর্মগ্রন্থের কোনো অংশের ব্যাখ্যা শুনলে, কোনো মানবসন্তান ধৈর্যধারী সহ্যশীল শান্ত সভ্য বিবেকবান না-হয়ে বরং তেজোদীপ্ত আক্রমণকারী আত্মঘাতী হয়ে ওঠে, নিশ্চয়ই ঐ চটুল ব্যাখ্যাকারীরা অশান্তিধর্মী, মানুষের চিরশত্রু জ্বলন্ত আগ্নেয় শয়তানের ক্রীতদাস, তারা প্রকাশ্য শয়তানিতে লিপ্ত।
অভিশপ্ত শয়তান তো আমার নাগালের বাইরে নয়, বরং অতি নিকটেই থাকে। চূড়ান্ত জ্ঞানী, তবে মিথ্যে অহংকারে অহংকারী অক্ষম দাম্ভিক সে, কুর্নিশে যদিও কিছুটা নত, আজও আমার প্রতি পূর্ণাবনত হয়নি। সত্যে মিথ্যায় সংমিশ্রিত ভুলে নির্ভুলে সমন্বিত এই অ-নির্ভুল আমাকে সে আজও সেজদা করেনি।
###############################################################
ধার্মিকের পোশাকের আড়ালে
------------------------------------------
মাদকাসক্তি, অর্থলিপ্সা, খ্যাতিলিপ্সা, আধিপত্যকামিতা ইত্যাদি নেশাজাতীয় রোগের মতো হত্যাপ্রবণতাও একটি মনোবিকৃতির রোগ।
হত্যাকর্মাসক্তরা শুধুই যে মারণাস্ত্র ব্যবহার করে, তা’ নয়, সামাজিক প্রশান্তিদায়ক বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক ধর্মগুলোকেও এরা বিকৃত ব্যাখ্যায় নিজেদের মতো সাজিয়ে নিয়ে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।
কারো গলায় ধর্মগ্রন্থের মতো কিছু একটা ঝুলন্ত দেখে কিম্বা ধার্মিকের বেশে সজ্জিত কাউকে মালা জপতে দেখে কখনোই বলা সম্ভব নয়,- সেই ব্যক্তিটি স্বেচ্ছাচারী না-কি ধার্মিক। একজন ব্যক্তি ধার্মিক কি-না, তা’ যদি আপনি যাচাই করতে চান তো নিজেকে আড়ালে রেখে, তার আচরণ কর্মকাণ্ড পছন্দ অপছন্দের দিকে এবং তার সাঙ্গপাঙ্গদের কীর্তিকলাপের দিকে আপনাকে সেভাবেই মনোযোগ দিতে হবে, যেভাবে আপনার প্রতি আপনার প্রতিবেশীরা দিয়ে যাচ্ছে।
এখানে লক্ষণীয় এবং আপনিও দেখবেন যে, ধার্মিকেরা নিজেদের দায়িত্ব পালন আর নিজেদের ভুলের সংশোধনে ততখানি ব্যস্ত,- যতখানি ব্যস্ততা থাকলে পরে অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ানোর জন্যে যথেষ্ট বেকার সময়টা তারা জোটাতেই পাচ্ছে না।
ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারকারীরা সাধারণত ধার্মিকের বেশ ধারণ করে এবং এরা এদের স্বেচ্ছাচারী কর্মকাণ্ড চালায় পোশাকের আড়ালে থেকে সম্ভবত এজন্যেই যে, ধাতব বর্ম না-হলেও ধার্মিকের ঢিলেঢালা পোশাক শক্তভাবে যেকোনো হত্যাকর্মীকে সুরক্ষা দিতে দুর্ভেদ্য ঢালের চেয়েও অধিকতর সক্ষম।
###############################################################
ধার্মিকদের ধারণার নাগালের বাইরে
-----------------------------------------------
--‘অবৈধ উপার্জনে পুষ্ট দেহের জন্যে জান্নাত হারাম’- এই ধরণের কোনো বাক্য যদি পবিত্র ক্বূরআনে বা হাদিসে পাওয়া যায়!! তাহলে জেনে বুঝেও যারা হজ্জ্ব বা ওমরা পালন করতে যায় অবৈধ উপার্জনের অর্থব্যয়ে,-- তারা কি তবে সেখানে যাচ্ছে জ্বালাময় জাহান্নামে প্রবেশের উদ্দেশ্যে? না-কি অপচয়কারী হিসেবে কোনো সনদ বা খেতাব অর্জনের লক্ষ্যে? এ ছাড়া অন্য কোনো লাভজনক বাণিজ্যিক কারণ যদি থেকে থাকে,- থাকতেও পারে, তবে তা’ ধার্মিকদের ধারণার নাগালের বাইরে।
প্রতারকেরা মিথ্যাচারপ্রবণ, মিথ্যাকে সত্যের আবরণে জড়াতে পারঙ্গম, তাই তারা শয়তানের চেয়েও জঘন্য। মুনাফিকদের অনুকরণে অতিধার্মিকতা প্রদর্শন, প্রতারকদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে হৈ-হুল্লোড়ে মেতে ওঠা কখনোই ধার্মিকদের জন্যে শোভনীয় তো নয়-ই,- উচিতও নয়।
নিশ্চয়ই, মুনাফিকেরা লোকদেখানো ধোঁকাবাজিতে লিপ্ত। তাদের মুখ থেকে কোনো ধর্মের বুলি না-শুনে, বরং তাদের-ই হৃষ্ট-পুষ্ট দেহগুলোর জন্যে জান্নাত হারাম কি-না, তাদেরকেই জিজ্ঞেস ক’রে বুঝে নিয়ে, তাদেরকে ভদ্রভাবে ধর্মের দিকে ডাক দেওয়া সকল ধার্মিকের ধর্মীয় কর্তব্য।
###############################################################
ব্রাহ্মণ প্রসঙ্গে
-------------------------------
তফসিলীদের মধ্য থেকে কেউ জ্ঞানার্জন ক’রে জ্ঞানী হ’য়ে উঠুক কিম্বা ব্রাহ্মণ হিসেবে পরিচিতি লাভ করুক, জ্ঞাতিহিংসাপরায়ণ তফসিলী (ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী) পরিচয়ধারীরাই তা’ চায় না জন্যেই হ’তে দেয় না। তাদের নিজেদের ভিতর থেকেই কেউ সৃষ্টিশীল জগতের তাত্ত্বিক জ্ঞানে বিজ্ঞানে সমতালে বাস্তব প্রয়োগে জ্ঞানী হ’য়ে উঠলেও তাকে তফসিলীরা ব্রাহ্মণের মর্যাদা দিচ্ছে না।
নিজেদের জ্ঞাতিহিংসাকে ভালোবেসে প্রাধান্য দিয়ে লালন করার লক্ষ্যেই, তফসিলীরা ব্রাহ্মণ (ব্রহ্মজ্ঞানধারী)-এর আদলে ধার্মিকের বহিরাবরণে যে-ই অজ্ঞটিকে মর্যাদা দিয়ে সমাজে ‘ব্রাহ্মণ’ সাজিয়ে জ্ঞানীর আসনটি পেতে দেয়, তার আচরণ চিন্তা-চেতনা কখনোই একজন সভ্য ভদ্র মানবসন্তানের মতো হ’তে পারে না।
পরিবার শর্তে ব্রাহ্মণ ঐ অজ্ঞগুলোর সাথে ধর্মগ্রন্থের কোনোই সম্পর্ক নেই। এরা ব্রাহ্মণ (ব্রহ্মজ্ঞানধারী) সেজে শুধু যে নিজেদের বানানো ব্রাহ্মণ্যবাদীতা চালায়, তাতেই শেষ নয়,- সুযোগপ্রাপ্ত ব্রাহ্মণ পদবীধারীরা নিজ পরিবারের অজ্ঞ নির্বোধ, এমনকী, নোংরা চরিত্রের সন্তানটিকেও উত্তরাধিকার সূত্রে ব্রাহ্মণ সাজিয়ে ব্রহ্মজ্ঞানধারীর প্রাপ্য মর্যাদার আসনটি পাইয়ে দেবার জন্যে নিজেদের মনগড়া প্রথা বানিয়ে চালু রেখেছে।
ব্রাহ্মণ্যবাদীরা ধর্মগ্রন্থগুলোকে দখলে নিয়ে বগলদাবা ক’রে সাধারণের অস্পৃশ্যতার মধ্যে রাখতে বাধ্য হয়েছে নিজেদের উগ্র অস্তিত্বের স্বার্থেই।
ধর্মে, কোনো ধরণের কর্মজীবীকে, উচ্চ বা বড় রূপে মর্যাদাও যেমন দেওয়া হয়নি, তেমনি ছোট বা তুচ্ছ হিসেবে অসম্মানও করা হয়নি।
প্রচলিত মনগড়া প্রথাতেও ব্রাহ্মণ্যবাদীতার লালনকারী পরিবারগুলোতে এমনও অনেক ব্যক্তিকে পাওয়া যায়, যারা নিজ চেষ্টায় জ্ঞানার্জন করেছে এবং ব্রাহ্মণ হ’তে পেরেছে। তারা যেকোনো নৃ-গোষ্ঠী (মানবগোষ্ঠী) থেকে গ’ড়ে ওঠা কোনো ব্রাহ্মণকে ব্রাহ্মণের মর্যাদা দিতে গিয়ে হীনমন্যতায় ভোগে না, বরং নিজেদের ব্রহ্মত্বের দৃঢ়তাই তাতে বাড়ছে ভেবে তারা তৃপ্তি পায়। শাশ্বতিক বিবেচনার বিচারে দেখা যাচ্ছে, মানব সমাজে যোগ্যতায় এবং আচরণে এরাই সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ব্রাহ্মণ।
###############################################################
ধর্মে পরমতসহিষ্ণুতা
*****
সর্বকালেই ধার্মিকদের অবস্থান বিশৃঙ্খলতার বিপরীতে।
স্বেচ্ছায় নিজেকে শৃঙ্খলার মধ্যে রাখতে পারাটাই ধার্মিক ব্যক্তির ধর্ম ধারণ।
যেকোনো ধরণের বিশৃঙ্খলতাকে অপছন্দ করতে পারাটুকুই ধর্মের লালন-পালন।
যেকোনোভাবে বিশৃঙ্খলকে শৃঙ্খলায় বেঁধে ফেলার চেষ্টাটুকুই ধার্মিকের কর্তব্য।
শান্তিটাই মনুষ্যের লক্ষ্য তথা লক্ষ্যের ধর্ম।
সকল ধার্মিকদের জন্যে আরব্য ক্বূরআনেও পবিত্র পরম শান্তির অন্যতম অভিন্ন মতবাদটি হচ্ছে- পরমতসহিষ্ণুতার চর্চা চালিয়ে যাওয়া, তথা নিজেদের ধর্মমতকে সুরক্ষার লক্ষ্যে নিজেদের কর্মে আচরণে ধর্মকে প্রতিষ্ঠিত ক’রে দেখানোর সাথে সাথে অন্যদের ধর্মমতগুলোকে শ্রদ্ধাভরে সমর্থন ক’রে যাওয়া এবং কলহমুক্ত সার্বজনীন শান্তিকে সমুন্নত রেখে শান্তিপূর্ণ সহ-অবস্থানকে মানবসমাজে প্রতিষ্ঠা করা।
###############################################################
শয়তানের সরল সত্যভাষণের দুর্বোধ্য বঙ্গানুবাদ
-----------------------------------------
আমি এখানে আসার আগে
পরিবেশটা ভালোই ছিল
যত নষ্টের মূলে আমার দলবদ্ধ শয়তানি
কেউ যেন তা’ বুঝতে না-পারে
যত্রতত্র এমনভাবেই ছুড়ে বেড়াই
দলোগণের প্রতারণাময় চালে গণকল্যাণের বাণী
আমাদের প্রহরায় ওরা ওদের সম্পদগুলো রেখে
নিজেদের মধ্যে চালায় আত্মঘাতি হানাহানি
ঐ সুযোগটাকেই আমরা কাজে লাগাই
আমার সাঙ্গপাঙ্গ সহ যেখানে যা’ পাই
কৌশলে সব লুটেপুটে নিজেরাই খাই আর ঝুলিতে ভরাই
ওরা যেন বুঝতে না-পারে কত কিছু ছিল ওদের ভূখণ্ডে
আর আমাদের লুটপাটের পরেও তাদের জমা আছে কতখানি..
এভাবেই ওদের সম্পদ আমরা নিজেদের দিকে টানি
পরিবেশটা ভালোই ছিল যখন আমরা ছিলাম না
পরিবেশটা ভালোই থাকবে যখন আমরা থাকবো না
সুযোগমতো আমরা সসম্মানে স’রে পড়তে পারলেও
এমন সুযোগদাতা পরিবেশটাকে ঝুলিতে ভরিয়ে
সাথে নিয়ে পালাতে তো পারি না ..
অন্য কোনো সুযোগ সন্ধানী দল যেন খুঁজতেও না-আসে
এমন ঝুঁকিমুক্ত সুযোগের খনিকে শত্রুরা যেন চিনতে না-পারে
নিত্য অশান্তিতে পূর্ণ নোংরা বর্জনীয় হিসেবে ভেবে নিয়ে দূরে থাকে
আমাদের প্রতিপক্ষের কাছে যেন পরিত্যাজ্য মনে হয়
যোগ্যরা কেউ এসে যেন আমাদের মতো সুযোগ না-পায়
যেকোনোভাবে ছেড়ে যাওয়া আমাদের সুযোগদাতা পরিবেশটাকে
ঢেকে রাখাটাই সতর্ক আমাদের কর্তব্য হ’য়ে যায়
আর যোগ্যদের প্রতিহিংসায় আমরা তা’ পালনও করি
গণমালিকের কিছু কুলাঙ্গার সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে
সুন্দর পরিবেশটাকে লুকিয়ে রেখে যাওয়াটাই কর্তব্য
যেন আমাদের কোনো প্রতিপক্ষ সহজে খুঁজে না-পায়
সেই লক্ষ্যেই স্বর্গীয় পরিবেশকেই অশান্তির আবরণে লুকিয়ে
মানুষের অ-বাসযোগ্য রূপে সাজিয়ে শয়তানি চালে
ঘৃণ্য ভিখারির নোংরা চাদরে সযত্নে কৌশলে
ঢেকে রেখে যেতে বাধ্য আমরা সাময়িকভাবে
আমাদের পাততাড়ি গুটানোর কালে ......
আনাড়ি অনুবাদক : আখতার২৩৯
###############################################################
ধর্ম বিষয়ক গণপরামর্শ
-------------------------------
ওহে ধার্মিক, তোমার অতিধার্মিক সন্তানটি থেকে সাবধানে থেকো। ওটাকে সামলানো তোমার-ই কর্তব্য। ওটাকে ওর বোধগম্য ভাষায় ধর্মের বাণী শুনিয়ে দাও। নইলে ওটা তোমাকে নিয়েই আগুনে প্রবেশ করবে।

দাড়ি-টুপির ইসলাম ও আমার কিছু কথা

ধর্ম নিয়ে, ইসলাম নিয়ে কথা বলতে গেলে, লেখালেখি করতে গেলে অনেকে বলেন- আপনার মুখে তো দাড়ি নাই, মাথায় টুপি নাই, পাগড়ী নাই, গায়ে জুব্বা নাই ইত্যাদি আপনি আবার কী ইসলামের কথা বলবেন! আগে তো নিজেদের শরীরে ইসলাম কায়েম করতে হবে।
এ প্রশ্নের জবাবে প্রথমেই আমি বলব, ইসলাম আসলে কী এবং কেন, তা আগে আমাদের বুঝতে হবে। যদি এই প্রশ্ন দুটির উত্তর আমাদের কাছে পরিষ্কার হয়, তাহলে আশা করি আমরা বুঝতে পারব আসলে দাড়ি, টুপি, পাগড়ীর সাথে ইসলামের সম্পর্ক কতটুকু।
ইসলাম শব্দের অর্থ হলো শান্তি। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যখন সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে তখন ঐ শান্তিপূর্ণ সমাজকেই বলা যাবে ইসলাম। ইসলাম বা শান্তি হচ্ছে সত্য-জীবনব্যবস্থা প্রয়োগের ফল। অর্থাৎ দীনুল হক্ব কার্যকরী করা হলে মানবজীবন থেকে অন্যায় অবিচার বিলুপ্ত হয়ে যে নিরাপত্তা, সুবিচার, ন্যায় ইত্যাদি অর্থাৎ এক কথায় শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে- এই শান্তিটাই হচ্ছে ইসলাম। এটা ইতিহাস সুতরাং অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই যে, ১৪০০ বছর আগে অর্ধেক পৃথিবীতে এই দীন প্রবর্তন করার ফলে ঐ সমস্ত এলাকায় মানবজীবনের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত, অর্র্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে সকল প্রকার শোষণ, অবিচার, অন্যায়, নিরাপত্তাহীনতা দূরীভূত হয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল চূড়ান্ত শান্তি, নিরাপত্তা ও সুবিচার, তথা ইসলাম।
এই হলো ইসলামের সঠিক আকিদা বা ধারণা। এই ধারণা মোতাবেক আসলে ইসলামের সাথে দাড়ি, টুপি, পাগড়ী, জুব্বার সম্পর্ক কোথায়? ইসলাম নির্ভর করে মানবজীবনের শান্তি-অশান্তির উপর। আল্লাহ প্রেরিত দীনুল হক্ব হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ। অর্থাৎ রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি, বিচারব্যবস্থা ইত্যাদি সব কিছুই এই জীবন-ব্যবস্থার এক একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, এসব কিছু মিলেই দীনুল হক্ব নামক বৃক্ষ পূর্ণতা পায়, আর এই পূর্ণাঙ্গ বৃক্ষের শান্তি নামক ফল হচ্ছে ইসলাম। সুতরাং যারা শরীরে ইসলাম নাই এই প্রশ্ন করেন তাদের কাছে আমার প্রশ্ন- শান্তি কি শরীরে ধারণ করা যায়, নাকি সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে হয়? একটি দেশের সব মানুষ যদি দাড়ি রাখে, টুপি পরে, জোব্বা গায়ে দেয় কিন্তু তাদের অর্থনীতি যদি পুজিবাদী হয়, বিচারব্যবস্থা ন্যায়ভিত্তিক না হয়ে ভারসাম্যহীন, জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরজবরদস্তিমূলক আইন দ্বারা হয় তাহলে কি সেই দেশে শান্তি এসে যাবে? সাধারণ জ্ঞান কী বলে?
অনেকের ধারণা এই যে, দাড়ি ছাড়া ইসলামই হয় না, সেই দাড়ি তো আল্লাহর রসুলের বিরোধিতাকারী, ঘৃণিত কাফের আবু জেহেল, আবু লাহাব, ওতবা, শায়েবার মুখেও ছিল। তারাও জুব্বা পরত, রসুল (সা.) যে জুব্বা পরতেন ঠিক একই ধরনের জুব্বা। প্রকৃতপক্ষে দাড়ি, টুপি, পাগড়ি, জুব্বার সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নাই, প্রকৃতির আবহাওয়া, ভৌগোলিক অবস্থার সাথে এগুলোর সম্পর্ক রয়েছে।
টুপি তো ইহুদিরা, শিখরা বা অন্যান্য ধর্মের ধর্মগুরুরাও পরেন, তাদেরও দাড়ি আছে, তারাও জুব্বা পরেন, তাদের অনেকেই পাগড়ী পরেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দাড়ি, টুপি, জোব্বা সবই ছিল, আপনাদের দৃষ্টিতে সে তো হিন্দু। শুধু ধর্মীয় সাধু সন্ন্যাসী নয়, আল্লাহর অস্তিত্বে সম্পূর্ণ অবিশ্বাসী হিসাবে পরিচিত অনেকেরই দাড়ি ছিল যেমন কার্ল মার্কস, চার্লস ডারউইন, আব্রাহাম লিঙ্কন প্রমুখ যাদেরকে আপনারা নাস্তিক বলেন। দাড়ি-টুপিই যদি ইসলামের পরিচায়ক হতো তাহলে এরাও তো ইসলামেরই ধারক হবার যোগ্য! আসলে দাড়ি-টুপি-পাগড়ী-পাজামা-জোব্বার সাথে ইসলামের সম্পর্ক নেই। এগুলো নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করা নেহায়েত বোকামীর শামিল। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে মতবিরোধে গিয়ে মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে যাওয়া একপ্রকার মূর্খতা বলে আমি মনে করি।
গত কয়েক শতাব্দী ধরে এই জাতির দুর্ভাগ্যজনক পরাজয়ের কারণ এগুলিই। অথচ এটা ইতিহাস যে রসুলের একদল সর্বত্যাগী সাহাবী যাদেরকে আসহাবে সুফফা বলা হতো, তারা বাড়ী-ঘরে যেতেন না, মসজিদে নববীতে থাকতেন আর অপেক্ষা করতেন রসুল (সা.) কখন কী হুকুম দেন এবং সঙ্গে সঙ্গে সে হুকুম বাস্তবায়ন করতেন, সেই সাহাবীদের অনেকেরই গায়ে জুব্বা তো দূরের কথা ঠিকমত লজ্জাস্থান ঢাকার মতো কাপড় সংস্থান করতেও কষ্ট হত।

শয়তান উত্থানের গল্প।।

আমি বিশ্বাসী না অবিশ্বাসী সেই বির্তকে যাব না। মোটামোটি ভাবে সবাই বিশ্বাস করে আল্লাহর হুকুম ছাড়া গাছের পাতাটিও নড়ে না। ভাল কথা, এটা আমিও বিশ্বাস করি। কিন্তু একটি খটকা, এসে আমার সমস্ত বিশ্বাস ভেঙ্গে চুরমার করে দেয়। আল্লাহ যদি সমস্তু হুকুমের একমাত্র মালিক হন, তবে শয়তানের অস্তিত্ব থাকে কি? আল্লা যদি আমাকে আশ্রয় দেন তাহলে শয়তান কিভাবে আমার কেশাগ্র স্পর্শ করবে। আল্লাই যদি সমস্ত কার্যক্রমের একক মালিক হবেন, তাহলে খামাখা শয়তানের উপস্থিতিই বা কেন, আর কেনই বা শয়তানের বিরম্বনা মানুষকে পোহাতে হবে। আসলে আল্লাহ বা শয়তান এই দুটি অনুসঙ্গ মানুষই মানুষের প্রয়োজনে সৃষ্টি করেছে। এই শয়তান উতপত্তির গল্পটাও বেশ মজার।
কোরান শরিফের সুরা আল বাকারাহ’য় এই গল্পটি বর্ণিত আছে। সুরা আল বাকারাহ এর ত্রিশ নম্বর আয়াতে আল্লাহ যা বলছেন তা মন দিয়ে শুনুন " আর তোমার পালনকর্তা যখন ফেরেশতাদিগকে বললেন : আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি বানাতে যাচ্ছি , তখন ফেরেশতাগন বলল, তুমি কি পৃথিবীতে এমন কাওকে সৃষ্টি করবে যে দাঙ্গা হাঙ্গামা সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে? অথচ আমরা নিয়ত তোমার গুনকীর্তন করছি এবং তোমার প্রবিত্র সত্তাকে স্মরন করছি। তিনি বললেন , নি:সন্দেহ আমি জানি, যা তোমরা জান না।“
এই পুরো আয়াতটি পড়লেই এর অসংলগ্নতা আপনার কাছে দিনের আলোর মত পরিস্কার হয়ে যাবে। আল্লাহ যা করবেন তা তার ইচ্ছার প্রতিফলন মাত্র। কিন্তু এখানে কি দেখছি আল্লাহ মানুষের মতই নিজের মতামতটা অন্যের উপর চাপিয়ে দেয়ার জন্য বলছেন, তিনি প্রতিনিধি বানাবেন, যেন কারো মতামতের খুব দরকার। আর কি মজা দেখুন প্রতিনিধির আকার, আকৃতি, নির্মাণ শৈলী কি হবে তা তখনও সবার অজানা থাকা সত্বেও ফেরেশতারা কেমন বিজ্ঞের মতো বলে উঠলো, ওরা তো পৃথিবীতে গিয়ে দাঙ্গা ফ্যাসাদ করে রক্তপাত ঘটাবে। ফেরেশতারা তখন রক্ত কি, কেমন হবে সব জানতো। এখানে আমার আল্লার চাইতে ফেরেশতাদেরকেই বেশী জ্ঞানী মনে হয়েছে। কোরান শরিফের প্রায় সমস্ত আয়াতই এমন অসংলগ্নতায় পরিপূর্ন। তারপর আল্লাহ আদমকে তৈয়ারী করলেন এবং যাবতীয় বস্তু ও ফলের নাম শেখালেন। তারপর ফেরেশতাদের বললেন আদমকে সেজদা কর। ফেরেশতারা বলল আমরা মাটি দিয়ে তৈরী আদমকে কেন সেজদা করব। আল্লাহ তখন কিছু বস্তু ও ফল এনে সমস্ত ফেরেশতাদেরকে দেখিয়ে ঐগুলির নাম পরিচয় জানতে চাইলেন ফেরেশতারা বললেন, তুমি আমাদের যতটুকু শিখিয়েছ এর বাইরে আমরা তো কিছুই জানি না। আল্লাহ আদমকে বললেন তুমি বলে দাও। আদম সব বলে দিলে, ফেরেশতারা সবাই আদমকে সেজদা করলো শুধু ঈবলিশ করলো না। এই হলো শয়তান উত্থানের গল্প।
আজ দুইহাজার পনারো সালে এসেও যদি এই চালাকিটা আমরা না ধরতে পারি তাহলে আমাদের শিক্ষাটাই যে মাঠে মারা যায়। ধরুন একজন শিক্ষক একজন ছাত্রকে ধরি, ছাত্রটির নাম রহিম, এই রহিমকে শেখালেন আম, জাম ও কলার বৈশিষ্টসমুহ। আর অন্য ছাত্র করিমকে শেখালেন বই, কলম, ও খাতার বৈশিষ্টসমুহ। এখানে মাষ্টারমশাই যদি করিমের প্রশ্ন রহিমকে আর রহিমের প্রশ্ন রহিমকে করলে যা দাড়াবে এখানে ঠিক তাইতো ঘটেছে। এই সহজ সমীকরনটি যারা বোঝার বোধবুদ্ধি ধারন করতে পারেন না, তারা হয়তো অন্ধধার্মিক হতে পারবেন কিন্তু মানুষ হতে পারবেন না। উপসংহারে আমার পরিচয় হল সর্বপ্রথম আমি মানুষ তারপর আমি বাঙ্গালী এর বাইরে আমার কোন অস্তিত্ব নেই।

বনু কোরায়যা গণহত্যা

বনু কোরায়যার যুদ্ধঃ 
সেই পুরনো ক্যাচাল। মোহাম্মদের বর্বরতা দৃষ্টান্ত তুলে ধরার জন্য এই যুদ্ধ (আসলে গণহত্যা)একটা নাম মাত্র। মুসলমানগণ কোরায়যা গোত্রের এই গণহত্যাকে বলেন এটি মূলত ইহুদী নিধনমাত্র। ইহুদীরা মুসলমানদের চিরশত্রু এবং তারা মোহাম্মদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতো বলে বনু কোরায়যার বিরুদ্ধের মোহাম্মদ এই গণহত্যা চালিয়েছিলো বলে মুসলমানগণ এর পক্ষে কথা বলতে চান। প্রকৃতপক্ষে মোহাম্মদের জীবনের অন্যান্য ঘটনার মত এর সম্পর্কেও বেশিরভাগ মুসলমান তেমন কিছু জানে না। আমার মনে হয়, অনেক নাস্তিকগণও বনু কোরায়াযা গোত্র নিধনের এই ঘটনার প্রকৃত ইতিহাস জানেন না (আমার অজ্ঞতা হলে মাফ চাইছি)। তাই, আমি মনে করি এ গণহত্যার ইতিহাসটা ব্লগে থাকা দরকার। এর সকল ঘটনা আর রাহীকুল মাখতুম ( মোহাম্মদের উপর লিখা শ্রেষ্ঠ জীবনী) হতে নেয়া।
এ গণহত্যাটি সংঘটিত হয়েছিল খন্দকের যুদ্ধের পরেই। কথিত আছে, খন্দক থেকে প্রাত্যাবর্তন করে মোহাম্মদ যোহরের নামায পড়ছিল। সে সময় জিবরাইল এসে বলল, “ হে আল্লাহর রাসুল! আপনি অস্ত্র রেখে দিয়েছেন, অথচ ফেরেশ্তারা এখনও অস্ত্র রাখেনি। কওমের অনুসরণ করে আমিও আপনার নিকট আগমন করেছি। উঠুন, আপনার বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে বনু কোরায়যার নিকট চলুন। আমি আগে আগে যাচ্ছি। ওদের দূর্গে কাঁপন এবং মনে ভয় ও আতঙ্ক ধরিয়ে দেবো।” মোহাম্মদ একজন সাহাবি দিয়ে ঘোষনা দেয়ায় যারা শুনতে পাচ্ছে এবং অনুগত্য করার মন যাদের আছে তারা যেনো আছরের নামায বনু কোরায়যায় গিয়ে আদায় করে। এরপর মোহাম্মদ বনু কোরায়যার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। কিছুক্ষণ পরেই মোহাম্মদ সেখানে পৌছে যায়।
কিছুক্ষণ পর মদীনার মুযাহির ও আনসাররাও রওয়ানা হয়ে যায়। পথে আসরের নামাযের সময় হয়ে গেলে কেউ কেউ নামায না পরেই চলতে থাকে। মোহাম্মদের কথামত বনু কোরায়যায় গিয়ে আসরের নামায আদায় করে (যদিও ততক্ষণে এশার নামাযের সময় পার হয়ে যায়)।
এরপর তিন হাজার লোক মিলে বনু কোরায়যা গোত্র অবরোধ করে। অবরোধ কঠোর হলে ইহুদীদের সামনে তিনটি প্রস্তাব দেয়া হয়,
১) ইসলাম গ্রহনের মাধ্যমে দ্বীনে মোহাম্মদীতে প্রবেশ এবং এর মাধ্যমে নিজেদের জানমাল ও পরিবার পরিজন হেফাজত করা। আল্লাহর কসম, তোমাদের নিকটে এটাতো স্পষ্ট হয়েছে জে, মোহাম্মদ প্রকৃতই নবী এবং তিনি হলেন সেই নব যার কথা তোমাদের কিতাবে উল্লেখ রয়েছে।
২) নিজ পরিবার পরিজনকে স্ব-হস্থে এবং তলোয়ার নিয়ে সর্বশক্তিতে মুসলমানদের উপর ঝাপিয়ে পড়া। এরপর হয় তো জয় অথবা পরাজিত হতে হবে। এমনও হতে পারে যুদ্ধে সবাইকে নিহত হতে হবে।
৩) রাসুল্লাহ ও সাহাবিদের ধোঁকা দিয়ে শনিবার তাদের উপর ঝাপিয়ে পড়। কেননা তারা নিশ্চিত থাকবে শনিবার কোন লড়াই হবে না।
তারা তিনটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে অস্ত্র সমর্পনের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু অস্ত্র সমর্পনের আগে তারা মুসলমানদের সাথে আলোচনার ইচ্ছা প্রকাশ করে। আলোচনার জন্য তারা লোবাবাকে বেছে নিয়েছিল, কারণ লোবাবার কিছু বাগান ইহুদীদের সীমার মধ্যে ছিলো। লোবাবা তাদেরকে পরামর্শ দেয় অস্ত্র সমর্পন করার, সাথে সাথে সে এই ইঙ্গিত করে যে, যাই করা হোক না কেন, মৃত্যু ভিন্ন ইহুদীদের সামনে আর কোন পথ খোলা নেই। এই পরামর্শের পর ইহুদীরা সিদ্ধান্ত নেয়। মুসলমানরা এখানে আত্মসমর্থন করে যে, ইহুদীরা অস্ত্র সমর্পন না করে যুদ্ধ করতে পারতো।
অস্ত্র সমর্পনের পর মোহাম্মদ সাহাবীদের নির্দেশ দিলো পুরুষদেরকে বেঁধে ফেলার জন্য। এ কথা শোনার পর সকল পুরুষদের বেঁধে ফেলা হল। নারী ও শিশুদের পৃথক করা হলো।
এরপর মদীনার বাজারে গর্ত করা হয়। গভীর গর্ত করার পর হাত বাঁধা ইহুদীদের দলে দলে নিয়ে আসা হয় এবং শিরোচ্ছেদ করে সেই গর্তে নিক্ষেপ করা হয়। পাইকারী হত্যাকাণ্ড শুরু হয়ে গেলে কয়েকজন ইহুদী তাদের সর্দার কা’ব ইবনে আসদকে বললো, আমাদের যে আচরণ করা হচ্ছে এ ব্যপারে আপনার প্রতিক্রিয়া কি? সে রূঢ়ভাবে বললো, তোমরা কি কিছুই উপলব্ধি করতে পার না? দেখতে পাচ্ছো না যাকেই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, সে আর ফিরছে না। নতুন করে ডেকে নেয়াও বন্ধ হচ্ছে না। হত্যা করা হচ্ছে, স্রেফ ডেকে নিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। মোদ্দাকথা কথা সকল হাত বাঁধা ইহুদীদে মদীনায় হত্যা করা হয়। তাদের সংখ্যা ছিলো ছয় থেকে সাতশয়ের মাঝামাঝি।
মোহাম্মদ নির্দেশ দিয়েছিল যাদের নাভির নিচে চুল গজিয়েছে তাদেরই যেনো হত্যা করা হয়। আতিয়া কারযি নামক এক লোকের নাভির নিচে চুল গজায়নি, এ কারণে তাকে হত্যা করা হয়নি। (কি মহানুভব দৃষ্টান্ত মাইরি!)
বনু কোরায়যা গণহত্যা শেষে দেড় হাজার তলোয়ার, দু হাজার বর্শা, তিনশত বর্ম, পাঁচশত ঢাল, বিরাট এক খেজুর বাগান, নারী এবং শিশুদেরকে গণিমতের মাল হিসেবে পাওয়া যায়। কয়েদী এবং শিশুদের নযদে প্রেরণ করে তাদের বিনিময়ে আরও অস্ত্র এবং ঘোড়া ক্রয় করা হয়। গণিমতের মাল থেকে মোহাম্মদের জন্য এক পঞ্চমাংশ বের করে রেখে অবশিষ্ট সবকিছু মুসলমানদের মধ্যে বিতরণ করে দেয়া হয়। মোহাম্মদ বনু কোরায়যার নারীদের মধ্যে রায়হানা বিনতে আমর ইবনে খানাফাকে তার নিজের জন্য পছন্দ করে।
বনু কোরায়যা গণহত্যা ও খন্দকের যুদ্ধ সম্বন্ধে কোরানে সূরা আহযাবে বহু আয়াত অবতীর্ন হয়। এতে উভয় যুদ্ধের বিভিন্ন বিষয়ে পর্যালোচনা পাওয়া যায়।
মোহাম্মদের যুদ্ধের পক্ষে ওকালতি করতে গিয়ে মুসলমানেরা দাবী করে শত্রুপক্ষের আক্রমন ঠেকানোর জন্যই মোহাম্মদ যুদ্ধ করেছে। কিন্তু, অন্যান্য সকল যুদ্ধের মতই এ গণহত্যার কোন নির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। এ গণহত্যাটি শুধুই ধন-সম্পদ লুন্ঠন ও নারী শিশু দখল করার জন্য সংগঠিত হয়েছিল এ ব্যপারে কোন সন্দেহ নেই।

সৃষ্টিকর্তা কে ?

আইনইস্টাইন বলেন, " বিজ্ঞান ছাড়া যে ধর্ম তা অন্ধ আর ধর্ম ছাড়া বিজ্ঞান পঙ্গু "
ফ্রান্সিস বেকন বলেছেন, "বিজ্ঞান সম্পর্কে যে অল্প জানে সে হয় নাস্তিক আর যে বেশি জানে সে হয় আস্তিক"
"অবিশ্বাসীরা কি ভেবে দেখে না আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর মিশেছিল ওত্যপ্রতভাবে , আমি ঊভয়কে পৃথক করে দিলাম।”
সূরা আম্বিয়াঃ ৩০
?“তার পর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দিলেন যা কিছু ধূঁম্রকুঞ্জ, অতঃপর তিনি তাকে ও পৃথিবী বললেন, তোমরা উভয়ে আস ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। তারা বলল আমরা সেচ্ছায় আসলাম।
সূরা হা-মীম সাজদাহ- ১১
“আপনি কি দেখেন না আল্লাহ রাতকে দিনের মধ্যে এবং দিনকে রাতের মধ্যে প্রবেশ করান"
(সুরা লুকমানঃ ২৯)
(অর্থাৎ রাত আস্তে আস্তে এবং ক্রমান্বয়ে দিনে রূপান্তরিত হয়, অনুরূপভাবে দিন ও আস্তে আস্তে এবং ক্রমান্বয়ে রাতে পরিবর্তিত হয়। পৃথিবী গোলাকৃতির হলেই কেবল এ ঘটনা ঘটতে পারে ।নিম্নের আয়াত দ্বারাও পৃথিবী যে গোলাকার তা বুঝা যায়)
"তিনি আসমান ও জামিন কে সৃষ্টি করেছেন যথার্থভাবে। তিনি রাতকে দিন দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং রাত দ্বারা আচ্ছাদিত করেন।”
সূরা যোমর -৫
(আয়াতে ব্যবহৃত আরবী শব্দ
( কাউয়ারা) শব্দের অর্থ হলো কুন্ডলী পাকানো বা কোন জিনিসকে প্যাঁচানো । যেমন করে মাথায় পাগড়ী প্যাঁচানো হয়। রাত ও দিনের আবর্তন তখনই সম্ভব যখন পৃথিবী গোলাকার হয়।
পৃথিবী বলের মত গোলাকার নয়, বরং মেরুকেন্দ্রিক চেপ্টা।নিম্নের আয়াতে পৃথিবীর আকৃতির বর্ননা দেওয়া হয়েছে)
“তিনি পৃথিবীকে এর পরে বিস্তৃত করেছেন।”
সূরা নাযিআত -৩০
আরবী শব্দ ( দাহায়া এর মুল শব্দ দুইয়া)এর অর্থ হলো উঠপাখির ডিম।উটপাখীর ডিমের আকৃতির মতই পৃথিবীর আকৃতি মেরুকেন্দ্রিক চেপ্টা । অন্য অর্থ হল ‘সম্প্রসারিত করা’। উভই অর্থই বিশুদ্ধ।
স্যার ফ্রনকিস ড্র্যাক প্রথম প্রমান করেন যে, পৃথিবী গোলাকার ।
 তিনি ১৫৯৭ সনে পৃথিবীর চারপাশে নৌভ্রমন করেন) সেখানে চাঁদকে রেখেছেন স্নিন্ধ আলোরূপে এবং সূর্যকে রেখেছেন প্রদীপরূপে ”-
সুরা নূহ-১৫-১৬
সূর্যকে বলা হয়েছে (সিরাজ) চাঁদকে বলা হয়েছে ( কামার) চাঁদের আলোকে বলা হয়েছে (মুনির) অর্থ ধার করা আলো ( নুর) অর্থ প্রতিফলিত আলো
“তিনি সৃষ্টি করেছেন রাত ও দিন এবং চাঁদ-সূর্য। সবাই আপন আপন কক্ষপথে বিচরণ করে।”
(সূরা আম্বিয়া -৩৩)
(ইয়াসবাউন) এই আরবী শব্দটি এসেছে মূল শব্দ (ছাবাহা)থেকে যার অর্থ চলন্ত কোন কিছুর গতিকে
(১৫১২ খৃঃ নিকোলাস কোপারনিকাস গ্রহের গতি আছে মর্মে- সূর্যকেন্দ্রিক তত্ব দেন।এই তত্বে বলা হয়,সৌরজগতের কেন্দবিন্দু- সূর্য গতিহীন)
"সূর্য নাগাড় পেতে পারে না চন্দ্রের এবং রাত আগে চলে না দিনের। প্রত্যেকেই আপন আপন কক্ষপথে সন্তরণ করে।” সূরা ইয়াসিন -৪০
(সূর্য প্রতি সেকেন্ডে মহাশূনে ২৪০ কিলোমিটার গতিতে চলে)
"যখন সূর্য নিষ্প্রভ হয়ে যাবে"
(সূরা তাকবীর-১)
(সূর্যের নিষ্প্রভ হওয়া কেয়ামতের লক্ষণ)
(১৯২৫খৃঃ জ্যোতির্বিদ এডউইন হাবেল পর্যবেক্ষণমূলক প্রমাণের সাহায্যে বলেছেন,প্রতিটি ছায়াপথ অন্য ছায়াপথ থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলে)
“আমি নিজ ক্ষমতা বলে আকাশ নির্মাণ করেছি এবং আমি অবশ্যই এর সম্প্রসারণকারী।”
সূরা যারিয়াত-৪৭
বিজ্ঞানী অরগেহেন বলেন, ছায়াপথ একটা থেকে আরেকটা দূরে সরে যাচ্ছে ।
“কাফেররা বলে,আমাদের উপর কেয়ামত আসবে না।বলুন,কেন আসবেনা? আমার প্রতিপালকের শপথ,অবশ্যই আসবে।তিনি অদৃশ্য সম্পর্কে জ্ঞাত।আসমান ও যমীনে অণু পরিমাণ কিংবা তা থেকে ক্ষুদ্র ও বড় কোন কিছুই তার অগোচরে নয়।সমস্তই আছে সুষ্পষ্ট কিতাবে।”
( সূরা সাবা-৩)
আরবী (জার্রা ) শব্দের অর্থ পরমানু
তুমি কি দেখনা যে, আল্লাহ মেঘমালাকে সঞ্চারিত করেন,তারপর তাকে পুঞ্জীভূত করেন,অতঃপর তাকে স্তরে স্তরে রাখেন,তারপর তুমি দেখ যে, তার মধ্য থেকে বারিধারা নির্গত হয়। তিনি আকাশস্থিত শিলাস্তুপ থেকে শিলা বর্ষণ করেন এবং তা দ্বারা যাকে ইচ্ছা আঘাত করেন এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা,তা অন্যদিকে ফিরিয়ে দেন।তার বিদ্যুত ঝলক দৃষ্টি শক্তিকে যেন বিলীন করে দিতে চায়।”
সূরা আননূর -৪৩
"আমরা কি করিনি ভূমিকে বিছানা এবং পর্বতমালাকে পেরেক?”
সূরা নাবা- ৬-৭
“আমি পৃথিবীতে ভারী বোঝা রেখে দিয়েছি যাতে তাদেরকে নিয়ে পৃথিবী ঝুঁকে না পড়ে ।”
সূরা আল আম্বিয়া -৩১
“তিনি পাশাপাশি দু’সাগর প্রবাহিত করেছেন উভয়ের মাঝে রয়েছে অন্তরাল, যা তারা অতিক্রম করেনা।”
সূরা আর রাহমান -১৯-২০
অথবা (তাদের কর্ম) প্রমত্ত সমুদ্রের বুকে গভীর অন্ধকারের ন্যায়, যাকে উদ্বেলিত করে তরঙ্গের উপর তরঙ্গ,যার উপরে ঘন কালো মেঘ আছে।একের উপর এক অন্ধকার।যখন সে তার হাত বের করে,তখন তাকে একেবারেই দেখতে পায় না।আল্লাহ যাকে জ্যোতি দেন না,তার কোন জ্যোতি নেই।
সূরা আন নূর-৪০
(অধ্যপক দুর্গা রাও একজন প্রখ্যাত সামুদ্রিক ভূতত্ববিদ এবং জেদ্দার বাদশাহ আবদুল আযীয বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ছিলেন।তাঁকে কোরআনের নিম্নোক্ত আয়াতের উপর মন্তব্য করতে বলা হয়ঃ
। আলোক রশ্মির সাতটি রং রংধনুতে দেখতে পাওয়া যায়। স

কে আমি ? (পর্বঃ- ১-২)

কে আমি ? (পর্বঃ- ১)
লালনের আমি ভালোই ভক্ত। “লালন শাহ” কে আমার এই এই জন্য আরও বেশী ভাল লাগে কারন আমি “শিল্প ও সাহিত্য” বলতে যা বুঝি, লালন শাহ তা পূর্ণ করে অনেক উপরে গেছেন। “শিল্প ও সাহিত্য” তৈরি হয় মানুষের সবচেয়ে বড় কারখানা “মন” থেকে। আর মানুষ যখন মন থেকে কিছু বলে, তখন তা একটা উদ্দেশ্য আর বিধেয় নিয়েই বলেন। তবে তা সকলের পক্ষে বোঝা সম্ভব হয় না। যা হোক, যেটা বলছিলাম সেই লালনের কথাই ফেরত আসা যাক। লালনের একটা গান আমি প্রায়ই গেয়ে থাকি। গানটা হল, “তোমার ঘরে বাস করে কয়জনা?/ও মন জাননা”। আসাধারন লাগে গানটা। কিন্তু গানটার অর্থ কি আমারা আসলেই বুঝি? বুঝলেই কি আমারা চিন্তা করি? আমার মতে, গানটা দ্বারা বুঝানো হয়াছে যে আমি বা আপনি আসলে কোন একক মানুষ না।আপনার বা আমার ভিতরে বাস করছে আনেক গুলো মানুষ। একটু অদ্ভুৎ লাগতে পারে কথাগুলো। বলতে পারেন আমি কি উন্মাদ কিনা? না, আমি ঠান্ডা মাথায় কথাগুলো বলছি। আমার মতে আপনি মানুষ এক এবং আপনার দেহ একটি। কিন্তু আপনার ভিতরে বাস করছে হাজারো মানুষ। আপনি এক জায়গায় ছাত্র, কোথাও শিক্ষক, কোথাও মা, কোথাও বাবা, কোথাও সন্তান, কোথাও ভালো বা মন্দ। অর্থাৎ, আমার দেহ একটি হলেও আমি ভিন্ন জায়গায় ভিন্ন সত্তা নিয়ে বিরাজ করি। এত সত্তার ভিতরে মাঝে মাঝে কি আমি নিজেকে হারিয়ে ফেলি? তাহলে আসলে আমি কে?
প্রবন্ধের নাম আমি লিখেছি, “কে আমি?” স্বভাবতই প্রশ্ন আস্তে পারে কেন এসব উল্টো পাল্টা কথার শুরুতে কেন এই নাম? আমার মতে, আজ আমরা আমাদের চারপাশে যা কিছু দেখি, যত ঘটনা, যত পরিক্রমা আমাদের চারপাশে ঘটে তা আমই বা আপনি অথবা আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা বা অপচেষ্টার প্রয়াশ। আমাদের সমাজ ব্যাবস্থা আজ ঘুনে ধরে গেছে। তাহলে আমরা যদি তা পরিবর্তন করতে চাই তবে আগে আমাদের নিজেদের পরিবর্তন করতে হবে। (এতক্ষণ পর্যন্ত আমই জা লিখেছি তা যদি সথিক মনে করে থাকেন তবে প্লীজ লেখাটা পরে জান। অন্যথায় এটা বাদ দিয়ে অন্য কিছু করুন। কারন আপনাদের সময়েরও অনেক দাম আছে।) তো যা বলছিলাম, আমাদের সমাজ পরিবর্তনের কথা। এটা যদি করতে চাই তবে আগে আমাদের জানতে হবে সমাজ কি? সমাজ কে ? এটা কিভাবে তৈরী হয়? সমাজ হল, আমি, আপনি আর আমাদের সমষ্টি। আমরাই সমাজ, আমরাই পাড়া, আমরাই থানা, উপজেলা, জেলা, বিভাগ, দেশ, তথা বিশ্ব। তাই সমাজের পরিবর্তন আর জাতি হিশেবে আমাদের উন্নত করতে হলে আমাদের আগে বুজতে হবে যে, আমি কি?
লালনের কথায় ফিরে আসি, তার মতে আমার ভিতরে হাজার সত্তা বিদ্যমান। তবে আমি এত সত্তা নিয়ে চিন্তা করবো না। প্রমথ চৌধুরী তার কোন এক প্রবন্ধে বলেছিলেন, মানুষের ভিতরে দুই সত্তা থাকে। একটি হোল “মানবসত্তা” আর অন্যটি হল “পশুসত্তা”। এই দুই সত্তা কি তা আমরা সকলেই জানি। শুধুমাত্র দুই নম্বার সত্তা থাকলে তাকে জীব বলা চলে। মানুষ বলা চলে না। তাহলে মানুষ হতে হলে আগে আমদের মধ্যে এই “মানবসত্তা” নিয়ে আসতে হবে। “মানবসত্তা” কি তা সকলেই জানেন আশা করি। আগেই বলেছি, আজ সমাজে যে পরিমানে অন্যায় বেড়েছে তা থামাতে হলে প্রয়োজন আমাদের নিজেদের চেনা। তাই আমার মতে এটাই শেষ্ঠ সময়, নিজেকে জিজ্ঞাসা করার “কে আমি?”

কে আমি ? (পর্বঃ- ২)
“একক/ অদ্বিতীয়” শব্দটির সাথে আমরা খুবই পরিচিত। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে স্কুল, কলেজ আর খেলার মাঠ সব জায়গায় আমরা এই শব্দটা শুনে থাকি। সবচেয়ে বেশী শুনি, এই শব্দের ইংরেজীটি। আর তা হল, unique. এখন আসি “একক/ অদ্বিতীয়” শব্দটি দ্বারা আমরা কি বুঝে থাকি? আমরা এই একক/ অদ্বিতীয় শব্দটির দ্বারা এমন কোন কাজ বা এমন কোন জিনিস/বস্তুকে বুঝে থাকি যা শুধুমাত্র ওই ব্যাক্তি বা বস্তু ব্যাতিত অন্য কোথাও সহজে পাওয়া যায় না। আমার লেখা “কে আমি?” প্রবন্ধের যদি প্রথম পর্ব আপনি পড়ে থাকেন এবং আমার কথা যদি আপনার কাছে যুক্তিযুক্ত মনে হয়, তবে আমার ধারনা আপনি নিজেকে এর মধ্যে প্রশ্ন করে থাকবেন যে আপনি আসলে কে? আপনার যদি মনে হয়ে থাকে যে মানুষ হিসেবে আপনার কিছু মানবিক দায়িত্ব আছে, তবে তা পুরণ করার আগে আমি আপনাকে আরও একটি বিষয়ে চিন্তা করতে অনুরোধ করব। (আমি আপনাকে ছোট বা তাছিল্য করার জন্য কোন কিছু লিখছি না। যদি আপনার এরকম মনে হয়, তবে আমায় ক্ষমা করে আর বাকিটুকু পরবেন না প্লীজ।)যা লিখছিলাম সেই কথায় ফিরে যাই।
আমি এখন যা বলব, তার সাথে ৬০% মানুষ সহমত প্রকাশ করবেন না। তবু বলি। আমার মতে আমি, আপনি বা আমরা সবাই “একক/ অদ্বিতীয়”। আপনার মনে প্রশ্ন জন্মাচ্ছে যে, আমি এটা কি বললাম? আমি কি সজ্ঞানে এই কথাটি বললাম কিনা? উত্তরটি হল- হ্যাঁ, আমি জেনেবুঝেই এই কথা বলেছি। তাহলে কিভাবে আমরা “একক/অদ্বিতীয়?” ভাল প্রশ্ন। বিজ্ঞানীরা একটি জরিপ করে দেখেছেন যে, প্রায় ১,০০,০০০ মানুষের মধ্যে দুই জন মানুষের হাতের রেখায়(fingerprint) মিল পাওয়া যায়(সম্ভাবনা যদিও খুব কম)। তাহলে দেখা যাচ্ছে একজন থেকে আর একজন মানুষ ভালোই আলাদা। তবে এই বিষয়টি শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। আগের লেখায় বলেছিলাম যে, মানুষের সবচেয়ে বড় কারখানা হচ্ছে তার “মন”। এই “মন” জিনিসটি হল- কিছু চিন্তা চেতনার সমষ্টি। আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল এই “মনের” দিক থেকে একজন মানুষের সাথে আর একজন মানুষের আকাশ পাতাল ব্যাবধান। আরও মজার বিষয় হল যে, প্রতিটি মানুষ একি ঘটনা- এক একজন একেকভাবে দেখেন। এর আরও বাস্তব উদাহরন পাবেন আপনার বন্ধু বান্ধবের মধ্য। তারপরও আপনি বলতে পারেন, “আমার চিন্তার সাথে তো অনেকের চিন্তা মিলে যায়, তবে আমি কিভাবে একক হলাম?” তবু আমি বলব, আপনি/আমি একক! কিভাবে তাই তো? আপনার মাঝে এমন কোন গুণ (ভাল) লুকিয়ে আছে যা একক। কি অবাক লাগছে? না, আসলেই আছে। আপনাকে তৈরী করা হয়েছে এইভাবেই। আপনি হয়ত ভাল গান গাইতে পারেন/ নাচতে পারেন/ লিখতে পারেন/ খেলতে পারেন। কিন্তু আপনি হয়ত খুজে পাচ্ছেন না যে আপনার একক গুনটি(ভাল) কি? কেন পাচ্ছেন না? তারও নিশ্চই একটি কারন আছে। হ্যাঁ, এর মধ্যে সামাজিক বাধাও জড়িত আছে। তবে সবচেয়ে বড় যে বাধা তা হল, আপনি এভাবে চিন্তা করছেন না। একটু অন্য কথায় আসি। এক বড় ভাইয়ের সাথে কিছুদিন আগে কথা বলছিলাম। বিষয় ছিল, “বিজ্ঞানী আইনস্টান/নিউটন কিভাবে এত কিছু আবিষ্কার করেছিলেন?” তার সবচেয়ে সহজ উত্তর হল, তারা এটা নিয়ে ভাবতেন তাই। মানুষের মস্তিক এমন একটি জিনিস যাকে আপনি যত কাজ করাবেন তার ক্ষমতা তত বাড়বে। কিন্তু আমরা কি তাই করি? করি না। আসুন ভাবি, “আমাদের একক গুণটি(ভাল) কী?” এবং তা নিয়ে কাজ করি। কারন, আমার আপনার সবার এইসব একক গুনের সমারহ যখন ঘটবে তখন এই দেশের তথা বিশ্বের চেহারা/ছবি বদলে যাবে এবং ধরীত্রী হবে মর্তের স্বর্গ।

দর্শনকোষঃ- ০১-০২

দর্শনকোষঃ- ০১
[সারা পৃথিবীতে বিশেষ করে ইংরেজি ভাষায় ছোট বড় অসংখ্য এনসাইক্লোপিডিয়া বা জ্ঞানকোষ রয়েছে কিন্তু বাংলা ভাষায় তা একেবারে সীমিত বললেই চলে। গুটিকয়েক যা আছে তার মধ্যে অন্যতম হল সরদার ফজলুল করিম রচিত দর্শনকোষ। সরদার ফজলুল করিম একাধারে বাংলাদেশের বিশিষ্ট দার্শনিক, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও প্রবন্ধকার। নানান প্রতিকূলতার মাঝে কাজ করে গেছেন দর্শনকোষ এর রচনার কাজ। সরদার ফজলুল করিম এর এই দর্শনকোষ’ কেবলমাত্র দর্শনের বিষয়াদির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ব্যাপক অর্থে দর্শন মানে জ্ঞান। দর্শনকোষ’-এ স্থান পেয়েছে দর্শন, ধর্ম, রাষ্ট্র এবং সমাজবিদ্যার অত্যাবশ্যকীয় পদ, তত্ত্ব এবং তাত্ত্বিকদের উপর বাংলা পরিভাষাসহ প্রায় পাঁচশত ব্যাখ্যামূলক প্রবন্ধ। বইটি দর্শন বিষয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অত্যাবশ্যকীয় বই। জ্ঞানচর্চাকারী যে কারোর 'দর্শনকোষ' পড়া আবশ্যক বলে মনে করি। তাই সকলের জন্য এই আত্যবশ্যকীয় পাঠ্য জ্ঞানকোষটি ইস্টিশন ব্লগে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে] A
Abelard, Pierre: পিয়ারে আবেলার্দ (১০৭৯-১১৪২ খ্রি.)
একাদশ ও দ্বাদশ খ্রিষ্টাব্দের ফরাসি দার্শনিক ও ধর্মতত্ত্ববিদ। ‘ইউনিভার্সাল’ বা অনন্য-নির্ভর ভাবের অস্তিত্বের প্রশ্নে আবেলার্দ মন-নির্ভর ভাবের পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। যুগের পরিপ্রেক্ষিতে আবেলার্দের মন-নির্ভর ভাবের মতবাদ ভাবাদর্শের অগ্রগতির ক্ষেত্রে একটি প্রগতিশীল ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হয়েছিল। তাঁর ধর্মব্যাখ্যাও খ্রিষ্টান ধর্মের ‘গোঁড়া ক্যাথলিক মতের’ বিরোধী ছিল। আবেলার্দের ‘সিক এট নন’ ‘হাঁ এবং না’ নামক গ্রন্থখানি বিশেষ খ্যাতি অর্জন করে। এই পুস্তকে তিনি যাজক সম্প্রদায়ের প্রচারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যার পরস্পর-বিরোধিতা প্রতিপন্ন করেন এবং ধর্মের প্রশ্নে যুক্তিকে অগ্রাধিকার দান করেন। প্রশ্নের ক্ষেত্রে সমাধান না থাকলেও তাঁর আলোচনার দ্বন্দ্বমূলক পদ্ধতি মানুষের যুক্তিকে তীক্ষ্ণ এবং যুক্তিমূলক করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আবেলার্দের অভিমত ছিল, ধর্মীয় বিশ্বাস-বহির্ভূত যে-কোনো সমস্যার সমাধানের জন্য দ্বন্দ্বমূলক যুক্তিবাদী পদ্ধতি হচ্ছে একমাত্র পদ্ধতি। আবেলার্দের জীবনকালে তাঁর অভিমত অধিকাংশ দার্শনিকের নিকট গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত না হলেও যুগের বিভিন্ন প্রকার কুসংস্কারের মোহ থেকে মানুষকে মুক্ত করতে বিরাট প্রভাব বিস্তার করেছিল। আবেলার্দ বলতেন, ‘ধর্মীয় বিশ্বাসের কথা বাদ দিলে এমন কিছু নাই যাকে ভুলের উর্ধ্বে মনে করা যয়ি। ধর্মযাজক কিংবা প্রেরিত পুরুষ কেউই ভুলের উর্ধ্বে নয়’।
আবেলার্দের এরূপ যুক্তিবাদী মতের জন্য গোঁড়া ক্যাথলিক সম্প্রদায় তাঁকে সমাজচ্যুত করেছিল।
Absolute: পরম বা চরম সত্তা
ভাববাদী দর্শনে ‘পরম সত্তা’ একটি মৌলিক ধারণা। এই দর্শনের ব্যাখ্যানুযায়ী পরম সত্তা হচ্ছে চরম সম্পূর্ণ এক অস্তিত্ব। সমস্ত খণ্ড অস্তিত্ব পরম সত্তার প্রকাশ। কিন্তু কোনো খণ্ড অস্তিত্ব আপন শক্তিতে পরম সত্তার কোনো হানি বা অপূর্ণতা ঘটাতে পারে না। পরম সত্তা স্বয়ংসম্পূর্ণ। খণ্ড অস্তিত্বের সাধারণ সম্মেলনও পরম সত্তার সৃষ্টি নয়। পরম সত্তা সমস্ত সৃষ্টির মূল শক্তি। পরম সত্তা নির্বিশেষ সত্তা।
সর্বপ্রকার বিশেষ-প্রকাশ-নিরেপেক্ষ সে। বস্তুবাদী দর্শন খণ্ড অস্তিত্ব বা বিশেষ-নিরপেক্ষভাবে কোনো পরম এবং নিরাকার অস্তিত্বকে স্বীকার করে না। পরম সত্তাকে বিভিন্ন ভাববাদী দার্শনিকের তত্বে বিভিন্ন নামে অবহিত হতে দেখা যায়। প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক প্লেটোর দর্শনে পরম সত্তা ‘দি আইডিয়া’ বা বস্তু নিরপেক্ষ ভাব বলে ব্যাখ্যাত হয়েছে। ফিকটে অহংবোধ ‘আমি’কে পরম সত্তা বলেছেন। হেগেলের দর্শনে পরম সত্তাকে এক সার্বিক এবং পরম ভাব বলে প্রকাশ করা হয়েছে। শপেনহার ‘ইচ্ছা শক্তি’কেই পরম সত্তা বলেছেন। বার্গসাঁ একে ইনটুইশন বা স্বজ্ঞা বলেছেন। ধর্মের ক্ষেত্রে সর্বশক্তিমান স্রষ্টাকে পরম সত্তা বলে অভিহিত করা হয়।
Absolute and Relative: নিরপেক্ষ এবং সাপেক্ষ
যুক্তিবিদ্যায় যে পদ অপর কোনো পদের উপর নির্ভরশীল নয় তাকে নিরপেক্ষ পদ বলে।, যেমন- মানুষ, পানি, মাটি। অপরদিকে যে পদের অর্থ অপর কোনো পদের উপর নির্ভরশীল তাকে রিলেটিভ আ আপেক্ষিক পদ বলে। যেমন- ছাত্র কিংবা শিক্ষক ছাত্র-শিক্ষককে যুক্তভাবে পরস্পর নির্ভরশীল পদ বা ‘কোরিলেটিভ টার্মস’ বলে। দর্শনে অনন্য- নির্ভর সত্তাকে এ্যাবসোলিউট এবং কোনো সত্তার উপর নির্ভরশীল নয়; অপর কোনো সত্তার সঙ্গে সে যুক্ত নয়। অনন্য-নির্ভর সত্তা স্বয়ংসম্পূর্ণ; তার কোনো পরিবর্তন নাই।
আপেক্ষিক সত্তা অপর সত্তার সঙ্গে সংযুক্ত। পারস্পারিক নির্ভরতা এবং সম্পর্কের ভিত্তিতেই সামগ্রিক সত্তা অপর সত্তার সঙ্গে সংযুক্ত। পারস্পারিক নির্ভরতা এবং সম্পর্কের ভিত্তিতেই সামগ্রিক সত্তার উদ্ভব। সামগ্রিক সত্তার প্রতি অংশ অপর অংশের সঙ্গে সংযুক্ত। সেই সংযোগের ভিত্তিতেই প্রতিটি অংশ বা খণ্ডের বৈশিষ্ট্য নির্দিষ্ট হয়। দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদের মতে অনন্যনির্ভর স্বাধীন এবং অপরিবর্তনীয় চরম বলে কিছু নাই এবং তেমন কোনো অস্তিত্বের কল্পনা করাও চলে না। অস্তিত্বমাত্রই আপেক্ষিক। আপেক্ষিকের জটিল সম্মেলনে সে সামগ্রিক সত্তা সে তার অংশসহ নিরন্তর পরিবর্তমান ও বিকাশশীল।
Absolutism: নিরঙ্কুশতা
শাসনের অবাধ ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ শাসন বলা হয়। নিরঙ্কুশ শাসনে জনসাধারণ প্রত্যক্ষভাবে কিংবা নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে সরকারে কোনোরূপ অংশগ্রহণ করার অধিকার ভোগ করে না। নিরঙ্কুশ শাসনের বিপরীত হলো গণতান্ত্রিক শাসন।
গণতান্ত্রিক শাসন-পদ্ধতিতে কোনো এক ব্যক্তি বা সম্রাট শাসনের একচ্ছত্র অধিকার ভোগ করে না। নির্বাচনের মাধ্যমে জনসাধারণকে শাসন করে। গণতান্ত্রিক বা প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার আধুনিককালের সর্বজন স্বীকৃত এবং কাম্য ব্যবস্থা বলে পরিচিত। প্রাচীন গ্রিসে প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক শাসনের দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। অবশ্য প্রাচীন গ্রিসের এই গণতন্ত্রে দাসদের কোনো রাজনৈতিক অধিকার ছিল না। গ্রিক সভ্যতার ধ্বংসের পরবর্তীকাল থেকে আধুনিক পুঁজিবাদী বিপ্লব পর্যন্ত ইউরোপে এবং অন্যত্র সমন্ততান্ত্রিক যুগে রাজা বা সম্রাটদের একচ্ছত্র অগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাই প্রচলিত ছিল।
Abstract and Concrete: বিমূর্ত এবং মূর্ত
যুক্তিবিদ্যায় যে পদ দ্বারা বস্তু-নিরপেক্ষভাবে কোনো গুণ বুঝায় তেমন পদকে গুণবাচক বা এ্যাবসট্রাক্ট পদ বলে। যথা, মনষ্যত্ব, দয়া, অন্ধত্ব। অপর পক্ষে যে পদ দ্বারা কোনো বস্তু বুঝায় তাকে বস্তুবাচক পদ বা কনক্রিট টার্ম বলে। যথা, গাছ, রহিম, ঢাকা শহর ইত্যাদি।
দর্শনে যা ইন্দ্রীয়গ্রাহ্য নয় তাকে বিমূর্ত এবং যা ইন্দ্রীয়গ্রাহ্য তাকে মূর্ত বলা হয়। মূর্ত এবং বিমূর্তের প্রশ্নে ইতিহাসে মত পার্থক্য দেখা যায়। ভাববাদী দর্শনে বিমূর্তকেই পরম বলে মনে করা হয়। বস্তুবাদী দর্শনে মূর্তের গুণাগুণকে মানসিকভাবে বস্তু থেকে বিচ্ছিন্নভাবে চিন্তা করাকে বিমূর্ত ক্ষমতা বলা হয়। উনবিংশ শতকে জার্মান দার্শনিক হেগেল মূর্ত এবং বিমূর্তের জ্ঞানের ক্ষেত্রে নতুনতর ব্যাখ্যাসহ প্রয়োগ করার চেষ্টা করেন। হেগেল মূর্ত এবং বিমূর্তের একটি দ্বন্দ্বমূলক এবং নিত্য বিকাশমান সম্পর্কের কল্পনা করেন। হেগেলের নিকট বিমূর্ত মূর্তের বিপরীত কোনো ভাব বা বস্তু নয়। নিরন্তর বিকাশে মূর্ত বিমূর্তে পরিণতি লাভ করে। এই বিমূর্ত আবার মূর্তেও প্রকাশিত হয়। হেগেলের চরম বিমূর্ত অবশ্য একটি ভাববাদী ধারণা। সে ব্যাখ্যায় চরম বিমূর্তের আংশিক প্রকাশ। ইতিহাস, সমাজ, বস্তুজগৎ: সবই এরূপ ব্যাখ্যায় চরম বিমূর্তের মায়ারূপ প্রকাশ-স্থায়ী সত্য নয়। বস্তুবাদী দর্শন, বিশেষ করে মার্কসবাদী দর্শন হেগেলের মূর্ত-বিমূর্তের ব্যাখ্যায় পরস্পর-বিরোধিতা আরোপ করে। মার্কসবাদী দার্শনিকদের মত মূর্তের বিকাশ ও সামগ্রিকতাই যদি বিমূর্তের সৃষ্টি, তবে মূর্তবিচ্ছিন্নভাবে বিমূর্তের কোনো অস্তিত্ব নেই। তেমন ক্ষেত্রে মূর্তই চরম সত্য, বিমূর্ত নয়। এবং সমাজ, ইতিহাস, জগৎকে বিমূর্তের ভ্রান্তিকর খণ্ড প্রকাশ বলাও যুক্তিসঙ্গত নয়।
মার্কসবাদী দর্শনের মতে ইন্দ্রিয়াদি অর্থ্যাৎ মানুষের জ্ঞান-মাধ্যমের গ্রাহ্য বস্তু, ভাব এবং ভাবনা অর্থ্যাৎজ্ঞান সাপেক্ষ জগৎই সত্য। জ্ঞান-সাপেক্ষ জগতের সামগ্রিক ধারণাই বিমূর্ত ধারণা। জ্ঞেন-জগতের উধ্বে কোনো অজ্ঞেয় বিমূর্ত সত্তা নেই। জ্ঞান-সাপেক্ষ-মূর্ত জগতের প্রতিটি অংশের সঙ্গে পারস্পারিক সম্পর্কে সম্পর্কিত।
সাধারণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ‘এ্যাবষ্ট্রাক্টের’ অর্থ হচ্ছে কোন কিছুর আংশিক বা অপূর্ণ ধারণা। ‘সাধারণ জ্ঞান’, ‘সাধারণ ধারণা’ এরূপ কথা দ্বারা এই ভাবটি ব্যক্ত করা হয়। এর বিপরীত ভাবে ‘কনক্রিট’ কথাটি ব্যবহৃত হয়। কনক্রিট বলতে কোনো কিছুর বস্তুগত বা নির্দিষ্ট ধারণাকে বুঝায়।
Abdul Gaffar Khan: আব্দুল গফফার খান (১৮৯১-১৯৮৮)
‘খান আব্দুল গফফার খান’রূপে ইনি পরিচিত। আফগানিস্তানের পার্শ্ববর্তী ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর পশ্চিম সীমান্ত এলাকার অধিবাসী। উপমহাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের আন্দোলনকালে গান্ধীজির অহিংস নীতির অনুসারী বলে ‘সীমান্ত গান্ধী’ হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেন। পুশতুভাষী এই অঞ্চলের অধিবাসীগণ নিজেদের একটি বিশিষ্ট জাতি বলে বিবেচনা করে। ভারত বিভাগের ফলে পাকিস্থানভূক্ত হলেও খান আব্দুল গফফার খান তাঁর এলাকার আত্মনিয়ন্ত্রণের জন্য ‘পাখতুনিস্তান’ আন্দোলন অব্যাহত রাখেন। তিনি ‘খোদাই খেদমতগার’ নামক সেচ্ছাসেবক বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা। ইংরেজ শাসনের কাল ব্যতীত পাকিস্তান আমলেও তাঁর স্বাধীনচেতা এবং পাখতুনদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের দাবির কারণে তাঁকে কারাবরণ করতে হয়। সীমান্ত অঞ্চলের অধিবাসীবৃন্দ প্রকৃতিগতভাবে দুর্ধর্ষ বলে পরিচিত। তাঁদের জনপ্রিয় নেতার মৃদুভাষণ, নম্র আচরণ এবং আপন নীতিতে অনমনীয়তা খান আবদুল গফফার খানকে আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিসম্পন্ন করেছে। বয়সের দিক থকে শতবর্ষ পূরণের নিকটবর্তী বয়সেও তিনি রাজনৈতিক জীবন যাপন করেছেন এবং পাখতুনদের আত্মনিয়ন্ত্রনের সংগ্রামী জীবনের স্বীকৃতি হিসাবে তাঁকে নেহেরু অ্যাওয়ার্ড (১৯৬৭) এবং ভারত রত্ন (১৯৮৭) প্রদান দ্বারা সম্মানিত করে। ১৯৮৮ সনে তাঁর মৃত্যু হয়।
Abul Kalam Azad, Maolana: মৌলানা আবুল কালাম আজাদ (১৮৮৮-১৯৫৪)
ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম জাতীয়তাবাদী নেতা এবং ইসলাম ধর্মের প্রাজ্ঞ পণ্ডিত। পিতা মওলানা খায়রুল দীন এবং পিতামহের সূত্রে মৌলানা আজাদের পরিবারের আরবের হেজাজ এবং মক্কার সঙ্গে সংযোগ ছিল। তাঁর পিতা একজন প্রখ্যাত পির ছিলেন এবং বোম্বে, কলকাতা এবং রেঙ্গুনে তার প্রচুর সংখ্যক মুরিদ ছিল।
আবুল কালামের শিক্ষা প্রধানত গৃহের মধ্যে পারিবারিক প্রথায় পরিচালিত হয়। কিন্তু কিশোরকাল থেকেই আবুল কালাম ছিলেন বিষ্ময়কর প্রতিভার অধিকারী। “প্রাচীন শিক্ষা পদ্ধতির পাঠক্রমের সবগুলি শিক্ষণীয় বিষয় তিনি পিতার শিক্ষকতায় পূর্ণভাবে আয়ত্ত করেন। ইহার পরে আজাদ গভীর ব্যক্তিগত অধ্যয়নের মাধ্যমে বিভিন্ন বিদ্যায় অসাধারণ ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। ভাষাগুলির মধ্যে তিনি প্রথমে ফরাসি এবং পরে ইংরেজি শিক্ষা লাভ করেন।” কিশোরকাল থেকেই তিনি কবিতা রচনা করতেন। এবং ‘আজাদ’ তাঁর কবিনাম। উর্দূ ভাষায় তিনি ক্ষমতাবান বাগ্মী ছিলেন। কিশোর বয়সে মাসিক সাহিত্যপত্র ‘লিসানাল সিদক’ সম্পাদনা করেন। ১৯১২ সনে কোলকাতা থেকে সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘আল হেলাল’ তাঁর সম্পদনায় প্রকাশিত হয়। প্রথম মহাযুদ্ধকালে যুদ্ধ সম্পর্কে ‘আল হেলালের’ ব্রিটিশ সরকার বিরোধী মতের কারণে ব্রিটিশ সরকার প্রথমে পত্রিকা থেকে জামানত তলব করে এবং জামানত বাজেয়াপ্ত করে। মৌলানা আজাদের মতামত সর্বদাই ইংরেজ সরকারের বিরোধী এবং ভারতের স্বাধীনতার পক্ষে সংগ্রামী চরিত্রের ছিল। তাঁর রাজনৈতিক মতের জন্য ১৯১৬ সনে তাঁকে কলকাতা থেকে বহিস্কার করা হয় এবং রাঁচিতে নজরবন্দি করে রাখা হয়। ১৯২০-এ ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন শুরু হলে মৌলানা আজাদ বঙ্গীয় প্রাদেশিক খেলাফত কনফারেন্সের সভাপতি হন। আমৃত্যু ভারতের সকল সম্প্রদায়ের সমন্বয়ে ‘ভারতীয় জাতি’মূলক জাতীয়বাদী চেতনায় তিনি উদ্বুদ্ধ ছিলেন এবং ত্রিশের দশক থেকে সাম্প্রদায়িক হানাহানি এবং বিভেদ বৃদ্ধি পেলে এবং মুসলিম লীগ মুসলমানদের একমাত্র প্রতিষ্ঠান বলে মুসলিম লীগ নেতা মি. জিন্নাহ দাবি করলেও মৌলানা আজাদ সাম্প্রদায়িক চিন্তা প্রবাহের বিরুদ্ধতা করেন এবং অবিচলভাবে ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ইংরেজের সঙ্গে স্বাধীনতার আলোচনাকালে জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতিত্ব করেন। ১৯৪২-এর আগষ্ট মাসে ‘ইংরেজ, ভারত ছাড়’ আন্দোলন শুরু হলে গান্ধীসহ কংগ্রেসের অপর সকল প্রখ্যাত নেতার সাথে মৌলানা আজাদ কারারুদ্ধ হন। “রাঁচীর নজরবন্দি থেকে জুন ১৯৪৫ পর্যন্ত তাঁর বন্দি জীবনের দৈর্ঘ্য মোট দশ বৎসর সাত মাস হয়।” স্বাধীনতার পরে ১৯৪৭ সনে তিনি ভারতের শিক্ষামন্ত্রী হন এবং মৃত্যু পর্যন্ত এই পদে অধিষ্ঠিত থাকেন। ধর্ম এবং রাজনীতিক অভিমতমূলক যে সকল গ্রন্থ তিনি রচনা করেছেন তার কোন সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করা সহজ নয়। তাঁর মৃত্যুপূর্বকালে আত্মজীবনীমূলক রচনা ‘ইণ্ডিয়া উইনস ফ্রিডম’ বা ‘ভারতের স্বাধীনতালাভ’ গ্রন্থ তাঁর নির্দেশমতো মৃত্যুর পরে একটা নির্দিষ্টকাল অতিক্রম শেষে প্রকাশ করা হয়। এই গ্রন্থে তাঁর রাজনৈতিক নানা অভিমত নিঃসঙ্কোচে প্রকাশিত হয়েছে। ধর্মের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত পাকিস্থান রাষ্ট্র যে অধিককাল দ্বন্দ্বহীনভাবে বজায় থাকতে পারবে না, এ ভবিষ্যদ্বাণীও তিনি উক্ত পুস্তকে প্রকাশ করেন।
Academy of Plato: প্লেটোর একাডেমী
গ্রিক ‘একাডেমীয়া’ শব্দ থেকে ইংরেজি একাডেমী শব্দেরউৎপত্তি। প্রাচীন গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের একটি বাগানকে একাডেমাসের বাগান বলা হয়। খ্রি. পূ. ৩৮৭ সনে প্লেটো এখানে দার্শনিক আলোচনার একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা করেন। পূর্বে এই বাগানে গ্রিক দেব-দেবীদের উদ্দেশে পশু উৎসর্গ করা হতো। এথেন্সের একাডেমীর ইতিহাসে তিনটি পর্যায়ের কথা জানা যায় (১) প্রথম পর্যায় বা প্লেটো পর্ব। প্লেটো পর্বে প্লেটোর পরে স্পুসিয়াস, জেনোক্রাটিস এবং পলেমনকে একাডেমীর সঙ্গে যুক্ত দেখো যায়। (২) দ্বিতীয় পর্বের প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে আরসেসিলাস পরিচিত। এটাকে একাডেমীর মধ্যযুগ বলেও অভিহিত করা হয়। এই যুগে আলোচনার লক্ষ্য ছিল প্রাচীন স্টোয়িক বা প্রতিরোধহীন সমর্পণবাদকে খণ্ডন করা হয়। আরসেলিলাসের পরে আসেন ল্যাসিডিষ। (৩) তৃতীয় পর্যায়কে একাডেমীর নবপর্যায় বলেও অভিহিত করা হয়। এই পর্বের প্রধাস উদ্যোগী চিন্তাবিদ ছিলেন কারনিয়াডিস। কারনিয়াডিসের চিন্তাধারা পূর্বতন সন্দেহবাদের প্রকারবিশেষ।
প্লেটো ৩৪৭ খ্রি.পূ. অব্দে মারা যান। প্লেটোর মৃত্যুকাল পর্যন্ত দার্শনিক এ্যারিস্টটল একাডেমীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই সময়ে অন্যান্য দার্শনিক যাঁরা একাডেমীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের মধ্যে জ্যোতিৃর্বিদ ইউডোক্সাস এবং ফিলিপাস, গণিত শাস্ত্রবিদ থিটিটাস এবং একাধারে সমাজতত্ত্ববিদ, ভূগোলবিদ এবং বৈজ্ঞানিক হিরাক্লিডিস বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রথম যুগকেই একাডেমীর স্বর্ণযুগ বলা যায়। এই যুগে একাডেমীর সদস্যগণ প্রতিষ্ঠানটিকে একটি মুক্তবুদ্ধি গবেষণা এবং দর্শন সম্পর্কিত আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত করেছিলেন। এই যুগে মতামতের দ্বন্দ্বে দেখা যায় যে, স্পুসিপাস প্লেটোর বস্তুনিরপেক্ষ ‘পরমভাব’-এর ধারণাকে খণ্ডন করে ‘আংকিক সংখ্যাই হচ্ছে একমাত্র নিত্যসত্য’- পাইথাগোরীয় সম্প্রদায়ের এই অভিমতকে সমর্থন করেছেন। পুসিপাস আরো দাবি করেন যে, ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমেই আমরা সত্যজ্ঞান লাভ করতে পারি। প্রাকৃতিক জগতের ইতিহাস বর্ণনাতেও স্পুসিপাসের আগ্রহ ছিল। একাডেমীর আদি যুগের অন্যতম দার্শনিক জেনোক্রাটিস প্লেটোবাদ এবং পাইথাগোরীয়বাদের মধ্যে একটি সমঝতোতা স্থাপনের চেষ্টা করেন। তিনি একদিকে প্লেটোর নিকট থেকে সমস্ত অনিত্য প্রকাশের পেছনে এক নিত্য সত্তার অস্তিত্বকে গ্রহণ করেন, অপরদিকে নিত্য এবং অনিত্যের সংঘাতে সংখ্যার উৎপত্তি হয় বলে অভিমত প্রকাশ করেন। খ্রিষ্টাব্দের চতুর্থ এবং পঞ্চম শতকে একোডেমীর মতাদর্শ নব-প্লেটোবাদ বলে পরিচিত হয়। ৫২৯ খ্রিষ্টাব্দে রোমান সম্রাট জাস্টিনিয়ান একাডেমীর আলোচনা নিষিদ্ধ করে প্রতিষ্ঠানটিকে বন্ধ করে দেন। ইউরোপে নব জাগরণের যুগে (১৪৫৯-১৫২১) ফ্লোরেন্স শহরে ‘একাডেমী’ নামে আলোচনা ও গবেষণার নতুন প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়। এই পর্যায়ে প্লেটোর রচনাবলীর উদ্ধার এবং অনুবাদ এবং এ্যারিস্টটলের দর্শনের নতুনতর ব্যাখ্যা গুরুত্ব লাভ করে।
‘একাডেমী’ বর্তমানে একটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত শব্দ। একাডেমী শব্দ দ্বারা সাহিত্য, শিল্প এবং বিজ্ঞানের আলোচনা ও গবেষণার কেন্দ্রে বা প্রতিষ্ঠানকে বুঝান হয়। এই অর্থে পৃথিবীর প্রায় সমস্ত দেশেই ‘একাডেমী’ নামক প্রতিষ্ঠানকে কার্যরত দেখা যায়। বিশ্বের বিখ্রাত একাডেমীগুলির মধ্যে ফরাসি একাডেমী, ইংল্যাণ্ডের ব্রিটিশ একাডেমী, গ্রিসের একাডেমীয়া এথেন্স, জাপানের দি ন্যাশনাল একাডেমী অব জাপান, আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের দি নিউইয়র্ক একাডেমী অব সায়েন্সস এবং রাশিয়ার একাডেমী অব সায়েন্সস বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশের বাংলা একাডেমীও একটি গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান।
চলবে....


দর্শনকোষঃ-০২
 [সারা পৃথিবীতে বিশেষ করে ইংরেজি ভাষায় ছোট বড় অসংখ্য এনসাইক্লোপিডিয়া বা জ্ঞানকোষ রয়েছে কিন্তু বাংলা ভাষায় তা একেবারে সীমিত বললেই চলে। গুটিকয়েক যা আছে তার মধ্যে অন্যতম হল সরদার ফজলুল করিম রচিত দর্শনকোষ। সরদার ফজলুল করিম একাধারে বাংলাদেশের বিশিষ্ট দার্শনিক, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও প্রবন্ধকার। নানান প্রতিকূলতার মাঝে কাজ করে গেছেন দর্শনকোষ এর রচনার কাজ। সরদার ফজলুল করিম এর এই দর্শনকোষ’ কেবলমাত্র দর্শনের বিষয়াদির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ব্যাপক অর্থে দর্শন মানে জ্ঞান। দর্শনকোষ’-এ স্থান পেয়েছে দর্শন, ধর্ম, রাষ্ট্র এবং সমাজবিদ্যার অত্যাবশ্যকীয় পদ, তত্ত্ব এবং তাত্ত্বিকদের উপর বাংলা পরিভাষাসহ প্রায় পাঁচশত ব্যাখ্যামূলক প্রবন্ধ। বইটি দর্শন বিষয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অত্যাবশ্যকীয় বই। জ্ঞানচর্চাকারী যে কারোর 'দর্শনকোষ' পড়া আবশ্যক বলে মনে করি। তাই সকলের জন্য এই আত্যবশ্যকীয় পাঠ্য জ্ঞানকোষটি ইস্টিশন ব্লগে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে]
A
Accident, Accidents: অবান্তর লক্ষণ
যুক্তিবিদ্যায় বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত একটি শব্দ। একটি পদের গুণ যদি এমন হয় যে, গুণটি কিংবা গুণসমূহ উক্ত পদের জাত্যর্থ বা কানোটেশনের অন্তর্ভূক্ত নয়, জাত্যর্থ থেকে উদ্ভূতও নয়-অর্থ্যাৎ উক্ত গুণকে পদের জাত্যর্থ থেকে অনুমান করা চলে না; কিন্তু গুণটিকে পদের মধ্যে স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে দেখতে পাওয়া যায়, তা হলে এরুপ গুণটিকে পদের মধ্যে স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে দেখেতে পাওয়া যায়, তা হলে এরূপ গুণকে উক্ত পদ বা টার্মের এ্যাকসিডেন্ট বা এ্যাকসিডেন্স বলা হয়। বাংলাতে এক ‘অবান্তর লক্ষণ’ বলা যায়। অনেক মানুষের ‘চুল কালো’, এই দৃষ্টান্তে চুল কালো বা কালো চুল থাকার গুণটি মানুষ পদের অবান্তর লক্ষণ। এ গুণটি ‘মানুষ’ হওয়ার অপরিহার্য গুণ হচ্ছে ‘জীবন্তু এবং যুক্তিবাদিতা’। অবান্তর লক্ষণ একটি পদের বিচ্ছেদ্য কিংবা অবিচ্ছেদ্য গুণ বলেও বিবেচিত হতে পারে। যে অবান্তর লক্ষণ পদের মধ্যে স্থায়ীভাবে দেখা যায়, তাকে অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ বলে। যেমন কবি নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহন করেছিলেন। একটি বিশেষ সনে জন্মগ্রহণ করার গুণটি উপরোক্ত পদটি অবিচ্ছদ্য অবান্তর লক্ষণ।
দর্শনশাস্ত্রেও ‘এ্যাকসিডেণ্ট’ বলতে অস্থায়ী, অনিত্য এবং অপরিহার্য গুণকে বুঝায়। এদিক থেকে নিত্যসত্তা বা পরম সত্তার বিপরীত হচ্ছে অনিত্যসত্তা বা এ্যাকসিডেণ্ট। পদের গুণের ক্ষেত্রে অপরিহার্য এবং অপরিহার্যের পার্থক্য প্রথম প্রকাশ করে দার্শনিক এ্যারিস্টোটল। ‘এ্যাকসিডেন্ট’ শব্দের ব্যবহার তার রচনাবলীতেই প্রথম দেখা যায়। পরবর্তীকালে মধ্যযুগের স্কলাসটিক বা ধর্মীয় দর্শনের মধ্যে ‘এ্যাকসিডেন্ট’-এর ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়। সপ্তদশ এবং অষ্টাদশ শতকের দর্শনেও বস্তুর অপরিহার্য এবং অপরিহার্য গুণের আলোচনার সাক্ষাৎ পাওয়া যায়। কিন্তু দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদের মতে কোনো বিশেষ বস্তুই যেমন অপর কোনো বিশেষ বস্তু থেকে চরমভাবে বিচ্ছিন্ন নয়, তেমনি বস্তুর কোনো গুণকে অপর কোনো বিশেষ বস্তু থেকে চরমভাবে বিচ্ছিন্ন নয়, তেমনি বস্তুর কোনো গুণকে অপর কোনো গুণের সঙ্গে তুলনাক্রমে চূড়ান্তভাবে বিচ্ছেদ্য গুণ বলা চলে না।
Accidental Evolution: আকষ্মিক বিকাম, আকষ্মিক বিবর্তন
জীবন এবং প্রকৃতির ক্ষেত্রে ডারউইনের বিবর্তনবাদ এবং বস্তুবাদের বিরোধীতা হিসাবে ‘আকষ্মিক বিবর্তনবাদ’-এর উদ্ভব দেখা যায়। এ মতের প্রধান ব্যাখ্যাদাতাদের মধ্যে স্যামুয়েল আলেকজাণ্ডার, এস. লয়েড মরগান, সি. ডি. ব্রড প্রমুখ দার্শনিকের নাম উল্লেখযোগ্য। এই সমস্ত দার্শনিককে ‘নব বাস্তবাদী’ বলেও আখ্যায়িত করা হয়। কিন্তু এ ভাবধারা মূলত ভাববাদী দর্শনের প্রকারবিশেষ।
চার্লস ডারউইনে তাঁর ‘অরিজিন অব স্পিসিস’-গ্রন্থে বলেছিলেন, জীবন ও প্রকৃতির ইতিহাস হচ্ছে ক্রমবিকাশের ইতিহাস। বাস্তব পরিবেশের সঙ্গে জীবনের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে সমস্ত প্রকার প্রাণীর বিকাশ ঘটেছে। জীবনের বিবর্তনে অতীতের সঙ্গে সম্পর্ক-শূন্য কোনো নতুনের আবির্ভাব সম্ভব নয়। ডারউইনের এই মত বস্তুবাদী মত। উল্লিখিত দার্শনিকগণ বিবর্তনবাদের এই তত্ত্বকে জীবনের ব্যাখ্যায় যথেষ্ট মনে করেন না। এঁদের মতে জীবনের বিকাশের ইতিহাসে এমন সমস্ত পর্যায় এবং সৃষ্টির সাক্ষাৎ পাওয়া যায়, যাকে বিবর্তনবাদের ধারাবাহিকতা দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায় না। সৃষ্টির ধারা অনির্দিষ্ট। সে ধারার অতীত কিংবা ভবিষ্যৎ কোনো নির্দিষ্ট করা যায় না। সৃষ্টি অগ্রসর হয় আকষ্মিক নতুন সত্তার উদ্ভাবের মাধ্যমে। সৃষ্টির অগ্রগতির বৈশিষ্ট্য ক্রমবিকাশ ক্রমবিকাশ নয়।, আকষ্মিক উদ্ভব এবং উৎক্রমণ। জগতের কোনো নতুন অস্তিত্বের সঙ্গে অতীতের কোনো অস্তিত্বের সাদৃশ্য নাই। জীবনের বিকাশের এই ব্যাখ্যা আকষ্মিক বিবর্তনবাদের একটি দিক। এ ছাড়া সমগ্র অস্তিত্বের নতুনতর ব্যাখ্যাদানের চেষ্টাও এই দর্শনের অনুসারীগণ করেছেন। এই দর্শনের অন্যতম প্রবক্তা আলেকজাণ্ডার তাঁর ‘স্পেস, টাইম এণ্ড ডিটি’ গ্রন্থে এরূপ অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, অস্তিত্বের মূল হচ্ছে ‘স্থান-কাল’ এই ধারণা। ‘স্থান-কাল’ ধারণাই সমস্ত অস্তিত্বের সৃষ্টি করেছে; বস্তু বা অস্তিত্ব থেকে ‘স্থান-কাল’ ধারণার সৃষ্টি হয় নি। মর্গান মনে করেন, জগতের অস্তিত্ব মাত্রই সপ্রাণ। প্রাণ ব্যতীত আদৌ কোন বস্তু বা অস্তিত্ব নাই।
Acosta, Uriel: উরিয়েল এ্যাকোস্টা (১৫৮৫-১৬৪০ খ্রি.)
ওলান্দাজ দার্শনিক। জন্ম পর্তুগাল, ১৫৮৫ কিংবা ১৫৯০ খ্রিষ্টাব্দে। মৃত্যু ১৬৪০ খ্রিষ্টাব্দে। প্রথম জীবনে ক্যথলিক শিক্ষায় শিক্ষিত হন। কিন্তু যুক্তিবাদকে নিজের দর্শন হিসাবে গ্রহণ করে পরবর্তী কালে ক্যাথলিক ধর্ম পরিত্যাগ করে ক্যাথলিক নির্যাতনের ভয়ে ১৬১৪ খ্রিষ্টাব্দে হল্যাণ্ডে পালায়ন করেন। এই পর্যায়ে উরিয়েল এ্যাকোষ্টা ইহুদি ধর্ম গ্রহণ করেন। কিন্তু মূল ইহুদি ধর্মের ভাবধারাসমূহকে ইহুদি যাজক সম্প্রদায় বিকৃত করেছে বলে তিনি ইহুদি যাজক সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করেন। ১৬২৩ খ্রিষ্টাব্দে আত্মার অবিনশ্বরতার উপর ‘sbre a martali dade da alam do homen’ নামক গ্রন্থ রচনা করেন এবং দাবি করেন যে, দেহের মৃত্যুর পরে আত্মার অবিনশ্বরতা বলে কিছুই নাই। সনাতন মতের বিরুদ্ধচারণের জন্য উরিয়েল এ্যাকোস্টাকে ইহুদি সমাজ থেকে দু দুবার বহিস্কার করা হয়। একদিকে ইহুদি যাজক সম্প্রদায় এবং অপরদিকে ওলন্দাজ সরকারের নিগ্রহে উরিয়েল এ্যাকোস্টা আত্মহত্যা করেন। তাঁর অপর গ্রন্থের নাম ছির ‘Exemplar humane vitae’ এই পুস্তকে তিনি রাষ্ট্রীয় ধর্ম, ইহুদি এবং খ্রিষ্টান, সমস্ত ধর্মীয় বিশ্বাসের বিরোধিতা করেন। সপ্তদশ শতকের বিখ্যাত ওলন্দাজ দার্শনিক স্পিনোজা উরিয়েল এ্রাকোস্টার মতবাদে বিশেষ প্রভাবিত হয়েছিলেন। লেখক ক. এফ গুজকাউ-এর বিষদাত্মক নাটক ‘উরিয়েল এ্যাকোস্টা’ (১৮৪৭) উরিয়েল এ্যাকোস্টার জীবন-কাহিনীর ভিত্তিতে রচিত।
Activists: কার্যবাদী, ক্রিয়াবাদী
রাজনৈতিক দলের মধ্যে লক্ষ্য সাধনের ক্ষেত্রে মতামতের পার্থক্যের উদ্ভব হয়। এরূপ মতামতের যদি কোনো উপদল দলের লক্ষ্য সাধনের জন্য প্রত্যক্ষ সংগ্রাম বা কার্যের উপর অধিক জোর দেয় তবে তাদেরকে কার্যবাদী বা ক্রিয়াবাদী বলা হয়।
Activity: ক্রিয়া
মনোবিজ্ঞানে, মানসিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া। দশরএনর ব্যক্তির উদেশ্য সাধনার্থে গৃহীত কর্মবাদ বা প্রাগামেটিজমের তত্ব।
মনোবিজ্ঞানে ব্যক্তি এবং বস্তুর পাস্পারিক সম্পর্ক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ব্যক্তি বস্তু বা পরিবেশকে ক্রিয়ার মাধ্যমে নিজের চাহিদা পূরণের উদ্দেশ্যে নিয়ন্ত্রিত করার প্রয়াস প্রায়। জীবনমাত্রেরই একটি স্বাধীন ক্রিয়ার ক্ষমতা আছে। কিন্তু সকল জীবের ক্ষেত্রে ক্রিয়ার স্বাধীনতা এবং বিকাশের স্তর সমান নয়। এজন্য প্রাথমিক ধরনের ক্রিয়া এবং জটিল উচ্চতর ধরনের ক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য করা হয়। মনুষ্যেতর জীবেরও কার্যক্ষমতা আছে। কিন্তু মনুষ্যেতর জীবের ক্রিয়ার মধ্যে মানুষের তুলতায় স্বাধীনতার পরিচয় কম। মনুষ্যেতর পশু-পক্ষীর ক্রিয়াকে পরিবেশই অধিক পরিমানে নিয়ন্ত্রিত করে। মানুষ পরিবেশ দ্বারা কেবল নিয়ন্ত্রিত হয় না; পরিবেশকে নিজের উদ্দেশ্য সাধনে পরিবর্তিত করার জন্যে আপন মস্তিস্ক এবং ইন্দ্রিয়াদির সাহায্যে বিশেষ বিশেষ ক্রিয়াকাণ্ড সম্পন্ন করে। মানসিকভাবে উদ্দেশ্য থাকা বা উদ্দেশ্যের সৃষ্টি করা কেবলমাত্র মানুষের ক্ষেত্রেই জটিল এবং উন্নতভাবে প্রকাশিত হতে দেখা যায়। ক্রিয়া কথার মধ্যে একটি সামাজিক অর্থ নিহত আছে। কোনো ব্যক্তি অপর ব্যক্তি-বিচ্ছিন্নভাবে কোনো কিছুর সঙ্গেই সম্পর্কিত নয়। ব্যক্তির অর্থ সামাজিক পরিবেশের ব্যক্তি। সে কারণে ব্যক্তির ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার পেছনে সামাজিক পরিবেশ এবং উক্ত পরিবেশের বিশেষ অবস্থা বিদ্যমান। মানুষের আদিতেও ব্যক্তির ক্রিয়া সামজিক পরিবেশের চাহিদা থেকেই শুরু হয়েছে। জৈবিক চাহিদা পূরনের জন্য প্রয়োজনীয় কর্ম ব্যক্তি অপর ব্যক্তির সমষ্টিগতভাবে গ্রহণ করেছে। মস্তিস্ক চালনার ক্ষেত্রে মনুষ্যেতর জীবের তুলনায় মানুষ অধিকতর জটিল এবং স্বাধীনতা চরম মনে করা ভূল। সামাজিক পরিবেশ-নিরপেক্ষভাবে ব্যক্তি কেবলমাত্র মস্তিৃস্কের ইচ্ছানুযায়ী কোনো ক্রিয়া-কাণ্ডের সূত্রপাত করতে পারে না। এদিক থেকে ব্যক্তি পরিবেশ-নিয়ন্ত্রিত। ব্যক্তি ও পরিবেশের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার সম্পর্ক দ্বন্দ্বমূলক এবং পরস্পর-নির্ভরশীল। কেউই চরমরূপে স্বাধীন নয়।
মনোবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে ক্রিয়া দুরকম হতে পারে। অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক। বাহ্যিক ক্রিয়ায় ব্যক্তি নিজের ইন্দ্রিয় সহযোগে বস্তুর উপর সক্রিয় হয়। অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে ব্যক্তি বস্তুর মানসিক স্মৃতি ও ছবির উপর কল্পনার মাধ্যমে ক্রিয়াশীল হয়। যে-কোনো বাহ্যিক ক্রিয়ার পূর্বে ব্যক্তি তাকে মানসিকভাবে পূর্বেই সম্পন্ন করা চেষ্টা করে। মুখে যে শব্দ উচ্চারণ করে অপর ব্যক্তির নিকট আমরা ভাব প্রকাশ করি, সে শব্দকে মানসিকভাবে প্রায়শই আমরা পূর্বে উচ্চারণ করে নিই। এরূপ ক্রিয়ার পৌনঃপুনিক চেষ্টায় মানসিক ক্রিয়া ক্রমান্বয়ে স্বয়ংক্রিয় বা মনেরও অগচরে হয়ে দাঁড়ায়। মানসিক ক্রিয়া পরিবেশকে পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। মানসিক ক্রিয়াই তত্ব হিসাবে প্রকাশিত হয়। তত্ব ও তার প্রয়োগমূলক ক্রিয়াও পরস্পর নির্ভরশীল। পরিবেশের আঘাত মস্তিস্ককে উপযুক্তরূপে পরিবর্তনের চিন্তায় সক্রিয় করে। মানসিকভাবে পরিকল্পিত ক্রিয়াকৌশল পরিবেশের উপর প্রয়োগের মারফত ব্যক্তি তার বাঞ্ছিত উদ্দেশ্য বাস্তবক্ষেত্রে কার্যকর করতে প্রয়াস পায়।
Adler, Alfred: আলফ্রেড এ্যাডলার (১৮৭০-১৯৩৮)
অষ্টিয়ার মনোবিজ্ঞানী। মনোসমীক্ষার প্রবর্তক সিগমণ্ড ফ্রয়েডের পরেই মনোসমীক্ষার ক্ষেত্রে এ্যাডলারের খ্যাতি। কিন্তু মনোবিশ্লেষণের প্রশ্নে দুজনার মত এক নয়। এ্যাডলারের মনোসমীক্ষাণ ব্যক্তিকেন্দ্রীক। এ্যাডলার ব্যক্তিকে একটি স্বয়ংসম্পর্ণ চরিত্র বলে মনে করেন। ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব পরিবেশ দ্বারা গঠিত। মনোবিকার বা মানসিক রোগের মূল হচ্ছে পরিবেশের সঙ্গে ব্যক্তির সংঘাত। ব্যক্তি চাই পরিবেশকে জয় করতে। জয়ের এই প্রবণতা ব্যক্তির জন্মগত। শৈশবেই এর উদ্ভব ঘটে। ব্যক্তি দৈহিক দুর্বলতা, মানসিক অক্ষমতা কিংবা অপর কোনো প্রতিকূল কারণে পরিবেশের সঙ্গে সংঘাতে জয়ী না হলে নিজের মনে সে বাস্তব অবস্থার পরিপূরক এর কপ্লজগতের সৃষ্টি করে। এভাবেই মানসিক রোগ কিংবা মসোবিকারের সূত্রপাত হয়। ব্যক্তি আপন কপ্ললোকে বাস্তব জগতের সর্বপ্রকার পরাজয়ের ক্ষতিপূরণ করার চেষ্টা করে। যে দৈহিকভাবে দুর্বল সে কল্পনা জগতে নিজেকে অপরিমিত শক্তিশালী মনে করে। এর ফলে বাস্তবের সঙ্গে ব্যক্তির সংঘাত অধিকতর বৃদ্ধি পায়। এ্যাডলারের তত্ত্ব অনুযায়ী মানসিক রোগীর রোগ দূরীকরণের জন্য ব্যক্তি শৈশবকাল এবং পরিবেশ উত্তমরূপে জানা আবশ্যক। কেন না, শৈশবকালে পরাজয়গুলিই রোগীর মনে বদ্ধমূল মনোবিকারের সৃষ্টি করে। রোগীকে এ অবস্থায় নিরাময় করবার প্রকৃষ্ট পথ হচ্ছে বাস্তবের সঙ্গে সংঘাতের বিপদ সম্পর্কে তাকে সচেতন করার চেষ্টা করা এবং যথাসম্ভব বাস্তব সঙঘাত থেকে তাকে দূরে রাখা। ফ্রয়েড যেখানে ব্যক্তির মূল জীবনবোধের পেছনে যৌন অনুভূতি এবং যৌন আকাঙ্ক্ষাকে আবিস্কার করেছেন, এ্যাডলার যেখানে ব্যক্তির জীবনবোধের পেছনে সামাজিক ক্ষেত্রে আত্মপ্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার কথা বলেছেন। ফ্রয়েড মানসিকভাবে সুস্থ অসুস্থ উভয় ব্যক্তির মনকে যৌনাকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করেছেন। যৌনাকাঙ্ক্ষার উপর এই গুরুত্ব আরোপের ক্ষেত্রে এ্যাডলার ফ্রয়েডের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। এ্যাডলার ব্যক্তির যৌনবোধ অস্বীকার করেন না। কিন্তু তাঁর মতে যৌনবোধ বা অনুভূতি ব্যক্তির জটিল চরিত্রের মাত্র অনুভূতি। সর্বপ্রকার বোধ নিয়ে ব্যক্তির যে চরিত্র, তার বিবেচনা ব্যতীত ব্যক্তিচরিত্রের কোনো বিশেষ অনুভূতির সঠিক বিচার সম্ভব নয়। ব্যক্তির সামগ্রিক চরিত্রকে এ্যাডলার বলেছেন ব্যক্তির জীবনপ্রক্রিয়া। ব্যক্তিগত জীবনে এ্যাডলার একজন চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। ফ্রয়েডের সঙ্গে যখন তিনি যুক্ত হন, তখন ফ্রয়েড তাকেঁ মনোসমীক্ষণ সংঘের সভাপতি মনোনীত করেছিলেন। কিন্তু মনোবিশ্লেষণে মতপার্থক্যের জন্য এ্যাডলার ১৯১১ খ্রিষ্টাব্দে ফ্রয়েডের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করে ‘মুক্তবুদ্ধি মনোসমীক্ষণবিদ সংঘের’ প্রতিষ্ঠা করেন। মতবিরোধের ফলে উভয় বিজ্ঞানীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক তিক্তরূপ ধারণ করে। কিন্তু মনোবিশ্লেষণের ক্ষেত্রে ব্যক্তি-চরিত্রের নতুনতর বিচার এ্যাডলারের খ্যাতিকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে। ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব ও চরিত্রকে জানার জন্য শৈশবকে জানার আবশ্যকতা এবং দুর্বলতাবোধ থেকে যে শৈশবকালেই ব্যক্তির জীবনে পরাজয়ের গ্লানি ও বিকার দেখা দিতে পারে এবং যে বিকার বদ্ধমূল হয়ে ব্যক্তিকে মানসিক রোগীতে পরিণত করতে পারে-এ্যাডলারের এই তত্ত্ব শিক্ষা-ব্যবস্থা ও সামাজিক সমস্যা বিচারে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে গৃহীত হয়েছে। এ্যাডলারের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের ইংরেজি নাম হচ্ছে ‘দি নিউরোটিক কনসটিটিউশন’ (১৯১২) এবং ‘ইনিডিভিডুয়াল সাইকোলজি’ (১৯২৪)।
Adler, Max: ম্যাকস এ্যাডলার (১৮৭৩-১৯৩৭)
অস্ট্রিয়ার রাজনীতিক লেখক এবং দার্শনিক। অস্ট্রিয়ার সোস্যাল ডিমোক্রাটিক পার্টির তাত্ত্বিক। প্রথম মহাযুদ্ধের পরবর্তীকাল থেকে এ্যাডলার সোস্যাল ডেমোক্রাটিক পার্টির বামপন্থী গ্রুপকে সমর্থন করেন। ১৯৩০ সালে কার্লরেনার এবং রুডরফ হিলপারডিং-এর সঙ্গে যৌথভাবে এ্যাডলার ভিয়েনাতে একটি শ্রমিকদের স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। অস্ট্রিয়ার মার্কসবাদে এ্যাডলারের ভূমিকার একটি দিক হচ্ছে, একটি সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্ব হিসাবে মার্কবাদের জ্ঞানতত্ত্বকে দাঁড় করাবার চেষ্টা করেন। এ ক্ষেত্রে তিনি নব্য-কাণ্টীয় এবং আর্নেস্ট ম্যাকের পজিটিভিম দর্শন দ্বারা বিশেষ প্রভাবিত হয়েছিলেন। লেলিন পরবর্তীকালে তাঁর ‘ম্যাটেরিয়ালিজম এ্যাণ্ড এমপিরিও ক্রিটিসজিম’ গ্রন্থে ম্যাকের দর্শনকে ভাববাদী বলে সমালোচনা করেন।
Aenesidemus: এনিসিডেমাস (খ্রি. পূ. প্রথম শতক )
খ্রি. পূ. প্রথম শতকের গ্রিক দার্শনিক। জ্ঞানের ক্ষেত্রে এনিসিডেমাস সন্দেহবাদের সমর্থক ছিলেন। তিনি প্লেটোর একাডেমীর সদস্য ছিলেন। সন্দেহবাদের ক্ষেত্রে এনিসিডেমাসকে তাঁর পূর্বগামী বিখ্যাত গ্রিক দার্শনিক পিরহোর (৩৬৫-২৭৫ খ্রি. পূ.) অনুসারী বলা যায়। এনিসিডেমাসের মতে কোনো কিছু সম্পর্কেই সন্দেহাতীত জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব নয়। কারণ, তর্কের ক্ষেত্রে যুক্তির অভাব ঘটে না। এক যুক্তি যাকে সত্য বলে দাবি করে, অপর যুক্তি তাকে অসত্য বলে প্রমাণ করতে পারে। কাজেই সত্য ও অসত্য নিয়ে যুক্তি এবং পাল্টা যুক্তির লড়াই-এর চেয়ে শ্রেয় হচ্ছে মনের শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করা। যুক্তির লড়াই মনের শান্ত অভিমতকে বিনষ্ট করে। সত্যাসত্যের লড়াই ছাড়াই মানুষ জীবনযাপন করে। ‘অন্য সবাই যেমন চলে আমারও তেমনি চলাই কর্তব্য।’ সাধারণের মত গ্রহণ করা এবং অপরিহার্য বিশ্বাস করাই জীবনে শান্তিলাভের প্রকৃষ্টতম পথ। এনিসিডেমাসের পরবর্তীকালে খ্রিষ্টাব্দের দ্বিতীয় শতকে সেক্সটাস এমপিকাস-রচিত ‘দেবতায় বিশ্বাসে বিপক্ষ-যুক্তি’ নামক গ্রন্থ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। প্রাচীন সন্দেহবাদীদের মধ্যে কেবলমাত্র তাঁর রচনাই পাওয়া যায়। উপরোক্ত গ্রন্থের একস্থানে দার্শনিক সেক্সটাস এমপিরিকাস সন্দেহবাদী দর্শনকে ব্যাখ্যা করে বলেছেন, আমরা সন্দেহবাদীরা জগতের প্রচলিত কিছু অমান্য করি না। কিন্তু প্রচলিত আচার-আচরণ তত্ত্বকে আমরা বিশ্বাসও করি না। বাস্তবে যা ঘটছে সে সম্পর্কে বিশ্বাস-অবিশ্বাস, স্বীকার কিংবা অস্বীকারের প্রশ্ন অবান্তর। দেবতাদের সবাই বিশ্বাস করে; তাদের নানা উপঢৌকন দেয়। মানুষ দেবতাদের উদ্দেশে নানা আচার-আচরণ করে। সে সমস্ত আচার আমরাও পালন করি। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, আমরা দেবতার অস্তিত্বে বিশ্বাসে-কিংবা অবিশ্বাসী। জ্ঞানের ক্ষেত্রে জোর করে কিছু বলার পক্ষপাতী আমরা নই।’ (বার্ট্রাণ্ড রাসেল হিস্টরি অব ওয়েস্টার্ন ফিলোসফি-২৬২ পৃষ্ঠা)
এই ব্যাখ্যায় প্রাচীন সন্দেহবাদের একটি পরিচয় পাওয়া যায়। এনিসিডিমাসের দর্শন তৎকালীন গ্রিক সামাজিক অবস্থারও পরিচয়বাহক। গ্রিসের সমাজ-ব্যবস্থার পূর্বকার শক্তি ও সমৃদ্ধি তখন বিনষ্ট। সমাজ জীবনে অস্থিরতা প্রবল হয়ে দেখা দিয়েছে। প্লেটো-এ্যারিস্টটলের দর্শন প্রতিপত্তি হারিয়েছে। এমন সামাজিক ও চিন্তাগত পরিবেশে গ্রিক সন্দেহবাদের উদ্ভব ঘটে।
জ্ঞানের বিপক্ষে এনসিডিডেমাস দশটি যুক্তি উপস্থিত করেছিলেন বলে অনেকে ধারণা। যুক্তিগুলি এরূপ: (১) মানুষের জ্ঞানের মাধ্যম হচ্ছে ইন্দ্রিয় এবং অনুভূতি। কিন্তু ইন্দ্রিয়ের বিচার এবং অনুভূতির সিদ্ধান্ত একরূপ হয় না। (২) ব্যক্তি জ্ঞান অর্জন করে। ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে দৈহিক এবং মানসিক পার্থক্য বিদ্যমান। এই পার্থক্যের কারণে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির জ্ঞান পৃথক হয়। (৩) ব্যক্তির বিভিন্ন ইন্দ্রিয় একই বিষয় সম্পর্কে পরস্পর পৃথক ধারণা সৃষ্টি করে। (৪) ব্যক্তির দৈহিক এবং মনাসিক অবস্থার উপর জ্ঞানের রূপ নির্ভরশীল। দৈহিক ও মানসিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে জ্ঞানও পরিবর্তিত হয়। (৫) বস্তু সম্পর্কে ধারণা ব্যক্তির সঙ্গে দৃষ্ট বস্তুর দূরত্ব এবং অবস্থানের ভিত্তিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন রূপ হয়। (৬) কোনো বস্তু বা বিষয়ের জ্ঞান কখনোই প্রত্যক্ষভাবে লাভ করা যায় না। জ্ঞান প্রতি ক্ষেত্রেই মাধ্যম-নির্ভর। (৭) বস্তুর বর্ণ, গুত, পরিমাণ, তাপ ইত্যাদি চরিত্র পরিবর্তিত হলে বস্তুর জ্ঞানও পরিবর্তিত হয়ে যায়। (৮) বিষয়ের সঙ্গে বিষয়ীর পরিচয়ের পরিমাণের ক্ষেত্রে পার্থক্য থাকলে বিষয় সম্পর্কে বিষয়ীর জ্ঞানও পৃথক রূপ লাভ করে। (৯) যাকে জ্ঞান বলা হয় তা আসলে ব্যক্তিবিশেষের অনুমান এবং অভিমত মাত্র। (১০) বিভিন্ন দেশে বিভিন্নরূপ অভিমত এবং আচার-আচরণের প্রকাশ দেখা যায়।
এই দশটি যুক্তির প্রত্যেকটি মৌলিক নয়। একটি ক্ষেত্রের যুক্তি ভিন্নতর প্রকাশে অপর ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে। কিন্তু জ্ঞানের নিশ্চয়তার বিপক্ষে এনিসিডেমাসের যুক্তিসমূহের মূল কথা হচ্ছে এই যে, সত্যের কোনো অনন্য-নির্ভর অস্তিত্ব নাই। বিভিন্ন অবস্থায় বিভিন্নরূপে একই সত্য প্রতিভাত হয়; ফলে কোনো সত্য সঠিক তা জানা সম্ভব নয়। জ্ঞানের অপরিহার্য মাধ্যম হচ্ছে ব্যক্তি। কোনো বস্তু বা বিষয় সম্পর্কে প্রত্যেক ব্যক্তির ধারণা ব্যক্তির বিশেষ অবস্থা ও পরিবেশের উপর নির্ভরশীল। ঘটনার ক্ষেত্রে কার্যকরণ সম্পর্কেও এনিসিডেমাস অস্বীকার করেন। দর্শনের ইতিহাসে আধুনিক যুগে জ্ঞানের প্রশ্নে সন্দেহবাদী দর্শনের যে প্রকাশ দেখা যায়, তার যুক্তি মূলত এনিসিডেমাস দার্শনিকের যুক্তিরই অনুরূপ।
Aesthetics: সৌন্দর্যতত্ত্ব
‘সৌন্দর্যতত্ত্ব’ কথাটি ব্যাপক। এ কারণে এর বিষয়বস্তুর সীমা নির্দিষ্ট করা কষ্টকর। সৌন্দর্যতত্ত্বের মধ্যে সৌন্দর্যানুভূতি, শিপ্লকলার বিচার, সুন্দর-অসুন্দরের পার্থক্য প্রভৃতি সমস্যাকে সাধারণত অন্তর্ভূক্ত মনে করা হয়। সৌন্দর্যতত্ত্বের সঙ্গে নীতিশাস্ত্রেরও একটি সম্পর্ক রয়েছে। এ-ক্ষেত্রে সমাজ-সংস্থার নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবর্তনে সৌন্দর্যতত্ত্বের ভূমিকা আলোচিত হয়।
সাধারণভাবে সৌন্দর্যানুভুতিকে প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি আদিম অনুভূতি বলে মনে করা হয়। প্রকৃতির মোকাবেলায় আদিমকাল থেকে মানুষ বিভিন্ন ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার উৎস হিসাবে কাজ করেছে। এরুপ ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মধ্যে কোনো কোনোটি মানুষের মনের আবেগময় প্রতিক্রিয়া। এই আবেগময় প্রতিক্রিয়ার মূলে মানুষের জীবন রক্ষার অচেতন জৈবিক প্রয়োজনই আদিকালে সমধিক কাজ করেছে। দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার মাধ্যমে মানুষ প্রাকৃতিক ঘটনা এবং শক্তির প্রকাশকে আপন জীবন রক্ষার সহায়ক কিংবা ক্ষতিকারক বলে চিহ্নিত করেছে। এ সমস্ত শক্তিকে প্রয়োজন অনুযায়ী নিজের মনে জাগরূক রাখার সে চেষ্টা করেছে। এই আদিম বোধ থেকেই আদি শিল্পকার্যের সৃষ্টি। এই উৎস থেকে সামাজিক ভালোমন্দ বোধেরও উৎপত্তি।
মানুষের নিজের জীবনের মতোই সৌন্দর্যানুভূতির ইতিহাস দীর্ঘ। সভ্যতার জটিল বিকাশের ধারায় সৌন্দর্যতত্ত্বকেও প্রাথমিক যুগে সহজ এবং আধুনিককালে জটিল এবং অবাস্তবের লক্ষণযুক্ত দেখা যায়।
কোনো বস্তু বা ঘটনা সম্পর্কে ব্যক্তির মনের আবেগময় অনুভূতি এবং তার ভাষাগত প্রকাশ ব্যতীত শিল্পকলা, ভাস্কর্য, সঙ্গীত এবং অন্যান্য মানবিক সৃষ্টিকে সুন্দর কিংবা অসুন্দর এবং ভালো কিংবা মন্দ হিসাবে বিচারের প্রয়াসকে সৌন্দর্যতত্ত্ব বলে অভিহিত করা হয়। সৌন্দর্যতত্ত্ব বলতে উপরোক্ত বিষয়গুলি সম্পর্কে বিশেষ কোনো তত্ত্বকে বুঝায় না। এর দ্বারা উপরোক্ত বিষয়গুলির উপরে বিভিন্ন যুগে বিভিন্ন চিন্তাবিদের চিন্তা কিংবা ভাবধারার কথা বুঝায়। সৌন্দর্যতত্ত্বের সামগ্রকি আলোচনায় সুন্দর এবং অসুন্দরের অথবা ভালৌ এবং মন্দের কোনো নির্দিষ্ট আদর্শ কিংবা মানদণ্ড আছে কিনা সে প্রশ্ন নিয়েও আলোচনা করা হয়।
সৌন্দর্য়তত্ত্বের উদ্ভব প্রায় আড়াই হাজার বছর পূর্বে ব্যাবিলন, মিসর, ভারতবর্ষ এবং চীনের দাস-প্রধান সমাজে লক্ষ্য করা যায়। পরবর্তীকালে গ্রিসের হেরাক্লিটাস, সক্রেটিস, প্লেটো, এ্যারিসস্টটল এবং অপরাপর দার্শনিকের রচনায় সৌন্দর্যতত্ত্বের জটিলতর বিকাশের আমরা সাক্ষাৎ পাই। প্রাচীন রোমের দার্শনিক লুক্রেশিয়াস এবং হোরেসও সৌন্দর্যতত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। মধ্যযুগে সেণ্ট অগাস্টিন এবং টমাস একুইনাস প্রমুখ ধর্মতাত্ত্বিকগণ সৌন্দর্যতত্ত্বে রহস্যবাদের আমদানি করেন। তাঁদের মতে, জগতাতীত এক ঐশ্বরিক সুন্দরের অস্তিত্ব রয়েছে। সেই ঐশ্বরিক সুন্দরের মানদণ্ডেই জাগতিক বস্তুনিচয়ের সৌন্দর্য পরিমাপ করতে হবে। মধ্যযুগের এই রহস্যবাদের প্রতিক্রিয়া ঘটে পরবর্তীকালে নব-জাগরণের চিন্তাবিদ এবং দার্শনিকগণের মধ্যে। এঁদের মধ্যে পেতরার্ক, আলবার্ট, লিওনার্দো দা ভিঞ্চি, দুরার,ব্রুনো এবং মণ্টেনের নাম বিখ্যাত। পাশ্চাত্যের নব-জাগরণের পরবর্তী জ্ঞানাস্বেষণের যুগের চিন্তাবিদদের মধ্যে বার্ক, হোগার্ত, ডিডেরক, রুশো, লেসিং প্রমুখ খ্যাতি অর্জন করেন। মানবতাবাদের এই ঐতিহ্যকে বহন করে সাহিত্যের ক্ষেত্রে শিলার এবং গ্যেটে ঘোষণা করেন যে, সৌন্দর্য এবং শিল্পের উৎস হলো মানুষ এবং তার বাস্ত জীবন।
সৌন্দর্যতত্ত্বের ইতিহাসে দুটি প্রধান ধারার সাক্ষাৎ সব যুগেই পাওয়া যায়। এদের একটি হচ্ছে সৌন্দর্য সম্পর্কে বস্তুবাদী ধারণা; অপরটি ভাববাদী। ভাববাদী সৌন্দর্যতত্ত্ব সৌন্দর্যকে অতি-প্রাকৃতিক একটি সত্তা বলে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে। অতি-প্রাকৃতিক এই সত্তা সাধারণ মানুষের বুদ্ধি এবং সিদ্ধির অতীত। সমাজের উচ্চতর শ্রেণীর মানুষের পক্ষেই মাত্র এই নিকষ সুন্দরকে উপলব্ধি করা সম্ভব। এরূপ ব্যাখ্যায় ভাববাদী সৌন্দর্যতত্ত্ব এবং সুন্দরের ধর্মীয় রহস্যবাদী কল্পনায় কোনো পার্থক্য নেই। সাধারণ মানুষকে অজ্ঞানতার মোহ আবদ্ধ রাখার প্রয়াস সমাজের শক্তিমান শ্রেণীগুলো সব যুগেই করে এসেছে। সৌন্দর্যতত্ত্বের ক্ষেত্রে দর্শনের অন্যান্য মৌলিক প্রশ্নের ন্যায় ভাববাদের বিরোধী ব্যাখ্যা হচ্ছে বস্তুবাদী ব্যাখ্যা। বস্তুবাদী দার্শনিকগণ মানুষের বাস্তব পরিবেশ এবং জীবনের মধ্যেই সৌন্দর্যানুভূতির সৃষ্টি এবং বিকাশকে লক্ষ্য করেছেন। সৌন্দর্যতত্ত্বে বস্তুবাদ এবং ভাববাদের বিরোধ সমাজের শোষক এবং শোষিতের বাস্তব বিরোধের ভাবগত প্রতিফলন।
বস্তুবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে সৌন্দর্যতত্ত্বে তিনটি প্রশ্ন মূল (১) বস্তুজগতে সৌন্দর্যের সৃষ্টি এবং বিকাশ; (২) মনোজগতে সৌন্দর্যানুভূতির ব্যাখ্যা, এবং (৩) শিল্পকর্মের মূল্যায়ন। দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদের মতে পরিবেশের সঙ্গে মানুষের প্রবহমান ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার সম্পর্কের ধারাতে ক্রমাধিক পরিমাণে আনন্দজনক জীবনযাপনের তাগিদে সুন্দর, অসুন্দর, মহৎ, হীন, হর্ষ এবং বিষাদ প্রভৃতি অনুভূতির সৃষ্টি হয়েছে।
ব্যাপকতার দিক থেকে সৌন্দর্যতত্ত্ব কেবল শিল্পকলার সৌন্দর্যকে বিশ্লেষণ করে না। শিল্পকলার সৌন্দর্যের বিশ্লেষণে সৌন্দর্যতত্ত্বের একটি প্রয়োগগত দিক মাত্র। ব্যাপকভাবে সৌন্দর্যতত্ত্বের আলোচ্য হচ্ছে মানুষ। তার সৃজনশীল ক্ষমতার বাস্তব প্রকাশে, মহতের জন্য জীবন উৎসর্গে, দাসত্ব থেকে মুক্তির সংগ্রামে যে আনন্দানুভূতি সে বোধ করে কিংবা বর্বরতার আঘাতে যে ঘৃণা তার মনে উদ্ভূত হয়, তার বিকাশ-প্রক্রিয়া এবং বৈশিষ্ট্য।