Thursday, October 8, 2015

নাস্তিকরা কেন ইসলাম ধর্ম নিয়ে কথা বলে?

কেন নাস্তিকরা ইসালামের বিরুদ্ধে কথা বলে সেই বিষয়ে কিছু কথা বলা দরকার।
যদি বাংলাদেশের কথা চিন্তা করি তাহলে দেখা যাবে কি বাংলাদেশে ইসলাম হল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্ম তাই এই ধর্ম সমালোচনার ঊর্ধ্বে; এই ধর্ম ব্যাবহার করে ভাবে গদ গদ হয়ে এর ফলোয়াররা যত খুশী বানোয়াট, আজগুবি, তত্ত্ব ছড়াবেন; সরাসরি সাম্প্রদায়িকতা ছড়াবেন কিন্তু তার প্রতিবাদে রা কাড়া যাবে না। কারন প্রতিবাদ করতে গেলেই সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মানুভূতি আহত হবে। আপনি খুন হয়ে গেলেও এই উছিলায় সমাজের প্রগতিশীল অংশও আপনারই দোষ ধরবে। নিজের পিঠের চামড়া বাঁচানো বড় কথা, নাস্তিক মুরতাদরা তো আর চাপাতি নিয়ে গলায় কোপ দেবে না, দিলে দিবে নিজ ধর্মের ভাইরাই।

এরপর অবধারিতভাবে আরেকটি প্রশ্ন আসে, কেন শুধু ইসলাম? কই; হিন্দু, বৌদ্ধ খৃষ্ট ধর্ম নিয়ে তো তেমন কিছু এরা লেখে না। কিছু বিদগ্ধ জ্ঞানী ভাই এর কাছে রীতিমত পরিসংখ্যানের বার গ্রাফ পওয়া যায় যাতে নাস্তিকতা নিয়ে সকল লেখালেখিতে অন্য ধর্মের তূলনায় ইসলাম কত বেশী সমালোচনা করা হয়েছে তার নিখুত হিসেব পাওয়া যায়।

ধরা যাক একটি কল্পিত চিত্র। আপনি জন্ম থেকে উঠতে বসতে শুনছেন হিন্দু ধর্মই একমাত্র পূর্নাংগ জীবন ব্যাবস্থা। এই ধর্ম ছাড়া বাকি সব ধর্মই বাতিল, আপনি চান আর না চান এই ধর্মের নির্দেশ অনুসারে রাষ্ট্র সমাজ সব চালাতে হবে, সাথে রামকৃষ্ম কিংবা বিবেকানন্দ এই জাতীয় কেউ হলেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মহাপুরুষ যার জীবন আদর্শ হল অবশ্য পালনীয় যার সাথে আপোষ নাই। আপনি নিজে সামান্য ঘাঁটাঘাটি করে জানতে পারলেন যে এসব দাবীতে বিরাট ফাঁক আছে। ঘাঁটাঘাটিও আসলে তেমন লাগে না, ৩ হাজার বছর আগের লিখিত বিধিবিধান এই যুগে অচল হবে সেটাই স্বাভাবিক। এখন আপনার কি উচিত হবে? হিন্দু ধর্মাবলম্বী যারা এসব দাবী দাওয়া অষ্ট প্রহর করে তাদের ধর্মানুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে নীরব থাকা? নাকি নিজে যা সত্য বলে জানছেন তা প্রকাশ করা? পরেরটা করে থাকলে আপনাকে ‘উগ্র হিন্দু বিদ্বেষী’ গাল দিলে আপনার নিজ অনুভূতি কেমন হবে? অথেন্টিক সোর্সে রামকৃষ্ণ বা বিবেকানন্দের জীবনীতে আপত্তিকর বা অন্তত সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহাপুরুষ দাবীর সাথে অসামঞ্জ্যপূর্ন কিছু পেলে আপনি কি অপরের ধর্মানুভূতির সম্মানে চেপে যাবেন? ‘হিন্দু ধর্ম মানো না ভাল কথা, তাই বলে হিন্দু অনুভূতিতে আঘাত কর কেন’ জাতীয় মহান বানী শুনলে আপনার অনুভূতি ঠিক কেমন হবে? উদাহরনটা সম্পূর্ন তত্ত্বীয় হলেও এমন পরিস্থিতিতে ধর্মানুভূতি সচেতন শতকরা কতজন মোমিন মুসলমান অপরের ধর্মানুভূতিকে সম্মান জানিয়ে নীরব থাকতে পারবেন তা কি আত্মবিশ্বাসের সাথে কেউ বলতে পারবেন? বাংলাদেশের মিডিয়ায় কেন ইসলাম সম্পর্কিত এত আলোচনা হয় তা কি জলের মত পরিষ্কার নয়?


বাস্তব হল অন্তত মুসলমান প্রধান দেশগুলিতে ইসলাম ধর্মকে অবসেশনের কারনে যে অবাস্থব অবস্থানে রাখা হয়েছে; “একমাত্র পূর্নাংগ জীবন ব্যাবস্থা যার অন্যথা হতে পারে না” এমন দর্শন বহুযুগ থেকে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢোকনো আছে তাতে কোন না কোন পর্যায়ে ধর্ম সমালোচনা বা ‘বিদ্বেষ’ প্রদর্শন ছাড়া কোন উপায় থাকে না। কেন ধর্ম সমালোচনামূলক লেখা, কেন শুধু ইসলাম তার সব জবাব এ যায়গাতেই আছে। কেন শুধু ইসলাম বলে যারা জেরবার হন তারা অভিনয় করেন কিনা ঠিক বুঝি না। যারা ধর্মানুভূতি সম্পর্কে টনটনে জ্ঞান রাখেন তারাও কোন না কোন পর্যায়ে ঠিকই সেই ধর্মানুভূতিতে হয়ত আঘাত ঠিকই দেবেন। খুব অবাক লাগছে? আসলে তেমন অবাক হবার কিছু নেই।

শুরুতেই এ কারনে নাস্তিক শব্দটা বন্ধনির মাঝে রেখেছিলাম। এর কারন হল ইসলাম ধর্ম সমালোচনা আসলে কেবল নাস্তিক বা বিধর্মীরাই করে না। ওপরে উল্লেখ করা মূল কারনের জন্য করেন বা করতে বাধ্য হন খোদ মুসলমান দাবীদার অনেক ব্যাক্তিদেরও, পাঁড় নাস্তিকের সাথে পার্থক্য হয়তবা কেবল মাত্রাগত বা ভাষাগত; অবস্থানগত না। যেমন বাংলা ব্লগে কিছু শান্তিপ্রিয় মুসলমান আছেন যারা হুমায়ুন আহমেদ সম তত্ত্বে ঘোর বিশ্বাসী। তারা অত্যন্ত উদার, তাদের নিজ ইসলাম ধর্ম, এমনকি অন্য কোন ধর্মেও আপত্তিকর কিছু আছে বা থাকতেও পারে সেই সম্ভাবনাও তারা মনে ঠাঁই দেন না। ধর্ম সমালোচনকারীদের তারা ছাগু শ্রেনীর মতই ঘৃনা করে তা সগর্বে ঘোষনা দেন। মজার ব্যাপার হল হেফাজতি উত্থানের সময় নাস্তিককূলের সাথে সাথে তাদেরও বেশ ক’জনের নামে আরো বড় ধর্ম রক্ষক শ্রেনীর তরফ থেকে ‘নাস্তিক’ হিসেবেই জেল ফাঁসীর দাবী এসেছে।

এবার একটু আন্তর্জাতিক পরিসরে যাই, তাহলে সমস্যাটার ব্যাপকতা হয়ত বোঝা যাবে। ধর্মের ভূমিকা আছে কি নেই এই অদ্ভূত আর্গুমেন্ট এখানে বাদ দিয়েও এটা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে যে সমস্ত মুসলমান প্রধান দেশে অন্তত কিছু মাত্রায় বাক স্বাধীনতা আছে সে সব দেশেই ধর্মনিরপেক্ষ ধারা (যাদের সাধারন ভাবে সেক্যুলার বলা যায়) এবং যারা ইসলামী মূল্যবোধে উজ্জীবিত এই দুই ধারা মুখোমুখি অবস্থানে আছে। সমীকরনটা বেশ জটিল হতে পারে এ কারনে যে সেক্যুলার মানেই ধর্মহীন বা নাস্তিক নয়, অন্তত বাংলাদেশে এই ধারায় যারা আছেন তারাও সকলে এক বড় অংশ নিজেদের মুসলমানই দাবী করেন, নানান ধর্মীয় রিচ্যূয়ালও পালন করেন। কিন্তু তারা ইসলাম ধর্মকে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের মত ব্যাক্তিগত বিশ্বাসের গন্ডিতে রাখার পক্ষপাতি, পূর্নাংগ জীবন ব্যাবস্থা হিসেবে দেখতে চান না। ব্যাক্তি বিশেষে কিছুটা ওভারল্যাপ মাঝে মাঝে হলেও দুই গ্রুপের মাঝে মূল্যবোধগত মোটা দাগে পার্থক্য এখানেই আছে। উগ্র নাস্তিক বলে গাল দেওয়া ব্লগের মডারেটগন কিংবা বাস্তব জীবনের জাফর ইকবাল স্যার, মুনতাসীর মামুন, শাহরিয়ার কবির এই শ্রেনীর আরো বহু বুদ্ধিজীবিগন এই কারনেই (ধর্মনিরপেক্ষ ব্যাবস্থার সমর্থক) ইসলাপ্রেমিক পরের গ্রুপের কাছে গালি খান, সময় সময় নাস্তিক বনে যান, হত্যার হুমকিও পান। অত্যন্ত সরল ব্যাপার; ধর্ম ব্যাবসা…আসল ইসলাম জানা না জানা, জামাতি ষড়যন্ত্র এসব মূল ব্যাপার না।


এসব উদাহরন কয়েকটা কারনে দিলাম। এক, অন্তত মুসলমান প্রধান দেশগুলিতে ধর্ম সমালোচনা নিতান্ত ঐচ্ছিক কোন বিষয় নয়। ধর্মকে এসব সমাজে টেনে আনা হয় যত্রতত্র। জাতির পিতা শেখ মুজিব নয় জাতির পিতা ইব্রাহীম বা কিছু আলেম মোল্লার নারী অবমাননাকর বক্তব্য জাতীয় উটকো প্যাঁচাল বাদই দিলাম। আজকের খবরে দেখা যাচ্ছে সরকারী আওয়ামী লীগের অংগ সংগঠন দাবী করে ওলামা লীগ ব্যানারে কিছু আলেম মোল্লা কিসিমের ব্যাক্তি বাল্যবিলাহ বিরোধী আইন বাতিল করার দাবী জানাচ্ছে। আপনি বাংলা নববর্ষ অনুষ্ঠানে বা ২১শে ফেব্রুয়ারীতে প্রভাত ফেরীতে যাচ্ছেন আর তখন কেউ যদি বলে এসব বিদাতী হিন্দুয়ানী অনুষ্ঠানে গেলে গুনাহ হবে তবে ধর্ম এড়িয়ে কতক্ষন বিতর্ক করা সম্ভব? বিশিষ্ট আলেমগন যখন ৭১ সালে যা করেছি ইসলামের নামে করেছি বা কিছু লোকে গাদ্দারি করে পাকিস্তান ভেঙ্গেছে গোছের কথাবার্তা বলে তখন আমার উচিত কি? বছর দুয়েক আগে মুক্তমনায় ধর্মশিক্ষার মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক শিক্ষা নামে একটি সিরিজ শুরু করেছিলাম, সেখানে দেখিয়েছিলাম কিভাবে আমাদের দেশসন নানান দেশে ইসলাম ধর্ম শিক্ষার নামে পরিষ্কার সাম্প্রদায়িকতার বিষ কোমলমতি শিশুদের মনে রোপন করা হচ্ছে। সরকারী সিলেবাসের সেসব বই এ সাম্প্রদায়িকতার সেসব পাঠ হাদীস কোরান কোট করে করা। ধর্ম বাদ দিয়ে এ সম্পর্কিত আলোচনা ঠিক কিভাবে সম্ভব সুশীল ভাইরা কেউ বোঝাবেন? নাকি ধর্মানুভূতি অক্ষুন্ন রাখার স্বার্থে সাম্প্রদায়িক শিক্ষা বিনা বাধায় চলুক আমাদের মেনে নিতে হবে? যারা এসব সহি ইসলাম নয়, ধর্মব্যাবসায়ী, জামাত শিবিরের চক্রান্ত এসব বলে থাকেন তারা কিভাবে বছরের পর নিজের ছেলেমেয়েকে এসব পাঠ দেওয়া মেনে নেন সে প্রশ্ন এখানে বাদই দিলাম। কেউ কি বোঝাতে পারবেন ইসলাম বাদ দিয়ে এসব আলোচনায় কিভাবে অন্য ধর্ম আসবে? এসব কি হিন্দু ধর্ম বা খৃষ্ট ধর্মের নামে হচ্ছে? ধর্ম সম্পর্কিত অপ্রীতিকর প্রসংগ চলে আসলে সে দায় আসলে কার ওপর পড়ে?

ধর্মকে জীবন যাত্রার সাথে জড়িয়ে, নবী মোহাম্মদকে নিয়ে এমন অবসেশনের জগত মুসলমান প্রধান দেশগুলিতে গড়ে তোলা হয়েছে সেখানে নিজ প্রয়োযনেই কোন না কোন সময় খোদ মুসলমানদেরই ধর্মবিদ্বেষী, নবী বিদ্বেষী বনে যেতে হয়। নাস্তিকের সাথে পার্থক্য কেবল ভাষাগত। এ সমস্যা শুরু বাংলাদেশেরই ইউনিক নয়, মোটামুটি আন্তর্জাতিকই বলা যায়।


সম্পূর্ন ভাবে রিলিজিয়াস মোটিভেটেড এসব ঘটনার মাঝে কদর্য ভাষায় নবী রসূল গালিগালাজ, ধর্ম নিয়ে ‘বেহুদা’ খোঁচাখুচির ভূমিকা কই? ফাওদা এসাইলাম প্রত্যাশী ছিলেন মার্কিন নাগরিক ও ছয় ফিগার রোজগার করা অভিজিত যেমন ছিল? আস্তিক নাস্তিকই বা কই? সিম্পল ফ্যাক্ট হল ধর্মীয় জীবন ব্যাবস্থা কায়েমের নামে হাজার বছরের প্রাচীন মূল্যবোধ কায়েমের দাবী করলে এক পর্যায়ে মুসলমানদেরও নিজ স্বার্থেই তার বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে, অবশ্য সকলে শান্তির দিশারী নিজ ধর্মের ভাইদের হাতে খুন হতে চান না সেটাও স্বাভাবিক। সরল সমীকরন হল যতই ইসলাম প্রীতি দেখান ফারাজ ফাওদার পরিনতি আপনারও হতে পারে, সেজন্য ওয়াশিক বাবু, অভিজিত রায় বা হুমায়ুন আজাদের মত ঘোর নাস্তিক হতে হবে না। শরিয়ার সাথে ইসলামের সম্পর্ক নাই, কিংবা আসল শরিয়ায় এটা নাই, অমূক হাদীস জাল, অমুক আয়াতের অমূক ব্যাখ্যা ভুল এসব বায়বীয় ব্যাখ্যার মাধ্যমে পার পাবেন না। আপনার চাইতেও বড় ধর্মপ্রেমিক এসে মেরে যাবে এবং সেটা ধর্মীয় সূত্র যেসব আপনারা পরম শ্রদ্ধাভরে সর্বযুগের আদর্শ বলে মানেন রেফার করে হালাল করবেন আপনাদেরই লালিত পালিত ধর্মগুরুগন।

একই পরিনতি থেকে রেহাই পাননি সে দেশের প্রখ্যাত নোবেল বিজয়ী সাহিত্যক নাগিব মাহফুজের মত ব্যাক্তিত্বও। সে বেচারার অপরাধ ছিল উনি রুশদীর লেখা স্যাটানিক ভার্সেস বইটার সমালোচনা করলেও আয়াতূল্লাহ খোমেনী কর্তৃক সালমান রুশদীর হত্যার ফতোয়ার সমালোচনা করে খোমেনীকে সন্ত্রাসী বলেছিলেন, ইসরায়েলের সাথে শান্তিচুক্তি স্বাগত জানিয়েছিলেন। পুলিশ পাহারায় থাকা অবস্থায় ৮২ বছরের এই বৃদ্ধকেও ঘাড়ে ছুরি মেরে মারাত্মকভাবে আহত করে বাকি জীবনের জন্য লেখার হাত শেষ করে দেওয়া হয়। এই ভদ্রলোকও নাস্তিক, বিধর্মী বা ছূপা নাস্তিক এমন কিছুই ছিলেন না, ছিলেন একজন সাধারন মুসলমান যিনি ধর্মীয় বদ্ধ চিন্তাচেতনার বাইরে নিজের মস্তিষ্ক খাটাতেন, সেটাই আসল অপরাধ। হুমায়ুন আহমেদকে জিজ্ঞাসা করা হলে হয়ত উনি সাফ বলে দিতেন শত কোটি মুসলমানের প্রানপ্রিয় শরিয়া আইনের সমালোচনা করলে কিংবা ঘৃনিত সালমান রুশদির হত্যা ফতোয়ার সমালোচনা করলে মৌলবাদীর দরকার নেই……কিংবা কেন ফাওদা শুধু শরিয়ার সমালোচনা করতেন, কেন বৈদিক সমাজের সমালোচনা করতেন না? কিংবা নাগিব মাহফুজ খালি ইরানের সমালোচনা করলেন, ভারতের সমালোচনা কেন করলেন না এভাবে বহু অর্থহীন কেন দাঁড় করানো যায়।

বাংলাদেশেও দুই গ্রুপের সঙ্ঘাত এই রকম বিপদজনক দিকে মোড় নিতে খুব বেশী বাকি নেই। ২০১৩ সালে বিখ্যাত পিউ রিসার্চের এক জরীপে দেখা যায় যে দেশের ৮২ ভাগ মুসলমান শরিয়া ভিত্তিক আইন ব্যাবস্থা চায়। এতে তেমন অবাক হবার কিছু নেই। শরিয়া আইনে কি কি আছে সে সম্পর্কে ষ্পষ্ট ধারনা থাক বা না থাক এটা কোরান সূন্নাহর ভিত্তিতে গড়ে তোলা আইন ব্যাবস্থা এটাই মুসলমান মানসের জন্য যথেষ্ট। যদিও শরিয়া আইনের নামে অন্যান্য মুসলমান প্রধান দেশে কি কি আইন চলে তার উদাহরন দেওয়া শুরু করলে সেই একই কন্ঠ থেকেই শোনা যাবে এসব আসল ইসলাম নয়। ফাঁকতালে এই বিভ্রান্ত পাবলিক সেন্টিমেন্ট ব্যাবহার করে দিনে দিনে শক্তিশালী হয়ে উঠছে মোল্লাচক্র। যারাই শরিয়া আইনের বিরোধীতা করবেন তারাই হয়ে যাবেন নাস্তিক মুরতাদ, তাদের হত্যা করার ফতোয়া আসবে সহি সূত্র থেকে। আল্লাহ রসূলের আইনের যারা বিরোধীতা করে তাদের হত্যা করে ইসলাম রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব পালনে ব্রতী ঈমান্দার ভাই এর অভাব নিঃসন্দেহে দুনিয়ার বহু যায়গার মত এই বাংলায়ও হবে না। একদল দাবী জানাবে মধ্যযুগের আরব সমাজে প্রচলিত আইন কানুন দাবী জানাতে, আপনার তার প্রতিবাদ করার অধিকার থাকবে না কারন সেটা করতে গেলে ধর্মবিরোধী বক্তব্য দিতেই হবে। হুজুরের নির্দেশ আসবে হত্যা করার, কার্যকরও হয়ে যাবে।

সময়ের সাথে কামাল আতাতূর্কের সেক্যুলার তুরষ্কেও সমসমায়িক বাকি দেশগুলির মতই ইসলাম কায়েম কর রব উঠেছে, ফলাফল যেমন হবার তেমনই চলছে। দুই ধরনের মূল্যবোধের বিভাজন দিনে দিনে বাড়ছে, অনেক সময়ই নন-রিলিজিয়াস বিষয় নিয়েও তিক্ততা সঙ্ঘাত বেঁধে যাচ্ছে। ধর্ম অবামাননার দায়ে মোহাম্মদ বেড়াল মার্কা কারনে সে দেশের লোকজনও সময়ে সময়ে ফেঁসে যাচ্ছেন। মাত্র কিছুদিন আগে ফাজিল সে নামের একজন পিয়ানিষ্টকে কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে টুইটারে ওমর খৈয়ামের বেহেশতের হুরী বিষয়ক কবিতার চরন কোট করা এবং মূয়াজ্জিন ঘটিত এক হাল্কা রসিকতার কারনে। সে দেশের একজন শীর্ষ মানবতাবাদি লেখক, কৌতূক অভিনেতা (শুধু বই লিখে ওনার মত উপার্জন সে দেশে আর কেউ করতে পারেনি, সেসব বই এর কপিরাইট ওনার মানবতাবাদী সংগঠনকে দিয়ে যান) এবং বুদ্ধিজীবি আজিজ নেসিনের ওপর ক্ষিপ্ত হয় দেশের ধর্মপ্রান সরল জনতা (মূলত সুন্নী মুসলমানরা); ওনার অপরাধ উনি সালমান রুশদির বই এর কিছু অংশ অনুবাদ করেছিলেন। সুযোগ একদিন মিলেও যায়। ‘৯৩ সালের ২রা জুলাই তুরষ্কের সিভাস শহরের এক হোটেলে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেবার সময় জুমার নামাজের পর শান্তিপ্রিয় সুন্নী মুসলমানরা (দয়া করে কেন সন্ত্রাসী না বলে ধর্ম পরিচয় টান দিচ্ছি এমন প্রশ্ন কেউ করবেন না) সামান্য উত্তেজিত হয়ে সেই হোটেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আজিজ নেসিন বেঁচে গেলেও পুড়ে মারা যান ৩৫ জন মানুষ যাদের মাঝে ছিলেন সে সময়কার বেশ কিছু শীর্ষ আর্টিষ্ট, পার্ফরমিষ্ট।
কত দেশের উদাহরন আর দেব? সেই একই ট্রেন্ড, ধর্মকে জড়ানোর চেষ্টা করা হয় জীবন ব্যাবস্থা হিসেবে; আবহ তৈরী করা হয় এক অদ্ভূত অনুভূতির আবেশের; সেটার বিরুদ্ধে যেভাবে বা যেইই কথা বলুক সে হয়ে যায় ইসলাম বিদ্বেষী, কাফের, মুরতাদ এমন নানান কিছু। তাদের হত্যা করা করার ফতোয়া আসে দেশের ধর্মীয় নেতাদের তরফ থেকে। এরপর ড্যামেজ রিপেয়ারে এগিয়ে আসেন ‘ইহা আসল ইসলাম নহে’ বলে মডারেট মুসলমানগন। আসল ইসলাম কিনা এই প্রশ্ন যে নিতান্তই অবান্তর কে কাকে বোঝায়। আসল ইসলাম হলেই কি এসব উগ্রতা, নির্বিচার বর্বর হত্যাকান্ড তারা সমর্থন করতেন? হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা এক সময় ধর্মের নামে জ্যান্ত মানুষ পুড়িয়ে মারতেন ইতিহাসে এটাই গুরুত্বপূর্ন অংশ হিসেবে রয়ে গেছে, সেটা সহি হিন্দু সমর্থিত কিনা সে প্রশ্নের গুরুত্ব কতটা বহন করে? এটা অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ন বোঝা যে আসল ইসলাম না হলেও এই ধরনের উগ্রতা, ভয়াবহ অপরাধের মাল মশলা তাদের সমাজে বহু বছর ধরেই জিয়ে আছে, এবং তারা নিজেরাও তাতে সজ্ঞানে বা অজ্ঞানে কন্ট্রিবিউট করে চলেছেন। যেসব লোকজন ধর্মের চাদর গায়ে এসব ফতোয়া দিয়ে বেড়ায় তারা কোন গোপন দলের সদস্য নন, সমাজের উচ্চাসনে বসে থাকা পরম শ্রদ্ধেয় আলেম মোল্লাগন। তারা নেহায়েত মন থেকে বানিয়ে ফতোয়া দেন এমনও নয়, সেসব সূত্র উল্লেখ করে ফতোয়া দেন সেসব সূত্র ‘আসল ইসলাম নহে’ গ্রুপের লোকেরাও পরম শ্রদ্ধা করেন। সম্ভবত সে কারনেই তারা মুখে আসল ইসলাম নহে বললেও ভুল ইসলাম সংশোধনের কোন উদ্যোগ নেন না। বাংলাদেশে আল্লামা শাফি সাহেবের আগেও এই জাতীয় ফতোয়া আরো আলেম ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের লোকজনে দিয়ে এসেছে। আজ পর্যন্ত কেউ শুনেছেন এদের আসল ইসলাম জানা দাবীদাররা বর্জন করেছে? উলটো সমাজ ব্যাবস্থা এদেরই মাথায় করে রাখে। প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত ওনাদের তেলিয়ে চলেন।


আমার এখানে ধর্ম আলোচনার তেমন উদ্দেশ্য বা স্কোপ নেই, সরাসরি প্রাসংগিক হিসেবে শুধু মুরতাদ (ইসলাম ত্যাগকারি) হত্যা বিষয়ক ফতোয়া একটু আলোচনা করতে চাই। নইলে সেই চিরন্তন অনেক আলেম আছে এই ফতোয়া মানে না, অনেক দেশে এমন আইন নেই জাতীয় কথা আসবে। এই ফতোয়ার কথা কোরান থেকে সরাসরি আসে না, আসে সহি হাদীস থেকে। তাই অনেকে একে সহি ইসলাম সমর্থিত নয় বলে থাকেন। তাদের মত যাইই হোক, বর্তমান বিশ্বের অন্তত ২০টিরও বেশী মুসলমান প্রধান দেশের আইনে ইসলাম ধর্মত্যাগকে অপরাধ হিসেবে দেখা হয়, দেশভেদে অপরাধের জন্য মৃত্যুদন্ড থেকে জেল জরিমানা নানান শাস্তি আছে। এছাড়াও আরো কিছু দেশে (যেমন পাকিস্তান) সরাসরি না থাকলেও ব্লাসফেমি আইনের ছাতায় সাজা দেওয়া হয়। শুধু গায়ের জোরেই আইন করা হয়নি, নানান পরিসংখ্যান দেখায় যে সেসব দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ ধর্মত্যাগের (অবশ্যই ইসলাম, অন্য ধর্মত্যাগ করে ইসলাম গ্রহন অবশ্যই সাদরে আমন্ত্রিত এবং ব্যাপকভাবে প্রচারিত) শাস্তি মৃত্যুদন্ড এই ধারনা পোষন করেন। আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ফতোয়া কমিটি ১৯৭৮ সালে মুরতাদ হত্যা করার পক্ষে ফতোয়া দেয়। আমাদের অঞ্চলে লিজেন্ডারি জনপ্রিয় ইসলামি স্কলার জাকির নায়েকও এই ধরনের মতামতই ব্যাক্ত করেন। মালদ্বীপে ২০১০ সালের ওনারই এক অনুষ্ঠান থেকে এক ব্যাক্তিকে সরাসরি ইসলামে অবিশ্বাস প্রকাশ করায় পাকড়াও করে হত্যার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়, উনি অবশ্য আইন অনুযায়ী তিন দিনের মাঝে ভুল বুঝতে পেরে তওবা তাবি করে ইসলামে সকল বিশ্বাস ফেরত পেয়ে প্রানে বেঁচে যান, ইসলামও সে যাত্রা বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রেহাই পায়। আল্লামা শাফির নাস্তিক কতল করার ফতোয়া এই সূত্র থেকেই আসে (……তোমরা মুরতাদ হয়ে গেছ…)। আমার সব সময়ই অবাক লাগে ইসলাম সম্পর্কে কোন এক অজানা কারন বশতঃ বড় বড় আলেম স্কলারগন ভুল বুঝে থাকেন, এবং আরো বিস্ময়করভাবে যারা সেই ভুল আবিষ্কার করেন তারা ইহা আসল ইসলাম নহে মুখে বলা ছাড়া আর তেমন কিছুই করতে পারেন না। ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞানহীন আলেমগন দিব্ব্যী ভুল ইসলাম দেশে দেশে বিনা বাধায় প্রচার করে যেতে পারেন। এটা অলৌকিক মিরাকল ছাড়া সম্ভব নয়। হতেই পারে আল আজহারের মত প্রেষ্টিজিয়াস সুপ্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফতোয়া কমিটি আসল ইসলাম জানেন না, তা আমার বিবেচ্য না।

মুরতাদ ঘটিত ক্যাঁচাল ইসলামের আদিযুগ থেকেই, নবীজির মৃত্যুর পর পর থেকেই মুসলমান সমাজে বিরাজমান আছে। ধর্ম কোন প্রমানিত সত্য নয়, এর নানান ইন্টারপ্রেটেশনে মতভেদ হবেই। বিশেষ করে একে পূর্নাংগ জীবন ব্যাবস্থা হিসেবে চিন্তা করা হলে এর আওতা যা নয় তাও আনতে হবে, ফলে হাজার রকমের মতভেদ অবশ্যই হবে। এক গ্রুপের কাছে আরেক দল তখন হয়ে যায় মুরতাদ, ইসলামের শত্রু। শিয়া সুন্নীর উদাহরন তো মোটামুটি সকলেই জানেন, নবীজির মৃত্যুর পর থেকে শুরু হওয়া এই বিশ্রী আভ্যন্তরীন কোন্দলে কত রক্ত আজ পর্যন্ত ঝরছে কে তার হিসেব রাখে, যদিও কারা আসল মুসলমান এই সমাধান এখনো পাওয়া যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক সময়ের আইসিসের মত ভয়াবহ সংগঠনের জন্মের পেছনেও এই কোন্দলের ব্যাপক ভূমিকা আছে যা সামনে আরেক সিরিজে আলোচনা করবো।

ধর্ম নিয়ে অবসেশনের জগত তৈরী করে সারাক্ষন ইসলামের শত্রু সন্ধান করতে থাকার ফল হিসেবে নিজেদেরই নিজেদের শত্রু বানানোর এই প্রক্রিয়ায় তৈরী হয়েছে এক চির অসহিষ্মুতার সংস্কৃতি; যার প্রকোপে ইসলামী ইতিহাসের প্রারম্ভ থেকেই ফেঁসে গেছেন নিজেদেরও বেশ কিছু বড় বড় আলেম ওলামা। কেউ কেউ এই বিরোধীতার চেষ্টা করলেও তেমন লাভ হয়নি। সেই প্রক্রিয়া চলছে অব্যাহত গতিতেই, নিজেদের ভেতরেই একে তাকে কথায় কথায় নাস্তিক মুরতাদ গাল দেওয়া, এমনকি হত্যার ফতোয়া দেওয়া ডালভাত। এই রকম উন্মাদনা আর কোন কমিউনিটিতে আছে বলা শক্ত। এত জনপ্রিয় যে জাকির নায়েক তার নামেও দেখা যায় কাফির/ইসলামের শত্রু হওয়ার অভিযোগ আছে। ঢাকা শহরে মাওলানা ফারুকীকে হত্যা করেছিল কি নাস্তিক মুরতাদরা? এই সেদিন কলকাতায় মাদ্রাসা শিক্ষক আহত হয়েছেন ইসলাম অবমাননার অজুহাতে। এর আগে ঢাকা শহরেই একজন পীর দাবীদারকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে ৬ জন পারিবারিক সদস্য এবং খাদেম সহ। পীরের আরেক জীবিত পুত্র অভিযোগ করেছিলেন ধর্মীয় আদর্শগত কারনে তাদের ওপর অতীতে বেশ কবার হামলা হয়েছে। এসব এমন কিছু ব্যাপার না, ব্যাপার হল ব্লগের চিপায় কোন নাস্তিক উগ্র ভাষায় দুই লাইন কি লিখেছে তা। কারন তাদের লেখাতেই না মোমিন বান্দারা খেপে এসব ঘটাচ্ছে।

মাত্র গত সেপ্টেম্বর মাসে পাকিস্তানের করাচী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক ষ্টাডিজ বিভাগের ডীন শাকিল আউজ নিহত হয়েছেন ইসলাম সম্পর্কে লিবারেল দৃষ্টিভংগীর কারনে। এর মাত্র এক সপ্তাহ আগে একই বিভাগের আরেক শিক্ষক মাওলানা মাসুদ বেগও নিহত হয়েছিলেন খুনীদের হাতে। শাকিল আউজ নিহত হবার আগে পুলিশের কাছে একই বিভাগের ৪ অধ্যাপকের নামে তাকে হুমকির অভিযোগ করেছিলেন, অভিযোগ তিনি ব্লাসফেমি অপরাধ করেছেন। যথারীতি করাচীরই এক ধর্মীয় সভা থেকে ব্লাসফেমি আইনে তাকে হত্যার ফতোয়া প্রদান করা হয়। সম্ভবত সেটাই পালিত হয়েছে। আমাদের দেশেও ব্লাসফেমি আইন কায়েমের স্বপ্নে ইসলামিষ্টরা তো বটেই, অনেক মডারেটরাও উতসাহিত, কারন এভাবে তারা প্রিয় ধর্মের ইজ্জত রক্ষা করবেন। নাস্তিক মুরতাদদের থোতা মুখ ভোতা হবে। আগুন নিয়ে খেলা করার ফল যে কি হতে পারে তা তাদের মস্তিষ্কে ঢোকানো শক্ত। আমরা ঘৃন্য ধর্মবিদ্বেষীরা কথায় কথায় পাকিস্তানী জুযুর ভয় দেখাই, শান্তির ধর্ম কায়েমে বাধা দেই। এখন আরো চমতকার আবহ তৈরী করা হচ্ছে যে ধর্ম সম্পর্কিত কোন কথাই বলা যাবে না। ব্লাসফেমি আইন কায়েমের দাবী জানানো হবে, আমরা কিছু বলতে পারবো না। সরকারী উদ্যোগে শিক্ষা ব্যাবস্থায় সাম্প্রদায়িকতার পাঠ দেওয়া হবে, জিহাদী হবার শিক্ষা দেওয়া হবে কিন্তু প্রতিবাদ কলমেও করা যাবে না। প্রতিবাদ করলেই আমরা উগ্র নাস্তিক, জংগীবাদ উষ্কানোর জন্য দায়ী। ধর্মের নামে মধ্যযুগের আরবের আইন ব্যাবস্থা যা নিজেরাও কি নিশ্চিত জানেন না তা কায়েমের বিরুদ্ধেও কথা বলা যাবে না কারন সেটা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের অনুভূতিতে আঘাত লাগবে। চুড়ান্ত সর্বনাশ ঘটার পর খালি শোনা যাবে ইহা আসল ইসলাম নহে…।

ঊটপাখী নীতিতে হয়ত ধর্মের মর্যাদা রক্ষা করা যাবে কিন্তু তাতে কি শেষ রক্ষা হবে? সব কূল রক্ষা করে পার পাওয়া যাবে না। ধর্মের নামে সাম্প্রদায়িক অশিক্ষা কুশিক্ষা, অবাস্তব ইউটোপিয়ান জগতের স্বপ্ন দেখানোর ফল কি তা কি আইসিসের মত খুনে বাহিনীর জিহাদী ভাইদের মনোরঞ্জনের জন্য কিশোরী মেয়েদের রাতের বেলা গৃহত্যাগ দেখেও মনে কিছুটা হলেও রেখাপাত করে না? সেটা অবশ্য আমেরিকার দোষ হবে।

আমাদের দেশের টপ আলেম আল্লামা শাফি সাহেবের নাস্তিকদের হত্যা করা ওয়াজিব জাতীয় ফতোয়া কি শুধু আমাদের দেশের ইসলামের সাথে ‘সম্পর্কহীন’ ‘অশিক্ষিত’ গ্রা্ম্য মোল্লাই দেয়? সুপ্রাচীন ঐতিহ্যবাহী আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়কে কি বলা যেতে পারে, ইসলামের সাথে সম্পর্ক বিহীন ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়? ওয়াশিক বাবুর হত্যাকারীদের স্বীকারোক্তির সাথে ফারাজ ফাওদার হত্যাকারীর স্বীকারোক্তি কি মিলে যায় না? যে কারনে ফারাজ ফাওদা খুন হয়েছিলেন সেই একই কারনেই বাংলাদেশসহ আরো বহু মুসলমান প্রধান দেশেই বহু প্রগতিশীল সেক্যুলার ধারার চিন্তাশীলরা হুমকির মুখে থাকেন, অনেকে খুন হয়েও যান। তারা ব্যাক্তিগত বিশ্বাসে মুসলমান না কি তাতে তেমন কিছু যায় আসে না। এই পরিষ্কার ট্রেন্ড অস্বীকার করে খালি অযথা ধর্ম খোঁচাখুচি, অশ্রাব্য ভাষায় নবী বিদ্বেষমূলক লেখাই মূল কারন সন্তাক্তকরন হল মূল সমস্যা এড়িয়ে যাওয়া। বাংলা ব্লগ চালুর বহু আগ থেকেই দেশের প্রগতিশীল ধারার বুদ্ধিজীবিরা নানান সময়ে হুমকি এবং শারীরিক আক্রমনের শিকার হয়েছেন। ফাওদা হত্যা, শাকিল আউজ হত্যা, বা নাগিব মাহফুজকে পংগু করে দেওয়া ঘটনার জন্য দুচারটি স্ক্রীন শট জুড়ে অভিজিত খাসী/মগাচিত এরাই দায়ী এসব বলে ফেসবুকে হয়ত ব্যাপক লাইক পাওয়া যাবে কিন্তু তাতে নিজেদের ক্ষতি করা ছাড়া ভাল কিছু হবে না।


সমস্যার মূল এড়িয়ে ঊটপাখি নীতি অবলম্বন সাময়িক স্বস্থি দিলেও স্থায়ী দূরে থাক কোন দীর্ঘমেয়াদী সমাধানও আনতে পারবে না। আজকের এই উন্মুক্ত তথ্য প্রযুক্তির দিনে একপেশে আইন আদালত বা চাপাতির কোপের ভয় দেখিয়ে যা শুনতে চাই না বা অস্বস্থি বোধ করি তা বেশিদিন চেপে রাখা যাবে না। কারো হাতেই যাদুমন্ত্র নেই যে এটা করতে পারে, এখানে আমি কি চাই না চাই তা অবান্তর। আপনি কম্যুনিজম কেন্দ্রিক জীবন ব্যাবস্থা চালুর দাবী জানাতে থাকবেন আর তার বিপরীত কথা শুনলেই খেপে উঠবেন এটা কি হয়? কার্ল মার্ক্সই শ্রেষ্ঠ মানব প্রচার করবেন এবং তার সমালোচনা শুনলে অনুভূতি আহত হয়েছে বলে চাপাতির কোপ দেবেন এমন কিভাবে সম্ভব? বাস্তব জীবনে আলোচনা করার, লেখালেখির অজস্র বিচিত্র বিষয় আছে; সে সব ছেড়ে মুরতাদের শাস্তি মৃত্যুদন্ড সহি ইসলামী কিনা, বিবি পেটানো ধর্ম সম্মত কিনা বা বাল্যবিবাহ রোধ আইন ইসলাম সম্মত কিনা এসব আলোচনার জন্য সময় দেওয়া আমার কাছেও বড় অপচয় মনে হয়। কিন্তু যে সামাজিক মূল্যবোধের চর্চা বহু শতক ধরে করা হয়েছে তাতে কোন উপায়ও নাই। ইসলাম ধর্ম পূর্নাংগ জীবন ব্যাবস্থা এই দর্শন যতদিন বজায় থাকবে ততদিনই ধর্ম আসবে জীবনের পদে পদে, পালটা যুক্তিও আসবে; আহত হবে অনুভূতি…ঘটবে অর্থীন হানাহানি রক্তপাত; এবং দায় অবশ্যই যারা এসব টেনে আনেন তাদের ওপর যাবে না, যাবে সহজ টার্গেট যারা তাদের ওপর।যেটা ওনারা পরিষ্কার বলেন না (বললে আসলে খুবই ভাল হয়) তা হল ইসলাম যেহেতু সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্ম তাই এই ধর্ম সমালোচনার ঊর্ধ্বে; এই ধর্ম ব্যাবহার করে ভাবে গদ গদ হয়ে এর ফলোয়াররা যত খুশী বানোয়াট, আজগুবি, তত্ত্ব ছড়াবেন; সরাসরি সাম্প্রদায়িকতা ছড়াবেন কিন্তু তার প্রতিবাদে রা কাড়া যাবে না। কারন প্রতিবাদ করতে গেলেই সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মানুভূতি আহত হবে। আপনি খুন হয়ে গেলেও এই উছিলায় সমাজের প্রগতিশীল অংশও আপনারই দোষ ধরবে। নিজের পিঠের চামড়া বাঁচানো বড় কথা, নাস্তিক মুরতাদরা তো আর চাপাতি নিয়ে গলায় কোপ দেবে না, দিলে দিবে নিজ ধর্মের ভাইরাই।

এরপর অবধারিতভাবে আরেকটি প্রশ্ন আসে, কেন শুধু ইসলাম? কই; হিন্দু, বৌদ্ধ খৃষ্ট ধর্ম নিয়ে তো তেমন কিছু এরা লেখে না। কিছু বিদগ্ধ জ্ঞানী ভাই এর কাছে রীতিমত পরিসংখ্যানের বার গ্রাফ পওয়া যায় যাতে মুক্তমনায় অন্য ধর্মের তূলনায় ইসলাম কত বেশী সমালোচনা করা হয়েছে তার নিখুত হিসেব পাওয়া যায়।


ধরা যাক একটি কল্পিত চিত্র। আপনি জন্ম থেকে উঠতে বসতে শুনছেন হিন্দু ধর্মই একমাত্র পূর্নাংগ জীবন ব্যাবস্থা। এই ধর্ম ছাড়া বাকি সব ধর্মই বাতিল, আপনি চান আর না চান এই ধর্মের নির্দেশ অনুসারে রাষ্ট্র সমাজ সব চালাতে হবে, সাথে রামকৃষ্ম কিংবা বিবেকানন্দ এই জাতীয় কেউ হলেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মহাপুরুষ যার জীবন আদর্শ হল অবশ্য পালনীয় যার সাথে আপোষ নাই। আপনি নিজে সামান্য ঘাঁটাঘাটি করে জানতে পারলেন যে এসব দাবীতে বিরাট ফাঁক আছে। ঘাঁটাঘাটিও আসলে তেমন লাগে না, ৩ হাজার বছর আগের লিখিত বিধিবিধান এই যুগে অচল হবে সেটাই স্বাভাবিক। এখন আপনার কি উচিত হবে? হিন্দু ধর্মাবলম্বী যারা এসব দাবী দাওয়া অষ্ট প্রহর করে তাদের ধর্মানুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে নীরব থাকা? নাকি নিজে যা সত্য বলে জানছেন তা প্রকাশ করা? পরেরটা করে থাকলে আপনাকে ‘উগ্র হিন্দু বিদ্বেষী’ গাল দিলে আপনার নিজ অনুভূতি কেমন হবে? অথেন্টিক সোর্সে রামকৃষ্ম বা বিবেকানন্দের জীবনীতে আপত্তিকর বা অন্তত সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহাপুরুষ দাবীর সাথে অসামঞ্জ্যপূর্ন কিছু পেলে আপনি কি অপরের ধর্মানুভূতির সম্মানে চেপে যাবেন? ‘হিন্দু ধর্ম মানো না ভাল কথা, তাই বলে হিন্দু অনুভূতিতে আঘাত কর কেন’ জাতীয় মহান বানী শুনলে আপনার অনুভূতি ঠিক কেমন হবে? উদাহরনটা সম্পূর্ন তত্ত্বীয় হলেও এমন পরিস্থিতিতে ধর্মানুভূতি সচেতন শতকরা কতজন মোমিন মুসলমান অপরের ধর্মানুভূতিকে সম্মান জানিয়ে নীরব থাকতে পারবেন তা কি আত্মবিশ্বাসের সাথে কেউ বলতে পারবেন? বাংলাদেশের মিডিয়ায় কেন ইসলাম সম্পর্কিত এত আলোচনা হয় তা কি জলের মত পরিষ্কার নয়?

বাস্তব হল অন্তত মুসলমান প্রধান দেশগুলিতে ইসলাম ধর্মকে অবসেশনের কারনে যে অবাস্থব অবস্থানে রাখা হয়েছে; “একমাত্র পূর্নাংগ জীবন ব্যাবস্থা যার অন্যথা হতে পারে না” এমন দর্শন বহুযুগ থেকে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢোকনো আছে তাতে কোন না কোন পর্যায়ে ধর্ম সমালোচনা বা ‘বিদ্বেষ’ প্রদর্শন ছাড়া কোন উপায় থাকে না। কেন ধর্ম সমালোচনামূলক লেখা, কেন শুধু ইসলাম তার সব জবাব এ যায়গাতেই আছে। কেন শুধু ইসলাম বলে যারা জেরবার হন তারা অভিনয় করেন কিনা ঠিক বুঝি না। যারা ধর্মানুভূতি সম্পর্কে টনটনে জ্ঞান রাখেন তারাও কোন না কোন পর্যায়ে ঠিকই সেই ধর্মানুভূতিতে হয়ত আঘাত ঠিকই দেবেন। খুব অবাক লাগছে? আসলে তেমন অবাক হবার কিছু নেই।

শুরুতেই এ কারনে নাস্তিক শব্দটা বন্ধনির মাঝে রেখেছিলাম। এর কারন হল ইসলাম ধর্ম সমালোচনা আসলে কেবল নাস্তিক বা বিধর্মীরাই করে না। ওপরে উল্লেখ করা মূল কারনের জন্য করেন বা করতে বাধ্য হন খোদ মুসলমান দাবীদার অনেক ব্যাক্তিদেরও, পাঁড় নাস্তিকের সাথে পার্থক্য হয়তবা কেবল মাত্রাগত বা ভাষাগত; অবস্থানগত না। যেমন বাংলা ব্লগে কিছু শান্তিপ্রিয় মুসলমান আছেন যারা হুমায়ুন আহমেদ সম তত্ত্বে ঘোর বিশ্বাসী। তারা অত্যন্ত উদার, তাদের নিজ ইসলাম ধর্ম, এমনকি অন্য কোন ধর্মেও আপত্তিকর কিছু আছে বা থাকতেও পারে সেই সম্ভাবনাও তারা মনে ঠাঁই দেন না। ধর্ম সমালোচনকারীদের তারা ছাগু শ্রেনীর মতই ঘৃনা করে তা সগর্বে ঘোষনা দেন। মজার ব্যাপার হল হেফাজতি উত্থানের সময় নাস্তিককূলের সাথে সাথে তাদেরও
 ক’জনের নামে আরো বড় ধর্ম রক্ষক শ্রেনীর তরফ থেকে ‘নাস্তিক’ হিসেবেই জেল ফাঁসীর দাবী এসেছে।


এবার একটু আন্তর্জাতিক পরিসরে যাই, তাহলে সমস্যাটার ব্যাপকতা হয়ত বোঝা যাবে। ধর্মের ভূমিকা আছে কি নেই এই অদ্ভূত আর্গুমেন্ট এখানে বাদ দিয়েও এটা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে যে সমস্ত মুসলমান প্রধান দেশে অন্তত কিছু মাত্রায় বাক স্বাধীনতা আছে সে সব দেশেই ধর্মনিরপেক্ষ ধারা (যাদের সাধারন ভাবে সেক্যুলার বলা যায়) এবং যারা ইসলামী মূল্যবোধে উজ্জীবিত এই দুই ধারা মুখোমুখি অবস্থানে আছে। সমীকরনটা বেশ জটিল হতে পারে এ কারনে যে সেক্যুলার মানেই ধর্মহীন বা নাস্তিক নয়, অন্তত বাংলাদেশে এই ধারায় যারা আছেন তারাও সকলে এক বড় অংশ নিজেদের মুসলমানই দাবী করেন, নানান ধর্মীয় রিচ্যূয়ালও পালন করেন। কিন্তু তারা ইসলাম ধর্মকে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের মত ব্যাক্তিগত বিশ্বাসের গন্ডিতে রাখার পক্ষপাতি, পূর্নাংগ জীবন ব্যাবস্থা হিসেবে দেখতে চান না। ব্যাক্তি বিশেষে কিছুটা ওভারল্যাপ মাঝে মাঝে হলেও দুই গ্রুপের মাঝে মূল্যবোধগত মোটা দাগে পার্থক্য এখানেই আছে। উগ্র নাস্তিক বলে গাল দেওয়া ব্লগের মডারেটগন কিংবা বাস্তব জীবনের জাফর ইকবাল স্যার, মুনতাসীর মামুন, শাহরিয়ার কবির এই শ্রেনীর আরো বহু বুদ্ধিজীবিগন এই কারনেই (ধর্মনিরপেক্ষ ব্যাবস্থার সমর্থক) ইসলাপ্রেমিক পরের গ্রুপের কাছে গালি খান, সময় সময় নাস্তিক বনে যান, হত্যার হুমকিও পান। অত্যন্ত সরল ব্যাপার; ধর্ম ব্যাবসা…আসল ইসলাম জানা না জানা, জামাতি ষড়যন্ত্র এসব মূল ব্যাপার না।

এসব উদাহরন কয়েকটা কারনে দিলাম। এক, অন্তত মুসলমান প্রধান দেশগুলিতে ধর্ম সমালোচনা নিতান্ত ঐচ্ছিক কোন বিষয় নয়। ধর্মকে এসব সমাজে টেনে আনা হয় যত্রতত্র। জাতির পিতা শেখ মুজিব নয় জাতির পিতা ইব্রাহীম বা কিছু আলেম মোল্লার নারী অবমাননাকর বক্তব্য জাতীয় উটকো প্যাঁচাল বাদই দিলাম। আজকের খবরে দেখা যাচ্ছে সরকারী আওয়ামী লীগের অংগ সংগঠন দাবী করে ওলামা লীগ ব্যানারে কিছু আলেম মোল্লা কিসিমের ব্যাক্তি বাল্যবিলাহ বিরোধী আইন বাতিল করার দাবী জানাচ্ছে। আপনি বাংলা নববর্ষ অনুষ্ঠানে বা ২১শে ফেব্রুয়ারীতে প্রভাত ফেরীতে যাচ্ছেন আর তখন কেউ যদি বলে এসব বিদাতী হিন্দুয়ানী অনুষ্ঠানে গেলে গুনাহ হবে তবে ধর্ম এড়িয়ে কতক্ষন বিতর্ক করা সম্ভব? বিশিষ্ট আলেমগন যখন ৭১ সালে যা করেছি ইসলামের নামে করেছি বা কিছু লোকে গাদ্দারি করে পাকিস্তান ভেঙ্গেছে গোছের কথাবার্তা বলে তখন আমার উচিত কি? বছর দুয়েক আগে মুক্তমনায় ধর্মশিক্ষার মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক শিক্ষা নামে একটি সিরিজ শুরু করেছিলাম, সেখানে দেখিয়েছিলাম কিভাবে আমাদের দেশসন নানান দেশে ইসলাম ধর্ম শিক্ষার নামে পরিষ্কার সাম্প্রদায়িকতার বিষ কোমলমতি শিশুদের মনে রোপন করা হচ্ছে। সরকারী সিলেবাসের সেসব বই এ সাম্প্রদায়িকতার সেসব পাঠ হাদীস কোরান কোট করে করা। ধর্ম বাদ দিয়ে এ সম্পর্কিত আলোচনা ঠিক কিভাবে সম্ভব সুশীল ভাইরা কেউ বোঝাবেন? নাকি ধর্মানুভূতি অক্ষুন্ন রাখার স্বার্থে সাম্প্রদায়িক শিক্ষা বিনা বাধায় চলুক আমাদের মেনে নিতে হবে? যারা এসব সহি ইসলাম নয়, ধর্মব্যাবসায়ী, জামাত শিবিরের চক্রান্ত এসব বলে থাকেন তারা কিভাবে বছরের পর নিজের ছেলেমেয়েকে এসব পাঠ দেওয়া মেনে নেন সে প্রশ্ন এখানে বাদই দিলাম। কেউ কি বোঝাতে পারবেন ইসলাম বাদ দিয়ে এসব আলোচনায় কিভাবে অন্য ধর্ম আসবে? এসব কি হিন্দু ধর্ম বা খৃষ্ট ধর্মের নামে হচ্ছে? ধর্ম সম্পর্কিত অপ্রীতিকর প্রসংগ চলে আসলে সে দায় আসলে কার ওপর পড়ে?


ধর্মকে জীবন যাত্রার সাথে জড়িয়ে, নবী মোহাম্মদকে নিয়ে এমন অবসেশনের জগত মুসলমান প্রধান দেশগুলিতে গড়ে তোলা হয়েছে সেখানে নিজ প্রয়োযনেই কোন না কোন সময় খোদ মুসলমানদেরই ধর্মবিদ্বেষী, নবী বিদ্বেষী বনে যেতে হয়। নাস্তিকের সাথে পার্থক্য কেবল ভাষাগত। এ সমস্যা শুরু বাংলাদেশেরই ইউনিক নয়, মোটামুটি আন্তর্জাতিকই বলা যায়।

মিশরের দিকে তাকাই। বেশ কিছু নামকরা ইসলামি স্কলার জন্মদানকারী এবং প্রাচীন সভ্যতার ঐতিহ্যবাহী এ দেশটি এক সময় দীর্ঘদিন আমাদের মতই সেক্যুলার এবং ইসলামপন্থী দুই গ্রুপের টানাপোড়েনের মাঝে আছে। আনোয়ার সাদাতের সময় দেশটির অবস্থা কিছুটা আমাদের ৭১-৭৫ সময়ের মত ছিল, ধর্মনিরপক্ষ ব্যাবস্থা মোটামুটি চলেছে, যদিও ধর্মীয় অনুভূতি যাদের প্রবল তারা স্বাভাবিকভাবেই মন থেকে সে ব্যাবস্থা মেনে নেয়নি। আনোয়ার সাদাত হত্যার পর পূনরায় ইসলামিষ্টদের পূনরুত্থান ঘটে, আমাদের ৭৫ পরবর্তি অবস্থার মতই ফলত যা হবার তাইই হতে থাকে। ধর্মীয় ব্যাবস্থা কায়েম কর আবহ তৈরী হতে থাকে, সেক্যুলার বুদ্ধিজীবিরাও বিরোধীতা করেন এবং আমাদের মতই সেখানকার সেক্যুলার বুদ্ধিজীবিগনদের নিরন্তর হত্যার হুমকি মাথায় রাখতে হয়, যদিও নিঃসন্দেহে তারাও বেশীরভাগই মুসলমান। সে দেশে ’৮২ সাল থেকে ৯৩ সালের মাঝে ২০২ জন মানুষকে ইসলামিষ্ট জংগীরা হত্যা করে। অফিশিয়ালী লেখা হয় “politically motivated assaults” যা শুনলে মডারেটগন অত্যন্ত স্বস্থি বোধ করেন, যাক ধর্ম তো রেহাই পেল, আরে ভাই সবই রাজনীতির দোষ। ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যাবহার করা হয়েছে।


ধরা যাক ফারাজ ফাওদার কথা। কৃষি বিষয়ের অধ্যাপক এই ভদ্রলোককে ‘৯২ সালে এক জিহাদী গ্রুপ প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে, মারাত্মক আহত হয় তার ছেলে এবং আরো কিছু পথচারী। কোন গোপন উগ্র সন্ত্রাসী গ্রুপ খুন করে গেলে বলার তেমন কিছু ছিল না, সন্ত্রাসীদের হাতে কত লোকেই তো খুন হয়। সেই খুনের পথ যখন আল আজহারের মত ঐতিহ্যবাহী ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের আলেম ওলামাগন ফতোয়ার মাধ্যমে করে দেন তখন চিন্তিত হতেই হয়, নিছক চোরাগোপ্তা সন্ত্রাসী হামলার বাইরেও অনেক কিছু চিন্তা করার বিষয় আসে। ফারাজ ফাওদা নাস্তিক ছিলেন না। ব্যাক্তিগত জীবনে মুসলমানই ছিলেন, ইসলামের নামে প্রচলিত নানান বিধিবিধানের সমালোচনা করতেন, কোনদিন নবী রসূল গালিগালাজ করেননি; যাকে বলে সংস্কারপন্থী মুসলমান ছিলেন। সর্বোপরি ইসলাম ধর্মকে রাষ্ট্র ব্যাবস্থা থেকে পৃথক রাখার পক্ষে লেখালেখি করতেন, শরিয়া আইনের বিপরীতে ধর্মনিরপেক্ষ ধারার পক্ষে লিখতেন, সেটাই হয়েছিল কাল। আল আজহার বিশ্ববিদ্যালের আলেমগন সে কারনেই তাকে ইসলামের শত্রু আখ্যায়িত করে। ফোদার খুনীরা সেই ফতোয়াই রেফার করে বিবেক বর্জিত হয়ে বীরের মত ঠান্ডা মাথায় তাকে হত্যা করে। সেই বিজ্ঞ আলেমগন তাদের ধর্মীয় ফতোয়ার ব্যাপারে এতই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে আদালতে দাঁড়িয়েও তাদের একজন প্রকাশ্য দিবালোকে ঠান্ডা মাথায় ঘটা হত্যাকান্ডকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে স্বাক্ষ্য দেন। আর কয়টি সভ্য সমাজের আদালতে এমন স্বাক্ষ্য সম্ভব এ মুহুর্তে বলতে পারি না।

The group explicitly referred to the Al-Azhar fatwā when claiming responsibility. An Al-Azhar scholar, Mohammed al-Ghazali, later asserted as a witness before the court that it was not wrong to kill an apostate. Al-Ghazali said: “The killing of Farag Foda was in fact the implementation of the punishment against an apostate which the imam (the Islamic leader in Egypt) has failed to implement.” Eight of the thirteen Islamists brought to trial for the murder were subsequently acquitted.

সম্পূর্ন ভাবে রিলিজিয়াস মোটিভেটেড এসব ঘটনার মাঝে কদর্য ভাষায় নবী রসূল গালিগালাজ, ধর্ম নিয়ে ‘বেহুদা’ খোঁচাখুচির ভূমিকা কই? ফাওদা এসাইলাম প্রত্যাশী ছিলেন মার্কিন নাগরিক ও ছয় ফিগার রোজগার করা অভিজিত যেমন ছিল? আস্তিক নাস্তিকই বা কই? সিম্পল ফ্যাক্ট হল ধর্মীয় জীবন ব্যাবস্থা কায়েমের নামে হাজার বছরের প্রাচীন মূল্যবোধ কায়েমের দাবী করলে এক পর্যায়ে মুসলমানদেরও নিজ স্বার্থেই তার বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে, অবশ্য সকলে শান্তির দিশারী নিজ ধর্মের ভাইদের হাতে খুন হতে চান না সেটাও স্বাভাবিক। সরল সমীকরন হল যতই ইসলাম প্রীতি দেখান ফারাজ ফাওদার পরিনতি আপনারও হতে পারে, সেজন্য ওয়াশিক বাবু, অভিজিত রায় বা হুমায়ুন আজাদের মত ঘোর নাস্তিক হতে হবে না। শরিয়ার সাথে ইসলামের সম্পর্ক নাই, কিংবা আসল শরিয়ায় এটা নাই, অমূক হাদীস জাল, অমুক আয়াতের অমূক ব্যাখ্যা ভুল এসব বায়বীয় ব্যাখ্যার মাধ্যমে পার পাবেন না। আপনার চাইতেও বড় ধর্মপ্রেমিক এসে মেরে যাবে এবং সেটা ধর্মীয় সূত্র যেসব আপনারা পরম শ্রদ্ধাভরে সর্বযুগের আদর্শ বলে মানেন রেফার করে হালাল করবেন আপনাদেরই লালিত পালিত ধর্মগুরুগন।

শুধু তাই নয়, কারাদন্ড শেষ করার পর খালাস প্রাপ্ত এক খুনী রেডিও ইন্টারভিউতে ২০১৩ সালে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে সে এই হত্যাকান্ডের ব্যাপারে মোটেও অনুতপ্ত নয়, উলটো সে ইন্টারভিউকারীর ঈমান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। Abdrabu defended Foda’s murder, stating that “The punishment for an apostate is death, even if he repents” and that “…[if] the ruler does not implement the shari’a, any of the citizens is entitled to carry out Allah’s punishment.” Abdrabu also stated that “Farag Foda is dead, and will receive his just desserts in the Hereafter.” When asked about the feelings of Foda’s children, Abdrabu accused the interviewer of using “venomous methods” against him, and then stated “let me ask you if you were not harmed by someone who cursed the Prophet and his wives? What gives you greater pain and sorrow? If you say that it is Farag Foda, then you should reexamine your faith.”

একই পরিনতি থেকে রেহাই পাননি সে দেশের প্রখ্যাত নোবেল বিজয়ী সাহিত্যক নাগিব মাহফুজের মত ব্যাক্তিত্বও। সে বেচারার অপরাধ ছিল উনি রুশদীর লেখা স্যাটানিক ভার্সেস বইটার সমালোচনা করলেও আয়াতূল্লাহ খোমেনী কর্তৃক সালমান রুশদীর হত্যার ফতোয়ার সমালোচনা করে খোমেনীকে সন্ত্রাসী বলেছিলেন, ইসরায়েলের সাথে শান্তিচুক্তি স্বাগত জানিয়েছিলেন। পুলিশ পাহারায় থাকা অবস্থায় ৮২ বছরের এই বৃদ্ধকেও ঘাড়ে ছুরি মেরে মারাত্মকভাবে আহত করে বাকি জীবনের জন্য লেখার হাত শেষ করে দেওয়া হয়। এই ভদ্রলোকও নাস্তিক, বিধর্মী বা ছূপা নাস্তিক এমন কিছুই ছিলেন না, ছিলেন একজন সাধারন মুসলমান যিনি ধর্মীয় বদ্ধ চিন্তাচেতনার বাইরে নিজের মস্তিষ্ক খাটাতেন, সেটাই আসল অপরাধ। হুমায়ুন আহমেদকে জিজ্ঞাসা করা হলে হয়ত উনি সাফ বলে দিতেন শত কোটি মুসলমানের প্রানপ্রিয় শরিয়া আইনের সমালোচনা করলে কিংবা ঘৃনিত সালমান রুশদির হত্যা ফতোয়ার সমালোচনা করলে মৌলবাদীর দরকার নেই……কিংবা কেন ফাওদা শুধু শরিয়ার সমালোচনা করতেন, কেন বৈদিক সমাজের সমালোচনা করতেন না? কিংবা নাগিব মাহফুজ খালি ইরানের সমালোচনা করলেন, ভারতের সমালোচনা কেন করলেন না এভাবে বহু অর্থহীন কেন দাঁড় করানো যায়।

বাংলাদেশেও দুই গ্রুপের সঙ্ঘাত এই রকম বিপদজনক দিকে মোড় নিতে খুব বেশী বাকি নেই। ২০১৩ সালে বিখ্যাত পিউ রিসার্চের এক জরীপে দেখা যায় যে দেশের ৮২ ভাগ মুসলমান শরিয়া ভিত্তিক আইন ব্যাবস্থা চায়। এতে তেমন অবাক হবার কিছু নেই। শরিয়া আইনে কি কি আছে সে সম্পর্কে ষ্পষ্ট ধারনা থাক বা না থাক এটা কোরান সূন্নাহর ভিত্তিতে গড়ে তোলা আইন ব্যাবস্থা এটাই মুসলমান মানসের জন্য যথেষ্ট। যদিও শরিয়া আইনের নামে অন্যান্য মুসলমান প্রধান দেশে কি কি আইন চলে তার উদাহরন দেওয়া শুরু করলে সেই একই কন্ঠ থেকেই শোনা যাবে এসব আসল ইসলাম নয়। ফাঁকতালে এই বিভ্রান্ত পাবলিক সেন্টিমেন্ট ব্যাবহার করে দিনে দিনে শক্তিশালী হয়ে উঠছে মোল্লাচক্র। যারাই শরিয়া আইনের বিরোধীতা করবেন তারাই হয়ে যাবেন নাস্তিক মুরতাদ, তাদের হত্যা করার ফতোয়া আসবে সহি সূত্র থেকে। আল্লাহ রসূলের আইনের যারা বিরোধীতা করে তাদের হত্যা করে ইসলাম রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব পালনে ব্রতী ঈমান্দার ভাই এর অভাব নিঃসন্দেহে দুনিয়ার বহু যায়গার মত এই বাংলায়ও হবে না। একদল দাবী জানাবে মধ্যযুগের আরব সমাজে প্রচলিত আইন কানুন দাবী জানাতে, আপনার তার প্রতিবাদ করার অধিকার থাকবে না কারন সেটা করতে গেলে ধর্মবিরোধী বক্তব্য দিতেই হবে। হুজুরের নির্দেশ আসবে হত্যা করার, কার্যকরও হয়ে যাবে।

সময়ের সাথে কামাল আতাতূর্কের সেক্যুলার তুরষ্কেও সমসমায়িক বাকি দেশগুলির মতই ইসলাম কায়েম কর রব উঠেছে, ফলাফল যেমন হবার তেমনই চলছে। দুই ধরনের মূল্যবোধের বিভাজন দিনে দিনে বাড়ছে, অনেক সময়ই নন-রিলিজিয়াস বিষয় নিয়েও তিক্ততা সঙ্ঘাত বেঁধে যাচ্ছে। ধর্ম অবামাননার দায়ে মোহাম্মদ বেড়াল মার্কা কারনে সে দেশের লোকজনও সময়ে সময়ে ফেঁসে যাচ্ছেন। মাত্র কিছুদিন আগে ফাজিল সে নামের একজন পিয়ানিষ্টকে কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে টুইটারে ওমর খৈয়ামের বেহেশতের হুরী বিষয়ক কবিতার চরন কোট করা এবং মূয়াজ্জিন ঘটিত এক হাল্কা রসিকতার কারনে। সে দেশের একজন শীর্ষ মানবতাবাদি লেখক, কৌতূক অভিনেতা (শুধু বই লিখে ওনার মত উপার্জন সে দেশে আর কেউ করতে পারেনি, সেসব বই এর কপিরাইট ওনার মানবতাবাদী সংগঠনকে দিয়ে যান) এবং বুদ্ধিজীবি আজিজ নেসিনের ওপর ক্ষিপ্ত হয় দেশের ধর্মপ্রান সরল জনতা (মূলত সুন্নী মুসলমানরা); ওনার অপরাধ উনি সালমান রুশদির বই এর কিছু অংশ অনুবাদ করেছিলেন। সুযোগ একদিন মিলেও যায়। ‘৯৩ সালের ২রা জুলাই তুরষ্কের সিভাস শহরের এক হোটেলে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেবার সময় জুমার নামাজের পর শান্তিপ্রিয় সুন্নী মুসলমানরা (দয়া করে কেন সন্ত্রাসী না বলে ধর্ম পরিচয় টান দিচ্ছি এমন প্রশ্ন কেউ করবেন না) সামান্য উত্তেজিত হয়ে সেই হোটেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আজিজ নেসিন বেঁচে গেলেও পুড়ে মারা যান ৩৫ জন মানুষ যাদের মাঝে ছিলেন সে সময়কার বেশ কিছু শীর্ষ আর্টিষ্ট, পার্ফরমিষ্ট। এই ঘটনা তুরষ্কের ইতিহাসে Sivas massacre নামে পরিচিত। আজিজ নেসিন অবশ্য নাস্তিক ছিলেন, আরো বামপনন্থী। আশা করি এতেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, এই তো পাওয়া গেছে সেই উগ্র নাস্তিক ব্যাটাই দায়ী, তায় আবার চীনাবাদাম। কেন সে রুশদির বই অনুবাদ শুরু করতে গেল…… এই ঘটনা তুরষ্কের চলমান সেক্যুলার বনাম ইসলামিষ্ট ধারার বিভাজন স্বাভাবিকভাবেই আরো বাড়ায়। ততকালীন সরকার এই ঘটনার বিচারে কঠোর হলেও সেন্সরশীপ আরোপ করে। যদিও অনেকের মতে সেদিনকার হামলা শুধু আজিজ নেসিনকে টার্গেট করেই করা হয়নি। করা হয়েছিল সমগ্র সেক্যুলার ধারার বিরুদ্ধেই ক্ষোভের কারনেই। বিচারে ১২৪ জনের বিরুদ্ধে আনা হয়েছিল “overthrowing the secular constitutional order.” চার্জ।


কত দেশের উদাহরন আর দেব? সেই একই ট্রেন্ড, ধর্মকে জড়ানোর চেষ্টা করা হয় জীবন ব্যাবস্থা হিসেবে; আবহ তৈরী করা হয় এক অদ্ভূত অনুভূতির আবেশের; সেটার বিরুদ্ধে যেভাবে বা যেইই কথা বলুক সে হয়ে যায় ইসলাম বিদ্বেষী, কাফের, মুরতাদ এমন নানান কিছু। তাদের হত্যা করা করার ফতোয়া আসে দেশের ধর্মীয় নেতাদের তরফ থেকে। এরপর ড্যামেজ রিপেয়ারে এগিয়ে আসেন ‘ইহা আসল ইসলাম নহে’ বলে মডারেট মুসলমানগন। আসল ইসলাম কিনা এই প্রশ্ন যে নিতান্তই অবান্তর কে কাকে বোঝায়। আসল ইসলাম হলেই কি এসব উগ্রতা, নির্বিচার বর্বর হত্যাকান্ড তারা সমর্থন করতেন? হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা এক সময় ধর্মের নামে জ্যান্ত মানুষ পুড়িয়ে মারতেন ইতিহাসে এটাই গুরুত্বপূর্ন অংশ হিসেবে রয়ে গেছে, সেটা সহি হিন্দু সমর্থিত কিনা সে প্রশ্নের গুরুত্ব কতটা বহন করে? এটা অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ন বোঝা যে আসল ইসলাম না হলেও এই ধরনের উগ্রতা, ভয়াবহ অপরাধের মাল মশলা তাদের সমাজে বহু বছর ধরেই জিয়ে আছে, এবং তারা নিজেরাও তাতে সজ্ঞানে বা অজ্ঞানে কন্ট্রিবিউট করে চলেছেন। যেসব লোকজন ধর্মের চাদর গায়ে এসব ফতোয়া দিয়ে বেড়ায় তারা কোন গোপন দলের সদস্য নন, সমাজের উচ্চাসনে বসে থাকা পরম শ্রদ্ধেয় আলেম মোল্লাগন। তারা নেহায়েত মন থেকে বানিয়ে ফতোয়া দেন এমনও নয়, সেসব সূত্র উল্লেখ করে ফতোয়া দেন সেসব সূত্র ‘আসল ইসলাম নহে’ গ্রুপের লোকেরাও পরম শ্রদ্ধা করেন। সম্ভবত সে কারনেই তারা মুখে আসল ইসলাম নহে বললেও ভুল ইসলাম সংশোধনের কোন উদ্যোগ নেন না। বাংলাদেশে আল্লামা শাফি সাহেবের আগেও এই জাতীয় ফতোয়া আরো আলেম ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের লোকজনে দিয়ে এসেছে। আজ পর্যন্ত কেউ শুনেছেন এদের আসল ইসলাম জানা দাবীদাররা বর্জন করেছে? উলটো সমাজ ব্যাবস্থা এদেরই মাথায় করে রাখে। প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত ওনাদের তেলিয়ে চলেন।

আমার এখানে ধর্ম আলোচনার তেমন উদ্দেশ্য বা স্কোপ নেই, সরাসরি প্রাসংগিক হিসেবে শুধু মুরতাদ (ইসলাম ত্যাগকারি) হত্যা বিষয়ক ফতোয়া একটু আলোচনা করতে চাই। নইলে সেই চিরন্তন অনেক আলেম আছে এই ফতোয়া মানে না, অনেক দেশে এমন আইন নেই জাতীয় কথা আসবে। এই ফতোয়ার কথা কোরান থেকে সরাসরি আসে না, আসে সহি হাদীস থেকে। তাই অনেকে একে সহি ইসলাম সমর্থিত নয় বলে থাকেন। তাদের মত যাইই হোক, বর্তমান বিশ্বের অন্তত ২০টিরও বেশী মুসলমান প্রধান দেশের আইনে ইসলাম ধর্মত্যাগকে অপরাধ হিসেবে দেখা হয়, দেশভেদে অপরাধের জন্য মৃত্যুদন্ড থেকে জেল জরিমানা নানান শাস্তি আছে। এছাড়াও আরো কিছু দেশে (যেমন পাকিস্তান) সরাসরি না থাকলেও ব্লাসফেমি আইনের ছাতায় সাজা দেওয়া হয়। শুধু গায়ের জোরেই আইন করা হয়নি, নানান পরিসংখ্যান দেখায় যে সেসব দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ ধর্মত্যাগের (অবশ্যই ইসলাম, অন্য ধর্মত্যাগ করে ইসলাম গ্রহন অবশ্যই সাদরে আমন্ত্রিত এবং ব্যাপকভাবে প্রচারিত) শাস্তি মৃত্যুদন্ড এই ধারনা পোষন করেন। আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ফতোয়া কমিটি ১৯৭৮ সালে মুরতাদ হত্যা করার পক্ষে ফতোয়া দেয়। আমাদের অঞ্চলে লিজেন্ডারি জনপ্রিয় ইসলামি স্কলার জাকির নায়েকও এই ধরনের মতামতই ব্যাক্ত করেন। মালদ্বীপে ২০১০ সালের ওনারই এক অনুষ্ঠান থেকে এক ব্যাক্তিকে সরাসরি ইসলামে অবিশ্বাস প্রকাশ করায় পাকড়াও করে হত্যার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়, উনি অবশ্য আইন অনুযায়ী তিন দিনের মাঝে ভুল বুঝতে পেরে তওবা তাবি করে ইসলামে সকল বিশ্বাস ফেরত পেয়ে প্রানে বেঁচে যান, ইসলামও সে যাত্রা বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রেহাই পায়। আল্লামা শাফির নাস্তিক কতল করার ফতোয়া এই সূত্র থেকেই আসে (……তোমরা মুরতাদ হয়ে গেছ…)। আমার সব সময়ই অবাক লাগে ইসলাম সম্পর্কে কোন এক অজানা কারন বশতঃ বড় বড় আলেম স্কলারগন ভুল বুঝে থাকেন, এবং আরো বিস্ময়করভাবে যারা সেই ভুল আবিষ্কার করেন তারা ইহা আসল ইসলাম নহে মুখে বলা ছাড়া আর তেমন কিছুই করতে পারেন না। ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞানহীন আলেমগন দিব্ব্যী ভুল ইসলাম দেশে দেশে বিনা বাধায় প্রচার করে যেতে পারেন। এটা অলৌকিক মিরাকল ছাড়া সম্ভব নয়। হতেই পারে আল আজহারের মত প্রেষ্টিজিয়াস সুপ্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফতোয়া কমিটি আসল ইসলাম জানেন না, তা আমার বিবেচ্য না।

মুরতাদ ঘটিত ক্যাঁচাল ইসলামের আদিযুগ থেকেই, নবীজির মৃত্যুর পর পর থেকেই মুসলমান সমাজে বিরাজমান আছে। ধর্ম কোন প্রমানিত সত্য নয়, এর নানান ইন্টারপ্রেটেশনে মতভেদ হবেই। বিশেষ করে একে পূর্নাংগ জীবন ব্যাবস্থা হিসেবে চিন্তা করা হলে এর আওতা যা নয় তাও আনতে হবে, ফলে হাজার রকমের মতভেদ অবশ্যই হবে। এক গ্রুপের কাছে আরেক দল তখন হয়ে যায় মুরতাদ, ইসলামের শত্রু। শিয়া সুন্নীর উদাহরন তো মোটামুটি সকলেই জানেন, নবীজির মৃত্যুর পর থেকে শুরু হওয়া এই বিশ্রী আভ্যন্তরীন কোন্দলে কত রক্ত আজ পর্যন্ত ঝরছে কে তার হিসেব রাখে, যদিও কারা আসল মুসলমান এই সমাধান এখনো পাওয়া যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক সময়ের আইসিসের মত ভয়াবহ সংগঠনের জন্মের পেছনেও এই কোন্দলের ব্যাপক ভূমিকা আছে যা সামনে আরেক সিরিজে আলোচনা করবো।

ধর্ম নিয়ে অবসেশনের জগত তৈরী করে সারাক্ষন ইসলামের শত্রু সন্ধান করতে থাকার ফল হিসেবে নিজেদেরই নিজেদের শত্রু বানানোর এই প্রক্রিয়ায় তৈরী হয়েছে এক চির অসহিষ্মুতার সংস্কৃতি; যার প্রকোপে ইসলামী ইতিহাসের প্রারম্ভ থেকেই ফেঁসে গেছেন নিজেদেরও বেশ কিছু বড় বড় আলেম ওলামা। কেউ কেউ এই বিরোধীতার চেষ্টা করলেও তেমন লাভ হয়নি। সেই প্রক্রিয়া চলছে অব্যাহত গতিতেই, নিজেদের ভেতরেই একে তাকে কথায় কথায় নাস্তিক মুরতাদ গাল দেওয়া, এমনকি হত্যার ফতোয়া দেওয়া ডালভাত। এই রকম উন্মাদনা আর কোন কমিউনিটিতে আছে বলা শক্ত। এত জনপ্রিয় যে জাকির নায়েক তার নামেও দেখা যায় কাফির/ইসলামের শত্রু হওয়ার অভিযোগ আছে। ঢাকা শহরে মাওলানা ফারুকীকে হত্যা করেছিল কি নাস্তিক মুরতাদরা? এই সেদিন কলকাতায় মাদ্রাসা শিক্ষক আহত হয়েছেন ইসলাম অবমাননার অজুহাতে। এর আগে ঢাকা শহরেই একজন পীর দাবীদারকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে ৬ জন পারিবারিক সদস্য এবং খাদেম সহ। পীরের আরেক জীবিত পুত্র অভিযোগ করেছিলেন ধর্মীয় আদর্শগত কারনে তাদের ওপর অতীতে বেশ কবার হামলা হয়েছে। এসব এমন কিছু ব্যাপার না, ব্যাপার হল ব্লগের চিপায় কোন নাস্তিক উগ্র ভাষায় দুই লাইন কি লিখেছে তা। কারন তাদের লেখাতেই না মোমিন বান্দারা খেপে এসব ঘটাচ্ছে।

মাত্র গত সেপ্টেম্বর মাসে পাকিস্তানের করাচী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক ষ্টাডিজ বিভাগের ডীন শাকিল আউজ নিহত হয়েছেন ইসলাম সম্পর্কে লিবারেল দৃষ্টিভংগীর কারনে। এর মাত্র এক সপ্তাহ আগে একই বিভাগের আরেক শিক্ষক মাওলানা মাসুদ বেগও নিহত হয়েছিলেন খুনীদের হাতে। শাকিল আউজ নিহত হবার আগে পুলিশের কাছে একই বিভাগের ৪ অধ্যাপকের নামে তাকে হুমকির অভিযোগ করেছিলেন, অভিযোগ তিনি ব্লাসফেমি অপরাধ করেছেন। যথারীতি করাচীরই এক ধর্মীয় সভা থেকে ব্লাসফেমি আইনে তাকে হত্যার ফতোয়া প্রদান করা হয়। সম্ভবত সেটাই পালিত হয়েছে। আমাদের দেশেও ব্লাসফেমি আইন কায়েমের স্বপ্নে ইসলামিষ্টরা তো বটেই, অনেক মডারেটরাও উতসাহিত, কারন এভাবে তারা প্রিয় ধর্মের ইজ্জত রক্ষা করবেন। নাস্তিক মুরতাদদের থোতা মুখ ভোতা হবে। আগুন নিয়ে খেলা করার ফল যে কি হতে পারে তা তাদের মস্তিষ্কে ঢোকানো শক্ত। আমরা ঘৃন্য ধর্মবিদ্বেষীরা কথায় কথায় পাকিস্তানী জুযুর ভয় দেখাই, শান্তির ধর্ম কায়েমে বাধা দেই। এখন আরো চমতকার আবহ তৈরী করা হচ্ছে যে ধর্ম সম্পর্কিত কোন কথাই বলা যাবে না। ব্লাসফেমি আইন কায়েমের দাবী জানানো হবে, আমরা কিছু বলতে পারবো না। সরকারী উদ্যোগে শিক্ষা ব্যাবস্থায় সাম্প্রদায়িকতার পাঠ দেওয়া হবে, জিহাদী হবার শিক্ষা দেওয়া হবে কিন্তু প্রতিবাদ কলমেও করা যাবে না। প্রতিবাদ করলেই আমরা উগ্র নাস্তিক, জংগীবাদ উষ্কানোর জন্য দায়ী।ধর্মের নামে মধ্যযুগের আরবের আইন ব্যাবস্থা যা নিজেরাও কি নিশ্চিত জানেন না তা কায়েমের বিরুদ্ধেও কথা বলা যাবে না কারন সেটা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের অনুভূতিতে আঘাত লাগবে। চুড়ান্ত সর্বনাশ ঘটার পর খালি শোনা যাবে ইহা আসল ইসলাম নহে…।

ঊটপাখী নীতিতে হয়ত ধর্মের মর্যাদা রক্ষা করা যাবে কিন্তু তাতে কি শেষ রক্ষা হবে? সব কূল রক্ষা করে পার পাওয়া যাবে না। ধর্মের নামে সাম্প্রদায়িক অশিক্ষা কুশিক্ষা, অবাস্তব ইউটোপিয়ান জগতের স্বপ্ন দেখানোর ফল কি তা কি আইসিসের মত খুনে বাহিনীর জিহাদী ভাইদের মনোরঞ্জনের জন্য কিশোরী মেয়েদের রাতের বেলা গৃহত্যাগ দেখেও মনে কিছুটা হলেও রেখাপাত করে না? সেটা অবশ্য আমেরিকার দোষ হবে।

আমাদের দেশের টপ আলেম আল্লামা শাফি সাহেবের নাস্তিকদের হত্যা করা ওয়াজিব জাতীয় ফতোয়া কি শুধু আমাদের দেশের ইসলামের সাথে ‘সম্পর্কহীন’ ‘অশিক্ষিত’ গ্রা্ম্য মোল্লাই দেয়? সুপ্রাচীন ঐতিহ্যবাহী আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়কে কি বলা যেতে পারে, ইসলামের সাথে সম্পর্ক বিহীন ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়? ওয়াশিক বাবুর হত্যাকারীদের স্বীকারোক্তির সাথে ফারাজ ফাওদার হত্যাকারীর স্বীকারোক্তি কি মিলে যায় না? যে কারনে ফারাজ ফাওদা খুন হয়েছিলেন সেই একই কারনেই বাংলাদেশসহ আরো বহু মুসলমান প্রধান দেশেই বহু প্রগতিশীল সেক্যুলার ধারার চিন্তাশীলরা হুমকির মুখে থাকেন, অনেকে খুন হয়েও যান। তারা ব্যাক্তিগত বিশ্বাসে মুসলমান না কি তাতে তেমন কিছু যায় আসে না। এই পরিষ্কার ট্রেন্ড অস্বীকার করে খালি অযথা ধর্ম খোঁচাখুচি, অশ্রাব্য ভাষায় নবী বিদ্বেষমূলক লেখাই মূল কারন সন্তাক্তকরন হল মূল সমস্যা এড়িয়ে যাওয়া। বাংলা ব্লগ চালুর বহু আগ থেকেই দেশের প্রগতিশীল ধারার বুদ্ধিজীবিরা নানান সময়ে হুমকি এবং শারীরিক আক্রমনের শিকার হয়েছেন। ফাওদা হত্যা, শাকিল আউজ হত্যা, বা নাগিব মাহফুজকে পংগু করে দেওয়া ঘটনার জন্য দুচারটি স্ক্রীন শট জুড়ে অভিজিত খাসী/মগাচিত এরাই দায়ী এসব বলে ফেসবুকে হয়ত ব্যাপক লাইক পাওয়া যাবে কিন্তু তাতে নিজেদের ক্ষতি করা ছাড়া ভাল কিছু হবে না।

সমস্যার মূল এড়িয়ে ঊটপাখি নীতি অবলম্বন সাময়িক স্বস্থি দিলেও স্থায়ী দূরে থাক কোন দীর্ঘমেয়াদী সমাধানও আনতে পারবে না। আজকের এই উন্মুক্ত তথ্য প্রযুক্তির দিনে একপেশে আইন আদালত বা চাপাতির কোপের ভয় দেখিয়ে যা শুনতে চাই না বা অস্বস্থি বোধ করি তা বেশিদিন চেপে রাখা যাবে না। কারো হাতেই যাদুমন্ত্র নেই যে এটা করতে পারে, এখানে আমি কি চাই না চাই তা অবান্তর। আপনি কম্যুনিজম কেন্দ্রিক জীবন ব্যাবস্থা চালুর দাবী জানাতে থাকবেন আর তার বিপরীত কথা শুনলেই খেপে উঠবেন এটা কি হয়? কার্ল মার্ক্সই শ্রেষ্ঠ মানব প্রচার করবেন এবং তার সমালোচনা শুনলে অনুভূতি আহত হয়েছে বলে চাপাতির কোপ দেবেন এমন কিভাবে সম্ভব? বাস্তব জীবনে আলোচনা করার, লেখালেখির অজস্র বিচিত্র বিষয় আছে; সে সব ছেড়ে মুরতাদের শাস্তি মৃত্যুদন্ড সহি ইসলামী কিনা, বিবি পেটানো ধর্ম সম্মত কিনা বা বাল্যবিবাহ রোধ আইন ইসলাম সম্মত কিনা এসব আলোচনার জন্য সময় দেওয়া আমার কাছেও বড় অপচয় মনে হয়। কিন্তু যে সামাজিক মূল্যবোধের চর্চা বহু শতক ধরে করা হয়েছে তাতে কোন উপায়ও নাই। ইসলাম ধর্ম পূর্নাংগ জীবন ব্যাবস্থা এই দর্শন যতদিন বজায় থাকবে ততদিনই ধর্ম আসবে জীবনের পদে পদে, পালটা যুক্তিও আসবে; আহত হবে অনুভূতি…ঘটবে অর্থীন হানাহানি রক্তপাত; এবং দায় অবশ্যই যারা এসব টেনে আনেন তাদের ওপর যাবে না, যাবে সহজ টার্গেট যারা তাদের ওপর।












Wednesday, October 7, 2015

ভীন গ্রহে যদি সত্যিই প্রাণের অস্তিত্ত্ব পাওয়া যায়, তাহলে ধর্মের পরিণতি কী হবে?


বিজ্ঞানীদের প্রত্যাশামত মঙ্গলগ্রহে (অথবা অন্য কোন গ্রহে) যদি সত্যি সত্যি প্রাণের অস্তিত্ব পাওয়া যায়- তখন কি হবে? প্রধান বিশ্বধর্মগুলো (অর্থ্যাৎ ইসলাম, খ্রিষ্ট, ইহুদী) কি বাতিল বলে গণ্য হবে? সৃষ্টিতত্ত্ব সম্পর্কে ধর্মের ব্যাখ্যা কি গ্রহণযোগ্যতা হারাবে ? নাস্তিকতার প্রসারে এটা কতটুকু কাজে দেবে?

সত্যি বলতে কী, ভীনগ্রহে প্রাণের অস্তিত্ত্ব পাওয়া গেলে সেটা সেমেটিক ধর্মগুলোর সাথে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক হবে না। এর মাধ্যমে ধর্মকে অসার প্রমান করা যাবে না, কিন্তু ডারউইনের বিবর্তনবাদ নতুন করে একটা ভিত্তি পাবে। সৃষ্টিতত্ত্ব সম্পর্কে ডারউইন যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন- সেটার স্বপক্ষে একটা জোরালো যুক্তি পেয়ে যাবে বিবর্তনে বিশ্বাসী নাস্তিকরা। আদম-হাওয়া তত্ত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করার নতুন উপলক্ষ্য পাওয়া যাবে। কেননা সৃষ্টিকর্তার হস্তক্ষেপ ছাড়াই আপনা-আপনি প্রাণের সৃষ্টি সম্ভব- নাস্তিকদের এই দাবী পাবে নতুন মাত্রা।

যদিও কুরআন-হাদীসের কোথাও এমনটি দাবী করা হয়নি যে, পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথাও প্রাণী থাকতে পারবে না। কিন্তু ইসলাম ও অন্য সেমেটিক ধর্মগুলো আদম-হাওয়ার যে সৃষ্টিতত্ত্বের কথা বলে, সেই হিসেবে ভীনগ্রহে প্রাণের অস্তিত্ত্ব থাকার কথা নয়। কেননা পৃথিবীতে যে লক্ষ লক্ষ প্রজাতির প্রাণী রয়েছে তা মানুবজাতির প্রয়োজনে সৃষ্টি করা হয়েছে, কোন না কোনভাবে তারা মানুষের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ ও প্রকৃতি গঠনে অবদান রাখছে। ধর্মগুলোর মতে, মানুষকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে পৃথিবীর যাবতীয় প্রাণীকূল। এখন যদি দেখা যায় অন্য কোন গ্রহেও প্রাণী আছে (!), তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে- ঐ প্রাণীকে কার প্রয়োজনে সৃষ্টি করা হয়েছে? যে গ্রহে মানুষই নাই সেখানে অন্য কোন প্রাণী সৃষ্টি করার কোন যৌক্তিকতা থাকতে পারে না। আর যেহেতু সৃষ্টিকর্তা যথাযথ কারন ব্যতিরেকে কিছুই করেন না, তাই এই প্রাণ সৃষ্টির পেছনে কোন ভূমিকা থাকতে পারে না। এই প্রাণ অবশ্যই আপনা-আপনিই সৃষ্টি হয়েছে। আর ভীনগ্রহের এই প্রতিকূল পরিবেশে যদি এভাবে আপনাআপনি প্রাণের সৃষ্টি হতে পারে তাহলে পৃথিবীতে কেন নয়?

সেক্ষেত্রে ধর্মের প্রতি সংশয়বাদীদের অবিশ্বাস  আরো বাড়বে এবং নতুন করে আরো অসংখ্য মানুষ নাস্তিকতা গ্রহণ করবে।
তবে এতকিছুর পরও যারা ধর্ম ও বিজ্ঞান দু'টোকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে এবং নিজেদের চিন্তাশক্তিকে কাজে লাগাবে, তারা ঠিকই সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ত্ব প্রমানকারী হাজারো নিদর্শন প্রকৃতির মধ্য থেকেই খুজে বের করে নিতে সক্ষম হবে।

পর্নোগ্রাফির দিকে একটা মানুষের ঝুঁকে যাওয়ার কারণ কি ?


★★★
১) পর্নোগ্রাফির এভেইলএবল যোগান,
২) মানুষের অনৈতিক বস্তুর বিরুদ্ধে নৈতিক রেজিসটেন্স কমে যাওয়া,
৩) আসক্ত হওয়ার পর, নির্দ্দিষ্ট সময় পর পর পর্নোগ্রাফির চাহিদা দেহে অনুভব করা।
★প্রথম কারণটির দিকে তাকান,
পর্নোগ্রাফির এভেইলএবল যোগান। মানে যখন খুশি তখন পর্নোগ্রাফি পাচ্ছেন। সেটা পিসিতে হোক, কিংবা মোবাইলে হোক। এই এভেইলএবল যোগানটা আগে বন্ধ করে দিতে হবে। এখন আপনি বলতে পারেন, তাহলে কি পিসি/মোবাইল/ইন্টারনেট ইউজ বন্ধ করে দিবো ? না আমি সেটা বলছি না। এভেইলএবল’ যোগানটা বন্ধ অর্থ হচ্ছে আপনার দ্বারা ঐ অনৈতিক কাজটি হয়ত প্রকাশ্যে হচ্ছে না, একটু আড়ালে হচ্ছে। ঐ আড়ালটি শুধু সরিয়ে দিন। পিসি/ মোবাইল ইউজটা প্রকাশ্যে জনসম্মুখে নিয়ে আসুন। দেখবেন, ইচ্ছা-অনিচ্ছায় পর্নেোগ্রাফীর দিকে কম ঝুকতে হচ্ছে।
★দ্বিতীয় কারণটির দিকে খেয়াল করুন,
‘নৈতিক রেজিসটেন্স কমে যাওয়া’। এটা একটা বড় জিনিস। আজকাল সবাই কিন্তু নীতি কথা বলে, ভালো কাজ করলে স্যালুট দেয়। কিন্তু ভালো কাজের সাথে ধর্মকে জড়াতে চায় না। বলে “ভালো কাজ আলাদা, ধর্ম বস্তুটাও আলাদা, দুটো পৃথক”। মানে ভালো কাজ করার জন্য ধর্মকে টেনে আনার দরকার নেই। অথচ সমাজে নৈতিকতার মূল ভিত্তি হচ্ছে ‘ধর্ম’। ধর্ম আপনাকে এত শক্ত নৈতিকতার ভিত্তির উপর দাড় করাতে পারে, যেটা দিয়ে আপনি বহু অনৈতিকতার বাধা একবারে টপকে যেতে পারেন। একটা মা যখন ছোট বেলায় তার সন্তানকে শেখায় “অমুক কাজটি কিন্তু আমাদের ধর্মে নিষেধ, সেটা কখনও করো না”, ঐ সন্তানটি কিন্তু কখণই তার মা’র ঐ ধর্মীয় উপদেশটা ফেলতে পারে না। যেহেতু বর্তমানে সমাজে ধর্ম ও নৈতিকতাকে পৃথক করে ফেলা হয়েছে, তাই সেখানে পর্নোগ্রাফীর মত অনৈতিক বিষয়গুলো ভাইরাসের মত বিস্তার করে চলেছে। অর্থাৎ সমাজ থেকে পর্নোগ্রাফিসহ সকল অনৈতিক বস্তু দূর করার জন্য প্রয়োজন ব্যাপক ধর্মীয় নৈতিকতা চর্চা করা, ছোট বেলা থেকেই ধর্মীয় উপদেশ দান করা এবং ধর্মের দিক থেকে তার খারাপ ফলাফলগুলো বর্ননা করা।
★তৃতীয় কারণটা লক্ষ্য করুন,
‘পর্নোগ্রাফির চাহিদা দেহে অনুভব করা’। একজন মানুষ পর্নোগ্রাফি দেখার পর তার ব্রেনে পর্নোগ্রাফির চাহিদা নেশাদ্রব্যের মত অনুভব করছে। এটা থেকে বেচা উঠার উপায় কি ? এখানে বিষয় জানা জরুরী, মানুষের শরীরে জৈবিক চাহিদাটা কিন্তু সৃষ্টিগত। এটা বৈধ ব্যবহারটিকে আমরা খারাপ বলছি না, খারাপ বলছি তার অনৈতিক ব্যবহারকে। আপনারা জানেন, মানুষের মৌলিক চাহিদা ৫টি (খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা), কিন্তু ইসলামীক নিয়মে (যেহেতু বাংলাদেশ একটি মুসলিম কান্ট্রি তাই বলছি) মৌলিক চাহিদা হচ্ছে ৬টি। ঐ ৫টি চাহিদার পরে আরেকটি চাহিদার নাম হচ্ছে ‘বিয়ে’। ইসলামী শাসন ব্যবস্থা জারি হলে, শাসন ব্যবস্থার তরফ থেকে ৫টি বিষয় ছাড়াও বিয়ের বিষয়টিও নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
সত্যিই বলতে একটা মানুষ তার প্রথম ৫টি মৌলিক চাহিদার জন্য যেমন বয়স বাধার সম্মুক্ষিন হয় না, তাহলে ৬ষ্ঠ মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে কেনো তাকে বয়স বাধার সম্মুখিন হতে হবে ? যার সামর্থ্য হবে সেই বিয়ে করবে। আজকাল বাবা-মা ছেলে মেয়ের সকল চাহিদা পূরণ করে দেয়। একের জনের পেছনে মাসে ১০-২০ হাজার টাকা খরচ করে। তবে বাবা-মা’র যদি সামর্থ্য থাকে ছেলেমেয়েকে বিয়ে দেওয়ার এবং ছেলে মেয়ের যদি চাহিদা বেশি থাকে তবে সেই চাহিদা পূরণ করে দিতে হবে। আজ থেকে ২০-৩০ বছর আগে এমনই ঘটতো। এখানে যেটা গুরুত্বপূর্ণ, সমাজের নব্য দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন করতে হবে, ‘৩০ বছর না হলে ছেলেরা বিয়ে করতে পারবে না, ২৫ বছর না হলে মেয়েরা বিয়ে করতে পারবে না’ সমাজ থেকে এই নব্য দৃষ্টিভঙ্গীটা তুলে দিতে হবে, যার যখন প্রয়োজন তখনই বিয়ে করতে পারবে, এটাই চালু করতে হবে।
এখন দেখা যাচ্ছে, রাষ্ট্র বিয়ের জন্য বষয় নির্ধারণ করে দিচ্ছে। কেন ? খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থান-শিক্ষা-চিকিৎসার জন্য যদি বষয় না থাকে তবে বিয়ের জন্য বয়ষ থাকবে কেন ? এটা সবাই জানে, আজকাল বিয়ে না করলেও ছেলেটি ঠিকই তার গার্লফ্রেন্ডের সাথে, পতিতালয়ে গিয়ে কিংবা পর্নোগ্রাফি দেখে জৈবিক চাহিদা পূরণের চেষ্টা চালাচ্ছে। মেয়েদের ক্ষেত্রেও একই বিষয় দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি এমন, সমাজ বৈধ বস্তুর অনুমতি দিচ্ছে না, কিন্তু অবৈধ বস্তুর স্বাদ আশ্বাদনের ক্ষেত্রে চোখ বন্ধ করে রয়েছে। দেখেও না দেখার ভান করছে। যে মেয়েটার ১৩ বছর বয়সে শারীরিক চাহিদা তৈরী হচ্ছে তাকে ২৫ বছর পর্যন্ত আটকে রাখছে। যে ছেলেটার ১৫ বছর বয়সে শারীরিক চাহিদা তৈরী হচ্ছে তাকে ৩৫ বছর পর্যন্ত আটকে রাখছে। মানুষকে যখন বৈধভাবে খেতে না দিবেন, তখন তো চুরি করে খাবেই। অর্থাৎ পর্নোগ্রাফির ভয়াবহ ছোবল থেকে সমাজকে রক্ষার জন্য ‘বিয়ে’ নামক বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মন-মানসিকতা ও আইন পরিবর্তন করাও জরুরী।
এ ব্যাপারে আরো আলোচনা করার ইচ্ছা আছে। আশাকরি পাশে থাকবেন।
সবাইকে ধন্যবাদ।

সাম্প্রতিক সময়ে সমাজের অন্যতম বড় সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে বিবাহ বিচ্ছেদ বা ডিভোর্স।


বিশেষ করে, যুবক সম্প্রদায়, যারা সদ্য বিয়ে করছে তাদের মধ্যে এই ডিভোর্সের হারটা যেন ভয়াবহ রকম বেশি। দেখা যাচ্ছে, ৫ বছর প্রেম করে বিয়ে করছে, কিন্তু ১ বছর সংসার করে বিয়ে ভেঙ্গে যাচ্ছে। কিংবা বিয়ের এক বছর পর বউ আগের বিএফ’র সাথে সম্পর্ক করতে আগ্রহী হয়ে উঠছে। সংসারে ঘটছে ঝামেলা, শেষ পরিণতি ডিভোর্স। অথবা বিয়ের পর জামাই-বউ বনিবনা হচ্ছে না, অথচ দু’জনেই ডিজুজ কোয়ালিটির। ফলে হয়ে যাচ্ছে ডিভোর্স।
ডিভোর্স নামক শব্দটির সৃষ্টি কিন্তু ‘অবিশ্বাস’ নামক আরেকটা শব্দ থেকে। আগের প্রজন্মগুলোতে বিবাহ বিচ্ছেদ যত দেখা গিয়েছে, এখন তার থেকে কয়েকগুনহারে বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ার মূল কারণ- বর্তমান তরুণ প্রজন্ম একজন আরেকজনকে বিশ্বাস করতে পারছে না। ছেলেরা শিক্ষা জীবনে দেখছে অধিকাংশ মেয়ের বয়ফ্রেন্ড আছে, অনেকের আছে অবৈধ সম্পর্ক। আমার মেয়েরাও দেখছে পুরুষরা অনেক মেয়ের সাথে বন্ধুত্বের নাম দিয়ে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তুলছে। এই প্রভাবটা থাকছে বিয়ের পরেও। স্বামী ভাবছে তার স্ত্রীর নিশ্চয়ই অনেকগুলো বিএফ ছিলো এবং এখনও সম্পর্ক আছে। আবার স্ত্রী ভাবছে তার স্বামীর নিশ্চয়ই অনেকগুলো জিএফ ছিলো এবং এখনও তাদের সাথে সম্পর্ক জিয়িয়ে রেখেছে। ঘটনা সত্যও হতে পারে, আবার কল্পনাও হতে পারে। কিন্তু অবিশ্বাস নিয়ে তো আর সংসার করা যায় না, তাই আলটিমেট রেজাল্ট ডিভোর্স। উল্লেখ্য, আমাদের আগের প্রজন্মের মধ্যেও কিন্তু বন্ধু-বান্ধবী মানে সিস্টেম ছিলো। কিন্তু এখন জিএফ-বিএফ’র নতুন অর্থ গজিয়েছে, অনেকটা মৌমাছির ঘুরে ঘুরে মধু খাওয়ার মত। এর প্রভাবটা আপনি পাচ্ছেন, বিয়ের পর, মানে ডিভোর্স।
সত্যিই বলতে, সমাজ কিন্তু পরিবেশ এরই একটা অংশ। পরিবেশ যেমন তার ভারসাম্য রক্ষা করে চলে, একটা উপাদান নষ্ট হলে, আরেকটা উপাদানে প্রভাব পড়ে। ঠিক তেমনি সমাজও একই রকম। সমাজও ভারসাম্য রক্ষা করে চলে। আপনি সমাজে এক স্থানে বাধা দেবেন, তার প্রভাব গিয়ে পড়বে অন্য স্থানে।
আজকাল সমাজ এমন হয়ে দাড়িয়েছে, ছেলে-মেয়েরা মাঝ বয়সী না হলে তাদের বিয়ে দিতে চায় না। একটা মেয়ের শারীরিক চাহিদা হচ্ছে ১৩ বছর বয়সে, তাকে আটকে রাখা হচ্ছে ২৬ বছর পর্যন্ত। আজকাল অনেক ছেলের মুখেই তাই শোনা যায়- “আচ্ছা আমার বউটা ভার্জিন পাবো তো ? ”। নারীদের ক্ষেত্রেও নিশ্চয়ই তার বিপরীত ঘটছে। পুরুষের শারীরিক চাহিদা হচ্ছে ১৫ বছর বয়সে। তাকে আটকে রাখা হচ্ছে ৩০-৩২ বছর বয়স পর্যন্ত। ক্লাস সিক্সের ছেলেরা ঝুকে যাচ্ছে পর্নোগ্রাফীর দিকে, বাকি যৌবনের পথ তো পরেই আছে। ব্যাপারটা এমন হয়ে দাড়িয়েছে, বর্তমান সমাজ আমাদের অনৈতিকতার সাইলেন্ট অনুমোদন দিয়েছে, কিন্তু নৈতিক বিয়ের প্রকাশ্য অনুমোদন দেয়নি। আপনি পর্নোগ্রাফি দেখেন, জিএফ-বিএফ ডেট করেন, নো প্রব, সমস্যা শুধু বৈধ বিয়ে নিয়ে।
আমি বলবো, তরুণ সমাজকে এ বাধন ভাঙ্গতে হবে। বিয়ের কোন বয়স রাখা যাবে না, যার যখন প্রয়োজন তখনই সে বৈধ বিয়ে করবে। আমাদের পূর্ব পুরুষদের মধ্যে এ কালচারটা ছিলো বলেই আমাদের বাবা-মা’র সংসার টিকেছিলো, ডিভোর্স হয়নি। আমরা যদি সেই কালচার ফিরিয়ে না আনতে পারি, তবে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম কিন্তু কখনই তার বাবা-মাকে একত্র দেখতে পারবে না, কখনই না।

Tuesday, October 6, 2015

ব্লোগার ব্লোগে পপুলার পোস্ট গ্যাজেট যুক্ত করার পদ্ধতি


ব্লোগার ব্লোগে পপুলার পোস্ট গ্যাজেট যুক্ত করার পদ্ধতি(way to add popular post widget in blogger blog)
ব্লোগার ব্লোগে পপুলার পোস্ট গ্যাজেট এর গুরুত্ব অনেক।(Popular post widget is important for blogger blog.)ভিজিটর যখন আপনার ব্লোগে
আসবে তখন হয়ত তার জানতে ইচ্ছে হবে যে, এ ব্লোগে সবচাইতে জনপ্রিয় পোস্ট কোনগুলি?যদি আপনি তাকে এই জানার সুযোগ না দেন তাহলে কেমন হবে!আর তাছাড়া যেগুলো আপনার ব্লোগে সর্বাধিক পঠিত

সেগুলো হলেও হতে পারে সার্চ রেজাল্টের প্রথম পাতায় আছে,তাই যদি আপনি একটু গুরুত্ব দেন ভিজিটরের সামনে আপনার ব্লোগের জনপ্রিয় পোস্টগুলির তালিকা সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেন তাহলে সেই পোস্টগুলি বেশী বেশী পঠিত হবে,পোস্টগুলির গুগলের সার্চ রেজাল্টের প্রথম পাতায় স্থান দখলের একটা ভাল সুযোগ তৈরি হবে।
সাধারনত আমরা Free template বা থিম ব্যবহার করে থাকি তাই সেই থিম বা টেমপ্লেট এ ভাল স্টাইলিস Popular post widget থাকে না।এজন্য আমাদেরকে একটু পরিশ্রম করে Edit করে সেটা তৈরি করে নিতে হয়।আপনার যদি HTML এ সামান্য জ্ঞান থাকে অর্থাৎ প্রাথমিক বিষয়গুলো জানেন তাহলে আপনিও এ কাজটি করতে পারবেন।
তাহলে চলুন দেখে নেয়া যাক কিভাবে ব্লোগার ব্লোগে একটা সুন্দর এবং স্টাইলিস পপুলার পোস্ট গ্যাজেট যুক্ত করা যায়।

প্রথম কাজঃ
প্রথমে আপনার ব্লোগার একাউন্টে লগিন করে নির্দিষ্ট ব্লোগের ড্যাশবোর্ড এ যান।
এবার লেআউটে/layout গিয়ে যে স্থানে আপনি ভিজিটরকে এটি দেখাতে চান সেখান থেকে একটি গ্যাজেট যুক্ত/add widget বাটনে ক্লিক করুন।
এবার যে পৃষ্ঠাটি আসবে সেখান থেকে Popular post/জনপ্রিয় পোস্ট গ্যাজেটে  প্লাস বাটন চিহ্নতে ক্লিক করুন।
এবারে কনফিগার ঠিক করে নিয়ে Save বা সংরক্ষন করুন।

দ্বিতীয় কাজ:
প্রথমে আপনার ড্যাশবোর্ড থেকে টেমপ্লেট সেকশনে ক্লিক করে এডিট HTML বা Html সম্পাদনা বাটনে  ক্লিক করুন।
এবার নিচের কোডটি খুৃজে বের করুন।


এখন নিচের কোডগুলি উপরের ওই ছোট কোডটির পূর্বে বসিয়ে টেমপ্লেট সংরক্ষন করুন বা save template বাটনে ক্লিক করুন।

কোডগুলি উপরের ওই ছোট কোডটির পূর্বে বসিয়ে টেমপ্লেট সংরক্ষন করুন বা save template বাটনে ক্লিক করুন।
.PopularPosts .widget-content ul li{padding:0;position:relative}
.item-snippet {
font-size: 90%;
line-height: 1.2em;
position: absolute;
width: 230px;
background-color: whiteSmoke;
padding: 7px;
border-top: 2px solid #FF0202;
z-index: 2;
left: 300px;
top: 60%;
height: 4.5em!important;
visibility: hidden;
opacity: 0;
transition: all 0.6s cubic-bezier(1,2,0,0) 0s;
-moz-transition: all 0.6s cubic-bezier(1,2,0,0) 0s;
-webkit-transition: all 0.6s cubic-bezier(1,2,0,0) 0s;
-o-transition: all 0.6s cubic-bezier(1,2,0,0) 0s;}
.PopularPosts .widget-content ul li:hover .item-snippet{left:60px;opacity:1;visibility:visible}
.PopularPosts img{width:50px;height:50px}
.PopularPosts .item-title{font-family:'Open Sans Condensed',"Arial Narrow",Arial,sans-serif;font-size:125%}

ব্যাস কাজ শেষ।দেখুনতো কেমন হলো আপনার  Popular post widget.
বুঝতে সমস্যা হলে মন্তব্য করুন।
ধন্যবাদ

যে ১৩ লোকদের কে আল্লাহ পছন্দ করে না।


শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা) এর উম্মত হওয়া সত্ত্বেও কিয়ামতের মাঠে ১৩ ধরণের মুসলমানের উপর মহান আল্লাহ তায়ালার সুদৃষ্টি কখনোই পড়বে না। অর্থ্যাৎ ওই ১৩ ধরণের ব্যক্তি যতই আমল করুক না কেন আল্লাহ তায়ালার কাছে তাদের সেই আমলের কোনই মূল্য নেই। যে ১৩ ধরণের ব্যক্তির উপর আল্লাহ তায়ালার সুদৃষ্টি পড়বে না তারা হলেন-
১। যারা আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার ও শপথকে সামান্য বিনিময়ে বিক্রয় করেঃ আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ “নিশ্চয় যারা আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে, এরা আখেরাতের কোন অংশই পাবে না এবং আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না, তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না, বস্তুতঃ তাদের জন্য আছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” [আল্ ইমরান/৭৭] এই আয়াতে মিথ্যা কসম করা হারাম এর প্রমাণ রয়েছে, যা মানুষ সামান্য পর্থিব লাভের জন্যে করে থাকে। উলামাগণ এই কসম কে আল্ ইয়ামীন আল্ গামূস বা ডুবানোর কসম আখ্যা দিয়েছেন কারণ; তা এই কসমকারীকে পাপে ডুবায় অতঃপর জাহান্নামে। [আল্লাহই আশ্রয়দাতা]
২। গিঁটের (টাখনুর) নিচে বস্ত্র পরিধানকারী।
৩। মিথ্যা কসম দিয়ে পণ্য বিক্রয়কারী।
৪। কারো উপকার করে তাকে উপকারের খোটা দাতা।
গিঁটের নিচে ঝুলিয়ে কাপড় পরিধানকারী হচ্ছে, সেই ব্যক্তি যে তার লুঙ্গি ও কাপড় এত ঝুলিয়ে পরে যে তার দুই গিঁটের নিচে চলে যায়। যদি সে অহংকার স্বরূপ এমন করে, তাহলে তার জন্য উপরোক্ত শাস্তির ঘোষণা কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ “আল্লাহ তার দিকে তাকাবেন না যে, তার লুঙ্গি অহংকার স্বরূপ ঝুলিয়ে পরে”। [বুখারী, নং৫৭৮৩/ মুসলিম] আর যে অহংকার স্বরূপ নয় বরং এমনি ঝুলিয়ে পরে, তাহলে তার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এই বাণী প্রযোজ্যঃ “লুঙ্গির যতটা গিঁটের নিচে থাকবে, ততটা জাহান্নামে যাবে”। [বুখারী,নং৫৭৮৭ ]
পর্দার উদ্দেশ্যে মহিলাদের এক গজ ঝুলিয়ে পরা বৈধ কিন্তু এর বেশী করবে না।
আর মিথ্যা শপথ করে সামগ্রী বিক্রয়কারী হচ্ছে, এমন ব্যক্তি যে মহান আল্লাহকে তুচ্ছকারী। তাই সে (আল্লাহার কসম দিয়ে) মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে লোকদের নিকট পণ্য বিক্রি করে।
আর খোটাদাতা হচ্ছে, যে দান করার পর খোটা দেয়।
৫। যে মুসাফিরকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি থেকে বাধা দেয়।
৬। যে পার্থিব লাভের আশায় কোন মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধানের হাতে বায়আত (অঙ্গীকার) করে।
আবু হুরাইরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তিন প্রকারের লোকের সাথে মহান আল্লাহ কিয়ামত দিবসে কথা বলবেন না, না তাদের দিকে তাকাবেন আর না তাদের পবিত্র করবেন; বরং তাদের জন্য রয়েছে শক্ত আযাব। ঐ ব্যক্তি যার নিকট র্নিজন প্রান্তরে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি থাকা সত্ত্বেও মুসাফিরকে তা ব্যবহার করা থেকে নিষেধ করে। আল্লাহ তাকে বলবেনঃ আজ আমি তোমাকে আমার অতিরিক্ত (রহমত) থেকে বঞ্ছিত করবো, যেমন তুমি তোমার বিনা পরিশ্রমে অর্জিত অতিরিক্ত পানি থেকে বঞ্ছিত কেরেছ এবং সেই ব্যক্তি যে আসরের পর কোন ব্যক্তিকে তার সামগ্রী বিক্রয় করে। আল্লাহর কসম খেয়ে বলে আমি এটা এই এই দামে ক্রয় করেছি। ক্রেতা তার কথা সত্য মনে করে তার কাছ থেকে পণ্য খরিদ করে অথচ সে সত্য নয়। আর সেই ব্যক্তি যে কোন মুসলিম ইমামের (রাষ্ট্রপরিচালকের) হাতে কেবল পার্থিব উদ্দেশ্যেই বাইআত (অঙ্গীকার) করলো; সে যা চায় যদি তাকে তা দেওয়া হয় তো অঙ্গীকার পূরণ করে, আর না দিলে ভঙ্গ করে। [বুখারী, নং ৭২১২/ মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, নং২৯৭]
৭। বৃদ্ধ ব্যভিচারী।
৮। মিথ্যুক বাদশাহ।
৯। অহংকারী দরিদ্র।
আবু হুরাইরা (রা) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ “আল্লাহ তাআ’লা কেয়ামত দিবসে তিন শ্রেণীর লোকের সাথে কথা বলবেন না, আর না তাদের পবিত্র করবেন, না তাদের দিকে রহমতের দৃষ্টি দিবেন, তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তিঃ বৃদ্ধ যেনাকারী, মিথ্যুক রাজা এবং অহংকারী দরিদ্র”। [মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, নং২৯৬]
১০। পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান।
১১। নারী হয়ে পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বণকারীনি।
১২। দাইযূস।
আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলঅইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ “ তিন প্রকার লোকের দিকে আল্লাহ তাআ’লা কিয়ামতের দিনে দৃষ্টিপাত করবেন নাঃ পিতা-মাতার অবাধ্য, পুরুষের সদৃশ অবলম্বনকারীনি মহিলা এবং দাইয়ূস। আর তিন প্রকার লোক জান্নাতে যাবে নাঃ পিতা-মাতার অবাধ্য, মদ পানে আসক্ত এবং অনুদানের পর খোটাদাতা” [মুসনাদ আহমদ, নং ৬১১/নাসাঈ]
পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তানের বিষয়টি স্পষ্ট, কারণ আল্লাহ তাআ’লা পিতা-মাতার অধিকারকে মর্যাদা দিয়েছেন, তিনি নিজ অধিকারকে তাদের অধিকারের সাথে সংযুক্ত করেছেন এবং তাদের উভয়ের সাথে সদ্ব্যবহার করার আদেশ করেছেন; যদিও তারা কাফের হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ “ পিতা-মাতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং তাদের অসন্তুষ্টিতে আল্লাহর অসন্তুষ্টি”। [তিরমিযী, নং ১৯৬২, আলবানী সহীহ বলেছেন]
পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বণকারীনি বলতে সেই মহিলাকে বুঝায় যে, পোষাক-পরিধানে, চাল-চলনে, কাজে-কর্মে এবং কথার শুরে পুরূষের অনুকরণ করে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহিলাদের সাদৃশ্য অবলম্বণকারী পুরূষ এবং পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বণকারীনি মহিলাদের প্রতি অভিষাপ করেছেন”। [বুখারী]
১৩। যে তার স্ত্রীর পায়ুপথে সঙ্গম করেঃ
ইবনে আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “আল্লাহ তাআ’লা সেই ব্যক্তির দিকে দৃষ্টিপাত করবেন না যে, পুরুষের সাথে সঙ্গম করে কিংবা স্ত্রীর পায়ুপথে সঙ্গম করে”। [তিরিমিযী, নং১১৭৬।

মহাকাশ বিজ্ঞানীরা আরো একটি পৃথিবীর সন্ধান পেয়েছেন।

এটি আরেকটি পৃথিবীর মতোই বলে দাবি করেছেন তারা।
বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে প্রায় আড়াই মিলিয়ন গ্যালাক্সি রয়েছে। এর মধ্যে আমাদের সৌরমণ্ডল এবং পৃথিবী গ্রহ যে গ্যালাক্সিতে অবস্থিত, তার নাম অ্যান্ড্রোমিডা। এই গ্যালাক্সিতে আবার লক্ষ-কোটি তারকা (নক্ষত্র) রয়েছে। এই সব তারকাকে ঘিরে রয়েছে সৌরমণ্ডল।
এ রকমই একটি সৌরমণ্ডলে পৃথিবীর মতো আরেকটি গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। তারা ধারণা করছেন, এই গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে।
আমাদের গ্রহ পৃথিবী থেকে এই গ্রহটির দূরত্ব ৫০০ আলোকবর্ষ মাইল।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ বিজ্ঞান সংস্থা নাসা এই নতুন গ্রহটির অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছে। নাসার কেপলার স্পেস টেলিস্কোপ মাস কয়েক আগে এই গ্রহের সন্ধান পায়। গ্রহটির নাম দেওয়া হয়েছে, কেপলার-১৮৬এফ। এটি মহাকাশের সিগনাস কন্সটেলেশন এলাকায় অবস্থিত।
গ্রহটি যে এলাকায় অবস্থিত, সেটি ‘গোল্ডিলকস জোন’ নামেও মহাকাশ বিজ্ঞানীদের কাছে পরিচিত।
গ্রহটি আবিষ্কারের পর মহাকাশ বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, গ্রহটির বায়ুমণ্ডলে যে চাপ রয়েছে, তাতে করে সেখানকার পৃষ্ঠতলে তরল পানি থাকার খুবই সম্ভবনা।
তবে এই পৃথিবীর (মূলত গ্রহ) আকার আমরা যে পৃথিবীতে বাস করছি, তার থেকে ৪০ বিলিয়ন গুণ বড়। এটি আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতেই নিজের অক্ষে ঘুরছে।
নাসা জানাচ্ছে, অন্য সৌরমণ্ডল এলাকায় এই প্রথম সম্ভাব্য বাসযোগ একটি গ্রহের সন্ধান পাওয়া গেল।
সংস্থাটি জানাচ্ছে, কেপলার-১৮৬এফ গ্রহ যে অক্ষের ওপর মহাকাশে ঘুরছে, তার কাছাকাছি আরো চারটি গ্রহ একটি নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। যদি সেই নক্ষত্রটি আমাদের সূর্যের মতো হয়, তাহলে বলা যেতে পারে, এই গ্রহে প্রাণের সন্ধান পাওয়াও যেতে পারে।
এ বিষয়ে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের মোফেট ফিল্ডে অবস্থিত নাসার অ্যামিস রিসার্চ সেন্টারের বিজ্ঞানী এলিসা কুইটানা বলেন, আমরা জানি, বর্তমানে মাত্র একটি গ্রহেই প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে। সেটি হচ্ছে- পৃথিবী।
তিনি বলেন, আমরা যখন আমাদের সৌরজগতের বাইরে প্রাণের সন্ধান করি, তখন আমাদের পরিচিত এই পৃথিবীর মতো অবস্থাকেই খুঁজে দেখি।
তিনি একটি বিজ্ঞান সাময়িকীতে এ বিষয়ে গবেষণা প্রবন্ধ লিখেছেন, যার শিরোনাম- ‘ফাইন্ডি এ হ্যাবিটেবল জোন প্ল্যানেট কম্প্যায়ারবল টু আর্থ ইন সাইজ ইন এ মেজর স্টেপ ফরওয়ার্ড’।
এলিসা কুইটানা বলেন, কেপলার-১৮৬এফ গ্রহের কাছাকাছি যে সৌরমণ্ডলের খোঁজ পেয়েছি, তা আমাদের সূর্যের ভর ও আকৃতির অর্ধেক। আমাদের সূর্যের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ শক্তি এই সৌরমণ্ডল থেকে নির্গত হয়।
কেপলার-১৮৬এফ ১৩০ দিনে নিজের অক্ষের চারদিক প্রদক্ষিণ করে বলে মহাকাশ বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন।


সত্যিকারের ভদ্র মেয়েদের কিছু বৈশিষ্ট্য।।


ভদ্র মেয়েরা হচ্ছে সমাজের সৌন্দর্য। এমন অনেক পুরুষ আছেন যারা ভদ্র মেয়ে বিয়ে করবেন এই ভেবে বিয়েই করছেন না, অথচ বিয়ের বয়স যাচ্ছে পেরিয়ে।
আসুন কিছু কমন বৈশিষ্ট্য দেখে চিনে নেই সত্যিকারের ভদ্র মেয়েঃ-
১) এরা সাধারণত ধর্মীক নামাজী ও সৎ চরিত্রের অধিকারী হয়ে থাকে।
২) ভদ্র মেয়েরা তাদের পোশাক নিয়ে খুব সচেতন থাকে। এমন কিছু পরে না যাতে করে বাহিরের কেউ চোখ তুলে তাকাতে সাহস করে। অনেকে হিজাব পরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।
৩) এরা সাধারণত অযথা পরপুরুষ বা অচেনা ছেলেদের সাথে আলাপচারিতা ও মেলামেশা পছন্দ করে না।
৪) ভদ্র মেয়েরা প্রেমের ব্যাপার নিয়ে খুব সিরিয়াস থাকে। তারা সচারচর প্রেমে জড়াতে চায় না, কিন্তু যদি কারো সাথে প্রেমে জড়িয়ে যায়, তাহলে মন প্রাণ দিয়ে চেষ্টা করে তা টিকিয়ে রাখতে।
৫) ভদ্র মেয়েদের রাগ একটু বেশি। যার উপর রেগে যায় তাকে মুখের উপর সব বলে দেয়। মনে কোনও রকম রাগ, হিংসে, অহংকার লুকিয়ে রাখে না। এরা অযথা কার সাথে ঝগড়া করে না।
৭) ভদ্র মেয়েরা সাধারণত ফেসবুকে ছবি আপলোড দেয় না। যদি দেয় তাহলে প্রাইভেসি দিয়ে রাখে। ফেসবুকে কতিপয় লুলু পুরুষ থেকে তারা ১০০ হাত দূরে থাকে।
৮) ভদ্র মেয়েদের বন্ধু/বান্ধবের সংখ্যা খুব সীমিত থাকে। তবে এরা বন্ধুত্বপূর্ণ সভাবের হয়।
৯) ভদ্র মেয়েরা আড্ডা বাজিতে খুব একটা যেতে চায় না। যার জন্য তাদের বন্ধু/বান্ধব থেকে ভাব্বায়ালি/আনকালচার খেতাব পেতে হয়।
১০) ভদ্র মেয়েরা সাধারণ ঘরকুনো স্বভাবের বেশি হয়।
১১) ভদ্র মেয়েদের কাছে পরিবারের সম্মানটুকু সবার আগে। তারা পরিবারের সম্মানের বিরুদ্ধে কোনও কাজ কখনও করে না। তারা সমাজের চোখে স্নেহান্বীত ও সম্মানিত হয়ে থাকে।

Monday, October 5, 2015

ছেলেদের চোখের পর্দা বেশি জরুরী নাকি মেয়েদের পোশাকের পর্দা? চুড়ান্ত বিশ্লেষণ...


সেক্যুলার নারীবাদিদের মত অনেক ইসলামপন্থী মেয়েরাও যখন ছেলেদের উপর প্রায় পুরোটা দায় চাপিয়ে দেন, তখন অবাক না হয়ে পারি না। আচ্ছা, বলেন তো ধর্ষকের কি এমন ঠেকা পড়েছে যে সে চোখের/মনের পর্দা করতে যাবে!? ধর্ষনে ভুক্তভোগী কে? মেয়েরা। ক্ষতিগ্রস্থ কে? মেয়েরা। তাহলে ধর্ষন প্রতিরোধ করার দায়টা কার বেশি? নিশ্চয়ই মেয়েদের?

আপনি হয়তো বলবেন, মেয়েরা পোশাকের পর্দা করবে আর ছেলেরা চোখের পর্দা করবে- দুটোই কুরআনের বিধান। আর এই বিধান অমান্য করলে পরকালে উভয়কেই শাস্তি পেতে হবে। মানলাম চোখের পর্দা না করলে ছেলেরা পরকালে ভুক্তভোগী হবে, সেটা হল বাকির খাতা। কিন্তু মেয়েরা তো নগদে ভুক্তভোগী। পোশাকের পর্দা না করে দুনিয়া এবং আখিরাত দুই জায়গাতেই তারা ধরা খাচ্ছে। তাহলে ঠেকাটা কার বেশি?

কথা এখানেই শেষ নয়, কথা আরো আছে। ধর্ষন কারা করে? তারা কি খুব ধার্মিক? তারা কি মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্র? কুরআনের হাফেজ? তারা কি জামাত-শিবির-হেফাজত? কোনটাই না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ধর্ষক হল ছাত্রলীগ, নাস্তিক অথবা হিন্দু। এরা তো কোন ধর্মই নাই, সৃষ্টিকর্তাই মানে না ঠিকমত, তাহলে পরকালের ভয়ে তারা ধর্ষন থেকে বিরত থাকবে এমনটা আশা করা বোকামি নয় কি?

ধরুন আমি একজন ছাত্রলীগ কর্মী, আমি যদি একটা মেয়েকে ধর্ষন করি, আমার কোন ক্ষতি আছে? যেহেতু আমি ধার্মিক নই, তাই পরকালের ভয় আমার না করলেও চলবে। ধর্ষন করার পর "জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু" শ্লোগান দিলেই চলবে- পুলিশ আমাকে বাপ বাপ করবে। আমি ধর্ষনে সেঞ্চুরী হাকানোর পর পার্টি দিয়ে সেটা উদযাপন করবো। কে আমার কি করবে শুনি? বড়জোর প্রধানমন্ত্রী আমাকে জাহাঙ্গীনগর ভার্সিটির মানিকের মত "দুষ্টু ছেলে" উপাধি দিয়ে বিদেশে পাঠিয়ে দেবে! এইতো! অন্যদিকে যাদেরকে আমি ধর্ষন করলাম তাদের অবস্থাটা কি? তারা হয় লজ্জায় আর ক্ষোভে আত্মহত্যা করবে আর নয়তো কলঙ্কের দাগ মাথায় নিয়ে বাকিটা জীবন কাটাবে।

তাহলে দেখা যাচ্ছে, সবদিক দিয়ে আমিই লাভবান, ক্ষতিগ্রস্থ কেবল মেয়েরাই। তাহলে আপনিই বলুন- আমি কোন দুঃখ্যে ধর্ষন প্রতিরোধ করতে যাবো? আমার কি ঠেকা পড়েছে ধর্ষন প্রতিরোধ করার? ঠেকাটা তো মেয়েদের। যা করার তাদেরকেই করতে হবে, ধর্ষন কিভাবে প্রতিরোধ করবা সেই চিন্তা তোমাদের মেয়েদেরকেই করতে হবে। তোমরা যদি সাহায্য চাও তখন তোমাকে ইসলামপন্থীরা সাহায্য করতে পারে, কারন এটা তাদের ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু আমি সেটাও করবো না, কারন আমি তো ছাত্রলীগ, আমি ধর্ষক! আমি বরং চাইবো কিভাবে তোমাদেরকে ভুলিয়ে ভালিয়ে ঘরের বাইরে নিয়ে আসা যায়। এখন তুমি নিজেই যদি ইসলামের বিধান না মানো, অশালীন পোশাক পরে যেখানে সেখানে চলাফেরা কর, তাহলে তোমাকে ঐ ইসলামপন্থীরাও আর সাহায্য করবে না। তুমি নিজেই যেখানে নিজেকে সাহায্য করছো না- তাদের কি ঠেকা পড়েছে তোমাকে সাহায্য করার?

আরেকটা ব্যাপার কি জানো আপু, তোমাদের পক্ষে অশালীন পোশাক ত্যাগ করাটা যতটা কঠিন, একটা ছেলের পক্ষে তোমার লোভনীয় শরীরের দিকে দৃষ্টি পড়ার পরও চোখ সরিয়ে নেয়াটা তারচেয়ে শতগুন বেশি কঠিন। তোমরা নিজেদের স্বার্থেই যদি অল্প কঠিন কাজটা করতে না পারো, তাহলে ছেলেরা এরচেয়ে শতগুন কঠিন কাজটা কিভাবে করবে তোমরাই বল? তারপরও যারা প্রকৃত ঈমানদার তারা ঠিকই নিজেদের দৃষ্টি সংযত রাখছে, অন্তত তারা নারী নির্যাতনে জড়াচ্ছে না। কিন্তু এদের সংখ্যা তো খুব অল্প। কাজেই দেখা যাচ্ছে ছেলেদের চোখের/মনের পর্দা তোমাদেরকে রক্ষা করার জন্য যথেস্ট নয়, বরং এক্ষেত্রে তোমাদের ভূমিকাই বেশি গুরুত্বপুর্ন। তাই পরিপুর্ন হিজাব যদি নাও কর, অন্ততপক্ষে ন্যুনতম শালীনতাটুকু বজায় রাখো। জিন্স, টি শার্ট, লেগিংস, জেগিংস, মিনি স্কার্ট এগুলো তো আমাদের দেশীয় পোশাক নয়। এগুলো না পরলে যে একটা মেয়ের বিশাল ক্ষতি হয়ে যাবে এমনটাও তো নয়। প্লিজ এগুলো বর্জন কর।

অনেকে হয়তো বলবে- পহেলা বৈশাখে তো মেয়েরা এসব পোশাক পরে না, ঐদিন তারা বাঙালী মেয়েদের চিরায়ত পোশাক শাড়ী পরেছিল। তাহলে ঐ দিন কেন তাদের উপর নিপীড়ন চালানো হল? টিএসসিতে যা ঘটেছে সেটার পেছনে অবশ্যই পোশাক দায়ী নয়। এখানে মনে রাখতে হবে, অশালীন পোশাক নারী নির্যাতনের একমাত্র কারন নয়, বরং এটা হল অনেকগুলো বড় কারনের মধ্যে একটা। পোশাক ছাড়াও আরো নানা কারনে নারীর উপর নির্যাতন হতে পারে। ভুল সময়ে ভুল জায়গায় উপস্থিত হলেও নারীর শ্লীলতাহানির সম্ভাবনা থাকে। টিএসসি হল সেক্যুলারদের ঘাঁটি, আর পহেলা বৈশাখ হল সেক্যুলারদের উৎসব। এটা জেনেও যদি কোন মেয়ে ওরকম একটা জায়গায় ওরকম সময়ে উপস্থিত থাকে- তাহলে তো সেটা নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারারই শামিল। সিসিটিভি ক্যামেরা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি কোনকিছুই আপনাকে জানোয়ারদের হাত থেকে বাঁচাতে পারবে না, একমাত্র আপনার সচেতনতাই পারে আপনাকে রক্ষা করতে। এই ব্যাপারটা যত তাড়াতাড়ি অনুধাবন করতে পারবেন ততই মঙ্গল।

বি.দ্র. সর্বপ্রথম লেখকের ফেসবুক আইডিতে প্রকাশিত, যার লিংক- এখানে বিষয়: বিবিধ

চেতনার এপিঠ-ওপিঠ (রম্যগল্প)


(এই গল্পের সাথে জীবিত বা মৃত কোন ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা নেই)

ষাঁড় জাফ্রিকের মেয়ে ইয়েশিম একদিন দৌড়ে এসে হাপাতে হাপাতে ষাঁড়ের উদ্দেশ্য বললো— জানো ড্যাড্ডি, আজ কি হইছে? এই কিছুক্ষন আগে না ৩ টা ছেলে আমাকে ধর্ষন করছে।

এইটা শুনে ষাঁড় মহা রাগান্বিত হয়ে বললেন— কী! এত্ত বড় সাহস! কে করছে এই কাজ? যার চেতনার ফিল্টারে পুরা দেশ চলে তার মেয়েকে ধর্ষন করছে কার এতবড় সাহস? তুমি কি ওদেরকে চিনতে পারো নাই? নিশ্চয়ই মৌলবাদী জামা….

চিনতে পারি নাই ড্যাড্ডি! তবে কাজ শেষে ওরা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ শ্লোগান দিতে দিতে চলে গেল!

ওহ হো! তাই বল! আরে বোকা আগে বলবি না- এরা তো আমার সোনার ছেলে! আরে ধর্ষন না ধর্ষন না, ওরা তোর উপর একটু চেতনা প্রয়োগ করছে এই আরকি! তোর তো আমেরিকান নিগ্রোদের সাথে অভিজ্ঞতা আছেই সমস্যা কি!? তোর ফুফু চেতনারানী সানি লিওন কি বলছে শুনিস নাই? ধর্ষন মানে হইলো সারপ্রাইজ সেক্স! এনজয় ইট! রাজাকার সাকা চৌধুরী কি বলছে শুনিস নাই? ধর্ষন যখন নিশ্চিত তখন বাধা না দিয়ে উপভোগ করাই শ্রেয়!

সেটাই তো করেছি ড্যাড্ডি!! জানো ড্যাড্ডি! সারপ্রাইজ সেক্সের পর ওরা তো আমাকে ফেলে রেখে গেল- আমাকে দেখে তখন আরেকটা ছেলে আমার দিকে এগিয়ে আসলো! আমি ভাবলাম আরেকটা সারপ্রাইজ সেক্স! কিন্তু না… সে আমাকে দেখে প্রথমে সালাম দিল, তারপর কোন সমস্যা হইছে কিনা জানতে চাইলো। পরে সব শুনে সে আমাকে আমাদের বাসায় পৌছাই দিল…. ছেলেটা কিছুক্ষন পরপরই আল্লাহু আকবার জপতেছিল… মনে হয় জামাত শিবির!

কী! এত্ত বড় স্পর্ধা! আমার মেয়েকে একলা পেয়ে রাজাকারের মত সালাম দেয়!! ইভটিজিংয়ের মামলা করবো আমি ওদের বিরুদ্ধে। তোকে শুনিয়ে আবার জঙ্গীদের মত “আল্লাহু আকবার” শ্লোগানও দিছে? রাজাকারের বাচ্চা, যুদ্ধাপরাধী। মানবতাবিরোধী অপরাধে আমি ওদেরকে ফাঁসিতে ঝুলাবো.

বাংলার শীর্ষ ১৮ ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিক/সেক্যুলারের তালিকা---


বাংলার শীর্ষ ১৮ ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিক/সেক্যুলারের তালিকা---
     
সর্বকালের সবচেয়ে বিখ্যাত (পড়তে হবে কুখ্যাত) ১৮ জন বাঙালী নাস্তিক/সেক্যুলারের নাম, পরিচয়, নাস্তিকতার ধরন, ইসলাম বিদ্বেষের পরিমাণ, তাদের বৈশিষ্ট, আদর্শ এবং মুখোশের আড়ালে তাদের আসল চেহারা তুলে ধরা হয়েছে এই লেখাটিতে:

১। আহমেদ শরীফ: নতুন প্রজন্মের অনেকেই এই নাস্তিকের নাম জানে না। তার একটা বিখ্যাত উক্তি-

“পুরুষদের যদি সততা দরকার না হয় তবে নারীদের সতীত্বের কেন দরকার? নারীরাও যেভাবে খুশি যৌনাঙ্গ বিলাতে পারবে।”
তবে স্বঘোষিত নাস্তিক হলেও সে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিতো কম। তার ইচ্ছা মেনে মৃত্যূর পর তার জানাজা এবং কবর কোনটাই হয়নি।



২। হুমায়ুন আজাদ: বাংলা সাহিত্যের অশ্লীল ও কুরুচিপুর্ণ লেখার জনক। সারাজীবন ধর্মের প্রতি বিষোদগার করে গেলেও মৃত্যূর পর ধর্ম মেনে ঠিকই তার জানাজা ও কবর দেয়া হয়েছে, সে এটাই চেয়েছিল কারন মুখে নাস্তিকতার বড় বড় বুলি আওড়ালেও মৃত্যূ পরবর্তী জীবন নিয়ে সম্ভবত সে ভীত ছিল। মেয়ে মৌলি আজাদের ভাষায়-

মাত্রাতিরিক্ত সেক্সের প্রাধান্য থাকতো বাবার উপন্যাসে। তাই মাঝে মধ্যে বিরক্তই হতাম
হুমায়ুন আজাদের কুখ্যাত কিছু উক্তি-

এক একটি উর্বশীকে আমি মেপে মেপে দেখি। মাঝারী স্তন আমার পছন্দ, সরু মাংসল উরু আমার পছন্দ
চোখের সামনে আমার মেয়ে বড় হচ্ছে ।কিন্তু সামাজিক নিয়মের বেড়াজালে আমারহাত-পা বাঁধা
বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের চুইংগামের মতো চাবাতে ইচ্ছে করে


৩। আরজ আলী মাতব্বর: অতি সাধারন অশিক্ষিত এক কৃষক হয়েও সে বাংলার নাস্তিক সমাজের মধ্যমনি। ইসলামী জ্ঞানের স্বল্পতা থাকার দরুন না বুঝেই ইসলাম ধর্ম নিয়ে অনেক অভিযোগ উত্থাপন করেছিল। কুরআন-হাদীসের ভূল ধরতে গিয়ে সে কেবল তার জ্ঞানের সীমাবদ্ধতাকেই তুলে ধরতে পেরেছে। তবুও শুধুমাত্র ইসলাম বিরোধীতা করার কারনে নাস্তিকরা তাকে নিজেদের ধর্মগুরু বানিয়ে নিয়েছে।



৪। কবি শামসুর রহমান: শামসুর রহমানের একটি কুখ্যাত উক্তি-

 আযানের ধ্বনি বেশ্যার খদ্দের ডাকার ধ্বনির মত মনে হয়
নাউজুবিল্লাহ। এই একটা উক্তিই প্রমান করে শামসুর রহমান কি পরিমাণ ইসলাম বিদ্বেষী ছিল। তাকে একবার প্রশ্ন করা হয়েছিল- আপনি কি চান আপনার কবর হোক আপনার খালার কবরের পাশে? নাস্তিকটা জবাব দিয়েছিল- আমি তো আমার কবর হোক এটাই চাই না।



৫। তসলিমা নাসরিন: উনাকে চেনে না এমন লোক খুব কমই আছে। তার একটি বিখ্যাত উক্তি-

পুরুষরা যেমন গরম লাগলে খালি গায়ে ঘুরে বেড়ায় নারীরাও তেমনি খালিগায়ে ঘুরে বেড়াবে, তাদের স্তন সবাই দেখবে
লেখক ইমদালুল হক মিলন, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্র মুহম্মদ, সৈয়দ শামসুল হক, মিনার মাহমুদ সহ আরো অসংখ্য পুরুষ বৈধ/অবৈধভাবে তাকে ভোগ করেছে বলে তসলিমা তার আত্মজীবনিতে অভিযোগ করেছে!! সে কি মাপের ইসলামবিদ্বেষী সেটা নিশ্চয়ই কাউকে বুঝিয়ে বলতে হবে না। সে নিজেকে নাস্তিক দাবী করলেও খেয়াল করলে দেখবেন তার যত ক্ষোভ, যত ঘৃণা সব কিছুই ঝাড়ে কেবল ইসলাম ধর্মের উপর। সনাতন ধর্ম কিংবা খ্রিস্ট ধর্ম অথবা ইহুদীদের নিয়ে তার কোন মাথাব্যথা তেমন চোখে পড়ে না।



৬। আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী: উনাকে তো সবাই চেনেন। বেশি কিছু বলার নাই। আলোচিত কিছু উক্তি-

ধর্ম তামাক ও মদের মত একটি নেশা।
মোল্লাদের কোন কাজ নেই তাই তারা ঘন ঘন মসজিদ তৈরি করেছে।
টাকা ইনকামের জন্য আব্দুল্লাহর পুত্র মোহাম্মদ হজ্জের প্রবর্তন করেছিল।
সভা-সমাবেশের শুরুতে কুরআন তেলাওয়াত বন্ধ করা দরকার।


৭। বাউল লালন শাহ: সুবিধাবাদী সেক্যুলার। কোন ধর্ম পালন করতো না। জীবনে যতবার গাজা টেনেছে ততবার ভাত খেয়েছে কিনা সন্দেহ। দেশের সকল নাস্তিক লালন বলতে অজ্ঞান। লালনের অনুসারিরা লালনের জন্মদিনে গাজা খাওয়ার উৎসব করে থাকে। লালন এমন এক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখতো যেখানে ধর্ম বলে কিছু থাকবে না, হিন্দু-মুসলিম-খ্রিষ্টান এরকম কোন ধর্মীয় পরিচয় মানুষের থাকবে না।



৮। জাফর ইকবাল: বাংলাদেশের নাস্তিকতা প্রচারের মিশন দিয়ে আমেরিকার একটি বিশেষ সংস্থা তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে বলে ধারনা করা হয়। তরুন সমাজকে নাস্তিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নিজে মুক্তিযুদ্ধ না করলেও জাফর এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি করে পেট চালায়। জাফরের দাবী সে পাকিস্তানের দোষর রাজাকারদের ঘৃণা করে, কিন্তু আশ্চর্য্য হলেও সত্য ৭১ সালে পাকিস্তানকে সর্বপ্রকার সমর্থন ও সামরিক সাহায্য দেয়া রাষ্ট্র আমেরিকার ব্যাপারে তার কোন চুলকানিই নেই। জাফর নিজে আমেরিকায় চাকরী করতো, এখন সে তার ছেলে-মেয়েদেরকেও আমেরিকা পাঠিয়েছে পড়াশোনা করার জন্য।



৯। লেখক আনিসুল হক: সেক্যূলারপন্থী লেখক আনিসুল হক নাস্তিকপন্থী পত্রিকা প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক। ১৯৯১ সালে সে কুরআনের একটি সূরাকে ব্যঙ্গ করে প্যারোডি সূরা রচনা করে, বছরখানেক আগে তার ঐ লেখা পুনঃপ্রকাশিত হলে দেশ উত্তাল হয়ে ওঠে। সেক্যুলারপন্থী আনিসুল হক ভয় পেয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চায়। এরপর সে আরো কৌশলী হয়ে যায়, সরাসরি ইসলাম অবমাননা না করে এখন সে তার নাটক-সিনেমা ও পত্রিকা দ্বারা ইসলাম বিরোধী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।



১০। সুলতানা কামাল: জন্মসূত্রে মুসলমান হলেও বিয়ে করেছে শ্রী সুপ্রিয় চক্রবর্তী নামে এক হিন্দুকে। কপালে সবসময় একটা ট্রেডমার্ক টিপ থাকে। সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহ ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম তুলে দেয়ার জন্য বহু বছর ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছে এই কুখ্যাত সেক্যুলার। ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিকদের প্রতি সে প্রকাশ্য সমর্থন দিয়ে থাকে। আসিফ মহিউদ্দিন নামক উগ্র নাস্তিককে ইসলাম অবমাননার অভিযোগে যখন ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করেছিল তখন সে আসিফকে ছাড়ানোর চেষ্টা করেছিল। সারারাত থানায় অবস্থান করে নাস্তিক আসিফকে নৈতিক সমর্থন দিয়েছিল।



১১। প্রবীর ঘোষ: বর্তমান সময়ের একজন খাটি নাস্তিক। কলকাতার নাস্তিকদের মধ্যে সে সবচেয়ে জনপ্রিয়। সকল ধর্মের বিরোধী প্রবীর ঘোষ ধর্মমুক্ত একটি বিশ্ব চায়। তার অসংখ্য,ভক্ত-সমর্থক রয়েছে।



১২। কবির চৌধুরী: চরমপন্থী এই নাস্তিক একবার বলেছিল-

তোমরা আমার মরণের সময় মোহাম্মদের জ্বালাও-পুড়াও ঐ কালেমা শুনাবে না, বরং রবীন্দ্রনাথের একটি সংগীত আমাকে শুনাবে
এই উগ্র নাস্তিক মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী ছিল এবং ৭১ সালে পাক সরকারের বিশ্বস্ত অনুচর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। কিন্তু নাস্তিক হওয়ার কারনে আজ তার সাত খুন মাফ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারীরা আজ তাকে মাথায় তুলে নাচে। সংবিধানে ‌’বিসমিল্লাহ’ রাখার ব্যাপারেও কবির চৌধুরী আপত্তি তুলেছিলো।



১৩। সৈয়দ শামসুল হক: এটা আরেক উগ্র সেক্যুলার। অন্যান্য নাস্তিকের মত এটাও ছিল নোংরামিতে সিদ্ধহস্ত। এর একটা কবিতা হল এরকম-

যখন দু’স্তন মেলে ডেকে নিলে বুকের ওপরে

স্বর্গের জঘন খুলে দেখালে যে দীপ্তির প্রকাশ

মুহুর্তেই ঘুচে গেল তৃষিতের অপেক্ষার ত্রাশ

আরেকটা কবিতা এরকম-

শত বাধা সত্ত্বেও থামতে পারে না কামুক পুরুষদুজনের দেহ ছিড়ে বের হয় দুধ-পূর্ণিমাআর তা নেমে আসে স্তনের চুড়ায়

যাদের সাহিত্যের ভাষা এমন নোংরা তারা সেক্যুলার/নাস্তিক হবে এটাই স্বাভাবিক। এরা যদি নিজেকে মুসলমান দাবী করতো তাহলে সেটাই বরং আশ্চর্য্যের ব্যাপার হত।



১৪। মুনতাসির মামুন: এই স্বঘোষিত নাস্তিক একবার বলেছিল-

সভা-সমাবেশে বিসমিল্লাহ বলা বা কুরআন পড়ার দরকার নেই। সংবিধানে বিসমিল্লাহ থাকা আমাদের জন্য অপমান সরূপ। আমরা তো সংবিধানে আল্লাহর নাম অথবা বিছমিল্লাহ থাকবে সেজন্য দেশ স্বাধীন করিনি। ধর্ম যেমন ভন্ডামী তেমনি মৌলবাদিদের সব ভন্ডামী । বঙ্গ ভবনের দেয়ালে কুরান শরীফের আয়াত লেখা এটা একটা চরম ভন্ডামী
মুনতাসির মামুনের দূঃসাহসী আরেকটা মন্তব্য-

এদেশে এক জন মুসলমানও যত দিন থাকবে ততদিন পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবেই চলবে


১৫। ব্লগার রাজীব (থাবা বাবা): এই নাস্তিক হযরত মোহাম্মদ (সা) কে হযরত মহাউন্মাদ কিংবা মোহাম্মক (মহা+আহাম্মক) নামে ডাকতো (নাউজুবিল্লাহ)। হাদীসকে চটি গ্রন্থ এবং কুরআনকে সে কৌতুকের বই বলে আখ্যায়িত করতো। বিভিন্ন সময়ে আল্লাহ, রাসূল (সা) ও বিভিন্ন সাহাবীদেরকে নিয়ে চটি গল্প লিখে “ধর্মকারী” নামক ব্লগে প্রকাশ করতো। কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের উদ্বৃতি দিয়ে সেগুলোর নিজের মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়ে ঠাট্টা ও হাসি-তামাশা করতো। তার এসব কার্যকলাপ তাকে এদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কুখ্যাত ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিকের মর্যাদা দিয়েছে। তার বেশিরভাগ লেখাই প্রকাশযোগ্য নয়। তার কার্যকলাপে অতিষ্ঠ হয়ে অবশেষে ৫ জন ধর্মপ্রাণ মুসলিম এই মুরতাদকে হত্যা করে জাহান্নামের টিকিট ধরিয়ে দেয়। তার মৃত্যুর পর সরকার এবং শাহবাগের অন্যান্য নাস্তিকরা তাকে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ হিসেবে আখ্যায়িত করে!!



১৬। আসিফ মহিউদ্দিন: বর্তমান সময়ের আরেক কুখ্যাত নাস্তিক। অন্যান্য নাস্তিকের মত এটাও চরিত্রহীন ও লম্পট। ওর নাম লিখে ইন্টারনেটে সার্চ দিলেই মদের বোতল হাতে মাতলামি করা অবস্থায় একটা ছবি খুজে পাবেন। ইসলাম অবমাননার দিক দিয়ে থাবা বাবার পরেই তার অবস্থান। তার ইসলামবিদ্বেষী কার্যকলাপে খুশী হয়ে জার্মান সরকার তাকে ঐদেশের ভিসা উপহার দিয়েছে। বর্তমানে সে জার্মানী থেকে ফেসবুক ও ব্লগে ইসলাম বিদ্বেষী লেখালেখি করে থাকে। আসিফের দাবি আল্লাহ নিজেই নাস্তিক, অতএব নাস্তিক হওয়াটা দোষের কিছু না। আসিফ মহিউদ্দিন পবিত্র কুরআনকে “আহাম্মোকোপিডিয়া” বলে থাকে। সে কুরআনের আয়াতকে বিকৃত করে “আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির নাস্তিকানির নাজিম” বলে এবং মহানবী (সা) এর কল্পিত ছবি তার ব্লগে প্রকাশ করে।



১৭। ফরহাদ মজহার: এই লিস্টে উনার নাম দেখে অনেকেই চমকে গেছেন!! তাইনা?? আওয়ামীলীগ-বিরোধী অবস্থান নেয়ার কারনে অনেকে তার আসল পরিচয় জানে না। এক সময় সে ছিল একজন কুখ্যাত ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিক, বর্তমানে তার ভূমিকা বেশ রহস্যজনক। সে এখন আর আগের মত নাস্তিকতা প্রচার করে বেড়ায় না, বরং ইসলামপন্থীদের পক্ষাবলম্বন করে কলাম লেখে-বিবৃতি দেয়। কিন্তু সেটা যতটা না আদর্শগত কারনে তারচেয়ে বেশি রাজনৈতিক কারনে। সে এখনো নাস্তিক আছে নাকি তওবা করে মুসলমান হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায় নি। নব্বইয়ের দশকে “এবাদত নামা” নামে একটি ইসলাম বিদ্বেষী কাব্যগ্রন্থ লিখে সে বেশ বিতর্কিত হয়েছিল। কয়েকটা লাইন উল্লেখ করছি:

বিবি খাদিজার নামে আমি এই পদ্যটি লিখি,

বিসমিল্লাহ কহিব না, শুধু খাদিজার নাম নেবো।

নবীজীর নাম? উহু, তার নামও নেবোনা মালিক

শুধু খাদিজার নাম- দুনিয়ায় আমি সব নাম ভুলে যাব

তোমাকেও ভুলে যাবো, ভুলে যাবে নবীকে আমার।



তার আরেকটা কবিতা আরো মারাত্মক-

"দুনিয়া রেজিস্ট্রি কর, তিলেক হিম্মত নাই
আধা ছটাকের নাই তেজ
সাত আসমানে প্রভু খোদাতা’লা হয়ে বসে আছ
মুখে খালি কহ শুনি দুনিয়ার তুমিই মালিক
অথচ মালিক অন্যে, অন্যে কহিতেছে তারা খোদা
মালিক এ জমিনের -প্রত্যেকেই তোমার শরিক
তোমার শরিক নাই এই কথা তবে কি বোগাস?
এদের দলিল যদি মিথ্যা হয় যাও আদালতে
উকিল ধরিয়া করো দুনিয়া রেজিস্ট্রি নিজ নামে"



১৮। শফিক রেহমান: বাংলাদেশে “ভ্যালেন্টাইন ডে” নামক বিজাতীয় সংস্কৃতির প্রবর্তক। ১৯৯৩ সালে এই নাস্তিক সর্বপ্রথম তার পত্রিকা যায়যায়দিন এর মাধ্যমে এদেশে ভালবাসা দিবস এর প্রচলন ঘটায়। শফিক রেহমানকে বাংলাদেশের চটি সাহিত্যের জনক বলা হয়। অশ্লীলতার দিক দিয়ে হুমায়ুন আজাদও উনার কাছে নস্যি। শফিক “মৌচাকে ঢিল” নামক একটি সেমি-চটি ম্যাগাজিনের সম্পাদক। এছাড়া বাংলাদেশে লিভ টুগেদার ছড়িয়ে দেয়ার পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান শফিক রেহমানের। তার বিরুদ্ধে সমকামীতার অভিযোগও রয়েছে।

না...এটি কোনো প্রেমপত্র নয়...!


প্রিয় ঘাসফড়িঙ...
তোমার অনেক কষ্টে বোনা কথার গাঁথুনি আমার প্রযত্নে এসে পৌঁছেছে সেই কবেই। তারপর
গড়িয়ে গেলো কতো জল। আজ এই অপরাহ্ণে দাঁড়িয়ে যখন নিজস্ব হিসেবের খাতা খুলি,তখন খুব অবাক লাগে। আমার সঞ্চয় বলে কিছু নেই,লাভ বলে কিছু নেই। প্রতিটি পাতার যোগফলে শুধু দুঃখ,বেদনা আর হতাশার হলুদ বর্ণ শব্দ। পৃথিবীর বহু মানুষ দেখেছি। জীবনের বহু রঙ
দেখেছি,নানা গন্ধ শুকেছি,মদ খেয়েছি,মাতাল হয়ে নিজেকে গালি দিয়েছি কুকুর বলে। তবে সুখ
খুঁজিনি। খুঁজেছিলাম আশ্রয়, সেটাও জোটেনি ।
আমি নাকি কচুরিপানা।যার সুন্দর গন্ধথাকে, অথচ শেকড় থাকেনা মাটির গভীরে গাঁথা। এককথায়,আমি নাকি জলে ভাষা অস্তিত্বহীন একটা মানুষ। যার শুধু সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় মাত্র, কিন্তু অবলম্বন খোঁজা জায়না।জলের বুকে বসে জলপান আর নয়। মাটিতে শেকড় গেঁড়ে গভীর থেকে জল তুলে তবেই এবার তৃষ্ণা মেটাবো। তাতে আমার বৃক্ষ শাখায় যদি ফুল নাও ফোটে,ক্ষতি নেই। ঝড়তো বুঝবে আমার অস্তিত্বটা কতো দৃঢ় ।
কিন্তু বড্ড বেশী ক্লান্ত হয়ে আছি। আর পারছিনা। আবারও নিজের কাছ থেকে পালাতে ইচ্ছে করে। হয়তো আবার কোথাও হারিয়ে যাবো বহু দূরে। সেইতো মঙ্গল। তাই নয় কি?? কোনো প্রত্যাশা নেই তোমার কাছে। ভয় নেই, কোনোদিন কোনো দাবীনামা হাতে নিয়ে এসে বলবোনা, “ পূরণ করো আমার আবদার ’’ এমনকি ভুল করে এসেও বলবোনা, “ ভালোবাসি তোমাকে ” ।। না...এটা কোনো প্রেমপত্র নয়।
আমি মোটেও সত্যবাদী নই। তবে চিঠিতে আমি কখনো মিথ্যাচার করিনা। এ আমার অহংকার। আমার প্রত্যাশাগুলো ঘাসফুলের মতো ক্ষুদ্র ও ক্ষণস্থায়ী। মানুষের পায়ের তলায় যার জীবন ও মৃত্যু। তবে আমার স্বপ্নগুলো তোমার আকাশের চেয়েও বড় সুন্দর। সে কারণেই আমার এই সহজ স্বীকারোক্তি, “ বহুদিন বেশ ভালো ছিলাম। ”।। ইদানিং কেনো জানি বড় নিঃসঙ্গ লাগে,বড়
একা লাগে। টের পাই যে, বুকের মধ্যে একটা রাজহাঁস দিনে রাতে সজোরে ডানা ঝাপটাচ্ছে । সে চায় আকাশ বা স্বচ্ছ জলের দীঘি।
আমার কেনো জানি ভালো লাগেনা। যে কোনোদিন হয়তো অনেক দূরে চলে যাবো কাউকে কিছু না বলেই। অথবা ঘুমের মধ্যে আমার ইচ্ছাকৃত মৃত্যু হবে। আর এটাই হবে আমার শেষ বিলাসীতা। সুখ আমার সতীন। আনন্দ আমার অশ্রু। তুমি যেমন সাপকে ভয় পাও, আমিও তেমনি ভয় পাই এই আমার আমিকে। আমি দুঃখকে অবলীলায় প্রিয়তমা ভেবে তার বুকের ভাঁজে মুখ লুকিয়ে খুব সহজেই ঘুমিয়ে যেতে পারি।
ভোরবেলার কোনো এক স্বপ্নকে ঘিরে হয়েছিলাম উচ্ছ্বসিত। আনন্দধারায় করেছিলাম স্নান। এখন
দুপুর। আমি শঙ্কিত সেই স্বপ্নসুখে। এক বৃদ্ধ শকুন বাতাসে তার অগ্রীম মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে গেলো এইমাত্র। আমিও প্রস্তুত। ঠিক সন্ধ্যার আগে গোধূলিলগ্নে চন্দন কাঠের চিতায় শুইয়ে দেবো আমার সেই ভোরের স্বপ্নকে। তোমাকে আমন্ত্রণ রইলো ঘাসফুল। এসো আমার মুখাগ্নি করতে।
পূজার ফুলের রঙ কি জানো ?? সাদা ।। মজার কথা কি জানো, পৃথিবীর অধিকাংশ সাদা ফুল ফোটে রাত্রির গাড় অন্ধকারে। তারা জন্ম নেয় সবার অলক্ষে, নীরবে, নিভৃতে। আমার ভীষণ এক প্রতিজ্ঞা ছিলো এই নিজের কাছে নিজের। পূজার ফুল আর কখনোই হবোনা। আর
কারো চরণে নিজেকে দেবোনা জলাঞ্জলী। কিন্তু তাও পারলাম না ।।
আমি যখন কাউকে দেবী ভাবি, তখন আমি আর মানুষ থাকিনা। হয়ে যাই পূজারী। সবকিছু
হয়ে যায় ওলট_পালট। ভালো লাগেনা পৃথিবীর রুপ, রস, গন্ধ। তখন শুধু একটাই প্রার্থনা আমার, “দেবী তার রাঙা ঠোঁটে আলতো চুমু দিয়ে বলুক, ঘুমাও পূজারী। আমি আছি”
“ ইতিহাস তুমি কেঁদোনা। পরিবর্তন আসে, চিরক্লান্তির ভাবনা যে তোমায় ভালোবাসে। ” যে ভালো কিছুর মোহে আবিষ্ট হয়ে একদিন পথচলা শুরু হয়, দিনের শেষে সেই মোহো কেটে গেলে বেঁচে থাকে শুধুই বাস্তবতা ।।
আকাশ...সে কখনো আমার নয়। তাই মাঝে মাঝে মনে হয় একফালি আকাশ ছিঁড়ে এনে যদি আমার শোবার ঘরে ঝুলিয়ে রাখতে পারতাম, তাহলে বলতে পারতাম, এই যে এক টুকরো আকাশ, এ শুধুই আমার। একটা মানুষ, যাকে আমার ভালোলাগে, যাকে আমি ভালোবাসি,
সে শুধুই আমার থাক। হ্যাঁ..সে শুধুই আমার হয়ে থাকুক। জানি এই চাওয়াটা অসম্ভব। আর
একারণেই আমার নিজস্ব বলে কিছু নেই, এই আমার আমি ছাড়া। তাইতো নিজেকে এতোবেশী ভালোবাসি ।।
স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি। নানা ধরনের স্বপ্ন। কখনো স্বপ্ন দেখি আমি এক চমৎকার প্রেমিক,
কখনো এক রাঙা বৌয়ের আদরের স্বামী, আবার কখনো স্বপ্ন দেখি, আমি এক ফুটফুটে সোনামণির গর্বিত বাবা ।।

আমি তোমাকে সত্যিই ভালোবাসি। আর এইযে এতোটা ভালোবাসি, এটা আগে বুঝিনি। এখন
বুঝি। তবে আর কখনোই হয়তো এই কথাটি বলা হয়ে উঠবেনা। তোমার কথামতো এই কথাটা শুধু নিজের ভিতরেই রেখে দিলাম। আমি তোমাকে স্বপ্ন দেখতে শেখাবো, তবে স্বপ্নের ঠিকানা দেবোনা। আমি শুধু তোমার কষ্টটাকে জানতে চাই।
আমি তোমার কাছে কৃতজ্ঞ। আর এই কৃতজ্ঞতা মন থেকেই এসেছে। কারণ, মানুষ হিসেবে মানুষকে বুঝে নেওয়ার ও সন্মান দেওয়ার স্বতঃস্ফূর্ত ভাবটা কখনো মেকী মনে হয়নি। ভালোবাসা আদায় করে নেওয়ার যে ব্যর্থটা, তা শুধু আমাকেই বইতে হবে। অথচ আমার বিশ্বাস, আমার
মাঝে ভালোবাসার সত্ত্বাটা সেভাবেই আছে, আগে যেভাবে ছিলো। বিশ্বাস করে লাভ বা ক্ষতির হিসেব করোনা। তবেএতে অন্য কারো লাভ হলো কিনা জানিনা। তবে আমার কি হলো, আমি কি পেলাম, তা সম্ভবতো বুঝানো যাবেনা কোনোদিনও। আর বুঝিয়েই বা কতোটা লাভ বা ক্ষতি, তার হিসেব আমরা কেউ কখনোই করবোনা...।।

ভালো থেকো...
ইতি
ঘাসফুল

সমস্যা হলো ভোগবাদী সংস্কৃতি আর আছে কিছু মিথ, গালগল্প। 


জীবন মাত্রই মূল্যবান, বিশেষ করে মানবজীবন। একটি
জীবনের পেছনে থাকে অপরিসীম অধ্যাবসায়, ত্যাগ,
যত্ন, কামনা-বাসনা, বিনিয়োগ। এই জীবন অবহেলায়
অযত্নে, কিছু মানুষের লোভ আর স্বার্থপরতার কারণে
শেষ হয়ে যাবে? আমরা কিছুই করব না? রাষ্ট্র
সর্বাত্মক উদ্যোগ নেবে না? মানুষের জন্যই তো
রাষ্ট্র, সরকার, সংবিধান। নিয়মকানুন সব কিছু।
তাহলে চরম দুদর্দশা নিয়ে অনাহারে ভাসতে থাকা
অগণিত মানবসন্তানদের উদ্ধারে কেন সর্বাত্মক
উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে না?
দেশের বেকার সমস্যা প্রকট- এটা যেমন ঠিক, তেমনি
আবার গ্রামে-গঞ্জে এখন আগের মতো কাজের লোক
পাওয়া যায় না-এটাও সত্য।তাহলে বিদেশ যাওয়ার
জন্য এত এত মানুষ ব্যাকুল কেন?
বিদেশ যাওয়ার পেছনে পেটের খিদে নিঃসেন্দহে
প্রধান ভূমিকা পালন করে। যখন কেউ খিদে
মেটানোর ন্যূনতম ব্যবস্থাটুকু করতে ব্যর্থ হয়, তখন সে
মরিয়া ওঠে। মানুষের প্রয়োজন যখন তীব্র হয়, তখন সে
যেকোনও উপায়ে সেই প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা
করে।
আরেকটা সমস্যা হলো ভোগবাদী সংস্কৃতি। অভাব
আমাদের দেশে সব সময়ই ছিল। কিন্তু অভাববোধটা
এখনকার মত এমন সুতীব্র ছিল না। আগে একজন
অতিদরিদ্র মানুষও এখনকার মতো এমন নাই-নাই, চাই-
চাই মনোভাব প্রকাশ করত না। এখন মানুষের মধ্যে
অভাববোধটা বেড়েছে। ভোগবাদী সংস্কৃতি
প্রতিনিয়ত তাকে নিত্যনতুন পণ্যসামগ্রীর মায়াজাল
পেতে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। তার আর সামান্য
ডাল-ভাত কিংবা সাধারণ বিছানা পছন্দ হয় না।
তারও চাই এলইডি মনিটরের কালার টিভি, টাচস্কিন
মোবাইল, টিভি বিজ্ঞাপন আর নাটকে দেখানো নরম
বিছানার চকচকে ছিমছাম বাড়ি, গাড়ি- আরও কত
কী! কিন্তু এসব আসবে কোত্থেকে? নিজ এলাকায়
কাজ করলে, রিকশা কিংবা ভ্যান চালালে যা
আসে, তাতে টেনেটুনও দিন চলে না। আছে
পরিবারের সদস্যদের দাবি, আবদার। আছে ভবিষ্যতে
আরাম-আয়েশ-স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন কাটানোর স্বপ্ন।
আর আছে বিদেশ সম্পর্কে কিছু মিথ, গালগল্প।
আমাদের দেশের মানুষ এমনিতেই গল্প করতে, গল্প
শুনতে পছন্দ করে। আর যারা একবার বিদেশে গেছে,
সেখানে কিছুদিন কাটিয়ে আয়-উপার্জন করে
এসেছে, তারা তো একেকজন রূপকথার জন্মদাতা।
তারা সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের, টাকায় আয়ের আশ্চর্য সব
গল্প শোনায়। এসব গল্প শুনে একজন বঞ্চনাক্লিষ্ট
দরিদ্র যুবক মুগ্ধ হয়। সেই স্বপ্নের ‘বৈদেশ’ যেতে
নিজের জীবন উৎসর্গ করতেও প্রস্তুত থাকে।
একথাও ঠিক যে, আমাদের দেশে আশি এবং নব্বইয়ের
দশকে বৈধ কিংবা অবৈধভাবে যারা অভিবাসী
হিসেবে বিভিন্ন দেশে গিয়েছেন, তাদের
বেশিরভাগই ভাগ্যন্নোয়ন করতে পেরেছেন। সেই সময়
তারা দেশে ফিরে টিনের চাল দেওয়া পাকা বাড়ি
করে গ্রামের সবাইকে তাক লাগিয়ে দিতেন।দেশে
খড়ের ঘরের পরিবর্তে টিনের চালওয়ালা পাকা
বাড়ির ব্যাপক প্রবর্তন প্রবাসীদের উপার্জিত
অর্থেই হয়েছে। আবার প্রতারকের খপ্পরে পড়ে জমি-
জমা সব বিক্রি করেও বিদেশ যেতে পারেনি,
কিংবা বিদেশ গিয়ে সুবিধা করতে পারেনি,
মাঝখান থেকে সর্বস্ব হারাতে হয়েছে-এমন উদাহরণও
প্রচুর আছে। কিন্তু সমস্যা হলো, নিরক্ষর দরিদ্র
মানুষেরা এসব নেতিবাচক অভিজ্ঞতার চেয়ে
সাফল্যের গল্পগুলোকেই বিশ্বাস করে বেশি। কারণ,
এই বিশ্বাসের মধ্যে তার নিজের জীবনের
স্বপ্নপূরণের আকাঙ্ক্ষা জড়িয়ে থাকে!
আমরা দেখি যে, এখনও অনেক অভিবাসীই আছে
যারা বাড়িতে নিয়মিত টাকা পাঠায়। সেই টাকায়
পরিবারের সদস্যরা সুখে-স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন কাটায়।
এসব দেখে এবং শুনে ভাগ্যবিড়ন্বিত অনেকেই মনে
করে, একবার বিদেশ যেতে পারলেই বুঝি সব সমস্যার
সমাধান হয়ে যাবে। কয়েক বছর কাটিয়ে টাকার
বস্তা নিয়ে দেশে ফেরা যাবে।সব স্বপ্ন পূরণ করা
যাবে।

আমাদের দেশে ধান্দাবাজ অসাধু মানুষের অভাব
কোনও কালেই ছিল না। নানা ফিকিরে কিভাবে
কিছু বাড়তি টাকা উপার্জন করা যায়- এমন
মানসিকতার লোকজন চারদিকে ভিড় করেই থাকে।
সবাই খালি সুযোগ খোঁজে। একজনের দারিদ্র্যের
সুযোগ নিয়ে তাকে আরও বেশি নাজেহাল করা,
প্রলোভন ও স্বপ্ন দেখিয়ে তার সর্বস্ব লুটে নেওয়ার
জন্য এক শ্রেণির মানুষ মুখিয়ে থাকে। ওদিকে চরম
দারিদ্র্যক্লিষ্ট-অসহায়-অসচেতন কিন্তু নিজের
ভাগ্যন্নোয়নে ব্যকুল মানুষগুলো কেবলই ঠকে, ঠকতেই
থাকে।
একটি স্বাধীন দেশে এই অনাচার চলতে পারে না।
মানবপাচার ঠেকাতে যেখানে যতটুকু ব্যবস্থা গ্রহণ
করা দরকার তার সবটুকুই করতে হবে। সীমান্ত
রক্ষীবাহিনীর দায়বদ্ধতা বাড়াতে হবে। টেকনাফ-
উখিয়া হয়ে কীভাবে দিনের পর দিন হাজার হাজার
মানুষ পাচার হয়? এখানে সীমান্ত নিরাপত্তা
রক্ষীরা কী করে? ব্যর্থতার জন্য তাদের চাকরি যায়
না কেন? এটা যদি অবৈধ মানবপাচারের মেইন পয়েন্ট
হয়, তাহলে সেখানে বিশেষ বাহিনী নিয়োগ দেওয়া
হচ্ছে না কেন? বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না
কেন?
দালাল চক্রকে খুঁজে বের করা, তাদের দৃষ্টান্তমূলক
শাস্তির ব্যবস্থা করাও জরুরি। কিন্তু কথা হলো ঘণ্টা
বাঁধবে কে? প্রশাসনের সঙ্গে এসব দালালচক্রের
লেনদেনের সম্পর্কের কথা সুবিদিত। এই সন্ধি
ভাঙ্গবে কে? সেই হিম্মত আর সদিচ্ছা বর্তমান
সরকারের কর্তাব্যক্তিদের আদৌ আছে কি?
বিশ্বে প্রবাসী আয় সংগ্রহকারী শীর্ষ ১০টি দেশের
মধ্যে বাংলাদেশের স্থান অষ্টম। এটি নিঃসন্দেহে
আমাদের জন্য আনন্দের সংবাদ। এটাকে পরিচর্যা
করতে হবে। নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে হবে।
জনশক্তি রফতানিকে সরকারের এক নম্বর
প্রায়োরিটি দিতে হবে। শেষ বিচারে জনসংখ্যাই
কিন্তু আমাদের একমাত্র সম্বল। প্রাকৃতিক সম্পদ
যেটুকু যা আছে তা এক সময় শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু
জনসংখ্যা রয়ে যাবে। এই জনসংখ্যাকে কীভাবে
দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করা যায়, কীভাবে
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জনশক্তির চাহিদা পূরণে
ব্যবহার করা যায় তা গভীরভাবে ভেব
ে দেখতে হবে।
যে দেশে যে ধরনের দক্ষতাসম্পন্ন জনশক্তি দরকার
সে অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দিয়ে তারপর
সেখানে তাদের পাঠাতে হবে। সরকারের কূটনৈতিক
মিশনগুলোকে এ ব্যাপারে বিশেষ দায়িত্ব দিতে
হবে।যেসব দেশে জনশক্তি রফতানির সম্ভাবনা আছে
এবং বেশি সংখ্যক অভিবাসী যেসব দেশে আছে,
দরকার হলে সেসব দেশে সরকারি লোকবল বাড়াতে
হবে।
পৃথিবীর তাবত সুখী দেশের সুখী মানুষগুলো তাদের
থাকার একটা জায়গা দেয়ার কথা ভাবা উচিত । হতে
পারে ঘন জঙ্গল যেখানে কেউ থাকে না । হতে পারে দুর্গম
পাহাড়ি এলাকা একেবারে নির্জন সেখানেও কেউ থাকে
না । তারা সেখানে থাকুক , অনাবাদি জমি আবাদ করুক ।
সুখী মানুষের মত জীবন যাপন করুক । অন্তত বাঁচার চেষ্টা
করুক ।
অথবা এখন যেভাবে আছে সেভাবেই থাকুক । সমুদ্রে ভাসুক
। দিনের পর দিন । এরপর খেয়ে না খেয়ে মারা যাক । সমুদ্রে বিলীন
হোক মানুষগুলো । অন্তত পৃথিবীর কিছু বোঝা তো কমবে ।
আর অনাহারক্লিষ্ট , হাহাকারে বিদীর্ণ মুখগুলো না
দেখলেও পৃথিবীর মানুষের শান্তি ।

একটি ইসলাম বিদ্দেষী টপিক ও তার জবাবঃ আল কোরানে কি মহাবিশ্ব সৃষ্টির ক্ষেত্রে কোন বৈজ্ঞানিক ভুল আছে ?


এই টপিকটি যথেষ্ট পুরানো আর এর জবাব বিভিন্ন সময়ে দেয়া       হয়েছে।
তবে প্রায়ই দেখা যায় অনেক মুসলিমরা নাস্তিকদের সামনে এটার জবাবে তালগোল পাকিয়ে ফেলে।
তাই আমি পুরোনো জবাবগুলোই সামান্য সংযোজন করে একটু গুছিয়ে লিখছি। আজ হঠাত হুইটস্টোন ব্রীজ নামক জনৈক হিন্দুর টাইমলাইনে দেখলাম পুরনো এই লেখা নিয়ে বেশ লাফালাফি করছে।
এক নজরে অভিযুক্ত আয়াতগুলো দেখি,
*তিনিই উহার উপরে পর্বতসমূহ স্থাপন করেছেন এবং তিনি উহাতে আধিক্য প্রদান করেছেন ও তিনি চারি দিবসে উহাতে উৎপন্ন সমূহের নির্ধারন করে দিয়েছেন। সকল প্রার্থীর জন্য সমতুল্য করে দিয়েছেন ৪১ঃ১০
 And He placed on the earth firmly set mountains over its surface, and He blessed it and determined therein its [creatures'] sustenance in four days without distinction - for [the information] of those who ask. (Quran 41:10)
*অতঃপর/এছাড়াও তিনি আকাশের দিকে মনযোগ দিলেন যা ছিল ধুম্র কুঞ্জ, অতঃপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা উভয়ে আস ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায়। তারা বলল আমরা স্বেচ্ছায় আসলাম ৪১ঃ১১
Then He directed Himself to the heaven while it was smoke and said to it and to the earth, "Come [into being], willingly or by compulsion." They said, "We have come willingly." (Quran 41:11)
*এবং তিনি সপ্তাকাশ নির্মান করলেন দুই দিনে এবং প্রত্যেক আকশকে তার নিজ কর্মে নিযুক্ত করলেন। এবং আমি সর্ব নিম্ন আকাশকে প্রদীপমালায় সুসজ্জিত করলাম। (41:12)
Moreover He completed them as seven heavens within two days and inspired in each heaven its command. And We adorned the nearest heaven with lamps and as protection. (Quran 41:12)
এই আয়াতগুলো নিয়ে যে অভিযোগগুলো আসে তা হচ্ছে।
প্রথম অভিযোগঃ সংখ্যাগত ভুল।
দ্বিতীয় অভিযোগঃ পৃথিবি আগে ও আসমান পরে সৃষ্টি যা বৈজ্ঞানিক ভুল।
তৃতীয় অভিযোগ(এটা শুধু কম বুঝ হিন্দু দের করতে দেখা যায় ইদানিং)ঃ আসমান জমীণ আল্লাহকে বলেছে আমরা নিজেরাই আসলাম, অতএব তা নাকি বৈজ্ঞানিক ভুল।
অভিযোগের জবাবঃ

অভিযোগঃ সংখ্যাগত ভুল। ৬ দিনে না ৮ দিনে ?
জবাবঃ প্রথমে বলি এই আয়াতে ৬ দিন নয় বরং ৬ টি লম্বা সময়কে বুঝিয়েছে। এই আয়াতে ‘ইয়ম’ ব্যবহার না করে ‘আইয়াম‘ শব্দটি উল্লেখ করা হয়েছে। Arabic Dictionary- তে ‘আইয়াম’ শব্দের অর্থ লম্বা সময় এটি ১ দিন ,১০০ বছর অথবা অনির্দ্দিষ্ট সময়কাল হতে পারে। আর ‘ইয়ম’ মানে একদিন, এই আয়াতে আইয়াম শব্দটি ব্যবহার হয়েছে অর্থাৎ লম্বা সময়,  যেমন আমরা বলি দুদিনের দুনিয়া, এখন এখানে দুদিন কি আসলেই দুদিন, ২৪+২৪=৪৮ ঘন্টা ? এবার কোরানে যে ৬ দিন বা ৬ টি লম্বা সময় বুঝিয়েছে তা কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে চমতপ্রদভাবে মিলে যাচ্ছে। আধুনিক বিজ্ঞানও এই মহাবিশ্বটি সৃষ্টির প্রারম্ভিক হতে আকৃতি, রঙ ও প্রকৃতিতে পৌছাঁতে সর্বমোট ৬টি অনির্দ্দিষ্টট সময়কাল অতিবাহিত হওয়ার কথা বলছে,
যেমন
1| Time Zero
2| Inflation
3| Annihilation
4| Proton and Neutron
5| Atomic Nuclei
6| Stable atom
এবার সংখ্যার ভুলের প্রসংগে যাই, ধরুন কেউ যদি বলেন : বাড়িটা তৈরী করতে ৫০ দিন লেগেছে এবং রং করতে লেগেছে ৫ দিন। প্রশ্ন হচ্ছে, বাড়িটা তৈরী করতে মোট ৫৫ দিন নাকি ৫০ দিন লেগেছে? প্রাইমারীর পোলাপান হয়তো ৫৫ দিন বলতে পারে তবে কলেজের ছাত্র কিন্তু ৫০ দিনই বলবে। তেমনি কোরআনের কোথাও ৮ দিনে মহাবিশ্ব সৃষ্টির কথা লিখা নাই। এটি আসলে তাদের অজ্ঞতা অথবা নিজস্ব মনগড়া ব্যাখ্যা। কোরআনের বেশ কিছু আয়াতে ৬ দিন উল্লেখ আছে এবং আয়াত ৪১:৯-১২ তে যা আছে তা মূলত Consequential order নয়, বরং Overlapping action. তাই উক্ত কাজের হিসাবটিও সেই ৬ দিনের মদ্ধ্যেই। ঠিক যেমন ৫০ দিনের তৈরি বাড়িতে রঙ করার ৫ দিনের হিসাব উক্ত ৫০ দিনেরই অংশ, সেরকম।
অভিযোগঃ পৃথিবী আগে না আসমান আগে?
জবাবঃ
আমি যদি বলি, আমি এখন দরজা ডেকরেট করছি, এরপর জানালার দিকে নজর দেব, এরমানে কি এই যে জানালা এখন বানাবো ? না, বরং এরমানে এই যে জানালা আগে থেকেই তৈরি ছিল, তবে হয়ত পুরোপুরি কমপ্লিট হয়নি।
আর এই আয়াতগুলো কোন ধারাবাহিক কার্যের বর্ননা নয় তা আগেই বলেছি, এখানে ১১ নং আয়াতে আরবী "Thumma" শব্দটিকে অনেকে ভুলভাবে "Then" বা "এরপর" অনুবাদ করেছে। কিন্তু প্রকৃত অনুবাদ হবে moreover বা অধিকন্তু বা এছাড়াও , যেমন কোরানের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ অনুবাদক ইউসুফ আলী থেকে শুরু করে ড, ঘালির মত অনুবাদকদের অনুবাদে এরকমই আছে। ইউসুফ আলী লিখেছেন, Moreover He comprehended in His design the sky , অর্থাৎ এটি কোন ধারাবাহিক কাজের বর্ননা নয় তা স্পষ্ট। আর হ্যা ইউসুফ আলীর অনুবাদটা কিন্তু প্রায় একশ বছর আগের। তাই কেউ যদি প্রশ্ন করে যে বৈজ্ঞানিক ভুল দেখে অনুবাদ চেইঞ্জ করা হয়েছে তার সুযোগ নাই। কারন এই অনুবাদ যখন হয়েছে তখন স্টিফেন হকিং এর জন্মও হয় নি।:)
এছাড়াও যদি অন্যান্য অনুবাদকদের Then শব্দটা এপ্লাই করি তাতেও কিন্তু কিছু যায় আসে না। কারন Then শব্দটিও Overlapping action বা বিচ্ছিন্ন ঘটনার ক্ষেত্রে ব্যাবহৃত হয়। নীচে Then শব্দের ডিকশনারী হতে আরো কিছু সমগোত্রীয় অর্থ দেখানো হল,


এখানে ধারাবাহিক ঘটনা নয় বরং বিচ্ছিন্ন ঘটনা এরপক্ষে আরো কিছু প্রমান দেখি, যেমন
৪১ঃ১১ আয়াতে বলা হয়েছে, "অতঃপর/এছাড়াও তিনি আকাশের দিকে মনযোগ দিলেন যা ছিল ধুম্র কুঞ্জ, অতঃপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা উভয়ে আস ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায়। তারা বলল আমরা স্বেচ্ছায় আসলাম"
লক্ষ করুন এটা যদি হত ধারাবাহিক ঘটনার বর্ননা তবে পৃথিবি তৈরির বর্ননা তো পুর্বের আয়াতেই শেষ হয়ে গিয়েছিল, কিন্ত্ এই আয়াতে আকাশের সাথে আবার পৃথিবির কথা কেন বলা হল ? ধারাবাহিক ঘটনা হলে তো পৃথিবির কথা আবার বলা হত না।
আর হ্যা কোরান অনুসারে অবশ্যই পৃথিবি সৃষ্টি হয়েছে আকাশ বা শুন্য সৃষ্টীর পরে, প্রমান হিসেবে দেখুন, সুরা নাযিয়াত
"তোমাদেরকে সৃষ্টি অধিক কঠিন না আকাশের, যা তিনি নির্মাণ করেছেন? তিনি একে উচ্চ করেছেন ও সুবিন্যস্ত করেছেন। এরপরে পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছেন, এর মধ্য থেকে এর পানি ও ঘাস নির্গত করেছেন,পর্বতকে তিনি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।" (কোরান ৭৯ঃ ২৭-৩২)
এখানে আমরা স্পষ্টই দেখতে পাই যে আল্লাহ তালা আকাশ তথা স্পেস তৈরি ও তা বিন্যস্তের পরেই পৃথিবি সৃষ্টি করেছেন।
অভিযোগঃ আসমান জমীণ আল্লাহকে বলেছে আমরা নিজেরাই আসলাম, অতএব তা বৈজ্ঞানিক ভুল।
জবাবঃ এটা হচ্ছে অভিযোগগুলোর মধ্যে সব থেকে হাস্যকর অভিযোগ। :) সাহিত্যের কতগুলো গুন থাকে তা এইসব ছোট মাথার বিদ্দেষিরা জানে না। সাহিত্যের একটা গুরুত্তপুর্ন figure of speech হচ্ছে "Personafication" অর্থাৎ জড় বস্তুকে মানুষের গুনাবলি দেয়া । আর কোরান হচ্ছে সবচেয়ে উচু মানের শিল্পকর্ম। মুর্খ বিদ্দেষিরা সাহিত্যের এসব টার্ম জীবনে শুনেছে বলে মনে হয়। এখান থেকে একটু পড়ে নিতে পারে, https://simple.wikipedia.org/wiki/P...
আর হ্যা উক্ত হিন্দুদের যদি বেদ থেকেও এরকমটা দেখাই তবে কি বলবে ? যেমন রিগবেদ ১/৫০/৬-৭ এ বলা হয়েছে সুর্যের নাকি রয়েছে চোখ এবং সুর্য নাকি সেই চোখ দিয়ে সকল প্রাজাতিকে দেখে। নীচে তুলসীরামের অনুবাদ,


Saturday, October 3, 2015

অভিজিৎ রায়ের যুক্তির খণ্ডন ৪ঃ ফাইন টিউনিং যুক্তি


"ফাইন টিউনিং যুক্তি"দীর্ঘদিন ধরেই আমার মত আস্তিকগন স্রষ্টার অস্তিত্তের পক্ষে বিতর্কের ক্ষেত্রে তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করে এসেছেন। সাধারনত এই যুক্তি ব্যবহার করা হলে কোন নাস্তিক্যবাদীই ভালো কোন উত্তর দিতে পারতেন না।

কিন্তু এক নাস্তিক বন্ধুর সুবাদে জেনেছিলাম এই যুক্তি অভিজিৎ রায় খণ্ডন করেছেন।অভিজিৎ রায়ের বইতেও দেখলাম তিনি খুব দক্ষতার সাথেই ফাইন টিউনিং এর বিপক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। এটা নিয়ে দীর্ঘদিন আমি সমস্যায় ছিলাম। অভিজিৎ রায়ের এই যুক্তি খণ্ডনের কোন দুর্বলতা কিছুতেই বের করতে পারছিলাম না। কিন্ত দার্শনিক প্লেটোর সেই উক্তি আমাকে সাহায্য করেছিল যা আমি এর আগে কোনদিন উপলব্ধি করিনি। উক্তিটি ছিল Know thyself ( নিজেকে জানো )

পোস্টের শেষে আবার আমরা Know thyself এ ফিরে যাব। তার আগে ফাইন টিউনিং যুক্তিটি জেনে নেইঃ

ফাইন টিউনিং যুক্তিকে অনেকসময় সৃষ্টির বুদ্ধিদীপ্ত অনুকল্পও বলা হয়। আমরা জানি মহাবিশ্বে কিছু বিষয় আছে যা সুনির্দিষ্ট। যেমনঃ মহাকর্ষীয় ধ্রুবক, দুর্বল পারমানবিক বলের মধ্যকার শক্তির ভারসাম্য, আমাদের দেহের আঙ্গিক অনুপাত ইত্যাদি। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে যদি এই মহাকর্ষীয় বল বা দুর্বল নিউক্লিয়ার বলের মধ্যকার শক্তির ভারসাম্য এখন যা আছে তার চেয়ে অল্প কিছু কম বা বেশি হলে আমাদের মহাবিশ্বে প্রান সৃষ্টিই হত না। যেমনঃ দুর্বল নিউক্লিয়ার বলের মধ্যকার শক্তির ভারসাম্য এখন যা আছে যদি তার চেয়ে কিছু বেশি হত তাহলে এই পুরো পৃথিবীর বায়ুর ১০০% ই হত হাইড্রোজেন। আর তাহলে কোন প্রান থাকতনা। কেননা প্রানের জন্য প্রয়োজন অক্সিজেন ও কার্বন। আবার এই মহাবিশ্বে সুনির্দিষ্ট এনজাইম,এসিড ইত্যাদির সুনির্দিষ্ট পরিমানে সমন্বয়ের ফলে প্রানের বিকাশ ঘটেছে। অর্থাৎ মহাবিশ্বে এই সকল রাশির মান সুনির্দিষ্ট না হলে কোন প্রানের বিকাশ হত না। যদি প্রশ্ন করা হয় এই সকল রাশির মান এত নির্দিষ্ট কিভাবে হয়েছে?? এটা কি শুধুই দুর্ঘটনা? এটি কিভাবে একটি দুর্ঘটনা হয় যেখানে এতগুল রাশির মধ্যে একটি রাশির মানও তার সুনির্দিষ্ট মানের চেয়ে কোন ক্ষেত্রে বেশি বা কম হয় নি।তাহলে এ ঘটনা দ্বারা কি বোঝা যায় না যে কেউ একজন খুব সুস্পষ্টভাবে এই সকল রাশির মান নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন?? অবশ্যই এটাই মনে হয় যে কোন এক সত্তা এই সকল রাশির মান নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন যাতে মহাবিশ্ব অস্তিত্ত লাভ করতে পারে এবং প্রানের বিকাশ হতে পারে। আর এই সত্তাই সৃষ্টিকর্তা।

অভিজিৎ রায় এ যুক্তির খণ্ডন করেছেন ৩ ভাবে

ফাইন টিউনিং যুক্তির বিপক্ষে অভিজিৎ রায়ের যুক্তি ১ঃ

অভিজিৎ রায় দেখিয়েছেন যে মাটির নিচে অক্সিজেন ছাড়াও ব্যাকটেরিয়া জীবন ধারন করছে। সমুদ্রের গভীর তলদেশে এমনকি কেরসিন তেলের ভেতরেও প্রানের বিকাশ ঘটেছে।অভিজিৎ রায়ের মতে তাই প্রানের বিকাশ ঘটতে হলে যে সুনির্দিষ্ট পরিবেশ, বায়ুতে নির্দিষ্ট অক্সিজেনের পরিমান ইত্যাদি থাকতে হবে এমন নয়। যদি বর্তমান পরিবেশ নাও থাকত তবুও অন্য ধরনের পরিবেশের সাথে খাপ খায় এমন প্রানের বিকাশ হত অথবা সকল জীব ওই পরিবেশের সাথে বিবর্তনের মাধ্যমে খাপ খাইয়ে নিত।


অভিজিৎ রায়ের যুক্তি খণ্ডনঃ

অভিজিৎ রায় এক্ষেত্রে যে যুক্তি দিয়েছেন তা খুব সহজেই খণ্ডন করা সম্ভব। এ জন্য ক্লাস ৯-১০ এর পদার্থবিজ্ঞান জানা থাকাই যথেষ্ট।

অভিজিৎ রায় বলেছেন প্রানের বিকাশ ঘটতে হলে যে সুনির্দিষ্ট পরিবেশ, বায়ুতে নির্দিষ্ট অক্সিজেনের পরিমান ইত্যাদি থাকতে হবে এমন নয়। কিন্তু যদি কোন মহাবিশ্বই না থাকে তবে প্রানের বিকাশ হওয়ার কোন সম্ভাবনাই নিশ্চয়ই নেই?? আমরা লক্ষ্য করি, মহাবিশ্বে যে সকল রাশির মান সুনির্দিষ্ট তাদের মধ্যে একটি হলঃ মহাকর্ষীয় ধ্রুবক। এখন মহাকর্ষীয় ধ্রুবক যদি সুনির্দিষ্ট মানের চেয়ে অল্প কিছু কম বা বেশি হত তবে গ্রহ, নক্ষত্রের আবর্তন এবং পদার্থের স্থিতিস্থাপকতা বলতে কিছুই থাকত না। তাহলে কোন মহাবিশ্বই সৃষ্টি হত না ফলে প্রানের বিকাশও হত না।

ধরে নিলাম সুনির্দিষ্ট পরিবেশ, বায়ুতে নির্দিষ্ট অক্সিজেনের পরিমান ছাড়াও প্রানের বিকাশ সম্ভব। কিন্তু মহাকর্ষীয় ধ্রুবকই যদি সুনির্দিষ্ট না হত তবে তো মহাবিশ্বই সৃষ্টি হত না, প্রানের বিকাশ দুরের কথা।

যেহেতু মহাকর্ষীয় ধ্রুবক তার সুনির্দিষ্ট মানের চেয়ে কোন ক্ষেত্রে বেশি বা কম হয় নি তাই এই মহাবিশ্ব তৈরি হতে পেরেছে। আমরা ধরে নিতেই পারি এই সুনির্দিষ্ট মানের পেছনে কোন এক মহানসত্তা ছিল।


ফাইন টিউনিং যুক্তির বিপক্ষে অভিজিৎ রায়ের যুক্তি ২ঃ

ফাইন টিউনিং এর পক্ষে যেসকল পদার্থবিজ্ঞানী আছেন তারা বলেন এই মহাবিশ্বে মহাকর্ষীয় বল বা দুর্বল নিউক্লিয়ার বলের মধ্যকার শক্তির ভারসাম্য সহ এতগুল ভৌত রাশি এত নিখুঁতভাবে সুনির্দিষ্ট আছে যা দেখে বোঝা যায় এই মহাবিশ্ব প্রানের জন্য অনেক উপযুক্ত।আর এভাবে একে উপযুক্ত করেছেন স্রষ্টা।


ফাইন টিউনিং এর পক্ষে যেসকল জীববিজ্ঞানী আছেন তারা আবার বলেন এই মহাবিশ্ব প্রানের জন্য একেবারেই উপযুক্ত ছিল না। স্রস্টাই এই মহাবিশ্বে সুনির্দিষ্ট এনজাইম,এসিড ইত্যাদির সুনির্দিষ্ট পরিমানের সমন্বয়ে প্রানের বিকাশ ঘটিয়েছেন এবং এভাবে অনুপযুক্ত মহাবিশ্বকে উপযুক্ত করেছেন স্রষ্টা।

অর্থাৎ ফাইন টিউনিং এর পক্ষে যেসকল পদার্থবিজ্ঞানী আছেন তারা বলেন এই মহাবিশ্ব প্রানের জন্য অনেক উপযুক্ত।আর এভাবে একে উপযুক্ত করেছেন স্রষ্টা। আবার এর পক্ষে যেসকল জীববিজ্ঞানী আছেন তারা বলেন এই মহাবিশ্ব প্রানের জন্য একেবারেই অনুপযুক্ত ।
অনুপযুক্ত মহাবিশ্বকে উপযুক্ত করেছেন স্রষ্টা।

যেহেতু এই একই যুক্তিটি সমর্থন করতে গিয়ে পদার্থবিজ্ঞানীরা বলেছেন মহাবিশ্ব প্রানের জন্য অনেক উপযুক্ত আবার জীববিজ্ঞানীরা বলেছেন মহাবিশ্ব প্রানের জন্য একেবারেই অনুপযুক্ত। তাই বোঝাই যাচ্ছে এই যুক্তিতে বড় ধরনের ফাঁক আছে।

অভিজিৎ রায়ের যুক্তি খণ্ডনঃ

আপাত দৃষ্টিতে মনে হতে পারে ফাইন টিউনিং সমর্থন করতে গিয়ে পদার্থবিজ্ঞানী এবং জীববিজ্ঞানীরা বিপরীত বক্তব্য দিয়েছেন। কিন্তু
পদার্থবিজ্ঞানীদের বক্তব্য পদার্থবিজ্ঞান এর দৃষ্টিতে এবং জীববিজ্ঞানীদের বক্তব্য জীববিজ্ঞান এর দৃষ্টিতে দেখলে তাদের কথার আসল অর্থ প্রকাশ পায়।

আমরা জানি, মহাবিশ্বে মহাকর্ষীয় বল বা দুর্বল নিউক্লিয়ার বলের মধ্যকার শক্তির ভারসাম্য ইত্যাদি নিখুঁতভাবে সুনির্দিষ্ট আছে বলেই
গ্রহ, নক্ষত্রের আবর্তন এবং পদার্থের স্থিতিস্থাপকতা আছে। যদি গ্রহ, নক্ষত্রের আবর্তন এবং পদার্থের স্থিতিস্থাপকতা নাই থাকত তবে মহাবিশ্বই সৃষ্টি হত না। তাই কোন প্রাণেরও বিকাশ হত না।যেহেতু মহাকর্ষীয় বল বা দুর্বল নিউক্লিয়ার বলের মধ্যকার শক্তির ভারসাম্য ইত্যাদি নিখুঁতভাবে সুনির্দিষ্ট আছে তাই বলা যায়। মহাবিশ্ব প্রানের জন্য অনেক উপযুক্ত। এবং এই কথাটি সঠিক।

আবার মহাবিশ্ব তৈরি হওয়ার পরই সেটা প্রানের জন্য উপযুক্ত হয়নি। এ জন্য মহাবিশ্বে সুনির্দিষ্ট এনজাইম,এসিড ইত্যাদির সুনির্দিষ্ট পরিমানের সমন্বয় প্রয়োজন ছিল। যেহেতু সুনির্দিষ্ট এনজাইম,এসিড ইত্যাদির সুনির্দিষ্ট পরিমানের সমন্বয় ঘটার আগে মহাবিশ্ব প্রানের বিকাশের জন্য পুরোপুরি অনুকুল ছিল না তাই বলা যায় সে সময় মহাবিশ্ব প্রানের জন্য অনুপযুক্ত ছিল। এবং এই কথাটিও সঠিক।

এক্ষেত্রে ২টি বক্তব্যই সঠিক। কিভাবে?? একটি উদাহরন দিলে বিষয়টি পরিষ্কার হবেঃ

মনে করুন একটি কলম রাখা আছে। একজন লোক বললেন কলমটি লেখার জন্য উপযুক্ত। আরেকজন লোক বললেন কলমটি লেখার জন্য অনুপযুক্ত। এক্ষেত্রে ২ জন লোকই সঠিক হতে পারেন কি?? পারলে কিভাবে?

এক্ষেত্রে ২ জন লোকই সঠিক হতে পারেন। যে লোক বলেছেন কলমটি লেখার জন্য উপযুক্ত তিনি চিন্তা করেছেন যে আমরা হাতুড়ি বা লাঠি বা অন্য কোন যন্ত্র দিয়ে তো আর লিখতে পারি না তাই কলমই লেখার জন্য উপযুক্ত।যে লোক বলেছেন কলমটি লেখার জন্য অনুপযুক্ত, তিনি কলমটি দিয়ে লেখার চেষ্টা করে দেখলেন কালি নেই। তাই তার মতে কলমটি লেখার অনুপযুক্ত।

একইভাবে পদার্থবিজ্ঞানীদের মতে মহাবিশ্বে মহাকর্ষীয় বল বা দুর্বল নিউক্লিয়ার বলের মধ্যকার শক্তির ভারসাম্য ইত্যাদি নিখুঁতভাবে সুনির্দিষ্ট আছে একারনেই মহাবিশ্ব টিকে আছে। আর টিকে থাকাতেই তাতে প্রানের বিকাশ হয়েছে।তাই মহাবিশ্ব প্রানের জন্য অনেক উপযুক্ত। স্রষ্টা মহাবিশ্বকে তৈরি করেছিলেন প্রানের বিকাশের জন্য টিকে থাকার উপযুক্ত করে।

আবার জীববিজ্ঞানীদের মতে মহাবিশ্ব টিকে থাকলেও তাতে প্রানের বিকাশ হতে সুনির্দিষ্ট এনজাইম,এসিড ইত্যাদির সুনির্দিষ্ট পরিমানের সমন্বয় ঘটা প্রয়োজন ছিল। তাই সেই সমন্বয় ঘটার আগে মহাবিশ্ব প্রানের জন্য অনুপযুক্ত ছিল।ওই মহাবিশ্বের পরিবেশকেই প্রানের বিকাশের জন্য অনুপযুক্ত থেকে উপযুক্ত করে তুলেছেন।

এখানে মহাবিশ্ব হল কলম। আর এনজাইম,এসিড ইত্যাদির সুনির্দিষ্ট পরিমানের সমন্বয় হল কালি। এক্ষেত্রে ২টি বক্তব্যই আসলে সঠিক।
পদার্থবিদ ও জীববিদরা হচ্ছেন উদাহরনের ওই দুই ব্যক্তি।

স্রষ্টা মহাবিশ্বকে তৈরি করেছিলেন প্রানের বিকাশের জন্য টিকে থাকার উপযুক্ত করে।এক্ষেত্রে মহাবিশ্ব টিকে থাকার উপযুক্ত ছিল। কিন্তু মহাবিশ্বের পরিবেশ প্রানের বিকাশের জন্য অনুপযুক্ত ছিল। আবার ওই স্রস্টাই মহাবিশ্বের পরিবেশকেই প্রানের বিকাশের জন্য অনুপযুক্ত থেকে উপযুক্ত করে তুলেছেন।



ফাইন টিউনিং যুক্তির বিপক্ষে অভিজিৎ রায়ের যুক্তি ৩ঃ

জ্যোতির্বিদ ভিক্টর স্তেঙ্গর প্রমান করে দেখিয়েছেন যে আমাদের মহাবিশ্বের সুনির্দিষ্ট রাশিগুলোকে পরিবর্তন করে অসংখ্য মহাবিশ্ব তৈরি করা যায়। এরকম অসংখ্য মহাবিশ্ব থাকতেও পারে। মাঙ্কি গড নামক একটি কম্পিউটার প্রোগ্রামে নিজের ইচ্ছামত মহাবিশ্বের সুনির্দিষ্ট রাশিগুলোকে পরিবর্তন করে অসংখ্য ভার্চুয়াল মহাবিশ্ব তৈরি করা যায়।যা বৈজ্ঞানিকভাবে সত্যিকারেই সম্ভব বলে স্বীকৃত। যেহেতু আমাদের মহাবিশ্বের সুনির্দিষ্ট রাশিগুলোকে পরিবর্তিত হলেও অসংখ্য মহাবিশ্ব তৈরি হওয়া সম্ভব তাই বলা যায় ফাইন টিউনিং যুক্তি অমুলক।

অভিজিৎ রায়ের যুক্তি খণ্ডনঃ

এই যুক্তিটি খণ্ডন করতে গিয়ে আমি মহা সমস্যায় পড়েছিলাম। কিছুতেই বুঝতে পারছিলাম না যদি মহাবিশ্বের সুনির্দিষ্ট রাশিগুলোকে পরিবর্তিত হলেও অসংখ্য মহাবিশ্ব তৈরি হওয়া সম্ভব হয় তবে স্রষ্টা থাকেন কি করে??

কিছুদিন থেকেই আমি প্লেটোর দর্শন পড়ছিলাম। যখনই এই যুক্তিটি খণ্ডন করতে চাইছিলাম তখনই মাথায় প্লেটোর একটি কথা ঘুরপাক খেতঃ Know thyself ( নিজেকে জানো )। যদিও প্রথমে এই কথাটিকে অপ্রাসঙ্গিক ভেবে মাথা থেকে দূর করতে চাচ্ছিলাম। কিন্তু পরে মাথায় বিদ্যুতের মত খেলে গেল প্লেটোর এই জ্ঞানগর্ভ কথার সত্যিকার অর্থ। আর পেয়ে গেলাম অভিজিৎ রায়ের যুক্তির দুর্বলতা।

অভিজিৎ রায়ের যুক্তি দিয়েই তাঁর যুক্তি খণ্ডন সম্ভব। কিভাবে??

লক্ষ্য করুন "মাঙ্কি গড নামক একটি কম্পিউটার প্রোগ্রামে নিজের ইচ্ছামত মহাবিশ্বের সুনির্দিষ্ট রাশিগুলোকে পরিবর্তন করে অসংখ্য ভার্চুয়াল মহাবিশ্ব তৈরি করা যায়।যা বৈজ্ঞানিকভাবে সত্যিকারেই সম্ভব বলে স্বীকৃত।"

এক্ষেত্রে একটি মন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কি করে মহাবিশ্ব তৈরি করা যায়। একটি মন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে মহাবিশ্বের সুনির্দিষ্ট রাশিগুলোর কি কি মান সে প্রোগ্রামে বসাবে। অর্থাৎ মহাবিশ্ব তৈরির জন্য প্রয়োজন কোন এক সত্তার মন। যেই মন নির্ধারণ করবে মহাবিশ্বের সুনির্দিষ্ট রাশিগুলোর কি কি মান হবে।


কিন্তু মানুষের মন শুধু মান বসাতে পারে।ভার্চুয়াল মহাবিশ্ব তৈরি করতে পারে। সত্যিকার মহাবিশ্ব তৈরি করতে পারে নিশ্চয়ই কোন মহামন। আর এই মহামনই হলেন স্রষ্টা।

মহাবিশ্বের পিছনে কোন মহামনের অস্তিত্ব থাকা কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান দ্বারা ও ব্যাখ্যা করা যায়ঃ


কোপেনহেগেন ইন্টারপ্রিতেশন এ নিলস বোর ও ওয়ারনার হাইজেনবার্গ এর মত কালজয়ী বিজ্ঞানীদের কাজের ফলে কোয়ানটাম পদার্থবিজ্ঞানে এক নতুন জগতের আবির্ভাব হয়।

যার ফলশ্রুতিতে প্রমানিত হয় যে সাব এটমিক লেভেলে অবজারভার বা পর্যবেক্ষক এর সিদ্ধান্তের ওপরই ক্ষুদ্র কনার স্পিন ও অবস্থান নির্ভর করে।অর্থাৎ কোন পরীক্ষণের সময় একজন বিজ্ঞানী কোন ক্ষুদ্র কনার যে অবস্থান ও ঘূর্ণনের কথা চিন্তা করেন। কণাটি ঠিক সেই অবস্থানে সেভাবে ঘূর্ণন করে।

অর্থাৎ একজন মানুষের চেতনা দিয়ে বস্তুজগতের ক্ষুদ্র কনা নিয়ন্ত্রন করতে পারে। তাহলে এই মহাবিশ্ব কি এমন কোন মহাচেতনার সিদ্ধান্ত অনুসারে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে??

তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেছেন এবং একে অন্যের উপর মর্যাদা সমুন্নত করেছেন, যাতে তোমাদের কে এ বিষয়ে পরীক্ষা করেন, যা তোমাদেরকে দিয়েছেন।-----আল কুরান ৬ঃ১৬৫

প্রতিনিধি কে? যিনি তার প্রেরনকর্তার কিছু ক্ষমতার অধিকারি হন এবং প্রেরনকর্তা প্রদত্ত একটি স্থানে যার কিছু ক্ষমতা থাকে তিনিই প্রতিনিধি ।

তাহলে মানুষের চেতনা দিয়ে বস্তুজগতের ক্ষুদ্র কনা নিয়ন্ত্রন করতে পারা কি মানুষকে পৃথিবীতে স্রষ্টার প্রতিনিধি হিসেবে প্রমান করে না?? যদি মানুষ স্রস্টার প্রতিনিধি হয় তাহলে স্রস্টাও নিশ্চয়ই আছেন।
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
এতক্ষন কষ্ট করে পড়ার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।আপনারা আমার গঠনমূলক সমালোচনা করলে আমি যারপরনাই আনন্দিত ও উপকৃত হব।

প্রিয় পাঠক সত্যর পথে যাত্রায় প্রথমে নিজের ভেতরে ডুব দিন।আপনি সত্য খুঁজে পাবেন। Know thyself ( নিজেকে জানুন )


নাস্তিকদের এই প্রশ্নের জবাব কয়েকভাবে দেয়া যায়।


(১ম জবাব)প্রথমতঃ-
কথা হলো, ধরেন কেউ এই প্রশ্নের জবাবে এই উত্তর দিলো যে,আল্লাহ্‌ উঠাতে পারবেন না, এমন পাথর আল্লাহও বানাতে পারবেন না। তো এতে কি সমস্যা? এর দ্বারাতো আর আল্লাহ্‌ নাই প্রমাণ হয়না। বরং আল্লাহ্‌ আছেন এবং তিনি বিরাট শক্তিমান এই বিশ্বাস করার পরই তো এই প্রশ্ন করা যায়।
তখন নাস্তিক বলবে যে, সমস্যা একটা আছে। আল্লাহ্‌ নাই এটা প্রমাণ হয়না বুঝলাম,কিন্তু কোরআনের আয়াত ভুল প্রমাণ হয়;কেননা,কোরানে আছে যে, আল্লাহ্‌ সব করতে পারেন। নাস্তিকের এই কথার জবাব হলো,কোরানেই আবার অন্য আয়াতে এটাকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে, আল্লাহ্‌ যেটা চান, সেটাই করতে পারেন। তাই বলা যায় , আল্লাহ্‌ এমন পাথর বানাতে চাবেন না, যেটা তিনি নিজেই উঠাতে পারবেন না। এটা হলো সবচেয়ে সহজ সরল জবাব।

(২য় জবাব)ঃ-
আবার দেখুন,"আল্লাহ্‌ এমন একটি ভারী পাথর বানাতে পারবেন না যেটা তিনি নিজেই উঠাতে পারবেন না।" এই কথাটি আসলে শুধুমাত্র বাহ্যিকভাবে বা শুধুমাত্র শব্দের হিসাবে আল্লাহ্‌র অক্ষমতা বুঝাচ্ছে। কিন্তু ভালোভাবে চিন্তা করলে দেখা যাবে,এই কথাটি আসলে আল্লাহ্‌র চূড়ান্ত সক্ষমতা ও শক্তিকেই প্রকাশ করছে। কেননা এই কথাটির অর্থ হলো এই যে,পাথর যত ভারীই হোকনা কেন,আল্লাহ্‌ সেটা বানাতেও পারবেন এবং উঠাতেও পারবেন।
এক বুজুর্গ দোয়া করেছিলেন যে, আয় আল্লাহ্‌! আপনি নবীর উপর রহমত বর্ষণ করতে থাকুন যতক্ষণ না আপনার রহমত শেষ হয়। এখন চিন্তা করুন একথার মানে কি?এ কথার মানে কি এই যে,সে বুজুর্গ মনে করেন যে, আল্লাহ্‌র রহমত একসময় শেষ হয়ে যাবে? না, এটা তার উদ্দেশ্য নয়; তার উদ্দেশ্য এটাই যে,আয় আল্লাহ্‌ আপনি নবীর উপর সর্বদা রহমত বর্ষণ করতে থাকুন।যেহেতু আল্লাহ্‌র রহমতের কোন শেষ নেই,তাই নবীর উপর রহমত বর্ষণও কখনো শেষ হবেনা।

(৩য় জবাব)ঃ-
এবার আসেন আমরা প্রশ্নটা একটু উল্টাভাবে করি। (ক)আল্লাহ্‌ কি এমন একটি পাথর উঠাতে পারবেন, যেটা তিনি বানাতে পারবেন না? এটার জবাব কি হবে? হা! হা! আপনার যদি সুস্থ চিন্তা শক্তি থাকে তাহলে আপনি এসব প্রশ্ন সহ্য করতে পারবেন না। আপনি আমাকে বলে বসবেন যে, কইত্যে আইছে এক পাগল ছাগল, খাইয়্যা কাম নাই, আজাইরা প্যাচাল পারতে? তবুও একটু প্যাচাল পারতে হয়, যাতে কোন সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত না হয়। যাইহোক এবার বলেন দেখি, এই উল্টোভাবে করা প্রশ্নটার জবাব কি হবে? কি , বুঝতে পারছেন না? একটু সহজ করি। বলেন তো, (খ)আল্লাহ্‌ কি এমন একটি পাথর উঠাতে পারবেন, যেটা তিনি বানাবেন না? এবার নিশ্চয়ই আপনি উত্তর দিতে পারবেন। আপনি বলবেন যে, এই প্রশ্নটাই কিছু হয় নাই। কারণ উঠানোর বা না উঠানোর প্রশ্ন তখনই আসে যখন পাথরটাকে আগে বানানো হবে, অস্তিত্বে আনা হবে। তো এই "খ"প্রশ্নটি যেমন কিচ্ছু হয়নি, তেমনি প্রশ্ন "ক" এটাও কোন প্রশ্নই হয়নি। কেননা "ক" ও "খ" এই দুই প্রশ্নের মধ্যে পার্থক্যটা তেমন ধর্তব্য না। একটাতে আছে বানাতে পারবেন না, আরেকটাতে আছে বানাবেন না। তো যিনি বানাতে পারবেন না তিনিই তো বানাবেন না। নাকি? বানাতে পারবেন না, এ কথার অনিবার্য রেজাল্ট হলো বানাবেন না। সুতরাং নাস্তিক যেহেতু কিভাবে প্রশ্ন করতে হয় সেটাই শিখেনি; তাই তাকে বলুন আগে প্রশ্নটি ঠিকভাবে করো, তারপর আমরা উত্তর দিচ্ছি।
এবার আসেন আমাদের মূল প্রশ্নে। (১)আল্লাহ্‌ কি বানাতে পারবেন এমন পাথর যা তিনি উঠাতে পারবেন না? এবার এটাকে একটু সহজ করুন। এভাবে বলুন, (২)আল্লাহ্‌ কি এমন পাথর বানাতে পারবেন যা তিনি উঠাবেন না? কি? তাও পারছেন না জবাব দিতে, নাকি? আরেকটু সহজ করুন। এভাবে বলুন, আল্লাহ্‌ কি এমন পাথর বানাতে পারবেন যা তিনি বানানোর পরে উঠাবেন না?এবার আপনি জবাব দিবেন যে, এই প্রশ্নটিও কিছু হয়নি। কেননা যেটা বানিয়ে ফেলেছেন সেটার ক্ষেত্রেই আবার প্রশ্ন করা হচ্ছে যে, সেটা তিনি বানাতে পারবেন কিনা। দেখুন আগে বানাতে হয় এরপর উঠাতে হয়। উঠাবেন কি উঠাবেন না এই প্রশ্ন আসবেই বানানোর পরে। যখন নাকি উঠানো বা না উঠানোর কথা আসলো, তখন এটাই বুঝা গেলো যে, আপনি ধরে নিয়েছেন যে, এটাকে আগে বানানো হয়েছে। তাই যেটাকে আগেই বানানো হয়েছে বলে আমি ধরে নিচ্ছি, সেটার ক্ষেত্রে কিভাবে আবার প্রশ্ন করি যে, সেটাকে কি আল্লাহ্‌ বানাতে পারবেন কিনা? বানিয়েতো ফেলেছেন, সেইজন্যইতো উঠানো বা না উঠানোর কথা আসছে। দেখুন যেই পাথরের বৈশিষ্ট্য এই যে, সেটাকে আল্লাহ্‌ উঠাবেন না বা উঠাতে পারবেন না, সেটার কিন্তু অনিবার্য বৈশিষ্ট্য এটাও যে, সেই পাথরটিকে আল্লাহ্‌ আগে বানিয়েছেন। তাহলে এই অনিবার্য বৈশিষ্ট্যকে প্রশ্নঃ১ এর সাথে যুক্ত করে দেখুন অবস্থা কেমন উদ্ভট দাঁড়ায়। (১) আল্লাহ্‌ কি বানাতে পারবেন এমন পাথর, যা তিনি উঠাতে পারবেন না এবং যেটা তিনি আগে বানিয়েছেন? কিন্তু নাস্তিক এই অনিবার্য অংশকে খুব চালাকির সাথে উহ্য রেখেছে,আপনাকে ধোঁকা দেয়ার জন্য; সে নিজে জাহান্নামী, আপনাকেও জাহান্নামে নেয়ার জন্য।
আশা করি সবাই বুঝে গেছেন। যদি কেউ বাইচান্স না বুঝে থাকেন, তাহলে ২/৩ বার পড়ুন এবং নিজের মাথাটা একটু খাটান এবং আল্লাহ্‌র কাছে বুঝ চান এই বিশ্বাস রেখে যে, আমি আমার জ্ঞান বুদ্ধি দিয়ে বুঝতে পারবোনা, যদি আল্লাহ্‌ আমাকে দয়া না করেন। আর কোন পাঠক যদি ব্যাপারটিকে আরো সহজ করে বুঝাতে পারেন, তাহলে তার কাছে আমার একান্ত অনুরোধ যে, আপনি সেটা কমেন্টে আমাদেরকে জানান। তো এতক্ষণ ধরে আমরা এটাই দেখলাম যে, নাস্তিকদের এই প্রশ্নটা কোন প্রশ্নই হয়নি। তাই এটা উত্তর দেয়ার যোগ্যই না। এখন আসুন আমরা দেখি এই উদ্ভট প্রশ্নের উত্তর দিলে কেমন উদ্ভট অবস্থার সৃষ্টি হয়।


(৪র্থ জবাব)ঃ-
নাস্তিক প্রশ্ন করেছিলো যে, আল্লাহ্‌ কি বানাতে পারবেন এমন পাথর যা তিনি তুলতে পারবেন না?
ধরেন রাশেদ জবাব দিলো যে, আল্লাহ্‌ বানাতে পারবেন না এমন পাথর যা তিনি তুলতে পারবেন না। এখন কথা হলো এই কথাটির অর্থাৎ রাশেদের এই জবাবের প্রমাণ কি? সে কেন বা কিসের ভিত্তিতে এই জবাব দিলো? তখন নিশ্চয়ই বলা হবে যে, কেননা আল্লাহ্‌ যেকোন পাথরই তুলতে পারবেন। যেহেতু তিনি সর্ব শক্তিমান। তাহলে কি দাঁড়াচ্ছে কথা? আল্লাহ্‌ সর্ব শক্তিমান এই ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে রাশেদ জবাব দিচ্ছে যে, আল্লাহ্‌ বানাতে পারবেন না এমন পাথর যা তিনি তুলতে পারবেন না। আর রাশেদের এই জবাবের উপর ভিত্তি করে নাস্তিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে যে, আল্লাহ্‌ সর্ব শক্তিমান নন। আসেন আমরা পুরা যুক্তি বাক্যগুলো সাজাই । আর এটা নিশ্চয়ই সবাই জানেন যে, যে যুক্তির ভিত্তি ভুল হয় সেই যুক্তির সিদ্ধান্তও অবশ্যই ভুল হয়।

যেহেতু ১-আল্লাহ্‌ সর্ব শক্তিমান ।

তাই ২- আল্লাহ্‌ এমন পাথর বানাতে পারবেন না যেটা তিনি উঠাতে । পারবেন না।

সুতরাং ৩- তিনি সর্ব শক্তিমান নন।
তাহলে দেখলেন তো কেমন হাস্যকর কথা, কেমন উদ্ভট যুক্তি! সে প্রমাণ করতে চাচ্ছে আল্লাহ্‌ সর্ব শক্তিমান নয়। আর এটা করছে সে কোন ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে? এই ভিত্তির উপর যে, আল্লাহ্‌ সর্বশক্তিমান। হা হা হা। যদি তার ৩নং স্টেপে নেয়া সিদ্ধান্ত সঠিক হয়ে থাকে, তাহলেতো তার যুক্তির ভিত্তি যেটা সেটা ভুল। আর যদি ভিত্তি ভুল হয়ে থাকে তাহলে তো তার সিদ্ধান্ত যেটা অর্থাৎ আল্লাহ্‌ সর্ব শক্তিমান নন এটা ভুল।তার মানে আল্লাহ্‌ সর্ব শক্তিমান।
দেখলেন তো, আমরা আগেই বলেছিলাম যে, নাস্তিকদের যুক্তির কোন ভিত্তি থাকেনা। আর ভিত্তি না থাকাকে সে বাকচাতুর্য দ্বারা আড়াল করে। দেখেন সে উপরের ৩টি যুক্তিবাক্যের ১মটি ও শেষেরটি বাদ দিয়ে, মাঝখানেরটি নিয়েছে। এরপর এটাকে আবার প্রশ্নের আকারে পেশ করেছে। যাতে করে আস্তিক তার যুক্তির ভিত্তিহীনতা বুঝতে না পারে।
আসেন একটু দেখি এই উদ্ভট যুক্তিটা এমন উদ্ভট কি করে হলো। খেয়াল করুন, যুক্তিটির ১ম ভিত্তি হচ্ছে, আল্লাহ্‌ সর্ব শক্তিমান। তিনি সবই করতে পারেন। এই কথাটা স্বীকার করার পর তিনি অমুকটা পারেন না এটা তো বলার আর কোন স্কোপ থাকে না। অথচ যুক্তির ২য় লাইনেই দুই দুইটা পারেনা (অর্থাৎ বানাতে পারেনা, উঠাতে পারেনা)আল্লাহ্‌র সাথে যুক্ত করা হয়েছে চরম অযৌক্তিকভাবে। যদি আমরা এই যুক্তির ১ম ধাপ অর্থাৎ আল্লাহ্‌ সর্ব শক্তিমান এটা আমরা মেনে নেই, তাহলে যুক্তিটির ২য় ধাপ অনিবার্যভাবে এটাই হয় যে, আল্লাহ্‌ যেকোন পাথর বানাতেও পারেন এবং সেটা উঠাতেও পারেন। অথচ এটা না করে তার উল্টোটা করা হয়েছে; যার ফলে সিধান্তও ভুল হয়েছে এবং যুক্তিটাও একটা অদ্ভুত ও উদ্ভট আকৃতি ধারণ করেছে। একেই বলে অদ্ভুটুদ্ভট যুক্তি।
আজকে এই পর্যন্তই শেষ করছি। আপনারা আরো চিন্তা করলে আরো জবাব পাবেন। আল্লাহ্‌ আমাদের সবাইকে খঁটি ঈমানের সাথে মরার তৌফীক দান করুন। আমীন। ওয়া সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এই পোষ্টটি পড়ে যদি কারো ভালো লাগে, তাহলে তিনি যেন শুধু ঐ আল্লাহ্‌ পাকেরই প্রশংসা করেন, যিনি তার বান্দাদের মাথায় এগুলো ঢেলেছেন। সকল প্রশংসা শুধু তাঁর।

বিয়ের আগে অবশ্যই স্বামী-স্ত্রীর ব্লাড গ্রুপ জেনে নিন! কিন্তু কেন?


অনেক প্রেমিক-প্রেমিকাকেই দেখা যায় পরস্পরের ব্লাড গ্রুপ নিয়ে চিন্তিত হতে। বেশিরভাগ মানুষেরই ধারণা বর ও কনের ব্লাড গ্রুপ মিলে গেলে হতে পারে নানান রকম সমস্যা? আসলেই কি তাই? না, ধারণাটি একদম ভুল। ব্লাড গ্রুপ মিলে গেলে কোনো সমস্যা নেই। তবে বিয়ের আগে বর ও কনের ব্লাড গ্রুপ পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরী একটি বিষয়। কেন এটাএতি এত জরুরী? আসুন, জেনে ও বুঝে নেই সেই বিষয়টি।

জেনে নেয়া যাক এই বিষয়ে জরুরী কিছু তথ্যঃ
স্বামী-স্ত্রীর ব্লাড গ্রুপ কেমন হওয়া উচিত সে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার আগে প্রথমে আমাদের ব্লাড গ্রুপ সম্পর্কে কিছু কথা জানা দরকার। প্রধানত ব্লাড গ্রুপ কে দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
- একটি হলো ABO system (A, B, AB & O),
- আরএকটি হলো Rh factor {Rh positive(+ve) & Rh negative(-ve)}. অর্থ্যাৎ Rh factor ঠিক করবে ব্লাডগ্রুপ পজেটিভ হবে না নেগেটিভ হবে।

ব্লাড গ্রুপগুলো হলঃ-
A+ve, A-ve, B+ve, B-ve, AB+ve, AB-ve O+ve, O-ve. জেনে নেয়া যাক, যদি অন্য গ্রুপের ব্লাড কারো শরীরে দেওয়া হয় তাহলে কী হবে?

কেন টেস্ট করাবেন?
যখন কোনো Rh নেগেটিভ গ্রুপের ব্যক্তিকে Rh পজেটিভ গ্রুপের ব্লাড দেয়া হয় তখন প্রথমবারে সাধারণত কোন সমস্যা হবে না। কিন্তু এর বিরুদ্ধে রোগীর শরীরে এন্টিবডি তৈরী হবে। ফলে রোগী যদি আবার কখনও পজেটিভ ব্লাড শরীরের নেয় তাহলে তার ব্লাড cell গুলো ভেঙ্গে যাবে, এবং মারাত্মক সমস্যা দেখা দেবে। যেমন জ্বর, কিডনি ফেইলিউর, হঠাৎ মৃত্যু ইত্যাদি। এই সমস্যাকে মেডিকেল টার্ম এ বলা হয় ABO incompatibility।

তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে স্বামী-স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ কী রকম হওয়া দরকার?
যদি স্বামীর ব্লাডগ্রুপ blood group নেগেটিভ হয় তাহলে স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ পজেটিভ বা নেগেটিভ যে কোনো একটি হলেই হবে।
কিন্তু স্বামীর ব্লাডগ্রুপ যদি পজেটিভ হয়, তাহলে স্ত্রীকেও পজেটিভ ব্লাড গ্রুপের একজন হতে হবে। কোনোভাবেই স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ নেগেটিভ হওয়া চলবে না। অর্থাৎ একজন নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপের নারী কেবলই একজন নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপের পুরুষকে বিয়ে করাই নিরাপদ।


যদি স্বামীর ব্লাডগ্রুপ পজেটিভ হয় আর স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ নেগেটিভ হয় তাহলে কী সমস্যা হবে?
রক্তের গ্রুপ মিলে গেলে কোন সমস্যা হয় না। তবে ভিন্ন ব্লাড গ্রুপে       স্ত্রী যদি নেগেটিভ হয় আর স্বামী যদি পজিটিভ হয়, তাহলে সন্তান জন্মের সময়ে ‘লিথাল জিন’ বা ‘মারন জিন’ নামে একটি জিন তৈরি হয় যা পরবর্তীতে জাইগোট তৈরিতে বাঁধা দেয় বা জাইগোট মেরে ফেলে। সে ক্ষেত্রে মৃত বাচ্চার জন্ম হয়।

যদি স্বামীর ব্লাড গ্রুপ পজেটিভ হয় তাহলে সাধারনত বাচ্চার ব্লাডগ্রুপও পজেটিভ হবে। যখন কোনো নেগেটিভ ব্লাডগ্রুপের মা ধারন করবে পজেটিভ Fetus(ভ্রুন), তখন সাধারনত প্রথম বাচ্চার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু ডেলিভারির সময় পজেটিভ Fetus এর ব্লাড, placental barrier ভেদ করে এবং placental displacement এর সময় মায়ের শরীরে প্রবেশ করবে। মায়ের শরীরে ডেলিভারির সময় যে ব্লাড প্রবেশ করবে, তা ডেলিভারি হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই মায়ের শরীরে Rh এন্টিবডি তৈরী করবে। এবং সমস্যা হবে দ্বিতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে।

যখন মা দ্বিতীয় সন্তান বহন করবে, তখন যদি তার fetus এর ব্লাডগ্রুপ পুনরায় পজেটিভ হয় তাহলে মায়ের শরীরে আগে যেই Rh এন্টিবডি তৈরী হয়েছিলো সেটা placental barrier ভেদ করে বাচ্চার শরীরে প্রবেশ করবে। আর যখন fetus এর শরীরে Rh antibody ঢুকবে তখন fetal এর RBC এর সাথে agglutination হবে, যার ফলে RBC ভেঙে যাবে। একে মেডিকেল টার্ম এ “Rh incompatibility” বলে। অর্থাৎ শিশুটি মারা যাবে।

অর্থাৎ পজিটিভ ব্লাড গ্রুপের পুরুষ নেগেটিভ গ্রুপের মহিলাকে বিয়ে করলে তাঁদের একটিই সন্তান থাকার সম্ভাবনা বেশি। কোন কারণে প্রথম সন্তানটি জন্ম না নিলে পরবর্তীতে তারা নিঃসন্তান থেকে যাবার সম্ভাবনাও অত্যন্ত বেশি।

Friday, October 2, 2015

ভালবাসুন স্ত্রীকে...


যে মেয়েটি গরম তেলে হাতে পায়ে ফোস্কা ফেলে টেবিল ভরে খাবার সাজিয়ে রাখে। সে মেয়েটিকে এক গাল ভাত খাইয়ে দেওয়াটি কি খুব বাড়াবাড়ি ?
"
যে মেয়েটি বাসন থালাবাটি গুিছিয়ে দিন শেষে আপনার জন্য অপেক্ষা করে। তার জন্য এক
বাটি আইসক্রিম অথবা মুঠো ভরে কিছু চকলেট নিয়ে
আসাটা কি খুব বাড়াবাড়ি ?
"
যে মেয়েটি আপনার আশায় ঘরের সেবায় সংসার
সাজিয়ে সারাটি জীবন কাটিয়ে দেয় l কোনো এক
অজানা কারণে অভিমানে যদি ওপাশ ফিরে ঘুমায় -
তার পিঠের আচল সরিয়ে ছোট্ট একটি চুমু খাওয়াটি
কি খুব বাড়াবাড়ি ?
"
শুধু স্বপ্ন দিয়ে জীবন চলেনা আবার স্বপ্ন ছাড়াও
জীবন চলেনা। ভিডিও গেমসের মতো দ্বিতীয় লাইফ
নিয়ে কেউ পৃথিবীতে আসেনা, জীবন একটাই সে !
জীবন ঢেলে সাজাতে হয়...
"
ভালবাসুন স্ত্রীকে...
"
স্ত্রী কে ভালবাসুন -যখন সে আপনার চায়ে ছোট
একটি চুমুক দেয়। কারণ, সে নিশ্চিত হতে চায় চা টি
আপনার পছন্দ মত হয়েছে কিনা।
"
স্ত্রী কে ভালবাসুন - যখন সে আপনাকে নামাজ
পড়তে জোর করে। কারণ সে আপনারই সাথে
জান্নাতে যেতে চায়।
"
স্ত্রী কে ভালবাসুন - যখন সে তৈরি হতে দীর্ঘ সময়
পার করে দেয়। কারণ সে চায় তাকে আপনার চোখে
সবচেয়ে সুন্দর লাগুক।
"
স্ত্রী কে ভালবাসুন - যখন তাকে সুন্দর দেখায়।
কারণ সে আপনারই, তাই প্রশংসা করুণ।
"
স্ত্রী কে ভালবাসুন - যখন সে আপানাকে নিয়ে
ঈর্ষান্বিত হয়। কারণ, সে অন্য সমস্ত মানুষকে রেখে
শুধুমাত্র আপনাকেই বেঁছে নিয়েছে"।

~~~~ঈশ্বর বিশ্লেষণ-১~~~~


অনগ্রহ করে কমেন্ট করার পুর্বে পোষ্টটি অবশ্যই পড়বেন।
---
ঈশ্বর আছেন কি নেই, এটির সঠিক উত্তর আজও কেউ দিতে পারেনি। কোনভাবেই ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রমান করা যায়না, আবার তিনি যে নেই এটিও নিশ্চিত ভাবে প্রমাণ করা যায় না। ঈশ্বর থাকার পক্ষে যে যুক্তিগুলো দেখা যায় সেগুলো এমনঃ-
১) স্রষ্টা ছাড়া কোন কিছুই সৃষ্টি হওয়া সম্ভব না, তাই এ বিশ্ব জগতেরও     একজন স্রষ্টা থাকবে।

২) এমন নিখুঁত সৃষ্টি স্রষ্টা ছাড়া সম্ভব না, যেমন আমাদের পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল আমাদের বসবাস উপযোগী, এখানে সামান্য তারতম্য থাকলে আমরা বসবাস করতে পারতাম না। আমাদের পৃথিবী যদি সূর্যের কাছে অথবা আরো অনেক দুরে থাকতো তাহলে আমাদের বেচে থাকা সম্ভব ছিল না। অতএব এই নিখুঁত সৃষ্টি একজন স্রষ্টা ব্যাতিত কখনই সম্ভব না।

৩) স্রষ্টা ব্যতীত আমাদের কাজকর্মের সঠিক মুল্যায়ন সম্ভব না, যেমন কেউ যদি একটি খুন করে আর কেউ যদি ১০০টি খুন করে তাহলে এর বিচার পৃথিবীতে সম্ভব না, তাই একজন স্রষ্টাকে অবশ্যই থাকতে হবে যিনি পরকালে এগুলোর বিচার করবেন।
এমন অনেক যুক্তি দেখানো যায়, স্রষ্টার অস্তিত্ব থাকার পক্ষে। কিন্ত আমি আপাতত বহুল দাবীকৃত এই যুক্তিগুলো বিশ্লেষণ করবোঃ-

ক) স্রষ্টা ছাড়া সৃষ্টি সম্ভব না, এই যুক্তিটি কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য না কারণ তাহলে স্রষ্টারও স্রষ্টা থাকতে হবে। এখন প্রশ্ন জাগতে পারে তাহলে এই বিশ্বজগত কে সৃষ্টি করলো? এক্ষেত্রে অনেক গ্রহনযোগ্য তত্ত্ব (বিগব্যাঙ, ইনফ্লেশন) থাকলেও সেগুলো নিশ্চিত ভাবে প্রমাণ করেনা যে স্রষ্টা নেই। কিন্ত আমরা সৃষ্টির সংজ্ঞা থেকে জানি কোন কিছুর সৃষ্টির উপাদান হলো শক্তি এই শক্তিটি কোথা থেকে আসলো? যদি স্রষ্টা থাকেন তিনিইবা এই শক্তি কোথা থেকে পেলেন? এটির সমাধান হলো শক্তির দুই প্রকার একটি "ধনাত্বক" আরেকটি "ঋনাত্বক", অতএব মোট শক্তির পরিমাণ শুন্য। এখানে স্রষ্টার প্রয়োজন হয়নি, স্রষ্টা যদি শক্তি হয়ে থাকে তাহলে তিনি শুন্য। অতএব একথা বলতে পারিনা যে স্রষ্টা নেই।

খ) এমন বসবাস উপযোগী নিখুঁত পরিবেশ স্রষ্টা ছাড়া সম্ভব নয়, এটির এককথায় উত্তর হলো, আমাদের প্রয়োজনে পৃথিবী সৃষ্ট হয়নি, পৃথিবীর এই পরিবেশের কারনে আমরা সৃষ্টি হয়েছি। সহজ কথায় বলতে গেলে, পৃথিবীতে অনেক প্রানী আছে কিন্ত তাদের বাসস্থান ভিন্ন পরিবেশের কারণে; যেমন- উটের জন্য সহনশীল পরিবেশ মরুভুমী তাই উট মরুভুমিতেই বসবাস উপযোগী। এমন উদাহরণ অনেক দেয়া যাবে যেখানে পরিবেশই প্রানীর বাসস্থান নির্ধারণ করে। অতএব ২য় যুক্তিটিও ধোপে টিকেনা।

৩) হ্যাঁ, এটি অনেক গ্রহনযোগ্য যুক্তি, সব কিছুর সঠিক মুল্যায়নের জন্য একজন স্রষ্টার প্রয়োজন ছিল, কিন্ত না থাকলে...?
যেমন- আমার একটি গাড়ির খুব প্রয়োজন, যোগাযোগ সুবিধার জন্য কিন্ত যদি না থাকে? তাহলে আমাকে বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে কিন্ত একথা বলা যাবেনা যে আমার একটি গাড়ি অবশ্যই আছে। অতএব এই যুক্তিটি প্রয়োজনীয়তা বুঝালেও আছে; এটি নিশ্চিত প্রমাণ হয় না।
=========

সবাই নগ্নতা, নগ্ন দৃশ্য পছন্দ করে কিন্তু যে নগ্ন হয় তাকে কেউ পছন্দ করে না !


☞ পতিতালয়কে নয়, যে পতিতা; তাকে সবাই  ঘৃণা করে !
.
☞ সব পুরুষ চায় সতী নারীকে বিয়ে করতে
কিন্তু সে একবার ভাবে না যে" যৌবনে কি আমি
কোন মেয়ের সতিত্ব নষ্ট করিনি?"
.
☞ মেয়েরা চায় তার স্বামী শুধু তাকেই সময়
দিবে কিন্তু তারা একবারো ভাবে না যে,
"অন্য ছেলেদের সাথে আমি সময় নষ্ট করিনি ?"
.
☞ "খুন" না, সবাই ভয় পায় খুনীকে !
.
☞ মাদক দ্রব্যকে না, সবাই দুরে সরিয়ে রাখে মাদকসেবীকে !
.
☞ সব ছেলেরাই চায় তার নিজের বোনের সাথে যেন কেউ প্রতারণা না করে! কিন্তু অন্যদিকে সে নিজেই মেতে থাকে চাঁর পাঁচজন মেয়ের সাথে ভালবাসার নামে মিথ্যে খেলায় ! (সবাই এক নয়; কেউ কেউ)
.
☞ ময়লা আবর্জনা সৃষ্টি করে মানুষ অথচ যে
সকল মানুষ এই আবর্জনা পরিষ্কার করে তাদের সবাই ঘৃনা করে ! এটিই বাস্তব ! এটিই সত্যি !
এ কথাটি আমার আপনার এবং পুরো সমাজের সবার উদ্দেশ্যে বলা । তবে-
একটি কথা মনে রাখবেন আপনি যা করবেন
তার ফল আপনাকে একদিন না একদিন ভোগ
করতেই হবে । এটিই দুনিয়ার নিয়ম।

চরম আতংকে কাটছে মুসলমান পরিবারগুলোর দিনরাত্রী !



বাড়িতে গরু জবাই করে মাংস খেয়েছেন, এমন গুজবে ভারতের উত্তর প্রদেশের একটি গ্রামে এক মুসলমানকে হত্যার পর ওই গ্রামের মুসলমানদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তার আশ্বাস পেয়েও কাটছে না গ্রামবাসীর শঙ্কা। এদিকে রাজ্য সরকার ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোকে দশ লাখ রুপি করে ক্ষতিপুরণ এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যয় বহনের ঘোষণা দিয়েছে।

উত্তর প্রদেশের বিসরা গ্রামে সোমবার এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর তীব্র আতঙ্কর মধ্যে মুসলমান গ্রামবাসী গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে উদ্যত হয়। তবে প্রশাসনের আশ্বাসে শেষ মুহুর্তে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে তারা। ৫৮ বছর বয়সী আখলাককে হত্যার দায়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেয় প্রশাসন। অখলাকের পরিবারও গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে চায়।


প্রায় চৌদ্দ হাজার জনগোষ্ঠির এ গ্রামে প্রায় ৫০ টি মুসলিম পরিবারের বাস।

আখলাকের ৭০ বছর কয়সী মা তীব্র উৎকন্ঠা নিয়ে বলেন, ‘ওরা আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে। পুলিশ আপাতত আমাদের সুরক্ষা দিচ্ছে। কিন্তু তারা তো আর সারাক্ষণ গ্রামে থাকবে না। আমাধের উপর এ ধরণের হামলা আরো ঘটতে পারে। আমরা আমাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করে নিরাপদ কোন স্থানে চলে যেতে চাই। এখানে আমরা কেউ নিরাপদ নই। ওই হামলায় আখলাকের মা নিজেও অহত হন।’

আখলাকের অন্য একজন আত্নীয়ও তাদেরকে গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। এ আত্নীয় বলছেন, আমাদের পরিবারের সদস্য এবং তাদের ঘর বাড়ির জন্য এখন সেখানে থাকাটা নিরাপদ নয়। তাই তাদেরকে সেখান থেকে অন্যত্র সরে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি আমরা। গ্রামের অন্যন্য মুসলমানরাও বলছেন, স্থায়ীভাবে এ গ্রাম ছেড়ে যাওয়াটাই তাদের জন্য মঙ্গলজনক।

ইলিয়াস নামের একজন গ্রামবাসী বলেন, ‘এ গ্রামেই আমসাদেতর বসতি। কিন্তু এখানে এত আতঙ্ক আর ভয়ের মধ্যে বাস করা যায় না। বুধবার সকালে মুসলমান গ্রামবাসীরা এ গ্রাম ছেড়ে স্থায়ীভাবে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছিলাম। ভবিষ্যতে এ গ্রামে শান্তি ফিরে আসার তেমন সম্ভাবনা নেই। ’

তারপরও আপাতত মুসলমানরা গ্রাম ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন। জেলার অতিরিক্ত ম্যাজিষ্ট্রেট রাজেশ যাদভ নিহতের পরিবারের সাথে আলোচনা করে শান্তি ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিয়েছেন। একই সাথে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করারও আশ্বাস দিয়েছেন যাদভ।

যাদভ টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, ক্ষতিগ্রস্থের পরিবারের প্রতি রাজ্য সরকারের সদয় দৃষ্টি রয়েছে । মুসলমানদেরকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এমনকি মুসলমানদের ও তাদের ঘরবাড়ির নিরাপত্তার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে এবং যেকেতান সমস্যার জন্য আমার সাথে সরাসরি যোগাযোগের জন্য আমার মোবাইল নম্বরও দেয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, রাজ্য সরকার ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার গুলোকে দশ লাখ রুপি করে ক্ষতিপুরণ এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যায় বহনের ঘোষণা দিয়েছে। রাজেশ যাদভের সাথে বৈঠকের পর গ্রামের মুসলমানরা বলছেন, তারা কিছুটা আশ্বস্ত হতে পেরেছেন। গ্রামের সকল জনগোষ্ঠিার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে চান বলেও জানিয়েছেন তারা।

পতিতালয়, পুরুষ আর যৌন বিকৃতির অজানা অধ্যায় !


বিকৃত যৌনতার সংস্কৃতির অপরিহার্য বাস্তবতা পতিতালয়। হাজার হাজার বছরের পুরোনে বৃত্তি এটি। পতিতালয় এবং সেখানকার যৌনকর্মীদের ব্যবহার করে পুরুষ। আড়ালে যে পুরুষ নিয়মিত যাতায়াত করে যৌনপল্লীতে, সামনাসামনি সেও খারাপভাবে দেখে সেখানকার কর্মীদের। শুধুমাত্র যাতায়াতই না সেখানে গিয়ে পুরুষরা বাহানা ধরে নানা রকম ইচ্ছা পূরণের। আর সেরকমই কিছু বিকৃতমনা পুরুষের বিকৃত ইচ্ছার কথা এক লেখার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন ভারতের নারীবাদী চিনকি সিনহা। সম্প্রতি মতামতভিত্তিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি ও’ নামক সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে তার ওই লেখাটি।

একবার চিনকি সিনহা যৌনপল্লীর কর্মীদের জিজ্ঞাসা করেছিলেন তারা এখানে কি ধরণের ঘটনার সম্মুখীন হন। সে প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, অনেক পুরুষই নানান ধরনের বাহানা ধরে। কেউ হয়তো যৌনকর্মীদের উৎসবের পোশাকে দেখতে চান, কেউ আবার নিজেই পরতে চান যৌনকর্মীদের পোশাক, কেউ আবার যৌন ক্রিয়ায় লিপ্ত হতে চান বিভিন্ন ভঙ্গিমায়। তবে এসব বিষয়কে যৌনকর্মীরা খারাপভাবে নেন না বলেই জানান লেখক চিনকি সিনহা।


পতিতালয়ের যৌনকর্মীদের সঙ্গে বিনিময় করা অভিজ্ঞতার আলোকে লেখক জানান, কিছু পুরুষ যৌনকর্মীদের উলঙ্গ করে তাদের পোশাক পরেন, অনেকে আবার ইচ্ছা পোষণ করেন পিরিয়ড হওয়া নারীদের পোশাক ধোয়ার। তবে এসব বিষয়কে যৌনকর্মীরা খারাপভাবে নেননা কারণ তারা এর বিনিময়ে টাকা পান।

তবে আরও ভয়াবহ বিকৃতিরও নজির তুলে ধরেন লেখক। এক যৌনকর্মী লেখককে জানান, বিকৃতমনা এক পুরুষের বিকৃত ইচ্ছার কথা। যিনি ইচ্ছা পোষণ করেন এক যৌনকর্মীকে পেটানোর। তিনি ওই কর্মীকে পাখার সাথে বাঁধেন এবং তাকে মারধর করেন। তবে যৌনকর্মীটিকে তখন চুপই থাকতে হয়েছে কারণ তার প্রয়োজন ছিল টাকার এবং সে জন্যই এসব সহ্য করে যান তিনি।

অনেক আগে একই ওই লেখক চিনকি সিনহা অন্য আরেক লেখায় তুলে ধরেন পুরুষদের সম্পর্কে যৌনকর্মীদের ভাবনাকে। সেখানে যৌনকর্মীরা পুরুষদের সম্পর্কে তাদের ধারণা বিনিময় করতে গিয়ে বলেন, পুরুষরা আসলে উন্মাদ। রাস্তা থেকে মেয়েদের তুলে নিয়ে গিয়ে ঘরে আবদ্ধ করেন তারা, যা আসলে মানবিকতা বিবর্জিত।

তবে এসব কাজ তারা এজন্যই করতেন কারণ এর জন্য তাদের কখনোই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে না। নৈতিক বোধও নরাড়া দেয় না তাদের, তারা মনেই করে যৌনকর্মীর সাথে যা খুশি করা যায়। যেহেতু তারা তাদেরকে পারিশ্রমিক দেয় সুতরাং তারা তাদের গায়ে হাত তুলতেই পারে।

যৌনকর্মীদের অনেক বুদ্ধিমান হতে হয়। তারা পুরুষের নিচু মানসিকতাটাকে বুঝতে পারে। পুরুষকে সুযোগ দিলে তারা আরো বেশি পেয়ে বসতে চান এবং যৌনকর্মীরা যদি এ বিষয়ে সচেতন না থাকতেন তবে তারা বড় ধরণের কোন দুর্ঘটনার মধ্যে পড়ে যেতেন। এজন্য তারা অনেক সচেতন থাকতে বাধ্য হন।

তারপরও সবসময় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়ে ওঠে না। তেমনই এক ঘটনার কথা লিখেছেন চিনকি সিনহা।

কামাঠিপুরায় এক সমবায় সমিতিতে টাকা রাখতে আসা এরকমই এক নারীর সাথে কথা বলেন ওই লেখক। ওই নারী তাকে জানান, তিনি ওই এলাকার এক যুবককে বিয়ে করেন। তিনি আশা করেছিলেন ওই হোটেলকর্মী হয়তো তাকে ভালোবাসবে। কিন্তু তিনিও তাকে যৌনব্যবসাই করতে বলেন। কথা অনুযায়ী তিনিও চালিয়ে যান ব্যবসা। কিন্তু একসময় হতাশ হয়ে পড়েন তিনি। তবে তিনি এ ও জানতেন যে দিন শেষে তিনি শুধু কিছু ভালোবাসার শব্দই শুনতে চান। তার গল্পটা খুবই মর্মান্তিক হলেও এখানকার বেশিরভাগ নারীর জীবনের গল্পই এরকম।

সবমিলে লেখকের বক্তব্য: আমরা নারীবাদীরা শুধুমাত্র কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করি। নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে আমরা খুবই নিচের দিকে অবস্থান করছি। আমরা নিজেদেরকে সার্থক প্রমান করি। অধিকার বঞ্চিত নারীর কষ্ট উপলব্ধি করার ক্ষমতা আসলে আমাদের নেই। আমরা আসলে পছন্দ করি বেশি চিন্তা করতে, কম দেখতে এবং তার চাইতেও কম করতে। ভার্জিনিয়া উলফের লেখাকে বাইবেল মনে করে অতিরিক্ত চিন্তা করেই সম্ভব না নারীর অধিকার রক্ষার।

নিজের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার বরাতে লেখকের মত, নারীদের পাচারের হাত থেকে রক্ষা এবং তাদেরকে রক্ষার জন্য অনুমোদন দেয়া যৌনপল্লীগুলোতে এর অন্তরালে যা হয়ে আসছে তা আসলে পুরুষের বিকৃত রুচির ইচ্ছা পূরণ। এখান সকল গল্পই আসলে বিশ্বাঘাতকতা এবং কষ্টের।

Thursday, October 1, 2015

বিশ্বের শীর্ষ ১০টি ধর্ষণের দেশ!


১. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র : বিশ্বের
সর্বাপেক্ষা ধনী ও শক্তিশালী দেশে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও নারী
নিরাপত্তার হার চিন্তা করার মতো
বিষয়। এদেশে ধর্ষণের শিকার
হওয়াদের মধ্য়ে ৯১ শতাংশ মহিলা ও
বাকী ৯ শতাংশ পুরুষ।
২. যুক্তরাজ্য : ইংল্ন্ড পৃথিবীর সবচেয়ে
উন্নত দেশগুলির অন্যতম। অথচ সেদেশে
ধর্ষণের ঘটনাও ঘটে বিস্তর। তথ্য বলছে,
বছরে প্রায় ৮৫ হাজার মহিলা ধর্ষিতা
হন গ্রেট ব্রিটেনে। প্রতি বছর যৌন
হয়রানির শিকার হন প্রায় ৪০ হাজার
মহিলা।
৩. দক্ষিণ আফ্রিকা : দক্ষিণ
আফ্রিকায় কমবয়সী ও শিশুকন্যার
ধর্ষণের ঘটনা ঘটে সবচেয়ে বেশি। আর
সেদেশে সাজাও অত্যন্ত কম। কেউ
দোষী প্রমাণিত হলে সাজা হয় মাত্র ২
বছরের জেল।
৪. সুইডেন : সুইডেনে প্রতি চারজনে
একজন মহিলা ধর্ষণের শিকার হন। এবং
প্রতিবছর ধর্ষণের সংখ্য়া হুহু করে
বাড়ছে সুইডেনে।
৫.ভারত: বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র
ভারতে প্রতিমুহূর্তেই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে
চলেছে। নির্ভয়া কাণ্ডের পর সেভাবে
কোনও প্রভাব পড়েনি সমাজজীবনে বা
ধর্ষণের ঘটনাও কমার কোনও লক্ষণ
চোখে পড়েনি।
৬. জার্মানি : ইউরোপের আর এক উন্নত
দেশ জার্মানিতে এখনও পর্যন্ত ধর্ষণের
ঘটনার প্রাণ হারিয়েছেন ২ লক্ষ ৪০
হাজার মানুষ।
৭. ফ্রান্স: ১৯৮০ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সে
ধর্ষণের ঘটনা অপরাধ হিসাবে গণ্য
হতো না। পরে তা অপরাধের তালিকায়
স্তান পেয়েছে। বছরে ৭৫ হাজারের
বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে ফ্রান্সে অথচ
১০ শতাংশ ঘটনারও অভিযোগ জমা পড়ে
না পুলিশে।
৮. কানাডা : হাফিংটন পোস্টের
রিপোর্ট অনুযায়ী বছরে ৪ লক্ষ ৬০
হাজার মানুষ যৌন নির্যাতনের শিকার
হন কানাডায়। বেশিরভাগ ঘটনাই ঘটে
বাড়িতে চেনা পরিবেশে এবং ৮০
শতাংশ ক্ষেত্রে পরিবার-
বন্ধুবান্ধবরাই যৌন নির্যাতন করেন।
৯. অস্ট্রেলিয়া : অস্ট্রেলিয়াতে ২০১২
সালের হিসাব ধরলে পঞ্চাশ হাজারের
বেশি মহিলা বছরে নির্যাতিতা হন।
১০. ডেনমার্ক : ডেনমার্কে ৫২ শতাংশ
মহিলা যৌন নির্যাতনের শিকার হন
প্রতিবছর।
সূত্র : ওয়ান ইন্ডিয়া

তথ্য প্রযুক্তির আবিষ্কারক/জনক/প্রতিষ্ঠাতা---


@-----------------------------------@

১৷ কম্পিউটার- হাওয়াড এইকিন ৷
২৷ আধুনিক কম্পিউটার- চালস ব্যাবেজ ৷
৩৷ লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম- ট্যাভেলড লিনাক্স ৷
৪৷ কম্পিউটার প্রোগ্রামিং- গ্রেস হুপার ৷
৫৷ লেজার প্রিন্টার- গেরি স্ট্রাকওয়েদার ৷
৬৷ ডেক্সটপ/পিসি- হেনরি এডওয়াড রবাটস ৷
৭৷ কম্পিউটার মাউস- ডগলাস এঙ্গেলবাগ ৷
৮৷ ল্যাপটপ- বিলমেগারিজ ৷
৯৷ টেলিফোন- আলেকজান্ডার গ্রাহামবেল ৷
১০৷ সাচ ইঞ্জিন- এলান এমটাচ ৷
১১৷ ইন্টারনেট- ভিনটন জি কাফ ৷
১২৷ ই-মেইল- রে টমলিনসন ৷
১৩৷ উইকিপিডিয়া- জিমি ওয়ালস ৷
১৪৷ মাইক্রোপ্রসেসর- মাসিয়ান টেড হফ ৷
১৫৷ গুগল- ল্যারি পেজ ও সাজেই ব্রিন ৷
১৬৷ জাভা প্রোগ্রামিং ভাষা- জেমস গজলিং ৷
১৭৷ ইউটিউব- চ্যাড হারলি, স্টিভ চ্যান ও জাভেদ করিম ৷
১৮৷ মাইক্রোসফট কপোরেশন- বিল গেটস ও পল এলান ৷
১৯৷ টুইটার- জ্যাক ডোরসে, নোয়া গ্লাস, ইভান উইলিয়ামস ও বিজ স্টোন ৷
২০৷ অপেরা ওয়েব ব্রাউজার- জন স্টিভেনশন ৷
২১৷ ব্লগিং- ইভান উইলিয়ামস ৷
২২৷ এস এম এস- ম্যাটি ম্যাক্কোনেন ৷
২৩৷ পেন ড্রাইভ- পুয়া কেইন সেং ৷
২৪৷ ওয়াডপ্রেস- ম্যাট মুলানভোগ ৷
২৫৷ লাইক বাটন- জোয়ানেস জোয়েফ ডিমার ৷
২৬৷ ইয়াহু- ডেভিড ফিলো ও জেরি ইয়াং ৷
২৭৷ www- টিম বানস লি ৷
২৮৷ মোবাইল ফোন- মাটিন কুপার ৷
২৯৷ ফেসবুক- মাক জুকারবাগ ৷
৩০৷ সিডি- নোরি ও ওগো ৷
৩১৷ ডিজিটাল ক্যামেরা- স্টিভেন সিসোন ৷
৩২৷ ATM- জন শ্যাফাড ব্যারন
পড়ুন, শেয়ার করে প্রোফাইল এ সংরক্ষণ করুন। ভালো লাগলে আমাদের সাথেই থাকুন।

মেডিক্যাল কলেজের এ্যাডমিশনের প্রশ্ন পত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে ছাত্র ছাত্রীদের আন্দোলনে পুলিশের নগ্ন হামলা।

 জাফর ইকবাল স্যার আপনি কোথায় ?
এই অবেলায় ঘুমুচ্ছেন এত গরমেও লেপ মুড়ি দিয়ে?
স্যার আপনাকে কি ছাড়পোকা কামুড় দিচ্ছে না? তাহলে চিৎকার করছেন না কেন ?
আর আনিসুল হক সাহেব আপনি মনে হয় জ্যোৎস্না বিলাসে গেছেন। ওখানেই থাকুন। সোনার বাংলায় কথা বলে বাংলাকে অপমান করবেন না। আপনাদের জন্য বাংলা লজ্জিত।
মেডিক্যাল কলেজের এ্যাডমিশনের প্রশ্ন পত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে ছাত্র ছাত্রীদের আন্দোলনে পুলিশের নগ্ন হামলা। এর শেষ কোথায় ? অশিক্ষিত পুলিশ তোরা শিক্ষার মর্যাদা কি বুঝবি?
বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন কি এই ছিলো?
কসম বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে আজ উনাকে সুই-সাইড করতে হত। উনার আদর্শে আজ দেশ ১% পরিচালনা করছে না। উনার সুযোগ্য কন্যা। নিয়ন্ত্রন করুন সব কিছু কেটে ফেলে দিন আগাছা। নিজের বাবার আত্মাকে শান্তি দিন। ছাত্র ছাত্রীদের কাছে অনুরোধ প্রতিবাদে পিছ পা হবেন না। ভ্যাটের আন্দোলন দেখুন। সবাই এক হয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করুন।
সোনার বাংলাকে রক্ষা করার দায়িত্ব সবার। পরাজয় নয়। ক্রান্তি আসবেই। ক্রান্তি আসবেই।