Saturday, September 19, 2015

"এক বাটি আলুভর্তা এবং একটি ক্যান্ডেল লাইট ডিনার---

নিরার প্রতি রাগ হওয়াটি মোটেও উচিত হয়নি। হঠাৎ করেই যেন সব কিছু হয়ে গেল। প্রকাশের প্রতি খুব খারাপ লাগছে।
,
রাগ হওয়ার ও কারণ আছে । রাগ হবে না কেন?
এত বড় একটি মেয়ে কিনা আলু ভর্তা করতে পারেনা। এটিতো বাচ্চারাও পারে। অবশ্য এতে ওর কোন দোষ নেই। ও আগেই বলছে ও এসব পারেনা। কিন্তু তবুও আলুভর্তা না পারার কি আছে।
,
প্রকাশ এখনো খাবার টেবিলেই বসে আছে। নিরা বাথরুমে, মনে হয় কাঁদছে। কান্নার কোন শব্দ নাই কারণ পানির ট্যাপ ছেড়ে দেওয়া । ট্যাপের শব্দে নিরার কান্নার শব্দ ঢাকা পড়েছে।
,
প্রকাশ আর নিরার বিয়ে হইছে প্রায় চার মাস। কিছুটি লাভ ম্যারেজ আর কিছুটি এরেঞ্জ ম্যারেজ। বড়লোকের মেয়ে তাই রান্না বান্না পারেনা স্বাভাবিক ব্যাপার। একদিন প্রকাশ নিরাকে জিজ্ঞেস করলো, -রান্না বান্না কিছু পারো?
,
নিরা প্রশ্নটি শুনে কিছুটি লজ্জা পেল আর লজ্জিত মুখেই বললো,
- না আসলে আমি কখনই রান্না ঘরে যাইনি। দুঃক্ষীতো!
- পারোনা ঠিক আছে। তোমাকে তো আর রান্না বান্না করার জন্য বিয়ে করিনি, কাজের মেয়ে রাখবো সেই এসব করবে।
,
কিন্তু বিয়ের পর এসে নিরা কাজের মেয়ে ছাড়াই ছিলো , সংসারে কাজের মেয়ে থাকুক এটি তার ভাল লাগেনা। নিজের সংসারের কাজ সে নিজ হাতেই করবে। প্রকাশ বললো,
- তাহলে খাব কি? রান্না করবে কে?
নিরা বললো,
- কয়েক দিন একটু কষ্ট করো, হোটেল থেকে এনে খাব। তারপর ব্যাবস্থা হবে।
- কয়েক দিন মানে তারপর কি ব্যাবস্থা হবে?
,
নিরা হাঁসতে হাঁসতে বললো,
- আমি রান্নার স্কুলে ভর্তি হইছি এক মাসে সব রান্না শেখায় দিবে। ভাল না?
- হুম ভাল।
,
যেখানে এক মাসে সব রান্না শেখানোর কথা ছিল, সেখানে আজ তিন মাস চলছে তবুও নিরা রান্না করতে পারলো না। সন্ধ্যায় অফিস থেকে ফিরছে তখন নিরার ফোন। প্রকাশ ফোন ধরে বললো,
- হ্যালো।
- আসছো বাবু?
- হুম...আজ কি খাবা?
- আজ কিছু আনিও না।
- কেন?
- আমি রান্না করছি।
,
প্রকাশ নিরার কথা শুনে আকাশ থেকে পরলো। প্রকাশ বললো,
- সত্যি রান্না করছো?
,
ফোনের ওপাশ থেকে নিরার হাঁসির শব্দ শুনলো। হাঁসি থামিয়ে নিরা বললো,
- আরে বাবা সত্যি। আমি কি তোমাকে মিথ্যা বলবো।
- আচ্ছা। রান্না কি শেষ?
- না হচ্ছে, তুমি আসতে আসতে হয়ে যাবে।
- ও আচ্ছা...পারলে ভাতে আলু দিও। আলু ভরর্তা করিও।
- আচ্ছা,বাবু। আসো তাড়াতাড়ি।
,
নিরা তো খুব খুশি নিরা রান্না করছে। অনেক দিন পর ভাল কিছু হয়তো খাওয়া হবে। হোটেলের খাবার আর ভাল লাগেনা। তবে ছুটির দিনে প্রকাশ কিছু রান্না করেছিলো। মেসে থাকতে কিছু রান্না শিখেছিলো যা বিবাহিত জীবনে অনেক কাজে লাগছে। এসবের জন্য নিরা আমার প্রতি অনেক খুশি।
,
বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে... খাবার টেবিলে বসতেই মাথাটি চক্কর দিল, টেবিল পুরাই ফাঁকা। এক গামলা ভাত আর অন্য পাশে একটি ছোট বাটি ঢাকনা দেওয়া।
প্রকাশ নিরার দিকে তাকিয়ে বললো,
- যাও খাবার নিয়া আসো। খুব ক্ষুদা লেগেছে।
,
নিরার মুখ এতক্ষন ফ্যাকাশে ছিলো, কথাটি শুনে আরো ফ্যাকাশে হয়ে গেল। ও নিচের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো,
- আসলে বাবু সব কিছু নষ্ট হয়ে গেছে।
,
প্রকাশের নিরার কথাটি শুনে কেন জানি হাঁসি পেয়েছিলো। প্রকাশ হাঁসতে হাঁসতেই বললো,
- কিভাবে।
- মানে সব উল্টাপাল্টা হয়ে গেছে।
- বাদ দাও। ওই বাটিতে কি?
- আলুভরর্তা ।
- আচ্ছা, তাই দাও। তাই দিয়ে খাই।
,
নিরা প্রকাশকে বাটিটি এগিয়ে দিতে কেমন জানি সংকোচ করছে। তাই প্রকাশ নিজেই বাটিটি নিজের দিকে টানলো। ঢাকনাটি সরিয়ে দেখলো, শুধু আলু মেখে রাখছে। পিঁয়াজ, তেল মরিচ, কিছুই নাই।
,
প্রকাশ নিরার দিকে তাকিয়ে দেখলো, ওর অবস্থা খুব খারাপ।
প্রকাশ বললো,
- এটা কি?
- আলুভর্তা!
- এটা আলুভর্তা, কই শিখছো?
- জানিনা।
- এত বড় হইছো এখনো আলু ভর্তা করতে পারোনা। সারাজীবন শুধু শপিং করে বেড়াইছো।
,
নিরা কোন জবাব দিল না, প্রকাশ ওর দিকে তাকিয়ে দেখে ওর চোঁখে পানি। প্রকাশের কেমন জানি অসহ্য লাগতছিলো...তাই প্রকাশ বললো,
- কাঁদিও না তো। কোন কিছু তো পারোনা শুধু কাঁন্না করাই শিখছো মনে হয়।
,
নিরা প্রকাশের সামন থেকে চলে গেল, গিয়ে বাথরুমে ঢুকলো। ঘটনা ঘটার পাঁচ মিনিট অতিবাহিত হয়েছে...এখনো ও দরজা খোলে নাই।
প্রকাশের কিছু করা দরকার।
প্রকাশ টেবিল থেকে উঠে বাথরুমের দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো আর বললো,
- বের হও। চলো বাইরের কোন রেস্টুরেন্ট এ গিয়ে খেয়ে আসি।
,
কোন জবাব নেই। আবার বললো,
- কথা বলনা...আর রাগ করে থাকিও না। বের হও তাড়াতাড়ি। খুব ক্ষুধা লেগেছে।
,
এবার নিরা মুখ খুললো আর বললো,
- যাও এখান থেকে। তোমার সাথে কথা বলতে ভাল লাগছেনা। আমি কালকেই বাবার বাড়ি চলে যাব। আর আসবোনা কোন দিন।
,
খুব মুশকিল হলো তো, কিভাবে বের করি ওকে। একটি উপায় আছে। বাড়ির মেইন সুইচ অফ করে দেখি যদি ও বের হয়। কারণ নিরা অন্ধকার ভয় পায়। তার আগে আমাকে দুটা ডিম ভেঁজে নিতে হবে।
,
ডিম ভাঁজা শেষ, আমি বাড়ির মেইন সুইচ অফ করে দিলাম। প্রায় পাচ মিনিট হয়ে গেল মেইন সুইচ অফ করায় তবুও নিরা বের হলো না। কি যে করি কিছুই মাথায় আসছেনা।
,
প্রকাশ বাথরুমের সামনে গিয়ে বললো,
-নিরা মরিচ কাটতে গিয়ে হাত কেটে ফেলেছি। ডিসেপ্টিং বক্সটি কই রাখছো?
,
সাথে সাথেই বাথরুমের গেটটি খুলে গেল। যা চাচ্ছিলো তাই হলো। নিরা বের হয়ে এসে বললো,
- কই দেখি। কতদূর কাটছ?
- এই অন্ধকারে কিভাবে দেখবা কতদূর কাটছে। চলো ডাইনিং রুমে চলো।
,
নিরা ডাইনিং রুমে ঢুকে অবাক হলো, কঠিন রকম অবাক। যা বিয়ের পর ও কোন দিন হয়নি। আমি প্রায় ১৫ টি মোমবাতি সারা ঘরে জালিয়ে রাখছি আর খাবার টেবিলে ৫ টি। নিরা আমার দিকে রাগ হয়েই বললো,
- তাহলে ঢং করলা এতক্ষন।
- হুম, চলো ক্যান্ডেল লাইট ডিনার করি।
,
নিরা প্রকাশের কথা শুনে হাঁসলো। প্রকাশ ওর হাত ধরে এনে খাবার টেবিলের চেয়ারে বসালো। প্রকাশ ওর মুখোমুখী চেয়ারে বসালো।
,
প্রকাশ বললো,
- সময় কম তাই খাবারের আইটেম দুইটি।
,
ডিম ভাজি সামনে থাকার কারণে নিরা শুধু ডিম ভাজি দেখেছিলো। ও জিজ্ঞেস করলো,
- আর কি আইটেম? এখানে তো একটিই!
,
প্রকাশ ওই ভরর্তার বাটিটি বের করে টেবিলে রেখে বললো,
- এই যে আরেকটি আইটেম।
,
প্রকাশের স্ত্রী প্রকাশের জন্য এই প্রথম রান্না করেছে সেটি যেমনই হোক প্রকাশের জন্য অবশ্যই ভাল।
,
নিরা প্রকাশের কথা শুনে হাঁসলো, শুধু হাঁসলো বললো না কিছুই...!